ধর্ম্মতত্ত্ব: উপনিষদ

ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান, ধর্ম গ্রন্থ কি , হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়, ইসলাম খ্রীষ্ট মত বিষয়ে তত্ত্ব ও সনাতন ধর্ম নিয়ে আলোচনা

धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते-Theology

সাম্প্রতিক প্রবন্ধ

Post Top Ad

স্বাগতম
Showing posts with label উপনিষদ. Show all posts
Showing posts with label উপনিষদ. Show all posts

22 July, 2024

কঠোপনিষদ ১/৩/১৫

22 July 0

 

              অশব্দমস্পর্শমরূপপমব্যয়ম্ তথাऽরসং নিত্যমগন্ধবচ্চ যৎ। 

অনাদ্যনন্তং মহতঃ পরং ধ্রুবং নিচ্যয্য তন্মৃত্যুমুখাৎ প্রমুচ্যতে।। কঠোপনিষদ-১/৩/১৫


পদার্থ-( যৎ) যিনি ( অশব্দম্) শব্দরহিত ( অশ্পর্শম্) স্পর্শ- রহিত ( অরূপম্) রূপরহিত ( অরসম্) রসরহিত ( চ) এবং (অগন্ধবৎ) গন্ধযুক্ত ব্যতীত ( তথা) তথা [ যিনি ] ( অব্যয়ম্) অবিনাশী ( নিত্যম্) নিত্য ( অনাদি) অনাদি ( অনন্তম্) অনন্ত [ অসীম ] ( মহতঃ পরম্) মহান আত্মা থেকে শ্রেষ্ঠ [ এবং ] ( ধ্রুবম্) সর্বথা সত্য তত্ত্ব ( তৎ) সেই পরমাত্মাকে ( নিচাস্য) জেনে [ মনুষ্য ] ( মৃত্যুমুখাত্) মৃত্যুর মুখ থেকে ( প্রমুচ্যতে) চিরকালের জন্য মুক্ত হয়।।
ভাবার্থ-পরমাত্মা শব্দরহিত, রূপরহিত,স্পর্শরহিত। তিনি অনাদি, অবিনাশী এবং অনন্ত। এই পরমাত্মাকে জেনেই মোক্ষ সম্ভব। এই প্রকার নিরাকার পরমাত্মাকে জানা ব্যতীত মোক্ষ সম্ভব নয়।। ( ভাষ্য-রাজবীর শাস্ত্রী)
Read More

11 June, 2024

ছান্দোগ্যপনিষদ ৩/১৭/৬

11 June 0

ছান্দোগ্যপনিষদ ৩/১৭/৬

তদ্ধৈতদ্ঘোর অঙ্গিরসঃ কৃষ্ণায় দেবকীপুত্রায়ক্ত্বোবাচাপিপাস এব স বভূব সোহন্তবেলায়ামেতৎ ত্রয়ম্ প্রতিপদ্যোতাক্ষিতমস্যচ্যুতমসি প্রাণসংশিতমসীতি তত্রৈতে দ্বে ঋচৌ ভবতঃ।।

ছান্দোগ্যপনিষদ ৩/১৭/৬ 


পদার্থ-( অঙ্গিরসঃ) অঙ্গিরাগোত্রোত্পন্ন ( ঘোরঃ) ঘোর নামের কোন ঋষি ( দেবকীপুত্রায়) দেবকীর পুত্র ( কৃষ্ণায়) নিজ শিষ্য কৃষ্ণকে ( উক্ত্বা) উপদেশ দিয়ে ( উবাচ) পুনঃ বলেন যে হে কৃষ্ণ! ( সঃ) সেই পূর্বোক্ত ব্রহ্মচারী অথবা উপাসক ( অন্তবেলায়াম্) মরণকালে ( এতত্ত্রয়ম্) এই তিন পদের (;প্রতিপদ্যেত) জপ করেন। কোন তিন পদ তাই বলছেন ( অক্ষিতম্+অসি) হে পরমাত্মান্ আপনি অমর। আপনার ক্ষয় কদাপি না হয় ( অচ্যুতম্+অসি) আপনি অবিনশ্বর ( প্রাণসংশিতম্+অসি) আপনি সর্ব জীবনপ্রদ সূক্ষ্মতম্ এই তিন পদের অনন্তকাল জপ করেন। এই ঘোর ঋষির উপদেসকে শোনে ( সঃ) সেই কৃষ্ণ ( অপিপাসঃ+ এব) অন্য বিদ্যার প্রতি তৃষ্ণারহিতই ( বভূব) হয়ে গিয়েছে অর্থাৎ এই বিদ্যা এমনি শ্রেষ্ঠ যে,যা শোনে অনুষ্ঠান করে ঘোর শিষ্য কৃষ্ণও তৃষ্ণা মুক্ত হয়ে গিয়েছে ( তত্র) এই বিষয়ে ( এতে+দ্বে) এই দুই ( ঋচৌ+ভবতঃ) মন্ত্রে প্রমাণ হয়।

ভাবার্থ-অঙ্গিরাগোত্রোত্পন্ন ঘোর নামের কোন ঋষি দেবকীর পুত্র নিজ সিষ্য কৃষ্ণকে উপদেশ দিয়ে পুনঃ বলেন যে,হে কৃষ্ণ! সেই পূর্বোক্ত ব্রহ্মচারী অথবা উপাসক মরণকালে এই তিন পদের জপ করেন। কোন তিন পদ তাই বলছেন হে পরমাত্মান আপনি অমর। আপনার ক্ষয় কদাপি না হয় আপনি অবিনশ্বর আপনি সর্ব জীবনপ্রদ সূক্ষ্মতম্ এই তিন পদের অনন্তকাল জপ করেন। এই ঘোর ঋষির উপদেশকে শোনে সেই কৃষ্ণ অন্য বিদ্যার প্রতি তৃষ্ণারহিত হয়ে গিয়েছে অর্থাৎ এই বিদ্যা এমনি শ্রেষ্ঠ যে,যা শোনে অনুষ্ঠান করে ঘোর শিষ্য কৃষ্ণও তৃষ্ণা মুক্ত হয়ে গিয়েছে এই বিষয়ে এই দুই মন্ত্রে প্রমাণ হয়।। ( ভাষ্য-পণ্ডিত শিবশঙ্কর শর্মা)
Read More

23 May, 2024

ছান্দোগ্য উপনিষদ ২/৬/১

23 May 0

ছান্দোগ্য উপনিষদ ২/৬/১

পশুষু পঞ্চবিধং সামোপাসীত। অজাঃ হিঙ্কারোSবয়ঃ প্রস্তাবো, গাব উদ্গীথোSশ্বাঃ প্রতিহারঃ, পুরুষোনিধনম্॥ (ছান্দোগ্য ২।৬।১)

পশুষু। পঞ্চবিধম্। সাম। উপাসীত। অজাঃ। হিঙ্কারঃ। অবয়ঃ। প্রস্তাবঃ। গাবঃ। উদ্গীথঃ। অশ্বাঃ। প্রতিহারঃ। পুরুষঃ। নিধনম্॥
পদার্থঃ- (পশুষু) পশুরমধ্যে (পঞ্চবিধম্) পঞ্চবিধ (সাম) সামবেদ বিধির (উপাসীত) তত্ত্বধারণ কি ভাবে হবে ? (অজাঃ) ছাগ সদৃশ পশুমাত্র (হিঙ্কারঃ) হিঙ্কারবিধির অনুষ্ঠাতা (অবয়ঃ+প্রস্তাবঃ) অবি= মেষ সদৃশ পশু প্রস্তাব (গাবঃ) গরু (উদ্গীথঃ) উদ্গীথ (অশ্বাঃ+প্রতিহারঃ) অশ্ব প্রতিহার (পুরুষঃ+নিধনম্) পুরুষ নিধন॥
অনুবাদঃ- উপাসকের পশুবিষয়ে পঞ্চবিধ সামবিধির তত্ত্বাবধারণ করা দরকার। অজঃ (ছাগ) হিঙ্কার, অবি (মেষ) প্রস্তাব, গরু উদ্গীথ, অশ্ব প্রতিহার এবং পুরুষ নিধন॥
📌বিঃদ্রঃ হিঙ্কার বিধি তিন বা সমস্ত উদ্গাতা দ্বারা আরম্ভ করা হয় [ সামবেদের পুরোহিত উদ্‌গাতা ], উদগাতাবৃন্দ গীতের সময় 'হিং' বা 'হুম্' শব্দের উচ্চারণ অধিক করায় 'হিঙ্কার' নাম এসেছে। প্রস্তোতার (উপস্থাপক) গাওয়া সামের গান কে 'প্রস্তাব', উদ্গাতার গেয় সামকে উদ্গীথ, প্রতিহর্ত্তার গাওয়া গীতকে প্রতিহার, সকলে মিলে যে গান করা হয় তাকে 'নিধন' বলা হয়।

ছান্দোগ্য উপনিষদ্ সামবেদের তাণ্ড্য শাখার ছান্দোগ্য ব্রাহ্মণের অন্তর্ভূত। অন্য উপনিষদের মতো এই উপনিষদেরও মূখ্য উদ্দেশ্য মোক্ষ প্রাপ্তির জ্ঞান। এখানে প্রথমতঃ উদ্গীথের প্রথমাক্ষর 'ওঙ্কার'কে অবলম্বন করে উপাসনার বিধি প্রদর্শিত। পরে 'হিঙ্কার' 'প্রস্তাব' 'গায়ত্রী' 'প্রাণ' ইত্যাদি উপাসনাবিধি বর্ণিত হয়েছে। এই উপাসনা বিধানের উদ্দেশ্য-কর্মাঙ্গভূত উপাসনার ফলে চিত্তের চাঞ্চাল্য দূর হয় ও চিত্ত বিশুদ্ধ হয়, তার ফলে উপাস্যের প্রতি অখণ্ড মনোনিবেশ করার সামর্য্যও লাভ হয়। এই অবস্থায় ব্রহ্মবিষয়ক উপদেশ প্রদত্ত হলে তা আয়ত্ত করতে বিশেষ আয়াস স্বীকার করতে হয় না, অল্প চেষ্টাতেই উপদেশের মর্ম্ম হৃদয়ঙ্গম করতে সমর্থ হয়। "ওমিতি হ্যুদ্গায়তি তস্যোপব্যাখ্যানম্"(ছান্দো০১।১।২) যে হেতু "ওম্" এই অক্ষর প্রথমে উচ্চারণপূর্বক উদ্গান অর্থাৎ উচ্চৈঃস্বরে গান করা হয়, এই জন্যই ওঙ্কার উদ্গীথ বলে অভিহিত হয়। "ওম্" এই অক্ষরই উদগীথ (ছা০১।১।৬)। ঋগ্বেদের পুরোহিতের নাম হোতা। সামবেদের পুরোহিতের নাম উদ্‌গাতা। যজুর্বেদের পুরোহিতের নাম অধ্বর্যু। অথর্ববেদের পুরোহিতের নাম ব্রহ্মা।

#ছান্দোগ্য ২/৬/১
#ছান্দোগ্যউপনিষদ
Read More

শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ ৬/৯

23 May 0

 শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ _6.9

ন তস্য কশ্চিৎ পতিরস্তি লোকে ন চেশিতা নৈব চ তস্য লিঙ্গম্।
স কারণং করণাধিপাধিপো ন চাস্য কশ্চিজ্জনিতা ন চাধিপঃ ॥৯৷
পদার্থঃ (লোকে) এই জগতে (তস্য) সেই পরমাত্মার (কশ্চিৎ) কোনো (পতিঃ) স্বামী, রক্ষক (ন অস্তি) নেই (চ) এবং (ঈশিতা) নিয়ন্তা, শাসক (ন) নেই (চ) এবং (তস্য) তাঁর (লিঙ্গম) কোনো লিঙ্গ বা পরিচায়ক চিহ্নও (ন এব) নেই (সঃ) তিনি (কারণম্) জগতের কারণ এবং (করণাধিপাধিপঃ) সকল ইন্দ্রিয়ের স্বামী জীবেরও স্বামী (চ) এবং (অস্য) এঁর (কশ্চিৎ) কোনো শ্বেতাশ্বতরোপনিষদ্
(জনিতা) জনক, উৎপাদক (ন) নেই (চ) এবং (ন) নেই (অধিপঃ) অধিষ্ঠাতা, স্বামী ॥৯ ॥
সরলার্থঃ জগতে ওই পরমাত্মার কোনো স্বামী নেই এবং তাঁর কোনো নিয়ন্তা বা শাসক নেই। তাঁর কোনো লিঙ্গ বা পরিচায়ক চিহ্নও নেই, যা দ্বারা তাঁকে অনুমান করা যায়। তিনিই জগতের কারণ এবং সকল ইন্দ্রিয়ের স্বামী জীবেরও স্বামী; তাঁর কোনো জনক বা উৎপাদক নেই এবং কোনো অধিপতিও নেই ॥৯॥
ব্যাখ্যাঃ এই সংসারে পরমাত্মার কোনো প্রভু নেই, নিয়ন্তাও কেউ নেই। বরং পরমাত্মাই এই ব্রহ্মাণ্ডের একমাত্র স্বামী এবং সকলের শাসক। তিনিই তাঁর সুনির্দিষ্ট নিয়ম দ্বারা সবাইকে চালনা করেন এবং সবার ওপর প্রভুত্ব করছেন। তাঁর কোনো লিঙ্গ বা পরিচায়ক চিহ্ন নেই অর্থাৎ তিনি কীরূপ, তা কোনো চিহ্ন বা প্রতীক দ্বারা বোঝা সম্ভব নয়। তিনি এই সৃষ্ট জগতের মূল কারণ অর্থাৎ সৃষ্টির কারণভূত প্রকৃতিরও স্বামী ও নিয়ন্তা। সেই পরমাত্মার কোনো 'জনক' অর্থাৎ জন্মদাতা পিতা বা উৎপাদক নেই, এ কারণেই তিনি 'স্বয়ম্ভু'। যিনি কারো অধীন নন, সর্বকালে স্বতন্ত্র, নিত্য, অনাদি, অনন্ত, নিরাকার, নিরাধার, নির্বিকার, সর্বাধিপতি, সর্বনিয়ন্তা, সর্বোৎপাদক এবং সর্বশক্তিমান- তিনিই পরমাত্মা। তাঁর এই শাশ্বত স্বরূপই মুক্তিকামী জীবের জ্ঞাতব্য ॥৯॥
Read More

21 May, 2024

তৈত্তিরীয়ারণ্যক ১০/১

21 May 0

ওম্ সহনাববতু সহ নৌ ভুনক্ত। 

সহ বীর্যং করবাবহৈ। 

তেজস্বিনাবধীতমস্ত মা বিদ্বিষাবহৈ। 

ওম শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ ॥১॥


তৈত্তিরীযারণ্যকে ব্রহ্মানন্দবল্লী প্রপা০ ১০ প্রথমানুবাকঃ ॥১॥


ব্যাখ্যা-হে সহনশীলেশ্বর। আপনি ও আমরা যেন পরস্পর প্রসন্নভাবে একে অপরকে রক্ষা করি। আপনার কুপায় আমরা যেন সদা সর্বদা আপনারই স্তুতি, প্রার্থনা ও উপাসনা করি এবং আপনাকেই পিতা, মাতা, বন্ধু, রাজা, স্বামী, সহায়ক সুখদ, সুহৃদ্‌ ও পরমগুরু বলিয়া জানি। আপনাকে মুহূর্ত মাত্রও যেন ভুলিয়া না থাকি। আপনার সমান বা অধিক আর কাহাকেও যেন না জানি বা মানি।


আপনার অনুগ্রহে আমরা যেন সকলে পরস্পর প্রীতিমান রক্ষক, সহায়ক ও পরম-পুরুষার্থ পরায়ণ হই। আমরা যেন একে অপরের দুঃখ দেখিতে না পারি। স্বদেশবাসীর সকলকে নিরতিশয় বৈরত্যাগী, প্রীতি পরায়ণ করিয়া কপটতা রহিত করুন। "সহ নৌ ভুনক্ত" আপনার সহিত আমরাও যেন পরস্পর পরমানন্দ উপভোগ করি। আমরা সকলে পরস্পরের হিতকামনা করিয়া আনন্দ ভোগ করিব, আপনি আমাদের সকলকে পরমানন্দের অধিকারী করুন, পরমানন্দ হইতে আমাদের মুহূর্তের জন্যও বঞ্চিত করিবেন না। "সহ বীর্যং করবাবহৈ” আপনার সহায়তায় আমরা যেন পরম পুরুষার্থ দ্বারা পরমবীর্য সত্যবিদ্যা লাভ করি।

"তেজস্বিনাবধীত মস্তু” হে অনন্ত বিদ্য অমর ভগবন! আপনার কৃপাদৃষ্টিপাতে আমাদের পঠন-পাঠন পরম বিদ্যাময় হোক্। আমরা যেন বিশ্বের সর্বত্র সমুজ্জল হইয়া অনন্য প্রীতি সহকারে পরমবীর্য ও পরাক্রম বলে নিরঙ্কুশ চক্রবর্ত্তী রাজ্য উপভোগ করি। আমাদের মধ্যে নীতিমান, পুরুষ জন্মলাভ করুক। আমাদের প্রতি অপার কৃপা প্রদর্শন করুন, আমরা যেন অনাচার অসত্য বেদ বিরুদ্ধ মত-মতান্তর শীঘ্র পরিত্যাগ করিয়া এক সত্য সনাতন ধর্ম আচরণ করি। সর্বপ্রকার বৈরতার মূল যে অনাচার, মত-মতান্তর, উহা যেন সত্বর অবলুপ্ত হয়। "মা বিদ্বিষাবহৈ" হে জগদীশ্বর। আপনার সামর্থ্যবলে আমাদের হৃদয়ে বিদ্বেষ ভাব অর্থাৎ প্রীতিহীনতা যেন না থাকে। আমরা যেন কায়মনোবাক্যে ও পরম প্রীতি সহকারে আমাদের সর্বপ্রকার বিদ্যা সকলের সুখ ও উপকারের জন্য নিযুক্ত করিতে পারি। "ওম্ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ” হে ভগবন, জগতে ত্রিবিধ তাপ বিদ্যমান। (শারীরিক) যাহা জ্বর প্রভৃতি পীড়া হইতে পাইয়া থাকি। দ্বিতীয়তঃ, আধিভৌতিক, যাহা শত্রু, সর্প, ব্যাঘ্র, চৌরাদি দ্বারা পাইয়া আধিদৈবিক, যাহা মন, ইন্দ্রিয় অগ্নি, বায়ু, অতিউষ্ণ হইতে উৎপন্ন হইয়া থাকে থাকি। তৃতীয়তঃ, অতিবৃষ্টি, অতিশীত, হে করুণাসাগর। আপনি এই ত্রিতাপ হইতে শীঘ্র আমাদের পরিত্রাণ করুন, যাহাতে আমরা অতয়ন্ত আনন্দে সদা আপনার উপাসনায় রত থাকিতে পারি।

হে বিশ্বগুরো! আমাকে অসৎ (মিথ্যা) এবং অনিত্য পদার্থ তথা অসৎ কর্ম হইতে পৃথক করিয়া সত্য ও নিত্য পদার্থ এবং শ্রেষ্ঠ ব্যবহারে প্রতিষ্ঠিত করুন। হে জগন্মঙ্গলময়। আমাদিগকে সর্বপ্রকার দুঃখ হইতে বিমুক্ত করিয়া সুখ লাভ করান। [সর্ব দুঃখেভ্যো মোচযিত্বা সর্বসুখানি প্রাপয] হে প্রজাপতে। (সুপ্রজযা পশুভিব্রহ্মাবচসেন, পরমৈ- শ্বর্যেণ, সংযোজ্য) উত্তম প্রজা, পুত্রাদি, হস্তি, অশ্ব, গবাদি উত্তম পশু, সর্বোৎকৃষ্ট বিদ্যা ও চক্রবর্ত্তী রাজ্যাদি পরমৈশ্বর্য্য যাহা স্থির পরম সুখকারক উহা শীঘ্র লাভ করান।


হে পরম বৈদ্য। আমাদিগকে (সর্ব্বরোগাৎ পৃথকৃত্য নৈরোগ্যান্দেহি) সর্ব্বথা সর্বপ্রকার রোগ হইতে মুক্ত করিয়া পরম নৈরোগ্য প্রদান করুন। হে মহারাজাধিরাজ। [মনসা বাচা, কর্মণা অজ্ঞানেন প্রমাদেন বা যদ্যপাপং কৃতং মযা, তত্তৎসর্বং কৃপযা ক্ষমস্ব জ্ঞানপূর্ব্বকপাপকরণান্নিবর্তযতু মাম্] মন, বাণী এবং কর্মদ্বারা এবং অজ্ঞানতা বা প্রমাদ বশতঃ যে পাপ আমি কারয়াছি অথবা যদি কিছু করি সেই সমস্ত পাপ ক্ষমা,-অর্থাৎ জ্ঞানপূর্বক পাপ করিবার প্রবৃত্তিকে দমন করিবার ক্ষমতা প্রদান করুন] অর্থাৎ আমি যেন শুদ্ধ হইয়া আপনার আরাধনা করিতে পারি। (হে ন্যাযাধীশ! কুকামকুলোভকুমোহভযশোকালস্যের্য্যা দ্বেষপ্রমাদবিষষ তৃষ্ণানৈষ্ঠুর্যাভিমানদুষ্টভাবাবিদ্যাভ্যো নিবারয, এতেভ্যো বিরুদ্ধেযুত্তমেষু গুনেষু সংস্থাপয মাম্।) হে ঈশ্বর! কৃপা করিয়া কুকাম কুলোভাদি পূর্ব্বোক্ত দুষ্টদোষ সমূহ হইতে মুক্ত করিয়া আমাকে শ্রেষ্ঠ কর্মে নিযুক্ত করুন। আমি অত্যন্ত দীন হইয়াই প্রার্থনা করিতেছি, আপনি ব্যতাত অন্য কাহারও প্রতি প্রীতি প্রদর্শন করিব না এবং আপনার আদেশ ব্যতীত অন্য কাহারও আদেশ মানিব না।


হে প্রাণপতে! প্রাণপ্রিয়, প্রাণপতিঃ প্রাণাধার প্রাণজীবন সুরাজ্য প্রদ! আপনিই, আমাদের প্রাণদাতা, আপনি ব্যতীত আমাদের সাহায্যকারী কেহই নাই, হে মহারাজাধিরাজ! আপনার অখণ্ড সত্যরাজ্যে যেরূপ ন্যায় বিদ্যমান, তদ্রূপ ন্যায় রাজ্য আমাদিগকেও প্রদান করুন। আপনি আপনার কৃপাকটাক্ষপাতে শীঘ্রই আমাদিগকে আপনার রাজ্যের কিঙ্কর করুন। হে ন্যায় প্রিয়। আমাদের সকলকে যথাবৎ ন্যায়-প্রিয় করুন। হে ধর্মাধীশ। আমাদিগকে ধর্মে সুপ্রতিষ্ঠিত করুন। হে করুণাময় পিতঃ। মাতা পিতা যেরূপ আপন সন্তান প্রতিপালন করেন, আমাদিগকেও আপনি সেইরূপ প্রতিপালন করুন॥

Read More

14 April, 2024

ছান্দোগ্য উপনিষদ

14 April 0

 

ছান্দোগ্য উপনিষদ


সামবেদ-তাণ্ড্য শাখার-
ছান্দোগ্য ব্রাহ্মণের অন্তর্গত

শঙ্কর ভাষ্য ও বৈদিক ভাষ্য সহঃ

পরিচয়

ছান্দোগ্য উপনিষৎ সামবেদোক্ত ছান্দোগ্য ব্রাহ্মণের অন্তর্ভূত। কেহ কেহ মনে করেন, ইহা সামবেদীয় কৌসুমীশাখার অন্তর্ভূত, কিন্তু এ বিষয়ে নিঃসন্দিগ্ধ প্রমাণ কিছুই পাওয়া যায় না।

উপনিষীদতি প্রাপ্নোতি ব্রহ্মায়ভাবোহনয়া" এই ব্যুৎপত্তি অনুসারে উপনিষৎশব্দে ব্রহ্মপ্রতিপাদক গ্রন্থকে বুঝায়। এই গ্রন্থে সম্যক্ জ্ঞানলাভ করিতে পারিলে ব্রহ্মায়ৈকা জ্ঞান লাভ হয়। "ছন্দঃ সামবেদং গায়তি ইতি ছন্দোগঃ সামবেদাধ্যায়ী বিপ্রাদিঃ" ছন্দোগ শব্দের অর্থ সামবেদ অধ্যয়নকারী ব্রাহ্মণাদিবর্ণ- ত্রয়, এই ইন্দাগদিগের মন্ত্র-ব্রাহ্মণাত্মক শাস্ত্রবিশেষকে হান্দোগ্য উপনিবৎ বলে সুগভীর। আধ্যাত্মিক ভাবযুক্ত এই উপনিষৎখানি বিদ্বজ্জনগণের নিকট বিশেষরূপ সমাদৃত। ইহার ভাব। যেমন সরল, তেমনই শ্রুতিমধুর, ইহার সমাবেশের সুশৃঙ্খলতা, অনন্যসাধারণ উপদেশপরিপাট্য তত্ত্বজিজ্ঞাসুমাত্রেরই চিত্তকে বিমুগ্ধ ও সমাকৃষ্ট করে। সর্বসাধারণের অনুষ্ঠেয় কর্ণ হইতে আরম্ভ করিয়া মুমুক্ষুদিগের একাত্ত কাম্য ব্রহ্মজ্ঞান লাভের উপায় পর্যন্ত অতি সরলভাষায় সুনিপুণভাবে উপদিষ্ট হওয়ায় এই উপনিষৎ চতুরাশ্রমীর পক্ষেই বিশেষ উপযোগী।

উপনিষৎ-সমূহের মুখ্য উদ্দেপ্তই হইতেছে-সদুপদেশের দ্বারা বিষয়াসক্ত মানবদিগকে ব্রহ্মাভিমুখীন করা, ভোগ পরিণামবিরস, ত্যাগ আপাততঃ বিরস হইলেও পরিণামে যে সুখপ্রদ, ইহাই প্রতিপাদন করিয়া, মানবগণ যাহাতে ভোগবিমুখ হয়, তদ্রূপযোগী উপদেশ দেওয়াই উপনিষদ্বিপ্তার উদ্দেশ। তবে ভোগবিমুখ হইতে হইবে যে, সকলকে সংসার ত্যাগ করিয়া একেবারে বনবাসীই হইতে হইবে, ইহাও উপনিষৎ বলেন নাই, গৃহস্থাশ্রমে বাস করিয়াও অনাসক্ত- ভাবে কৰ্ম্মানুষ্ঠান দ্বারাও মোক্ষলাভ করা যায়, ইহাই বলিয়াছেন। জ্ঞান বা ব্রহ্মবিয়া অপেক্ষা কৰ্ম্ম হীন হইলেও কর্ম্মের হীনতা প্রচার করিয়া কর্মাসক্ত মানবগণকে কর্ম্মে বিমুখ করিবার কোন প্রয়াসও করেন নাই; পরন্ত বৈধ কর্ম্মানুষ্ঠানের দ্বারাই যে ক্রমণ: জানলাভ করা যায়, ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করিতে হইলে কি ভাবে ফর্ম্মানুষ্ঠান করা কর্তব্য, এ সমস্ত বিষয়ের উপদেশ উপনিষদ শাস্ত্রে বর্ণিত হইয়াছে॥

প্রথম প্রপাঠকে-

প্রথম খণ্ডে-উদ্‌দীথ উপাসনার বিধি, উদ্‌দীথের স্বরূপ ও প্রণবের প্রশংসা।

দ্বিতীয় খণ্ডে-উদ্‌দীথের আধ্যাত্মিকতাপ্রদর্শন, দেবাসুরসংগ্রামবর্ণনা, দেব ও অনুরশব্দের আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা, দেবগণ কর্তৃক নাসিকাদি প্রাণসমূহকে উদ্‌দীখরূপে উপাসনাকরণ, অসুরগণ কর্তৃক তাহাদের পাপবিদ্ধ হওয়া ও তজ্জন্য সেই প্রাণসমূহের দুর্গতি ভোগ। অনন্তর দেবগণ কর্তৃক মূখ্য প্রাণকে উদ্‌দীথরূপে উপাসনাকরণ, মুখ্য প্রাণ কর্তৃক অসুরগণের পরাজয় ও মুখ্য প্রাণের শ্রেষ্ঠতা প্রতিপাদন। অঙ্গিরা বৃহস্পতি ইত্যাদি ঋষিগণ কর্তৃক মুখ্য প্রাণকে উদ্‌দীথরূপে উপাসনাকরণ উদ্‌দীপ্ত উপাসনার ফল।

তৃতীয় খণ্ডে-উদ্‌গীদের আধিদৈবিকত্ব প্রদর্শন। উদ্‌দীথ মনে করিয়া সূর্য্য ব্যান বায়ু ইত্যাদির উপাসনার কর্তব্যতা, ব্যান বায়ুর কার্য্যনির্দেশ, উদ্‌দীথ এই শব্দের প্রত্যেক অক্ষরের অর্থপ্রদর্শন ও ঐ অর্থানুযায়ী উপাসনার ফল প্রদর্শন। কর্ম্মফলের উৎকর্ষসাধনা উপাসনা, সামযাগের অঙ্গস্বরূপ মন্ত্র ও ছন্দঃ প্রভৃতি বিষয়ে দৈবতচিন্তার উপদেশ।

চতুর্থ খণ্ডে-ওঙ্কারোপাসনার কর্তব্যতানির্দেশ, মৃত্যুভয়ে ভীত দেবগণ কর্তৃক বৈদিক কর্মানুষ্ঠান, তাহাতেও মৃত্যুভয় অতিক্রম করিতে না পারায় ওঙ্কারের উপাসনা দ্বারা উক্ত ভয় হইতে অব্যাহতি লাভ। মন্ত্রসমূহের ছন্দ নাম হইবার কারণ প্রদর্শন। ওঙ্কারোপাসনার ফল প্রদর্শন। 

পঞ্চম খণ্ডে-প্রকারান্তস্তরে উদ্‌দীখোপাসনা নির্দেশ। কৌবীতকী ঋষি ও তাঁহার পুত্রের কথোপকথন, প্রণব ও উদ্‌দীখের একত্বনির্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

ষষ্ঠ খণ্ডে-প্রকারান্তরে উদ্‌দীখোপাসনার বিবরণ, পৃথিবী প্রভৃতি মহাভূক্ত সমূহের ঋবেদাদিস্বরূপত্বকথন, ঐরূপ উক্তির হেতুনির্দেশ। চন্দ্র-সূর্য্য-নক্ষত্রা- দিতে সামবেদাদি চিন্তার উপদেশ, আদিত্যের শুরু ও কৃষ্ণ আভার সামস্বকখন। আধিদৈবিক উপাসনার ফল।

সপ্তম খণ্ডে-আধ্যাত্মিক উপাসনা বর্ণনা-প্রসঙ্গে বাক্, মুখ্যপ্রাণ, চক্ষুঃ, ছায়ায়া ইত্যাদিতে ঋক্ সামাদি দৃষ্টিতে চিন্তা করার উপদেশ, ঈশ্বরোপাসকগণের ধনবান হওয়ার বিবরণ, উপাসনার ফলকীর্তন।

অষ্টম খণ্ডে-অন্য ভাবে উদ্‌দীখোপাসনা প্রসঙ্গে উদ্‌দীথাভিজ্ঞ শিলক, চৈকি- তায়ন ও প্রবাহণ এই তিন জনের উদ্‌দীপবিঘ্নাবিষয়ে আলোচনা, শিলক কর্তৃক চৈকিতায়নকে সামাদির গতিবিষয়ক প্রশ্ন ও চৈকিতায়ন কর্তৃক তাহার উত্তর প্রদান। চৈকিতায়ন কর্তৃক শিলককে সামাদির প্রতিষ্ঠাবিষয়ে প্রশ্ন, শিলক কর্তৃক তাহার উত্তর প্রদান।

নবম খণ্ডে-শিলক কর্তৃক জিজ্ঞাসিত হইয়া প্রবাহণের পৃথিবী প্রভৃতি লোকের আশ্রয়বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর প্রদান প্রসঙ্গে আকাশাখ্য ব্রহ্মের সর্ব্ব- লোকাস্রয়ত্বনির্দেশ। পরোবরীয়স্বাদিগুণসম্পন্ন পরমাত্মস্বরূপ উদ্‌দীধোপাসনার ফলনির্দেশ। শৌনক অভিধন্বনামক ঋষি কর্তৃক উদরশাণ্ডিল্য নামক শিষ্যকে উপদেশদানের প্রসঙ্গ।

দশম খণ্ডে-উষস্তি নামক ব্রাহ্মণ ও তাঁহার বালিকা স্ত্রীর আখ্যায়িকা, বজ্রাঘাতে কুরুদেশ দগ্ধ ও তজ্জন্য দুর্ভিক্ষ উপস্থিত হওয়ায় ক্ষুধার্ত ঐ ব্রাহ্মণের স্ত্রী সমভিব্যাহারে ইভ্যগ্রামে গমন ও সেস্থানে কোন হস্তিপালখে 'পঙ্গু মাহুত) উচ্ছিষ্ট পৰ্য্যুষিত মাষকলায় সিদ্ধ ভক্ষণ, তাহার উচ্ছিষ্ট জল পান করিতে সম্বীকৃতি, সমীপস্থ রাজার যজ্ঞভূমিতে গমন, সেই যজ্ঞস্থলে প্রস্তোতা (প্রস্তাবপাঠক), উদ্‌দাতা (উদ্‌দীৎপাঠক) ও প্রতিহর্তার (প্রতিহারপাঠক) প্রতি প্রশ্ন, প্রস্তোতা প্রভৃতির উত্তরদানে অক্ষমতা ও তৃষ্ণীস্তাবে অবস্থান।

একাদশ খণ্ডে-উক্ত রাজার সহিত উধস্তির কথোপকথন ও রাজা কর্তৃক ঋত্বিক্ পদে বরণ, উষস্তি প্রস্তোতা প্রভৃতিকে যে প্রশ্ন করিয়া তাহার উত্তর পান নাই, সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর প্রদান; প্রস্তাব, উদ্‌দীথ ও প্রতিহারের অনুগত দেবতাকে না জানিয়া প্রস্তাবাদি পাঠ করিলে তাহার অনিষ্টকর ফল প্রদর্শন।

দ্বাদশ খণ্ডে-শৌব উদ্‌গীথ অর্থাৎ কুকুররূপধারী ঋষিগণ কর্তৃক উদগীথ গান, বক ও মাৰ নামে দুই জন ঋষি উদ্‌দীথ অধ্যয়নের নিমিত্ত নির্জন স্থানে গমন করিয়া সাম গান করিলে, তাঁহাদের সামগানে সন্তুষ্ট হইয়া অনুগ্রহ প্রদর্শনের নিমিত্ত কোন ঋষি খেতবর্ণ কুকুরের রূপ ধারণ করিয়া তাঁহাদের নিকট উপস্থিত হইয়াছিলেন, ও আরও কয়েক জন ঋষি ঐরূপ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কুকুররূপ ধারণ করিয়া সেইস্থানে উপস্থিত হইয়াছিলেন। পরদিন প্রাতঃকালে সকলে সমবেত হইয়া অন্নলাভের নিমিত্ত 'হিং'কার গান করিয়াছিলেন, বক ও গ্লাব কর্তৃক সেই হিষ্কার ত্রয়োদশ খণ্ডে-রখস্তর নামক সামে প্রসিদ্ধ 'হাউকার' 'হাইকার' ইত্যাদি স্তোভনামক সামের উপাসনাবিধি বর্ণনা, পৃথিবী, বায়ু, চন্দ্র, হাউকার, হাইকার," অথকার ইত্যাদি স্তোভাক্ষরসমূহের বিন্যাস বা আরোপ পূর্ব্বক উপাসনা, উক্তপ্রকার উপাসনার ফলনির্দেশ।

দ্বিতীয় প্রপাঠকে-

প্রথম খণ্ডে সমস্ত সামের উপাসনার সাধুত্বনির্দেশ, সাম ও অসাম শব্দের ব্যবহারিক অর্থ, সামের সাধুতা সম্বন্ধে চিন্তা করিয়া উপাসনার ফল।

দ্বিতীয় খণ্ডে -পৃথিব্যাদি লোকদৃষ্টিতে হিষ্কারাদি পঞ্চবিধ সামের উপাসনার কর্তব্যতানির্দেশ। ছ্যুলোকাদিতে হিঙ্কারাদি পঞ্চবিধ সামের উপাসনার কর্তব্যতা- নিদ্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

তৃতীয় খণ্ডে-বৃষ্টিতে পঞ্চবির সামের উপাসনা, পূর্বদিক্ হইতে প্রবাহিত বায়ুতে হিস্কার, মেঘে প্রস্তাব ইত্যাদি দৃষ্টিতে সামোপাসনার কর্তব্যতানিন্দেশ। পঞ্চবিধ সামাক্তির নাম। উক্ত উপাসনার ফল।

চখণ্ডে-বর্ব্ববিধ জলে পঞ্চবিদ সামের উপাসনা, মেঘাদিতে হিঙ্কারাদি দৃষ্ট করিবার উপদেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

পঞ্চম খণ্ডে-বসন্তাদি পঞ্চ ঋতুদৃষ্টিতে হিঙ্কারাদি পঞ্চবিধ সামোপাসনার কর্ত্তব্যতানিদ্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

ষষ্ঠ খণ্ডে-ছাগ-মেষাদি পশুদৃষ্টিতে হিস্কারাদি পঞ্চবিধ সামোপাসনার কর্তব্যতানিদ্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

সপ্তম খণ্ডে-পঞ্চবৃত্তিসম্পন্ন প্রাণ ও বাগাদি ইন্দ্রিয়দৃষ্টিতে পরোবরীয় স্বাদিগুণবিশিষ্ট হিস্কারাদি পঞ্চবিধ সামোপাসনার কর্তব্যভানির্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

অষ্টম খণ্ডে-সপ্তবির সামের উপাসনা, বাগদৃষ্টিতে হিষ্কারাদি সপ্তবিধ সামো- পাসনার কর্তব্যতানিদ্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

নবম খণ্ডে-আদিত্যদৃষ্টিতে সপ্তবিধ সামের উপাসনার কর্তব্যতানিদ্দেশ, আদিত্যে সামবুদ্ধি স্থাপনের হেতুপ্রদর্শন। উক্ত উপাসনার ফল।

দশম খণ্ডে-সপ্তবিধ সামের মধ্যে মৃত্যুভয়নিবারক পরস্পর সমানাক্ষর- বিশিষ্ট হিঙ্কারাদি সপ্তবিধ সামোপাসনার কর্তব্যতানিন্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

একাদশ খণ্ডে-নামোল্লেখ পূর্ব্বক সপ্তবিধ সামের উপাসনা, মন, বাক্ ইত্যাদি দৃষ্টিতে হিষ্কারাদি সপ্তবিধ সামোপাসনার কর্তব্যতানিদেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

দ্বাদশ খণ্ডে-অগ্নিমম্বনাদিতে যডুবিধ সামের উপাসনা, যজ্ঞীয় অগ্নি প্রথা- পনের নিমিত্ত কাঠঘর্ষণাদিবিষয়ে হিষ্কারাদি ষড়বিধ সামোপাসনার কর্তব্যতা- নির্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

ত্রয়োদশ খণ্ডে-স্ত্রী-পুরুষসংযোগবিষয়ে বড় বিধ সামের উপাসনা, স্ত্রী-পুরুষে

পরস্পর সঙ্গত হইবার বাসনায় পুরুষ কর্তৃক সঙ্কেতাদিবিষয়ে হিষ্কারাদি ষড় বিধ সামোপাসনার কর্তব্যতা নির্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

চতুর্দশ খণ্ডে উদীয়মান সূর্য্য, উদিত সূর্য্য ইত্যাদি দৃষ্টিতে হিস্কারাদি সামো- পাসনার কর্তব্যতানিদেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

পঞ্চদশ খণ্ডে - সজলমেঘের বিভিন্ন অবস্থায় হিষ্কারাদি সামোপাসনার কর্তব্যতানির্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল!

ষোড়শ খণ্ডে- প্রকারান্তরে বসন্তাদি পঞ্চ ঋতুতে হিষ্কারাদি সামোপাসনার কর্তব্যতানিদ্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

সপ্তদশ খণ্ডে-প্রকারান্তরে পৃথিবী অন্তরীক্ষ ইত্যাদি দৃষ্টিতে হিঙ্কারী।মো- পাসনার কর্তব্যতানিদ্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

অষ্টাদশ খণ্ডে-প্রকারান্তরে ছাগ-মেবাদি পশুদৃষ্টিতে হিঙ্কারাদি সামো-পাসনার কর্তাভানির্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

একোনবিংশ খণ্ডে-হজ্ঞাযজ্ঞীয় উপাসনাবিষয়ে লোম 'হক্ ইত্যাদি দৃষ্টিতে হিষ্কারাদি সামোপনার কর্ত্তব্যতানিদ্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

বিংশ খণ্ডে-রাজনাধ্য সামবিষয়ে অগ্নি বাবু ইত্যাদি দৃষ্টিতে হিস্কারাদি সামো- পাসনার কর্তব্যতানিদ্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

একবিংশ খণ্ডে -ত্রয়ী বিদ্যা (বেদবিদ্যা) ইত্যাদি দৃষ্টিতে হিষ্কারাদি সাধো- পাসনার কর্তব্য তানিন্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

দ্বাবিংশ খণ্ডে-সামোপাসনা প্রসঙ্গে উদ্ভ্রাতার সঙ্গীতবিদ্যাবিষয়ে উপদেশ; স্বরভেদানুসারে বিশের বিশেষ দেবতাবিষয়ে এঐ সমস্ত সামের প্রয়োগবিষয়ে উপদেশ; দেবগণ, পিতৃগণ, মনুষ্যগণ ও পশুগণের নিমিত্ত সামগান করার উপদেশ; স্বরবর্ণ, উন্নবর্ণ ও স্পর্শবর্ণবিষয়ক উপদেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

ত্রয়োবিংশ খণ্ডে-যজ্ঞ অধ্যয়ন দান, তপস্তা ও ব্রহ্মচর্যাশ্রম এই তিন প্রকার ধর্ম্মন্তগুনিরূপণ: অমৃতত্ব লাভ করিতে হইলে বন্নিষ্ঠ হওয়া প্রয়োজন, তাহার নিজগণ। প্রজাপতির লোকাদিবিষয়ে তপা ও তাহার ফলে ত্রয়ীবিদ্যা এবং ব্যাহৃতি প্রভৃতির আবির্ভাব বর্ণন।

চলবে >>
Read More

তৈত্তিরীয় উপনিষদ ২/৬

14 April 0

 সোহকাময়ত বহু স্যাং প্রজায়েয়েতি। স তপোহতপ্যত। স তপস্তপ্ত্বা। ইদং সর্বমসৃজত। যদিদং কিন্ঞ্চ। তৎ সৃষ্ট্বা। তদেবানুপ্রাবিশৎ। ( তৈত্তি ২/৬)

পদার্থঃ (সঃ) সেই পরমাত্মা ( অকাময়ত) কামনা করিলেন ( বহু) অনেক প্রকার ( স্যাম্) হইব, ( প্রজায়েয়) উৎপন্ন হইব ( ইতি) এই কথা। ( সঃ) পরমাত্মা ( তপঃ তপ্ত্বা) সৃষ্টি বিষয়ক অালোচেনা করিয়া ( ইদম্) এই ( সর্বম) সমুদয় (যৎ ইদম্ কিম্ চ) এই যাহা কিছু অাছে তৎসমুদয়ই ( অসৃজত) সৃষ্টি করিলেন। ( তৎ) সেই সমস্ত ( সৃষ্ট্বা) সৃষ্টি করিয়া ( তৎ এব) সেই সকলের মধ্যে ( অনুপ্রাবিশৎ) অনুপ্রবেশ করিলেন। সরলার্থঃ সেই পরমাত্মা কামনায় বহু প্রজা( মনুষ্যাদি + অন্যান্যপ্রানী বর্গ) উৎপন্ন হইলেন। অামি উৎপন্ন করিব। তিনি সৃষ্টি বিজ্ঞান বিষয় ও কার্য কারন অবলম্বনে সব কিছু সৃষ্টি করিলেন এবং সৃষ্টির মধ্যে প্রবিষ্ট হইলেন। ২।। অজামেকাং লোহিতশুক্লকৃষ্ণাং বহ্বীঃ প্রজাঃ সৃজমানাং সরূপাঃ। অজো হ্যেকো জুষ মানো হনু শেতে জহাত্যেনাং ভুক্তভোগামজোহন্যঃ ( শ্বেতাশ্বর উ ৪/৫) পদার্থঃ ( সঃ) পরমাত্মার ( রূপাঃ) সত্ব, তম,রজ প্রকৃতি ( বহ্বীঃ) অনেক ( প্রজাঃ) সন্তান বা মনুষ্যাদি + অন্যান্যা প্রানীসকল ( সৃজমানাম্) সৃজনকারিনী ( লোহিত শুক্ল কৃষ্ণাম্) রক্ত, শ্বেত ও কৃষ্ণাবর্ন বিশিষ্টা (একাম্) একমাত্র ( অজাম) জন্ম রহিত প্রকৃতিক ও পরমাত্মা ( একঃ হি) কোন ( অজঃ) জন্মরহিত অবিদ্যাগ্রস্থ জীব ( জুষমাণঃ) সেবা পরায়ন হইয়া ( অনুশেতে) ভোগ করে ( অন্যঃ) মুক্ত জীব ( ভুক্ত ভোগাম্) ভোগ করে বিরত হয়েছে ( এমাম্) এই প্রকৃতিকে ( জহাতি) ত্যাগ করে।

সরলার্থঃ প্রকৃতি,জীব এবং পরমাত্মা এই তিন অজ অর্থাৎ 'যাহার কখন ও জন্ম হয় না এবং ইহারা কখনও জন্ম গ্রহন করেন না। অর্থাৎ এই তিন সমগ্র জগতের কারন নাই। অনাদিজীব, এই অনাদি প্রকৃতিকে ভোগ করিতে আবদ্ধ হয় কিন্তু পরমাত্মা ও মুক্ত পুরুষ তাহাতে অাবদ্ধ হন না এবং ভোগ করেন না। সেই পরমাত্মা বহু মনুষ্যাদি সৃজন করেছিলেন।।
অনেকে বলে থাকে যে, শতরূপা ও মনু নাকি প্রথমে সৃষ্টি হয়েছিলেন কিন্তু এ কথা নিত্যান্ত মিথ্যা কথা। উপনিষদ বচনে প্রমানিত হয় যে পরমাত্মা সৃষ্টির প্রারম্ভে এক সাথে বহু প্রজার সৃষ্টি করেন অতএব মনু আর শতরূপার গল্প সত্য নয়।
Read More

শ্বেতাশ্বতরোপনিষদ ৩/১৯

14 April 0

 অপাণিপাদো জবনো গ্রহীতা পশ্যত্যচক্ষুঃ স শূণোত্যকর্ণঃ।

স বেত্তি বেদ্যং ন চ তস্যাস্তি বেত্তা তমাহুরগ্র্যং পুরুষং মহান্তম্ ॥শ্বেতাশ্বতরোপনিষদ-৩/১৯।।

পদার্থঃ (সঃ) সেই পরমাত্মা (অপাণিপাদঃ) হস্ত-পদাদি রহিত হয়েও (গ্রহীতা) নিজের অনন্ত শক্তি দ্বারা সবকিছু গ্রহণ অর্থাৎ ধারণ করেন [এবং] (জবনঃ) সর্বব্যাপক হওয়ার কারণে সর্বাধিক বেগবান (অচক্ষুঃ) চক্ষু-রহিত হয়েও (পশ্যতি) যথাযথ দর্শন করেন (অকর্ণঃ) কর্ণ- রহিত হয়েও (শৃণোতি) সবই শ্রবণ করেন (সঃ) তিনি (বেদ্যং) সমস্ত জ্ঞাতব্য বিষয় (বেত্তি) জানেন (চ) অথচ (তস্য) তাঁর (বেত্তা) জ্ঞাতা (ন অস্তি) কেউ নেই। [এজন্য জ্ঞানিগণ] (তম) তাঁকে (অগ্রগ্র্যম) সর্বাগ্রণী (মহান্তম) সর্বাপেক্ষা মহান (পুরুষম) পুরুষ (আহুঃ) বলেন ॥১৯॥

সরলার্থঃ সেই পরমাত্মার হাত নেই, তবুও নিজের অনন্ত শক্তি দ্বারা তিনি সবকিছু গ্রহণ অর্থাৎ ধারণ করেন। তাঁর পা নেই, তবুও তিনি সর্বব্যাপক হওয়ার কারণে সর্বাধিক বেগবান। তাঁর চক্ষু নেই, তবুও তিনি সবকিছু দর্শন করেন। তাঁর কর্ণ নেই, তবুও তিনি সবই শ্রবণ করেন। তিনি সমস্ত জ্ঞাতব্য বিষয় জানেন, অথচ তাঁকে কেউ সম্পূর্ণরূপে জানে না। এজন্য জ্ঞানিগণ তাঁকে সর্বাগ্রণী, সর্বাপেক্ষা মহান পুরুষ বলেন ॥১৯॥

ব্যাখ্যাঃ এই শ্রুতিবাক্যে স্পষ্টভাবে পরমাত্মার ইন্দ্রিয়ের প্রতিষেধ করা হয়েছে। পরমেশ্বর চক্ষু-কর্ণাদি জ্ঞানেন্দ্রিয় ও হস্ত-পদাদি কর্মেন্দ্রিয়ের সাহায্য ছাড়াই গ্রহণ, দর্শন, শ্রবণাদি কার্য সিদ্ধ করতে পারেন, আর এটিই তাঁর সর্বশক্তিমত্তা। সংসার সাগরে নিমজ্জিত অল্পজ্ঞ মানব সেই সর্বজ্ঞ ব্রহ্মকে জানতে পারে না। কিন্তু বৈরাগ্য-প্রাপ্ত, শ্রদ্ধাবান, ধার্মিক মনুষ্যগণ ব্রহ্মবিদ্যার চর্চা ও ধ্যানাদি যোগাভ্যাস দ্বারা তাঁকে জানতে সমর্থ হন। কিন্তু সেই বাক্যমনাতীত ব্রহ্মকে কেউ পূর্ণরূপে জানতে পারে না (কেন০ ২।৩ দ্রষ্টব্য)। তাই বর্তমান শ্রুতিতে বলা হয়েছে, তাঁর জ্ঞাতা কেউই নেই। এজন্য জ্ঞানিগণ সেই জগদীশ্বরকে সর্বাগ্রণী, সর্বাপেক্ষা মহান পুরুষ বলেন ॥১৯৷

টীকাঃ এই শ্রুতির ব্যাখ্যায় মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী লিখেছেন- "পরমেশ্বরের হস্ত নেই, কিন্তু তিনি নিজের শক্তিরূপ হস্ত দ্বারা সমস্ত রচনা এবং গ্রহণ করেন। তাঁর চরণ নেই, কিন্তু তিনি ব্যাপক হওয়ার কারণে সর্বাপেক্ষা অধিক বেগবান। তাঁর চক্ষুগোলক নেই, কিন্তু তিনি সমস্ত যথাবৎ দর্শন করেন। তাঁর শ্রোত্র নেই, তবুও তিনি সকলের কথা শ্রবণ করেন। তাঁর অন্তঃকরণ নেই, কিন্তু তিনি সমস্ত জগৎকে জানেন। তাঁকে সম্পূর্ণরূপে জানতে পারে, এমন কেউ নেই। সনাতন, সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বত্র পূর্ণ হওয়ার কারণে তাঁকে 'পুরুষ' বলা হয়। তিনি ইন্দ্রিয় ও অন্তঃকরণ ব্যতীত সব কর্ম নিজের অনন্ত সামর্থ্য দ্বারা করেন। (সত্যার্থ প্রকাশ, ৭ম সমুল্লাস)” ॥১৯॥
Read More

29 March, 2024

ব্রহ্মসূত্র ১/১/২০

29 March 0

 ব্রহ্মকে আনন্দময় সিদ্ধ করে এখন পূর্বপ্রকৃত নিরাকার ব্রহ্মের শাস্ত্রে সমন্বয় দর্শানোর জন্য অন্তরাধিকরণের আরম্ভ করা হয়েছে-

অন্তস্তদ্ধর্মোপদেশাত্।।
ব্রহ্মসূত্র-১/১/২০
পদ০-অন্তঃঃ। তদ্ধর্মোপদেশাত্।

পদার্থ-( তদ্ধর্মোপদেশাত্) পরমাত্মসম্বন্ধে ধর্মের উপদেশ পাওয়া যাচ্ছে ( অন্তঃ) আদিত্যের মধ্যে হিরণ্ময় পুরুষ পরমাত্মা।

ভাষ্য-পরমাত্মসম্বন্ধে ধর্ম ব্যতীত অন্য কিছুতে হতে পারে না,এইজন্য হিরণ্ময়াদি পদ পরমেশ্বরের স্বয়ং প্রকাশতাকে বোধন করা হয়েছে,যেমন- "অথ য এপোऽন্তরাদিত্যে হিরণ্ময়ঃ পুরুপো দৃশ্যতে হিরণ্যশমশ্রুর্হিরণ্যকেশা আপ্রণখাত্সর্বএব সুবর্ণঃ" ছা০ ১/৬/৬।

অর্থ-যিনি আদিত্যের মধ্যে হিরণ্ময় পুরুষ তাঁর সুবর্ণ দাড়িযুক্ত, সুবর্বণ কেশযুক্ত, এবং নখ থেকে নেওয়া সম্পূর্ণ সুবর্ণময়, ইত্যাদি বাক্য এই অধিকরণের বিষয় বাক্য, এখানে এই সন্দেহ হয় যে, সূর্যমণ্ডলের মধ্যে বস্তুতঃ আকার যুক্ত কোন দেব-বিশেষ উপাস্য আছেন কিংবা পরমাত্মা ?

এখানে প্রথমপক্ষ পূর্বপক্ষী এবং দ্বাতীয়পক্ষ সিদ্ধান্ধের, পূর্পবক্ষীর কথন হয় যে, "অথাকারচিন্তনম্ দেবানাংপুরুষ বিধাঃস্যুঃ"=দেবতাদের আকার চিন্তনের আরম্ভ করি, সেই দেবতা পুরুষের সমান আকার যুক্ত হই, ইত্যাদি বাক্য দ্বারা বেদ পরিপন্থি সম্বন্ধী শাস্ত্রের মধ্যে দেবতাদের আকার পাওয়া যায়,

এইজন্য বেদসম্বন্ধী শাস্ত্রের মধ্যে দেবতাদের আকার পাওয়া যায়, এইজন্য বেদসম্বন্ধী উপনিষদ বাক্যের মধ্যেও উক্ত আকার পাওয়াতে সূর্যলোকের অধিষ্ঠাতার সাকার বিশেষ উপাস্য ঈশ্বরের নয়, কারণ নিরাকার হওয়াতে হিরণ্যশমস্রু আদি পদের সঙ্গতি হতে পারে না অথবা উক্ত হিরণ্য কেশাদি পদ পাওয়াতে সাকার ব্রহ্মই বেদান্তের বিষয় নিরাকার নয়! এর উত্তর এই যে,
"তস্য ধর্মাঃ তদ্ধর্মাঃ জ্যোতির্ময়ত্বাদয়-স্তদুপদেশাদাদিত্যমণ্ডলে পরমাত্মৈবোপাস্যো নান্যঃ কশ্চিদেববিশেষো নাপিস্বমতিপরিকল্পিতম্ সাকারংব্রহ্মঃ" =আদিত্য পুরুষের মধ্যে পরমাত্মসম্বন্ধী জ্যোতির্ময়ত্বাদি ধর্মকে পাওয়াতে নিরাকার ব্রহ্মই উপাস্য দেব এতে অতিরিক্ত কোনো দেব বিশেষ বা পৌরাণিক সাকার ব্রহ্ম নয় অর্থাৎ হিরণ্ময়াদি বিশেষণ কেবল অলঙ্কার রূপ দ্বারা ঈশ্বরের সর্বব্যাপকতা বোধন করানোর জন্য দেওয়া হয়েছে সাকারতার অভিপ্রায় থেকে নয়, যেমন-স্বা০ শঙ্করাচার্যজী একই সূত্রের ভাষ্যে বর্ণনা করেছেন যে,"নচ পরমেশ্বরস্যরূপবত্তম্ যুক্তমশব্দাস্পর্শসরূপসব্যয়মিতি- শ্রুতেঃ"=পরমেশ্বর রূপযুক্ত হতে পারেন না, কারণ তাঁর স্রুতিবাক্যের মধ্যে শব্দ,স্পর্শ, রূপাদি থেকে রহিত অন্বয় প্রতিপাদন করেছেন, এইজন্য আদিত্য মণ্ডলে নিরাকার ব্রহ্মকে মান্যই সমীচীন।।
( ভাষ্য-মহামহোপাধ্যায় পঃ আর্যমুনি)
Read More

শ্বেতাশ্বতর ৩/৫

29 March 0

 এখন পরমাত্মার কল্যাণময় স্বরূপের বর্ণনা করছেন- য়া তে রুদ্র শিবা তনূরঘোরাৎপাপকাশিনী। তয়া নস্তনুবা শন্তময়া গিরিশন্তাভি চাকশীহি॥

শ্বেতাশ্বতর-৩/৫॥
(যজু০ ১৬।২)

পদার্থঃ (রুদ্র) হে দুষ্টদের রোদনকারক পরমাত্মা! তুমি (গিরিশন্ত)১ সত্যোপদেশের বাণী দ্বারা সুখের বিস্তারকারী (তে) তোমার (য়া) যে (অঘোরা) ঘোর উপদ্রব রহিত অর্থাৎ সদা প্রসন্ন (অপাপকাশিনী) সত্য ধর্ম প্রকাশকারী (শিবা) কল্যাণময় (তনূঃ)২ বিস্তৃত স্বরূপ (তয়া) সেই (শন্তময়া) অত্যন্ত শান্তিপ্রদ (তনুবা) বিস্তৃত স্বরূপ দ্বারা (নঃ) আমাদের (অভি চাকশীহি) অবলোকন করো অর্থাৎ আমাদের প্রতি কৃপাদৃষ্টি দান করো ॥

সরলার্থঃ- হে পরমাত্মা! তুমি সত্যোপদেশের বাণী দ্বারা সুখের বিস্তারকারী। তোমার যে সত্য ধর্ম প্রকাশকারী, কল্যাণময়, প্রসন্ন, বিস্তৃত স্বরূপ; সেই অত্যন্ত শান্তিপ্রদ বিস্তৃত স্বরূপ দ্বারা আমাদের প্রতি কৃপাদৃষ্টি দান করো ॥

ব্যাখ্যাঃ পরমাত্মা মানুষদের সুখ প্রদানের জন্য বেদবাণী দ্বারা জ্ঞান দান করেছেন, যাতে আমাদের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়। তিনি ধার্মিকদের রক্ষার জন্য সর্বদা দুষ্টদের দণ্ড দিয়ে রোদন করান, এজন্য তিনি রুদ্র। নির্দোষ পুণ্যবান উপাসককে তিনি সর্বদা সুখ প্রদান করেন, কেননা স্বরূপত তিনি সুখস্বরূপ ও নিষ্কলুষ। যেমন সূর্যোদয়ের সময় সমস্ত অন্ধকার দূর হয়ে যায়, তেমনই পরমাত্মার শুদ্ধ স্বরূপের শরণাগত হলে হৃদয়ের সমস্ত পাপপ্রবৃত্তি সমূহ নষ্ট হয়ে যায়। পরমাত্মা যেন নিজের সেই অত্যন্ত কল্যাণময় সুখপ্রদ স্বরূপ দ্বারা আমাদের কৃপা করেন অর্থাৎ আমাদেরকে জ্ঞান-বিজ্ঞান দ্বারা সংযুক্ত করেন, যাতে আমাদের জাগতিক ও পারমার্থিক সুখ লাভ হয় ॥

>টীকাঃ (১) 'গিরা' শব্দের অর্থ, বাণী অথবা স্তুতি। যথা- 'গীরিতি বাঙ্গামসু পঠিতম্' (নিঘন্টু ১১), গির স্বতয়ো গৃণাতে' (নিরুক্ত ১।১০), 'গিরা গীত্যা স্তত্যা' (নিরুক্ত ৬।২৪), 'বাশ্বৈ গী' (শত০ ব্রা০ ৭।২।২৫)। এছাড়া 'পিরি বাচি স্থিতঃ শং তলোজীতে বা" ( মহীধর)। সুতরাং "য়ো গিরিণা সত্যোপদেশেন শং সুখং তলোতি স গিরিশন্ত পরমেশ্বরঃ" যিনি সত্যোপদেশরূপ বাণী দ্বারা সুখের প্রেরণা দান করেন, সেই পরমেশ্বরই গিরিশল্পা।

(২) শ্রুতিতে স্তনু' শব্দের দ্বারা ঈশ্বরের দেহধারী হওয়ার শঙ্কা উৎপন্ন হতে পারে। কিন্তু বেদ ও উপনিষদ যাঁকে 'অকায়ম্', 'অশরীরম্' বলে ঘোষণা করেছে, তাঁর শরীরের কল্পনা কীভাবে করা যেতে পারে? 'তনু বিশ্বারে (তনা০) ধাতোর্লোটি রূপাণি। 'উতশ্চ প্রত্যয়াচ্ছন্দো বা বচনম্' অষ্টা০ ৬।৪।১০৬ [মহাভাস্যোক্ত পাঠ) সূত্রেল ছন্দসি হর্লোপে বিকল্প।” পাণিনীয় ধাতুপাঠ- ১৪৬৪ সূত্রানুসারে, 'তনু বিস্তারে' অর্থাৎ তন্ (বিস্তার করা).. তনু। শতপথ ব্রাহ্মণ অনুসারে, "আত্মা বৈ তনু" (শত০ ব্রা০ ৬/৭।২।৬) অর্থাৎ পরমাত্মার বিস্তৃত স্বরূপ।

য়া তে রুদো শিবা তনূরঘোরাऽপাপকাশিনী।
তয়া নস্তনুবা শন্তময়া গিরিশন্তাভিচাকশীহি।।
শ্বেতাশ্বতরোপনিষদ-৩/৫

পদার্থ-( রুদ্র) হে রুদ্র দেব! ( তে) তোমার ( যা) যে ( অঘোরা) সৌম্য ( অপাকাশিনী) পাপকে দূরকারী ( শিব) কল্যাণকারী ( তনূঃ) স্বরূপ ( গিরিশন্ত) সকলের হৃদয়রূপী গুহায় বিরাজমান ( তথা) সেই ( শান্তময়া) শান্তি দানকারী ( তনুবা) দিব্য স্বরূপ দ্বারা ( অভিবাচকশীহি) আমাদের হৃদয়কে প্রকাশিত করো।

ব্যাখ্যা-এই এবং পরের দুটি মন্ত্র যজুর্বেদ ১৬ অধ্যায় ২,৩ থেকে এসেছে এগুলিতে বিদ্বানদের বেদের জ্ঞাতা তথা পরমাত্মা নিকট ভক্ত প্রার্থনা করে। হে রুদ্র! দুষ্টোকে রুদন- কারী,সত্যকে সুখ দানকারী তোমার যে সৌস্য কল্যাণকারী তথা যাঁর স্বরণে পাপ ও মন্দের নাশ হয়ে যায় এমনি গিরিশন্ত! গিরৈ স্থিত্বা শম্ সুখ অর্থাৎ যেমন শক্তি পর্বতের অভ্যন্তরে বা যে প্রত্যকের হৃদয়রূপী গুহায় স্থিত শান্ত- সচ্চিদানন্দন স্বরূপ সেই নীতি থেকে সুখের বিস্তারকারী ৪্রভু অভিচাকশীহি অভি-পশ্য-আমাদের-আমাদের দেখো অর্থাৎ আমাদেরও কল্যাণকারী পথে চলতে কৃপা করো।।
( ভাষ্য-বিশ্বম্ভরদেব শাস্ত্রী)
Read More

শ্বেতাশ্বতর ২/১৬

29 March 0

এষ হ দেবঃ প্রদিশোহনু সর্বাঃ পূর্বো হ জাতঃ স উ গর্ভে অন্তঃ।

স এব জাতঃ স জনিষ্যমাণঃ প্রত্যঙ্ জনাংস্তিষ্ঠতি সর্বতোমুখঃ ॥

শ্বেতাশ্বতর-২/১৬।
(যজু০ ৩২।৪)
পদার্থঃ হে মনুষ্য! (এষঃ) এই (হ) প্রসিদ্ধ (দেবঃ) পরমাত্মদেব (সর্বাঃ) সকল (প্রদিশঃ) দিশা-উপদিশা, অর্থাৎ সর্বদিকে (অনু) অনুকূলতা দ্বারা ব্যাপ্ত হয়ে আছেন (পূর্বঃ) পূর্ব কল্পের সৃষ্টিতে (সঃ উ) তিনিই (গর্ভে) [সকলের] অন্তঃকরণের (অন্তঃ) মধ্যে (হ) নিশ্চিতরূপে (জাতঃ) প্রকট হয়েছেন (সঃ এব) তিনিই (জাতঃ) সৃষ্টিকে নির্মাণ করে প্রকট হয়েছেন [এবং] (সঃ) তিনি (জনিষ্যমাণঃ) ভবিষ্যৎ কল্পের সৃষ্টিতেও প্রকট হবেন। [তিনি] (সর্বতোমুখঃ) সর্বত্র মুখ- বিশিষ্ট [সকলের অন্তর্যামীরূপে উপদেষ্টা] (প্রত্যঙ্) প্রত্যেক (জনান) জীবের মধ্যে (তিষ্ঠতি) অবস্থিত ॥১৬॥

সরলার্থঃ হে মনুষ্য! এই প্রসিদ্ধ পরমাত্মদেব সকল সর্বদিকে অনুকূলতা দ্বারা ব্যাপ্ত হয়ে আছেন। পূর্ব কল্পের সৃষ্টিতে তিনিই সকলের অন্তঃকরণের মধ্যে নিশ্চিতরূপে প্রকট হয়েছেন। তিনিই সৃষ্টিকে নির্মাণ করে প্রকট হয়েছেন এবং ভবিষ্যৎ কল্পের সৃষ্টিতেও প্রকট হবেন। তিনি সর্বত্র মুখ-বিশিষ্ট (সকলের অন্তর্যামীরূপে উপদেষ্টা) এবং প্রত্যেক জীবের মধ্যে অবস্থিত।১৬॥

ব্যাখ্যাঃ প্রত্যেক সৃষ্টির শুরুতে পরমাত্মা জগৎকে রচনা করে সেই সৃষ্টিতে প্রকট হন। মনু এই বিষয়ে বলেছেন- “ততঃ স্বয়ম্ভূর্ভগবানব্যক্তো ব্যঞ্জয়য়িদম্। মহাভূতাদিবৃত্তৌজাঃ প্রাদুবাসীয় ডমেনদঃ।। (মনুস্মৃতি ১।৬)” অর্থাৎ 'তম'-রূপ প্রকৃতির প্রেরক স্বয়ম্ভূ পরমাত্মাই অগ্নি, বায়ু আকাশাদি মহাভূত সমূহের উৎপাদক। তিনি এই সম্পূর্ণ জগৎকে ব্যক্ত অবস্থায় এনে নিজেই সৃষ্টিতে প্রকট (প্রকাশিত) হলেন। পরমাত্মার প্রকট হবার অভিপ্রায় হলো, কার্যরূপ জগৎকে দেখেই এর কর্তা অর্থাৎ পরমাত্মার অস্তিত্ব সম্পর্কে অনুভব হয়। এজন্য জগতের প্রকাশাবস্থাই পরমাত্মার প্রকটিত অবস্থা এবং জগতের প্রলয়ই পরমাত্মার অপ্রকট অবস্থা। এভাবে পরমাত্মা জগৎকে উৎপন্ন করার পর স্বয়ং প্রকাশিত হয়ে, সকল দিশাতে পরিব্যাপ্ত আছেন। তিনি শুধু এই জগতেই নয়, বরং সকল প্রাণীর হৃদয়াকাশেও ব্যাপ্ত হয়ে অন্তর্যামীরূপে বিদ্যমান। তিনি চক্ষু-কর্ণাদি জ্ঞানেন্দ্রিয় এবং হস্ত-পদাদি কর্মেন্দ্রিয়ের সহায়তা ছাড়াই জগতের সৃষ্টি, স্থিতি, প্রলয়াদি কার্য করছেন এবং সকল প্রাণীর হৃদয়ে স্থিত আছেন। তিনি কল্পের প্রারম্ভে সৃষ্টি রচনা করে এই সৃষ্টিতে যেমন প্রকট হয়েছেন, তেমনই ভবিষ্যৎ কল্পেও প্রকট হবেন। তিনি কেবল ধ্যানশীল ব্যক্তির দ্বারাই জানার যোগ্য, অন্য কারো দ্বারা নয় ॥১৬॥
Read More

19 March, 2024

শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ ৬/৯

19 March 0

শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ ৬/৯
ন তস্য কশ্চিৎ পতিরস্তি লোকে ন চেশিতা নৈব চ তস্য লিঙ্গম্।

স কারণং করণাধিপাধিপো ন চাস্য কশ্চিজ্জনিতা ন চাধিপঃ ॥৯৷

পদার্থঃ (লোকে) এই জগতে (তস্য) সেই পরমাত্মার (কশ্চিৎ) কোনো (পতিঃ) স্বামী, রক্ষক (ন অস্তি) নেই (চ) এবং (ঈশিতা) নিয়ন্তা, শাসক (ন) নেই (চ) এবং (তস্য) তাঁর (লিঙ্গম) কোনো লিঙ্গ বা পরিচায়ক চিহ্নও (ন এব) নেই (সঃ) তিনি (কারণম্) জগতের কারণ এবং (করণাধিপাধিপঃ) সকল ইন্দ্রিয়ের স্বামী জীবেরও স্বামী (চ) এবং (অস্য) এঁর (কশ্চিৎ) কোনো শ্বেতাশ্বতরোপনিষদ্
(জনিতা) জনক, উৎপাদক (ন) নেই (চ) এবং (ন) নেই (অধিপঃ) অধিষ্ঠাতা, স্বামী ॥৯ ॥
সরলার্থঃ জগতে ওই পরমাত্মার কোনো স্বামী নেই এবং তাঁর কোনো নিয়ন্তা বা শাসক নেই। তাঁর কোনো লিঙ্গ বা পরিচায়ক চিহ্নও নেই, যা দ্বারা তাঁকে অনুমান করা যায়। তিনিই জগতের কারণ এবং সকল ইন্দ্রিয়ের স্বামী জীবেরও স্বামী; তাঁর কোনো জনক বা উৎপাদক নেই এবং কোনো অধিপতিও নেই ॥৯॥
ব্যাখ্যাঃ এই সংসারে পরমাত্মার কোনো প্রভু নেই, নিয়ন্তাও কেউ নেই। বরং পরমাত্মাই এই ব্রহ্মাণ্ডের একমাত্র স্বামী এবং সকলের শাসক। তিনিই তাঁর সুনির্দিষ্ট নিয়ম দ্বারা সবাইকে চালনা করেন এবং সবার ওপর প্রভুত্ব করছেন। তাঁর কোনো লিঙ্গ বা পরিচায়ক চিহ্ন নেই অর্থাৎ তিনি কীরূপ, তা কোনো চিহ্ন বা প্রতীক দ্বারা বোঝা সম্ভব নয়। তিনি এই সৃষ্ট জগতের মূল কারণ অর্থাৎ সৃষ্টির কারণভূত প্রকৃতিরও স্বামী ও নিয়ন্তা। সেই পরমাত্মার কোনো 'জনক' অর্থাৎ জন্মদাতা পিতা বা উৎপাদক নেই, এ কারণেই তিনি 'স্বয়ম্ভু'। যিনি কারো অধীন নন, সর্বকালে স্বতন্ত্র, নিত্য, অনাদি, অনন্ত, নিরাকার, নিরাধার, নির্বিকার, সর্বাধিপতি, সর্বনিয়ন্তা, সর্বোৎপাদক এবং সর্বশক্তিমান- তিনিই পরমাত্মা। তাঁর এই শাশ্বত স্বরূপই মুক্তিকামী জীবের জ্ঞাতব্য ॥৯॥
Read More

কঠো উপনিষদ ২/২/৭

19 March 0

 য়োনিমন্যে প্রপদ্যন্তে শরীরত্বায় দেহিনঃ।

স্থাণুমন্যেংনুসংয়ন্তি য়থাকর্ম যথাশ্রুতং
কঠোউপনিষদ [২/২/৭]

পদার্থঃ (অন্যে) ব্রহ্মজ্ঞানহীন (দেহিনঃ) জীবাত্মা নিজের (য়থাকর্ম) পাপ-পুণ্য কর্ম এবং (য়থাশ্রুতম্) জ্ঞান অনুসারে (শরীরত্বায়) মনুষ্যাদি শরীর ধারণের জন্য (য়োনিম্)' গর্ভাশয়কে (প্রপদ্যন্তে) প্রাপ্ত হয় (অন্যে) এবং অন্য নিকৃষ্ট জীব (স্থাণুম্) বৃক্ষাদি স্থাবর যোনী (অনুসংয়ন্তি) মৃত্যুর পর প্রাপ্ত হয় ॥৭॥
সরলার্থঃ ব্রহ্মজ্ঞানহীন জীবাত্মা নিজের পাপ-পুণ্য কর্ম এবং জ্ঞান অনুসারে মনুষ্যাদি শরীর ধারণের জন্য গর্ভাশয়কে প্রাপ্ত হয় এবং অন্য নিকৃষ্ট জীব মৃত্যুর পর বৃক্ষাদি স্থাবর যোনী প্রাপ্ত হয় ॥৭॥
ব্যাখ্যাঃ এই শ্রুতিতে ব্রহ্মজ্ঞানহীন জীবকে উপনিষৎকার ঋষি দুটি ভাগে ভাগ করেছেন। প্রথমত যারা মৃত্যুর পর নিজের কর্ম ও জ্ঞান সংস্কার অনুসারে মনুষ্য, পক্ষী প্রভৃতি যোনী লাভ করে এবং অন্য অশুভ কর্মশীল তমোগুণী জীব, যারা বৃক্ষাদি স্থাবর যোনিকে লাভ করে। বৃক্ষাদি যোনিতেও জীবাত্মা নিজের কর্ম অনুসারে গমন করে। মনু মহারাজও বৃক্ষাদি যোনিতে কর্মানুসারে জীবের গতি বর্ণনা করে লিখেছেন- "স্থাবরাঃ কৃমিকীটাশ্চ মৎস্যাঃ সর্পাঃ সকচ্ছপাঃ। পশবচ্চ মৃগাশ্চৈব জঘন্যা তামসী গতিঃ। (মনু০ ১২।৪২)” অর্থাৎ বৃক্ষাদিস্থাবর পদার্থ, কৃমি, কীট, মাছ, সাপ, কচ্ছপ, পশু ও মৃগ- এদের তমোগুণনির্মিত যে গতি হয়ে থাকে, এই সব যোনিপ্রাপ্তি অর্থাৎ এইসব রূপে জন্মানো "নিকৃষ্ট তামসিক গতি"। "শরীরজৈঃ কর্মদোষৈয়াতি স্থাবরতাং নরঃ। বাচিকৈঃ পক্ষিমৃগভাং মানসৈরন্তজাতিতাম্। (মনু০ ১২।৯)" অর্থাৎ শারীরিক কর্মদোষের আধিক্য হলে মনুষ্য বৃক্ষলতাদি স্থাবরত্ব প্রাপ্ত হয় অর্থাৎ স্থাবর পদার্থ হয়ে জন্মায়, বাচিক অশুভ কর্মানুষ্ঠানের অধিক্য হলে পশু, পাখী হয়ে জন্মায় এবং মনের দ্বারা কৃত অশুভ কর্মের আধিক্যের ফলে নিম্নশ্রেণির মনুষ্যরূপে জন্মগ্রহণ করে। এখন মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, পরমেশ্বর কোনো কোনো জীবকে মনুষ্য জন্ম, কোনো জীবকে সিংহাদি ক্রুর জন্ম, কোনো কোনো জীবকে হরিণ, গবাদি পশু জন্ম, কোনো কোনো জীবকে বৃক্ষ-কৃমি পতঙ্গ প্রভৃতি জন্ম দিয়েছেন। এতে পরমাত্মার পক্ষপাত ঘটছে। এই শঙ্কার সমাধান দিয়ে মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী লিখেছেন- "পক্ষপাত ঘটছে না। কারণ পূর্ব সৃষ্টিতে জীবের কৃত ঐ সকল কর্মানুসারে ব্যবস্থা করা হয়েছে। কর্ম ব্যতীত জন্ম ব্যবস্থা করলে পক্ষপাত করা হতো (স০ প্র০ ৮ম সমু০)।" মোটকথা হচ্ছে, যেসব মনুষ্য ব্রহ্মজ্ঞান বিমুখ, তারা ক্লেশকর্মাদির জালে আবদ্ধ হয়ে ভোগরূপ ফল প্রাপ্ত হয়। যার শুভকর্ম অধিক, তিনি উত্তম যোনী; যার শুভাশুভকর্ম সমান, তিনি মনুষ্য যোনী এবং যার অশুভকর্ম অধিক তিনি তীর্যক ও স্থাবর যোনী প্রাপ্ত হন। যতক্ষণ তারা মোক্ষের অধিকারী না হয়েছেন, ততক্ষণ এইপ্রকার জন্ম- মৃত্যুরূপ চক্রে ঘুরতে থাকেন ॥৭॥
Read More

11 February, 2024

বৃহদারণক্য উপনিষদ ১/৪/৩

11 February 0

স বৈ নৈব রেমে তস্মাদেকাকী ন রমতে স দ্বিতীয়মৈচ্ছত্। স হৈতাবানাম যথা স্ত্রীপুমাংসৌ স্মপরিষক্তৌ স ইমমেবাऽऽত্মানম্ দ্বেধাऽপাতয়ত্ ততঃ পতিশ্চ পত্নীচাভবতাম্ তস্মাদিদমর্ধবৃগলমিব স্ব ইতি হ স্বাऽऽহ যাজ্ঞবল্ক্যস্তস্মাদয়মাকাশঃ স্ত্রিয়া পূর্য্যত এব তাম্ সমভবৎ ততো মনুষ্যা অজায়ন্ত।। বৃহদারণক্য উপনিষদ-১/৪/৩

অনুবাদ-নিশ্চয়,তিনি আনন্দিত না ছিল। এই কারণে একাকী আনন্দিত না থাকে । সেই অন্যের ইচ্ছার। নিশ্চয় ওই এত ছিল যত স্ত্রী এবং পুরুষ উভয়ই মিল হয়েছে। তিনি এই আত্মাকে উভয় প্রকারে ছড়িয়েছেন তখন সেই থেকে পতি এবং পত্নি উভয় হয়েছে। যাজ্ঞবল্ক্য বলেছেন যে একই কারণে জীবাত্মার এই শরীর অর্ধবৃগত অর্থাৎ অর্ধেক ডাল অথবা অর্ধেক ঝিনুকের ন্যায়। অতএব পুরুষের শরীরের রিক্তস্থান স্ত্রী থেকেই পূর্ণ করা হয়। সেই স্ত্রীর সাথে ওই সম্মিলিত হয়ে। তখন মনুষ্য উৎপন্ন হয়।

পদার্থ-( সঃ, বৈ+ন+এব+রেমে) সেই পরুষবিধ জীবাত্মা, নিশ্চয়ই, আনন্দিত না হয় কারণ সে একা ছিল অতএব এতে আনন্দ প্রাপ্তি না হয়। ( তস্মাত্ একাকী+ন+রমতে) এই হেতু আজকালও একাকী পুরুষ প্রসন্ন না থাকে অতএব ( স,+দ্বিতীয়ম্+ঐচ্ছত্) সেই দ্বিতীয় ইচ্ছার। ( সঃ+ হ+এতাবান+আস) সেই এত ছিল যে ( যথা+ স্ত্রীপুমাংসৌ+ সম্পরিষক্তৌ) যত স্ত্রী এবং পুরুষ উভয়ই মিল হয়েছে অর্থাৎ আদিতে একাকী প্রকারতা ছিল স্ত্রী এবং পুরুষের ভেদ না ছিল। জীবমাত্রে উভয় গুণ হয়। ওই শরীর পাকে কখনও স্ত্রী এবং কখনও পুরুষ হয় এই শাস্ত্র সিদ্ধান্ত। অতএব বলা হয় যে,না তো এটি স্ত্রী, না পুরুষ,না কুমার,না যুবা,না বৃদ্ধ হয় ইত্যাদি। পুনঃরায় আগে কি হয়েছে সেও বলা হয়েছে-( সঃ,+ইমম্+এব+আত্মানম্) তিনি এই আত্মাকে ( দ্বেধা+অপাতয়ত্) উভয় প্রকারে ছড়িয়েছেন অর্থাৎ উভয় মার্গে বিভক্ত করা ( ততঃ+পতিঃ+চ+পত্নী+ অভবতাম্) তখন পতি এবং পত্নী উভয়ই হয় ( তস্মাত্) একই কারণে ( স্বঃ) আত্মার ( ইদম্+অর্ধবৃগলম্+ইব) এই শরীর অর্ধেক ডাল বা অর্ধেক ঝিনুকের ন্যায়। ( ইতি+ যাজ্ঞবল্ক্য+আহ+স্ম+হ) এমনি যাজ্ঞবল্ক্য ঋষি বলেছেন। এই পুরুষ এবং স্ত্রী উভয়ই অর্ধেক অর্ধেক হয় এতে পুনঃরায় কারণ বলেছেন ( তস্মাত্+অয়ম্+আকাশঃ) যেহুতু পরুষের শরীর অর্ধেকই হয় অতএব পুরুষের দেহরূপ রিক্তস্থান ( স্ত্রিয়া+পূর্য্যত্+এব) স্ত্রী থেকেই পূর্ণ হয়। এই প্রকার যখন স্ত্রী এবং পুরুষ উভয়ই বিভক্ত হয়ে তখন ( তাম্+সমভবত্) ওই পুরুষ সেই স্ত্রীর সাথে সংমিলিত হয়। ( ততঃ+মনুষ্যাঃ+অজায়ন্ত) তখন বহু মনুষ্য উৎপন্ন হয়।

ভাষ্যশয়-দেখতে পাই যে পৃথিবীতে কোন প্রাণী একা থেকে জীবন ব্যয় করতে না চায়। অনুতম কীট পতঙ্গও পত্নীর সাথে ক্রীড়া করে। এদের মধ্যেও কোন অংশ পর্যন্ত প্রেম সঞ্চারিত হয়। আজকাল বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত বর্ণনা করেন যে বৃচাদিগের মধ্যেও স্ত্রী এবং পুরুষ বিদ্যমান রয়েছে। আরে! কী বিচিত্র এই পরমাত্মার সৃষ্টি। জোড়া ব্যতীত কি প্রকার এর বহু বৃদ্ধি হত অতএব তিনি এই জগৎকে স্ত্রী-পুরুষময় সৃষ্টি করেছেন এই থেকে তাঁর পরমপ্রেম প্রকাশিত হয়। এটি দুঃখজনক নয় বরং আনন্দদায়ক করেছেন। প্রত্যেক পদার্থ আনন্দ-স্বরূপ। আমরা আনন্দ গ্রহণ করি এবং দান করি পরস্পর একে অন্যের সহায়ক। এতেও প্রত্যেক জাতিতে পরস্পর স্ত্রী পুরুষ আনন্দের কারণ হয় এবং তাদের পরস্পরের সহয়তা থেকে এই আনন্দময় সৃষ্টির বৃদ্ধি হয়ে থাকে। যদি এতে অবিবেকের ছায়া না আসে তবে নিশ্চয় এই জগৎ বড়ই সুখদায়ক হত। এমন সৃষ্টিকে দেখানোর জন্য পরবর্তী কাণ্ডিকা আরম্ভ করা হয়েছে।

( ভাষ্য-পণ্ডিত শিবশঙ্কর কাব্যতীর্থ)
Read More

04 January, 2024

শ্বেতাশ্বতরোপনিষদ ২/১৫

04 January 0

শ্বেতাশ্বতরোপনিষদ ২/১৫

 যদাऽऽত্মতত্বেন তু ব্রহ্মতত্ত্বং দীপোপমেনেহ যুক্তঃ প্রপশ্যেৎ।

অজং ধ্রুবং সর্বতত্ত্বৈর্বিশুদ্ধং জ্ঞাত্বা দেবং মুচ্যতে সর্বপাশৈঃ।।

শ্বেতাশ্বতরোপনিষদ ২/১৫

পদার্থ-( যুক্তঃ) যোগী ( যদা তু) যখন ( দীপোপমেন) দীপকের ন্যায় ( ব্রহ্মতত্বম্) ব্রহ্মের স্বরূপকে ( ইহ) এখানে [ এই জীবনে ] ( প্রপশ্যেত্) সাক্ষাত করে নেয় [ তখন ] ( অজম্) অজন্মা,( ধ্রুবম্) [ সর্বব্যাপক হওয়ায় ] কম্পন থেকে রহিত ( সর্বতত্ত্বৈর্বিসুদ্ধম্) সকল তত্ত্ব থেকে অধিক শুদ্ধ ( দেবম্) পরমাত্মদেবকে ( জ্ঞাত্বা) জেনে ( সর্বপাশৈঃ) সকল প্রকার [ বন্ধন ] থেকে ( মুচ্যতে) মুক্ত হয়ে যায় অর্থাৎ মোক্ষকে প্রাপ্ত করে নেয়।।

সরলার্থ-যোগী যখন দীপকের ন্যায় ব্রহ্মস্বরূপকে এখানে এই জীবনে সাক্ষাত করে নেয়,তখন অজন্মা সর্বব্যাপক হওয়ায় কম্পন থেকে রহিত সকল তত্ত্ব থেকে অধিক শুদ্ধ পরমাত্মদেবকে জেনে সকল প্রকার বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যায় অর্থাৎ মোক্ষকে প্রাপ্ত করে নেয়।। ( ভাষ্যকার-মহাত্মা নারায়ণ স্বামী)
Read More

10 December, 2023

বৃহদারণ্যকপোনিষদ ১/৫/১১

10 December 0

 ও৩ম্ শান্তিঃ

তস্যৈ বাচঃ পৃথিবী শরীরম্ জ্যোতীরূপসয়মগ্নিস্তদ্যাবত্ব্যব বাক্ তাবতী পৃথিবী তাবানয়মগ্নিঃ।।
বৃহদারণ্যকপোনিষদ-১/৫/১১

অনুবাদ-সেই বাণীর শরীর পৃথিবী এবং প্রকাশাত্মকরূপ অগ্নি । এতে যতই জল আছে ততই পৃথিবী এবং ততই এই অগ্নি।

পদার্থ-( তস্যৈ) সেই ( বাচঃ) বাণীর ( শরীরম্) শরীর ( পৃথিবী) পৃথিবী ( জ্যোতীরূপম্) প্রকাশাত্মকরূপ ( অয়ম্+অগ্নিঃ) এই অগ্নি ( তত্) এর জন্য ( যাবতী+ এব) যে পরিমাণের অর্থাৎ যত বেশী ( বাগ্) বাণী ( সাবতী+ পৃথিবী) ততই পৃথিবী। এবং ( তাবান্) ততই ( অয়ম্+ অগ্নিম্) এই অগ্নি।

ভাষ্যঃ- এই প্রত্যক্ষ বিষয় হল যে, যেখানেই পৃথিবীর অংশ আছে সেখান থেকে বাণী অবশ্য প্রকট হতে পারে। মেঘ আদিতেও ধূলি-কণার অনুমান হয়। যেখানে স্থূলতা বিস্তৃতা আদি গুণ আছে সেখানে পৃথিবীত্ব বোঝা উচিত। সাল্যের মতে একটি মাত্র পদার্থ আছে যাকে প্রকৃতি বলে। পৃথিবী, জল, বায়ু, তেজ আদি যা কিছু আছে সেই সমস্ত কিছু প্রকৃতিরই পরিণাম। যেমন দুধেরই পরিণাম দধী, ঘী আদি। তদ্ধত্। এই জন্য পৃথক পৃথক করে নির্ণয় করা অতি কঠিন। এবং পৃথিবী কি জল? পৃথিবীতে জলাদি অংশ কতটুকু এবং জলে পৃথিবীর অংশ কতটুকু এই সম্পর্কিত বিষয় অন্বষণীয়। এই জন্য যেখানে সাধনতা পৃথুনা স্থূলতা আদি গুণ প্রতীত হয় সেখানে সাধনতা আদির অধিকতার কারণ পৃথিবীত্বই জানা। এই জন্য বাণীর শরীর ( আধার) পৃথিবী এবং অগ্নি এর রূপ বলা হয়েছে। এর ভাব এই হয় যেমন নেত্র আদিক ইন্দ্রিয় পদার্থ গ্রহণের কারণ। তেমনই অগ্নিও বাণীর কারণ। অগ্নি ব্যতীত বাণী না হতে পারে। প্রত্যক্ষ ভাবে দেথা যায় যে,এই শরীরের মৃত্যুর সময় যখন পর্যন্ত উষ্ণতার বোধ হয় তখন পর্যন্ত বাকশক্তিও প্রায় থাকে। জন শরীর সর্বথা শীতল হয়ে যায় তখন বাণীও বন্ধ হয়ে যায়। এই জন্য বাণী অগ্নেয়শক্তিবিশিষ্ট এমন প্রতীত হয়। আরও যেমন অগ্নি পদার্থের প্রকাশক এবং অন্ধকারের নাশক হয়। তেমনই বাণী আমাদের উচ্চারণ থেকে মন্ত্র পদার্থের প্রকাশিকা এবং যদি শুদ্ধ-বিশুদ্ধ বাণী হয় তবে অজ্ঞানতাকেও নষ্ট করে দেয়। এই অনেক কারণে স্তুতির জন্য যতই বাণী ততই পৃথিবী এবং অগ্নি বলা হয়েছে।

( ভাষ্য-পণ্ডিত শিবসঙ্কর শর্মা)
Read More

24 October, 2023

কোনোপোনিষদ ৩/২

24 October 0

 তদ্ধৈষাং বিজজ্ঞৌ তেভ্যো হ প্রাদুর্বভূব। তন্নব্যজান্নত কিমিদং যক্ষমিতি।।

কোনোপোনিষদ-৩/২
পদার্থ-( তত্) সেই ব্রহ্ম ( হ) নিশ্চয় করে ( এষাম্) অগ্নি আদি দেবতাদের চেষ্টাকে ( বিজজ্ঞৌ) সর্বজ্ঞভাব থেকে জানতেন। ( তেভ্যঃ) এবং তাদের [ অহঙ্কার যা মিথ্যা জ্ঞানকে সমাপ্ত করার জন্য ] ( হ) নিশ্চয় থেকে ( প্রাদুর্বভূব) ব্রহ্ম প্রকট হলেন। তারা দেব ( তত্) সেই ব্রহ্মকে ( ন,ব্যজান্নত) জানতে পারে না যে ( ইদম্,যক্ষম্) এই অপ্রতিম তেজযুক্ত যক্ষ ( কিম্,ইতি) কে।
ভাবার্থ-এখানে ব্রহ্মের যক্ষ রূপে প্রকট হএয়া এবং অগ্নি আদি দেবতাগণ তাঁকে জানে না,এক আলঙ্কারিক বর্ণনা যথার্থ নয়। ব্রহ্ম এক সর্বব্যাপক চেতন সত্ত্বা,তাঁকে অগ্নি আদি জড় দেবতা কদাপি জানতেও পারে না। যেমন মণ্ডকোপনিষদে পরমাত্মার মুখ,নেত্রাদির আলঙ্কারিক বর্ণনা করা হয়েছে,তেমনই এখানেও বুঝা উচিত। এই আখ্যায়িকার এক ভাব এটাও হয় যে শরীরেও পঞ্চভূত কার্যকর আছে। যখন জীব পরমব্রহ্মের উপাসনা থেকে অদ্ভূত তেজ বা সামর্থ্য প্রাপ্ত করা হয়,তখন অগ্নি আদির কার্য নেত্রাদি ইন্দ্রিয়াতে এমন গর্ব উৎপত্তি হয়ে যায় যে এই তেজ বা সক্তি আমাদেরই। সেই অহঙ্কারকে দূর কারার জন্যও এই আখ্যায়িকা উৎপত্তি হয়েছে। ব্রহ্ম নিরাকার হওয়ায় তাঁর শরীরধারী হয়ে সংবাদ করা কদাপি সম্ভব নয়, পুনরপি এখানে আখ্যায়িকার রূপে ব্রহ্মের সর্বোকৃষ্টতার জ্ঞান করার জন্য বর্ণনা করা হয়েছে। কারণ আখ্যায়িকার দ্বারা কঠিন বিষয়ও সরল বা সুগম হয়ে যায়।
আলঙ্কারিক আখ্যায়িকার স্পষ্টকরণ-
এই সমস্ত সংসার প্রকৃতির বিকার। এটা স্বয়ং না তো উৎপত্তি হতে পারে এবং না বিকার হতে পারে। এর রচয়িতা তথা প্রলয়কারী পরমব্রহ্ম। অতঃ অগ্নি আদি দেবতাদের মধ্যে ব্রহ্মের বিজয়=মহত্ত্ব অধিক। পরন্তু পরমব্রহ্ম ইন্দ্রিয়াগোচর,সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম তথা সর্বত্র ব্যাপক সত্তা,তাঁকে জানা সহজ না হওয়ায় অনাত্মজ্ঞানী ভৌতিক অগ্নি আদি জড় দেবতাকেই উৎকৃষ্ট মনে করা পরমব্রহ্মকে মান্যতা থেকে অস্বীকার করা। এমন অনাত্মবাদি নাস্তিক মানুষকে বুঝানোর জন্য উপনিষদকার এই আলঙ্কারিক গাথারূপে বর্ণনা করেছেন। অগ্নি আদি দেবতাদের সম্মুখ ব্রহ্ম তেজস্বী যক্ষরূপে প্রকট হয়েছিলেন দেবতা তাঁকে না জানতে পারে। সকল দেবতাগণ মিলে অগ্নি দেবকে পাঠালেন যক্ষ দেবকে জানার জন্য তুমি প্রকাশমান হওয়ায় যক্ষকে জানতে পারবে। অগ্নি যক্ষের নিকট গেলেন এবং যক্ষের জিজ্ঞাসার উপর সগর্বে উত্তর দিলেন যে আমি সকলকে পোড়ানোর সামর্থ্য রাখি অগ্নি ও প্রত্যেক উৎপন্ন পদার্থে বিদ্যমান হওয়ায় "জাতবেদাঃ" হই। কিন্তু যক্ষের খড়কেও পোড়াতে না পেরে এবং নিরাশ হয়ে ফিরে আসে। তারপর দেবতগণ বায়ুর নিকট প্রার্থনা করলেন যে তুমি অনেক বলবান বা গতিশীল তুমি অনুসন্ধান করো যে কে এই যক্ষ। কিন্তু যক্ষের নিকট গিয়ে বায়ুও শক্তিহীনই থাকে এবং ক্ষুদ্র খড়ও উড়িয়ে দিতে পারেনি।বায়ুও নিরাশ হয়ে ফিরে আসে। এখানে অগ্নি ও বায়ুকে পাঠানোর আশয় এই হয় যে সংসারে উভই প্রমুখ শক্তি আদি আছে-এক প্রকাশ ও দুই গতি। এদের আশ্রয় থেকে প্রত্যেক বস্তুকে পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু পরমব্রহ্মকে প্রাপ্ত করাতে যে উভয় শক্তি আদিও তুচ্ছ বা অসমর্থ। অগ্নি ভৌতিক পদার্থের মধ্যে ব্যাপক হয়েও ভিন্ন ব্যক্তরূপে এসে অনুসন্ধান করেও পোড়াতে পারে না। এই প্রকার বায়ুও ব্যক্তাবস্থায় এসেই তৃনকে উড়াতে পারে, অন্যথা নয়। এবং অব্যক্ত থেকে ব্যক্তাবস্থায় অগ্নি আদিকে পরমব্রহ্মই করেন। যা আছে এদের সামর্থ্য,সেই ব্রহ্ম থেকে প্রদত্ত। অতঃ ব্রহ্মের মহিমা অপার তথা বিলক্ষণ। পুনঃ দেবতাগণ ইন্দ্র=জীবাত্মাকে যক্ষের নিকট পাঠালেন। যক্ষ ইন্দ্রকে দেখার পর অন্তর্ধান হয়ে যায়। এতে এক রহস্য যে যক্ষ অগ্নি তথা বায়ুকে দেখার পর গোপন নয়, পুনঃ ইন্দ্রকে দেখার পর কি করে গোপন? অগ্নি বা বায়ু জড় হওয়ায় জানতে অসমর্থ ছিলো,কিন্তু ইন্দ্র=জীবাত্মা চেতন এবং জ্ঞান-গুণযুক্ত হয়েও সংসারে কলা কৌশলকে উৎপন্ন করে গর্ব দ্বারা পূর্ণ ছিলো। ব্রহ্মের গোপনীয় ভাব এই যে অহঙ্কার যুক্ত জীবাত্মাও ব্রহ্মকে জানতে পারে না। যখন সে যোগ-সাধনাদি দ্বারা দিব্য বিভূতি সম্পন্ন হয়ে যায় এবং উমা=ব্রহ্মবিদ্যা দ্বারা প্রজ্ঞাকে প্রাপ্ত করা হয়,তখন যথারূপ ব্রহ্মকে জানতে সমর্থ হয়ে যায়।।
( ভাষ্য-পণ্ডিত রাজবীর শাস্ত্রী)
Read More

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

ঋগ্বেদ ৯/১৩/৯

ঋষি | দেবতা | ছন্দ | স্বর অসিতঃ কাশ্যপো দেবলো বা ঋষিঃ॥ পবমানঃ সোমো দেবতা॥ ছন্দঃ—১— ৩, ৫, ৮ গায়ত্রী। ৪ নিচৃদ্ গায়ত্রী। ৬ ভুরিগ্গায়ত্রী। ৭ ...

Post Top Ad

ধন্যবাদ