বৃহদারণক্য উপনিষদ ১/৪/৩ - ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান, ধর্ম গ্রন্থ কি , হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়, ইসলাম খ্রীষ্ট মত বিষয়ে তত্ত্ব ও সনাতন ধর্ম নিয়ে আলোচনা

धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते-Theology

সাম্প্রতিক প্রবন্ধ

Post Top Ad

স্বাগতম

11 February, 2024

বৃহদারণক্য উপনিষদ ১/৪/৩

স বৈ নৈব রেমে তস্মাদেকাকী ন রমতে স দ্বিতীয়মৈচ্ছত্। স হৈতাবানাম যথা স্ত্রীপুমাংসৌ স্মপরিষক্তৌ স ইমমেবাऽऽত্মানম্ দ্বেধাऽপাতয়ত্ ততঃ পতিশ্চ পত্নীচাভবতাম্ তস্মাদিদমর্ধবৃগলমিব স্ব ইতি হ স্বাऽऽহ যাজ্ঞবল্ক্যস্তস্মাদয়মাকাশঃ স্ত্রিয়া পূর্য্যত এব তাম্ সমভবৎ ততো মনুষ্যা অজায়ন্ত।। বৃহদারণক্য উপনিষদ-১/৪/৩

অনুবাদ-নিশ্চয়,তিনি আনন্দিত না ছিল। এই কারণে একাকী আনন্দিত না থাকে । সেই অন্যের ইচ্ছার। নিশ্চয় ওই এত ছিল যত স্ত্রী এবং পুরুষ উভয়ই মিল হয়েছে। তিনি এই আত্মাকে উভয় প্রকারে ছড়িয়েছেন তখন সেই থেকে পতি এবং পত্নি উভয় হয়েছে। যাজ্ঞবল্ক্য বলেছেন যে একই কারণে জীবাত্মার এই শরীর অর্ধবৃগত অর্থাৎ অর্ধেক ডাল অথবা অর্ধেক ঝিনুকের ন্যায়। অতএব পুরুষের শরীরের রিক্তস্থান স্ত্রী থেকেই পূর্ণ করা হয়। সেই স্ত্রীর সাথে ওই সম্মিলিত হয়ে। তখন মনুষ্য উৎপন্ন হয়।

পদার্থ-( সঃ, বৈ+ন+এব+রেমে) সেই পরুষবিধ জীবাত্মা, নিশ্চয়ই, আনন্দিত না হয় কারণ সে একা ছিল অতএব এতে আনন্দ প্রাপ্তি না হয়। ( তস্মাত্ একাকী+ন+রমতে) এই হেতু আজকালও একাকী পুরুষ প্রসন্ন না থাকে অতএব ( স,+দ্বিতীয়ম্+ঐচ্ছত্) সেই দ্বিতীয় ইচ্ছার। ( সঃ+ হ+এতাবান+আস) সেই এত ছিল যে ( যথা+ স্ত্রীপুমাংসৌ+ সম্পরিষক্তৌ) যত স্ত্রী এবং পুরুষ উভয়ই মিল হয়েছে অর্থাৎ আদিতে একাকী প্রকারতা ছিল স্ত্রী এবং পুরুষের ভেদ না ছিল। জীবমাত্রে উভয় গুণ হয়। ওই শরীর পাকে কখনও স্ত্রী এবং কখনও পুরুষ হয় এই শাস্ত্র সিদ্ধান্ত। অতএব বলা হয় যে,না তো এটি স্ত্রী, না পুরুষ,না কুমার,না যুবা,না বৃদ্ধ হয় ইত্যাদি। পুনঃরায় আগে কি হয়েছে সেও বলা হয়েছে-( সঃ,+ইমম্+এব+আত্মানম্) তিনি এই আত্মাকে ( দ্বেধা+অপাতয়ত্) উভয় প্রকারে ছড়িয়েছেন অর্থাৎ উভয় মার্গে বিভক্ত করা ( ততঃ+পতিঃ+চ+পত্নী+ অভবতাম্) তখন পতি এবং পত্নী উভয়ই হয় ( তস্মাত্) একই কারণে ( স্বঃ) আত্মার ( ইদম্+অর্ধবৃগলম্+ইব) এই শরীর অর্ধেক ডাল বা অর্ধেক ঝিনুকের ন্যায়। ( ইতি+ যাজ্ঞবল্ক্য+আহ+স্ম+হ) এমনি যাজ্ঞবল্ক্য ঋষি বলেছেন। এই পুরুষ এবং স্ত্রী উভয়ই অর্ধেক অর্ধেক হয় এতে পুনঃরায় কারণ বলেছেন ( তস্মাত্+অয়ম্+আকাশঃ) যেহুতু পরুষের শরীর অর্ধেকই হয় অতএব পুরুষের দেহরূপ রিক্তস্থান ( স্ত্রিয়া+পূর্য্যত্+এব) স্ত্রী থেকেই পূর্ণ হয়। এই প্রকার যখন স্ত্রী এবং পুরুষ উভয়ই বিভক্ত হয়ে তখন ( তাম্+সমভবত্) ওই পুরুষ সেই স্ত্রীর সাথে সংমিলিত হয়। ( ততঃ+মনুষ্যাঃ+অজায়ন্ত) তখন বহু মনুষ্য উৎপন্ন হয়।

ভাষ্যশয়-দেখতে পাই যে পৃথিবীতে কোন প্রাণী একা থেকে জীবন ব্যয় করতে না চায়। অনুতম কীট পতঙ্গও পত্নীর সাথে ক্রীড়া করে। এদের মধ্যেও কোন অংশ পর্যন্ত প্রেম সঞ্চারিত হয়। আজকাল বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত বর্ণনা করেন যে বৃচাদিগের মধ্যেও স্ত্রী এবং পুরুষ বিদ্যমান রয়েছে। আরে! কী বিচিত্র এই পরমাত্মার সৃষ্টি। জোড়া ব্যতীত কি প্রকার এর বহু বৃদ্ধি হত অতএব তিনি এই জগৎকে স্ত্রী-পুরুষময় সৃষ্টি করেছেন এই থেকে তাঁর পরমপ্রেম প্রকাশিত হয়। এটি দুঃখজনক নয় বরং আনন্দদায়ক করেছেন। প্রত্যেক পদার্থ আনন্দ-স্বরূপ। আমরা আনন্দ গ্রহণ করি এবং দান করি পরস্পর একে অন্যের সহায়ক। এতেও প্রত্যেক জাতিতে পরস্পর স্ত্রী পুরুষ আনন্দের কারণ হয় এবং তাদের পরস্পরের সহয়তা থেকে এই আনন্দময় সৃষ্টির বৃদ্ধি হয়ে থাকে। যদি এতে অবিবেকের ছায়া না আসে তবে নিশ্চয় এই জগৎ বড়ই সুখদায়ক হত। এমন সৃষ্টিকে দেখানোর জন্য পরবর্তী কাণ্ডিকা আরম্ভ করা হয়েছে।

( ভাষ্য-পণ্ডিত শিবশঙ্কর কাব্যতীর্থ)

No comments:

Post a Comment

ধন্যবাদ

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

শ্রীরাম

মহাপ্লাবনের পর তিব্বতের দেবলোকে পরিশ্রমী দেবতারা বসবাস করতে থাকেন এবং অন্যান্য অঞ্চল যে সকল স্থান জলমগ্ন ছিলো না সেখানে কিছু মনুষ্য বসবাস শু...

Post Top Ad

ধন্যবাদ