ধর্ম্মতত্ত্ব: শঙ্কা সমাধান

ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান, ধর্ম গ্রন্থ কি , হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়, ইসলাম খ্রীষ্ট মত বিষয়ে তত্ত্ব ও সনাতন ধর্ম নিয়ে আলোচনা

धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते-Theology

সাম্প্রতিক প্রবন্ধ

Post Top Ad

স্বাগতম
Showing posts with label শঙ্কা সমাধান. Show all posts
Showing posts with label শঙ্কা সমাধান. Show all posts

04 May, 2026

বালী বধ- ছল দ্বারা বা বল দ্বারা?

04 May 0

 বালী বধ :- ছল দ্বারা বা বল দ্বারা?

বালী বধ- ছল দ্বারা বা বল দ্বারা?

অনেকে বলেন যে শ্রীরাম কাপুরুষদের ন্যায় লুকিয়ে বালীর বধ করেছেন, যদি বীর হতেন তবে লুকিয়ে বধ কেন করতেন? বাস্তবে এইরূপ আক্ষেপকারী রামায়ণকে না তো গম্ভীরভাবে পড়েন এবং না পড়ে সেই শ্লোকগুলির উপর তর্ক দ্বারা বিচার করেন। বালী বধের সত্য জানার জন্য আমরা এই প্রসঙ্গে বিচার করি। সুগ্রীব শ্রীরামের সম্মুখে বালীর পরাক্রমের বর্ণনা করে বলেন-
এতদস্যাসমং বীর্যে ময়া রাম প্রকাশিতম্ ।
কথং তং বালিনং হন্তুং সমরে শক্ষ্যসে নৃপ ॥
(বা. রা. গী. প্রে. কিষ্কি. ১১/৬৮; Cri. ed. কিষ্কি. ১১/৪৮)
অর্থাৎ শ্রীরাম ! আমি বালির অনুপম পরাক্রমকে প্রকাশ করেছি। নরেশ্বর! আপনি সেই বালিকে সংগ্রামে কিভাবে মারতে পারবেন?
এই শ্লোক অন্য সংস্করণসমূহে এইরূপ প্রাপ্ত হয়-
এতৎ তস্যোত্তমং বীর্যং ময়া রাম প্রকাশিতম্।
কথং ত্বং সমরে হন্তুং শক্ষ্যসি তং হি বালিনম্ ॥
(বা. রা. পশ্চিমো. সং. কিষ্কি. ৮/৪৪)
এতৎ তস্য মহদ্বীর্যং তব সংকীর্তিতং ময়া।
কথমুৎসহসে হন্তুং সমরে তং দুরাসদম্ ॥
(বা. রা. বং. সং. কিষ্কি. ৯/৯০)
এখানে সুগ্রীব এই প্রশ্ন করেছেন যে আপনি যুদ্ধে তাকে কিভাবে মারবেন? যদি লুকিয়ে মারা-ই অভিষ্ট হত তবে সুগ্রীব যুদ্ধে মারার কথা কেন বলতেন? একই প্রকারে আগে সুগ্রীব শ্রীরামকে বলেন-
কিং তু তস্য বলাজ্ঞোऽহং দুর্ভাতুঃ বলশালিনঃ ।
অপ্রত্যক্ষং তু মে বীর্যং সমরে তব রাঘব ॥
(বা. রা. গী. প্রে. কিষ্কি. ১১/৭৯)
অর্থাৎ কিন্তু রাঘব! আমি সেই বলশালী দুষ্ট ভ্রাতার বলকে জানি এবং সমর ভূমিতে আপনার বল আমি প্রত্যক্ষ দেখিনি।
এখানে সুগ্রীব এই শঙ্কা করেন যে আমার ভাই খুব পরাক্রামী, বলিষ্ঠ কিন্তু আমি তো যুদ্ধে আপনার বল পরাক্রম দেখিইনি। এখন চিন্তা করুন যদি লুকিয়ে মারাই হত তবে শ্রীরামের বলের প্রত্যক্ষ করার কি প্রয়োজন ছিল? সুগ্রীবের এইরূপ বলায় শ্রীরাম তাকে উত্তর দেন।
যদি ন প্রত্যয়োऽস্মাসু বিক্রমে তব বানর।
প্রত্যয়ং সমরে শ্লাধ্যমহমুত্পাদয়ামি তে ॥
(বা. রা. গী. প্রে. কিষ্কি. ১১/৮৩)
অর্থাৎ বানর! যদি তোমার এই সময় পরাক্রমের বিষয়ে আমাদের উপর বিশ্বাস না হয় তবে যুদ্ধের সময় আমরা তোমাকে তার উত্তম বিশ্বাস করিয়ে দেব।
বঙ্গাল সংস্করণে এই শ্লোক এই প্রকার এসেছে-
যদি ন প্রত্যয়োऽস্মাসু বিদ্যতে তব বানর।
প্রত্যয়ং সমরশ্লাঘ্যমহমুত্পাদয়ামি তে ॥
(বং. সং. কিষ্কি. 11/2)
এখানে শ্রীরামও যুদ্ধে নিজের বলের পরিচয় দেওয়ার কথা বলেন। যদি লুকিয়ে মারাই হত তবে এমন কেন বলতেন? এর পশ্চাতে শ্রীরাম সুগ্রীবের সংশয়ের নাশ করার জন্য নিজের বল দেখান। যদি পিছন থেকে লুকিয়ে মারাই হত তবে না তো সুগ্রীবের মনে সংশয় হত এবং না তার নিবারণের জন্য শ্রীরামকে নিজের বলের প্রত্যক্ষ করানোর কোনো প্রয়োজন পড়ত।
পুনরায় আগে যখন শ্রীরাম নিজের বল দ্বারা সুগ্রীবের সংশয়কে নষ্ট করে দেন তখন সুগ্রীব বলেন-
সেন্দ্রানপি সুরান্ সর্বাংস্ত্বং বাণৈঃ পুরুষর্ষভ ।
সমর্থঃ সমরে হন্তুং কিং পুনর্বালিনং প্রভো ॥৮॥
যেন সপ্ত মহাসালা গিরির্ভূমিশ্চ দারিতাঃ।
বাণেনৈকেন কাকুত্স্থ স্থাতা তে কো রণাগ্রতঃ ॥৯॥
(বা. রা. গী. প্রে. কিষ্কি. 12/8,9; Cri. ed. কিষ্কি. 12/8,9)
অর্থাৎ পুরুষপ্রবর। আপনি তো আপনার বাণ দ্বারা সমরাঙ্গণে ইন্দ্রসহ সম্পূর্ণ দেবতাদেরও বধ করতে সক্ষম। তবে বালিকে মারা আপনার জন্য কোন বড় কথা? কাকুত্স্থ! যিনি সাতটি বড় বড় শালবৃক্ষ, পর্বত এবং পৃথিবীকেও এক বাণে বিদীর্ণ করেছেন, তাঁর সামনে যুদ্ধের প্রান্তে কে স্থির থাকতে পারে?
এখন অন্য সংস্করণ থেকে দেখুন-
যেন সপ্ত মহাতালাঃ ক্ষিতিঃ শৈলাশ্চ দারিতাঃ ।
বাণেনৈকেন কাকুত্স্থ কঃ স্থাতা তেऽগ্রতো রণে ॥
(বা. রা. পশ্চিমো. সং. কিষ্কি. 8/63)
সেন্দ্রানপি সুরান্ সর্বাংস্ত্বং বাণৈঃ পুরুষর্ষভ ।
সমর্থঃ সমরে হন্তুং কিং পুনর্বালিনং রণে ॥৩॥
অপি বালিসহস্রাণাং সহস্রং পার্থিবাত্মজ ।
সমর্থোऽসি রণে জেতুং কিমুতৈকমরিন্দম ॥৪॥
যেন সপ্ত মহাতালাঃ শৈলোऽয়ং দানবাস্থিতঃ ।
শরেণৈকেন নির্ভিন্নাঃ সমর্থস্তস্য কঃ পুমান্ ॥৫॥
অধ্য মে বিগতঃ শোকঃ প্রীতিরধ্য পরা মম।
অধ্য মন্যে বিনিহতং বালিনং যুদ্ধদুর্মদং ॥৬॥ (বা. রা. বং. সং. কিষ্কি. 12/3-6)
এখানেও সুগ্রীবের কথায় স্পষ্ট যে শ্রীরাম বালির সাথে যুদ্ধ করবেন এবং যুদ্ধে তার বধ করবেন। রামায়ণের বালি বধ প্রসঙ্গে চিন্তা করলে এই জানা যায় যে বালি এবং সুগ্রীবের যে প্রথম যুদ্ধ তা মিশ্রণ, কারণ দ্বিতীয় বার যখন সুগ্রীব বালিকে ললকার করেন তখন তারা তাকে রোধ করেন। কিন্তু প্রথম যুদ্ধের সময় তেমন কিছু বর্ণনা প্রাপ্ত হয় না। সেই প্রসঙ্গে তারা যে বালির দ্বারা সুগ্রীবের পূর্ব পরাজয়ের বর্ণনা করেছেন তা কোনো পূর্বকালের যুদ্ধের বিষয়, সেই দিনের বিষয় নয়। মহাভারত এবং নরসিংহ পুরাণেও একটি মাত্র যুদ্ধের আলোচনা আছে।

মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরাম সুগ্রীবকে বলেন-

অদ্য বালিসমুত্থং তে ভয়ং বৈরং চ বানর ॥ একেনাহং প্রমোক্ষ্যামি বাণমোক্ষণেন সংযুগে ॥ প্রত্যক্ষং সপ্ত তে সালা ময়া বাণেন দারিতাঃ ॥
তেনাবেহি বলেনাদ্য বালিনং নিহতং রণে । (বা. রা. গী. প্রে. কিষ্কি. 102 14/10,11,13,14)

অর্থাৎ বানররাজ! আজ আমি বালি থেকে উৎপন্ন তোমার ভয় এবং বৈর উভয়কেই যুদ্ধস্থলে একবার বাণ নিক্ষেপ করে দূর করব। তোমার চোখের সামনে আমি আমার একটিমাত্র বাণ দ্বারা সাতটি শাল বৃক্ষ বিদীর্ণ করেছিলাম, আমার সেই বল দ্বারা আজ যুদ্ধে তুমি বালিকে নিহত বলে জেনে নাও।

এখন পশ্চিমোত্তর সংস্করণে দেখুন-

অদ্য বালিসমুত্থং তে ভয়ং শোকং চ বানর। একেনাহং প্রমার্জিষ্যে বাণমোক্ষণেন সংযুগে ॥ (বা. রা. পশ্চিমো. সং. কিষ্কি. 9/34)

এখানেও শ্রীরাম স্পষ্টরূপে এই বলেন যে আমি বালির বধ যুদ্ধে করব। "বলেনাদ্য বালিনং নিহতং ময়া" থেকে স্পষ্ট যে শ্রীরাম বালির বধ বল দ্বারা করার জন্য বলেন না যে ছল দ্বারা। সব জায়গায় শ্রীরাম বল দ্বারা যুদ্ধে বালির বধ করার কথা বলে কি ছল দ্বারা বালি বধ করবেন? "রামো দ্বির্নাভিভাষতে” (বা. রা. অযোধ্যা. ১৮/৩০) যাঁর জন্য প্রয়ুক্ত ছিল, যাঁর জন্য দেবর্ষি নারদ বলেন "সত্যে ধর্ম ইবাপরঃ" (বা. রা. গী. প্রে. বাল. 1/19, Cri. ed. বাল. 1/18) কি সেই শ্রীরাম নিজের বাক্য থেকে এই প্রকার বিমুখ হতে পারেন? কদাপি নয়। মহর্ষি বাল্মীকি দ্বারা অনেক গুণে যুক্ত পুরুষের বিষয় জিজ্ঞাসা করলে দেবর্ষি নারদজি তাঁকে মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরামের বিষয় বলেন। এই প্রসঙ্গে মহর্ষি বাল্মীকের এই শ্লোক দ্রষ্টব্য - "কস্য বিভ্যতি দেবাশ্চ জাতরোষস্য সংযুগে।" (বা. রা. গী. প্রে., Cri. ed. 1/4,) যদি শ্রীরাম ছল দ্বারা বালির বধ করতেন তবে
______________________________________
102 এই শ্লোকগুলি Cri. ed. কিষ্কি. 14/9,12 এ প্রাপ্ত হয়, সেখানে কেবল 'তেনাবেহি' এর স্থানে 'ততো বেত্সি' পাঠ পাওয়া যায়। মহর্ষি বাল্মীকি এরূপ জিজ্ঞাসা করলে নারদজি শ্রীরামের নাম নেন না। সুগ্রীবের ললকারে তারা বালিকে সুগ্রীবের সঙ্গে যুদ্ধে না যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং শ্রীরামের বিষয়ে বলেন-

তৎ ক্ষমো ন বিরোধস্তে সহ তেন মহাত্মনা ॥২১॥ দুর্জয়েনাপ্রমেয়েন রামেণ রণকর্মসু ॥ ২২ ॥ প্রসীদ পথম্ শৃণু জল্পিতং হি মে ন রোষমেবানুবিধাতুমর্হসি । ক্ষমো হি তে কোশলরাজসুনুনা ন বিগ্রহঃ শক্রসমানতেজসা ।॥ ৩০ ॥ (বা. রা. গী. প্রে. কিষ্কি. ১৫/২১,২২,৩০)

অর্থাৎ সেই মহাত্মা রামের সঙ্গে আপনার বিরোধ করা মোটেই উপযুক্ত নয়। তাঁদের জয় করা অত্যন্ত কঠিন। আমি আপনার মঙ্গলের কথা বলছি। আপনি তা মন দিয়ে শুনুন। কেবল রোষের অনুসরণ করবেন না। কোশলরাজপুত্র শ্রীরাম ইন্দ্রের সমান তেজস্বী। তাঁর সঙ্গে বৈর বাঁধা আপনার জন্য মোটেই উপযুক্ত নয়।

এখন অন্যান্য সংস্করণের পাঠ দেখুন-

ততঃ ক্ষমো ন বিরোধঃ সহ তেন মহাত্মনা। দুর্জয়েনাপ্রমেয়েন রামেণ রণকর্কশ ॥১৮॥ যৌবরাজ্যেন সুগ্রীব তূর্ণং তমভিষেচয় । বিগ্রহং মা কৃথা মৌর্য্যাদ্ভাত্রা রামেণ বা স্বয়ম্ ॥২০॥ প্রসীদ পথম্ শৃণু জল্পিতং হি মে ন রোষমেতং তু বিধাতুমর্হসি । ক্ষমো হি তে কোশলরাজসুনুনা ন বিগ্রহঃ শক্রসমো হি রাঘবঃ ॥২৪॥

(বা. রা. পশ্চিমো. সং. কিষ্কি. ১০/১৮,২০,২৪)

তৎ ক্ষমং ন বিরোদ্ধং তে সহ তেন মহাত্মনা। দুর্জয়েনাপ্রমেয়েন বীরেণ রণকর্মণি ॥ সুগ্রীবং প্লবগশ্রেষ্ঠং যৌবরাজ্যেऽভিষেচয় । বিগ্রহং মা কৃথা বীর রামেণামিততেজসা ॥ (বা. রা. বং. সং. কিষ্কি. ১৪/১৯,২১) তৎক্ষমং ন বিরোধস্তে সহ তেন মহাত্মনা। দুর্জয়েনাপ্রমেয়েন রামেণ রণকর্মসু ॥ (বা. রা. Cri. ed. কিষ্কি. ১৫/১৮)

এখানে সর্বথা স্পষ্ট যে শ্রীরাম বালির সাথে যুদ্ধ করতে আসছেন, তারা এই তত্ত্ব জানত। এই সবের অনুসীলন করলে এই বিদিত হয় যে বালি এবং সুগ্রীবের একে অপরের সাথে যুদ্ধ করতে সময় শ্রীরাম দ্বারা লুকিয়ে বালির বধ করার প্রসঙ্গ মিশ্রণ। রামায়ণ থেকে শ্রীরাম ও বালির মধ্যে হওয়া যুদ্ধের সমস্ত শ্লোক বের করে দেওয়া হয়েছে। যা মিশ্রণ তা দূর করা যেতে পারে কিন্তু যেসব মূল কথা গ্রন্থ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে সেগুলি পুনরায় প্রাপ্ত করা সহজ নয়। যদিও বাল্মীকি রামায়ণ থেকে শ্রীরাম এবং বালির সংগ্রাম বিষয়ক শ্লোকগুলি বের করে দেওয়া হয়েছে তথাপি রামায়ণে এই যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা প্রাপ্ত হয়। বালি বধের তারা সংবাদ প্রাপ্ত হলে সে নিজের পুত্র অঙ্গদকে নিয়ে পর্বতের গুহা থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে। অঙ্গদকে চারিদিক থেকে বলশালী বীরেরা ঘিরে ছিল এবং শ্রীরামকে দেখে তারা লোকেরা পালিয়ে যায়। তারা তাদের পালাতে দেখে বলে তোমরা কেন পালাচ্ছ, তখন তারা (বানর) উত্তর দেয়-

জীবপুত্রে নিবর্তস্ব পুত্রং রক্ষস্ব চাঙ্গদম্। অন্তকো রামরূপেণ হত্বা নয়তি বালিনম্ ॥১১॥ ক্ষিপ্তান্ বৃক্ষান্ সমাবিধ্য বিপুলাশ্চ তথা 103 শিলাঃ। বালী বজ্রসমৈর্বাণৈর্বজ্রেণেব নিপাতিতঃ ॥১২॥ (বা. রা. গী. প্রে. কি. কা. সর্গ 19/11,12; Cri. ed. 19/11.12)

অর্থাৎ হে দেবী! এখনও তোমার পুত্র জীবিত আছে। তুমি ফিরে যাও এবং তোমার পুত্র অঙ্গদের রক্ষা কর। শ্রীরামরূপী কাল বালিকে মেরে নিয়ে যাচ্ছে। বালির নিক্ষিপ্ত বৃক্ষ এবং বড় বড় শিলাগুলিকে নিজের বজ্রতুল্য বাণ দ্বারা বিদীর্ণ করে শ্রীরাম বালিকে আঘাতে ফেলে দিয়েছেন।

বঙ্গাল সংস্করণে এই প্রকার প্রাপ্ত হয়-

জীবপুত্রি নিবর্তস্ব রক্ষ পুত্রং অন্তকো রামরূপেণ হত্বা হরতি ত্বমঙ্গদং ।

____________________

103 শিলাস্তথা Cri. ed.

বালিনং ক্ষিপন্ বৃক্ষান্ মহাকায়ান্ বিসৃজংশ্চ মহাশিলাঃ । বজ্রিবজ্রোপমৈর্বাণৈ রামেণ বিনিপাতিতঃ ॥ (বা. রা. বং. সং. কিষ্কি. 18/10.11)

এই শ্লোকগুলিতে শ্রীরাম এবং বালির যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা প্রাপ্ত হয়।

দেবর্ষি নারদ মহর্ষি বাল্মীকিকে বলেন—

ততঃ সুগ্রীববচনাদ্ধত্বা বালিনমাহবে। সুগ্রীবমেব তদ্রাজ্যে রাঘবঃ প্রত্যপাদয়ত্ ॥ 104 (বা. রা. গী. প্রে. বাল. 1/69.70: Cri. ed. বাল. 1/55)

অর্থাৎ সুগ্রীবের কথানুসারে সংগ্রামে বালিকে হত্যা করে তার রাজ্যে রাম সুগ্রীবকেই প্রতিষ্ঠিত করেন।

অন্যান্য সংস্করণে এই প্রকার বলা হয়েছে—

ততঃ সুগ্রীববচসা হত্বা সুগ্রীবায়ৈব তদ্রাজ্যং রাঘবঃ বালিনমাহবে। প্রত্যপাদয়ত্ ॥

(বা. রা. পশ্চিমো. সং. বাল. 1/69)

ততঃ সুগ্রীববচনাদ্ধত্বা বালিনমাহবে। সুগ্রীবমেব তদ্রাজ্যং রাঘবঃ প্রত্যপাদয়ত্ ॥ 105

(বা. রা. বং. সং. বাল. 1/72)

হনুমান্ জি দেবী সীতা জির সাথে মিলিত হলে তখন তিনিও এই বলেন যে শ্রীরাম মহাবলী বালিকে যুদ্ধে বধ করেছিলেন—

ততো নিহত্য তরসা রামো বালিনমাহবে। সর্বর্ক্ষহরিসঙ্ঘানাং সুগ্রীবমকরোত্ পতিম্ ॥

(বা. রা. গী. প্রে. সুন্দর. 35/52; Cri. ed. সুন্দর. 33/48)


104 এই পাঠ Professor Peter Peterson দ্বারা প্রকাশিত রামায়ণ (বাল. ১/৬৬) तथा Augustus Guilelmus A Schlegel দ্বারা সম্পাদিত রামায়ণ (বাল. ১/৬৮) এ প্রাপ্ত হয়।

105 William Carey And Joshua Marshman দ্বারা 1806 খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত রামায়ণ (বাল. ১/৮১,৮২) এও অতি অল্প ভেদ সহ এই পাঠ প্রাপ্ত হয়, কেবল সুগ্রীবমেব এর স্থানে সুগ্রীবায়েব পাঠ প্রাপ্ত হয়।

এখন অন্যান্য সংস্করণেও দেখুন—

ততো নিহত্য তরসা রামো বালিনমাহবে। সর্বক্ষহরিসৈন্যানাং সুগ্রীবম্ অকরোত্ পতিম্ ॥

(বা. রা. পশ্চিমো. সং. সুন্দর. 29/50)

তং রামো বাহুবীর্যেণ স্বরাজ্যে প্রত্যপাদয়ত্। কপিরাজং রণে হত্বা বালিনং সুমহাবলং ।॥

(বা. রা. বং. সং. সুন্দর. 32/20)

হনুমান্ জি রাবণের সম্মুখে শ্রীরামের গুণের বর্ণনা করতে করতে বলেন যে শ্রীরাম যুদ্ধে বালির বধ করেছিলেন—

ততস্তেন মৃধে হত্বা রাজপুত্রেণ বালিনম্ । সুগ্রীবঃ স্থাপিতো রাজ্যে হরিবৃক্ষাণাং গণেশ্বরঃ ॥

(বা. রা. গী. প্রে. সুন্দর. ৫১/১০, Cri. ed. ৪৯/১০)

বঙ্গাল সংস্করণে এই প্রকার বলা হয়েছে—

ততস্তেন রণে হত্বা বয়স্যং তব বালিনং । সুগ্রীবঃ স্থাপিতো রাজ্যে হর্যক্ষাণাং গণেশ্বরঃ ॥

(বা. রা. বং. সং. সুন্দর. ৪৭/১০)

যখন শ্রীরাম মহর্ষি ভরদ্বাজের আশ্রমে অবস্থান করেন তখন তিনি অযোধ্যার সংবাদ জানার জন্য এবং নিজের আগমনের সংবাদ ভরত জি ও নিজের বন্ধু গুহকে দেওয়ার জন্য হনুমান্ জিকে প্রেরণ করেন। ভরত জিকে বনবাসে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলি বলার জন্য বলেন। সেখানে ভগবান শ্রীরাম বলেন যে বালির বধ যুদ্ধে হয়েছিল—

হরণং চাপি বৈদেহ্যা রাবণেন বলীয়সা। সুগ্রীবেণ চ সংবাদং 106 বালিনশ্চ বধং রণে 107 |

(বা. রা. গী. প্রে. যুদ্ধ. 125/8; দা. সং. ১২৮/৭ পশ্চিমো. ১০৬/১০ Cri. ed. 113/8)


106 সুগ্রীব সমবায়ং চ পশ্চিমো. সং. সংসর্গং দা. সং.

107 রণে বধম্ - পশ্চিমো. সং.

হনুমান্ জি ভরত জিকে বালি বধের বিষয়ে বলেন—

রামঃ স্ববাহুবীর্যেণ স্বরাজ্যং প্রত্যপাদয়ত্। বালিনং সমরে হত্বা মহাকায়ং মহাবলম্ ॥

(বা. রা. গী. প্রে. যুদ্ধ. 126/38; Cri. ed. যুদ্ধ. 114/30)

অর্থাৎ শ্রীরাম নিজের বাহুর বীর্য দ্বারা যুদ্ধে মহাকায় মহাবল বালিকে বধ করে সুগ্রীবকে তার রাজ্য প্রদান করেন।

পশ্চিমোত্তর এবং বঙ্গাল পাঠে এই প্রকার বলা হয়েছে—

তং রামো বাহুবীর্যেণ স্বং রাজ্যং প্রত্যপাদয়ত্। বালিনং সমরে হত্বা মহাকায়ং মহাবলম্ ।।

(বা. রা. পশ্চিমো. সং. যুদ্ধ. 107/86; বং. সং. 110/42,43)

হরিবংশ পুরাণ থেকেও জানা যায় যে শ্রীরাম বালির বধ যুদ্ধে করেছিলেন—

সুগ্রীবস্য কৃতে যেন বানরেন্দ্রো মহাবলঃ । বালী বিনিহতো যুদ্ধে সুগ্রীবশ্চাভিষেচিতঃ ॥

(হরি. পু. হরি. প. 41/133)

ভগবান শ্রীরাম এবং বালির যুদ্ধ হয়েছিল, যাতে ভগবান শ্রীরাম বালির বধ করেছিলেন, এর সমর্থনে আমরা পর্যাপ্ত প্রমাণ দিয়েছি। বিদ্বান জন নিজেরা চিন্তা করুন আমাদের গ্রন্থগুলির সঙ্গে কিরূপ প্রকারের ছেদ-ছাড় হয়েছে।

লুকিয়ে বালী বধ রামায়ণের একটি প্রক্ষিপ্ত অংশ!
সমগ্র পৃথিবীর রাজা ইক্ষ্বাকুবংশীয় ভরত ও রাম তার প্রতিনিধি হিসেবে যেকোনো অধর্ম কারীকে শাস্তি দেওয়ার অধিকার রাখেন। রাম সহ নানান রাজারা অধর্মকারীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য সারা পৃথিবী পর্যটন করছেন। যেহেতু বালী অধর্মকারী তাই তাকে শাস্তি দেওয়া রামের কর্তব্য!
Read More

20 March, 2026

মনুস্মৃতি ৫/২৭

20 March 0
মনুস্মৃতি ৫/২৭

প্রোক্ষিতং ভক্ষয়েন্মাংসং ব্রাহ্মণানাং চ কাম্যয়া।

যথাবিধি নিয়ুক্তস্তু প্রাণানামেব চাত্যয়ে॥২৭॥ প্রক্ষিপ্ত শ্লোক॥

মানুষ (যথাবিধি নিয়ুক্তঃ) শাস্ত্রোক্ত বিধির অনুসারে (চ) এবং (প্রোক্ষিতম্) যজ্ঞের জন্য বলিতে প্রযুক্ত করা হয়েছে বা মন্ত্র দ্বারা পবিত্র করা হয়েছে এমন মাংস (চ) এবং (প্রাণানাম্ অত্যয়ে এব) প্রাণের সংকটে
পড়ে যাওয়ার সময় (মাংস ভক্ষয়েত্) মাংস খেয়ে নিতে পারে ॥ মনুস্মৃতি ৫। ২৭ ।।

প্রক্ষিপ্তানুশীলন-২৬ থেকে ৪৪ এর নিম্নলিখিত

মানদণ্ডের অনুসারে প্রক্ষিপ্ত—

১. অন্তর্বিরোধ—সকল প্রকারের মাংসভক্ষণকে মান্যতা দেওয়া এবং পশুযজ্ঞের বিধান সম্পূর্ণরূপে মনুর মান্যতার বিরুদ্ধ; অতএব এই সকল শ্লোক প্রক্ষিপ্ত। (বিস্তারিত জানকারির জন্য ৪.২৬-২৮ শ্লোকের উপর ‘অন্তর্বিরোধ’ শীর্ষক সমীক্ষা দেখুন)।

২. প্রসঙ্গবিরোধ—৫.২৪-২৫ শ্লোকে মাংস ইত্যাদি থেকে রহিত অনিন্দিত ভোজন করার কথা বলা হয়েছে। তদনুসারে ৪৫-৪৯, ৫১ শ্লোকে মাংসের ভোজন নিন্দিত এবং তা কীভাবে নিন্দিত, তা বর্ণিত হয়েছে (এইভাবে ২৪-২৫ শ্লোকের সঙ্গে ৪৫তম শ্লোকের প্রসঙ্গগত সম্পর্ক রয়েছে। এই শ্লোকগুলিতে এদের বিপরীত নিন্দিত ভোজনেরই বর্ণনা করা হয়েছে, যার ফলে প্রসঙ্গ ভঙ্গ হয়েছে। অতএব এই শ্লোকগুলি প্রসঙ্গবিরুদ্ধ প্রক্ষেপ)।

৩. শৈলীগত ভিত্তি—৪১তম শ্লোকে ‘অব্রবীত্ মনুঃ’ পদ দ্বারা এই শ্লোক মনু থেকে ভিন্ন ব্যক্তির দ্বারা রচিত বলে প্রমাণিত হয়, অতএব এই শ্লোক প্রক্ষিপ্ত; এবং পূর্বাপর প্রসঙ্গ মণ্ডন-খণ্ডন বা বেদের নামে মণ্ডনাত্মক রূপে হওয়ার কারণে সম্পূর্ণরূপে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। অতএব এর প্রক্ষিপ্ত সিদ্ধ হলে সমগ্র প্রসঙ্গ নিজে থেকেই প্রক্ষিপ্ত প্রমাণিত হয়ে যায়।

৪. অবান্তর বিরোধ—আশ্চর্যের বিষয় এই যে মাংসভক্ষণকে প্রমাণ করার জন্য প্রক্ষেপকারীরা
এমন অন্ধভাবে প্রক্ষেপ করেছে যে তাদের পূর্বাপর শ্লোকগুলির কথাও মনে থাকেনি। এই প্রক্ষেপকারীরাও অনেক ব্যক্তি ছিলেন। কারণ তাদের পরস্পরের কথাতেও অনেক বিরোধ আছে। মাংসভোজীদের মনে যা এসেছে তেমনই শ্লোক তৈরি করে ঢুকিয়ে দিয়েছে। মাংসভক্ষণকে প্রমাণ করার জন্য পরলোক, পুণ্য, যজ্ঞ, বেদ, প্রাচীন ঋষি—সবকিছুরই আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। নিজেদের স্বার্থের জন্য যজ্ঞ ও বেদকেও বদনাম এবং দূষিত করা হয়েছে। নিজেদের কথার প্রমাণ দেওয়ার জন্য যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে তা অত্যন্ত তুচ্ছ, হাস্যকর এবং স্বার্থপর; যেমন—যজ্ঞের জন্য মাংস খাওয়া পুণ্যদায়ক এবং দেবতাদের বিধান, আর যজ্ঞ ছাড়া নিজের শরীর-পুষ্টির জন্য মাংস খাওয়া রাক্ষসদের কাজ [৫.৩১]। দেবতা ও রাক্ষসের মধ্যে পার্থক্য কত সহজেই হয়ে গেল! একইভাবে নিম্নলিখিত অবান্তর বিরোধগুলি থেকেও এরকম আরও শিশুসুলভ কথাগুলি স্পষ্ট হয়ে যাবে—(ক) ৫.১৪, ১৫ শ্লোকে মাছ খাওয়া সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ, আর ১৬তম শ্লোকে নিমন্ত্রণে মাছ খাওয়ার বিধান আছে। (খ) ৩.২৬৮ থেকে ২৭২ শ্লোকে বলা হয়েছে যে শ্রাদ্ধে মাছের মাংস খেলে দুই মাস পর্যন্ত পিতৃগণ তৃপ্ত থাকেন, শূকরের মাংসে
দশ মাস, কচ্ছপের মাংসে এগারো মাস, গণ্ডারের মাংসে অনন্ত বছর পর্যন্ত পিতৃগণ তৃপ্ত থাকেন; কিন্তু ৫.১৮-১৯ এ তাদের মাংস না খাওয়ার বিধান আছে এবং বলা হয়েছে যে এসব মাংস খেলে দ্বিজ পতিত হয়ে যায়। (গ) ৫.২২ শ্লোকে বলা হয়েছে যে স্ত্রী, সেবক ইত্যাদির পালনের জন্য পশু-পাখি মারা উচিত, আর ৫.৩৮ শ্লোকে বলা হয়েছে যে যজ্ঞ ছাড়া পশুদের যে মারে, সে যত পশু মারে তত জন্ম নিয়ে প্রতিদানে সেও মারা যায়। (ঘ) ৫.১১-১৯ শ্লোকে কিছু পশুকে ভক্ষ্য এবং কিছু পশুকে অভক্ষ্য বলা হয়েছে, অথচ ৫.৩০ শ্লোকে বলা হয়েছে যে ব্রহ্মা সমস্ত পশু- পাখিকে খাওয়ার জন্য সৃষ্টি করেছেন। তাদের খেলে মানুষ দূষিত হয় না। এইভাবে মাংসভক্ষণ সম্পর্কিত সমস্ত প্রসঙ্গ হাস্যকর কথায় ভরা, যেগুলি থেকে সেগুলি অপ্রমাণিক এবং প্রক্ষিপ্ত বলে প্রমাণিত হয়।

৫. বেদবিরোধ—এই প্রসঙ্গে মাংসভক্ষণকে প্রমাণ করার জন্য প্রক্ষেপকারীরা বেদের আশ্রয় নিয়েছে এবং মাংসভক্ষণকে বেদবিহিত বলে মানিয়েছে। স্বার্থপর লোকেরা নিজেদের পেট ভরানোর জন্য মিথ্যাভাবে বেদ এবং যজ্ঞকে বদনাম করার চেষ্টা করেছে। ‘বৈদিকী হিংসা, হিংসা ন ভবতি’ এর আড় নিয়ে তাকে ভোজন প্রসঙ্গে প্রয়োগ করে নিজের আচরণকে শাস্ত্রসম্মত প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
এই কথা এখানে প্রযোজ্যই নয়, কারণ এখানে ভোজনের প্রসঙ্গ এবং এতে মাংসভোজনকে বেদসম্মত প্রমাণ করার জন্য এই যুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। মাংসভক্ষণ অথবা যজ্ঞে হিংসা বেদে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি কেবল অন্নাহারী (অর্থাৎ মাংসাহারী নয়) ব্যক্তিদেরই যজ্ঞ করার অধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রমাণসহ বিস্তারিত বিবেচনার জন্য ৫.২৬-২৮ এর ‘বেদবিরোধ’ সমীক্ষা দেখুন।

নিন্দিত ভোজন মাংস হিংসামূলক হওয়ায় পাপ—

যোऽহিংসকানি ভূতানি হিনস্ত্যাত্মসুখেচ্ছয়া।
স জীবংশ্চ মৃতশ্চৈব ন ক্বচিৎসুখমেধতে।। ৪৫ ॥

(যঃ) যে ব্যক্তি (আত্মসুখ+ইচ্ছয়া) নিজের সুখের ইচ্ছায় (অহিংসকানি ভূতানি) কখনো না মারা উচিত এমন প্রাণীদের (হিনস্তি) হত্যা করে (সঃ) সে (জীবন্ চ মৃতঃ) জীবিত অবস্থায় এবং মৃত্যুর পরেও (ক্বচিৎ সুখং ন এধতে) কোথাও সুখ-শান্তি লাভ করে না; অর্থাৎ প্রাণীহত্যাকারী ব্যক্তি এই জন্ম এবং পরজন্মে দুঃখ ভোগ করে।। ৪৫ ॥

অনুশীলন—৪৫তম শ্লোকের প্রসঙ্গসম্বন্ধ সম্পর্কে বিচার—৫.২৪-২৫ শ্লোকে ‘অগর্হিতম্’ পদ দ্বারা
অনিন্দিত ভোজনের বিধান করা হয়েছে। মাংস ইত্যাদির ভোজন শাস্ত্র এবং লোক—উভয়ের দ্বারাই নিন্দিত। সেই শ্লোকগুলির প্রসঙ্গানুসারে ৪৫-৪৯, ৫১ শ্লোকে এই কথার বর্ণনা করা হয়েছে যে— ‘মাংস একটি নিন্দিত ভোজন, এবং কীভাবে তা নিন্দিত।’ এইভাবে ২৪-২৫ শ্লোকের সঙ্গে ৪৫তম শ্লোকের প্রসঙ্গবদ্ধতা প্রমাণিত হয়।

Read More

01 December, 2025

ব্রাহ্মণ গ্রন্থ কী

01 December 0

ব্রাহ্মণ গ্রন্থ কী
বৈদিক বাঙ্গময়ের ইতিহাস – প্রথম অধ্যায়: 

১. গ্রন্থবাচী ব্রাহ্মণ শব্দ ও এর অর্থ

বৈদিক এবং সংস্কৃত সাহিত্যের গ্রন্থকার, ভাষ্যকার, বাতিককার ও টীকাকাররা সাধারণত ব্রাহ্মণ শব্দের অর্থ স্পষ্টভাবে লিখেননি। সায়ণ প্রভৃতি ভাষ্যকার কেবল লক্ষণই উল্লেখ করে সন্তুষ্ট হয়েছেন। নিজের ঋগ্বেদ-ভাষ্যের ভূমিকাে সায়ণ বলেন “যা পরম্পরা থেকে মন্ত্র নয়, তা ব্রাহ্মণ, এবং যা ব্রাহ্মণ নয়, তা মন্ত্র।”

ব্যাকরণ অনুসারে ব্রাহ্মণ শব্দের অর্থ হলো ব্রহ্ম বা মন্ত্র, অর্থাৎ ব্রহ্মই মন্ত্র এবং বেদও ব্রহ্মের সঙ্গে সম্পর্কিত।

দয়ানন্দ সরস্বতী স্বামী পরিশোধিত অনুভ্রমোচ্ছেদন এ লিখেছেন “যার মাধ্যমে এই ঐতরেয় ইত্যাদি গ্রন্থ ব্রহ্ম অর্থাৎ বেদের ব্যাখ্যা, সেই ব্যাখ্যাগুলি ব্রাহ্মণ নামে পরিচিত।”
সত্যার্থপ্রকাশেও একই মত প্রকাশ করা হয়েছে “তাঁদের নাম ব্রাহ্মণ অর্থাৎ ব্রহ্ম, যা বেদ, তার ব্যাখ্যা গ্রন্থ হওয়ায় ব্রাহ্মণ নামকরণ হয়েছে।”

আপস্তম্ভ-পরিভাষা-সুত্রে টীকাকার লিখেছেন “মন্ত্র নাম মনন থেকে এসেছে; ব্রহ্মের বক্তৃতা থেকে ব্রাহ্মণ শব্দের অর্থ হয়েছে।”

স্কন্দ স্বামীও বলেন “তথা অমীমদন্ত পিতার যেমন ভাগমা আভৃষায়িভত্… ইত্যসের মতো ভাগমা-শিষুর প্রতি শতপথব্রাহ্মণে বিবরণ আছে।”

অতএব, ব্রাহ্মণ শব্দ মূলত বেদ এবং তার ব্যাখ্যা গ্রন্থের প্রাসঙ্গিকতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।

সূত্রসমূহ:

  1. পৃঃ ১৭, ঋগ্বেদ ভাষ্য, উপোদ্ঘাত ভাগ ১, বৈদিক সংস্করণ, পুনা, ১৯৩৩

  2. কাণ্ড ৭, অধ্যায় ১, ব্রাহ্মণ ১।৫।।, শ্রীগ্রন্থ, ভাগ ৩, ভেঙ্কটেশ্বর প্রেস, মুম্বাই, ১৬৪০

  3. ৪।১১।৪।৩।।; ৪।২৫।৩।।, জয়পুর উঃ ব্রাহ্মণ, রামদেব, লাহোর, ১৬২১

  4. পৃঃ ৬, বনাস, সম্বৎ ১১৩৭

  5. পৃঃ ২৬৬, স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী, রামলাল কাপুর ট্রাস্ট, বহালগড়, হরিয়ানা, संवत্ ২০২৬

  6. সূত্র ৩২, পৃঃ ৭৪, দর্শপূর্ণমাসপ্রকাশ, আনন্দাথম, পুনা, ১৬২৪

  7. ১।৩২।৩।।, ঋগ্বেদ, বিশ্ববন্ধু, বি. ৩০ গবেষণা সংখ্যা, হোশিয়ারপুর, সম্বৎ ২০২১

তিনি পুনরায় লিখেছেন “শতপথে যে শ্রেষ্ঠ, সেই বাসিষ্ঠঃ, অর্থাৎ ‘বাসিষ্ঠ’ শব্দের শ্রেষ্ঠ শব্দের দ্বারা ব্যাখ্যা ও দৃষ্টান্ত।”

২. গ্রন্থবাচী ব্রাহ্মণ শব্দ

গ্রন্থবাচী ব্রাহ্মণ শব্দ সাধারণত নপুংসক লিঙ্গে ব্যবহৃত হয়েছে। বেদ বা মন্ত্রসংহতিতে এই শব্দের সরাসরি উপস্থিতি নেই। ব্রাহ্মণদের বক্তৃতা মূলত মন্ত্রের ব্যাখ্যা ও প্রকাশের উদ্দেশ্যে হওয়ায় মন্ত্রের মধ্যে এই শব্দের থাকা প্রয়োজন ছিল না। তবে, তৈত্তিরীয় সংহিতা, ব্রাহ্মণ, সূত্র এবং নৃুক্ত প্রভৃতি গ্রন্থে এই শব্দ প্রায়ই ব্যবহৃত হয়েছে। সেখানে সবসময়ই এটি নপুংসক লিঙ্গে এসেছে।

অমরকোষ ইত্যাদিতে এই শব্দের উল্লেখ নেই। তবে মেদিনীকোষের ণান্ত বিভাগে নিম্নলিখিত শ্লোক উল্লেখ আছে—

“ब्राह्मणं ब्रह्मसंघाते वेदभागे नपुंसकम् ॥ ৬৭৭”

অর্থাৎ, ব্রহ্মসংঘাত ও বেদভাগে ব্রাহ্মণ শব্দ নপুংসক লিঙ্গে ব্যবহৃত হয়েছে।

বায়ু পুরাণেও ব্রাহ্মণ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন—

“मन्त्रो मन्त्रयतेर्धातोर्वाह्मणे ब्रह्मणोऽरणनात्”

এখানে ‘অরণনাত’ থেকে অর্থ, পাণিনির পূর্ববর্তী ব্যুৎপত্তি অনুযায়ী ‘কথন’ বোঝায়।

‘বাঙ্ময’ শব্দ সংস্কৃত সাহিত্যে সাধারণত শাস্ত্রসমূহের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

বৌধায়ন ধর্মসূত্রে ‘বাগ্’ থেকে ব্রাহ্মণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বিষ্ণুধর্মোত্তরে আরেকটি ব্যবহার দেখা যায়—

“मन्त्राः सब्राह्मणाः प्रोक्तास्तदर्थ ब्राह्मणं स्मृतम् । कल्पना च तथा कल्पाः कल्पश्च ब्राह्मणस्तथा ॥ ১১”

সূত্রসমূহ:

  1. ১।৩০।১০।।, ঋগ্বেদ

  2. (ক) “সুবর্গ লোকṁ ন প্রজানন্তি তেভ্য ইদṁ ব্রাহ্মণṁ ব্রুহি।” কাণ্ড ৩, প্রপাঠক ১, অনুবাক ১, তৈত্তিরীয় সংহিতা, সাতভলেকর, সং. ২০১৩
    (খ) “সো’ব্রবীদ্ ব্রাহ্মণং,” ২।৫।২।।, একই

  3. (ক) “যদ্ বাকো বাক্যং ব্রাহ্মণং, তদেৱৈতেনাপ্নুবন্তি তদ্বরুন্ধতে,” ৪।৬।৬।২০।।, শ্রী ব্রা., ভাগ ১, পৃঃ ৫৫৬, কাশী, সং. ১৬৬৪
    (খ) ১।১১৬।।, জে গ্রা., রঘুবীর ও লোকেশচন্দ্র, নাগপুর, ১৬২৪

  4. ছন্দব্রাহ্মণানি চ তদ্বিষয়াণি, ৪।২।৬৫।।, পাণিনীয়ষ্টক, পূর্বার্ধ, গঙ্গাদত্ত, হরিদ্বার, ১৯৬১

  5. ৪।২৭।।, নৃুক্ত শাস্ত্র, ভাগবদ্দত্ত, রামলাল কাপুর ট্রাস্ট, আমৃতসর, সং. ২০২১

  6. মেদিনীকোষ, সম্পাদক সোমনাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, ১৮৬৬

  7. মধ্যকালীন গ্রন্থকাররা ব্রাহ্মণ গ্রন্থকে বেদাংশই মনে করতেন

  8. (ক) ৫৬।১৪১।।, আনন্দাশ্রম, পুনা
    (খ) ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ, অধ্যায় ৩৪

  9. জগগু হেম্যস্ত সমস্ত বাঙ্ময, শ্লোক ১২, কাদম্বরী ভূমিকা, উপেন্দ্রনাৰায়ণ মিশ্র, इलाहাবাদ, ১৬৬৪

  10. “বাগিতি ব্রাহ্মণমুচ্যতে,” ১।৭।১০।।, উমেশচন্দ্র পাণ্ডে, চৌ। সং. সি।, বারাণসী

  11. ৩।১৭।১।।, প্রিয়বালা শাহ, বড়োদা, ১৯৫৮

অর্থাৎ মন্ত্রের সঙ্গে ব্রাহ্মণদের বক্তৃতা করা হয়েছে, যা জানা উচিত। ‘কল্পনা’ এবং ‘কল্প’ এবং ‘কল্য’ এবং ‘ব্রাহ্মণ’ শব্দগুলি সেই মন্ত্রগুলির (ব্যাখ্যা ইত্যাদির) জন্য ব্রাহ্মণ (মন্ত্রের ব্যবহার দেখানো হয়েছে) বোঝায়।

এখানে শ্লোকের শেষে আসা ব্রাহ্মণ পদ সন্দেহজনক। যদি এটি জাতি-সূচক ধরা হয়, তাহলে অর্থ সঙ্গত হয় না। সুতরাং প্রশ্ন থেকে যায়—পুল্লিঙ্গে কি ব্রাহ্মণ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, নাকি এখানে পাঠ নষ্ট হয়েছে, অথবা অর্থ কিছু ভিন্ন।

মহাভারতের উদ্যোগ-পর্বের একটি শ্লোক এই বিষয়টি আরও ব্যাখ্যা করে। সেখানে ব্রাহ্মণ শব্দ পুল্লিঙ্গে ব্যবহৃত হয়েছে—

“য ইমে ব্রাহ্মরণাঃ প্রোক্তা মন্ত্ৰা ও প্রোক্ষণে গবাম্। এতে প্রমারণং ভবত উতাহো নেতি বাসব ॥১৭৭৬”

অর্থাৎ, এই ব্রাহ্মণ এবং মন্ত্র গোমেধে পড়া হয়েছে, হে বাসব! এরা আপনার কাছে প্রমাণ কি না।

দক্ষিণ ভারতীয় শান্তি-পর্বের একটি শ্লোকে ‘ব্রহ্মরণা’ ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন—

“বৃহস্পতি সবেনেষ্ত্বা সূরাপো ব্রাহ্মণঃ পুনঃ। সমিতি ব্রাহ্মণো গচ্ছেদিতি বৈ ব্রহ্মরণঃ শ্রুতিঃ ॥২”

এখানে এটি মন্ত্রের বিশেষণ হবে। সম্ভবত কেউ এই ব্যবহারকে আর্ষ বলে এড়াতে পারে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই বিষয়ের যথাযথ অনুসন্ধান প্রয়োজন।

৩. ব্রাহ্মণ শব্দের অর্থ—যজ্ঞ সম্পর্কিত ব্যাখ্যা

ব্রাহ্মণ গ্রন্থে যজ্ঞ সম্পর্কিত ক্রিয়ার ব্যাখ্যায়ও ব্রাহ্মণ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন বলা হয়েছে—

“দূরোহণং রোহতি তস্যোক্তং ব্রাহ্মণম্”

এর পূর্বে ঐতরেয় ব্রাহ্মণে দূরোহণ ব্রাহ্মণের ব্যাখ্যা এইভাবে করা হয়েছে—

“দূরোহণং রোহতি। স্বর্গং ও লোকো দূরোহণং। স্বর্গমেভ তং লোকং রোহতি। য এভা দূরোহণং ৩ অসৌ সে দূরোহো য’সৌ তপ্তি। কশ্চিদ্বা অত্রে গচ্ছতি। স যদ্বরোহণং রোহতি এভাবে রোহতি। হংসবত্যা রোহতি। হংসঃ শুচিভবিত্যেভ সে হংসঃ শুচিষৎ।”

এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, ‘দূরোহণ ব্রাহ্মণ’-এ ‘দূরোহণ’ শব্দের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।

তদ্রূপ, লেখা আছে—

“যদ্গৌরিভীতং তস্যোক্তং ব্রাহ্মরণম্”

এর পূর্বে ঐতরেয় ব্রাহ্মণে এর ব্রাহ্মণ ব্যাখ্যা এভাবে করা হয়েছে—

“গৌরিভীতং ষোডশি সাম কুর্বীত। তেজস্কামো ব্রহ্মবর্চস্কামস্তেজো যং ব্রহ্মবর্চসং গৌরিভীতং। তেজস্বী ব্রহ্মবর্চসী ভবতি। য এভা বিদ্বান গৌরিবোতং ষোডশি সাম কুরুতে। নানং ষোডশি সাম কর্তব্যমিত্যাহুঃ।”

সূত্রসমূহ:

  1. ভান্ডারকর, পুনা সংস্করণ

  2. ৩৪।১৮

  3. পঞ্চিকা ৬। অধ্যায় ২৬। লণ্ড ৬। ঐতরেয় ব্রাহ্মণ, ভাগ ২, পৃঃ ৭৫৭, আনন্দাশ্রম, সন ১৯৩১

  4. ৪।১৮।৬, ভাগ ১

  5. ৮।৩৬।২।।, ঐতরেয় ব্রাহ্মণ

  6. ৪।১৬।২।।

এই ‘গৌরিভীত ব্রাহ্মণ’-এ গৌরিভীত শব্দের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।

একই পরম্পরায়, অথাস্মা ঔদুম্বরীমাসন্দী সংবরণ্তি। তস্যা উক্তং ব্রাহ্মণম্ লেখা হয়েছে। এর পূর্বে ঐতরেয় ব্রাহ্মণে ইতিমধ্যে এর ব্রাহ্মণ বলা হয়েছে। যেমন—

“ঔদুম্বরি সমন্বারভন্ত ইষমূর্জমন্বারম্ভ ইত্যূর্জ্যা অন্নাদ্যামুটুম্বরো পই তদদেবা ইমূর্জ্য ব্যভজন্ত। তৎ উদুম্বরঃ সমভবত্তসমাত্রা ত্রিঃ সংস্কৎসরস্য পচ্যতে।”

উভট-যজুর্বেদের ভাষ্যে শ্রুতি শব্দের অর্থ ব্রাহ্মণ করা হয়েছে। যেমন— “শ্রুতির্বাহ্মণম্”

এ থেকে জানা যায় যে, ব্রাহ্মণদের বক্তা-ঋষিরা এই শব্দের অর্থ ব্রহ্মের ব্যাখ্যা বোঝতেন।

ব্রাহ্মণ গ্রন্থে বহু স্থানে এভাবেই লেখা আছে— “ইত্যেক ব্যাখ্যানাঃ”, অর্থাৎ এই ঋচাগুলো সমান ব্যাখ্যাযুক্ত। এতটুকু লিখে এই মন্ত্রগুলিকে বাহ্মণ বলা হয় না। এ থেকেও বোঝা যায় যে, ‘ব্যাখ্যান’ শব্দই ব্রাহ্মণের সমার্থক।

৪. ব্রাহ্মণ গ্রন্থ কী?

যতগুলো শাখা প্রাচীনকাল থেকে প্রসিদ্ধ, প্রায় সবগুলির ব্রাহ্মণ গ্রন্থও বিদ্যমান ছিল। এই ব্রাহ্মণ গ্রন্থের বক্তৃতাও সেই ঋষিরা করেছেন, যারা তাদের সংহতির মন্ত্র রচনা করেছিলেন। শাখা-গ্রন্থের পাশাপাশি ব্রাহ্মণ গ্রন্থেরও নির্দেশ ছিল।

পাণিনীয় সূত্রে ব্রাহ্মণ গ্রন্থের দুটি ভাগ নির্দিষ্ট করা হয়েছে। একটি সূত্রে পাণিনি সাধারণ নির্দেশ দিয়েছেন— “ছন্দোব্রাহ্মণানি চ তদ্বিষয়াণি”। অন্য সূত্রে প্রাচীন ও অর্বাচীন দুটি বিভাগে ইঙ্গিত— “পুরাণপ্রোক্তেষু ব্রাহ্মরণকল্পেষু”

পুরাণে উল্লেখিত এবং অর্বাচীন ব্রাহ্মণ গ্রন্থের সীমা কী ছিল? তা কি কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসের শাখা-প্রবচন ছিল? অর্থাৎ, কৃষ্ণ দ্বৈপায়নের শাখা-প্রবচনের আগে প্রোক্ত ব্রাহ্মণ প্রাচীন এবং তার শিষ্যদের দ্বারা প্রোক্ত ব্রাহ্মণ অর্বাচীন।

কাশিকার জ্যাদিত্য প্রমাণ করেন— পুরাণ-প্রোক্ত ব্রাহ্মণগুলিতে ভল্লব, শাট্যায়ন, ঐতরেয় এবং অর্বাচীন ব্রাহ্মণগুলিতে যাজ্ঞবল্ক্য বা শতপথ ব্রাহ্মণ উল্লেখিত। তিনি শতপথ ব্রাহ্মণকে অর্বাচীন মনে করেন।

সূত্রসমূহ:

  1. ৮/৩৬।৩।। ঐতরেয় গ্রন্থ

  2. ৫১২৪।৫।।

  3. ১৮১১।।, যজুর্বেদ, উভট-ভাষ্যসহ, সিদ্ধান্ত সাগর প্রেস, ১৬২৬

  4. অর্থাৎ— বাক্, মন্ত্র, সত্য, বেদ, যজ্ঞ

    • (ক) ১০ ৪২২, বৈদিক কোষ, হংসরাজ, প্রথম সংস্করণ, লাহোর, ১৬২৬

    • (খ) ১০ ৭৬৩, ব্রাহ্মণোদ্দারকোষ, বিশ্ববন্ধু, হোশিয়ারপুর, संवत ২০২৩

    • (গ) ১০ ৬২৭, বাহী

    • (ঘ) ১০ ৩৭১, বাহী

    • (ঙ) পৃঃ ৬৬১, একই

  5. ৬।৭।৪।৬।। শ্রী গ্রন্থ, ভাগ ৩

  6. ৪।২।৬৬।।, অষ্টাধ্যায়ী, শ্রীশচন্দ্র বসু, প্রথম ভাগ, পৃঃ ৭২০, মোতিলাল বানারসীদাস, ১৬৬২

  7. ৪।৩।১০৫।। অষ্টাধ্যায়ী

  8. ৪।৩।১০৫।। কাশিকা, সম্পাদক—শর্মা প্রমুখ, সংস্কৃত পর্ষদ, উসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, হায়দ্রাবাদ, ১৯৬৬

ব্রাহ্মণ-এর আরেকটি নাম ওজসনেয় বাহ্রাণ। জ্যাদিত্য প্রাচীন ব্রাহ্মণদের সঙ্গে তাণ্ড এবং অর্বাচীন ব্রাহ্মণদের সঙ্গে সৌলভ ব্রাহ্মণ নামেরও উল্লেখ করেন।

৫. ব্রাহ্মণের অন্তর্গত বিদ্যার সম্পর্ক একটি আথর্বণ মন্ত্র

ব্রাহ্মণদের মধ্যে যেসব বিষয় সংরক্ষিত আছে, সেগুলির উল্লেখ আথর্ববেদের একটি মন্ত্রে পাওয়া যায়—

“তামিতিহাসশ্চ পুরাণং ব গাথাশ্চ নারাশংসীশ্চানুভ্যচলন্ ॥৩”

এই মন্ত্রে কোনো বিশেষ গ্রন্থের ইঙ্গিত নেই। সাধারণভাবে বিদ্যার বিশেষ বিষয়গুলোর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এই ইতিহাস, পুরাণ, গাথা, নারাশংসী ইত্যাদির সংগ্রহ ব্রাহ্মণ গ্রন্থে পাওয়া যায়।

৬. ব্রাহ্মণ-পর্যায়ের প্রচারণা

গ্রন্থভাষায় ব্রাহ্মণ শব্দের অন্য একটি সমার্থক “প্রবচন”। লেখা হয়েছে— “প্রবচন শব্দেন ব্রাহ্মণমুচ্যতে”। প্রাবচন-চরণকেও উল্লেখ করা হয়েছে।

গঙ্গারাজ শ্রীপুরুষের শক ৬৬৩ তম তাম্রশাসনে লেখা আছে—

“হারিত গোত্রস্য নীলকণ্ঠনামধেয়स्य প্রাবচনচরণস্য”

ভারমিত্রোদয়ের আহ্নিক প্রকাশে একই অর্থ প্রকাশ পেয়েছে—

“বসিষ্ঠঃ শ্রপি চ কাঠকে প্রবচনে বিজ্ঞায়তে শ্রদ্য শ্বো বা বিজ্ঞনিষ্যমানঃ”

অনুশাসন পার্ব অনুযায়ী, শ্রাদ্ধে ব্রাহ্মণ-প্রবচন পংক্তি-পবিত্র বলে গণ্য। যেমন—

“অগ্রয়া সর্বেষু বেদেষু সর্বপ্রবচনেষু চ”

একই অর্থ অন্য স্থানে গোভিল-গৃহ্যকর্মপ্রকাশিকায়ও প্রকাশিত হয়েছে। এখানে দশ প্রবচনকারীর তर्पণ বলা হয়েছে—

“শটিঃ, ভল্লবিঃ, কাল্ববিঃ, তাণ্ড্যঃ, বৃষারণঃ, শমবাহুঃ, রুরুকিঃ, অগস্ত্যঃ, বষ্কশিরাঃ, দূহঃ”

৭. ব্রাহ্মণের সম্পর্ক বিজ্ঞায়তে শব্দ

বিজ্ঞায়তে শব্দের প্রথম ব্যবহার গোপথ ব্রাহ্মণে পাওয়া যায়। যেমন—

“আত্মা বং স যজ্ঞস্যেতি বিজ্ঞায়তে”, অর্থাৎ এটি যজ্ঞের আত্মা, এটি ব্রাহ্মণ থেকে জানা যায়। বিজ্ঞায়তে শব্দের অর্থ হলো— “শ্রুত্যন্তরে এই বিশেষতা আছে, নিজের শাখায় নেই।” এই ভাব প্রকাশ পায় পুরুষোত্তমের প্রবরমঞ্জরী থেকে।

সূত্রসমূহ:

  1. ৪।৩।১০৬।। গণপাঠ, কপিলদেব শাস্ত্রী, কুরুক্ষেত্র

  2. ৪।২।৬৬।। কাশিকা

  3. ১৫।৬।১১।। সাতবালেকর, স্বাধ্যায়মন্ডল, ১৬৫৮

  4. ৮।৮।।, পুষ্পসূত্র, পৃঃ ১০৬, লক্ষ্মণ শাস্ত্রী, চৌঃ সংঃ সিঃ, ১৬২৩

  5. পৃঃ ৩৪১, সংখ্যা ২০, প্রথম ভাগ, ভাগবদ্দত্ত, দ্বিতীয় সংস্করণ, অমৃতসর, संवত ২০১৩

  6. Epigraphia Indica, Vol. XXVII, p. 151

  7. পৃঃ ৫৬৪, নিত্যনন্দ শর্মা, চীঃ সংঃ সিঃ, ১৬১০

  8. ৬০/২৮।।, ভাণ্ডারকর, পুনে সংস্করণ

  9. পৃঃ ৩০০, শুকদেব বর্মা, ১৯৩২

  10. ২।২।৬।। ১০ ১০৬, রাজেন্দ্রলাল মিত্র, কলকাতা, ১৮৭২

  11. পৃ০ ১৪, ১৫

ঐতরেয় ব্রাহ্মণে বিজ্ঞায়তে শব্দটিও পাওয়া যায়। তবে এখানে এর অর্থ কিছু ভিন্ন। বিজ্ঞায়তে শব্দের ব্যাখ্যা নিম্নলিখিত স্থানে খুঁজে দেখা উচিত—

(ক) গৌতম ধর্ম সূত্র ১১।১১।। এবং ১১।১৬।।, মস্করি ভাষ্যসহ।
(খ) ঋক্সর্বানুক্রমণী ১।১।।, ষড়গুরু-শিষ্য প্রথা অনুযায়ী।
(গ) বোধায়ন ধর্ম সূত্রে গোবিন্দ স্বামীয়ের বর্ণনা একই অর্থ প্রকাশ করে।
(ঘ) সায়ণও নিজের ঋগ্বেদ ভাষ্যে একই অভিপ্রায় প্রকাশ করেছেন।

শ্রোত্র, গৃহ্য, শুল্ব, ধর্ম সূত্র, নিরুক্ত ও নিদান ইত্যাদি গ্রন্থে, যেমন তৈত্তিরীয়াদি সংহিতায় ব্রাহ্মণ প্রবচন এবং ব্রাহ্মণান্তর্গত বচনকে প্রায়শই “বিজ্ঞায়তে” বলে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

কিন্তু এখনো জানা যায়নি কেন এই শব্দটি ব্রাহ্মণ বচনের দ্যোতক হিসেবে ধরা হয়েছে। ধূর্ত স্বামী ঘাপস্তম্ব সূত্রের টীকা এবং যাজ্ঞবাল্ক্য স্মৃতি-র বালক্রীড়া টীকা-তেও একইরকম উল্লেখ রয়েছে।

সূত্রসমূহ:

  1. ৪।১৮।৮।।

  2. (ক) ধর্মস্য হ্যশংভাগ্ভবতীতি বিজ্ঞায়তে ১১।১১।।
    (খ) ব্রহ্মপ্রসুতং হি ক্ষত্রমৃদ্যতে নি ব্যথতে ইতি চ বিজ্ঞায়তে ১১।১৬।। গৌতম ধর্ম সূত্র, মস্করি ভাষ্যসহ, ১৬৬৬

  3. পৃঃ ১, কাত্যায়ন কৃত ঋক্সর্বানুক্রমণী, ম্যাকডানেল, অক্সফোর্ড, ১৮৮৬

  4. অধ্যায় ৪, খণ্ড ৬, ১৫।।, চিন্ন স্বামী শাস্ত্রী, চৌঃ সংঃ সিঃ, ১৬৯১

  5. পৃঃ ৫, পংক্তি ৬, ভাগ প্রথম, ঋগ্বেদ, সায়ণ ভাষ্যসহ, ম্যাক্সমুলার, চৌঃ সংঃ সিঃ, ১৬৬৬

  6. ২।৫।২।।; ২।১১।৬।।, আপনি:আপস্তম্ব শ্রৌত সূত্র, ধূর্ত স্বামী টীকা সহ, মাইসুর, ১৬৪৫

  7. (ক) ১।১০।১৫।।; ৩।৫।৭।। আশ্বলায়ন গৃহ্য সূত্র, ভবানি শঙ্কর শর্মা, মুম্বাই, ১৬০৬
    (খ) ১।৩।১৪।।; ২।৫।৭২।। বোধায়ন গৃহ্য সূত্র, শাম শাস্ত্রী, মাইসুর, ১৬২০
    (গ) ২৪।২০।। কাঠক গৃহ্য সূত্র, পৃঃ ৮৭, ক্যালেন্ড, লাহোর, ১৬২৫

  8. ৩০০৮।।, ১০ ৪০৬, ভাগ ৩, বোধায়ন শুল্ব সূত্র, ক্যালেন্ড, কলকাতা, ১৯১৩

  9. ১১৩৬।।; ১১৪৬শা; ৪১৩॥; ৫।৮।।; ১১১৪।; ২।৩১॥; ২৩।৩৩॥, বাসিষ্ঠ ধর্ম শাস্ত্র, ফিউহেরার, পুনে, ১৯৩০

  10. ২০১১০; ২০১৮

  11. ৩।৫।।, পৃঃ ৪৬, নিদান সূত্র, ভাটনাগর, দিল্লি, ১৯৭১

  12. বিস্ময়করভাবে, নীরুক্ত ৪।৪।।-এ ঋগ্বেদীয় মন্ত্রস্থ পদগুলোকে “ইতি বিজ্ঞায়তে” বলে উদ্ধৃত করা হয়েছে। একইভাবে বোধায়ন পিতৃ সূত্র ১।১৩।৬।।-এও বলা হয়েছে “দাশতয়ে বিজ্ঞায়তে”

  13. পৃঃ ৩১, নরসিংহাচার, মাইসুর, ১৬৪৫

  14. এখানে বিজ্ঞায়ত ইতি শ্রুত্যুপন্যাস অনুযায়ী, পৃঃ ১২০, ভাগ ২, গণপতি শাস্ত্রী, ত্রিবেন্দ্রম, ১৬২৪

দুর্গাচার্য নীরুক্ত টীকা ২।১২।। এবং ২।১৭।।-এ ইতি বিজ্ঞায়তে শব্দের অর্থ এবং ब्राह्मणेऽपि विज्ञायते-কে বিবেচনা করলে তা প্রকাশ পায়।

৮. ব্রাহ্মণের দুটি প্রকার

ভট্ট ভাস্কর, তৈত্তিরীয় সংহিতার ভাষ্য ভূমিকায় লিখেছেন—
“দ্বিভিদং ব্রাহ্মণং। কর্ম-ব্রাহ্মরণং, কল্প-ব্রাহ্মণং চেতি।।”
অর্থাৎ তৈত্তিরীয় সংহিতা এবং ব্রাহ্মণ গ্রন্থে দুই প্রকার ব্রাহ্মণ রয়েছে। একটি হলো কর্ম ব্রাহ্মণ, অন্যটি হলো কল্প ব্রাহ্মণ
কর্ম ব্রাহ্মণ কেবল কর্মের বিধান এবং মন্ত্রের ব্যবহার বলে, প্রশংসা বা নিন্দা নয়।
কল্প ব্রাহ্মণ শুধুমাত্র মন্ত্রের পাঠ, ব্যবহার নেই।
ভট্ট ভাস্কর প্রদর্শিত এই সংজ্ঞাগুলি কতটা প্রাচীন তা চিন্তা করার বিষয়। তিনি ব্রহ্ম শব্দের অর্থও ব্রাহ্মণ ধরেন, যেমন— ব্রহ্মণামন্ত্রৈর্঵াহ্মণৈর্঵া।

৬. আট প্রকারের ব্রাহ্মণ

সায়ণ, তৈত্তিরীয় আরণ্যকের ব্যাখ্যায়, বৃহদারণ্যক উপনিষদের প্রমাণ অনুযায়ী ব্রাহ্মণের আট প্রকার দেখান—
“ব্রাহ্মণং চাষ্ঠধাভিন্নম্। তদ্ভবাস্তু, ওয়াজসনেয়ীভিরাম্নায়তে ইতিহাস, পুরাণং, বিদ্যা, উপনিষৎঃ, শ্লোকা, সূত্রাপ্যঅনুভ্যাখ্যানি, ব্যাখ্যানানি ইতি।”
আচার্য শঙ্করও বৃহদারণ্যক উপনিষদের একই স্থানে ব্রাহ্মণের এই আট বিভাগ লিখেছেন।

১০. অনুব্রাহ্মণ

অষ্টাধ্যায়ী-এ একটি সূত্র আছে— “অনুব্রাহ্মরণাবিনিঃ”
কাশিকাকার জয়াদিত্য লিখেছেন—
“ব্রাহ্মণসদৃশোয়ং গ্রন্থো অনুব্রাহ্মণম্।”
প্রায় সকল টীকারকারই লিখেছেন, এটি ব্রাহ্মণ নয়, তবে ব্রাহ্মণের সমান গ্রন্থকে অনুব্রাহ্মণ বলা হয়।
কিছু লোক সামবেদের ছোট ছোট ব্রাহ্মণ থেকেও যেকোনো একটি অনুব্রাহ্মণ বলে অভিহিত করেন।
সত্যব্রত সামশ্রমী আর্ষেয় ব্রাহ্মণকে মুখপৃষ্ঠে অনুব্রাহ্মণ লিখেছেন।
নীরুক্তালোচনে বলা হয়েছে—
“তাণ্ড্যাংশভূতানি, তাণ্ড্যপরিশিষ্টভূতানি, বা অনুব্রাহ্মণানি বা অপরাণ্যাপি সপ্তাধীয়ন্তে চ।”

অর্থাৎ—অগ্নিই হলো যজ্ঞ এবং বনস্পতিই যজ্ঞের যোগ্য। মানুষ যজ্ঞ করতে পারে না যদি বনস্পতি না থাকে। তাই বলা হয়েছে, বনস্পতিই যজ্ঞের যোগ্য।

এ থেকে প্রকাশ পায় যে যজ্ঞের জন্য বনস্পতি হলো উপযুক্ত উপাদান। পশু ইত্যাদির বলি কেন এবং কবে থেকে শুরু হলো, ব্রাহ্মণদের মধ্যে বলির প্রক্রিয়া সর্বত্র পাওয়া যায় কি না—এগুলি সব আলাদাভাবে বিবেচনার বিষয়।

(ত) দেবতা

ব্রাহ্মণ গ্রন্থে সমস্ত যজ্ঞের হাভি গ্রহণকারী দেবতাদের উল্লেখ আছে। এই দেবতা দুই প্রকারের—একটি হলো মানুষদেব এবং অন্যটি ভৌতিক দেব

মানুষদেবদের সম্পর্কে ব্রাহ্মণ লিখেছে—

  1. ২।১।৩।। ষড়্বিংশ ব্রাহ্মণ

  2. ৩।৪।৫।। একই

  3. ৩।২।২।৬।। শতপথ

সূত্রসমূহ:

  1. নীরুক্ত, ভদকমকর, মুম্বাই, ১৯১৮

  2. ১।৮।১।।, ভাগ ৩, পৃঃ ১০৫, মাইসুর, ১৮৬৫

  3. একই

  4. ৭৭৪।১২।।, তৈঃ সংঃ, পৃঃ ৭৪, ভাগ ১২, মাইসুর, ১৮৬৮

  5. ৮।২।।, দ্বিতীয় ভাগ, পৃঃ ৫৬৩, আনন্দাশ্রম, পুনে, ১৬২৭

  6. ২।৪।১০।।, বৃহদারণ্যক উপঃ, শঙ্কর ভাষ্যসহ, আনন্দাশ্রম, পুনে, ১৬২৭

  7. ৪।২।৬২।।, পূর্বে দেখানো হয়েছে

  8. পৃঃ ১৬৭, কলকাতা, ১৬০৭

এই লেখার অর্থ হলো সত্যব্রত বলছেন, সামবেদের তাণ্ড্য বাদে বাকী সাতটি ব্রাহ্মণকে অনুব্রাহ্মণ ধরা যেতে পারে। নিধান সূত্রেও প্রায়শই অনুব্রাহ্মণ বলে বিভিন্ন প্রমাণ উল্লেখিত হয়েছে।

ভট্ট ভাস্কর, তৈত্তিরীয় সংহিতা ১১৮।১।।-এর ভূমিকায় তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণান্তর্গত ১১৬।১১।১।। উদ্ধৃত করে লিখেছেন—
“অনুব্রাহ্মণং চ ভবতি—অষ্টাভেতানি হবীংষি ভবন্তি। ইতি।”

মাধব, তার তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ ভাষ্যে ১।৬।১।।-এ ব্যবহৃত এই অনুবাকের সব ব্রাহ্মণের নাম উল্লেখ করেছেন। শাঙ্কহায়ন শ্রৌত ভাষ্যকার আনর্তীয় বরদত্ত লিখেছেন—
“অথ রাজসূয়স্য অনুব্রাহ্মণং” এবং “এত্থ অনুব্রাহ্মণমেতত্ মহাকৌষীতকোদাহৃতং, कल्पকারেণাধ্যায়ত্রয়ং।”

এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কল্প সূত্রকাররা ব্রাহ্মণ গ্রন্থের যে অংশটি কল্প সূত্রে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তা হলো অনুব্রাহ্মণ, যা ব্রাহ্মণদের অন্তর্বিভাগের সমান।

অনুপ্রবচন শব্দও ব্যবহৃত হয়েছে। অষ্টাধ্যায়ী-এ দেখা যায় যে, ব্রাহ্মণের সমার্থক শব্দ হলো প্রবচন, অনুপ্রবচন কি অনুব্রাহ্মণের সমার্থক।

১১. ব্রাহ্মণাচ্ছন্সি

মন্ত্রে বহু স্থানে এই শব্দ পাওয়া যায়। তৈত্তিরীয় সংহিতার কিছু স্থানে ভট্ট ভাস্কর লিখেছেন—
“ব্রাহ্মণা-দাহৃত্য শংসতি ব্রাহ্মণানি শংসতি বা।”

এটি নির্দেশ করে, ব্রাহ্মণ গ্রন্থের ওচন থেকে যে প্রশংসা করা হয়েছে। মহাভাষ্যকারও লিখেছেন—
“ব্রাহ্মণানি শংসতীতি ব্রাহ্মণাচ্ছন্সি। ব্রাহ্মণে ভ্যোহ গ্রহীৎ করা… শংসতীতি ব্রাহ্মণাচ্ছন্সি।”

অর্থাৎ, যা ব্রাহ্মণদের থেকে নেওয়া হয়েছে, তা অনুব্রাহ্মণ হতে পারে। তবে, ইতিহাস অনুযায়ী মন্ত্রের আগে অন্য কোনো ব্রাহ্মণ ছিল না।

সূত্রসমূহ:

  1. কুমারিল—সবকেই ব্রাহ্মণ মনে করেন। তন্ত্রবাতিক ১১৩।১২।।, মীমাংশা দর্শন, শাওয়ার ভাষ্যসহ, আনন্দাশ্রম, পুনে, ১৬২৬

  2. ভট্টনাগর, দিল্লি, ১৬৭১

  3. ১।৬।১।।, তৈঃ সংঃ, মাইসুর, ১৮৬৫

  4. ৪।১০।১।।, ব্যাকরণ শাস্ত্রের ইতিহাস, প্রথম ভাগ, ইউ. মি., পৃঃ ২৪৩, দ্বিতীয় সংস্করণ

  5. ৫০১।১১

  6. ১।৮।১৮।। ভাগ ৩, পৃঃ ২০৩

  7. ৬।৩।২।।, পৃঃ ১৪২, ভাগ ৩, কিলাহানং, মুম্বাই, ১৬০৬

Read More

বেদের ঋষি

01 December 0

বেদের ঋষি
বৈদিক শাখাগুলির বিবরণ ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। শাখা-প্রবচন কালের বিষয়টিও নির্ণীত হয়েছে। এখন প্রশ্ন ওঠে— বেদের কাল কীভাবে নির্ধারণ করা যায়। বেদের কাল জানার জন্য পাশ্চাত্য লেখকেরা নানা ধরনের কল্পনা করেছেন। সেগুলি সবই ভিত্তিহীন কল্পনা। সেগুলির দ্বারা কোনো বাস্তব তথ্য জানা যায় না; তবে সাধারণ মানুষ সেগুলি পড়ে বিভ্রান্ত হতে পারে।

ঋষি-ইতিহাসের প্রয়োজন
বেদের কাল নির্ণয়ের জন্য বেদের ঋষিদের ইতিহাস জানা অত্যন্ত সহায়ক। আমরা জানি যে বেদমন্ত্রগুলির সঙ্গে যেসব ঋষির নাম লিখিত আছে, অথবা মন্ত্রসম্বন্ধে অনুক্রমণীতে যেসব ঋষির নাম দেওয়া হয়েছে, তারা সকলেই সেই মন্ত্রগুলির আদিদ্রষ্টা নন। বহু মন্ত্র তাদের অনেক আগেই বিদ্যমান ছিল। তথাপি সেই ঋষিদের ইতিবৃত্ত জানলে অন্তত এতটুকু বলা যায় যে অমুক অমুক মন্ত্র শাখা-প্রবচন কালের এতটা আগে অবশ্যই বিদ্যমান ছিল। সেই মন্ত্রগুলি ওই কালের পরবর্তী হতে পারে না।

পুরাণসমূহে ঐসব ঋষিদের বিষয়ে ভালো তথ্য সংরক্ষিত আছে। বায়ুপুরাণ ৫৬.৫৬, ব্রহ্মাণ্ডপুরাণ ২.৩২.৬২ এবং মৎস্যপুরাণ ১৪৫.৫৮— এই তিনটি পুরাণে এই বিবরণ আরম্ভ হয়েছে। এই তিন পুরাণের পাঠ বর্তমানে অত্যন্ত অশুদ্ধ হয়ে গেছে; তথাপি নীচে দেওয়া শ্লোকগুলি কিছুটা সংশোধন করে লেখা হচ্ছে। এগুলির সংশোধনে আমরা সম্পূর্ণ সফল না হলেও আংশিক সাফল্য অবশ্যই পেয়েছি। শ্লোকগুলির সংখ্যা ব্রহ্মাণ্ডপুরাণ অনুসারে দেওয়া হয়েছে—

ঋষীণাং তপ্যতামুদ্র
তপঃ পরমবুষ্করम् ॥৬৭॥

মন্ত্রাঃ প্রাদুর্বভূবুর্বাহ পূর্বমন্বন্তরেষ্বিহ ।

অসন্তোষাদ্ ময়াদ্ দুঃখাত্
সুলাত্ শোকাচ্চ পঞ্চধা ॥৬৮॥

ঋষীণাং তপঃ কাত্স্যেন
দর্শনেন যদৃচ্ছয়া ।

এই শ্লোকগুলির যথার্থ অভিপ্রায় এই যে— তপস্যা প্রভৃতি আটটি প্রভাবের দ্বারা ঋষিদের নিকট মন্ত্রগুলির সাক্ষাৎকার হয়েছিল। সেই তপ নানা কারণবশত করা হয়েছিল। এই ভাবই নিরুক্ত এবং তৈত্তিরীয় আরণ্যক (?) গ্রন্থেও পাওয়া যায়।

পাঁচ প্রকারের ঋষি
যেসব ঋষিদের নিকট মন্ত্র প্রাদুর্ভূত হয়েছিল, তারা পাঁচ প্রকারের। তাদের বলা হয়— মহর্ষি, ঋষি, ঋষীক, ঋষিপুত্রক এবং শ্রুষি। চরকতন্ত্র সূত্রস্থান ১.৭-এর ভাষ্যে ভট্টার হরিচন্দ্র চার প্রকার মুনির কথা বলেছেন—
মুনিনাং চতুর্বিধো ভেদঃ— ঋষয়ঃ, ঋষিকাঃ, ঋষিপুত্রাঃ, মহর্ষয়শ্চ।

১. মৎস্য-মোহাচ্

হরিচন্দ্র শ্রুতঋষিদের গণনা করেন না। এই পাঁচ প্রকার ঋষির মধ্যে বর্তমানে পুরাণসমূহে কেবল তিন প্রকার ঋষিরই বিবরণ অবশিষ্ট আছে। বাকি দুই প্রকার ঋষি-সম্পর্কিত পাঠ নষ্ট হয়ে গেছে। এই ঋষিদের বিষয়ে পুরাণস্থিত পাঠ নিচে দেওয়া হল—

অতীতানাগতানাং চ পঞ্চধা হ্যার্ষকং স্মৃতম্ ।
অতস্ত্বৃষীণাং বক্ষ্যামি তত্র হ্যার্ষসমুদ্ভবম্ ॥৭০॥

ইত্যেতা ঋষিজাতীস্তা নামভিঃ পঞ্চ বৈ শৃণু ॥১৫॥

অর্থাৎ— এখন পাঁচ প্রকার ঋষির বিবরণ করা হচ্ছে।

১. মহর্ষি ঈশ্বর
ভৃগুর্মরীচিরত্রিশ্চ হ্যঙ্গিরাঃ পুলহঃ ক্রতুঃ ।
মনুর্বক্ষো বসিষ্ঠশ্চ পুলস্ত্যশ্চৈতি তে দশ ॥৬৬॥

ব্রহ্মণো মানসা হ্যেতে উদ্ভূতাঃ স্বয়মীশ্বরাঃ ।
পরত্বেনর্ষয়ো যস্মাত্ স্মৃতাস্তস্মান্মহর্ষয়ঃ ॥৬৭॥

ঋষিকোটিতে প্রথম এই দশজন মহর্ষি। তুলনা করুন— শান্তিপর্ব ২০৭.৩–৫ এবং ৩৪৬.৬৭–৬৮। তাঁরা স্বয়ং ঈশ্বর এবং ব্রহ্মার মানসপুত্র।

২. ঋষি
এই দশ ভৃগু প্রভৃতি মহর্ষিদের পুত্রদের বিবরণ পরবর্তীতে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের ঋষি বলা হয়—

ঈশ্বরাণাং সুতা হ্যেতে ঋষয়স্তান্নিবোধত ।
কাব্যো বৃহস্পতিশ্চৈব কশ্যপশ্চ্যবনস্তথা ॥৬৮॥

উতথ্যো বামদেবশ্চ অগস্ত্যশ্চৌশিজস্তথা ।
কর্দমো বিশ্রবাঃ শক্তির্বালখিল্যাস্তথার্বতঃ ॥৬৯॥

ইত্যেতে ঋষয়ঃ প্রোক্তাস্তপসা চষিতাং গতাঃ ।

অর্থাৎ— উশনা কাব্য, বৃহস্পতি, কশ্যপ, চ্যবন, উতথ্য, বামদেব, অগস্ত্য, উশিক্, কর্দম, বিশ্রবা, শক্তি, বালখিল্য ও অর্বত— এঁরা ব্রহ্মর্ষিদের পুত্র ঋষি, যাঁরা তপস্যার দ্বারা এই পদ লাভ করেছেন।

৩. ঋষিপুত্র (ঋষীক)
ঋষিপুত্রানৃষীকাংস্তু গর্ভোত্পন্নান্নিবোধত ॥১০০॥

বৎসরো নগ্নহূশ্চৈব ভরদ্বাজস্তথৈব চ ।
ঋষিদীর্ঘতমাশ্চৈব বৃহদ্যুক্তঃ শরদ্বতঃ ॥১০১॥

বাজশ্রবাঃ সুবিত্তশ্চ বশ্যাশ্বশ্চ পরাশরঃ ।
দধীচঃ শংশপাশ্চৈব রাজা বৈশ্রবণস্তথা ॥১০২॥

ইত্যেতে ঋষিকাঃ প্রোক্তাস্তে সত্যাবৃষিতাং গতাঃ ।

ঋষিপুত্র ও ঋষীক সমার্থক। (তুলনা করুন— শান্তিপর্ব ১২.৪৮)। ‘শরদ্বত’ পাঠটি বিচার্য। শংশপের পুত্র শাংশপায়ন পুরাণপ্রবক্তা ছিলেন।

উনিশটি ভৃগুপুরাণে ভৃগুকুলের উনিশজন মন্ত্রকর্তা ঋষির উল্লেখ আছে। তাঁদের নাম নিম্নলিখিত শ্লোকগুলিতে দেওয়া হয়েছে—

এতে মন্ত্রকৃতঃ সর্বে কৃত্স্নশস্তান্নিবোধত ।
ভৃগুঃ কাব্যঃ প্রচেতাশ্চ দধীচো হ্যাপন্বানপি ॥১০৪॥

ঔর্বোऽথ জমদগ্নিশ্চ বিদঃ সারস্বতস্তথা ।
আষ্টিষেণশ্চ্যবনশ্চ বীতহব্যঃ সুমেধসঃ ॥১০৫॥

বৈন্যঃ পৃথুদিবোদাসো বাঘ্রঘশ্বো গৃত্সশৌণকঃ ।
একোনবিংশতিহ্যতে ভৃগবো মন্ত্রবাদিনঃ ॥১০৬॥

১. বায়ু— অয়োজ্যশ্চৌশি। ব্রহ্মাণ্ড— অপাস্যশ্চোশি। মৎস্য— অগস্ত্যঃ কৌশিকস্তথা।
২. বায়ু— প্রোক্তা জ্ঞানয়ো ঋষিতাম্।
৩. শ্যা বা শ্বশ্চ ?

১. ভৃগু ২. কাব্য (উশনা–শুক্র) ৩. প্রচেতা ৪. দধ্যঙ্‌ (আথর্বণ) ৫. আপন্বান্ ৬. ঔর্ব (ঋচীক) ৭. জমদগ্নি ৮. বিদ ৯. সারস্বত ১০. আষ্টিষেণ ১১. চ্যবন ১২. বীতহব্য ১৩. সুমেধাঃ ১৪. বৈন্য পৃথু ১৫. দিবোদাস ১৬. বাঘ্রযশ্ব ১৭. গৃত্স (মদ) ১৮. শৌণক।

এগুলি আঠারোজন ঋষির নাম। পুরাণসমূহে মোট সংখ্যা উনিশ বলা হয়েছে এবং সেখানে বৈন্য ও পৃথুকে দুই ব্যক্তি হিসেবে গণনা করা হয়েছে। বৈদিক সাহিত্যে বৈন্য পৃথু একই ব্যক্তি, অতএব আমরা এটিকে একটিমাত্র নাম হিসেবে গ্রহণ করেছি। এইভাবে উনিশতম নামটি অন্য কোথাও অনুসন্ধান করতে হবে। এদের মধ্যে বহু ঋষিকেই ভৃগু বলা হয়েছে। তাঁদের মূল ভৃগু থেকে সর্বদা পৃথক্‌ করে জানা উচিত। এই কুলের শ্রেষ্ঠ বৃত্তান্ত মহাভারতের আদিপর্ব ৬০.৪০ থেকে আরম্ভ হয়েছে। সেই অনুসারে ভৃগুর পুত্র ছিলেন কবি। কবির পুত্র ছিলেন শুক্র, যিনি যোগাচার্য ও দৈত্যদের গুরু ছিলেন। ভৃগুর আর এক পুত্র ছিলেন চ্যবন। এই চ্যবনের পুত্র ছিলেন ঔর্ব। ঔর্বের পুত্র ছিলেন ঋচীক এবং ঋচীকের পুত্র ছিলেন জমদগ্নি। মহাভারতে এরপর অন্যান্য বংশের বিবরণ চলতে থাকে। পুরাণ অনুযায়ী চ্যবন ও সুকন্যার দুই পুত্র ছিলেন— একজন আপন্বান্ এবং অপরজন দধীচ বা দধ্যঙ্। আপন্বানের পুত্র ছিলেন ঔর্ব। ঔর্বদের অবস্থান ছিল মধ্যদেশে। এখানেই এই ভৃগুবংশীয়দের কার্তবীর্য অর্জুনের সঙ্গে বিরোধের সূচনা হয়। এখানেই অর্জুনের পুত্রেরা জমদগ্নিকে বধ করেছিল। বীতহব্য প্রথমে ক্ষত্রিয় ছিলেন। এক ভৃগু ঋষির বচনে তিনি ব্রাহ্মণ হন। তাঁরই কুলে গৃত্সমদ ও শৌণকের জন্ম হয়েছিল। গৃত্সমদ দাশরথি রামের সমসাময়িক ছিলেন।

ভৃগুকুল এবং অথর্ববেদ— পৃষ্ঠা ২৫৬-এ আমরা পূর্বে লিখেছি যে, অথর্ববেদের একটি নাম ছিল ‘ভৃগ্বঙ্গিরোবেদ’। এর অর্থ এই যে, ভৃগু ও অঙ্গিরা— এই দুই কুলের সঙ্গে এই বেদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ভৃগুকুলের ঋষিদের নাম উপরে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ভৃগু, দধ্যঙ্ এবং শৌণক স্পষ্টতই আথর্বণ। সম্ভবত এই শৌণকই আথর্বণ শৌণক শাখার প্রবর্তক। ভৃগু, গৃত্সমদ ও শুক্র বহু আথর্বণ সূক্তের দ্রষ্টা। এদের মধ্যে শুক্রের সূক্ত সংখ্যা সর্বাধিক। ভৃগ্বঙ্গিরাদেরও বহু সূক্ত আছে। অতএব অথর্ববেদের ‘ভৃগ্বঙ্গিরোবেদ’ নামটি সম্পূর্ণ সঙ্গত।

অথর্ববেদ ও দৈত্যদেশ— উশনা শুক্র যে দৈত্যদের গুরু ছিলেন, তা সুপ্রসিদ্ধ। পারস্য, কালদিয়া, ব্যাবিলোনিয়া প্রভৃতি দেশই ছিল দৈত্যদেশ। শুক্র নিশ্চয়ই এই সব দেশে তাঁর পিতৃসূত্রে প্রাপ্ত আথর্বণ শ্রুতির প্রচার করেছিলেন। এই কারণেই এই দেশগুলির ভাষায় বহু আথর্বণ শব্দ প্রচলিত হয়ে যায়। উপরে উল্লিখিত ‘আলিঙ্গী’ প্রভৃতি শব্দ সেইগুলির অন্তর্গত। অতএব বাল গঙ্গাধর তিলকের এই মত যে, এই শব্দগুলি কালদিয়ার ভাষা থেকে অথর্ববেদে প্রবেশ করেছে— তা যুক্তিসঙ্গত নয়। এই শব্দগুলি বরং শুক্রের মাধ্যমে অথর্ববেদ থেকে কালদিয়ার ভাষায় গিয়েছে।

ইউরোপ দৈত্যদের বংশধরদের দ্বারা বসতিস্থাপিত হয়েছিল— এর বিশদ আলোচনা এই গ্রন্থের পূর্ববর্তী পৃষ্ঠা ৫১–৬১ এবং ভাষার ইতিহাস পৃষ্ঠা ১০৮–১০৬-এ দ্রষ্টব্য।

১. দেখুন পূর্ববর্তী পৃষ্ঠা ৫১–৬৩

অঙ্গিরা কুলের তেত্রিশ ঋষি— অঙ্গিরা কুলের নিম্নলিখিত তেত্রিশ ঋষির নাম পুরাণে লিখিত আছে—

১. অঙ্গিরা ২. ত্রিত ৩. ভারদ্বাজ বাস্কল ৪. ঋতবাক ৫. গর্গ ৬. শিনি ৭. সংকৃতি ৮. গুরুবীত ৯. মান্ধাতা ১০. অম্বরীষ ১১. যুবনাশ্ব ১২. পুরুকুৎস ১৩. ত্রসদস্যু ১৪. সদস্যুমান ১৫. আহার্য ১৬. অজমীঢ় ১৭. ঋষভ ১৮. কপি ১৯. পৃষদশ্ব ২০. বিরূপ ২১. কণ্ব ২২. মুদ্গল ২৩. উতথ্য ২৪. শরদ্বান্ ২৫. বাজশ্রবা ২৬. অয়াস্য ২৭. সুবিত্তি ২৮. বামদেব ২৯. অসিজ ৩০. বৃহদুক্ত ৩১. দীর্ঘতমা ৩২. কক্ষীবান্।

এই কুলে আরও ছয়জন ব্রহ্মবাদী কাশ্যপ রয়েছেন। তেত্রিশতম নামটি অশুদ্ধ পাঠের কারণে লুপ্ত হয়ে গেছে। এই বত্রিশটি নামের মধ্যেও অনেকগুলির শুদ্ধ রূপ আমরা নিশ্চিত করতে পারিনি। এই অঙ্গিরা গোত্রে পরে বহু শাখা গড়ে ওঠে, যেমন— কণ্ব, মুদ্গল, কপি ইত্যাদি। এই কুলের মূল পুরুষ অঙ্গিরা ছিলেন অত্যন্ত প্রাচীন ব্যক্তি। অঙ্গিরা কুলের এই মন্ত্রদ্রষ্টাদের মধ্যে মান্ধাতা, অম্বরীষ ও যুবনাশ্ব প্রভৃতি ক্ষত্রিয় কুলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। রাজা অম্বরীষও এক অতি প্রাচীন ব্যক্তি ছিলেন। মহাভারত প্রভৃতি গ্রন্থে নাভাগ অম্বরীষ নামে তাঁর উল্লেখ বহুবার পাওয়া যায়। অঙ্গিরারও অথর্ববেদের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। স্বতন্ত্রভাবে এবং ভৃগুর সঙ্গে মিলিত হয়ে তাঁর বহু সূক্ত অথর্ববেদে রয়েছে।

কাশ্যপ কুলের ছয় ঋষি

১. কাশ্যপ
২. বৎসার
৩. নৈধ্রুব
৪. রেভ্য
৫. অসিত
৬. দেবল

কাশ্যপ কুলে এই ছয়জন ঋষি হয়েছেন। এদের মধ্যে অসিত ও দেবলের সঙ্গে মহাভারতকালের একই নামধারী ব্যক্তিদের সম্পর্ক আছে বলে জানা উচিত। সম্ভবত উভয়েই পিতা-পুত্র ছিলেন এবং অত্যন্ত দীর্ঘজীবী ছিলেন।

ছয় আত্রেয় ঋষি

১. অত্রি
২. অর্চনানা
৩. শ্যাবাশ্ব
৪. গবিষ্ঠির
৫. আবিহোত্র
৬. পূর্বাতিথি

পঞ্চম নামটির বহু পাঠান্তর রয়েছে। সম্ভবত এই নামটি ‘অন্ধিগু’। অন্ধিগু গবিষ্ঠিরের পুত্র এবং ঋগ্বেদ ৬.১০১-এর ঋষি।

সাত বাসিষ্ঠ ঋষি

১. বসিষ্ঠ
২. প্রাক্তি
৩. পরাশর
৪. ইন্দ্রপ্রমতি
৫. ভরদ্বসু
৬. মৈত্রাবারুণি
৭. কুণ্ডিন

বসিষ্ঠ কুলে এই সাতজন ব্রহ্মবাদী ছিলেন। এদের মধ্যেই একজন পরাশর, যিনি কৃষ্ণ দ্বৈপায়নের পিতা। কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন মহাভারত ও বেদান্তসূত্রে মন্ত্রকে নিত্য বলেছেন। কৃষ্ণের মতো সত্যবক্তা ঋষি যখন তাঁর পিতার দৃষ্ট মন্ত্রগুলিকে নিত্য বলেন, তখন এই নিত্য-সিদ্ধান্তের গভীর বিচার করা উচিত। বহু আধুনিক ব্যক্তি এখনও বেদের নিত্য-সিদ্ধান্ত সম্যকভাবে বুঝতে অক্ষম।

তেরো ব্রহ্মিষ্ঠ কৌশিক ঋষি

১. বিশ্বামিত্র
২. দেবরাত
৩. উদ্দাল (বল)
৪. মধুচ্ছন্দা
৫. অঘমর্ষণ
৬. কীল
৭. লোহিত
৮. কত
৯. অষ্টক
১০. দেবশ্রবা
১১. রেণু
১২. পূরণ
১৩. ধনঞ্জয়

মৎস্য পুরাণে আরও দুইটি নাম যোগ করা হয়েছে। সেগুলি হল— শিশির এবং শালঙ্কায়ন। বসিষ্ঠদের বর্ণনার পর বায়ু পুরাণের পাঠ ত্রুটিপূর্ণ হয়ে গেছে। বায়ু পুরাণ ৬১।৬৩ অনুসারে দেবরাতের কৃত্রিম পিতা বিশ্বামিত্রের প্রকৃত নাম ছিল বিশ্বরথ। বিশ্বরথের পিতার নাম ছিল গাধি। গাধির পর বিশ্বরথ রাজ্য শাসন করেন। কিছুদিন রাজ্য শাসনের পর বিশ্বরথ রাজ্য ত্যাগ করে বারো বছর কঠোর তপস্যা করেন। এই বিশ্বরথের সঙ্গে বসিষ্ঠের বৈরিতা সৃষ্টি হয়। সত্যব্রত ত্রিশঙ্কু নামে অযোধ্যার এক রাজকুমার ছিল। বিশ্বরথ তাকে বিশেষ সহায়তা করেছিলেন। তারই পুত্র ছিলেন হরিশ্চন্দ্র এবং পৌত্র ছিলেন রোহিত। তপস্যার ফলে এই বিশ্বরথ ক্ষত্রিয় থেকে ব্রাহ্মণ হননি, বরং ঋষি হয়েছিলেন। ঋষি হওয়ার পর তাঁর নাম হয় বিশ্বামিত্র। যজ্ঞে তিনি শুনঃশেপ দেবরাতকে নিজের কৃত্রিম পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেন। এই কাহিনি প্রসিদ্ধ। মধুচ্ছন্দা ও অঘমর্ষণ ধর্মের সুবিদ্বান ছিলেন।

তিন আগস্ত্য ঋষি

১. অগস্ত্য
২. দৃঢ়দ্যম্ন (দৃঢ়ায়ু)
৩. ইন্দ্রবাহু (বিধ্মবাহ)

এই তিনজন অগস্ত্য কুলের ঋষি ছিলেন।

দুই ক্ষত্রিয় মন্ত্রবাদী

বৈবস্বত মনু এবং ঐল রাজা পুরুরবা— এই দুইজন ক্ষত্রিয় ঋষি ছিলেন।

তিন বৈশ্য ঋষি

১. ভলন্দন
২. বৎস
৩. সংকীল

এই তিনজন বৈশ্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিলেন। বৈবস্বত মনু মূলত ব্রাহ্মণ ছিলেন, পরে তিনি ক্ষত্রিয় হন। তাঁর পুত্র ছিলেন নাভানেদিষ্ঠ। নাভানেদিষ্ঠ ক্ষত্রিয় হননি, তিনি বৈশ্য হয়েছিলেন এবং সেই কুলেই এই তিন ঋষির জন্ম হয়।

এইভাবে মোট ঋষির সংখ্যা ছিল ৬২। তাদের বিবরণ নিম্নরূপ—

ভৃগু — ১৬
আঙ্গিরস — ৩৩
কাশ্যপ — ৬
আত্রেয় — ৬
বাসিষ্ঠ — ৭
কৌশিক — ১৩
আগস্ত্য — ৩
ক্ষত্রিয় — ২
বৈশ্য — ৩

মোট — ৬২

ব্রহ্মাণ্ডে মোট সংখ্যা ১০ লিলী, কিন্তু মালয় অনুযায়ী সংখ্যা ৬২ মাত্র। ব্রহ্মাণ্ডের পাঠ অসম্পূর্ণ মনে হয়। এর পরেও ব্রহ্মাণ্ডে এই বিষয়ের কিছু পাঠ আরও পাওয়া যায়। বায়ুর পাঠ ইতিমধ্যেই ভেঙে গেছে এবং মত্যের পাঠ এই সংখ্যাকে গণনা করে ভেঙে যায়। ব্রহ্মাণ্ডে ঋষিপুত্রক এবং অতষীদের বৃত্তান্তও লেখা আছে। ব্রাহ্মণদের প্রবচনকারীরা শেষ প্রকারের ঋষিরাই। তাদের নাম ব্রাহ্মণ অংশে লেখা হবে।

বদ মন্ত্র, মন্ত্র-দ্রষ্টা ঋষিদের থেকে প্রাপ্ত মন্ত্র বিদ্যমান

আমরা পৃঃ ২৬৫-এ লিখেছি যে, যে ঋষিদের নাম এখন মন্ত্রগুলির সাথে অনুক্রমণিতে স্মরণ করা হয়; তারা প্রায়শই মন্ত্রগুলির শেষ ঋষি। মন্ত্রগুলি তাদের পূর্বেই বিদ্যমান ছিল। এই বিষয়টি প্রমাণ করার জন্য আমরা আমাদের ঋগ্বেদে বক্তৃতায় দুটি প্রমাণ দিয়েছি। সেই দুটি প্রমাণ এবং কিছু নতুন প্রমাণ নিচে দেওয়া হলো—

১. তাইত্তিরীয় সংহিতা ৩.১, ৬.৩০, মৈত্রায়ণী সংহিতা ১.৫৮ এবং ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ৫.১৪-এ একটি কাহিনী পাওয়া যায়। এতে বলা হয়েছে যে মনুর অনেক পুত্র পিতার আজ্ঞা অনুযায়ী পিতার সম্পত্তি ভাগ করেছেন। তাদের কনিষ্ঠ ভ্রাতা নাভানেদিষ্ঠ তখনও ব্রহ্মচর্য বাস করছে। গুরুকুল থেকে ফিরে নাভানেদিষ্ঠ পিতার কাছে নিজের অংশ চায়। অন্যান্য দ্রব্য না থাকায় পিতা তাকে দুইটি সূক্ত এবং একটি ব্রাহ্মণ দিয়ে বলেন যে আঙ্গিরস ঋষি স্বর্গের কামনা নিয়ে যজ্ঞ করছেন। যজ্ঞের মধ্যে তারা ভুল করে বসেন। তুমি এই সূক্তগুলি দিয়ে সেই ভুল দূর করো। যারা দক্ষিণা দেব, সেটি তুমি নিজের অংশ মনে করো। এই সূক্তগুলি ঋগ্বেদ দশম মণ্ডলের সুপরিচিত ৬১, ৬২ সূক্ত। ব্রাহ্মণের একটি পাঠ তাইত্তিরীয় সংহিতার ভাষ্যে ভট্ট ভাস্কর মিশ্র দিয়েছেন। অনুক্রমণী অনুযায়ী এই সূক্তগুলির ঋষি নাভানেদিষ্ঠ। নাভানেদিষ্ঠের নামও ৬১.১৮-এ পাওয়া যায়। এই কাহিনীর অর্থ হলো যে এই সূক্তগুলি নাভানেদিষ্ঠের যুগের আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল, তবে এই সূক্তগুলির ঋষি সেই নাভানেদিষ্ঠই।

২. ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ৬.১৬ এবং গোপথ ব্রাহ্মণ ৬.১-এ লেখা আছে যে ঋগ্বেদ ৪.১৬ ইত্যাদি সমপাৎ ঋচাগুলি বিশ্বামিত্র প্রথম (প্রথমং) দেখেছিলেন। এর পর বিশ্বামিত্র থেকে দেখা সেই সমপাৎ ঋচাগুলি বামদেব সাধারণ মানুষদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। কাত্যায়ন সর্বানুক্রমণী অনুযায়ী এই ঋচাগুলির ঋষি বামদেব, বিশ্বামিত্র নয়। এই ঋচাগুলি বামদেব ঋষির আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল।

৩. কাউষীতকি ব্রাহ্মণ ১২.২ থেকে কভস ঋষির উল্লেখ শুরু হয়। সেখানে লেখা আছে যে কভস ১৫ ঋচা বিশিষ্ট ঋগ্বেদ ১০.৩০ সূক্ত দেখেছেন। এর পর তিনি এটি যজ্ঞে ব্যবহার করেছিলেন। কাউষীতকি ব্রাহ্মণ ১২.৩-এ পুনরায় লেখা হয়েছে— কভসवंষ মহিমা সূক্তस्य চানুভেদিতা

অর্থাৎ, কভসের এই মহিমা হলো, তিনি ১০.৩০ সূক্তের উত্তরবর্তী জানার ব্যক্তি।

এর থেকে জানা যায় যে কভসের আগে এই সূক্ত জানেন এমন ঋষিরা ইতিমধ্যেই ছিলেন। অনেক স্থানে বিদ্ ইত্যাদি ধাতুর সঙ্গে অনু অর্থক্রমক্রমে বা অনুক্রম অনুযায়ী হয়। তবে একই স্থানে অনু অর্থ পরেও হতে পারে। অতএব কাউষীতকি বচনের যে অর্থ আমরা নিয়েছি, তা এই বচনের সরাসরি অর্থ।

১. উপরে পৃঃ ১৩০-১৫৫ দেখুন (পুস্তকে)। 

মিত্রবর শ্রী পণ্ডিত ব্রহ্মদত্ত জীর শিষ্য ব্রহ্মচারী পণ্ডিত যুধিষ্ঠির মীমাংশক-এর একটি প্রবন্ধ আর্য-সিদ্ধান্ত বিতর্কে প্রকাশিত হয়েছে। শিরোনাম—ঋষি কী বৈদিক মন্ত্র রচয়িতা ছিলেন? সেখানে তিনি চারটি প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন যা আমাদের পূর্বোক্ত পক্ষকেই শক্তিশালী করে। সেই প্রবন্ধ থেকে দুটি প্রমাণ সংক্ষিপ্তভাবে এখানে দেওয়া হলো। বাকি দুই প্রমাণের বিষয়ে আমরা আলোচনা করছি—

১. সর্বানুক্রমণী অনুযায়ী কস্য নুনং… ঋগ্বেদ ১.২৪-এর ঋষি আজীরগাত, অজীগর্ত-এর পুত্র দেবরাত। এই দেবরাতই বিশ্বামিত্রের কৃত্রিম পুত্র হয়ে শুনঃশেপ নামে পরিচিত হন। ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ৩৩.৩,৪-এও বলা হয়েছে যে শুনঃশেপ কস্য নুনং ঋক্ দ্বারা প্রজাপতির স্তুতি করেছেন। বররুচি-কৃত নৃপুক্ত সমুচ্ছয়-এও এই সূক্তের বিষয়ে একটি আখ্যান রয়েছে। তার অনুযায়ী এই সূক্তের দর্শক অজীগর্ত নিজেই। যদি নৃপুক্ত সমুচ্ছয়-এর পাঠ ভ্রান্ত না হয়ে যেত, তবে শুনঃশেপের আগে ফস্য নুনং ইত্যাদি মন্ত্র বিদ্যমান ছিল।

২. তাইত্তিরীয় সংহিতা ৫.২.৩ এবং কাঠক সংহিতা ২০.১০-এ ঋগ্বেদ ৩.২২ সূক্ত বিশ্বামিত্র দ্বারা দর্শিত হয়েছে। সর্বানুক্রমণী অনুযায়ী এই সূক্ত গাথী-গাধী-এর। এটি নির্দেশ করে যে বিশ্বামিত্রের আগে এই সূক্ত গাধীর কাছে ছিল।

অনেক প্রমাণ থেকে আমরা দেখিয়েছি যে মন্ত্রদর্শক ঋষি মন্ত্র রচয়িতা ছিলেন না। তারা ছিলেন মন্ত্রার্থ-প্রকাশক বা মন্ত্র বিনিয়োজক। পূর্বে আমরা উল্লেখ করেছি যে ভৃগু, অঙ্গিরা ইত্যাদি ঋষি মন্ত্রদর্শক ছিলেন। এই ভৃগু, অঙ্গিরা ইত্যাদির যুগ মহাভারত যুগের বহু আগে। মহাভারত যুদ্ধের সময় বিক্রম থেকে প্রায় ৩০৪০ বছর পূর্বে। তাই চিন্তা করা উচিত, যখন বৈদিক মন্ত্র ভৃগু, অঙ্গিরা ইত্যাদির যুগের বহু আগে, অর্থাৎ বিক্রম থেকে প্রায় ৪০০০ বছর আগে বিদ্যমান ছিল, তখন বলা যে ঋগ্বেদের কাল খ্রীষ্টপূর্ব ২৫০০–২০০০ বছর আগে, এটি কেবল বিভ্রান্তি।

যে আধুনিক গবেষকরা ভাষাতত্ত্ব (Philology)-এ অধিক গুরুত্ব দিয়ে বৈদিক মন্ত্রের কাল খ্রীষ্টপূর্ব ২০০০–১৫০০ বছর নির্ধারণ করেন, তাদের উচিত ভৃগু, অঙ্গিরা ইত্যাদির মন্ত্রের ভাষা পরাশরের মন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করা। পরাশর ভারতযুদ্ধ যুগের, কিন্তু ভৃগু, অঙ্গিরা বহু আগে। তখন তারা বুঝতে পারবে যে তাদের ভাষাগত কৌশল বৈদিক মন্ত্রের কাল নির্ধারণে সহায়ক নয়। বৈদিক মন্ত্রের কাল কেবল ঐতিহাসিক ক্রম অনুসারে নির্ধারণযোগ্য, এবং সেই অনুযায়ী বৈদিক মন্ত্র যুগ-কাল থেকে চলে আসছে। ঋষিদের ইতিহাসই আমাদের এই ফলাফলে পৌঁছে দিয়েছে।

মন্ত্রের পুনরাবৃত্তি প্রাদুর্ভাব

উপরোক্ত প্রমাণ থেকে এটি নিশ্চিত হয় যে মন্ত্রের প্রাদুর্ভাব বারবার হয়েছে। এজন্য একাধিকবার একই সূক্তের অনেক ঋষি হয়েছে। গণনা প্রায় শত পর্যন্ত পৌঁছায়। এটি প্রমাণ করে যে ঋষি মন্ত্র রচয়িতা ছিলেন না, বরং তারা মন্ত্রদর্শক। এই বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা পূর্বে দেখানো হয়েছে।

১. এর দুটি সংস্করণ ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে।
২. পৃঃ ১৩০ থেকে আগের অংশ।

মন্ত্রার্থ দর্শক ঋষি

মন্ত্রের বারবার প্রাদুর্ভাবের একটি আরও গভীর অর্থ রয়েছে। আমরা জানি, বিভিন্ন ব্রাহ্মণ গ্রন্থে একই মন্ত্রের বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। একই মন্ত্রের ব্যবহারও বিভিন্নভাবে দেখানো হয়েছে। মন্ত্রার্থের এই ভিন্নতা থেকেই এক মন্ত্র বিভিন্ন সময়ে অনেক ঋষির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এ কারণে প্রাচীন আচার্যরা লিখেছেন যে ঋষি মন্ত্রার্থ দর্শকও ছিলেন। এর জন্য নিম্নলিখিত প্রমাণ বিবেচনীয়—

১. নিরুক্ত ২.৮-এ লেখা আছে যে শাকপূণি সিদ্ধান্ত নিল যে আমি সব দেবতাকে জানব। তার জন্য দুটি লিঙ্গযুক্ত দেবতা প্রাদুর্ভূত হলো। তিনি তাকে জানতে পারলেন না। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন। সেই দেবতা ঋ০ ১.১৬৪.২৬ সূক্তের নির্দেশ দিল। এটাই “মুজ দেবতা বালা মন্ত্র”। এই প্রমাণ থেকে বোঝা যায় যে দেবতা শাকপূণিকে সূক্তও জানাল এবং ঋগ্বেদসংক্রান্ত অর্থও দেখাল। তখনই শাকপূণি মন্ত্রার্থ জ্ঞান লাভ করলেন এবং দেবতাকে চিনলেন। এই মন্ত্র শাকপূণির আগে থেকেই পরিচিত ছিল। মন্ত্রটি বৈদিকের অংশ ছিল এবং ব্যাস প্রমুখরা আগে থেকেই এটি পাঠ করেছেন। শাকপূণি নিজেও এই মন্ত্রটি পড়েছিলেন। তবুও তার জন্য এই মন্ত্রের নির্দেশ হলো এবং তিনি মন্ত্রে উদ্ভূত লিঙ্গ দেবতা দেখলেন।

২. নিরুক্ত ১৩.১২-এ লেখা আছে—“না হ্যেষু প্রতক্ষমস্ত্যনৃষের তপসো বা”। অর্থাৎ এই মন্ত্রগুলিতে অনুষি এবং তপশূন্যতার সরাসরি প্রকাশ নেই। যারা সংস্কৃত ভাষার মর্ম বোঝেন, তারা এই বাক্য পড়ে বুঝবেন যে এই বাক্যর অর্থ হলো মন্ত্র বহুধা বিদ্যমান থাকে এবং সেই মন্ত্রগুলিতেই ঋষিদের দর্শন ঘটে। যেমন পৃথিবীতে গোলাপের ফুল বহুদিন ধরে আছে, তবুও তার বৈশিষ্ট্যে বৈদ্যের দৃষ্টি মাঝে মাঝে যায়। যখনই দৃষ্টি খোলে, তখনই সেই ফুলের একটি নতুন ব্যবহার উদ্ভাবিত হয়।

এরপর নিরুক্তকার লিখেছেন—

“মনুষ্য বা ঋষিষূত্রক্রমত্সু দেবানন্ বন্ত। কে ন ঋষিঃ ভবিধ্যতি। তেবা এতং তর্কমুধি প্রায়চ্ছন। মন্ত্রার্থচিন্তামিউহমভ্যূলহম। তসমাদ্যদেব কিচানূচানোভ্যূহত্যার্থং তদ্ভবতি।”

এই পুরো বাক্যের অর্থ হলো ঋষিরা প্রায়ই মন্ত্রার্থই বুঝতেন। বেণ্কটমাধব তার ঋগ্ভধ্যের অষ্টম অষ্টকে সপ্তম অধ্যায়ের অনুক্রমণীতে লিখেছেন যে নিরুক্তের এই পাঠ কোনো প্রাচীন ব্রাহ্মণ গ্রন্থের পাঠ। তিনি প্রকৃতপক্ষে এটি ব্রাহ্মণের নামে উদ্ধৃত করেছেন। এটি নির্দেশ করে যে ব্রাহ্মণ গ্রন্থেও ঋষিকে প্রায়ই মন্ত্রার্থ দর্শক হিসেবে ধরা হয়েছে। যাস্কের এষু প্রতক্ষম্ পদ থেকে নিরুক্ত ৭.৩-এ এসেছে যে ঋষীণাং মন্ত্রদৃষ্টয়ঃ-এর সপ্তমি পার্ক অর্থও একই নির্দেশ দেয়। এতে বোঝা যায় যে বিদ্যমান মন্ত্রেও ঋষিদের দর্শন ছিল।

৩. নিরুক্ত ১০.১০-এ লেখা আছে—“না ঋষৃ বর্ষার্থস্য প্রীতি ভবতি আখ্যান সংযুক্তা।” এখানে ‘দৃষ্টার্থ’ শব্দটি গুরুত্বপূর্ণ। অর্থ হতে পারে মন্ত্র বা মন্ত্রার্থ। মন্ত্রার্থের অর্থ থেকেই এখানে আমাদের প্রাপ্ত অভিপ্রায় নিশ্চিত হয়।

৪. ন্যায়সূত্র ৪.৬.৬২-এ ভাষ্য করতে গিয়ে কোনো ব্রাহ্মণ গ্রন্থের প্রমাণ দিয়ে वात্স্যায়ন মুনি লিখেছেন—

“য় এং মন্ত্রব্রাহ্মণের দর্শক এবং প্রবর্তক, তারা ইতিহাস, পুরাণ এবং ধর্মশাস্ত্রেরই।”

পুনঃ সূত্র ২.২.৬২-এর ভাষ্যে বাৎস্যায়ন লিখেছেন—

“য এৱাপ্তা বেদার্থানাং দর্শ্তারঃ প্রবর্তারশ্চ ত এবাযুর্বেদপ্রণৃতীনামিতি।”

এই উক্তি এবং পূর্বের উক্তিগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে, ঋষিরা, যাঁরা প্রাপ্তসাক্ষাৎধর্মের অধিকারী ছিলেন, তাঁরা বেদার্থের দর্শকও ছিলেন। এই বেদার্থ ব্রাহ্মণ গ্রন্থে বিদ্যমান, তাই বলা যায় ঋষিরা বেদার্থরূপী ব্রাহ্মণের দর্শক ছিলেন। এর অর্থ হলো, সময়ে সময়ে একই মন্ত্র বিভিন্ন ঋষির কাছে ভিন্ন ভিন্ন ব্যবহার প্রদর্শিত হয়েছে।

৫. যজুর্বেদ’এর সপ্তম অধ্যায়ে ৪৬তম মন্ত্র—

“ব্রাহ্মণমদ্য বিদেয়ং পিতুমন্তং পৈত্র্যমুষি- মার্ষেয়ম্।”

এখানে ঋষি পদ নিয়ে ব্যাখ্যায় উওট লিখেছেন— ঋষিঃ মন্ত্রাণাং ব্যাখ্যাতা। অর্থাৎ ঋষি মন্ত্রের ব্যাখ্যাতা।

৬. বৌধায়ন ধর্মসূত্র ২.৬.৩৬-এ ঋষি পদ পাওয়া যায়। এর ব্যাখ্যায় গোবিন্দ স্বামী লিখেছেন— ঋষিঃ মন্ত্রার্থজ্ঞঃ। অর্থাৎ ঋষি মন্ত্রার্থের জ্ঞানী।

কাশিকার জ্ঞানের সমালোচনা—
সংস্কৃত ভাষা-জ্ঞান: আয়ুর্বেদ ইতিহাস’এর প্রথম ভাগের সমালোচনায় পূণায় কাশিকার জি লিখেছেন যে, वातস্যায়নের উক্তি এটি প্রকাশ করে না যে আয়ুর্বেদ, ইতিহাস, পুরাণ এবং ধর্মশাস্ত্রের রচয়ীতারাই ব্রাহ্মণ গ্রন্থের প্রবর্তক ছিলেন।

এই প্রবন্ধ থেকে বোঝা যায়, অসত্য ইউরোপীয় পক্ষের পক্ষপাত এবং হঠের কারণে কাশিকার জি এমন একটি ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়েছেন, যা ন্যায়শাস্ত্রের শিক্ষিতরাও স্বপ্নেও জানতেন না। ন্যায়শাস্ত্রের এই উক্তির প্রাসঙ্গিক অর্থ কোনো শিক্ষিত ব্যক্তি থেকে পড়ে বোঝা যায়। ইউরোপীয় কল্পিত-পক্ষের গবেষকরা এটি কেবল উপহাসের বিষয়।

৭. ভৃগু-প্রোক্ত মনুস্মৃতি’র প্রথম অধ্যায়ের প্রথম শ্লোকান্তর্গত ‘মহর্ষয়ঃ’ পদে মেধা-তিথি লিখেছেন—

“শ্রঋষিবন্দঃ। তদধ্যয়ন-বিজ্ঞান-তদর্থানুষ্ঠানাতিশয়যোগাত পুরুষে অপিউষিশব্দঃ।”

অর্থাৎ বেদের অধ্যয়ন, বিজ্ঞান, অর্থানুষ্ঠান ইত্যাদির কারণে ‘পুরুষ’ ও ক্ষেত্রে ঋষি শব্দ ব্যবহার হয়।

এভাবে অনেক প্রমাণ থেকে জানা যায়, মন্ত্রার্থদর্শক ঋষির জন্যও ‘ঋষি’ শব্দের ব্যবহার প্রাচীন সাহিত্যেই চলিত হয়েছে।

মন্ত্র থেকে নেওয়া বহু ঋষির নাম
আমরা পৃঃ ২৬৬-এ লিখেছি, বিশ্বরথ নামের রাজা তীব্র তপস্যা করেছিলেন। এই তপস্যার প্রভাবে তিনি ঋষি হন। ঋষি হওয়ার পর তার নাম হয়ে যায় বিশ্বামিত্র। এটি নির্দেশ করে যে ঋষি হওয়ার পর অনেকেই নিজেদের নাম পরিবর্তন করে বেদের কোনো শব্দ নিজের নামে ব্যবহার করেছেন। শিবসংকল্প ঋষিও যজুঃ ৩৪.১ থেকে শিবসংকল্প শব্দ নিয়ে নাম নিয়েছেন।

এই বিষয়ের সুন্দর বিশ্লেষণ করেছেন পরলোকগত মিত্রবর শ্রী শিবশঙ্কর জী কাব্যতীর্থ তাদের বৈদিক ইতিহাসে।

সূত্র: বুলেটিন অব দ্য ভাণ্ডারকর অরিয়েন্টাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ১৯৫৪।

সার্থ নির্নয় পৃঃ ২৪–২৯ পর্যন্ত এ বলা হয়েছে। ঐতরেয়ারণ্যক-এর প্রমাণের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে যে, বিশ্বামিত্র, গৃত্সমদ প্রভৃতি নাম প্রাণবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। একইভাবে, ওমদেব, অত্রি এবং ভারত্বাজ নামও সাধারণ অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে।

শতপয় ব্রাহ্মণ-এর প্রমাণ অনুযায়ী, বাসিষ্ঠ প্রভৃতি নাম ইন্দ্রিয়দের নির্দেশ করে। ঋগ্বেদ ১০.১৫১-এর বালে শ্রদ্ধাসূক্ত-এর ঋষিকা হলো শ্রদ্ধা কামায়নী। এই কন্যা নিশ্চয়ই তার নাম পরিবর্তন করেছে। এই ধরনের বহু প্রমাণ সংক্ষেপে উক্ত গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে। বিচক্ষণ পাঠক সেই সূত্র থেকে এগুলো অধ্যয়ন করবেন। ইতিহাসবিজ্ঞানের ভিত্তিতে, যারা বেদপাঠ করেন, তাদের হৃদয়ে স্বতঃসিদ্ধভাবে প্রকাশ পাবে যে, বেদ মন্ত্রের আশ্রয়ে বহু ব্যক্তি বহু নাম নিয়েছেন বা পরিবর্তন করেছেন। এজন্যই ভগবান মনু ভৃগু-প্রোক্ত শাস্ত্রে ১.২১-এ বলেছেন—

“সর্বেষাং তু স নামানী কর্মাণী চ পৃথক্ পৃথক্। বেদশব্দেব্য এবাদৌ পৃথক্ সংস্হাশ্চ নির্মমে।”

অর্থাৎ বেদের শব্দ থেকেই আদিতে বহু পদার্থের নাম স্থাপন করা হয়েছে।

আর্য ধর্মের জীবনদাতা ঋষি

আর্য ধর্মের জীবনদাতা এই ঋষিরা ছিলেন। এদের উপদেশ থেকেই আর্য সংস্কৃতি ও সভ্যতার ভিত্তি গড়ে উঠেছে। এই ঋষিদের মান্যতা আর্য সম্রাটগণ তাদের সর্বোচ্চ কর্তব্য মনে করতেন। বিশাল সাম্রাজ্যশালী সম্রাটগণও তাদের কন্যাদের এই ঋষিদের বিবাহে দিতেন এবং এটিকেই গৌরব মনে করতেন। উদাহরণস্বরূপ, জানশ্রুতি তার কন্যা রক্কাকে দিয়েছে, লোপামুদ্রা রাজকন্যা ছিলেন, এবং সুকন্যা সম্রাট শর্যতীর কন্যা ছিলেন।

এই ধরনের বহু উদাহরণ মহাভারত প্রভৃতি গ্রন্থে বিদ্যমান। যখন ঋষিরা আর্য রাজাদের সভায় যেতেন, তখন রাজারা রত্ন, ধন, ধান্য দিয়ে তাদের মান্যতা দিতেন। ঋষিদের চেয়ে আর্য জনদের মধ্যে আর কারো স্থান ছিল না। তাদের কথা প্রমাণস্বরূপ ছিল। তারা সরাসরি ধর্মের ধারক ছিলেন, পরম সত্যবাদী এবং সত্যনিষ্ঠ। তাদের রচিত ধর্মসূত্রগুলোতে নানা প্রক্ষেপ থাকলেও প্রাচীন আর্য ধর্মের একটি উজ্জ্বল রূপ প্রতীয়মান।

বর্তমান দুঃখগ্রস্ত পৃথিবীর জন্য এটি শান্তির একটি মহান উৎস হতে পারে। ধর্ম ও অ-ধর্মের ন্যায্য সিদ্ধান্ত কেবল এই ঋষিদের বাক্য দ্বারা সম্ভব। যাদব কৃষ্ণ সদৃশ তেজস্বী যোগীরা এই ঋষিদের কতটা শ্রদ্ধা করতেন, তা মহাভারত-এ দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, যখন ভগবান মধুসূদন দূতকার্যের জন্য যুধিষ্ঠীরের সঙ্গে বিদায় নেন, পথে ঋষিদের সাথে সাক্ষাৎ হয়। তাঁরা বলেন “হে কেশব, সভায় তোমার বক্তব্য শোনার জন্য আসব।”

এরপর শ্রীকৃষ্ণ হস্তিনাপুরে পৌঁছান। রাতে বিদুরের গৃহে অবস্থান করেন। প্রাতঃকালে সমস্ত কার্যক্রম থেকে অবকাশ নিয়ে রাজ-সভায় প্রবেশ করেন। সাত্যকী তাদের সঙ্গে ছিলেন। সেই সভায়, রাজাদের মধ্যে অবস্থানরত দাশার্হ আকাশস্থ ঋষিদের দেখেন। তখন, বাসুদেব শন্তনুর পুত্র ভীষ্মজীকে ধীরে ধীরে বললেন—

পাঠিভী সমিতি দর্শন করুক ঋষিসমূহ, রাজা।

নিমন্ত্রণ করা হোক, আসন ও সম্মানসহ শ্রদ্ধা প্রদর্শন কর।
যাদের কাছে বসা যায় না, তাদের উদ্দেশ্যবিহীনভাবে বসানো সম্ভব নয়।

(উদ্যোগপর্ব, অধ্যায় ৬৪, শ্লোক ৫৪–৫৫)

১. ৪.১.১০৪ সূত্রে মহাভাষ্য অনুসারে বলা হয়েছে, বিশ্বামিত্র তপস্যা করলেন, “আমি অনুধি না হই।” তিনি ঋষি হলেন। পুনরায় তপস্যা করলেন, “আমি অষি-এর পুত্র না হই।” তখন গাধি ঋষি হলেন। তিনি পুনরায় তপস্যা করলেন, “আমি অনুষি-এর নাতি না হই।” তখন কুশিক ঋষি হলেন। পিতা এবং পিতামহের পরে ঋষি হলেন।

২. এই বচন সম্পর্কে প্রভাতচন্দ্রের বক্তব্যের সংক্ষিপ্ত উল্লেখ পূর্ব পৃঃ ৫০, ২৬-এ দেখুন। অর্থাৎ—
“হে রাজা! পৃথিবীতে অনুষ্ঠিত এই সভা দেখার জন্য ঋষিগণ পর্বত থেকে এখানে অবতীর্ণ হয়েছেন। তাদের বহুবিধ সম্মান ও আসন দিয়ে আদর কর। যতক্ষণ তারা বসেনি, অন্য কেউ বসতে পারবে না। ঋষিদের পূজা সম্পন্ন হলে তারা বসলেন।”

তাদের উপবিষ্ট হলে ভারত গ্রহন করল।
নিষসাদাসনে কৃশ্ণও রাজাসহ যথাসম্মান নিজের আসনে বসলেন।

অর্থাৎ ঋষিদের বসার পর কৃশ্ণজী তাদের আসনে অধিষ্ঠিত হলেন, এবং অন্যান্য রাজারা নিজেদের আসনে বসলেন।

নিজের জ্ঞানদাতাদের, ধর্মসংরক্ষকদের, ধর্মপ্রচারকদের এবং দ্যিভ জ্ঞানসঞ্চয়কারীদের প্রতি কত শ্রদ্ধা রয়েছে। এই ভূমিতে অন্য কোন জাতি কি এমন দৃশ্য স্থাপন করেছে? কোথায় বড় বড় সম্রাটগণ এমন ধনহীন ব্যক্তিদের সামনে নত হয়েছেন? সত্যিই আর্য সংস্কৃতি মহান এবং অনন্য। এই শ্রদ্ধাতেই এই সংস্কৃতির জীবন এবং প্রাণ নিহিত ছিল।

বেদের সমার্থক ঋষি শব্দ

অনেক প্রাচীন ভাষ্যকার বহু প্রসঙ্গে ঋষি শব্দকে বেদের সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এই প্রবণতা কখন থেকে শুরু হয়েছে, তা ইতিহাসগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, সেজন্য নিচে প্রদর্শন করা হলো—

১. ভোজরাজ কৃত উণাদিসূত্র ২.১.১৫৬-এর ব্যাখ্যায় দণ্ডনাথ নারায়ণ লিখেছেন—
“ঋষিঃ বেদঃ।” অর্থাৎ ঋষি বেদকে বোঝায়।

২. হদত্তমিশ্র পাণিনীয় সূত্র ১.১.১৮-এর পদমঞ্জরী ব্যাখ্যায় লিখেছেন—
“ঋষি-বন্দঃ। তদুক্তমৃষিণা ইত্যাদৌ দর্শন।”

অর্থাৎ— ব্রাহ্মণ গ্রন্থের তদুক্তমুষিণ পাঠের অনুরোধে ঋষি শব্দের অর্থ বেদ।

৩. বৈজয়ন্তিকোষে যাদবপ্রকাশ লিখেছেন— “ঋষি-ত্বেবে-বে।” অর্থাৎ ঋষি শব্দ বেদের অর্থে ব্যবহৃত হয়।

৪. মনু ভাধ্যকার মেধাতিথির “ঋষিঃ বেদঃ” প্রমাণ পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

৫. অষ্টম শতাব্দীর আগে শাশ্বত কোষ শ্লোক ৭১৬-এ লেখা— “বিবেণ দে।” এইসব প্রমাণ থেকে বোঝা যায়, সপ্তম শতাব্দী পর্যন্ত ঋষি শব্দের বেদ অর্থ সুপরিচিত ছিল। কতকাল আগে এই অর্থ প্রচলিত হয়েছে, তা বিবেচনা করার বিষয়।

বেদ এবং ঋষিদের বিষয়ে তৎগত বুদ্ধের সম্মতি

শান্তরক্ষিত তাঁর তত্ত্বসংগ্রহে লিখেছেন—
“যয়োক্তং ভগবতা ইত্যেতে আনন্দ পौरাণ মহর্ষয়ো বেদানং কর্তাগে মন্ত্রাণাং প্রবর্তয়িতারঃ।” (১০ ১৪)

অর্থাৎ— “ভগবান বুদ্ধ বলেছেন— হে আনন্দ! এরা প্রাচীন মহর্ষি ছিলেন, যারা বেদ রচনা করেছেন এবং মন্ত্র প্রচলন করেছেন।”

মন্ত্র প্রচলনের মাধ্যমে বুদ্ধের উদ্দেশ্য কী, তা বিবেচ্য। বুদ্ধের কৃতবেদদের দ্বারা বোধহয় সেই শাখার প্রবক্তাদের বোঝানো হয়েছে। বুদ্ধ যদি বেদের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা দেখাতেন, তাও তাঁর অনুচরদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।

মজ্জিমনিকায় ২.৫.৫-এ বুদ্ধ বলেছেন— ব্রাহ্মণদের পূর্বপুরুষ ঋষি: অট্টক, যামক…

পুনরায় মজ্জিমনিকায় ২.৫.৬-এ বুদ্ধ বিহারের ধাওস্তী উল্লেখ করেন। শ্রাবস্তীর জেত-বনে বুদ্ধ বলেন—
“মাণব, যে তারা বেদের রচয়িতা, মন্ত্রের প্রবক্তা এবং ব্রাহ্মণদের পূর্বপুরুষ ঋষি ছিলেন, যাদের গীতি, সঙ্গীত এবং প্রাচীন মন্ত্র আজও ব্রাহ্মণরা সেই অনুযায়ী পাঠ করে।”

(সেখানে পূর্বপুরুষ ঋষি যেমন— অট্টক-অষ্টক, বামক-বামদেব, বিশ্বামিত্র, জামদাগ্নি, অঙ্গিরা, ভারদ্বাজ, বাসিষ্ঠ, কাশ্যপ, ভৃগু)।

এই বচনে “বামক” সম্ভবত বামদেবকে বোঝায় এবং বাকী আট ঋষি প্রযোজ্য। পালি ভাষায় তারা “অট্টক” নামে পরিচিত। মজ্জিমনিকায় এই বচন থেকে বোঝা যায় যে শান্তরক্ষিতের পাঠে “প্রবর্তয়িতারঃ” এর স্থলে “প্রবক্তারঃ” পাঠ থাকা উচিত।

তত্ত্বার্য শ্লোকবার্তিকের রচয়িতা বিদ্যানন্দ স্বামী সূত্র ১.২০-এর ব্যাখ্যায় লিখেছেন—

“তত্কারণং হি কাণাদাঃ স্মরন্তি চতুরাননম্। জৈনাঃ কালাসুরং বৌদ্ধাঃ স্বষ্টকাত্সকালাঃ সদা।” (৩৬)

অর্থাৎ— বৈশেষিক দর্শনের ব্রহ্মা থেকে বেদ উৎপত্তি মানা হয়, জৈনরা কালাসুর থেকে এবং সকল বৌদ্ধ সম্প্রদায় স্বষ্টক থেকে বেদ উৎপত্তি মানে।

জৈনরা কিভাবে কালাসুর থেকে বেদ উৎপত্তি মানে, তা জৈন ইতিহাসেই লেখা আছে। বিদ্যানন্দ স্বামী এখানে বৌদ্ধদের যে মতটি উল্লেখ করেছেন, তার মূল পূর্বে প্রদর্শিত মজ্জিমনিকায় প্রমাণে পাওয়া যায়। “স্বষ্টক” পদটি সু-অট্টক থেকে উদ্ভূত।

বেদ অনাদি কাল থেকে প্রচলিত। যখনই বেদের ক্ষয় হয় বা প্রচার কম হয়, তখনই ঋষিরা সেই বেদ প্রচার করেন, অর্থ প্রকাশ করেন। প্রাচীন বৈদিক ঋষিদের সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঋষি কাল কতদূর পর্যন্ত চলল

সাধারণভাবে বলতে গেলে ঋষি কাল কখনো শেষ হয়নি। তপস্যা, যোগ, জ্ঞান বা বেদাভ্যাস দ্বারা যে কেউ ঋষি হতে পারে, তবে এটি অসাধারণ ঘটনা। বর্তমানে বেদমন্ত্র বা মন্ত্রার্থের দর্শন কেবল বিরল ব্যক্তির ভাগ্য হয়। অতীত যুগে যেমন শত শত ঋষির সংখ্যা দেখা গেছে, তা ভারত যুদ্ধের কিছু সময়ের আগ পর্যন্ত দেখা যায়। এটি বায়ু ইত্যাদি পুরাণে উল্লেখ আছে।

যুধিষ্ঠিরের পর, পরিবৃত্ত হস্তিনাপুরের রাজগদী গ্রহণ করেন। পরিবৃত্তের পুত্র জন্মেজয় এবং জন্মেজয়ের পুত্র শাতানীক। শাতানীকের পুত্র ছিলেন অশ্বমেধদত্ত।

বায়ুপুরাণ ৬৬ অধ্যায়ে অশ্বমেধদত্তের পুত্র সম্পর্কে লেখা আছে—

“পুত্রোঃ অশ্বমেধদলাইজাতঃ পরপুরঞ্জয়ঃ” (২৫৭)
“অধিসোমকৃষ্ণো ধর্মাত্মা সাংপ্রতোয়ঁ মহাযশাঃ। যস্মিন প্রচাসতি মহীং ইউষ্মাভিরিদমাহৃতম্। দুরাপং দীর্ঘসত্রং শ্রীণি বর্ষাণি বুশ্চরম্। বর্শদ্বয়ং কুরুক্ষেত্রে বৃষদ্বত্যা দ্বিজোত্তমাঃ।” (২৫৬–২৫৮)

অর্থাৎ— অশ্বমেধদত্তের পুত্র ছিল অধিসোমকৃষ্ণ। তার রাজ্যে ঋষিরা দীর্ঘ সত্র সম্পন্ন করেছিলেন।

এই প্রসঙ্গে বায়ুপুরাণের প্রারম্ভে লেখা আছে—

শাতানীক সম্ভবত কোনো অশ্বমেধ যজ্ঞ করেছিলেন। এর পর এই পুত্রের জন্ম হয়, এ কারণেই তার এমন নামকরণ করা হয়েছে।

অসোমকৃষ্ণের রাজ্যে ঋষিরা কুরুক্ষেত্রে দৃষদ্বতীর তটে দীর্ঘ সত্র সম্পন্ন করেছিলেন—

“অসোমকৃষ্ণে বিক্রান্তে রাজন্যে অনুপমত্ভিষি। প্রশাসতীমাং ধর্মেণ ভূমি ভূমিসত্তমে।” (১২)
“ঋষযঃ সংশিতাত্মানঃ সত্যব্রতপরায়ণাঃ। ঋজবো নষ্টরজঃ শান্তা দান্তা জিতেন্দ্রিয়াঃ।” (১৩)
“ধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে দীর্ঘসত্র তু ঈজিগরে। নদ্যাস্তীরে বৃষদ্বত্যাঃ পুণ্যায়াঃ শুচিরোধসঃ।” (১৪)

অর্থাৎ— অসোমকৃষ্ণের রাজ্যে ঋষিরা কুরুক্ষেত্রে দৃষদ্বতীর তটে একটি দীর্ঘসত্র সম্পন্ন করেছিলেন।

যুধিষ্ঠিরের রাজত্যাগের সময় কালিয়ুগ শুরু হয়। এরপর বংশক্রম অনুযায়ী—

  • পরিবৃত্তের রাজ্যকাল: ৬০ বছর

  • জন্মেজয়: ৮৪ বছর

  • শাতানীক ও অশ্বমেধদত্ত: ৮২ বছর

মোট প্রায় ২২৬ বছর। অসোমকৃষ্ণ এদের পরবর্তী রাজা, যারও রাজ্যকাল দীর্ঘ ছিল। অনুমান অনুযায়ী, তার রাজ্যের ১৫তম বছরে হয়তো দীর্ঘসত্র শুরু হয়। অর্থাৎ কালি সংবত ২৪০-এ এই দীর্ঘযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হচ্ছিল, যেখানে ঋষিরা উপস্থিত ছিলেন। এই যজ্ঞের ২০০ বছর পরও কিছু ঋষি ছিলেন, কারণ এই যজ্ঞের পরে প্রাচীন গ্রন্থে তাদের উপস্থিতির আর কোনও উল্লেখ নেই। ফলে বলা যায়, কালি সংবত প্রায় ৪৪০–৪৫০ পর্যন্ত ঋষিরা সক্রিয় ছিলেন।

গৌতম বুদ্ধের সময় ভারতভূমিতে কোনো ঋষি ছিল না। বৌদ্ধ সাহিত্যেও এমন কোনো প্রমাণ নেই যা দেখায় যে বুদ্ধের সময় ঋষি উপস্থিত ছিলেন। বুদ্ধের সময়ের অনেক আগে থেকেই আধ্যাত্মিক ও আচার্য যুগ শুরু হয়ে গিয়েছিল। বুদ্ধ নিজে তার সময়ের ব্রাহ্মণদের বলেন, তাদের পূর্বপুরুষরা ঋষি ছিলেন—অর্থাৎ তার সময়ে নতুন ঋষি ছিলেন না।

আর্ষ সাহিত্যকাল

যখন ঋষিদের সময়সীমা প্রায় চিহ্নিত হয়ে গেছে, তখন বলা যায় যে সমস্ত আর্ষ সাহিত্য কালি সংবত ৪৫০-এর আগে রচিত। এতে অন্তর্ভুক্ত—

  • ধর্মশাস্ত্র: মনু, বৌধায়ন, আপস্তম্ভ

  • আয়ুর্বেদ: চরক, সুশ্রুত, হরিত, জাটুকণ

  • অর্থশাস্ত্র: ভ্রদ্বাজ, পিশুন, উশনা, বৃশপতি

  • নিরুক্ত: শাকপূণি, ঔর্ণব, ঔপমান্যব

  • দর্শন: বেদান্ত, মীমাংসা, কপিল

  • ব্রাহ্মণ গ্রন্থ এবং অন্যান্য সহস্রাধিক আর্ষ শাস্ত্র

যে বিদেশী গ্রন্থকারেরা এই সাহিত্যকে খ্রিস্টপূর্বের মাত্র এক বা দেড় সহস্র বছর পূর্ববর্তী বা খ্রিস্টাব্দের করে দেখিয়েছেন, তারা পক্ষপাতিত্বের কারণে আর্ষ সাহিত্যকে গুরুতর অবমাননা করেছেন।

এই অন্যায় ও বিভ্রান্তি দূর করার জন্যই এই ইতিহাস লিখার প্রয়োজন অনুভূত হয়েছে। যত তথ্য আমরা পাচ্ছি, তা আমাদের দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করাচ্ছে যে ভারত-যুদ্ধ যুগ এবং আর্ষ যুগের নির্ণয় প্রাচীন সাহিত্যকের সময়কাল নির্ধারণ করবে। গ্রন্থের অন্যান্য অংশ থেকে এই বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে।

मूल लेखक द्वारा रचित तथा सम्पादित पुस्तकें

१. ऋग्वेद पर व्याख्यान

२. बार्हस्पत्य सूत्र की भूमिका

३. वैदिक कोष की भूमिका

४. वैदिक वाङ्मय का इतिहास

प्रथम भाग वेदों की शाखाएं

द्वितीय भाग- ब्राह्मण और आरण्यक

तृतीय भाग- वेदों के भाष्यकार

५. भारतवर्ष का बृहद् इतिहास - प्रथम भाग

६. भारतवर्ष का बृहद् इतिहास - द्वितीय भाग

७. भारतवर्ष का इतिहास- गुप्त साम्राज्य के अन्त तक

८. भाषा का इतिहास

e. Western Indologists

१०. वेद-विद्या-निदर्शन

११. Story of Creation as seen by Seers

सम्पादित

१. वाल्मीकीय रामायण (पश्चिमोत्तर पाठ) बाल काण्ड तथा अरण्य काण्ड का कुछ भाग

२. आथर्वण ज्योतिष

३. माण्डूकी शिक्षा

४. अथर्ववेद पञ्चपटलिका

५. उद्‌गीथाचार्य कृत ऋग्वेद भाष्य, दशम मण्डल का कुछ भाग

६. ऋषि दयानन्द सरस्वती का स्वरचित जन्म चरित

७. ऋग्-मन्त्र व्याख्या

८. ऋषि दयानन्द सरस्वती के पत्र और विज्ञापन

१. गुरुदत्त लेखावली- भाषा-अनुवाद


सम्पादक द्वारा लिखित तथा सम्पादित पुस्तकें

१. Sakas in India

२. Irrigation in India

३. प्राचीन भारत में सिचाई

४. वैदिक वाङ्मय का इतिहास - ब्राह्मण तथा आरण्यक ग्रन्थ

नोट: उपलब्ध पुस्तकें प्रणव प्रकाशन से प्राप्य हैं।

Read More

29 July, 2024

क्या भगवान राम मांस खाते थे ?

29 July 0

क्या भगवान राम मांस खाते थे ?

आपने देखा होगा कि कुछ लोग रामायण में मांसाहार का दोष लगाते हैं और यह कहते हैं कि आर्य लोग मांस भक्षण करते थे, भगवान् राम तो मांसाहारी थे। आज हम इस लेख में इसी मत की समीक्षा करेंगे और जानेंगे कि ऐसे आरोप लगाने वाले लोगों को संस्कृत व रामायण का ज्ञान कितना है।


प्रथम आक्षेप-

जब भगवान् राम वनगमन की सूचना कौशल्या जी को दे रहे होते हैं तो वे कौशल्या जी से इस प्रकार कहते हैं-

क्या भगवान राम मांस खाते थे ?
वा. रा. अयो.  का.स. २०
इसके अनुवादक द्वारकाप्रसाद शर्मा हैं। अब अनुवादक की शास्त्र ज्ञान शून्यता के कारण पूर्वपक्षी इसपर आक्षेप लगाता है कि राम जी कह रहे हैं कि मैं मांसादि को छोड़ कर कंद मूल आदि का भोजन करूंगा, अर्थात् अर्थापत्ति प्रमाण से यह सिद्ध होता है कि राम जी अयोध्या के राजमहल में मांस भक्षण करते थे।

समीक्षा - यहां संस्कृत में आमिषम् शब्द आया है, जिसका गलत अर्थ कर के रामायण में मांसाहार मान लिया गया है। वस्तुतः आमिषम् का अर्थ मांस भी होता है किंतु मन को प्रिय लगने वाले आदि अर्थ भी होते हैं। देखें आप्टे कोश-

बिना प्रसंग को देखे मांसाहार का अर्थ मानना रामायण के साथ आपकी मनमानी मात्र है। जब भगवान् राम को देवर्षि नारद जी ने बालकांड प्रथम सर्ग में धर्मज्ञ कहा है तो भगवान् राम मांस भक्षण कैसे कर सकते हैं? क्योंकि भगवान् मनु जी कहते हैं-

वर्जयेन्मधु मांसं च

 (मनु० ६/१४)

अर्थात् मधु (शराब) और मांस वर्जित है।

नाकृत्वा प्राणिनां हिंसां मांसं उत्पद्यते क्व चित्।

न च प्राणिवधः स्वर्ग्यस्तस्मान्मांसं विवर्जयेत् ।। 

मनु० ५/४८

प्राणियों की हिंसा किये बिना कभी मांस प्राप्त नहीं होता और जीवों की हत्या करना सुखदायक नहीं है इस कारण मांस नहीं खाना चाहिए ।

समुत्पत्तिं च मांसस्य वधबन्धौ च देहिनाम्।

प्रसमीक्ष्य निवर्तेत सर्वमांसस्य भक्षणात्।।

मनु० ५/४९

मांस के उत्पन्न होने की रीति तथा प्राणियों की हत्या तथा पीड़ा को देखकर सब मांस के भक्षण से बचे रहें।

अब जो यह कहें कि मनुस्मृति में मांस भक्षण के समर्थन में भी श्लोक मिलते हैं, तो थोड़ा संक्षेप में इसकी भी समीक्षा कर देते हैं। मनु जी मनुस्मृति में लिखते हैं-

या वेदबाह्याः स्मृतयो याश्च काश्च कुदृष्टयः।

सर्वास्ता निष्फलाः प्रेत्य तमोनिष्ठा हि ताः स्मृताः।।

(मनु० १२/९५)

जो वेदविरोधी स्मृतियें और जो भी कोई कुत्सित पुरुषों के बनाए हुए ग्रन्थ हैं, वे सब निष्फल हैं। क्योंकि वे इस लोक और परलोक में असत्यान्धकार स्वरूप हैं, जिससे ये संसार को दुःखसागर में डुबाने वाले हैं।

अतः अब हम वेद का प्रमाण उद्धृत करते हैं, तथा यह जानने का प्रयास करते हैं कि वेदों के अनुसार शाकाहार सही है वा मांसाहार। तथा भगवान् मनु ऋषि व आप्त पुरुष होने से वेद विरुद्ध बातें नहीं लिखेंगे अतः जो बात वेद विरुद्ध होगी वह बाद में धूर्तों ने मिलाया है। देखें वेदों के कुछ प्रमाण-

यदि नो गां हंसि यद्यश्वं यदि पूरुषम। तं त्वा सीसेन विध्यामः।। (अथर्व.1.16.4)

अर्थात् तू यदि हमारी गाय, घोड़ा वा मनुष्य को मारेगा, तो हम तुझे सीसे से बेध देंगे।

मा नो हिंसिष्ट द्विपदो मा चतुष्पदः।। (अथर्व.11.2.1)

अर्थात् हमारे मनुष्यों और पशुओं को नष्ट मत कर।

अन्यत्र वेद में देखें-

इमं मा हिंसीद्र्विपाद पशुम्। (यजु.13.47)

अर्थात् इस दो खुर वाले पशु की हिंसा मत करो। 

इमं मा हिंसीरेकशफं पशुम्। (यजु.13.48)

अर्थात् इस एक खुर वाले पशु की हिंसा मत करो। 

यजमानस्य पशुन् पाहि। (यजु.1.1)

यजमान के पशुओं की रक्षा कर।

आप कहेंगे यह बात यजमान वा किसी मनुष्य विशेष के पालतू पशुओं की हो रही है, न कि हर प्राणी की।

इस भ्रम के निवारणार्थ अन्य प्रमाण-

मित्रस्याहं चक्षुषा सर्वाणि भूतानि समीक्षे। (यजु.36.18)

अर्थात् मैं सब प्राणियों को मित्र की भांति देखता हूँ।

मा हिंसीस्तन्वा प्रजाः। (यजु.12.32)

इस शरीर से प्राणियों को मत मार।

मा स्रेधत। (ऋ.7.32.9) अर्थात् हिंसा मत करो।

इन प्रमाणों में वेद ने सर्वत्र अहिंसा का प्रतिपादन किया है, किंतु मांस बिना हिंसा के प्राप्त नहीं होता अतः मांसाहार करना वेद विरुद्ध है।

इस प्रकार रामायण में आमिषम् का अर्थ सुस्वादु भोजन से है, न कि मांसाहार से।

अब हम अपनी बात को और अधिक स्पष्ट करने हेतु रामायण के संस्करणों से भी प्रमाण देना उचित समझते हैं। किंतु इसके लिए सर्वप्रथम हम गीता प्रेस के इस प्रसंग के कुछ पूर्व से कुछ बाद तक के श्लोक देना उचित समझते हैं। देखें वाल्मीकि रामायण गीताप्रेस सर्ग 20-


हम सर्वप्रथम पश्चिमोत्तर संस्करण का प्रमाण देते हैं। अयोध्या काण्ड सर्ग 20 में देखें-



अब बंगाल संस्करण का भी पाठ देखें। अयोध्याकांड सर्ग 17 में यह प्रसंग इस प्रकार चल रहा है-


यहां दक्षिणात्य पाठ (गीता प्रेस) तथा पश्चिमोत्तर पाठ में पाठभेद अवश्य है किंतु भाव समान है। यहां आप पूर्व के श्लोकों तथा पश्चात के श्लोकों की तुलना कर सकते हैं, जिससे स्पष्ट हो जायेगा कि दोनों में प्रसंग व भाव समान है, केवल पाठ भेद मात्र है। यहां गीताप्रेस के श्लोक 29 में देखें-

चतुर्दश हि वर्षाणि वत्स्यामि विजने वने।

मधुमूलफलैर्जीवन्हित्वा मुनिवदामिषम्।।29।।

अब यही पाठ पश्चिमोत्तर व बंगाल संस्करण में यह थोड़ी भिन्नता से इस प्रकार आया है-

सोऽहं वत्स्यामि वर्षाणि वने देवि चतुर्दश।

स्वादूनि हित्वा भोज्यानि फलमूल कृताशनः।।

(पश्चिमोत्तर में यह श्लोक संख्या 20 के उत्तरार्ध और श्लोक संख्या 21 के पूर्वार्ध के रूप में विद्यमान है जबकि बंगाल संस्करण में श्लोक संख्या 21 के रूप में विद्यमान है।)

यहां तो भगवान् राम ने स्पष्ट कहा है कि मैं 14 वर्षों तक घोर निर्जन वन में निवास करते हुए सुस्वादु भोजन को त्याग कर फल मूल का भोजन करूंगा। अतः इन संस्करणों की तुलना से स्पष्ट होता है कि आमिषम् का अर्थ सुस्वादु भोजन से ही है न कि मांसाहार से। इससे भगवान् राम का अयोध्या में मांसाहार करना मानने वाले मूर्ख सिद्ध होते हैं।


द्वितीय आक्षेप

अयोध्या काण्ड सर्ग 24 में भगवान् राम अपनी माता से कहते हैं कि मधु (शराब) मांस त्याग कर महाराज दशरथ की सेवा करना। इसके भी अनुवादक द्वारकाप्रसाद शर्मा हैं। अर्थात् यहां भी अर्थापत्ति से सिद्ध होता है कि कौशल्या जी पहले मांसाहार करती थीं।

समीक्षा - यहां आपने नियताहारा शब्द का गलत अर्थ कर के मांस भक्षण का आक्षेप करना आपकी अज्ञानता मात्र के अतिरिक्त कुछ नहीं है। समाज में एक प्रसिद्ध उक्ति है कि सावन के अंधे को हरा हरा ही दिखाई देता है, यही स्थिति आपकी भी हो चुकी है। जहां कुछ भी दिखे, जबरदस्ती मांसाहार वाला ही अर्थ कर देते हैं। नियताहारा शब्द नियत और आहारा शब्द के संधि से बना है। नियत के कई अर्थ होते हैं किंतु प्रकरण अनुकूल यहां संयमित अर्थ लेना उचित है अतः “नियता नियताहारा भर्तृशुश्रूषणे रता” का अर्थ इस प्रकार होगा-

सावधान होकर संयम से आहार कर के आप पति की सेवा में लगी रहें।

बताइए जरा इसमें मांस वाला अर्थ आपको कहां दिख गया? अतः बुद्धिमान पाठकगण ऐसे अर्थ के अनर्थ करने वाले अनुवादकों को कदापि प्रमाण न मानें तथा अपनी बुद्धि का प्रयोग कर के सत्य का ग्रहण किया करें।

अब इसे संस्करणों से भी देखें, किंतु उसके पहले विषय को समझने हेतु आप पहले इस श्लोक व इसके आस पास के श्लोकों को भी देखें। एतदर्थ अन्य संस्करणों में देखने से पूर्व, विषय को समझने हेतु हम सर्वप्रथम गीता प्रेस का प्रमाण देते हैं-


अब पश्चिमोत्तर संस्करण (अयोध्या काण्ड सर्ग 27) में इस प्रसंग के श्लोकों को देखें-

अब बंगाल संस्करण (अयोध्या काण्ड सर्ग 24) में देखें-


Critical edition (अयोध्या काण्ड सर्ग 21) में देखें-

ऊपर आप देख सकते हैं, विभिन्न संस्करणों में यहां के श्लोक थोड़े पाठभेद के साथ आए हैं, किंतु भाव सबका एक सा है।

पूर्वपक्षी द्वारा जिस श्लोक पर आक्षेप लगाया गया था, वह श्लोक इस प्रकार है-

नियता नियताहारा भर्तृशुश्रूषणे रता।।३०।।

अब यहां पश्चिमोत्तर व बंगाल पाठ में यह श्लोक थोड़ी भिन्नता के साथ इस प्रकार है -

तस्मात् सदैव भर्तुस्त्वं शुश्रूषानिरता गृहे॥१५॥

जबकि critical edition में यह श्लोक नहीं आया है।

दक्षिणात्य पाठ में आए नियताहारा शब्द का भ्रांति निवारण हमने कर दिया, आप अन्य संस्करणों से भी देख सकते हैं। यहां विभिन्न संस्करणों से भी पूर्वपक्ष की बात सत्य सिद्ध नहीं होती।


तृतीय आक्षेप-

वाल्मीकि रामायण अयोध्या काण्ड सर्ग 55 के श्लोक 33 में ऐसा लिखा है कि राम और लक्ष्मण ने अनेक मृगों को खाया। देखें द्वारकाप्रसाद शर्मा का अनुवाद-


समीक्षा - भगवान् राम ने 20वें सर्ग में कहा है कि मैं वनवास काल में सुस्वादु भोजन को त्याग कर केवल फल मूल का सेवन करूंगा (देखने हेतु प्रथम आक्षेप का खंडन देखें)। जो भगवान् राम स्वयं के लिए कहते हैं- “रामो द्विर्नाभिभाषते” (गीता प्रेस अयोध्याकांड सर्ग 18, श्लोक 30, critical edition में भी यही पाठ है) तथा पश्चिमोत्तर पाठ में यहां “रामो ऽसत्यं न भाषते” पाठ है। वे अपने वचन को कैसे तोड़ सकते हैं? अतः यहां साफ पता चलता है कि यह आक्षेप भी निर्मूल तथा मिलावट है।

चतुर्थ आक्षेप-

वाल्मीकि रामायण के 56वें सर्ग में श्लोक 22 से 35 तक पशुबलि भरी पड़ी है। यहां हम द्वारकाप्रसाद शर्मा का अनुवाद दे रहे हैं, देखें-





समीक्षा - इसमें बहुदेवतावाद है, किंतु वेद में तो स्पष्ट कहा है
इन्द्रं॑ मि॒त्रं वरु॑णम॒ग्निमा॑हु॒रथो॑ दि॒व्यः स सु॑प॒र्णो ग॒रुत्मा॑न्।
एकं॒ सद्विप्रा॑ बहु॒धा व॑दन्त्य॒ग्निं य॒मं मा॑त॒रिश्वा॑नमाहुः॥
ऋग्वेद १/१६४/४६
अन्वयः - विप्रा इन्द्रं मित्रं वरुणमग्निमिति बहुधाऽऽहुः। अथो स दिव्यः सुपर्णो गरुत्मानस्तीति बहुधा वदन्ति एकं सद्ब्रह्म अग्निं यमं मातरिश्वानं चाहुः॥
पदार्थः - (इन्द्रम्) परमैश्वर्ययुक्तम् (मित्रम्) मित्रमिव वर्त्तमानम् (वरुणम्) श्रेष्ठम्। (अग्निम्) सर्वव्याप्तं विद्युदादिलक्षणम् (आहुः) कथयन्ति (अथो) (दिव्यः) दिवि भवः (सः) (सुपर्णः) शोभनानि पर्णानि पालनानि यस्य सः (गरुत्मान्) गुर्वात्मा (एकम्) असहायम् (सत्) विद्यमानम् (विप्राः) मेधाविनः (बहुधा) बहुप्रकारैर्नामभिः (वदन्ति) (अग्निम्) सर्वव्याप्तं परमात्मरूपम् (यमम्) नियन्तारम् (मातरिश्वानम्) मातरिश्वा वायुस्तल्लक्षणम् (आहुः) कथयन्ति। अयं मन्त्रो निरुक्ते व्याख्यातः । निरु० ७। १८। ॥
भावार्थः - यथाऽग्न्यादेरिन्द्रादीनि नामानि सन्ति तथैकस्य परमात्मनोऽग्न्यादीनि सहस्रशो नामानि वर्त्तन्ते। यावन्तः परमेश्वरस्य गुणकर्मस्वभावाः सन्ति तावन्त्येवैतस्य नामधेयानि सन्तीति वेद्यम्॥
पदार्थ -
(विप्राः) बुद्धिमान् जन (इन्द्रम्) परमैश्वर्ययुक्त (मित्रम्) मित्रवत् वर्त्तमान (वरुणम्) श्रेष्ठ (अग्निम्) सर्वव्याप्त विद्युदादि लक्षणयुक्त अग्नि को (बहुधा) बहुत प्रकारों से बहुत नामों से (आहुः) कहते हैं। (अथो) इसके अनन्तर (सः) वह (दिव्यः) प्रकाश में प्रसिद्ध प्रकाशमय (सुपर्णः) सुन्दर जिसके पालना आदि कर्म (गरुमान्) महान् आत्मावाला है इत्यादि बहुत प्रकारों बहुत नामों से (वदन्ति) कहते हैं तथा वे अन्य विद्वान् (एकम्) एक (सत्) विद्यमान परब्रह्म परमेश्वर को (अग्निम्) सर्वव्याप्त परमात्मारूप (यमम्) सर्वनियन्ता और (मातरिश्वानम्) वायु लक्षण लक्षित भी (आहुः) कहते हैं॥
भावार्थ - जैसे अग्न्यादि पदार्थों के इन्द्र आदि नाम हैं वैसे एक परमात्मा के अग्नि आदि सहस्रों नाम वर्त्तमान हैं। जितने परमेश्वर के गुण, कर्म, स्वभाव हैं उतने ही इस परमात्मा के नाम हैं, यह जानना चाहिये॥
(संस्कृत भाष्य - महर्षि दयानन्द जी सरस्वती तथा हिन्दी भाष्य उनके भाष्य का पंडितों द्वारा अनुवाद)
अब कुछ लोग कहेंगे कि हम ऋषि दयानंद का भाष्य क्यों मानें, उन लोगों के लिए हम महर्षि यास्क का भाष्य देते हैं -
निरुक्त अध्याय ७, खण्ड १८
इसी प्रकार कैवल्योपनिषद् [खण्ड १, मंत्र ८] में भी कहा है-
स ब्रह्मा स विष्णुः स रुद्रस्स शिवस्सोऽक्षरस्स परमः स्वराट् ।
स इन्द्रस्स कालाग्निस्स चन्द्रमाः॥
श्री राम जी वेद वेदांगों के तत्त्वज्ञ थे-

रक्षिता स्वस्य धर्मस्य स्वजनस्य च रक्षिता ।

वेदवेदाङ्गतत्त्वज्ञो धनुर्वेदे च निष्ठितः ।।

(बाल काण्ड प्रथम सर्ग श्लोक 14)

अब यहां अयोध्या काण्ड सर्ग 56 का श्लोक 31 देखें, यहां विष्णु और रूद्र दो अलग अलग देवों को बलि देने की बात आई है। यहां बहुदेवतावाद होने से यह प्रसंग संदेहास्पद लगता है। अब यहां बलि देने की भी बात आई है, किंतु वेदों में जीवों के ऊपर हिंसा करने वाले को दंड देने को कहा है अतः सिद्ध है कि वेदों में पशु बलि आदि नहीं है। 

यहां देखिए, इस प्रमाण से स्पष्ट पता चलता है कि पशुबलि आदि वेदों में नहीं है किन्तु यह धूर्तों ने चलाया है-

इज्यायशश्रुतिकृतैयों मार्गैरबुधोऽधमः।

हन्याजन्तून् मांसगृध्नुः स वै नरकभाङ्नरः ॥ ४३ ॥

(महाभारत अनुशासन पर्व अध्याय 115 श्लोक 43)

जो मांसलोभी मूर्ख एवं अधम मनुष्य यज्ञ-याग आदि वैदिक मार्गोंके नामपर प्राणियोंकी हिंसा करता है, वह नरकगामी होता है॥

महाभारत से और प्रमाण भी देखें


भगवान् श्रीराम ऐसा वेद विरुद्ध कार्य कैसे कर सकते हैं अर्थात्  वेदज्ञ भगवान् राम ऐसा वेद विरुद्ध कार्य कभी नहीं कर सकते।

इसके साथ ही भगवान् राम को देवर्षि नारद जी कहते हैं 

प्रजापतिसमश्श्रीमान् धाता रिपुनिषूदनः ।

रक्षिता जीवलोकस्य धर्मस्य परिरक्षिता ।।

(वाल्मीकि रामायण बालकांड प्रथम सर्ग श्लोक 13)

यहां भगवान् राम को “रक्षिता जीवलोकस्य” कहा है यानी सभी जीवों के रक्षा करने वाले इसके साथ ही “धर्मस्य परिरक्षिता” और “प्रजापतिसमश्श्रीमान् धाता” शब्द से भी सिद्ध होता है कि राम जी जीवों की हिंसा नहीं करते थे अपितु बहुत बड़े अहिंसक थे। राक्षसों को दंड देना हिंसा नहीं अपितु अहिंसा ही होता है क्योंकि वे लोग अकारण मनुष्यों व अन्य प्राणियों को कष्ट देते रहते थे।

इन सब पर विचार करने से यह स्पष्ट हो जाता है कि यह प्रसंग ही बाद में धूर्तों ने मिलाया है।


पञ्चम आक्षेप -

अयोध्याकांड सर्ग 52 के श्लोक 102 में भी आया है कि भगवान् राम ने मांस खाया, इसपर क्या कहेंगे?

समीक्षा - आप मेध्य शब्द का गलत अर्थ कर के आक्षेप लगाने चले आए। आप्टे कोश को ही देख लेवें, वहां मेध्य सर्वप्रथम मेध्य के धातु व प्रत्यय बताते हैं तत्पश्चात् मेध्य की व्युत्पत्ति करते हुए लिखते हैं “मेधा हितम् यत् वा” इसका भाव है कि जिससे (मेधा) बुद्धि का हित हो अर्थात् बुद्धि तीक्ष्ण हो। जो कि फलमूल ही है, यही अर्थ यहां ग्रहण करने योग्य है। क्योंकि राम कभी असत्य भाषण नहीं करते थे, और वन गमन की सूचना माता कौशल्या को देते समय ही भगवान राम उनसे कहते हैं कि मैं वन में केवल फल मूल का भोजन करूंगा, जिसको ऊपर सिद्ध किया गया है। तो आपका यह आक्षेप भी मिथ्या है क्योंकि ऐसा अर्थ लेने से इनमें परस्पर संगति नहीं लग रही है जबकि जो हमने अर्थ किया उसमें ऐसा दोष नहीं आता। 

अब रही बात चार प्रकार के महामृग (शेर) के मारने की, तो उसका भी निवारण कर देते हैं। हमने पिछले लेख “भगवान् राम के शिकारी होने की समीक्षा” में यह सिद्ध किया था कि भगवान् राम कभी शिकार नहीं खेलते थे, तथा यहां भगवान् राम वत्स्यदेश में आ पहुंचे थे, तो वहां रहने वाले लोगों के रक्षार्थ लोगों के निवास स्थान पर घूम रहे सिंहों को मारा, न कि शिकार के उद्देश्य से। तभी उस प्रसंग की इस प्रसंग से संगति लगती है अन्यथा यदि आपकी बात मानी जाए तो आपके पक्ष में इन दोनों प्रसंगों में संगति ही नहीं लगती अतः जो हमने उत्तर दिया यही ग्राह्य है।
अब हम इसको संस्करण से भी देखते हैं-
सर्वप्रथम गीताप्रेस से उस श्लोक तथा उससे पूर्व व बाद के श्लोक देखें-
अब हम पश्चिमोत्तर संस्करण से देखते हैं-



यहां देखिए इस प्रसंग में पश्चिमोत्तर पाठ में बहुत पाठभेद है। गीता प्रेस का 52वें सर्ग का श्लोक 94 का पूर्वार्द्ध तथा श्लोक 95 का उत्तरार्द्ध भाग पश्चिमोत्तर पाठ के सर्ग 56 का श्लोक में आया है, इस प्रकार से पश्चिमोत्तर व गीता प्रेस दोनों संस्करणों में कुछ श्लोक समान हैं, किंतु प्रसंग वही चल रहा है और अगले सर्ग के दोनों के श्लोक भी समान हैं। यहां जिन दो श्लोकों पर पूर्वपक्ष ने आक्षेप लगाया है वे पश्चिमोत्तर पाठ में उपलब्ध ही नहीं हैं।

षष्ठम् आक्षेप -
निषादराज भरत जी को मछली, मांस व शराब का भेंट करते हैं देखें अयोध्याकांड सर्ग 84, श्लोक 10-
इत्युक्त्वोपायनं गृह्य मत्स्यमांसमधूनि च।
अभिचक्राम भरतं निषादाधिपतिर्गुहः।।
समीक्षा - एक शब्द के अनेक अर्थ होते हैं, आपने बिना प्रसंग व प्रकरण जाने जो अर्थ लिया है वह उचित नहीं है, क्योंकि हम ऊपर अनेक प्रमाण दे चुके हैं कि वेद व मनुस्मृति के अनुसार मधु (शराब) मांस का सेवन वर्जित है। अतः यहां मत्स्य थकावट दूर करने वाली वात युक्त औषधि विशेष है, मांस राजभोग्य वस्तु विशेष है व मधु फलों के रसों को कहा है। यह हमारा स्वयं का मनमाना अर्थ नहीं प्रत्युत् रामायण पर प्रमुख टीकाकारों में एक “शिवसहाय जी” ने अपने रामायण तात्पर्य टीका में यही अर्थ किया है।

सप्तम आक्षेप -
अयोध्याकांड सर्ग 96 में आया है कि राम जी ने सीता जी को मांस खिलाया।

अनुवादक - द्वारका प्रसाद शर्मा
समीक्षा - यहां भी प्रक्षिप्त है, क्योंकि भगवान् राम को “रक्षिता जीवलोकस्य” कहा है, तो वे किसी प्राणी का मांस भक्षण के लिए किसी को कैसे कह सकते हैं। अब हम अपनी बात की पुष्टि के लिए संस्करणों का भी प्रमाण उद्धृत करते हैं।
Critical edition का प्रमाण देखें- 


यहां देखिए critical edition के सर्ग 89 का अंतिम श्लोक द्वारका प्रसाद द्वारा अनुवादित पाठ के सर्ग 95 के अंतिम श्लोक के रूप में आया है, तथा द्वारका प्रसाद द्वारा अनुवादित रामायण के सर्ग 96 का श्लोक 3 व 5 क्रमशः critical edition के सर्ग 90 का श्लोक 1 व 2 के स्थान पर आया है यानि कि जो मांसाहार वाले श्लोक हैं वह अधिकांश पाठों में नहीं मिले हैं, इसीलिए critical edition ने उन्हें प्रक्षिप्त माना है।
अब हम और प्रमाण भी देते हैं। रामायण का यह संस्करण Prof. John Smith द्वारा संशोधित डिजिटल संस्करण है, जिसे उन्होंने Muneo Tokunaga के द्वारा अनुवादित रामायण के आधार पर बनाया था। Muneo Tokunaga ने रामायण के ओरिएंटल इंस्टीट्यूट ऑफ बड़ौदा द्वारा प्रकाशित रामायण के critical edition का अनुवाद किया था। इसके सर्ग 89 व 90 को पहले रोमन लिपि में देखें, जिसे हमने titus.uni-frankfurt.de से उद्धृत किया है-





अब इसको देवनागरी लिपि में देखें जिसे हमने sanskritdocuments.org से उद्धृत किया है -


जो हमने critical edition के लिए तर्क दिया है वही तर्क यहां भी समझ लेवें।

इसी प्रकार रामायण में मांसाहार के विषय में अन्य जो भी आक्षेप हैं, वे भी तर्क व प्रमाणों से मिलावट सिद्ध होते हैं।

सुपर्णखा रावण से बताती है की भगवान राम और लक्ष्मण ब्रह्मचारी है और वे केवल फल और कंदमूल (root vegetables) खाते है ।

  • वाल्मीकि रामायण: अरण्यकांड: सर्ग 19 : श्लोक 15👇

भगवान राम स्वयं बताते है की वो और उनके भाई और माता सीता ब्रह्मचर्य धारण किए हुवे है और वे केवल फल और कंदमूल ही खाते है ।

  • वाल्मीकि रामायण : अरण्यकांड: सर्ग 20 : श्लोक 7-8 👇

  • अब मृग वाले विषय पर बात करते है ।
  • (अरण्यकाण्ड : 43 सर्ग )

आप स्वयं स्वर्ण मृग का व्याख्यान पढ़िए । माता सीता मृग को पालना चाहती थी मन बहलाने के लिए और वनवास के बाद उसे वो अपने राज्य ले जाना चाहती थी ।




सन्दर्भित एवं सहायक ग्रन्थ/लेख/websites-
१. वाल्मीकि रामायण (विभिन्न संस्करण)
२. महाभारत
३. ऋग्वेद भाष्य (महर्षि दयानन्द जी सरस्वती)
४. सत्यार्थ प्रकाश (महर्षि दयानन्द जी सरस्वती)
५. निरुक्त
६. वेदों में मांसाहार का भ्रम (आचार्य अग्निव्रत जी नैष्ठिक)
७. संस्कृत हिन्दी कोश (वामन शिवराम जी आप्टे)
८. sanskritdocuments.org
९. titus.uni-frankfurt.de
१०. valmiki.iitk.ac.in
Read More

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

ঋগ্বেদ ১০/৭১/৩

ঋষি | দেবতা | ছন্দ | স্বর ঋষিঃ —বৃহস্পতিঃ॥  দেবতা —জ্ঞানম্॥  ছন্দঃ —১. ত্রিষ্টুপ্। ২. ভুরিক্ ত্রিষ্টুপ্। ৩, ৭. নিচৃত্ ত্রিষ্টুপ্। ৪. পাদনিচৃ...

Post Top Ad

ধন্যবাদ