ধর্ম্মতত্ত্ব: মূর্তি পূজা

ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান, ধর্ম গ্রন্থ কি , হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়, ইসলাম খ্রীষ্ট মত বিষয়ে তত্ত্ব ও সনাতন ধর্ম নিয়ে আলোচনা

धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते-Theology

সাম্প্রতিক প্রবন্ধ

Post Top Ad

স্বাগতম
Showing posts with label মূর্তি পূজা. Show all posts
Showing posts with label মূর্তি পূজা. Show all posts

30 April, 2026

বীর হনুমান্ আর্য রাজবংশীয় ক্ষত্রিয় ছিলেন

30 April 0

 বীর হনুমান্ আর্য রাজবংশীয় ক্ষত্রিয় ছিলেন

বীর হনুমান্ আর্য রাজবংশীয় ক্ষত্রিয় ছিলেন
বিগত কিছু সহস্রাব্দে ভারতীয় সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে অসম্ভব পৌরাণিক শৈলী, অন্ধবিশ্বাসী জন এবং ভারতীয়তা-বিরোধী লেখকেরা এতটাই বিকৃত এবং পরিবর্তিত করে দিয়েছে যে তাকে তার বাস্তব রূপে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন হয়ে গেছে। বিরোধী লেখকেরা অধিকাংশকে পৌরাণিক এবং কল্পিত ঘোষণা করে তার অস্তিত্বকেই মুছে ফেলার প্রচেষ্টা করেছে। অন্ধবিশ্বাস এবং আস্থার নামে অযৌক্তিক, অসত্য এবং অসম্ভব সব কিছুই গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে এবং যদি তার সত্য রূপ উপস্থাপিত করা হয় তবে সেই লোকদের আস্থা ছুঁই মুইয়ের মতো আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে যায়। আমাদের আইনের এই আচরণও চিন্তনীয় যে অভিব্যক্তির সমান স্বাধীনতা থাকা সত্ত্বেও তাদের ক্ষেত্রে আস্থা ভঙ্গের প্রकरण দ্রুত গ্রহণ করে নেওয়া হয়, অথচ অন্যদিকে মানবীয় প্রগতি এবং সত্যের যে বৌদ্ধিক আস্থা ভঙ্গ হচ্ছে, সেই পক্ষকে উপেক্ষা করা হয়। উপর থেকে রাজনীতি সেই বিকৃতিকে আরও বেশি শক্তি প্রদান করেছে।


একে ভারতীয় গণতান্ত্রিক রাজনীতির বাধ্যতা বলব নাকি বিদ্রূপ, তার চক্রব্যূহে ফেঁসে সব সত্য এবং বাস্তবতা অভিমন্যুর মতো বলিদান হয়ে যায়। সুযোগবাদী রাজনীতিতে সত্যকে গ্রহণ করার না তো ইচ্ছাশক্তি আছে এবং না সাহস আছে। গত কিছু সময় থেকে একটি প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, মহাপুরুষদের বিরাট ব্যক্তিত্বকে সীমিত করার। আর্যদের অনার্য প্রমাণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে, ঋষি-বংশে উৎপন্ন আদিকবি বাল্মীকির মতো ব্রহ্মর্ষির সঙ্গে ডাকাত হওয়ার ঘটনাকে যুক্ত করে তাদের জীবনের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। গত দিনে, একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে। একজন রাজনীতিবিদ রাজবংশে উৎপন্ন আর্য ক্ষত্রিয় মহাপুরুষ বীর হনুমান্‌কে দলিত ঘোষণা করে দিয়েছেন। অন্ধ আস্থাবাদী লোকেরা তাদের ঐতিহাসিক মহাপুরুষদের আরও বেশি অপমান করেছে। বংশনাম এবং প্রতীকার্থ না বুঝে তাদের শ্রদ্ধেয় মহাপুরুষদের মধ্যে কাউকে বানর, কাউকে হাতি, কাউকে বরাহ, কাউকে মাছ, কাউকে অশ্ব পশু বানিয়ে দিয়েছে। ব্যসনী এবং স্বার্থপর, কথিত অনুসারীরা তাদের ব্যসনের পূরণের জন্য তাদের শ্রদ্ধেয় মহাপুরুষদেরই মাংস, মদিরা, ভাঙ, আফিম, গাঁজা ইত্যাদির সেবনকারী এবং অনাচারের প্রবর্তক বানিয়ে দিয়েছে। এভাবে যেখানে আমরা আমাদের মহাপুরুষদের কলঙ্কিত করছি, সেখানে আমাদের ইতিহাস এবং সংস্কৃতিকেও দূষিত করছি। এমন ধারণা থেকে বিশ্বের বৌদ্ধিক জগতে আমরা নিজেদের উপহাসের পাত্র করে তুলছি। একটি বালকও জানে যে কোনো পশু মানুষের সঙ্গে না তো ভাষাগত সংলাপ করতে পারে এবং না বৌদ্ধিক আচরণ। তবুও আমরা আমাদের অন্ধবিশ্বাস ত্যাগ করে সত্যকে গ্রহণ করি না।
মহর্ষি দयानন্দ সরস্বতী উক্ত অন্ধবিশ্বাস এবং বিকৃতির বিরুদ্ধে সত্যকে প্রকাশ করার এবং অসত্যের পরিত্যাগ করানোর সাহস করেছিলেন, তখন তাকে বলিদান হতে হয়েছিল এবং তার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত 'আর্যসমাজ' তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করলে উল্টো তাকে রূঢ়িবাদী সমাজ এবং রাজনীতির সঙ্গে সংগ্রাম সহ্য করতে হচ্ছে। ভুল ধারণা ভারতীয় সংস্কৃতি, সভ্যতা, ইতিহাস, সমাজ এবং দেশের স্বার্থে নয়। বিদেশীদের দ্বারা কল্পিত আর্য-অনার্য, আর্য-দ্রাবিড়, উত্তর-দক্ষিণ ইত্যাদি ধারণাগুলি ভারতের ঐক্য, অখণ্ডতা এবং সমরসতাকে নষ্ট করে ভারতীয় সমাজ এবং দেশের ক্ষতি করেছে। কমপক্ষে, এখন তো আমাদের ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক হওয়া উচিত।


এই প্রবন্ধের উদ্দেশ্য বীর শিরোমণি, শ্রীরাম-ভক্ত হনুমান্ এবং তাদের বানর-সমাজের বাস্তবতাকে উপস্থাপন করা। তার তথ্যের জন্য আমাদের কাছে রামায়ণ-কালের সর্বাধিক নিকট, প্রামাণিক এবং প্রাচীন গ্রন্থ ঋষি বাল্মীকি রচিত 'রামায়ণ' আছে। যদিও তাতেও সময়ে সময়ে প্রক্ষিপ্ত সংযোজন হয়েছে, যার জ্ঞান আমাদের তাতে প্রাপ্ত পরস্পর বিরোধী এবং অসম্ভব বক্তব্য থেকে হয়ে যায়, পুনরপি প্রাপ্ত মূল বক্তব্য বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে দেয়। আসুন, তাদের ভিত্তিতে এবং কিছু অন্যান্য পরবর্তী ঐতিহাসিক বিবরণসমূহ কে সন্দর্ভে প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর চিন্তন করুন।

হনুমান অর্থ কি?

হনুমানের বংশ এবং পরিচয়-

হনুমান্ এবং তার বানর-সমাজ বানর ছিল না। তারা মানব দেহধারী ছিল এবং তাদের আকৃতি, রূপ-রং, শরীর মানুষের সদৃশ ছিল। 'বানর' তাদের বংশের নাম ছিল। ভারতীয়দের বংশাবলীতে আজও ডজনেরও বেশি এমন বংশ নাম, গোত্র-নাম এবং প্রতীক-নাম পাওয়া যায় যা পশু-পাখির নামও বটে, কিন্তু তারা মানুষ। বানর-সমাজ আর্যদের সমাজের অন্তর্গত ছিল। তার অধিকাংশ সংস্কৃতি সভ্যতা, শিক্ষা-দীক্ষা, ব্যবস্থা, পরম্পরা, বংশাবলি ইত্যাদি আর্যদের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। বানর-সমাজে বর্ণাশ্রম ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল।


সংস্কৃতের ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ আছে যে 'বানর' বংশের মূল উৎপত্তি ঋষি পুলহ এবং তার স্ত্রী হরিভদ্রা থেকে হয়েছিল। মাতার নামের ভিত্তিতে বানর বংশকে 'হরি বংশ' এবং 'হরি গণ'ও বলা হয়। পরে বানর বংশের বহু উপবংশীয় শাখা হয়ে যায় যা সমগ্র ভারতে বিস্তৃত ছিল। একমাত্র কিষ্কিন্ধা রাজ্যে এদের এগারোটি শাখার বানর জন বাস করত। তারা ছিল বানর, ঋক্ষ, সিংহ, ব্যাঘ্র, শরভ, দ্বীপী, নীল, শল্যক, মার্জার, লোহাস, মায়াব। বন অঞ্চলে বসবাস করা এবং বনজাত পদার্থ দিয়ে নিজের জীবিকা নির্বাহ করার কারণে এদের 'বানর' বলা হয়। বানরের পর্যায় নাম 'বনৌকস্'ও রামায়ণে ব্যবহৃত হয়েছে। যার অর্থ হলো-'বনে বসবাসকারী জন', যেমন আর্যদের মধ্যে তৃতীয় আশ্রম গ্রহণ করে বনে বসবাসকারীকে 'বানপ্রস্থ' এবং 'বনস্থ' বলা হয়। কিছু অন্যান্য নামের দ্বারা এই প্রসঙ্গ বোঝা যেতে পারে, যেমন-পাহাড়ের অঞ্চলে বসবাসকারীদের 'পাহাড়ি', সরস্বতী নদীর অঞ্চলে বসবাসকারীদের 'সারস্বত', পাঁচ নদীর প্রদেশ পাঞ্জাবের অধিবাসীদের 'পাঞ্জাবি' বলা হয়। সিন্ধ, সিন্ধী (হিন্দ, হিন্দি) নামও সিন্ধু নদীর অঞ্চলে বসবাসের ভিত্তিতে প্রচলিত হয়েছে।

হনুমানের পিতার নাম কেশরী ছিল। তিনি সুমেরু পর্বতের কোনো অংশের রাজা ছিলেন। তিনি সুগ্রীবের নিমন্ত্রণে রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শ্রীরামের সাহায্যের জন্য এক হাজার যোদ্ধা নিয়ে এসেছিলেন এবং যুদ্ধ করেছিলেন। হনুমানের মাতার নাম অঞ্জনা ছিল। তিনি বানর-বংশের রাজা কুঞ্জরের কন্যা ছিলেন। হনুমানের পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের উল্লেখ রামায়ণে পাওয়া যায় না, কিন্তু একটি স্থানে হনুমান্‌কে রাজা কেশরীর জ্যেষ্ঠ পুত্র বলা হয়েছে (জ্যেষ্ঠঃ কেশরিণঃ পুত্রঃ... হনূমানিতি, ৬.৩৮.১০)। এর থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে হনুমানের অন্যান্য ভাইও ছিল। পুরাণোক্ত বংশাবলীতে প্রাপ্ত বিবরণ থেকে জানা যায় যে হনুমানের এই চার ভাই ছিল- শ্রুতিমান্, কেতুমান্, মতিমান্ এবং ধৃতিমান্। হনুমানের নিজের কোনো পরিবার ছিল না কারণ তিনি আজীবন ব্রহ্মচারী ছিলেন। সংস্কৃত সাহিত্যে তাকে 'ব্রহ্মচারী', 'ঊর্ধ্বরেতা', 'জিতেন্দ্রিয়' বলে প্রশংসা করা হয়েছে। হনুমান্‌ বহু গুণে সমৃদ্ধ ছিলেন। বুদ্ধিমত্তা, নীতিমত্তা, শক্তি-সম্পন্নতা, বীরতা, নির্ভীকতা ইত্যাদি গুণের একত্র হওয়া কঠিন। বন্ধুত্বের কারণে তিনি সুগ্রীবের সচিব হয়েছিলেন এবং শ্রদ্ধার কারণে শ্রীরামের সেবক এবং রাজদূত হয়েছিলেন। সুগ্রীব এবং শ্রীরামের সত্যনিষ্ঠ সহযোগী এবং সংকটমোচক হয়েও হনুমান্‌ বিনয়ের প্রতিমূর্তি ছিলেন। ঋষি বাল্মীকি লিখেছেন-

শৌর্য দক্ষ্যং বলং ধৈর্যং প্রাজ্ঞতা নযসাধনম্। 

বিক্রমশ্চ প্রভাবশ্চ হনূমতি কৃতালয়াঃ।। (উত্তরকাণ্ড ৩৫.৩)


'শৌর্য, চাতুর্য, শক্তি, ধৈর্য, পাণ্ডিত্য, নীতিজ্ঞান, পরাক্রম এবং প্রভাবশীলতা, হনুমান্ এই মহান গুণগুলির ভাণ্ডার ছিলেন।' হনুমানের হাব-ভাব, আচরণ, ভাষা দেখে লক্ষ্মণ শ্রীরামের সামনে বিশ্বাস প্রকাশ করেছিলেন- নানৃতং বক্ষ্যতে বীরো হনূমান্ মারুতাত্মজঃ। (কিষ্কিন্ধা ৪.৩২) 'শ্রী রাম! আমি বিশ্বাসের সঙ্গে বলছি যে পবনপুত্র বীর হনুমান্ কখনও মিথ্যা বলতে পারে না।' হনুমান্ 'শুভমতি' ছিলেন (কিষ্কিন্ধা, ৪.৩৫), 'মহানুভাব' ছিলেন (কিষ্কিন্ধা ২.২৯), অপরাজেয় যোদ্ধা ক্ষত্রিয় ছিলেন। সুগ্রীব হনুমান্‌কে 'মনুষ্য' বলেছেন (মনুষ্যেণ বিজ্ঞেয়াঃ, কিষ্কিন্ধা ২.২২), আমাদের মতে এত মানবীয় গুণে সমৃদ্ধ ব্যক্তি মহামানব হয়।

রাষ্ট্র এবং রাজধানী

বানর সম্প্রদায়ের প্রধান রাষ্ট্র কিষ্কিন্ধার আশেপাশের অঞ্চল ছিল। কিষ্কিন্ধাই তার রাজধানীর নাম ছিল। বর্তমান কর্ণাটক প্রদেশে, জেলা 'বেল্লারি'র স্থান 'হাম্পি'র নিকটে, তুঙ্গভদ্রা নদীর তীরে অবস্থিত 'অনাগোন্দি' গ্রামকে প্রাচীন কিষ্কিন্ধা মনে করা হয়। এটি একটি সমৃদ্ধ, উন্নত, ভব্য নগরী ছিল যা পাহাড়গুলির মধ্যে অবস্থিত ছিল। এর শোভা দেখলেই মনে হয়। এর মধ্যভাগে উদ্যান ছিল, ধনীদের সুন্দর ভবন ছিল, রাজ-পরিবারের লোকদের ভব্য প্রাসাদ ছিল। সুগ্রীবের প্রাসাদ সাত ড্যোঢ়ি পার ছিল, যার দ্বারে অস্ত্রধারী বানর জন প্রহরী ছিল। নগরী চারিদিক থেকে যন্ত্র দ্বারা সুরক্ষিত ছিল। পাঠক চিন্তা করুন যে কি এমন নগরী বানরদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এবং শাসিত হতে পারে?


এখানে পৈতৃক পরম্পরায় প্রতিষ্ঠিত বানরবংশীয়দের রাজ্য ছিল। প্রথমে এখানকার রাজা ঋক্ষরাজ ছিল। তার দেহান্তের পরে তার বড় পুত্র বালী রাজা হয়। শ্রীরামের দ্বারা বালীর বধ করা হওয়ার পরে সুগ্রীব রাজা হয়। এর অতিরিক্ত সমগ্র ভারতে মধ্য-মধ্য সময়ে বানর সম্প্রদায়ের মানুষের ছোট-ছোট বহু রাজ্য ছিল। সুগ্রীব দ্বারা ডাকার উপর রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে, শ্রীরামের পক্ষে দুই ডজনের বেশি বানর রাজা উপস্থিত হয়েছিল। রামায়ণে তাদের বিবরণ পাওয়া যায়।


বেদ-বেদাঙ্গ শাস্ত্রের অধ্যয়ন-অধ্যাপন

বাল্মীকীয় রামায়ণে বহু এমন প্রমাণ পাওয়া যায় যেগুলি থেকে এই তথ্য পাওয়া যায় যে বানর সম্প্রদায়ে, আশ্রম পদ্ধতিতে, বেদ বেদাঙ্গ শাস্ত্রের অধ্যয়ন করানো হতো। পুরুষদের মতো নারীরাও শাস্ত্রের অধ্যয়ন করত। এই কারণেই রামায়ণের সব নারী এবং পুরুষ চরিত্র উচ্চ শিক্ষিত। হনুমান্‌কে তো বানর সম্প্রদায়ের সর্বশাস্ত্রজ্ঞদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিদ্বান বলা হয়েছে (বীর বানরলোকস্য সর্বশাস্ত্রবিদাং বর, কিষ্কিন্ধা. ৬৬.২)। তার জন্য কবির দ্বারা ব্যবহৃত বিশেষণ তাকে উচ্চকোটির গম্ভীর বিদ্বান প্রমাণ করে 'বাক্যকোভিদ, বুদ্ধিবিজ্ঞানসম্পন্ন, বাক্যকুশল, বাক্যবিশারদ, সুমহাপ্রাজ্ঞ, নযপণ্ডিত ইত্যাদি।' সীতার অনুসন্ধান করতে করতে, ঋষ্যমূক পর্বতের দিকে আসতে থাকা শ্রীরাম এবং লক্ষ্মণকে দেখে ভীত সুগ্রীব হনুমান্‌কে তাদের পরিচয় জানার জন্য তাদের কাছে পাঠায়। হনুমান্ বানরের বেশ ত্যাগ করে ব্রাহ্মণের বেশ ধারণ করে তাদের কাছে যায়। সেখানে হনুমান যে শুদ্ধ সংস্কৃত ভাষা এবং পরিশীলিত শৈলীতে শ্রীরামের সঙ্গে কথোপকথন করে, তা শুনে লক্ষ্মণ এই শব্দে হনুমানের বিদ্বত্তার প্রশংসা করে-
নানৃগ্বেদবিনীতস্য নাযজুর্বেদধারিণঃ । 

নাসামবেদবিদুষঃ শক্যমেবং বিভাষিতুম্।। 

নূনং ব্যাকরণং কৃত্স্নমনেন বহুধাশ্রুতম্। 

বহু ব্যাহরতানেন ন কিঞ্চিদপশব্দিতম্।। (কিষ্কিন্ধা. ৩.২৮.২৯)
অর্থাৎ 'যে বিধি অনুসারে ঋগ্বেদের অধ্যয়ন করেনি, যে যজুর্বেদের অধ্যয়ন-মনন করেনি, যে সামবেদের বিদ্বান নয়, সে এই প্রকার শুদ্ধ ভাষা এবং উত্তম শৈলীতে কথোপকথন করতে পারে না। নিশ্চয়ই এরা সংস্কৃতের ব্যাকরণ বহুবার অধ্যয়ন করেছে, কারণ অনেক কথোপকথন করার পরও এরা একটি শব্দও অশুদ্ধ বলেনি।।' এমনই প্রশংসামূলক বর্ণনা অন্যত্র বহু স্থানে এসেছে। সেখানে হনুমান্‌কে ব্যাকরণ এবং ছন্দ-শাস্ত্রের বিদ্বান বর্ণনা করা হয়েছে।


হনুমান্ সাহিত্যিক এবং কথ্য সংস্কৃত, উভয়েরই জ্ঞানী ছিলেন। সীতার সন্ধান পাওয়ার পরে তিনি চিন্তা করেন যে সীতার সঙ্গে আমাকে সেই ভাষায় কথা বলা উচিত, যাতে আমার উপর বিশ্বাস করা যায়-
বাচং চোদাহরিষ্যামি মানুষীমিহ সংস্কৃতাম্।। যদি বাচং প্রদাস্যামি দ্বিজাতিরিব সংস্কৃতাম্। রাবণং মন্যমানা মাং সীতা ভীতা ভবিষ্যতি।। (সুন্দর. ৩০.১৭,১৮) অর্থাৎ- 'আমি সীতার সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে বলা হয় এমন সংস্কৃত ভাষায় কথা বলব, কারণ যদি আমি দ্বিজ শ্রেণীর দ্বারা বলা হয় এমন সাহিত্যিক সংস্কৃতে কথা বলি তবে সীতা আমাকে রাবণ মনে করে ভয় পাবে।'


এই প্রসঙ্গ থেকে বহু তথ্য স্পষ্ট হয়- (১) হনুমান বহু ভাষা জানতেন। (২) রাবণ সাহিত্যিক সংস্কৃত ব্যবহার করত। (৩) রামায়ণ কালে কথ্য ভাষা সংস্কৃত ছিল। (৪) বানর সম্প্রদায়ের জনদের মধ্যে সংস্কৃত পড়া এবং বলা হতো। সংস্কৃত আর্য সম্প্রদায়ের ভাষা ছিল।

এইভাবে হনুমান্ শস্ত্র এবং শাস্ত্র উভয়েই প্রবীণ বীর বিদ্বান ছিল।

কিষ্কিন্ধার রাজা বালীও 'মহাবলী' এবং 'মহাপ্রাজ্ঞ' ছিল। সেও বেদ শাস্ত্রের অধ্যয়ন করেছিল। একদিন নির্জনে ঘুরতে থাকা বালীকে দেখে রাবণ ছলপূর্বক তার উপর আক্রমণ করতে চেয়েছিল। বালীও তার ছল বুঝে ফেলেছিল। সেও বিভ্রান্ত করার জন্য মন্ত্র-জপের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে বেদমন্ত্রের উচ্চারণ করতে লাগল। কাছে আসতেই বালী রাবণকে ঝাঁপিয়ে কাঁখে চেপে ধরল। বাল্মীকি লিখেছেন-
"জপन् বৈ নৈগমান্ মন্ত্রান্ তস্থৌ पर्वতরাট্ ইব" (উত্তর. ২৪.১৮)
অর্থাৎ- "বালী বেদের মন্ত্র জপ করতে করতে শান্ত এবং পর্বতের ন্যায় নিশ্চল দাঁড়িয়ে ছিল।"

সুগ্রীবও নিশ্চিতভাবে শাস্ত্রের অধ্যয়ন করেছিল। তার ভূগোলশাস্ত্রের ব্যাপক এবং সূক্ষ্ম জ্ঞান ছিল। সীতার অনুসন্ধানের জন্য প্রেরিত বানরদের সে সঠিক নির্দেশনা দিয়েছিল। বাল্মীকি সুগ্রীবের বর্ণনা 'মহাবীর্য', 'ধৃতিমান্', 'মতিমান্', 'মহাবল পরাক্রমী' ইত্যাদি গুণ দিয়ে করেছেন (অরণ্য. ৭২.১৩,১৪)। রানি তারা-এর পিতা সুশেণ সিদ্ধহস্ত বৈদ্য ছিল। যিনি যুদ্ধে আহত শ্রীরাম, লক্ষ্মণ এবং অন্যান্য বানর বীরদের প্রাণ রক্ষা করেছিলেন। নল এবং নীলের অভিয়ান্ত্রিকী (ইঞ্জিনিয়ারিং) বিদ্যার বিশেষজ্ঞতার বিষয়ে আমরা দীর্ঘকাল ধরে পড়ে-শুনে আসছি, যারা শ্রীরামের বিশাল সেনার জন্য পথ এবং সমুদ্রের উপর সেতু নির্মাণের আশ্চর্য কাজ করেছিল। এইভাবে জাম্ববান্, শরভ, ম্যেন্দ, দ্বিবিদ প্রভৃতি ইউথপতিদের শাস্ত্রজ্ঞতা এবং বক্তৃতা-কৌশলের বর্ণনাও পাওয়া যায়। এরা সকলেই ইউথপতি রাজা ছিল এবং সু-শিক্ষিত ছিল।

বালীর স্ত্রী তারা এবং সুগ্রীবের স্ত্রী রুমাও বেদবিদুষী এবং শাস্ত্রজ্ঞা ছিল। তারা বেদমন্ত্রবিদ্ ছিল। সুগ্রীবের ললকারে যুদ্ধে যাওয়ার আগে সে স্বামী বালীর জন্য 'স্বস্তিবাচন' বেদমন্ত্র দ্বারা মঙ্গলকামনা করেছিল। যদি বালী দূরদর্শিনী তারা-এর পরামর্শ মানত তবে তার মৃত্যু হতো না (তतः স্বস্ত্যয়নং কৃত্বা মন্ত্রবিদ্ বিজয়ৈষিণী, কিষ্কিন্ধা. ১৬.১২)। সে বালী-বধের পর শ্রীরামের সঙ্গে সংলাপের সময় বেদের নীতির উল্লেখ করে। বাল্মীকি তাকে 'পণ্ডিতা', 'সর্বজ্ঞা', 'রাজনীতির সূক্ষ্ম বিষয়ের বিশ্লেষিকা', 'ভবিষ্যতের আভাস জানা' ইত্যাদি লিখে তার বিদ্বত্তার প্রশংসা করেছেন। রুমা জ্যোতিষের বিদুষী ছিল।

অন্যান্য বিদ্যা এবং কলার প্রশিক্ষণও কিষ্কিন্ধায় দেওয়া হতো। সঙ্গীত-বিদ্যা, ভবন নির্মাণ-বিদ্যা, বস্ত্র-নির্মাণ, অলংকার নির্মাণ, অস্ত্র-শস্ত্র-নির্মাণ, চিত্রকলা, কশিদাকারি ইত্যাদির বর্ণনা রামায়ণে পাওয়া যায়।

আর্য-সংস্কৃতি, সভ্যতা এবং পরম্পরা


বানরজনদের মধ্যে যখন ঋষিদের দ্বারা রচিত বৈদিক শাস্ত্রের অধ্যয়ন-অধ্যাপন হতো, তখন স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষা-পদ্ধতি এবং পরম্পরাও বৈদিক ছিল। এই বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া যায় যে বানররা যজ্ঞোপবীত ধারণ করত। শিক্ষা আরম্ভের আগে উপনয়ন সংস্কারের আয়োজনের মাধ্যমে যজ্ঞোপবীত প্রদান করা হয়। বর্ণনা পাওয়া যায় যে বালীর অন্ত্যেষ্টি সংস্কারের সময়, চিতায় অগ্নি দেওয়ার পরে পুত্র অঙ্গদ যজ্ঞোপবীত ডান কাঁধের দিকে ধারণ করে চিতার প্রদক্ষিণ করেছিল (ততোऽগ্নিং বিধিবদ্ দত্ত্বা সো অপসব্যং চকার হ, কিষ্কিন্ধা. ২৬.৫০) 'অপসব্য' যজ্ঞোপবীত ধারণ করার সেই পদ্ধতি যাতে যজ্ঞোপবীত ডান কাঁধে রেখে তাকে বাম হাতের নিচের অংশে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পৌরাণিক ব্যাখ্যাকাররা এই তথ্যের ব্যাখ্যায় অব্যাখ্যাত রেখে দিয়েছে। এটি তাদের পক্ষপাতী দুরাগ্রহ।

বৈদিক শিক্ষা পদ্ধতি ছিল, তাই তা বর্ণাশ্রম ব্যবস্থার অন্তর্গত ছিল। হনুমানের স্পষ্ট উদাহরণ যে সে ব্রহ্মচারী থেকে বেদ শাস্ত্রের অধ্যয়ন করেছিল। সে আজীবন ব্রহ্মচারীই ছিল। এই প্রমাণও পাওয়া যায় যে বানররা অন্যান্য আশ্রমও ধারণ করত। সীতার অনুসন্ধানে নিরাশ হওয়া হনুমান প্রতিজ্ঞা করে যে যদি সীতাকে না খুঁজে পায় তবে আমি কিষ্কিন্ধায় ফিরব না, বনপ্রস্থ আশ্রম ধারণ করব (বানপ্রস্থো ভবিষ্যামি হি-অদৃষ্ট্বা জনকাত্মজাম্, সুন্দর. ১৩.৪০)। কিষ্কিন্ধায় বিদ্বান ব্রাহ্মণও ছিল, যারা শাস্ত্রবিধি অনুযায়ী বালীর অন্ত্যেষ্টি সংস্কার এবং সুগ্রীবের রাজতিলক সংস্কার সম্পন্ন করেছিল।

বানর জন সন্ধ্যা-উপাসনা, যজ্ঞের অনুষ্ঠানও করত। বেদমন্ত্রের দ্বারা সন্ধ্যা করার বালীর একটি দীর্ঘ প্রসঙ্গ রামায়ণে বর্ণিত আছে (বালিনং সন্ধ্যোপাসনতৎপরম্, উত্তর. ৩৪.১২,২৭,২৯)। তারা শ্রীরামের সামনে তার যজ্ঞাধিকারের বিষয়ে সংলাপ করে (কিষ্কিন্ধা. ২৪.৩৮)। বানরদের মধ্যে বিবাহ বিধির মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী হওয়ার পরম্পরা ছিল। অসত্য ভাষণকে পাপ মনে করা হতো এবং সত্যকে পুণ্য, অতএব তারা প্রতিজ্ঞা করার সময় সত্যের শপথ নিত (সত্যেন শপাম্যহম্, কিষ্কিন্ধা. ৮.২৭)। তারা বৈদিক বিধি অনুসারে নামোচ্চারণপূর্বক বড়দের চরণস্পর্শ করে প্রণাম করত (কিষ্কিন্ধা. ২৩.২৪)।

বানর বিশুদ্ধ শাকাহারী ছিল, মাংসাহার করত না। কন্দ-মূল, ফল-ফুল, অন্ন ইত্যাদি পদার্থের আহার করত (ফলমূলাশনং নিত্যং বানরং বনগোচরম্, কিষ্কিন্ধা ১৭.২৫)

সংস্কার এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান বৈদিক শাস্ত্রীয় পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হতো। তাদের অনুষ্ঠানের জন্য বানর সম্প্রদায়ে প্রশিক্ষিত বিদ্বান ব্রাহ্মণ ছিল। সুগ্রীবের রাজ্যাভিষেক মহর্ষিদের দ্বারা নির্দিষ্ট শাস্ত্রীয় বিধি অনুযায়ী বেদমন্ত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছিল। এই উপলক্ষে যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছিল-
"মন্ত্রপূতেন হবিষা হুত্বা মন্ত্রবিদো জনাঃ।।" "শাস্ত্রদৃষ্টেন বিধিনা মহর্ষি বিধিতেন চ।" "অভ্যষিঞ্চত সুগ্রীবম্।" (কিষ্কিন্ধা. ২৬.৩০,৩৪,৩৬)

এইভাবে বালীর অন্ত্যেষ্টি সংস্কারও শাস্ত্রবিধি অনুযায়ী রাজাদের মর্যাদার অনুরূপ সম্পন্ন করা হয়েছিল (কিষ্কিন্ধা. ২৫ সর্গ)। এই প্রসঙ্গে বালীকে স্পষ্টভাবে 'আর্য রাজা' বলা হয়েছে ("আর্যস্য ক্রিয়তাম্", "রাজ্ঞাম্... তাদৃশৈঃ কুর্বন্তু", কিষ্কিন্ধা. ২৫.৩০,৩২)।

বানর-সমাজে 'আর্য' সম্বোধন


আর্য সংস্কৃতির শিষ্টাচার অনুসারে, যেভাবে সীতা প্রভৃতি নারীরা তাদের স্বামী শ্রীরাম প্রভৃতিকে 'আর্যপুত্র' বলে সম্বোধন করত, সেইভাবেই বানর-বর্গের রানি তারা তার স্বামী বালীকে 'আর্যপুত্র' বলে সম্বোধন করত (কিষ্কিন্ধা. ১৯.২৭, ২০.১৩)। সুগ্রীবও বালীকে 'আর্য' প্রয়োগে বর্ণনা করে (আর্যস্য, কিষ্কিন্ধা. ২৪.২৯)। বানরদের জন্য 'অনার্য' প্রয়োগ অপশব্দ ছিল। সীতাকে অনুসন্ধানে বিলম্ব করার কারণে লক্ষ্মণ, সুগ্রীবকে 'অনার্য' এবং 'কৃতঘ্ন' বলে তিরস্কার করে (অনার্যস্ত্বং কৃতঘ্নশ্চ, কিষ্কিন্ধা. ৩৪.১৩)। তবে হনুমান প্রভৃতিকে অনার্য কীভাবে বলা যেতে পারে?

উপরোক্ত ঐতিহাসিক তথ্যের আলোকে নির্দ্বিধায় বলা যেতে পারে যে হনুমান এবং তার বানর-সমাজ আর্য সংস্কৃতির অঙ্গ ছিল। যেসব লেখক তাদের অনার্য বলেছেন তারা বানর-সমাজের সঙ্গে অন্যায় করেছেন এবং ভারতীয় ইতিহাসকে বিকৃত করেছেন। যারা শ্রদ্ধা-ভক্তির নামে তাদের বানর মনে করে, তারা তাদের শ্রদ্ধেয় মহাপুরুষের গুরুতর অপমান করে। মহামানবকে পশুরূপ দেওয়া তাকে কলঙ্কিত করা। সত্য তথ্যকে গ্রহণ করে তাদের এই কাজ করা ত্যাগ করা উচিত।

ডঃ সুরেন্দ্র কুমার


Read More

13 December, 2024

शिव कौन हें ?

13 December 0

 हिरण्यबाहु, गणपति, पशुपति, शितिकण्ठ, करपर्दिन, व्युप्तकेश, शतधन्व, हस्व, वामन, शम्भु, मयोभव, शंकर, मयस्कर, शिवतर, भूतानाम्‌ अधिपति । वेद में हम स्पष्ट रूप से देखते हैं कि ये सभी नाम वह अर्थ नहीं देते जो आज लोक में प्रचलित हैं ।

शिव कौन हें ?


कुछ विद्वान ऐसा मानते हैं कि वेद में उसी शिव का वर्णन है जिसके नाम पर अनेक पौराणिक कथाओं का सृजन हुआ है और उसी की पूजाउपासना वैदिक काल से आज तक चली आती है । यहाँ तक कि शिव के अनेक नामों की व्याख्या करने के लिए ही तरह-तरह को कहानियों की रचना की गई है । ये कहानियाँ सृष्टि क्रम के विरुद्ध होने के साथ-साथ युक्ति संगत भी नहीं हे । इन कहानियों से शिव का उज्जवल स्वरूप तो नष्ट होता ही है साथ ही अनेक अनर्गल क्रिया कलाप भी इससे जुड़ जाते हैं । इन कहानियों के रचयिता शिव को अजर-अमर मानते हुए भी उनका ऐतिहासिक रूप इस वीभत्सता से प्रस्तुत करते हें ह- स्पष्ट नहीं हो पाता कि हम कौन से शिव का अवलोकन कर रहे हें ।


रामायण में शिव का वर्णन


रामायण के नाम से हम दो ग्रन्थों से विशेषतः परिचित हें । प्रथम वाल्मीकि द्वारा रचित रामायण और द्वितीय तुलसीदास द्वारा रचित रामचरितमानस । आमतौर पर तुलसीदास की रामचरितमानस को भी रामायण कह दिया जाता है जोकि गलत है । इन दोनों ग्रन्थों में महान अन्तर है । भाषा का अन्तर तो हे ही, कथा का भी अन्तर है । वाल्मीकि का वृत्तान्त सत्यता के निकट है, उस पर हम पूरा भरोसा कर सकते हैं जबकि तुलसी का वृतान्त भक्ति भावना से लिखा गया मानवीय और अमानवीय कथ्यों का अजीब मिश्रण है । यह निरिचित ही नहीं हो पाता कि तुलसी दशरथ के पुत्र राम का वर्णम कर रहे हैं या संसार की नियामक शक्ति का । शिव के सम्बन्ध में भी तुलसी का वर्णन विउ्वसनीय नहीं माना जा सकता । अतः हम वाल्मीकि कृत रामायण में ही देखना चाहेंगे कि उसमें कौन से शिव का वर्णन है । क्योंकि वाल्मीकि रामायण ही प्राचीनतम राम-काव्य हे।


वाल्मीकि रामायण के बालकाण्ड में जिव का वर्णन सर्वप्रथम तेईसवें सर्ग में मिलता है । विह्वामित्र के साथ भ्रमण करते हुए राम-लक्ष्मण जब सरयू तट पर बने एक आश्रम के विषय में उनसे पूछते हैं तो विशवामित्र का उत्तर इस प्रकार मिलता है- “बुद्धिमानों से ज़ो 'काम' कहा जाता हे वह कन्दर्प (पहले) शरीर धारी था। यहाँ नियम पूर्वक एकाग्र हुए तपस्या करते हुए विवाह करके मरुतों के साथ जाते हुए देवेश महादेव को टुष्ट बुद्धि वाले काम ने पीड़ित किया । महात्मा शिव ने हुंकार किया । हे रघुनन्दन रुद्र की आँख से जले हुए दुर्मत (काम) के शरीर से सब अंग गिर गये । महात्मा (शिव) से जलाये हुए अंग नष्ट हुए । देवेइवर शिव ने क्रोध से काम को शरीर-रहित किया । हे राधव उस काल से वह अनंग नाम से विख्यात हुआ । उसी (शिव) का यह पहले पुण्य आश्रम था ।


इस वर्णन से इतना ज्ञात होता है कि पहले इस आश्रम में शिव नाम के कोई महात्मा तपस्या करते थे । और उन्होंने 'काम' को अपने शरीर पर किसी भी प्रकार से हावी नहीं होने दिया था । उक्त कथन के बाद यह भी कहा गया है कि वे विवाह करके जा रहे थे । यह कथन हमें असंगत लगता है । जब बे विवाह करने को प्रस्तुत ही हो गये तो निडिचित्‌ है कि “काम” का सेवन उन्हें करना ही होगा । जब 'काम' को शरीर रहित हो करना था तो विवाह की क्‍या आवश्यकता था । स्पष्ट रूप से वे शिव बेद में कहे गये डिव नहीं हो सकते । ये पूर्णतः मानवीय गुणों से युक्त हैं ।


धन्‌ष भंग के प्रसंग में जिस धनुष का नाम आता है वह जनक के किसी पूर्वज का दिया हुआ था । यह भ्रमपूर्ण कथन है कि इसका सम्बन्ध शिव से था । एक अन्य धारणा यह भी हे कि रावण शिव भक्त था। जहाँ तक हमारा अभिमत है शंकर का अस्तित्व राम के समय नहीं था । अतः रावण के शिव भक्त होने का प्रइन ही नहीं उठता । शंकर वस्तुतः महाभारत काल में ही थे इनका वर्णन वेदों से भी निकालना उचित नहीं है । क्योंकि वेदों में इतिहास नहीं है ।


राम के विषय में भी यही धारणा लोक में प्रचलित है कि राम शिव के उपासक थे । यदि यह कहा जाय कि राम इस संसार के रचयिता शिव के उपासक थे तब तो ठीक है किन्तु यदि उस शिव का आरोपण यहाँ किया जाये, जिसका वर्णन महाभारत ओर पुराणों में हे तो यह गलत होगा । वस्तुतः यह घपला तुलसीदास का किया हुआ है । उन्होंने हो शिव और राम को एक दूसरे का उपास्य बताकर इतिहास क्रम को दूषित किया है । अक्सर राम के द्वारा सेतु-बन्धन का उदाहरण दिया जाता है और कहा जाता है कि इस अवसर पर राम द्वारा शिवलिंग को स्थापना की गई और आज उसी स्थान पर रामेइवरम का मन्दिर विद्यमान है । वाल्मीकि रामायण से यह प्रमाणित नहीं होता । वस्तुतः यह मन्दिर ११वीं शती का निर्माण हे और एक दक्षिण भारतीय राजा रामचन्द्र ने इसका निर्माण कराया था इसीलिये इसका नाम रामेइवरम पड़ा है । यह राजा शिव का उपासक था ।


रावण किसका उपासक था इसकी विवेचना हम किसी अन्य लेख में करना चाहेंगे । महाभारत के शिव


महाभारत में हम जिस शिव का वर्णन पाते हैं वे ऐतिहासिक पुरुष हैं और काफी हद तक मानवीय भावनाओं से ओतप्रोत है । वस्तुतः ये भूटान के राजा थे जो उस समय भूतस्थान के नाम से प्रसिद्ध रहा होगा जो बाद में भूतान अथवा भूटान हो गया । इस प्रदेश के रहने वालों को आज भी भोट या भोटिया कहते हैं जो भूत और - भूतिया के अपभ्रंश हैं । पूर्वकाल में इस प्रदेश पर देवों का आधिपत्य हो चुका था | इस प्रदेश के मूल निवासियों और देवों के मिश्रण से ही इस जाति का उद्भव हुआ था । भूतों के राजा होने के कारण ही शिव के नाम भूतपति, भूतेश, भूतनाथ आदि कहे गये हैं । इन्हें महादेव भी कहा गया है ।


यद्यपि आज का भूटान एक छोटा सा प्रदेश है तथापि प्राचीन काल में यह प्रदेश काफी बड़ा था | यही कारण है कि महादेव की गद्दी कैलाश पर्वत पर थी और वहीं से वे भूत तथा पिज्ञाच जाति पर शासन करते थे । पहाड़ों के राजा होने से ह. गिरीश भी कहा है । इनकी


पत्नी पार्वती है अर्थात्‌ पहाड़ी स्त्री । पहाडी राजा सत्रो से होना स्वाभाविक ही है । # राजा का विवाह पहाड़ी


महाभारत के कुछ प्रसंग ऐसे हैं जो इन्हें स्पष्टतः: ऐतिहासिक सिद्ध करते हें । अजु न पाशुपत अस्त्र को प्राप्ति लक औ-.+


्ी प्ति के लिए हिमालय पर जाते हैं । यह अस्त्र शिव से ही प्राप्त होना था । शिव 'नके प लेकर ही अस्त्र उन्हें प्रदान करते हैं । एक और प्रसंग में शंकर का युद्ध कृष्ण से होता है । बाणासुर की पुत्री उषा का विवाह कृष्ण के पौत्र अनिरुद्ध से हुआ था इसी संदर्भ में बाणासुर का युद्ध कृष्ण से हुआ और शंकर बाणासुर के सहायक हुए इस युद्ध में शंकर की हार हो गई ।


शंकर को क्रतु-ध्वंसी भी कहा गया है । यज्ञ का विनाश करने वाले । यह कार्य कोई स्वधर्मी नहीं कर सकता । हम देखते हैं कि महादेव सदेव असुरों और राक्षसों की सहायता करते हैं । बाणासुर जेसे अनेक राक्षसों को महादेव से सहायता मिलती थी और प्रबल होकर वे भारतवासियों को सताते थे । प्रारम्भ में ये न तो देवों के पक्षपातो थे और न आर्यो के सहायक अपितु स्वतन्त्र रूप से अपना राज्य चलाते थे । किन्तु विष्णु के प्रयत्न से इन्हें अनेक बार असफलता प्राप्त हुई और अपने अन्तिम दिनों में ये देवों के सहायक बन गये ।


सांस्कृतिक टृष्टि से हम देखें तो पता लगेगा कि इनको सभ्यता काफी पिछड़ी हुई थी । जिस समय विष्णु रेशमी पीताम्बर धारण करते थे, साधारण भारतीय सूती वस्त्र का प्रयोग करते थे वहां भूतों के राजा शंकर कच्चे चमड़े के वस्त्र ही पहनते थे । जब राजा ही कच्चा चमड़ा पहनता हो तो उसकी प्रजा का क्‍या हाल होगा । पुराणों के शिव


पुराणों के शिव का रूप बहुत ही विकृत है । स्वयं शिवजी की उत्पत्ति । उनके पुत्रों की उत्पत्ति आदि भी अत्यन्त काल्पनिक है । हम यहाँ गणेश की उत्पत्ति पर भी थोड़ा सा विचार करें तो स्थिति स्पष्ट हो सकती हे । शिवजी जब घर से बाहर गये थे तो पार्वती ने स्नान करने का विचार किया । उन्हें द्वार पर रक्षक की आवश्यकता हुई तो हथेली रगड़ कर एक बालक को उत्पन्न किया और द्वार पर बठा दिया । जब शंकर आये तो इस बालक ने उन्हें रोकना चाहा । शंकर को यह बददत नहीं हुआ कि कोई उन्हें उनके ही घर में न घुसने दे । फलतः शंकर के त्रिशूल से इस बालक का मस्तक कट गया । पार्वती को जब ज्ञात हुआ तो उन्होंने विलाप करना प्रारम्भ कर दिया । यह समाचार जब विष्णु को मिला तो उन्होंने अपने चक्र से एक नवजात गज-शिज्गु का मस्तक काटकर उस बालक की गर्दन पर लगा दिया । यही बालक गणेश हुआ । क


इस कथा में ऐतिहासिकता इतनी भर है कि शिव के / पुत्र गणेज्ञ थे । शोष भाग तर्क रहित और असम्भव है । हम जानते हैँ कि हथेली की रगड़ से कोई सन्तान उत्पन्न नहीं होती । पार्वती यदि ऐसा कर सकती थी तो उसे ज्िव से विवाह करने की आवश्यकता ही नहीं थी । इधर शिव को पता नहीं चल सका कि यह मेरा ही पुत्र है । कैसे अन्तरयामी थे वे ? उनका क्रोध तो हद को भी पार कर गया । किसी बालक का पस्तक काट देना क्या विवेकहीनता नहीं है ? उसे तो बॉधा भो जा सकता था । ज्ञिव से अधिक बलवान भी उसे नहीं कहा जा सकता। पार्व॑ती भी टुबारा हथेली रगड़ कर बालक बना सकती थी ।


बालक धड़ पर हाथी के बच्चे का सिर जोड़ना किसी भो प्रकार युक्ति संगत नहीं है । प्रथम तो इसमें भूल यहो है कि उसी बालक का सिर क्‍यों नहीं जोड़ा गया, वह तो वहीं पड़ा रह गया । उसे ढूँढने की आवश्यकता नहीं होती । वह नहीं तो किसी अन्य बच्चे का सिर लगाया जाता किन्तु उन्हें तो हाथी के बच्चे का सिर लगाना था । हमारी इस बात से कोई इन्कार नहीं कर सकता कि हाथी का बच्चा कितना ही छोटा हो उसका सिर किसी मानव-शिशु की गर्दन पर सही नहीं बैठ सकता ।


पौराणिक कथाओं में इसी प्रकार की अनेकों विसंगतियाँ भरी पडी हैं जिनका कोई युक्तिपूर्ण समाधान नहीं है । ढ


इसके अतिरिक्त पुराणों में शिव पार्वती के काम-सम्बन्ध की चर्चा इतनी खुलकर को गई है कि वह अइलीलता की हद को भी पार कर गई है । उसे हम यहाँ लिखना भी नहीं चाहते । पराणों के अध्ययन कर्ता स्वयं ही यह सब जानते हैं और इन प्रसंगों की अहलीलता पर लीपापोती करने के कं इनको आध्यात्मिक व्याख्या प्रस्तुत करने का भरसक प्रयास करते रहते है । चुकी | सत्य छिपता नहीं । आज शंकर-पूजा लिंग-पूजा म॑ परिवर्तित हो चुकी है। यह असभ्यता का प्रतीक है । भारतीय इतिहास के मध्यकाल में जब बाम मार्ग का आविर्भाव हुआ तो लिंग- पूजा का अत्यधिक प्रचार और प्रसार हुआ । फलतः भारतीय आध्यात्मिकता अपने अधःपतन को प्राप्त हो गई । दूसरी ओर भारत पर अनेकों विदेशी आक्रमणों ने भी इस कार्य में सहयोग दिया । विदेशियों के मिथ्या विश्वास भी भारतीय जन जीवन में घुसपैंठ कर गये और इस पतन में सहायक हुए। साकार शिव - हिमालय


हमारी सम्मति में आज हम जिस शिव की पूजा अर्चना करते हैं वह वस्तुतः हिमालय पर्वत और हिमालय निवासी शिव, दोनों का मिला जुला वर्णन है । मध्य-कालीन कवियों और लेखकों ने अपने साहित्य पें चमत्कार प्रदर्शित करने के लिए ही इन दोनों का मिश्रण किया होगा । हम समझते हैं मिश्रण कोई अच्छी बात नहीं है जबकि इसके परिणाम दूरगामी हों । एक बात यह भी है कि कविता की समझ सभो को नहीं होती । मूढ़ मन तो लिखी हुई हर बात को पत्थर की लकोर समझता है । फिर यदि संस्कृत में लिखा हो तो वह उसे ब्रह्म वाक्य ही लगता है । वह उसे अक्षरशः सत्य मानता है । आज भोली भाली जनता इसी मिश्रित साहित्य के कारण दिग्भ्रमित होती है और शित्र को समझने में असमर्थ रहती है ।


आइये कुछ ठोस आधारों पर इसकी विवेचना करें। किसी भो मानव आकृति को हम शिव का रूप देना चाहें तो कुछ बातों पर विशेष ध्यान टेना होगा । उस आकृति में जटा जूट में ऊपर अर्धचन्द्र रखा होना चाहिए । जटा जूट से गंगा निकलनी चाहिए, माथे पर त्रिपुण्ड, तोसरा नेत्र, गले में सर्पमाल, हाथ में त्रिशूल, वस्त्र के नाम पर बाघम्बर । इतना काफी है किसी मानव आकृति को शिव बनाने के लिए हम आजकल भी इन्ही विशेषताओं से युक्त शिव का चित्र देखते हैं । चित्र में कुछ बातें तो साधारण ही होती हैं जेसे माथे पर चन्दन लगाना । सिर पर जटा-जूट होना, हाथ में त्रिशूल, गले में सर्प माला और वस्त्र के नाम पर बाघम्बर पहनना कोई विशेष बातें नहीं हैं, इन्हें कोई भी कर सकता है । किन्तु तीन बातें-अवशय ही विचारणीय हैं | सिर पर चन्द्रमा धारण करना, जटाजूट से गंगा का निकलना और त्रिनेत्र होना । ये तीन विशेषताएँ इन्हें अन्य मानवों से अलग करती हैं ।


उक्त तीनों विशेषतायें हिमालय से सम्बन्ध रखने वाली हैं अतः स्पष्टतः शिव का वास्तविक रूप हिमालय ही है । देखें यह किस प्रकार है। जिन लोगों ने हिमालय पर्वत श्रेणियों को प्रत्यक्ष देखा है वे इसे आसानी से समझ सकते हैं । कल्पना कीजिए कि अर्धचन्द्र जिस समय ऐसी स्थिति में हो कि वह हिमालय पर्वत के पृष्ठ भाग में इतनी उंचाई पर हो कि वह पर्वत को छूता हुआ सा लगे तो ऐसा ही लगेगा पानो यह पर्वत पर रखा हुआ है । यही दृश्य जटाजट पर चन्द्रमा के रखे होने का आधार है ।


दूसरा प्रबल प्रतीक हे गंगा का सिर से निकलना । सभी जानते हैं कि गंगा हिमालय पर्वत से ही निकलती है और फिर वहाँ से निकलकर विचरण करती हुई बंगाल की खाड़ी में गिरती है । जटाजूट की कल्पना हिमालय की पर्वत श्रृंखलाओं में की गई है । यही शिव के मस्तक से गंगा का निकलना है । यद्यपि इस प्रसंग में अनेकों कथायें गढ़ो गई हैं । अनेकों व्याख्याएँ प्रस्तुत की गई हैं किन्तु वे तर्क संगत नहीं


तीसरी विशेषता हे शिव का त्िनेत्र होना । यह नेत्र वेसे तो बन्द रहता है किन्तु शिव जब नृत्य करते हैं तभी यह सुलवा है । शिव के ताण्डव से थ्वी कम्पायमान हो जाती है और विनाश लीला प्रारम्भ हो जाती है । ताण्डव नृत्य विनाश का सूचक है । कल्पना कीजिए कि हिमालय का समूचा प्रदेश कम्पन करने लगे और ज्वालामुखी के रूप में अग्ति वर्षा आरम्भ कर दे तो प्रलय काल ही उपस्थित हो जाएगा । कितना विनाश होगा यह कल्पनानीत हे ।


शंकर के गले में सर्प माला भी रहती है । यह दृश्य भी हिमालय पर देखने को मिल सकता है | जिस समय हिम श्रृंगों को बादल वलय के आकार में घेर ले तो यही प्रतोत होगा कि यह शिव रूपी हिमालय की गर्दन की माला हें । वेद में बादल के लिए अहि राब्द भी प्रयोग हुआ है और लोकिक संस्कृत में इसे सर्प का पर्याय देखते हैं । अतः इसपें सर्प को कल्पना की गई । क्षण-क्षण आकार बदलने के कारण गतिशील भी रहता है | यही इसकी सर्पशीलता है ।


शंकर को पत्नी का नाम पार्वती प्रसिद्ध हे | पार्वती का अर्थ पर्वत पर उत्पन्न होने वाली वनस्पति से भी हे । हिमालय के सन्दर्भ में हम उसके स्पप्टोकरण के लिए कुछ मध्यकालीन चित्रों का अवलोकन करें तो पायेंगे कि पार्वती को शंकर की गोद में बैठा हुआ चित्रित किया गया हे । इसे हम केवल मानवीय चित्रण की दृष्टि से देखें तो कुछ अच्छा नहीं लगेगा कि पति पत्नी को इस प्रकार चित्रित किया जाय । किन्तु इसकी संगति हम हिमालय के साथ उस पर फैली हुई वनस्पति से लगायें तो बात स्पष्ट हो जाती है । इस सन्दर्भ में हमें “वैदिक सम्पत्ति के पृष्ठ १९५ पर लिखित एक पंक्ति का स्मरण हो आता है । लिखा हे “हम देखते हें कि हिमालय रूपी शंकर को गोद में वनस्पति रूपी पार्वती अधिकता से विद्यमान है ।”


शिव को अजर-अपमर कहा गया है । कम से कम मानव जाति के लिए तो हिमालय भी इसी कोटि में आता है । अपनी ऊंचाई और विशालता के आधार पर इसका सर्वप्रथम उदभूत होना अवश्यम्भावी है । इसके विषय में 'वैटिक सम्पत्ति' के पृष्ठ १९३ पर हम पढ़ते हैं“जो पहाड़ जितना ही ऊंचा होता है, उसके फेंकने वाली अग्नि, प्रपात की गञक्ति भी उतना ही अधिक बलवान होती है । हिमालय सबसे विशाल और उच्च है, इसलिए उसको बनाने वाली शक्ति भी समस्त अपात शक्तियों से प्रबल, थी । इतनी बड़ी महान शक्ति संचित रूप से तभी मिल सकती है । जब वह बिल्कुल ही अक्षुण्ण रही हो । और यह तो निर्विवाद है कि ऐसी शक्ति सृष्टि के आदि में ही मिल सकती है । इससे अनुमान करना सरल हो जाता हे कि पृथ्वी का सर्वोच्च हिमालय पहाड़ ही सर्वप्रथम उत्पन्न हुआ ।”


हिमालय ही कल्याणकारी होने से शंकर भी है । अनेकों नदियाँ हूं से निकलकर हमें जीवन प्रदान करती हैं अतः वह प्रजापति भी है ।


संसार की समस्त प्राचीन सभ्यतायें भी हिमालय को किसी न किसी नाम से जानती हैं । हिमालय का एक नाम मेरु भी हे इसे ही ईरान में 'मौरु,' यूनान में 'मेरोस' दक्षिणी तुर्किस्तान में 'मेरुव', मिश्र में 'पेरई' और असीरिया पें 'मोरुख' कहा गया है । अतः निश्चित ही हिमालय हमारा आदिदेव महादेव है ।


समय-समय पर अनेक व्यक्ति शिव, शंकर, हे महादेव आदि नाम के होते रहे हैं । अतः आवश्यकता इस बात की है कि हम उन्हें एक साथ मिलाकर न देखें । वेदों के शिव या शंकर निराकार प्रभु हैं जो अजन्मा और अनादि हैं । वाल्मीकि रामायण में शिव नामधारी किसी महापुरुष का नाम अवञझ्य आता है किन्तु यह महापुरुष महाभारत कालीन शिव से भिन्न हैं । महाभारत कालीन शिव के नाम पर ही अनेकों कथायें पुराणों में संकलित की गई हैं जिसके कारण भ्रम उत्पत्र होता है ओर साधारण जन उन सभी को एक ही समझकर भ्रमित 'हो जाते हैं । महाभारत के शिव मानवीय गुणों से सम्पन्न हैं । लिंग पूजा का सम्बन्ध भी इन्हीं शिव के साथ जोड़ दिया जाता है । हिमालय पर्वत का मानवीकरण करके भी इन्हीं शिव से पिला दिया गया और भक्ति भावना के अतिरेक में इन्हें ही देवाधिदिव परम पुरुष मान लिया गया है । इस सारे मिश्रण के कारण ही अनेक विसंगतियों का जन्म हुआ है । आवश्यकता इस बात की है कि हम उन्हें अलग-अलग करके ही देखें । स्पष्टीकरण के लिए हमने मुख पृष्ठ पर हिमालय का मानवोौकरण प्रस्तुत करने का उपक्रम किया है ।


हम देखते हैं कि मानव मन सरलता की ओर दौड़ने में सदेव तत्पर रहा है अतः हम परम पिता शिव के वास्तविक रूप को जानने का कष्ट नहीं करना चाहते और अनेक निरर्थक कार्यक्रमों में लिप्त रहते हें । केवल जड़ वस्तुओं की पूजा-अर्चना करके ही हम अपने को परम धार्मिक व्यक्ति मान लेते हैं । ईश्वर की सच्ची पूजा तो उसके वास्तविक स्वरूप को जानने में हे मानने में नहीं । हम रोज ही देखते हें कि अनेक मठ-मन्दिर हर समय भीड से भरे रहते हैं । प्रत्येक व्यक्ति अपने को धार्मिक समझता है फिर तो संसार की समस्त बुराइयों का नाश हो जाना चाहिए। किन्तु बुराइयाँ कम होने का नाम नहीं लेतीं। कारण यही हे कि गलत दिशा की ओर जा रहे हैं। हम परम पिता से भी यह गलत आज्ञा करते हैं कि हम गलतियाँ करते जायें और वह हमें क्षमा करता जाय । इसी अज्ञानवश हम एक पर एक भूल करते जाते हैं ।


इस विचार सरणि को प्रस्तुत करके हम आज्ञा करते हैं कि सच्चे शिव को जानने में हमें अवश्य ही यह सहायक होगी । यदि ऐसा हो सका तो हम अपना परिश्रम सार्थक समझेंगे । परिशिष्ट


लघु पुस्तिका 'शिव कौन हैं ?' की प्रतिक्रिया हुई |जहाँ इस पुस्तिका का स्वागत हुआ वहाँ प्रतिक्रिया स्वरूप एक आलोचनात्मक पत्र भी हमें प्राप्त हुआ|पत्र पाठकों के समक्ष रखने का आशय इतना ही है कि पाठक स्वयं पु निर्णय करें कि यह प्रतिक्रिया किस प्रकार की है । पत्र इस प्रकार है-


।। श्री राम ।। २१-०३-९२ आदरणीय प्रकाशक एवं लेखक, कल पालीवाल पार्क में भेंट हुई थी । 'भारतीय इतिहास की भयंकर भूलें' पुस्तक खरीदने पर आपने जो पुस्तक 'शिव कौन हैं भेंट दी थी, पूरी पढ़ीऔर गम्भीरता से पढ़ी निष्कर्ष यही निकला कि आप लोग अव्वल दर्जे के सिरफिरे हैं; दरअसल आपके पास बुद्धि का पैमाना कम क्षमता है और आप अधिक नाप करते हैं । ठीक वैसा ही काम जेसे मसाला तौलने वाले तराजू से हिमालय तौलने का बहा दा प्रयास |आपने शिव के सन्दर्भ में जो असंभवताऐ व्यक्त की हें वे ठीक ऐसी हैं, जेसी लोग मारकोनी को दिया करते थे कि बेतार के उपकरण से वार्तालाप केसे सम्भव है, किन्तु आज सब कुछ प्रत्यक्ष हे तो वे मूर्ख खामोश हैं | दरअसल शिव को या किसी अन्य परमेश्वर के अवतार को समझने की बुद्धि दुर्भाग्य से परमात्मा ने आपको नहीं दी लेकिन इतना तय है कि आपके इस अनर्गल प्रलाप का असर बुद्धिमान और चिन्तवान्‌ लोगों पर कदापि पड़ने वाला नहीं है| आप कबसे चीखते चले आ रहे हैं, किन्तु कहीं कुछ नहीं बदला । दरअसल यह हिन्दुस्तान का परम दुर्भाग्य ही रहा कि यहाँ दयानन्द जैसा आदमी जन्मा] खेर,फिर भी कुछ नहीं बिगड़ा और न बिगडेगा। आर्य समाज अब मरणासत्न है, और ऐसा ही रहेगा, यह भी निश्चित है । संकीर्णता की हद होती है, जिसे मीरा के पद से चिढ़ हो, वह उदार क्या होगा)उदार होना मनुष्य की पहली पहचान हे, अन्यथा वह पशु और दानव की श्रेणी में ही खड़ा है। होली की शुभकामनाएं, पत्र दीजिए। भवदीय सुनीत गोस्वामी, पत्रकार ओ३म्‌ ७/४/९२


श्रीयुत सुनीत गोस्वामी, स्वस्ति ।


पत्र आपका यथा समय मिल गया था|कुछ पारिवारिक और कुछ सामाजिक कार्यो में उलझा रहा इसीलिए आपके पत्र का उत्तर तत्काल नहीं दे सका । आपने हमारी लघु पुस्तक 'शिव कौन हैं ?' के सन्दर्भ में लिखा है कि वह आपने गम्भीरता से पढ़ी।ऐसा लिखने के लिए धन्यवाद । किन्तु इससे आगे जो उपाधि हमें भेजने का कष्ट किया है उससे तो यही लगता है कि आपने उसे पूर्वाग्रह से ग्रसित होकर ही पढ़ा है, उस पर विचार नहीं किया। उसको सत्यता का आकलन नहीं किया। आपकी भेजी उपाधियों के लिए हमारे पास स्थान का भी अभाव हे और उतनी पात्रता भी हमारी नहीं है अतः हम उन्हें आपको ही समर्पित करते हें ।


पुराण वर्णित शिव के सम्बन्ध में हमने जो कुछ लिखा है उसे आप किस आधार पर काट सकते हैं । वह कहानी बनाई ही गई हे बुद्धिरहित होकर । शरीर के मैल से पुत्र बनाना । विश्व का नियन्ता होने पर शिव का अज्ञानता वश उस बालक को न पहचानना, फिर सिर काट देना । शिव पुराण में स्पष्ट लिखा है-'अंत में शिवजी को बहुत क्रोध आया और उन्होंने अपने त्रिशल से उसका सिर काट डाला । उस बालक का सिर कटा हुआ देखकर देवता और गण शान्‍्त हो गए ।“इसकां सीधा अर्थ यही है कि वह सिर बहीं कटा हुआ पड़ा था।अगर उन लोगों में यही शक्ति थी कि वे सिर जोड़ कर उसे जीवित कर सकें तो वही सिर क्‍यों नहीं लगाया गया? बेचारे हाथी के बच्चे ने क्‍या अपराध किया था ( हाथी के बच्चे का सिर उसके धड़ पर फिट केसे हो गया 0 और पार्वती जी ने इतना तूफान क्‍यों खड़ा किया, दुबारा शरीर का मैल उतार कर एक बच्चा और बना लेती ।


मूल बात यह है कि इस प्रकार की निराधार कहानियों पर आधारित मत टिक नहीं सकता, उस पर कोई भी उंगली उठा सकता है ।


आपने इसी सन्दर्भ में लिखा हे कि'मारकोनी के बेतार के उपकरण का उपहास करने वाले कहते थे कि बेतार के उपकरण से वार्तालाप कैसे संभव है, किन्तु आज न सब कुछ प्रत्यक्ष हे तो वे मूर्ख खामोश हैं ।”


आपने यह नहीं लिखा कि वे मूर्ख कौन हैं । यदि आपको यह भ्रम हो कि वे आर्यसमाज के लोग होंगे तो इस विषय में हमारा वक्तव्य यह हे कि

ऋग्वेदादि भाष्य भूमिका में पूरा एक अध्याय ही महर्षि दयानन्द ने तार विद्या पर लिखा है ।


यह पुस्तक महर्षि दयानन्द ने बि० स० १९३३ में लिखी थी । अर्थात्‌ ११६ वर्ष पूर्व। इसका १७ बां अध्याय तारबिद्या को ही समर्पित है जिसमें उन्होंने ऋवेद १/८/२१/५ की साक्षी से इसे प्रमाणित किया है । इसी सन्दर्भ में टृष्टव्य है कि शुक्रनीति में अतिप्राचीन काल में दूरसंवाद संचार प्रणाली का उल्लेख होने से इस विषय को स्पष्ट समझ सकते हैं।जो लोग इन ग्रन्थों का अध्ययन करते हैं वे आपकी उस सीमा रेखा में नहीं आते हैं जिसका आपने उल्लेख किया है ।


परमेश्वर के अवतार लेने की बात हर प्रकार से अप्रामाणिक है । अवतार की बात पुराणों में ही आती है । कहा जाता है कि समस्त पुराणों के रचयिता बेद व्यास हैं । किन्तु इनके अध्ययन से पता चलता है कि यह बात असिद्ध है । एक ही अवतार को लेकर प्रत्येक पुराण में अलग-अलग कहानी गढ़ी गई है । अब किस पुराण की बात सच मानी जाये । इन अवतारों के विषय में जो घोषणा की गई है वह क्‍या पूरी हो चुकी हे7 न तो पापी कम हुए और न ही धर्म का साम्राज्य स्थापित हुआ । जब सत्ययुग में जेसा कि कहा जाता है कि धर्म अधिक था ४ अवतार माने जाते हैं, त्रेता में तीन वह भी एक ही समय, द्वापर में दो, और कलयुग में जब धर्म के नाम पर अधर्म ही पनप रहा है केवल १ अवतार' ऐसा क्‍यों ?


आपके अनुसार परमेश्वर के अवतार के समझने की बुद्धि दुर्भाग्य से परमात्मा ने हमें नहीं दी।यह वाक्य आपने विचार कर नहीं लिखा क्योंकि इसमें हमारा कोई दुर्भाग्य नहीं है।यह गलती तो आपने परमात्मा पर आरोपित की है अतः इसका भागी तो वही हे । हम परमात्मा से कुछ छीन कर तो ले नहीं सकते । जब आपने ही निर्णय ले लिया कि बुद्धि परमात्मा ने ही हमें नहीं दी तो इसमें हमारा क्या दोष हे ?


अब हमारा प्रलाप अनर्गल है और आप जेसे बुद्धिमान और चिन्तावान लोगों पर इसका असर पड़ने वाला नहीं तो यह आपके पत्र से ही जाहिर हे हमारी पुस्तक की कोई न कोई प्रतिक्रिया आप पर अवश्य हो हुई है जिस कारण से आपने हमें पत्र लिखने का कष्ट उठाया ।


लगता है आप ने इस बात पर कभी भी विचार नहीं किया कि भारत में ही आपकी विचारधारा वाले लोग हैं जो अवतार बाद के समर्थक हैं । समूचे विश्व का कितना बड़ा भाग आपकी विचारधारा से सहमत नहीं है तो क्‍या आप उनके लिए भी परमात्मा को दोषी नहीं ठहरायेंगे। हम तो अवतार की कथाओं से भली भाँति परिचित हैं किन्तु उनके लिए आप क्‍या कहेंगे जिन्हें परमात्मा ने आपके तथाकथित धर्म का बिरोधी बनाया हुआ है । उन्हें किसने उत्पन्न किया । अगर आप कहें कि उनका परमात्मा और है तो आपका कल्पित परमात्मा उनसे छोटा बैठता है क्योंकि उनकी संख्या बहुत _त अधिक बैठती है । आपने आगे लिखा है “आप कबसे चीखते चले आ रहे ! , कहीं कुछ नहीं बदला | यदि आपका आशय आर्य समाज के चीखने से है तो आप अपने चारों ओर निगाह उठाकर देखें कि आर्य समाज के द्वारा आरम्भ किये गये सभी कार्यक्रम या तो सरकारों द्वारा अपना लिए गये हैं या अन्य संगठन इन कार्यो को अपनाये हुए हैं यथा अछूतोद्धार, जाति पाँति का उन्मूलन, नारी शिक्षा, वर्णाश्रम व्यवस्था, बेद का प्रचार, शुद्धि आन्दोलन, विधवाओं का पुनर्विवाह, गोरक्षा आन्दोलन, गुरुकुल प्रणाली का पुनर्चलन, अनाथालयों की स्थापना, हिन्दी प्रचार ।


स्वराज शब्द का सर्वप्रथम प्रयोग महर्षि ने अपने अमर ग्रन्थ सत्यार्थ प्रकाश में किया था। और 'आर्याभिविनय' में प्रभु से प्रार्था कौ- हे महाराजाधिराज पार ब्रह्म परमेश्वर हम लोगों को यथावत्‌ पुष्ट कर, अन्य देशीय राजे हमारे देश में कभी न हों तथा हम लोग कभी पराधीन न हों ।


आगे आपने लिखा है- “अरअसल यह हिन्दुस्तान का परम दुर्भाग्य ही रहा कि यहाँ दयानन्द जेसा आदमी जन्मा । खेर-फिर भी कुछ नहीं बिगड़ा और न बिगडेगा ।”


आपने यह भी बिना विचारे ही लिख दिया । क्‍योंकि भारत में जन्म लेना न तो दयानन्द के हाथ में था और न ही इसमें भारत कुछ दखल रखता है । हम तो यह कार्य परमात्मा का ही मानते हैं | आप पता नहीं कया समझते हैं । आपने परमात्मा को सलाह देने का नेक काम नहीं किया कि टयानन्द को भारत में न आने दो । आपके न चाहते हुए भी दयानन्द ने भारत में जन्म ले ही लिया और अपना कार्य करके वे चले गये । लगता है आपको उनके आने से काफी क्षति हुई है । सम्भवतः आर्थिक क्षति अधिक हुई है । हाँ, यदि आप चाहते हें कि हिन्दुस्तान का सौभाग्य लौट आये तो आप दयानन्द के किये कार्यों को मिटाना शुरू कर दीजिये ।


१. वेदों का प्रचार बन्द करवा दीजिए । २. नारी शिक्षा के सभी संस्थान बन्द करा दीजिए । ३. अछूतों के साथ वही व्यवहार चालू करा दीजिए जो दयानन्द से पूर्व होता है । ४. दयानन्द ने समस्त पाखण्डों का उन्मूलन करने हा लिए पाखण्ड खण्डनी पताका फहरायी थी । आप पाखण्डमण्डनी पताका लगाय । ५. अनाथालय समाप्त करा दीजिए । ६. शुद्धि आन्दोलन को समाप्त करा दीजिए; जो लोग ईसाई, मुसलमान मत छोड़कर वैदिक थर्मी हो गये हैं उन्हें फिर ईसाई और मुसलमान बना दीजिए | विधवाओं का विवाह न होने दें और बाल-विवाह का फिर से प्रचलन करादें | ६. दयानन्द ने अनेक प्राचीन ग्रन्थों में मिलावट होने के कारण उन्हें त्याज्य बताया था,आप फिर से उन ग्रन्थों में मिलावट कराकर प्रचार आरम्भ कर दें । दयानन्द ने आर्य समाज का गठंन किया,आप अनार्य समाज की रचना करें । ऐसे ही कितने कार्य दयानन्द ने किये उन्हें उलटे बिना आपके सपनों का हिन्दुस्तान नहीं बन सकता ।


आगे आपने आर्य समाज को मरणासन्न लिखा है और उसके वैसा ही रहने की निश्चितता बताई हे । इसमें हम आपकी कोई सहायता नहीं कर सकते।जिसको जितना देखने की सीमा होती है वह उतना ही देख सकता है । आर्य समाज मरणासन्न है या नहीं यह तो आर्य समाज स्वयं ही अच्छी तरह जानता है ।


अब बात मीरा के पद की आती है जो आपको किसी आर्य समाज मन्दिर में नहीं गाने दिया गणा जिसके कारण आप समस्त आर्य समाज से कुपित हैं । यह घटना परोक्ष की होने के कारण हम कुछ भी टीका टिप्पणी नहीं करना चाहते । पता नहीं कया परिस्थिति रही होगी । एक ही पक्ष को सुनकर कोई राय कायम नहीं को जा सकती ।


उदारता को आपने मनुष्य होने की पहली पहचान बताया है तभी तो आपने बड़ी उदारता ? से हमसे परिचित न होते हुए भी उपाधियाँ प्रदान करने का स्तुत्य कार्य किया । होली की शुभ कामनाओं के लिए धन्यवाद, आप के लिखे अनुसार हमने पत्र का उत्तर दे दिया है । अब आपका दायित्व है कि आप पत्रकार होते हुए हमारे इस पत्र को अपने उत्तर सहित अपने पत्र में स्थान दें जिसे आप अपनी सेवा से सुशोभित कर रहे हें ।


भवदीय


स. कुमार

उपसहार


पाठक वृन्द ! “शिव कौन हें ?” उसकी प्रतिक्रिया और उसका उत्तर आपके समक्ष प्रस्तुत हैं। निर्णय आपको ही करना है कि आप कौन से शिव को चाहते हैं। हमारा आशय तो यही है कि यथार्थ की पृष्ठभूमि पर उतर कर सत्य का स्वीकार करना ही अधिक समीचीन है। हमने इस निबन्ध में शिव का मूल बेदों में पाया और ज्ञात हुआ कि वेद का शिव परमात्मा का एक नाम है जो कल्याणकारी है। आदि सृष्टि में वेद के अन्तर्गत अनेक नामों से परमात्मा का स्मरण किया गया है। मानव सृष्टि के विस्तार के साथ-साथ मानवों के नाम भी वेद में आये नामों के आधार पर रखे गये और यह परम्परा आज तक चली आ रही है। स्पष्ट है कि आज कोई व्यक्ति शिव नामधारी हो तो उसका वर्णन वेदों में मानना उचित नहीं है। ऐसा ही महाभारत कालीन पर्वतीय राजा शिव के साथ समझना चाहिए।


कालान्तर में हिमालय पर्वत की कल्पना मुनष्यवत्‌ करने पर जो चित्र बनता है उसे भी इस पर्वतीय शासक के जीवन चरित्र के साथ जोड़ा गया और वाम मार्ग ने इसमें लिंग पूजा का समावेश कराकर इसे वर्तमान स्थिति में पहुंचा दिया।


साधारण जन तो गतानुगतिक रीति का ना सरण करते हें उन्हें जो धर्म के नाम पर बताया जाता है, स्वीकार कर लेते हैं। जब यह परम्परा रूढ़ हो जाती है तो इससे विमुख होना कठिन हो जाता है। आवश्यकता इसी बात की है कि यथार्थ को स्वीकार कर ऐसी गलत परम्परा को यथाशीघ्र बहिष्कृत कर देना चाहिए।


उपासना करने योग्य तो वही परमात्मा है जो इस संसार का रचयिता, पालन कर्ता और संहर्ता है। उसके गुणों का पार नहीं है। बेद में उसी परमात्मा को शिव नाम से भी उल्लिखित किया गया हे।


सांसारिक अवगुणों से युक्त व्यक्ति परमात्मा हो ही नहीं सकता। लोक कथाओं और पुराणों का शिव संसार के सभी दुर्गुणों से युक्त है अतः वह हमारा आदर्श होने योग्य नहीं है। उसकी लोकप्रियता का कारण भी यही है कि उसके चरित्र के साथ जिसने जैसा चाहा अपना सम्बन्ध जोड़ लिया। यहाँ तक कि भाँग, गाँजा, अफोम, चरस आदि मादक पदार्थों का सेवन करने वाले व्यक्ति भी अपने को शिव भक्त बताकर उसे अपने जैसा ही वर्णित करते हैं। वाममार्ग का समर्थन भी शिव कथाओं से होता है। ऐसे चर्ित्रों की कथाएं हमारा मनोरंजन भले ही करती हों, हमें परमात्मा की ओर नहीं ले जा सकती।


परमात्मा कौ प्राप्ति के लिए तो बेद वर्णित शिव का ही आश्रय लेता उचित है।

Read More

11 June, 2023

জগন্নাথের রথ

11 June 0
জগন্নাথের রথ

 আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে হয় শুভ রথযাত্রা ৷ রথে চেপে মাসির বাড়ি যান জগন্নাথ, বলরাম আর শুভদ্রা ৷

রথের দিন মন্দির ছেড়ে গুন্ডিচা মন্দিরে মাসির বাড়িতে যান জগন্নাথ ৷ গুন্ডিচা ছিলেন রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের স্ত্রী ৷ ইন্দ্রদ্যুম্নই পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা ৷

জগন্নাথের রথের রশির নাম ‘শঙ্খচূড়া নাগুনি’ ৷ জগন্নাথের রথে সওয়ার হন আরও ৯ দেবতা ৷ এঁদের মধ্যে রয়েছেন গোবর্ধন, কৃষ্ণ, নরসিংহ, রাম, নারায়ণ, হনুমান, রুদ্র ৷ জগন্নাথের রথে একজন রক্ষীও থাকেন ৷ এই রক্ষীর নাম গারুদা ৷

জগন্নাথের রথের নাম নন্দীঘোষ ৷ রথে জগন্নাথের সঙ্গী হন মদনমোহন ৷ উচ্চতা ৪৫ফুট। রথের গায়ে থাকে হলুদ এবং সোনালি রং। এই রথে রয়েছে সাত ফুট ব্যাসের ১৬টি চাকা। জগন্নাথের রথের সারথির নাম মিতালি। ৮৩২ কাঠের টুকরো দিয়ে তৈরি হয় এই রথ ৷ রথের মাথায় থাকা পতাকার নাম ত্রৈলোক্যমোহিনী ৷ রথে ৪টি ঘোড়া থাকে ৷ 

বলরামের রথের নাম তালধ্বজ ৷ রথে তাঁর সঙ্গী হন রামকৃষ্ণ ৷ তালধ্বজের উচ্চতা ৪৪ ফুট ৷ এই রথে ৬ ফুট ব্যাসের মোট ১৪ চাকা রয়েছে ৷ ৭৬৩ কাঠের টুকরো দিয়ে তৈরি হয় রথ ৷ লাল ও সবুজ কাপড়ে সাজানো হয় তালধ্বজ ৷

তালধ্বজের রক্ষীর নাম বাসুদেব ৷ সারথি সাত্যকি। রথের মাথায় পতাকার নাম উন্যানী ৷ রথের রশির নাম বাসুকি নাগ ৷ বলরামের রথেও ৯ দেবতা থাকেন ৷ এঁদের মধ্যে আছেন কার্তিক, গণেশ, সর্বমঙ্গলা, মৃত্যুঞ্জয়, মুক্তেশ্বর ৷ 

সুভদ্রার রথের নাম দর্পদলন ৷ রথে থাকেন সুভদ্রার সঙ্গিনী সুদর্শনা ৷ দর্পদলনের উচ্চতা ৪৩ ফুট ৷ এই রথে মোট ১২ চাকা রয়েছে ৷ লাল এবং কালো কাপড়ে সাজানো হয় রথ ৷ দর্পদলনের সারথির নাম অর্জুন ৷ দর্পদলনের মাথায় থাকা পতাকার নাম নদম্বিকা ৷ রথের রশির নাম স্বর্ণচূড়া নাগুনি ৷

সুভদ্রার রথে থাকেন ৯ দেবী ৷ এঁদের মধ্যে রয়েছেন চণ্ডী, চামুণ্ডা, বনদুর্গা, শুলিদুর্গা, শ্যামাকালী, মঙ্গলা, বিমলা ৷

প্রতিবছর ২২টি সিঁড়ি বা ধাপ বেয়ে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে নামানো হয়। যাঁকে বলে ‘বৈশি পঁহচা’। পুরীর মন্দিরের সিংহদুয়ার থেকে কুর্মবেড়া পর্যন্ত এই ‘বৈশি পঁহচা’র প্রতিটি ধাপ খোন্ডালাইট পাথর দিয়ে তৈরি। এই স্থানটিকে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করেন পুণ্যার্থীরা। রথ ঘিরে এমন অজস্র রীতিনিয়ম। 

রথ তৈরির নিয়ম


জগন্নাথ দেবের রথ তৈরি করতে দুই মাস সময় লাগে । এই সময়ে বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। একটি রথ তৈরি করতে, প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হল কাঠ নির্বাচন। রথের জন্য পেরেক বা যে কোনও কাঠ ব্যবহার করা হয় না। রথের কাঠ সোজা ও খাঁটি হতে হবে। রথ প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত কারিগররাও পুরো ২ মাস সেখানে থাকেন এবং তাঁদেরও অনেক নিয়ম মেনে চলতে হয়।

রথ তৈরির কারিগররা একই সময়ে খান। এই সময়টা তাঁরা আমিষ খাবার খেতে পারে না। তাঁদের খেতে হয় ছিমছাম খাবার। এই সময়ে, কারিগরদের ব্রহ্মচর্য পালন করা বাধ্যতামূলক। সুতক বা পাটকের মতো কারিগরের পরিবারের কোনও সদস্যের সঙ্গে যদি কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, তবে সেই কারিগরকে রথ তৈরির কাজ থেকে সরে আসতে হয়। 


সোনার কুড়াল দিয়ে রথের কাঠ কাটা হয়

জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার জন্য রথ তৈরির কাজ শুরু হয় অক্ষয় তৃতীয়ার দিন থেকে। রথ তৈরির জন্য জঙ্গল থেকে কাঠ আনা হয়। মন্দির কমিটির তরফে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে খবর পাঠানো হয়। তারপরে মন্দিরের পুরোহিতরা জঙ্গলে গিয়ে সেই গাছের পুজো করেন । নির্দিষ্ট সেই গাছের গুঁড়ি সোনার কুড়াল দিয়ে কাটা হয়। এই কুঠারটি প্রথমে ভগবান জগন্নাথের মূর্তির পায়ে স্পর্শ করানো হয়।

জগন্নাথের রথ

কোন কোন গাছের কাঠ রথে ব্যবহার করা হয়


জগন্নাথের রথ তৈরিতে ব্যবহার করা হয় নিম ও হাঁসি গাছের কাঠ। রথযাত্রায় ভগবান জগন্নাথ,  বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রা প্রত্যেকেরই  রথ তৈরি করা হয়। এভাবে মোট ৩টি রথ তৈরি হয়। তিনটি রথ নির্মাণের জন্য প্রায় ৮৮৪ টি গাছের ১২ ফুটের কাণ্ড ব্যবহার করা হয়। এগুলি থেকে রথের স্তম্ভগুলি তৈরি করা হয়। 

রথ বিষয়ে শাস্ত্রে বেশ কিছু প্রমান রয়েছে, তবে তার সাথে জগন্নাথের রথের কোন সম্পর্ক নেই। যেমন কঠ উপনিষদের বচনানুসারেঃ-


আত্মানং রথিনং বিদ্ধি শরীরং রথমেব তু।
বুদ্ধিং তু সারথিং বিদ্ধি মনঃ প্রগ্রহমেব চ॥৩॥

ইন্দ্রিয়াণি হয়ানাহুর্বিষয়াংস্তেষু গোচরান্।
আত্মেন্দ্রিয়মনোয়ুক্তং ভোক্তেত্যাহুর্মনীষিণঃ॥৪॥
[কঠ উপনিষদ ১/৩/৩-৪]

পদ০-আত্মানং। রথিনং। বৃদ্ধি। শরীরং। রথং। এব। তু। বুদ্ধিং। তু। সারথিং। বিদ্ধি। মনঃ। প্রগহং। এব। চ।।
পদার্থ-( আত্মানম্) আত্মাকে ( রথিনম্) রথী ( বিদ্ধি) জানিবে ( তু) এবং ( শরীরম্) শরীরকে ( এব) নিশ্চয় করে ( রথম্) রথ জানিবে ( তু) এবং ( বুদ্ধিম্) বুদ্ধিকে ( সারথিম্) সারথি ( বিদ্ধি) জানিবে ( চ) এবং ( এবং) নিশ্চয় করে ( মনঃ) মনকে ( প্রগ্রহম্) লাগাম জানিবে।

ভাষ্য-এই শ্লোকে রথের অলঙ্কার দ্বারা শরীরের বর্ণনা করা হয়েছে অর্থাৎ এই শরীররূপী রথ যার সারথি বুদ্ধি, মন লাগাম এবং আত্মা যার মধ্যে সারথি। ভাব এই যে,রথীর রথ সঠিক চলে যার বুদ্ধিরূপী সারথি এবং মন রূপী লাগাম সঠিক হয়।
সরলার্থ— আমাদের প্রত্যেকের শরীর হলো রথ,আর বামন জগন্নাথ (আত্মা ও পরমাত্মা) হলো সেই রথের স্বামী,আমাদের মন হলো লাগাম,ঘোড়াগুলি হলো ইন্দ্রিয় এবং মনীষীগণ (যোগীপুরুষ-আমরা) বুদ্ধিরুপী সারথির নিয়ন্ত্রনে মন ও ইন্দ্রিয়কে বশীভূত করে (বিষয়রুপী) জীবন পথে পরিচালনা করে পরমাত্মামুখী যাত্রা (শুদ্ধজ্ঞানের দ্বারা কর্ম) করে উনার আশ্রয় লাভ করে (ঈশ্বরপ্রাপ্তি)।

পদ০-ইন্দ্রিয়াণি। হয়ান্। আহুঃ। বিষয়ান্। তেষু। গেচরান্।
আত্মেন্দ্রিয়মনোযুক্তং। ভোক্তা। ইতি। আহুঃ। মনীষিণঃ॥৪॥

পদার্থঃ-( ইন্দ্রিয়াণি) ইন্দ্রিয়াদিকে ( হয়ান্) ঘোড়া ( আহুঃ) বলা হয় ( তেষু) তার ইন্দ্রিয়ের মধ্যে ( বিষয়ান্) শব্দ, স্পর্শাদি বিষয়কে ( গোচরান্) মার্গ বলা হয় ( মনীষিণঃ) মননশীল পুরুষ ( আত্মেন্দ্রিয়মনোযুক্তং) শরীর, ইন্দ্রিয় তথা মন এই তিন দ্বারা যুক্ত আত্মাকে ( ভোক্তা) ভোক্তা ( ইতি,আহুঃ) বলা হয় ॥৪॥

ভাষ্য-এই শ্লোকে বলা হয়েছে যে,ওই আত্মা যার শরীর ব্রহ্মচর্য্যাদি ব্রত দ্বারা আরগ্য,অভেক্ষ্য পদার্থের ত্যাগ দ্বারা বুদ্ধি শুদ্ধ,সত্যাদি ব্রত দ্বারা মন নির্মল এবং ইন্দ্রিয়াদি যার বশীভূত ওই পুরুষ নির্ভয়তা থেকে নিজ লক্ষ্যকে প্রাপ্ত হয়। মায়াবাদি উক্ত শ্লোকে ভোক্তার অর্থ চিদাভাস করে, আবাসবাদের রীতি দ্বারা ব্রহ্মের জীব উৎপত্তিকে "চিদাভাস" বলে,তাদের মতে জীব উক্ত রীতি দ্বারা ব্রহ্ম জীব হয়ে যায়,এই অর্থ এখানে সঙ্গত নয়,কারণ এই প্রকরণে ব্রহ্মকে জীব ভাব থেকে নিরুপণ কিন্তু করা হয়নি অনাদিকাল হতে জীবকে ব্রহ্ম থেকে ভিন্ন নিরুপণ করা হয়েছে॥৪॥ ( ভাষ্য০-শ্রী আর্যমুনি পরিব্রাজক)

বেদে বলা আছে-
যম্ দেবাসোঽবথ বাজসাতৌ যম্ শূরসাতা মরুতো হিতে ধনে।
প্রাতর্যাবাণমং রথম্ ইন্দ্র সানসিম্ ওরিষ্যন্তম্ আ রুহেমা স্বস্তয়ে॥
[ঋগ্বেদ ১০/৬৩/১৪]
অর্থ— হে উজ্জ্বল দিব্য ধনের অধিকারী বিদ্যান পুরুষ! অন্ন,বল ও হিতকর ধনাদি লাভের জন্য ঈশ্বর লাভের সাধন যে রথকে তোমরা রক্ষা কর,সেই সুগঠিত রথে কল্যাণের জন্য আমরা আরোহন করি।
ভাবার্থ— বিদ্বান পুরুষের নাম মরুত এবং শরীরের নাম রথ।এই রথ শুধু অন্ন,বল, ও ধন লাভেরই সহায়ক নয়;ইহা ঈশ্বর লাভেরও সহায়ক।নীরোগ শরীর রূপী রথকে ব্রাহ্মমুহূর্তে সন্ধ্যোপাসনায় নিযুক্ত করবে।

যস্যাশ্বা॑সঃ প্র॒দিশি॒ যস্য॒ গাবো॒ যস্য॒ গ্রামা॒ যস্য॒ বিশ্বে॒ রথা॑সঃ।
যঃ সূর্যং॒ য উ॒ষসং॑ জ॒জান॒ যো অ॒পাং নে॒তা স জ॑নাস॒ ইন্দ্রঃ॑ ॥ (অথর্ববেদ ২০।৩৪।৭)
পদার্থঃ (য়স্য) যার (প্রদিশি) আজা বা কৃপাতে (অশ্বাসঃ) কর্মেন্দ্রিয় কর্মে নিযুক্ত হয়, (য়স্য) যার আজ্ঞাতে (গাবঃ) জ্ঞানেন্দ্রিয় জ্ঞান প্রাপ্ত করে, (য়স্য গ্রামা) যার আজ্ঞাতে প্রাণসমূহ আপন আপন কর্মে নিযুক্ত এবং (য়স্য বিশ্বে রথাসঃ) যার আজ্ঞাতে শরীররূপ রথ বিশ্বে কর্মশীল, (য়ঃ সূর্যম) যে ভগবান সূর্যকে (য়ঃ উপসম্) এবং প্রভাত বেলা কে (জজান) উৎপন্ন করে (য়ঃ অপামা নেতা) যে ভগবান সর্বত্র জলের প্রেরণকারী। (জনাসঃ) হে মানুষ! (স ইন্দ্ৰঃ) তিনি মহান ঐশ্বর্য্যসম্পন্ন ইন্দ্র।
ভাবার্থ: যেই পরমাত্মার কৃপায় আমাদের কর্মেন্দ্রিয়, জ্ঞানেন্দ্রিয় এবং শরীর নামক রথ গতিশীল বা নিজ নিজ কর্মে নিযুক্ত হয়, যে ভগবান সূর্য এবং প্রভাত বেলাকে সৃষ্টি করেছেন এবং জল কে যে কোন স্থানে প্রেরণ করেছেন, হে মানুষ তিনিই পরমেশ্বর্য্যসম্পন্ন পরমাত্মা ইন্দ্র।।
শরীররূপী প্রকৃত রথকে চিনুন, আর সেই রথের ভেতরে বিদ্যমান রথি (জগতের নাথ জগন্নাথকে) চিনুন, চিনতে পারলে ও তাকে জানতে পারলেই জীবন সার্থক।
Read More

30 October, 2022

বিষ্ণুর শেষ শয্যা

30 October 0
বিষ্ণুর শেষ শয্যা
ক্ষীরোদসমুদ্রে অনন্তনাগের উপর বিষ্ণুর শয়ন

"রাগবিরাগযার্য্যোগঃ সৃষ্টি" অর্থাৎ ঈশ্বরীয় শক্তির দ্বারা গতিমান প্রাকৃতি পদার্থের পরস্পর রাগ (আকর্ষণ) এবং বিরাগ (বিকর্ষণ) দ্বারা সৃষ্টি রচনা চলতে থাকে। প্রকৃতির রহস্যগুলি সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করার জন্য, ভারতীয় পণ্ডিতরা অলঙ্কার এবং রূপকের সাহায্য নিয়ে পৌরাণিক চিত্রকর্ম তৈরি করেছেন। আর পৌরাণিক মূর্খ ফন্ডিতেরা সেই সকল অলঙ্কারীক রূপক চিত্র ও গল্প কে ঈশ্বর ভেবে কিংবা নিজ নিজ স্বার্থে সাধারন ভোলেভালে জনতার মধ্যে মূর্ত্তিপূজার বিষ সঞ্চার করে দিয়েছেন। 

ক্ষীরসাগরে বিশ্রাম-শয্যায় শুয়ে থাকা ভগবান বিষ্ণুর নাভি-পদ্মের ছবি আসলে সৃষ্টিরই স্তরগুলো খুলে দেওয়ার প্রয়াস করা হয়েছে। বেদে অন্তরিক্ষকে'সমুদ্র' তাথা যোগসূত্রে অভ্যন্তরীণ শক্তির সুপ্ত অবস্থাকে 'কুণ্ডলিনী' (একটি সাপের জড়বত বসে থাকার মূদ্রা) বলা হয়েছে। এই অভিব্যক্তিগুলি ছবিতে, অন্তরিক্ষকে সমুদ্র রূপে দেখানো হয়েছে, প্রকৃতির সুসুপ্তাবস্থাকে শেষনাগের কুন্ডলিনী রুপে এবং ভগবান বিষ্ণুকে শেষ-শয্যায় (প্রকৃতি) নিদ্রালু অবস্থায় দেখানো হয়েছে প্রকৃতির নিয়ন্ত্রকের নিশ্চেষ্ট অবস্থা দেখানোর হয়েছে। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের উৎপত্তির ভাব দেখানোর জন্য, গর্ভবতী বিষ্ণুর নাভি থেকে উদ্ভূত দীপ্তিকে প্রতীকী করে পদ্মের কড়ি দ্বারা নাড়ীর কল্পনাকে সাকার করার প্রচেষ্টা করা হয়েছে। এই নাড়ীর ওপর প্রস্ফুটিত পঞ্চকমলদলের মাধ্যমে পাঁচটি তন্মাত্র শক্তি,পদ্মের সহস্র তন্তু থেকে গতিমান পরিমণ্ডলীয় কণা, পদ্মের কেন্দ্রের হলুদ বৃত্তাকার অংশ থেকে নীহারিকা (নেবুলা) তথা চারমুখ যুক্ত জাতক ব্রহ্মা দ্বারা চতুর্দিক্ রচণা হওয়ার পরিকল্পনাকে চিত্রিত আকারে বোঝানোর প্রয়াস করা হয়েছে।

পরবর্ত্তী রচনাতে সহযোগী কল্যাণকারী জাগতিক পদার্থের (অষ্টপা) ভাবের রূপে ব্রহ্মার হাতে থাকা কমন্ডল, চর-অচর জগতের রচনাক্রম কে চিত্রিত করতে ওনার হাতে মালা তথা জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিস্তার স্বরূপ পুস্তুক চিত্রিত করা হয়েছে। প্রসব-সময় (ব্রহ্মাণ্ড-উৎপত্তির স্থিতি/অবস্থা) দেখানোর হেতু প্রসূতি সহায়তায় উপস্থিত ধাত্রীদের প্রতীক হিসেবে দেবতাদের চিত্রিত করা হয়েছে এবং প্রসব-পরবর্তী পরিশ্রমের / পীড়া দমন হেতু লক্ষ্মী গর্ভবতী বিষ্ণুর পা টিপে দিচ্ছেন এরূপ চিত্র দেখানো হয়েছে। কমলবত ব্রহ্মার এই ভারতীয় পরিকল্পনা অনুসারে, মিশর, মেসোপটেমিয়া এবং গ্রিসের প্রাচীন সভ্যতায়, মহাবিশ্বের স্রষ্টাকে সমুদ্র থেকে উদিত পদ্মের উপর বসে থাকা শিশুর মতো গ্রহণ করা হয়েছে (Arum, God of Sun and father of all other gods, appeared out of primeval watery abyss, as a child sitting in a lotus bud, and given birth to the gods and goddesses and performed his act as creator-Ency. Brit, Vol. VI)।

বস্তুতঃ আকাশের ন্যায় ব্যাপক বলে এবং সর্ব্বাপেক্ষা বৃহৎ বলে ব্রহ্ম ঈশ্বরের নাম (যজু০ ৪০।১৭)। সমগ্র বেদাদি শাস্ত্রে ঈশ্বরকে নিরাকার বলা হয়েছে। সর্ব্ব জগতের স্রষ্টা বলে তাঁকেই "ব্রহ্মা" বলা হয়েছে,আবার সর্ব্বব্যাপক বলেই তো পরমাত্মাকে "বিষ্ণু" বলা হয়েছে। ইতিহাস তথা পুরাণে ব্রহ্মা, বিষ্ণু নামক বিদ্বান পুরুষের উল্লেখ পাওয়া যায়, পৌরানিক ব্যক্তি যাদের ঈশ্বর বানিয়ে দিয়েছেন, কল্পিত চিত্রের আকারে যা অলঙ্কারীক, উপমালঙ্কারীক শব্দ থেকে নেওয়া। (বিশ ব্যাপ্তৌ) এই ধাতু হতে "নু" প্রত্যয় করে বিষ্ণু শব্দ সিদ্ধ হয়। পরমেশ্বর চর এবং অচর (স্থাবর ও জঙ্গম) জগতে ব্যাপ্ত হয়ে থাকায় পরমাত্মার নাম বিষ্ণু, ইনি কোন ভিন্ন চরিত্রের নন, না লক্ষ্মী কোন ভিন্ন চরিত্র, না তো নারায়ণ। নারা অর্থাৎ জল ও জীব যাঁর নিবাস্থান সেই সর্ব্বজীবব্যাপক পরমাত্মার নাম "নারায়ণ"(মনু০ ১।১০)। (লক্ষ দর্শনাঙ্কনয়োঃ) এই ধাতু থেকে "লক্ষ্মী" শব্দ সিদ্ধ হয়। যিনি চরাআচর জগতের দ্রষ্টা এবং জগৎকে চিহ্নিত অর্থাৎ দৃষ্টির উপযোগি করেন, যিনি শরীরস্থ চোখ,নাক,ইত্যাদি, ফল,মূল,পৃথিবী, চন্দ্রসূর্য্যাদি চিহ্ন করেন; যিনি স্বয়ং সকল শোভার শ্রেষ্ঠ শোভা, যিনি বেদাদি শাস্ত্রের এবং ধার্মিক বিদ্বান যোগীদের লক্ষ সেই পরমেশ্বরের নাম লক্ষ্মী।

(অগ্নি) সর্বেষাং দেবানামাত্মা (শ০ ১৪।৩।২।৫), অগ্নির্বে দেবতানাং মুখম্ (শ০ ৩।৬।১।৬), অগ্নির্বৈ দেবয়োনিঃ (ঐ০ ১।২২), অগ্নিরু দেবানাং প্রাণঃ (১০।১।৪।১২), যজ্ঞ বৈ বিষ্ণুঃ(শ০ ১।৬।৩।৬)।

ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ১।১।৪ "অগ্নিয়ে সর্বা দেবতা বিষ্ণুঃ সর্বা দেবতাঃ"_অর্থাৎ এই সৃষ্টির সমস্ত দৃশ্যমান এবং আকর্ষণাদি বলে সমপন্ন কণা বা তরঙ্গ বিদ্যমান ঐ সমস্তের ভেতর বিদ্যূতরূপ অগ্নি অবশ্য বিদ্যমান। এই বিদ্যুৎই সেই সমস্ত জিনিসকে সচল ও জীবন্ত রাখে। এই বিদ্যুৎই সমস্ত পদার্থের উৎস এবং এর কারণেই বিভিন্ন ধরনের কণা একে অপরকে ভক্ষণ করে। এই বিদ্যুদগ্নি সকল পদার্থের আত্মা, অর্থাৎ এই বিদ্যুদগ্নি সব কিছুর মধ্যেই সর্বদা চলমান বা পরিব্যাপ্ত। তাই মহর্ষি বলেছেন "অগ্নিয়ে সর্বা দেবতাঃ" যার তাৎপর্য হল সমস্ত দেবতা বিদ্যুতে বিরাজমান কারণ সমস্ত পদার্থ বিদ্যুৎময় হয়। এদিকে, বিষ্ণু একটি নক্ষত্রের রূপে, যিনি তাঁর মোহনীয়তা (আকর্ষণ) এবং তেজ (দীপ্তি) দ্বারা সকলকে পরিব্যাপ্ত করেন, বিশেষ করে তাঁর কেন্দ্রীয় ভাগ, সমস্ত দেব পদার্থের মহান সঙ্গম স্থান। এই নক্ষত্রগুলির মধ্যে, বিভিন্ন ধরণের পদার্থের অণু এবং বিভিন্ন ধরণের তরঙ্গ সর্বদা তৈরি হয়। এই কারনে বিষ্ণুকে সকল দেবতার আদি ও বাসস্থান বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এই হলো বেদ ও ব্রাহ্মণ গ্রন্থের বিষ্ণু। এখানে দেবতা পদে বিভিন্ন প্রাণ রশ্মি গ্রহণ করা উচিত।

আমরা জানি সৃষ্ট পদার্থ অর্থাৎ প্রকৃতিজাত পদার্থকে ঈশ্বরবুদ্ধিতে উপাসনা করতে বেদ মন্ত্রে [যজুর্বেদ অধ্যায় ৪০ মন্ত্র সংখ্যা ৯] নিষেধ করা হয়েছে (অন্ধং তমঃ প্রবিশন্তি যেহসম্ভূতিমুপাসতে। ততো ভূয় ইব তে তমো য উ সম্ভূত্যাং রতাঃ)। শ্বেত০ উ০ ৪।১৯ সেখানে কোনো জড় মূর্তি ঈশ্বরের চিহ্ন বা অনুমানের উপায়ভূত হেতু হতে পারে না বলা হয়েছে। যজু০ ৩২।৩ মন্ত্রে ঈশ্বরের কোনো প্রতিমা নেই অর্থাৎ তাঁর প্রতিমা হতেই পারে না বলা হয়েছে [ন তস্য প্রতিমা অস্তি]।

আবার যজুর্বেদ ৪০।৮ নম্বর মন্ত্রে শব্দ এসেছে  "স পর্য়গাত্"- সেই ঈশ্বর সর্বত্র ব্যাপক। "অকায়ম্"- সেই ঈশ্বর স্থূল, সূক্ষ্ম তথা কারণ শরীর হতে রহিত। "অব্রণম্"- সেই পরমাত্মা অচ্ছেদ্য, অবিকারী সত্তা। "অস্নাবিরম্"- সেই পরমাত্মা জীবাত্মার মতো নস-নাড়ির বন্ধনে কখনও আসে না। "শুদ্ধম্"- অবিদ্যা আদি দোষে গ্রস্থ না হওয়ার কারণে সর্বদা পবিত্র। "মনীষী"- তিনি সমস্ত জীবের মনোবৃত্তিকেও জানেন। "স্বয়ম্ভূ"- তাঁর কোনো কারণ নেই, যা অনাদি স্বরূপ অর্থাৎ সেই ঈশ্বর জন্ম-মরণ তথা বৃদ্ধি-ক্ষয় হতে রহিত, ইত্যাদি বিষয়ের উপর বিচার করে মহর্ষি ব্যাসজী য়োগ ভাষ্যতে ঈশ্বরকে "সদৈব মক্তঃ" বলেছেন। 

"স পর্যগাচ্ছুক্রমকায়মব্রণমস্নাবিরꣳ শুদ্ধমাপাপবিদ্ধম্ । 

কবির্মনীষী পরিভূঃ স্বয়ম্ভূর্যাথাতথ্যতোহऽর্থান্ ব্যদধাচ্ছাশ্বতীভ্যঃ সমাভ্যঃ।।"যজু০ ৪০।৮

অনেক পৌরাণিক আপেক্ষকারী বেদ ও উপনিষদের অলঙ্কারীক, উপমালঙ্কার থেকে ঈশ্বর সাকার প্রমাণ করার আপ্রাণ চেষ্টা করে থাকেন তাঁরা শ্বেত০ উ০ ৩।১৯ নম্বর শ্লোকের মহাত্মা নারায়ণ স্বামীকৃত অর্থ পড়ে দেখুন______

অপাণিপাদো জবনো গ্রহীতা পশ্যত্যচক্ষুঃ স শৃণোত্যকর্ণঃ। 

স বেত্তি বেদ্যং ন চ তস্যান্তি বেত্তা তমাহুরগ্র্যং পুরুষম্ মহাস্তম্। শ্বেতা-৩/১৯

পদার্থ-[ পরমেশ্বরের ]  ( অপাণিপাদঃ) হাত-পা নেই [ পরন্তু ] ( গ্রহীতা) নিজ শক্তিস্বরূপ হাত দ্বারা সকলের গ্রহণ কর্তা [ এবং ] ( জবনঃ) সর্বব্যাপক হওয়ায় সব থেকে অধিক বেগবান্ গতিশীল,( অচক্ষুঃ) চোখের গোলক নেই [ পরন্তু ] ( পশ্যতি) সকলকে যথাযথ দেখেন,( অকর্ণঃ) কান নেই [ পরন্তু ] ( শুণোতি) [ সবই বলেন ] শোনেন,[  অন্তঃকরণ নেই পরন্তু ] ( সঃ) সেই  ( বিশ্বম্) সমস্ত জগৎকে ( বেত্তি) জানেন ( চ) এবং ( তস্য) তাঁর ( বেত্তা) [ অবিধিসহিত ] জ্ঞাতা কেউ নেই। ( তম্) তাঁকে ( অগ্রয়ম্) সব থেকে শ্রেষ্ঠ,( মহান্তম্) সব থেকে মহান্ ( পুরুষম্) [ সব থেকে পূর্ণ হওয়ায় ] পুরুষ ( আহুঃ) বলা হয়।।

সররার্থ-পরমেশ্বরের  হাত-পা নেই পরন্তু নিজ শক্তিরূপ হাত দ্বারা সকলের গ্রহণ কর্তা  এবং সর্বব্যাপক হওয়ায় সব থেকে অধিক বেগবান্ গতিশীল,চোখের গোলক নেই পরন্তু সকলকে যথাযথ দেখেন, কান নেই পরন্তু  সবই বলেন শোনেন,অন্তঃকরণ নেই পরন্তু সেই  সমস্ত জগৎকে  জানেন এবং তাঁর অবিধিসহিত  জ্ঞাতা কেউ নেই। তাঁকে  সব থেকে শ্রেষ্ঠ, সব থেকে মহান্ সব থেকে পূর্ণ হওয়ায় পুরুষ  বলা হয়।। 

ও৩ম্ শম্
Read More

13 September, 2022

রামায়ণে অকাল বোধন

13 September 0

 শরৎকালে পুরুষোত্তম রাম চন্দ্র জী যখন যুদ্ধযাত্রাই করেননি, তখন শরৎকালে, অকালবোধন হল কিভাবে ?

বাল্মীকি রামায়ণম্ কিষ্কিন্ধ্যাকান্ড ষড়্ বিংশঃ সর্গঃ শ্লোক ১৪-১৭ দেখুন..আশ্বিন মাসে,রাম জী রাবণের বিরুদ্ধে কোন যুদ্ধ যাত্রাই করেননি। রাম চন্দ্র জী যুদ্ধযাত্রা করেছিলেন, কার্তিক মাসে।
বাল্মীকি মুনি রচিত মূল রামায়ণ রামায়ণম্ কিষ্কিন্ধ্যাকান্ড ষড়্ বিংশঃ সর্গঃ শ্লোক ১৪-১৭
পূর্বোহয়ং বার্ষিকো মাসঃ শ্রাবণঃ সলিলাগমঃ।
প্রবৃত্তাঃ সৌম্য চত্বারো,মাসা বার্ষিকসংজ্ঞিতাঃ।১৪
নায়মুদযোগসময়ঃ,প্রবিশ ত্বং পুরীং শুভাম্।।
অস্মিন্ বৎস্যাম্যহং সৌম্য পর্বতে সহলক্ষ্মণঃ।।১৫
ইয়ং গিরিগুহা রম্যা বিশালা যুক্তমারুতা।
প্রভূতসলিলা সৌম্য প্রভূতকমলোৎপলা।।১৬
কার্তিকে সমনুপ্রাপ্তে ত্বং রাবণবধে যতঃ
এষ ন সময়ঃ সৌম্য!প্রবিশ ত্বং স্বমালয়ম্।
অভিষিচ্যস্ব রাজ্যে চ সুহৃদঃ সম্প্রহর্ষয়।।১৭
সত্যি কি অকাল বোধন হয়েছিলো ?

রামজী কর্তৃক দুর্গাপূজার কুসুমিত পল্লবিত অলীক কাহিনীটি কবি কৃত্তিবাস জীর সৃষ্টি। তিনি মূল বাল্মীকি রামায়ণকে কোথাও সংক্ষিপ্ত করেছেন, কোথাও বা পুরাণ উপকথার কিংবদন্তির সঙ্গে নিজের অপূর্ব কল্পনা ও কবিত্ব মিশিয়ে ঘটনাকে বহুভাবে বিস্তৃত করেছেন, নুতন বিষয়ের অবতারণাও করেছেন।
মূল বাল্মীকি রামায়ণ যদি কারও পড়া নাও থাকে তাহলেও 'কবি কৃত্তিবাস ভগীরথের গঙ্গা আনয়ন ব্যাপারে, গঙ্গোত্রী হতে বেরিয়ে গঙ্গা যে সমস্ত পার্বত্যভূমির উপর দিয়ে ব'য়ে এসেছে তার উল্লেখ না করে, মোড়তলা আকৃনা মাহেশ নবদ্বীপ প্রভৃতি বাংলার যে সমস্ত গঙ্গাতীরবর্তী গ্রাম নগরাদির উল্লেখ করেছেন তা থেকেই সহজে বুঝতে পারবেন এ সমস্তই তাঁর সংযোজনা এবং এগুলি সঠিক নয় ।
"আকনা মাহেশ গঙ্গা দক্ষিণ করিয়া
বিহুরোদের ঘাটেতে উত্তরিল গিয়া।।”(আদিকাণ্ড. কৃত্তিবাসের রামায়ণ )
রামজীর দুর্গাপুজার গল্পটিও এই ধরণের একটি সংযোজনা মাত্র। বাল্মীকি মুনির রামায়ণ পড়লেই বুঝতে পারবেন, যখন লঙ্কাযুদ্ধ শুরু হয় তখন আশ্বিন কাৰ্ত্তিক মাস, শরৎকাল শেষ করে গেছে। বালীবদের পর রামজী সুগ্রীবকে বলছেন, 'এখন চার মাস বর্ষাকাল ( আষাঢ় হতে আশ্বিন), এখন যুদ্ধোদ্যোগের সময় নয়; কাৰ্ত্তিক মাস পড়লে রাবণ বধের আয়োজন করবে, এখন স্বগৃহে প্রত্যাবর্তন কর' “প্রবৃত্তাঃ সৌম, চত্বারো, মাসা: বার্ষিক সজ্ঞকাঃ...." (কিঞ্চিদ্ধাকা মূল বাল্মীকি রামায়ণ )।
দেখুন লঙ্কা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্ব্বেই শরৎকাল গত ! কৃত্তিবাসের বর্ণানুযায়ী বালি বধের পর সুগ্রীব যখন কিষ্কিন্ধ্যার সিংহাসনে বসেন তখন বর্ষাকাল । সীতা বিরহে রামচন্দ্রের দুঃখের অন্ত নেই।
"কাদিতে কাঁদিতে গেল সে প্রাণ মাস,
রামের ক্রন্দনে গীত গায় কৃত্তিবাস”।__[কিষ্কিন্ধাকাণ্ড ]
রাজ্যসুখে মত্ত সুগ্রীবকে লক্ষণ জী গিয়ে তিরস্কার করে আসার পর হুনুমানকে সুগ্রীব বললেন—
"পাঠাও হে ভূতগণে দেশ দেশান্তর,
দশ দিন মধ্যে যেন আইসে সত্বর" [কিষ্কিন্ধাকাণ্ড]
ভাদ্র মাসের দশ দিনে তাহলে বানর সৈন্তরা সমবেত হ'ল, দলে দলে ভাগ করে সুগ্রীব তাদেরকে নানাদিকে মাতা সীতার খোঁজ করতে পাঠালেন; হুকুম দিলেন ,
"যেই বীর মাসেকের মধ্যে না আইসে,
সবংশে মরিবে সেই আপনার দোষে”। [কিষ্কিন্ধাকাণ্ড]
ঐ কৃত্তিবাসী রামায়ণেই আছে, একমাস গত হয়ে গেল, অঙ্গদ হুমানাদি সীতার কোন সন্ধান না পেয়ে যখন প্রায়োপবেশনে মরতে চাইছেন,
সেই সময় ঘটায়ূর ভাই সম্পাতি তাদেরকে রাবণ কর্তৃক সীতা হরণের সংবাদ ছিলেন। কি ভাবে সমুদ্র লঙ্ঘন করে লঙ্কাতে যেতে হবে তাও বলে ছিলেন। তাহলে সম্পাতির কাছে গীতার খবরই পেলেন তাঁরা আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি !
তারপর হুমানের সমুদ্রলঙ্ঘন, অশোকবনে সীতাজীরদর্শন, লক্ষাদহন, ফিরে এসে রামচন্দ্রকে সীতাদত্ত অভিজ্ঞান উপহার, বানর দৈত সংগ্রহ সবকে পরিচালিত করে সমুদ্রতীরে আনয়ন প্রভৃতি ব্যাপার ঘটতে ঘটতে আশ্বিন মাস থাকছে কি ? তারপর এক মাস লাগলো শুধু সমুদ্র বন্ধন করতে।
"আনন্দে করয়ে নল সাগর বন্ধন
এক মাসে বাঁধা হল শতেক যোজন।"
তারপর লঙ্কাতে পৌঁছেও_____
"পঞ্চ দিন উভয় সৈন্যের সমাবেশ.."(কৃত্তিবাসকৃত রামায়ণ)
লঙ্কাযুদ্ধ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তো আর রাবণের সঙ্গে রামজীর যুদ্ধ হয় নি, দেবী দুর্গাও রাবণকে রক্ষা করতে ছুটে আসেন নি, বা তাই দেখে রাম মূর্তি গড়িয়ে দুর্গাপূজায় বসে যান নি ! কৃত্তিবাসেরই বর্ণনানুযায়ী অনেক রাক্ষস সেনাপতি মরলো, তরনীসেন, অতিকায়, ইন্দ্রজিৎ, কুম্ভকর্ণাদির মৃত্যুর পর রাবণ যুদ্ধে এলেন আর রামের বাণে পর্যুদস্ত হয়ে নিতান্ত অসহায় ভাবে কাদতে কাদতে প্রার্থনা জানালেন দেবী দুর্গার কাছে ;
"তবে তুষ্টা হয়ে মাতা দিল দরশন,
বাসলেন রথে কোলে করিয়া রাবণ"। (লঙ্কাকাণ্ড,কৃত্তিবাসকৃত)
আর তাই দেখে রামজী করলেন অকাল বোধন ? বিভীষণের পরামর্শে করলেন দুর্গাপূজা ? এই তো তোমাদের দুর্গোৎসবের উৎস? সমস্ত ঘটনার সময় এবং কাল পর্যালোচনা করে দেখ, কৃত্তিবাসেরই বর্ণনানুযায়ী, ঐ শরৎকাল গত হয়ে গেছে কতো দিন আগে!! তবুও কি বলবে আশ্বিন মাসে রাবণ বধের সময়, রামচন্দ্র মূর্ত্তিগড়ে অকাল বোধন পূর্ব্বক দুর্গাপূজা করেছিলেন ?
Read More

14 August, 2022

অর্ধনারীশ্বর

14 August 0

অর্ধনারীশ্বর মূর্তিটি দেহের ঠিক মাঝখান থেকে সমানভাবে বিভাজিত অর্ধেক পুরুষ ও অর্ধেক নারীর মূর্তি রূপে বর্ণিত হন। অর্ধনারীশ্বর নামটির অর্থ "অর্ধেক নারী যে ঈশ্বর"। বস্তুতঃ আকাশে [ব্যোমে] আগুনের স্থিতিকে সূর্যমন্ডলী (নাভিচক্র বা গ্যালাক্সি) তথা সোমের স্থিতিকে অগ্নির ওপর পরমেষ্ঠি মন্ডলে ( শূন্য / space ) অঙ্কিত করা হয়েছে । আগুনের স্বভাব / প্রকৃতি প্রসরণশীল, কিন্তু সোমের প্রকৃতি / স্বভাব সংকোচনশীল। অগ্নি বিরল ভাব বা তারল্যের কারণ আর সোমা হল ঘনত্বের কারণ। অগ্নি ভেদক হলে সোম সংযোজক, অগ্নি অর্ধগামী সোম অধোগামী।


অগ্নি অত্যন্ত শক্তিময় হয়ে সোমে সমাহিত হয়ে যায় এবং সোম তখন শক্তিময়ী হয়ে অগ্নিকে প্রখরতা প্রদান করে। সোম ভোজ্ঞা তো অগ্নি ভোক্তা এই জন্য সোম কে স্ত্রী (শিবা) এবং অগ্নি কে পুরুষ (উগ্র) শ্রেনীতে কল্পনা কারা হয়েছে। সোমের আনুপাতিক সংস্পর্শে আসায় অগ্নির এই উগ্ররূপ কিছুসময়ের জন্য শান্ত (শিব, পৌরাণিক চিত্র) হয়ে যায়, অগ্নির প্রবলতা সোমকেও উগ্র বানিয়ে তোলে। উদাহরণস্বরূপ, যখন ধ্বংসাত্মক আগুনে গোগৃত কে আনুপাতিকভাবে আহুতি দিয়ে যেখানে বায়ুমন্ডলে লক্ষ লক্ষ গুণ বেশি স্বাস্থ্য-বর্ধক অক্সিজেন উৎসর্জিত হতে থাকে, একই অগ্নিতে আবৃত হওয়ায়, ঘিও শিখার আকারে জাজ্বল্যমান হয় এবং এর তীব্রতা দ্বিগুণ করে তোলে। 

অর্ধনারীশ্বর


এই কারণে শিবা (সোম) থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় শিব (অমৃতাগ্নি) মহাকাল (রৌদ্রাগ্নি) নিজ নৈসর্গিক রূপে অনুভুত হতে থাকে, তখন শিবা (সোম)ও রৌদ্রপ্রধান গুণ (অগ্নি) বাহুল্যতায় নিজ মূল স্বভাব ত্যাগ করে মহাকালী অর্থাৎ প্রলয়কারিনী রূপ ধারণ করে। এই কারণে প্রলয় কাল কে পৌরাণিক মান্যতায় মহাকালের তান্ডবের প্রতিফল মানা হয়েছে। বস্তুতঃ অগ্নির সম্যক বিস্তার সোমকে সৃজনাত্মক নিখার তথা সোমের মাত্রাত্মক নৈবেদ্য অগ্নির আনুপাতিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হয়। অস্তিত্বগতভাবে পরিপূরক হওয়ায় তাদের আন্তঃসম্পর্ক অভেদ্য। পৌরাণিক চিত্রে প্রদর্শিত শিবের অর্ধনারীশ্বর স্বরূপ, সোমাগ্নির এই ঐক্যভাবের প্রতিফলিত রূপ মাত্র, যা পৌরাণিকেরা ঈশ্বর ভেবে পূজা অর্চনা করে থাকে। এই সোমাগ্নিকে "ব্যোমকেশ" বহা হয়ে থাকে। ১৬শ শতাব্দীর মূর্তিতত্ত্ব সংক্রান্ত গ্রন্থ শিল্পরত্ন, মৎস্যপুরাণ এবং অংশুমাদভেদাগম, কামিকাগম, সুপ্রেদাগম ও কারণাগম প্রভৃতি আগম গ্রন্থে অর্ধনারীশ্বরের মূর্তিতত্ত্বটি বর্ণিত হয়েছে। আগমগুলি প্রধানত দক্ষিণ ভারতে রচিত হয়। অর্ধনারীশ্বর মূর্তিটি হিন্দুদের দুটি পৌরাণিক শাখা শৈব ও শাক্তকে সংযুক্ত করার একটি প্রয়াস রূপেও ব্যাখ্যা করা হয়। উল্লেখ্য, শৈবে শিব-উপাসনা কেন্দ্রিক এবং শাক্ত শক্তি-উপাসনা কেন্দ্রিক সম্প্রদায়। একইভাবে হরিহর মূর্তির দ্বারা শিব এবং বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ দেবতা বিষ্ণুকে একীভূত করা হয়ে থাকে। অর্ধনারীশ্বর ধারণাটির উদ্ভব ঘটেছিল যুগপৎ কুষাণ ও গ্রিক সংস্কৃতিতে। কুষাণ যুগে (৩০-৩৭৫ খ্রিষ্টাব্দ) অর্ধনারীশ্বরের মূর্তিতত্ত্বটি বিবর্তিত হয়। কিন্তু গুপ্ত যুগেই (৩২০-৬০০ খ্রিষ্টাব্দ) এই মূর্তিতত্ত্ব পূর্ণাঙ্গ রূপ পরিগ্রহ করে [Swami Parmeshwaranand pp. 55–6]।

ডঃ ওম প্রকাশ পাণ্ডে জীর "দ্রষ্টব্য জগতের যথার্থ" অংশ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা হয়েছে।। 

এই ভাবে শিবা (মহাকালী) কে পৌরাণিক চিত্র প্রদান করে শিবের বক্ষঃস্থলের ওপর আরোহণ করে দেখানো হয়েছে। বহ্মাণ্ডে সমষ্টিরূপে ব্যাপ্ত ঘোর প্রাণ উর্জার সংযোগকে স্থিতির অনুসারে সাংকেতিক আকারেই দেখানো হয়েছে।

মহাকালী
মহাকালী


বিদ্যুতীকৃত কণা কখনও কখনও পৃথিবীর চৌম্বকীয় কবজ ভেদ করে এবং এর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে ঘর্ষণের কারণে সৌর বায়ুর এই জলগুলি উঠতে থাকে। ভারতীয় গ্রন্থে, এই উল্কাগুলিকে ভৌত আগুন, মহাকাশে প্রবাহিত বিদ্যুতের বিবর্তনকে রৌদ্র, বিদ্যুতের প্রভাবে গঠিত প্রোটন এবং কণা ইলেকট্রনের অণুকে (বা রৌদ্র) মারুত বা রুদ্রের পুত্র (মারুতো রুদ্রপুত্রসঃ ) হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে  এবং সৌর-বায়ু ভৌত বায়ু হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সম্ভবতঃ অন্তরিক্ষে ক্ষরিত হওয়া সোম নামক ঘনীভূত তরল শক্তির সংঘর্ষের কারণে, সূর্যের অতি উত্তপ্ত পৃষ্ঠগুলি কখনও কখনও তুলনামূলকভাবে শীতল হয়ে যায়, যার ফলস্বরূপ উপরে কালো দাগ দৃষ্টিগোচর হয় এবং এই সংঘাত সৌর বায়ু বা উৎসর্জনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেহেতু ভৌতিক অগ্নিকে রৌদ্রাগ্নির প্রকট স্বরূপ বিবেচনা করা হয়, অতঃ রুদ্রের এগারোটি রূপের মতো, আগুনকেও [fire] গুণ-দোষের আধারে গার্হপত্য (পুরাংগর্হাপত্য এবং নূতনগহপত্য), অনীয়া তথা ধীষ্ণয় (অর্থাৎ অগ্নিধীয়া,অচ্ছাবাকীয়,নেষ্ট্রীয়, পৌত্রিয়, ব্রাহ্মণচঞ্চনস্ত্রীয়, হোত্রীয়, প্রশাস্ত্রীয় ও মার্জালীয়  এগারোটি ভাগে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে)। রুদ্র-প্রাণের প্রাচুর্যের কারণে সৌরজগৎ থেকে যে তাপ / উষ্মা (সূর্য-তাপ) প্রবাহিত হয় তাকে প্রায়শই রৌদ্র বা রৌদ বলা হয়। 

অর্ধনারীশ্বর

একইভাবে, অগ্নিময় রুদ্রের উপরে, আপ (জল), বায়ু (প্রাণ) এবং সোম (অমৃত) এর ক্রমগুলি থেকে ক্ষয়প্রাপ্ত উর্জা গুলির প্রতীকাত্মক অভিব্যক্তি প্রদান করে শিবের পৌরাণিক চিত্রগুলিতে তার কপালে অমৃতময় চন্দ্রমা রয়েছে যার সাথে বাযুরূপী ঢেউ জটা দোলাচ্ছে এবং জলরূপে সমাহিত হওয়া দেখানো হয়েছে। রূদ্রের এই স্বরূপে সৌরমণ্ডল স্থিত এবং এই সৌরমণ্ডলে গঙ্গার চিত্র অঙ্কিত করা হয়েছে, এবং সৌরকক্ষপথে বৃত্তাকারে কুন্ডলাকার সর্প কে ক্রমাগত প্রদক্ষিণ হওয়া গ্রহ নক্ষত্র কে প্রতীকী আকারে চিত্রিত করা হয়েছে। 



Read More

12 August, 2022

मूर्तिपूजा खण्डन

12 August 0

 

हमारे कुछ पौराणिक भाइयों का कहना है कि मूर्तिपूजा प्राचीन काल से चली आ रही है और तो और वेदों में भी मूर्ति पूजा का विधान है। अब आइये सत्य की ओर चलते हैं। जाने सत्य क्या है? वेदों में मूर्ति पूजा का विधान नहीं है और तो और पुराण भी मूर्तिपूजा करने को मना करता है। 

वेद तो घोषणापूर्वक कहते हैं- न तस्य प्रतिमाऽअस्ति यस्य नाम महद्यशः। हिरण्यगर्भऽइत्येष मा मा हिंसीदित्येषा यस्मान्न जातऽइत्येषः।। (यजु० अ० ३२ । मं० ३ ।।)

 शब्दार्थ:-(यस्य) जिसका (नाम) प्रसिद्ध (महत् यशः) बड़ा यश है (तस्य) उस परमात्मा की (प्रतिमा) मूर्ति (न अस्ति) नहीं है (एषः) वह (हिरण्यगर्भः इति) सूर्यादि तेजस्वी पदार्थों को अपने भीतर धारण करने से हिरण्यगर्भ है।(यस्मात् न जातः इति एषः) जिससे बढ़कर कोई उत्पन्न नहीं हुआ,ऐसा जो प्रसिद्ध है। 

स पर्यगाच्छुक्रमकायमव्रणमस्नाविरं शुद्धमपापविद्धम्। 

कविर्मनीषी परिभूः स्वयम्भूर्याथातथ्यतोऽर्थान् व्यदधाच्छाश्वतीभ्यः समाभ्यः।। (यजु० ४०/८) 

भावार्थ:-वह सर्वशक्तिमान्,शरीर-रहित,छिद्र-रहित,नस-नाड़ी के बन्धन से रहित,पवित्र,पुण्य-युक्त,अन्तर्यामी,दुष्टों का तिरस्कार करने वाला,स्वतःसिद्ध और सर्वव्यापक है।वही परमेश्वर ठीक-ठीक रीति से जीवों को कर्मफल प्रदान करता है। 

यद् द्याव इन्द्र ते शतं शतं भूमिरुत स्युः। 

न त्वा वज्रिन्सहस्रं सूर्या अनु न जातमष्ट रोदसी।। (अथर्व० २०/८१/१) 

भावार्थ:-सैंकड़ों आकाश ईश्वर की अनन्तता को नहीं माप सकते।सैकड़ों भूमियाँ उसकी तुलना नहीं कर सकतीं।सहस्रों सूर्य,पृथिवी और आकाश भी उसकी तुलना नहीं कर सकते। 

एको देवः सर्वभूतेषु गूढः सर्वव्यापी सर्वभूतान्तरात्मा। 

कर्माध्यक्षः सर्वभूताधिवासः साक्षी चेता केवलो निर्गुणश्च।। (श्वेता० ६/१२) 

भावार्थ:-एक परमात्मा ही सब पदार्थों में छिपा हुआ है।वह सर्वव्यापक है और सब प्राणियों का अन्तरात्मा है।वही कर्मफल प्रदाता है।सब पदार्थों का आश्रय है।वही सम्पूर्ण संसार का साक्षी है,वह ज्ञानस्वरुप,अकेला और निर्गुण-सत्व,रज और तमोगुण से रहित है। अब प्रश्न ये उठता है कि इस देश में मूर्तिपूजा कब प्रचलित हुई और किसने चलाई? महर्षि दयानन्द सत्यार्थप्रकाश के एकादश समुल्लास में प्रश्नोत्तर रूप में इस सम्बन्ध में लिखते हैं- “प्रश्न- मूर्तिपूजा कहाँ से चली? उत्तर- जैनियों से। प्रश्न- जैनियों ने कहां से चलाई? उत्तर- अपनी मूर्खता से।” पण्डित जवाहरलाल नेहरू के अनुसार,मूर्तिपूजा बौद्धकाल से प्रचलित हुई।वे लिखते हैं- “यह एक मनोरंजन विचार है कि मूर्तिपूजा भारत में यूनान से आई।वैदिक धर्म हर प्रकार की मूर्ति तथा प्रतिमा-पूजन का विरोधी था।उस काल(वैदिकयुग)में देवमूर्तियों के किसी प्रकार के मन्दिर नहीं थे।…प्रारम्भिक बौद्धधर्म इसका घोर विरोधी था…पीछे से स्वयं बुद्ध की मूर्तियां बनने लगीं। फारसी तथा उर्दू भाषा में प्रतिमा अथवा मूर्ति के लिए अब भी बुत शब्द प्रयुक्त होता है जो बुद्ध का रूपान्तर है।” हिन्दुस्तान की कहानी,पृ०172 एक अन्य स्थान पर वे लिखते हैं- “ग्रीस और यूनान आदि देशों में देवताओं की मूर्तियां पुजती थीं।वहां से भारत में मूर्तिपूजा आई।बौद्धों ने मूर्तिपूजा आरम्भ की।फिर अन्य जगह फैल गई।” विश्व इतिहास की झलक,पृ०694 इन उद्धरणों से इतना निश्चित है कि मूर्तिपूजा जैन-बौद्धकाल से आरम्भ हुई।जिस समय भारत में मूर्तिपूजा आरम्भ हुई और लोग मन्दिरों में जाने लगे तो भारतीय विद्वानों ने इसका घोर खण्डन किया।मूर्तिपूजा के खण्डन में उन्होंने यहां तक कहा- गजैरापीड्यमानोअपि न गच्छेज्जैनमन्दिरम्। भविष्य० प्रतिसर्गपर्व 3-28-53 यदि हाथी मारने के लिए दौड़ा आता हो और जैनियों के मन्दिर में जाने से प्राणरक्षा होती हो तो भी जैनियों के मन्दिर में नहीं जाना चाहिए। ब्राह्मणों, उपदेशकों और विद्वानों के कथन का साधारण जनता पर कोई प्रभाव न पड़ा तो उन लोगों ने भी मन्दिरों का निर्माण किया।जैनियों के मन्दिरों में नग्न मूर्तियां होती थीं,इन मन्दिरों में भव्यवेश में भूषित हार-श्रृंगारयुक्त मूर्तियों की स्थापना और पूजा होने लगी।पूजा करनेवाले पूजारि कहलाये। पूजारि का अर्थ है-पूजा+अरि अर्थात् पूजा एक शत्रु।पूजारि सचमुच पूजा का शत्रु है। आइये आपके समक्ष एक छोटी-सी कहानी प्रस्तुत करता हूं जिसे पढ़कर आपमें समझदारी तो आएगी ही साथ-ही-साथ मूर्तिपूजा के प्रति आपके मन में विभिन्न प्रश्न भी आने लगेंगे और आप ये साकार मूर्ति को न मानकर निराकार ईश्वर के उपासक बनेंगे। एक बार किसी युवक ने पूजारिजी से कहा-“आप तो मूर्तिपूजा का खण्डन करते थे अब स्वयं ही पूजना आरम्भ कर दिया।यह क्या बात है?” पूजारिजी ने कहा।”मैं तो पूजा का शत्रु ही हूँ।कल प्रातः काल आना समझाऊँगा।” दूसरे दिन युवक मन्दिर में पहुंचा।प्रातः काल का समय था।सूर्योदय हो चुका था।सूर्य के प्रकाश में पूजारिजी ने एक दीपक प्रज्ज्वलित किया जिसमें सात बत्तियाँ थीं।अपने हाथ में एक घण्टी ली।एक व्यक्ति को नगाड़ा कौर दूसरे को घड़ियाल बजाने का आदेश दिया।पूजारिजी मूर्ति के समक्ष खड़े हुए और उस दीपक को मूर्ति के पैरों पर ले-जाकर उस युवक को दिखाने लगे और मौन भाषा में कहने लगे,ध्यानपूर्वक देखो यह पत्थर है।फिर वे उसे दीपक को हाथ के पास लाकर और हाथ को दिखाते हुए मौन भाषा में ही संकेत करने लगे कि ध्यानपूर्वक देख लो यह पत्थर ही है।पुनः वे उस दीपक को मूर्ति के मुख पर लाये।यदि कोई व्यक्ति सो रहा हो और उसकी आँखों पर तीव्र प्रकाश ले-जाया जाए तो उसकी आंखें कुछ-न-कुछ झपकेंगी।पूजारिजी मूर्ति की आंखों को दिखाते हुए कहता है- “ध्यानपूर्वक देखो,यह पत्थर है।”फिर पूजारिजी मूर्ति के दूसरे हाथ पर दीपक ले-जाकर उसे भी दिखाते हैं और अन्त में पुनः पैरों पर आ जाते हैं।इस क्रिया को पूजारि एक-दो बार नहीं बल्कि सात बार दोहराता है और मौन उपदेश करते हुए कहता है”ध्यानपूर्वक देख लो यह ऊपर से नीचे तक पत्थर ही पत्थर है।”युवक सो न जाए, अतः एक ओर घड़ियाल और नगाड़ा बजा रहा है तो दूसरी ओर पूजारिजी स्वयं घण्टी बजा रहे हैं।युवक यह सब-कुछ देखकर भी हाथ जोड़े खड़ा है।अब पूजारि एक चुल्लू पानी लेकर उसके ऊपर फेंकता है और अपनी मौन भाषा में कहता है कि अब भी नहीं समझा तो एक चुल्लू पानी में डूब मर! इस प्रकार क्रियात्मक रूप में विद्वानों ने मूर्तिपूजा का घोर खण्डन किया। स्वयं पुराणों में मूर्तिपूजा का घोर खण्डन किया गया है। अरे भाई!हां, ये सच है जब पुराणों में भी मूर्तिपूजा का खण्डन है तो तुम ऐसी मूर्खता क्यों कर रहे हो? मैं प्रमाण दे रहा हूँ, पुराणों में भागवत पुराण का स्थान बहुत महत्त्वपूर्ण माना जाता है,अतः सबसे पूर्व मैं उसी का प्रमाण दे रहा हूं- 

यस्यात्मबुद्धि: कुणपे त्रिधातुके स्वधी: कलत्रादिषु भौम इज्यधी:। 

यत्तीर्थबुद्धि: सलिले न कर्हिचिज्। 

जनेष्वभिज्ञेषु स एव गोखर:।। -श्रीमद्भागवत 10-84-13 

जो वात,पित और कफ-तीन मलों से बने हुए शरीर में आत्मबुद्धि रखता है,जो स्त्री आदि में स्वबुद्धि रखता है,जो पृथिवी से बनी हुई पाषाण-मूर्तियों में पूज्य बुद्धि रखता है और जो पानी में ही तीर्थबुद्धि रखता है,ऐसा व्यक्ति गोखर-गौओं का चारा उठाने वाला गधा है। 

न ह्यम्मयानि तीर्थानि न देवा मृच्छिलामया:। 

ते पुनन्त्यपि कालेन विष्णुभक्ता: क्षणादहो।। -देवी० भा० 9-7-42 

पानी के तीर्थ नहीं होते तथा मिट्टी और पत्थर के देवता नहीं होते।विष्णुभक्त तो क्षणमात्र में पवित्र कर देते हैं।परन्तु वे किसी काल में भी मनुष्य को पवित्र नहीं कर सकते। 

दर्शनों में भी मूर्तिपूजा का निषेध किया हुआ है।

प्रमाण प्रस्तुत है न प्रतीके न हि स:। -वेदान्त 4-1-4 प्रतीक में,मूर्ति आदि में परमात्मा की उपासना नहीं हो सकती,क्योंकि प्रतीक परमात्मा नहीं है। बात है भी ठीक।ईश्वर के स्थान पर अन्य की पूजा करना मूर्खता है।श्री कपिल देवजी की,जिन्हें सनातनी अवतार मानते हैं,स्पष्ट घोषणा है- 

अहं सर्वेषु भूतेषु भूतात्मावस्थित: सदा। 

तमवज्ञाय मां मर्त्य: कुरुतेऽर्चाविडम्बनम्।। 

यो मां सर्वेषु भूतेषु सन्तमात्मानमीश्वरम् हित्वार्चां भजते मौढ्याद् भस्मन्येव जुहोति स:।। -श्रीमद्भा० 3-29-21,22 

मैं सर्व प्राणियों में जीवात्मा रूप में व्याप्त रहता हूं।जो मेरा अपमान करके मूर्तिपूजा करते हैं यह विडम्बना है।मैं सबकी देह में रहनेवाला हूँ।जो मनुष्य मुझे छोड़कर मूर्तियों की पूजा करते हैं वे अपनी अज्ञानता से राख में ही हवन करते हैं। संसार के सभी महापुरुषों और सुधारकों ने भी मूर्तिपूजा का खण्डन किया है।श्री शंकराचार्यजी परापूजा में लिखते हैं- पूर्णस्यावाहनं कुत्र सर्वाधारस्य चासनम्। स्वच्छस्य पाद्यमर्घ्यं च शुद्धस्याचमनं कुत:।। ईश्वर सर्वत्र परिपूर्ण है फिर उसका आह्वान कैसा?जो सर्वाधार है उसके लिए आसन कैसा?जो सर्वथा स्वच्छ एवं पवित्र है उसके लिए पाद्य और अर्घ्य कैसा?जो शुद्ध है उसके लिए आचमन की क्या आवश्यकता? निर्लेपस्य कुतो गन्धं पुष्पं निर्वसनस्य च। निर्गन्धस्य कुतो धूपं स्वप्रकाशस्य दीपकम्।। निर्लेप ईश्वर को चन्दन लगाने से क्या?जो सुगन्ध की इच्छा से रहित है उसे पुष्प क्यों चढ़ाते हो?निर्गन्ध को धूप क्यों जलाते हो?जो स्वयं प्रकाशमान है उसके समक्ष दीपक क्यों जलाते हो? वृद्ध चाणक्यजी ने मूर्तिपूजा को मूर्खों के लिए बताया है- 

अग्निर्देवो द्विजातीनां मुनीनां हृदि दैवतम्। 

प्रतिमा स्वल्पबुद्धिनां सर्वत्र समदर्शिन:।। -चाणक्यनीति 4-19 

अग्निहोत्र करना द्विजमात्र(ब्राह्मण,क्षत्रिय,वैश्य)का कर्तव्य है।मुनि लोग हृदय में परमात्मा की उपासना करते हैं।अल्प बुद्धिवाले लोग मूर्तिपूजा करते हैं।बुद्धिमानों के लिए तो सर्वत्र देवता है। कबीरदासजी ने इस पाखण्ड का खण्डन करते हुए कहा था- पाहन पूजे हरि मिले तो हम पूजे पहार। ताते तो चाकी भली पीस खाये संसार।। दादूजी का कथन है- मूर्त गढ़ी पाषाण की किया सृजन हार। दादू साँच सूझे नहीं यूँ डूबा संसार। एक अन्य स्थान पर उन्होंने लिखा है- दादू दुनिया बावरी मरहठियाँ पूजें ऊत। आप मुये जग छाँड़ उनसे माँगे पूत।। मूर्तिपूजा की पद्धति ही गलत है।पाठक पूछ सकते हैं कैसे?लीजिए, पढिये और मनन कीजिए- एक नौजवान हनुमान्जी के मन्दिर में जाने लगा।प्रतिदिन हनुमान्जी के समक्ष दण्डवत् होकर दण्ड और बैठक लगाता, प्रार्थना करता और घर चला आता।हनुमान्जी की पूजा करते हुए छह मास व्यतीत हो गये परन्तु युवक की मन:कामना पूर्ण नहीं हुई।युवक के उदास मुखमण्डल को देखकर एक दिन पूजारिजी ने पूछा-“क्या बात है तुम्हारा मुखमण्डल प्रतिदिन मुरझाया जाता है?”युवक ने कहा-“क्या बात है,मेरी सगाई आती है और छूट जाती है।मैं मन्दिर में आकर प्रतिदिन हनुमान्जी से प्रार्थना करता हूँ कि कृपा करो जिससे मेरा विवाह शीघ्र सम्पन्न हो जाए।”यह सुनकर पूजारिजी ने कहा-“तुम्हारी पूजा की विधि ही गलत है।अरे!इसका तो स्वयं का विवाह नहीं हुआ,यह तुम्हारा विवाह कैसे करा सकता है?” अस्तु। गुरु नानकदेवजी का उपदेश है- पात्थर ले पूजहि मुगध गंवार। ओहिजा आपि डुबो तुम कहा तारनहार।। सन्त रैदासजी कहते हैं- राम में पूजा कहाँ चढ़ाऊँ, फल और फूल अनूप न पाऊँ थन हर दूध जो बहरु झुटारी, पहुप भँवर जल मीन बिगाड़ी। मन ही पूजा मन ही धूप, मन ही सेऊँ सहज स्वरूप।। गुरु नानक देव जी की मूर्तिपूजा विषयक मत- एके पाथर कीजे भाड दूजे पाथर धरिये पाड जे ओह देउता ओह भी देवा। राग गुजरी नाम देव घर महि ठाकुर नदर न आवे, गल महि पाहन लै लटकावे। जिस पाहन कउ ठाकुर कहता। ओह पाहन लै उसको डूबता। गुनहगार, लूण हरामी। पावन नाव न पार गिरामी -राम सूही म ५ (गू अर्जुन) जो पाथर को कहते देव ताकि विरथा होव सेव न पाथर बोले न किछ देइ। फोकट धर्म निष्फल है सेव। राग भैरव म ५ (कबीर ) पाहन परमेश्वर किया पूजे सब संसार। इस भावा से जो रहे बूडे काली धार। (कबीर) माटी के कर देवी देवा काट काट जीव देइया जी। जो तुहरा हैं साचा देवा खेत चरन क्यों न लेइया जी। -कबीर बीजक पृष्ठ २२६ शब्द ७६ जल पीवे पाषाण धोय, सोतो आदि अंत पाषाण होय। आकाश शीस पाताल पाप, सो संपुट में कैसे आप। रामस्नेही धर्म प्रकाश पत्थर पूजियां हर न मिलेरे, सब कोई पूजो जाय। पूजो नी घररी घरटिया, तब जग पीसर खाय। रामस्नेही धर्म प्रकाश पत्थर पीजै घोय कर, पत्थर पूजे प्राण। अंत काल पथर भए, बहु बूड़े इह ज्ञान। -दादूजी १४० पीतल ही का थाल हैं, पीतल का लोटा। जड़ मूरत को पूजते, आवेगा टोटा। पीतल चमचा पूजिए, जो खान परोसे। जड़ मूरत किस काम की, मत रहो भरोसे। गरीबदास इस प्रकार से अनेक उदहारण समाज सुधारकों जैसे आसाम के शंकरदेव, कर्णाटक में लिंगायत सम्प्रदाय के बसवा , नाथ सम्प्रदाय के गोरखनाथ आदि की लेखावली से पढ़ने में आते हैं जो की मूर्ति पूजा का खंडन करते हैं। किस महात्मा ने कहा है- पत्थर को तू भोग लगावे वह क्या भोजन खावे रे। अन्धे आग दीपक बाले वृथा तेल जलावे रे।। “मूर्ति जड़ है,उसे ईश्वर मानोगे तो ईश्वर भी जड़ सिद्ध होगा।अथवा ईश्वर के समान एक और ईश्वर मानो तो परमात्मा का परमात्मापन नहीं रहता।यदि यह कहो कि प्रतिमा में ईश्वर आ जाता है तो ठीक नहीं।इससे ईश्वर अखण्ड सिद्ध नहीं हो सकता।भावना में भगवान् है यह कहो तो मैं कहता हूँ कि काष्ठ-खण्ड में इक्षु-दण्ड की और लोष्ठ में मिश्री की भावना करने से क्या मुख मीठा हो सकता है?मृगतृष्णा में मृग जल की बहुतेरी भावना करता है परन्तु उसकी प्यास नहीं बुझती है।विश्वास,भावना और कल्पना के साथ सत्य का होना भी आवश्यक है।” -दयानन्दप्रकाश,पृ० 264 आर्यजगत् के सुप्रसिद्ध कवि स्वर्गीय नाथूराम शंकर एक बार एक शिव-मंदिर में पहुंचे।वहां कुछ साथियों ने कहा कि आप भी अपनी श्रद्धांजलि अर्पित कीजिए।तब उन्होंने निम्न शब्दों में अपनी श्रद्धांजलि अर्पित की- शैल विशाल महीतल फाड़, बढ़े तिनको तुम तोड़ कढ़े हो। लै लुढ़की जलधार धड़ाधड़, ने धर गोल मटोल गढ़े हो।। गुणविहीन कलेवर धार विराज रहे, न लिखे न पढ़े हो। हे जड़ देव!शिलासुत शंकर! भारत पै करि कोप चढ़े हो।। यहां इतना और लिख देना आवश्यक है कि शिवलिंग शिवजी की मूत्रेन्द्रिय है।यही कारण है कि शिवलिंग पर चढ़े हुए पदार्थ अग्राह्य हैं। शिवपुराण में कहा है- लिंगोपरि च यद् द्रव्यं तदग्राह्यं मुनीश्वरा:। सुपवित्रं च तज्ज्ञेयं यल्लिंगस्पर्शबाह्यत:।। -शि. विद्येश्वर संहिता 22-20 हे मुनीश्वरो!लिंग पर जो पदार्थ चढ़ा दिया गया हो वह ग्रहण करने योग्य नहीं है।जिसका शिवलिंग से स्पर्श न हुआ हो वही वस्तु पवित्र है। किसी उर्दू भाषा के कवि ने कहा है- बुतपरस्तों का है दस्तूर निराला देखो। खुद तराशा है मगर नाम खुदा रखा है।। किसी अन्य कवि ने कहा है- सच तो यह है खुदा आखिर खुदा और बुत हैं बुत। सोच खुद मालूम होगा यह कहाँ और वह कहां।। प्रायः सभी गीताओं में मूर्तिपूजा का खण्डन किया गया है।विस्तारभय से अधिक न लिखते हुए यहां केवल अवधूत गीता का एक श्लोक प्रस्तुत कर रहा हूं- नावाहनं नैव विसर्जनं वा पुष्पाणि पत्राणि कथं भवन्ति। ध्यानानि मन्त्राणि कथं भवन्ति समासमं चैव शिवार्चनं च।। -अवधूत गीता 4-1 दत्तात्रेयजी कहते हैं-“जब ईश्वर सर्वत्र व्यापक है तब उसका आवाहन और विसर्जन कैसे बना सकता है?जो शरीर रहित होने के कारण घ्राणेन्द्रिय आदि से रहित है उसे पत्र-पुष्प आदि समर्पण करना कैसे बन सकता है?जब उसका आवाहन और विसर्जन नहीं हो सकता तो उसका ध्यान और मन्त्र कैसे बन सकते हैं?प्राणिमात्र में एक आत्मा का दर्शन ही वस्तुतः शिवपूजन है।” गांधी जी ने भी मूर्तिपूजा का निषेध किया है।वे लिखते हैं-“कुछ लोग सार्वजनिक स्थानों पर मेरी मूर्ति खड़ी करना चाहते हैं,कुछ तस्वीरें चाहते हैं और कई हैं जो जन्मदिन को आम छुटी का दिन बना देना चाहते हैं।मूर्ति,चित्र और ऐसी चीजें का आज दिन नहीं है।जिस एक प्रशंसा को मैं पसन्द करूंगा और कीमती समझूंगा वह तो उन प्रवृत्तियों में योगदान देना है,जिनमें मेरी जिन्दगी लग गई है।हर एक स्त्री-पुरुष जो साम्प्रदायिक मेल पैदा करने या अस्पृश्यता के कलंक को मिटाने या गांव का हित साधन करने का कोई एक भी काम करता है,वह मुझे सच्चा सुख और शान्ति पहुंचाता है।” -गांधी अभिनन्दन ग्रन्थ,पृष्ठ 7 कुछ प्रश्न व उत्तर सत्यार्थप्रकाश से प्रस्तुत कर रहा हूँ- 1.प्रश्न- मूर्तिपूजा सीढ़ी है।मूर्तिपूजा करते-करते मनुष्य ईश्वर तक पहुंच जाता है। उत्तर- मूर्तिपूजा परमात्मा-प्राप्ति की सीढ़ी नहीं है।हाँ, हिमालय पर्वत की प्राप्ति की सीढ़ी यह हो सकती है।सीढ़ी तो गन्तव्य स्थान पर पहुंचने के पश्चात छूट जाती है परन्तु हम देखते हैं कि एक व्यक्ति आठ वर्ष की अवस्था से मूर्तिपूजा आरम्भ करता है।और अस्सी वर्ष की अवस्था में मरते समय तक भी इस दलदल से निकल नहीं पाता। एक बच्चा दूसरी कक्षा में पढ़ता है,उसे पांच और छह का जोड़ करना हो तो वह पहले स्लेट अथवा कापी पर पाँच लकीरें खेंचता है,फिर उनके पास छह लकीरें खेंचता है,उन्हें गिनकर वह ग्यारह जोड़ प्राप्त करता है।परन्तु तीसरी अथवा चौथी कक्षा में पहुंचने पर वह अंगुलियों पर गिनने लग सकता है और पांचवी-छठी में पहुंचकर वह मानसिक गणित से ही जोड़ लेता है।यदि मूर्तिपूजा सीढ़ी होती तो मूर्तिपूजक उन्नति करते-करते मन में ही ध्यान करने लग जाते परन्तु ऐसा होता नहीं,अतः महर्षि दयानन्दजी ने लिखा है- “नहीं-नहीं,मूर्तिपूजा सीढ़ी नहीं किन्तु एक बड़ी खाई है जिसमें गिरकर(मनुष्य)चकनाचूर हो जाता है,पुनः इस खाई से निकल नहीं सकता किन्तु उसी में मर जाता है।” -सत्यार्थप्रकाश, एकादश समुल्लास 2.प्रश्न- महाभारत में लिखा है कि एकलव्य ने द्रोणाचार्य की मूर्ति बनाकर शस्त्र-विद्या सीखी थी,अतः मूर्तिपूजा में कोई दोष नहीं है। उत्तर- प्रथम तो एक मूर्ख भील का कर्म ज्ञानियों के लिए अनुकरणीय नहीं हो सकता।दूसरे एकलव्य को शस्त्र-विद्या निरन्तर अभ्यास करने के कारण हस्तगत हुई थी।यदि सनातनियों का विचार है कि मूर्ति की पूजा से ही ज्ञान प्राप्त हो जाता है तो उन्हें मूर्तियों से वेद पढ़कर दिखाना चाहिए। 3.प्रश्न- ईश्वर सर्वत्र व्यापक है,अतः वह मूर्ति में भी है,फिर उसकी पूजा करने में क्या दोष है? उत्तर- निःसन्देह ईश्वर सर्वत्र व्यापक है,अतः वह मूर्ति में भी विद्यमान है,परन्तु उपासना वहां हो सकती है जहां उपासक और उपास्य दोनों विद्यमान हों।मूर्ति में ईश्वर तो है परन्तु आत्मा नहीं है,अतः मूर्ति में ईश्वर की उपासना नहीं हो सकती।ईश्वर की पूजा और उपासना तो हृदय-मन्दिर में ही हो सकती है।मूर्ति में आत्मा का अभाव है किन्तु आपके शरीर में आत्मा और परमात्मा दोनों ही विराजमान हैं, अतः अपने शरीरस्थ आत्मा द्वारा परमात्मा की पूजा करो। 3.प्रश्न- यह तो हम भी मानते हैं कि मूर्ति भगवान् नहीं है।हम तो उसमें भगवान् की भावना करके पूजा करते हैं इसमें क्या दोष है? उत्तर- दोष है।यदि भावना फल देनेवाली हो तो पीतल में सोने की भावना करो और उसे सोने के भाव बेचो,फिर देखो क्या अवस्था होती है?यमुना की रेती में चीनी की भावना करो और उसे दूध में डालकर पी लो,फिर देखो कैसा आनन्द आता है?जिसे तुम भावना कहते हो वह वस्तुतः भावना नहीं अभावना है।जो वस्तु जैसी है उसे वैसा हो जाने और मानने का नाम भावना है।जैसे अग्नि में अग्नि की और जल में जल की भावना तो ठीक है परन्तु जल में अग्नि की और अग्नि में जल की भावना भावना नहीं अभावना है।यदि भावना से ईश्वर चक्कर और धोखे में आ सकता है तो यमुना की रेती में खाँड की और कंकर-पत्थरों में मिश्री की भावना करके उन्हें खाँड और मिश्री क्यों नहीं बना लेते? कोई भक्त पंसारी के यहां मिश्री लेने गया।पंसारी ने भूल में फिटकरी दे दी।पूजारिजी ने शुद्ध भाव से भोग लगाकर प्रसाद बाँटा परन्तु सब खानेवालों के मुंह कड़वे हो गए।भावना तो मिश्री की थी,अतः लोगों के मुंह कड़वे नहीं होने चाहिए थे,अतः सिद्ध हुआ कि भावना से वस्तु के गुणों में परिवर्तन नहीं हो सकता।जैसे अंधेरे में पड़ी रस्सी को सांप समझने से उसमें विष व्याप्त नहीं होता उसी प्रकार जड़ मूर्ति को ईश्वर समझने से वह ईश्वर नहीं हो सकती। प्रातःकाल का समय था।मार्ग में धुन्ध एवं कुहरा छाया हुआ था।ऐसे समय में विनोबाजी प्रातः भ्रमण के लिए जा रहे थे।मार्ग में एक मूर्ति आई।विनोबाजी ने प्रणाम किया और तीन प्रदक्षिणा करके आगे चल दिये।जब वापस लौटे तो एक भक्त ने कहा-“अनर्थ हो गया!अपने गांधीजी के स्थान पर एडवर्ड की मूर्ति को प्रणाम किया और उसकी प्रदक्षिणा भी की।”परन्तु मैं पुछता हूँ कि क्या भावना करने से वह मूर्ति गांधी की बन गई थी?अतः जो पदार्थ जैसा हो उसमें वैसी ही भावना करनी चाहिए। 4.प्रश्न- मूर्ति को देखकर उसमें व्यापक ईश्वर में ध्यान लग जाता है। उत्तर- मूर्ति ध्यान लगाने में सहायक नहीं हो सकती।यदि मूर्ति ध्यान लगाने में सहायक होती तो यह सारा जगत् ही मूर्तिमान् है उसमें ध्यान लगाने से सबका ध्यान लग जाना चाहिए था,परन्तु इस संसार के पदार्थों से तो हम विचलित हो रहे हैं।ध्यान तो तभी लग सकता है जब मन विषयों से रहित हो जाय- ध्यानं निर्विषयं मन:(सांख्यदर्शन 6-25)।यदि मूर्ति से ही ध्यान लगता है तो अपने पुत्र अथवा पत्नी को समक्ष रखकर उनका ध्यान कर लो। 5.प्रश्न- जैसे लड़कियां पहले गुड्डे-गुड़ियों से खेलती हैं,जब उनका विवाह हो जाता है तो छोड़ देती है,ऐसे ही मूर्तिपूजा करते-करते जब हमें ईश्वर के दर्शन हो जाएंगे तो हम भी मूर्तिपूजा छोड़ देंगे। उत्तर- गुड्डे-गुड़ियों का खेल खेलने से किसी का विवाह नहीं होता।क्या आज तक किसी लड़की का विवाह गुड़ियों से खेल-खेल कर हुआ है?यदि गुड़िया खेलने से ही विवाह हो जाता तो कोई माता-पिता अपनी पुत्री के विवाह की चिन्ता नहीं करता।इसी प्रकार चाहे मूर्तिपूजा करते-करते जीवन व्यतीत हो जाये मूर्तिपूजकों को ईश्वर के दर्शन नहीं हो सकते,क्योंकि वे ईश्वरप्राप्ति के उपाय यम-नियम आदि का पालन नहीं करते। भारत के पराधीन होने का कारण क्या था? मूर्तिपूजा। आइए,तनिक इतिहास के पन्ने पलटें। सन् 712 में मुहम्मद बिन कासिम ने सिन्ध के प्रसिद्ध नगर देवल पर चढ़ाई की।इस समय कासिम की अवस्था बीस वर्ष और उसके पास छह सहस्र सेना तथा तीन हजार ऊंट थे।जब राजा दाहर को पता लगा तो उसने तीस सहस्र सैनिकों को लेकर उसका सामना किया।18 दिन तक खूब लोहे से लोहा बजा, घमासान का युद्ध हुआ, खून की नदियाँ बह गईं, मुहम्मद बिन कासिम और उसकी सेना के पैर उखड़ गए।वह हारकर भागने ही वाला था कि एक देशद्रोही पूजारि उससे जा जिला और कहा कि यदि तुम विजय प्राप्त करना चाहते हो तो सामने मन्दिर पर जो ध्वज दिखाई दे रहा है उसे गिरा दो, झण्डा गिराते ही वे परास्त हो जाएंगे।ऐसा ही किया गया।मन्दिर का ध्वज गिरा दिया गया।दाहर की सेना के घुटने टूट गए।वे अपनी पराजय मानकर भाग खड़े हुए।देवल पर मुसलमानों का अधिकार हो गया।उसी पूजारि ने कुछ दक्षिणा के लोभ में एक गुप्त खजाने का पता भी बताया जिसमें सोने की चालीस देगें रखी थीं।इनमें 1720 मन सोना था।इनके अतिरिक्त 6,000 ठोस स्वर्णमूर्तियां भी थीं जिनमें सबसे बड़ी तीन मन की थी।हीरा,पन्ना,माणिक,मोती इतने थे कि उन्हें कई ऊँटों पर लादकर ले जाया गया। सोमनाथ के मन्दिर की कहानी भी कम रोमांचक नहीं है।सन् 1024 में महमूद गजनवी ने सोमनाथ के मन्दिर पर आक्रमण किया।सोमनाथ के मन्दिर की रक्षा के लिए एक बहुत बड़ी सेना तैयार खड़ी थी,परन्तु ज्योतिषियों ने कहा-“इस समय तो भद्रा है,लग्न और मुहूर्त ठीक नहीं है।”पूजारियों ने कहा-“आपको कुछ करने की आवश्यकता नहीं,मूर्तियां स्वयं शत्रु को परास्त कर देंगी।”परिणाम तो जो कुछ होना था वही हुआ।महमूद गजनवी बिना किसी प्रतिरोध के मन्दिर में प्रविष्ट हो गया।मन्दिर में चालीस मन भारी सोने की जंजीर में एक भारी घण्टा लटक रहा था।एक लोहे की विशाल मूर्ति ऊपर-नीचे चुम्बक पत्थर के आकर्षण से अधर लटक रही थी।जब महमूद गजनवी ने उस मूर्ति को तोड़ना चाहा तो पूजारियों में उसे न तोड़ने के लिए बहुत अनुनय-विनय की तथा उसके बदले में बहुत सारा धन देने का प्रलोभन भी दिया परन्तु उसने यह कहकर कि मैं बुतफरोश(मूर्ति-विक्रेता)नहीं,अपितु बुतशिकन(मूर्ति-भञ्जक)हूँ-उस मूर्ति को गदा के एक ही वार से तोड़ दिया।उस मूर्ति को वह अपने साथ गजनी ले गया और उसके टुकड़े-टुकड़े करके एक टुकड़ा मस्जिद की सीढ़ियों में और दूसरा महल की सीढ़ियों में लगवा दिया। यहां केवल दो घटनाओं का उल्लेख किया हूं तो, अब तो जागो और इस पाखण्ड को छोड़ो। दो शब्द- यह क्या कर रहे हो किधर जा रहे हो। अन्धेरे में क्यों ठोकरें खा रहे हो।। बनाया है स्वयं जिसको हाथों से अपने। गजब है प्रभु उसको बतला रहे हो।। इस लेख से मैंने मूर्तिपूजा जैसे अन्धविश्वाश(जो समाज में बीमारी की तरह फैल गया है)को हटाने का प्रयत्न किया है। लेख पढ़कर भी पौराणिक भाइयों अगर मूर्ति पूजा करते हो तो फिर यही कहूंगा कि अब उल्लू को दिन में न दिखे तो इसमें सूर्य का क्या दोष! 

।।ओ३म्।।


Read More

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

নিয়োগ মীমাংসা

 আচার্য অগ্নিব্রত নৈষ্ঠিক জীর লেখার বঙ্গানুবাদঃ सर्वाधिक विवादित विषय (नियोग) की विवेचना https://youtube.com/shorts/AG6wZZz8DTU ॥ ও৩ম্ ॥ আষ...

Post Top Ad

ধন্যবাদ