ধর্ম্মতত্ত্ব: জাকির নায়েক ও মিথ্যাচার

ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান, ধর্ম গ্রন্থ কি , হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়, ইসলাম খ্রীষ্ট মত বিষয়ে তত্ত্ব ও সনাতন ধর্ম নিয়ে আলোচনা

धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते-Theology

সাম্প্রতিক প্রবন্ধ

Post Top Ad

স্বাগতম
Showing posts with label জাকির নায়েক ও মিথ্যাচার. Show all posts
Showing posts with label জাকির নায়েক ও মিথ্যাচার. Show all posts

28 December, 2022

ভবিষ্য পুরাণে মুহাম্মদ

28 December 0

 ভবিষ্য পুরাণ নামকরণের মধ্যেই স্পষ্ট এই পুরাণের মূল উপজীব্য বিষয় ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত ভাববাণী বা ভবিষ্যদ্বাণী। তবে, এর ভবিষ্যতবাণী নামক বিস্তৃত অংশটি আধুনিক যুগের সংযোজন হওয়ায় এটি প্রকৃতপক্ষে অখণ্ড ভবিষ্যপূরাণের কোন অংশ নয় [Rocher 1986, পৃ. 151-154], K P Gietz 1992, পৃ. 215 with note 1180

বোম্বে সংস্করণে পাওয়া যায়:

ব্রহ্মপর্ব, যার ২১৫টি অধ্যায় রয়েছে।

মধ্যপর্ব, যার মোট ৬২টি অধ্যায় সহ তিনটি বিভাগ রয়েছে,

প্রতিসর্গপর্ব, যার চারটি বিভাগ রয়েছে যথাক্রমে ৭, ৩৫, ৩২ এবং ২৬ অধ্যায়, এবং

উত্তরপর্ব, যার ২০৮টি অধ্যায় রয়েছে।

কিছু পাণ্ডুলিপির পাঠে পর্ব নেই কিন্তু বিভিন্ন সংখ্যক অধ্যায় রয়েছে।[Rocher 1986] ভবিষ্য পুরাণ কয়েকটি পাণ্ডুলিপি অনুসারে এই গ্রন্থটির পাঁচটি পর্ব বা খণ্ড।[Bhavishya Purana I.2.2-3] কিন্তু বর্তমান প্রাপ্ত পাঠভিত্তিক মুদ্রিত সংস্করণে চারটি খণ্ড দেখা যায় ( ব্রাহ্ম, মধ্য, প্রতিসর্গ, ও উত্তর)। এই চারটি খণ্ড বিষয়গতভাবে পৃথক ও ভিন্ন ভিন্ন সময়কালে রচিত।

"ভবিষ্যদ্বাণী"-সম্পর্কিত তৃতীয় অংশ প্রতিসর্গপর্ব-এ উপনিষদীয় ধারণাগুলির সাথে অ-ভারতীয় ম্লেচ্ছধর্মের তুলনামূলক অধ্যয়ন রয়েছে, পাশাপাশি রয়েছে অষ্টাদশ শতাব্দির ইতিহাস। পণ্ডিতদের মতে এটি ১৮ কিংবা ১৯ শতকেও প্রক্ষিপ্ত হয়েছে বলে বিবেচিত হয়।

প্রতিসর্গপর্ব  পর্বে ১০০টি অধ্যায় রয়েছে, যেখানে রাজা ও ঋষিদের বংশতালিকা এবং ভবিষ্যদ্বাণীর মতো বিষয় নিয়ে বলা হয়েছে। এটি মূলত বিশ্ব ইতিহাস হিসাবে লেখা। এর প্রথম এবং দ্বিতীয় খণ্ডে প্রাচীন কাল, তৃতীয় খন্ড মধ্যযুগ এবং চতুর্থ খণ্ড নবযুগের সাথে সম্পর্কিত। এই পাঠ্যাংশতে দ্বাদশ শতাব্দির পরবর্তী সময়ে ভারত অঞ্চল গঠিত লুণ্ঠন এবং বড় গণহত্যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে ৩।৪।৬ শ্লোকে তৈমুর-তাম্বুরলং-এর গণহত্যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে (পাঠ্যটিতে তাকে তিমিরলিঙ্গ বা "অন্ধকারের প্রতিক" বলা হয়েছে)। আলফ হিল্টেবিটেল বলেছেন, ঐতিহাসিক চরিত্রগুলির সাথে যাদের ধারণা রয়েছে এবং রচনাগুলি একাদশ ও চতুর্দশ শতাব্দির মধ্যে ভারতকে প্রভাবিত করেছিল। এতে মুঘল ইতিহাস সম্পর্কে সমালোচনামূলক মন্তব্য রয়েছে (পাঠগুলিতে তাদের "মুকুল" বলা হয়েছে) এবং একজন মুহাম্মদের কথা বলা হয়েছে যিনি ছিলেন আরবের "ম্লেচ্ছ"দের শেষ নবী।এ থেকে বুঝা যায় এই অংশটি চতুর্দশ শতাব্দির পরে ভালভাবে লেখা হয়েছিল। ভবিষ্য পুরাণের এই পর্বের রচয়িতা ইংরেজি বাইবেল এবং আরবি ইসলামী গ্রন্থ উভয়ই জানেন বলে মনে হয় মনে হয়, তবে এখানে ব্যবহৃত অনেক শব্দই আরবি শব্দ ও নাম থেকে উদ্ভূত হয়েছে, ইংরেজি উৎস থেকে তেমন ব্যবহৃত হয়নি। সুতরাং, পাঠ্যের এই অংশটি অবশ্যই মুঘল সাম্রাজ্যের উত্থানের পর এবং ভারতে আরবি উৎস প্রাপ্তির পর রচিত হয়েছিল। এই অংশটি বহু পণ্ডিতকে ভবিষ্য পুরাণের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পরিচালিত করেছে এবং এই পুরাণগুলি প্রামাণিক ধর্মগ্রন্থ হিসেবে গৃহীত হয়নি, বরং ইতিহাসের একটি সাক্ষ্য যা ক্রমাগত সংশোধিত হয়েছিল।

আলফ হিল্টেবিটেলের মতে, অষ্টাদশ শতাব্দীর দ্বিতীয় চতুর্থাংশে মুঘলদের পাঠ্যের ইতিহাসের জন্য একটি শুরু বিন্দু হিসাবে চিহ্নিত করে কারণ এর ৩।৪।২২ শ্লোকে নাদির শাহ (তাকে দৈত্য নাদিরা বলা হয়েছে) এবং মুহাম্মদ শাহের কথা উল্লেখ করেছে। এই অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিসর্গপর্বের প্রথম খন্ড জেনেসিস-এক্সোডাস ক্রমের ক্ষেত্রেও একটি কথা প্রযোজ্য হবে যেখানে এর লেখক আরবি এবং ইংরেজি উভয় সূত্র সম্পর্কে সচেতন। এছাড়াও, রাণী ভিক্টোরিয়ার প্রাসাদ, কলকাতা এবং অষ্টাদশ শতকের বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক ঘটনার কথা উল্লেখ করে ঊনবিংশ শতকের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে সমাপ্তি বিন্দু স্থাপন করে। হিলটেবিটেল আরও বলেছেন, ভবিষ্য পুরাণের এই অংশটি সম্ভবত ঊনবিংশ শতকে রচিত হয়েছিল।


প্রতিসর্গপর্ব প্রসঙ্গে হাজরা বলেছেন:


ভবিষ্য পুরাণ-এর(এক।১।২-৩) অন্তর্গত হলেও প্রতিসর্গপর্ব আদম, নোয়া, যাকুতা, তৈমুরলঙ, নাদিরশাহ, আকবর (দিল্লীশ্বর), জয়চন্দ্র... ও আরও অনেকের কথা বলে। ভারতে ব্রিটিশ শাসনের কথাও এ গ্রন্থ জানে, এমনকি কলকাতা ও পার্লামেন্টের কথাও উল্লেখ করে।


এ কে রামানুজন একটি " যথাযথভাবে হালনাগাদকৃত ভবিষ্য পুরাণ" গ্রন্থে খ্রিস্ট, মুসা ও রানি ভিক্টোরিয়ার উল্লেখ পেয়েছেন। একে তিনি এই বলে ব্যাখ্যা করেন যে:


চতুর বক্তব্য ও অনুশাসন প্রয়োগ করার পর পর প্রচেষ্টার পরও বলতেই হয় যে পুরাণগুলি মুক্ত ব্যবস্থার অন্তর্গত।

বস্তুতঃ ভবিষ্য পুরাণের লেখার কোন নির্দিষ্ট সময়কালই নেই। ভবিষ্য পুরাণের কিছু অংশ খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকে রচিত। এবং এই রচনাকালের ব্যাপ্তি বিষয়ে একজন বিখ্যাত বিশেষজ্ঞ মরিজ উইন্টারনিৎজ এর মতে, উদ্ধৃতি হিসেবে গৃহীত লেখ ও পুরাণ উভয় ক্ষেত্রে উল্লিখিত এই শ্লোকগুলি সম্ভবত ধর্মরাষ্ট্রসমূহের পূর্ববর্তী এবং তাই এগুলির ভিত্তিতে কোনো কালানুক্রমিক তালিকা প্রস্তুত সম্ভব নয়। আরেকজন বিখ্যাত বিশেষজ্ঞ Alf Hiltebeitel এর মতে, খ্রিষ্ঠপূর্ব ৫০০ থেকে শুরু করে উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত ভবিষ্য পুরাণ লিখিত এবং পরিমার্জিত হয়েছে। অর্থাৎ, এটি কোন ঐশ্বরিক অবিকৃত গ্রন্থ নয়, বহুল পরিমার্জিত এবং নতুন নতুন বিষয় যুক্তকরণের মাধ্যমেই আজকে যেই ভবিষ্য পুরাণ পাওয়া যাচ্ছে সেটি।


সেই সাথে, এই বিষয়ের স্বনামধন্য বিশেষজ্ঞ Alf Hiltebeitel গবেষণা করে দেখিয়েছেন, লিখিত শ্লোকগুলোর অনেকাংশই রচনা হয়েছিল একদমই সাম্প্রতিক সময়ে। কারণ সেই শ্লোকগুলোর বাক্যগঠন অতীতের বাক্য গঠনের থেকে আলাদা। এর অর্থ হচ্ছে, ভবিষ্য পুরাণে অত্যন্ত চাতুর্য্যের সাথে বর্তমান সময়ের ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা অতীতের লেখা ভবিষ্যতবানী হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু সেগুলো আসলে অতীতে লিখিত নয়, বর্তমান সময়েই লিখিত।


এ কে রামানুজন একে ” যথাযথভাবে হালনাগাদকৃত ভবিষ্য পুরাণ” বলে মন্তব্য করে বলেছেন, এইগ্রন্থে খ্রিস্ট, মুসা ও রানি ভিক্টোরিয়ার উল্লেখ পাওয়া গেছে। একে তিনি এই বলে ব্যাখ্যা করেন যে: চতুর বক্তব্য ও অনুশাসন প্রয়োগ করার প্রচেষ্টার পরও বলতেই হয় যে পুরাণগুলি মুক্ত ব্যবস্থার অন্তর্গত। ভবিষ্যোত্তর পুরাণ মুখ্যত কিছু কিংবদন্তি ও লোককথা সম্বলিত ধর্মীয় রীতিনীতির হাতবই।

রাজেন্দ্র হাজরা একে “বিভিন্ন সূত্র থেকে গৃহীত একটি অসংবদ্ধ উপাদানসংগ্রহ” বলে উল্লেখ করেছেন।

সবচাইতে মজার বিষয় হচ্ছে, ভবিষ্য পুরাণে যেই অংশে মহম্মদের কথা বলা আছে, সেখানে ঈশ্বরপুত্র যীশু, ভারতের রাণী ভিক্টোরিয়া, সম্রাট আকবর, এমনকি, হিটলারের কথাও বর্ণিত আছে। আপনি কী তাহলে ঈশ্বরপুত্র যীশুর দাবিটিও মেনে নিচ্ছেন? বা হিটলারকে নবী মানবেন?


বিষয়টি সহজ করে বোঝাচ্ছি। ধরুন, আমি এখন একটি ভবিষ্যত বাণী করলাম, যে ১৯০০-১৯৫০ সালের মধ্যে দু’টি বিশ্বযুদ্ধ হবে। কথাটি লিখে মাটির নিচে পুতে দিলাম, এবং কয়েক বছর পরে সেগুলো মাটি থেকে তুলে বলতে লাগলাম, এই কথাগুলো খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ সালে লিখিত। কিন্তু কথাগুলোর বাক্যগঠন এবং রচনার ধারা লক্ষ্য করলেই বোঝা যাবে, সেগুলো আসলে আমি সাম্প্রতিক সময়েই লিখেছি। এবং এগুলো অতীতে লিখিত ভবিষ্যত বাণী হিসেবে উপস্থাপন করতে চাচ্ছি।


মরিজ উইন্টারনিৎজ এর মতে, ভবিষ্য পুরাণ শিরোনামে যেসব পুথি আমাদের হস্তগত হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে আপস্তম্বীয় ধর্মসূত্র গ্রন্থে উদ্ধৃত প্রাচীন কীর্তি নয়। আপস্তম্বীয় ধর্মসূত্র-এ একটি উদ্ধৃতি ভবিষ্য পুরাণ -এর নামাঙ্কিত; কিন্তু উক্ত পুরাণের প্রাপ্ত কোনো পাঠে তা পাওয়া যায় না। ভবিষ্য পুরাণ অনুসারে এই গ্রন্থের পাঁচটি পার্বন বা খণ্ড। কিন্তু প্রাপ্ত পাঠভিত্তিক মুদ্রিত সংস্করণে চারটি খণ্ড দেখা যায় ( ব্রাহ্ম , মধ্যমা , মধ্যমা , ও উত্তর)। এই চারটি খণ্ড বিষয়গতভাবে পৃথক ও ভিন্ন ভিন্ন সময়কালে রচিত।

Alf Hiltebeitel তার Rethinking India’s Oral and Classical Epics গ্রন্থে পরিষ্কারভাবেই বলেছেন, this part (যেই অংশে মুহাম্মদের কথা আছে, প্রতিসর্গপর্বন) of the Bhavisya Purana was mostly likely composed in the 19th century.

এবারে আসুন আরেকটি মজার বিষয় লক্ষ্য করি। আপনি যদি ভবিষ্য পুরাণের কিছু অংশ পড়ে থাকেন, পড়লেই দেখবেন, এটি ভবিষ্যতের নানা কথা বর্ণনা করেছে। এবং বর্ণনার সময়, টেন্স হিসেবে ফিউচার টেন্স ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু ভবিষ্য পুরাণের প্রতিসর্গপর্বন অংশটুকু পড়লেই, মজার বিষয় দেখবেন, মুহাম্মদের বর্ণনা অংশে, সেখানে ব্যবহৃত হয়েছে পাস্ট টেন্স। অর্থাৎ অতীত কালের বিবরণ। মজার না বিষয়টি? কেউ ভবিষ্যতবাণী করলে কোন টেন্সে লেখে? অতীত কাল হিসেবে বর্ণনা করে বুঝি?

ইসলাম সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী (প্রতিসর্গ পর্ব তৃতীয় অংশ থেকে)

শ্রী সুতা গোস্বামী বলেন: রাজা শালীবন রাজবংশের মধ্যে, দশজন রাজা ছিলেন যারা ৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শাসন করার পর স্বর্গীয় গ্রহগুলিতে গিয়েছিলেন। তারপর ধীরে ধীরে পৃথিবীতে নৈতিকতা ভূলণ্ঠিত হতে লেগেছিল। সেই সময়ে ভোজরাজা ছিলেন পৃথিবীর রাজাদের দশম জন। তিনি যখন দেখলেন যে পৃথিবীতে নৈতিকতা ভূলণ্ঠিত হচ্ছিল তখন তিনি কালিদাসের দশ হাজার সৈন্যবাহিনী দিয়ে তার দেশের চারিপাশের সব দিক জয় করলেন। তিনি সিন্ধুর নদী পার হলেন এবং গান্ধারা, ম্লেচ্ছ, শক, কাশ্মীর, নওড়া ও শঠের উপর জয়ী হন। তিনি তাদের শাস্তি দিয়েছিলেন এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। তারপর রাজা মহমদদ (মুহম্মদ), ম্লেচ্ছ ধর্মের প্রবক্তা, এবং যিনি মরুভূমিতে ছিলেন, তাকে নিয়ে এবং মহাদেব শিবের অনুসারিদের সাথে গেলেন। তিনি গঙ্গা পানি দিয়ে মহাদেব শিবকে ধৌত করেছিলেন এবং মনপ্রাণ দিয়ে উপাসনা করেছিলেন পঞ্চগভ্য (দুধ, ঘি, দই, গরু এবং গোমূত্র) দিয়ে এবং চন্দনচোপড় ইত্যাদি দিয়ে। তারপরে তিনি প্রার্থণা অর্পণ করে তাকে খুশী করেন।

শ্রী সুতা গোস্বামী বলেন: তার প্রার্থণা শুনে, মহাদেব শিব বললেনঃ হে রাজা ভোজরাজ, তোমাকে মহাকক্ষ্ম নামক স্থানে যেতে হবে। সেই স্থানটিকে বহিকা বলা হয় এবং এখন ম্লেচ্ছদের দ্বারা দূষিত হচ্ছে। সেই ভয়ঙ্কর দেশে আর ধর্ম (ধর্ম বলতে এখানে হিন্দু ধর্ম বোঝানো হচ্ছে) বলে কিছু নেই।

অতীতে একসময় ত্রিপুরা নামক একটি দানবের আবির্ভাব ঘটেছিল, যাকে আমি ইতিমধ্যেই পুড়িয়ে ছাই করেছিলাম। কিন্তু সে আবার বালির আদেশে ফিরে এসেছে। তার কোন সৃষ্টি নেই এবং সে আমার কাছ থেকে একটি বর লাভ করেছে। তার নাম মহাওদা এবং তার কর্ম একটি দানবের মতো। অতএব, হে রাজা, ঐ অশুভ দানবের দেশে যেও না। আমার দয়া দ্বারা আপনার বুদ্ধি শুদ্ধ করা হবে।

এইসব শুনে রাজা ভোজরাজ তার দেশে ফিরে আসেন এবং মহমমদ তাদের এগিয়ে দিতে সিন্ধু নদীর তীর পর্যন্ত এসেছিলেন। তিনি (মহম্মদ) মায়া (ইল্যুশন) প্রসারিত করতে সিদ্ধহস্ত ছিলেন, এবং খুব আনন্দের সাথে রাজাকে বললেন, ” হে মহারাজ, আপনার ঈশ্বর আমার দাস হয়েছেন। শুধু দেখুন, আপনার ঈশ্বর আমার অবশিষ্টাংশ খাবে, তাই আমি আপনাকে দেখাবো।” তার সম্মুখে এইসব দেখে রাজা বিস্মিত হলেন। তারপর রাগে ক্ষিপ্ত হয়ে কালিদাস মহমমদকে ধমক দিয়ে বললেন, “হে বদমাশ, তুমি রাজাকে বিদ্রূপ করার জন্য মায়াজ্বাল তৈরি করছো, আমি তোমাকে মেরে ফেলব, তুমি নিকৃষ্টতম …”

(…)

সেই শহরটি তীর্থযাত্রীদের কাছে তীর্থস্থান হিসাবে পরিচিত ছিল, একটি জায়গা যা ছিল মদিনা এবং উম্মত্ততা থেকে মুক্ত। একটি দানব সাথে নিয়ে মোহমায়া সৃষ্টিতে পারঙ্গম মহমমদ রাজা ভোজরাজের সামনে রাতে হাজির হলো এবং বললো: হে রাজা, আপনার ধর্ম অবশ্যই সব ধর্মের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ধর্ম। তারপরেও আমি আমার প্রভুর নির্দেশ মোতাবেক একটি ভয়ঙ্কর এবং অসুরীয় ধর্ম স্থাপন করতে যাচ্ছি। আমার অনুসারিদের লক্ষণ হবে যে, তারা প্রথমে তাদের যৌনাঙ্গ কেটে ফেলবে, কোন শিখা থাকবে না, তবে দাড়ি থাকবে, তারা পাপাত্মা হবে, প্রচুর হট্টোগোল করবে এবং সব খাবে। তারা কোন শুদ্ধ নিয়মনীতিহীন ভাবে প্রাণী হত্যা করে খাবে। ইহাই আমার অভিপ্রায়। আপনি যেমন কুশার সাহায্যে সব পরিশুদ্ধ করেন, তারাও মুশাল্লা বা মশলা দিয়ে শুদ্ধকর্মের কাজ করবে। অতএব, তারা মুসলমান হিসাবে পরিচিত করা হবে, যাদেরকে ধর্মদুষণকারী বলা হবে। এইভাবে আমি একটি অসুরীয়/ ইবলিশি ধর্ম প্রতিষ্ঠা করবো।

এই সব শুনে শুনে রাজা তার প্রাসাদে ফিরে আসেন এবং সেই পাপাত্মা তার জায়গায় ফিরে গেল।


ভোজরাজা কে ছিলেন??

এবারে আসুন মূল আলাপে। ভোজরাজা(সর্বপ্রথম জন) সম্পর্কে আমরা যা জানি, তা হচ্ছে, উনি শাসন করেছেন ১০১০ থে ১০৫৫ সাল পর্যন্ত। মুহাম্মদের জন্মকাল হচ্ছে ৫৭০ থেকে ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দ। দুইজনার দেখাসাক্ষাত হয়েছে বা মিল মহব্বত হয়েছে, এরকম কল্পনা শুধু পাগলের মাথায় আসতে পারে। তারপরে লক্ষ্য করুন,  এখানে হযরত মুহাম্মদ পুরো ঘটনাটি সম্পর্কে পাস্ট টেন্সে ভবিষ্যত বাণী করা হয়েছে যে, সে একটি অসুরীয় ধর্ম প্রতিষ্ঠা করবেন। আপনি বা আপনারা যারা ভবিষ্য পুরাণে মুহাম্মদের নাম আছে জেনেই ধেই ধেই করে নৃত্য শুরু করেছেন, ভবিষ্য পুরাণের রেফারেন্স ধরে মুহাম্মদকে সত্য প্রতিষ্ঠিত করতে নেমেছেন, তাদের মত কাঠ বলদ মনে হয় আর কেউ নেই। কারণ, আপনারা আসলে মুহাম্মদের পেছনে আইক্কাওয়ালা বাঁশ দেয়ার উদ্দেশ্যেই, মুহাম্মদকে অসুরীয় ধর্মের প্রবর্তক, এই বক্তব্য প্রচার করছেন।

মূল ভবিষ্য পুরান গ্রন্থটি এখানে যুক্ত করা হলো। বইটির ৩৭৬ পৃষ্ঠা থেকে মূল বইয়ের পাতাগুলো তুলে দেয়া হলো আগ্রহী পাঠকের জন্য। বইটির ডাউনলোড লিঙ্ক নিচে পেয়ে যাবেন।

ভবিষ্যপুরাণ
ভবিষ্য 4
ভবিষ্য পুরাণ
ভবিষ্য পুরাণ
ভবিষ্য পুরাণ
ভবিষ্য 12
মহামদ পৈশাচ ধর্ম পালন করবে
ভবিষ্য 14


প্রয়োজনীয় রেফারেন্সঃ

১। Alf Hiltebeitel এর লেখা Rethinking India’s Oral and Classical Epics University of Chicago Press. pp. 217–218. ISBN 978-0-226-34050-0. আগ্রহী পাঠকের জন্য বইটির ডাউনলোড লিঙ্কও দেয়া হলো।

২। পুরাণ সংকলন, ইংরেজিতে। ইসলাম সম্পর্কিত অংশটুকু ৪৮৩ নং পৃষ্ঠায় দেখুন।

৩। মহর্ষি কৃষদ্বৈপায়ন বেদব্যাস বিরচিতম (সন্দেহপূর্ণ) ভবিষ্য পুরান। শ্রীমৎ স্বামী পরমাত্মানন্দনাথ ভৈরব (গিরি) কৃত অনুবাদ এবং সম্পাদনা।  বিশেষ কৃতজ্ঞতাঃ বইটি স্ক্যান করে দিয়েছেন বিশ্ব ব্যাপারী ভাই।

ভবিষ্য পুরাণে ইসলাম মুহাম্মদ
ভবিষ্য পুরাণে মুহাম্মদ



Read More

14 February, 2022

জাকির নায়েকের ভুয়া মতবাদ

14 February 0

(হুর) শব্দের মনগড়া ব্যাখ্যা করে কুরআনের আয়াতের অর্থ বিকৃতি মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন - “এভাবেই হবে; আর আমি তাদেরকে ‘হুরে ঈন’-এর সাথে জুড়ি মিলিয়ে দিবো।” (সূরাহ দুখান, আয়াত নং ৫৪) , সূরাহ তূর, আয়াত নং ২০ , সূরাহ রাহমান, আয়াত নং ৭০ ও ৭২ , সূরাহ ওয়াকি‘আ, আয়াত নং ২২ – ২৩) এ সকল আয়াত দ্বারা বুঝা যাচ্ছে – হুর হচ্ছেন জান্নাতে বিশেষভাবে সৃষ্ট সুন্দরী রমণীগণ । তাদেরকে জান্নাতী পুরুষগণের স্ত্রী বানিয়ে দেয়া হবে। এ প্রসঙ্গে তাফসীরে মা‘আরিফুল কুরআনে বলা হয়েছেÑ“জান্নাতী পুরুষদের বিয়ে সুন্দরী আনতলোচনা রমণীদের সাথে যথানিয়মে সম্পন্ন করা হবে। জান্নাতে পার্থিব বিধিবিধানের বাধ্যবাধকতা থাকবে না, কিন্তু সম্মানার্থে এসব বিয়ে সম্পন্ন হবে।” (দ্রষ্টব্য : তাফসীরে মা‘আরিফুল কুরআন – সৌদী সংস্করণ, ১২৪০ পৃষ্ঠা) অপরদিকে জান্নাতী নারীগণকে অকল্পনীয় নাজ-নিয়ামত দিয়ে জান্নাতের হুরদের সাইয়্যিদা (কর্ত্রী) বানিয়ে দেয়া হবে। আর তাদেরকে তাদের স্বামীদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করে দেয়া হবে। সেখানে তাদেরকে পুরুষদের ন্যায় হুর প্রদানের প্রসঙ্গই উঠতে পারে না। কেননা, হুর হচ্ছেন শুধুই স্ত্রীলোক – পবিত্র কুরআনে তাদের নানা অবস্থা বর্ণনা প্রসঙ্গে স্ত্রীবাচক শব্দ বা বিশেষণই যথা- প্রভৃতি ব্যবহার করা হয়েছে। হুরের সাথে কোথাও পুরুষ বাচক বিশেষণ ব্যবহার করা হয় নি। এতে বুঝা যাচ্ছে – হুর শুধুই নারী। পুরুষ হুর বলে কিছু নেই। এ ছাড়াও পবিত্র কুরআনের কোথাও এবং কোনো হাদীসে নেই যে, জান্নাতে পুরুষদেরকে যেমন স্ত্রী হুর দেয়া হবে, তেমনি নারীগণকে পুরুষ হুর বা এ জাতীয় কিছু প্রদান করা হবে। এর কারণ হলো, জান্নাতে জান্নাতীগণকে তা-ই দেয়া হবে – যা তাদের নিরঙ্কুশ সুখ ও শান্তির বিষয় হয়। কিন্তু সতী-সাধ্বী নারীদের জন্য একসঙ্গে একাধিক স্বামী বা পুরুষ জুড়ি হওয়া অসহ্য ও অনাকাক্সিক্ষত ব্যাপার। যার পীড়া তাদের সুখ-শান্তির পরিপন্থী। আর এ বিষয়টি অত্যন্ত দোষণীয় এবং এ ধরনের নারীদেরকে বারবনিতা বলা হয় – যাদেরকে সমাজের কলঙ্ক বিবেচনা করা হয়। সুতরাং জান্নাতের নারীগণের জন্য তা কখনো শোভনীয় বা সমীচীন হতে পারে না। তাইতো জান্নাতী নারীগণকে আল্লাহ তা‘আলা এমন অকল্পনীয় ও পরিপূরক অঢেল নিয়ামত দান করবেন যে, তাঁরা এতে সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন। আর এ অবস্থায় তারা জান্নাতে এক একজন জান্নাতী পুরুষ স্বামীকেই সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করবেন। তারা সেখানে একাধিক স্বামী চাইবেনই না এবং এর চিন্তাও কখনো করবেন না। পক্ষান্তরে পুরুষগণের জন্য দুনিয়াতে একসঙ্গে একাধিক স্ত্রী থাকা বিধিবদ্ধ ছিলো, তাই জান্নাতে একাধিক স্ত্রীরূপে হুরগণের সঙ্গে তাদের বিবাহ হওয়া সঙ্গত। এর ভিত্তিতেই পুরুষদের জন্য জান্নাতে হুরগণকে সঙ্গীণী হিসেবে প্রাপ্তির বিষয় বর্ণনা করা হয়েছে। (দ্রষ্টব্য : তাফসীরে জালালাইন, ৪৪৬ পৃষ্ঠা/ তাফসীরে কুরতুবী, ১৭ খ-, ১০৭ পৃষ্ঠা/ তাফসীরে তাবারী, ১১ খ-, ৬১৪ পৃষ্ঠা/ তিরমিযী শরীফ, ২য় খ-, ৮০ পৃষ্ঠা প্রভৃতি) কিন্তু ডাক্তার জাকির নায়েক পবিত্র কুরআনের অর্থ বিকৃত করতঃ ‘হুর’ শব্দের অপব্যাখ্যা করে হুর পুরুষ ও মহিলা উভয় প্রকারের হবেন এবং পুরুষ হুর জান্নাতী নারীরা পাবেন আর নারী হুর জান্নাতী পুরুষরা পাবেন বলে কুরআন ও হাদীসের খিলাফ মনগড়া মন্তব্য করেছেন। এ প্রসঙ্গে ডাক্তার জাকির নায়েকের ভাষ্য লক্ষ্য করুন - “অধিকাংশ অনুবাদে বিশেষ করে উর্দু ভাষায় হুরকে সুন্দরী কুমারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদি হুর অর্থ সুন্দরী কুমারী হয়, তাহলে মহিলারা জান্নাতে কী পাবে? প্রকৃত পক্ষে হুর শব্দটি ‘আহওয়ার’ এবং ‘হাওয়ার’ এ দু’টি শব্দের বহুবচন। ‘আহওয়ার’ পুরুষের জন্য প্রযোজ্য এবং ‘হাওয়ার’ মহিলাদের জন্য প্রযোজ্য।…… সুতরাং প্রকৃতপক্ষে হুরের অর্থ হল সঙ্গী বা সাথী। পুরুষরা পাবে বড় বড় সুন্দর চোখবিশিষ্ট নারী আর নারীরা পাবে বড় সুন্দর চোখবিশিষ্ট স্মার্ট পুরুষ।” (দ্রষ্টব্য : ডা. জাকির নায়েক লেকচার সমগ্র, ভলিয়াম নং ১, পৃষ্ঠা নং ৩৫৯) উল্লেখ্য, এক্ষেত্রে ডাক্তার জাকির নায়েক হুর শব্দের শ্রেণীবিভাজন করে পুরুষ হুর ও নারী হুর বলে যে প্রকারভেদ করেছেন এবং জান্নাতী পুরুষদের জন্য নারী হুর আর নারীদের জন্য পুরুষ হুর বলে যে ভাগবিন্যস্ত করেছেন, তা পবিত্র কুরআনের কোথাও নেই এবং তা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কোন হাদীসে কিংবা সাহাবায়ে কিরাম (রা.), তাবিয়ীন ও তাবি-তাবিয়ীন কারো বর্ণনা বা তাফসীরে উল্লেখ নেই। তিনি এ মর্মে যে কুরআন শরীফের দু’টি আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়েছেন, সেখানে শব্দের সাথে স্ত্রীবাচক বিশেষণ রয়েছে। তাই তার সেই উদ্ধৃতি তার দাবীকে প্রমাণিত করে না। তেমনি তিনি তার দাবীর সপক্ষে যে মুহাম্মদ আসাদ ও আবদুল্লাহ ইউসুফ আলীর ইংরেজী অনুবাদের বরাত দিয়েছেন, তারাও তার মতোই ইংরেজী শিক্ষিত লোক, তারা কোন আলেম নন। তাই তাদের কথাও উপযুক্ত হাওয়ালা ছাড়া গ্রহণীয় হতে পারে না। কিন্তু সে রকম উপযুক্ত কোন হাওয়ালা সেখানে নেই।
সুতরাং ডাক্তার জাকির নায়েকের এ মনগড়া তাফসীর ও ব্যাখ্যা কোনক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং বলা যায়, এ ব্যাপারে পবিত্র কুরআনের অপব্যাখ্যা করে তিনি জান্নাতী পূত-পবিত্র নারীদের মনোবৃত্তিতে কালিমালেপন করেছেন এবং তাদের নির্মল মাহাত্ম্যকে বারবনিতাবৃত্তিক চরিত্রকল্পে কলুষিত করে দিয়েছেন।
এক্স সম্রাট আকবর ইসলাম ধর্মের সাথে হিন্দুদের ধর্মের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে দ্বীন--ইলাহীপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল। একই ভাবে জাকির নায়েক সকল ধর্মকে একই প্লাটফর্মে এনে নতুন এক ফিৎনার সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তার কিছু বিভ্রান্তিমুলক বক্তব্য এবং তার জবাব তুলে ধরার চেষ্টা করব।
. জাকির নায়েক এক লেকচারে বলেছে যে, আল্লাহ পাক, উনাকে যে কোন সুন্দর নামে ডাকা যাবে। যুক্তি হিসেবে সে হিন্দুদের বেদ থেকে কতগুলো শ্লোক তুলে ধরে বলেছে যে, আল্লাহ পাক, উনাকে হিন্দুদের দেবতার নাম ধরেও ডাকা যাবে। যেমনঃ ব্রহ্মা অর্থ সৃষ্টিকর্তা (খলীক্ব), বিষ্ণু অর্থ প্রতিপালক (রব) ইত্যাদি। (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক) (Concept of God in Major religions- from the CD-”Presenting Islaam and Clarifying Misconceptions –Lecture series by Dr.Zaakir Naik, Developed by AHYA Multi-Media- 12 Enlightening Sessions) তাহলে জাকির নায়েকের যুক্তি মতে আল্লাহ পাক, উনাকে মুহম্মদ, আহমদ, হাসান প্রভৃতি নামেও ডাকা যাবে কারণ নাম মুবারক গুলো সুন্দর (নাউযুবিল্লাহ) আল্লাহ পাক কুরআন মজিদের সুরা রাফ এর ১৮০ নম্বর আয়াত শরীফ ইরশাদ করেন,“আর আল্লাহ পাক, উনার রয়েছে উত্তম সব নাম মুবারক। কাজেই সেই সব নাম মুবারক উনাকে ডাকো।সুতরাং আল্লাহ পাক, উনাকে ৯৯টি নাম মুবারক ডাকা যাবে। . জাকির নায়েক সুরা বাকারা এর আয়াত শরীফ ১০৬ ১০৮, সূরা আল ইমরান আয়াত শরীফ ২৯, সূরা নেহাল আয়াত শরীফ ৭৭ এবং সূরা ফাতির আয়াত শরীফ ইত্যাদি উল্লেখ করে বলেছে যে, আল্লাহ পাক, উনার সবকিছুর উপর ক্ষমতা রয়েছে কিন্তু আল্লাহ পাক সব কিছু সৃষ্টি করতে অক্ষম। সে আরো বলেছে যে, আল্লাহ পাক সৃষ্টি করতে অক্ষম এমন ১০০০ জিনিসের তালিকা সে তৈরী করতে পারবে। যেমনঃ আল্লাহ পাক লম্বা বেটে মানুষ তৈরী করতে অক্ষম, আল্লাহ পাক তাকে উনার সৃষ্টি জগতের বাহিরে নিক্ষেপ করতে অক্ষম ইত্যাদি। (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক) (Is Quraan Word of God, from the CD “Presenting Islaam and Clarifying Misconceptions –Lecture series by Dr.Zaakir Naik, Developed by AHYA Multi-Media- 12 Enlightening Sessions) আল্লাহ পাক সুরা ইখলাছ ইরশাদ করেন,“আমি (আল্লাহ পাক) বেনিয়াজ।তাহলে কি করে বলা যেতে পারে যে, আল্লাহ পাক সব কিছু সৃষ্টি করতে পারেন না? একটা সময় তো ছিল যখন সময়ই ছিল না, আল্লাহ পাক সময় সৃষ্টি করলেন। আল্লাহ পাক পিতা-মাতা ব্যতীত হযরত আদম আলাইহিস সালাম, উনাকে সৃষ্টি করলেন। আল্লাহ পাক পিতা ব্যতীত হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম, উনাকে সৃষ্টি করলেন। এর কি জবাব জাকির নায়েক দেবে? . জাকির নায়েক সুরা ত্ব-হা এর আয়াত শরীফ ২৫ এর অর্থ বিকৃত করে বলেছে হে আল্লাহ পাক ! আমার মস্তিস্ককে (কেন্দ্র) প্রশস্ত করে দিন।সে আরবী ছদরশব্দের অর্থ করেছে মস্তিস্ককারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে যে, বর্তমান বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে কল্বব নয় বরং মস্তিস্কই সকল চিন্তা শক্তির উৎস। (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক) ( Is Quraan Word of God, from the CD-”Presenting Islaam and Clarifying Misconceptions –Lecture series by Dr.Zaakir Naik, Developed by AHYA Multi-Media- 12 Enlightening Sessions) সূরা মুনাফিকুন আয়াত শরীফ , সূরা বাক্বারা আয়াত শরীফ , সুরা আন আম আয়াত শরীফ ২৫, সূরা রাফ আয়াত শরীফ ১০০, সূরা ইউনুস আয়াত শরীফ ৭৪, সূরা রূম আয়াত শরীফ ৫৯ মহান আল্লাহ পাক অবিশ্বাসীদের কল্ববে মোহর প্রসঙ্গে বলেছেন এবং সূরা নাস এর আয়াত শরীফ মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন যে শয়তান মানুষের ছুদুর (কল্বব) অসওয়াসা দেয়। তাহলে দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মানুষের চিন্তাশক্তি মুলত কল্বব থেকেই। তাই সুরা ত্ব-হা এর ২৫ নম্বর আয়াত শরীফ এর অর্থ হবে, “হে আল্লাহ পাক ! আমার কল্ববকে প্রশস্ত করে দিন।. জাকির নায়কে কুরআন শরীফ এর আয়াত শরীফ এর সাথে কবির দাস (ভারতের তথাকথিত এক মুসলমান যে ইসলাম ধর্ম এবং হিন্দু ধর্মকে এক করার অপচেষ্টা চালিয়েছে) এর শ্লোকের তুলনা করেছে। (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক) (concept of God in major religions- from the CD-”Presenting Islaam and Clarifying Misconceptions –Lecture series by Dr.Zaakir Naik, Developed by AHYA Multi-Media- 12 Enlightening Sessions) মহান আল্লাহ পাক সূরা ইমরানের ১৯ নম্বর আয়াত শরীফ ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক, উনার নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন হচ্ছে ইসলাম।আবার একই সূরার ৮৫ নম্বর আয়াত শরীফ আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “যে দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্ম বা মতবাদের নিয়ম-নীতি গ্রহণ করবে সেটা তার থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্থদের অর্থাৎ জাহান্নামীদের অন্তর্ভূক্ত হবে।তাহলে একজন মুসলমান কি করে কুরআন শরীফ এর সাথে বাতিল ধর্মের সাদৃশ্য খুজতে পারে? . জাকির নায়েক তার লেকচারে যবন, ম্রেচ্ছ, অস্পৃশ্য হিন্দুদের ভাইবলে সম্বোধন করেছে এবং বলেছে, “……..আমরা হিন্দু ভাইদের ভালবাসি।” (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক) (concept of God in Major religions-from the CD-”Presenting Islaam and Clarifying Misconceptions –Lecture series by Dr.Zaakir Naik, Developed by AHYA Multi-Media- 12 Enlightening Sessions) তার এই বক্তব্য স্পষ্টতঃ কুরআন শরীফ বিরোধী। মহান আল্লাহ পাক সূরা মায়িদা এর নম্বর আয়াত শরীফ ইরশাদ করেন, “তোমরা তোমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পাবে ইহুদী অতঃপর মুশরিকদেরকে।যেখানে আল্লাহ পাক মুশরিক তথা হিন্দুদেরকে মুসলমানদের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে দিলেন সেখানে হিন্দু কি করে মুসলমানদের ভাই হতে পারে? কস্মিনকালেও হতে পারে না। আর শত্রুকে কেউ কখনোই ভালবাসতে পারে না। . জাকির নায়েক এক প্রশ্নোত্তর পর্বে সালাত সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে বাইবেল থেকে সালাতের ব্যাখ্যা দিয়েছে এবং সালাতের শারীরিক উপকারিতা তুলে ধরেছে। (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক) (Concept of God in Major religions, question and answer session- from the CD-”Presenting Islaam and Clarifying Misconceptions –Lecture series by Dr.Zaakir Naik, Developed by AHYA Multi-Media- 12 Enlightening Sessions) প্রথমতঃ একজন মুসলমান কখনো অন্য ধর্ম থেকে তার ধর্মীয় ব্যাখা দিতে পারে না। প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক সূরা ইমরান এর ৮৫ নম্বর আয়াত শরীফ ইরশাদ করেন, “যে দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্ম বা মতবাদের নিয়ম-নীতি গ্রহণ করবে সেটা তার থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্থদের অর্থাৎ জাহান্নামীদের অন্তর্ভূক্ত হবে।দ্বিতীয়তঃ সালাতের ধর্মীয় গুরুত্ব না বুঝিয়ে শারীরিক উপকারিতা ব্যাখা করা মুলতঃ মানুষের ইবাদত নষ্টের হীন উদ্দেশ্য বৈ কিছু নয়। কারণ আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির নিয়ত ব্যতীত ইবাদত করলে তার কস্মিনকালেও গ্রহণযোগ্য হবেনা। কেউ যদি ব্যায়ামের জন্য সালাত আদায় করে কিংবা শরীর কমানোর জন্য রোযা রাখে তাহলে সেই ইবাদত গ্রহনযোগ্য হবেনা। . জাকির নায়েক শিশুদের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেছে যে, শিশুদের সিরাতুম মুস্তাকিমএর উপর দৃঢ় রাখতে হলে আধুনিক প্রযুক্তি ইসলামিক খেলাধুলা প্রয়োজন।(নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক) (Dawah or Destruction, question and answer session – from the CD-”Presenting Islaam and Clarifying Misconceptions –Lecture series by Dr.Zaakir Naik, Developed by AHYA Multi-Media- 12 Enlightening Sessions) জাকির নায়েক তার এই বক্তব্যে মাধ্যমে চরম জাহিলিয়তা প্রকাশ করেছে। কারণ তার বক্তব্যনুযায়ী যখন প্রযুক্তি উন্নত ছিলনা তখন মানুষ সিরাতুম মুস্তাকিম এর উপর দৃঢ় ছিলনা এবং হারাম কাজ দ্বারা সিরাজতুম মুস্তাকিম এর উপর দৃঢ় থাকা যায়। হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম মুসতাদেরেকে হাকিম ইরশাদ করেন, “সমস্ত খেলাধুলা হারাম।তাহলে ইসলামিক খেলাধুলাকথাটি কোন পর্যায়ের জাহিলতি তা বলার অপেক্ষাই রাখেনা। বরং আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনাদের সন্তুষ্টির মাধ্যমে সিরাতুম মুস্তাকিম এর উপর দৃঢ় থাকা সম্ভব। .জাকির নায়েক তার এক লেকচারে বলেছে যে, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত মুসা আলাইহিস সালাম, উনারা আল্লাহ পাক উনার মনোনীত রসূল ছিলেন এবং একই সাথে উনারা দুনিয়ার রাজা ছিলেন। (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক) (Similarities between Islaam and Christianity- from the CD-”Presenting Islaam and Clarifying Misconceptions –Lecture series by Dr.Zaakir Naik, Developed by AHYA Multi-Media- 12 Enlightening Sessions) জাকির নায়েকের এই বক্তব্য স্পষ্টতঃ ইসলাম বিরোধী এবং ইহানতপূর্ণ। আল্লাহ পাক সূরা নমল এর ৩৪ নম্বর আয়াত শরীফ রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে বলেছেন এবং সূরা ইমরানের ১৯ নম্বর আয়াত শরীফ ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক, উনার নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন হচ্ছে ইসলাম।. জাকির নায়েক চ্যালেঞ্জ করেছে যে, যদি কোন খৃষ্টান বাইবেল থেকে তাকে দেখাতে পারে যে, যিশু নিজেকে খোদা বলেছে তবে সে খৃষ্টান ধর্ম গ্রহণ করবে। (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক) (Similarties between Islaam and Christianity- from the CD-”Presenting Islaam and Clarifying Misconceptions –Lecture series by Dr.Zaakir Naik, Developed by AHYA Multi-Media- 12 Enlightening Sessions) তার বক্তব্যের দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সে কত বড় ধরণের মূর্খ। তার বক্তব্য মতে, এখন কোন ব্যক্তি যদি ফেরাউনের মত খোদা দাবী করে তবে সে ব্যক্তিকে খোদা হিসেবে মেনে নেবে এবং তার ধর্ম গ্রহণ করবে। মহান আল্লাহ পাক কুরআন শরীফ ইরশাদ করেন, “পূর্বে ওহী দ্বারা নাযিলকৃত দ্বীন এবং পূর্বে,বর্তমানে এবং পরে মানবরচিত সমস্ত মতবাদ রদ করে সত্য দ্বীন হিদায়েতসহ উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাঠিয়েছেন।আবার হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসনদে আহমদ বায়হাক্বী শরীফ ইরশাদ করেন, “অবশ্যই আমি তোমাদের নিকট পরিপূর্ন, উজ্জ্বল পরিস্কার দ্বীন নিয়ে এসেছি। হযরত মুসা আলাইহিস সালাম উনিও যদি দুনিয়ায় থাকতেন, তাহলে উনাকেও আমার অনুসরণ করতে হতো।যেখানে আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা ওহী দ্বারা নাযিলকৃত ইঞ্জিল শরীফ রদ করে দিয়েছেন সেখানে ইঞ্জিল শরীফ এর বিকৃতরূপ বাইবেল কি হক্ব হতে পারে? ১০. জাকির নায়েক বুখারী শরীফ এর হাদীস শরীফ উদ্ধতি দিয়ে বলেছে যে, মুসলমানদের জন্য দাড়ি রাখা ফরয নয় সুন্নত। (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক) (Muhammed in various world religious scriptures – from the CD-”Presenting Islaam and Clarifying Misconceptions –Lecture series by Dr.Zaakir Naik, Developed by AHYA Multi-Media- 12 Enlightening Sessions) তার এই বক্তব্য দ্বারা সে প্রমাণ করেছে সে কত বড় গন্ড মুর্খ! কারণ কুরআন শরীফ এর নির্দেশমুলক বাক্য তোমরা নামায কায়িম করদ্বারাই নামায ফরয সাব্যস্ত হয়েছে। অনুরূপভাবে হাদীছ শরীফ তোমরা (পুরুষরা) দাড়ি লম্বা করোএই নির্দেশমুলক বাক্য দ্বারাই দাড়ি রাখা ফরয সাব্যস্ত হয়েছে। ১১. জাকির নায়েক বলেছে যে, মুসলমানদের জন্য টাই পরা জায়িজ। কারণ বাইবেলের কোথাও টাইকে ক্রুশের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। সে আরো বলেছে, টাই যদি ক্রুশের মত হয়ে থাকে তবে কুর্তা আরো বেশী ক্রুশের মত। সে আরো বলেছে যে, যে কোন পোশাক পরিধান করা যাবে যদি সেটি শরীয়া বিরোধী না হয়। (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক) (Muhammed in various world religious scripture- from the CD -”Presenting Islaam and Clarifying Misconceptions –Lecture series by Dr.Zaakir Naik, Developed by AHYA Multi-Media- 12 Enlightening Sessions) জাকির নায়েক কত বড় মাপের মূর্খ যে সে বাইবেলে ইসলামী আদেশ-নিষেধ খুজে বেড়ায়! মহান আল্লাহ পাক সূরা মায়িদার ৪৪ নম্বর আয়াত শরীফ ইরশাদ করেন, “আল্লাহ পাক তিনি যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী যারা আদেশ-নির্দেশ করবেনা তারা কাফির।মহান আল্লাহ পাক সূরা ইমরান এর ৮৫ নম্বর আয়াত শরীফ ইরশাদ করেন, “যে দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্ম বা মতবাদের নিয়ম-নীতি গ্রহণ করবে সেটা তার থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্থদের অর্থাৎ জাহান্নামীদের অন্তর্ভূক্ত হবে।আবার হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিশকাত শরীফ ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত এবং তার হাশর-নশর তাদের সাথে হবে।১২. জাকির নায়েককে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, সে কেন বিধর্মীদের ধর্মগ্রন্থ থেকে উদ্ধতি দিয়ে ইসলামের অনেক বিষয়ের ব্যাখা করার চেষ্টা করে। জবাবে সে বলেছে, কারণ বিধর্মীরা কুরআন শরীফ বিশ্বাস করেনা। (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক) (Muhammed in various world religious scriptures – -”Presenting Islaam and Clarifying Misconceptions –Lecture series by Dr.Zaakir Naik, Developed by AHYA Multi-Media- 12 Enlightening Sessions) সে যে কত বড় জাহেল তা আরেক বার প্রমাণ করলো। যদি কোন বিধর্মীকে তার বাতিল ধর্মগ্রন্থ থেকে দলীল পেশ করে ইসলামী বিষয় ব্যাখ্যা করা হয় তবে অবশ্যই সেই বিধর্মী নিজের ধর্মকে হক্ব মনে করবে এবং সে তার বাতিল ধর্মের উপর দৃঢ় হবে। মহান আল্লাহ পাক সূরা মায়িদার ৪৪ নম্বর আয়াত শরীফ ইরশাদ করেন, “আল্লাহ পাক তিনি যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী যারা আদেশ-নির্দেশ করবেনা তারা জাকির।সুতরাং বলার অপেক্ষাই রাখেনা যে বা যারা বাতিল ধর্মগ্রন্থ দলীল হিসেবে ব্যবহার করে তা কোন তবকার লোক। ১৩. জাকির নায়েক বলেছে যে, সে অন্ধভাবে পরকাল, জান্নাত, জাহান্নাম, রূহ, জ্বিন, ফেরেস্তা বিশ্বাস করে না। সে যুক্তি এবং সম্ভবনা তত্ত্ব (theory of probably) দ্বারা বিশ্বাস করে। (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক) (Quraan and Modern Science- conflict or conciliation- —”Presenting Islaam and Clarifying Misconceptions –Lecture series by Dr.Zaakir Naik, Developed by AHYA Multi-Media- 12 Enlightening Sessions) তার এই বক্তব্য স্পষ্টতঃ সূরা বাক্বারা এর এবং নম্বর আয়াত শরীফ বিরোধী। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “ সেই কিতাব মুবারক যাতে কোন সন্দেহ নেই। মুত্তাকিদের জন্য যারা অদৃশ্যের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে।১৪. জাকির নায়েক ইসলামে বহু বিবাহের কারণ হিসেবে নারীদের সাংখ্যাধিক্যকে তুলে ধরেছে। করে। (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক) (Quraan and Modern Science- conflict or conciliation- —”Presenting Islaam and Clarifying Misconceptions –Lecture series by Dr.Zaakir Naik, Developed by AHYA Multi-Media- 12 Enlightening Sessions) তার এই ব্যাখ্যা স্পষ্টতঃ মনগড়া বানোয়াট। কারণ আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা বহু বিবাহের কারণ নারীর আধিক্য কথা বলেননি। বুখারী মুসলিম শরীফ ইরশাদ হয়েছে, “কেয়ামতের লক্ষণ হলো- জ্ঞানচর্চা উঠে যাবে, মূর্খতা বৃদ্ধি পাবে, ব্যভিচারের প্রসার হবে, মদ্যপান বেড়ে যাবে,পুরুষের সংখ্যা কমে যাবে এবং নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।জাকির নায়েক যদি এই হাদীছ শরীফ দ্বারা ব্যাখ্যা দিয়ে থাকে তবে ইসলামের প্রাথমিক যুগের ব্যাপারে কি বলবে? ১৫. জাকির নায়েক আযানকে মুসলমানদের আন্তর্জাতিক সংগীতহিসেবে উল্লেখ করেছে।(নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক) (Salaah- The programming towards righteousness- —”Presenting Islaam and Clarifying Misconceptions –Lecture series by Dr.Zaakir Naik, Developed by AHYA Multi-Media- 12) ইসলামে সংগীত সম্পূর্ণ হারাম। মহান আল্লাহ পাক সূরা লুকমান এর নম্বর আয়াত শরীফ ইরশাদ করেন, “মানুষের মধ্যে কিছু লোক রয়েছে যারা লাহওয়াল হাদীছ (গান-বাজনা) খরিদ করে থাকে। যেনো বিনা ইলমে মানুষদেরকে আল্লাহ পাক উনার পথ থেকে বিভ্রান্ত করে এবং হাসি-ঠাট্টা রূপে ব্যবহার করে, তাদের জন্য অপমানজনক শাস্তি রয়েছে।হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “আমি বাদ্যযন্ত্র মুর্তি ধ্বংসের জন্য প্রেরিত হয়েছি।তাহলে আযানকে হারাম সংগীতের সাথে তুলনা করা কত বড় কুফরী কাজ তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। ১৬. জাকির নায়েক সূরা বাক্বারা এর ২৩ নম্বর আয়াত শরীফ উল্লেখ করে বলেছে যে, আল্লাহ পাক কুরআন শরীফ তৈরী করেছেন।(নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক) ( Salaah- The programming towards righteousness- —”Presenting Islaam and Clarifying Misconceptions –Lecture series by Dr.Zaakir Naik,Developed by AHYA Multi-Media- 12 Enlightening Sessions) তার এই বক্তব্য প্রমাণ করলো সে বাতিল মোতাজিলা ফিরকার অনুসারী। কারণ মোতাজিলা ফিরকার অনুসারীরা কুরআন শরীফ কে আল্লাহ পাক উনার মাখলুকাত তথা সৃষ্টিবস্তু মনে করে। মুলতঃ কুরআন শরীফ আল্লাহ পাক উনার কালাম। যদি আল্লাহ পাক কুরআন শরীফ সৃষ্টিই করতেন তবে একটা সময় (কুরআন শরীফ সৃষ্টি করার পূর্বে) আল্লাহ পাক ইলমহীন অবস্থায় ছিলেন (নাউযুবিল্লাহ) ১৭. জাকির নায়েক নাস্তিকদেরকে স্বাগত জানায় কারণ তারা কলেমা শরীফ এর প্রথম অংশ লা ইলাহাঅর্থাৎ কোন প্রভু নেইস্বীকার করে। (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক) (Quraan and Modern Science- conflict or conciliation- —”Presenting Islaam and Clarifying Misconceptions –Lecture series by Dr.Zaakir Naik, Developed by AHYA Multi-Media- 12 Enlightening Sessions) প্রথমত কালেমা শরীফ এর প্রথম অংশ হলো লা ইলাহা ইল্লালাহঅর্থাৎ আল্লাহ পাক ব্যতীত কোন ইলাহ নেইকিন্তু জাকির নায়েক ইল্লালাহবাদ দিয়ে বলেছে। দ্বিতীয়তঃ তার মত কুফরী আক্বীদা পোষণ করে কেউ যদি সারা জীবন কলেমা শরীফ পড়েও থাকে তবুও সে ৭২টি বাতিল ফিরকার সাথে জাহান্নামী হবে। ১৮. জাকির নায়েক তার চরম মূর্খতা জাহির করে বলেছে যে, কোন ধর্মীয়গ্রন্থটি প্রকৃত পক্ষে সৃষ্টিকর্তা উনার কালাম?, তার চুড়ান্ত পরীক্ষা বিজ্ঞান দ্বারা সম্ভব। (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক) (Symposium- religion in the right perspective——”Presenting Islaam and Clarifying Misconceptions –Lecture series by Dr.Zaakir Naik, Developed by AHYA Multi-Media- 12 Enlightening Sessions) জাকির নায়েকের এই বক্তব্য স্পষ্টত কুরআন শরীফ বিরোধী। মহান আল্লাহ পাক সূরা বাক্বার এর নম্বর আয়াত শরীফ ইরশাদ করেন, “ সেই কিতাব, যাতে কোন সন্দেহ নেই, এটি মুত্তাকীদের জন্য পথ প্রদর্শক।যেখানে মহান আল্লাহ পাক কুরআন শরীফ এর ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করতে নিষেধ করলেন, সেখান জাকির নায়েক কি করে কুরআন শরীফ এর শুদ্ধতা বিজ্ঞান দ্বারা করতে চায়? বরং বিজ্ঞান নামক ইলমটি কুরআন শরীফ এর অংশ মাত্র। ১৯. জাকির নায়েক বলেছে যে, মুসলমান এবং হিন্দুদের মধ্যে মুল পার্থক্য হলো মুসলমান বিশ্বাস করে সবকিছু সৃষ্টিকর্তার অর্থাৎ everything is God’s অন্যদিকে হিন্দুরা বিশ্বাস করে সবকিছু সৃষ্টিকর্তা অর্থাৎ everything is God. (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক) (Universal brotherhood- ——”Presenting Islaam and Clarifying Misconceptions –Lecture series by Dr.Zaakir Naik, Developed by AHYA Multi-Media- 12 Enlightening Sessions) জাকির নায়েকের ভাষ্য মতে, মুসলমান হিন্দুদের মধ্যে পার্থক্য হলো এক সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস অর্থাৎ তওহীদে বিশ্বাস। তার যুক্তিমতে হিন্দুদের জাত ব্রাহ্মণরাও মুসলমান কারণ তারাও এক সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী। প্রকৃত আহলে কিতাব (ইহুদী, খৃষ্টান)রা এক সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী ছিল, সুতরাং জাকির নায়েকের যুক্তি মতে তারা মুসলমান। কিন্তু মুসলমান হওয়ার মূল শর্ত হলো তওহীদের সাথে রিসালতে বিশ্বাসী হবে এবং আক্বীদা শুদ্ধ হবে। ২০. জাকির নায়েক সূরা বাক্বার এর ১৫৪ নম্বর আয়াত শরীফ উল্লেখ করে বলেছে যে, আয়াত শরীফ উল্লেখিত “…..বরং তারা জীবিত……” এর অর্থ হলো পরকালে তারা আবার জীবিত হবে (পুনরুত্থান) এবং তাদের পুরস্কিত করা হবে। (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক) ( Terrorism & Jihaad- an islaamic perspective- released by Peace Center) সূরা বাক্বারা এর ১৫৪ নম্বর আয়াত শরীফ ইরশাদ হয়েছে, “আরা যারা আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় শহীদ হয়, উনাদেরকে তোমরা মৃত বলো না। বরং উনারা জীবতি কিন্তু তোমরা তা বুঝো না।এখানে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, উনারা দুনিয়াতে শহীদ হবার পরও জীবিত পরকালে তো অবশ্যই। হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিরমিযী শরীফ মিশকাত শরীফ ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি কুরআন এর মনগড়া বা স্বীয় রায় অনুযায়ী তাফসীর বা ব্যাখ্যা করবে সে যেন তার স্থান দোযখে নির্ধারণ করে নেয়।সুতরাং জাকির নায়েক যে কোন স্তরের লোক তা বলার অপেক্ষাই রাখেনা
পোষাক সর্ম্পকে ডাঃ জাকির নায়েকের গোমরাহী।
ইসলামের দৃষ্টিতে পোষকের বিবরণঃ- ১নং পোষকের সতর আব্রূ আবৃতকারী , শালীন ও পরহেজগারী হতে হবে। সূরা আরাফ,আয়াত নং ২৬। ২নং পোষাক ঢিলে ঢালা হতে হবে। (চোস প্যান্ট, পাতলা কাপড় যা সতর দেখা যায়, বা এমন কাপড় যা পড়ার পরও সতর দেখা যায় এইসব নিষেধ) দলিল সুনানে বাইহাকী পৃঃ ৪৭৮ হাদীস নং ৭৩৯৯, সহীহ মুসলিম হাঃ নং ৫৪১৯। ৩নং পুরুষরা নারীদের মত পোষাক পরা , আর নারীরা পুরুষদের মত পোষাক পরা যাবেনা। দলিল আবু দাউদ হাঃ নং ৪০৯৮। ৪নং বিধর্মীদের মত পোষাক পরা যাবেনা। দলিল তাবরানী- মু’জামে আওসাত হাঃ নং ৩৯২১, সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৫৩৭৩। ৫নং বিজাতির সাথে সাদৃশ্য হয় এমন পোষাক পরা যাবেনা। দলিল আবু দাউদ ২য় পৃঃ ৫৫৯, মুসনদে আহমদ ২য় পৃঃ৫০। ৬নং অহংকারী পোষাক পরা যাবেনা। দলিল সহীহ বুখারী হাঃ নং ৫৩৭১, ৫৩৬৭, সহীহ মুসলিম হাঃ নং ৫২৯২। ৭নং পুরুষদের জন্য জাফরানী রং, রেশমী কাপড়, গাঢ় লাল, হলুদ পোশাক পরা যাবেনা। দলিল সহীহ মুসলিম হাঃ নং৫৩৪৬, সহীহ মুসলিম হাঃ নং ৫২৪৫, সহীহ বুখারী হাঃ নং ৫৪১৭, সহীহ বুখারী হাঃ নং ৫৪২০। ৮নং লোক দেখানোর জন্য পোষাক পরা যাবেনা। আবু দাউদ হাঃ নং ৪০২৯। এখানে আমার আলোচনার বিষয় ৪ও ৫নং যা আমি হাদীসের অর্থ সহ পেশ করছি। ৪ নং অর্থ “তোমরা আহলে কিতাবদের (খৃস্টান, ইহুদী) পোশাক পরোনা । কেননা যে তাদের পোষাক পরবে বা তাদের সাদৃশতা অবলম্ভন করবে সে আমার উম্মত হবেনা।” ৫ নং “অর্থ যে ব্যাক্তি যে সম্প্রদাযের সাথে সাদৃশ্যতা রাখবে , সে তাদের মধ্যে গন্য হবে।’’
ডাঃ জাকির নায়েকের উক্তিঃ –
জৈনিক প্রশ্নকারীঃ- ’’সালাত আদায়ের জন্য সব চেয়ে গ্রহণযোগ্য পোষাক কোনটি ? কোর্তা, পায়জামা, প্যান্ট, শার্ট নাকি অন্যকিছু?’’
ডাঃ জাকির নায়েকের জাবাব ‘‘কোর্তা পায়জামা পরেন নাকি প্যান্ট, শার্ট, টাই-যদি আপনি ন্যুনতম অংশটা পূরণ করেন, আপনি যেটাতে আরাম বোধ করেন সেটা পরেন।’’ (দ্রষ্টব্যঃ- ডাঃ জাকির নায়েকের লেকচার সমগ্র, ভলিয়াম নং ২ পৃঃ ৫৪) এখানে ডাঃ জাকির নায়েক ইসলামী পোশাকের সাথে বিধর্মীদের সাথে গুলিয়ে প্যান্ট, শার্ট, টাইকে (যে গুলি ইহুদী, খৃস্টানদের পোষাক) মুসলমানদের নামাজের পোষাক নির্ধারণ করেছেন। নাউজুবিল্লাহ। আর “টাই” যা খৄষ্টানদের ক্রুশ প্রতীক ( 1950 পোপের আদেশ জারি করা হয় এবং খৄষ্টান জাতি বিষয়টি গ্রহণ করে) যা উপরের ৪ ও ৫ নং এর সম্পূর্ণ বিপরীত। এখন যদি কনো ব্যক্তি যেনে শুনে ইচ্ছা করে অমান্য করে তাহলে তার নাম নবীর উম্মত থেকে বাদ হয়ে যাবে হাদীস অনুযারী। ইহুদী, খৃষ্টান হচেছ কাটঠুকরা মত, যারা মুসলামানের উপর সরাসরি আঘাত করে। আর ডাঃ জাকির নায়েক হচ্ছে উই পোকার মত যে কাটের ভিতর কেটে ফেলে। (তার জন প্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ইসলামের মধ্যে মনগড়া ব্যাখ্যা নিজও আমল করে করে মুসলমানদেরকে গোমরাহ করছে।
Read More

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

দর্শন ও বৈদিক বিজ্ঞান

দর্শন ও বৈদিক বিজ্ঞান যখন নিউটন আপেলের ফলকে গাছ থেকে নিচে পড়তে দেখেছিলেন, তখন তাঁর মনে এই উহা ও তর্কের উদ্ভব হয়েছিল যে আপেল নিচেই কেন পড়ল...

Post Top Ad

ধন্যবাদ