পরমাত্মা অনন্ত শক্তিযুক্ত অজন্মা, নিরন্তর, সদা যুক্ত, ন্যায়কারী, নির্মল, সর্বজ্ঞ, সকলের সাক্ষী, নিয়ন্তা, অনাদিস্বরূপ ব্রহ্ম, তিনি সর্বব্যাপক, শোকরহিত, স্থূলদেহরহিত, পূর্ণ, পবিত্র, সর্বশ্রেষ্ঠ সর্বাশ্রয়; তিনি বহু বৎসর ব্যাপিয়া সত্য বিষয়সমূহের প্রকাশ করেছেন।' ইত্যাদি বাক্যে স্পষ্টই প্রতীয়মান হয় যে সর্বব্যাপক ঈশ্বর জন্মগ্রহণ করেন না। 'মরণশীল মানুষ যাতে তাঁকে দেখতে পায়' এজন্য তাঁর একটি মরদেহ ধারণের কোন প্রয়োজন নেই।
Hindusim
Post Top Ad
26 September, 2026
ঈশ্বরের অবতার কি সম্ভব ?
সমাধি
শেষ কথা, শাস্ত্র-স্বাধ্যায়ের ফলে আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, সমাধি হল সম্যকভাবে এবং সমভাবে অধিষ্ঠান, চৈতন্যের জাগরণ।
সবসময় সর্বত্র যে কোন অবস্থাতেই সেই অখণ্ড পরমানন্দ, সমরস, রসস্বরূপ, জ্যোতিস্বরূপে সমভাবে, নিরবচ্ছিন্নভাবে অধিষ্ঠিত থাকাই সমাধি। সমত্বং যোগমুচ্যতে। যখন সমত্ব বোধ সব কিছুতে হয় তখনই হয় সমাধি। যখন যোগী ধ্যানযোগে সচ্চিদানন্দময়ের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যান, সর্বভূতান্তরাত্মার সঙ্গে একাত্মবোধ হয়, তখন তাঁর কোন বিভেদ বোধ থাকে না। এই নির্বিকল্প সমাধি অবস্থায় আচার্য শঙ্কর বলে উঠেছিলেন - 'অহং নির্বিকল্পো নিরাকারোপেবিভূব্যাপী সর্বত্র সর্ব্বেন্দ্রিয়াণাম্"। আবার যেহেতু এই অবস্থায় চিদাকাশে সম্যক জ্ঞানের উদয় হয়, সেহেতু বিশ্বের সকল রহস্যেরও সমাধান তাঁর কাছে হয়ে যায়। যোগীর তখন কিছুই অজানা থাকে না, পূর্ণভাবে জানা হয়ে যায়। কাজেই সমাধিবান ঋষি বা যোগী ব্রহ্মজ্ঞ হয়ে যান। তার পূর্ণতম প্রজ্ঞা, পূর্ণতম আনন্দ লাভ হয়।
তখন অনুভবী সাধক তাঁর অনুভবের স্তর থেকে সমাধিস্থ অবস্থায় কিরকম অনুভূতি হয় তা বলতে গিয়ে কলেছেন
উপেক্ষা নামরূপে ছে সচ্চিদানন্দ বস্তুনি।
সমাধিং সর্বদা কুর্যাদ হৃদয়ে বাথবা বহিঃ।
স বিকল্লোহবিকল্পশ্চ সমাধিদ্বিবিধো হ্যাদি।
দৃশাশব্দানুবেধেন সবিকল্পঃ পুনদ্বিধা।
কামাদ্যাশ্চিত্তাসাদৃশ্যান্ডৎ সাক্ষিত্বেন চেতনাম্। ধ্যায়েদুশ্যানুবিস্কোয়ং সমাধিঃ সবিকল্পকঃ। অসঙ্গঃ সচ্চিদানন্দঃ সপ্রভো দ্বৈতবর্জিতঃ।
অর্থীতি শব্দবিদ্ধোয়ং সবিকল্প সমাহিতঃ।।
স্বানুভূতিরসাবেশাব্দ্দশ্য শব্দানুপেক্ষ্য তু।
নির্বিকল্প সমাধিঃ স্যান্নিবাতস্থলদীপবৎ ।।
অর্থাৎ 'সচ্চিদানন্দ পরব্রহ্মাই একমাত্র সত্যবস্তু। নামরূপ কল্পিত বা মিথ্যা, এইটে নিশ্চয় করে, নামরূপকে পরিত্যাগপূর্বক, অন্তরে বা বাহো, সর্বদাই সমাধি আশ্রয় করবে। আন্তর সমাধি সবিকল্প নির্বিকল্প ভেদে দুই প্রকার, আবার নির্বিকল্প সমাধিও দুই প্রকারের (১) দৃশ্যানুবিদ্ধ, (২) শব্দানুবিদ্ধ। ভাবাভাব চিত্তের কামাদি বৃত্তিগুলিও ভার অভাব ধর্মযুক্ত। কারণ চিত্তের সম্ভাবে তাদের সম্ভাব চিত্তের অভাবে তাদের অভাব। জাগ্রতাবস্থায়, ক্রমশঃ বিচ্ছিন্ন হয়ে বৃত্তিগুলি প্রকাশিত হয়, অর্থাৎ এক বৃত্তির পর অপর বত্তির উদয় হয়। চিত্ত কখনও বৃত্তিশূন্য থাকে না, এক বৃত্তির লয় হলে আবার অন্য বৃত্তির উদয় হয়। পরন্তু সুষুপ্তি ও মূর্ছাদি অবস্থাতে চিত্তের লয় হওয়ায় আর কোন বৃত্তিরও উদয় হয় না। সেই চিত্তবৃত্তির বিবিধ প্রকার বিকৃতাবস্থা, তার ভাব ও প্রভাব এবং তদুভয়ের সন্ধিস্থল যিনি স্বপ্রকাশরূপে প্রকাশ করেন, তিনি প্রত্যক্ষ চৈতনারূপ আত্মা। অপরোক্ষভাবে এটি অবগত হয়ে তাঁর ধ্যান করবে ইহাই দৃশ্যানুবিদ্ধ সবিকল্প সমাধি। এই দৃশ্যানুবিদ্ধ সমাধি দ্বারা প্রত্যেক চৈতন্যস্বরূপ আত্মার অনুভূতি দৃঢ় হলে, সেই অসঙ্গ, অদ্বিতীয়, স্বপ্রকাশ, সচ্চিদানন্দস্বরূপ ব্রহ্মচৈতন্য উপলব্ধি হয়ে থাকে। এইরূপ দৃঢ় ভাবনাকে শব্দানুবিদ্ধ সবিকল্প সমাধি বলে। পূর্বোক্ত দৃশ্য ও শব্দানুবিদ্ধ সমাধি দ্বারা চিত্ত যখন সুস্থির হয়ে স্বরূপের সঙ্গে একত্ব লাভ করবে, তখন দৃশ্য ও শব্দ উভয়ই অন্তর্হিত হয়ে যাবে। তখন কেবল স্বয়ংসাক্ষী ও সাক্ষ্যভাবরহিত অখণ্ড সচ্চিদানন্দস্বরূপ পূর্ণানন্দরসে নিমগ্ন থাকবে, চিত্তনির্বাহ দীপকলিকার ন্যায় নিশ্চল হয়ে তদাকার অবস্থা প্রাপ্ত হবে, এই হল নির্বিকল্প সমাধি।'
25 September, 2026
আদি শঙ্করের রচনাবলি
প্রাচীনকাল হতে বিভিন্ন প্রদেশে বিভিন্ন ভাষায় ভাষ্য, প্রকরণ গ্রন্থ এবং স্তোত্রাদি মিলিয়ে প্রায় ২০০ খানা গ্রন্থ শঙ্করের নামে প্রচলিত আছে।
বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট
ঈশ্বরের অবতার কি সম্ভব ?
প রমাত্মা অনন্ত শক্তিযুক্ত অজন্মা, নিরন্তর, সদা যুক্ত, ন্যায়কারী, নির্মল, সর্বজ্ঞ, সকলের সাক্ষী, নিয়ন্তা, অনাদিস্বরূপ ব্রহ্ম, তিনি সর্বব্যাপ...