স্পৃশ = অনুগতো ভব (যজুর্বেদ ভাষ্য ১৩.১০)
স্পৃশ = গৃহাণ (ঋগ্বেদ ভাষ্য ৪.৩.১৫)
স্পৃশন্তি = আলিঙ্গয়ন্তি (ঋগ্বেদ ভাষ্য ১.৬২.১১)
স্পৃশন্তি। = সম্বধ্নন্তি (ঋগ্বেদ ভাষ্য ১.৩৬.৩)
এরদ্বারাও এটাই স্পষ্ট হয় যে "স্পর্শবান্ বায়ুঃ" -র তাৎপর্য কেবল স্পর্শকারী নয়, বরং প্রত্যেক পদার্থের ভিতরে অনুকূলতাপূর্বক ব্যাপ্ত, তাকে গ্রহণ করে অধিকারে করে, তার সাথে সংযুক্ত থেকে এবং তাকে বাঁধতে-মিশ্রণকারীও হয়। এইদিকে আমাদের শরীরে স্পর্শ করার ক্রিয়াও বায়ু রশ্মির কারণেই সম্ভব হয়।
এই তত্ত্বকে আচার্য সুশ্রুত "রজোবহুলো বায়ুঃ" (সুশ্রুত সংহিতা, শারীরস্থানম্ ১.২৭) বলে রজোগুণ প্রধান বলেছেন। এই কারণে এটা সর্বদা ক্রিয়াশীল থাকে। এরমধ্যে দ্রব্যমান নগণ্য এবং দীপ্তি অতি মন্দ হয়। মহর্ষি ব্রহ্মা এবং মহর্ষি ভৃগুর বচন (অনুগীতা, মোক্ষধর্মপর্ব) থেকে এই সংকেত পাওয়া যায় যে আকাশের পশ্চাৎ বায়ু তত্ত্বের উৎপত্তি হয়। এই সময়েই প্রাণীদের করণরূপ স্পর্শ ইন্দ্রিয় রূপী সূক্ষ্ম রশ্মির উৎপত্তি হয়। বায়ু তত্ত্বের সাথে-সাথে সূক্ষ্ম কার্যরূপ বিদ্যুতেরও উৎপত্তি হয়, একে ফিল্ডস রূপও বলা যেতে পারে। আকাশ তত্ত্বের সংকোচন থেকে বায়ু তত্ত্বের উৎপত্তি হয়। এই বায়ু তত্ত্ব আকাশ তত্ত্বের ভিতরে উর্ধগামীর মতো উৎপন্ন হয়। একে উপমার দ্বারা বোঝাতে বলা হয়েছে যে ছিদ্ররহিত কোনো পাত্র পূর্ণরূপে নিঃশব্দ মনে হয় আর যখন তাতে ছিদ্র করে জল ভরা হয়, সেই সময় ধ্বনি উৎপন্ন হয়। ঠিক এইভাবে নিঃশব্দ আকাশ তত্ত্বের মধ্যে যখন পূর্বোক্ত বলবান্ বায়ু তত্ত্ব উৎপন্ন হয়, তখন আকাশ তত্ত্বের মধ্যে ধ্বনি উৎপন্ন হতে থাকে। এখানে এই সংকেতও পাওয়া যায় যে যেভাবে আকাশ তত্ত্বের উৎপত্তি সর্বত্র একসঙ্গে হয় না, সেইভাবে বায়ু তত্ত্বও এক স্থান বিশেষে সর্বপ্রথম প্রকট হয়। তারপর সম্পূর্ণ আকাশ তত্ত্বের মধ্যে বায়ু রশ্মিগুলো বেগের সাথে প্রকট হয়ে বিচরণ করে বিভিন্ন ঘোষ উৎপন্ন করতে থাকে।
এখানে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে প্রাণ ও ছন্দ রশ্মির তীব্রতা যত বাড়তে থাকে, ততই সর্বত্র বিভিন্ন প্রকারের ধ্বনি তরঙ্গ উৎপন্ন হয়ে তীব্র হতে থাকে। পাঠক নিশ্চয়ই এই বিষয়টা বুঝে গেছেন যে এই বায়ু তত্ত্ব লোকপ্রচলিত হাওয়া (এয়ার) নয়। প্রায় সব দার্শনিকগণ এই বিষয়ে এটাই ভারী ভুল করেছেন যে তারা হাওয়াকেই বায়ু মহাভূত মনে করেছেন। পশ্চিমী জগতের বৈজ্ঞানিকরাও দার্শনিকদের আলোচনাতে বায়ু মহাভূতের মানে এয়ার গ্রহণ করার ভুল করেছেন।
অর্থাৎ দুটি সম্ভাবনার ক্ষেত্রেই মোট ১২০টি সূক্ষ্ম রশ্মি নিয়ে বায়ুর একটি অণু তৈরি হচ্ছে বলে লেখাটিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।






