ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান, ধর্ম গ্রন্থ কি , হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়, ইসলাম খ্রীষ্ট মত বিষয়ে তত্ত্ব ও সনাতন ধর্ম নিয়ে আলোচনা

धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते-Theology

সাম্প্রতিক প্রবন্ধ

Hindusim

Post Top Ad

স্বাগতম

11 June, 2024

ঋগ্বেদ ৮/১/৬

11 June 0

 ।৷ ঋষিঃ মেধাতিথির্মেধ্যাতিথিশ্চ ॥ দেবতাঃ ইন্দ্ৰঃ ॥ ছন্দঃ বৃহতী ॥ স্বরঃ মধ্যমঃ ।।

বস্যাঁ ইন্দ্রাসি মে পিতুরুত ভ্রাতুরভুজতঃ।

মাতা চ মে ছদয়থঃ সমা বসাে বসুত্বনায় রাধসে।। ঋগ্বেদ ৮/১/৬

পদার্থঃ হে ( ইন্দ্র ) পরমেশ্বর ! তুমি ( অভুঞ্জতঃ ) অপালক [ ' ভুজ পালনাভ্যবহারয়ােঃ ' ধা০ রূণাদি](মে) আমার (পিতুঃ) পিতার থেকে (উত) এবং (ভ্রাতুঃ) সাহোদর ভ্রাতার থেকে (বস্যান) অধিক আশ্রয় প্রদানকারী অর্থাৎ অধিক পালন পোষণকারী [ 'তুরিষ্টেমেয়ন্দু' আষ্টা০ ৬/৪/১৫৪]( অসি ) হয়ে থাকো । হে ( বসো ) আশ্রয়দাতা জগদীশ্বর ! তুমি ( মে মাতা চ ) এবং আমার মাতা ( সমা ) দুজনই সমান , কারণ তােমরা দুজনই [ ' সুপাং সুলুক্০ ' অষ্টা০ ৭/১/৩৯ ] ( বসুত্বনায় ) বিদ্যা ও জ্ঞানরূপ সম্পদ প্রাপ্তির জন্য , ( রাধসে ) সফলতার জন্য [ ' রাধ সংসিদ্ধৌ ' ধ o স্বাদি ] ( ছদয়থঃ ) আমাকে নিজের শরণ দ্বারা সৎকৃত তথা রক্ষা করে থাকো ॥
সরলার্থঃ হে পরমেশ্বর ! তুমি আমার অপালক পিতার থেকে এবং সহােদর ভ্রাতার থেকে অধিক আশ্রয় প্রদানকারী অর্থাৎ অধিক পালন - পােষণকারী । হে আশ্রয়দাতা জগদীশ্বর ! তুমি এবং আমার মাতা দুজনই সমান । কারণ তােমরা দুজনই আমার বিদ্যা ও জ্ঞানরূপ সম্পদ প্রাপ্তির জন্য , সফলতার জন্য আমাকে তােমার নিজের শরণ দ্বারা সৎকৃত তথা রক্ষা করে থাকো ॥
️এই মন্ত্রে ' অভুঞ্জত ' পদের অর্থ পিতা এবং ভ্রাতা অপেক্ষা পরমেশ্বর অধিক আশ্রায় প্রদাতা হওয়ার কারণে তথা ' বসুত্বনায় রাধসে ছদয়থঃ ' এই বাক্যের অর্থ পরমেশ্বর এবং মাতার সমান হওয়ার কারণে কাব্যলিঙ্গ অলঙ্কার হয়েছে । তুরু , তুর , ' ' বসাে , বসু ' এগুলােতে ছেকানুপ্রাস হয়েছে ॥
ভাবার্থঃ মন্ত্রের ভাব এই যে মাতা যেমন হার্দিক প্রেম দ্বারা পুত্রের লালন-পালন করে সর্বদা তাহার ভালোই চান, তেমন ঈশ্বরও সমস্ত জীবের হিতকামনা করেন।মন্ত্র টিতে পিতা তথা ভ্রাতা সমস্ত সম্পর্কের উপলক্ষন অর্থাৎ ঈশ্বর সব সম্বন্ধের চেয়ে বড় ও মাতার সমান বলাতে এটা প্রকাশ পায় যে অন্য আত্মীয়ের অপেক্ষা মাতা অধিক স্নেহ করেন ও মাতার সমান পরমেশ্বর সমস্ত মনুষ্যের শুভাকাঙ্খী- আর্যমুনি ভাষ্য
Read More

ছান্দোগ্যপনিষদ ৩/১৭/৬

11 June 0

ছান্দোগ্যপনিষদ ৩/১৭/৬

 তদ্ধৈতদ্ঘোর অঙ্গিরসঃ কৃষ্ণায় দেবকীপুত্রায়ক্ত্বোবাচাপিপাস এব স বভূব সোহন্তবেলায়ামেতৎ ত্রয়ম্ প্রতিপদ্যোতাক্ষিতমস্যচ্যুতমসি প্রাণসংশিতমসীতি তত্রৈতে দ্বে ঋচৌ ভবতঃ।।

ছান্দোগ্যপনিষদ ৩/১৭/৬

পদার্থ-( অঙ্গিরসঃ) অঙ্গিরাগোত্রোত্পন্ন ( ঘোরঃ) ঘোর নামের কোন ঋষি ( দেবকীপুত্রায়) দেবকীর পুত্র ( কৃষ্ণায়) নিজ শিষ্য কৃষ্ণকে ( উক্ত্বা) উপদেশ দিয়ে ( উবাচ) পুনঃ বলেন যে হে কৃষ্ণ! ( সঃ) সেই পূর্বোক্ত ব্রহ্মচারী অথবা উপাসক ( অন্তবেলায়াম্) মরণকালে ( এতত্ত্রয়ম্) এই তিন পদের (;প্রতিপদ্যেত) জপ করেন। কোন তিন পদ তাই বলছেন ( অক্ষিতম্+অসি) হে পরমাত্মান্ আপনি অমর। আপনার ক্ষয় কদাপি না হয় ( অচ্যুতম্+অসি) আপনি অবিনশ্বর ( প্রাণসংশিতম্+অসি) আপনি সর্ব জীবনপ্রদ সূক্ষ্মতম্ এই তিন পদের অনন্তকাল জপ করেন। এই ঘোর ঋষির উপদেসকে শোনে ( সঃ) সেই কৃষ্ণ ( অপিপাসঃ+ এব) অন্য বিদ্যার প্রতি তৃষ্ণারহিতই ( বভূব) হয়ে গিয়েছে অর্থাৎ এই বিদ্যা এমনি শ্রেষ্ঠ যে,যা শোনে অনুষ্ঠান করে ঘোর শিষ্য কৃষ্ণও তৃষ্ণা মুক্ত হয়ে গিয়েছে ( তত্র) এই বিষয়ে ( এতে+দ্বে) এই দুই ( ঋচৌ+ভবতঃ) মন্ত্রে প্রমাণ হয়।

ভাবার্থ-অঙ্গিরাগোত্রোত্পন্ন ঘোর নামের কোন ঋষি দেবকীর পুত্র নিজ সিষ্য কৃষ্ণকে উপদেশ দিয়ে পুনঃ বলেন যে,হে কৃষ্ণ! সেই পূর্বোক্ত ব্রহ্মচারী অথবা উপাসক মরণকালে এই তিন পদের জপ করেন। কোন তিন পদ তাই বলছেন হে পরমাত্মান আপনি অমর। আপনার ক্ষয় কদাপি না হয় আপনি অবিনশ্বর আপনি সর্ব জীবনপ্রদ সূক্ষ্মতম্ এই তিন পদের অনন্তকাল জপ করেন। এই ঘোর ঋষির উপদেশকে শোনে সেই কৃষ্ণ অন্য বিদ্যার প্রতি তৃষ্ণারহিত হয়ে গিয়েছে অর্থাৎ এই বিদ্যা এমনি শ্রেষ্ঠ যে,যা শোনে অনুষ্ঠান করে ঘোর শিষ্য কৃষ্ণও তৃষ্ণা মুক্ত হয়ে গিয়েছে এই বিষয়ে এই দুই মন্ত্রে প্রমাণ হয়।। ( ভাষ্য-পণ্ডিত শিবশঙ্কর শর্মা)
Read More

23 May, 2024

শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ ৬/৯

23 May 0

 শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ _6.9

ন তস্য কশ্চিৎ পতিরস্তি লোকে ন চেশিতা নৈব চ তস্য লিঙ্গম্।
স কারণং করণাধিপাধিপো ন চাস্য কশ্চিজ্জনিতা ন চাধিপঃ ॥৯৷
পদার্থঃ (লোকে) এই জগতে (তস্য) সেই পরমাত্মার (কশ্চিৎ) কোনো (পতিঃ) স্বামী, রক্ষক (ন অস্তি) নেই (চ) এবং (ঈশিতা) নিয়ন্তা, শাসক (ন) নেই (চ) এবং (তস্য) তাঁর (লিঙ্গম) কোনো লিঙ্গ বা পরিচায়ক চিহ্নও (ন এব) নেই (সঃ) তিনি (কারণম্) জগতের কারণ এবং (করণাধিপাধিপঃ) সকল ইন্দ্রিয়ের স্বামী জীবেরও স্বামী (চ) এবং (অস্য) এঁর (কশ্চিৎ) কোনো শ্বেতাশ্বতরোপনিষদ্
(জনিতা) জনক, উৎপাদক (ন) নেই (চ) এবং (ন) নেই (অধিপঃ) অধিষ্ঠাতা, স্বামী ॥৯ ॥
সরলার্থঃ জগতে ওই পরমাত্মার কোনো স্বামী নেই এবং তাঁর কোনো নিয়ন্তা বা শাসক নেই। তাঁর কোনো লিঙ্গ বা পরিচায়ক চিহ্নও নেই, যা দ্বারা তাঁকে অনুমান করা যায়। তিনিই জগতের কারণ এবং সকল ইন্দ্রিয়ের স্বামী জীবেরও স্বামী; তাঁর কোনো জনক বা উৎপাদক নেই এবং কোনো অধিপতিও নেই ॥৯॥
ব্যাখ্যাঃ এই সংসারে পরমাত্মার কোনো প্রভু নেই, নিয়ন্তাও কেউ নেই। বরং পরমাত্মাই এই ব্রহ্মাণ্ডের একমাত্র স্বামী এবং সকলের শাসক। তিনিই তাঁর সুনির্দিষ্ট নিয়ম দ্বারা সবাইকে চালনা করেন এবং সবার ওপর প্রভুত্ব করছেন। তাঁর কোনো লিঙ্গ বা পরিচায়ক চিহ্ন নেই অর্থাৎ তিনি কীরূপ, তা কোনো চিহ্ন বা প্রতীক দ্বারা বোঝা সম্ভব নয়। তিনি এই সৃষ্ট জগতের মূল কারণ অর্থাৎ সৃষ্টির কারণভূত প্রকৃতিরও স্বামী ও নিয়ন্তা। সেই পরমাত্মার কোনো 'জনক' অর্থাৎ জন্মদাতা পিতা বা উৎপাদক নেই, এ কারণেই তিনি 'স্বয়ম্ভু'। যিনি কারো অধীন নন, সর্বকালে স্বতন্ত্র, নিত্য, অনাদি, অনন্ত, নিরাকার, নিরাধার, নির্বিকার, সর্বাধিপতি, সর্বনিয়ন্তা, সর্বোৎপাদক এবং সর্বশক্তিমান- তিনিই পরমাত্মা। তাঁর এই শাশ্বত স্বরূপই মুক্তিকামী জীবের জ্ঞাতব্য ॥৯॥
Read More

21 May, 2024

ঋগ্বেদ ১/৯০/৯

21 May 0

 

ওম্ শং নো মিত্রঃ শং বরুণঃ শং নো ভবত্বর্যমা।
শং ন ইন্দ্রো বৃহস্পতিঃ শং নো বিষ্ণুরুরুক্রমঃ॥ ঋগ্বেদ ১।৯০।৯॥

-হে সচ্চিদানন্দানন্তস্বরূপ, হে নিত্যশুদ্ধবুদ্ধমুক্ত স্বভাব, হে অদ্বিতীয়ানুপমজগদাদিকারণ, হে অজ, নিরাকার, সর্বশক্তিমন্, ন্যায়কারিন্, হে জগদীশ, সর্বজগদুৎপাদকাধার, হে সনাতন, সর্বমঙ্গলময়, সর্বস্বামিন্, হে করুণাকরাস্মৎপিতঃ, পরম সহায়ক, হে সর্বানন্দপ্রদ, সকল দুঃখবিনাশক, হে অবিদ্যান্ধকারনিমূলক, বিদ্যার্কপ্রকাশক, হে পরমৈশ্বর্যদায়ক, সাম্রাজ্যপ্রসারক, হে অধমোদ্ধারক, পতিতপাবন, মান্যপ্রদ, হে বিশ্ববিনোদক, বিনয়বিধিপ্রদ, হে বিশ্বাসবিলাসক, হে নিরঞ্জন, নায়ক, শর্মদ, নরেশ, হে সর্বান্তর্যামিন, সদুপদেশক, মোক্ষপ্রদ, হে সত্যগুণাকর, নির্মল, নিরীহ নিরাময়, নিরুপদ্রব দীনদয়াকর, পরমসুখদায়ক, হে দারিদ্র্যবিনাশক, নির্বৈরবিধায়ক, সুনীতিবর্ধক, হে প্রীতিসাধক, রাজ্যবিধায়ক, শত্রুবিনাশক, হে সর্ববলদায়ক, নির্বলপালক, হে সুধর্মসুপ্রাপক, হে অর্থসুসাধক, সুকামবর্ধক, জ্ঞানপ্রদ, হে সন্ততিপালক, ধর্মসুশিক্ষক, রোগ বিনাশক, পুরুষার্থপ্রাপক, দুর্গুণনাশক, সিদ্ধিপ্রদ, হে সজ্জনসুখদ, দুষ্টসুতাড়ন, গর্বকুক্রোধকুলোভবিদারক, হে পরমেশ, পরেশ পরমাত্মন্, পরব্রহ্মন্! হে জগদানন্দক, পরমেশ্বর, ব্যাপক, সুক্ষ্মাচ্ছেদ্য, হে অজরামৃতাভয়নির্বন্ধনাদে! হে অপ্রতিমপ্রভাব, নির্গুণাতুল, বিশ্বাদ্য, বিশ্ববন্দ্য, বিদ্বদ্বিলাসক, ইত্যাদ্যনন্তবিশেষণ বাচ্য, হে মঙ্গলপ্রদেশ্বর!আপনি সর্বতোভাবে সকলের নিশ্চিত মিত্র ও সর্বদা আমাদের সত্য সুখদান করেন। হে সর্বোৎকৃষ্ট স্বীকারযোগ্য বরেশ্বর! আপনি বরুণ, অর্থাৎ সর্বাপেক্ষা পরমোত্তম, সেই জন্য আপনি আমাদের পরম সুখদায়ক। হে পক্ষপাতরহিত ধর্মন্যায়কারিন্! আপনি অর্যমা (যমরাজ), ন্যায়কারী ও সুখদাতা, হে পরমৈশ্বর্যবান্ ইন্দ্রেশ্বর! আপনি অতি শীঘ্র আমাদের পরম ঐশ্বর্যযুক্ত স্থায়ী সুখ প্রদান করুন। হে মহাবিদ্যাবাচোধিপতে, বৃহস্পতে, পরমাত্মন্। আপনি আমাদের (বৃহৎ) সুমহান্ সুখদাতা। হে সর্বব্যাপক!অনন্ত পরাক্রমেশ্বর বিষ্ণো! আপনি আমাদের অনন্ত সুখ দান করুন। যাহা কিছু চাহিব, আপনার নিকটই চাহিব। আপনি ব্যতীত সর্বপ্রকার সুখদানকারী আর কেহ নাই। আপনি আমাদের সর্বকালের আশ্রয়, আপনার ন্যায় সর্বশক্তিমান, ন্যায়কারী, দয়াময়, সর্বাপেক্ষা মহান্ পিতাকে ত্যাগ করিয়া আমরা কদাপি ক্ষুদ্রের আশ্রয় লইব না। আপনি অঙ্গীকৃত জনে কদাপি ত্যাগ করেন না, ইহা আপনার স্বভাব। সেই কারণেই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস যে, আপনি আমাদের সর্বকালে সুখ দান করিবেন ॥১॥


Read More

তৈত্তিরীয়ারণ্যক ১০/১

21 May 0

ওম্ সহনাববতু সহ নৌ ভুনক্ত। 

সহ বীর্যং করবাবহৈ। 

তেজস্বিনাবধীতমস্ত মা বিদ্বিষাবহৈ। 

ওম শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ ॥১॥


তৈত্তিরীযারণ্যকে ব্রহ্মানন্দবল্লী প্রপা০ ১০ প্রথমানুবাকঃ ॥১॥


ব্যাখ্যা-হে সহনশীলেশ্বর। আপনি ও আমরা যেন পরস্পর প্রসন্নভাবে একে অপরকে রক্ষা করি। আপনার কুপায় আমরা যেন সদা সর্বদা আপনারই স্তুতি, প্রার্থনা ও উপাসনা করি এবং আপনাকেই পিতা, মাতা, বন্ধু, রাজা, স্বামী, সহায়ক সুখদ, সুহৃদ্‌ ও পরমগুরু বলিয়া জানি। আপনাকে মুহূর্ত মাত্রও যেন ভুলিয়া না থাকি। আপনার সমান বা অধিক আর কাহাকেও যেন না জানি বা মানি।


আপনার অনুগ্রহে আমরা যেন সকলে পরস্পর প্রীতিমান রক্ষক, সহায়ক ও পরম-পুরুষার্থ পরায়ণ হই। আমরা যেন একে অপরের দুঃখ দেখিতে না পারি। স্বদেশবাসীর সকলকে নিরতিশয় বৈরত্যাগী, প্রীতি পরায়ণ করিয়া কপটতা রহিত করুন। "সহ নৌ ভুনক্ত" আপনার সহিত আমরাও যেন পরস্পর পরমানন্দ উপভোগ করি। আমরা সকলে পরস্পরের হিতকামনা করিয়া আনন্দ ভোগ করিব, আপনি আমাদের সকলকে পরমানন্দের অধিকারী করুন, পরমানন্দ হইতে আমাদের মুহূর্তের জন্যও বঞ্চিত করিবেন না। "সহ বীর্যং করবাবহৈ” আপনার সহায়তায় আমরা যেন পরম পুরুষার্থ দ্বারা পরমবীর্য সত্যবিদ্যা লাভ করি।

"তেজস্বিনাবধীত মস্তু” হে অনন্ত বিদ্য অমর ভগবন! আপনার কৃপাদৃষ্টিপাতে আমাদের পঠন-পাঠন পরম বিদ্যাময় হোক্। আমরা যেন বিশ্বের সর্বত্র সমুজ্জল হইয়া অনন্য প্রীতি সহকারে পরমবীর্য ও পরাক্রম বলে নিরঙ্কুশ চক্রবর্ত্তী রাজ্য উপভোগ করি। আমাদের মধ্যে নীতিমান, পুরুষ জন্মলাভ করুক। আমাদের প্রতি অপার কৃপা প্রদর্শন করুন, আমরা যেন অনাচার অসত্য বেদ বিরুদ্ধ মত-মতান্তর শীঘ্র পরিত্যাগ করিয়া এক সত্য সনাতন ধর্ম আচরণ করি। সর্বপ্রকার বৈরতার মূল যে অনাচার, মত-মতান্তর, উহা যেন সত্বর অবলুপ্ত হয়। "মা বিদ্বিষাবহৈ" হে জগদীশ্বর। আপনার সামর্থ্যবলে আমাদের হৃদয়ে বিদ্বেষ ভাব অর্থাৎ প্রীতিহীনতা যেন না থাকে। আমরা যেন কায়মনোবাক্যে ও পরম প্রীতি সহকারে আমাদের সর্বপ্রকার বিদ্যা সকলের সুখ ও উপকারের জন্য নিযুক্ত করিতে পারি। "ওম্ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ” হে ভগবন, জগতে ত্রিবিধ তাপ বিদ্যমান। (শারীরিক) যাহা জ্বর প্রভৃতি পীড়া হইতে পাইয়া থাকি। দ্বিতীয়তঃ, আধিভৌতিক, যাহা শত্রু, সর্প, ব্যাঘ্র, চৌরাদি দ্বারা পাইয়া আধিদৈবিক, যাহা মন, ইন্দ্রিয় অগ্নি, বায়ু, অতিউষ্ণ হইতে উৎপন্ন হইয়া থাকে থাকি। তৃতীয়তঃ, অতিবৃষ্টি, অতিশীত, হে করুণাসাগর। আপনি এই ত্রিতাপ হইতে শীঘ্র আমাদের পরিত্রাণ করুন, যাহাতে আমরা অতয়ন্ত আনন্দে সদা আপনার উপাসনায় রত থাকিতে পারি।

হে বিশ্বগুরো! আমাকে অসৎ (মিথ্যা) এবং অনিত্য পদার্থ তথা অসৎ কর্ম হইতে পৃথক করিয়া সত্য ও নিত্য পদার্থ এবং শ্রেষ্ঠ ব্যবহারে প্রতিষ্ঠিত করুন। হে জগন্মঙ্গলময়। আমাদিগকে সর্বপ্রকার দুঃখ হইতে বিমুক্ত করিয়া সুখ লাভ করান। [সর্ব দুঃখেভ্যো মোচযিত্বা সর্বসুখানি প্রাপয] হে প্রজাপতে। (সুপ্রজযা পশুভিব্রহ্মাবচসেন, পরমৈ- শ্বর্যেণ, সংযোজ্য) উত্তম প্রজা, পুত্রাদি, হস্তি, অশ্ব, গবাদি উত্তম পশু, সর্বোৎকৃষ্ট বিদ্যা ও চক্রবর্ত্তী রাজ্যাদি পরমৈশ্বর্য্য যাহা স্থির পরম সুখকারক উহা শীঘ্র লাভ করান।


হে পরম বৈদ্য। আমাদিগকে (সর্ব্বরোগাৎ পৃথকৃত্য নৈরোগ্যান্দেহি) সর্ব্বথা সর্বপ্রকার রোগ হইতে মুক্ত করিয়া পরম নৈরোগ্য প্রদান করুন। হে মহারাজাধিরাজ। [মনসা বাচা, কর্মণা অজ্ঞানেন প্রমাদেন বা যদ্যপাপং কৃতং মযা, তত্তৎসর্বং কৃপযা ক্ষমস্ব জ্ঞানপূর্ব্বকপাপকরণান্নিবর্তযতু মাম্] মন, বাণী এবং কর্মদ্বারা এবং অজ্ঞানতা বা প্রমাদ বশতঃ যে পাপ আমি কারয়াছি অথবা যদি কিছু করি সেই সমস্ত পাপ ক্ষমা,-অর্থাৎ জ্ঞানপূর্বক পাপ করিবার প্রবৃত্তিকে দমন করিবার ক্ষমতা প্রদান করুন] অর্থাৎ আমি যেন শুদ্ধ হইয়া আপনার আরাধনা করিতে পারি। (হে ন্যাযাধীশ! কুকামকুলোভকুমোহভযশোকালস্যের্য্যা দ্বেষপ্রমাদবিষষ তৃষ্ণানৈষ্ঠুর্যাভিমানদুষ্টভাবাবিদ্যাভ্যো নিবারয, এতেভ্যো বিরুদ্ধেযুত্তমেষু গুনেষু সংস্থাপয মাম্।) হে ঈশ্বর! কৃপা করিয়া কুকাম কুলোভাদি পূর্ব্বোক্ত দুষ্টদোষ সমূহ হইতে মুক্ত করিয়া আমাকে শ্রেষ্ঠ কর্মে নিযুক্ত করুন। আমি অত্যন্ত দীন হইয়াই প্রার্থনা করিতেছি, আপনি ব্যতাত অন্য কাহারও প্রতি প্রীতি প্রদর্শন করিব না এবং আপনার আদেশ ব্যতীত অন্য কাহারও আদেশ মানিব না।


হে প্রাণপতে! প্রাণপ্রিয়, প্রাণপতিঃ প্রাণাধার প্রাণজীবন সুরাজ্য প্রদ! আপনিই, আমাদের প্রাণদাতা, আপনি ব্যতীত আমাদের সাহায্যকারী কেহই নাই, হে মহারাজাধিরাজ! আপনার অখণ্ড সত্যরাজ্যে যেরূপ ন্যায় বিদ্যমান, তদ্রূপ ন্যায় রাজ্য আমাদিগকেও প্রদান করুন। আপনি আপনার কৃপাকটাক্ষপাতে শীঘ্রই আমাদিগকে আপনার রাজ্যের কিঙ্কর করুন। হে ন্যায় প্রিয়। আমাদের সকলকে যথাবৎ ন্যায়-প্রিয় করুন। হে ধর্মাধীশ। আমাদিগকে ধর্মে সুপ্রতিষ্ঠিত করুন। হে করুণাময় পিতঃ। মাতা পিতা যেরূপ আপন সন্তান প্রতিপালন করেন, আমাদিগকেও আপনি সেইরূপ প্রতিপালন করুন॥

Read More

08 May, 2024

ঋগ্বেদ ১০/৩৪/১৪

08 May 0

 

ঋগ্বেদ ১০/৩৪/১৪

মিত্রম্ কৃণুধ্বম্ খলু মূলতা নো মা নো ঘোরেণ চরতাভি ধৃষ্ণু।

নি বো নু মন্যুর্বিশতামরাতিরন্যো বভূণম্ প্রসিতৌ ন্বস্তু।। ঋগ্বেদ-১০/৩৪/১৪

পদার্থ- ( মিত্রম্ কৃণুধ্বম্ খলু) হে পুরানো সাথী জুয়াড়িরা! তোমরা মনুষ্য আমাকে মিত্র করো-দ্যূতকার্য থেকে আমি বিরত হয়ে গিয়েছি,এমন জেনে আমাকে দ্বেষ না করো এবং আমার প্রতি সদয় হও ( নঃ মৃলতঃ) আমাকে সুখী করো ( নঃ-ঘোরেণ ধৃষ্ণু মা চরত) আমার প্রতি ভয়ংকর চাপে দূরে সরে যাবো না ( বঃ-মন্যু-নু বিশতাম্) তোমাদের ক্রোধ তোমাদের অন্তরেই বিলীন হোক ( অন্যঃ-অরাতিঃ- বভ্রূণাম্ প্রমাতৌ নু-অস্তু) অন্য কোন বাঞ্চক-চৌর চমকিত হয়ে পাশের বন্ধনে বদ্ধ থাক।।

ভাবার্থ-জুয়াড়ি জুয়া খেলার দোষদর্শন থেকে বিরত হয়ে যায়, তখন তার পুরানো সাথী দ্বেষ করতে থাকে। সেই তাদের বুঝানো উচিত যে,তারা মিত্রভাব করতে শুরু করবে এবং কখনও জুয়াড় বন্ধনে ফিরবে না।। (ভাষ্য-স্বামী ব্রহ্মমুনি পরিব্রাজক)
Read More

ঋগ্বেদ ১০/৮৬/৩

08 May 0

 বৃষকপায়ি রেবতি সুপুত্র আহু সুস্নুষে।

ঘসত্ত ইন্দ্র উক্ষণঃ প্রিয়ং কাচিৎকরং হবির্বিশ্বস্মাদিন্দ্র উত্তর ||

পদার্থ- (বৃষকপায়ি) সমস্ত সুখ কে মেঘের তুল্য বর্ষনকারী প্রভুর অপার শক্তি! (রেচতি) হে অনেক ঐশ্বর্যের স্বামিনি! (সু-পুত্র)হে উত্তম পুত্র, জীবধারী!(সু-স্নুষে) হে উত্তম সুখপূর্বক বিরাজমান, সুখদায়িনি! (ইন্দ্রঃ) পরম ঐশ্বর্যবান প্রভু (উক্ষণঃ)সেচনকারী মেঘ দ্বারা উৎপন্ন (প্রিয়ম্)প্রীতিকারক (কচিৎকরম্)অনেক সুখ দানকারী (তে হবিঃ) তোমার উত্তম অন্ন সদৃশ  জগতকে (ঘষত্) ভক্ষণ করেন প্রলয়কালে লীন করে নেয় (বিশ্বস্মাত্ উত্তর) পরমঐশ্বর্যবান প্রভু সবার থেকে উপরে। [ঋগ্বেদ- ১০/৮৬/১৩] [ভাষ্যকার-পন্ডিত জয়দেব শর্মা]



पदार्थ

(वृषाकपायि रेवति) हे वृषाकपि-सूर्य की पत्नी रेवती तारा नक्षत्र ! (सुपुत्रे-आत् सुस्नुषे) अच्छे पुत्रोंवाली तथा अच्छी सुपुत्रवधू (ते-उक्षणः) तेरे वीर्यसेचक सूर्य आदियों को (प्रियं काचित्करं हविः) प्रिय सुखकर हवि-ग्रहण करने योग्य भेंट को (इन्द्रः-घसत्) उत्तरध्रुव ग्रहण कर लेता है-मैं उत्तर ध्रुव खगोलरूप पार्श्व में धारण कर लेता हूँ, तू चिन्ता मत कर (मे हि पञ्चदश साकं विंशतिम्) मेरे लिये ही पन्द्रह और साथ बीस अर्थात् पैंतीस (उक्ष्णः पचन्ति) ग्रहों को प्रकृतिक नियम सम्पन्न करते हैं (उत-अहम्-अद्मि) हाँ, मैं उन्हें खगोल में ग्रहण करता हूँ (पीवः) इसलिये मैं प्रवृद्ध हो गया हूँ (मे-उभा कुक्षी-इत् पृणन्ति) मेरे दोनों पार्श्व अर्थात् उत्तर गोलार्ध दक्षिण गोलार्धों को उन ग्रह-उपग्रहों से प्राकृतिक नियम भर देते हैं ॥१३-१४॥

भावार्थ

आकाश में जिन ग्रहों-उपग्रहों की गति नष्ट होती देखी जाती है, वे पैंतीस हैं। आरम्भ सृष्टि में सारे ग्रह-उपग्रह रेवती तारा के अन्तिम भाग पर अवलम्बित थे, वे ईश्वरीय नियम से गति करने लगे, रेवती तारे से पृथक् होते चले गये। विश्व के उत्तर गोलार्ध और दक्षिण गोलार्ध में फैल गये, यह स्थिति सृष्टि के उत्पत्तिकाल की वेद में वर्णित है ॥१३-१४॥

Read More

14 April, 2024

ছান্দোগ্য উপনিষদ

14 April 0

 

ছান্দোগ্য উপনিষদ


সামবেদ-তাণ্ড্য শাখার-
ছান্দোগ্য ব্রাহ্মণের অন্তর্গত

শঙ্কর ভাষ্য ও বৈদিক ভাষ্য সহঃ

পরিচয়

ছান্দোগ্য উপনিষৎ সামবেদোক্ত ছান্দোগ্য ব্রাহ্মণের অন্তর্ভূত। কেহ কেহ মনে করেন, ইহা সামবেদীয় কৌসুমীশাখার অন্তর্ভূত, কিন্তু এ বিষয়ে নিঃসন্দিগ্ধ প্রমাণ কিছুই পাওয়া যায় না।

উপনিষীদতি প্রাপ্নোতি ব্রহ্মায়ভাবোহনয়া" এই ব্যুৎপত্তি অনুসারে উপনিষৎশব্দে ব্রহ্মপ্রতিপাদক গ্রন্থকে বুঝায়। এই গ্রন্থে সম্যক্ জ্ঞানলাভ করিতে পারিলে ব্রহ্মায়ৈকা জ্ঞান লাভ হয়। "ছন্দঃ সামবেদং গায়তি ইতি ছন্দোগঃ সামবেদাধ্যায়ী বিপ্রাদিঃ" ছন্দোগ শব্দের অর্থ সামবেদ অধ্যয়নকারী ব্রাহ্মণাদিবর্ণ- ত্রয়, এই ইন্দাগদিগের মন্ত্র-ব্রাহ্মণাত্মক শাস্ত্রবিশেষকে হান্দোগ্য উপনিবৎ বলে সুগভীর। আধ্যাত্মিক ভাবযুক্ত এই উপনিষৎখানি বিদ্বজ্জনগণের নিকট বিশেষরূপ সমাদৃত। ইহার ভাব। যেমন সরল, তেমনই শ্রুতিমধুর, ইহার সমাবেশের সুশৃঙ্খলতা, অনন্যসাধারণ উপদেশপরিপাট্য তত্ত্বজিজ্ঞাসুমাত্রেরই চিত্তকে বিমুগ্ধ ও সমাকৃষ্ট করে। সর্বসাধারণের অনুষ্ঠেয় কর্ণ হইতে আরম্ভ করিয়া মুমুক্ষুদিগের একাত্ত কাম্য ব্রহ্মজ্ঞান লাভের উপায় পর্যন্ত অতি সরলভাষায় সুনিপুণভাবে উপদিষ্ট হওয়ায় এই উপনিষৎ চতুরাশ্রমীর পক্ষেই বিশেষ উপযোগী।

উপনিষৎ-সমূহের মুখ্য উদ্দেপ্তই হইতেছে-সদুপদেশের দ্বারা বিষয়াসক্ত মানবদিগকে ব্রহ্মাভিমুখীন করা, ভোগ পরিণামবিরস, ত্যাগ আপাততঃ বিরস হইলেও পরিণামে যে সুখপ্রদ, ইহাই প্রতিপাদন করিয়া, মানবগণ যাহাতে ভোগবিমুখ হয়, তদ্রূপযোগী উপদেশ দেওয়াই উপনিষদ্বিপ্তার উদ্দেশ। তবে ভোগবিমুখ হইতে হইবে যে, সকলকে সংসার ত্যাগ করিয়া একেবারে বনবাসীই হইতে হইবে, ইহাও উপনিষৎ বলেন নাই, গৃহস্থাশ্রমে বাস করিয়াও অনাসক্ত- ভাবে কৰ্ম্মানুষ্ঠান দ্বারাও মোক্ষলাভ করা যায়, ইহাই বলিয়াছেন। জ্ঞান বা ব্রহ্মবিয়া অপেক্ষা কৰ্ম্ম হীন হইলেও কর্ম্মের হীনতা প্রচার করিয়া কর্মাসক্ত মানবগণকে কর্ম্মে বিমুখ করিবার কোন প্রয়াসও করেন নাই; পরন্ত বৈধ কর্ম্মানুষ্ঠানের দ্বারাই যে ক্রমণ: জানলাভ করা যায়, ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করিতে হইলে কি ভাবে ফর্ম্মানুষ্ঠান করা কর্তব্য, এ সমস্ত বিষয়ের উপদেশ উপনিষদ শাস্ত্রে বর্ণিত হইয়াছে॥

প্রথম প্রপাঠকে-

প্রথম খণ্ডে-উদ্‌দীথ উপাসনার বিধি, উদ্‌দীথের স্বরূপ ও প্রণবের প্রশংসা।

দ্বিতীয় খণ্ডে-উদ্‌দীথের আধ্যাত্মিকতাপ্রদর্শন, দেবাসুরসংগ্রামবর্ণনা, দেব ও অনুরশব্দের আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা, দেবগণ কর্তৃক নাসিকাদি প্রাণসমূহকে উদ্‌দীখরূপে উপাসনাকরণ, অসুরগণ কর্তৃক তাহাদের পাপবিদ্ধ হওয়া ও তজ্জন্য সেই প্রাণসমূহের দুর্গতি ভোগ। অনন্তর দেবগণ কর্তৃক মূখ্য প্রাণকে উদ্‌দীথরূপে উপাসনাকরণ, মুখ্য প্রাণ কর্তৃক অসুরগণের পরাজয় ও মুখ্য প্রাণের শ্রেষ্ঠতা প্রতিপাদন। অঙ্গিরা বৃহস্পতি ইত্যাদি ঋষিগণ কর্তৃক মুখ্য প্রাণকে উদ্‌দীথরূপে উপাসনাকরণ উদ্‌দীপ্ত উপাসনার ফল।

তৃতীয় খণ্ডে-উদ্‌গীদের আধিদৈবিকত্ব প্রদর্শন। উদ্‌দীথ মনে করিয়া সূর্য্য ব্যান বায়ু ইত্যাদির উপাসনার কর্তব্যতা, ব্যান বায়ুর কার্য্যনির্দেশ, উদ্‌দীথ এই শব্দের প্রত্যেক অক্ষরের অর্থপ্রদর্শন ও ঐ অর্থানুযায়ী উপাসনার ফল প্রদর্শন। কর্ম্মফলের উৎকর্ষসাধনা উপাসনা, সামযাগের অঙ্গস্বরূপ মন্ত্র ও ছন্দঃ প্রভৃতি বিষয়ে দৈবতচিন্তার উপদেশ।

চতুর্থ খণ্ডে-ওঙ্কারোপাসনার কর্তব্যতানির্দেশ, মৃত্যুভয়ে ভীত দেবগণ কর্তৃক বৈদিক কর্মানুষ্ঠান, তাহাতেও মৃত্যুভয় অতিক্রম করিতে না পারায় ওঙ্কারের উপাসনা দ্বারা উক্ত ভয় হইতে অব্যাহতি লাভ। মন্ত্রসমূহের ছন্দ নাম হইবার কারণ প্রদর্শন। ওঙ্কারোপাসনার ফল প্রদর্শন। 

পঞ্চম খণ্ডে-প্রকারান্তস্তরে উদ্‌দীখোপাসনা নির্দেশ। কৌবীতকী ঋষি ও তাঁহার পুত্রের কথোপকথন, প্রণব ও উদ্‌দীখের একত্বনির্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

ষষ্ঠ খণ্ডে-প্রকারান্তরে উদ্‌দীখোপাসনার বিবরণ, পৃথিবী প্রভৃতি মহাভূক্ত সমূহের ঋবেদাদিস্বরূপত্বকথন, ঐরূপ উক্তির হেতুনির্দেশ। চন্দ্র-সূর্য্য-নক্ষত্রা- দিতে সামবেদাদি চিন্তার উপদেশ, আদিত্যের শুরু ও কৃষ্ণ আভার সামস্বকখন। আধিদৈবিক উপাসনার ফল।

সপ্তম খণ্ডে-আধ্যাত্মিক উপাসনা বর্ণনা-প্রসঙ্গে বাক্, মুখ্যপ্রাণ, চক্ষুঃ, ছায়ায়া ইত্যাদিতে ঋক্ সামাদি দৃষ্টিতে চিন্তা করার উপদেশ, ঈশ্বরোপাসকগণের ধনবান হওয়ার বিবরণ, উপাসনার ফলকীর্তন।

অষ্টম খণ্ডে-অন্য ভাবে উদ্‌দীখোপাসনা প্রসঙ্গে উদ্‌দীথাভিজ্ঞ শিলক, চৈকি- তায়ন ও প্রবাহণ এই তিন জনের উদ্‌দীপবিঘ্নাবিষয়ে আলোচনা, শিলক কর্তৃক চৈকিতায়নকে সামাদির গতিবিষয়ক প্রশ্ন ও চৈকিতায়ন কর্তৃক তাহার উত্তর প্রদান। চৈকিতায়ন কর্তৃক শিলককে সামাদির প্রতিষ্ঠাবিষয়ে প্রশ্ন, শিলক কর্তৃক তাহার উত্তর প্রদান।

নবম খণ্ডে-শিলক কর্তৃক জিজ্ঞাসিত হইয়া প্রবাহণের পৃথিবী প্রভৃতি লোকের আশ্রয়বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর প্রদান প্রসঙ্গে আকাশাখ্য ব্রহ্মের সর্ব্ব- লোকাস্রয়ত্বনির্দেশ। পরোবরীয়স্বাদিগুণসম্পন্ন পরমাত্মস্বরূপ উদ্‌দীধোপাসনার ফলনির্দেশ। শৌনক অভিধন্বনামক ঋষি কর্তৃক উদরশাণ্ডিল্য নামক শিষ্যকে উপদেশদানের প্রসঙ্গ।

দশম খণ্ডে-উষস্তি নামক ব্রাহ্মণ ও তাঁহার বালিকা স্ত্রীর আখ্যায়িকা, বজ্রাঘাতে কুরুদেশ দগ্ধ ও তজ্জন্য দুর্ভিক্ষ উপস্থিত হওয়ায় ক্ষুধার্ত ঐ ব্রাহ্মণের স্ত্রী সমভিব্যাহারে ইভ্যগ্রামে গমন ও সেস্থানে কোন হস্তিপালখে 'পঙ্গু মাহুত) উচ্ছিষ্ট পৰ্য্যুষিত মাষকলায় সিদ্ধ ভক্ষণ, তাহার উচ্ছিষ্ট জল পান করিতে সম্বীকৃতি, সমীপস্থ রাজার যজ্ঞভূমিতে গমন, সেই যজ্ঞস্থলে প্রস্তোতা (প্রস্তাবপাঠক), উদ্‌দাতা (উদ্‌দীৎপাঠক) ও প্রতিহর্তার (প্রতিহারপাঠক) প্রতি প্রশ্ন, প্রস্তোতা প্রভৃতির উত্তরদানে অক্ষমতা ও তৃষ্ণীস্তাবে অবস্থান।

একাদশ খণ্ডে-উক্ত রাজার সহিত উধস্তির কথোপকথন ও রাজা কর্তৃক ঋত্বিক্ পদে বরণ, উষস্তি প্রস্তোতা প্রভৃতিকে যে প্রশ্ন করিয়া তাহার উত্তর পান নাই, সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর প্রদান; প্রস্তাব, উদ্‌দীথ ও প্রতিহারের অনুগত দেবতাকে না জানিয়া প্রস্তাবাদি পাঠ করিলে তাহার অনিষ্টকর ফল প্রদর্শন।

দ্বাদশ খণ্ডে-শৌব উদ্‌গীথ অর্থাৎ কুকুররূপধারী ঋষিগণ কর্তৃক উদগীথ গান, বক ও মাৰ নামে দুই জন ঋষি উদ্‌দীথ অধ্যয়নের নিমিত্ত নির্জন স্থানে গমন করিয়া সাম গান করিলে, তাঁহাদের সামগানে সন্তুষ্ট হইয়া অনুগ্রহ প্রদর্শনের নিমিত্ত কোন ঋষি খেতবর্ণ কুকুরের রূপ ধারণ করিয়া তাঁহাদের নিকট উপস্থিত হইয়াছিলেন, ও আরও কয়েক জন ঋষি ঐরূপ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কুকুররূপ ধারণ করিয়া সেইস্থানে উপস্থিত হইয়াছিলেন। পরদিন প্রাতঃকালে সকলে সমবেত হইয়া অন্নলাভের নিমিত্ত 'হিং'কার গান করিয়াছিলেন, বক ও গ্লাব কর্তৃক সেই হিষ্কার ত্রয়োদশ খণ্ডে-রখস্তর নামক সামে প্রসিদ্ধ 'হাউকার' 'হাইকার' ইত্যাদি স্তোভনামক সামের উপাসনাবিধি বর্ণনা, পৃথিবী, বায়ু, চন্দ্র, হাউকার, হাইকার," অথকার ইত্যাদি স্তোভাক্ষরসমূহের বিন্যাস বা আরোপ পূর্ব্বক উপাসনা, উক্তপ্রকার উপাসনার ফলনির্দেশ।

দ্বিতীয় প্রপাঠকে-

প্রথম খণ্ডে সমস্ত সামের উপাসনার সাধুত্বনির্দেশ, সাম ও অসাম শব্দের ব্যবহারিক অর্থ, সামের সাধুতা সম্বন্ধে চিন্তা করিয়া উপাসনার ফল।

দ্বিতীয় খণ্ডে -পৃথিব্যাদি লোকদৃষ্টিতে হিষ্কারাদি পঞ্চবিধ সামের উপাসনার কর্তব্যতানির্দেশ। ছ্যুলোকাদিতে হিঙ্কারাদি পঞ্চবিধ সামের উপাসনার কর্তব্যতা- নিদ্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

তৃতীয় খণ্ডে-বৃষ্টিতে পঞ্চবির সামের উপাসনা, পূর্বদিক্ হইতে প্রবাহিত বায়ুতে হিস্কার, মেঘে প্রস্তাব ইত্যাদি দৃষ্টিতে সামোপাসনার কর্তব্যতানিন্দেশ। পঞ্চবিধ সামাক্তির নাম। উক্ত উপাসনার ফল।

চখণ্ডে-বর্ব্ববিধ জলে পঞ্চবিদ সামের উপাসনা, মেঘাদিতে হিঙ্কারাদি দৃষ্ট করিবার উপদেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

পঞ্চম খণ্ডে-বসন্তাদি পঞ্চ ঋতুদৃষ্টিতে হিঙ্কারাদি পঞ্চবিধ সামোপাসনার কর্ত্তব্যতানিদ্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

ষষ্ঠ খণ্ডে-ছাগ-মেবাদি পশুদৃষ্টিতে হিস্কারাদি পঞ্চবিধ সামোপাসনার কর্তব্যতানিদ্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

সপ্তম খণ্ডে-পঞ্চবৃত্তিসম্পন্ন প্রাণ ও বাগাদি ইন্দ্রিয়দৃষ্টিতে পরোবরীয় স্বাদিগুণবিশিষ্ট হিস্কারাদি পঞ্চবিধ সামোপাসনার কর্তব্যভানির্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

অষ্টম খণ্ডে-সপ্তবির সামের উপাসনা, বাগদৃষ্টিতে হিষ্কারাদি সপ্তবিধ সামো- পাসনার কর্তব্যতানিদ্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

নবম খণ্ডে-আদিত্যদৃষ্টিতে সপ্তবিধ সামের উপাসনার কর্তব্যতানিদ্দেশ, আদিত্যে সামবুদ্ধি স্থাপনের হেতুপ্রদর্শন। উক্ত উপাসনার ফল।

দশম খণ্ডে-সপ্তবিধ সামের মধ্যে মৃত্যুভয়নিবারক পরস্পর সমানাক্ষর- বিশিষ্ট হিঙ্কারাদি সপ্তবিধ সামোপাসনার কর্তব্যতানিন্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

একাদশ খণ্ডে-নামোল্লেখ পূর্ব্বক সপ্তবিধ সামের উপাসনা, মন, বাক্ ইত্যাদি দৃষ্টিতে হিষ্কারাদি সপ্তবিধ সামোপাসনার কর্তব্যতানিদেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

দ্বাদশ খণ্ডে-অগ্নিমম্বনাদিতে যডুবিধ সামের উপাসনা, যজ্ঞীয় অগ্নি প্রথা- পনের নিমিত্ত কাঠঘর্ষণাদিবিষয়ে হিষ্কারাদি ষড়বিধ সামোপাসনার কর্তব্যতা- নির্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

ত্রয়োদশ খণ্ডে-স্ত্রী-পুরুষসংযোগবিষয়ে বড় বিধ সামের উপাসনা, স্ত্রী-পুরুষে

পরস্পর সঙ্গত হইবার বাসনায় পুরুষ কর্তৃক সঙ্কেতাদিবিষয়ে হিষ্কারাদি ষড় বিধ সামোপাসনার কর্তব্যতা নির্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

চতুর্দশ খণ্ডে উদীয়মান সূর্য্য, উদিত সূর্য্য ইত্যাদি দৃষ্টিতে হিস্কারাদি সামো- পাসনার কর্তব্যতানিদেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

পঞ্চদশ খণ্ডে - সজলমেঘের বিভিন্ন অবস্থায় হিষ্কারাদি সামোপাসনার কর্তব্যতানির্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল!

ষোড়শ খণ্ডে- প্রকারান্তরে বসন্তাদি পঞ্চ ঋতুতে হিষ্কারাদি সামোপাসনার কর্তব্যতানিদ্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

সপ্তদশ খণ্ডে-প্রকারান্তরে পৃথিবী অন্তরীক্ষ ইত্যাদি দৃষ্টিতে হিঙ্কারী।মো- পাসনার কর্তব্যতানিদ্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

অষ্টাদশ খণ্ডে-প্রকারান্তরে ছাগ-মেবাদি পশুদৃষ্টিতে হিঙ্কারাদি সামো-পাসনার কর্তাভানির্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

একোনবিংশ খণ্ডে-হজ্ঞাযজ্ঞীয় উপাসনাবিষয়ে লোম 'হক্ ইত্যাদি দৃষ্টিতে হিষ্কারাদি সামোপনার কর্ত্তব্যতানিদ্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

বিংশ খণ্ডে-রাজনাধ্য সামবিষয়ে অগ্নি বাবু ইত্যাদি দৃষ্টিতে হিস্কারাদি সামো- পাসনার কর্তব্যতানিদ্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

একবিংশ খণ্ডে -ত্রয়ী বিদ্যা (বেদবিদ্যা) ইত্যাদি দৃষ্টিতে হিষ্কারাদি সাধো- পাসনার কর্তব্য তানিন্দেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

দ্বাবিংশ খণ্ডে-সামোপাসনা প্রসঙ্গে উদ্ভ্রাতার সঙ্গীতবিদ্যাবিষয়ে উপদেশ; স্বরভেদানুসারে বিশের বিশেষ দেবতাবিষয়ে এঐ সমস্ত সামের প্রয়োগবিষয়ে উপদেশ; দেবগণ, পিতৃগণ, মনুষ্যগণ ও পশুগণের নিমিত্ত সামগান করার উপদেশ; স্বরবর্ণ, উন্নবর্ণ ও স্পর্শবর্ণবিষয়ক উপদেশ। উক্ত উপাসনার ফল।

ত্রয়োবিংশ খণ্ডে-যজ্ঞ অধ্যয়ন দান, তপস্তা ও ব্রহ্মচর্যাশ্রম এই তিন প্রকার ধর্ম্মন্তগুনিরূপণ: অমৃতত্ব লাভ করিতে হইলে বন্নিষ্ঠ হওয়া প্রয়োজন, তাহার নিজগণ। প্রজাপতির লোকাদিবিষয়ে তপা ও তাহার ফলে ত্রয়ীবিদ্যা এবং ব্যাহৃতি প্রভৃতির আবির্ভাব বর্ণন।

চলবে >>
Read More

অথর্ব্বেদ ১৮/৩/১

14 April 0

 বিষয়-নিয়োগ বিধানের উপদেশ-

ঋষি-য়ম,মন্ত্রোক্তদেবতা-ত্রিষ্টুপ্ছন্দঃ-অথর্বাসূক্তম্- পিতৃমেধ সূক্ত।।

ইয়ম্ নারীপতিলোকম্ বৃণানা নি পদ্যত উপ ত্বা মর্ত্য প্রেতম্।
ধর্মপুরাণমনুপালয়ন্তী তস্যৈ প্রজাম্ দ্রবীণম্ চেহ ধেহি।।

পদ০-ইয়ম্। নারী। পতিऽলোকম্। বৃণানা। নি। পদ্যতে। ইপ। ত্বা। মর্ত্য। প্রऽহতম্। ধর্মম্। পুরাণম্। অনুऽপালয়ন্তী। তস্যৈ। প্রऽজাম্। দ্রবিণম্। চ। ইহ। ধেহি।

অথর্ব্বেদ ১৮/৩/১

পদার্থ-( মর্ত্য) হে মনুষ্য! (ইয়ম্) এই ( নারী) নারী ( পতিলোকম্) পতির সংসার [ গৃহাশ্রমের সুখকে] ( বৃণানা) কামনা করে এবং ( পুরাণাম্) পুরানো [ সনাতন ] ( ধর্মম্) ধর্মকে ( অনুপায়ন্তী) নিরন্তর পালন করে ( প্রতম্) মৃত [ পতির ] ( উপ) স্তুতি করে ( ত্বা) তোমাকে ( নিপদ্যতে) প্রাপ্ত হয়ে,(;তস্যৈ) সেই [ স্ত্রীর ] ( প্রজাম্) সন্তান ( চ) এবং ( দ্রবিণম্) বল এখানে ( ধেহি) প্রাপ্ত করবে।।

ভাবার্থ-যদি বিধবা স্ত্রী মৃতপতির গুণগান করে সন্তান উৎপন্ন করতে চায়,ওই মৃতের স্ত্রী পুরুষকে বিধি অনুযায়ী নিয়োগ করে নিজ কুলের বৃদ্ধির জন্য সন্তান উৎপন্ন করা। একই প্রকার মৃতের স্ত্রী পুরুষ নিজ কুলকে বৃদ্ধির জন্য সন্তান উৎপন্ন করতে বিধবা স্ত্রী দ্বারা বিধিবত্ নিয়োগ করা। এই মন্ত্র মহর্ষিদয়ানন্দকৃত ঋগ্বেদাদিভাষ্যভূমিকা নিয়োগবিষয়ে ব্যাখ্যাত্ আছে।

টিপ্পণী-
১,( ইয়ম্) দৃশ্যমানা বিধবা ( নারী) ঋতোऽঞ্। পা০ ৪/৪/৪৯। নরাচ্চেতে চক্রব্যম্। ইতি তত্রৈব বার্ত্তিক চ। নৃ, নর,অঞ্। শার্ঙ্গরবাদ্যঞোঙীন্। পা০ ৪/১/৭৩। ইতি ঙীন্। নুননরস্য বা ধর্মাচারোऽস্যাম্ সা। স্ত্রী ( পতিলোকম্) পতিগৃহম্। গ্রহাশ্রমসুখম্ ( বৃণানা) বাচ্ছন্তী ( নিপদ্যতে) প্রাপ্রোতি ( উপ) প্রজায়াম্। উপগচ্ছন্তী। স্তুবানা ( ত্বা) ত্বাম্ মৃতস্ত্রীতম্ (;মর্ত্য) হে মনুষ্য (;প্রেতম্) প্র+ইণ্ গতৌ-ক্ত। মৃতম্ পতিম্ ( ধর্মম্) ধারণীয় নিয়মম্ ( পুরাণম্) পুরানঅগ্র নিয়তে। পীঙ্-ড। সনাতনম্ ( অনুপায়ন্তী) নিরন্তরম্ রক্ষন্তী ( তস্যৈ) বিধবাযৈ ( প্রজাম্) সন্তানম্ ( দ্রবিণম্) বলম্-নিঘ০ ২/৯ (:চ) ( ইহ) গ্রহাশ্রমে ( ধেহি) ধারয়।। ( ভাষ্য-পণ্ডিত ক্ষেমকরণদাস ত্রিবেদী)
Read More

তৈত্তিরীয় উপনিষদ ২/৬

14 April 0

 সোহকাময়ত বহু স্যাং প্রজায়েয়েতি। স তপোহতপ্যত। স তপস্তপ্ত্বা। ইদং সর্বমসৃজত। যদিদং কিন্ঞ্চ। তৎ সৃষ্ট্বা। তদেবানুপ্রাবিশৎ। ( তৈত্তি ২/৬)

পদার্থঃ (সঃ) সেই পরমাত্মা ( অকাময়ত) কামনা করিলেন ( বহু) অনেক প্রকার ( স্যাম্) হইব, ( প্রজায়েয়) উৎপন্ন হইব ( ইতি) এই কথা। ( সঃ) পরমাত্মা ( তপঃ তপ্ত্বা) সৃষ্টি বিষয়ক অালোচেনা করিয়া ( ইদম্) এই ( সর্বম) সমুদয় (যৎ ইদম্ কিম্ চ) এই যাহা কিছু অাছে তৎসমুদয়ই ( অসৃজত) সৃষ্টি করিলেন। ( তৎ) সেই সমস্ত ( সৃষ্ট্বা) সৃষ্টি করিয়া ( তৎ এব) সেই সকলের মধ্যে ( অনুপ্রাবিশৎ) অনুপ্রবেশ করিলেন। সরলার্থঃ সেই পরমাত্মা কামনায় বহু প্রজা( মনুষ্যাদি + অন্যান্যপ্রানী বর্গ) উৎপন্ন হইলেন। অামি উৎপন্ন করিব। তিনি সৃষ্টি বিজ্ঞান বিষয় ও কার্য কারন অবলম্বনে সব কিছু সৃষ্টি করিলেন এবং সৃষ্টির মধ্যে প্রবিষ্ট হইলেন। ২।। অজামেকাং লোহিতশুক্লকৃষ্ণাং বহ্বীঃ প্রজাঃ সৃজমানাং সরূপাঃ। অজো হ্যেকো জুষ মানো হনু শেতে জহাত্যেনাং ভুক্তভোগামজোহন্যঃ ( শ্বেতাশ্বর উ ৪/৫) পদার্থঃ ( সঃ) পরমাত্মার ( রূপাঃ) সত্ব, তম,রজ প্রকৃতি ( বহ্বীঃ) অনেক ( প্রজাঃ) সন্তান বা মনুষ্যাদি + অন্যান্যা প্রানীসকল ( সৃজমানাম্) সৃজনকারিনী ( লোহিত শুক্ল কৃষ্ণাম্) রক্ত, শ্বেত ও কৃষ্ণাবর্ন বিশিষ্টা (একাম্) একমাত্র ( অজাম) জন্ম রহিত প্রকৃতিক ও পরমাত্মা ( একঃ হি) কোন ( অজঃ) জন্মরহিত অবিদ্যাগ্রস্থ জীব ( জুষমাণঃ) সেবা পরায়ন হইয়া ( অনুশেতে) ভোগ করে ( অন্যঃ) মুক্ত জীব ( ভুক্ত ভোগাম্) ভোগ করে বিরত হয়েছে ( এমাম্) এই প্রকৃতিকে ( জহাতি) ত্যাগ করে।

সরলার্থঃ প্রকৃতি,জীব এবং পরমাত্মা এই তিন অজ অর্থাৎ 'যাহার কখন ও জন্ম হয় না এবং ইহারা কখনও জন্ম গ্রহন করেন না। অর্থাৎ এই তিন সমগ্র জগতের কারন নাই। অনাদিজীব, এই অনাদি প্রকৃতিকে ভোগ করিতে আবদ্ধ হয় কিন্তু পরমাত্মা ও মুক্ত পুরুষ তাহাতে অাবদ্ধ হন না এবং ভোগ করেন না। সেই পরমাত্মা বহু মনুষ্যাদি সৃজন করেছিলেন।।
অনেকে বলে থাকে যে, শতরূপা ও মনু নাকি প্রথমে সৃষ্টি হয়েছিলেন কিন্তু এ কথা নিত্যান্ত মিথ্যা কথা। উপনিষদ বচনে প্রমানিত হয় যে পরমাত্মা সৃষ্টির প্রারম্ভে এক সাথে বহু প্রজার সৃষ্টি করেন অতএব মনু আর শতরূপার গল্প সত্য নয়।
Read More

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

ঋগ্বেদ ৮/১/৬

  ।৷ ঋষিঃ মেধাতিথির্মেধ্যাতিথিশ্চ ॥ দেবতাঃ ইন্দ্ৰঃ ॥ ছন্দঃ বৃহতী ॥ স্বরঃ মধ্যমঃ ।। বস্যাঁ ইন্দ্রাসি মে পিতুরুত ভ্রাতুরভুজতঃ। মাতা চ মে ছদয়থ...

Post Top Ad

ধন্যবাদ