ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান, ধর্ম গ্রন্থ কি , হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়, ইসলাম খ্রীষ্ট মত বিষয়ে তত্ত্ব ও সনাতন ধর্ম নিয়ে আলোচনা

धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते-Theology

সাম্প্রতিক প্রবন্ধ

Hindusim

Post Top Ad

স্বাগতম

30 July, 2026

ঋগ্বেদ ৯/১৩/৯

30 July 0

ঋগ্বেদ ৯/১৩/৯, অপঘ্নন্তো অরাব্ণঃ পবমানাঃ স্বর্দৃশঃ। যোনাবৃতস্য সীদত॥

ঋষি | দেবতা | ছন্দ | স্বর

অসিতঃ কাশ্যপো দেবলো বা ঋষিঃ॥ পবমানঃ সোমো দেবতা॥ ছন্দঃ—১— ৩, ৫, ৮ গায়ত্রী। ৪ নিচৃদ্ গায়ত্রী। ৬ ভুরিগ্গায়ত্রী। ৭ পাদনিচৃদ্ গায়ত্রী। ৯ যবমধ্যা গায়ত্রী॥

অ॒প॒ঘ্নন্তো॒ অরা॑ব্ণঃ পব॑মানাঃ স্ব॒র্দৃশ॑ঃ। যোনা॑বৃ॒তস্য॑ সীদত॥ (ঋগ্বেদ ৯.১৩.৯)

স্বররহিত মন্ত্র

অপঘ্নন্তো অরাব্ণঃ পবমানাঃ স্বর্দৃশঃ। যোনাবৃতস্য সীদত॥

স্বরসহিত পদপাঠ

অ॒প॒ऽঘ্নন্তঃ॑। অরা॑ব্ণঃ। পব॑মানাঃ। স্বঃ॒ऽদৃশঃ॑। যোনৌ॑। ঋ॒তস্য॑। সী॒দ॒ৎস॒॥

স্বররহিত পদপাঠ

অপऽঘ্নন্তঃ। অরাব্ণঃ। পবমানাঃ। স্বঃऽদৃশঃ। যোনৌ। ঋতস্য। সীদৎস॥ (৯.১৩.৯)


আধিদৈবিক ভাষ্য (১) -
(পবমানাঃ, স্বর্দৃশঃ) সূর্যের সমান তেজস্বী আর শুদ্ধ সোম পদার্থ (অরাব্ণঃ, অপঘ্নন্তঃ) [অরাব্ণঃ = রা দানে (অদা.) ধাতোর্বনিপ্। নঞ্ সমাসঃ] সংযোগ-বিয়োগ প্রক্রিয়াতে বাধা উৎপন্নকারী অথবা সেই প্রক্রিয়াতে ভাগ নিতে অক্ষম পদার্থকে নষ্ট করে অথবা সেগুলোকে সরিয়ে দিয়ে (ঋতস্য, য়োনৌ, সীদত) [ঋতম্ = ঋতমিত্যেষ (সূর্য়ঃ) বৈ সত্যম্ ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ৪.২০), ঋতমেব পরমেষ্ঠী (তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ ১.৫.৫.১), অগ্নির্বা ঋতম্ (তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ ২.১.১১.১)] সূর্যলোকের সর্বোত্তম আগ্নেয় ক্ষেত্র অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ভাগ অথবা সম্পূর্ণ সূর্যলোকের উৎপত্তি আর নিবাসস্থানে বিদ্যমান থাকে।

ভাবার্থ - সূর্যলোকের উৎপত্তি হওয়ার পূর্বে বিশাল খগোলীয় মেঘের ভিতরে সোম রশ্মিগুলো শুদ্ধ রূপে ব্যাপ্ত হয়। যখন সেই সোম রশ্মিগুলো তপ্ত হওয়া শুরু করে, তখন সেগুলো এমন পদার্থ যা স্বয়ং সূর্যলোক নির্মাণের প্রক্রিয়াতে ভাগ নেওয়ার জন্য সংযোগ-বিয়োগ আদি প্রক্রিয়াতে ভাগ নেওয়ার যোগ্য হয় না অথবা যা সংযোগ-বিয়োগ প্রক্রিয়াতে বাধার সৃষ্টি করে, সেগুলোকে নষ্ট বা দূর করে দেয়। এমন করতে-করতে সেই সোম রশ্মিগুলো সম্পূর্ণ মেঘের মধ্যে ব্যাপ্ত হয়ে যায়। একইভাবে সোম প্রধান বিদ্যুৎ ঋণাবেশিত কণাও সম্পূর্ণ খগোলীয় মেঘ আর কালান্তরে সূর্যলোকের মধ্যে ব্যাপ্ত হয়ে যায়।

আধিদৈবিক ভাষ্য (১) -
(পবমানাঃ, স্বর্দৃশঃ) বিদ্যুতের সমান গত্যাদি ব্যবহারকারী অর্থাৎ বিদ্যুতের মতো শুদ্ধ মার্গের উপর গমন করে সূক্ষ্ম কণা বা বিকিরণ (অপঘ্নন্তঃ, অরাব্ণঃ) মার্গের মধ্যে আসা এমন কণা, যা সংযোগ-বিয়োগ ক্রিয়াতে ভাগ নেয় না অথবা বাধা উৎপন্ন করে, তাকে দূরে সরিয়ে গমন করে। (ঋতস্য, য়োনৌ, সীদত) [ঋতম্ = অগ্নির্বা ঋতম্ (তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ ২.১.১১.১)] সেইসব কণা অগ্নির কারণরূপ প্রাণ তত্ত্বের মধ্যে নিরন্তর নিবাস করে অর্থাৎ সেগুলো প্রাণের মধ্যেই নিবাস আর প্রাণের মধ্যেই প্রাণের দ্বারা গমন করে।

ভাবার্থ - এই ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে যেসব কণা প্রায় প্রকাশের বেগে গমন করে, সেইসব কণা অথবা বিকিরণ মার্গের মধ্যে বাধক পদার্থকে দূরে সরিয়ে দিয়ে নিজের মার্গকে নির্বাধ বানিয়ে গমন করে। এর অর্থ হল সেগুলো বিভিন্ন আয়ন বা ইলেকট্রনকে দূরে সরিয়ে দেয় না, বরং সেগুলোর দ্বারা নিঃসরণ আর শোষণের ক্রিয়া করে নিরাপদ রূপে নিরন্তর গমন করতে থাকে। এই ক্রিয়ার কারণে সেগুলোর বাস্তবিক শুদ্ধ গতির মধ্যে কিছুটা ঘাটতিও দেখা দেয়। যদি শোষণ ও নিঃসরণ পদার্থ অধিক মাত্রায় বিদ্যমান হয়, তাহলে সেই অনুপাতের মধ্যে গমনকারী কণার পরিণামী গতি কম হতে থাকবে। বর্তমান বিজ্ঞান দ্বারা পরিভাষিত ডার্ক মেটার এই সূক্ষ্ম কণা বা বিকিরণের সঙ্গে কোনো পরস্পর প্রতিক্রিয়া
করে না, এইজন্য সেই পদার্থকে সেইসব কণা বা বিকিরণ দূরে সরিয়ে নির্বাধ গমন করতে থাকে। এই কণা বা বিকিরণ সূর্যাদি নক্ষত্র, অন্য আকাশীয় লোক, প্রাণীদের শরীর বা বনস্পতি অথবা খোলা অন্তরিক্ষের মধ্যে সর্বত্র এই ব্যবহারই দর্শায়।

ধ্যাতব্য - আমি এখানে দুই প্রকারের আধিদৈবিক ভাষ্য প্রস্তুত করেছি, এইভাবে "পবমান স্বর্দৃক্" পদগুলো থেকে নক্ষত্র, গ্রহাদি লোকের অর্থ গ্রহণ করে অন্য আধিদৈবিক ভাষ্যও করা যেতে পারে।

আধিভৌতিক ভাষ্য (১) -

(পবমানাঃ, স্বর্দৃশঃ) সূর্যের সমান তেজস্বী বেদবিত্ পবিত্রাত্মা ও পুরুষার্থী রাজা (অপঘ্নন্তঃ, অরাব্ণঃ) এমন নাগরিক, যারা ধনবান্ হওয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্রহিতে ন্যায়কারী রাজার দ্বারা নেওয়া করের পরিশোধ করে না অথবা কর চুরি করে অথবা আবশ্যকতা হলে কোনো নির্ধনের অথবা পরোপকারের কাজে আর্থিক সহায়তা করে না অথবা সমাজ আর রাষ্ট্রের হিতের বিরোধী বা উদাসীন হয়, রাজা তাদের উচিত দণ্ড দিয়ে (ঋতস্য, য়োনৌ, সীদত) [ঋতম্ = ব্রহ্ম বাऽঋতম্ (শতপথ ব্রাহ্মণ ৪.১.৪.১০), সত্যম্ বিজ্ঞানম্ (মহর্ষি দয়ানন্দ ঋগ্বেদ ভাষ্য ১.৭১.২)] সমস্ত জ্ঞান-বিজ্ঞানের মূল বেদের কারণ রূপ পরব্রহ্ম পরমাত্মার মধ্যে নিবাস করেন।

ভাবার্থ - যেকোনো রাষ্ট্রের রাজা শরীর, মন আর আত্মার দ্বারা পূর্ণ সুস্থ আর বলবান্ হওয়া উচিত। এমন রাজাই সতত পুরুষার্থকারী হতে পারবেন। শরীর, মন বা আত্মার মধ্যে যেকোনো একটা নির্বল বা রোগী হলে কোনো রাজাই রাষ্ট্রের সঞ্চালনে সক্ষম হবেন না। এর পাশাপাশি যতক্ষণ পর্যন্ত রাজা জ্ঞান-বিজ্ঞান দ্বারা সম্পূর্ণরূপে সম্পন্ন হবেন না, ততক্ষণ পর্যন্তও রাজা রাষ্ট্রের উচিত সঞ্চালন করতে পারবেন না, কারণ এমন রাজাকে তার চাটুকার, চালাক-স্বার্থপর মন্ত্রী, প্রশাসনিক অধিকারী, বৈজ্ঞানিক, পুঁজিপতি এবং অন্য দেশের রাজা ভ্রমিত করে নিজের প্রয়োজন সিদ্ধ করতে পারেন।

এমন রাজা দণ্ডনীয় আর সম্মানীয় পাত্রের বিবেক রাখতে পারবেন না, অথচ বিদ্বান আর য়োগী রাজা এর পরিচয় নিশ্চিত করে দণ্ডনীয়কে দণ্ড আর সম্মানীয়কে সম্মান দিয়ে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রের হিত সম্পাদন করেন। যে রাষ্ট্রের মধ্যে দণ্ডনীয়কে দণ্ড আর সম্মানীয়কে সম্মান তথা সত্য ও উন্নতির মার্গে চলা ব্যক্তিদের অনুপ্রেরণা দেওয়া হয় না, সেই রাষ্ট্র অরাজকতা, হিংসা, ভয়, অশান্তি, অন্যায় আর তিন প্রকারের দুঃখে গ্রস্থ হয়ে বিনাশ প্রাপ্ত হয়। অপরাধীকে দণ্ড দেওয়ার বিষয়ে ভগবান্ মনুর কথন হল -

দণ্ডঃ শাস্তি প্রজাঃ সর্বা দণ্ড এবাভিরক্ষতি।
দণ্ডঃ সুপ্তেষু জাগর্তি দণ্ডম্ ধর্মম্ বিদুর্বুধাঃ।। (মনুস্মৃতি ৭.১৮)

অর্থাৎ উচিত দণ্ডই প্রজার উপর শাসন করে আর দণ্ডই প্রজার রক্ষা করে। দণ্ড কখনও শিথিল হয় না, এইজন্য বিদ্বান ব্যক্তিরা দণ্ডকেই ধর্ম বলেছেন। কৃপণ ব্যক্তিকে দণ্ড দেওয়ার বিষয়ে মহাত্মা বিদুর বলেছেন -

দ্বাবম্ভসী নিবেষ্টব্যৌ, গলে বদ্ধ্বা দৃঢাম্ শিলাম্।
ধনবন্তমদাতারম্, দরিদ্রম্ চাতপস্বিনম্।। (বিদুরনীতি ১.৬৫)

অর্থাৎ ধনবান হওয়া সত্ত্বেও পরোপকারের কাজে দান না দেওয়া ব্যক্তি আর নির্ধন হওয়া সত্ত্বেও পরিশ্রম না করা তথা দুঃখ না সহ্য করতে চাওয়া ব্যক্তিকে গলার মধ্যে ভারী পাথর বেঁধে গভীর জলাশয়ে ডুবিয়ে দেওয়া উচিত। এখানে সম্পূর্ণ প্রজার জন্যও নির্দেশ আছে যে ধনী ব্যক্তি ধনকে ঈশ্বরের প্রসাদ ভেবে ত্যাগপূর্বকই উপভোগ করবেন। তারা অবশ্যই নির্ধন ও দুর্বলের সহায়তা করবেন। অন্যদিকে নির্ধন ব্যক্তি কখনও ধনীদের প্রতি ঈর্ষা করবেন না, বরং স্বয়ং ধর্মপূর্বক পুরুষার্থ করতে থাকবেন আর দুঃখকেও সহ্য করার অভ্যেস করবেন। তারা কারও ধন চুরি করে ধনী হওয়ার চেষ্টা করবেন না অথবা বিনা কর্ম আর যোগ্যতায় ধন, পদ বা ঐশ্বর্য পাওয়ার ইচ্ছা কখনও করবেন না।

আধিভৌতিক ভাষ্য (২) -

(পবমানাঃ, স্বর্দৃশঃ) বেদবিদ্যার প্রকাশ দ্বারা প্রকাশমান, ব্রহ্মতেজ দ্বারা সম্পন্ন, পবিত্রাত্মা এবং য়োগী আচার্য বা আচার্যা নিজ বিদ্যার্থীদের বিদ্যাভাস করা কালীন (অপঘ্নন্তঃ, অরাব্ণঃ) বিদ্যাকে গ্রহণ করতে অনিচ্ছুক অথবা গ্রহণ না করা শিষ্য আর শিষ্যাদের আবশ্যক এবং উচিত তাড়নাও করবেন।

(ঋতস্য, য়োনৌ, সীদত) এমন আচার্য আর আচার্যা সম্পূর্ণ সত্য বিদ্যার মূল কারণ বেদ অথবা পরমাত্মার মধ্যে নিরন্তর বিরাজমান থাকেন।

ভাবার্থ - বেদ জ্ঞান দ্বারা সম্পন্ন নিরন্তর য়োগনিষ্ঠ বিদ্বান বা বিদুষীকেই আচার্য বা আচার্যা হবার অধিকারী হওয়া উচিত। তাদের উচিত তারা তাদের শিষ্য বা শিষ্যাদের প্রীতিপূর্বক আর নির্মল ভাবে অধ্যাপনা করবেন। যেসকল বিদ্যার্থী বিদ্যাগ্রহণে প্রমাদ করবে আর প্রীতিপূর্বক বুঝালেও বুঝবে না, তাদের সমুচিত দণ্ড অবশ্যই দিবেন। এই বিষয়ে ঋষি দয়ানন্দ সত্যার্থ-প্রকাশের দ্বিতীয় সমুল্লাসের মধ্যে ব্যাকরণ মহাভাষ্যের প্রমাণ দিয়ে লিখেছেন -

সামৃতৈঃ পাণিভির্ঘ্নন্তি গুরবো ন বিষোক্ষিতৈঃ।
লালনাশ্রয়িণো দোষাস্তাডনাশ্রয়িণো গুণাঃ।।

অর্থাৎ যে সকল মাতা, পিতা আর আচার্য সন্তান আর শিষ্যদের তাড়ন করেন, মনে করতে হবে যে তারা নিজের সন্তান আর শিষ্যকে নিজের হাতে অমৃত পান করাচ্ছেন আর যারা সন্তান বা শিষ্যদের লালন করেন (আদর দিয়ে মাথায় তোলেন), তারা নিজের সন্তান ও শিষ্যদের বিষ পান করিয়ে নষ্ট-ভ্রষ্ট করেন। কারণ লালনের দ্বারা সন্তান ও শিষ্য দোষযুক্ত এবং তাড়নার দ্বারা গুণবান হয়। আর সন্তান এবং শিষ্যদের সর্বদা তাড়নে প্রসন্ন এবং লালনে অপ্রসন্ন থাকা উচিত। কিন্তু মাতা, পিতা ও শিক্ষকগণ ঈর্ষা ও দ্বেষ বশতঃ তাড়না করবেন না, কিন্তু বাইরে ভয় দেখাবেন আর অন্তরে কৃপাদৃষ্টি রাখবেন।

ধ্যাতব্য - এইভাবে মাতা-পিতা আদির গ্রহণ করে অন্য প্রকারের আধিভৌতিক ভাষ্য করা যেতে পারে।

আধ্যাত্মিক ভাষ্য -

(পবমানাঃ, স্বর্দৃশঃ) য়ম-নিয়ম দ্বারা পবিত্র হওয়া য়োগী ব্রহ্মের সাক্ষাৎকারী (অপঘ্নন্তঃ, অরাব্ণঃ) সব ধরণের দোষের পরিত্যাগ করতে না পারার অনিষ্ট চিত্তবৃত্তিকে দূর করে দেন অর্থাৎ সেই য়োগী পুরুষ সব প্রকারের অনিষ্ট বৃত্তিগুলোকে ধীরে-ধীরে নিরুদ্ধ করতে থাকেন। যখন তার বৃত্তিগুলো নিরুদ্ধ হয়ে যায়, তখন (ঋতস্য, য়োনৌ, সীদত) সেই য়োগী পুরুষ সব সত্য বিদ্যার মূল পরব্রহ্ম পরমাত্মার মধ্যে বিরাজমান হয়ে যান অর্থাৎ তিনি ব্রহ্ম সাক্ষাৎকার করেন।

ভাবার্থ - যখন কোনো য়োগাভ্যাসী অহিংসা, সত্য, অস্তেয়, ব্রহ্মচর্য আর অপরিগ্রহের মতো য়ম এবং শৌচ, সন্তোষ, তপ, স্বাধ্যায়, ঈশ্বর-প্রণিধানের মতো নিয়ম দ্বারা নিজেকে পবিত্র বানিয়ে নেন, তখন তার চিত্তের বৃত্তি নিরুদ্ধ হতে থাকে, যারদ্বারা তিনি ব্রহ্মসাক্ষাৎকার করতে সক্ষম হন। এখানে এটা স্পষ্ট হল যে য়ম-নিয়মের পালন না করে কোনো ব্যক্তিই য়োগী হতে পারবেন না।

Read More

ঋগ্বেদ ৭/৬/৩

30 July 0

ঋগ্বেদ ৭/৬/৩
ঋষি | দেবতা | ছন্দ | স্বর

বসিষ্ঠ ঋষিঃ।। বৈশ্বানরো দেবতা॥ ছন্দঃ – ১, ৪, ৫ নিচৃত্ত্রিষ্টুপ্। ৬ বিরাট্ ত্রিষ্টুপ্। ২ নিচৃত্পংক্তিঃ। ৩, ৭ ভুরিক্ পংক্তিঃ॥ সপ্তর্চং সূক্তম্॥

ন্য॑ক্র॒তূন্গ্র॒থিনো॑ মৃ॒ধ্রবা॑চঃ প॒ণীঁর॑শ্র॒দ্ধাঁ অ॑বৃ॒ধাঁ অ॑য॒জ্ঞান্। 

প্রপ্র॒ তাঁন্দস্যূঁ॑র॒গ্নির্বি॑বায়॒ পূর্ব॑শ্চকা॒রাপ॑রাঁ॒ অয॑জ্যূন্ ॥৩॥ (ঋগ্বেদ ৭.৬.৩)

স্বররহিত মন্ত্র

ন্যক্রতূন্গ্রথিনো মৃধ্রবাচঃ পণীঁরশ্রদ্ধাঁ অবৃধাঁ অয়জ্ঞান্। প্রপ্রতান্দস্যূঁরগ্নির্বিবায় পূর্বশ্চকারাপরাঁ অয়জ্যূন্।। ॥৩॥

স্বরসহিত পদপাঠ

নি। অ॒ক্র॒তূন্। গ্র॒থিনঃ॑। মৃ॒ধ্রऽবা॑চঃ। প॒ণীন্। অ॒শ্র॒দ্ধান্। অ॒বৃ॒ধান্। অ॒য॒জ্ঞান্। প্রऽপ্র॑। তাঁন্। দস্যূ॑ন্। অ॒গ্নিঃ। বি॒বা॒য॒। পূর্বঃ॑। চ॒কা॒র॒। অপ॑রান্। অয॑জ্যূন্॥

স্বররহিত পদপাঠ

নি। অক্রতূন্। গ্রথিনঃ। মৃধ্রऽবাচঃ। পণীন্। অশ্রদ্ধান্। অবৃধান্। অযজ্ঞান্। প্রऽপ্র। তাঁন্। দস্যূন্। অগ্নিঃ। বিবায়। পূর্বঃ। চকার। অপরান্। অযজ্যূন্॥৩॥

এই মন্ত্রের ঋষি হল বসিষ্ঠ। বসিষ্ঠের বিষয়ে ঋষিদের কথন হল - প্রাণা বৈ বসিষ্ঠ ঋষিঃ (শতপথ ব্রাহ্মণ ৮.১.১.৬), অগ্নির্বৈ দেবানাম্ বসিষ্ঠঃ (ঐরেয় ব্রাহ্মণ ১.২৮)। এইভাবে এখানে আগ্নেয় পদার্থের মধ্যে বিদ্যমান বা সেগুলো থেকে নিঃসরণ হওয়া প্রাণ রশ্মিগুলোকেই বসিষ্ঠ বলে আর এই রশ্মিগুলো থেকেই এই ছন্দ রশ্মির উৎপত্তি হয়েছে। এর দেবতা হল বৈশ্বানর। এর বিষয়ে ঋষিদের কথন হল - অগ্নির্বা এষ বৈশ্বানরো য়ৎসম্বৎসরঃ (জৈমিনীয় ব্রাহ্মণ ২.৩৭৯)।

এর ছন্দ হল ভুরিক্ পঙক্তি। ভুরিক্ এর বিষয়ে মহর্ষি য়াস্ক লিখেছেন -

ভুরিজৌ বাহুনাম (নিরুক্ত ২.৪)

ঋষি দয়ানন্দ কৃত ঋগ্বেদ ভাষ্য ৪.২.১৪ মন্ত্রের মধ্যে এর অর্থ ধারক আর পোষক করা হয়েছে। এই কারণে এর দৈবত আর ছান্দস প্রভাবে সূর্যলোকের মধ্যে অগ্নি নিজের বাধক বা বারক বলের দ্বারা পদার্থের য়জন প্রক্রিয়াকে সমৃদ্ধ করে আর নীল বর্ণের উৎপত্তি বা সমৃদ্ধি হতে থাকে। ধ্যাতব্য হল, আচার্য পিঙ্গল পঙক্তি ছন্দের বর্ণ নীল বলেছেন। এখন আমি এর ভাষ্য প্রারম্ভ করবো -

আধিদৈবিক ভাষ্য -
(নি, অক্রতূন্) [ক্রতুঃ = কর্মনাম (নিঘন্টু ২.১), মিত্র এব ক্রতুঃ (শতপথ ব্রাহ্মণ ৪.১.৪.১)] যে পদার্থ নিতরাম্ অর্থাৎ পূর্ণরূপে য়জন ক্রিয়া হতে রহিত হয়। (গ্রথিনঃ) অব্যবস্থিত বা অনিষ্ট রূপে জড়িয়ে থাকা (মৃধ্রবাচঃ) [এই পদের মধ্যে "মৃধু উন্দনে" ধাতু ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ হল মারা, ভিজিয়ে দেওয়া বা হওয়া।] যেসব পদার্থের মধ্যে হিংসক বাক্ রশ্মি বিদ্যমান থাকে, (অয়জ্ঞান্) যেসব পদার্থ সংযোজক বা বিয়োজক গুণ যুক্ত হয় না, (অশ্রদ্ধান্) [শ্রদ্ধা = তেজ এব শ্রদ্ধা (শতপথ ব্রাহ্মণ ১১.৩.১.১) , শ্রদ্ধা বা আপঃ (তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ ৩.২.৪.১)] যেসব পদার্থ দুর্বল প্রাণ রশ্মি যুক্ত তথা যেখানে-সেখানে বিরল মাত্রায় ছড়িয়ে থাকে, (অবৃধান্) এমন পদার্থ যেগুলোর মধ্যে বৃদ্ধি হচ্ছে না অথবা যেগুলো য়জন ক্রিয়াতে বৃদ্ধি হতে দেয় না, (তান্, দস্যূন্) এইরকম সব পদার্থ সৃজন প্রক্রিয়াকে ক্ষীণ করে, এইরকম সব পদার্থকে (অগ্নিঃ) বৈশ্বানর অগ্নি (প্র, প্র, বিবায়) খুব ভালো ভাবে দূরে সরিয়ে দেয় আর যেসব পদার্থ দুর্বল বা নিষ্ক্রিয় হয়, সেগুলোকে অনেক ভালো ভাবে গতি প্রদান করে।

মহর্ষি ঐতরেয় মহীদাস বলেছেন - অন্তরিক্ষম্ বৈ প্র (ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ২.৪১), প্রাণো বৈ প্র (ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ২.৪০)। এর অর্থ হল অগ্নি তত্ত্ব প্রাণ আর আকাশ তত্ত্বকে বিশেষভাবে সক্রিয় করে দুর্বল এবং নিষ্ক্রিয় পদার্থকে সবল করে তোলে আর হানিকারক পদার্থকে দূরে সরিয়ে দিয়ে ছিন্ন-ভিন্ন করে দেয়। (পূর্বঃ, অপরান্, অয়জ্যূন্) [এখানে "য়জ্যুঃ" পদ য়জ ধাতু থেকে "য়জিমনিশুন্ধিদসিজনিভ্যো য়ুচ্" (উণাদিকোষ ৩.২০) দ্বারা য়ুচ্ প্রত্যয় হয়ে ব্যুৎপন্ন হয়েছে।] সম্পূর্ণ পদার্থের মধ্যে পূর্বে থেকেই পূর্ণ রূপে ব্যাপ্ত বৈশ্বানর অগ্নি এমন পদার্থ, যেগুলোর মধ্যে য়জনশীলতার গুণ নগণ্য হয়, সেগুলোকে (পণীন্, চকার) যজ্ঞীয় ব্যবহার যুক্ত করতে থাকে।

এখানে "অপরান্" পদ য়জনশীল পদার্থ হতে ভিন্ন পদার্থের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

ভাবার্থ - সূর্যলোকের মধ্যে বিদ্যমান তীব্র উষ্মা সমস্ত পদার্থকে নিরন্তর ছেদন-ভেদন করতে থাকে। বড় কণা ভেঙে গিয়ে ছোটো কণাতে পরিণত হতে থাকে। সেগুলোর মধ্যে যে পদার্থ সংযোজন হওয়ার যোগ্য হয়, সেটা আয়ন রূপে কেন্দ্রীয় ভাগের দিকে প্রবাহিত হতে থাকে। তাদের মার্গে যেসব বাধক পদার্থ আসে এবং যেসব পদার্থ সংযোজন হওয়ার যোগ্য হয় না, সেই পদার্থগুলোকে উষ্মাযুক্ত তীক্ষ্ম বিদ্যুৎ তরঙ্গ দূরে সরিয়ে দিতে থাকে।

আধিভৌতিক ভাষ্য -

এই ভাষ্য আপনি আগে থেকে উদ্ধৃত করেছেন আর এর উপরে আপনার কোনো মন্তব্যও নেই।

অবিদ্যাগ্রস্ত অর্থাৎ মূঢ় মতি, হিংসার জন্য মানুষকে উৎসাহ প্রদানকারী, সমাজের মধ্যে বিচ্ছেদ উৎপন্নকারী, অগ্নিহোত্রাদির দ্বারা পরিবেশকে শুদ্ধ না করা ব্যক্তি, বিদ্যা এবং মানবতার উপরে শ্রদ্ধা না রাখা ব্যক্তি আর হানিকারক দুষ্ট অপরাধীদের রাজা যদি দূর না করেন, তাদের সৎপথে না নিয়ে আসেন, তাহকে কি তাদের পূজা করবেন? তাদের দূর করলে তবেই কোনো রাষ্ট্র বা সমাজের হিত হওয়া সম্ভব, অন্যথা রাষ্ট্র আর বিশ্বের মধ্যে অরাজকতাই ছড়াবে। এইজন্য ঋষি দয়ানন্দের ভাষ্য হল সর্বথা উচিত আর কল্যাণকারী।

আধ্যাত্মিক ভাষ্য -
(অগ্নিঃ) শরীরস্থ বিদ্যুদগ্নি (অক্রতূন্) [ক্রতুঃ = কর্মনাম (নিঘন্টু ২.১), প্রজ্ঞানাম (নিঘন্টু ৩.৯)] যেসব কোষিকা আদি পদার্থ নিষ্ক্রিয় বা মৃত হয়ে যায়, (গ্রথিনঃ) যেসব পদার্থ বিকৃত বা অনিষ্ট বন্ধন যুক্ত হয়, (মৃধ্রবাচঃ) [বাক্ = বাগেবাऽগ্নিঃ (শতপথ ব্রাহ্মণ ৩.২.২.১৩)] অনিষ্টকারী অগ্নি অর্থাৎ যে বিকৃত অগ্নির দ্বারা শরীরের মধ্যে বিভিন্ন রোগ হতে পারে, (অয়জ্ঞান্) এমন অবশিষ্ট পদার্থ যা শরীরের জন্য উপযোগী নয়, (অশ্রদ্ধান্) [শ্রদ্ধা = তেজ এব শ্রদ্ধা (শতপথ ব্রাহ্মণ ১১.৩.১.১)] যেসব পদার্থ তেজহীন বা দুর্বল হয়ে গেছে, (অবৃধান্) যেসব পদার্থ শরীরের জন্য হানিকারক অর্থাৎ বিজাতীয় পদার্থ (তান্, দস্যূন্) এমন সব পদার্থ শরীরের ক্ষীণকারী হয়, সেইসব হানিকারক পদার্থকে (প্র, প্র, বিবায়) বহির্গত অথবা নষ্ট করতে থাকে।

এমন সব পদার্থই অবশিষ্ট রূপ হয়ে মল-মূত্র, স্বেদ, কফ, শ্বাস আদির দ্বারা নিরন্তর নিঃসৃত হতে থাকে। (পূর্বঃ) এইসব পদার্থের উৎপত্তির থেকে পূর্ব হতে বিদ্যমান সেই শরীরস্থ অগ্নি (অপরান্) অন্য পদার্থকে (অয়জ্যূন্) যেসব পদার্থ সপ্তধাতুতে পরিণত হয় না, সেগুলোকে (পণীন্, নি, চকার) সম্যক ক্রিয়া আর বল দ্বারা নিরন্তর যুক্ত করতে থাকে।

ভাবার্থ - শরীরের মধ্যে থাকা বিদ্যুৎ এবং অগ্নি পদার্থ শরীরের সমস্ত ক্রিয়াকে সঞ্চালিত করতে অনিবার্য ভূমিকা পালন করে। বিদ্যুৎ আর উষ্মার কারণেই শরীরের মধ্যে অনেক ছেদন আর ভেদনের ক্রিয়া চলতে থাকে। ভোজনের অবয়ব সূক্ষ্মভাবে ভেঙে যাওয়া, পাচক রস বের হওয়া, সেগুলো থেকে বিভিন্ন প্রকারের রাসায়নিক ক্রিয়া হওয়া, রসরূপ হওয়া ভোজন অন্ত্রের দ্বারা শোষিত হওয়া, ফুসফুস, হৃদয় আর মস্তিষ্কের সঙ্গে-সঙ্গে সমস্ত নাড়ি আর শিরার ক্রিয়াশীল হওয়া, নিঃসরণ আদি সমস্ত তন্ত্রের কাজ করা, বাইরে থেকে আসা জীবাণু আর বিষাণুকে রক্তের শ্বেত অণুর দ্বারা নষ্ট করে দেওয়া, শরীরের কোষিকার মধ্যে ঊর্জার উৎপত্তি হওয়া, এই সমস্ত ক্রিয়া বিদ্যুৎ আর উষ্মার দ্বারাই সম্পন্ন হয়।
Read More

অথর্ববেদ ৫/২১/৩

30 July 0

অথর্ববেদ ৫/২১/৩
স্বরসহিত মন্ত্র

বা॑নস্প॒ত্যঃ সংভৃ॑ত উ॒স্রিয়া॑ভির্বি॒শ্বগো॑ত্র্যঃ। প্র॑ত্রা॒সম॒মিত্রে॑ভ্যো ব॒দাজ্যে॑না॒ভিঘা॑রিতঃ ॥

স্বররহিত মন্ত্র
বানস্পত্যঃ সংভৃত উস্রিয়াভির্বিশ্বগোত্র্যঃ। প্রত্রাসমমিত্রেভ্যো বদাজ্যেনাভিঘারিতঃ ॥

স্বরসহিত পদপাঠ
বা॒ন॒স্প॒ত্যঃ । সম্ঽভৃ॑তঃ । উ॒স্রিয়া॑ভিঃ । বি॒শ্বऽগো॑ত্র্যঃ । প্র॒ऽত্রা॒সম্ । অ॒মিত্রে॑ভ্যঃ । ব॒দ॒ । আজ্যে॑ন । অ॒ভিঽঘা॑রিতঃ ॥২১.৩॥

স্বররহিত পদপাঠ
বানস্পত্যঃ । সম্ঽভৃতঃ । উস্রিয়াভিঃ । বিশ্বऽগোত্র্যঃ । প্রऽত্রাসম্ । অমিত্রেভ্যঃ । বদ । আজ্যেন । অভিঽঘারিতঃ ॥২১.৩॥


এই মন্ত্রের ঋষি হল ব্রহ্মা। [ব্রহ্মা = ইন্দ্র এব ব্রহ্মাऽऽসীৎ (জৈমিনীয় ব্রাহ্মণ ৩.৩৭৪), ঐন্দ্রো বৈ ব্রহ্মা (তৈত্তিরীয় সংহিতা ৭.১.৭.৫)] এর অর্থ হল এই ছন্দ রশ্মির উৎপত্তি তীক্ষ্ম বিদ্যুৎ তরঙ্গ দ্বারা উৎপন্ন হওয়া রশ্মি থেকে হয়। এর দেবতা হল দুন্দুভি। দুন্দুভির বিষয়ে মহর্ষি য়াস্ক বলেছেন -

দুন্দুভিঃ ইতি শব্দানুকরণম্।
দ্রুমো ভিন্ন ইতি বা, দুন্দুভ্যতের্বা স্যাচ্ছব্দ কর্মণঃ (নিরুক্ত ৯.১২)

এর অর্থ হল সংযোজক গুণ যুক্ত একটা বিশেষ প্রকারের ঊর্জাকে দুন্দুভি বলে। এর বিষয়ে সবিস্তারে জানতে হলে আমার গ্রন্থ "বেদার্থ-বিজ্ঞানম্" পঠনীয়। এর ছন্দ অনুষ্টুপ্ হওয়াতে সংযোজক ঊর্জা অনুকূলতাপূর্বক বিভিন্ন কণার পরস্পর সংযুক্ত হওয়াতে সহায়ক হয়। এর ছান্দস ও দৈবত প্রভাবে ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের রং-বেরংয়ের প্রকাশের উৎপত্তি বা সমৃদ্ধি হতে থাকে। এই মন্ত্রের ভাষ্য এইরকম হবে -

আধিদৈবিক ভাষ্য -
(বানস্পত্যঃ) [বনস্পতিঃ = অগ্নির্বৈ বনস্পতিঃ (কৌষীতকি ব্রাহ্মণ ১০.৬), প্রাণো বনস্পতিঃ (কৌষীতকি ব্রাহ্মণ ১২.৭), প্রাণো বৈ বনস্পতিঃ (ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ২.৪), সোমো বৈ বনস্পতিঃ (মৈত্রায়ণী সংহিতা ১.১০, শতপথ ব্রাহ্মণ ৩.৮.৩.৩৩)] অগ্নি এবং বায়ু থেকে উৎপন্ন দুন্দুভি সংজ্ঞক উপরোক্ত ঊর্জা (উস্রিয়াভিঃ) [উস্রিয়া = উস্রিয়া ইতি গোনাম (নিঘন্টু ২.১১)] বিভিন্ন প্রকারের রশ্মির দ্বারা (সম্ভৃতঃ) সঠিকভাবে ধারণ এবং পুষ্ট হওয়া (বিশ্বগোত্র্যঃ) [গোত্রঃ = মেঘনাথ (নিঘন্টু ১.১০)] সম্পূর্ণ খগোলীয় মেঘের মধ্যে বিদ্যমান (অমিত্রেভ্যঃ) শত্রুরূপী বাধক অথবা অসংযোজক পদার্থের দিকে (প্রত্রাসম্, বদ) [বদ = বদতি গতিকর্মা (নিঘন্টু ২.১৪)] তীব্র ভেদক তরঙ্গকে প্রক্ষিপ্ত করে। (আজ্যেন, অভিঘারিতঃ) [আজ্যম্ = প্রাণো বা আজ্যম্ (তৈত্তিরীয় সংহিতা ৩.৮.১৫.২৩), ছন্দাম্সি বা আজ্যম্ (তৈত্তিরীয় সংহিতা ৩.১.৫.৩)] এই উর্জা বিভিন্ন প্রাণ আর ছন্দ রশ্মির দ্বারা অভিসিঞ্চিত হয়।
.
ভাবার্থ - খগোলীয় মেঘের ভিতরে বিভিন্ন প্রাণ আর ছন্দ রশ্মি থেকে উৎপন্ন তীক্ষ্ম বিদ্যুৎ তরঙ্গ বিভিন্ন প্রকারের ছেদন, ভেদন আর সংযোজন ক্রিয়াগুলোকে সম্পন্ন করে, যারদ্বারা হানিকারক পদার্থ ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে দূরে সরে যায় আর সংযোগযোগ্য পদার্থ নির্বাধ রূপে সংযুক্ত হতে থাকে।
.
আধিভৌতিক ভাষ্য -
(বানস্পত্যঃ) [বনম্ = রশ্মিনাম (নিঘন্টু ১.৫)। এই পদ "বন শব্দে", "বন সম্ভক্তৌ" এবং "বনু য়াচনে" ধাতু দ্বারা ব্যুৎপন্ন হয়েছে। বনস্পতিরেব বানস্পত্যঃ] রাষ্ট্রের মধ্যে প্রজা দ্বারা বাঞ্ছিত অন্ন-ধনাদি পদার্থের উপযুক্ত বিতরণকারী, বিদ্যার প্রকাশ দ্বারা প্রকাশিত সত্যোপদেষ্টা রাজা (বিশ্বগোত্র্যঃ) রাষ্ট্রের প্রজার সকল কূলের মধ্যে নিজের হিতকারী কর্মের দ্বারা সর্বদা বিদ্যমান অর্থাৎ সমস্ত প্রজার হিতচিন্তক (উস্রিয়াভিঃ, সম্ভৃতঃ) গৌ আদি উপকারী পশুর দ্বারা তথা বিভিন্ন প্রকারের নিরাপদ কিরণ বা ঊর্জার দ্বারা রাষ্ট্রকে সম্যক রূপে ধারণকারী (অমিত্রেভ্যঃ, প্রত্রাসম্, বদ) রাষ্ট্রবিরোধী তত্ত্ব আর সমাজ বিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর দণ্ডের আদেশ দিবেন। (আজ্যেন, অভিঘারিতঃ) যেরকম ঘৃত দ্বারা সিঞ্চিত সমিধা জ্বলে নষ্ট হয়ে যায়, ঠিক সেইভাবে তেজস্বী রাজা হিংসক আর ক্রূর অপরাধীদের নষ্ট করে দিবেন।

ভাবার্থ - বেদবিদ্যার মহান জ্ঞাতা রাজা তাঁর প্রজার জন্য অন্ন-ধন আদি পদার্থের ন্যায়সঙ্গত বিতরণের ব্যবস্থা করবেন। সুখের ইচ্ছুক যেকোনো রাষ্ট্র গৌ আদি উপকারী পশুকে নিজের আর্থিক আধার বানিয়ে রাখবে আর একইভাবে সবথেকে নিরাপদ আর শুদ্ধ পেশীয় ঊর্জার ব্যবহার করবে। এর অতিরিক্ত সেই ঊর্জারই ব্যবহার করবে, যেটা সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ হবে। রাজা তাঁর প্রজার জন্য মাতা-পিতার সমান হিতকারী হওয়া উচিত, প্রজার জন্য যেটা ভয়ের কারণ হবে, তাকে নষ্ট করে দিবেন। সেই রাজা পরিবেশ শোধনার্থ গোঘৃত আদি উত্তম পদার্থ দিয়ে যজ্ঞ করবেন আর করাবেন এবং যেভাবে ঘৃতের আহুতির দ্বারা অগ্নি তেজস্বী হতে থাকে, সেইভাবে রাজাও ব্রহ্মচর্যাদি ব্রত আর য়োগাভ্যাস আদির দ্বারা তেজযুক্ত হবেন।

আধ্যাত্মিক ভাষ্য -
(বানস্পত্যঃ) প্রাণবিদ্যার জ্ঞাতা আর প্রাণকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম য়োগাভ্যাসী ((উস্রিয়াভিঃ, সম্ভৃতঃ) বেদের ঋচার দ্বারা স্বয়ংকে সম্যক রূপে পুষ্ট করেন আর তিনি নিরন্তর বেদের ঋচার মধ্যেই স্থির থাকেন। (বিশ্বগোত্র্যঃ) তিনি কোনো কূল বা বংশ বিশেষের না হয়ে প্রাণীমাত্রের হিতের মধ্যেই লেগে থাকেন। (অমিত্রেভ্যঃ, প্রত্রাসম্, বদ) সেই য়োগী য়োগসাধনার মধ্যে বাধক চিত্ত বৃত্তিকে নিজের অন্তশ্চেতনা দ্বারা প্রতিবন্ধিত করার আদেশ দেন অর্থাৎ মনের মধ্যে চলে আসা বিকারকে বলপূর্বক প্রতিবন্ধিত করার চেষ্টা করেন। (আজ্যেন, অভিঘারিতঃ) [আজ্যম্ = প্রাণো বা আজ্যম্ (তৈত্তিরীয় সংহিতা ৩.৮.১৫.২৩), য়জ্ঞো বা আজ্যম্ (তৈত্তিরীয় সংহিতা ৩.৩.৪.১)] এমন য়োগী নিজ প্রাণায়ামাদি তপের দ্বারা প্রাণ বলকে বাড়িয়ে পরব্রহ্ম পরমাত্মার সঙ্গে সঙ্গত হওয়ার চেষ্টা করার পাশাপাশি পরহিতের ভাবনায় স্বয়ংকে নিরন্তর সিঞ্চিত করেন অথবা তিনি যজ্ঞস্বরূপ পরব্রহ্ম পরমাত্মার প্রতি প্রীতি ভাবনায় স্বয়ংকে নিরন্তর সিঞ্চিত করতে থাকেন।

ভাবার্থ - প্রাণকে বশীভূত করেছেন এমন য়োগী সর্বদা বেদের ঋচার মধ্যে রমণ করেন। তিনি প্রাণীমাত্রের আত্মার মধ্যে নিরন্তর ঈশ্বরের বাস অনুভব করার সঙ্গে-সঙ্গে সর্বদা তাদের হিতচিন্তন করেন। তাঁর মনের মধ্যে যখনই কোনো বিকার উৎপন্ন হতে থাকে, তখনই তিনি নিজের মনকে আদেশ দিয়ে মন্দ বিচারকে বাইরে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। য়োগী ব্যক্তির আত্মবল খুব প্রবল হয়, কারণ তিনি সর্বদাই স্বয়ংকে ঈশ্বরাধীন অনুভব করেন।
Read More

অথর্ববেদ ৪/৩১/৭

30 July 0

অথর্ববেদ ৪/৩১/৭
সংসৃ॑ষ্টং॒ ধন॑মু॒ভয়ং॑ স॒মাকৃ॑তম॒স্মভ্যং॑ ধত্তাং॒ বরু॑ণশ্চ ম॒ন্যুঃ। 

ভিয়ো॒ দধা॑না॒ হৃদ॑য়েষু॒ শত্র॑বঃ॒ পরা॑জিতাসো॒ অপ॒ নি ল॑য়ন্তাম্ ॥ (অথর্ববেদ ৪.৩১.৭)

স্বররহিত মন্ত্র

সংসৃষ্টং ধনমুভয়ং সমাকৃতমস্মভ্যং ধত্তাং বরুণশ্চ মন্যুঃ। ভিয়ো দধানা হৃদয়েষু শত্রবঃ পরাজিতাসো অপ নি লয়ন্তাম্ ॥

স্বরসহ পদপাঠ

সম্ঽসৃ॑ষ্টম্ । ধন॑ম্ । উ॒ভয়॑ম্ । সম্ঽআকৃ॑তম্ । অ॒স্মভ্য॑ম্ । ধ॒ত্তা॒ম্ । বরু॑ণঃ । চ॒ । ম॒ন্যুঃ । ভিয়॑ঃ । দধা॑নাঃ । হৃদ॑য়েষু । শত্র॑বঃ । পরা॑জিতাসঃ । অপ॑ । নি । ল॒য়॒ন্তা॒ম্ ॥৩১.৭॥

স্বররহিত পদপাঠ

সম্ঽসৃষ্টম্ । ধনম্ । উভয়ম্ । সম্ঽআকৃতম্ । অস্মভ্যম্ । ধত্তাম্ । বরুণঃ । চ । মন্যুঃ । ভিয়ঃ । দধানাঃ । হৃদয়েষু । শত্রবঃ । পরাজিতাসঃ । অপ । নি । লয়ন্তাম্ ॥৩১.৭॥

এর ঋষি হল ব্রহ্মাস্কন্দ।[ব্রহ্মা = বলম্ বৈ ব্রহ্মা (তৈত্তিরীয় সংহিতা ৩.৮.৫.২)] এর অর্থ হল এই ছন্দ রশ্মির উৎপত্তি এমন কিছু বিশেষ ঋষি রশ্মির দ্বারা হয়, যা উপযোগী বলগুলোকে গতি প্রদান করে অর্থাৎ সেগুলোকে সমৃদ্ধ করে আর অনুপযোগী অথবা বাধক বলগুলোকে শোষিত করে নেয় অর্থাৎ সেগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এর দেবতা হল মন্যু আর ছন্দ হল জগতী। "মন্যু" বিষয়ে মহর্ষি য়াস্ক বলেছেন -

মন্যুঃ মন্যতের্দীপ্তিকর্মণঃ ক্রোধকর্মণো বধকর্মণো বা মন্যন্ত্যস্মাদিষবঃ (নিরুক্ত ১০.২৯)। এর অর্থ হল এই ছন্দ রশ্মির প্রভাবে অনিষ্ট এবং বাধক পদার্থকে ধ্বংসকারী রশ্মিগুলো আকাশের মধ্যে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত স্পন্দিত হতে থাকে আর সম্পূর্ণ পদার্থের মধ্যে উজ্জ্বল বর্ণের উৎপত্তি বা সমৃদ্ধি হতে থাকে। এর ভাষ্য এইরকম হবে -

আধিদৈবিক ভাষ্য -
(বরুণঃ, চ, মন্যুঃ) [বরুণঃ = স য়দগ্নির্ঘোরসম্স্পর্শস্তদস্য ( = অগ্নেঃ) বারুণম্ রূপম্ (ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ৩.৪), য়ঃ প্রাণঃ স বরুণঃ (গোপথ ব্রাহ্মণ উত্তরভাগ ৪.১১), অপানো বরুণঃ (শতপথ ব্রাহ্মণ ৮.৪.২.৬), ব্যানো বরুণঃ (শতপথ ব্রাহ্মণ ১২.৯.১.১৬)] এই ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে যেখানেই অতি তীক্ষ্ম অগ্নি বিদ্যমান আছে, সেখানে প্রাণ, অপান এবং ব্যানের ত্রিক সূক্ষ্ম বাধক পদার্থকে নষ্ট করার জন্য তেজস্বী হয়ে ওঠে, এই ত্রিক পদার্থকে সংকুচিত আর ঘনীভূতও করে। (সম্সৃষ্টম্, সমাকৃতম্, উভয়ম্, ধনম্) দুই প্রকারের অর্থাৎ ভালোভাবে মিশ্রিত সূক্ষ্ম পদার্থ এবং ভালো করে আকার প্রাপ্ত করা পদার্থ অর্থাৎ মূর্ত আর অমূর্ত উভয় প্রকারের পদার্থের দ্বারা (অস্মভ্যম্, ধত্তাম্) এই ছন্দ রশ্মির কারণরূপ ঋষি রশ্মিগুলোকে ধারণ করে রাখে।

(পরাজিতাসঃ) যেসব বাধক ও অনিষ্ট পদার্থকে এই ত্রিক রূপ রশ্মি সমূহ পরাজিত করে রেখেছে, সেগুলোর (হৃদয়েষু) [হৃদয়ম্ = আত্মা বৈ মনো হৃদয়ম্ (শতপথ ব্রাহ্মণ ৩.৮.৩.৮), হৃদয়ম্ বৈ স্তোমভাগাঃ (শতপথ ব্রাহ্মণ ৮.৬.২.১৫)] ভিতরে বিদ্যমান সূত্রাত্মা বায়ু এবং অন্য রশ্মির মধ্যে (ভিয়ঃ, দধানাঃ) অনেক প্রকারের তীব্র কম্পনকে উৎপন্ন করে দেয়, যারফলে (শত্রবঃ, অপ, নি, লয়ন্তাম্) সেই বাধক বা হিংসক পদার্থ খণ্ড-খণ্ড হয়ে সুদূর আকাশের মধ্যে লীন হয়ে যায় অর্থাৎ সূক্ষ্ম ভাগে পরিণত হয়ে অশক্তরূপে আকাশ তত্ত্বের মধ্যে বিলীন হয়ে যায়।

ভাবার্থ - এই ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে যেখানেই তীব্র উষ্মা বিদ্যমান আছে, সেখানে সমস্ত বাধক আর অনিষ্ট পদার্থ ছিন্ন-ভিন্ন বা নষ্ট হয়ে যায়। সেইসব ছিন্ন-ভিন্ন পদার্থ আকাশ তত্ত্বের মধ্যে বিলীন হয়ে যায়। সূক্ষ্ম পদার্থের পরস্পর সংযোজনও উচ্চ তাপযুক্ত অবস্থার মধ্যেই হয়।

আধিভৌতিক ভাষ্য -
(বরুণঃ, চ, মন্যুঃ) বিদ্বান সজ্জনদের দ্বারা বরণীয়, দুষ্ট জনদের বাঁধনকারী এবং অপরাধীদের উপরে ক্রোধ করে এমন শ্রেষ্ঠ রাজা (সম্সৃষ্টম্) রাষ্ট্রের মধ্যে উৎপন্ন অন্নাদি ভোজ্য পদার্থ এবং খনিজ আদি বিভিন্ন প্রকারের পদার্থ (সমাকৃতম্) প্রজার থেকে সংগৃহীত করা কর (উভয়ম্, ধনম্) এই দুই প্রকারের ধনকে (অস্মভ্যম্, ধত্তাম্) আমাদের প্রজাজনকে সমুচিত রূপে প্রদান করবেন। (পরাজিতাসঃ, শত্রবঃ) তিনি পরাজিত হওয়া দুষ্ট শত্রুর (হৃদয়েষু, ভিয়ঃ, দধানাঃ) হৃদয়ে ভয় উৎপন্ন করেন, যারফলে (অপ, নি, লয়ন্তাম্) সেই শত্রুরা দূরে পালিয়ে যায়, পুনরায় কখনও ফিরে আসে না অথবা তারা শত্রুতার ব্যবহারকেই সর্বথা ত্যাগ করে দেয়।

ভাবার্থ - যেকোনো রাষ্ট্রের রাজা বিদ্বান সদাচারিদের দ্বারাই চয়ন করা উচিত। এমন রাজার কর্তব্য হল তিনি রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ সম্পত্তির বাস্তবিক স্বামিনী প্রজাকেই ভাববেন আর সেটা প্রজার কল্যাণের জন্যই ব্যয় করবেন। সেই রাজা অপরাধী এবং রাষ্ট্র ও সমাজ বিরোধী তত্ত্ব এবং বিদেশী শত্রুকে যথাপরাধ কঠিন দণ্ড দিবেন, যাতে তারা রাষ্ট্রের কোনো হানি না ঘটাতে পারে।

আধ্যাত্মিক ভাষ্য -
(বরুণঃ, চ, মন্যুঃ) সবার বরণীয় সর্বোৎকৃষ্ট মন্যুরূপ পরমেশ্বর (সম্সৃষ্টম্) আমাদের ক্রিয়মাণ কর্ম (সমাকৃতম্) এবং সঞ্চিত কর্ম (উভয়ম্, ধনম্, অস্মভ্যম্, ধত্তাম্) উভয়ের অনুসারে আমাদেরকে সাংসারিক পদার্থ আর বুদ্ধি আদি ইন্দ্রিয় প্রদান করেন। (হৃদয়েষু, ভিয়ঃ, দধানাঃ) সেই পরমেশ্বর বিভিন্ন প্রকারের পাপ কর্মের প্রতি পবিত্র হৃদয় যুক্ত মানুষের হৃদয়ে ভয়, লজ্জা, শঙ্কা আদি উৎপন্ন করেন, (পরাজিতাসঃ, শত্রবঃ) যারদ্বারা বিভিন্ন প্রকারের পাপরূপ শত্রু পরাজিত হয়ে (অপ, নি, লয়ন্তাম্) দূরে চলে যায়।

ভাবার্থ - এই সৃষ্টির মধ্যে পরমেশ্বরের থেকে অধিক কোনো শ্রেষ্ঠ আর উপাস্য সত্তা নেই। সেই ঈশ্বর তাঁর ন্যায়ানুসারে আমাদের এই জন্ম তথা পূর্ব জন্মে করা কর্মের অনুসারে ফল প্রদান করেন। যে সকল মানুষের অন্তঃকরণ পবিত্র আর শান্ত হয়, তাদের হৃদয়ে পরমাত্মা যেকোনো অনুচিত কর্ম করতে ইচ্ছা করার সময় ভয়, লজ্জা আর শঙ্কা উৎপন্ন করেন, যারফলে তারা পাপ কর্ম করার থেকে বেঁচে যায়। যদিও এই ভয়, লজ্জা আর শঙ্কা সকল মানুষের হৃদয়ে উৎপন্ন হয়, কিন্তু অবিদ্যাদি দোষে গ্রস্থ দুরাত্মা এবং অশান্তাত্মা সেটা অনুভব করতে পারে না। এই কারণে আমি এখানে পবিত্র অন্তঃকরণকারীর মধ্যে ভয়, লজ্জা, শঙ্কা আদি হওয়া বলেছি। এই কারণে প্রত্যেক মানুষের উচিত যে তারা বিদ্যার অভ্যাসের পাশাপাশি উপাসনার দ্বারা নিজ অন্তঃকরণকে পবিত্র আর শান্ত রাখার চেষ্টা নিরন্তর করতে থাকবেন, যাতে পরমেশ্বরের প্রেরণার দ্বারা তাদের কর্তব্যাকর্তব্যের সঠিক বোধ হতে থাকে। (আচার্য অগ্নিব্রত নৈষ্ঠিক)
Read More

ঋগ্বেদ ১/৬৬/৭-৮

30 July 0

ঋগ্বেদ ১/৬৬/৭, ঋগ্বেদ ১/৬৬/৮
ঋষিঃ—পরাশরঃ শাক্তঃ। দেবতা—অগ্নিঃ। ছন্দঃ—দ্বিপদা বিরাট্।

সেনে॑ব সৃ॒ষ্টামং॑ দধা॒ত্যস্তু॒র্ন দি॒দ্যুত্ত্বে॒ষপ্র॑তীকা ॥৭॥

য॒মো হ॑ জা॒তো য॒মো জনি॑ত্বং জা॒রঃ ক॒নীনাং॒ পতি॒র্জনী॑নাম্ ॥৮॥ (ঋগ্বেদ ১.৬৬.৭-৮)

স্বরসহ পদপাঠ

সেনা॑ऽইব । সৃ॒ষ্টা । অম॑ম্ । দ॒ধা॒তি॒ । অস্তুঃ॑ । ন । দি॒দ্যুত্ । ত্বে॒ষऽপ্র॑তীকা ॥ য॒মঃ । হ॒ । জা॒তঃ । য॒মঃ । জনি॑ऽত্বম্ । জা॒রঃ । ক॒নীনা॑ম্ । পতিঃ॑ । জনী॑নাম্ ॥

সন্ধিবিচ্ছেদসহ অন্বয়ঃ

হে মনুষ্যাঃ! ইউয়ং যঃ অয়ং সেনেশঃ {যমঃ} {হ} জাতঃ যমঃ জনিত্বং কনীনাং জার ইব জনীনাং পতিঃ চ অস্তি, স সৃষ্টা {অমম্} সেনেব {সুশিক্ষিতা} অস্তুঃ ত্বেষপ্রতীকা দিদ্যুত্ ন ইব আ দধাতি তং ভজত ॥৮॥


আধিদৈবিক ব্যাখ্যা (নিরুক্তের অনুসারে) হল এইরকম -

এই ঋচার ঋষি হল পরাশর। এর অর্থ হল এই ছন্দ রশ্মির উৎপত্তি হিংসক পদার্থের নাশক বজ্র রশ্মি থেকে হয়েছে। এর দেবতা অগ্নি তথা ছন্দ বিরাট্ পঙক্তি হওয়াতে এর দৈবত ও ছান্দস প্রভাবে বিভিন্ন রূপ যুক্ত নীলবর্ণের উৎপত্তি ও সমৃদ্ধি হয়।

আধিদৈবিক ভাষ্য -
(সেনা, ইব, সৃষ্টা, অমম্, দধাতি, অস্তুঃ, ন, দিদ্যুত্, ত্বেষ, প্রতীকা) "সেনেব সৃষ্টা ভয়ম্ বা বলম্ বা দধাতি অস্তুরিব দিদ্যুত্ত্বেষপ্রতীকা ভয় প্রতীকা বলপ্রতীকা য়শঃপ্রতীকাঃ মহাপ্রতীকা দীপ্তপ্রতীকা বা" সেই য়মরূপ বিদ্যুৎ অগ্নি প্রেরিত করা সেনার সমান বিভিন্ন বাধক পদার্থকে আতঙ্কিত অর্থাৎ কম্পিত করে। এর অর্থ হল যেভাবে যুদ্ধের জন্য প্রেরিত সেনা শত্রুকে আতঙ্কিত করে, সেইরূপ তীব্র অগ্নি সেই বাধক বা হিংসক পদার্থকে কম্পায়মান করে দেয়। একইসঙ্গে যেভাবে কোনো রাজার সুদৃঢ় সেনা সেই রাজা বা রাষ্ট্রকে বল প্রদান করে, সেইরূপ অগ্নিতত্ত্ব বিভিন্ন সংযোগযোগ্য কণাকে উপযুক্ত বল প্রদান করে। এখানে উপমাবাচী "ইব" পদকে নিরর্থক ধরে নিলে অর্থ এইরকম হবে -

অগ্নির তীক্ষ্ম কিরণের সেনা অর্থাৎ সমান গতি আর বল দ্বারা গমনকারী তীক্ষ্ম কিরণ উৎপন্ন হওয়া মাত্রই বাধক এবং হিংসক পদার্থের মধ্যে তীব্র কম্পন করাতে থাকে। সেইসব তীব্র কিরণ সংযোগযোগ্য কণাকে য়জন কর্ম করার জন্য উপযুক্ত বলও প্রদান করে। সেইসব কিরণ প্রক্ষেপক বল [বিদ্যুৎ = বিচ্ছেদিকা (মহর্ষি দয়ানন্দ ভাষ্য)] যুক্ত পদার্থের সমান বিভিন্ন কণাকে বিখণ্ডনকারী হয়। সেগুলো দীপ্তি দেখাতে, কম্পন করাতে, বলকে উৎপন্ন করতে, তেজকে উৎপন্ন করতে, ব্যাপক রূপে দৃশ্যমান আর সবকিছুকে প্রকাশিত করে। এইসব গুণ তীব্র ঊর্জা যুক্ত তরঙ্গের বলা হয়েছে।

(য়মঃ, হ, জাতঃ, য়মঃ, জনিত্বম্, জারঃ, কনীনাম্, পতিঃ, জনীনাম্) "য়ম ইব জাতঃ য়মো জনিষ্যমাণঃ জারঃ কনীনাম্ জরয়িতা কন্যানাম্ পতির্জনীনাম্ পালয়িতা জায়ানাম্ তৎপ্রধানা হি য়জ্ঞসম্য়োগেন ভবন্তি" সবার নিয়ন্ত্রক সেই অগ্নি নিশ্চিত রূপে বায়ুতত্ত্ব থেকে উৎপন্ন হয়। এর উৎপত্তি পূর্ব খণ্ডের মধ্যে বর্ণিত ইন্দ্র রূপ য়মের সমানই হয় অথবা য়মরূপ বায়ু থেকেই এর উৎপত্তি হয়। সৃষ্টির সব কণা আদি পদার্থ য়মরূপ অগ্নি থেকেই উৎপন্ন হয় আর নিরন্তর এইভাবে উৎপন্ন হতে থাকবে। এই অগ্নিতত্ত্ব কন্যা অর্থাৎ আকর্ষণ আর দীপ্তিযুক্ত তরঙ্গ, যার বিষয়ে নিরুক্ত খণ্ড ৪.১৫ পঠনীয়, তাকে জীর্ণ করে। এখানে আকর্ষণ এবং দীপ্তিযুক্ত কিরণের তাৎপর্য হল সেই সূক্ষ্ম কণা, যেগুলো কণার সঙ্গে তরঙ্গ রূপ ব্যবহারও করে। এইরকম কণাকে বর্তমান ভৌতিকীতে মূল কণা বলা হয়। অগ্নি কিভাবে এগুলোকে জীর্ণ করে, এই প্রশ্ন গম্ভীর্তাপূর্ণ বিচারণীয়।

এখানে জীর্ণের অর্থ পুরোনো মানা উচিত নয়, বরং এর অর্থ দীপ্তিযুক্ত মানা উচিত। এই পদ "জৄ বয়োহানৌ" ধাতু দ্বারা ব্যুৎপন্ন হয়েছে। মন্ত্রের মধ্যে "জারঃ" পদ আছে, সেটাও এই ধাতু দিয়ে ব্যুৎপন্ন হয়েছে। এই পদের অর্থ করতে "জীর্ণঃ" পদ ব্যবহৃত হয়েছে। গ্রন্থকার এই ধাতুকে স্তুতিকর্মা বলেছেন। (দেখুন - খণ্ড ১০.৮) এই কারণে জারঃ পদের অর্থ প্রকাশক হবে, কোনো পদার্থের আয়ুকে হ্রাসকারী হবে না। এটা সর্ববিদিত যে অগ্নিই সব পদার্থের প্রকাশক হয়, এইজন্য একে এখানে কমনীয় তরঙ্গের প্রকাশক বলা হয়েছে। এই সৃষ্টির মধ্যে যেসব পদার্থ প্রকাশযুক্ত হয়, অগ্নিই হল তার কারণ। একে জনী অর্থাৎ উৎপন্ন পদার্থের পতিও বলা হয়েছে। এর কারণ হল পৃথিবী এবং আপঃ আদি পদার্থের পালক এবং রক্ষকই হল অগ্নি।

একথা সাধারণ যে বিনা অগ্নি অর্থাৎ ঊর্জা ছাড়া বর্তমান ভৌতিকীর মধ্যে তথাকথিত যেকোনো দ্রব্য পদার্থের অস্তিত্ব সম্ভব নয়। ঊর্জা থেকেই এইসব পদার্থের উৎপত্তি হয় আর এর কারণেই যেকোনো কণা আদি পদার্থের অস্তিত্বের রক্ষাও হয়। এখানে গ্রন্থকার "জনী"-র অর্থ "জায়া" করেছেন। এর অর্থ হল অগ্নি আপঃ এবং পৃথিব্যাদি কণার সাপেক্ষ পুরুষরূপ ব্যবহার করে, এই কারণে সেটা স্ত্রীরূপ আপঃ এবং পৃথিব্যাদি কণার পালক আর সংরক্ষক হয়। এর কারণ হল অগ্নি ছাড়া এই দুই পদার্থের না কেবল অস্তিত্ব অসম্ভব হবে, বরং সেগুলো থেকে যেকোনো প্রকারের পদার্থের উৎপত্তিও অসম্ভব হবে।

এখানে "তৎপ্রধানা হি য়জ্ঞসম্য়োগেন ভবন্তি" কথনের তাৎপর্য হল স্ত্রীরূপ কণা আদি পদার্থ য়জন কর্মের দ্বারাই অগ্নি প্রধান হয়। আমার মতে এখানে গ্রন্থকারের অভিপ্রায় হল স্ত্রী সংজ্ঞক পদার্থ যখন য়জনশীল হয়, সেই সময় সেগুলো বিশেষ ঊর্জাযুক্ত হয় অর্থাৎ দুটো কণার সংযোগের সময় অকস্মাৎ সেই কণাগুলোর ঊর্জা বা গতি বিশেষ ভাবে বেড়ে যায়, এখানে একেই স্ত্রীরূপ কণার অগ্নি প্রধান হওয়া বলা হয়েছে।

ঋষি দয়ানন্দের আধিভৌতিক ভাষ্য-


পদার্থ - (সেনেব) য়থা সুশিক্ষিতা বীরপুরুষাণাম্ বিজয়কর্ত্রী সেনাস্তি তথাভূতঃ (সৃষ্টা) য়ুদ্ধায় প্রেরিতা (অমম্) অপরিপক্ববিজ্ঞানম্ জনম্ (দধাতি) ধরতি (অস্তুঃ) শত্রূণাম্ বিজেতুঃ প্রক্ষেপ্তঃ (ন) ইব (দিদ্যুত্) বিচ্ছেদিকা (য়মঃ) নিয়ন্তা (হ) কিল (জাতঃ) প্রকটত্বম্ গতঃ (য়মঃ) সর্বোপরতঃ (জনিত্বম্) জন্মাদিকারণম্ (জারঃ) হন্তা সূর্য়্যঃ (কনীনাম্) কন্যেব বর্ত্তমানানাম্ রাত্রীণাম্ সূর্য়্যাদীনাম্ বা (পতিঃ) পালয়িতা (জনীনাম্) জনানাম্ প্রজানাম্।

ভাবার্থঃ - অত্রোপমালঙ্কারঃ। মনুষ্যৈর্বিদ্যয়া সম্যক্ প্রয়ত্নেন য়থা সুশিক্ষিতা সেনা শত্রূন্ বিজিত্য বিজয়ম্ করোতি। য়থা চ ধনুর্বেদবিদঃ শত্রূণামুপরি শস্ত্রাস্ত্রাণি প্রক্ষিপ্যৈতান্বিচ্ছিদ্য প্রলয়ম্ গময়ন্তি তথৈবোত্তমঃ সেনাऽধিপতিঃ সর্বদুঃখানি নাশয়তীতি বোদ্ধব্যম্।

পদার্থ - হে মানব! তোমরা যে সেনাপতি (য়মঃ) নিয়ম কর্তা (জাতঃ) প্রকট (য়মঃ) সর্বথা নিয়মকর্তা (জনিত্বম্) জন্মাদি কারণযুক্ত (কনীনাম্) কন্যাবৎ বর্তমান রাত্রির (জারঃ) আয়ুর হননকর্তা সূর্যের সমান (জনীনাম্) উৎপন্ন হওয়া প্রজার (পতিঃ) পালনকর্তা (সৃষ্টা) প্রেরিত (সেনেব) শুভ শিক্ষাপ্রাপ্ত হওয়া বীর পুরুষের বিজয়কারী সেনার সমান (অস্তুঃ) শত্রুর উপর অস্ত্র-শস্ত্র প্রহারকারী (ত্বেষপ্রতীকা) দীপ্তির প্রতীতিকারী (দিদ্যুন্ন) বিদ্যুতের সমান (অমম্) অপরিপক্ব বিজ্ঞানযুক্ত জনকে (দধাতি) ধারণ করে, তার সেবন করো।

ভাবার্থ - এই মন্ত্রের মধ্যে উপমালঙ্কার আছে। মানুষের উচিত বিদ্যার মাধ্যমে ভালো ভাবে চেষ্টার দ্বারা যেভাবে উত্তম শিক্ষার দ্বারা সিদ্ধ করা সেনা শত্রুকে জিতে বিজয় করে, যেমন ধনুর্বেদের জ্ঞাতা বিদ্বানগণ শত্রুর উপর অস্ত্র-শস্ত্র প্রহার করে তাদের ছেদন করে তাড়িয়ে দেয়, সেইরূপ উত্তম সেনাপতি সব দুঃখের নাশ করেন, এটা তোমরা জেনে রাখবে।

আধ্যাত্মিক ভাষ্য - (সৃষ্টা, ত্বেষপ্রতীকা, সেনা, ইব) [ত্বেষপ্রতীকা = ভয়প্রতীকা বলপ্রতীকা য়শঃপ্রতীকা মহাপ্রতীকা দীপ্তপ্রতীকা (নিরুক্ত ১০.২১)] কুশলতা-পূর্বক সুসজ্জিত বল, ভয় আর তেজস্বিতার প্রতীক সেনার সমান (য়মঃ, হ, জাতঃ) জিতেন্দ্রিয়তা আদি গুণ দ্বারা প্রসিদ্ধ বিদ্বান (অমম্, দধাতি) [অমঃ = গৃহম্ (মহর্ষি দয়ানন্দ ঋগ্বেদ ভাষ্য ৫.৫৬.৩), অমম্ ভয়ম্ বলম্ বা (নিরুক্ত ১০.২১), অমা গৃহনাম (নিঘন্টু ৩.৪)] সবার আশ্রয়দাতা এবং সমস্ত বলের দাতা পরমাত্মাকে ধারণ করেন। (অস্তুঃ, ন, দিদ্যুত্) [অস্তুঃ = শত্রুনাম বিজেতুঃ প্রক্ষেপ্তুঃ (ঋষি দয়ানন্দ ভাষ্য)] সেই য়োগনিষ্ঠ বিদ্বান শত্রুর উপর বিজয়প্রাপ্ত করা সেনার সমান নিজের সব দোষকে কেটে ফেলেন। (য়মঃ, জনিত্বম্, জারঃ) সেই নিয়তাত্মা য়োগী নিজের জন্ম-মরণের কারণরূপ অবিবেককে নিজ সাধনার দ্বারা নিরন্তর জীর্ণ করতে থাকেন। (কনীনাম্, জনীনাম্, পতিঃ) [কনীনঃ = কনী দীপ্তিকান্তিগতিষু (ভ্বা.) ধাতোর্বাহু. ঈনপ্রত্যয়ঃ (বৈদিক-কোষ)] সেই য়োগী ব্রহ্মতেজ পান করে মানবমাত্রকে নিজের সদুপদেশের দ্বারা সংরক্ষণ করেন।

ভাবার্থ - যেভাবে শত্রুকে নিজ বল আর তেজস্বিতার দ্বারা আতঙ্কিত করে এমন সেনা শত্রুকে দূরে তাড়িয়ে দেয়, সেইরূপ য়োগনিষ্ঠ বিদ্বান নিজের সব দোষ আর পূর্বজন্মের সংস্কারকে দগ্ধবীজ করতে সক্ষম হন। এইরূপ সক্ষম সেই য়োগী পরব্রহ্ম পরমাত্মার জ্ঞান আর আনন্দকে ধারণ করে পরমলোককে প্রাপ্ত করেন। এমন য়োগী পুরুষ নিজ সদুপদেশের দ্বারা নিরন্তর সকল প্রাণীর উপকারেও সংলগ্ন থাকেন। পরোপকার বিনা কোনো ব্যক্তিই য়োগী হতে পারবেন না। যারা সমাজ থেকে দান বা ভিক্ষা আদি প্রাপ্ত করে নিজের জীবনযাপন করেন, তারা সমাজের ঋণী হন আর সেই ঋণকে শোধ না করে যদি কেউ কেবল আত্মকল্যাণ হেতু সর্বদা য়োগসাধনাই করতে থাকেন, তার য়োগ কখনও সিদ্ধ হবে না। এইজন্য মুমুক্ষুজনদের উচিত সমাজের ঋণ থেকে উঋণ হওয়ার জন্য তারা নিরন্তর নিজের সদুপদেশের দ্বারা প্রাণীমাত্রের কল্যাণ করার চেষ্টা করতে থাকবেন।
Read More

ঋগ্বেদ ১/১০৩/৬

30 July 0

ঋগ্বেদ ১/১০৩/৬
ঋষিঃ—কুৎস আঙ্গিরসঃ। দেবতা—ইন্দ্রঃ। ছন্দঃ—নিচৃত্ ত্রিষ্টুপ্। স্বরঃ—ধৈবতঃ।

ভূরি॑কর্মণে বৃষ॒ভায়॒ বৃষ্ণে॑ স॒ত্যশু॑ষ্মায় সুনবাম॒ সোম॑ম্। 

য আ॒দৃত্যা॑ পরিপ॒ন্থীৱ॒ শূরোऽয॑জ্বনো বি॒ভজ॒ন্নেতি॒ বেদ॑ঃ ॥ (ঋগ্বেদ ১.১০৩.৬)

স্বর রহিত মন্ত্রঃ

ভূরিকর্মণে বৃষভায় বৃষ্ণে সত্যশুষ্মায় সুনবাম। সোমম্। য় আদৃত্যা পরিপন্থীব শূরোऽয়জ্বনো বিভজন্নেতি বেদঃ।। 

স্বরসহ পদপাঠ

ভূরি॑ऽকর্মণে । বৃ॒ষ॒ভায়॑ । বৃশ্ণে॑ । স॒ত্যऽশু॑ষ্মায় । সু॒ন॒বা॒ম॒ । সোম॑ম্ । যঃ । আ॒ऽদৃত্য॑ । পরি॒ऽপ॒ন্থীऽই॑ব । শূরঃ॑ । অয॑জ্বনঃ । বি॒ऽভজ॑ন্ । এতি॑ । বেদঃ॑ ॥

স্বররহিত পদপাঠ

ভূরিऽকর্মণে। বৃষভায়। বৃষ্ণে। সত্যऽশুষ্মায়। সুনবাম। সোমম্। যঃ। আऽদৃত্য। পরিঽপন্থীऽইব। শূরঃ। অযজ্বনঃ। বিঽভজন্। এতি। বেদঃ ॥ ১.১০৩.৬ ॥

মহর্ষিকৃত পদার্তভাষ্যঃ

পদার্থ - (ভূরিকর্মণে) বহুকর্মকারিণে (বৃষভায়) শ্রেষ্ঠায় (বৃষ্ণে) সুখপ্রাপকায় (সত্যশুষ্মায়) নিত্যবলায় (সুনবাম) নিষ্পাদয়েম (সোমম্) ঐশ্বর্য়্যসমূহম্ (য়ঃ) (আদৃত্য) আদরম্ কৃত্বা (পরিপন্থীব) য়থা দস্যুস্তথা চৌরাণাম্ প্রাণপদার্থহর্ত্তা (শূরঃ) নির্ভয়ঃ (অয়জ্বনঃ) য়জ্ঞবিরোধিনঃ (বিভজন্) বিভাগম্ কুর্বন্ (এতি) প্রাপ্নোতি (বেদঃ) ধনম্।

ভাবার্থ - অত্রোপমালঙ্কারঃ। মনুষ্যৈর্য়ো দস্যুবৎ প্রগল্ভঃ সাহসী সন্ চৌরাণাম্ সর্বস্বম্ হৃত্বা সৎকর্মণামাদরম্ বিধায় পুরুষার্থী বলবানুত্তমো বর্ত্ততে, স এব সেনাপতিঃ কার্য়্যঃ।

পদার্থ - আমরা (য়ঃ) যিনি (শূরঃ) নির্ভীক পরাক্রমশালী পুরুষ (আদৃত্য) আদর সৎকার করে (পরিপন্থীব) যেমন সব প্রকারে মার্গে চলা ডাকু অন্যের ধন আদি সর্বস্ব হরণ করে নেয়, সেই রকম চোরের প্রাণ আর তাদের পদার্থকে ছিনিয়ে নিবেন সেই (বিভজন্) বিভাগ অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ আর দুষ্ট পুরুষদের পৃথক-পৃথক করে তাদের মধ্যে (অয়জ্বনঃ) যারা যজ্ঞ করে না তাদের (বেদঃ) ধনকে (এতি) ছিনিয়ে নেন, সেই (ভূরিকর্মণে) ভারী কর্মকারী (বৃষভায়) শ্রেষ্ঠ (বৃষ্ণে) সুখদায়ক (সত্যশুষ্মায়) নিত্য বলী সেনাপতির জন্য যেমন (সোমম্) ঐশ্বর্য়্য সমূহকে (সুনবাম) উৎপন্ন করে, সেইরকম তুমিও করবে।

ভাবার্থ - এই মন্ত্রের মধ্যে উপমালঙ্কার আছে। মানুষের উচিত যে যিনি ডাকু আদির মতো এমন ধৃষ্ট হবেন আর সাহস করে চোরের ধন আদি পদার্থকে হরণ করে সজ্জনদের আদর করে পুরুষার্থী বলবান উত্তম হতে উত্তম হবেন, তাকেই সেনাপতি করবে।

সন্ধিবিচ্ছেদসহ অন্বয়ঃ (ড০ কৃষ্ণকান্ত বৈদিক)

বয়ং যঃ শূরঃ আদৃত্য পরিপন্থী ইব বিভজন্ অযজ্বনঃ বেদঃ এতি তস্মৈ ভূরিকর্মণে বৃষভায় বৃষ্ণে সত্যশুষ্মায় ইন্দ্রায় সেনাপতয়ে যথা সোমং সুনবাম তথা ইউয়ম্ অপি সুনুত ॥৬॥

পদার্থ

(বয়ম্)=আমরা, (যঃ)=যিনি, (শূরঃ) নির্ভয়ঃ=নির্ভয়, (আদৃত্য) আদরং কৃত্বা=আদর করে, (পরিপন্থীব) যথা দস্যুস্তথা চৌরাণাং প্রাণপদার্থহর্ত্তা=দস্যু ও চোরদের ন্যায় প্রাণনাশকারী এবং পদার্থ চুরি করে এমন ব্যক্তির, (ইব)=ন্যায়, (বিভজন্) বিভাগং কুর্বন্=পৃথক্ পৃথক্ ভাগ করতে করতে, (অযজ্বনঃ) যজ্ঞবিরোধিনঃ=যজ্ঞের বিরোধীদের, (বেদঃ) ধনম্=ধন, (এতি) প্রাপ্নোতি=প্রাপ্ত হয়, (তস্মৈ)=তাঁর জন্য, (ভূরিকর্মণে) বহুকর্মকারিণে=বহু কর্মসম্পাদনকারী, (বৃষভায়) শ্রেষ্ঠায়=শ্রেষ্ঠদের জন্য, (বৃষ্ণে) সুখপ্রাপকায়=সুখপ্রদানকারী, (সত্যশুষ্মায়) নিত্যবলায়=চিরস্থায়ী বলসম্পন্ন, (ইন্দ্রায়) সেনাপতয়ে=সেনাপতির জন্য, (যথা)=যেরূপে, (সোমম্) ঐশ্বর্যসমূহম্=ঐশ্বর্যের সমূহকে, (সুনবাম) নিষ্পাদয়েম=সম্পাদন করি, (তথা)=সেইরূপে, (ইউয়ম্)=তোমরা সকলেই, (অপি)=এছাড়াও, (সুনুত)=সম্পাদন কর। ॥৬॥

পদার্থান্বয়ঃ (ম.দ.স.)

(বয়ম্) আমরা, (যঃ) যিনি, (শূরঃ) নির্ভয়, [তাঁর] (আদৃত্য) আদর করে, (পরিপন্থীব) দস্যু ও চোরদের ন্যায় প্রাণনাশকারী এবং পদার্থ চুরি করে এমন ব্যক্তির (ইব) ন্যায়, (বিভজন্) পৃথক্ পৃথক্ ভাগ করতে করতে, (অযজ্বনঃ) যজ্ঞের বিরোধীদের, (বেদঃ) ধন, (এতি) প্রাপ্ত হয়। (তস্মৈ) তাঁর জন্য, (ভূরিকর্মণে) বহু কর্মসম্পাদনকারী, (বৃষভায়) শ্রেষ্ঠদের জন্য, (বৃষ্ণে) সুখপ্রদানকারী, (সত্যশুষ্মায়) চিরস্থায়ী বলসম্পন্ন এবং (ইন্দ্রায়) সেনাপতির জন্য, (যথা) যেরূপে, (সোমম্) ঐশ্বর্যের সমূহকে, (সুনবাম) সম্পাদন করি, (তথা) সেইরূপে, (ইউয়ম্) তোমরা সকলেই, (অপি) এছাড়াও, (সুনুত) সম্পাদন কর। ॥৬॥


Read More

ঋগ্বেদ ১/৯৩/৪

30 July 0

ঋগ্বেদ ১/৯৩/৪
ঋষি | দেবতা | ছন্দ | স্বর

গোতম রহূগণপুত্র ঋষিঃ ॥ অগ্নীষোমৌ দেবতে ॥ ছন্দঃ—১ অনুষ্টুপ্। ২ বিরাড্ অনুষ্টুপ্। ৩ ভুরিগুষ্ণিক্। ৪ স্বরাট্ পঙ্ক্তিঃ। ৫, ৭ নিচৃত্ ত্রিষ্টুপ্। ৬ বিরাট্ ত্রিষ্টুপ্। ৮ স্বরাট্ ত্রিষ্টুপ্। ১২ ত্রিষ্টুপ্। ৯, ১০, ১১ গায়ত্রী ॥

অগ্নী॑ষোমা॒ চেতি॒ তদ্বী॒র্যং॑ বাং॒ যদমু॑ষ্ণীতমব॒সং প॒ণিং গাঃ। 

অৱা॑তিরতং॒ বৃস॑য়স্য॒ শেষোऽবি॑ন্দতং॒ জ্যোতি॒রেকং॑ ব॒হুভ্য॑ঃ ॥ (ঋগ্বেদ ১.৯৩.৪)

স্বররহিত মন্ত্র

অগ্নীষোমা চেতি তদ্বীর্য়ম্ বাম্ য়দমুষ্ণীতমবসম্ পণিম্ গাঃ। অবাতিরতম্ বৃসয়স্য শেষোऽবিন্দতঞ্জ্যোতিরেকম্ বহুভ্যঃ।। 

স্বরসহ পদপাঠ

অগ্নী॑ষোমা । চেতি॑ । তৎ । বী॒র্য॑ম্ । বাম্ । যৎ । অমু॑ষ্ণীতম্ । অৱসম্ । প॒ণিম্ । গাঃ । অৱ॑ । অতি॒র॒তম্ । বৃস॑য়স্য । শেষঃ॑ । অৱি॑ন্দতম্ । জ্যোতিঃ॑ । এক॑ম্ । বহুऽভ্যঃ॑ ॥

স্বররহিত পদপাঠ

অগ্নীষোমা। চেতি। তৎ। বীর্যম্। বাম্। যৎ। অমুষ্ণীতম্। অৱসম্। পণিম্। গাঃ। অৱ। অতিরতম্। বৃসয়স্য। শেষঃ। অৱিন্দতম্। জ্যোতিঃ। একম্। বহুऽভ্যঃ ॥


পদার্থ - (অগ্নীষোমা) বায়ুবিদ্যুতৌ (চেতি) বিজ্ঞাতম্ প্রখ্যাতমস্তি (তত্) (বীর্য়ম্) পৃথিব্যাদিলোকানাম্ বলম্ (বাম্) য়য়োঃ (য়ত্) (অমুষ্ণীতম্) চোরবদ্ধরতম্ (অবসম্) রক্ষণাদিকম্ (পণিম্) ব্যবহারম্ (গাঃ) কিরণান্ (অব) (অতিরতম্) তমো হিম্স্তঃ। অবতিরতিরিতি বধকর্মা (নিঘন্টু ২.১৯) (বৃসয়স্য) আচ্ছাদকস্য। বস আচ্ছাদন ইত্যস্মাত্ পৃষোদরাদিত্বাদিষ্টসিদ্ধিঃ। (শেষঃ) অবশিষ্টো ভাগঃ (অবিন্দতম্) লম্ভয়তম্ (জ্যোতিঃ) দীপ্তিম্ (একম্) অসহায়ম্ (বহুভ্যঃ) অনেকেভ্যঃ পদার্থেভ্যঃ।

ভাবার্থ - মনুষ্যৈর্য়াবৎপ্রসিদ্ধম্ তমস আচ্ছাদকম্ সর্বলোকপ্রকাশকম্ তেজো জায়তে তাবৎসর্বম্ কারণভূতয়োর্বায়ুবিদ্যুতোঃ সকাশাদ্ভবতীতি বোদ্ধম্।

পদার্থ - যেটা (অগ্নীষোমা) বায়ু আর বিদ্যুৎ (য়ত্) যে (অবসম্) রক্ষা আদি (পণিম্) ব্যবহারকে (অমুষ্ণীতম্) চুপিসারে প্রসিদ্ধাপ্রসিদ্ধ গ্রহণ করে (গাঃ) সূর্যের কিরণের বিস্তার করে (অবাতিরতম্) অন্ধকারের বিনাশ করে (বহুভ্যঃ) বিভিন্ন পদার্থ দিয়ে (একম্) এক (জ্যোতিঃ) সূর্যের প্রকাশকে (অবিন্দতম্) প্রাপ্ত করায়, যাদের (বৃসয়স্য) ঢেকে রাখা সূর্যের (শেষঃ) অবশেষ ভাগ লোকের প্রাপ্ত করে (বাম্) এগুলোর (তত্) সেই (বীর্য়্যম্) পরাক্রম (চেতি) বিদিত আছে সবাই জানেন। (মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী)

ভাবার্থ - মানুষের এটা জানা উচিত যে যতটা প্রসিদ্ধ অন্ধকারকে ঢেকে দিতে আর সমস্ত লোককে প্রকাশকারী তেজ হয়, ততটা সব কারণরূপ পবন আর বিদ্যুতের উত্তেজনা থেকে হয়।

এখানে ঋষি দয়ানন্দ বায়ু আর বিদ্যুতের গুণের বর্ণনা করেছেন। বস্তুতঃ এই বর্ণনা বেদের মধ্যে আছে। সূর্য অথবা যেকোনো নক্ষত্রের প্রকাশের মূল কারণ বায়ু আর বিদ্যুৎ হয়। একথা ঋষি দয়ানন্দের সময়ে বিশ্বের বড়-বড় ভৌতিক বৈজ্ঞানিকও জানতেন না। এখানে বায়ুর তাৎপর্য সেই সূক্ষ্ম তত্ত্বের সঙ্গে হবে, যারদ্বারা ফোটন তথা মূল কণার নির্মাণ হয়। বর্তমান বিজ্ঞানের ভাষায় এই পদার্থের কিছু তুলনা ভেক্যুম এনার্জী আর ডার্ক এনার্জীর সঙ্গে করা যেতে পারে।
Read More

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

ঋগ্বেদ ৯/১৩/৯

ঋষি | দেবতা | ছন্দ | স্বর অসিতঃ কাশ্যপো দেবলো বা ঋষিঃ॥ পবমানঃ সোমো দেবতা॥ ছন্দঃ—১— ৩, ৫, ৮ গায়ত্রী। ৪ নিচৃদ্ গায়ত্রী। ৬ ভুরিগ্গায়ত্রী। ৭ ...

Post Top Ad

ধন্যবাদ