পুরোবচন
আয়ুর্বেদীয় বাঙ্ময়ের ইতিহাস ব্রহ্মা, ইন্দ্র প্রভৃতি দেবদের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার কারণে অত্যন্ত প্রাচীন, গৌরবময় এবং বিস্তৃত। ভগবান ধন্বন্তরি এই আয়ুর্বেদকে ‘এটি শাশ্বত, পুণ্যময়, স্বর্গপ্রদ, যশদায়ক, আয়ুবর্ধক এবং জীবিকাদায়ক’ (সু.সূ. ১।১৯) বলেছেন। লোকোপকারের দৃষ্টিতে এই বিস্তৃত আয়ুর্বেদকে পরে আটটি অঙ্গে বিভক্ত করা হয়। তখন থেকে একে ‘অষ্টাঙ্গ আয়ুর্বেদ’ বলা হয়। এই অঙ্গগুলির বিভাজন সেই সময়ের আয়ুর্বেদজ্ঞ মহর্ষিগণ করেছিলেন। কালক্রমে কালের অবিরাম আঘাত এবং অন্যান্য বহু কারণে এই অঙ্গগুলি খণ্ডিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় লুপ্তও হয়ে যায়। শতাব্দীর পর ঋষিসদৃশ আয়ুর্বেদবিদ্ বিদ্বানগণ আয়ুর্বেদের সেই খণ্ডিত অঙ্গগুলির পুনরায় রচনা করেন। খণ্ডিত অংশগুলির পূরণযুক্ত সেই সংহিতা গ্রন্থগুলিকে প্রতিসংস্কৃত বলা হতে থাকে; যেমন আচার্য দৃঢ়বল কর্তৃক প্রতিসংস্কৃত চরকসংহিতা। এছাড়া প্রাচীন খণ্ডিত সংহিতাগুলির মধ্যে ভেড (ল) সংহিতা এবং কাশ্যপসংহিতার নামও উল্লেখযোগ্য। তদনন্তর সংগ্রহপ্রবৃত্তি দ্বারা রচিত সংহিতাগুলির মধ্যে অষ্টাঙ্গসংগ্রহ এবং অষ্টাঙ্গহৃদয় সংহিতা প্রধান ও সুপ্রসিদ্ধ। পরবর্তী বিদ্বানগণ শ্রেণীবিভাগের দৃষ্টিতে আয়ুর্বেদীয় সংহিতাগুলিকে বৃহত্ত্রয়ী এবং লঘুত্ত্রয়ী রূপে বিভক্ত করেন। বৃহত্ত্রয়ীতে—চরকসংহিতা, সুশ্রুতসংহিতা এবং অষ্টাঙ্গহৃদয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, কারণ ‘গুণা গুণজ্ঞেষু গুণা ভবন্তি’। এটিও সত্য যে, বাগ্ভটের রচনাগুলির মধ্যে যত প্রচার-প্রসার ‘অষ্টাঙ্গহৃদয়’-এর হয়েছে, তত ‘অষ্টাঙ্গসংগ্রহ’-এর হয়নি। একে ভিত্তি করে বৃহত্ত্রয়ী রত্নমালায় ‘হৃদয়’ রূপ রত্নকে নিয়ে পারখিরা গেঁথে থাকবেন কি?
চরক-সুশ্রুত সংহিতার মান্যতা নিজ নিজ স্থানে প্রাচীনকাল থেকে আজ পর্যন্ত অক্ষুণ্ণভাবে চলে আসছে। অতএব এগুলির পঠন-পাঠন এবং কর্মাভ্যাসও হয়ে আসছে। এটিও সত্য যে, পুনর্বসু আত্রেয় এবং ভগবান ধন্বন্তরির উপদেশসমূহের সংগ্রহরূপ উক্ত সংহিতাগুলিতে যা লেখা আছে, তা নিজ নিজ ক্ষেত্রের মধ্যে আপ্ত এবং আর্ষ বচনের চতুর্দেওয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে রয়েছে এবং উক্ত মহর্ষিগণ পরাধিকারে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। এটি উক্ত সংহিতাকারদের নিজ নিজ উজ্জ্বল চরিত্র ছিল। মহর্ষি অগ্নিবেশ প্রণীত কায়চিকিৎসার নাম চরকসংহিতা এবং ভগবান ধন্বন্তরি কর্তৃক উপদিষ্ট শল্যতন্ত্রের নাম সুশ্রুতসংহিতা। এই উভয়ই আয়ুর্বেদশাস্ত্রের ধনভাণ্ডার এবং অক্ষয়নিধি। সংশ্লিষ্ট আচার্যদের দ্বারা এতে অন্তর্ভুক্ত বিষয়বিশেষ আয়ুর্বেদশাস্ত্রের প্রাণস্বরূপ; অতএব এই সংহিতাগুলি সমাজের পরম উপকারী।
চরকসংহিতায় স্বাস্থ্যরক্ষার নীতিসমূহ, রোগমুক্তির উপায়সমূহ এবং আয়ুর্বেদীয় সদ্বৃত্ত প্রভৃতি বিষয়ের যে বিশদ বিবেচনা পাওয়া যায়, তা সব দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। আর কী বলা যায়, চরকোক্ত সমস্ত নীতিই ত্রিকালাবাধিত। এই ধরনের বিষয়ের বিপুল উপাদানে প্রভাবিত হয়ে আচার্য দৃঢ়বল ‘যা এখানে আছে তা অন্যত্রও আছে, কিন্তু যা এখানে নেই তা কোথাও নেই’ (চ.সি. ১২।১৫৪)—এই যে ডিণ্ডিমঘোষ করেছেন, তা চিকিৎসা-সিদ্ধান্তের উপর সম্পূর্ণরূপে যথার্থ প্রতীয়মান হয়। সুশ্রুতসংহিতায় আয়ুর্বেদের আটটি অঙ্গের বিভাজন শস্ত্রকর্মকে প্রধান মেনে করা হয়েছে; তথাপি আধুনিক শল্য-শালাক্য চিকিৎসার দৃষ্টিতে এই প্রাচীন নীতিগুলিতে পদে পদে প্রতিসংস্কারের প্রয়োজন অনুভূত হয়।
সিংহগুপ্তের পুত্র বাগ্ভট এই প্রতিসংস্কারের প্রবল ভাবনা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে প্রথমে অষ্টাঙ্গসংগ্রহ রচনা করেন, যাকে তিনি ‘যুগানুরূপসন্দর্ভ’ সংজ্ঞা দিয়েছিলেন (অ.সং.সূ. ১।১৮)। পরে সেই অষ্টাঙ্গসংগ্রহ থেকে ‘হৃদয়’-এর ন্যায় সারাংশকে স্বাধীনভাবে পৃথক সংগ্রহ করে ‘অষ্টাঙ্গহৃদয়’-এর রচনা করেন।
এবং তার সাদর প্রচার-প্রসার সমগ্র বিশ্বে হয়। বাগ্ভট কেবল আত্রেয় প্রভৃতি মহর্ষির বচনেরই অনুসরণ করেননি, বরং প্রসঙ্গানুযায়ী অভিনব বিষয়গুলিকেও স্থানে স্থানে এতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা চিকিৎসার দৃষ্টিতে উপাদেয়। তিনি উত্তরস্থানে সেই সকল রোগের নির্ণয় ও চিকিৎসার বর্ণনা করেছেন, যেগুলির বর্ণনা প্রারম্ভিক নিদান ও চিকিৎসাস্থানে করা সম্ভব হয়নি। অতএব আয়ুর্বেদের বৃহত্ত্রয়ীতে পরবর্তী বিদ্বানগণ ‘অষ্টাঙ্গসংগ্রহ’-কে পরিত্যাগ করে ‘অষ্টাঙ্গহৃদয়’-কে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা এই গ্রন্থের সর্বাঙ্গীণ গুণগত উৎকর্ষের জ্বলন্ত প্রমাণ।
বাস্তবিকই কালিদাসের মতে—‘পুরাণমিত্যেব ন সাধু সর্বং, নবীনমিত্যেব ন চাপ্যবদ্যম্। সন্তঃ পরীক্ষ্যান্যতরদ্ ভজন্তে মূঢ়ঃ পরপ্রত্যয়নেয়বুদ্ধিঃ।।’ (মালবি. ১।১২) এর অর্থ এই যে, পুরাতন অথবা নতুন—সমস্ত বস্তুই তাদের গুণগত মানের কারণেই গ্রহণীয় হয় এবং তার বিপরীত হলে ত্যাজ্য হয়। এমন কোনো মানদণ্ড নেই যে, সমস্ত পুরাতন বস্তুই ভালো হবে এবং সমস্ত নতুন বস্তুই অনুপযোগী হবে। তাৎপর্য এই যে, উৎকৃষ্ট বস্তু তার গুণের প্রভাবে সকলের মন আকর্ষণ করেই নেয়। নারায়ণভট্ট তাঁর ‘প্রক্রিয়াসর্বস্ব’ গ্রন্থে এই বিষয়ে প্রামাণিক আলোচনা করেছেন যে, যে বিষয় পাণিনি বলেছেন, তার ঘাটতি তাঁর পরবর্তী বার্তিককার পূরণ করেছেন; তাতেও যে ঘাটতি থেকে গিয়েছিল, তা ভাষ্যকার পতঞ্জলি এবং তাতেও যে ত্রুটি অবশিষ্ট ছিল, তা ভোজ প্রভৃতি বিদ্বানগণ সংশোধন ও পরিমার্জন করেছেন। অতএব ব্যাকরণ-সম্প্রদায়ে এই নীতি সুপ্রসিদ্ধ—‘যথোত্তরং মুনীনাং প্রামাণ্যম্’। আয়ুর্বেদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রামাণ্য মহর্ষি বাগ্ভটের রচনার রয়েছে।
ভারতীয় বাঙ্ময়ে ‘বাগ্ভট’-এর উল্লেখ বহু পাওয়া যায়। যেমন—বৃদ্ধ, মধ্য, লঘু এবং রসবাগ্ভট—এই চার বাগ্ভটই প্রধানত প্রসিদ্ধ। এদের অতিরিক্তও সাহিত্যক্ষেত্রে আরও বহু বাগ্ভট রচয়িতা হিসেবে পাওয়া যায়। হারীতসংহিতায় আয়ুর্বেদের এই আচার্য বহুচর্চিত—
‘চরকঃ সুশ্রুতশ্চৈব বাগ্ভটশ্চ তথা পরঃ।
মুখ্যাশ্চ সংহিতা বাচ্যাস্তিস্র এব যুগে যুগে।।
অত্রিঃ কৃতযুগে বৈদ্যো দ্বাপরে সুশ্রুতো মতঃ।
কলৌ বাগ্ভটনামা চ গরিমাত্র প্রদৃশ্যতে।।’
মহর্ষি বাগ্ভটের বচনের উল্লেখ নিশ্চলকর চক্রদত্ত গ্রন্থের ‘রত্নপ্রভা’ ব্যাখ্যায় করেছেন। ত্রয়োদশ শতাব্দীর ‘রসরত্নসমুচ্চয়’-এর রচয়িতা বাগ্ভটকেই এখানে ‘রসবাগ্ভট’ নামে স্মরণ করা হয়েছে, কারণ তাঁর পিতার নামও সিংহগুপ্ত ছিল। পিতা-পুত্রের নামের এই সাদৃশ্যকে ভিত্তি করে কিছু ঐতিহাসিক বিদ্বান অষ্টাঙ্গহৃদয় এবং রসরত্নসমুচ্চয়ের রচয়িতাকে একই ব্যক্তি বলে মানার উপর জোর দেন। এত কিছু হওয়া সত্ত্বেও, সময়ের ব্যবধান উভয়কে এক বলে স্বীকার করতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
বৃদ্ধ বা প্রথম বাগ্ভট সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মতে, তিনি পূর্ববর্তী আর্ষসংহিতাগুলিকে নিজের গ্রন্থের ভিত্তিশিলা করে ‘অষ্টাঙ্গসংগ্রহ সংহিতা’ রচনা করেন। এর উত্তরস্থান অধ্যায় ৫০।১৩২-৩৩-এ তিনি নিজের সংক্ষিপ্ত পরিচয়ও দিয়েছেন। আমাদের মতে, তিনি জীবনের প্রথম পর্যায়ে বৈদিক ধর্মের অনুসারী ছিলেন এবং ‘অবলোকিত’ নামক এক বৌদ্ধ গুরুর নিকট দীক্ষা গ্রহণের পর তাঁর চিন্তাধারায় পরিবর্তন আসে, যার পূর্ণ প্রভাব তাঁর উক্ত রচনায় প্রতিফলিত হয়েছে। যেখানে বৌদ্ধধর্ম-সম্পর্কিত বচনের অন্তর্ভুক্তি হয়েছে, সেখানে তাকে আত্রেয় প্রভৃতি মহর্ষির বচনের এবং তাঁর পূর্বাশ্রমের প্রভাব বলে বুঝে নেওয়া উচিত। চিকিৎসাক্ষেত্রের বিষয় ‘বহুজনহিতায় বহুজনসুখায়’ হয়ে থাকে। এতে ধর্মীয় প্রভাব বাধক হয় না। বর্তমান বাগ্ভট তাঁর রচনায় বৈদিক ধর্ম এবং বৌদ্ধধর্মের যথোচিত সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। এরূপ অন্যত্রও দেখা যায়। অবলোকিতেশ্বরের মূর্তিগুলি গুপ্তযুগে অধিক পরিমাণে পাওয়া গেছে। কালক্রমে অবলোকিতেশ্বরের মূর্তির বাহুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। দেখুন—কলকাতা সংস্কৃত সিরিজ XII-8.37-38। সেই অনুসারেই বাগ্ভট অবলোকিতেশ্বরের ১২টি বাহুর উল্লেখ করেছেন। বাগ্ভটের এই ‘সংগ্রহ’ এবং ‘হৃদয়’-এ মন্ত্রযানের রূপ তো দৃষ্টিগোচর হয়, কিন্তু বজ্রযানের নয়। বৌদ্ধ গ্রন্থে আট প্রকার সিদ্ধির যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তার উল্লেখ বাগ্ভট রসায়ন প্রकरणে অঞ্জন, পাদলেপ, রস ও রসায়নরূপে করেছেন। কোষকার অমরসিংহ বৌদ্ধ ছিলেন। তিনি তাঁর কোষগ্রন্থে প্রথমে সাংকেতিকভাবে বুদ্ধকে প্রণাম করে শাস্ত্রীয় মর্যাদা অনুসারে মঙ্গলাচরণ করেছেন। তারপর স্বর্গ, গণদেবতা, দেবযোনি এবং দৈত্যদের নাম উল্লেখ করে পরে বুদ্ধের নামগুলির পরিগণনা করেছেন এবং যাদের তিনি এদের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, তারা এখন ভিন্নরূপে দেখা যায়।
চীনা পরিব্রাজক ইত্সিং (৬৭১–৬৯৫ খ্রি.) সমগ্র ভারতে প্রসিদ্ধ ‘অষ্টাঙ্গহৃদয়’-এর প্রচারের উল্লেখ করেছেন। ইত্সিং-এর পূর্ববর্তী বরাহমিহির (৫০৫–৫৮৭ খ্রি.)-এর জ্যোতিষ-সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত দ্বারা হৃদয়কার প্রভাবিত ছিলেন। যেমন তিনি আত্রেয় প্রভৃতিকে নিজের সংহিতার জীবাতু বলে মেনেছেন, কিন্তু কোথাও দৃঢ়বলের উল্লেখ করেননি; এতে মনে হয়, তাঁর সম্মুখে চরকসংহিতার আদিম রূপই সহজলভ্য ছিল, দৃঢ়বল কর্তৃক প্রতিসংস্কৃত রূপ নয়। এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, দৃঢ়বল এবং প্রথম বাগ্ভট প্রায় সমকালীন ছিলেন, অথবা দৃঢ়বল কিছু পূর্ববর্তী ছিলেন। বাহ্য ও আভ্যন্তরীণ সাক্ষ্যের সামঞ্জস্য থাকা সত্ত্বেও ‘হৃদয়’-এর তুলনায় ‘সংগ্রহ’-এর কলেবর বৃহৎ। অতএব সুপর্যালোচনার পর আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, প্রথম বাগ্ভটের কাল প্রায় ৫৫০ খ্রিস্টাব্দ ধরা উচিত। ইতিহাসকারগণ যেমন গ্রহণ করেছেন, সেই অনুসারেই এখানে পর্যন্ত প্রথম অথবা বৃদ্ধ বাগ্ভটের আলোচনা করা হয়েছে। এখন এর পর ‘অষ্টাঙ্গহৃদয়’-এর রচয়িতা বাগ্ভটের আলোচনা উপস্থাপিত হচ্ছে।
সাম্প্রদায়িক স্বরূপে শাস্ত্ররচনা অথবা শাস্ত্রচিন্তনের ক্ষেত্রে সকল শ্রেণির বিদ্বানের চিন্তাধারা সাম্প্রদায়িক ভাব ত্যাগ করে তত্ত্বচিন্তনের দিকে অগ্রসর হয়েছে। কয়েকটি উদাহরণ—নামলিঙ্গানুশাসনের রচয়িতা অমরসিংহের ন্যায় বাগ্ভটও তাঁর ক্ষেত্রে সর্বমান্য এবং সুপ্রসিদ্ধ হয়েছিলেন। বৌদ্ধ জিনেন্দ্রবুদ্ধি অষ্টাধ্যায়ীর কাশিকাবৃত্তির উপর ‘কাশিকাবিবরণ পঞ্জিকান্যাস’ নামে ব্যাখ্যা লিখেছেন। ব্যাকরণশাস্ত্রের ক্ষেত্রে এর যথেষ্ট সম্মান রয়েছে। তদ্রূপ লোকসমাজেও তিনি বুদ্ধের ন্যায় সম্মানিত। বৌদ্ধ পুরুষোত্তমদেব-রচিত ‘ত্রিকাণ্ডশেষ’, ‘ভাষাবৃত্তি’ (অষ্টাধ্যায়ীর ব্যাখ্যা) প্রভৃতি গ্রন্থ সর্বত্র সমভাবেই সমাদৃত। এই শাস্ত্রকারদের কোথাও ধর্মের প্রতি দुरাগ্রহ পরিলক্ষিত হয় না। কারণ শাস্ত্রচিন্তনে পরম্পরা কোথাও বাধক হয় না। দেখুন—হর্ষবর্ধন শৈব ছিলেন এবং রাজ্যবর্ধন সৌগত ছিলেন, অথচ তাঁরা উভয়েই সহোদর ভ্রাতা। বাস্তুপাল জৈন ছিলেন। তিনি সোমনাথে যাত্রা করেছিলেন এবং বহু শিবমন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন—এমন বর্ণনা অরিসিংহ-রচিত ‘সুকৃতসংকীর্তনকাব্য’-এ পাওয়া যায়। শ্রীকৃষ্ণভক্ত জয়দেব ‘গীতগোবিন্দ’-এ ‘কেশবধৃতবুদ্ধশরীর’ বলে বুদ্ধের স্তব করেছেন। ‘রত্নাবলী’-তে শ্রীহর্ষ ‘শিব-পার্বতী’-র এবং ‘নাগানন্দ’ নাটকে ‘বুদ্ধো জিনঃ পাতু বঃ’ বলে বুদ্ধের বন্দনা করেছেন। এই সমস্ত উদ্ধরণ দেখে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, সেই সময়ে বর্তমান যুগের মতো কলহ এবং মনোমালিন্যপূর্ণ দুরাগ্রহ ছিল না। এই কারণেই বাগ্ভট আয়ুর্বেদের নিরূপণে মধ্যমার্গ অনুসরণ করেছিলেন, যার ফলে বাগ্ভট এবং তাঁর কৃতি সমগ্র বিশ্বে সর্বত্র সমাদৃত।
অষ্টাঙ্গহৃদয়কার বাগ্ভট—‘সংগ্রহ’ এবং ‘হৃদয়’-এর রচয়িতা বাগ্ভট—‘ইতি হ স্মাহুরাত্রেয়াদয়ো মহর্ষয়ঃ’—এই অংশে উভয়ই সমান। মঙ্গলাচরণের প্রথম পদ ‘রাগাদিরোগ’ পদ দিয়েও উভয়ই সমান। উপর্যুক্ত উদ্ধরণ অনুসারে উভয়ের রচিত গ্রন্থে চরক-সুশ্রুত-অনুসরণও সমান। আর কী বলা যায়, ‘সংগ্রহ’-এর বহু অবিকল পদ ‘হৃদয়’-এ সহজলভ্য। এই দৃষ্টিগুলি থেকে ‘সংগ্রহ’ এবং ‘হৃদয়’-এর রচয়িতাকে একই ব্যক্তি বলে মানা উচিত। এর সমর্থনে আমরা নাগপুর নিবাসী বৈদ্য শ্রী গোবর্ধনশর্মা ছাঙ্গাণী কর্তৃক লিখিত ‘অষ্টাঙ্গসংগ্রহ সূত্রস্থান’-এর ভূমিকা থেকে কয়েকটি অংশ সাদরে উদ্ধৃত করছি—
‘স্বর্গীয় জ্যোতিষচন্দ্র সরস্বতীও অষ্টাঙ্গহৃদয় উত্তরস্থান (শিবদাস সেন টীকা)-এর সম্পাদকীয় উপোদ্ঘাতে অষ্টাঙ্গসংগ্রহ এবং হৃদয়ের রচয়িতাকে পৃথক-পৃথক বলে মেনেছেন। এর ভিত্তি কেবল এই যে, কয়েকটি স্থানে সংগ্রহ ও হৃদয়ের মতভেদ দেখানো হয়েছে। এই মতভেদের ক্ষেত্রে সংগ্রহের মত তো দেওয়া হয়েছেই, কিন্তু তার সঙ্গে সুদ্যুত প্রভৃতির অনুসারে আরও কিছু সংযোজন করা হয়েছে, যা সংগ্রহের রচনাকালে বাদ পড়ে গিয়েছিল। কেবল এই কারণকে ভিত্তি করে অষ্টাঙ্গসংগ্রহ এবং অষ্টাঙ্গহৃদয়ের রচয়িতাকে পৃথক বলা যায় না। অষ্টাঙ্গসংগ্রহের রচনা পূর্বে হয়েছে। তার পরে রচিত অষ্টাঙ্গহৃদয়ে সেই একই গ্রন্থকার বাদ পড়ে যাওয়া বিষয়কে গ্রহণ করতে পারেন।’
মহামহোপাধ্যায় স্বর্গীয় গণনাথসেন সরস্বতী এবং শ্রদ্ধেয় যাদবজি আচার্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বর্তমান এই দুই গ্রন্থে সর্বত্র ভাষার সাদৃশ্য এবং পিতা-পিতামহের একই নাম প্রভৃতি থাকার কারণে সংগ্রহ এবং হৃদয়ের পৃথক-পৃথক রচয়িতা মানা একটি বড় ভুল। সারাংশ এই যে, অষ্টাঙ্গসংগ্রহ এবং অষ্টাঙ্গহৃদয়ের রচয়িতা প্রকৃতপক্ষে একই বাগ্ভট।
এই সকল তথ্য দ্বারা আশ্বস্ত হয়ে অষ্টাঙ্গসংগ্রহের ব্যাখ্যাকার এবং বাগ্ভটের শিষ্য শ্রী ইন্দু তাঁর রচিত মঙ্গলাচরণ—‘দুর্ব্যারব্যাবিষসুপ্তস্য বাগ্ভটস্যাস্মদুক্তয়ঃ’ এবং ব্যাখ্যা—‘সোऽয়ং বাগ্ভটনামা শাস্ত্রকারঃ’-এ কোথাও বৃদ্ধ, প্রথম, মধ্য অথবা লঘু—এই বিশেষণগুলির কোনোটি তাঁর নামের পূর্বে ব্যবহার করেননি। তিনি কেবল ‘সিংহগুপ্তসুনু বাগ্ভট’ বলেছেন। তাঁর দৃষ্টিতেও উভয় (সংগ্রহ এবং হৃদয়)-এর রচয়িতা একই বাগ্ভট ছিলেন। উক্ত মতের সমর্থনে অষ্টাঙ্গহৃদয়ের রচয়িতার নিম্নোক্ত সূক্তিগুলির অবলোকন ও মনন করুন এবং সেগুলির ব্যাখ্যা যথাস্থানে দেখুন—
তেভ্যোऽতি বিপ্রকীর্ণেভ্যঃ প্রায়ঃ সারতরোচ্চয়ঃ।
ক্রিয়তেঽষ্টাঙ্গহৃদয়ং
নাতিসঙ্ক্ষেপবিস্তারম্।।
(অ.হৃ.সূ. ১।১৪)
অষ্টাঙ্গবৈদ্যকমহোদধিমন্থনেন
যোऽষ্টাঙ্গসংগ্রহমহামৃতরাশিরাপ্তঃ।
তস্মাদনল্পফলমল্পসমুদ্যমানাং
প্রীত্যর্থমেতদুদিতং পৃথগেব তন্ত্রম্॥
(অ.হৃ.উ. ৪০/৮০)
গ্রন্থকারদের ব্যাস ও সমাস পদ্ধতি—প্রাচীনকালে এমন বহু উদাহরণ পাওয়া যায়, যেখানে একই গ্রন্থকার একই বিষয়কে ব্যাস এবং সমাস—এই দুই পদ্ধতিতে রচনা করেছেন। যেমন—ভট্টোজি দীক্ষিতের পৌত্র এবং নাগেশভট্টের বিদ্যাগুরু শ্রী হরিদীক্ষিত ‘বৃহচ্ছব্দরত্ন’ এবং ‘লঘুশব্দরত্ন’ রচনা করেছিলেন। এরই প্রভাবে তাঁর শিষ্য আচার্য নাগেশভট্ট ব্যাকরণ বিষয়ক বহু গ্রন্থ রচনা করেন; যেমন—‘বৃহচ্ছন্দেন্দুশেখর’, ‘লঘুশব্দেন্দুশেখর’, ‘মঞ্জূষা’, ‘লঘুমঞ্জূষা’, ‘পরমলঘুমঞ্জূষা’। জয়পুরের রাজা সওয়াই জয়সিংহ (১৬৮৮–১৭২৮ খ্রি.)-এর কাল এবং শ্রী নাগেশভট্টের কাল প্রায় একই ছিল।
নামনির্ধারণ পরম্পরা—প্রাচীনকালে প্রায়ই পিতামহের নামই পৌত্রেরও রাখা হতো। দেখুন—নীলকণ্ঠ দীক্ষিত-রচিত ‘গঙ্গাবতরণম্’-এর ভূমিকা, কাব্যমালা গুচ্ছক ৭৬, পৃষ্ঠা ১২, সিদ্ধান্তসাগর প্রেস থেকে ১৯১৬ সালে প্রকাশিত—‘বিদিতমেব হি সর্বেষামস্মাকমস্মদ্দেশীয়াঃ প্রায়শো বিভ্রতি পিতামহানাং নাম; যথা—আচার্য দীক্ষিতঃ, আচার্য দীক্ষিত পৌত্রঃ’। এই ধরনের নামনির্ধারণের পরম্পরা কোথায় কোথায় ছিল এবং কবে থেকে প্রচলিত হয়েছে, তাও একটি গবেষণার বিষয়, যার প্রভাব ‘বাগ্ভট’ নামের উপরও পরিলক্ষিত হয়। দেখুন—‘ভিষগ্বরো বাগ্ভট ইত্যভূন্মে পিতামহঃ।’ (অ.সং.উ. ৫০।২০৩)
অষ্টাঙ্গহৃদয়ের কলেবর—‘কায়বালা ঊর্ধ্বাঙ্গশল্যদংশ্ট্রাজারাবৃষান্। অষ্টাবঙ্গানি।’ (অ.হৃ.সূ. ১।১৫) অনুসারে আয়ুর্বেদের আটটি অঙ্গ হল—১. কায়চিকিৎসাতন্ত্র, ২. বাল (কৌমারভৃত্য) তন্ত্র, ৩. গ্রহচিকিৎসা (ভূতবিদ্যা) তন্ত্র, ৪. ঊর্ধ্বাঙ্গচিকিৎসা (শালাক্য) তন্ত্র, ৫. শল্যচিকিৎসা (শল্যতন্ত্র), ৬. দংশ্ট্রা বা বিষচিকিৎসা (অগদতন্ত্র), ৭. জরাচিকিৎসা (রসায়নতন্ত্র) এবং ৮. বৃষচিকিৎসা (বাজীকরণতন্ত্র)। যদিও উক্ত সকল অঙ্গের মধ্যে কায়চিকিৎসা এমন একটি অঙ্গ, যা সমগ্র শরীরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত; অতএব এর দ্বারা সমস্ত অঙ্গই প্রভাবিত হয়। তথাপি অন্যান্য অঙ্গেরও নিজ নিজ স্থানে বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তবুও কায়চিকিৎসা অঙ্গকেই সকলের মধ্যে প্রধান বলে মানা হয়। তিনিও সুশ্রুতের ন্যায় তাঁর গ্রন্থ ‘অষ্টাঙ্গহৃদয়’-কে ৬টি স্থানে বিভক্ত করেছেন।
বাগ্ভটের প্রতিজ্ঞা—ব্যাকরণ-সম্প্রদায়ে এই প্রতিজ্ঞা প্রসিদ্ধ যে—‘একমাত্রালাঘবেন পুত্রোৎসবং মন্যন্তে বৈয়াকরণাঃ’। মনে হয়, নিজের গ্রন্থ রচনার সময় বাগ্ভট এই উক্তি দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। অতএব তিনিও—‘ন মাত্রামাত্রমপ্যত্র কিঞ্চিদাগমবর্জিতম্’ (অ.সং.সূ. ১।২০)—এইরূপ একটি প্রতিজ্ঞা করেছেন, যার দ্বারা গ্রন্থের প্রামাণিকতা সিদ্ধ হয়। উক্ত উক্তিটির অর্থ এই যে, এই সমগ্র গ্রন্থে শব্দ বা বাক্যের কথা তো দূরের কথা, একটি মাত্রাও শাস্ত্রবিরুদ্ধ নয়। এছাড়াও তিনি নিজের গ্রন্থের প্রামাণিকতা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে প্রত্যেক অধ্যায়ের সূচনায় লিখেছেন—‘ইতি হ স্মাহুরাত্রেয়াদয়ো মহর্ষয়ঃ’।
আয়ুর্বেদের প্রতি দৃঢ় নিষ্ঠা—বাগ্ভট কুলপরম্পরায় অধ্যয়নপ্রাপ্ত বিদ্যাবিশারদ বৈদ্য এবং বহু বিষয়ের উদ্ভট বিদ্বান ছিলেন। অতএব তিনি নিজেও আয়ুর্বেদের প্রতি অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ছিলেন। এই কারণেই তিনি সমগ্র সমাজকে এই বার্তা দিয়েছেন—‘আয়ুর্বেদোপদেশেষু বিধেয়ঃ পরমাদরঃ’ (অ.সং.সূ. ১।৩ তথা অ.হৃ.সূ. ১।২)। অর্থাৎ ধর্ম, অর্থ এবং সুখ (কাম) নামক তিন পুরুষার্থের প্রাপ্তি সুস্থ আয়ুর দ্বারা হয়। অতএব যারা এগুলির আকাঙ্ক্ষী, তাদের সর্বদা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে আয়ুর্বেদের বিশ্বজনীন উপদেশসমূহ পালন করা উচিত।
ধন্বন্তরি অবতারের কল্পনা—‘রসরত্নসমুচ্চয়’ গ্রন্থের ভূমিকায় শ্রীকৃষ্ণরাও শর্মা লিখেছেন—শল্যচিকিৎসার আদিদেব ভগবান ধন্বন্তরি কলিযুগে ‘বাগ্ভট’ নামে পুনরায় অবতার গ্রহণ করেছিলেন। এই বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করার জন্য এবং তাঁর পীযূষপাণিত্বশক্তি প্রদর্শনের জন্যই অষ্টাঙ্গসংগ্রহকার বৃদ্ধ বাগ্ভট নিজের প্রাণহানি না ঘটিয়ে ‘হৃদয়’ (অষ্টাঙ্গহৃদয়)-কে জীবন্ত অবস্থায় পৃথক করে দিয়েছিলেন। অর্থাৎ, তিনি তাঁর এই উক্তিবৈচিত্র্যের মাধ্যমে বিদ্বানদের দেখিয়েছেন যে, ‘বাগ্ভট’ শল্যচিকিৎসার বিশেষজ্ঞ ছিলেন। বিষয়টি এভাবে বোঝা উচিত—‘অষ্টাঙ্গসংগ্রহ’ সর্বাঙ্গসম্পূর্ণ আয়ুর্বেদের শরীরস্বরূপ এবং ‘অষ্টাঙ্গহৃদয়’ তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির সারভূত ‘হৃদয়’। শস্ত্রকর্ম-বিশেষজ্ঞ বাগ্ভট ‘শরীর’ এবং ‘হৃদয়’ উভয়কে পৃথক করেও উভয়কেই জীবিত রেখেছেন—এটাই তাঁর বৈশিষ্ট্য। বাস্তবে এটি বাগ্ভটের অলংকারিক পরিচয়।
গ্রন্থরচনা-কৌশল—সরস্বতীর বরপুত্র বাগ্ভট-রচিত ‘অষ্টাঙ্গহৃদয়’-এর সমৃদ্ধ কাব্য-সম্পদ থেকে সুস্পষ্ট হয় যে, তিনি আয়ুর্বেদের সমস্ত অঙ্গের জ্ঞাতা হওয়ার পাশাপাশি একজন সুকবিও ছিলেন এবং সাহিত্যশাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন। তাঁর রচনায় ছন্দ, রস, গুণ, অলংকার প্রভৃতিতে পরিপূর্ণ কাব্য-সম্পদই এর প্রমাণ। এ বিষয়ে আচার্য দণ্ডী-রচিত মহাকাব্যের লক্ষণ দেখুন—
‘সর্বষ ভিন্নবৃত্তান্তৈরুপেতং লোকরঞ্জকম্।
কাব্যং কল্পান্তরস্থায়ি জায়তে সদলঙ্কৃতি।।’
(কাব্যাদর্শ ১।১৯)
ছন্দ-প্রয়োগে কৌশল—আচার্য ক্ষেমেন্দ্র তাঁর ‘সুবৃত্ততিলক’-এ সেই সকল কবিকে দরিদ্র বলেছেন, যাঁরা তাঁদের কাব্য একটিমাত্র ছন্দে রচনা করেছেন। কারণ, ছন্দপ্রয়োগে স্বাধীন কবি সমবৃত্ত, অর্ধসমবৃত্ত এবং মাত্রাবৃত্তের ব্যবহারে সম্পূর্ণ স্বাধীন হন। এই ধরনের কবিদের মধ্যে বাগ্ভটও অন্যতম। তিনি পাঠকদের মনোরঞ্জনের জন্য স্থান-স্থানান্তরে শ্রুতিমধুর বিভিন্ন ছন্দের ব্যবহার করেছেন। কোথাও কোথাও শ্লেষ অলংকারের আশ্রয় নিয়ে স্বাগতা, পুষ্পিতাগ্রা, পৃথিবী, শার্দূলবিক্রীড়িত, দ্রুতবিলম্বিত প্রভৃতি ছন্দকে মুদ্রালংকারে অলংকৃত করেছেন। এটাই কবি ও কবিরাজ বাগ্ভটের শাস্ত্র ও কাব্যকৌশল।
মুদ্রালংকার পরিচয়—‘সূচ্যার্থসূচনং মুদ্রা প্রকৃতার্থপরৈঃ পদৈঃ।
নিতম্বগুর্বী তরুণী দ্রুমযুগ্মবিপুলা চ সা॥’ (কুবলয়ানন্দ)
অর্থাৎ, যে ছন্দে সেই ছন্দের নাম শ্লেষপ্রতিভার মাধ্যমে সার্থকরূপে ব্যবহৃত হয়, তাকে ‘মুদ্রা’ অলংকার বলে। এখানে অনুষ্ঠুপ্ ছন্দের ভেদগুলির অন্তর্ভুক্ত ‘যুগ্মবিপুলা’ ছন্দের দ্ব্যর্থক ব্যবহার করা হয়েছে। এই ধরনের কাব্যকৌশলের প্রয়োগ বাগ্ভট বহু স্থানে করেছেন। আরও কয়েকটি উদাহরণ দেখুন—
১.
‘হিঙ্গ্গ্রাবিড়শুণ্ঠধজাজিবিজয়াবাটঘাভিধানাময়ৈ-
কুম্ভনিকুম্ভমূলসহিতৈর্ভাগোত্তরং বর্ধিতৈঃ।
পীতঃ কোষ্ণজলেন কোষ্ঠজরুজো গুল্মোদরাদীনয়ং
শার্দূলঃ প্রসভং প্রমথ্য হরতি ব্যাধীন্ মৃগৌঘানিব।।’
(অ.হৃ.চি. ১৪।৮৩৬)
উক্ত ‘শার্দূলবিক্রীড়িত’ ছন্দের চতুর্থ চরণে ব্যবহৃত দ্ব্যর্থক ‘শার্দূল’ শব্দটি তার বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করছে।
২.
‘সহচরং সুরদারু সনাগরং ক্বচিতমম্ভসি তৈলবিমিশ্রিতম্।
পবনপীড়িতদেহগতিঃ পিবেত্ দ্রুতবিলম্বিতগো ভবতীচ্ছয়া।।’
(অ.হৃ.চি. ২১।৫৫)
এই পদ্যে ব্যবহৃত ‘দ্রুতবিলম্বিত’ পদটি ছন্দের নাম এবং তার প্রসঙ্গোপযোগী গুরুত্বপূর্ণ অর্থ—উভয়েরই বোধ করায়।
৩.
‘বীজকস্য রসমঙ্গুলিহার্যং শর্করাং মধু ঘৃতং ত্রিফলাং চ।
শীলবৎসু পুরুষেষু জরত্তা স্বাগতাऽপি বিনিবর্তত এবম্।।’
(অ.হৃ.উ. ৩৯।১৫৩)
এই পদ্যে ব্যবহৃত ‘স্বাগতা’ পদটি ছন্দের নাম এবং নিজ অর্থ—উভয়েরই বিশেষ সূচক।
৪.
‘মধু মুখমিব সোৎপলং প্রিয়ায়াঃ কলরণনা পরিবাদিনী প্রিয়েব।
কুসুমচয়মনোরমা চ শয্যা কিসলয়িনী লতিকেব পুষ্পিতাগ্রা।।’
(অ.হৃ.উ. ৪০।৪৬)
এখানে শ্লেষপ্রতিভাজাত ‘পুষ্পিতাগ্রা’-র একটি প্রাকরণিক অর্থ এবং অন্যটি ছন্দের নাম। এটি অর্ধসমবৃত্তের উদাহরণ।
আচার্য বাগ্ভটের এই একই প্রবৃত্তি অষ্টাঙ্গসংগ্রহ রচনার সময়ও ছিল। দেখুন—পৃথিবীবৃত্তের উদাহরণ অ.সং.উ. ৪৯।৩৭৯-৩৮০-এ। প্রায় ‘বৃত্তরত্নাকর’, ‘ছন্দোমঞ্জরী’, ‘সুবৃত্ততিলক’ প্রভৃতি গ্রন্থে উল্লিখিত সমস্ত ছন্দের উদাহরণ বাগ্ভটের রচনায় সহজলভ্য। অতএব কয়েকটি বিশেষ ছন্দপ্রয়োগ উপরে দেওয়া হয়েছে।
বাগ্ভট কর্তৃক ব্যবহৃত ছন্দ—এখানে আমরা অকারানুক্রমে ছন্দগুলির নাম উল্লেখ করছি। এগুলি দেখতে চাইলে সমগ্র ‘অষ্টাঙ্গহৃদয়’-এর উপর লিখিত অরুণদত্তের টীকা দেখুন।
ছন্দের নাম—১. অনুষ্ঠুপ্, ২. আর্যা, ৩. আর্যাগীতি, ৪. আর্যাজঘনচপলা, ৫. আর্যাবিপুলা, ৬. ইন্দ্রবজ্রা, ৭. উদ্বীতিরার্যা, ৮. উপচিত্রা, ৯. উপজাতি, ১০. উপেন্দ্রবজ্রা, ১১. ঔপচ্ছন্দসিক, ১২. কুসুমিতলতা, ১৩. গীতি, ১৪. গীতিসমুখচপলা, ১৫. তোটক, ১৬. দণ্ডকোऽর্ণাখ্যঃ, ১৭. দণ্ডকো ব্যালাখ্যঃ, ১৮. দোধক, ১৯. দ্রুতবিলম্বিত, ২০. ধীরললিতা, ২১. নর্কুটক, ২২. পুষ্পিতাগ্রা, ২৩. পৃথিবী, ২৪. প্রহর্ষিণী, ২৫. ভদ্রা, ২৬. মত্তময়ূর, ২৭. মন্দাক্রান্তা, ২৮. মাত্রাসমক, ২৯. মালিনী, ৩০. মুখচপলা, ৩১. রথোদ্ধতা, ৩২. বসন্ততিলকা, ৩৩. বংশস্থ, ৩৪. বিপুলা, ৩৫. বৈতালীয়, ৩৬. বৈশ্বদেবী, ৩৭. শার্দূলবিক্রীড়িত, ৩৮. শালিনী, ৩৯. শুদ্ধবিরাট্, ৪০. স্রগ্ধরা, ৪১. স্বাগতা, ৪২. হরিণী। এর মধ্যে ১৬তম এবং ১৭তম—এই দুটি গদ্যছন্দ।
অলংকার পরিচয়—বাগ্ভটের এই রচনায় বৃত্যানুপ্রাস, ছেকানুপ্রাস, যমক প্রভৃতি শব্দালংকারের বহু উদাহরণ অনায়াসে পাওয়া যায়। সেগুলি নিম্নোক্ত নির্দেশ অনুসারে নিজেই দেখার চেষ্টা করুন—হৃ.সূ. ৩।৩৫; ১৫।১; ১৪।৩৫; ২৭।৭১। হৃ.নি. ৭।২৫; ১০।১৩। হৃ.চি. ১৮।৩২; ১৯।৭; ১৯।১৭; ১৯।৩২। হৃ.উ. ২।৩৬; ৭।২৩; ২১।৩৬; ৩৯।৮০; ৩৯।১২৭ প্রভৃতি।
রচনার বৈশিষ্ট্য—বাগ্ভটের রচনায় বিভিন্ন স্থানে তাঁর কাব্যগত প্রসাদ, সুকুমারতা, মাধুর্য প্রভৃতি যে বিশেষ গুণগুলি দেখা যায়, সেগুলির মধ্যে কয়েকটি স্থানের সংক্ষিপ্ত নির্দেশ এখানে দেওয়া হচ্ছে। সেই অনুযায়ী আপনি সাহিত্যসুধার রসাস্বাদন করুন। মদ্যপানবিধির বর্ণনা দেখুন—অ.হৃ.চি. ৭।৭৯–৯০ এবং অ.হৃ.উ. ৪০।৪২–৪৭।
পুত্রসুখের মাহাত্ম্য—বাগ্ভট অলংকারিক শব্দশৈলীর মাধ্যমে পুত্রের বর্ণনা এইরূপ করেছেন—
‘স্খলদ্ গমনমব্যক্তবচনং ধূলিধূসরম্।
অপি লালাবিলমুখং হৃদয়াহ্লাদকারকম্।
অপত্যং তুল্যতাং কেন দর্শনস্পর্শনাদিষু।
কিং পুনর্যদ্ যশোধর্মমানশ্রীকুলবর্ধনম্।।’
(অ.হৃ.উ. ৪০।১০–১১)
মনে হয়, পুত্রের বর্ণনা করতে গিয়ে বাগ্ভট কালিদাসের নিম্নোক্ত পদ্যে প্রভাবিত হয়েছিলেন—
‘আলক্ষ্য দন্তমুকুলাননিমিত্তহাসৈ-
রব্যক্তবর্ণরমণীয়বচঃ প্রবৃত্তীন্।
অঙ্কাশ্রয়প্রণয়িনস্তনয়ান্ বহন্তো
ধন্যাস্তদঙ্গরজসা মলিনীভবন্তি।।’
(জ.শা. ৭।১৭)
বাগ্ভটের বিশেষতা—তিনি ‘ইতি হ স্মাহুরাত্রেয়াদয়ো মহর্ষয়ঃ’ এই প্রতিজ্ঞার পালন করে আত্রেয় প্রভৃতির মত, সিদ্ধান্ত, চিকিৎসাপদ্ধতি এবং তাঁর সমস্ত পূর্ববর্তী আচার্য (ব্রহ্মা, অশ্বিনীকুমার, বসিষ্ঠ, ভার্গব, অগস্ত্য, ভেড (ল), হারীত, বৃদ্ধকাশ্যপ, কাশ্যপ, অগ্নিবেশ, আত্রেয় পুনর্বসু, ধন্বন্তরি, শৌনক, নিমি, বিদেহাধিপতি, জিন, মাণিভদ্র প্রভৃতি)-এর বর্ণিত ঔষধ-যোগসমূহ নিজের তন্ত্রে সংগ্রহ করেছেন। তাঁর এই রচনাকৌশল দেখে নিঃসংকোচে বলা যায় যে, এরূপ বিষয়বৈভব এর পূর্ববর্তী অন্য কোনো গ্রন্থে দুর্লভ। অতএব সূক্তিকারগণ ‘সূত্রস্থানে তু বাগ্ভটঃ’ বলে এর প্রশংসা করেছেন। অন্য আচার্যগণ ‘কলৌ বাগ্ভটনামা চ’ বলে আয়ুর্বেদ জগতে তাঁরই একচ্ছত্র প্রাধান্য স্বীকার করেছেন। শোনা যায়, এর অতিরিক্ত তিনি ‘অষ্টাঙ্গ নিঘণ্টু’ এবং ‘অষ্টাঙ্গাবতার’ নামে আরও দুটি গ্রন্থও রচনা করেছিলেন। তবে এই বিষয়ে অন্যান্য বিদ্বান একমত নন। ‘অষ্টাঙ্গনিঘণ্টু’-এর হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি মাদ্রাজের ওরিয়েন্টাল লাইব্রেরিতে এবং তাঞ্জোর গ্রন্থসংগ্রহশালায় সংরক্ষিত আছে, যা আজ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।
বাগ্ভট-সম্পর্কিত কিংবদন্তি—প্রাচীনকাল থেকে প্রচলিত কিংবদন্তির ঐতিহাসিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। সেই অনুসারে শোনা যায় যে, একবার ভগবান ধন্বন্তরি ‘কলিযুগের কুপ্রভাবে পীড়িত মানুষ কীভাবে নিরোগ হবে’—এই শুভকামনা নিয়ে এক অত্যন্ত মনোরম পাখির রূপ ধারণ করে সে সময়ের প্রসিদ্ধ বৈদ্যদের প্রত্যেকের গৃহের নিকটে গিয়ে—‘কোऽরুক্, কোऽরুক্, কোऽরুক্’—এই তিনটি প্রশ্ন করতেন। উত্তর না পেলে তিনি এক গৃহ থেকে অন্য গৃহে চলে যেতেন। এইভাবে একদিন সিন্ধুপ্রদেশে অবস্থিত বৈদ্যরাজ বাগ্ভটের অঙ্গনের নিকটে একটি প্রস্ফুটিত বৃক্ষের শাখায় বসে আবার সেই একই তিনটি প্রশ্ন করলেন। সেই সময় শ্রী বাগ্ভট রোগীদের চিকিৎসায় ব্যস্ত ছিলেন। তথাপি তিনি সেই পাখির স্পষ্ট, শ্রুতিমধুর, পরোপকার-প্রেরণাদায়ক গভীর অর্থবহ বাণী শুনে এবং তার অত্যন্ত সুন্দর রূপে মুগ্ধ হয়ে, তাকে অলৌকিক পাখি মনে করে, সাদরে পাকা ফল ও জল নিবেদন করলেন। কিন্তু কিছু গ্রহণ না করে পাখিটি পুনরায় সেই একই প্রশ্নগুলি করল। তখন বাগ্ভট ভাবলেন—এই পাখি যতক্ষণ না তার প্রশ্নের উত্তর পাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে কিছুই খাবে-দাবে না। এইরূপ নিশ্চিত হয়ে বাগ্ভট সেই প্রশ্নগুলির শাস্ত্রসম্মত উত্তর একই ভঙ্গিতে এইভাবে দিলেন—‘হিতভুক্, মিতভুক্, ঋতুভুক্’। বাগ্ভটের এই উত্তর শুনে পাখিটি তাঁর নিবেদিত ফল ও জল গ্রহণ করে সন্তুষ্ট হয়ে বলল—আমি যোগ্য বৈদ্যের পরীক্ষা করার জন্য পাখির রূপ ধারণ করে ভারতবর্ষে ভ্রমণ করতে করতে এখানে এসেছি। তোমার এই আয়ুর্বেদীয় জ্ঞানে আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট। তুমি অষ্টাঙ্গ আয়ুর্বেদের রচনা করো। এই কথা বলে সেই পাখি অন্তর্ধান হয়ে গেল। এর পরেই তিনি এই গ্রন্থরত্নগুলির রচনা করেন। এই কিংবদন্তি দীর্ঘকাল ধরে ‘বাগ্ভট’-এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
পরবর্তী কয়েকটি গ্রন্থকার ও গ্রন্থ
কল্যাণকারক—এই গ্রন্থটি আচার্য উগ্রাদিত্য রচনা করেন। তিনি জৈনধর্মের অনুসারী ছিলেন। অতএব তিনি তাঁর ধর্মীয় পরম্পরা অনুযায়ী চরকোক্ত ‘মাধুতৈলিকবস্তি’-র পরিবর্তে ‘গৌড়তৈলিকবস্তি’-র বিধান করেন, কারণ জৈনসম্প্রদায়ের আচার্যগণ প্রাণিজ দ্রব্য (মধু) ব্যবহার করেন না।
যোগশতক—এই গ্রন্থের রচয়িতা শ্রী নাগার্জুন। আলবেরুনী তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তে যে নাগার্জুনের উল্লেখ করেছেন, তিনি অষ্টম অথবা নবম শতাব্দীর আচার্য ছিলেন; তিনি সুশ্রুতসংহিতার প্রতিসংস্কারক ছিলেন না। তিনি তাঁর গ্রন্থে বহু পদ্য ‘অষ্টাঙ্গহৃদয়’ থেকে গ্রহণ করেছেন। অতএব নিশ্চিতভাবে এটি বাগ্ভট-পরবর্তী রচনা। এতে আয়ুর্বেদের আটটি অঙ্গের বিবরণের অতিরিক্ত উত্তরতন্ত্রও দেওয়া হয়েছে। বররুচি-রচিত ‘যোগশতক’ এর থেকে ভিন্ন।
সিদ্ধসারসংহিতা—এর রচয়িতা দুর্গগুপ্তপুত্র রবিগুপ্ত। তিনি বৌদ্ধধর্মাবলম্বী ছিলেন। দশম শতাব্দীতে বর্তমান চন্দ্রট তাঁর রচনায় ‘সিদ্ধসারসংহিতা’-র বহু অংশ উদ্ধৃত করেছেন। অতএব উক্ত সংহিতার রচয়িতা নবম শতাব্দীতে বিদ্যমান ছিলেন। এই গ্রন্থ আজ পর্যন্ত অপ্রকাশিত। এর তিনটি পাণ্ডুলিপি নেপাল সরকারের গ্রন্থাগার, কাঠমান্ডুতে সংরক্ষিত রয়েছে।
হৃদয়ের টীকাকার—আকোলা নিবাসী হরিশাস্ত্রী পরাডকর বৈদ্য ‘অষ্টাঙ্গহৃদয়’-এর ‘বাগ্ভটবিমর্শ’-এ ৩৪টি টীকা এবং ২৩ জন টীকাকারের নাম উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে শ্রী অরুণদত্ত-রচিত ‘সর্বাঙ্গসুন্দরা’ টীকা সম্পূর্ণ এবং শ্রী হেমাদ্রি-রচিত ‘আয়ুর্বেদরসায়না’ টীকা অসম্পূর্ণ, যার অবশিষ্ট অংশ আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বাগ্ভটসংহিতা তার গুণের জন্য সর্বত্র সমাদৃত। অতএব প্রায় সব ভাষাতেই এর অনুবাদ সহজলভ্য।
বাগ্ভটের টীকাকার অরুণদত্ত—শ্রীমৃগাঙ্কদত্তপুত্র শ্রী অরুণদত্ত ‘অষ্টাঙ্গহৃদয়’-এর ‘সর্বাঙ্গসুন্দরা’ নামক টীকা রচনা করেছেন। অন্যান্য টীকার তুলনায় এটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এতে যথাসম্ভব পদগুলির অর্থ দিয়েছেন, সংশয়যুক্ত স্থানের সমাধান করেছেন, প্রায় সর্বত্র ছন্দের নাম ও তার লক্ষণ উল্লেখ করেছেন। বিষয়ের সমর্থনে প্রাচীন আয়ুর্বেদীয় শাস্ত্র থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং তার যথাযথ নির্দেশও সংযুক্ত করেছেন। প্রয়োজন অনুসারে স্থানবিশেষে ছন্দ, ব্যাকরণ প্রভৃতির পরিচয়ও দিয়েছেন। যদিও অরুণদত্ত নামে বহু বিদ্বান ছিলেন, তথাপি ‘অষ্টাঙ্গহৃদয়’-এর টীকাকার মৃগাঙ্কদত্তপুত্র অরুণদত্তই, যেমন তিনি গ্রন্থের সূচনাভাগের ব্যাখ্যার তৃতীয় পদ্যে বলেছেন—
‘শ্রীমন্মৃগাঙ্কতনয়ষ্টীকামষ্টাঙ্গহৃদয়স্য
শ্রীমানরুণঃ কুরুতে সম্যগ্দ্রষ্টুঃ পদার্থবোধায়।। ৩ ।।’
বাগ্ভটের টীকাকার হেমাদ্রি—দেবগিরি নিবাসী মহারাজাধিরাজ মহাদেবের পুত্র শ্রীরামদেবের শাসনকালে হেমাদ্রি ‘চতুর্বর্গচিন্তামণি’ নামক গ্রন্থ রচনা করেন। তিনিই পরবর্তীকালে ‘অষ্টাঙ্গহৃদয়’-এর উপর টীকা রচনা করেন। প্রাচীনকালে পণ্ডিতদের প্রতিভা বহুমুখী ছিল। বর্তমানে ‘হৃদয়’-এ তাঁর যে টীকা পাওয়া যায়, তা কেবল ‘অষ্টাঙ্গহৃদয়’-এর সূত্রস্থান এবং কল্পসিদ্ধিস্থানের উপরই রয়েছে, অন্যত্র নয়। তাঁর টীকার নাম ‘আয়ুর্বেদরসায়না’।
বিশেষ—হেমাদ্রি তাঁর টীকার মাধ্যমে ‘অষ্টাঙ্গহৃদয়’-এ উল্লিখিত বিষয়গুলির নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন। বহু স্থানে তিনি অরুণদত্তের টীকার খণ্ডন করে যুক্তিপূর্ণভাবে নিজের মত প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং কোথাও কোথাও অরুণদত্তের টীকার থেকেও অধিক বিস্তৃত বিবরণ প্রদান করেছেন। এই ধরনের প্রসঙ্গকেই চরক—‘বুদ্ধের্বিশেষস্তত্রাসীত্’—বলে অভিহিত করেছেন। সত্যই, ‘বিদ্যা গুরুণাং গুরুঃ’।
পাঠভেদ এবং প্রক্ষিপ্ত পদ্য—বৈদিক বাঙ্ময় ব্যতীত পরবর্তী প্রায় সব ধরনের সাহিত্যে পাঠভেদ এবং প্রক্ষিপ্ত গদ্য-পদ্যের প্রাচুর্য দেখা যায়। তদ্বিদ্য বিদ্বানরাও প্রসঙ্গানুযায়ী পাঠভেদ দেখে তার সমর্থক হয়ে যান। ‘ইদম্ ইত্থম্’ (এটি এমনই) নির্ণয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড তাঁদের কাছেও থাকে না। বর্তমান ‘হৃদয়’-এর টীকা রচনা করতে গিয়ে আমি সিদ্ধান্তসাগরীয় প্রতিকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি। তাতেও যেখানে যেখানে ত্রুটি ছিল, সেখানে ‘যথাবুদ্ধিবলোদয়’ অনুসারে সংশোধনের চেষ্টা করেছি। তবুও বহু স্থানে এমন অনুভব হয়েছে যে, যে পাঠ মূল গ্রন্থে (উপরে) থাকা উচিত ছিল, তা নিচে টীকায় দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের পাঠনির্ণায়কদের ‘মেঘদূত’-এর টীকাকার পূর্ণসরস্বতী এইভাবে কঠোর সমালোচনা করেছেন। দেখুন—
‘সুকবিবচসি পাঠানন্যথাকৃত্য মোহাদ্ রসগতিমবধূয় প্রৌঢ়মর্থং বিহায়।
বিবুধবরসমাজে ব্যাক্রিয়াকামুকানাং গুরুকুলবিমুখানাং ধৃষ্টতায়ৈ নমোऽস্তু।।'
টীকাকারদের সমালোচনা—ধারানগরীর প্রসিদ্ধ ভোজরাজ সেইসব টীকাকারের সমালোচনা করে বলেন, যাঁদের কোনো পাঠ বোধগম্য হয় না, তাঁরা সেটি ‘ইতি স্পষ্টম্’ লিখে ছেড়ে দেন; আর যে পাঠ নিজেই স্পষ্ট, তারই অকারণ সমাস, বিগ্রহ প্রভৃতির মাধ্যমে বিস্তৃত ব্যাখ্যা করেন। এর অতিরিক্ত, যেখানে প্রয়োজন নেই, সেখানে অপ্রয়োজনীয় বিষয় সংযোজন করে পাঠক ও শ্রোতাদের মনে প্রায় সব টীকাকারই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেন। যথা—
‘দুর্বোধং যদতীব তদ্বিজহতি স্পষ্টার্থমিত্যুক্তিভিঃ
স্পষ্টার্থেষ্বতিবিস্তৃত্তিং বিদধতি বৃথৈঃ সমাসাদিভিঃ।
অস্থানেऽনুপযোগিভিশ্চ বহুভির্জল্পৈর্ভ্রমং তন্বতে
শ্রোতৃণামিতিবাক্যবিপ্লবকৃতঃ সর্বেঽপি টীকাকৃতঃ।।’
(ভোজরাজকৃত রাজমার্তণ্ড)
যদিও বর্তমান গ্রন্থের শ্রীঅরুণদত্ত এবং শ্রীহেমাদ্রি আয়ুর্বেদ জগতে স্বনামধন্য প্রাচীন টীকাকার, তথাপি ‘দুর্বোধং যদতীব তদ্বিজহতি’-এর বহু উদাহরণ তাঁদের টীকায়ও দেখা যায়। তবুও তাঁদের যোগ্যতার সম্মুখে আমরা নতশির।
অষ্টাঙ্গহৃদয়ের কলেবর—সিদ্ধান্তসাগরীয় অরুণদত্ত ও হেমাদ্রি-টীকাসহ প্রকাশিত ‘অষ্টাঙ্গহৃদয়’-এর ভূমিকার নবম সূচিতে এর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। সেই অনুসারে এর মোট স্থানসংখ্যা ৬, অধ্যায়সংখ্যা ১২০ এবং শ্লোকসংখ্যা প্রায় ৭৪৭১।
‘কীর্তিরক্ষরসম্বদ্ধা স্থিরা ভবতি ভূতলে’—এই উক্তি অনুসারে বিদ্বান লেখকদের রচনাই তাঁদের দীর্ঘকাল জীবিত এবং যশস্বী করে রাখে। অতএব বিদ্বজ্জন এই কর্মে প্রবৃত্ত হন। এতে প্রকাশকদেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকে। তাঁরা কেবল গ্রন্থেরই প্রকাশক নন, গ্রন্থকারেরও প্রকাশক। অন্যথায় তাঁদের অভাবে উৎকৃষ্টতম গ্রন্থও উইপোকায় নষ্ট হয়ে যায় অথবা প্রাচীন গ্রন্থাগারের কারাগারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
বর্তমান টীকার বৈশিষ্ট্য—অষ্টাঙ্গসংগ্রহ বিস্তৃতভাবে রচনা করার পর যখন বাগ্ভট সাররূপ ‘হৃদয়’ রচনা করলেন, তখন বিষয়গুলিকে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। ব্যাস ও সংক্ষেপ—উভয় রচনায় পারদর্শী বাগ্ভট এই গ্রন্থ-সম্পর্কিত বিষয়গুলির পরিপূরণ কীভাবে এবং কোথা থেকে করেছেন, সেই বিষয়টি লক্ষ্য রেখে সমগ্র গ্রন্থে যেখানে যেখানে যে সংকেত দিয়েছেন, টীকার সময় সেখানে সেখানে প্রাসঙ্গিক নির্দেশ দিয়ে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। এর সাহায্যে বিজ্ঞ পাঠক সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি যথাস্থানে সহজেই খুঁজে পাবেন। একই সঙ্গে, ‘অষ্টাঙ্গহৃদয়’-এর দুরূহ বিষয়গুলি স্পষ্ট করার জন্য যেসব বিষয় অন্যান্য গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে, সেগুলিরও যথাস্থানে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূল গ্রন্থের টীকার শেষে ‘বক্তব্য’ এবং ‘বিশেষ বচন’ প্রদান করা হয়েছে, যা গ্রন্থের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করতে সহায়ক হবে। যদিও ‘অষ্টাঙ্গহৃদয়’-এ গ্রন্থকার তন্ত্রযুক্তির উল্লেখ করেননি, অথচ ‘অষ্টাঙ্গসংগ্রহ’-এ তা উল্লিখিত হয়েছে। তাই তাদের কেবল পরিগণনামাত্র যথাস্থানে আমাদের বক্তব্যে প্রদান করা হয়েছে। ঔষধ প্রস্তুতির প্রসঙ্গে যেখানে যেখানে প্রয়োজন মনে হয়েছে, সেখানে সেখানে ঔষধদ্রব্যের পরিমাণ এবং প্রস্তুতপ্রণালীরও উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমান ‘নির্মলা’ টীকার এটাই বৈশিষ্ট্য।
অষ্টাঙ্গহৃদয় একটি সংগ্রহগ্রন্থ—এতে চরক, সুশ্রুত, অষ্টাঙ্গসংগ্রহ এবং অন্যান্য বহু প্রাচীন আয়ুর্বেদীয় গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করা হয়েছে। বাগ্ভট নিজের বিবেচনায় বহু প্রসঙ্গোপযোগী বিষয় বর্তমান গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এই কারণেই গ্রন্থটির রূপ যুগোপযোগী হয়েছে। চরক প্রভৃতি প্রাচীন তন্ত্রকার যেসব বিষয় সাধারণভাবে বর্ণনা করেছিলেন, বাগ্ভট সেগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। যেমন—রক্তবিকারে রক্তনির্হরণ (শিরাবেধ, ফোঁড়া খোলা) একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা। বাতবিকারে আয়ুর্বেদীয় পদ্ধতিতে বস্তি-প্রয়োগ একটি দায়িত্বপূর্ণ চিকিৎসা, যা আজকের চিকিৎসকসমাজ প্রায় উপেক্ষা করে বসেছে। শিলাজতুর প্রয়োগ শাস্ত্রসম্মত পদ্ধতিতে দীর্ঘকাল ধরে করা এবং করানো উচিত। পথ্য-অপথ্যের বিচারপূর্বক এর প্রয়োগ রোগ নাশ করে দীর্ঘায়ু প্রদান করে। অধ্যদ্রব্যসংগ্রহ (অ.হৃ.উ. ৪০।৪৮–৫৮) প্রধান রোগসমূহে হিতকর। ভুল যে কারও হতে পারে, কারণ বলা হয়েছে—‘প্রমাদো ধীমতামপি’। অতএব প্রমাদজনিত অংশ পরিহার করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গ্রহণ করাই বিদ্বানদের কর্তব্য।
আভার—বর্তমান টীকা রচনার সময় আমার সামনে শ্রীঅরুণদত্ত এবং শ্রীহেমাদ্রি-রচিত টীকা, শ্রী হরিশাস্ত্রী কর্তৃক সংকলিত পাঠভেদ ও টীকাসহ সিদ্ধান্তসাগরীয় ‘অষ্টাঙ্গহৃদয়’ এবং পূজ্য গুরুবর স্বর্গীয় লালচন্দ্রজি বৈদ্যের টীকাসহ ‘অষ্টাঙ্গহৃদয়’ ছিল। এ সকল থেকেই আমি প্রেরণা পেয়েছি। সেইজন্য তাঁদের সকলের প্রতি আমি নতশির।
আত্রেয়কল্প, বর্তমানে পরলোকগত, পীযূষপাণি গুরুবর, পণ্ডিতপ্রবর লালচন্দ্রজি বৈদ্য, অধ্যক্ষ, শ্রীঅর্জুন আয়ুর্বেদ মহাবিদ্যালয়, বারাণসীর প্রতি আমি কোন ভাষায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব? ছাত্রাবস্থায় যাঁর স্নেহসুধায় সিঞ্চিত হয়েছে আমার দেহ, জ্ঞানামৃতে আপ্লুত হয়েছে আমার মস্তক এবং যাঁর অমোঘ আশীর্বাদে আমার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধ ও সংরক্ষিত হয়েছে—তাঁর প্রতি সর্বদা নতশির থাকাই আমার শোভা।
ব্যাকরণে পতঞ্জলি, ন্যায়ে গৌতম, বৈশেষিক দর্শনে কণাদ, সাংখ্যে কপিল, মীমাংসায় জৈমিনি, ছন্দশাস্ত্রে পিঙ্গলমুনি, সাহিত্যে ভাস ও কালিদাসের প্রতিদ্বন্দ্বী, পাশ্চাত্য সাহিত্যের বিশেষজ্ঞ মহাকবি পণ্ডিতপ্রবর বসন্ত ত্র্যম্বক শেভডের প্রতিও আমি ঋণী। তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে উদ্ভট বিদ্বান বাগ্ভটের বর্তমান কৃতিতে স্থান-স্থানান্তরে ব্যবহৃত ব্যাকরণ-সংক্রান্ত পদগুলিকে স্পষ্ট করে আমার পথ সুগম করেছেন।
এই সুযোগে আমি আমার কৃশকায় কিন্তু অদম্য উৎসাহসম্পন্ন সহধর্মিণীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। তাঁর সহযোগিতায়ই আমি আজ পর্যন্ত সাহিত্যসৃষ্টি করতে পেরেছি এবং ভবিষ্যতেও যেন কিছু করতে পারি—এই আমার সাম্বসদাশিবের নিকট করজোড় প্রার্থনা।
পরিশেষে, বর্তমান ‘অষ্টাঙ্গহৃদয়’-এর সুশোভিত প্রকাশনায় ব্যয়ভার প্রভৃতির চিন্তা না করে যথাসম্ভব শুদ্ধভাবে মুদ্রণের জন্য চৌখম্বা সুরভারতী পরিবার, বারাণসী যে আন্তরিকতা প্রদর্শন করেছে, তার জন্য তাঁদের অসংখ্য সাধুবাদ জানিয়ে তাঁদের শ্রীবৃদ্ধি ও যশোবৃদ্ধি কামনা করি। এই গ্রন্থের প্রুফ সংশোধনে শ্রী যোগেশকুমার পাণ্ড্যা মনোযোগসহকারে কাজ করেছেন। এই জন্য তিনি ধন্যবাদার্হ।
বিদুষাং বিধেয়ঃ
ডঃ ব্রহ্মানন্দ ত্রিপাঠী
বিষয়ানুক্রমণিকা
সূত্রস্থান
| বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক | বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক |
|---|---|---|---|
| (১) আয়ুষ্কামীয় অধ্যায় | রোগের পরীক্ষা | ১৮ | |
| মঙ্গলাচরণ | ২ | দেশের ভেদসমূহের বর্ণনা | ১৮ |
| আয়ুর্বেদের প্রয়োজন | ৩ | ভূমিদেশের বর্ণনা | ১৯ |
| আয়ুর্বেদের অবতরণ | ৪ | কালের ভেদ | ১৯ |
| অষ্টাঙ্গহৃদয়ের স্বরূপ | ৫ | ঔষধের ভেদ | ২০ |
| আয়ুর্বেদের আটটি অঙ্গ | ৫ | শারীরিক দোষের চিকিৎসা | ২০ |
| দোষসমূহের বর্ণনা | ৮ | মানসিক দোষের চিকিৎসা | ২০ |
| বিকৃত-অবিকৃত দোষ | ৮ | চিকিৎসার চার পাদ | ২০ |
| দোষসমূহের স্থান ও প্রকোপকাল | ৯ | বৈদ্যের চার লক্ষণ | ২১ |
| বয়স প্রভৃতির অনুসারে কাল | ৯ | ঔষধদ্রব্যের চার লক্ষণ | ২১ |
| দোষসমূহের অগ্নির উপর প্রভাব | ৯ | পরিচারক (উপস্থাতা)-এর চার লক্ষণ | ২১ |
| দোষসমূহের কোষ্ঠের উপর প্রভাব | ৯ | রোগীর চার লক্ষণ | ২১ |
| দোষসমূহের দ্বারা গর্ভপ্রকৃতির বর্ণনা | ১০ | সাধ্য-অসাধ্যের অনুসারে ব্যাধির ভেদ | ২২ |
| বাতদোষের গুণ | ১০ | সুখসাধ্য রোগের লক্ষণ | ২২ |
| পিত্তদোষের গুণ | ১০ | কষ্টসাধ্য রোগের লক্ষণ | ২৩ |
| কফদোষের গুণ | ১১ | যাপ্য রোগের লক্ষণ | ২৩ |
| সংসর্গ-সন্নিপাতের পরিভাষা | ১১ | প্রত্যাখ্যেয় রোগের লক্ষণ | ২৩ |
| ধাতুগুলির বর্ণনা | ১১ | ত্যাজ্য রোগী | ২৩ |
| মলসমূহের বর্ণনা | ১১ | অধ্যায়-সংগ্রহের বর্ণনা | ২৪ |
| দোষ, ধাতু ও মলের বৃদ্ধি এবং ক্ষয় | ১২ | সূত্রস্থানের অধ্যায়সমূহ | ২৪ |
| রসসমূহের বর্ণনা | ১২ | শরীরস্থানের অধ্যায়সমূহ | ২৪ |
| রসসমূহের বাত প্রভৃতির উপর প্রভাব | ১৩ | নিদানস্থানের অধ্যায়সমূহ | ২৪ |
| দ্রব্যের বর্ণনা | ১৩ | চিকিৎসাস্থানের অধ্যায়সমূহ | ২৫ |
| বীর্যের বর্ণনা | ১৪ | কল্প-সিদ্ধিস্থানের অধ্যায়সমূহ | ২৫ |
| বিপাকের বর্ণনা | ১৪ | উত্তরস্থানের অধ্যায়সমূহ | ২৫ |
| দ্রব্যের গুণসমূহের বর্ণনা | ১৫ | অষ্টাঙ্গহৃদয়ের ছয়টি স্থান | ২৫ |
| রোগ ও আরোগ্যের কারণ | ১৫ | ||
| রোগ ও আরোগ্যের ভেদ | ১৬ | (২) দিনচর্যাধ্যায় | |
| রোগের দুই ভেদ | ১৬ | ব্রাহ্মমুহূর্তে জাগরণ | ২৬ |
| দুই প্রকার রোগাধিষ্ঠান | ১৭ | দন্তধাবনের বিধান | ২৬ |
| মানসিক দোষের পরিচয় | ১৭ | দন্তধাবনের পদ্ধতি | ২৭ |
| রোগীর পরীক্ষা | ১৭ | দন্তধাবনের নিষেধ | ২৭ |
| অঞ্জন-প্রয়োগ | ২৮ |
| বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক | বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক |
|---|---|---|---|
| রসাঞ্জন-প্রয়োগবিধি | ২৮ | নিষিদ্ধ কার্য | ৩৭ |
| নস্য প্রভৃতি সেবনের নির্দেশ | ২৮ | হাঁচি প্রভৃতি করার পদ্ধতি | ৩৭ |
| তাম্বূল সেবনের পদ্ধতি | ২৮ | আঙ্গিক চেষ্টার নিষেধ | ৩৭ |
| তাম্বূল সেবনের নিষেধ | ২৯ | শারীরিক প্রভৃতি চেষ্টার মাত্রা | ৩৭ |
| অভ্যঙ্গ সেবনের বিধান | ২৯ | ১. অন্যান্য সদাচার | ৩৭ |
| অভ্যঙ্গের প্রধান স্থান | ৩০ | ২. অন্যান্য সদাচার | ৩৮ |
| অভ্যঙ্গের নিষেধ | ৩০ | মদ্যবিক্রয় প্রভৃতির নিষেধ | ৩৮ |
| ব্যায়ামের বিধান | ৩০ | অন্যান্য নিষিদ্ধ কর্ম | ৩৮ |
| ব্যায়ামের নিষেধ | ৩১ | অন্যান্য সদুপদেশ | ৩৯ |
| অর্ধশক্তি ও কাল-নির্দেশ | ৩১ | সদাচারসূত্র | ৩৯ |
| শরীরমর্দনের নির্দেশ | ৩১ | বিচার-পদ্ধতি | ৩৯ |
| অতিব্যায়ামে ক্ষতি | ৩১ | সদ্বৃত্তের উপসংহার | ৩৯ |
| ব্যায়াম প্রভৃতির নিষেধ | ৩২ | (৩) ঋতুচর্যাধ্যায় | |
| উদ্বর্তনের গুণ | ৩২ | ছয় ঋতু | ৪০ |
| স্নানের গুণ | ৩২ | উত্তরায়ণ এবং আদানকাল | ৪০ |
| উষ্ণ-শীতল জলের প্রয়োগ | ৩২ | অগ্নিগুণ-প্রধান আদানকাল | ৪১ |
| স্নানের নিষেধ | ৩৩ | বিসর্গকাল-দক্ষিণায়ন | ৪১ |
| ভোজন প্রভৃতি কর্তব্য | ৩৩ | বিসর্গকালের পরিচয় | ৪১ |
| সুখের সাধন ধর্ম | ৩৩ | বলের চয়-অপচয় | ৪২ |
| মিত্র-অমিত্র সেবনের বিবেচনা | ৩৪ | হেমন্ত ঋতুচর্যা | ৪২ |
| পাপকর্মের ত্যাগ | ৩৪ | প্রাতঃকালের কর্তব্য | ৪৩ |
| অনুকূল আচরণের নির্দেশ | ৩৪ | স্নান প্রভৃতির পদ্ধতি | ৪৩ |
| সমদৃষ্টিতার নির্দেশ | ৩৪ | শীতনাশক উপায় | ৪৪ |
| সম্মান করার নির্দেশ | ৩৪ | নিবাসের বিধান | ৪৪ |
| যাচকদের সম্মান করার বিধান | ৩৫ | শিশির ঋতুচর্যা | ৪৪ |
| উপকারের নির্দেশ | ৩৫ | বসন্ত ঋতুচর্যা | ৪৫ |
| সমভাবের নির্দেশ | ৩৫ | মধ্যাহ্নচর্যা | ৪৫ |
| মধুরভাষণের নির্দেশ | ৩৫ | বসন্ত ঋতুতে অপথ্য | ৪৫ |
| ভাষণের পদ্ধতি | ৩৫ | গ্রীষ্ম ঋতুচর্যা | ৪৫ |
| চিন্তাকে গোপন রাখা | ৩৫ | সেবনীয় দ্রব্য | ৪৬ |
| পরচ্ছন্দানুবর্তন | ৩৫ | সত্তু সেবনের পদ্ধতি | ৪৬ |
| ইন্দ্রিয়-ব্যবহারের পদ্ধতি | ৩৬ | মদ্যসেবনের পদ্ধতি | ৪৬ |
| বিবর্গ-বিরোধের নিষেধ | ৩৬ | মদ্যপানের নিষেধ | ৪৬ |
| সকল ধর্মের আচরণ | ৩৬ | ভোজনের বিধান | ৪৬ |
| শরীরশুদ্ধির প্রকার | ৩৬ | পেয়ের বিধান | ৪৬ |
| রত্ন প্রভৃতির ধারণ | ৩৬ | রাত্রিতে দুগ্ধপানের বিধান | ৪৭ |
| ছাতা প্রভৃতির ধারণ | ৩৬ | মধ্যাহ্নচর্যা | ৪৭ |
| দণ্ড প্রভৃতির ধারণ | ৩৬ | ১. শয়নের বিধান | ৪৭ |
| গমনের নির্দেশ | ৩৬ | ২. শয়নের বিধান | ৪৭ |
| বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক | বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক |
|---|---|---|---|
| রাত্রিচর্যা | ৪৮ | শোধনের প্রয়োজনীয়তা | ৫৯ |
| মনোরম পরিবেশ | ৪৮ | সংশোধনকর্মের প্রশংসা | ৫৯ |
| বর্ষা ঋতুচর্যা | ৪৮ | রসায়ন ও বাজীকরণ যোগের প্রয়োগ | ৬০ |
| শরীরশুদ্ধি | ৪৮ | শোধনোত্তর চিকিৎসা | ৬০ |
| সেবনীয় বিহার | ৪৯ | চিকিৎসার ফল | ৬০ |
| ত্যাজ্য বিহার | ৪৯ | আগন্তুক রোগ | ৬১ |
| শরৎ ঋতুচর্যা | ৪৯ | নিজাগন্তুক রোগের নিরোধ ও শমন | ৬১ |
| আহারবিধি | ৫০ | শোধনযোগ্য ঋতুসমূহ | ৬২ |
| হংসোদক সেবনের নির্দেশ | ৫০ | সুস্থ থাকার উপায় | ৬২ |
| বিহারবিধি | ৫০ | (৫) দ্রবদ্রব্যবিজ্ঞনীয় অধ্যায় অথবা তোয়বর্গ | |
| অপথ্যের নিষেধ | ৫০ | গঙ্গার জল | ৬৪ |
| সংক্ষিপ্ত ঋতুচর্যা | ৫০ | গঙ্গাজলের পরিচয় | ৬৪ |
| রস সেবনের নির্দেশ | ৫২ | সামুদ্রিক জল | ৬৫ |
| ঋতুসন্ধিতে কর্তব্য | ৫২ | পানীয় জল | ৬৫ |
| (৪) রোগানুৎপাদনীয় অধ্যায় | পানের অযোগ্য জল | ৬৫ | |
| বেগ দমন না করার নির্দেশ | ৫৪ | ১. নদীর জলের বর্ণনা | ৬৬ |
| অপানবায়ু রোধে ক্ষতি | ৫৪ | ২. নদীর জলের বর্ণনা | ৬৬ |
| মলবেগরোধজনিত রোগ | ৫৫ | ৩. নদীর জলের বর্ণনা | ৬৬ |
| মূত্রবেগরোধজনিত রোগ | ৫৫ | কূপ প্রভৃতির জল | ৬৭ |
| উক্ত রোগসমূহের চিকিৎসা | ৫৫ | জলপানের বিধি | ৬৭ |
| মূত্রবেগরোধজনিত রোগের চিকিৎসা | ৫৫ | জলপানের প্রভাব | ৬৭ |
| উদ্গারবেগরোধজনিত রোগের চিকিৎসা | ৫৫ | শীতল জলপানের উপকারিতা | ৬৮ |
| হাঁচির বেগ রোধে ক্ষতি | ৫৬ | উষ্ণ জলসেবনের উপকারিতা | ৬৮ |
| হাঁচিবেগরোধজনিত রোগের চিকিৎসা | ৫৬ | শ্রুতশীত ও বাসি জল | ৬৮ |
| তৃষ্ণাবেগরোধজনিত রোগের চিকিৎসা | ৫৬ | নারকেলের জল | ৬৮ |
| ক্ষুধাবেগরোধজনিত রোগের চিকিৎসা | ৫৬ | উত্তম ও অধম জল | ৬৮ |
| নিদ্রাবেগরোধজনিত রোগের চিকিৎসা | ৫৬ | অথ ক্ষীরবর্গ | |
| কাসবেগরোধজনিত রোগের চিকিৎসা | ৫৭ | সাধারণ দুধের গুণ | ৬৮ |
| শ্রমশ্বাসবেগরোধজনিত রোগের চিকিৎসা | ৫৭ | গরুর দুধের গুণ | ৬৯ |
| জৃম্ভাবেগরোধজনিত রোগের চিকিৎসা | ৫৭ | মহিষের দুধের গুণ | ৬৯ |
| অশ্রুবেগরোধজনিত রোগের চিকিৎসা | ৫৭ | ছাগলের দুধের গুণ | ৬৯ |
| ছর্দিবেগরোধজনিত রোগ | ৫৮ | উটনীর দুধের গুণ | ৭০ |
| ছর্দিবেগরোধজনিত রোগের চিকিৎসা | ৫৮ | মানবীর দুধের গুণ | ৭০ |
| শুক্রের বেগ রোধের ফলে উৎপন্ন রোগ | ৫৮ | ভেড়ির দুধের গুণ | ৭০ |
| শুক্রের বেগ রোধের ফলে উৎপন্ন রোগের চিকিৎসা | ৫৮ | হাতিনীর দুধের গুণ | ৭০ |
| বেগরোধকারীর অসাধ্য লক্ষণ | ৫৮ | একশফ প্রাণীর দুধের গুণ | ৭০ |
| সাধারণ চিকিৎসা | ৫৯ | আম ও মৃত দুধের গুণ | ৭০ |
| ধারণীয় বেগ | ৫৯ | ধারোষ্ণ দুধের গুণ | ৭০ |
| বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক | বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক |
|---|---|---|---|
| দধির গুণের বর্ণনা | ৭১ | বারুণীর পরিচয় | ৮১ |
| তক্রের বর্ণনা | ৭১ | যব (যব থেকে প্রস্তুত) সুরা | ৮১ |
| মস্তুর বর্ণনা | ৭২ | বহেড়ার সুরা | ৮১ |
| নবনীতের বর্ণনা | ৭২ | কৌহলী সুরা | ৮১ |
| দুধের নবনীত | ৭২ | মধূলক সুরা | ৮১ |
| ঘৃতের গুণ | ৭৩ | অরিষ্টের পরিচয় | ৮১ |
| পুরাতন ঘৃতের প্রয়োগ | ৭৩ | মুনাক্কা (মার্ডীক) আসব | ৮২ |
| কিলাট প্রভৃতির বর্ণনা | ৭৩ | খেজুর, শর্করার আসব | ৮২ |
| উত্তম-অধম বিচার | ৭৩ | গুড়-নির্মিত আসব | ৮২ |
| অথ ইক্ষুবর্গ | সীধুর বর্ণনা | ৮৩ | |
| আখের রসের বর্ণনা | ৭৪ | মধ্বাসবের বর্ণনা | ৮৩ |
| আগ্রভাগের রস | ৭৪ | শুক্তের বর্ণনা | ৮৩ |
| যান্ত্রিক রসের ভেদ | ৭৪ | গুড় প্রভৃতি শুক্ত | ৮৩ |
| ইক্ষুর ভেদ ও গুণ | ৭৪ | কন্দ প্রভৃতি শুক্ত | ৮৩ |
| শতপর্বক প্রভৃতি ইক্ষুর গুণ | ৭৫ | শাণ্ডাকীর বর্ণনা | ৮৪ |
| ফাণিতের গুণ | ৭৫ | ধান্যাম্ল প্রভৃতির বর্ণনা | ৮৪ |
| গুড়ের গুণ | ৭৫ | সৌবীরক এবং তুষোদক | ৮৪ |
| পুরাতন-নতুন গুড়ের গুণ | ৭৫ | অথ মূত্রবর্গ | |
| মৎস্যণ্ডিকা প্রভৃতির গুণ | ৭৫ | মূত্রসমূহের বর্ণনা | ৮৫ |
| যবাসশর্করার গুণ | ৭৫ | (৬) অন্নস্বরূপবিজ্ঞনীয় অধ্যায় | |
| সকল শর্করার গুণ | ৭৫ | অথ শূকধান্যবর্গ | |
| শর্করার উৎকৃষ্টতা | ৭৬ | শূকধান্যসমূহের বর্ণনা | ৮৬ |
| অথ মধুবর্গ | রক্তশালির বর্ণনা | ৮৭ | |
| মধুর বর্ণনা | ৭৬ | ক্রমশঃ গুণহীনতা | ৮৭ |
| উষ্ণ মধু সেবনের নিষেধ | ৭৬ | যবক প্রভৃতি শালিধান্য | ৮৭ |
| সংশোধনে মধুর প্রয়োগ | ৭৬ | ব্রীহিধান্যের বর্ণনা | ৮৭ |
| অথ তৈলবর্গ | সাধারণ গুণবিশিষ্ট ষষ্টিক | ৮৭ | |
| সাধারণ তেলের বর্ণনা | ৭৭ | অন্যান্য ব্রীহিধান্যের বর্ণনা | ৮৮ |
| এরণ্ডতেলের গুণ | ৭৭ | তৃণধান্যের বর্ণনা | ৮৮ |
| সরিষার তেল | ৭৭ | প্রিয়ঙ্গুধান্যের বর্ণনা | ৮৮ |
| বহেড়ার বীজের তেল | ৭৮ | কোদোধান্যের বর্ণনা | ৮৮ |
| নিমের বীজের তেল | ৭৮ | জীর বর্ণনা | ৮৮ |
| অতসী-কুসুম্ভ তেল | ৭৮ | অনুয়বের বর্ণনা | ৮৯ |
| প্রাণিজ স্নেহ | ৭৮ | বংশজাত যবের বর্ণনা | ৮৯ |
| অথ মদ্যবর্গ | গোধূমের বর্ণনা | ৮৯ | |
| মদ্যের বর্ণনা | ৭৯ | নন্দীমুখীর বর্ণনা | ৮৯ |
| নতুন ও পুরাতন মদ্য | ৮০ | অথ শিম্বীধান্যবর্গ | |
| মদ্যের নিষেধ | ৮০ | শিম্বীধান্যের পরিচয় | ৮৯ |
| বিভিন্ন সুরার বর্ণনা | ৮০ | মুগ, মটর, রাজমাষ | ৯০ |
| বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক | বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক |
|---|---|---|---|
| কুলথীর বর্ণনা | ৯০ | অবশিষ্ট প্রাণীদের নির্ণয় | ৯৮ |
| শিমের বর্ণনা | ৯০ | মাংসসমূহের বর্ণনা | ৯৯ |
| মাষ (উড়দ)-এর বর্ণনা | ৯০ | শশকের মাংসের গুণ | ৯৯ |
| কাকাণ্ডোলা এবং কেবাঁচ | ৯০ | বর্তক প্রভৃতির মাংস | ৯৯ |
| তিলের বর্ণনা | ৯১ | ময়ূরের মাংস | ৯৯ |
| অতসী ও কুসুম্ভ বীজ | ৯১ | কুক্কুটের মাংস | ৯৯ |
| মাষ, যবকের বর্ণনা | ৯১ | পোষা মুরগির মাংস | ৯৯ |
| ধান্যের বিবেচনা | ৯১ | কৃকর এবং উপচক্রকের মাংস | ৯৯ |
| অথ কৃতান্নবর্গ | কাণকপোতকের মাংস | ৯৯ | |
| রান্না করা অন্নের বর্ণনা | ৯২ | চটকের মাংস | ৯৯ |
| পেয়ার বর্ণনা | ৯২ | আট প্রকার মাংসের বর্ণনা | ৯৯ |
| বিলেপীর বর্ণনা | ৯২ | মহামৃগের মাংস | ১০০ |
| ওদন (ভাত)-এর বর্ণনা | ৯৩ | ছাগলের মাংস | ১০০ |
| সংক্ষিপ্ত নির্দেশ | ৯৩ | ভেড়ার মাংস | ১০০ |
| মাংসরসের গুণ | ৯৩ | গরুর মাংস | ১০০ |
| মুগের যূষ | ৯৩ | মহিষের মাংস | ১০০ |
| কুলথীর যূষ | ৯৩ | শূকরের মাংস | ১০০ |
| তিল, পিণ্যাক প্রভৃতি | ৯৩ | মাছের মাংস | ১০০ |
| রসালার গুণ | ৯৩ | চিলচিম মাছের মাংস | ১০০ |
| পানক (শীতল পানীয়)-এর গুণ | ৯৪ | লাভ প্রভৃতির বর্ণনা | ১০১ |
| লাজার বর্ণনা | ৯৪ | ভক্ষ্য মাংসের বর্ণনা | ১০১ |
| পৃথুক (চিঁড়া)-এর বর্ণনা | ৯৪ | অভক্ষ্য মাংসের বর্ণনা | ১০১ |
| ধানার বর্ণনা | ৯৪ | বিশেষ অঙ্গের মাংস | ১০১ |
| সত্তুর বর্ণনা | ৯৫ | অথ শাকবর্গ | |
| পিণ্যাকের বর্ণনা | ৯৫ | শাকসমূহের বর্ণনা | ১০২ |
| বেসবারের বর্ণনা | ৯৫ | সুনিষণ্ণকের বর্ণনা | ১০২ |
| মুগ প্রভৃতির বেসবার | ৯৫ | রাজক্ষবের বর্ণনা | ১০২ |
| অপূপের বর্ণনা | ৯৬ | বাস্তুকের বর্ণনা | ১০২ |
| অথ মাংসবর্গ | কাকমাচীর বর্ণনা | ১০২ | |
| মৃগের পরিচয় | ৯৬ | চাঙ্গেরীর বর্ণনা | ১০২ |
| বিষ্কিরের পরিচয় | ৯৬ | পটোল প্রভৃতি শাক | ১০৩ |
| প্রতুদের পরিচয় | ৯৭ | পরবলের শাক | ১০৩ |
| বিলেশয়ের পরিচয় | ৯৭ | বৃহতীদ্বয়ের বর্ণনা | ১০৩ |
| প্রসহ মৃগ-পক্ষী | ৯৭ | অডূসার বর্ণনা | ১০৩ |
| মহামৃগের পরিচয় | ৯৮ | করলার বর্ণনা | ১০৩ |
| জলচর পক্ষীর পরিচয় | ৯৮ | বেগুনের বর্ণনা | ১০৩ |
| মাছের পরিচয় | ৯৮ | করীরের বর্ণনা | ১০৩ |
| আট প্রকার মাংস | ৯৮ | তোরই (কোশাতকী) এবং বাকুচী (ভবত্গুজ)-এর শাক | ১০৪ |
| বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক | বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক |
|---|---|---|---|
| তণ্ডুলীয়ের বর্ণনা | ১০৪ | উত্তম-অধম নির্ণয় | ১১০ |
| মুঞ্জাতকের বর্ণনা | ১০৪ | অথ ফলবর্গ | |
| পালকীর বর্ণনা | ১০৪ | দ্রাক্ষার পরিচয় | ১১১ |
| উপোদিকার বর্ণনা | ১০৪ | দাড়িম ফলের বর্ণনা | ১১১ |
| চঞ্চুর বর্ণনা | ১০৪ | কলা প্রভৃতি ফলের বর্ণনা | ১১১ |
| বিদারীকন্দের বর্ণনা | ১০৪ | তাল প্রভৃতি ফলের বর্ণনা | ১১২ |
| জীবন্তীর বর্ণনা | ১০৪ | বিল্বফলের বর্ণনা | ১১২ |
| কূষ্মাণ্ড প্রভৃতির বর্ণনা | ১০৫ | কপিত্থফলের বর্ণনা | ১১২ |
| ত্রপুসের বর্ণনা | ১০৫ | জামুনফলের বর্ণনা | ১১২ |
| তুম্বের বর্ণনা | ১০৫ | আমের বর্ণনা | ১১৩ |
| শীর্ণবৃন্ত ফল-শাক | ১০৫ | বৃক্ষাম্লের বর্ণনা | ১১৩ |
| মৃণাল প্রভৃতির বর্ণনা | ১০৫ | শমীফলের বর্ণনা | ১১৩ |
| কলম্ব প্রভৃতির বর্ণনা | ১০৬ | পীলুফলের বর্ণনা | ১১৩ |
| চিল্লো শাকের বর্ণনা | ১০৬ | মাতুলুঙ্গ (বিজৌরা লেবু)-এর বর্ণনা | ১১৩ |
| তরকারি প্রভৃতি শাকের বর্ণনা | ১০৬ | ভিলাওয়ার বর্ণনা | ১১৪ |
| পুনর্নবা এবং কালশাক | ১০৬ | পারেবতের বর্ণনা | ১১৪ |
| করঞ্জের শাক | ১০৬ | আরুক ফলের বর্ণনা | ১১৪ |
| শতাবরীর শাক | ১০৬ | কাঁচা আঙুর প্রভৃতি ফল | ১১৪ |
| বাঁশকরীরের শাক | ১০৭ | করমর্দ (করৌন্দা)-এর কাঁচা ফল | ১১৫ |
| পত্তূরের শাক | ১০৭ | কোল, কর্কন্ধুর বর্ণনা | ১১৫ |
| কাসমর্দের শাক | ১০৭ | তেঁতুল ও বরইয়ের শুকনো ফল | ১১৫ |
| কুসুম্ভের শাক | ১০৭ | বড়হরের ফল | ১১৫ |
| সরিষা (সর্ষপ)-এর পাতার শাক | ১০৭ | ত্যাজ্য ধান্য, শাক এবং ফল | ১১৫ |
| বালমূলীর শাক | ১০৭ | ঔষধবর্গ | |
| বৃদ্ধমূলীর শাক | ১০৭ | সাধারণ লবণের গুণ | ১১৫ |
| স্নেহসিদ্ধ মূলীর শাক | ১০৭ | সেঁধা লবণের গুণ | ১১৬ |
| শুকনো মূলীর শাক | ১০৮ | সৌবর্চল লবণের গুণ | ১১৬ |
| কাঁচা মূলীর শাক | ১০৮ | বিট লবণের গুণ | ১১৬ |
| পিণ্ডালুর শাক | ১০৮ | সামুদ্রিক লবণের গুণ | ১১৬ |
| কুঠেরক প্রভৃতি শাক | ১০৮ | ঔদ্ভিদ লবণের গুণ | ১১৭ |
| সুরসের শাক | ১০৯ | কৃষ্ণলবণের গুণ | ১১৭ |
| সুমুখের শাক | ১০৯ | রোমক লবণের গুণ | ১১৭ |
| ধনিয়া (আর্দ্রিকা)-এর শাক | ১০৯ | সাধারণ নির্দেশ | ১১৭ |
| রসুনকন্দের শাক | ১০৯ | যবক্ষারের গুণ | ১১৭ |
| পলাণ্ডুর শাক | ১০৯ | সকল প্রকার ক্ষার | ১১৭ |
| গৃঞ্জনকের শাক | ১০৯ | হিং-এর বর্ণনা | ১১৮ |
| সূরণের শাক | ১১০ | হরীতকীর বর্ণনা | ১১৮ |
| ভূকন্দের শাক | ১১০ | আমলকের বর্ণনা | ১১৮ |
| শাকসমূহে উত্তরোত্তর গুরুতা | ১১০ | বিভীতকের বর্ণনা | ১১৮ |
| বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক | বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক |
|---|---|---|---|
| ত্রিফলার বর্ণনা | ১১৯ | দোষসমূহকে দূষিত করবেন না | ১২৯ |
| ত্রিজাত ও চতুর্জাত | ১১৯ | তিনটি উপস্তম্ভ | ১২৯ |
| মরিচের গুণ | ১১৯ | আহার নামক উপস্তম্ভ | ১২৯ |
| পিপ্পলীর গুণ | ১১৯ | নিদ্রা নামক উপস্তম্ভ | ১৩০ |
| শুঁঠের গুণ | ১১৯ | নিদ্রার অভাব | ১৩০ |
| আর্দ্রকের গুণ | ১১৯ | নিদ্রার গুণ ও দোষ | ১৩০ |
| ত্রিকটুর গুণ | ১১৯ | নিদ্রা-সম্পর্কিত আলোচনা | ১৩০ |
| চব্য ও পিপ্পলীমূল | ১২০ | দিনে না ঘুমানোর নির্দেশ | ১৩০ |
| চিত্রকের গুণ | ১২০ | অসময়ে শয়নের ক্ষতি | ১৩১ |
| পঞ্চকোলের গুণ | ১২০ | চিকিৎসার নির্দেশ | ১৩১ |
| বৃহৎপঞ্চমূলের গুণ | ১২০ | নিদ্রানাশের লক্ষণ | ১৩১ |
| লঘুপঞ্চমূলের গুণ | ১২০ | নিদ্রা গ্রহণের নির্দেশ | ১৩১ |
| মধ্যমপঞ্চমূলের গুণ | ১২০ | পূর্ণ নিদ্রা প্রাপ্তির পদ্ধতি | ১৩১ |
| জীবনপঞ্চমূলের গুণ | ১২০ | ব্রহ্মচর্য নামক উপস্তম্ভ | ১৩১ |
| তৃণপঞ্চমূলের গুণ | ১২১ | স্ত্রীসহবাসের বর্ণনা | ১৩২ |
| (৭) অন্নরক্ষাধ্যায় | মৈথুনের অযোগ্য অবস্থা | ১৩৩ | |
| প্রাণাচার্যের নিয়োগ | ১২২ | মৈথুন-সম্পর্কিত অন্যান্য নির্দেশ | ১৩৩ |
| চিকিৎসকের কর্তব্য | ১২২ | বিপরীত আচরণের ফল | ১৩৩ |
| বিষাক্ত ভাতের লক্ষণ | ১২২ | সংযমের গুরুত্ব | ১৩৩ |
| বিষাক্ত ব্যঞ্জনের লক্ষণ | ১২৩ | মৈথুনোত্তর কর্তব্য | ১৩৪ |
| বিষাক্ত মাংস প্রভৃতির লক্ষণ | ১২৩ | রাজা প্রভৃতির কর্তব্য | ১৩৪ |
| বিষদাতার লক্ষণ | ১২৩ | (৮) মাত্রাশিতীয় অধ্যায় | |
| বিষাক্ত অন্নের পরীক্ষা | ১২৪ | আহারের মাত্রার বর্ণনা | ১৩৫ |
| বিষাক্ত অন্নের প্রভাব | ১২৪ | মাত্রায় গুরু-লঘু বিচার | ১৩৫ |
| স্পর্শজনিত বিষের চিকিৎসা | ১২৪ | হীনমাত্রার আহারে ক্ষতি | ১৩৬ |
| মুখে বিষের প্রভাব | ১২৫ | অধিকমাত্রার আহারে ক্ষতি | ১৩৬ |
| আমাশয়গত বিষের লক্ষণ | ১২৫ | বিসূচিকার লক্ষণ | ১৩৬ |
| পাক্বাশয়গত বিষের লক্ষণ | ১২৫ | অলসকের পরিভাষা | ১৩৬ |
| উক্ত উভয়ের চিকিৎসা | ১২৫ | বিসূচিকার পরিভাষা | ১৩৬ |
| তাম্র ও স্বর্ণভস্মের প্রয়োগ | ১২৫ | বিসূচিকার লক্ষণ | ১৩৬ |
| স্বর্ণভস্মের প্রভাব | ১২৫ | অলসকের বর্ণনা | ১৩৭ |
| বিরুদ্ধ আহার | ১২৬ | দণ্ডালসকের বর্ণনা | ১৩৭ |
| আনূপদেশীয় মাংস | ১২৬ | আমবিষের বর্ণনা | ১৩৭ |
| দুগ্ধপান-বিবেচনা | ১২৬ | আমদোষের চিকিৎসা | ১৩৭ |
| বিরুদ্ধ দ্রব্যের লক্ষণ | ১২৬ | পাণিদাহ-প্রয়োগ | ১৩৮ |
| বিরুদ্ধ আহারের সেবন | ১২৮ | অন্যান্য চিকিৎসা | ১৩৮ |
| অপথ্যের ত্যাগ ও পথ্যের সেবন | ১২৯ | অপতর্পণ-প্রয়োগ | ১৩৯ |
| হঠাৎ ত্যাগের নিষেধ | ১২৯ | হেতুবিপরীত প্রভৃতি চিকিৎসা | ১৩৯ |
| দোষের হ্রাস, গুণের বৃদ্ধি | ১২৯ | বিপরীতার্থকারী চিকিৎসা | ১৩৯ |
| বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক | বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক |
|---|---|---|---|
| আমাজীর্ণের লক্ষণ | ১৩৯ | দ্রব্য-বর্ণনার সমাপ্তি | ১৪৮ |
| বিষ্টব্ধাজীর্ণের লক্ষণ | ১৩৯ | রসবর্ণনার প্রস্তাব | ১৪৮ |
| বিদগ্ধাজীর্ণের লক্ষণ | ১৩৯ | দ্রব্যগত বীর্যের বর্ণনা | ১৪৮ |
| বিলম্বিকার লক্ষণ | ১৩৯ | চরকসম্মত বীর্য | ১৪৮ |
| রসশেষাজীর্ণের চিকিৎসা | ১৩৯ | বাগ্ভটের মত | ১৪৮ |
| চিকিৎসাসূত্র | ১৪০ | রস প্রভৃতির মধ্যে বীর্যের শ্রেষ্ঠতা | ১৪৮ |
| অজীর্ণের সাধারণ লক্ষণ | ১৪০ | বীর্য-সম্পর্কিত অন্যান্য মত | ১৪৮ |
| অজীর্ণের বিভিন্ন কারণ | ১৪০ | বাগ্ভটের সমর্থন | ১৪৮ |
| সমশন প্রভৃতির লক্ষণ | ১৪০ | বীর্যের লক্ষণ | ১৪৯ |
| শাস্ত্রসম্মত ভোজনবিধি | ১৪১ | বিপাকের বর্ণনা | ১৪৯ |
| ত্যাজ্য ভোজনবিধি | ১৪১ | বিপাকজাত রসের ভেদ | ১৪৯ |
| অসেবনীয় আহার | ১৪১ | রস, বীর্য, বিপাক, প্রভাব | ১৪৯ |
| সেবনীয় আহার | ১৪২ | দ্রব্যের স্বাভাবিক বল | ১৫০ |
| রাত্রিতে সেবনীয় দ্রব্য | ১৪২ | রস প্রভৃতির স্বাভাবিক বল | ১৫০ |
| অন্যান্য দ্রব্য ভক্ষণ-পদ্ধতি | ১৪২ | প্রভাবের বর্ণনা | ১৫০ |
| আমাশয়ের চার ভাগ | ১৪২ | দ্রব্য প্রভৃতির কর্ম | ১৫০ |
| বিভিন্ন প্রকার অনুপান | ১৪২ | ভিন্নতার উদাহরণ | ১৫০ |
| উত্তম অনুপান | ১৪৩ | (১০) রসভেদীয় অধ্যায় | |
| অনুপান সেবনের ফল | ১৪৩ | মধুর প্রভৃতি রসের উৎপত্তি | ১৫২ |
| ১. অনুপানের নিষেধ | ১৪৩ | মধুর রসের লক্ষণ | ১৫২ |
| ২. অনুপানের নিষেধ | ১৪৩ | অম্ল রসের লক্ষণ | ১৫২ |
| ৩. অনুপানের নিষেধ | ১৪৩ | লবণ রসের লক্ষণ | ১৫৩ |
| ভোজনসময়ের নির্দেশ | ১৪৪ | তিক্ত রসের লক্ষণ | ১৫৩ |
| (৯) দ্রব্যাদিবিজ্ঞনীয় অধ্যায় | কটু রসের লক্ষণ | ১৫৩ | |
| দ্রব্যের প্রাধান্য | ১৪৫ | কষায় রসের লক্ষণ | ১৫৩ |
| দ্রব্যের স্বরূপ | ১৪৫ | রসসমূহের স্বরূপ | ১৫৩ |
| দ্রব্যের উৎপত্তি | ১৪৫ | রসসমূহের কর্ম | ১৫৩ |
| উৎপত্তির কারণ | ১৪৫ | মধুর রসের কর্ম | ১৫৩ |
| নামকরণের কারণ | ১৪৫ | অম্ল রসের কর্ম | ১৫৩ |
| দ্রব্যে বহু রস | ১৪৬ | লবণ রসের কর্ম | ১৫৪ |
| বহু দোষজাত রোগ | ১৪৬ | তিক্ত রসের কর্ম | ১৫৪ |
| দ্রব্যগত গুরু প্রভৃতি গুণ | ১৪৬ | কটু রসের কর্ম | ১৫৪ |
| পার্থিব দ্রব্যের বর্ণনা | ১৪৬ | কষায় রসের কর্ম | ১৫৪ |
| আপ্য দ্রব্যের বর্ণনা | ১৪৬ | মধুরস্কন্ধের দ্রব্য | ১৫৫ |
| আগ্নেয় দ্রব্যের বর্ণনা | ১৪৭ | অম্লস্কন্ধের দ্রব্য | ১৫৫ |
| বায়ব্য দ্রব্যের বর্ণনা | ১৪৭ | লবণস্কন্ধের দ্রব্য | ১৫৫ |
| নাভস দ্রব্যের বর্ণনা | ১৪৭ | তিক্তস্কন্ধের দ্রব্য | ১৫৫ |
| ঔষধময় দ্রব্য | ১৪৭ | কটুস্কন্ধের দ্রব্য | ১৫৫ |
| দ্রব্যসমূহের বিশেষতা | ১৪৭ | কষায়স্কন্ধের দ্রব্য | ১৫৬ |
| বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক | বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক |
|---|---|---|---|
| মধুর রসের বিশেষ বর্ণনা | ১৫৬ | স্বেদক্ষয়ের লক্ষণ | ১৬৪ |
| অম্ল রসের বিশেষ বর্ণনা | ১৫৬ | অন্যান্য মলের ক্ষয়লক্ষণ | ১৬৪ |
| লবণ রসের বিশেষ বর্ণনা | ১৫৬ | বৃদ্ধি ও ক্ষয়ের নির্দেশ | ১৬৫ |
| তিক্ত ও কটু রসের বিশেষ বর্ণনা | ১৫৬ | পুরীষ প্রভৃতি মলের গুরুত্ব | ১৬৫ |
| কষায় রসের বিশেষ বর্ণনা | ১৫৬ | বাত প্রভৃতির বিশেষ স্থান | ১৬৫ |
| রসসমূহের বর্ণনা | ১৫৬ | বাতজ রোগের প্রতিকার | ১৬৫ |
| রসের ৬৩টি ভেদ | ১৫৭ | বৃদ্ধ রক্ত প্রভৃতির চিকিৎসা | ১৬৫ |
| রসসংযোগের অসংখ্য ভেদ | ১৫৮ | মলের বৃদ্ধি ও ক্ষয়ের চিকিৎসা | ১৬৬ |
| (১১) দোষাদিবিজ্ঞনীয় অধ্যায় | ধাতুর বৃদ্ধি ও ক্ষয় | ১৬৬ | |
| শরীরের আধার | ১৬০ | বৃদ্ধি ও ক্ষয়ের কারণ | ১৬৬ |
| প্রকৃতিস্থ দোষের কর্ম | ১৬০ | বৃদ্ধি ও ক্ষয়ের অন্য স্বরূপ | ১৬৭ |
| রস প্রভৃতি ধাতুর কর্ম | ১৬০ | দোষ, ধাতু, মল এবং স্রোতের দুষ্টি | ১৬৭ |
| মলের প্রধান কর্ম | ১৬১ | মলায়নের পরিচয় | ১৬৭ |
| বাতবৃদ্ধির লক্ষণ | ১৬১ | ওজসের বর্ণনা | ১৬৭ |
| পিত্তবৃদ্ধির লক্ষণ | ১৬১ | ওজঃক্ষয়ের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা | ১৬৭ |
| কফবৃদ্ধির লক্ষণ | ১৬১ | ওজোবৃদ্ধির লক্ষণ | ১৬৮ |
| রসবৃদ্ধির লক্ষণ | ১৬১ | বৃদ্ধি-ক্ষয়ের চিকিৎসাসূত্র | ১৬৮ |
| রক্তবৃদ্ধির লক্ষণ | ১৬২ | দ্বেষ ও প্রার্থনার কারণ | ১৬৮ |
| মাংসবৃদ্ধির লক্ষণ | ১৬২ | অবস্থান অনুসারে দোষসমূহের কর্ম | ১৬৮ |
| মেদোবৃদ্ধির লক্ষণ | ১৬২ | দোষসমূহকে সম রাখা | ১৬৯ |
| অস্থিবৃদ্ধির লক্ষণ | ১৬২ | (১২) দোষভেদীয় অধ্যায় | |
| মজ্জাবৃদ্ধির লক্ষণ | ১৬২ | বাতের প্রধান স্থান | ১৭০ |
| শুক্রবৃদ্ধির লক্ষণ | ১৬২ | পিত্তের প্রধান স্থান | ১৭০ |
| পুরীষবৃদ্ধির লক্ষণ | ১৬২ | কফের প্রধান স্থান | ১৭১ |
| মূত্রবৃদ্ধির লক্ষণ | ১৬৩ | বাতের পাঁচ ভেদ | ১৭১ |
| স্বেদবৃদ্ধির লক্ষণ | ১৬৩ | পাঁচ বায়ুর বর্ণনা | ১৭১ |
| অন্যান্য মলবৃদ্ধির লক্ষণ | ১৬৩ | উদানবায়ুর বর্ণনা | ১৭১ |
| বাতদোষের ক্ষয়লক্ষণ | ১৬৩ | ব্যানবায়ুর বর্ণনা | ১৭১ |
| পিত্তদোষের ক্ষয়লক্ষণ | ১৬৩ | সমানবায়ুর বর্ণনা | ১৭১ |
| কফদোষের ক্ষয়লক্ষণ | ১৬৩ | অপানবায়ুর বর্ণনা | ১৭২ |
| রসধাতুর ক্ষয়লক্ষণ | ১৬৩ | পিত্তের পাঁচ ভেদ | ১৭২ |
| রক্তধাতুর ক্ষয়লক্ষণ | ১৬৪ | পাচকপিত্তের বর্ণনা | ১৭২ |
| মাংসধাতুর ক্ষয়লক্ষণ | ১৬৪ | রঞ্জকপিত্তের বর্ণনা | ১৭২ |
| মেদোধাতুর ক্ষয়লক্ষণ | ১৬৪ | সাধকপিত্তের বর্ণনা | ১৭২ |
| অস্থিধাতুর ক্ষয়লক্ষণ | ১৬৪ | আলোচকপিত্তের বর্ণনা | ১৭৩ |
| মজ্জাধাতুর ক্ষয়লক্ষণ | ১৬৪ | ভ্রাজকপিত্তের বর্ণনা | ১৭৩ |
| শুক্রধাতুর ক্ষয়লক্ষণ | ১৬৪ | কফের বর্ণনা | ১৭৩ |
| পুরীষক্ষয়ের লক্ষণ | ১৬৪ | অবলম্বক কফের বর্ণনা | ১৭৩ |
| মূত্রক্ষয়ের লক্ষণ | ১৬৪ | ক্লেদক কফের বর্ণনা | ১৭৩ |
| বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক | বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক |
|---|---|---|---|
| বোধক কফের বর্ণনা | ১৭৩ | রোগের নাম নির্ধারণের বিবেচনা | ১৮০ |
| তর্পক কফের বর্ণনা | ১৭৩ | দোষসমূহের রোগকারকত্ব | ১৮০ |
| শ্লেষক কফের বর্ণনা | ১৭৩ | চিকিৎসাবিধির নির্দেশ | ১৮১ |
| উপসংহার | ১৭৪ | দৃশ্য প্রভৃতি জ্ঞানের নির্দেশ | ১৮১ |
| বাতের চয়, কোপ ও শমের বর্ণনা | ১৭৪ | রোগের গুরুতা-লঘুতার বিচার | ১৮১ |
| পিত্তের চয়, কোপ ও শমের বর্ণনা | ১৭৪ | ভিষগ্নুভের নিন্দা | ১৮১ |
| কফের চয়, কোপ ও শমের বর্ণনা | ১৭৪ | ভুলের দুষ্পরিণাম | ১৮১ |
| দোষসমূহের চয়ের বর্ণনা | ১৭৪ | চিকিৎসকের কর্তব্য | ১৮২ |
| দোষসমূহের প্রকোপের বর্ণনা | ১৭৫ | দোষভেদের বর্ণনা | ১৮২ |
| চয়, কোপ ও শমের বর্ণনা | ১৭৫ | দোষবৃদ্ধির তিন ভেদ | ১৮২ |
| চয় প্রভৃতির বিশেষ বর্ণনা | ১৭৫ | সংসর্গের তিন ভেদ | ১৮২ |
| কালস্বভাবের বর্ণনা | ১৭৫ | সংসর্গের ছয় ভেদ | ১৮২ |
| দোষসমূহের ব্যাপ্তি ও নিবৃত্তি | ১৭৬ | সমগ্র দোষবৃদ্ধির ১৩ ভেদ | ১৮২ |
| নিদান, রূপ ও চিকিৎসার বর্ণনা | ১৭৬ | ১৩ ভেদের উদাহরণ | ১৮২ |
| রোগ উৎপত্তির কারণ | ১৭৬ | এক ভেদের নির্দেশ | ১৮২ |
| দোষসমূহের প্রকোপের কারণ | ১৭৬ | পুনরায় ছয় ভেদ | ১৮২ |
| হীনযোগ প্রভৃতির বর্ণনা | ১৭৭ | বৃদ্ধ দোষসমূহের যোগ | ১৮৩ |
| কালের বর্ণনা | ১৭৭ | ক্ষীণ দোষসমূহের যোগ | ১৮৩ |
| কর্মের বর্ণনা | ১৭৭ | বৃদ্ধি, সম ও ক্ষয়ভেদে ছয় ভেদ | ১৮৩ |
| উপসংহার ও রোগমার্গ | ১৭৭ | ক্ষয়-বৃদ্ধি ভেদে পুনরায় ছয় ভেদ | ১৮৩ |
| বাহ্য রোগমার্গ | ১৭৭ | ৬২ দোষভেদ | ১৮৩ |
| আভ্যন্তর রোগমার্গ | ১৭৮ | ৬৩তম ভেদ | ১৮৩ |
| মধ্যম রোগমার্গ | ১৭৮ | দোষসমূহের অনন্ত ভেদ | ১৮৪ |
| বাতদোষের কর্ম | ১৭৮ | (১৩) দোষোপক্রমণীয় অধ্যায় | |
| পিত্তদোষের কর্ম | ১৭৮ | বাতদোষের চিকিৎসা | ১৮৫ |
| কফদোষের কর্ম | ১৭৮ | পিত্তদোষের চিকিৎসা | ১৮৫ |
| দোষলক্ষণ নিরূপণের হেতু | ১৭৯ | কফদোষের চিকিৎসা | ১৮৬ |
| চিকিৎসায় অভ্যাসের গুরুত্ব | ১৭৯ | বিষয়ের উপসংহার | ১৮৬ |
| রোগের তিন ভেদ | ১৭৯ | চিকিৎসার নির্দেশ | ১৮৬ |
| রোগের পরিচয় | ১৭৯ | চিকিৎসার সময় | ১৮৬ |
| ত্রিবিধ রোগের চিকিৎসা | ১৭৯ | শুদ্ধ প্রয়োগের পরিচয় | ১৮৭ |
| রোগের দুই ভেদ | ১৭৯ | দোষসমূহের স্থানান্তর গমন | ১৮৭ |
| রোগভেদের নাম | ১৮০ | দোষসমূহের কোষ্ঠগমন | ১৮৭ |
| স্বাধীন রোগ | ১৮০ | পুনরায় রোগ উৎপাদন | ১৮৭ |
| পরতন্ত্র রোগ | ১৮০ | অন্যান্য স্থানে দোষপ্রকোপ | ১৮৭ |
| মলসমূহের বিচার | ১৮০ | চিকিৎসার নির্দেশ | ১৮৭ |
| দোষসমূহের বিচার | ১৮০ | তির্যকগত দোষের চিকিৎসা | ১৮৮ |
| চিকিৎসাসূত্র | ১৮০ | চিকিৎসাবিধি | ১৮৮ |
| উপদ্রব চিকিৎসার নির্দেশ | ১৮০ | সাম-নিরাম দোষের লক্ষণ | ১৮৮ |
| বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক | বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক |
|---|---|---|---|
| আমের বর্ণনা | ১৮৮ | স্থূলতার চেয়ে কৃশতা শ্রেয় | ১৯৫ |
| আম-সম্পর্কিত মতান্তর | ১৮৮ | কৃশতা ও স্থূলতার চিকিৎসা | ১৯৫ |
| সামদোষ ও সামরোগ | ১৮৮ | কৃশতার চিকিৎসা | ১৯৬ |
| সামদোষের চিকিৎসা | ১৮৮ | মাংসের মাহাত্ম্য | ১৯৬ |
| দোষনির্হরণের পদ্ধতি | ১৮৮ | স্থূলতা ও কৃশতার চিকিৎসা | ১৯৬ |
| আসন্ন দোষের নির্হরণ | ১৮৯ | (১৫) শোধনাদিগণসংগ্রহাধ্যায় | |
| দোষনির্হরণের নির্দেশ | ১৮৯ | বমনকারক দ্রব্য | ১৯৭ |
| দোষনির্হরণের বিবেক | ১৮৯ | বিরেচনকারক দ্রব্য | ১৯৭ |
| শোধনের কাল | ১৮৯ | নিরূহণের উপযোগী দ্রব্য | ১৯৮ |
| সহেতুক শোধনকাল | ১৮৯ | শিরোবিরেচনের উপযোগী দ্রব্য | ১৯৮ |
| শোধনের দৃষ্টিকোণ | ১৮৯ | বাতনাশক দ্রব্য | ১৯৮ |
| শোধনের বিশেষ পদ্ধতি | ১৮৯ | পিত্তনাশক দ্রব্য | ১৯৮ |
| ঔষধসেবনের ১০ কাল | ১৯০ | কফনাশক দ্রব্য | ১৯৮ |
| রোগানুসারে ঔষধ সেবনের কাল | ১৯০ | জীবনীয় গণ | ১৯৮ |
| (১৪) দ্বিবিধোপক্রমণীয় অধ্যায় | বিদার্যাদি গণ | ১৯৮ | |
| চিকিৎসার দুই ভেদ | ১৯১ | সারিবাদি গণ | ১৯৯ |
| সন্তর্পণ ও অপতর্পণ | ১৯১ | পদ্মকাদি গণ | ১৯৯ |
| তত্ত্বসমূহের প্রাধান্য | ১৯১ | পরুষকাদি গণ | ১৯৯ |
| স্নেহন প্রভৃতির বর্ণনা | ১৯১ | অঞ্জনাদি গণ | ১৯৯ |
| প্রত্যেকের দুই ভেদ | ১৯১ | পটোলাদি গণ | ১৯৯ |
| শোধনকর্ম ও তার ভেদ | ১৯২ | গুডূচ্যাদি গণ | ১৯৯ |
| শমনের লক্ষণ ও তার ভেদ | ১৯২ | আরগ্বধাদি গণ | ১৯৯ |
| বৃহণের লক্ষণ | ১৯২ | অসনাদি গণ | ২০০ |
| সন্তর্পণযোগ্য রোগ ও রোগী | ১৯২ | বরুণাদি গণ | ২০০ |
| সন্তর্পণ-চিকিৎসার উপাদান | ১৯২ | ঊষকাদি গণ | ২০০ |
| অপতর্পণযোগ্য রোগ ও রোগী | ১৯২ | বীরতর্বাদি গণ | ২০০ |
| শোধন ও শমনের যোগ্য রোগ ও রোগী | ১৯৩ | রোধাদি গণ | ২০০ |
| সন্তর্পণের নিষেধ | ১৯৩ | অর্কাদি গণ | ২০০ |
| অপতর্পণের নির্দেশ | ১৯৩ | সুরসাদি গণ | ২০১ |
| সন্তর্পণের উপকারিতা | ১৯৩ | মুষ্ককাদি গণ | ২০১ |
| অপতর্পণের উপকারিতা | ১৯৪ | বৎসকাদি গণ | ২০১ |
| যোগ, অতিযোগ, হীনযোগ | ১৯৪ | বচাদি গণ | ২০১ |
| তাদের লক্ষণ | ১৯৪ | হরিদ্রাদি গণ | ২০১ |
| অতিস্থূলতা প্রভৃতি রোগ | ১৯৪ | প্রিয়ঙ্গ্বাদি গণ | ২০১ |
| চিকিৎসাসূত্র | ১৯৪ | অম্বষ্ঠাদি গণ | ২০২ |
| বিশেষ চিকিৎসা | ১৯৪ | মুস্তাদি গণ | ২০২ |
| বিডঙ্গাদি যোগ | ১৯৪ | ন্যগ্রোধাদি গণ | ২০২ |
| ব্যোষাদি যোগের ফলশ্রুতি | ১৯৫ | এলাদি গণ | ২০২ |
| কৃশতা প্রভৃতি রোগ | ১৯৫ | শ্যামাদি গণ | ২০২ |
| বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক | বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক |
|---|---|---|---|
| দ্রব্য গ্রহণের নির্দেশ | ২০৩ | অতিস্নিগ্ধের লক্ষণ | ২১০ |
| গণোক্ত দ্রব্যসমূহের প্রয়োগ | ২০৩ | স্নেহব্যাপদের চিকিৎসা | ২১০ |
| (১৬) স্নেহবিধির অধ্যায় | বিরূক্ষণ-নির্দেশ | ২১০ | |
| স্নেহন ও রূক্ষণ-এর বর্ণনা | ২০৪ | মিথ্যা স্নিগ্ধের লক্ষণ | ২১০ |
| চার প্রকার স্নেহ | ২০৪ | স্নেহনের পূর্বে রূক্ষণবিধি | ২১০ |
| ঘৃতের প্রাধান্য | ২০৪ | অসাত্ম্য স্নেহের শক্তি | ২১১ |
| স্নেহসমূহের প্রধান গুণ | ২০৪ | সদ্যঃস্নেহনের নির্দেশ | ২১১ |
| স্বেদন প্রভৃতির প্রয়োগ | ২০৪ | সাতটি সদ্যঃস্নেহন-যোগ | ২১১ |
| উত্তরোত্তর গুরুতা | ২০৪ | লবণের গুণ | ২১১ |
| স্নেহযোগসমূহের নাম | ২০৫ | স্নেহনযোগসমূহের নিষেধ | ২১১ |
| স্নেহনের যোগ্য ব্যক্তি | ২০৫ | কুষ্ঠ প্রভৃতির জন্য উপযুক্ত স্নেহ | ২১১ |
| স্নেহনের অযোগ্য ব্যক্তি | ২০৫ | ক্ষীণ পুরুষদের জন্য উপযুক্ত স্নেহ | ২১১ |
| ঘৃতস্নেহের যোগ্য ব্যক্তি | ২০৫ | স্নেহসেবনে উপকার | ২১২ |
| তৈলস্নেহের যোগ্য ব্যক্তি | ২০৫ | (১৭) স্বেদবিধির অধ্যায় | |
| বসা ও মজ্জাস্নেহ | ২০৫ | স্বেদের চার ভেদ | ২১৩ |
| বসাস্নেহের ক্ষেত্র | ২০৬ | তাপস্বেদের বর্ণনা | ২১৩ |
| ঋতুভেদে স্নেহের নির্দেশ | ২০৬ | উপনাহস্বেদের বর্ণনা | ২১৩ |
| দিনে স্নেহসেবনের নির্দেশ | ২০৬ | বন্ধনদ্রব্যের নির্দেশ | ২১৪ |
| শীতকালে তৈলপ্রয়োগ | ২০৬ | ঊষ্মস্বেদের বর্ণনা | ২১৪ |
| রাত্রিতে ঘৃতপানের বিধান | ২০৬ | দ্রবস্বেদের বর্ণনা | ২১৪ |
| কারণভেদে রাত্রিতে ঘৃতপান | ২০৬ | অবগাহনস্বেদের পদ্ধতি | ২১৫ |
| স্নেহসেবনের বিবেচনা | ২০৬ | স্বেদনবিধি | ২১৫ |
| স্নেহসেবনের ভেদের যুক্তি | ২০৬ | স্বেদনবিধির ভেদ | ২১৫ |
| স্নেহসেবনের প্রকার | ২০৬ | দোষভেদে স্বেদন | ২১৫ |
| স্নেহের বিবেচনাসমূহ | ২০৭ | স্থানভেদে স্বেদন | ২১৫ |
| বিবেচনা সম্পর্কে আলোচনা | ২০৭ | অন্যান্য স্থানে স্বেদনের নির্দেশ | ২১৫ |
| অচ্ছপেয়ের উপকারিতা | ২০৭ | স্বেদনের সম্যক্ যোগ | ২১৫ |
| স্নেহমাত্রার বিবেচনা | ২০৭ | স্বেদনের অতিযোগ | ২১৬ |
| শোধনার্থে স্নেহমাত্রা | ২০৭ | স্বেদন ও স্তম্ভন ঔষধ | ২১৬ |
| শমনার্থে স্নেহমাত্রা | ২০৮ | স্তম্ভনের সম্যক্ যোগের লক্ষণ | ২১৬ |
| বৃংহণার্থে স্নেহপানের বিধি | ২০৮ | স্তম্ভনের অতিযোগের লক্ষণ | ২১৬ |
| বৃংহণস্নেহপানের যোগ্য ব্যক্তি | ২০৮ | স্বেদনের অযোগ্য রোগী ও রোগ | ২১৬ |
| স্নেহসেবনের প্রভাব | ২০৮ | স্বেদনের যোগ্য রোগী | ২১৭ |
| বিভিন্ন স্নেহের অনুপান | ২০৮ | অনাগ্নেয় স্বেদনযোগ্য রোগ | ২১৭ |
| স্নেহপানের জন্য আহার-বিবেচনা | ২০৮ | অনাগ্নেয় স্বেদসমূহের বর্ণনা | ২১৮ |
| স্নেহপানের জন্য বিহার-বিবেচনা | ২০৯ | স্বেদনপ্রয়োগের ফল | ২১৮ |
| সর্বত্র ত্যাজ্য কর্ম | ২০৯ | (১৮) বমন-বিরেচনবিধির অধ্যায় | |
| শমনস্নেহপানে উপচার | ২০৯ | বমন-বিরেচনের ব্যবস্থা | ২১৯ |
| স্নেহপানের সময়সীমা | ২০৯ | ||
| সম্যক্ স্নিগ্ধ ব্যক্তির লক্ষণ | ২০৯ |
| বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক | বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক |
|---|---|---|---|
| বমনের নির্দেশ | ২১৯ | ঔষধ প্রয়োগে সতর্কতা | ২২৭ |
| বমনের অযোগ্য ব্যক্তি | ২২০ | দুর্বল ব্যক্তির দোষ সম্পর্কে বিবেচনা | ২২৭ |
| বমন প্রভৃতির নিষেধ | ২২০ | দোষনির্হরণের প্রয়োজন | ২২৭ |
| বিরেচনের যোগ্য রোগ | ২২০ | পুনরায় শোধনের নির্দেশ | ২২৭ |
| বিরেচনের অযোগ্য রোগ | ২২০ | বিরেচনে বিভিন্ন বিবেচনা | ২২৭ |
| বমনের প্রতীক্ষা | ২২০ | শোধনের অযোগ্য রোগ | ২২৭ |
| বমনকারক ঔষধদ্রব্য ও প্রয়োগবিধি | ২২১ | শোধনের ভেদ | ২২৭ |
| বমনকারক যন্ত্র | ২২১ | স্নেহন-স্বেদন প্রয়োগ | ২২৭ |
| বমনে ঔষধ প্রয়োগ | ২২১ | মলসমূহের উৎক্লেশন | ২২৮ |
| বমনের সময়কাল | ২২২ | স্নেহন-স্বেদনের উপকারিতা | ২২৮ |
| হীনযোগে ঔষধ প্রয়োগ | ২২২ | সংশোধন থেকে উপকার | ২২৮ |
| বমনের হীনযোগ | ২২২ | (১৯) বস্তিবিধির অধ্যায় | |
| বমনের সম্যক্ যোগ | ২২২ | বস্তির বর্ণনা | ২২৯ |
| বমনের অতিযোগ | ২২২ | বস্তির প্রয়োগ | ২২৯ |
| বমনের পরবর্তী করণীয় | ২২২ | বস্তিপ্রয়োগে উপকার | ২২৯ |
| স্নান ও ভোজনবিধি | ২২৩ | বস্তির পরিচয় | ২৩০ |
| পেয়া প্রভৃতির ক্রম-নির্দেশ | ২২৩ | নিরূহণের অযোগ্য | ২৩০ |
| পেয়া প্রভৃতি থেকে উপকার | ২২৩ | নিরূহণ ও অনুবাসনের যোগ্য | ২৩১ |
| বমন-বিরেচনের বেগ ও পরিমাণ | ২২৩ | নিরূহণ ও অনুবাসনের অযোগ্য | ২৩১ |
| বমন-বিরেচনের সময়কাল ও মান | ২২৪ | বস্তিনেত্রের পরিচয় | ২৩১ |
| ভারমাপনের পদ্ধতি | ২২৪ | নেত্র-নিরুক্তি | ২৩১ |
| বমনের পরে বিরেচন | ২২৪ | নেত্রের আকার | ২৩২ |
| মৃদুকোষ্ঠের বর্ণনা | ২২৪ | নেত্রের পুরুত্ব | ২৩২ |
| ক্রূরকোষ্ঠের বর্ণনা | ২২৪ | বস্তিনেত্রের ছিদ্র | ২৩২ |
| দোষানুসারে বিরেচন | ২২৪ | কর্ণিকার বর্ণনা | ২৩২ |
| বিরেচক উপায় | ২২৪ | বস্তিপুটের বর্ণনা | ২৩৩ |
| পুনরায় বিরেচন-প্রয়োগ | ২২৫ | অন্যান্য বস্তিপুটের বিধান | ২৩৩ |
| হীনযোগের লক্ষণ | ২২৫ | নিরূহণবস্তির মাত্রা | ২৩৩ |
| সমযোগের লক্ষণ | ২২৫ | অনুবাসনবস্তির মাত্রা | ২৩৩ |
| অতিযোগের লক্ষণ | ২২৫ | বস্তি দেওয়ার পদ্ধতি | ২৩৩ |
| সমযোগে পরবর্তী করণীয় | ২২৫ | বস্তিনেত্র প্রবেশ করানোর পদ্ধতি | ২৩৪ |
| সমযোগে ভোজনবিধি | ২২৫ | বস্তির পরবর্তী করণীয় | ২৩৪ |
| লঙ্ঘনের নির্দেশ | ২২৫ | স্নেহ ফিরে এলে আহার | ২৩৪ |
| লঙ্ঘনের ফল | ২২৬ | স্নেহ ফিরে না এলে চিকিৎসা | ২৩৪ |
| পেয়া প্রভৃতির প্রয়োজন | ২২৬ | বিশেষ চিকিৎসা | ২৩৪ |
| পেয়া সেবনের নিষেধ | ২২৬ | পুনরায় অনুবাসন-প্রয়োগ | ২৩৫ |
| বমন-বিরেচনের প্রতীক্ষা | ২২৬ | নিরূহণবস্তির প্রয়োগ | ২৩৫ |
| বমন-বিরেচনের চিকিৎসা | ২২৬ | নিরূহণ-প্রয়োগবিধি | ২৩৫ |
| মৃদু বিরেচনের নির্দেশ | ২২৬ | বস্তিদ্রব্য নির্মাণবিধি | ২৩৫ |
| বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক | বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক |
|---|---|---|---|
| অন্যান্য আচার্যের মত | ২৩৬ | বমন প্রভৃতিতে কালের নির্দেশ | ২৪৩ |
| বস্তিদ্রব্য মিশ্রণের পদ্ধতি | ২৩৬ | বস্তির দ্বারা দোষনির্হরণ | ২৪৩ |
| নিরূহণের পরবর্তী করণীয় | ২৩৬ | বস্তিপ্রয়োগের প্রশংসা | ২৪৩ |
| বস্তি প্রত্যাবর্তনের সময়কাল | ২৩৬ | সিরাবেধের গুরুত্ব | ২৪৩ |
| বহু বস্তির প্রয়োগ | ২৩৬ | (২০) নস্যবিধির অধ্যায় | |
| সম্যক্ যোগ প্রভৃতির সংকেত | ২৩৭ | নস্যের বর্ণনা | ২৪৪ |
| সম্যক্ যোগে পরবর্তী করণীয় | ২৩৭ | নস্যকর্মের ভেদ | ২৪৪ |
| বিকারসমূহের শমন | ২৩৭ | বিরেচন নস্যের প্রয়োগ | ২৪৫ |
| পুনরায় অনুবাসন-প্রয়োগ | ২৩৭ | বৃংহণ নস্যের প্রয়োগ | ২৪৫ |
| অনুবাসনের বিভিন্ন যোগ | ২৩৭ | শমন নস্যের প্রয়োগ | ২৪৫ |
| সম্যক্ যোগের বর্ণনা | ২৩৭ | বিরেচন নস্যের দ্রব্য | ২৪৫ |
| দোষানুসারে বস্তির সংখ্যা | ২৩৭ | বৃংহণ নস্যের দ্রব্য | ২৪৫ |
| আহারবিধান | ২৩৮ | শমন নস্যের দ্রব্য | ২৪৫ |
| বাতদোষে বস্তিপ্রয়োগ | ২৩৮ | নস্যের ভেদ | ২৪৫ |
| পিত্তদোষে বস্তিপ্রয়োগ | ২৩৮ | নস্য-প্রয়োগবিধি | ২৪৫ |
| কফদোষে বস্তিপ্রয়োগ | ২৩৮ | নস্যের মাত্রা | ২৪৬ |
| সন্নিপাতে বস্তিপ্রয়োগ | ২৩৮ | নস্যের অযোগ্য ব্যক্তি | ২৪৬ |
| তিনটিই বস্তি | ২৩৮ | নস্যের উপযুক্ত সময় | ২৪৬ |
| বস্তিনামের ভেদ | ২৩৮ | রোগানুসারে নস্য-প্রয়োগ | ২৪৬ |
| উক্ত মতগুলির প্রামাণিকতা | ২৩৮ | নস্যসেবনের সীমা | ২৪৬ |
| বস্তিকর্মের সময়কাল | ২৩৮ | নস্যের পূর্বকর্ম | ২৪৭ |
| বস্তিকর্মের বর্ণনা | ২৩৯ | নস্য-প্রয়োগবিধি | ২৪৭ |
| বস্তিকালের বর্ণনা | ২৩৯ | মূর্ছাশান্তির পদ্ধতি | ২৪৭ |
| বস্তিযোগের বর্ণনা | ২৩৯ | স্নেহন নস্যের প্রয়োগ | ২৪৭ |
| স্নেহ ও নিরূহণের প্রয়োগ | ২৩৯ | নস্যপ্রয়োগের প্রতীক্ষা | ২৪৭ |
| বস্তির প্রয়োগক্রম | ২৩৯ | ধূমপানের প্রয়োগ | ২৪৭ |
| বস্তির ত্রিদোষনাশকতা | ২৩৯ | স্নেহন নস্যের সম্যক্ যোগ | ২৪৮ |
| মাত্রাবস্তির বর্ণনা | ২৩৯ | রূক্ষ নস্যের হীনযোগ | ২৪৮ |
| মাত্রাবস্তি সেবন | ২৪০ | স্নেহন নস্যের অতিযোগ | ২৪৮ |
| মাত্রাবস্তির বিশেষতা | ২৪০ | বিরেচন নস্যের সম্যক্ যোগ | ২৪৮ |
| উত্তরবস্তির বর্ণনা | ২৪০ | মিথ্যাযোগ ও হীনযোগের লক্ষণ | ২৪৮ |
| উত্তরবস্তিতে নেত্রের পরিমাপ | ২৪০ | প্রতিমর্শ নস্যের প্রয়োগ | ২৪৮ |
| স্নেহমাত্রার প্রমাণ | ২৪০ | প্রতিমর্শ নস্যের নিষেধ | ২৪৮ |
| উত্তরবস্তি-প্রয়োগবিধি | ২৪১ | প্রতিমর্শ নস্যের কাল | ২৪৮ |
| উত্তরবস্তির সংখ্যা | ২৪২ | প্রতিমর্শ নস্যের উপকারিতা | ২৪৯ |
| স্ত্রীদের মধ্যে উত্তরবস্তি | ২৪২ | অবস্থার বিবেচনা | ২৪৯ |
| বস্তিনেত্রের পরিমাপ | ২৪২ | নস্যে তেলের প্রয়োগ | ২৪৯ |
| স্নেহমাত্রার নির্দেশ | ২৪২ | মর্শ ও প্রতিমর্শে ফলের ভেদ | ২৪৯ |
| উত্তরবস্তি-প্রয়োগবিধি | ২৪২ | অণুতৈলের বর্ণনা | ২৫০ |
| বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক | বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক |
|---|---|---|---|
| স্নেহন নস্য থেকে উপকার | ২৫০ | গণ্ডূষ ও কবলের পরিভাষা | ২৫৮ |
| (২১) ধূমপানবিধির অধ্যায় | কবল ধারণের উপকারিতা | ২৫৮ | |
| ধূমপানবিধির বর্ণনা | ২৫১ | প্রতিসারণের ভেদ | ২৫৮ |
| ধূমের ভেদ ও প্রয়োগ | ২৫১ | প্রতিসারণের প্রয়োগ | ২৫৮ |
| ধূমপানের নিষেধ | ২৫২ | মুখালেপের তিন ভেদ | ২৫৯ |
| ধূমপান থেকে ক্ষতি | ২৫২ | মুখালেপের ব্যবহার | ২৫৯ |
| ধূমপানজনিত রোগের চিকিৎসা | ২৫২ | মুখালেপের পরিমাণ | ২৫৯ |
| ত্রিবিধ ধূম সেবনের কাল | ২৫২ | লেপ-সম্পর্কিত নির্দেশ | ২৫৯ |
| ধূমনেত্রের বর্ণনা | ২৫২ | মুখালেপে অপথ্য | ২৫৯ |
| ধূমনেত্রের দৈর্ঘ্য | ২৫২ | মুখালেপের নিষেধ | ২৫৯ |
| ধূমপানের পদ্ধতি | ২৫৩ | মুখালেপের সম্যক্ যোগ | ২৫৯ |
| নাসিকা ও মুখ দিয়ে ধূমপান | ২৫৩ | মুখালেপের ৬টি যোগ | ২৫৯ |
| ধূমের নির্হরণ | ২৫৩ | মুখালেপ থেকে উপকার | ২৬০ |
| নাসিকা দিয়ে ধূম বের করবেন না | ২৫৩ | মূর্ধতৈলের ৪ ভেদ | ২৬০ |
| তিনবার ধূমপান করুন | ২৫৩ | উত্তরোত্তর গুণগত উৎকর্ষ | ২৬০ |
| ধূমপানের সংখ্যা | ২৫৩ | অভ্যঙ্গের প্রয়োগ | ২৬০ |
| মৃদুধূমের দ্রব্য | ২৫৪ | পরিষেকের প্রয়োগ | ২৬০ |
| মধ্যধূমের দ্রব্য | ২৫৪ | পিচুর প্রয়োগ | ২৬০ |
| তীক্ষ্ণধূমের দ্রব্য | ২৫৪ | বস্তির প্রয়োগস্থল | ২৬১ |
| ধূমবর্তি নির্মাণবিধি | ২৫৪ | শিরোবস্তি সেবনের পদ্ধতি | ২৬১ |
| কাসঘ্ন ধূমপানবিধি | ২৫৪ | শিরোবস্তি ধারণকাল | ২৬১ |
| ধূমপানের উপকারিতা | ২৫৫ | পরবর্তী করণীয় | ২৬১ |
| (২২) গণ্ডূষাদিবিধির অধ্যায় | শিরোবস্তি সেবনের সময়কাল | ২৬১ | |
| গণ্ডূষের ভেদ | ২৫৬ | কর্ণপূরণের কাল | ২৬১ |
| গণ্ডূষসমূহের প্রয়োগ | ২৫৬ | মাত্রাকালের পরিভাষা | ২৬২ |
| স্নিগ্ধ গণ্ডূষ | ২৫৬ | মূর্ধতৈলের ফল | ২৬২ |
| শমন গণ্ডূষ | ২৫৬ | (২৩) আশ্চোতনাঞ্জনবিধির অধ্যায় | |
| শোধন গণ্ডূষ | ২৫৬ | আশ্চোতনের বর্ণনা | ২৬৩ |
| রোপণ গণ্ডূষ | ২৫৬ | দোষানুসারে আশ্চোতন | ২৬৩ |
| গণ্ডূষে দ্রব্যের প্রয়োগ | ২৫৭ | আশ্চোতনবিধি | ২৬৩ |
| রোগানুসারে গণ্ডূষযোগ | ২৫৭ | আশ্চোতনের নিষেধ | ২৬৪ |
| সুস্থ ব্যক্তির জন্য গণ্ডূষ | ২৫৭ | আশ্চোতনের উপকারিতা | ২৬৪ |
| ঘি বা দুধের গণ্ডূষ | ২৫৭ | অঞ্জন প্রয়োগের উপকারিতা | ২৬৪ |
| মধুগণ্ডূষের প্রয়োগ | ২৫৭ | অঞ্জনের তিন ভেদ | ২৬৫ |
| কাঞ্জির গণ্ডূষ | ২৫৭ | লেখন অঞ্জনের পরিচয় | ২৬৫ |
| ক্ষারাম্বু গণ্ডূষ | ২৫৮ | রোপণ অঞ্জনের পরিচয় | ২৬৫ |
| সুস্রোষ্ণোদক গণ্ডূষ | ২৫৮ | প্রত্যঞ্জন | ২৬৫ |
| গণ্ডূষ প্রয়োগবিধি | ২৫৮ | প্রসাদন অঞ্জনের পরিচয় | ২৬৫ |
| গণ্ডূষ ধারণের সময়কাল | ২৫৮ | অঞ্জনশলাকা | ২৬৫ |
| বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক | বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক |
|---|---|---|---|
| অঞ্জনের ত্রিবিধ কল্পনা | ২৬৫ | যন্ত্রের বিভিন্নতা | ২৭৬ |
| অঞ্জনের মাত্রা | ২৬৫ | স্বস্তিকযন্ত্র-পরিচয় | ২৭৫ |
| তীক্ষ্ণ অঞ্জনের মাত্রা | ২৬৫ | সন্দংশযন্ত্র-পরিচয় | ২৭৫ |
| অঞ্জনপ্রয়োগের নির্দেশ | ২৬৬ | সন্দংশযন্ত্রের ভেদ | ২৭৫ |
| অন্যান্য আচার্যের মত | ২৬৬ | মুচুণ্ডীযন্ত্রের বর্ণনা | ২৭৫ |
| রাত্রিতে তীক্ষ্ণ অঞ্জনের প্রয়োগ | ২৬৬ | তালযন্ত্র-পরিচয় | ২৭৫ |
| উষ্ণকালে তীক্ষ্ণ অঞ্জনের নিষেধ | ২৬৬ | নাড়ীযন্ত্র-পরিচয় | ২৭৬ |
| লোহা ও নেত্রের সাদৃশ্য | ২৬৬ | কণ্ঠশল্য অবলোকনী নাড়ী | ২৭৬ |
| তীক্ষ্ণ অঞ্জনের নিষেধ | ২৬৬ | দ্বিকর্ণ, চতুষ্কর্ণ নাড়ীযন্ত্র | ২৭৬ |
| অঞ্জনের অযোগ্য ব্যক্তি | ২৬৭ | বিভিন্ন নাড়ীযন্ত্র | ২৭৬ |
| নিষিদ্ধ অঞ্জনের বর্ণনা | ২৬৭ | শল্য নির্ঘাতনী নাড়ী | ২৭৭ |
| অঞ্জন প্রয়োগবিধি | ২৬৭ | অযন্ত্র-পরিচয় | ২৭৭ |
| নেত্র প্রক্ষালনবিধি | ২৬৭ | শমীযন্ত্র-পরিচয় | ২৭৭ |
| নেত্র শোধনবিধি | ২৬৭ | ভগন্দর-যন্ত্র | ২৭৭ |
| নেত্র শোধনের কারণ | ২৬৭ | প্রাণযন্ত্র-পরিচয় | ২৭৭ |
| তীক্ষ্ণ অঞ্জন অথবা ধূমপান | ২৬৮ | অঙ্গুলিত্রাণক যন্ত্র | ২৭৭ |
| প্রত্যঞ্জনের বর্ণনা | ২৬৮ | যোনিব্রণেক্ষণ যন্ত্র | ২৭৮ |
| (২৪) তर्पণপুটপাকবিধির অধ্যায় | নাড়ীব্রণের যন্ত্র | ২৭৮ | |
| তর্পণবিধির বর্ণনা | ২৬৯ | নাড়ীযন্ত্র | ২৭৮ |
| তর্পণের দ্বিতীয় পদ্ধতি | ২৬৯ | অন্যান্য বহু যন্ত্র | ২৭৮ |
| স্নেহ ধারণকাল | ২৭০ | শৃঙ্গনাড়ীযন্ত্র | ২৭৮ |
| তर्पণের পরবর্তী করণীয় | ২৭০ | তুম্বীযন্ত্র-পরিচয় | ২৭৯ |
| দোষানুসারে তর্পণ | ২৭০ | ঘটীযন্ত্র-পরিচয় | ২৭৯ |
| তর্পণের বিভিন্ন যোগ | ২৭০ | শলাকাযন্ত্র | ২৭৯ |
| পুটপাকের বর্ণনা | ২৭১ | এষণী শলাকা | ২৭৯ |
| দোষানুসারে পুটপাক প্রয়োগ | ২৭১ | স্রোতঃশল্যহারিণী শলাকা | ২৭৯ |
| স্নেহন পুটপাকের দ্রব্য | ২৭১ | ছয়টি শঙ্কুযন্ত্র | ২৮০ |
| লেখন পুটপাকের দ্রব্য | ২৭১ | ব্যূহন শঙ্কুযন্ত্র | ২৮০ |
| প্রসাদন পুটপাকের দ্রব্য | ২৭১ | চালন শঙ্কুযন্ত্র | ২৮০ |
| পুটপাক প্রস্তুতপ্রণালী | ২৭২ | আহার্য শঙ্কুযন্ত্র | ২৮০ |
| ধারণকালের সময়সীমা | ২৭২ | গর্ভশঙ্কুযন্ত্র | ২৮০ |
| উষ্ণ-শীত প্রয়োগের ভেদ | ২৭২ | অশ্মরীহরণ যন্ত্র | ২৮০ |
| পরবর্তী করণীয় | ২৭২ | দন্তপাতন যন্ত্র | ২৮০ |
| যোগসমূহের নির্দেশ | ২৭২ | প্রমার্জনী শলাকাযন্ত্র | ২৮০ |
| তর্পণ ও পুটপাকের নিষেধ | ২৭২ | পায়ুযন্ত্র | ২৮০ |
| তর্পণ ও পুটপাকের সময়কাল | ২৭২ | প্রাণ ও কর্ণযন্ত্র | ২৮১ |
| নেত্ররক্ষার প্রয়োজন | ২৭৩ | কর্ণশোধন-যন্ত্র | ২৮১ |
| (২৫) যন্ত্রবিধির অধ্যায় | বিভিন্ন শলাকাযন্ত্র | ২৮১ | |
| যন্ত্রসমূহের বর্ণনা | ২৭৪ | অনুয়ন্ত্রসমূহের বর্ণনা | ২৮১ |
| বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক | বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক |
|---|---|---|---|
| যন্ত্রসমূহের বিভিন্ন কর্ম | ২৮২ | জোঁক রাখার ও লাগানোর বিধি | ২৯০ |
| কঙ্কমুখ যন্ত্র | ২৮২ | দুষ্টরক্ত গ্রহণের দৃষ্টান্ত | ২৯০ |
| (২৬) শস্ত্রবিধিরধ্যায়ঃ | জোঁক ছাড়ানোর অবস্থা | ২৯০ | |
| শস্ত্রসমূহের বর্ণনা | ২৮৩ | জোঁকের উপচার | ২৯১ |
| মণ্ডলাগ্রশস্ত্র | ২৮৪ | রক্তমদ থেকে রক্ষা | ২৯১ |
| বৃদ্ধিপত্রশস্ত্র | ২৮৪ | রক্তবমনের সম্যগ্যোগ | ২৯১ |
| উৎপল, অধ্যর্ধধারক শস্ত্র | ২৮৪ | রক্তবমনের অতিযোগ | ২৯১ |
| সর্পবক্ত্র-শস্ত্র | ২৮৪ | রক্তবমনের মিথ্যাযোগ | ২৯১ |
| ১. এষণী-শস্ত্র | ২৮৪ | জলৌকা-পালনবিধি | ২৯১ |
| ২. এষণী-শস্ত্র | ২৮৪ | জলৌকাবচারণের পশ্চাৎ কর্ম | ২৯১ |
| বেতস-শস্ত্র | ২৮৫ | রক্তাবরোধক উপচার | ২৯১ |
| শরারিমুখ, ত্রিকূর্চক শস্ত্র | ২৮৫ | রক্তস্রাবণের ফল | ২৯২ |
| কুশপত্রক ও আটামুখ শস্ত্র | ২৮৫ | পুনঃ রক্তস্রাবণ | ২৯২ |
| অন্তর্মুখ-শস্ত্র | ২৮৫ | অলাবূযন্ত্র নিষিদ্ধ | ২৯২ |
| ব্রীহিমুখ-শস্ত্র | ২৮৫ | অলাবূযন্ত্রপ্রয়োগ বিহিত | ২৯২ |
| কুঠারী-শস্ত্র | ২৮৫ | শৃঙ্গযন্ত্রপ্রয়োগ-নিষেধ | ২৯২ |
| তাম্রশলাকা-শস্ত্র | ২৮৫ | শৃঙ্গযন্ত্রপ্রয়োগ-নির্দেশ | ২৯২ |
| অঙ্গুলী-শস্ত্র | ২৮৬ | প্রচ্ছানকর্ম-নির্দেশ | ২৯২ |
| বড়িশ-শস্ত্র | ২৮৬ | প্রচ্ছান প্রভৃতির বিকল্প | ২৯২ |
| করপত্র-শস্ত্র | ২৮৬ | জলৌকা-প্রয়োগ | ২৯২ |
| কর্তরী-শস্ত্র | ২৮৬ | তুম্বী ও শৃঙ্গী যন্ত্র | ২৯৩ |
| নখ-শস্ত্র | ২৮৬ | সিরাবেধ-প্রয়োগ | ২৯৩ |
| দন্তলেখনক-শস্ত্র | ২৮৬ | রক্তস্রাবণ-বিধির বিকল্প | ২৯৩ |
| সূচীশস্ত্র | ২৮৬ | রক্তস্রাবণে উপদ্রব ও শান্তি | ২৯৩ |
| কূর্চ-শস্ত্র | ২৮৭ | (২৭) সিরাব্যধবিধিরধ্যায়ঃ | |
| খজশস্ত্র | ২৮৭ | শুদ্ধরক্তের বর্ণনা | ২৯৪ |
| ইউথিকা-শস্ত্র | ২৮৭ | রক্তদূষক তত্ত্ব | ২৯৪ |
| আরাশস্ত্র | ২৮৭ | রক্তজ রোগ | ২৯৫ |
| কর্ণবধনী সূচী | ২৮৭ | সিরাবেধের নির্দেশ | ২৯৫ |
| অনুশস্ত্রসমূহের পরিগণন | ২৮৮ | সিরাবেধ-বিধি | ২৯৫ |
| শস্ত্রকর্মসমূহের বর্ণনা | ২৮৮ | রোগবিশেষে সিরাবেধ | ২৯৫ |
| শস্ত্রসমূহের আট দোষ | ২৮৮ | কর্ণরোগে সিরাবেধ | ২৯৫ |
| শস্ত্রগ্রহণ-বিধি | ২৮৮ | নাসারোগে সিরাবেধ | ২৯৬ |
| শস্ত্রকোষের বিস্তার | ২৮৯ | পীনসরোগে সিরাবেধ | ২৯৬ |
| জোঁকের প্রয়োগ | ২৮৯ | মুখরোগে সিরাবেধ | ২৯৬ |
| ত্যাজ্য জোঁকের বর্ণনা | ২৮৯ | জত্রূরোগসমূহে সিরাবেধ | ২৯৬ |
| ত্যাজ্য জোঁকের নিষেধ | ২৮৯ | উন্মাদরোগে সিরাবেধ | ২৯৬ |
| গ্রাহ্য জোঁকের বর্ণনা | ২৯০ | অপস্মাররোগে সিরাবেধ | ২৯৬ |
| ত্যাজ্য জোঁকের লক্ষণ | ২৯০ | বিদ্রধি ও পার্শ্বশূলে সিরাবেধ | ২৯৬ |
| বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক | বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক |
|---|---|---|---|
| তৃতীয়কজ্বরে সিরাবেধ | ২৯৬ | পুনঃ সিরাবেধ | ৩০২ |
| চতুর্থকজ্বরে সিরাবেধ | ২৯৬ | অধিক রক্তস্রাবের নিষেধ | ৩০২ |
| প্রবাহিকারোগে সিরাবেধ | ২৯৬ | শৃঙ্গযন্ত্রের প্রয়োগ | ৩০২ |
| শুক্র ও শিশ্নরোগসমূহে সিরাবেধ | ২৯৬ | রক্তশুদ্ধির উপায় | ৩০২ |
| গলগণ্ডরোগে সিরাবেধ | ২৯৭ | স্তম্ভনক্রিয়ার নির্দেশ | ৩০২ |
| গৃধ্রসীরোগে সিরাবেধ | ২৯৭ | রক্তস্তম্ভনের উপচার | ৩০২ |
| অপচীরোগে সিরাবেধ | ২৯৭ | রক্তস্রাবণের পশ্চাৎ কর্ম | ৩০২ |
| প্রধান বাতরোগসমূহে সিরাবেধ | ২৯৭ | রক্তস্রাবণে পথ্য | ৩০৩ |
| পাদদাহ প্রভৃতিতে সিরাবেধ | ২৯৭ | রক্তশুদ্ধির লক্ষণ | ৩০৩ |
| বিশ্বাচীরোগে সিরাবেধ | ২৯৭ | (২৮) শল্যাহরণবিধিরধ্যায়ঃ | |
| অন্যত্র সিরাবেধ-নির্দেশ | ২৯৭ | শল্যের গতিসমূহ | ৩০৪ |
| সিরাযন্ত্রণ-বিধি | ২৯৭ | অন্তঃশল্যের লক্ষণ | ৩০৪ |
| সিরাবেধন-বিধি | ২৯৮ | ত্বচাগত শল্যের লক্ষণ | ৩০৪ |
| কুঠারিকা-প্রয়োগ | ২৯৮ | মাংসগত শল্যের লক্ষণ | ৩০৫ |
| উপনাসিকা সিরাবেধ | ২৯৮ | পেশীগত শল্যের লক্ষণ | ৩০৫ |
| জিহ্বাসিরাবেধ | ২৯৮ | স্নায়ুগত শল্যের লক্ষণ | ৩০৫ |
| গ্রীবাসিরাবেধ | ২৯৮ | সিরাগত শল্যের লক্ষণ | ৩০৫ |
| বাহুসিরাবেধ | ২৯৯ | স্রোতোগত শল্যের লক্ষণ | ৩০৫ |
| পার্শ্বস্থ সিরাবেধ | ২৯৯ | ধমনীগত শল্যের লক্ষণ | ৩০৫ |
| লিঙ্গের সিরাবেধ | ২৯৯ | অস্থিসন্ধিগত শল্যের লক্ষণ | ৩০৫ |
| জঙ্ঘাসিরাবেধ | ২৯৯ | অস্থিগত শল্যের লক্ষণ | ৩০৬ |
| পাদসিরাবেধ | ২৯৯ | সন্ধিগত শল্যের লক্ষণ | ৩০৬ |
| সিরাবেধের নির্দেশ | ২৯৯ | কোষ্ঠগত শল্যের লক্ষণ | ৩০৬ |
| বেধের পরিমাণ | ২৯৯ | মর্মগত শল্যের লক্ষণ | ৩০৬ |
| সম্যক্ বেধের বর্ণনা | ২৯৯ | সাধারণ নির্দেশ | ৩০৬ |
| দুর্বেধ প্রভৃতির বর্ণনা | ২৯৯ | শল্যব্রণের রোপণ | ৩০৬ |
| রক্ত না বহার কারণ | ৩০০ | পুনঃ পীড়াকর্তৃত্ব | ৩০৬ |
| রক্তস্রাবণের উপায় | ৩০০ | শল্যজ্ঞানের উপায় | ৩০৭ |
| রক্তস্রাবের বর্ণনা | ৩০০ | মাংসগত শল্য | ৩০৭ |
| গ্রাবণ-উপায়সমূহের নিষেধ | ৩০০ | পেশী প্রভৃতিগত শল্য | ৩০৭ |
| মূর্ছায় কর্তব্য | ৩০০ | অস্থিগত শল্য | ৩০৭ |
| বাতদূষিত রক্তের লক্ষণ | ৩০০ | সন্ধিগত শল্য | ৩০৭ |
| পিত্তদূষিত রক্তের লক্ষণ | ৩০১ | স্নায়ু প্রভৃতিগত শল্য | ৩০৭ |
| কফদূষিত রক্তের লক্ষণ | ৩০১ | মর্মগত শল্য | ৩০৭ |
| দ্বন্দ্বজ রক্তের লক্ষণ | ৩০১ | সাধারণ নির্দেশ | ৩০৭ |
| ত্রিদোষজ রক্তের লক্ষণ | ৩০১ | শল্যের স্বরূপসমূহের অনুমান | ৩০৭ |
| সিরাবেধে রক্তের পরিমাণ | ৩০১ | শল্যনির্হরণের উপায় | ৩০৮ |
| বিভিন্ন চিকিৎসা | ৩০১ | অর্বাচীন প্রভৃতি শল্য | ৩০৮ |
| উপচার-বিধি | ৩০১ | তির্যগ্গত শল্য | ৩০৮ |
| বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক | বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক |
|---|---|---|---|
| নির্ঘাতনের অযোগ্য শল্য | ৩০৮ | আমশোথের লক্ষণ | ৩১৫ |
| বিশল্যঘ্ন শল্যাহরণের নিষেধ | ৩০৮ | পচ্যমান ব্রণশোথের লক্ষণ | ৩১৫ |
| শল্যনির্হরণ-বিধি | ৩০৯ | পক্বশোথের লক্ষণ | ৩১৬ |
| দৃশ্য শল্যনির্হরণ | ৩০৯ | ব্রণে বাত প্রভৃতির লক্ষণ | ৩১৬ |
| অদৃশ্য শল্যনির্হরণ | ৩০৯ | অতিপক্ব ব্রণের লক্ষণ | ৩১৬ |
| সন্দংশযন্ত্রের প্রয়োগ | ৩০৯ | গম্ভীর পাকের বর্ণনা | ৩১৬ |
| তালযন্ত্রের প্রয়োগ | ৩০৯ | দারণ ও পাটন লেপ | ৩১৭ |
| নাড়ীযন্ত্রের প্রয়োগ | ৩০৯ | শস্ত্রকর্মের নিষেধ | ৩১৭ |
| শেষযন্ত্রের প্রয়োগ | ৩০৯ | শস্ত্রকর্মের বিধান | ৩১৭ |
| নির্হৃত শল্যের পশ্চাৎকর্ম | ৩০৯ | অনিশ্চিতকারী বৈদ্যের নিন্দা | ৩১৭ |
| সিরা ও স্নায়ুগত শল্য | ৩০৯ | শস্ত্রকর্মের পূর্বকর্ম | ৩১৮ |
| হৃদয়গত শল্য | ৩১০ | আহার ও মদ্যপানের নিষেধ | ৩১৮ |
| শল্যাহরণের অন্য বিধি | ৩১০ | শস্ত্রপ্রয়োগ-বিধি | ৩১৮ |
| অস্থিগত শল্য | ৩১০ | মহৎ ব্রণশোথে কর্তব্য | ৩১৮ |
| দ্বিতীয় বিধি | ৩১০ | প্রশস্ত শল্যচিকিৎসক | ৩১৯ |
| তৃতীয় বিধি | ৩১০ | তির্যক্ছেদন-বিধি | ৩১৯ |
| চতুর্থ বিধি | ৩১০ | পশ্চাৎকর্ম-নির্দেশ | ৩১৯ |
| পঞ্চম বিধি | ৩১০ | পট্টি প্রভৃতির নির্দেশ | ৩১৯ |
| ষষ্ঠ বিধি | ৩১০ | ব্রণরক্ষা-বিধান | ৩২০ |
| সপ্তম বিধি | ৩১০ | ঔষধ ধারণের নির্দেশ | ৩২০ |
| অষ্টম বিধি | ৩১১ | আচরণ-নির্দেশ | ৩২০ |
| নবম বিধি | ৩১১ | দিনে শোয়ার নিষেধ | ৩২০ |
| দশম বিধি | ৩১১ | অন্যান্য নিষিদ্ধ কর্ম | ৩২০ |
| পাক্বাশয়গত শল্য | ৩১১ | ব্রণরোগীর আহার | ৩২১ |
| বাত প্রভৃতি শল্য | ৩১১ | ত্যাজ্য আহার | ৩২১ |
| কণ্ঠস্রোতোগত শল্য | ৩১১ | ব্রণোপচারের জন্য উপদেশ | ৩২১ |
| যতুশল্যনির্হরণ | ৩১১ | পুনরায় প্রক্ষালন প্রভৃতি কর্ম | ৩২১ |
| অন্যান্য শল্যনির্হরণ | ৩১১ | বিকেশিকার বর্ণনা | ৩২২ |
| গলায় কীভাবে হওয়া শল্য বের করা | ৩১২ | এর দুষ্পরিণাম | ৩২২ |
| চোখ ও ব্রণে প্রবিষ্ট শল্য বের করা | ৩১২ | বিকেশিকার সদুপযোগ | ৩২২ |
| উদরগত জল বের করার বিধি | ৩১২ | বিদগ্ধব্রণের উপচার | ৩২২ |
| কর্ণগত জল ও কৃমি বের করার বিধি | ৩১২ | সদ্যোব্রণের উপচার | ৩২২ |
| শরীরে শল্যের বিলয় | ৩১৩ | সীবনকর্মের নিষেধ | ৩২২ |
| বিলীন না হওয়া শল্য | ৩১৩ | সীবনকর্ম-বিধি | ৩২৩ |
| শল্যনির্হরণের উপায় | ৩১৩ | সীবনের পশ্চাৎকর্ম | ৩২৩ |
| শল্যনির্হরণের নির্দেশ | ৩১৪ | সীবনকর্মের নির্দেশ | ৩২৩ |
| (২৯) শস্ত্রকর্মবিধিরধ্যায়ঃ | বন্ধনদ্রব্যের বর্ণনা | ৩২৩ | |
| ব্রণের উপচার | ৩১৫ | বন্ধনের ভেদসমূহের নির্দেশ | ৩২৪ |
| ব্রণশোথ-চিকিৎসা | ৩১৫ | লাভ ও হানি | ৩২১ |
| বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক | বিষয় | পৃষ্ঠাঙ্ক |
|---|---|---|---|
| পুনঃ বন্ধনভেদের নির্দেশ | ৩২৪ | পুনঃ ক্ষার-প্রয়োগ | ৩৩২ |
| ব্রণবন্ধন আবশ্যক | ৩২৫ | দুর্দগ্ধের লক্ষণ | ৩৩২ |
| ব্রণবন্ধন থেকে লাভ | ৩২৫ | অতিদগ্ধের লক্ষণ | ৩৩২ |
| পত্রদান-উপক্রম | ৩২৫ | অতিদগ্ধ গুদের লক্ষণ | ৩৩২ |
| ব্রণবন্ধনের নিষেধ | ৩২৬ | অতিদগ্ধ নাসার লক্ষণ | ৩৩২ |
| ব্রণজ কৃমির বর্ণনা | ৩২৬ | শ্রোত্র প্রভৃতি দগ্ধের লক্ষণ | ৩৩২ |
| রোপণে তাড়াহুড়োর নিষেধ | ৩২৬ | ক্ষারের শমনকর্ম | ৩৩৩ |
| রোপণের পশ্চাৎ কর্ম | ৩২৭ | ক্ষারপ্রয়োগে হানি-লাভ | ৩৩৩ |
| চিকিৎসা-নির্দেশ | ৩২৭ | অগ্নিকর্মের প্রাধান্য | ৩৩৩ |
| (৩০) ক্ষারাগ্নিকর্মবিধিরধ্যায়ঃ | অগ্নিকর্মের প্রয়োগ | ৩৩৩ | |
| ক্ষারের প্রশংসা | ৩২৮ | ত্বচারোগসমূহে অগ্নিকর্ম | ৩৩৩ |
| পানীয়ক্ষারের প্রয়োগ | ৩২৮ | মাংসরোগসমূহে অগ্নিকর্ম | ৩৩৩ |
| অন্যত্র ক্ষার-প্রয়োগ | ৩২৮ | সিরা প্রভৃতি রোগসমূহে অগ্নিকর্ম | ৩৩৪ |
| ক্ষারপ্রয়োগের নিষেধ | ৩২৯ | অগ্নিকর্মের নিষেধ | ৩৩৪ |
| মধ্যম ক্ষার নির্মাণের বিধি | ৩২৯ | সম্যগ্দগ্ধের পশ্চাৎ কর্ম | ৩৩৪ |
| ক্ষার গালন-বিধি | ৩৩০ | সম্যগ্দগ্ধের লক্ষণ | ৩৩৪ |
| মৃদু ক্ষার নির্মাণের বিধি | ৩৩০ | দুর্দগ্ধ প্রভৃতির লক্ষণ | ৩৩৪ |
| তীক্ষ্ণ ক্ষার নির্মাণের বিধি | ৩৩০ | অগ্নিদগ্ধের ভেদ | ৩৩৪ |
| তীক্ষ্ণ, মধ্য ও মৃদু ক্ষারের প্রয়োগ | ৩৩০ | তুচ্ছদগ্ধের লক্ষণ | ৩৩৪ |
| ক্ষারের ১০ গুণ | ৩৩০ | দুর্দগ্ধের লক্ষণ | ৩৩৫ |
| ক্ষারের সম্যক্ যোগ | ৩৩১ | অতিদগ্ধের লক্ষণ | ৩৩৫ |
| ক্ষারপ্রয়োগের বিধি | ৩৩১ | অগ্নিদগ্ধের চিকিৎসা | ৩৩৫ |
| অর্শে ক্ষার-প্রয়োগ | ৩৩১ | দুর্দগ্ধের চিকিৎসা | ৩৩৫ |
| বর্ত্মরোগে ক্ষার-প্রয়োগ | ৩৩১ | সম্যগ্দগ্ধের চিকিৎসা | ৩৩৫ |
| নাসার্শে ক্ষার-প্রয়োগ | ৩৩১ | অতিদগ্ধের চিকিৎসা | ৩৩৫ |
| কর্ণার্শে ক্ষার-প্রয়োগ | ৩৩১ | স্নেহদগ্ধের চিকিৎসা | ৩৩৫ |
| ক্ষারের পশ্চাৎ কর্ম | ৩৩১ | শস্ত্র প্রভৃতির প্রয়োগ | ৩৩৫ |
| ক্ষারদগ্ধ ব্রণের রোপণ | ৩৩২ | বিভিন্ন সূত্রের বর্ণনা | ৩৩৫ |
| সম্যগ্দগ্ধের লক্ষণ | ৩৩২ |
॥ শ্রীঃ ॥
শ্রীমদ্বাগ্ভটবিরচিতম্
অষ্টাঙ্গহৃদয়ম্
'নির্মলা' অভিধায়া হিন্দীব্যাখ্যয়া বিশেষবক্তব্যাদিভিশ্চ বিভূষিতম্
সূত্রস্থানম্
প্রথমোऽধ্যায়ঃ
মঙ্গলাচরণম্
ব্যাখ্যাকর্তুর্মঙ্গলাচরণম্
ধন্বন্তরি পশুপর্তি গিরিজাং গণেশং নত্বাঽধুনা চরকসুশ্রুতবাগ্ভটাদীন্ ।
স্মৃত্বা ভিষগ্গুরুবরান্ যশসা সমৃদ্ধান্ শ্রীলালচন্দ্রচরণান্ প্রণতোऽস্মি শশ্বৎ ॥ ১ ॥
যুগানুরূপসন্দর্ভসঞ্জ্ঞয়া সফলীকৃতম্।
অষ্টাঙ্গহৃদয়ং যেন বাগ্ভটং তং স্মরাম্যহম্ ॥ ২ ॥
কৃপাকটাক্ষতো যেষাং প্রবৃত্তোऽস্ম্যল্পধীরপি।
টীকায়াং বাগ্ভটস্যাস্য বন্দে তান্ গুরুপুঙ্গবান্ ॥ ৩ ॥
অষ্টাঙ্গহৃদয়ে টীকাঃ প্রাপ্যন্তে পূর্বসূরিণাম্।
তথাপ্যভিনবাং কুর্বে 'নির্মলাং' বিশদার্থদাম্ ॥ ৪ ॥
তারাদত্ততনূজস্য ব্রহ্মানন্দত্রিপাঠিনঃ।
অনয়া টীকয়া ভূয়াত্ সন্তোষো বিদুষাং সতাম্ ॥ ৫ ॥
যদি কথমপি কিঞ্চিদ্ বুদ্ধিদোষাৎ প্রমাদান্
মনুজসুলভভাবাট্টীকনে বাগ্ভটস্য।
সংবলনমিহ ভবেচ্চেন্মৎকৃতং তৎক্ষমন্তাং
প্রসৃতযুগকরাব্জো যাচতেঽয়ং ত্রিপাঠী ॥ ৬ ॥
যে রাগ প্রভৃতি রোগ সর্বদা সমস্ত মানুষের সঙ্গে লেগে থাকে, যে সমস্ত শরীরে বিস্তৃত থাকে এবং যে উৎকণ্ঠা, মোহ ও অরতি (অস্থিরতা) উৎপন্ন করতে থাকে, সেই সকলকে যিনি বিনষ্ট করেছেন, সেই অপূর্ব বৈদ্যকে আমাদের (গ্রন্থকারের) নমস্কার হোক। ॥ ১ ॥
বক্তব্য রাগ, দ্বেষ, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মৎসর, ঈর্ষা প্রভৃতিকে মানসিক রোগ বলা হয়েছে। এই মানসিক রোগসমূহে মন প্রভৃতির আশ্রয় দেহ; অতএব এগুলি আশ্রয়-আশ্রিতভাবের কারণে মনের সঙ্গে সঙ্গে দেহকেও পীড়িত করে। যেমন উত্তপ্ত লোহার গোলক যে কড়াই প্রভৃতি পাত্রে রাখা থাকে, তাকেও উত্তপ্ত করে; ঠিক তেমনি রাগ প্রভৃতি মানসিক রোগ মনের সঙ্গে দেহকেও পীড়িত করে। শুদ্ধচিত্ত ব্যক্তির রাগাদি রোগ হয় না।
দ্রব্যস্বরূপবিজ্ঞানীয় অধ্যায় ৬
অথ মাংসবর্গঃ (page:97)
মৃগ-পরিচয়— হরিণ, এণ, কুরঙ্গ, গোকর্ণ, মৃগমাতৃকা, শশ, শম্বর (সৌভর বারহসিঙ্গা), চারুষ্ক এবং শরভ প্রভৃতিকে ‘মৃগ’ বলা হয়। ॥ ৪৩ ॥
বক্তব্য— অষ্টাঙ্গসংগ্রহ সূত্রস্থান ৭/৬৭–৬৮-এ মৃগদের গণনা এইরূপ করা হয়েছে— হরিণ, এণ, কুরঙ্গ, ঋশ্য, গোকর্ণ (নীলগাই), মৃগমাতৃকা, কালপুচ্ছক, চারুষ্ক, বরপোত, শশক, উরণ, শ্বদন্ত্ষ্ট্র, রাম, শরভ (এই মৃগ কাশ্মীরে পাওয়া যায়, এর আটটি পা থাকে), লোহকারক, শম্বর (সাঁবর), করাল (কস্তুরীমৃগ), কৃতমাল এবং পৃষত (বিন্দুযুক্ত চর্মবিশিষ্ট)। চরক বলেছেন— ‘মৃগা জাঙ্গলচারিণঃ’ (চ.সূ. ২৭/৫৫), অর্থাৎ এরা জঙ্গলে বিচরণ করে। শিকারিরা এদের অনুসন্ধান করে; অতএব এদের ‘মৃগ’ বলা হয়।
লাববার্তীকবর্তীররক্তবর্ত্মককুক্কুভাঃ ।
কপিঞ্জলোপচক্রাখ্যচকোরকুরুবাহবঃ ॥ ৪৪ ॥
বর্তকো বর্তিকা চৈব তিত্তিরিঃ ক্রকরঃ শিখী।
তাম্রচূড়াখ্যবকরগোনর্বগিরিবর্তিকাঃ ॥ ৪৫ ॥
তথা শারপদেন্দ্রাভবরটায়াশ্চ বিষ্কিরাঃ ।
বিষ্কির-পরিচয়— লাব (লবা), বর্তীক (বটের), রক্তবর্ত্মক, কুক্কুভ, কপিঞ্জল, উপচক্র (চকবা), চকোর, কুরুবাহু, বর্তক (বত্তখ), বর্তিকা, তীতির, ক্রকর, ময়ূর, তাম্রচূড় (মুরগা), বকর, গোনর্ব, গিরিবর্তিকা, শারপদ, ইন্দ্রাভ এবং বরট নামক পক্ষীদের ‘বিষ্কির’ বলা হয়। ॥ ৪৪–৪৫ ॥
বক্তব্য— অষ্টাঙ্গসংগ্রহ (সূ. ৭/৬৯–৭১)-এ বিষ্কির পক্ষীদের গণনা এইরূপ করা হয়েছে— লাব, বর্তীক, বাতীর, রক্তবর্ত্মক (গৃহচটক গোরাইয়া), কুক্কুভ (বন্য মুরগা), কপিঞ্জল (বন্য গোরাইয়া), উপচক্র (চকবা), চকোর, কুরুবাহু, বর্তক (বত্তখ), বর্তিকা, তিত্তির, ক্রকর (বয়া), ময়ূর, মুরগা, বরক (বক), গোনর্দ, গিরিবর্তিকা, শারপদ, ইন্দ্রাভ এবং বরটা (হংসের স্ত্রী)— এরা সকলেই বিষ্কির নামে পরিচিত।
‘বিষ্কির’ শব্দের অর্থ— যে পক্ষীরা প্রথমে নখ দিয়ে দানার স্তূপ ছড়িয়ে দেয় এবং পরে একটি একটি করে দানা কুড়িয়ে খায়, তাদের ‘বিষ্কির’ বলা হয়।
জীবঞ্জীবকদাত্যূহনৃঙ্গাহশুকসারিকাঃ ॥ ৪৬ ॥
লগাকোকিলহারীতকপোতচটকাদয়ঃ । প্রতুদাঃ।
প্রতুদ-পরিচয়— জীবঞ্জীবক, দাত্যূহ, শৃঙ্গ বা ভৃঙ্গরাজ, শুক, সারিকা (ময়না), লগা, কোকিল, হারীত, কপোত (কবুতর) এবং চটক (গোরাইয়া) প্রভৃতি পক্ষী ‘প্রতুদ’ নামে পরিচিত। ॥ ৪৬ ॥
বক্তব্য— অষ্টাঙ্গসংগ্রহ সূত্রস্থান ৭/৭২–৭৫-এ প্রতুদ পক্ষীদের গণনা এইরূপ— শতপত্র (কাঠঠোকরা), ভৃঙ্গরাজ, কোবষ্টি (জলমুরগা), জীবঞ্জীবক, খঞ্জরীট (খঞ্জন পাখি), হারীত (হরিয়াল), দুর্নামারি (পেঁচা), কৃশগুহ, লঙ্কা, লহূষক, বটহা, গোক্ষ্বেড, ডিণ্ডিমাণক, জটি (জটায়ু), দুন্দুভি, পার্কার, লোহপৃষ্ঠ, কলিঙ্গক, সারিকা, শুক, শার্ঙ্গ (সারঙ্গ), চিরৌটীক, কুযষ্টিক, মঞ্জরীয়ক, দাত্যূহ, গোপাপুত্র, প্রিয়াত্মজ, কলবিঙ্ক, কোকিল, কবুতর, অঙ্গারচূড়ক, পারাবত (বুনো কবুতর) এবং পাণবিক— এ সকল পক্ষী ‘প্রতুদ’ নামে পরিচিত। ঠোঁট দিয়ে আঘাত করে দানা কুড়িয়ে খায় যে সকল পক্ষী, তাদের ‘প্রতুদ’ বলা হয়।
বিষ্কির ও প্রতুদ— এই দুই শ্রেণির পক্ষীকে উপরে পৃথকভাবে গণনা করা হয়েছে; তথাপি উভয়ের মধ্যেই প্রতুদধর্ম সমানভাবে বিদ্যমান। বর্তমানে এই পক্ষীগুলি উক্ত নামগুলির দ্বারা প্রায় অপরিচিত হয়ে পড়েছে; এদের পরিচয় পাখি-শিকারিদের (চিড়িমারদের) নিকট থেকে জানা উচিত।
ভেকগোধাহিশ্বাবিদাদ্যা বিলেশয়াঃ ॥ ৪৭ ॥
বিলেশয়-পরিচয়— ভেক (ব্যাঙ), গোহ, সাপ এবং সজারু প্রভৃতি প্রাণীকে ‘বিলেশয়’ বলা হয়। ॥ ৪৭ ॥
বক্তব্য— ‘বিলেশয়’ অর্থাৎ যারা গর্তে বাস করে। ব্যাঙ মাটির ভিতরে থাকে, গোহ ও সাপের গর্ত থাকে, আর সজারুর সমগ্র শরীরে কাঁটা থাকে; সে নিজে গর্ত তৈরি করে অথবা কোনো গুহাকে নিজের বাসস্থান করে নেয়। এর কাঁটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং কৃত্যা-প্রয়োগে ব্যবহৃত হয়।
অষ্টাঙ্গসংগ্রহ (সূ. ৭/৭৭৬)-এ বিলেশয় প্রাণীদের গণনা এইরূপ করা হয়েছে— শ্বেত, শ্যাম, রঙ-বিচিত্র পৃষ্ঠবিশিষ্ট এবং কালক নামক প্রাণী, ভেক, চিলট, কূচীক, গোহ, শল্লক, শণ্ডবা (সৌড়া), বৃষ (বন্য বিলাব), সাপ, কদলী (পৌণ্ড্রদেশে পাওয়া যায় এমন একটি প্রাণী), শ্বাবিধ (বড় সজারু) এবং নেউল— এরা বিলেশয় প্রাণী।
গোখরাশ্বতরোষ্ট্রাশ্বদ্বীপিসিংহর্ক্ষবানরাঃ ।
মার্জারমূষকব্যাঘ্রবৃকবভ্রুতরক্ষবঃ ॥ ৪৮ ॥
লোপাকজম্বুকশ্যেনচাষবান্তাদবায়সাঃ ।
শশঘ্নীভাসকুররগৃধ্রোলূককুলিঙ্গকাঃ ॥ ৪৯ ॥
ধূমিকা মধুহা চেতি প্রসহা মৃগপক্ষিণঃ ।
প্রসহ-পরিচয়— গরু, গাধা, খচ্চর, উট, ঘোড়া, দ্বীপি (চিতা), সিংহ, ভালুক, বিলাব, ইঁদুর, বাঘ, বৃক (নেকড়ে), নেউল, তরক্ষু (লকড়বাঘা), শিয়াল এবং শৃগাল। পক্ষীদের মধ্যে শ্যেন (বাজ), চাষ (নীলকণ্ঠ), বান্তাদ (কুকুর), কাক, চিল, ভাস, কুরর, গৃধ্র, পেঁচা, কুলিঙ্গক, ধূমিকা এবং মধুহা নামক পক্ষীদের ‘প্রসহ’ বলা হয়। ॥ ৪৮–৪৯ ॥
বক্তব্য— উপরের ৪৮তম শ্লোকের উত্তরার্ধ ‘চাষবান্তাদবায়সাঃ’ কিছুটা খটকা জাগায়, কারণ এখানে পক্ষীদের মধ্যে কুকুরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অষ্টাঙ্গসংগ্রহ (সূ. ৭/৭৭৮)-এও একই অবস্থা। প্রকৃতপক্ষে অন্বয়বিধি অনুসারে ‘বান্তাদ’-এর গণনা করা গেলেও এখানে সম্পূর্ণ পঙ্ক্তিটিই সমষ্টিরূপে রয়েছে, অতএব বিষয়টি তেমনই গ্রহণীয়। ভিড়ের মধ্যে মানুষও এদিক-ওদিক সরে যায়, পশু-পক্ষীদের কথা তো বলাই বাহুল্য।
বরাহমহিষন্যঙ্কুরুরুরোহিতবারণাঃ ॥ ৫০ ॥
সৃমরশ্বমরঃ খড্গো গবয়শ্চ মহামৃগাঃ ।
মহামৃগ-পরিচয়— শূকর, মহিষ, ন্যঙ্কু (বারহসিঙ্গার এক প্রকার), রুরু, রোহিত, হাতি, সৃমর (হরিণের এক প্রকার), চমর, গণ্ডার এবং গবয় (বন্য গরু)— এদের ‘মহামৃগ’ বলা হয়। ॥ ৫০ ॥
হংসসারসকাদম্ববককারণ্ডবপ্লবাঃ ॥ ৫১ ॥
বলাকোৎক্রোশচক্রাহমদ্রুক্রৌঞ্চাদয়োপ্চরাঃ ।
জলচর পক্ষী— হংস, সারস, কাদম্ব, বক, কারণ্ডব, প্লব, বলাকা, উৎক্রোশ, চকবা, মদ্গু (জলকৌয়া), ক্রৌঞ্চ প্রভৃতি পক্ষী ‘জলচর’ নামে পরিচিত। ॥ ৫১ ॥
মৎস্যা রোহিতপাঠীনকূর্মকুম্ভীরকর্কটাঃ ॥ ৫২ ॥
শুক্তিশঙ্খোদ্রশম্বূকশফরীবর্মিচন্দ্রিকাঃ ।
চুলূকীনক্রমকরশিশুমারতিমিঙ্গিলাঃ ॥ ৫৩ ॥
রাজীচিলিচিমাদ্যাশ্চ—
মৎস্য-পরিচয়— রোহু, পাঠীন, কচ্ছপ, কুম্ভীর, কাঁকড়া, শুক্তি (ঝিনুক)-এর কীট, শঙ্খের কীট, উদ্ব্র (জলবিড়াল), শম্বূক (শামুক), শফরী (ছোট জাতের মাছ), বর্মী, চন্দ্রিকা, চুলূকী, নক্র (ঘড়িয়াল), মকর, শিশুমার, তিমিঙ্গিল (তিমি মাছ), রাজী এবং চিলিচিম প্রভৃতি মৎস্যবর্গে পরিগণিত। ॥ ৫২–৫৩ ॥
মৃগ্যং বৈষ্কিরিকং কিঞ্চ প্রতুদং চ বিলেশয়ম্ ।
প্রসহং চ মহামৃগ্যমপ্চরং মাৎস্যমষ্টধা ॥ ১ ॥
আট প্রকারের মাংস—
১. মৃগ,
২. বিষ্কির,
৩. প্রতুদ,
৪. বিলেশয়,
৫. প্রসহ,
৬. মহামৃগ,
৭. জলচর পক্ষী এবং
৮. মৎস্যবর্গ। ॥ ১ ॥
বক্তব্য— এখানে ‘জলচর’ নামে কয়েক প্রকার পক্ষীর বর্ণনা করা হয়েছে, তার পরে ‘মৎস্যমাংস’-এর উল্লেখ রয়েছে। মাছ জলজ, জলেচর এবং জলেশয়— এই তিন প্রকৃতিরই হয়; কিন্তু এদের মধ্যে ‘চিলিচিম’ নামক মাছ…চরক এর বর্ণনা এইরূপ দিয়েছেন— ‘স পুনঃ শকলী লোহিতনয়নঃ সর্বতো লোহিতরাজী রোহিতাকারঃ যো ভূমৌ চরতি।’ (চ.সূ. ২৬।৮৩)
এটি তার আকৃতির পরিচয়। এটি অধিকাংশ সময় ভূমিতে বিচরণ করে, অর্থাৎ জল থেকে পৃথক হয়েও জীবিত থাকে— এটাই এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
যোনিষ্বজাবী ব্যামিশ্রগোচরত্বাদনিশ্চিতে ॥ ৫৪ ॥
ছাগল ও ভেড়ার পরিচয়— ছাগল ও ভেড়ার যোনি (উৎপত্তিস্থান) সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না, কারণ এরা উভয়েই জাঙ্গল ও আনূপ— উভয় প্রকার দেশেই বিচরণ করে। ॥ ৫৪ ॥
আদ্যান্ত্যা জাঙ্গলানূপা মধ্যী সাধারণী স্মৃতী।
অবশিষ্ট প্রাণীদের নির্ণয়— অবশিষ্ট মাংসযোনিগুলির সিদ্ধান্ত এইরূপ— প্রথম তিন শ্রেণি (১. মৃগ, ২. বিষ্কির, ৩. প্রতুদ) জাঙ্গল দেশের; এবং শেষ তিন শ্রেণি (১. মহামৃগ, ২. জলচর পক্ষী ও ৩. মৎস্য) আনূপ দেশের বলে পরিচিত। আর মধ্যবর্তী দুই শ্রেণি (১. বিলেশয় ও ২. প্রসহ) উভয় প্রকার লক্ষণযুক্ত হওয়ায় সাধারণ দেশের বলে গণ্য।
তত্র বদ্ধমলাঃ শীতা লঘবো জাঙ্গলা হিতাঃ ॥ ৫৫ ॥
পিত্তোত্তরে বাতমধ্যে সন্নিপাতে কফানুগে।
মাংসের বর্ণনা— উক্ত মাংসগুলির মধ্যে জাঙ্গল দেশের প্রাণীদের মাংস মলকে বদ্ধ করে, শীতবীর্য, পাচনে লঘু এবং হিতকর। পিত্ত-প্রধান, মধ্যম বাত এবং হীন কফযুক্ত সন্নিপাতে এগুলি বিশেষ উপকারী। ॥ ৫৫ ॥
দীপনঃ কটুকঃ পাকে গ্রাহী রূক্ষো হিমঃ শশঃ ॥ ৫৬ ॥
শশকমাংসের গুণ— খরগোশের মাংস জঠরাগ্নি প্রদীপ্ত করে, বিপাকে কটু, গ্রাহী (মলকে বদ্ধ করে), রূক্ষ এবং শীতবীর্যযুক্ত। ॥ ৫৬ ॥
ঈষদুষ্ণগুরুস্নিগ্ধা বৃংহণা বর্তকাদয়ঃ ।
তিত্তিরিস্তেষ্বপি বরো মেধাগ্নিবলশুক্রকৃত্ ॥ ৫৭ ॥
গ্রাহী বর্ণ্যোऽনিলোদ্রিক্তসন্নিপাতহরঃ পরম্।
বর্তক প্রভৃতি মাংস— এগুলি কিছুটা উষ্ণবীর্য, পাচনে গুরু, স্নিগ্ধ এবং পুষ্টিকর। এদের মধ্যে তিত্তিরের মাংস সর্বোত্তম, কারণ এটি মেধা, জঠরাগ্নি, বল এবং শুক্র (বীর্য) বৃদ্ধি করে, মলকে বদ্ধ করে, মুখমণ্ডলের কান্তি বৃদ্ধি করে এবং বাতদোষ-প্রধান সন্নিপাতের উৎকৃষ্ট নাশক। ॥ ৫৭ ॥
নাতিপথ্যঃ শিখী পথ্যঃ শ্রোত্রস্বরবয়োদৃশাম্ ॥ ৫৮ ॥
ময়ূরের মাংস— ময়ূরের মাংস অতিশয় পথ্য নয়; তথাপি এটি কর্ণেন্দ্রিয়, স্বরবাহী স্রোতস্, বয়স এবং দৃষ্টিশক্তিকে স্থিরতা প্রদান করে। ॥ ৫৮ ॥
তদ্বচ্চ কুক্কুটো বৃষ্যঃ—
কুক্কুটের মাংস— কুক্কুটের মাংসও ময়ূরের মাংসের ন্যায় গুণযুক্ত এবং এটি বৃষ্য (বীর্যবর্ধক)।
— গ্রাম্যস্তু শ্লেষ্মলো গুরুঃ।
গৃহপালিত মুরগির মাংস— গৃহপালিত মুরগির মাংস বন্য মুরগির মাংসের তুলনায় অধিক কফকারক এবং গুরু।
মেধাঽনলকরাঃ হৃদ্যাঃ ক্রকরাঃ সোপচক্রকাঃ ॥ ৫৯ ॥
ক্রকর তথা উপচক্রকের মাংস— এগুলি মেধা (ধারণশক্তি) বৃদ্ধি করে, জঠরাগ্নি প্রজ্বলিত করে এবং হৃদয়ের জন্য হিতকর।॥ ৫৯ ॥
গুরুঃ সলবণঃ কাণকপোতঃ সর্বদোষকৃত্।
কাণকপোতকের মাংস— জঙ্গলি কবুতরের মাংস পাচনে গুরু, কিছুটা লবণ রসযুক্ত এবং বাত প্রভৃতি তিনটি দোষই বৃদ্ধি করে।
চটকাঃ শ্লেষ্মলাঃ স্নিগ্ধা বাতঘ্নাঃ শুক্রলাঃ পরম্ ॥ ৬০ ॥
চটকের মাংস— এই মাংস কফবর্ধক, স্নিগ্ধ, বাতদোষনাশক এবং শুক্রকে অত্যন্ত বৃদ্ধি করে।॥ ৬০ ॥
গুরুষ্ণস্নিগ্ধমধুরা বর্গাশ্চোত্তো যথোত্তরম্।
মূত্রশুক্রকৃতো বল্যা বাতঘ্নাঃ কফপিত্তলাঃ ॥ ৬১ ॥
আট প্রকার মাংসের বর্ণনা— উক্ত আট প্রকার মাংস ক্রমানুসারে উত্তরোত্তর গুরু, উষ্ণ, স্নিগ্ধ এবং মধুর হয়। এগুলি মূত্রবর্ধক, শুক্রবর্ধক, বলবর্ধক, বাতনাশক এবং কফ ও পিত্তবর্ধক।॥ ৬১ ॥
শীতা মহামৃগাস্তেষু ক্রব্যাদপ্রসহাঃ পুনঃ।
লবণানুরসাঃ পাকে কটুকা মাংসবর্ধনাঃ ॥ ৬২ ॥
জীর্ণার্শোগ্রহণীদোষশোষার্তানাং পরং হিতাঃ।
মহামৃগের মাংস— এদের মধ্যে মহামৃগের মাংস শীতবীর্য। ক্রব্যাদ (কাঁচা মাংস ভক্ষণকারী প্রাণী) এবং প্রসহ (যারা অন্যের কাছ থেকে ছিনিয়ে খায়) প্রাণীদের মাংস কিছুটা লবণ-অনুরসযুক্ত, বিপাকে কটু এবং মাংসবর্ধক। এগুলি জীর্ণ অর্শরোগ, গ্রহণীরোগ এবং শোষ (রাজযক্ষ্মা) রোগে পীড়িত ব্যক্তিদের জন্য অত্যন্ত হিতকর।॥ ৬২ ॥
নাতিশীতগুরুস্নিগ্ধং মাংসমাজমদোষলম্ ॥ ৬৩ ॥
শরীরধাতুসামান্যাদনভিষ্যন্দি বৃংহণম্।
ছাগলের মাংস— এই মাংস সমশীতোষ্ণ। অতএব বলা হয়েছে যে এটি অতিশীত নয়, অতিগুরু নয় এবং অতিস্নিগ্ধও নয়; তাই এটি কোনো বিশেষ দোষ বৃদ্ধি করে না। মানুষের শরীরের রস প্রভৃতি ধাতুর সঙ্গে সাম্য থাকার কারণে এটি অভিষ্যন্দীও নয়। এটি সকল ধাতুর বৃদ্ধি করে।॥ ৬৩ ॥
বিপরীতমতো জ্ঞেয়মাবিকং বৃংহণং তু তৎ ॥ ৬৪ ॥
ভেড়ার মাংস— ভেড়ার মাংস ছাগলের মাংসের গুণের বিপরীত গুণযুক্ত; তবে এটিও শরীরের ধাতুগুলির বৃদ্ধি করে।॥ ৬৪ ॥
শুষ্ককাশশ্রমাত্যগ্নিবিষমজ্বরপীনসান্।
কার্শ্যং কেবলবাতাংশ্চ গোমাংসং সন্নিয়চ্ছতি ॥ ৬৫ ॥
গরুর মাংস— গরুর মাংস সেবনে শুকনো কাশি, শ্রম (ক্লান্তি), অত্যগ্নি (ভস্মক রোগ), বিষমজ্বর, পীনস, কার্শ্য (কৃশতা) এবং কেবল (শুদ্ধ) বাতরোগের উপশম হয়।॥ ৬৫ ॥
বক্তব্য— সুশ্রুত গোমাংসের গুণের মধ্যে একটি গুণ ‘পবিত্র’-ও উল্লেখ করেছেন, যা বিবেচনাযোগ্য। দেখুন— ৪৬।৮৯। চরকও প্রায় এই গুণগুলিরই বর্ণনা করেছেন। দেখুন— চ.সূ. ২৭।৭৭৯। কিন্তু তিনি ‘গোমান্ মৃগমাংসানাম্’ (চ.সূ. ২৫।১৩৯) বলে সমস্ত মৃগমাংসের মধ্যে একে অধিক অপথ্য বলেছেন এবং বাগ্ভটও ‘নিন্দিতো গৌঃ’ (অ.সং.সূ. ৭৭।১০৮) বলে নিজের অভিপ্রায় প্রকাশ করেছেন।
উষ্ণো গরীয়ান্মহিষঃ স্বপ্নদার্ঢ্যবৃহত্ত্বকৃত্।
মহিষের মাংস— এটি অত্যন্ত উষ্ণ, অত্যন্ত গুরু, পর্যাপ্ত নিদ্রা আনে, শরীরকে দৃঢ় করে এবং পুষ্টি বৃদ্ধি করে।
তদ্বদ্বরাহঃ শ্রমহা
রুচিশুক্রবলপ্রদঃ ॥ ৬৬ ॥
শূকরের মাংস— শূকরের মাংসও মহিষের মাংসের ন্যায় গুণসম্পন্ন। এটি শারীরিক ক্লান্তি দূর করে, আহারের প্রতি রুচি বৃদ্ধি করে, শুক্রবর্ধক এবং বলপ্রদ।॥ ৬৬ ॥
মৎস্যাঃ পরং কফকরাঃ—
মৎস্যের মাংস— সকল প্রকার মৎস্যের মাংস অত্যন্ত কফবর্ধক।
— চিলিচীমস্ত্রিদোষকৃত্।
চিলচিম মৎস্যের মাংস— চিলচিম নামক মৎস্যের মাংস ত্রিদোষবর্ধক।
বক্তব্য— পক্ষীদের মধ্যে বাদুড় এবং মৎস্যদের মধ্যে চিলচিম— উভয়েই সুযোগ অনুযায়ী জল ও স্থল উভয় দিকেই বিচরণ করে। বাদুড় ডানা থাকার কারণে পক্ষীদের মধ্যে এবং দাঁত থাকার কারণে মৃগাদি পশুর মধ্যেও গণ্য হয়। অনুরূপভাবে চিলচিম জলচর ও স্থলচর— উভয় শ্রেণিতেই গণ্য হয়। এ ধরনের জীবের স্বভাব ও গুণধর্ম সাধারণত দোষযুক্ত হয়ে থাকে।
লাবরোহিতগোধৈণাঃ স্বে স্বে বর্গে বরাঃ পরম্ ॥ ৬৭ ॥
লাব প্রভৃতির বর্ণনা— নিজ নিজ শ্রেণিতে নিম্নলিখিত প্রাণীদের মাংস সর্বোত্তম বলে গণ্য হয়েছে। যথা— বিষ্কির শ্রেণিতে লাব পাখির মাংস, মৎস্য শ্রেণিতে রোহিত মৎস্যের মাংস (রুই), বিলেশয় শ্রেণিতে গোধা (গোহ)-এর মাংস এবং মৃগ শ্রেণিতে এণ (হরিণ)-এর মাংস।॥ ৬৭ ॥
বক্তব্য— অনূপ দেশের অধিবাসী অথবা নদীতীরবর্তী যেসব মানুষ সর্বদা অন্নের পরিবর্তে মৎস্য আহার করে, তারা নিজেদের মাংসাশী বলে স্বীকার করে না। তারা মৎস্যকে ফল বা শাকের ন্যায় গ্রহণ করে এবং তাকে 'জলতোরই' নামে অভিহিত করে।
মাংসং সদ্যোহতং শুদ্ধং বয়ঃস্থং চ ভজেত্—
ভক্ষ্য মাংসের বর্ণনা— সদ্য বধ করা, যুবক প্রাণীর, শুদ্ধ (পরিষ্কার করা) মাংস ভক্ষণ করা উচিত।
— ত্যজেত্।
মৃতং কৃশং ভৃশং মেদ্যং ব্যাধিবারিবিষৈর্হতম্ ॥ ৬৮ ॥
অভক্ষ্য মাংসের বর্ণনা— যে প্রাণী স্বাভাবিকভাবে মারা গেছে, অত্যন্ত কৃশ, অতিমাত্রায় মেদযুক্ত, বিশেষ রোগে মৃত, জলে ডুবে মারা গেছে অথবা বিষে মারা গেছে— এ ধরনের প্রাণীর মাংস ভক্ষণ করা উচিত নয়।॥ ৬৮ ॥
বক্তব্য— গোমাংস বিক্রেতাকে বুচড় এবং অন্যান্য সকল প্রকার মাংস বিক্রেতাকে কসাই বলা হয়। অথবা উভয়েই কসাই। তারা ভক্ষ্য (হিতকর) ও অভক্ষ্য (অহিতকর)— উভয় প্রকার মাংসই বিক্রি করে। অতএব মাংসভোজীদের সতর্ক থাকা উচিত। রোগাক্রান্ত প্রাণীর মাংস ভক্ষণকারী ব্যক্তির সেই প্রাণীর মৃত্যুর কারণস্বরূপ রোগসমূহ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সাধারণত এরা অসুস্থ পশু কম মূল্যে কিনে জবাই করে তার মাংস বিক্রি করে।
পুংস্ত্রিয়োঃ পূর্বপশ্চার্ধে গুরুণী, গর্ভিণী গুরুঃ।
লঘুর্যোষিচ্চতুষ্পাৎসু, বিহঙ্গেষু পুনঃ পুমান্ ॥ ৬৯ ॥
শিরঃ স্কন্ধোরুপৃষ্ঠস্য কাট্যাঃ সক্থ্নোশ্চ গৌরবম্।
তথাঽऽমপক্বাশয়য়োর্যথাপূর্বং বিনির্দিশেত্।
শোণিতপ্রভৃতীনাং চ ধাতূনামুত্তরোত্তরম্।
মাংসাদ্বরীয়ো বৃষণমেঢ্রবৃক্কযকৃদ্গুদম্ ॥ ৭১ ॥
ইতি মাংসবর্গঃ।
বিশিষ্ট অঙ্গের মাংস— পুরুষের শরীরের পূর্বার্ধ অংশের এবং স্ত্রীর শরীরের উত্তরার্ধ অংশের মাংস গুরু হয়। গর্ভবতী স্ত্রীর মাংসও গুরু হয়। চতুষ্পদ প্রাণীদের মধ্যে পুরুষ প্রাণীর তুলনায় স্ত্রীদের মাংস অধিক গুরু হয়। এর বিপরীতে পক্ষীদের মধ্যে স্ত্রী পক্ষীর তুলনায় পুরুষ পক্ষীর মাংস অধিক গুরু হয়। এখানে পর্যন্ত স্ত্রী-পুরুষের শরীরের অঙ্গগুলির মাংসের গুরু-লঘু আলোচনা হয়ে গেল।
এখন শরীরের অঙ্গগুলির আলোচনা উপস্থাপিত হচ্ছে। মাথা, কাঁধ, উরু, পিঠ, কোমর, পা, আমাশয় তথা পক্বাশয়ের মাংস পূর্ব-পূর্ব অর্থাৎ শেষেরটির পূর্ববর্তী, তারপর তারও পূর্ববর্তী—এই ক্রমে গুরু হয় এবং রক্ত প্রভৃতি ধাতুও উত্তরোত্তর গুরু হয়। যেমন—রক্তের তুলনায় মাংস গুরু হয়। মাংসের তুলনায় আরও গুরু হয় অণ্ডকোষ, মেধ্র (পুরুষের মূত্রেন্দ্রিয়), বৃক্ক (কিডনি), যকৃত এবং গুদাভাগের মাংস, উত্তরোত্তর গুরু হয়।। ৬৯-৭১ ।।
বক্তব্য— এই বর্গে মাংসধাতুর গুণ-দোষের বিবেচনা করা হয়েছে। এই সমগ্র সৃষ্টি গুণ-দোষময়। ‘মাংসান্মাংসং প্রবর্ধতে’ অর্থাৎ মাংস খেলে মাংস বৃদ্ধি পায়। এমনটিই দেখা যায়, এটিই শাস্ত্রবচনও। এমন নয় যে কেবল মাংসভোজীরাই হৃষ্ট-পুষ্ট হয়; নিরামিষভোজীরাও সুস্থ, হৃষ্ট এবং প্রফুল্ল থাকেন। মাংসভক্ষণ সিংহ প্রভৃতি প্রাণীর ধর্ম। প্রাণীদের প্রতি সদ্ভাবনা রাখার ক্ষেত্রে অহিংসার প্রধান স্থান আছে, অতএব। মাংসভক্ষণ জিহ্বার স্বাদের ‘মিথ্যাযোগ’। ইন্দ্রিয়ের বশীভূত মানুষ সৎ-অসৎ সকল কর্মই করে। প্রকৃতপক্ষে এই আয়ুর্বেদ কোনো জাতি বা সম্প্রদায়বিশেষের নয়, বরং সমগ্র মানবজাতিকে স্বাস্থ্যবার্তা প্রদানকারী একটি প্রধান শাস্ত্র।