সমাম্নায়ঃ সমাম্নাতঃ । স ব্যাখ্যাতব্যঃ ।
তমিমং সমাম্নায়ং নিঘণ্টব ইত্যাচক্ষতে । নিঘণ্টবঃ কস্মাৎ । নিগমা ইমে ভবন্তি। ছন্দোভ্যঃ সমাহৃত্য সমাহৃত্য সমাম্নাতাঃ । তে নিগন্তব এব সন্তো নিগমনান্নিঘণ্টব উচ্যন্ত ইত্যৌপমন্যবঃ । অপি বাऽऽহননাদেব স্যুঃ । সমাহতাঃ ভবন্তি। যদ্বা সমাহৃতাঃ ভবন্তি ।
(সমাম্নায়ঃ) যে বৈদিক পদসমূহের আর্শ পরম্পরা দ্বারা সম্যকরূপে মর্যাদাপূর্বক বিচার ও সংগ্রহ করা হয়ে এসেছে, সেই পদসমূহের এই গ্রন্থে সংগ্রহ করা হয়েছে। পণ্ডিত ভগবদ্দত্ত রিসার্চ স্কলার এখানে ‘সমাম্নায়’ দ্বারা প্রজাপতি কশ্যপের মূল ‘নিঘণ্টবঃ’ শাস্ত্র-সংগ্রহকে গ্রহণ করেছেন। বেদকে বুঝবার জন্য ঋষিগণ সময়ে-সময়ে নানা প্রকারে বৈদিক পদসমূহের সংগ্রহ করেছিলেন। মহর্ষি যাস্কের এই সমাম্নায় অর্থাৎ পদ-সংগ্রহ বেদকে বুঝবার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সমাম্নায় অর্থাৎ পদসমূহের সংগ্রহের ব্যাখ্যা এই গ্রন্থে (নিরুক্তে) স্বয়ং মহর্ষি যাস্ক করেছেন। এই পদসমূহের ব্যাখ্যা ব্যতীত কেবল সংগ্রহমাত্র দ্বারা বেদার্থের প্রসিদ্ধি হতে পারে না, এই কারণেই গ্রন্থকার এই সমাম্নায়ের ব্যাখ্যানকে আবশ্যক বলে বর্ণনা করছেন। সেই সমাম্নায় অর্থাৎ পদসমূহের সমষ্টিকে ‘নিঘণ্টবঃ’ বলা হয়েছে। এখানে নিঘণ্টু শব্দের বহুবচনে প্রয়োগ করা হয়েছে। এই বিষয়ে পণ্ডিত ভগবদ্দত্ত রিসার্চ স্কলারের মত এই যে, অতি প্রাচীন কালে নিঘণ্টু পদ বহুবচনান্তই প্রয়োগ হত। এই বিষয়ে আমাদের মত এটিও যে, পণ্ডিতজীর উক্তি সত্য হলেও, এটিও সম্পূর্ণ সম্ভব যে সকল নিঘণ্টুকার পূর্বে বিদ্যমান বিভিন্ন নিঘণ্টুকারদের সমাম্নায় থেকেও নানা পদের সংগ্রহ করে থাকবেন। এই কারণেই যে পদসমূহ যাস্কীয় নিঘণ্টুতে উপলব্ধ, সেগুলি পূর্বে বিদ্যমান সকল নিঘণ্টুতে উপলব্ধ হবে, এটি আবশ্যক নয়; সকলের মধ্যেই বহুস্থানে ভিন্নতা দেখা যায়।
বৈদিক পদসমূহের সংগ্রহকে নিঘণ্টু কেন বলা হয়? এটিকে স্পষ্ট করতে গিয়ে গ্রন্থকার লিখছেন যে, এই পদসমূহ নিগমরূপ হয়। এর আশয় এই যে, এই পদসমূহ নিশ্চয়পূর্বক নিজেদের বাচ্যরূপ পদার্থের যথার্থ বোধ করাতে সক্ষম হয়। যখন এই পদসমূহের দ্বারা সেই পদার্থসমূহের নিশ্চয়াত্মক বোধ হয়ে যায়, তখন এর দ্বারা বৈদিক মন্ত্রসমূহের যথার্থ এবং ছন্দ-রশ্মিসমূহের যথার্থ স্বরূপের বোধ হয়ে সৃষ্টিরও বোধ হতে থাকে। এই কারণে বৈদিক পদ-সমষ্টি নিঘণ্টু নামে পরিচিত। এই বৈদিক পদসমূহ গ্রন্থকার কোথা থেকে গ্রহণ করেছেন? এর উত্তর দিতে গিয়ে গ্রন্থকার স্বয়ং বলেন যে, এগুলি বিভিন্ন বেদ-মন্ত্র থেকে বেছে বেছে একত্র করতে করতে সংগ্রহ করা হয়েছে। এখানে মহর্ষি উপমন্যুর পুত্র ঔপমন্যবের মত প্রদর্শন করে মহর্ষি যাস্ক লিখছেন যে, এই বৈদিক পদসমূহ নিগমরূপ হয়ে মন্ত্রসমূহের অর্থ এবং তাদের সৃষ্টিপ্রক্রিয়ার উপর পতিত প্রভাবসমূহের বোধ করায়, এই কারণে এগুলি নিগন্তু-রূপ হয়। এখানে ‘নিগন্তু’ শব্দের অর্থ মন্ত্রসমূহ এবং তাদের বিভিন্ন পদার্থের উপর পতিত প্রভাবসমূহের নিশ্চয়াত্মক জ্ঞান করায় এমন। এই ‘নিগন্তু’ শব্দকেই ‘নিঘণ্টু’ বলা হয়েছে। আমার রচিত ‘বেদবিজ্ঞান-আলোকঃ’ নামক গ্রন্থে, যা ঐতরেয় ব্রাহ্মণের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, তার উপর আশীর্বচন লিখতে গিয়ে আর্যজগতের এক প্রবীণ বৈদিক বিদ্বান আচার্য সত্যানন্দ বেদবাগীশ মহর্ষি যাস্কের নির্বচনসমূহ এবং মহর্ষি পাণিনির কিছু প্রয়োগের উপর প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন; আমি তাঁর সঙ্গে সম্পূর্ণ অসম্মত। তিনি ‘নিঘণ্টু’-র নির্বচনের উপর প্রশ্ন উত্থাপন করে লিখেছেন—
"ভাষার্থক সকর্মক ‘ঘটিং’ (চুরা. ২২৩) থেকে ঔণাদিক ‘উ’ প্রত্যয় করায় এবং ‘ঘণ শব্দে’ (কাশ. ব্রা.ধা. ভ্বা. ২০৬) থেকে ঔণাদিক ‘তু’ প্রত্যয় করায় নিঘণ্টু শব্দ সিদ্ধ হয়ে যায়। এমন অবস্থায় মহর্ষি ঔপমন্যবের দ্বারা ‘নিগন্তু’-কে ‘নিঘণ্টু’ বানাবার কী প্রয়োজন পড়ল? এবং এই অনাবশ্যক নির্বচনকে মহর্ষি যাস্ক কেন প্রমাণভূত বলে মেনে নিলেন?"
এখানে এই বিদ্বান এই দুই ঋষির নির্বচন-প্রক্রিয়াকে দোষপূর্ণ বলে চ্যালেঞ্জ করেন। এই বিষয়ে আমাদের মত এই যে, যদিও উপর্যুক্ত ‘ঘটিং’ এবং ‘ঘণ’ উভয় ধাতু থেকেই নিঘণ্টু পদ সিদ্ধ হতে পারে এবং এই নিঘণ্টু পদ থেকে এটিও সিদ্ধ হতে পারে যে নিঘণ্টুতে সংগৃহীত বিভিন্ন বৈদিক পদ বেদ-মন্ত্রসমূহের স্বরূপ, প্রভাব এবং অর্থকে স্পষ্টকারী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সৃষ্টির পদার্থসমূহকে প্রকাশকারীও হয়। পণ্ডিত যুধিষ্ঠির মীমাংসক ‘সংস্কৃত ধাতু-কোষ’-এ ‘ঘটিং’ ধাতুর অর্থ বলার সঙ্গে সঙ্গে ‘চমকানো’ এবং ‘প্রকাশিত করা’ও করেছেন। এই কারণে বৈদিক পদসমূহের প্রভাবে সৃষ্টিতে দীপ্তিও উৎপন্ন হয়। মহর্ষি যাস্ক অথবা মহর্ষি ঔপমন্যবের নিকট বৈদিক পদসমূহের এত অর্থ এবং প্রভাব কি যথেষ্ট প্রতীয়মান হয়নি যে, তাঁরা এই ধাতুসমূহ থেকে নিষ্পন্ন নিঘণ্টু পদ তাঁরা কি তাতে সন্তুষ্ট হননি? তাঁদের নিকট নিগন্তু পদ কেন অধিক উপযোগী বলে প্রতীয়মান হল? এর উত্তরে আমাদের মত এই যে, পূর্বোক্ত নিগম পদের সঙ্গে নিগন্তু পদের সমতা রয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই একই ধাতু ও উপসর্গের প্রয়োগ হয়েছে। নিগন্তু পদে ‘গম্’ ধাতুর প্রয়োগ রয়েছে, যা জ্ঞান, গমন ও প্রাপ্তি অর্থে ব্যবহৃত হয়। এর দ্বারা নিগন্তু পদের অর্থ নিশ্চিতরূপে বেদ-মন্ত্রসমূহ এবং সৃষ্টিপ্রক্রিয়ার উপর তার প্রভাবসমূহের জ্ঞান করানো, নিরন্তর গতি অর্থাৎ কম্পনকারী এবং সৃষ্টির পদার্থসমূহে ব্যাপ্ত হওয়া—এভাবে সিদ্ধ হয়। আপ্টে কোষকার ‘গম্’ ধাতুর অর্থ ‘সহবাস করা’ও লিখেছেন। এর দ্বারা এই ইঙ্গিতও পাওয়া যায় যে, বৈদিক পদসমূহ পরস্পর মিথুন গঠনের প্রবৃত্তিযুক্তও হয়।
এই প্রকারে নিগন্তু পদ এই বিষয়ের বোধক যে, বৈদিক পদসমূহ, যা বৈদিক ছন্দ-রশ্মিসমূহের অবয়বরূপ হয়, এই সৃষ্টির পদার্থসমূহের জ্ঞান করায়, সেগুলিতে ব্যাপ্ত হয়, নিরন্তর কম্পিত হতে হতে নানা সূক্ষ্ম কণা ও তরঙ্গকে কম্পিত করে এবং সৃষ্টিতে সংযোগ-বিয়োগ প্রক্রিয়ার উৎপত্তি ও পরিচালনা করে। এই কারণে এই দুই ঋষি নিগন্তু পদ থেকে নিঘণ্টু হওয়া স্বীকার করেছেন। এখানে সেই প্রবীণ বিদ্বান এর উপর আপত্তি করে এই প্রশ্নও করেছেন যে, যখন নিগন্তু পদ এত সারগর্ভ, তখন মহর্ষি যাস্ক অথবা ঔপমন্যব ঋষি নিগন্তু পদকেই কেন থাকতে দিলেন না? তাকে নিঘণ্টু বানানোর প্রয়োজন কেন হল? এর উত্তরে আমাদের মত এই যে, নিঘণ্টুতে সঙ্গৃহীত পদসমূহ নিগন্তু পদ দ্বারা নির্দেশিত প্রভাবসমূহের সঙ্গে সঙ্গে দীপ্তি উৎপন্নকারীও হয়। এই কারণে ‘ঘটি’ ধাতু থেকে নিষ্পন্ন নিঘণ্টু পদের প্রভাবও দৃষ্টিগোচর হয়, যা নিগন্তু দ্বারা প্রকাশিত হয় না। যদিও সেখানে জ্ঞান করানোর প্রভাব সিদ্ধ হয়, তথাপি দীপ্তির প্রভাব স্পষ্ট হয় না। এই কারণে তাঁরা নিগন্তু পদ থেকে নিঘণ্টু পদের কল্পনা করেছেন।
এখানে কেউ দুরাগ্রহবশত এই প্রশ্নও করতে পারে যে, যেমন নিগন্তু থেকে নিঘণ্টুর কল্পনা করা হয়েছে, তেমনই কেন নিঘণ্টু থেকে নিগন্তু পদের কল্পনা করা যাবে না? এর উত্তরে আমাদের মত এই যে, নিগন্তু দ্বারা কথিত প্রভাবসমূহ সৃষ্টিপ্রক্রিয়ায় সূক্ষ্ম ও কারণরূপ, পক্ষান্তরে নিঘণ্টু দ্বারা কথিত প্রভাব অর্থাৎ দীপ্তির উৎপন্ন হওয়া তাদের কার্যরূপ। এই কারণে কারণরূপ প্রভাব থেকে কার্যরূপ প্রভাবের সিদ্ধি প্রদর্শনের জন্যই নিগন্তু থেকে নিঘণ্টুর কল্পনা করা হয়েছে। নিঘণ্টু থেকে নিগন্তুর কল্পনা সর্বতোভাবে অসঙ্গত। মহর্ষিগণের দৃষ্টির এটি এক উৎকৃষ্ট চমৎকার যে, তাঁরা পদ-সংগ্রহের নামের মধ্যেও অদ্ভুত বিজ্ঞানকে সমাবিষ্ট করে দিয়েছেন।
এখানে গ্রন্থকার আঙ্-পূর্বক ‘হন্’ ধাতু থেকেও ‘নিঘণ্টু’ শব্দের নির্বচনের কথা বলেন। ‘হন্’ ধাতু হিংসা ও গতি অর্থে ব্যবহৃত হয়। পূর্বে আমরা ‘নিগন্তু’ পদের উপর বিচার করেছি; সেখানে ‘নি’ পূর্বক ‘গম্’ ধাতুর যে অর্থ ও প্রভাব হয়, সেই অর্থ ও প্রভাবই ‘সম্’ পূর্বক গত্যর্থক ‘হন্’ ধাতুর মানা উচিত। ‘আঙ্’ উপসর্গ দ্বারা এই প্রভাব মর্যাদাপূর্বক কিন্তু প্রচুর পরিমাণে মানা যোগ্য। এই প্রকারে গত্যর্থক ‘হন্’ ধাতু থেকে নিষ্পন্ন ‘নিঘণ্টু’ পদ দ্বারা সকল প্রভাব ও কার্য যথাবৎ সিদ্ধ হয়, যা ‘নিগন্তু’ থেকে নিষ্পন্ন ‘নিঘণ্টু’ পদ দ্বারা সম্পন্ন হয়। এখানে ‘হন্’ ধাতুর হিংসা অর্থ অতিরিক্ত প্রভাব নির্দেশকারী হয়। হিংসার্থক আ-পূর্বক ‘হন্’ ধাতু থেকে নিষ্পন্ন ‘নিঘণ্টু’ পদের এই প্রভাবও হয় যে, সেই পদসমূহ বিভিন্ন মন্ত্র অর্থাৎ ছন্দ-রশ্মিসমূহের অবয়ব হয়েও অন্যান্য রশ্মি এবং উৎপন্ন বিভিন্ন কণা ও তরঙ্গের মধ্যে পারস্পরিক ক্রিয়াসমূহ উৎপন্ন করতে সহায়ক হয়। এই প্রকারে ‘হন্’ ধাতু থেকে আঙ্-পূর্বক নিষ্পন্ন ‘নিঘণ্টু’ পদ অত্যন্ত ব্যাপক প্রভাবসমূহ নির্দেশ করতে সক্ষম হয়। এখানে আঙ্-পূর্বক ‘হন্’ ধাতু থেকে ‘আহন্তু’ পদ নিষ্পন্ন হয়েছে; হকারের স্থানে ঘকার এবং ত্-এর স্থানে ট্ হয়ে ও ন্-এর স্থানে ণ্ হয়ে ‘নিঘণ্টু’ পদ নিষ্পন্ন হয়েছে। এখানে গ্রন্থকার ‘সমাহতাঃ ভবন্তি’ বলে এই বিষয় প্রদর্শন করেছেন যে, এই পদসমূহ ‘সম্’ উপসর্গের প্রভাবও নির্দেশকারী হয়, যার কারণে উপর্যুক্ত সকল প্রভাব সম্যকরূপে সম্পন্ন হয়। এই কারণেও এই পদসমূহকে ‘নিঘণ্টু’ বলা হয়।
এখন অন্তিম বিকল্প প্রদর্শন করে বলেন যে, ‘সম্’ ও আ-পূর্বক ‘হৃ’ ধাতু থেকেও নিঘণ্টু পদ সিদ্ধ হতে পারে। এখানে প্রথমে ‘সমাহর্তু’ পদ নিষ্পন্ন হয়ে উভয় উপসর্গকে অবিদ্যমান করে হকারের স্থানে ঘকার, রেফের স্থানে ‘ণ্’ এবং ‘ত্’-এর স্থানে ‘ট্’ করে ‘নিঘণ্টু’ পদ নিষ্পন্ন হয়। এখানে ‘সম্’ এবং ‘আঙ্’ উভয়ের স্থানে ‘নি’ উপসর্গ হয়ে গেছে। এই উভয়ের অর্থ ও প্রভাব ‘সমা’-এর সমান—এটি আমরা পূর্বেই প্রদর্শন করেছি। এখানে ‘হৃ’ ধাতু থেকে ‘নিঘণ্টু’ পদ নিষ্পন্ন হওয়ায় বিভিন্ন বৈদিক পদ ‘হৃ’ ধাতুর বহু অর্থ যেমন বহন করা, অপহরণ করা, নষ্ট করা, আকৃষ্ট করা, অধীন অর্থাৎ নিয়ন্ত্রিত করা, গ্রহণ করা, প্রাপ্ত করা ইত্যাদির প্রভাব নির্দেশ করে। এই প্রকারে নিষ্পন্ন ‘নিঘণ্টু’ পদ পূর্বোক্ত নানা প্রকার নির্বচনের সমস্ত প্রভাবকে নিজের মধ্যে সমাহিত করে রেখেছে। এই ব্রহ্মাণ্ডে নানাপ্রকার ক্রিয়ার পশ্চাতে বিভিন্ন বৈদিক পদের এই প্রভাবসমূহেরই অবদান থাকে। বিভিন্ন বৈদিক পদ মিলিত হয়ে বৈদিক মন্ত্ররূপী ছন্দ-রশ্মিসমূহকে উৎপন্ন করে এবং প্রত্যেক পদ নিজেও এক একটি ছন্দ; আবার বিভিন্ন ছন্দ-রশ্মি থেকে এই সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডের নির্মাণ হয়েছে। পাঠকদের বৈদিক ছন্দ-রশ্মি-বিজ্ঞানের অধিক জ্ঞানের জন্য আমার রচিত ‘বৈদিক রশ্মিবিজ্ঞানম্’ অথবা প্রিয় বিশাল আর্য কর্তৃক রচিত ‘পরিচয় বৈদিক ভৌতিকী’ নামক পুস্তক পাঠ করা উচিত।
এই প্রকারে গ্রন্থকার নিঘণ্টু পদের তিন প্রকারে নির্বচন করে নিজের নির্বচন-শৈলীর অত্যন্ত বৈজ্ঞানিকতার পরিচয় দিয়েছেন। বৈদিক পদসমূহের কী কী প্রকারে পৃথক পৃথক নির্বচন হতে পারে, তা এখানে সুন্দরভাবে দেখা ও বোঝা যায়। বৈদিক পদরূপ সূক্ষ্ম ছন্দ-রশ্মিসমূহ এই ব্রহ্মাণ্ডে সর্বত্র ব্যাপ্ত হয়ে কিরূপ প্রভাব প্রদর্শন করে? এবং এই প্রভাবগুলির ফলে কীভাবে মূল পদার্থ প্রকৃতিতে ধীরে ধীরে স্পন্দনরূপী পদ ও ঋচাসমূহ উৎপন্ন হয়ে কীভাবে সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডের উৎপত্তি ও পরিচালনা ঘটে? এর দিগ্দর্শন বৈজ্ঞানিক প্রতিভাসম্পন্ন পাঠকগণ ‘নিঘণ্টু’ পদের নির্বচনসমূহ থেকে সহজেই লাভ করতে পারেন। এর সঙ্গে সঙ্গে এই শাস্ত্রের মহত্ত্ব ও বৈজ্ঞানিকতারও সহজ অনুমান করা যেতে পারে।
