ঋষি— ভৃগ্বঙ্গিরাঃ দেবতা— ইন্দ্রঃ, অনড্বান্ ছন্দ— ত্রিষ্টুপ্ সূক্তম্— অনড্বান্ সূক্ত
যেন দেবাঃ স্বরারুরুহুর্ হিত্বা শরীরম্ অমৃতস্য নাভিম্।
তেন গেষ্ম সুকৃতস্য লোকং ঘর্মস্য ব্রতেন তপসা যশস্যবঃ॥ অথর্ববেদ ৪।১১।৬
ক্ষেমকরণ ত্রিবেদীকৃত পদার্থ ভাষ্যঃ
পদার্থঃ (যেন) যে [পরমাত্মা] এর দ্বারা (দেবাঃ) ব্যবহারকুশল পুরুষ (শরীরম্) নাশমান শরীর [দেহ অভিমান] (হিত্বা) ত্যাগ করে (অমৃতস্য) অমরত্বের (নাভিম্) কেন্দ্র (স্বঃ) স্বর্গে (আরুরুহুঃ) আরোহণ করেছিল। (তেন) সেই [ঈশ্বর] এর সহায়তায় (যশস্যবঃ) যশ প্রার্থনাকারী আমরা (ধর্মস্য) দীপ্যমান সূর্যের [সমান] (ব্রতেন) কর্ম ও (তপসা) সামর্থ্য দ্বারা (সুকৃতস্য) পুণ্যের (লোকম্) লোক [পরমাত্মা] কে (গ্রেষ্ম) অন্বেষণ করি॥
ভাবার্থঃ যেভাবে পূর্বপুরুষ মহাত্মা পরমাত্মার ভক্তির মাধ্যমে মোক্ষ সুখ প্রাপ্ত করে অমর অর্থাৎ কীর্তিমান হয়েছে, সেইভাবে আমরা পরমেশ্বরের আজ্ঞা পালন করে সংসারের উপকার করে যশস্বী হই, যেমন সূর্য নিজের তেজ দ্বারা বৃষ্টি দান ও আকর্ষণ আদি করে লোক-সমূহের উপকার করে ॥
বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কারজীর পদার্থ ও টিপ্পণীঃ
পদার্থঃ (যেন) যে অনড্বান্, অর্থাৎ সংসার-শকটের বহনকারীর কৃপায় (দেবাঃ) দেবকোটির মনুষ্য (অমৃতস্য নাভিম্) মোক্ষের বন্ধক অর্থাৎ মোক্ষের দ্বারভূত (শরীরম্ হিত্বা) শরীর ত্যাগ করে (স্বঃ) সুখবিশেষের স্থানে (আরুরুহুঃ) আরূঢ় হয়েছে, (তেন) সেই অনড্বান্-এর কৃপায় (ঘর্মস্য ব্রতেন) দীপ্যমান অনড্বান্-সম্বন্ধীয় ব্রত দ্বারা, (তপসা) এবং তপশ্চর্যা দ্বারা (যশস্যবঃ) যশস্বী আমরা, (সুকৃতস্য লোকম্) সুকর্মের লোক (গেষ্ম) প্রাপ্ত হই।
টিপ্পণীঃ [শরীর হলো অমৃতের নাভি। শরীরের উপস্থিতিতেই ব্রত, তপশ্চর্যা আদি দ্বারা সুকর্মীদের লোককে প্রাপ্ত করা যেতে পারে। নাভিম্= ণহ বন্ধনে (দিবাদিঃ)। ব্রতেন=অনড্বান্-সম্বন্ধীয় ব্রত (মন্ত্র ১১)।]
No comments:
Post a Comment
ধন্যবাদ