ঋষি— ভৃগ্বঙ্গিরাঃ দেবতা— ইন্দ্রঃ, অনড্বান্ ছন্দ— ত্রিষ্টুপ্ সূক্তম্— অনড্বান্ সূক্ত
যস্য নেশে যজ্ঞপতির্ ন যজ্ঞো নাস্য দাতেশে ন প্রতিগ্রহীতা।
যো বিশ্বজিদ্ বিশ্বভৃদ্ বিশ্বকর্মা ঘর্মং নো ব্রূত যতমশ্ চতুষ্পাত্॥
অথর্ববেদ ৪/১১/৫পদার্থঃ (ন) না তো (যজ্ঞপতিঃ) সংগতিকর্তা পুরুষ, এবং (ন) না (যজ্ঞঃ) সংগতিকর্ম (যস্য) যে [পরমেশ্বর] এর (ঈশে=ঈষ্টে) ঈশ্বর, (ন) না তো (দাতা) দাতা, (ন) না (প্রতিগ্রহীতা) গ্রহণকর্তা/গ্রহীতা (অস্য) এর (ঈশে) ঈশ্বর, (যঃ) যিনি (বিশ্বজিৎ) সবকিছু জয়কারী, (বিশ্বভূৎ) সকলের পোষণকারী, (বিশ্বকর্মা) সকল কর্মকারী, এবং (যতমঃ) যিনি (চতুষ্পাৎ) চতুর্দিকে স্থিতি বা গতিশীল, (ধর্মম্) সেই প্রকাশমান সূর্যসদৃশ পরমাত্মাকে (নঃ) আমাদের, [হে ঋষিগণ !] (ব্রূত) বলো ॥ ক্ষেমকরণ ত্রিবেদী
ভাবার্থঃ সেই পরমাত্মার শাসক অন্য কেউ নয়, তিনি সর্বশক্তিমান্ সর্বরক্ষক, সর্বব্যাপক প্রকাশ স্বরূপ। উনার উপাসনা ও অন্বেষণার মাধ্যমে সমস্ত মনুষ্য নিজের উন্নতি করুক ॥
পদার্থঃ (যস্য) যে অনড্বানের, (যজ্ঞপতিঃ) যজ্ঞের স্বামী-যজমান (ন ঈশে) অধীশ্বর নয়, (ন যজ্ঞঃ) ন যজ্ঞ অধীশ্বর, (ন অস্য দাতা ঈশে) না ইহার জ্ঞানদাতা অধীশ্বর, (ন প্রতিগ্রহীতা) এবং না দান গ্রহণকারী অধীশ্বর। (যঃ) যে পরমেশ্বর (বিশ্বজিৎ) বিশ্বজয়ী, (বিশ্বভৃৎ) বিশ্বের ভরণ-পোষণকারী, (বিশ্বকর্মা) এবং বিশ্বের কর্তা, (ধর্মম্) সেই দীপ্যমানের (নঃ) আমাদের প্রতি (ব্রূত) কথন করো, (যতমঃ) জীব, প্রকৃতি ও পরমেশ্বরের মধ্যে যিনি (চতুষ্পাৎ) চতুষ্পাদ্ ব্রহ্ম। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
টিপ্পণীঃ [অনড্বান্ হলেন সংসার-শকটের বহনকারী চতুষ্পাদ্ ব্রহ্ম। সংসারের কোনো ব্যক্তি বা কোনো কর্ম, চতুষ্পাদ্-ব্রহ্মের অধীশ্বর নয়। ব্রহ্মবিদ্যার প্রদাতা এবং গ্রহণকারীও এর অধীশ্বর নয়। চতুষ্পাদ্ ব্রহ্মের বর্ণনা মাণ্ডূক্য উপনিষদে হয়েছে।]
No comments:
Post a Comment
ধন্যবাদ