ব্রহ্ম বিদ্যা এবং পুরুষার্থের উপদেশ
ঋষি— ভৃগ্বঙ্গিরাঃ দেবতা— ইন্দ্রঃ, অনড্বান্ ছন্দ— জগতী সূক্তম্— অনড্বান্ সূক্ত
অনড্বান্ দুহে সুকৃতস্য লোক এনং প্যায়য়তি পবমানঃ পুরস্তাত্।
পর্জন্যো ধারা মরুত ঊধো অস্য যজ্ঞঃ পয়ো দক্ষিণা দোহো অস্য॥ অথর্ব০ ৪/১১/৪
পদার্থঃ (সুকৃতস্য লোকে) সুকর্মের লোকে (অনড্বান্) সংসার-শকটের বহনকারী পরমেশ্বর (দুহে) ভোগ্যসমূহ দোহন করেন, প্রদান করেন (পবমানঃ) পবিত্রকারী সূর্য (পুরস্তাৎ) পূর্বে বিদ্যমান হয়ে (এনম্) এই অনড্বান্-কে (আপ্যায়য়তি) বর্ধিত করে, গুণ-কর্মের প্রকাশ করে। (পর্জন্যঃ) মেঘ, (ধারাঃ) মেঘোৎপন্ন বর্ষাধারা, (মরুতঃ) মৌসুমী বায়ু (অস্য) এই অনড্বানের (ঊধঃ) দুগ্ধাশয়, (যজ্ঞঃ) অনড্বানের প্রসাদের জন্য কৃত যজ্ঞকর্ম (পয়ঃ) তৎফলরূপ দুগ্ধ, দুগ্ধ-সদৃশ পুষ্টিকারক, (দক্ষিণা) যজ্ঞকর্মে প্রাপ্ত দক্ষিণাও (অস্য) এই অনড্বানের (দোহঃ) দোহরূপ১। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
টিপ্পণীঃ [১. মন্ত্রে ৭ দোহের কথন হয়েছে। (১) সুকর্মের লোকে অনড্বান্ দ্বারা প্রদত্ত ভোগ। (২) পর্জন্য অর্থাৎ মেঘরূপী দোহ। (৩) মেঘীয় বর্ষা-ধারা-রূপী দোহ। (৪) মরুতঃ অর্থাৎ মৌসুমী বায়ু-রূপী দোহ। (৫) পরমেশ্বরের প্রসন্নতার জন্য কৃত অকাম্য যজ্ঞকর্ম, যার প্রবৃত্তি অনড্বানের প্রেরণা দ্বারা হয়, এটাও দোহরূপ। (৬) পয়ঃ অর্থাৎ দুগ্ধরূপে প্রাপ্ত আত্মশুদ্ধি-রূপ দোহ। (৭) দক্ষিণারূপী দোহ, অর্থাৎ পরমেশ্বরীয় যজ্ঞকর্মকে ঋত্বিক রূপে করার ফলে পরমেশ্বর রূপী যজমান দ্বারা প্রাপ্ত দক্ষিণা, অর্থাৎ বৃদ্ধি; দক্ষিণা = দক্ষ বৃদ্ধৌ (ভ্বাদিঃ)। [ বিশেষ—অনড্বান্ হলেন সংসার-শকটের বহনকারী পরমেশ্বর, প্রজাপতি, যিনি প্রজাদের মধ্যে বিদ্যমান। এই দোহ হলো চতুষ্পাদ-ব্রহ্মের। চতুষ্পাদ্-ব্রহ্মই কর্ম-ভেদে অনড্বান্-পরমেশ্বর কথিত হন। পর্জন্য আদি দোহ অনড্বান্ পরমেশ্বরকৃত।]
No comments:
Post a Comment
ধন্যবাদ