ব্রহ্ম বিদ্যা এবং পুরুষার্থের উপদেশ
ঋষি— ভৃগ্বঙ্গিরাঃ দেবতা— ইন্দ্রঃ, অনড্বান্ ছন্দ— ত্রিষ্টুপ্ সূক্তম্ — অনড্বান্ সূক্ত
ইন্দ্রো জাতো মনুষ্যেষ্ব্ অন্তর্ঘর্মস্তপ্তশ্চরতি শোশুচানঃ।
সুপ্রজাঃ সন্ত্স উদারে ন সর্ষদ্ যো নাশ্নীয়াদ্ অনডুহো বিজানন্॥
পদার্থঃ (মনুষ্যেষু অন্তঃ) মানুষের হৃদয়ের ভেতর (ইন্দ্রঃ) পরমৈশ্বর্যবান্ পরমেশ্বর (জাতঃ) প্রকট হন, (ঘর্মঃ) প্রদীপ্ত, (তপ্তঃ) জ্ঞান দ্বারা দীপ্যমান তিনি (শোশুচানঃ) অত্যন্ত প্রদীপ্ত হয়ে (চরতি) হৃদয়ে বিচরণ করেন। (যঃ) যে (অনডুহঃ বিজানন্) সংসার-সকটের বহনকারীকে প্রত্যক্ষভাবে জ্ঞাত হয়ে (উদারে) উদার জগতে (ন অশ্নীয়াৎ) ভোগসমূহের ভোগ করে না, (সঃ) সে (সুপ্রজাঃ) উত্তম-প্রজা/জন্মযুক্ত (সন্) হয়ে (ন সর্ষৎ) সংসারে পুনঃ সরণ করে না, জন্ম নেয় না।
টিপ্পণীঃ [ঘর্মঃ= ঘৃ ক্ষরণদীপ্ত্যোঃ (জুহোত্যাদিঃ), দীপ্ত্যর্থ অভিপ্রেত হয়েছে। তপ্তঃ= “যস্য জ্ঞানময়ং তপঃ" (মুণ্ডক ১।১।৯)। সুপ্রজাঃ=অসিচ্ সমাসান্তঃ (অষ্টা০ ৫।৪।১২২)। সর্ষৎ= সৃ গতৌ+অট্+সিপ্। উদারে= সংসার, পরমেশ্বরের উদার দানে ভরপূর; কিন্তু ব্রহ্মজ্ঞানী এই উদার সংসারে প্রদত্ত ভোগের ভোগ করে না, অতঃ সে সংসার থেকে মুক্ত হয়ে যায়।] বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
ক্ষেমকরণ ত্রিবেদীকৃত পদার্থভাষ্যঃ (তপ্তঃ) তপ্ত (ঘর্মঃ) সূর্যের সমান (শোশুচানঃ) অত্যন্ত প্রকাশমান (ইন্দ্রঃ) পরমেশ্বর (মনুষ্যেষু অন্তঃ) মননশীল মনুষ্যের ভেতর/মধ্যে (জাতঃ) প্রকট হয়ে (চরতি) বিচরণ করেন। (যঃ) যে পুরুষ (অনডুহঃ) প্রাণ ও জীবিকা প্রদানকারী পরমেশ্বরের (ন বিজানন্) বিজ্ঞান/বিশেষ জ্ঞান না রেখে (অশ্নীয়াৎ) ভোজন করে, (সঃ) সেই (সন্) বিদ্যমান পুরুষ (উদারে) মহৎ পদে বর্তমান (সুপ্রজাঃ) উত্তম প্রজাদের (ন সর্পৎ) প্রাপ্ত হয় না ॥
ভাবার্থঃ পরমাত্মা মনুষ্যাদি প্রাণীদের মধ্যে নিঃসন্দেহে প্রকাশমান। যে অজ্ঞানী পুরুষ উনার মহিমা জানে না, সেই দুষ্ট, এবং তাঁর সাথী প্রজাগণ মহাদুঃখ ভোগ করে ॥
No comments:
Post a Comment
ধন্যবাদ