ঋষি— ভৃগ্বঙ্গিরাঃ, দেবতা— ইন্দ্রঃ, অনড্বান্ , ছন্দ— অনুষ্টুপ্, সূক্ত— অনড্বান সূক্ত
য়ো বেদানড়ুহো দোহান্সপ্তানুপদস্বতঃ।
প্রজাং চ লোকং চাপ্নোতি তথা সপ্তঋষয়ো বিদুঃ॥ অথর্ব০ ৪।১১।৯
ক্ষেমকরণ ত্রিবেদীকৃত পদার্থভাষ্যঃ
পদার্থঃ (যঃ) যে (অনডুহঃ) জীবন প্রদানকারী পরমেশ্বরের (দোহান্) পূর্তির প্রবাহকে (সপ্ত) নিত্য সম্বন্ধযুক্ত ও (অনুপদস্বতঃ) অক্ষয় (বেদ) জানে, সেই (প্রজাম্) প্রজা (চ) এবং (লোকম্) লোক (চ) ও (আপ্নোতি) প্রাপ্ত করে, (তথা) এমন (সপ্তঋষয়ঃ) সাতটি ব্যাপনশীল বা দর্শনশীল, [অর্থাৎ ত্বক, নেত্র, কান, জিহ্বা, নাক, মন ও বুদ্ধি, অথবা দুই কান, দুই নাসারন্ধ্র, দুই চোখ এবং মুখ এই সাতটি ছিদ্র] (বিদুঃ) জানে [প্রত্যক্ষ করে] ॥
ভাবার্থঃ বিজ্ঞানী পুরুষ জীবনদাতা পরমেশ্বরের সর্বব্যাপী ও অনন্ত কোশকে নিজের জ্ঞানেন্দ্রিয়, কর্মেন্দ্রিয়, মন এবং বুদ্ধি দ্বারা সাক্ষাৎ করে নিজের আত্মিক ও শারীরিক বৃদ্ধি করে ॥
(সপ্তঋষয়ঃ) সাতটি ব্যাপক বা দর্শনশীল সত্তা [অর্থাৎ ত্বক, চোখ, কান, জিহ্বা, নাক, মন ও বুদ্ধি; অথবা দুই কান, দুই নাসারন্ধ্র, দুই চোখ এবং মুখ—এই সাতটি ছিদ্র] ক্ষেমকরণ ত্রিবেদী
টিপ্পণীঃ (ক্ষেমকরণ ত্রিবেদী) (যঃ) যে পুরুষ (বেদ) জানে, উপলব্ধি করে, (অনডুহঃ) (মন্ত্র ১ অনুযায়ী) প্রাণ প্রদানকারী পরমেশ্বরের, (দোহান্) (মন্ত্র ৪ অনুযায়ী) পূর্তির প্রবাহসমূহকে, (সপ্ত) ‘সপ্ত’ শব্দটি সপ্ + কননি্ প্রত্যয়ে গঠিত; অথবা ক্ত প্রত্যয়েও সিদ্ধ। বিভক্তি লোপের দ্বারা এর অর্থ দাঁড়ায় সমবেত, নিত্য সংযুক্ত। অন্যভাবে ‘সপ্ত’ অর্থ সাত সংখ্যাকে বোঝায়; যেমন সপ্তপুত্র, সপ্তমপুত্র, সর্পণ পুত্র। নিরুক্ত (৪।২৬)-এ যাস্ক বলেছেন সপ্ত আদিত্য রশ্মির ন্যায় পরস্পর সংযুক্ত। অর্থাৎ সূর্যরশ্মির মতো অবিচ্ছিন্ন ও পারস্পরিকভাবে যুক্ত। (অনুপদস্বতঃ) ক্ষয় না হওয়া, অক্ষয়; দসু উপক্ষয়ে + অসুন্, মতুপ্ প্রত্যয়ে নিষ্পন্ন। (প্রজাম্) পুত্র, পৌত্র, ভৃত্য প্রভৃতি সমগ্র পরিবার ও অনুগামী সমাজকে, (চ) সমুচ্চয়ের অর্থে, (লোকম্) সংসার, সংসাররাজ্য বা জাগতিক অবস্থানকে, (আপ্নোতি) লাভ করে, প্রাপ্ত হয়। (তথা) সেই একই প্রকারে, (সপ্তঋষয়ঃ) সাতটি সমবেত ঋষি। ‘ঋষ্’ ধাতু গতি ও দর্শন অর্থে ব্যবহৃত; অর্থাৎ গমনশীল ও দর্শনশীল। প্রকৃতিভাবে ‘সপ্ত ঋষি’। যজুর্বেদে বলা হয়েছে “সপ্ত ঋষয়ঃ প্রতিহিতাঃ শরীরে” (যজুঃ ৩৪।৫৫)। নিরুক্তে বলা হয়েছে “সপ্ত ঋষয়ঃ ষডিন্দ্রিয়াণি বিদ্যা সপ্তমী” (নিরুক্ত ১২।৩৭)। অর্থাৎ শরীরস্থ ছয় ইন্দ্রিয় ও বিদ্যাসহ আত্মা এই সাত। আরও বলা হয়েছে “কঃ সপ্ত খানী বিততর্দ শীর্ষণি কর্ণৌ ইমৌ, নাসিকে, চক্ষিণী, মুখম্” (অথর্ব ১০।২।৬)। অর্থাৎ মস্তকে বিস্তৃত সাতটি ছিদ্র দুটি কান, দুটি নাসারন্ধ্র, দুটি চোখ ও একটি মুখ। এছাড়া ত্বক, চক্ষু, শ্রবণ, রসনা, ঘ্রাণ, মন ও বুদ্ধিও এই সাত দর্শনশীল তত্ত্ব হিসেবে গৃহীত। (বিদুঃ) তারা জানে, প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধি করে।
টিপ্পণীঃ (বিশ্বানাথ বিদ্যালঙ্কার)- [সপ্ত দোহাঃ (মন্ত্র ৪ এর টিপ্পণীতে কথিত)। এই সপ্ত দোহ যাবৎকাল সৃষ্টির স্থিতি, তাবৎ-কাল পর্যন্ত বিদ্যমান থাকে, অতঃ উপক্ষীণ হয় না। এমন জ্ঞানী প্রকৃষ্ট-জন্ম প্রাপ্ত হয়, এবং প্রকৃষ্ট লোক। সপ্ত ঋষয়ঃ=আধ্যাত্মপক্ষে সপ্ত ঋষি হলো শরীরস্থ। যথা- "সপ্ত ঋষয়ঃ প্রতিহিতাঃ শরীরে" (যজুঃ০ ৩৪।৫৫)। "সপ্ত ঋষয়ঃ প্রতিহিতাঃ শরীরে, ষডিন্দ্রিয়াণি বিদ্যা সপ্তমী আত্মনি" (নিরুক্ত ১২।৪।৩৮; পদ সপ্ত ঋষয়ঃ (২৫)। আধিদৈবিক পক্ষে সপ্ত ঋষি হলো, সপ্তর্ষিমণ্ডল। ইহা দ্যুলোকের উত্তর দিশায় স্থিত রয়েছে। একে ঋক্ষ-মণ্ডল১ ও বলে। পাশ্চাত্য জ্যোতিষশাস্ত্রে একে "great-Bear" বলে, অর্থাৎ বড়ো ভাল্লুক। ঋক্ষ পদের অপভ্রংশ হলো 'রীছ'। এবিষয়ে 'বিদুঃ' এর প্রয়োগ, কবিতা রূপে একে চেতন ঋষি মানা হয়েছে। বিদুঃ-এ বহুবচন ঋক্ষ-এর তারার বাহুল্যের কারণ।] [১. যথা “অমী য ঋক্ষা নিহিতাস উচ্চা নক্তং দদৃশ্রে কুহ চিদ্দিবেয়ুঃ। অদব্ধানি বরুণস্য ব্রতানি বিচাকশচ্চন্দ্রমা নক্তমেতি" (ঋ০ ১।২৪।১০)। দ্যুলোকে একে ঋক্ষাকৃতিতে দেখা যায়। নিরুক্তে ঋক্ষাঃ-এর অর্থ হলো নক্ষত্র। ঋক্ষঃ= ভল্লুক (উণা০ ৩।৬৭; দয়ানন্দ)। এবং "ভল্লুকঃ" (দশপাদ্যুণাদিবৃত্তি ; ৯।২১;] উজ্জ্বলদত্ত)। "অমী য ঋক্ষাঃ" মন্ত্রে 'ঋক্ষাঃ' পদ দ্যুলোকের সমগ্র তারা সম্বন্ধীয়, যা রাত্রিতে তো দৃষ্টিগোচর হয়, কিন্তু দিনের বেলায় নয়। এই প্রশ্ন কেবল ভল্লুকাকৃতি-সম্বন্ধী তারাগণের জন্য নয়।]-ফেসবুক পোষ্টের উপযুক্ত হ্যাস ট্যাগ দিয়ে বানয়ে দিন
No comments:
Post a Comment
ধন্যবাদ