মাধ্যন্দিন পদপাঠ - ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান, ধর্ম গ্রন্থ কি , হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়, ইসলাম খ্রীষ্ট মত বিষয়ে তত্ত্ব ও সনাতন ধর্ম নিয়ে আলোচনা

धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते-Theology

সাম্প্রতিক প্রবন্ধ

Post Top Ad

স্বাগতম

14 October, 2025

মাধ্যন্দিন পদপাঠ

আমাদের ভারতীয়দের জন্য বেদই সর্বোচ্চ প্রমাণ— এই বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। বৈদিক সংহিতাগ্রন্থসমূহ যেভাবে ভারতের ব্রাহ্মণরা মুখস্থ করে আজও সংরক্ষণ করে রেখেছেন, সেইরূপ উদাহরণ বিশ্বের অন্য কোনো দেশে পাওয়া যায় না।

বেদমন্ত্রের অর্থ বোঝার উদ্দেশ্যে প্রাচীন আচার্যগণ পদপাঠ নামক পদ্ধতির প্রচলন করেছিলেন। এই পদপ্রবচনে, পৃথকভাবে বিভক্ত শব্দসমূহের পাঠ ও তাদের উচ্চারণচিহ্নের মাধ্যমে মন্ত্রের অর্থ বুঝতে বিশেষ সহায়তা পাওয়া যায়। পদপাঠকে ভিত্তি করে সংহিতার সংরক্ষণে অগ্রসর হয়েছেন ক্রম, জটা, ঘন ইত্যাদি মিলিয়ে আট প্রকার বিকৃতিপাঠ-পদ্ধতির প্রচলন হয়েছে। ফলে পদপাঠ উভয় উদ্দেশ্যেই উপকারী হয়েছে—
✔ মন্ত্রার্থ-জ্ঞান
✔ সংহিতা-পাঠ রক্ষা — উভয় ক্ষেত্রেই এটি মহৎ উপকার করেছে।

এই গ্রন্থ সম্পাদনার পূর্বে আমার ধারণা ছিল—
সংহিতা পাঠে কোনো পাঠভেদ নেই, এবং
পদগ্রন্থেও কোনো পাঠভেদ নেই।

কিন্তু যখন বিভিন্ন কোষ (lexicons) পরস্পরের তুলনায় মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষা করলাম, তখন প্রথমবার সত্য স্পষ্ট হলো যে মাধ্যন্দিন পদপাঠে কিছু সুনির্দিষ্ট পাঠভেদ বিদ্যমান।

সেগুলো বিচার ও শ্রেণিবদ্ধ করার পর জানা গেল: পদপাঠগ্রন্থসমূহে মোট চার প্রকারের পাঠ প্রচলিত রয়েছে —
একটি প্রধান পাঠ এবং অন্যান্য তিনটি উপ-পাঠ।

এই চার প্রকার পাঠ সম্পর্কে ‘মাধ্যন্দিন পদপাঠের চতুর্বিধ পাঠ’ নামক অধ্যায়ে বিস্তৃতরূপে আলোচনা করা হয়েছে — তা সেখানেই দেখা উচিত।

এই গ্রন্থে বৈদিক প্রথায় প্রচলিত মূল পাঠকে বড় অক্ষরে মুদ্রণ করা হয়েছে। যেখানে দুই পাঠের মধ্যে সামান্য পার্থক্য রয়েছে, সেখানে ভিন্ন শব্দগুলো ছোট অক্ষরে উপস্থাপিত হয়েছে। মূল পাঠের অতিরিক্ত কিছু স্থানে যেখানে স্বরচিহ্ন বা উচ্চারণের যথার্থ পার্থক্য আছে— সেই কাশিকা-পাঠ অনুসরণ করে টীকা হিসেবে নিচে সংযোজিত হয়েছে।

এভাবে আমাদের প্রয়াস—
মাধ্যন্দিন পদপাঠের চার রূপকে একত্রে সংরক্ষণ করা।

মাধ্যন্দিন সংহিতা এবং পদগ্রন্থ উভয় ক্ষেত্রেই ‘য’ এবং ‘ব’ বর্ণের উচ্চারণ ও লেখন-ভিন্নতা, এবং অন্যান্য বৈদিক বিশেষত্বগুলো যেখানে প্রয়োজন, সেখানে যথার্থভাবে নির্দেশ করা হয়েছে।

‘য’ এবং ‘ব’ বর্ণদ্বয়ের বিশেষ লেখনরীতি — এই বিষয়ে (পৃষ্ঠা ৩৪–৪১) আলোচনায় উপস্থাপিত হয়েছে, এবং উচ্চারণ সম্পর্কে তৃতীয় পরিশিষ্টে (পৃষ্ঠা ৬৪১–৬৪৪) বিচার করা হয়েছে। একই পরিশিষ্টেই ষ্‌কারের যে খ্‌কাররূপ উচ্চারণ, তারও শাস্ত্রসম্মত বিশ্লেষণ বিধৃত হয়েছে।

১৯-তম বিষয় আলোচনা:

মাধ্যন্দিন পাঠে ‘९ १’ (৯-১) দ্বারা কোন বর্ণ নির্দেশিত, এবং তার উচ্চারণ শিক্ষাশাস্ত্রসম্মত কীভাবে — এই বিষয়ে তৃতীয় পরিশিষ্টে (পৃষ্ঠা ৬৩৮–৬৪০) বিচার বিধৃত হয়েছে।

যম-রা কারা এবং কতজন— যমদের প্রকৃতি কী, কত যম রয়েছে, এবং তাদের লেখনরীতি কী — এই বিষয়ে দ্বিতীয় পরিশিষ্টে (পৃষ্ঠা ৬৩৫–৬৩৭) আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।

পদপাঠসমূহের পারস্পরিক তুলনা— সকল পদগ্রন্থের পাঠপদ্ধতি শাখাভেদে পৃথক। সেখানে যত পার্থক্য উপলব্ধ হয়, সেই সমস্ত পার্থক্য ‘পদপাঠসমূহের তুলনামূলক অধ্যয়ন’ এই অধ্যায়ে (পৃষ্ঠা ১১–৩৩) শাস্ত্রমতে এবং শাখানুসারে বিস্তৃতভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এই আলোচনার মাধ্যমে সকল উপলব্ধ পদগ্রন্থের পাঠপদ্ধতি সহজেই জানা সম্ভব।

এই কর্ম সূচনার কারণ—

বিক্রমাব্দ ২০১৯-এ রাজস্থানের কেকড়ি নগরে বসবাসকারী বিদ্বান পণ্ডিত শ্রীমদন মোহন ব্যাসশর্মা আকস্মিক কারণবশত্‌ আমার গৃহে আগমন করেছিলেন। আলোচনায় তাঁর হস্তলিখিত গ্রন্থসংগ্রহে আগ্রহ উপলব্ধ হওয়ায় আমি নিবেদন করেছিলাম— যদি কখনো সৌভাগ্যক্রমে বেদ-ব্যাকরণ-সংক্রান্ত কোনো হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি তাঁর দৃষ্টিগোচর হয়, তবে গ্রন্থস্বামীকে নতশিরে প্রণাম করে তা আমার জন্য সংগ্রহ করবেন।

দুই-তিন মাস পর যখন পণ্ডিতশ্রেষ্ঠ পুনরায় আমার গৃহে আগমন করেন, তখন তিনি আমাকে দুইটি হস্তলিখিত গ্রন্থ প্রদান করেন। তার একটি ছিল মাধ্যন্দিন পদপাঠের কোষ, যা ১৪৭১ বিক্রমাব্দে লিপিবদ্ধ; অপরটি ছিল ভর্তৃহরির রচিত শতকত্রয়ের ব্রজভাষায় পদ্যরূপ কোষ, যা প্রায় দুইশো বছরের পুরাতন।

এই সাড়ে পাঁচশো বছরের প্রাচীন মাধ্যন্দিন পদপাঠের কোষ হঠাৎ প্রাপ্ত হয়ে আমি অতুল আনন্দে রোমাঞ্চিত হয়েছিলাম — কারণ এরূপ প্রাচীন কোষ কোনো গ্রন্থাগারে নেই, তা পূর্বেই আমার সুপরিচিত ছিল।

অন্যান্য কাজে ব্যস্ততার কারণে কিছু সময় আমি এ গ্রন্থটি সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করিনি। পরে যখন আমি মনোযোগ সহকারে এই কোষ পরীক্ষা করলাম এবং বিভিন্ন স্থানে মুদ্রিত পাঠের সঙ্গে তুলনা করলাম — তখন এতে বিশিষ্ট বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করে অত্যন্ত আনন্দিত হলাম, এবং এর প্রকাশনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলাম।

রাজস্থান সংস্কৃত শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক সহায়তা — আমি এই অভিধানটিকে তৎকালীন...

রাজস্থান সংস্কৃত শিক্ষা–সঞ্চালকবৃন্দ, গীর্বাণবাণী প্রসারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বন্ধুবরগণ, স্বর্গীয় বিদ্বজ্জনগণ, সম্মাননীয় শ্রীমৎ মাধবকৃষ্ণ শর্ম মহোদয়ের নিকট প্রদর্শন করেছিলাম। তারাও এতকাল পূর্বেকার এই বৃহৎ অভিধান দর্শন করে, এর বিশেষত্ব উপলব্ধি করে অত্যন্ত প্রীত হন। আলোচনা–পরিচালনার সময় আমি বলেছিলাম— যদি আপনাদের রাজস্থান সংস্কৃত শিক্ষা বিভাগ এই গ্রন্থের সম্পাদনার কাজে সহায়তা প্রদান করেন, তবে আমি এই গ্রন্থটিকে বিভিন্ন প্রাচীন পুঁথির সাহায্যে সম্পাদনা করতে ইচ্ছুক। গবেষণা-কার্যে পারদর্শী শ্রীমান মাধবকৃষ্ণ শর্মও এই কাজের যথার্থ মর্যাদা উপলব্ধি করে, এই গ্রন্থের সম্পাদনার কাজে তার বিভাগ হতে যথোচিত সহায়তা প্রদানের প্রতিজ্ঞা করেছিলেন।

তিন বৎসরব্যাপী প্রতিমাসে ষাট-ষাট মুদ্রা সহায়তা-সংক্রান্ত অনুমোদন রাজস্থান সংস্কৃত শিক্ষা বিভাগের সঞ্চালকদের নিকট প্রাপ্ত হয়ে, বিভিন্ন গ্রন্থাগার থেকে হস্তলিখিত কপি সংগ্রহ করে, দূরবর্তী স্থানের গ্রন্থাগারে গিয়ে, বিভিন্ন অভিধান পর্যালোচনা করে— এই গ্রন্থের সম্পাদনার কর্মধারা নির্ধারণ করে, আমি রাজস্থান সংস্কৃত শিক্ষা বিভাগের সঞ্চালকদের নিকট সহায়তার জন্য প্রতিবেদন প্রদান করেছিলাম।

সেখানে রাজস্থান সংস্কৃত শিক্ষা বিভাগের সঞ্চালকাদি শ্রদ্ধেয় মাধবকৃষ্ণ শর্ম, বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করিয়া, স্ব কর্তৃক প্রতিমাসে ষাট মুদ্রা সহায়তা প্রদানের অনুমোদন লাভ করিয়া, আমাকে এই সম্পাদনার পদে নিয়োজিত করেছিলেন। যদিও রাজার কোষ হতে সহায়তা প্রথমে দুই বৎসর মাত্র অনুমোদিত হয়েছিল, তথাপি এই কর্মের গুরুত্ত্ব জেনে সঞ্চালক মহাশয় আরেক বৎসরের জন্য সহায়তা বৃদ্ধি করেছিলেন। এইভাবেই রাজস্থান সংস্কৃত শিক্ষা বিভাগের বিরাট সহায়তায় এই গ্রন্থের সম্পাদনার কর্ম তিন বৎসরে পরিপূর্ণ রূপ লাভ করে।

প্রকাশনায় সহায়তা — এমন প্রকার বৃহৎ গ্রন্থের প্রকাশনাও অত্যন্ত ব্যয়সাধ্য হয়। এত ব্যয়বহুল কাজ বহন করিতে কোনও ব্যক্তিই সক্ষম নন। অতএব এই গ্রন্থের প্রকাশনায় সহায়তার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষা–যুবকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংস্কৃত বিভাগের প্রধানের নিকট ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়। সংস্কৃত বিভাগের প্রধান, সহায়তা-নির্ণায়ক সমিতির অন্যান্য সদস্যগণ এই কর্মের উপযোগিতা ও গুরুত্ব বুঝে, প্রকাশনার সহায়তা প্রদান অনুমোদন করেন।

শ্রীরামলাল কাপুর ট্রাস্ট-এর মহান সহযোগিতা — স্বরযুক্ত বৈদিক
গ্রন্থের মুদ্রণ-ব্যবস্থা ভারতের রাজধানীতে অবস্থিত বহু বিশাল মুদ্রণালয়ে কদাচিৎ পাওয়া যায়। দূরদেশে মুদ্রণকর্মে বহুল বিলম্ব ঘটে। তখন আমি শ্রীরামলাল কাপুর ট্রাস্টের কর্মকর্তাদের নিবেদন করেছিলাম যে— তাদের নবস্থাপিত মুদ্রণালয়ে যেন এই গ্রন্থের মুদ্রণ-ব্যবস্থা করেন।

তাঁরা মহান উদারতায় পাঁচ-সহস্র মুদ্রা ব্যয় করে দুই প্রকার বৈদিক স্বরচিহ্নযুক্ত মূল্যবান টাইটেল মুম্বাইস্থিত নির্ণয় সাগর প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহ করে, এই গ্রন্থের মুদ্রণে বিরাট সহায়তা করেছিলেন।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

১— শ্রদ্ধেয় পণ্ডিত মদনমোহন ব্যাস মহাশয়ের নিকট আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ, যাঁহার দ্বারা বিরল, প্রায় পাঁচ-শত বৎসর পুরাতন মাধ্যন্দিন-সংহিতার পদপাঠের হস্তলিখিত কপি আমাকে প্রদান করা হয়েছিল।

২— রাজস্থান সংস্কৃত শিক্ষা বিভাগের তৎকালীন সঞ্চালক শ্রদ্ধেয় স্বর্গীয় মাধবকৃষ্ণ শর্ম মহাশয়ের প্রতিও আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ, যিনি এই গ্রন্থের সম্পাদনার জন্য স্ব বিভাগ হতে তিন বৎসরকাল প্রতিমাসে ষাট মুদ্রার সহায়তা নির্দিষ্ট করেছিলেন।

৩— শ্রীরামলাল কাপুর ট্রাস্ট-এর কর্মকর্তাদের প্রতিও আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ, যাঁহারা এই গ্রন্থের মুদ্রণের কাজে পাঁচ-সহস্র মুদ্রা ব্যয় করে যথার্থ ব্যবস্থা প্রদান করেছিলেন।

৪— আমাদের বন্ধু শ্রী মহেন্দ্রশাস্ত্রী মহোদয়ের প্রতিও আমি পরম কৃতজ্ঞ, যিনি এই গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের মুদ্রণ-প্রুফ সংশোধন অত্যন্ত পরিশ্রমে সম্পন্ন করেছিলেন এবং পরিশেষে সংশোধনপত্র প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে সমগ্র গ্রন্থ পুনরালোচনা করেছিলেন। যদি তাঁর এই সহায়তা না থাকতো, তবে এই গ্রন্থের শুদ্ধ মুদ্রণ অসম্ভব ছিল। এই সহায়তার গুরুত্ত্ব এর দ্বারা বুঝা যায়— যে তাঁর সহযোগিতা পূর্বে যেসব পৃষ্ঠা মুদ্রিত হয়েছিল, সেগুলিতে আমার দৃষ্টিদোষবশত বহু ভুল ছিল।

অনুতাপ-সহ নিবেদন

এই গ্রন্থের সম্পাদনায় বৈদিক সাম্প্রদায়িক পাঠ-ব্যবস্থাপনায় বিরাট প্রচেষ্টা করা সত্ত্বেও, অজ্ঞতা বা অসাবধানতাবশত কোথাও ত্রুটি ঘটেছে— এমন সম্ভাবনা অস্বীকার করা যায় না। অতএব বৈদিক সাহিত্য রক্ষায় নিবেদিত বিদ্বজ্জনদের নিকট বিনয়ের সঙ্গে প্রার্থনা— আমার এই ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করে, এই গ্রন্থকে অধ্যয়ন-অধ্যাপনে ব্যবহার করে, আমার অল্প পরিশ্রমকে সফল করুন। সংশোধনপত্র অনুযায়ী মূল গ্রন্থ সংশোধনপূর্বক পাঠ করুন।

সংখ্যা ২০২৮, জ্যৈষ্ঠ কৃষ্ণা ৮,
সোনীপত (হরিয়ানা)
যুধিষ্ঠির মীমাংসক


মাধ্যন্দিন পদপাঠের সম্পাদনাকর্মে উপযুক্ত

হস্তলিখিত ও মুদ্রিত গ্রন্থসমূহের পরিচয়

এই মাধ্যন্দিন পদপাঠের সম্পাদনাকর্মে যেসব বিভিন্ন স্থানের হস্তলিখিত অথবা মুদ্রিত গ্রন্থ উপযুক্ত হয়েছে, তাদের পরিচয় নিম্নে উপস্থাপিত হলো—

হস্তলিখিত কোষসমূহ

১. ক— এই হস্তলিখিত কপি আমরা *গজমেরু (গজমের) মণ্ডলান্তর্গত কেকড়ি নগরে বাসকারী বন্ধুসম শ্রদ্ধেয় ব্যাস নামে খ্যাত পণ্ডিত মদনমোহন মহোদয়ের অনুগ্রহে লাভ করেছি।
এর বিবরণ:

  • আকার — দৈর্ঘ্য ৪ x ১০ ইঞ্চি।

  • পঙক্তি — প্রতি পৃষ্ঠায় ৬, নবসংখ্যায় মাপা।

  • অক্ষরসংখ্যা — প্রতি পঙক্তিতে প্রায় ৪০ অক্ষর।

  • লিপিপ্রাচীন দেবনাগরী

  • লেখনকাল — বিক্রম সংবৎ ১৪৭১, শকাব্দ ১৩৩৬।

  • পাতাসংখ্যা — পূর্বার্ধে ভূ–রামচন্দ্র নামে ১৩১ পৃষ্ঠা, উত্তরার্ধে নৃষিদ্বীপ নামে ৭৭ পৃষ্ঠা।
    উভয় অংশ মিলিয়ে মোট ২০৮ পৃষ্ঠার অধিক সংখ্যা রয়েছে।

উভয় অংশেই সমাপ্তিপাঠ এভাবে পাওয়া যায়—

“শুভ ভবতু মঙ্গলम् ॥ সংবৎ ১৪৭১ বর্ষে শকে ১৩৩৬ বহসেনে।”


টীকা:
“বহমানে” — এইটি শুদ্ধ পাঠ রূপে দৃষ্টব্য।

উত্তরার্ধের সমাপ্তিপাঠে শুদ্ধ নির্দেশ পাওয়া যায়।

এখন পুরো লেখাটির অর্থ সহজ ও পরিষ্কার ভঙ্গিতে বাংলায় তুলে দিলাম—
(রূপ, ভাব, প্রাচীন ভঙ্গি বজায় রেখে)

গ্রবাড় শুদি ১৫ ভৌমে । 'অদ্য হংসীঘণী গ্রামবাস্তব্য জ্যোতিরামদেবসুত জ্যোতিপীपासুত শ্রীমরেশ্বরপঠনাথং লিখিতম্‌ ।

গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকার মতে শুদ্ধি পক্ষের ১৫তম দিনে, মঙ্গলবার—

আজ হংসীঘণী গ্রামের অধিবাসী, জ্যোতিরামদেবের পুত্র এবং জ্যোতিপীপার পুত্র, শ্রীমরেশ্বর পঠনাধিকারী এই পুস্তকটি লিখলেন।

যেমনভাবে এই বইটি পাওয়া গিয়েছিল, ঠিক তেমনভাবেই আমি এটিকে নকল করেছি।
এটি যদি কোথাও শুদ্ধ বা অশুদ্ধ হয়, তবে তার দায় আমার নয়।

"ইয়্যাদৃশ বইয়ক দৃষ্ট্বা তাদৃশং লিখিতং ময়া ।
ইয়দি শুদ্ধমশুদ্ধং বা । মম দোষো ন দীয়তে ॥১
তেলাদ রক্ষেজ্জলাদ রক্ষেদ্‌ রক্ষে শিথিলবন্ধনাত্‌ ।
পরহস্তে গতা রক্ষে ।
এवं বদন্তি পুস্তিকং ॥


শান্তি ভবতু ।
গুরুভ্যো নমঃ ।
পরমগুরুভ্যো নমঃ ।

(শ্লোক অর্থঃ)
এটি তেল থেকে রক্ষা করতে হবে, জল থেকেও রক্ষা করতে হবে।
ঢিলে বাঁধন থেকে রক্ষা করতে হবে, এবং অন্যের হাতে যেন না যায়—এভাবে এই পুস্তকটি সতর্ক করে।

শান্তি হোক।
গুরুবরদের প্রতি প্রণাম।
পরমগুরুর প্রতি প্রণাম।


উত্তর অর্ধের শেষে এভাবে পাঠ করা হয়:

“সম্পূর্ণ হল।
শ্রেয়স্কর হোক।
যেমন এই পুস্তকটি পাওয়া গিয়েছিল, ঠিক তেমনই আমি লিখেছি।
যদি তা শুদ্ধ বা অশুদ্ধ হয়, তার দায় আমার নয়।

বিক্রম সংবৎ ১৪৭১ সালে, শকাব্দ ১৩৩৬ চলমান অবস্থায়
সীন্ধনী গ্রামের অধিবাসী জ্যোতিরামদেব-পুত্র, জ্যোতিপীপার-পুত্র শ্রীমরেশ্বর পঠনাধিকারী দ্বারা এটি লিখিত।

শুভ হোক, মঙ্গল হোক।

আমার পিঠ, কোমর ও ঘাড় ভেঙে গেছে (অর্থাৎ অত্যন্ত কষ্ট করে)।
দৃষ্টিও বহুবার ক্ষীণ হয়েছে।
এই পুস্তকটি আমি কঠোর পরিশ্রমে লিখেছি।
অতএব, এটি যত্ন সহকারে রক্ষা করবে।

এটি তেল ও জল থেকে রক্ষা করা উচিত।
ঢিলে বাঁধন থেকে রক্ষা করা উচিত।
অন্যের হাতে গেলে রক্ষা কর—এভাবে পুস্তকটি নির্দেশ দেয়।

যে মহাশয় এই পুস্তকটি প্রদান করেছেন, তাঁকে নমস্কার জানিয়ে এটি প্রদান করা হলো।”


পাঠ নির্দেশ

এই গ্রন্থের প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে এ রকম পাঠ পাওয়া যায়—

“এইভাবে শ্রী বজ্রসনেয়ী সংহিতার পদপাঠে প্রথম অধ্যায় সমাপ্ত।”

এভাবে ৩০তম অধ্যায় পর্যন্ত পাঠ পাওয়া যায়।

কিছু স্থানে পাঠভেদ পাওয়া যায়—
যেমন “বজসনেয়ী সংহিতা পদপাঠে” বা “পদভাবে”—এভাবে।

৩০তম অধ্যায় থেকে ৪২তম অধ্যায় পর্যন্ত দশটি অধ্যায়ে শাকল্য ঋষির পদরীতি দেখা যায়, যেমন—

“এইভাবে শ্রী বজসনেয়ী সংহিতায় শাকল্যকৃত পদরূপে একত্রিশতম অধ্যায়।”


নোটসমূহ

১. পুরনো পাতাটি ঘষে পরিষ্কার করা হয়েছিল এবং তার উপর আবার লিখা হয়েছে।
তাই কিছু স্থানে গ্রামের নাম বা তথ্য বিকৃত হয়েছে।
সঠিক নাম পরবর্তী পাঠ অংশে পাওয়া যাবে।

২. যাজ্ঞবল্ক্য শিক্ষায় ব্যাকরণ অনুসারে যেখানে দীর্ঘ 'ও' বা গুরু স্বর নির্দেশ আছে, সেখানে হাতে লেখা পাঠে 'য্য' ব্যবহার করা হয়েছে।

৩. কলকাতার রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটি গ্রন্থাগারে মধ্যদিনীয় পদপাঠের আরও একটি পাণ্ডুলিপি আছে, যার শেষে একইভাবে ‘শাকল্যকৃত’ পাঠ পাওয়া যায়।

“এইভাবে শ্রী বজসনেয়ী সংহিতায় শাকল্যকৃত পদে চুয়াল্লিশতম অধ্যায় সমাপ্ত।”

লিপিবিশেষ বিবরণঃ
এই পুরো কোষটি একই একজন লেখক দ্বারা লিখিত বলে প্রতীয়মান হয়। তবে মাঝেমাঝে কিছু পুরনো বা ক্ষয়প্রাপ্ত পাতার স্থলে অন্য পাতা জুড়ে অন্য লেখকের দ্বারা পাঠ পূরণের প্রমাণ দেখা যায়।

এই হস্তলিপিটি মোটামুটিভাবে শুদ্ধভাবেই প্রাপ্ত হয়।

অক্ষরবিন্যাসঃ
এই কোষটি অত্যন্ত প্রাচীন হওয়ায় কিছু অক্ষরের রূপ আজকের তুলনায় ভিন্ন ও বিশেষ প্রকৃতির দেখা যায়। সেখানে সন্ধিক্ষরগুলির উপরে চিহ্ন বা মাত্রা বঙ্গলিপির মতো সামনের দিকে নির্দেশিত হয়েছে। যেমন—

  • पद वा वः = দেবো বঃ

  • त्रे ष्टुसेन = ত্রেষ্তুসেন।

  • द्योः = দ্যৌঃ।

এধরনের মাত্রানির্দেশ-পদ্ধতিকে আধুনিক পণ্ডিতেরা “পৃষ্ঠসাত্রা” নামে উল্লেখ করেন। কিন্তু আমরা মনে করি—
পুর্বমাত্রা, প্রাংমাত্রা অথবা পদমাত্রা—এই নামগুলির ব্যবহারই অধিক উপযুক্ত।

এই মাত্রানির্দেশ পদ্ধতি চার শতাব্দীরও পূর্বে রচিত প্রাচীন দেবনাগরী-লিপির গ্রন্থসমূহে দেখা যায়।

বিশেষত্বঃ

এই কোষে বহু ধরনের বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়।
তার মধ্যে একটি হল—
অধিকাংশ স্থানে মন্ত্রপাঠ অনুসারে সমস্ত শব্দ পৃথকভাবে উল্লেখিত।

অন্য পদগ্রন্থগুলিতে পুনরুক্ত শব্দ বা মন্ত্রগুলি তালিকাভুক্ত করা হয় না (অর্থাৎ পদপাঠে পড়া হয় না)।
সে কারণে মন্ত্রকাণ্ডের সংখ্যার সঙ্গে পদকাণ্ডের সংখ্যার বহু স্থানে পার্থক্য দেখা যায়।

কিন্তু এখানে, পুনরুক্ত শব্দও সম্পূর্ণ পাঠসহ নির্দেশিত হওয়ায়—
মন্ত্রসংখ্যা ও পদসংখ্যার মাঝে বিচ্যুতি রয়ে যায়।

কিছু স্থানে পুনরুক্ত মন্ত্রের ক্ষেত্রে কেবল প্রতীক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এবং সম্পূর্ণ পাঠ লেখার স্থান খালি রেখে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া এই কোষে যে অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলি পাওয়া যায়, সবই —
“মাধ্যন্দিন পদপাঠের চতুর্বিধ পাঠ” অধ্যায়ে বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যাত হয়েছে।
সেগুলি সেখানে দেখা উচিত।

২. খ— হস্তলিপি

এই হস্তলিপিটি পুনানগরে অবস্থিত ভাণ্ডারকর প্রাচ্যবিদ্যা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত।

এটি সেখানে তালিকাভুক্ত হয়েছে—
ক্রমসংখ্যা ৮, সন ১৮৮১–৮২ এই পরিচয়ে।

লিপিবিবরণঃ

  • আকারঃ ২৬×১১¾ অঙ্গুল পরিমিত।

পঙ্ক্তিঃ — প্রতি পাতায় চারটি করে পঙ্ক্তি।
অক্ষরসংখ্যা — প্রতি পঙ্‌ক্তিতে সাধারণত ৩২ অথবা ৩৩ টির মতো অক্ষর।
লিপি — দেবনাগরী।
লেখনের কাল — বিক্রম সংवत্‌ ১৬৯১ এবং শক্তাব্দ ১৫৫৬।
পাতাসংখ্যা — পূর্বার্ধে ২৪৩, উত্তরার্ধে ১৭৮; অতএব মোট ৪২১ সংখ্যা।

গ্রন্থসমাপ্তির পাঠ

পূর্বার্ধের শেষাংশে পাঠ এইরূপ পাওয়া যায় —

“এইভাবে পদে বিশতম অধ্যায় সমাপ্ত।
বিক্রম সংवत্‌ ১৬৯১ এবং শক্তাব্দ ১৫৫৬ সালে শ্রাবণ মাসে কৃষ্ণপক্ষের দশম দিনে লিখিত।
শ্রীরক্ষিত হউক।
ওঁ নরসিংহ সহায় নমঃ।
শ্রী রামকে নমঃ।
ওঁ নমঃ কৃষ্ণায়।
নমঃ শ্রী বিন্দুমাধবায়।
ওঁ নমঃ বিশ্বেশ্বরায়।
শ্রী রামায় নমঃ।
শ্রী কৃষ্ণায় নমঃ।
প্রথম অধ্যায়ে বিশটি পদ।”

উত্তরার্ধের অন্তে পাঠ—

“এইভাবে শ্রী বজসনেয়ী সংহিতার পদে চুয়াল্লিশতম অধ্যায় সমাপ্ত।
বিক্রম সংवत্‌ ১৬৯১, মাঘীর মাসে কৃষ্ণপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে।
শ্রী রামায় নমঃ।
শ্রী রামার্পণম্‌।
পদপুস্তক সমাপ্ত।
শ্রী বিন্দুমাধবায় নমঃ।”

প্রত্যধ্যায় শেষে পাঠ নির্দেশ

"এইভাবে বজসনেয়ী সংহিতায় দীর্ঘপাঠ পদে প্রথম অধ্যায়।
এইভাবে বজসনেয়ী সংহিতার পদে দ্বিতীয় অধ্যায়।
এইভাবে বজসনেয়ী সংহিতার দীর্ঘপাঠে তৃতীয় অধ্যায়।
এইভাবে বজসনেয়ী পদসংহিতায় একবিংশ অধ্যায়।"

অন্যত্রও একই রীতিতে দেখা যায়।

লেখকের বিবরণ

পূর্বার্ধের প্রথম ৪৮ বা ৪৯ পাতার লেখক একজন, এবং তারপরে গ্রন্থের সমাপ্তি পর্যন্ত (পূর্বার্ধ ও উত্তরার্ধ দুই-তেই) অন্য লেখকের হাত।
অক্ষরবিন্যাস শুদ্ধ, লেখা মোটামুটি নিখুঁত।

৩. গ—হস্তলিপি

এই প্রতিলিপিটিও একই গ্রন্থাগার থেকে প্রাপ্ত।
এই কোষটি তালিকাভুক্ত হয়েছে—

ক্রমসংখ্যা ৪৪, সাল ১৮৯২–৯৫

লিপিবিবরণ —

  • আকার — ৪ × ৫৮৩ ইঞ্চি পরিমাপ

  • প্রতি পাতায় — ছয় বা সাতটি পঙ্ক্তি

  • অক্ষরসংখ্যা — প্রতি পঙ্‌ক্তিতে ২৬–২৮ টি

  • লিপি — দেবনাগরী

  • লেখনকাল — বিক্রম সংवत্‌ ১৮৫০, শকাব্দ ১৭১৫

পাতা সংখ্যা —
পূর্বার্ধে ১৭৪, উত্তরার্ধে ১৪১
অতএব মোট — ৩১৫ পাতার সঙ্গে অতিরিক্ত ১৫ পাতা।

সমাপ্তির পাঠ

পূর্বার্ধের ১৭৪তম পাতায় —

“এইভাবে সংহিতার পদে বিশতম অধ্যায় সমাপ্ত।
বিক্রম সংवत্‌ ১৮৫০ ও শকাব্দ ১৭১৫, মাঘশিরা মাস, কৃষ্ণপক্ষ দশমী, বৃহস্পতিবারে—
ব্রহ্মপুরীতে বাসকারী উত্তরের ঝা বংশীয় জীভণজীর পুত্র মোতিরাম কর্তৃক
নিজ অধ্যয়নার্থে এবং অপরের উপকারার্থে লিখিত।
চিরঞ্জীব ভাই সম্পত্রামের এই গ্রন্থ।
মঙ্গল হোক।
কল্যাণ হোক।”

উত্তরার্ধের ১৪১তম পাতায় —

“হরি ওঁ।
ইতি বজসনেয়ী সংহিতার পদে চ...”

এর পরবর্তী অংশ পাতা নষ্ট হয়ে খণ্ডিত পেয়েছি।

প্রত্যধ্যায় শেষে পাঠ নির্দেশ

“এইভাবে পদে প্রথম অধ্যায়।
এইভাবে সংহিতা পদে বিশতম অধ্যায়।
এইভাবে বজসনেয়ী পদসংহিতায় একত্রিশতম অধ্যায়।
এইভাবে বজসনেয়ী সংহিতার পদে চুয়াল্লিশতম অধ্যায়।”

লেখার উল্লেখ—
এই গ্রন্থটি সম্পূর্ণভাবে একজন লেখকের দ্বারা লিপিবদ্ধ।
তবে ৩৫–৩৬তম অধ্যায় পর্যন্ত স্বরচিহ্ন নেই।

৪. ঘ—হস্তলিপি

এই কোষটিও ভাণ্ডারকর প্রাচ্যবিদ্যা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অনুলিপি।
সেখানে এটি তালিকাভুক্ত হয়েছে—

ক্রমসংখ্যা ৩৫৩, সাল ১৮৮৩–৮৪।

আকার — ৪×৮ ইঞ্চি মাত্রা।
পংক্তি — প্রতি পৃষ্ঠা সাত বা আট।
অক্ষর — প্রতি পংক্তিতে ২০–২৪।
লিপি — দেবনাগরী।
লেখার কাল — শক ১৭৪১ (বিক্রমাব্দ ১৮৭৬)।
পাতা — মোট ৩২৭, অর্থাৎ তিনশ সাতাশটি।

অধ্যায়ান্ত পাঠ:
একোনবিংশ অধ্যায়ের শেষে পাওয়া যায় —

“এইভাবে পদসংহিতায় উনিশতম অধ্যায় সমাপ্ত।
শ্রী রাম প্রসন্ন হোন।
গঙ্গা, গোদাবরী প্রসন্ন হোন।
শ্রী কৃষ্ণাবাই প্রসন্ন হোন।
শ্রী রামচন্দ্র প্রসন্ন হোন।
কৃষ্ণার্পণমস্তু।
শ্রী বেদসূতি প্রসন্ন হোন।”

উত্তরাংশের শেষে লেখা আছে —

“.....ব্রহ্ম।
এইভাবে বাজসনীয় সংহিতার পদে চারশতম অধ্যায় সমাপ্ত।
শক ১৭৪০ সালে, ভাদ্রপদের কৃষ্ণপক্ষ তৃতীয়া তিথিতে, সোমবার, তৃতীয় প্রহরে এই পুস্তক সমাপ্ত।”

প্রত্যেক অধ্যায়ের শেষে লেখা পাওয়া যায় —

“এইভাবে বাজসনীয় সংহিতার পদে প্রথম অধ্যায়।
এইভাবে বাজসনীয় পদের চতুর্দশ অধ্যায়।
এইভাবে পদের উনত্রিশতম অধ্যায়।
এইভাবে বাজসনীয় পদের একত্রিশতম অধ্যায়।”

লেখা সম্পর্কে মন্তব্য:
এই কোষটি মাঝেমাঝে বহুস্থানে খণ্ডিত হয়ে পুনরায় পূরণ করা হয়েছে বলে অনুমান হয়।
এই কারণে পৃষ্ঠাসমূহে অক্ষরের আকার অনেক স্থানেই ভিন্ন দেখতে পাওয়া যায় এবং
এতে বহু লেখকের হাতের লেখা রয়েছে বলে প্রতীয়মান।

সম্ভবত এটি বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রন্থাংশ সংগ্রহ করে নতুন করে লেখা বা সংকলিত হয়েছে।

সংগ্রহস্থল:
এই কোষ বর্তমানে বারাণসী সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের সরস্বতী ভবন সংগ্রহে সংরক্ষিত।
এর প্রবেশ সংখ্যা — ৪/১২১১
নথিসংখ্যা — ০০১০৫২

সমুদ্রিত পদগ্রন্থসমূহ

১০. অ —
কাশীতে গৌরীশ প্রিন্টিং প্রেসে মুদ্রিত। পত্রাকৃতি বড় অক্ষরযুক্ত।
এই গ্রন্থে যৌগিক ব্যঞ্জনধ্বনির ক্ষেত্রে সাধারণত দ্বিত্বচিহ্ন সঠিকভাবে নির্দেশিত হয়েছে,
এবং ধ্বনির প্রাচীন বা প্রচলিত আঙ্গিকও পাওয়া যায়।

স্বরে কিছু স্থানে বিশেষ প্রকারের পার্থক্য দেখা যায়। এই পার্থক্য
‘মাধ্যন্দিন পদপাঠ পরিচয়’ গ্রন্থের মাধ্যন্দিন পদপাঠের চার প্রকার পাঠ অংশে ব্যাখ্যা করা হয়েছে;
সুতরাং এখান থেকে সেটি বোধগম্য হওয়া উচিত।

আমরা এই স্বরভেদের অংশ ‘ইতি কাশিক পাঠ’ নামে টীকা হিসেবে সংযোজন করেছি।
এ গ্রন্থে ভুলের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি।


১১. ট —
এই পদপাঠ গ্রন্থ বোম্বাইয়ের তত্ত্ববিবেচক প্রেসে মুদ্রিত।
পাতার আকার মাঝারি, অক্ষরও মধ্যম আকারের।

এ গ্রন্থে সাধারণত রেফ-চিহ্নযুক্ত ধ্বনির পরবর্তী ব্যঞ্জনে
দ্বিত্ববর্ণ চিহ্ন পাওয়া যায়।

কাশী মুদ্রিত সংস্করণের তুলনায় এই সংস্করণ অপেক্ষাকৃত শুদ্ধ।


১২. ঠ —
এটি মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতীর রচিত যজুর্বেদ ভাষ্য–এ অন্তর্ভুক্ত পদপাঠ।

এই গ্রন্থের প্রথম এবং তৃতীয় সংস্করণ আমরা ব্যবহার করেছি।
এই দুই সংস্করণের মাঝে কিছু স্থানে পার্থক্যও পাওয়া যায়।

এখানে পদপাঠে যে সমস্ত পদ মূল পাঠে অনুপস্থিত,
সেগুলোও মন্ত্রপাঠের ধারাবাহিকতায় যথাস্থানে সংযুক্ত হয়েছে।

কিন্তু যেসব পদ পরে যুক্ত করা হয়েছে—
সেসব স্থানে কখনো স্বরচিহ্নের অভাব, কখনো স্বরের ভুল নির্দেশ,
আক্ষরিক বিরতি নির্দেশের অভাব এবং অনেক সময় অনুপযুক্ত সংশোধনের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়।

১২) ঠ— শ্রদ্ধেয় দयानন্দ সরস্বতী রচিত যজুর্বেদ ভাষ্য-এ যে পদপাঠ মুদ্রিত হয়েছে, সেটিও এখানে গৃহীত। এই গ্রন্থের প্রথম ও তৃতীয় সংস্করণ এখানে ব্যবহার করা হয়েছে। এই দুই সংস্করণের মধ্যে কোথাও কোথাও পাঠভেদও দেখা যায়। এখানে পদপাঠে যেখানে যেখানে শব্দ লুপ্ত ছিল, সেখানে সেগুলো মন্ত্রপাঠ অনুযায়ী যথাস্থানে যুক্ত করে পড়া হয়েছে। যেসব স্থানে শব্দগুলি পূরণ করা হয়েছে, সেখানে কোথাও স্বরচিহ্ন অনুপস্থিত, কোথাও স্বরের ভুল নির্দেশ, কোথাও অবগ्रह নেই — এবং বহু বর্ণ-লেখার ভুল "ইতি", "পদেন", "আবেষ্টনা" ইত্যাদি শব্দ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।

১৩) ড— এ পদপাঠটি পণ্ডিত ব্রহ্মদত্ত জিজ্ঞাসু কর্তৃক সংশোধিত এবং তার নিজস্ব ব্যাখ্যাসহ পূর্ণ করা দयानন্দ সরস্বতীর যজুর্বেদ ভাষ্য-এর (প্রথম খণ্ডে) মুদ্রিত পাঠ। এ গ্রন্থের কাঠমান্ডুতে মুদ্রিত দ্বিতীয় সংস্করণ এখানে ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও এখানে যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণে দ্বিত্ববাচক পাঠ নেই এবং শব্দের শুরুতে বা অক্ষরের প্রচলিত নির্দেশও পাওয়া যায় না, তবুও ‘ঠ’ গ্রন্থে পাওয়া অক্ষরলিপির ভুল এখানে নেই। স্বরের বিন্যাসে এটি কাশির (কাশীতে মুদ্রিত) সংস্করণের মতোই মধ্যন্দিন শাখার পাঠ অনুসরণ করে।

উল্লিখিত সব অভিধান (সংস্করণ)-এর বিবরণ শেষ।

                                            বেদিক পদপাঠের তুলনামূলক অধ্যয়ন

বৈদিক সাহিত্যেতে সংহিতা গ্রন্থগুলোর পর পদপাঠ গ্রন্থগুলোর যে বিশেষ স্থান রয়েছে— সে বিষয়ে কোনও মতভেদ নেই। এই পদগ্রন্থগুলো সংহিতাপাঠকে ভেঙে পৃথক পদরূপ প্রকাশ, অবগ्रहচিহ্নের মাধ্যমে ধাতু-প্রত্যয়ের বিভাজন, পূর্ব-পরবর্তী শব্দসংযোগের নির্দেশ ইত্যাদির দ্বারা মন্ত্রের অর্থ উপলব্ধিতে বড় সহায়তা করে— এটি সব বৈদিক পণ্ডিতই মেনে নেন।

এই দৃষ্টিতে দেখা যায়— পদগ্রন্থগুলো আসলে সংহিতার সংক্ষিপ্ততম ব্যাখ্যাগ্রন্থ বললেও ভুল হবে না।

যে-সংহিতা সেই মতে পদপাঠের পাঠপদ্ধতি প্রায়ই পৃথক হয়। প্রতিটি সংহিতার পদপাঠ সম্পর্কিত নির্দিষ্ট নিয়ম তাদের নিজস্ব প্রাতিশাখ্য গ্রন্থে বিস্তৃতভাবে নির্ধারিত রয়েছে। সেই বিধান অনুযায়ী পদপাঠের তুলনামূলক বিশ্লেষণ সমকালীন বৈদিক ব্যাকরণ ও ধ্বনিবিজ্ঞানের নিয়ম বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অনেক স্থানে এ তুলনামূলক পাঠ এমন কিছু শব্দ বা ধাতুর অস্তিত্ব প্রকাশ করে— যা বর্তমানে সংস্কৃত ভাষা থেকে বিলুপ্ত। এই ধরনের শব্দ বিষয়ে পানিনি-প্রমুখ ব্যাকরণাচার্যরা উপনিয়ম, আগম-লুপ্তি, বিকার প্রভৃতি নিয়ম আলোচনা করেছেন।


সমস্ত পদগ্রন্থের মধ্যে সামবেদীয় পদপাঠ বিশেষভাবে স্বাতন্ত্র্যপূর্ণ। যেখানে অন্য পদকারেরা একমত হয়ে শব্দভাগ দেখিয়ে অবগ्रह প্রদর্শন করেন না, সামবেদীয় পদকার সেখানে অবগ्रहচিহ্ন ব্যবহার করেন। এই বৈশিষ্ট্য পরবর্তী অধ্যায়ে যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা হবে।

এখানে সামগ্রিকভাবে পদপাঠগুলোর পাঠপদ্ধতি যথাযথ বিভাগে উপস্থাপন করা হলো—


(টীকা)

১. পানিনীয় ব্যাকরণে বর্ণিত লোপ-আগম-আদেশ ইত্যাদির মাধ্যমে হ্রাস পাওয়া বা পরিবর্তিত রূপ থেকে মূল ধাতু শনাক্ত করা যায়— এই প্রসঙ্গে লেখকের "আদিভাষায় ব্যবহৃত অপাণিনীয় রূপগুলির শুদ্ধতার বিচার"-নামক প্রবন্ধ দেখার যোগ্য। এটি বেদবাণী-পত্রিকার ১৪য় বর্ষের প্রথম, দ্বিতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।

১ — যেখানে অবগ্রহচিহ্ন ব্যবহৃত হয়েছে, সে ধরনের পদপাঠের নিয়ম

প্রথমে সেই পদগুলোর পাঠপদ্ধতি বলা হলো— যেগুলোতে অবগ্রহ চিহ্ন ব্যবহৃত হয়েছে।

ক — ঋগ্বেদ ও অথর্ববেদ পদপাঠে

এখানে অবগৃহীত (সংযোগবিচ্ছিন্ন) পদ কেবল একবার অবগ্রহসহ প্রদর্শিত হয়। উদাহরণ:

  • परः$हितम्‌ (ঋগ্বেদ ১।১।১)

  • चित्रश्रव$तमः (ঋগ্বেদ ১।১।৫)

  • त्रि$सप्ताः (অথর্ববেদ ১।১।১)

  • पार्‌ऽयान्त (অথর্ববেদ ১।১।১)

এখানে $ চিহ্ন অবগ্রহসূচক।

খ — শ্বেত ও কৃষ্ণ যজুর্বেদ পদপাঠে

এখানে অবগৃহীত পদ প্রথমে এটি বা ইতি শব্দ যোগ করে নির্দেশ করা হয়, তারপর পৃথক রূপে পুনরায় লেখা হয়। যেমন—

  • “श्रेष्ठतमायेति श्रेष्ठ तमाय” (শুক্ল যজুর্বেদ ১।১)

  • “प्रजावंती-রিতি-प्रजा वतीः” (শুক্ল যজুর্বেদ ১।১)

কৃষ্ণযজুর্বেদেও একই নিয়ম—

  • श्रेष्ठतमायेति श्रेष्ठ तमाय (তৈত্তিরীয় সংহিতা ১।১)

  • प्रजावंतीरिति प्रजा वतीः (তৈত্তিরীয় সংহিতা ১।১)

মৈত্রায়ণীয় পদপাঠে

এখানেও পদ দুইবার লেখা হয়, কিন্তু এখানে দুটি পাঠভেদ দেখা যায়—

  • একটি পাঠ শ্বেত যজুর্বেদের নিয়ম অনুসরণ করে।

  • অপরটি তৈত্তিরীয় (কৃষ্ণ যজুর্বেদ) পাঠ অনুসরণ করে।

উদাহরণ:

  • श्रेष्ठतमायेति श्रेष्ठ तमाय । श्रेष्ठतमायेति श्रेष्ठ तमाय ।
    (মৈত্রায়ণীয় সংহিতা ১।১।১)

গ — সামবেদ পদপাঠে

এখানেও অবগৃহীত পদ দুইবার লেখা হয়, কিন্তু এখানে যজুর্বেদের মতো “इति”-পদ যোগ করা হয় না।

উদাহরণ:

  • हव्यदातये हव्य दातये (সামবেদ পূর্বার্চিক ১।১।১)

(টীকা)

১. মাধ্যন্দিন পদপাঠে, সংহিতার মতো যথাস্থানে দ্বিত্ব (ব্যঞ্জনদ্বিগুণ) পাঠ পাওয়া যায়— এখানে উদাহরণ না দিয়ে সংক্ষেপ রাখা হলো।

২. মৈত্রায়ণীয় স্বরপদ্ধতি, ঋগ, অথর্ব ও যজুর্বেদের স্বরপদ্ধতির থেকে ভিন্ন। তবে এখানে উদাহরণ প্রদানে সহজতার জন্য তিনটির সাধারণ স্বরচিহ্ন অনুসরণ করা হয়েছে।

विश्ववेद्ससम्‌ विश्व वंद्ससू | स० पू० १११११ ॥
উচ্চারণ → বিশ্ববেদ্সসম্‌ বিশ্ব বন্দ্সসু | সা. পূ. ১১।১।১১॥

এখানে অবগ्रहচিহ্ন ব্যবহৃত হলে, পূর্ব অংশের শেষে যে উদাত্ত উচ্চারণ থাকে, তা বিরামের সময়ও উদাত্তরূপেই ধরা হয়, এবং সেটি নির্দেশের জন্য ‘২’ সংখ্যাচিহ্ন ব্যবহার করা হয়।
পরবর্তী অংশে, তৈত্তিরীয় পদপাঠের মতো, পৃথক পদ হিসেবে গণ্য হয়। তাই পূর্ব অংশ উদাত্ত বা স্বরিত যাই হোক—
প্রয়োজনে স্বতন্ত্র স্বরিতরূপ বা সমাসবিহীন একক শব্দরূপ পাওয়া যায় না।


ঘ— "इव" (ইব/ইভ) শব্দের ক্ষেত্রে পাঠপদ্ধতি

কিছু পদকারেরা "ইব" শব্দটি সমাস (যৌগিক শব্দ) হিসেবে ধরে অবগ्रहচিহ্ন ব্যবহার করেন, আবার অন্যেরা এটিকে স্বতন্ত্র পদ অর্থাৎ আলাদা শব্দ হিসেবে গ্রহণ করেন।


উদাহরণ:

দেবনাগরী পাঠ বাংলা উচ্চারণ মন্তব্য
पिताऽईव । ऋ० १।१।६ ॥ পিতা’ইব এখানে ‘ইব’ সমাসবদ্ধ
अथर्व० २।१३।१ ॥ অথর্ব ২।১৩।১
पितेवेतिं पिता इव শু. য. ৩।২৪ পিতেভেতিং পিতা ইব
पितेवेतिं पिता इव, पितेवेतिं पिता इव । मै० १।५॥ মৈ. ১।৫ দুইভাবে পাঠ পাওয়া যায়

এখানে মৈত্রায়ণীয় পাঠে, পূর্বোক্ত নিয়মের মতোই ভিন্ন ভিন্ন কোষভেদে অবগ্রহচিহ্নের পর দুটি স্বরপদ্ধতি পাওয়া যায়।


स्वतन्त्र "इव" (ইব শব্দের স্বতন্ত্র রূপ):

দেবনাগরী বাংলা উচ্চারণ সূত্র/স্থান
पिता । इव॒ । तै० सं० १।५।६ ॥ পিতা । ইবꣳ । তৈ. সং. ১।৫।৬
राजा । इव রাজা । ইব তৈ. সং. ১।২।১৪
चम । इव । सा० पू० २।६।८ ॥ চম । ইব । সা. পূ. ২।৬।৮
महिषी इव মহিষী । ইব

📌 অতিরিক্ত মন্তব্য

এখানে এটিও জেনে রাখা প্রয়োজন যে—

  • সূত্রকার পাণিনি "ইব" শব্দকে সমাসরূপে গ্রহণ করেন না।

  • কিন্তু বাত্তিককার (কাত্যায়ন) তাঁর সূত্রে বলেন—

    “इवेन नित्यसमासो विभक्त्यलोपः पूर्वपदप्रकृतिस्वरत्वं च।”
    (বাত্তিকসূত্র ২।২।১৮)

অর্থাৎ— ইব শব্দের সঙ্গে সমাস নিত্য বা বাধ্যতামূলক, বিভক্তির অপসার এবং পূর্বপদের মূল স্বর বজায় থাকে।


📌 উল্লেখিত রেফারেন্স:

  • আমাদের গ্রন্থ— "वैदिक स्वर मीमांसा"
    পৃষ্ঠা: ২০৩ (সূত্র ১৬৩) এবং পৃষ্ঠা ১৫৬ (সূত্র ৫৩) দেখুন।

দ্বি — আগুদ্যত্বনিদেশেন প্রকারঃ প্রগৃহ্যত্বনিদর্শনায় যদ্যপি সর্বেষু পদগ্রন্থেষ্বিতিনা নির্দেশঃ সাধারণরূপেণোপলভ্যতে, তথাপি প্রগৃহ্যত্বনিদর্শনপ্রকারঃ পদগ্রন্থেষু বহু‌ধা ভিদ্যতে।

ক— কৃক্সামাথব বেদেতে রিয় ম্যৈত্রায়ণ পদপাঠেষু যত্র শুধু প্রগৃহ্য-সংজ্ঞাই নির্দেশনীয় হয়, তত্র শুধু “ইতি” পদ পরে ব্যবহৃত হয়। তদ্যথা —

  • বায়ো ইতি | ঋ ১।২।৩; গ্র ৬।৬৮।১।

  • হ্যে ইতি | সাম পূ ১।১।৩।

  • অসমে ইতি | সাম পূ ২।১।৩।

  • বিষ্ণো ইতি | তাই ১।১।৩; ম্যৈ ১।১।৩।

অনুস্মরণ-বাক্য

ভ্রাত্রে দমপি ধ্যেয়ম্ — তৈত্তিরীয় পদপাঠে ও-কারান্ত সম্বোধনপদ প্রগৃহ্যত্ব ও অপ্রগৃহ্যত্ব — উভয় ফল লাভ করে। তার ব্যাখ্যা “গ”-সন্দর্ভে দ্রষ্টব্য।


খ--

খ— শ্বেতযজুর্বেদের পদপাঠে প্রগৃহ্যত্ব নির্দেশ করার জন্য মন্ত্র-পদ “ইতি”-সহ পুনরায় পড়া হয়। তদ্যথাবিষ্ণো ইতি বিষ্ণো | য ১।৪।

ত্রৈত্তিরীয় পদপাঠে সম্বোধন-ও-কারান্ত শব্দ দ্বৈতরূপে— নিরবগ্রহ ও স-অবগ্রহ — উভয়ভাবেই পাওয়া যায়।


উদাহরণ 

  • विष्णो हव्यम-विष्णो इति | तै १।१।३॥
    বিষ্ণো হব্যম — বিষ্ণো ইতি | তাই ১।১।৩।

  • शतक्रतो इति शत क्रतो | तै १।६।१२॥
    শতক্রতো ইতি শত ক্রতো | তাই ১।৬।১২।


घ-- (চ)

সামবেদ-পদকার সম্বোধনে ও-কারান্ত শব্দে কখনোই প্রগৃহ্যত্ব চান না, তাই “ইতি” ব্যবহার হয় না।

উদাহরণ:

  • विभावसो विभा वसो । सा० पू० १।९।६॥
    বিভাবসো বিভা বাসো | সাম পূ ১।৯।৬।


डः (ঙ)

যেখানে প্রগৃহ্য নির্দেশ-সহ অবগ্রহও দিতে হয়, সেখানে “ইতি”-সহ পুনরাবৃত্তি হয়।

উদাহরণ:

  • द्र्वत्पाणी इति द्रवत्पाणी । ऋ० ९।१।३॥
    দ্র্বত্পাণী ইতি দ্রবত্পাণী | ঋ ৯।১।৩।


📌এই অংশে ব্যাখ্যা করা হয়েছে—

  • "প্রগৃহ্য" (যে স্বরান্ত শব্দে সংযোগ-বদল হয় না) কীভাবে বিভিন্ন বেদ-সংস্করণে নির্দেশিত হয়।

  • কোথাও শুধু "ইতি" বসিয়ে নির্দেশ করা হয়,

  • কোথাও শব্দটি পুনরায় পড়তে হয় (ইতি-সহ),

  • কখনো সন্ধি-সমেত ও বিনা-সন্ধি দুটো রূপই দিতে হয়,

  • সামবেদে আবার এটি একেবারে দেওয়া হয় না।

মূল বক্তব্য:
👉 বিভিন্ন বেদে পদপাঠ-ব্যাকরণে প্রগৃহ্য নির্দেশের পদ্ধতি এক নয়—বহুভাবে দেখা যায়।


সাম্বেদ-এর পদপাঠ-গ্রন্থে যেখানে প্রগৃহ্য (যেখানে অক্ষর জোড়া ভঙ্গ না করে পড়তে হয়) এবং অবগ্রহ (যেখানে বিরতি বোঝানোর জন্য আলাদা করা হয়)—এই দুইয়ের নির্দেশ একটিমাত্র শব্দে দিতে হয়, সেখানে প্রথমে মন্ত্রের শব্দ স্বাভাবিকভাবে (সংহিতা মতে) পড়তে হয় এবং পরে আবার তা পুনঃপাঠ করে দেখাতে হয় কোথায় অবগ্রহ হবে এবং কোথায় প্রগৃহ্য নয়।

উদাহরণস্বরূপ —

  • "বিষু রূপে বিষু রূপে"

  • "অইনি অহনি"

এটিও মনে রাখা উচিত যে, কিছু পদকার (ব্যাকরণকার বা পাঠসংকলনকারী) ‘গৃহনী’ শব্দটিকে অবগৃহ নয়।

পদ-অবগ্রহ সংক্রান্ত বিষয়ে সাম বেদ-এর পদপাঠ-গ্রন্থ অন্য সব বেদ-পদপাঠ-গ্রন্থের তুলনায় বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ।

পরবর্তীতে যথাস্থানে এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশ দেওয়া হবে।

৩ — উপসর্গ নির্ধারণের নিয়ম

সংহিতা-পাঠে উপসর্গ (prefix) দুইভাবে ব্যবহৃত হয় —

১. স্বাধীন শব্দরূপে
২. ক্রিয়ার সাথে মিলিত রূপে

যে উপসর্গ শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হয়, সেখানে তার নির্দেশনা পদপাঠের নিয়ম অনুযায়ী দেওয়া হয়।

আর যে উপসর্গ স্বাধীন রূপে ব্যবহৃত হয়, তা ঋগ্বেদ, সামবেদ এবং শুক্ল-যজুর্বেদের পদপাঠে একটি স্বাধীন শব্দের মতো পড়া হয়।

খন দুটি উপসর্গ একসাথে স্বাধীনভাবে উচ্চারিত হয়, তখন সংহিতা পাঠে “पर (পর)” যুক্ত করে না — অর্থাৎ পরে যুক্ত হয় না, আগে যুক্ত হয় না।

উদাহরণস্বরূপ —

  • এক উপসর্গ — “গণ অতি”

  • অনুইর্তি

  • সং-প্রয়চ্ছতি = সম্ + প্র + যচ্ছতি

  • অনু-প্রেহি = অনু + প্র + ইহি


✔️ সারসংক্ষেপ

এই অংশটি মূলত বেদপাঠের পদবিভাগ, উপসর্গ-ব্যবহার, সংহিতা-ও-পদপাঠের নিয়ম, এবং কোথায় প্রগৃহ্যঅবগ্রহ হবে তা বোঝানোর ভাষাতাত্ত্বিক নিয়ম।

সমাপ্তম্‌ । শিবমস্তু ।


No comments:

Post a Comment

ধন্যবাদ

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

ঋগ্বেদ ৭/৪/৭

  পরিষদ্যম্ হ্যরণস্য রেক্ণো নিত্যস্য রায়ঃ পতয়ঃ স্যাম। ন শেষো অগ্নে অন‍্যজাতম্ অস্ত্যচেতনস্য মা পথম্ বিদুক্ষঃ॥ ঋগ্বেদ ভাষ্য (স্বামী দयानন্দ...

Post Top Ad

ধন্যবাদ