এবং সংম্ভূয়মানস্ত প্রণতৈরৈর্তরিঃ।
প্রসন্নদৃষ্টির্ভগবানিদমাহ স বিশ্বকৃৎ॥ ৭৫
তেজসো ভবতাং দেবাঃ করিষ্যান্যুপবৃংহণম্।
বদাম্যহং যৎ ক্রিয়তাং ভবস্তিস্তদিদং সুরাঃ ॥ ৭৬
আনীয় সহিতা দৈত্যৈঃ ক্ষীরাদৌ সকলৌষধীঃ।
মন্থানং মন্দরং কৃত্বা নেত্রং কৃত্বা তু বাসুকিম্ ॥ ৭৭
মথ্যতামমৃতং দেবাঃ সহায়ে ময্যবস্থিতে।
সামপূর্ব্বঞ্চ দৈতেয়াস্তত্র সাহায্যকৰ্ম্মণি ॥ ৭৮
সামান্যফলভোক্তারো যূনং বাচ্যা ভবিষ্যথ।
মথ্যমানে চ তত্রাক্কৌ যৎ সমুৎপদ্যতেহমৃতম্ ॥ ৭৯
তৎপানাদ বলিনো যূয়মমরাশ্চ ভবিষ্যথ।
তথা চাহুং করিষ্যামি যথা ত্রিদশবিদ্বিষঃ।
ন প্রাপ্যন্ত্যয়তং দেবাঃ কেবলং ক্লেশভাগিনঃ ॥ বিষ্ণু পুরাণ ১।৯।৭৫-৮০
----"ভগবান কহিলেন, হে দেব সকল! তোমাদের তেজের উপবৃংহণ (পুষ্টি-সাধন) করিব, আমি যাহা বলিতেছি, তাহা কর। দৈত্যগণের সহিত ক্ষীরান্ধিতে সকল ওষধি আনিয়া (নিক্ষেপপূর্ব্বক)
এবং মন্দরকে মন্থন (মাথানি) ও বাসুকিকে নেত্র (মন্থনরজ্জু) করিয়া, আমার সাহায্যে অমৃত মন্থন কর। সাহায্যের নিমিত্ত দৈতেরদিগকে সামপূর্ব্বক বল যে, "তোমরা সামান্য ফলভোক্তা (সমান ফলভাগী) হইবে।
সমুদ্রমন্থন হইলে যে অমৃত উৎপন্ন হইবে, তাহা পানে তোমরা এবং আমরা বলবান্ হইব।” তৎপরে আমি এরূপ করিব যাহাতে দেবদ্বেষিগণ অমৃত না পাইয়া কেবল ক্লেশভাগী হয়। ৭৫-৮০।
পুরাণে বলা হয়, দেবতা ও অসুররা একত্রিত হয়ে আমৃত বের করার জন্য সমুদ্র মন্থন করেছিলেন। কিন্তু এই গল্পের মধ্যে লুকিয়ে থাকা রহস্য উন্মোচন করার প্রচেষ্টা করা হবে।
এই মন্থনের সময় উদ্ভূত হয় নব রত্ন, অমৃত, এবং নানা আশ্চর্য বস্তু।
"যস্মাত্পুরা হ্যানিন্তীদং পুরাণং তেন তৎস্মৃতম্" (বায়ুপুরাণ ১।২০৩)-এই ভাবার্থ অনুযায়ী, ‘পুরা’ অর্থাৎ আদিম ঘটনাবলি বা আদ্য প্রবৃত্তিগুলিকে ‘অনন’ অর্থাৎ পরবর্তী রূপের সঙ্গে ছন্দোবদ্ধভাবে সংযুক্ত করার যে প্রণালী, তাকেই '#পুরাণ' বলা হয়েছে।
🌊✨ সমুদ্র মন্থনের কাহিনি ✨🌊
📜যষ্ঠ মনুর (চাক্ষুস) আমলে 'সমুদ্র মন্থন' নামক বিখ্যাত ঘটনা ঘটে। চাক্ষুস মনুর আমলেই কশ্যপের বৈমাত্রেয় পুত্রেরা বিবাদে জড়িয়ে পড়ছিল, আর এই সময় 'সমুদ্র মন্থন' (জলমগ্ন ও অসমান অঞ্চলকে বাসযোগ্য বানানো) হয়। যখন টেথিস সাগর ও গন্ডোয়ানাল্যান্ডের দ্বারা ভঙ্গিল পর্বত হিমালয়ের উৎপত্তি হয়, সেই সময় শিবালিক ও তার নিকটবর্তী অঞ্চলের অএকটাই জলমগ্ন ও অসমান ছিল। রসাতল (করাকূর্ম) নামক জলমগ্ন অঞ্চলকে পৃথুর পূর্বপুরুষ চাক্ষুস মনু সমুদ্র মন্থন করে। এই সময়ে বিষ্ণু পদে অজিত ছিলেন, ও দেবরাজ মনোজবা ইন্দ্র পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। পৃথু আরও কিছু পাহাড়ী অসমান অঞ্চলকে বিদির্ণ করে সমতলভূমিতে পরিণত করেন। বায়ুপুরাণের ৯৬ অধ্যায়ে ১২টি দেবাসুরের মহা যুদ্ধের কথা পাওয়া যায়। এর মধ্যে উল্লেখ্য একটি সংগ্রাম অমৃতমন্থন বা সমুদ্রমন্থন। এই যুদ্ধটি হওয়ার সময় কি ছিল তা জ্যোতির্বিজ্ঞানের নক্ষত্র মন্ডলীর অবস্থান দেখে ছবিতে দেখানো হয়েছে। যে চিত্রটি ' সমুদ্র মন্থন' নামে পরিচিত। হিরণ্যকশিপুর কায়াধূ নামক এক দানবী থেকে প্রহ্লাদ, অনুহ্লাদ, হ্লাদ ও সংহ্লাদ নামে চার পুত্র এবং দিব্যা নামে এক কন্যা জন্ম নেন। হিরণ্যাক্ষের উৎকুর, মহানাভি, ভূতসন্তাপন, শকুনি, মহাবাহু ও কালনাভ নামে ছয় পুত্র হয়। বাজ্রাঙ্গের তারক নামে এক পুত্র হয়েছিল। যদিও এরা সকলে তাদের সময়ের বিখ্যাত যোদ্ধা ছিলেন, তবে এদের মধ্যে কেবলমাত্র প্রহ্লাদের বংশই দানব-সাম্রাজ্যের অধিপতি হিসেবে সুপরিচিত হয়। প্রহ্লাদের অনুজ হ্লাদের হ্লদ ও নিষুন্দ নামে দুই পুত্র হয়। প্রহ্লাদের অন্য ভাই অনুলাদের বায়ু ও সিনীবালী নামে দুই পুত্র হয়েছিল এবং
তাদের বংশধররা ‘হালাহল’ নামে পরিচিত হয়। দেব-দানবদের মধ্যে সৃষ্ট সমুদ্র-বিবাদের সমাধানের জন্য অমৃত নামক স্থানে আহূত পঞ্চায়ত (সমুদ্র-মন্থন)-র তীব্র বিরোধিতার চেষ্টা করেছিল এই হালাহলরা, কিন্তু রুদ্রের দ্বারা বোঝানো হলে তারা অবশেষে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়। সংঘর্ষের বিষ-বমনকারী এই হালাহলদের বশীভূত করার জন্য রুদ্র (মহাদেব) ‘গরল শমনকর্ত্তা’ হিসেবে প্রসিদ্ধ হয়েছিল।
অনেকে সমুদ্র মন্থনের কাহিনীকে শুধুমাত্র নিছক পৌরাণিক গল্প বলে মনে করেন, এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে সাথে এই চিত্রের মধ্যে লুকিয়ে আছে গভীর জ্যোতির্বিদ্যার প্রতীক।
অনেকে ভাবেন সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ কেবল পৌরাণিক কাহিনির সঙ্গে জড়িত। কিন্তু সত্য হলো—প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞানীরা জ্যোতির্বিজ্ঞানের মাধ্যমেই এদের রহস্য উন্মোচন করেছিলেন। 

ড্রাকোর মাথায় তিনটি নক্ষত্র আছে যা উজ্জ্বলতা ৩ এর বেশি। এদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল এবং ড্রাকোর সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র হলো গামা ড্রাকোনিস, প্রচলিতভাবে এটামিন বা এলটানিন নামে পরিচিত। এটি একটি কমলা রঙের দৈত্যনক্ষত্র, উজ্জ্বলতা ২.২, এবং পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব ১৪৮ আলোকবর্ষ। ১৭২৮ সালে জেমস ব্র্যাডলি গামা ড্রাকোনিস পর্যবেক্ষণ করার সময় তারার আলো বিচ্যুতি আবিষ্কার করেন। এর কাছাকাছি বিটা ড্রাকোনিস, প্রচলিতভাবে রাসটাবান নামে পরিচিত, হল একটি হলুদ দৈত্যনক্ষত্র যার উজ্জ্বলতা ২.৮ এবং পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব ৩৬২ আলোকবর্ষ। এর নাম আধুনিক জ্যোতিষ বিজ্ঞানের ভাষায় থুবানের সাথে অর্থে মিল রয়েছে, অর্থাৎ "সাপের মাথা"।
ড্রাকো নক্ষত্রপুঞ্জে আরো রয়েছে:
গামা ড্রাকোনিস (এটামিন): উজ্জ্বল কমলা দৈত্যনক্ষত্র, পৃথিবী থেকে ১৪৮ আলোকবর্ষ দূরে।
বিটা ড্রাকোনিস (রাসটাবান): হলুদ দৈত্যনক্ষত্র, “সাপের মাথা” অর্থে থুবানের সাথে মিল।
মিউ ড্রাকোনিস (আলরাকিস): বাইনারি সিস্টেম, ৮৮ আলোকবর্ষ দূরে।
আর ড্রাকোনিস (R Draconis): লাল মিরা-ধরনের পরিবর্তনশীল নক্ষত্র।
ড্রাকোতে আছে বহু দ্বিগুণ ও ত্রিগুণ নক্ষত্র, যা ছোট অ্যামেচার টেলিস্কোপ বা দূরবীনে দেখা যায়। এছাড়াও রয়েছে বিশাল গ্যালাক্সি ক্লাস্টার Abell 2218, যা আমাদের থেকে প্রায় ৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে। 
আজকের কেপলার-১০ নক্ষত্রও ড্রাকোতে অবস্থিত, যার চারপাশে কেপলার-১০বি গ্রহ ঘূর্ণায়মান।
আকাশের এই রহস্যময় ড্রাগন অর্থাৎ বাসুকি আমাদের দেখায়, কতটা বিস্ময়কর হতে পারে আমাদের মহাবিশ্ব! 
এই পোলারিস, বা উত্তর নক্ষত্র, উরসা মাইনর নক্ষত্রপুঞ্জের একটি প্রখ্যাত নক্ষত্র। এটি প্রায় পৃথিবীর উত্তর মেরুর ঠিক উপরে অবস্থান করছে, যার ফলে রাতের আকাশে এটি উত্তর গোলার্ধের নেভিগেশনের জন্য একটি স্থির নির্দেশক বিন্দু হিসেবে কাজ করে।
এটির স্থান নির্দিষ্ট হওয়ার কারনে এটিকে মন্থনদণ্ড হিসেবে মান্দার পর্বত চিত্রিত করা হয়েছে। রাতের আকাশের এই স্থির নক্ষত্র আমাদের মহাবিশ্বের রহস্য ও সৌন্দর্য বোঝায়। পোলারিস হলো উত্তর নক্ষত্র যা রাতের আকাশে এটি সহজেই চোখে দেখা যায়, কারণ এর উজ্জ্বলতা প্রায় ১.৯৮ এবং এটি উত্তর আকাশের মেরু নক্ষত্রের ঠিক কাছাকাছি অবস্থান করছে। 
পোলারিস, বা উত্তর নক্ষত্র কে কেন্দ্র করে বিগ ডিপ্পার ও লিটল ডিপ্পার গুলি পৌরাণিক চিত্রের ন্যায় ঘুরতে থাকে, যা সমুদ্র মন্থন চিত্রের আকারে একটি নির্দিষ্ট সময় পরিলক্ষিত হয়। অন্যান্য নক্ষত্রগুলো এর চারপাশে ঘূর্ণায়মান মনে হলেও, পোলারিস প্রায় একই স্থানে থাকে, কারণ পৃথিবীর ঘূর্ণনের অক্ষ এর দিকে নির্দেশ করে। পোলারিস নিকটতম সেপেইড পরিবর্তনশীল নক্ষত্র হওয়ায় এর দূরত্বকে বিস্বব্যাপী দূরত্ব নির্ণয় পদ্ধতির অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
রাতের আকাশের এই স্থির নক্ষত্র আমাদের দেখায়, কিভাবে মহাবিশ্বের নিয়মগুলো আমাদের নেভিগেশন ও বিজ্ঞানকে পরিচালনা করে। 
বসন্তের রাতে আকাশে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নক্ষত্রপুঞ্জ—বিগ ডিপ্পার ও লিটল ডিপ্পার—উত্তর আকাশে উজ্জ্বলভাবে দৃশ্যমান থাকে? এগুলি শুধু আকাশের সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না, বরং দিকনির্দেশের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্মরণীয় তথ্যঃ
উত্তর নক্ষত্র বা পোলারিসও আসলে আকাশের ওপর ধীরে ধীরে চলে! 
এটি স্থির মনে হয় কারণ এটি পৃথিবীর ঘূর্ণনের অক্ষের ঠিক উপরে অবস্থিত, কিন্তু আসলে শতকের পর শতক ধরে এটি ধীরে ধীরে স্থান পরিবর্তন করে। প্রায় ৪০০০ খ্রিস্টাব্দে এটি এররাই (Errai) নক্ষত্র দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে।
আরও একটি মজার তথ্য: আধুনিক বিজ্ঞানের পরিভাষায় পোলারিস আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র নয়, এটি শুধুমাত্র নিজের নক্ষত্রপুঞ্জ, লিটল বেয়ার (ছোট ভালুক)-এর সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র।
তবুও, পোলারিসকে খুঁজে পাওয়ার ৪টি বড় কারণ:
সমুদ্রমন্থন = অমৃতমন্থন (বায়ু পুরাণ ৯৬ অধ্যায়)
গাভী = ধরিত্রী মাতা
হলাহল = অসুর
ড্রাকো: = (Draco) বাসুকি নাগ 🐉
কেতু = SOUTH LUNAR NODE দক্ষিণ চন্দ্রবিন্দু 🌙 (এটি জ্যোতিষশাস্ত্রে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, যা চন্দ্রের কক্ষপথে সূর্যের সঙ্গে তার ছেদ বিন্দু নির্দেশ করে।)
রাহু = NORTH LUNAR NODE উত্তর চন্দ্রবিন্দু 🌙
👉 রাহু হলো নতুন দিকের পথচলা 🚀
👉 কেতু হলো অতীত অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার 📚
No comments:
Post a Comment
ধন্যবাদ