অগ্নীষোমা চেতি তদ্বীর্যং ৱা যদমুষ্ণীতমবসং পণিং গাঃ।
অবাতিরতং বৃষযস্য শেষোऽবিন্দতং জ্যোতিরেকং বহুভ্যঃ॥ ঋগ্বেদ ১।৯৩।৪
এই মন্ত্রের আক্ষেপের উত্তর—
কিছু ভাষ্যকারই আগ্নি ও সোমের মাধ্যমে গরু চুরি করানোর কথা বলেছেন। একদিকে তারা আগ্নি ও সোমদেবের মাধ্যমে সূর্যের আলো প্রকাশ হওয়ার বর্ণনা দেন, আবার সেই সূর্যকে প্রকাশকারী থেকে গরু চুরি করানোর কথা বলছেন। এতে তো আপনাকেও বুদ্ধি দিয়ে ভাবা উচিত। গরু চুরির জন্য কোনো মানুষ হতে পারে, কোনো মাংসাশী প্রাণীও হতে পারে, কিন্তু সূর্য সৃষ্টি করার সর্বশক্তিমান সত্ত্বা যদি গরু চুরি করে বা কারো খাবার চুরি করে—এমন কথা ভাবা শুধু কোনো গুরুতর মানসিক রোগীই পারে।
ঋষি দয়ানন্দের ভাষ্য অনুযায়ী, সূর্যের আলো, রশ্মি ও আলোর বিস্তার মূলত বায়ু এবং বিদ্যুৎ শক্তি দ্বারা ঘটে। তিনি ‘অমুষ্ণীতম্’ পদ ব্যবহার করেছেন যা অনেকেই চুরি বা চোরের অর্থে বুঝে ফেলেন। কিন্তু অর্থ হলো—যেমন চোর চুপচাপ কোনো বস্তু নিয়ে যায় এবং কেউ তা জানতেই পারে না, ঠিক তেমনই সূর্য ও রশ্মির কাজ আমাদের চোখে সরাসরি দৃশ্যমান হয় না।
ভাস্কর্য বা সূর্যকে প্রক্ষিপ্ত আলো দিয়ে দেখলেও আমরা জানি না, এর অন্তর্নিহিত শক্তি কিভাবে কাজ করে। ঋষি দয়ানন্দ এই জ্ঞানের কথা প্রায় ২০০ বছর আগে বলেছেন, এমন সময়ে যখন পৃথিবীর অনেক বড় বিজ্ঞানীও এ ধরনের সূক্ষ্ম তথ্য জানতেন না। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় আমরা এটিকে ভ্যাকুয়াম এনার্জি বা ডার্ক এনার্জির সঙ্গে তুলনা করতে পারি।
তাহলে এখানে মূল বার্তা হলো—বৈদিক শাস্ত্র শুধু ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেয় না, বরং এতে প্রাচীন বিজ্ঞান ও প্রকৃতির সূক্ষ্ম জ্ঞানও নিহিত। আমাদের উচিত শাস্ত্রের শব্দ এবং রূপের পেছনের গভীর অর্থ বোঝার চেষ্টা করা, অগভীর বা সরল ব্যাখ্যা দিয়ে উপহাস না করা।
ঋষি দয়ানন্দের ভাষ্য আমাদের শেখায়—বুদ্ধি দিয়ে ভাবা এবং প্রকৃতির গভীরতা বোঝা। সূর্যের আলো বা রশ্মির বিস্তার যেমন দৃশ্যমান নয়, তেমনি বৈদিক জ্ঞানের কিছু গভীর অংশও সহজে বোঝা যায় না।
অতএব, পরবর্তী বার শাস্ত্র বা প্রাচীন লেখার ব্যাখ্যা পড়ার সময় তুলনা, প্রেক্ষাপট এবং বিজ্ঞানসম্মত যুক্তি ব্যবহার করা উচিত। কেবল শব্দের আক্ষরিক অর্থ দেখে তর্ক করা মোটেই যুক্তিসঙ্গত নয়।
পদার্থ:
(অগ্নিষোমা) = বায়ু ও বিদ্যুৎ (চেতি) = জানা বা প্রসিদ্ধ (তৎ বীর্য্য) = পৃথিবীসহ সকল লোকের শক্তি
(বাম্) = যেটির (যৎ (অমুষ্ণীতম্)) = চুরি করা বা গ্রহীত (অবসম্) = রক্ষা ইত্যাদি (পণিম্) = ব্যবহার
(গা:) = রশ্মি (অবাতিরতম্) = অন্ধকার বিনাশ (বৃসয়স্য) = আচ্ছাদনকারীর (শেষ:) = অবশিষ্ট অংশ (জ্যোতি:) = দীপ্তি (একঃ) = একক (অসহায়) = নানারূপ পদার্থের দ্বারা (বহুভ্যঃ) = বহুজনের জন্য "অবতিরতিরিতি বধকর্মা"-নিরু০২।১৯
ভবার্থঃ
যে অগ্নিষোমা বায়ু ও বিদ্যুতের মাধ্যমে যা রক্ষা ইত্যাদি (অবসম্) ব্যবহারের অংশকে (অমুষ্ণীতম্) গ্রহণ করে, সে সূর্যের রশ্মি (গা:) বিস্তৃত করে, অন্ধকার (অবাতিরতম্) ধ্বংস করে এবং বহু পদার্থের মাধ্যমে (বহুভ্যঃ) একক দীপ্তি (এক জ্যোতি:) প্রদান করে। যাদের আচ্ছাদনকারী সূর্য (বৃসয়স্য), তার অবশিষ্ট অংশ (শেষ:) সকল লোকের কাছে পৌঁছে। এবং এর সেই শক্তি ও পরাক্রম (বীর্য্য) সকলেই জানে।

No comments:
Post a Comment
ধন্যবাদ