![]() |
| বুদ্ধিবৃদ্ধ্যুপদেশ্) বুদ্ধির বৃদ্ধির জন্য উপদেশ। |
বাচস্পতিবলা তেষাং তন্বো অদ্য দধাতু মে৷৷ ১৷
পদার্থঃ (য়ে) যে সব পদার্থ (ত্রিসপ্তাঃ) সকলের ত্রাতা, রক্ষক পরমেশ্বরের সম্বন্ধে
এবং রক্ষণীয় জগতের সন্বন্ধে বর্তমান থাকিয়া (বিশ্বা) সব (রূপাণি) বস্তুকে (বিভ্রতঃ) ধারণ করিয়া (পরি) সব দিকে (য়প্তি) ব্যাপ্ত রহিয়াছে, (বাচস্পতিঃ) বেদরূপ বাণীর পালক পরমেশ্বর (তেষাম্) তাহাদের (তন্বঃ) শরীরে (বলা) বলকে (অদ্য) আজ (মে) আমাকে (দবাতু) দান করুন।।১।।
(ত্রি সপাঃ) তৃ তরণে ড্রি। তরতি, তারয়তি তাতে রাত্রিঃ। যাহা রক্ষা করে বা রক্ষা পায় তাহা ত্রি-পরমেশ্বর বা জগৎ । ষপ্ সমবায়েক্ত। সপতি সমবৈতীতি সপ্তা্। যাহা সমবেত হয় তাহা সপ্ত। ত্রিসপ্তাঃ অর্থাৎ তারক ঈশ্বর বা তারণীয় জগতের সহিত সন্বন্ধ পদার্থ সমূহ। সংখ্যা ভেদে তিন সন্বন্ধ তিন কাল ভূত, বর্তমান; ও ভবিষ্যৎ; তিন লোক স্বর্লোক, ভূবলোক ও ভূলোক; তিনগুণ সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ; তিন তত্ত্ব ঈশ্বর, জীব ও প্রকৃতি। ৩+৭-দশ দিক। ৩×৭- একুশ দিক, অর্থাৎ পঞ্চ মহাভূত, পঞ্চ প্রাণ, পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয়, পঞ্চ কর্মেন্দ্রিয় এবং এক অন্তঃকরণ।। ১৷৷
ভাবার্থঃ যে সব পদার্থ সর্বরক্ষক পরমাত্মা ও তাহার পালনীয় জগতের সন্বন্ধে বর্তমান থাকিয়া সব বস্তুকে ধারণ করে এবং সর্বত্র ব্যাপ্ত থাকে, বেদরূপ বাণীর রক্ষক পরমেশ্বর তাহাদের শরীরের বল আজ আমাকে দান করুন।।১।।
ক্ষেমকরণ ত্রিবেদীকৃত পদার্থঃ (যে) যে পদার্থ (ত্রি-সপ্তাঃ) ১− সবকিছুর সন্তারক বা, রক্ষক পরমেশ্বরের সম্বন্ধে, যদ্বা, ২−রক্ষণীয় জগৎ [যদ্বা− তিন এর সাথে সম্বন্ধিত ৩− তিনটি কাল, ভূত, বর্তমান্ ও ভবিষ্যৎ। ৪− তিনটি লোক, স্বর্গ, মধ্য ও ভূলোক। ৫− তিনটি গুণ, সত্ত্ব, রজ ও তম। ৬− ঈশ্বর, জীব ও প্রকৃতি। যদ্বা, তিন ও সাত=দশ। ৭− চারটি দিশা, চারটি বিদিশা, একটি উর্ধ্ব এবং একটি অধঃ দিশা। ৮− পাঁচটি জ্ঞানেন্দ্রিয়, অর্থাৎ কান, ত্বক, নেত্র, জিহ্বা, নাসিকা ও পাঁচটি কর্মেন্দ্রিয়, অর্থাৎ বাক, হাত, পা, পায়ু, উপস্থ। যদ্বা, তিন গুণিতক সাত= একুশ। ৯− মহাভূত ৫+প্রাণ ৫ + জ্ঞানেন্দ্রিয়+ ৫+ কর্মন্দ্রিয় ৫+অন্তঃকরণ ১ ইত্যাদি] এর সম্বন্ধযুক্ত [বর্ত্তমান্] হয়ে, (বিশ্বা=বিশ্বানি) সমস্ত (রূপাণি) বস্তুকে (বিভ্রতঃ) ধারণ করে (পরি) সমস্ত দিকে (যন্তি) ব্যাপ্ত রয়েছেন। (বাচস্পতিঃ) বেদরূপ বাণীর স্বামী পরমেশ্বর (তেষাম্) উনার (তন্বঃ) শরীরের (বলা=বলানি) বল (অদ্য্) আজ (মে) আমার জন্য (দধাতু) দান করুন ॥
তৃণ হইতে ব্রহ্ম পর্যন্ত যাবতীয় পদার্থই সংসার স্থিতির কারণ। মনুষ্য সেই বিষয়ের জ্ঞান পরমাত্মার কৃপায় বেদ দ্বারা লাভ করুন।।১।।
ক্ষেমকরণ ত্রিবেদীকৃত টিপ্পণীঃ
১. শব্দার্থ, ব্যাকরণ প্রভৃতি প্রক্রিয়া এইসব। পদার্থসমূহ। ত্রি-সপ্তা। ‘তরতে’ ধাতু থেকে ‘ড্রি’ প্রত্যয়। উণাদি ৫।৬৬। অর্থাৎ ‘তৃ’ ধাতু (তরণে) ড্রি। যে তরতি, তারয়তি, বা তার্যতে সে ‘ত্রিঃ’। পরমেশ্বর বা জগৎ, অথবা সংখ্যাবাচক অর্থেও ব্যবহৃত। ‘ষপ্’ ও ‘অশূ’ ধাতু থেকে ‘তুট্’ প্রত্যয়। উণাদি ১।১৫৭। অর্থাৎ ‘ষপ্’ (সমবায়ে) কনিন্, তুট্ প্রত্যয়। যে সমবেত হয় সে ‘সপ্তন্’; অথবা সংখ্যাবিশেষ। অথবা ‘ষপ্’ (সমবায়ে) ক্ত প্রত্যয়। ত্রিণা তারকেন অর্থাৎ তরণকারী পরমেশ্বরের সঙ্গে, অথবা জগতের সঙ্গে, সম্বদ্ধ পদার্থসমূহ। অথবা তিন ও সাত মিলিয়ে ‘ত্রিষপ্তা’ দশ দেবতা। অথবা সপ্তকে ত্রিগুণিত করলে একবিংশ সংখ্যক পদার্থ। ডচ্-প্রকরণে সংখ্যাবাচক তৎপুরুষ সমাসের উপসংখ্যা করণীয়। বার্ত্তিক পাণিনি ৫।৪।৭৩। এই সমাসে ডচ্ প্রত্যয়। বিশেষ ব্যাখ্যা ভাষ্যে করা হয়েছে।
‘পরি-যন্তি’। ‘ইণ্’ ধাতু (গতৌ), লট্। চারিদিক থেকে গমন করে, ব্যাপ্ত করে। ‘বিশ্বা’। ‘অশু’, ‘প্রুষ্’, ‘ইলট্’, ‘ইকণি’, ‘খটি’, ‘বিশি’ প্রভৃতি ধাতু থেকে ‘ক্বন্’ প্রত্যয়। উণাদি ১।১৫১। অর্থাৎ ‘বিশ্’ (প্রবেশে) ক্বন্। ছন্দসে ‘শে’ এর লোপ বহুপ্রকার। পাণিনি ৬।১।৭০। ফলে ‘বিশ্বানি’। সমস্ত। ‘রূপাণি’। ‘খষ্প’, ‘শিল্প’, ‘শষ্প’, ‘বাষ্প’, ‘রূপ’, ‘পর্ণ’, ‘পর্ত’, ‘তল্প’ এই ধাতুসমূহ থেকে। উণাদি ৩।২৮। অর্থাৎ ‘রু’ (ধ্বনৌ) প্ প্রত্যয় এবং দীর্ঘ স্বর। যা কীর্তিত হয়, তা রূপ। অথবা ‘রূপ’ (রূপকরণে) অচ্ প্রত্যয়। সৌন্দর্যসমূহ, চেতন ও অচেতন উভয় প্রকার বস্তু। ‘বিভ্রতঃ’। ‘ডুভৃঞ্’ (ধারণ-পোষণয়োঃ) লট্, শত্র্ প্রত্যয়। ‘জুহোত্যাদি’ হওয়ায় শপ্-এর স্থানে শ্লু। ‘নাভ্যস্তাচ্ছতুঃ’। পাণিনি ৭।১।৭৮ নুম্-এর নিষেধ। ধারণকারী, পোষণকারী। ‘বাচঃ’। ‘ক্বিব্’ ‘বচ্’, ‘প্রচ্ছ্’, ‘শ্রি’ প্রভৃতি ধাতু থেকে। উণাদি ২।৫৭। অর্থাৎ ‘বচ্’ (বাচি) ক্বিপ্, এবং দীর্ঘ স্বর। ‘বাণ্যাঃ’। বেদাত্মিকা। ‘পতিঃ’। ‘পা’ ধাতু (রক্ষণে) ডতি প্রত্যয়। উণাদি ৪।৫৭। রক্ষক। সর্বগুরু পরমেশ্বর। ‘বাচস্পতিঃ’। ষষ্ঠী সমাসে ‘পতি’ ও ‘পুত্র’ প্রভৃতি। পাণিনি ৮।৩।৫৩। বিসর্গের স্থানে সৎকার। ‘বলা’। ‘বল্’ ধাতু (হিংসা ও জীবনে) পচাদ্যচ্ প্রত্যয়। পূর্ববৎ ‘শে’ লোপ। ‘বলানি’। সেগুলি। ত্রিসপ্ত পদার্থসমূহের। ‘তন্বঃ’। ‘ভৃ’, ‘মৃ’, ‘শীং’ প্রভৃতি ধাতু থেকে। উণাদি ১।৭। অর্থাৎ ‘তনু’ (বিস্তারার্থে) উ প্রত্যয়; পরে স্ত্রীলিঙ্গে ঊঙ্। ‘উদাত্ত-স্বরিতয়োর্যণঃ স্বরিতোऽনুদাত্তস্য’। পাণিনি ৮।২।৪। বিভক্তিতে স্বরিত, উদাত্ত ঊকার যণ্-এ পরিবর্তিত হয়ে ‘তন্বাঃ’। শরীরসমূহ। ‘অদ্য’। ‘সদ্যঃ’, ‘পরুত্’, ‘পরার্’, ‘যৈষম্’ প্রভৃতি। পাণিনি ৫।৩।২২। ‘ইদম্’ শব্দের ‘অশ্’ ভাব; ‘দ্যস্’ প্রত্যয় দিনে অর্থে নিপাতিত। এই দিনে, অধ্যয়নের কালে। ‘দধাতু’। ‘ডুধাঞ্’ (ধারণ-পোষণয়োঃ, দানে চ) লোট্। ‘জুহোত্যাদি’; শপ্-এর স্থানে শ্লু। ধারণ করুক, স্থাপন করুক, দান করুক। ‘মে’। আমাকে, আমার জন্য। ॥
বিশ্বানাথ বিদ্যালঙ্কারঃ পদার্থ টিপ্পণীঃ (যে) যে (ত্রিষপ্তাঃ) তিনটি বা সাতটি (বিশ্বা রূপাণি) সকল রূপ-সমূহকে (বিভ্রতঃ) ধারণ করে (পরিযন্তি) সব দিকে গতি করছে/চলমান, (বাচস্পতিঃ) বাগ্মী আচার্য (তেষাম্ বলা) সেই ত্রিষপ্তের বল (মে) আমার (তন্বঃ) তনূ অর্থাৎ শরীরের মধ্যে (অদ্য১) আজ থেকে (দধাতু) স্থাপিত করেন/করুক।
টিপ্পণীঃ [বিশ্বা=বিশ্বানি । বলা=বলানি । তন্বঃ= তনূর মধ্যে অর্থাৎ শরীরের মধ্যে । ত্রিষপ্তাঃ= তিনটি বা সাতটি । তিনটি হল মূল প্রকৃতির তিনটি অবয়ব, সত্ত্ব, রজস্ ও তমস্ । সপ্ত হল প্রকৃতি-বিকৃতি উভয় রূপ, মহত্তত্ত্ব, অহংকার ও পঞ্চতন্মাত্রা। ত্রিষপ্তাঃ= অন্যপদার্থে বহুব্রীহৌ ডচ্ সমাসান্তঃ (সায়ণ)। অন্য পদার্থ হল বিকল্প “ত্রয়ো বা সপ্ত বা” ইত্যেবং রূপঃ।] [১. অদ্যপ্রভৃতি, আজ থেকে, যেহেতু আমি যুবাবস্থার হয়ে গিয়েছি এবং ত্রিষপ্ত তত্ত্বের জ্ঞান গ্রহণের যোগ্য হয়ে গেছি।]

No comments:
Post a Comment
ধন্যবাদ