যজুর্বেদ ৩১/৭ - ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান, ধর্ম গ্রন্থ কি , হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়, ইসলাম খ্রীষ্ট মত বিষয়ে তত্ত্ব ও সনাতন ধর্ম নিয়ে আলোচনা

धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते-Theology

সাম্প্রতিক প্রবন্ধ

Post Top Ad

স্বাগতম

14 July, 2022

যজুর্বেদ ৩১/৭

 তস্মাদ্যজ্ঞাৎ সূর্বহুত ঋচঃ সামানিজজ্ঞিরে।

ছন্দাংসি জজ্ঞিরে তস্মাদ্যজু স্তস্মাদজায়ত।। যজুর্বেদ ৩১/৭

#পদার্থ- (তস্মাৎ) সেই ( যজ্ঞাৎ) ঈশ্বর হইতে,[ য়জ্ঞো বৈ বিষ্ণুঃ শ০ ব্রা০-১/১/২/১৩] য়জ্ঞঃ বিষ্ণু,ব্যাপক ঈশ্বর হইতে ( সর্বহুতঃ) সর্ব পূজিত ( ঋচঃ) ঋগ্বেদ ( সাসানি) সামবেদ ( জজ্ঞিরে) উৎপন্ন হয় ( ছন্দাংসি) অর্থবেদ ( জজ্ঞিরে) উৎপন্ন হয় ( তস্মাৎ) তাহা হইতে ( যজুঃ) যজুর্বেদ ( তস্মাৎ) তাহা হইতে ( অজায়ত) উৎপন্ন হয়।

#টীকা-
ছন্দ=গোপথ ব্রাহ্মণের পূর্বভাগ ১/২৯ এ বলা হয়েছে-"অথর্বণা চন্দ্রমা দৈবতং তদেব জ্যোতিঃ সর্বাণি ছন্দাংসি আপস্থানম্" অর্থাৎ অর্থব্বেদের চন্দ্রমা দেবতা, তিনি জ্যোতি,সমস্ত প্রকারের ছন্দ এবং জলের স্থান। এখানে সমস্ত প্রকারের ছন্দ স্পষ্ট করে দেয় যে,অথর্ব্বেদ ছন্দময়। অথর্ব্বেদের ভাষ্যকার ক্ষেমকরণদাস ত্রিবেদী তাঁর অথর্ব্বেদভাষ্যভূমিকা'য় বলছেন-অথর্ব্বেদের আরেক নাম "ছন্দ" এর অর্থ আনন্দদায়ক,অর্থাৎ তাহার মধ্যে আনন্দদায়ক পদার্থের বর্ণনা রয়েছে। চান্দেরাদেশ্চ ছঃ [ উঃ ৪/১৯]। ইতি চদু আহ্লাদে-আসুন, চস্য ছঃ। চন্দয়তি আহ্লাদয়তীতে ছন্দঃ]। পাণিনীর অষ্টাধ্যায়ীর অনেক মূত্রে "ছন্দ" কে বেদের অর্থে গ্রহণ করা হয়েছে,যথাঃ "ছন্দাংসি লুঙলঙলিট" [ পা০ ৩/৪/৬] অর্থাৎ বেদে ধাতু সম্বধীয় অর্থে ধাতুর সাথে লুঙ, লঙ লিট প্রত্যয় হয়। অনেকে বলে যে, পাণিনি মুনির অথর্ব্বেদের জ্ঞান চিলো না এজন্য অথর্ব্বেদ অর্বাচীন। এটাও তাদের ভ্রম, কেননা যেই প্রকার শাকলাদি শাখার নামে ঋগ্বেদ প্রসিদ্ধ সেই প্রকার শৌকনাদি সংহিতার নামে অথর্ব্বেদ প্রসিদ্ধ। পাণিনি মুনি "শাকলাব্ধ" [ পা০ ৪/৩/১২৮] এবং "শৌনকাদিভ্যচ্ছন্দসি" [ পা০ ৪/৩/১০৬] এই দুই সূত্রে ঋগ্বেদ এবং অথর্ব্বেদের দুটি শাখার উল্লেখ করেছেন। এ থেকে স্পষ্ট যে পাণিনি মুনির অথর্ব্বেদের জ্ঞান ছিলো।।

#বঙ্গানুবাদ-সেই সর্বপূজ্য পরমাত্মা হইতে ঋগ্বেদ,সামবেদ,অথর্ব্বেদ ও যজুর্বেদ উৎপন্ন হইয়াছে। সমগ্র বেদ মধ্যে মহান ঈশ্বরের মহিমার পরম প্রকাশ।

#ভাবার্থ-যাহা হইতে চারিবেদ উৎপন্ হইয়াছে তিনিই উপাস্য। প্রতি সৃষ্টির প্ররম্ভে মানব জাতির শৈশবাবস্থায় পরমাত্মা উপদেষ্টা ও রক্ষকরূপে পূর্ব জন্মের সুকৃতি সম্পন্ন ঋষিদের স্বচ্ছ হৃদয়ে বেদ বাণী প্রেরণা দান করেন। ইহাই নৈমিত্তিক জ্ঞান। ইহার গবেষণাতেই মানবের শিক্ষা সভ্যতার জন্ম হয়। শুধু সহজাত জ্ঞান দ্বারা মানবের সভ্যতার বিকাশ হইতে পারে না। তাই অপৌরুষেয় জ্ঞান বা ঈশ্বর প্রদত্ত বেদ বাণীর প্রয়োজন হয়।।

No comments:

Post a Comment

ধন্যবাদ

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

গীতা সারাংশ

  বেদ বিহিত কর্মই ধর্ম। স্থিতপ্রজ্ঞ ধর্মানুরূপ কর্ম কর।  কর্মে তুমি স্বতন্ত্র ফল ভোগে অর্থাৎ ঐশ্বরিক বিধানে পরতন্ত্র॥ সর্বব্যাপক ন্যায়কারী প...

Post Top Ad

ধন্যবাদ