সেনেব সৃষ্টামম্ দধাত্যস্তুর্ন দিদ্যুত্ত্বেষপ্রতীকা।
सेने॑व सृ॒ष्टामं॑ दधा॒त्यस्तु॒र्न दि॒द्युत्त्वे॒षप्र॑तीका ॥
য়মো হ জাতো য়মো জনিত্বম্ জারঃ কনীনাম্ পতির্জনীনাম্।।य॒मो ह॑ जा॒तो य॒मो जनि॑त्वं जा॒रः क॒नीनां॒ पति॒र्जनी॑नाम् ॥ (ঋগ্বেদ ১/৬৬/৭-৮)
সন্ধিবিচ্ছেদসহ অন্বয়ঃ
হে মনুষ্যা! ইউয়ং যঃ অয়ং সেনেশঃ {যমঃ} {হ} জাতঃ যমঃ জনিত্বং কনীনাং জার ইব জনীনাং পতিঃ চ অস্তি, স সৃষ্টা {অমম্} সেনেব {সুশিক্ষিতা} অস্তু ঃ ত্বেষপ্রতীকা দিদ্যুত্ ন ইব আ দধাতি তং ভজত ॥৪॥
পদার্থ (কৃষ্ণকান্ত বৈদিক শাস্ত্রী)
হে (মনুষ্যাঃ)= মনুষ্যগণ! (ইউয়ম্)= তোমরা সকলেই, (যঃ)= যে, (অয়ম্)= এই, (সেনেশঃ)= সেনাপতিকে, {যমঃ} সর্বোপরতঃ= সর্বোচ্চ স্থান থেকে, {হ} কিল= নিশ্চয়ই, (জাতঃ) প্রকাশত্বং গতঃ= প্রকাশিত হওয়ার জন্য, (যমঃ) নিয়ন্তা= নিয়ন্ত্রণকারী, (জনিত্বম্) জন্মাদিকারণম্= জন্মাদি কারণ, (কনীনাম্) কন্যার ন্যায় বর্তমান রাত্রিসমূহ বা সূর্য্যাদি সমূহের, (জারঃ) হন্তা সূর্য্যঃ= বিনাশকারী সূর্যের, (ইব)= ন্যায়, (জনীনাম্) জনানাং প্রজানাম্= প্রজাগণের, (পতিঃ) পালয়িতা= রক্ষক, (চ)= এবং, (অস্তি)= আছেন, (সঃ)= তিনি, (সৃষ্টা) যুদ্ধায় প্রেরিতা= যুদ্ধে প্রেরণা দানকারী, {অমম্} অপরিপক্ববিজ্ঞানং জনম্= বিকাশোন্মুখ বিশেষ জ্ঞান উৎপন্নকারী, (সেনেব) যথা= যেমন, {সুশিক্ষিতা} বীরপুরুষাণাং বিজয়কর্ত্রী সেনা অস্তি তথাভূতঃ= বীরপুরুষদের বিজয়দানকারী শিক্ষিত সেনার ন্যায়, (অস্তুঃ) শত্রূণাং বিজেতুঃ প্রক্ষেপ্তুঃ= শত্রুগণের উপর বিজয়লাভের জন্য নিক্ষেপকারী, (ত্বেষপ্রতীকা)= তেজের প্রতীক, (দিদ্যুত্) বিচ্ছেদিকা= ছিন্নকারী, (ন) ইব= ন্যায়, (আ)= সর্বদিক থেকে, (দধাতি) ধরতি= ধারণ করেন, (তম্)= তাঁকে, (ভজত)= সেবা করো ॥৪॥
মহর্ষিকৃত ভাবার্থের ভাষানুবাদ
এই মন্ত্রে উপমালংকার রয়েছে। বিদ্যার যথাযথ প্রয়াস দ্বারা যেমন উত্তম শিক্ষা প্রাপ্ত সেনা শত্রুদের জয় করে বিজয়লাভ করে এবং যেমন ধনুর্বেদের জ্ঞানসম্পন্ন বিশেষজ্ঞগণ শত্রুদের উপর শস্ত্র-অস্ত্র নিক্ষেপ করে তাদের বিঘ্নিত করে দেয়, তদ্রূপ উত্তম সেনাপতি সকল দুঃখের নাশ করেন—এ কথা মনুষ্যগণের জানা উচিত ॥৪॥
.
এই ঋচার ঋষি হল পরাশর। এর অর্থ হল এই ছন্দ রশ্মির উৎপত্তি হিংসক পদার্থের নাশক বজ্র রশ্মি থেকে হয়েছে। এর দেবতা অগ্নি তথা ছন্দ বিরাট্ পঙক্তি হওয়াতে এর দৈবত ও ছান্দস প্রভাবে বিভিন্ন রূপ যুক্ত নীলবর্ণের উৎপত্তি ও সমৃদ্ধি হয়।
.
আধিদৈবিক ভাষ্য - [অগ্নিব্রত নৈষ্ঠিক]
.
অগ্নির তীক্ষ্ম কিরণের সেনা অর্থাৎ সমান গতি আর বল দ্বারা গমনকারী তীক্ষ্ম কিরণ উৎপন্ন হওয়া মাত্রই বাধক এবং হিংসক পদার্থের মধ্যে তীব্র কম্পন করাতে থাকে। সেইসব তীব্র কিরণ সংযোগযোগ্য কণাকে য়জন কর্ম করার জন্য উপযুক্ত বলও প্রদান করে। সেইসব কিরণ প্রক্ষেপক বল [বিদ্যুৎ = বিচ্ছেদিকা (মহর্ষি দয়ানন্দ ভাষ্য)] যুক্ত পদার্থের সমান বিভিন্ন কণাকে বিখণ্ডনকারী হয়। সেগুলো দীপ্তি দেখাতে, কম্পন করাতে, বলকে উৎপন্ন করতে, তেজকে উৎপন্ন করতে, ব্যাপক রূপে দৃশ্যমান আর সবকিছুকে প্রকাশিত করে। এইসব গুণ তীব্র ঊর্জা যুক্ত তরঙ্গের বলা হয়েছে।
.
(য়মঃ, হ, জাতঃ, য়মঃ, জনিত্বম্, জারঃ, কনীনাম্, পতিঃ, জনীনাম্) "য়ম ইব জাতঃ য়মো জনিষ্যমাণঃ জারঃ কনীনাম্ জরয়িতা কন্যানাম্ পতির্জনীনাম্ পালয়িতা জায়ানাম্ তৎপ্রধানা হি য়জ্ঞসম্য়োগেন ভবন্তি" সবার নিয়ন্ত্রক সেই অগ্নি নিশ্চিত রূপে বায়ুতত্ত্ব থেকে উৎপন্ন হয়। এর উৎপত্তি পূর্ব খণ্ডের মধ্যে বর্ণিত ইন্দ্র রূপ য়মের সমানই হয় অথবা য়মরূপ বায়ু থেকেই এর উৎপত্তি হয়। সৃষ্টির সব কণা আদি পদার্থ য়মরূপ অগ্নি থেকেই উৎপন্ন হয় আর নিরন্তর এইভাবে উৎপন্ন হতে থাকবে। এই অগ্নিতত্ত্ব কন্যা অর্থাৎ আকর্ষণ আর দীপ্তিযুক্ত তরঙ্গ, যার বিষয়ে নিরুক্ত খণ্ড ৪.১৫ পঠনীয়, তাকে জীর্ণ করে। এখানে আকর্ষণ এবং দীপ্তিযুক্ত কিরণের তাৎপর্য হল সেই সূক্ষ্ম কণা, যেগুলো কণার সঙ্গে তরঙ্গ রূপ ব্যবহারও করে। এইরকম কণাকে বর্তমান ভৌতিকীতে মূল কণা বলা হয়। অগ্নি কিভাবে এগুলোকে জীর্ণ করে, এই প্রশ্ন গম্ভীর্তাপূর্ণ বিচারণীয়।
.
এখানে জীর্ণের অর্থ পুরোনো মানা উচিত নয়, বরং এর অর্থ দীপ্তিযুক্ত মানা উচিত। এই পদ "জৄ বয়োহানৌ" ধাতু দ্বারা ব্যুৎপন্ন হয়েছে। মন্ত্রের মধ্যে "জারঃ" পদ আছে, সেটাও এই ধাতু দিয়ে ব্যুৎপন্ন হয়েছে। এই পদের অর্থ করতে "জীর্ণঃ" পদ ব্যবহৃত হয়েছে। গ্রন্থকার এই ধাতুকে স্তুতিকর্মা বলেছেন। (দেখুন - খণ্ড ১০.৮) এই কারণে জারঃ পদের অর্থ প্রকাশক হবে, কোনো পদার্থের আয়ুকে হ্রাসকারী হবে না। এটা সর্ববিদিত যে অগ্নিই সব পদার্থের প্রকাশক হয়, এইজন্য একে এখানে কমনীয় তরঙ্গের প্রকাশক বলা হয়েছে। এই সৃষ্টির মধ্যে যেসব পদার্থ প্রকাশযুক্ত হয়, অগ্নিই হল তার কারণ। একে জনী অর্থাৎ উৎপন্ন পদার্থের পতিও বলা হয়েছে। এর কারণ হল পৃথিবী এবং আপঃ আদি পদার্থের পালক এবং রক্ষকই হল অগ্নি।
.
একথা সাধারণ যে বিনা অগ্নি অর্থাৎ ঊর্জা ছাড়া বর্তমান ভৌতিকীর মধ্যে তথাকথিত যেকোনো দ্রব্য পদার্থের অস্তিত্ব সম্ভব নয়। ঊর্জা থেকেই এইসব পদার্থের উৎপত্তি হয় আর এর কারণেই যেকোনো কণা আদি পদার্থের অস্তিত্বের রক্ষাও হয়। এখানে গ্রন্থকার "জনী"-র অর্থ "জায়া" করেছেন। এর অর্থ হল অগ্নি আপঃ এবং পৃথিব্যাদি কণার সাপেক্ষ পুরুষরূপ ব্যবহার করে, এই কারণে সেটা স্ত্রীরূপ আপঃ এবং পৃথিব্যাদি কণার পালক আর সংরক্ষক হয়। এর কারণ হল অগ্নি ছাড়া এই দুই পদার্থের না কেবল অস্তিত্ব অসম্ভব হবে, বরং সেগুলো থেকে যেকোনো প্রকারের পদার্থের উৎপত্তিও অসম্ভব হবে।
.
এখানে "তৎপ্রধানা হি য়জ্ঞসম্য়োগেন ভবন্তি" কথনের তাৎপর্য হল স্ত্রীরূপ কণা আদি পদার্থ য়জন কর্মের দ্বারাই অগ্নি প্রধান হয়। আমার মতে এখানে গ্রন্থকারের অভিপ্রায় হল স্ত্রী সংজ্ঞক পদার্থ যখন য়জনশীল হয়, সেই সময় সেগুলো বিশেষ ঊর্জাযুক্ত হয় অর্থাৎ দুটো কণার সংযোগের সময় অকস্মাৎ সেই কণাগুলোর ঊর্জা বা গতি বিশেষ ভাবে বেড়ে যায়, এখানে একেই স্ত্রীরূপ কণার অগ্নি প্রধান হওয়া বলা হয়েছে।
.
এখানে আমি (অগ্নিব্রত নৈষ্ঠিক) ঋষি দয়ানন্দের আধিভৌতিক ভাষ্যই উদ্ধৃত করবো, সেটা হল এইরকম -
পদার্থ - (সেনেব) য়থা সুশিক্ষিতা বীরপুরুষাণাম্ বিজয়কর্ত্রী সেনাস্তি তথাভূতঃ (সৃষ্টা) য়ুদ্ধায় প্রেরিতা (অমম্) অপরিপক্ববিজ্ঞানম্ জনম্ (দধাতি) ধরতি (অস্তুঃ) শত্রূণাম্ বিজেতুঃ প্রক্ষেপ্তঃ (ন) ইব (দিদ্যুত্) বিচ্ছেদিকা (য়মঃ) নিয়ন্তা (হ) কিল (জাতঃ) প্রকটত্বম্ গতঃ (য়মঃ) সর্বোপরতঃ (জনিত্বম্) জন্মাদিকারণম্ (জারঃ) হন্তা সূর্য়্যঃ (কনীনাম্) কন্যেব বর্ত্তমানানাম্ রাত্রীণাম্ সূর্য়্যাদীনাম্ বা (পতিঃ) পালয়িতা (জনীনাম্) জনানাম্ প্রজানাম্।
.
ভাবার্থঃ - অত্রোপমালঙ্কারঃ। মনুষ্যৈর্বিদ্যয়া সম্যক্ প্রয়ত্নেন য়থা সুশিক্ষিতা সেনা শত্রূন্ বিজিত্য বিজয়ম্ করোতি। য়থা চ ধনুর্বেদবিদঃ শত্রূণামুপরি শস্ত্রাস্ত্রাণি প্রক্ষিপ্যৈতান্বিচ্ছিদ্য প্রলয়ম্ গময়ন্তি তথৈবোত্তমঃ সেনাऽধিপতিঃ সর্বদুঃখানি নাশয়তীতি বোদ্ধব্যম্।
.
পদার্থ - হে মানব! তোমরা যে সেনাপতি (য়মঃ) নিয়ম কর্তা (জাতঃ) প্রকট (য়মঃ) সর্বথা নিয়মকর্তা (জনিত্বম্) জন্মাদি কারণযুক্ত (কনীনাম্) কন্যাবৎ বর্তমান রাত্রির (জারঃ) আয়ুর হননকর্তা সূর্যের সমান (জনীনাম্) উৎপন্ন হওয়া প্রজার (পতিঃ) পালনকর্তা (সৃষ্টা) প্রেরিত (সেনেব) শুভ শিক্ষাপ্রাপ্ত হওয়া বীর পুরুষের বিজয়কারী সেনার সমান (অস্তুঃ) শত্রুর উপর অস্ত্র-শস্ত্র প্রহারকারী (ত্বেষপ্রতীকা) দীপ্তির প্রতীতিকারী (দিদ্যুন্ন) বিদ্যুতের সমান (অমম্) অপরিপক্ব বিজ্ঞানযুক্ত জনকে (দধাতি) ধারণ করে, তার সেবন করো।
.
ভাবার্থ - এই মন্ত্রের মধ্যে উপমালঙ্কার আছে। মানুষের উচিত বিদ্যার মাধ্যমে ভালো ভাবে চেষ্টার দ্বারা যেভাবে উত্তম শিক্ষার দ্বারা সিদ্ধ করা সেনা শত্রুকে জিতে বিজয় করে, যেমন ধনুর্বেদের জ্ঞাতা বিদ্বানগণ শত্রুর উপর অস্ত্র-শস্ত্র প্রহার করে তাদের ছেদন করে তাড়িয়ে দেয়, সেইরূপ উত্তম সেনাপতি সব দুঃখের নাশ করেন, এটা তোমরা জেনে রাখবে।
.
আধ্যাত্মিক ভাষ্য - (সৃষ্টা, ত্বেষপ্রতীকা, সেনা, ইব) [ত্বেষপ্রতীকা = ভয়প্রতীকা বলপ্রতীকা য়শঃপ্রতীকা মহাপ্রতীকা দীপ্তপ্রতীকা (নিরুক্ত ১০.২১)] কুশলতা-পূর্বক সুসজ্জিত বল, ভয় আর তেজস্বিতার প্রতীক সেনার সমান (য়মঃ, হ, জাতঃ) জিতেন্দ্রিয়তা আদি গুণ দ্বারা প্রসিদ্ধ বিদ্বান (অমম্, দধাতি) [অমঃ = গৃহম্ (মহর্ষি দয়ানন্দ ঋগ্বেদ ভাষ্য ৫.৫৬.৩), অমম্ ভয়ম্ বলম্ বা (নিরুক্ত ১০.২১), অমা গৃহনাম (নিঘন্টু ৩.৪)] সবার আশ্রয়দাতা এবং সমস্ত বলের দাতা পরমাত্মাকে ধারণ করেন। (অস্তুঃ, ন, দিদ্যুত্) [অস্তুঃ = শত্রুনাম বিজেতুঃ প্রক্ষেপ্তুঃ (ঋষি দয়ানন্দ ভাষ্য)] সেই য়োগনিষ্ঠ বিদ্বান শত্রুর উপর বিজয়প্রাপ্ত করা সেনার সমান নিজের সব দোষকে কেটে ফেলেন। (য়মঃ, জনিত্বম্, জারঃ) সেই নিয়তাত্মা য়োগী নিজের জন্ম-মরণের কারণরূপ অবিবেককে নিজ সাধনার দ্বারা নিরন্তর জীর্ণ করতে থাকেন। (কনীনাম্, জনীনাম্, পতিঃ) [কনীনঃ = কনী দীপ্তিকান্তিগতিষু (ভ্বা.) ধাতোর্বাহু. ঈনপ্রত্যয়ঃ (বৈদিক-কোষ)] সেই য়োগী ব্রহ্মতেজ পান করে মানবমাত্রকে নিজের সদুপদেশের দ্বারা সংরক্ষণ করেন। (অগ্নিব্রত নৈষ্ঠিক)
ভাবার্থ - যেভাবে শত্রুকে নিজ বল আর তেজস্বিতার দ্বারা আতঙ্কিত করে এমন সেনা শত্রুকে দূরে তাড়িয়ে দেয়, সেইরূপ য়োগনিষ্ঠ বিদ্বান নিজের সব দোষ আর পূর্বজন্মের সংস্কারকে দগ্ধবীজ করতে সক্ষম হন। এইরূপ সক্ষম সেই য়োগী পরব্রহ্ম পরমাত্মার জ্ঞান আর আনন্দকে ধারণ করে পরমলোককে প্রাপ্ত করেন। এমন য়োগী পুরুষ নিজ সদুপদেশের দ্বারা নিরন্তর সকল প্রাণীর উপকারেও সংলগ্ন থাকেন। পরোপকার বিনা কোনো ব্যক্তিই য়োগী হতে পারবেন না। যারা সমাজ থেকে দান বা ভিক্ষা আদি প্রাপ্ত করে নিজের জীবনযাপন করেন, তারা সমাজের ঋণী হন আর সেই ঋণকে শোধ না করে যদি কেউ কেবল আত্মকল্যাণ হেতু সর্বদা য়োগসাধনাই করতে থাকেন, তার য়োগ কখনও সিদ্ধ হবে না। এইজন্য মুমুক্ষুজনদের উচিত সমাজের ঋণ থেকে উঋণ হওয়ার জন্য তারা নিরন্তর নিজের সদুপদেশের দ্বারা প্রাণীমাত্রের কল্যাণ করার চেষ্টা করতে থাকবেন।
No comments:
Post a Comment
ধন্যবাদ