অথর্ববেদ ৫/২১/৩ - ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান, ধর্ম গ্রন্থ কি , হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়, ইসলাম খ্রীষ্ট মত বিষয়ে তত্ত্ব ও সনাতন ধর্ম নিয়ে আলোচনা

धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते-Theology

সাম্প্রতিক প্রবন্ধ

Post Top Ad

স্বাগতম

18 February, 2026

অথর্ববেদ ৫/২১/৩

বানস্পত্যঃ সম্ভৃত উস্রিয়াভির্বিশ্বগোত্র্যঃ।

প্রত্রাসমমিত্রেভ্যো বদাজ্যেনাভিঘারিতঃ।। (অথর্ববেদ ৫.২১.৩)

পদার্থঃ [হে দুন্দুভি !] (বানস্পত্যঃ) সেবনীয়দের পালক [সেনাপতি] দ্বারা প্রাপ্ত, (উস্রিয়াভিঃ) বসতির রক্ষক সেনাদের দ্বারা (সংভৃতঃ) যথাবৎ রক্ষিত, (বিশ্বগোত্র্যঃ) সমস্ত কুলের হিতকারক তুমি (অমিত্রেভ্যঃ) শত্রুদের (প্রত্রাসম্) অতি ভয় (বদ) বলে দাও, [যেমন] (আজ্যেন) ঘৃত দ্বারা (অভিধারিতঃ) সীঞ্চিত হয়ে [অগ্নি প্রকাশিত হয়] ॥ (ক্ষেমকরণ জী কৃত পদার্থঃ ভাষ্য)

টিপ্পণীঃ বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
[বানস্পত্যঃ (২০।১)। অভিঘারিতঃ= ঘৃ সচবনে।(ভ্বাদিঃ)] [১. বিশ্বগোত্র্যঃ= বিশ্ব-গোত্র্যঃ (পৃথিবীর রক্ষক রাজাদের সম্বন্ধী) সকল মিত্র অর্থাৎ পৃথিবী পতিদের সাথে সম্বন্ধযুক্ত, সকল মিত্র রাজাদের প্রতিনিধিরূপ। বিশ্ব- গো (পূথিবী)-ত্রৈঙ্ (পালন)। ২. আজ্যেন –রক্তাজ্য। যুদ্ধে দুন্দুভি যায়, যুদ্ধে সৈনিকদের রক্ত দ্বারা দুন্দুভিও রক্তলিপ্ত হয়ে যায়।]

এই মন্ত্রের ঋষি হল ব্রহ্মা। [ব্রহ্মা = ইন্দ্র এব ব্রহ্মাऽऽসীৎ (জৈমিনীয় ব্রাহ্মণ ৩.৩৭৪), ঐন্দ্রো বৈ ব্রহ্মা (তৈত্তিরীয় সংহিতা ৭.১.৭.৫)] এর অর্থ হল এই ছন্দ রশ্মির উৎপত্তি তীক্ষ্ম বিদ্যুৎ তরঙ্গ দ্বারা উৎপন্ন হওয়া রশ্মি থেকে হয়। এর দেবতা হল দুন্দুভি। দুন্দুভির বিষয়ে মহর্ষি য়াস্ক বলেছেন -

দুন্দুভিঃ ইতি শব্দানুকরণম্।
দ্রুমো ভিন্ন ইতি বা, দুন্দুভ্যতের্বা স্যাচ্ছব্দ কর্মণঃ (নিরুক্ত ৯.১২)
.
এর অর্থ হল সংযোজক গুণ যুক্ত একটা বিশেষ প্রকারের ঊর্জাকে দুন্দুভি বলে। এর বিষয়ে সবিস্তারে জানতে হলে আমার গ্রন্থ "বেদার্থ-বিজ্ঞানম্" পঠনীয়। এর ছন্দ অনুষ্টুপ্ হওয়াতে সংযোজক ঊর্জা অনুকূলতাপূর্বক বিভিন্ন কণার পরস্পর সংযুক্ত হওয়াতে সহায়ক হয়। এর ছান্দস ও দৈবত প্রভাবে ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের রং-বেরংয়ের প্রকাশের উৎপত্তি বা সমৃদ্ধি হতে থাকে। এই মন্ত্রের ভাষ্য এইরকম হবে -

আধিদৈবিক ভাষ্য - (আচার্য অগ্নিব্রত নৈষ্ঠিক)
(বানস্পত্যঃ) [বনস্পতিঃ = অগ্নির্বৈ বনস্পতিঃ (কৌষীতকি ব্রাহ্মণ ১০.৬), প্রাণো বনস্পতিঃ (কৌষীতকি ব্রাহ্মণ ১২.৭), প্রাণো বৈ বনস্পতিঃ (ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ২.৪), সোমো বৈ বনস্পতিঃ (মৈত্রায়ণী সংহিতা ১.১০, শতপথ ব্রাহ্মণ ৩.৮.৩.৩৩)] অগ্নি এবং বায়ু থেকে উৎপন্ন দুন্দুভি সংজ্ঞক উপরোক্ত ঊর্জা (উস্রিয়াভিঃ) [উস্রিয়া = উস্রিয়া ইতি গোনাম (নিঘন্টু ২.১১)] বিভিন্ন প্রকারের রশ্মির দ্বারা (সম্ভৃতঃ) সঠিকভাবে ধারণ এবং পুষ্ট হওয়া (বিশ্বগোত্র্যঃ) [গোত্রঃ = মেঘনাথ (নিঘন্টু ১.১০)] সম্পূর্ণ খগোলীয় মেঘের মধ্যে বিদ্যমান (অমিত্রেভ্যঃ) শত্রুরূপী বাধক অথবা অসংযোজক পদার্থের দিকে (প্রত্রাসম্, বদ) [বদ = বদতি গতিকর্মা (নিঘন্টু ২.১৪)] তীব্র ভেদক তরঙ্গকে প্রক্ষিপ্ত করে। (আজ্যেন, অভিঘারিতঃ) [আজ্যম্ = প্রাণো বা আজ্যম্ (তৈত্তিরীয় সংহিতা ৩.৮.১৫.২৩), ছন্দাম্সি বা আজ্যম্ (তৈত্তিরীয় সংহিতা ৩.১.৫.৩)] এই উর্জা বিভিন্ন প্রাণ আর ছন্দ রশ্মির দ্বারা অভিসিঞ্চিত হয়।
.
ভাবার্থ - খগোলীয় মেঘের ভিতরে বিভিন্ন প্রাণ আর ছন্দ রশ্মি থেকে উৎপন্ন তীক্ষ্ম বিদ্যুৎ তরঙ্গ বিভিন্ন প্রকারের ছেদন, ভেদন আর সংযোজন ক্রিয়াগুলোকে সম্পন্ন করে, যারদ্বারা হানিকারক পদার্থ ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে দূরে সরে যায় আর সংযোগযোগ্য পদার্থ নির্বাধ রূপে সংযুক্ত হতে থাকে।
.
আধিভৌতিক ভাষ্য - (আচার্য অগ্নিব্রত নৈষ্ঠিক)
(বানস্পত্যঃ) [বনম্ = রশ্মিনাম (নিঘন্টু ১.৫)। এই পদ "বন শব্দে", "বন সম্ভক্তৌ" এবং "বনু য়াচনে" ধাতু দ্বারা ব্যুৎপন্ন হয়েছে। বনস্পতিরেব বানস্পত্যঃ] রাষ্ট্রের মধ্যে প্রজা দ্বারা বাঞ্ছিত অন্ন-ধনাদি পদার্থের উপযুক্ত বিতরণকারী, বিদ্যার প্রকাশ দ্বারা প্রকাশিত সত্যোপদেষ্টা রাজা (বিশ্বগোত্র্যঃ) রাষ্ট্রের প্রজার সকল কূলের মধ্যে নিজের হিতকারী কর্মের দ্বারা সর্বদা বিদ্যমান অর্থাৎ সমস্ত প্রজার হিতচিন্তক (উস্রিয়াভিঃ, সম্ভৃতঃ) গৌ আদি উপকারী পশুর দ্বারা তথা বিভিন্ন প্রকারের নিরাপদ কিরণ বা ঊর্জার দ্বারা রাষ্ট্রকে সম্যক রূপে ধারণকারী (অমিত্রেভ্যঃ, প্রত্রাসম্, বদ) রাষ্ট্রবিরোধী তত্ত্ব আর সমাজ বিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর দণ্ডের আদেশ দিবেন। (আজ্যেন, অভিঘারিতঃ) যেরকম ঘৃত দ্বারা সিঞ্চিত সমিধা জ্বলে নষ্ট হয়ে যায়, ঠিক সেইভাবে তেজস্বী রাজা হিংসক আর ক্রূর অপরাধীদের নষ্ট করে দিবেন।

ভাবার্থ - বেদবিদ্যার মহান জ্ঞাতা রাজা তাঁর প্রজার জন্য অন্ন-ধন আদি পদার্থের ন্যায়সঙ্গত বিতরণের ব্যবস্থা করবেন। সুখের ইচ্ছুক যেকোনো রাষ্ট্র গৌ আদি উপকারী পশুকে নিজের আর্থিক আধার বানিয়ে রাখবে আর একইভাবে সবথেকে নিরাপদ আর শুদ্ধ পেশীয় ঊর্জার ব্যবহার করবে। এর অতিরিক্ত সেই ঊর্জারই ব্যবহার করবে, যেটা সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ হবে। রাজা তাঁর প্রজার জন্য মাতা-পিতার সমান হিতকারী হওয়া উচিত, প্রজার জন্য যেটা ভয়ের কারণ হবে, তাকে নষ্ট করে দিবেন। সেই রাজা পরিবেশ শোধনার্থ গোঘৃত আদি উত্তম পদার্থ দিয়ে যজ্ঞ করবেন আর করাবেন এবং যেভাবে ঘৃতের আহুতির দ্বারা অগ্নি তেজস্বী হতে থাকে, সেইভাবে রাজাও ব্রহ্মচর্যাদি ব্রত আর য়োগাভ্যাস আদির দ্বারা তেজযুক্ত হবেন।

আধ্যাত্মিক ভাষ্য - (আচার্য অগ্নিব্রত নৈষ্ঠিক)
(বানস্পত্যঃ) প্রাণবিদ্যার জ্ঞাতা আর প্রাণকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম য়োগাভ্যাসী ((উস্রিয়াভিঃ, সম্ভৃতঃ) বেদের ঋচার দ্বারা স্বয়ংকে সম্যক রূপে পুষ্ট করেন আর তিনি নিরন্তর বেদের ঋচার মধ্যেই স্থির থাকেন। (বিশ্বগোত্র্যঃ) তিনি কোনো কূল বা বংশ বিশেষের না হয়ে প্রাণীমাত্রের হিতের মধ্যেই লেগে থাকেন। (অমিত্রেভ্যঃ, প্রত্রাসম্, বদ) সেই য়োগী য়োগসাধনার মধ্যে বাধক চিত্ত বৃত্তিকে নিজের অন্তশ্চেতনা দ্বারা প্রতিবন্ধিত করার আদেশ দেন অর্থাৎ মনের মধ্যে চলে আসা বিকারকে বলপূর্বক প্রতিবন্ধিত করার চেষ্টা করেন। (আজ্যেন, অভিঘারিতঃ) [আজ্যম্ = প্রাণো বা আজ্যম্ (তৈত্তিরীয় সংহিতা ৩.৮.১৫.২৩), য়জ্ঞো বা আজ্যম্ (তৈত্তিরীয় সংহিতা ৩.৩.৪.১)] এমন য়োগী নিজ প্রাণায়ামাদি তপের দ্বারা প্রাণ বলকে বাড়িয়ে পরব্রহ্ম পরমাত্মার সঙ্গে সঙ্গত হওয়ার চেষ্টা করার পাশাপাশি পরহিতের ভাবনায় স্বয়ংকে নিরন্তর সিঞ্চিত করেন অথবা তিনি যজ্ঞস্বরূপ পরব্রহ্ম পরমাত্মার প্রতি প্রীতি ভাবনায় স্বয়ংকে নিরন্তর সিঞ্চিত করতে থাকেন।

ভাবার্থ - প্রাণকে বশীভূত করেছেন এমন য়োগী সর্বদা বেদের ঋচার মধ্যে রমণ করেন। তিনি প্রাণীমাত্রের আত্মার মধ্যে নিরন্তর ঈশ্বরের বাস অনুভব করার সঙ্গে-সঙ্গে সর্বদা তাদের হিতচিন্তন করেন। তাঁর মনের মধ্যে যখনই কোনো বিকার উৎপন্ন হতে থাকে, তখনই তিনি নিজের মনকে আদেশ দিয়ে মন্দ বিচারকে বাইরে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। য়োগী ব্যক্তির আত্মবল খুব প্রবল হয়, কারণ তিনি সর্বদাই স্বয়ংকে ঈশ্বরাধীন অনুভব করেন।

No comments:

Post a Comment

ধন্যবাদ

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

অথর্ববেদ ৪/৩১/৭

সম্সৃষ্টম্ ধন॑মু॒ভয়ং॑ স॒মাকৃ॑তম॒স্মভ্যং॑ ধত্তাং॒ বরু॑ণশ্চ ম॒ন্যুঃ।  ভিয়ো॒ দধা॑না॒ হৃদ॑য়েষু॒ শত্র॑বঃ॒ পরা॑জিতাসো॒ অপ॒ নি ল॑য়ন্তাম্ ॥  (অথ...

Post Top Ad

ধন্যবাদ