অভেদ্য বেদ - ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান, ধর্ম গ্রন্থ কি , হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়, ইসলাম খ্রীষ্ট মত বিষয়ে তত্ত্ব ও সনাতন ধর্ম নিয়ে আলোচনা

धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते-Theology

সাম্প্রতিক প্রবন্ধ

Post Top Ad

স্বাগতম

15 January, 2026

অভেদ্য বেদ

অভেদ্য বেদ

ভূমিকা

সকল বেদানুরাগী মহানুভব! আপনারা জানেন যে আমি গত শ্রাবণী পর্ব বিক্রম সম্বত্ ২০৮০ তদনুসারে ৩০ জুলাই ২০২৩ সালে সব বেদ বিরোধীদের আহ্বান করেছিলাম যে তারা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ সাল পর্যন্ত বেদাদি শাস্ত্রের উপরে যেকোনো আক্ষেপ করতে চাইলে, করতে পারবে। আমি এই ঘোষণার যথোচিত প্রচার করেছি আর অন্যদের দিয়েও করিয়েছি। এর উপর আমি সর্বমোট ১৩৪ পৃষ্ঠার আক্ষেপ প্রাপ্ত করেছি। এই আক্ষেপগুলোকে আমি নিজের একটা পত্রের সঙ্গে দেশের শঙ্করাচার্যের অতিরিক্ত পৌরাণিক জগতের মহা-মণ্ডলেশ্বর শ্রী স্বামী গোবিন্দ গিরি, শ্রী স্বামী রামভদ্রাচার্য, শ্রী স্বামী চিদানন্দ সরস্বতী আদি অনেক বিদ্বানদেরকে পাঠিয়ে ছিলাম।

.
একইসঙ্গে আমি আর্যসমাজের বিভিন্ন শীর্ষ সংস্থান তথা প্রসিদ্ধ সব আর্য বিদ্বানদেরও এই আক্ষেপ পাঠিয়ে এই নিবেদন করেছিলাম যে ঋষি দয়ানন্দের ২০০ তম জন্মোৎসব ফাল্গুন কৃষ্ণ পক্ষ দশমী বিক্রম সম্বত্ ২০৮০ তদনুসারে ৫ মার্চ ২০২৪ পর্যন্ত যেসব আক্ষেপের উত্তর দেওয়া যেতে পারে, সেগুলো লিখে আমার কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার কষ্ট করবেন। সেই উত্তরকে আমি আমাদের স্তর থেকে প্রকাশিত আর প্রচারিত করবো। যদিও সব প্রশ্নের উত্তর আমাকেই দেওয়া উচিত, কিন্তু আমি বিচার করেছি যে এই আক্ষেপগুলোর উত্তর দেওয়ার শ্রেয় কেবল আমিই কেন পাবো আর বেদ বিরোধীরাও যেন এমন মনে না করে যে আর্যসমাজের মধ্যে একজনই বিদ্বান আছেন, যিনি উত্তর দেওয়ার জন্য সামনে এসেছেন। এরসঙ্গে আমি এটাও বিচার করেছি যে আমার উত্তর দেওয়ার পশ্চাৎ কোনো বিদ্বান যেন এমন না বলেন যে আমি উত্তর দেওয়ার সুযোগ পাইনি, যদি আমাকে সুযোগ দেওয়া হতো, তাহলে আমি আরও ভালো উত্তর দিতাম।
.
দুর্ভাগ্যের বিষয় হল, নির্ধারিত সময় পূর্ণ হওয়ার পশ্চাৎ পর্যন্ত কোথাও থেকে কোনো উত্তরই প্রাপ্ত হয়নি। বড়-বড় শঙ্করাচার্য, মহামণ্ডলেশ্বর, মহাপণ্ডিত, গুরুপরম্পরাতে পড়া মহাবৈয়াকরণ, দার্শনিক, রাষ্ট্রীয় আর আন্তর্জাতিক বৈদিক প্রবক্তা, য়োগী এবং বেদ বিজ্ঞান অনুসন্ধানকারী আদির মধ্যে কেউ একটা প্রশ্নেরও উত্তর দিতে পাননি অথবা বেদের উপরে করা আক্ষেপের প্রতি তাদের কোনো পীড়া হয়নি। যে কারণই হোক না কেন, এটা তো নিশ্চিত হয়ে গেল যে এই আক্ষেপ বা প্রশ্ন সামান্য নয়। আক্ষেপকর্তারা পৌরাণিক তথা আর্যসমাজী দুটোরই ভাষ্যকে আধার বানিয়ে গম্ভীর ও ঘৃণিত আক্ষেপ করেছে। তারা গায়ত্রী পরিবারকেও তাদের লক্ষ্য বানিয়েছে, কিন্তু সবাই মৌন হয়ে বসে আছেন, তবে আমি মৌন হয়ে থাকতে পারবো না। এই কারণে এই আক্ষেপগুলোর উত্তর দেওয়া আমি নিজেরই কর্তব্য বলে মনে করেছি।
.
আমি যা উত্তর দিয়েছি, সেগুলোকে যেকোনো বৈদিক বিদ্বান, যারা আজ মৌন হয়ে বসে আছেন, নৈতিক রূপে ভুল বলার অধিকারী থাকবেন না। তারা আমার উত্তর আর বেদমন্ত্রের ভাষ্যের উপরে খুঁত বের করার অধিকারীও থাকবেন না। আজ ধর্ম আর অধর্মের যুদ্ধ হচ্ছে, এর নীরব দর্শককে প্রকৃত বেদের ভক্ত বলা যাবে না। আমি অন্ততঃ চ্যালেঞ্জ স্বীকার তো করেছি, তাদের মতো মৌন হয়ে তো বসে নেই। বেদের উপরে করা আক্ষেপের উপরে মৌন হয়ে থাকাও সেই আক্ষেপকে মৌন সমর্থন করাই হবে। আমি যদিও অনেক ব্যস্ত থাকি, তবুও আমি উত্তর দেওয়াটা অনিবার্য মনে করেছি। আমি সব উত্তরদায়ী মহানুভাবদের কাছে দিনকরজীর শব্দে এটা অবশ্যই বলতে চাইবো যে -
"जो तटस्थ हैं, समय लिखेगा उनका भी अपराध"
মানুষ হল এই সংসারের সবথেকে বিচারশীল প্রাণী। এইভাবে এই ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে যেখানেই কোনো বিচারশীল প্রাণী আছে, তাদেরকেও মানুষই বলা হবে। বাস্তবে জ্ঞান হল প্রত্যেক জীবধারীর একটা প্রমুখ লক্ষণ। জ্ঞানের দ্বারাই কারও চেতনার প্রকাশন হয়, সূক্ষ্ম জীবাণু থেকে শুরু করে আমাদের মতো মানুষ পর্যন্ত সব প্রাণী জীবনযাপনের ক্রিয়াকলাপের মধ্যেও নিজের জ্ঞান আর বিচারের ব্যবহার অবশ্যই করে। জীবন-মরণ, খিদা-তৃষ্ণা, গমনাগমন, সন্ততি-জনন, ভয়, নিদ্রা আর জাগরণ আদি সবকিছুর পিছনেও জ্ঞান আর বিচারের সহযোগিতা থাকেই, তাহলে মহর্ষি য়াস্ক "মত্বা কর্মাণি সীব্যতীতি মনুষ্যঃ" বলে মানুষকে সংজ্ঞায়িত কেন করেছেন?
.
এর জন্য ঋষি দয়ানন্দ দ্বারা প্রস্তুত আর্যসমাজের পঞ্চম নিয়ম "সব কর্ম ধর্মানুসারে অর্থাৎ সত্য আর অসত্যকে বিচার করে করা উচিত" এর উপরে বিচার করার আবশ্যকতা আছে। বিচার করা আর সত্য-অসত্যের উপরে বিচার করা এই দুটোর মধ্যে অনেক বড় পার্থক্য আছে, যা আমাদের পশু-পক্ষী আর কীটপতঙ্গ থেকে পৃথক করে। বিচার তো তারাও করে, কিন্তু তাদের বিচার কেবল জীবনযাপনের ক্রিয়া পর্যন্ত সীমিত থাকে। এইদিকে সত্য আর অসত্যের উপর বিচার জীবনযাপন করার সীমার বাইরেও নিয়ে গিয়ে পরোপকারে প্রবৃত্ত করে মোক্ষ পর্যন্ত যাত্রা করাতে পারে।
.
এটা এক আশ্চর্যজনক তথ্য যে জীবনযাপনের বিচার পর্যন্ত সীমিত থাকা প্রাণী জন্ম থেকেই আবশ্যক স্বাভাবিক জ্ঞান প্রাপ্ত করে থাকে, কিন্তু মানুষের মতো সর্বাধিক বুদ্ধিমান প্রাণী পশু-পক্ষীদের তুলনায় ন্যূনতম জ্ঞান নিয়ে জন্ম নেয়। সে তার পরিবেশ আর সমাজ থেকে শিখে নেয়। এই কারণে কেবল মানুষের জন্যই সমাজ তথা শিক্ষণ-সংস্থানের আবশ্যকতা হয়। এসবের অভাবে মানুষ পশু-পক্ষীদের দেখে তাদের মতোই হয়ে যাবে। তবে হ্যাঁ, ওদের মতো উড়ার মতো কাজ করতে পারবে না।
.
সমাজ আর শিক্ষার অভাবে মানুষ মানবীয় ভাষা আর জ্ঞান উভয়ের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত রয়ে যাবে। তাকে যদি পশু-পক্ষীকেও দেখানো না হয়, তাহলে তার আহার-বিহারেও অসুবিধা দেখা দিতে পারে। এর বিপরীত কোটি-কোটি বছর ধরে আমাদের সঙ্গে থাকা গরু-মোষ, ঘোড়া আদি প্রাণী আমাদের একটাও ব্যবহার শিখতে পারে না। তবে হ্যাঁ, তারা তাদের স্বামীর ভাষা আর সংকেতকে কিছু বুঝে নিয়ে তদনুকূল আহার-পানাদি ব্যবহার করে অবশ্য। এই কারণে কিছু পশুকে কিছু মাত্রায় প্রশিক্ষিতও করা যেতে পারে, কিন্তু মানুষের মতো তাদেরকে শিক্ষিত, সুসংস্কৃত, সভ্য এবং বিদ্বান বানানো সম্ভব নয়। আমাদের মধ্যে আর তাদের মধ্যে এটাই হল পার্থক্য। এখন প্রশ্ন হল, যে মানুষ জন্ম নেওয়ার সময় পশু-পক্ষীর তুলনায় মূর্খ হয়, জীবনযাপনেও সক্ষম হয় না, সে সবথেকে অধিক বিদ্বান, সভ্য ও সুশিক্ষিত কিভাবে হয়ে যায়?
.
যখন মানুষের প্রথম প্রজন্ম এই পৃথিবীতে জন্মেছিল, তখন নিশ্চয়ই তারা তাদের চারিদিকে থাকা পশু-পক্ষী আর কীটপতঙ্গকেই দেখেছিল, তখন যদি সেই প্রজন্ম তাদের থেকে কিছু শিখতো, তাহলে তাদের মতোই ব্যবহার করতো আর তাদের সন্তানও তাদের থেকে সেইরূপ ব্যবহারই শিখতো। আজ পর্যন্ত আমরা পশুদের মতোই থাকতাম, কিন্তু এমনটা হয়নি। আমরা বিজ্ঞানের উচ্চতাকেও স্পর্শ করেছি। বৈদিক কালে আমাদের পূর্বপুরুষরা বিভিন্ন লোক-লোকান্তরের যাত্রাও করতো। কলা, সঙ্গীত, সাহিত্য আদি ক্ষেত্রের মধ্যেও মানুষের চরমোৎকর্ষ হয়েছে, কিন্তু পশু-পক্ষী তাদের লাফালাফি থেকে অগ্রসর হয়ে কিছুই শিখতে পারেনি। মানুষ কিভাবে এমন সুযোগ প্রাপ্ত করেছে? কার সঙ্গতি দ্বারা এইসব শিখেছে?
.
এই প্রশ্নগুলোর বিষয়ে কোনো নাস্তিকই কিছু বিচার করে না। তাদেরকে এর জন্য বিবর্তনবাদের আশ্রয় নিতে দেখা যায়। যদি বিবর্তন দ্বারাই সবকিছু সম্ভব হয়ে যেতো, তাহলে তো পশু-পক্ষীও এতদিনে বৈজ্ঞানিক হয়ে যেতো, কারণ তাদের জন্ম তো আমাদেরও পূর্বে হয়েছিল। এই কারণে উন্নতির জন্য তারা আমাদের তুলনায় অধিক সময় পেয়েছে। একইসঙ্গে যদি বিবর্তন দ্বারাই সবকিছু স্বতঃ সিদ্ধ হয়ে যেতো, তাহলে মানুষের জন্যও কোনো প্রকারের বিদ্যালয় আর সমাজের আবশ্যকতা হতো না, কিন্তু এমনটা হয়নি।
.
নাস্তিকদের এই বিষয়ে অধিক গম্ভীরভাবে বিচার করা উচিত যে মানুষের মধ্যে ভাষা আর জ্ঞানের বিকাশ কোথা থেকে হল? এই বিষয়ে সবিস্তারে জানার জন্য আমার গ্রন্থ "বৈদিক রশ্মিবিজ্ঞানম্" অবশ্যই পড়া উচিত, যারদ্বারা এটা সিদ্ধ হয়েছে যে প্রথম প্রজন্মের চারজন সর্বাধিক সক্ষম ঋষি অগ্নি, বায়ু, আদিত্য এবং অঙ্গিরা ব্রহ্মাণ্ড থেকে সেই ধ্বনিগুলোকে নিজের আত্মা আর অন্তঃকরণ দিয়ে শোনেন, সেগুলো ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে পরা আর পশ্যন্তী রূপে বিদ্যমান ছিল। সেই ধ্বনিগুলোকেই বেদমন্ত্র বলা হয়েছে। সেই বেদমন্ত্রের অর্থ ব্যাখ্যা করার জন্য ঈশ্বর ছাড়া আর কেউই ছিল না।
.
অন্য মানুষরা তো এই ধ্বনিগুলোকে ব্রহ্মাণ্ড থেকে গ্রহণ করতেও সক্ষম ছিল না, হতে পারে তাদের প্রাতিভ জ্ঞান এবং ঋতম্ভরা ঋষি স্তরের ছিল। সৃষ্টির আদিতে সব মানুষ ঋষি কোটির ব্রাহ্মণ বর্ণেরই ছিল, অন্য কোনো বর্ণ ভূমণ্ডলের মধ্যে ছিল না। সেই চার ঋষিকে সমাধি অবস্থায় ঈশ্বর সেই মন্ত্রের অর্থের জ্ঞান দেয়। সেই চারজন মিলে মহর্ষি ব্রহ্মাকে চার বেদের জ্ঞান দেয় আর মহর্ষি ব্রহ্মা থেকে জ্ঞানের পরম্পরা সব মানুষের কাছে পৌঁছাতে থাকে। এইভাবে ব্রহ্মাণ্ডের এই ধ্বনিগুলো থেকেই মানুষ ভাষা আর জ্ঞান দুটোই শিখেছে। এই কারণে মানুষ নামক প্রাণী সব প্রাণীর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হয়ে যায়।
ধ্যাতব্য হল, প্রথম প্রজন্মের জন্মা সব মানুষ মোক্ষ থেকে পুনরাবৃত্ত হয়ে আসে। এই কারণে তারা সবাই ঋষি কোটির ছিল। জ্ঞানের পরম্পরা কিভাবে অগ্রসর হতে থাকে আর মানুষের ঋতম্ভরা কিভাবে ধীরে-ধীরে ক্ষীণ হতে থাকে, মানুষকে বেদার্থ জানার জন্য কেমন কেমন গ্রন্থের রচনার আবশ্যকতা হয় আর কিভাবে-কিভাবে সাহিত্য তৈরি করা হয়, এসব জানার জন্য আমার "বেদার্থ-বিজ্ঞানম্" গ্রন্থ পড়তে হবে। যখন মানুষের মধ্যে বেদকে বেদের দ্বারা জানার প্রজ্ঞা সমাপ্ত বা কম হয়ে যায়, তখনই তার জন্য অন্য কোনো গ্রন্থের আবশ্যকতা হয়। ধীরে-ধীরে বেদার্থের মধ্যে সহায়ক আর্ষ গ্রন্থও মানুষের জন্য কঠিন হয়ে যায় আর আজ তো পরিস্থিতি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে বেদ এবং আর্ষ গ্রন্থের প্রবক্তাও এগুলোর যথার্থ থেকে অতি দূরে চলে গেছে। এই কারণে শুধু বেদ কেন, আর্ষ গ্রন্থও তথাকথিত বুদ্ধিমান মানবের জন্য অবর্ণনীয় ধাঁধা হয়ে গেছে।
.
এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ঋষি দয়ানন্দ সরস্বতী আর তাঁর মহান গুরু প্রজ্ঞাচক্ষু শ্রী স্বামী বিরজানন্দ সরস্বতী অনেক চেষ্টা করেন, কিন্তু সময়াভাব আদি পরিস্থিতির কারণে ঋষি দয়ানন্দের বেদভাষ্য এবং অন্য গ্রন্থ বেদের রহস্যকে খোলার জন্য সংকেতমাত্রই রয়ে যায়। তিনি বেদের বাস্তবতাকে জানার জন্য সুমার্গে চলা পথিকের বালির মধ্যে হওয়া পদচিহ্নের সমান ছিলেন। গন্তব্যের দিকে যাওয়া পদচিহ্ন যেকোনো ভ্রান্ত পথিকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হয়। দুর্ভাগ্যবশতঃ ঋষি দয়ানন্দের অনুগামীরা ঋষির তৈরি কিছু পদচিহ্নকেই গন্তব্য ধরে নিয়েছে আর বেদার্থকে জানার জন্য তারা কোনো বিশেষ ভাবে চেষ্টা করেনি। তাদের এই কর্ম মহাপুরুষদের প্রতিমাকেই পরমাত্মা মেনে নেওয়ার মতোই ছিল।
.
এর পরিণাম এই হয় যে ঋষি দয়ানন্দের অনুগামী বিদ্বানও বেদাদি শাস্ত্রের ভাষ্য করতে আচার্য সায়ণ আদির সরল প্রতীত হওয়া কিন্তু বাস্তবে ভ্রান্ত ভাষ্যের অনুগামী হয়ে যায়। এই কারণে পৌরাণিক (তথাকথিত সনাতনী) ভাষ্যকারদের মতো আর্য বিদ্বানদের ভাষ্যের মধ্যেও অশ্লীলতা, পশুবলি, মাংসাহার, নরবলি, অস্পৃশ্যতা, আদি পাপ বিদ্যমান আছে। তারা শাস্ত্রকে এই পাপের থেকে মুক্ত করার পূর্ণ চেষ্টা করেছে অবশ্য, কিন্তু তারা এতে সম্পূর্ণ ভাবে সফল হতে পারেনি। এই কারণে এদের ভাষ্যের মধ্যে সায়ণ আদি আচার্যের ভাষ্যের তুলনায় এই দোষ কম মাত্রায় বিদ্যমান আছে, কিন্তু বেদ আর ঋষিদের গ্রন্থের মধ্যে একটাও দোষ বিদ্যমান হওয়া বেদের অপৌরুষেয়ত্ব আর ঋষিদের ঋষিত্বের উপরে প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করানোর জন্য যথেষ্ট। এইজন্য ঋষি দয়ানন্দের ভাষ্যের অতিরিক্ত সব ভাষ্য হল দোষপূর্ণ আর মিথ্যা।
.
তবে হ্যাঁ, ঋষি দয়ানন্দের ভাষ্যও সাংকেতিক পদচিহ্ন মাত্র হওয়ার কারণে সাত্ত্বিক ও তর্কসঙ্গত ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে। এর জন্য সব মানুষকে এটাই অতি উচিত হবে যে তারা বেদের রহস্যকে জানার জন্য "বৈদিক রশ্মিবিজ্ঞানম্" গ্রন্থের গভীর ভাবে অধ্যয়ন করবেন। যেসব বিদ্বান বেদ আর ঋষিদের প্রজ্ঞার গভীরতায় আরও অধিক যেতে চান, তাদেরকে "বেদবিজ্ঞান-আলোকঃ" আর "বেদার্থ-বিজ্ঞানম্" গ্রন্থ পড়া উচিত। যারা আধুনিক শিক্ষা প্রাপ্ত করতে থাকা শিক্ষক বা বিদ্যার্থী বেদের সামান্য পরিচয় জানতে চান, তাদেরকে ঋষি দয়ানন্দ কৃত "সত্যার্থ-প্রকাশ" এবং "ঋগ্বেদাদিভাষ্যভূমিকা" আর প্রিয় বিশাল আর্য কৃত "পরিচয় বৈদিক ভৌতিকী" গ্রন্থ অবশ্যই পড়া উচিত।
(ক্রমশঃ)

No comments:

Post a Comment

ধন্যবাদ

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

অভেদ্য বেদ

ভূমিকা সকল বেদানুরাগী মহানুভব! আপনারা জানেন যে আমি গত শ্রাবণী পর্ব বিক্রম সম্বত্ ২০৮০ তদনুসারে ৩০ জুলাই ২০২৩ সালে সব বেদ বিরোধীদের আহ্বান কর...

Post Top Ad

ধন্যবাদ