ভূমিকা
সকল বেদানুরাগী মহানুভব! আপনারা জানেন যে আমি গত শ্রাবণী পর্ব বিক্রম সম্বত্ ২০৮০ তদনুসারে ৩০ জুলাই ২০২৩ সালে সব বেদ বিরোধীদের আহ্বান করেছিলাম যে তারা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ সাল পর্যন্ত বেদাদি শাস্ত্রের উপরে যেকোনো আক্ষেপ করতে চাইলে, করতে পারবে। আমি এই ঘোষণার যথোচিত প্রচার করেছি আর অন্যদের দিয়েও করিয়েছি। এর উপর আমি সর্বমোট ১৩৪ পৃষ্ঠার আক্ষেপ প্রাপ্ত করেছি। এই আক্ষেপগুলোকে আমি নিজের একটা পত্রের সঙ্গে দেশের শঙ্করাচার্যের অতিরিক্ত পৌরাণিক জগতের মহা-মণ্ডলেশ্বর শ্রী স্বামী গোবিন্দ গিরি, শ্রী স্বামী রামভদ্রাচার্য, শ্রী স্বামী চিদানন্দ সরস্বতী আদি অনেক বিদ্বানদেরকে পাঠিয়ে ছিলাম।
Vedas are terror manual which turns humans into savages. Many tribes were destroyed as a result of the violent passages in Vedas. As per Vedas, you must kill a person who rejects Vedas, who hates Vedas and Ishwar, who does not worship, who does not make offerings to Ishwar, who insults God (Blasphemy), one who oppresses a Brahmin etc. There are several passage in Vedas which calls for death of disbelievers.
এনার দৃষ্টিতে বেদ হল মানুষকে বর্বর আতঙ্কি তৈরি করার গ্রন্থ। এই গ্রন্থ অনেক জনজাতিকে নষ্ট করে দিয়েছে। যারা বেদ আর ঈশ্বরকে মানে না, ঈশ্বরের পূজা করে না, ঈশ্বরের নিন্দা করে আর ব্রাহ্মণের অপমান করে তাদেরকে বেদের মধ্যে মেরে ফেলার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
.
একইসঙ্গে রিজভীর কথন হল যারা বেদকে মানে তারা বেদের মধ্যে নির্দেশিত হিংসাকে দেখে না, বরং অন্য সম্প্রদায়ের গ্রন্থের ভুল অর্থ করে সেগুলোর উপরে হিংসার দোষারোপ করে।
১. মক্কা-মদীনা থেকে শুরু হওয়া ইসলাম কি শান্তি আর সত্যের দ্বারা বিশ্বের ৫৬-৫৭ দেশের মধ্যে ছড়িয়েছে?
২. তৈমুর, আলাউদ্দিন খিলজী, বাবর, আকবর আর ঔরঙ্গজেবের মতো ব্যক্তিরা কি ইসলামের শান্তিদূত হয়ে ভারতে এসেছিল?
৩. এই শান্তিদূতদের শান্তির দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েই কি হাজার-হাজার রাণী জোহর করে নিজের প্রাণত্যাগ করেছিলেন?
৪. তারা কি ভারতে শান্তির স্থাপনা করার জন্য হাজার-হাজার মন্দির ভেঙেছে?
৫. কুরআনের মধ্যে কি কাফিরের গলা ওড়ানোর বর্ণনা নেই?
.
আপনি বেদ অনুগামীদের উপরে বনবাসী, যাদের ষড়যন্ত্রপূর্বক আদিবাসী বলা হয়েছে, তাদের হত্যার দোষারোপ করছেন। আপনার এতটুকু বোঝার ক্ষমতা তো থাকা উচিত যে ভারতের মধ্যে আজও বনবাসী বর্গ তাদের পরম্পরা ও মন্যতাকে প্রসন্নতাপূর্বক পালন করছে, অথচ ইসলামী দেশগুলোতে সবাইকে বলপূর্বক হয় ইসলামী মন্যতাকে স্বীকার করার জন্য বিবশ করা হয় অথবা তাদের নষ্ট করে দেওয়া হয়।
.
ভারতের মধ্যে তো সম্পূর্ণ বনবাসী সমাজ ক্ষত্রিয়দের সঙ্গে কাধে কাধ মিলিয়ে রাষ্ট্রের রক্ষার জন্য নিজের বলিদান দিয়ে গেছে, সেটা হয় ইসলামী আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে হোক অথবা ইংরেজদের বিরুদ্ধে। বনবাসীরা সর্বদা রাষ্ট্র ও ধর্মের রক্ষার জন্য নিজের বলিদান দিয়েছে। এইজন্য আপনাকে আপনার ঘরের চিন্তা করা উচিত, আমাদের ঘরের নয়। যদি বেদের অনুগামী সমাজ হিংসক হতো, তাহলে সংসারের মধ্যে অন্য কোনো সম্প্রদায় জন্মই হতো না আর যদি জন্ম হতো, তাহলে সেটা জীবিতও থাকতো না।
.
আপনি কুরআনের উপরে করা কোনো আক্ষেপকে অজ্ঞানতার পরিণাম বলছেন, তাহলে কৃপা করে বুদ্ধিমানের পরিচয় দিয়ে আপনি কি কুরআনের সেই অনুবাদগুলোকে নষ্ট করিয়ে সেগুলোর সঠিক অনুবাদ করার সাহস করবেন? ছয় দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ সৃষ্টি তৈরি হওয়া, মাটি দিয়ে মানুষের শরীর তৈরি হওয়া, সিংহাসনের উপরে খুদার বসে থাকা এবং অন্য সৃষ্টি সম্বন্ধীয় আয়তের সঠিক ব্যাখ্যা করে সম্পূর্ণ সৃষ্টি প্রক্রিয়াকে আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন? আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে কোনো ইসলামী বিদ্বান এতে সক্ষম হতে পারবে না?
.
আপনি তো বেদকে সঠিক ভাবে বুঝেই গেছেন, সেই জন্যই তো দোষারোপ করছেন। আপনি যদি বেদকে বোঝেন, তাহলে তো আপনাকে কারও ভাষ্য উদ্ধৃত করার আবশ্যকতাই ছিল না। এখানে এমন মনে হচ্ছে যে আর্যসমাজ এবং পৌরাণিকদের (তথাকথিত সনাতনী হিন্দু) বদনাম করাই আপনার মুখ্য লক্ষ্য আছে। সংস্কৃত ভাষার কোনো জ্ঞান আপনার নেই, অন্যথা আপনি আচার্য সায়ণের ভাষ্যও উদ্ধৃত করতেন। আপনি কেবল দেবীচন্দকেই আর্য বিদ্বান বলেছেন, এই জ্ঞান আপনাকে কি খুদা দিয়েছে যে দেবীচন্দ আর্যসমাজের বিদ্বান ছিলেন? আমি তো আর্যসমাজের মধ্যে কোনো দেবীচন্দ নামক বেদভাষ্যকারের নাম পর্যন্ত শুনিনি।
.
আপনি ভাষ্যের মধ্যেও কেবল ইংরাজী অনুবাদকেই অধিক উদ্ধৃত করেছেন। এরদ্বারা এটাও সিদ্ধ হয় যে হিন্দি ভাষারও খুব অধিক জ্ঞান আপনার নেই আর কেবল ইংরাজী ভাষা পড়ে বেদের অধিকারী বিদ্বান হয়ে বেদের উপর দোষারোপ করতে বসেছেন। আমি স্বীকার করছি যে ঋষি দয়ানন্দের অতিরিক্ত অন্য সব ভাষ্যকার দ্বারা বেদভাষ্য করাতে ভারী ভুল হয়েছে।
.
এখন আমি ক্রমশঃ আপনার দ্বারা উদ্ধৃত এক-একটা বেদ মন্ত্রের উপরে বিচার করবো -
অপঘ্নন্তো অরাব্ণঃ পবমানাঃ স্বর্দৃশঃ।
য়োনাবৃতস্য সীদত।। (ঋগ্বেদ ৯.১৩.৯)
আপনি এই মন্ত্রের ভাষ্য নিম্নানুসারে করেছেন -
May you (O love divine), the beholder of the path of enlightenment, purifying our mind and destroying the infidels who refuse to offer worship, come and stay in the prime position of the eternal sacrifice.
- Tr. Satyaprakash Saraswati
(অরাব্ণঃ) দুষ্টদের (অপঘ্নন্তঃ) দারুণ দণ্ড দাতা (পবমানাঃ) সৎকর্মীদের পবিত্রকারী (স্বর্দৃশঃ) সর্বদ্রষ্টা পরমাত্মা (ঋতস্য) সৎকর্মরূপী যজ্ঞের (য়োনৌ) বেদীতে (সীদত) এসে বিরাজমান হউন।
এর উপরে এই আক্ষেপ করেছেন যে বেদের মধ্যে শত্রুকে নষ্ট করা তথা ঈশ্বর ভক্তদের জ্ঞান প্রকাশ প্রদান করার কথা বলা হয়েছে।
.
আমি এই মন্ত্রের উপর আপনার আক্ষেপকে বুঝতে পাচ্ছি না। আপনি কি দুষ্ট ব্যক্তিকে পুরস্কৃত আর সৎকর্মীকে দণ্ডিত বা অপবিত্র করতে চাইছেন? যেমনটা সংসারে হত্যাকারী মজহবের ইতিহাস ও চরিত্র ছিল। এই হিন্দি ভাষ্যটা যদিও ভুল নয়, তবে এটা কথমপি পর্যাপ্তও নয়। এখন আমি এই মন্ত্রের উপরে নিজের শৈলীতে বিচার করবো -
এই মন্ত্রের ঋষি হল অসিত কাশ্যপ দেবল। এর অর্থ হল এই মন্ত্ররূপী ছন্দ রশ্মি কূর্ম প্রাণ রশ্মি থেকে উৎপন্ন এমন সূক্ষ্ম প্রাণ রশ্মির, যা স্বয়ং কারও বন্ধনে আসে না, কিন্তু সূক্ষ্ম কণা আর রশ্মিকে নিজের সঙ্গে আবদ্ধ করতে সক্ষম হয়, দ্বারা হয়। এর দেবতা হল পবমান সোম আর ছন্দ য়বমধ্যা গায়ত্রী। এই কারণে এর দৈবত আর ছান্দস প্রভাবে এই সৃষ্টির মধ্যে বিদ্যমান সোম পদার্থ শ্বেতবর্ণীয় তেজ যুক্ত হতে থাকে। একইসঙ্গে এই সৃষ্টির মধ্যে বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বলও সমৃদ্ধ হতে থাকে। এখন আমি এর তিন প্রকারের ভাষ্য করবো -
অপঘ্নন্তো অরাব্ণঃ পবমানাঃ স্বর্দৃশঃ।
য়োনাবৃতস্য সীদত।। (ঋগ্বেদ ৯.১৩.৯)
আধিদৈবিক ভাষ্য (১) -
(পবমানাঃ, স্বর্দৃশঃ) সূর্যের সমান তেজস্বী আর শুদ্ধ সোম পদার্থ (অরাব্ণঃ, অপঘ্নন্তঃ) [অরাব্ণঃ = রা দানে (অদা.) ধাতোর্বনিপ্। নঞ্ সমাসঃ] সংযোগ-বিয়োগ প্রক্রিয়াতে বাধা উৎপন্নকারী অথবা সেই প্রক্রিয়াতে ভাগ নিতে অক্ষম পদার্থকে নষ্ট করে অথবা সেগুলোকে সরিয়ে দিয়ে (ঋতস্য, য়োনৌ, সীদত) [ঋতম্ = ঋতমিত্যেষ (সূর্য়ঃ) বৈ সত্যম্ ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ৪.২০), ঋতমেব পরমেষ্ঠী (তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ ১.৫.৫.১), অগ্নির্বা ঋতম্ (তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ ২.১.১১.১)] সূর্যলোকের সর্বোত্তম আগ্নেয় ক্ষেত্র অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ভাগ অথবা সম্পূর্ণ সূর্যলোকের উৎপত্তি আর নিবাসস্থানে বিদ্যমান থাকে।
ভাবার্থ - সূর্যলোকের উৎপত্তি হওয়ার পূর্বে বিশাল খগোলীয় মেঘের ভিতরে সোম রশ্মিগুলো শুদ্ধ রূপে ব্যাপ্ত হয়। যখন সেই সোম রশ্মিগুলো তপ্ত হওয়া শুরু করে, তখন সেগুলো এমন পদার্থ যা স্বয়ং সূর্যলোক নির্মাণের প্রক্রিয়াতে ভাগ নেওয়ার জন্য সংযোগ-বিয়োগ আদি প্রক্রিয়াতে ভাগ নেওয়ার যোগ্য হয় না অথবা যা সংযোগ-বিয়োগ প্রক্রিয়াতে বাধার সৃষ্টি করে, সেগুলোকে নষ্ট বা দূর করে দেয়। এমন করতে-করতে সেই সোম রশ্মিগুলো সম্পূর্ণ মেঘের মধ্যে ব্যাপ্ত হয়ে যায়। একইভাবে সোম প্রধান বিদ্যুৎ ঋণাবেশিত কণাও সম্পূর্ণ খগোলীয় মেঘ আর কালান্তরে সূর্যলোকের মধ্যে ব্যাপ্ত হয়ে যায়।
আধিদৈবিক ভাষ্য (১) -
(পবমানাঃ, স্বর্দৃশঃ) বিদ্যুতের সমান গত্যাদি ব্যবহারকারী অর্থাৎ বিদ্যুতের মতো শুদ্ধ মার্গের উপর গমন করে সূক্ষ্ম কণা বা বিকিরণ (অপঘ্নন্তঃ, অরাব্ণঃ) মার্গের মধ্যে আসা এমন কণা, যা সংযোগ-বিয়োগ ক্রিয়াতে ভাগ নেয় না অথবা বাধা উৎপন্ন করে, তাকে দূরে সরিয়ে গমন করে। (ঋতস্য, য়োনৌ, সীদত) [ঋতম্ = অগ্নির্বা ঋতম্ (তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ ২.১.১১.১)] সেইসব কণা অগ্নির কারণরূপ প্রাণ তত্ত্বের মধ্যে নিরন্তর নিবাস করে অর্থাৎ সেগুলো প্রাণের মধ্যেই নিবাস আর প্রাণের মধ্যেই প্রাণের দ্বারা গমন করে।
ভাবার্থ - এই ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে যেসব কণা প্রায় প্রকাশের বেগে গমন করে, সেইসব কণা অথবা বিকিরণ মার্গের মধ্যে বাধক পদার্থকে দূরে সরিয়ে দিয়ে নিজের মার্গকে নির্বাধ বানিয়ে গমন করে। এর অর্থ হল সেগুলো বিভিন্ন আয়ন বা ইলেকট্রনকে দূরে সরিয়ে দেয় না, বরং সেগুলোর দ্বারা নিঃসরণ আর শোষণের ক্রিয়া করে নিরাপদ রূপে নিরন্তর গমন করতে থাকে। এই ক্রিয়ার কারণে সেগুলোর বাস্তবিক শুদ্ধ গতির মধ্যে কিছুটা ঘাটতিও দেখা দেয়। যদি শোষণ ও নিঃসরণ পদার্থ অধিক মাত্রায় বিদ্যমান হয়, তাহলে সেই অনুপাতের মধ্যে গমনকারী কণার পরিণামী গতি কম হতে থাকবে। বর্তমান বিজ্ঞান দ্বারা পরিভাষিত ডার্ক মেটার এই সূক্ষ্ম কণা বা বিকিরণের সঙ্গে কোনো পরস্পর প্রতিক্রিয়া করে না, এইজন্য সেই পদার্থকে সেইসব কণা বা বিকিরণ দূরে সরিয়ে নির্বাধ গমন করতে থাকে। এই কণা বা বিকিরণ সূর্যাদি নক্ষত্র, অন্য আকাশীয় লোক, প্রাণীদের শরীর বা বনস্পতি অথবা খোলা অন্তরিক্ষের মধ্যে সর্বত্র এই ব্যবহারই দর্শায়।
ধ্যাতব্য - আমি এখানে দুই প্রকারের আধিদৈবিক ভাষ্য প্রস্তুত করেছি, এইভাবে "পবমান স্বর্দৃক্" পদগুলো থেকে নক্ষত্র, গ্রহাদি লোকের অর্থ গ্রহণ করে অন্য আধিদৈবিক ভাষ্যও করা যেতে পারে।
(পবমানাঃ, স্বর্দৃশঃ) সূর্যের সমান তেজস্বী বেদবিত্ পবিত্রাত্মা ও পুরুষার্থী রাজা (অপঘ্নন্তঃ, অরাব্ণঃ) এমন নাগরিক, যারা ধনবান্ হওয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্রহিতে ন্যায়কারী রাজার দ্বারা নেওয়া করের পরিশোধ করে না অথবা কর চুরি করে অথবা আবশ্যকতা হলে কোনো নির্ধনের অথবা পরোপকারের কাজে আর্থিক সহায়তা করে না অথবা সমাজ আর রাষ্ট্রের হিতের বিরোধী বা উদাসীন হয়, রাজা তাদের উচিত দণ্ড দিয়ে (ঋতস্য, য়োনৌ, সীদত) [ঋতম্ = ব্রহ্ম বাऽঋতম্ (শতপথ ব্রাহ্মণ ৪.১.৪.১০), সত্যম্ বিজ্ঞানম্ (মহর্ষি দয়ানন্দ ঋগ্বেদ ভাষ্য ১.৭১.২)] সমস্ত জ্ঞান-বিজ্ঞানের মূল বেদের কারণ রূপ পরব্রহ্ম পরমাত্মার মধ্যে নিবাস করেন।
ভাবার্থ - যেকোনো রাষ্ট্রের রাজা শরীর, মন আর আত্মার দ্বারা পূর্ণ সুস্থ আর বলবান্ হওয়া উচিত। এমন রাজাই সতত পুরুষার্থকারী হতে পারবেন। শরীর, মন বা আত্মার মধ্যে যেকোনো একটা নির্বল বা রোগী হলে কোনো রাজাই রাষ্ট্রের সঞ্চালনে সক্ষম হবেন না। এর পাশাপাশি যতক্ষণ পর্যন্ত রাজা জ্ঞান-বিজ্ঞান দ্বারা সম্পূর্ণরূপে সম্পন্ন হবেন না, ততক্ষণ পর্যন্তও রাজা রাষ্ট্রের উচিত সঞ্চালন করতে পারবেন না, কারণ এমন রাজাকে তার চাটুকার, চালাক-স্বার্থপর মন্ত্রী, প্রশাসনিক অধিকারী, বৈজ্ঞানিক, পুঁজিপতি এবং অন্য দেশের রাজা ভ্রমিত করে নিজের প্রয়োজন সিদ্ধ করতে পারেন।
.
এমন রাজা দণ্ডনীয় আর সম্মানীয় পাত্রের বিবেক রাখতে পারবেন না, অথচ বিদ্বান আর য়োগী রাজা এর পরিচয় নিশ্চিত করে দণ্ডনীয়কে দণ্ড আর সম্মানীয়কে সম্মান দিয়ে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রের হিত সম্পাদন করেন। যে রাষ্ট্রের মধ্যে দণ্ডনীয়কে দণ্ড আর সম্মানীয়কে সম্মান তথা সত্য ও উন্নতির মার্গে চলা ব্যক্তিদের অনুপ্রেরণা দেওয়া হয় না, সেই রাষ্ট্র অরাজকতা, হিংসা, ভয়, অশান্তি, অন্যায় আর তিন প্রকারের দুঃখে গ্রস্থ হয়ে বিনাশ প্রাপ্ত হয়। অপরাধীকে দণ্ড দেওয়ার বিষয়ে ভগবান্ মনুর কথন হল -
দণ্ডঃ শাস্তি প্রজাঃ সর্বা দণ্ড এবাভিরক্ষতি।
দণ্ডঃ সুপ্তেষু জাগর্তি দণ্ডম্ ধর্মম্ বিদুর্বুধাঃ।। (মনুস্মৃতি ৭.১৮)
অর্থাৎ উচিত দণ্ডই প্রজার উপর শাসন করে আর দণ্ডই প্রজার রক্ষা করে। দণ্ড কখনও শিথিল হয় না, এইজন্য বিদ্বান ব্যক্তিরা দণ্ডকেই ধর্ম বলেছেন। কৃপণ ব্যক্তিকে দণ্ড দেওয়ার বিষয়ে মহাত্মা বিদুর বলেছেন -
দ্বাবম্ভসী নিবেষ্টব্যৌ, গলে বদ্ধ্বা দৃঢাম্ শিলাম্।
ধনবন্তমদাতারম্, দরিদ্রম্ চাতপস্বিনম্।। (বিদুরনীতি ১.৬৫)
অর্থাৎ ধনবান হওয়া সত্ত্বেও পরোপকারের কাজে দান না দেওয়া ব্যক্তি আর নির্ধন হওয়া সত্ত্বেও পরিশ্রম না করা তথা দুঃখ না সহ্য করতে চাওয়া ব্যক্তিকে গলার মধ্যে ভারী পাথর বেঁধে গভীর জলাশয়ে ডুবিয়ে দেওয়া উচিত। এখানে সম্পূর্ণ প্রজার জন্যও নির্দেশ আছে যে ধনী ব্যক্তি ধনকে ঈশ্বরের প্রসাদ ভেবে ত্যাগপূর্বকই উপভোগ করবেন। তারা অবশ্যই নির্ধন ও দুর্বলের সহায়তা করবেন। অন্যদিকে নির্ধন ব্যক্তি কখনও ধনীদের প্রতি ঈর্ষা করবেন না, বরং স্বয়ং ধর্মপূর্বক পুরুষার্থ করতে থাকবেন আর দুঃখকেও সহ্য করার অভ্যেস করবেন। তারা কারও ধন চুরি করে ধনী হওয়ার চেষ্টা করবেন না অথবা বিনা কর্ম আর যোগ্যতায় ধন, পদ বা ঐশ্বর্য পাওয়ার ইচ্ছা কখনও করবেন না।
আধিভৌতিক ভাষ্য (২) -
(পবমানাঃ, স্বর্দৃশঃ) বেদবিদ্যার প্রকাশ দ্বারা প্রকাশমান, ব্রহ্মতেজ দ্বারা সম্পন্ন, পবিত্রাত্মা এবং য়োগী আচার্য বা আচার্যা নিজ বিদ্যার্থীদের বিদ্যাভাস করা কালীন (অপঘ্নন্তঃ, অরাব্ণঃ) বিদ্যাকে গ্রহণ করতে অনিচ্ছুক অথবা গ্রহণ না করা শিষ্য আর শিষ্যাদের আবশ্যক এবং উচিত তাড়নাও করবেন। (ঋতস্য, য়োনৌ, সীদত) এমন আচার্য আর আচার্যা সম্পূর্ণ সত্য বিদ্যার মূল কারণ বেদ অথবা পরমাত্মার মধ্যে নিরন্তর বিরাজমান থাকেন।
ভাবার্থ - বেদ জ্ঞান দ্বারা সম্পন্ন নিরন্তর য়োগনিষ্ঠ বিদ্বান বা বিদুষীকেই আচার্য বা আচার্যা হবার অধিকারী হওয়া উচিত। তাদের উচিত তারা তাদের শিষ্য বা শিষ্যাদের প্রীতিপূর্বক আর নির্মল ভাবে অধ্যাপনা করবেন। যেসকল বিদ্যার্থী বিদ্যাগ্রহণে প্রমাদ করবে আর প্রীতিপূর্বক বুঝালেও বুঝবে না, তাদের সমুচিত দণ্ড অবশ্যই দিবেন। এই বিষয়ে ঋষি দয়ানন্দ সত্যার্থ-প্রকাশের দ্বিতীয় সমুল্লাসের মধ্যে ব্যাকরণ মহাভাষ্যের প্রমাণ দিয়ে লিখেছেন -
সামৃতৈঃ পাণিভির্ঘ্নন্তি গুরবো ন বিষোক্ষিতৈঃ।
লালনাশ্রয়িণো দোষাস্তাডনাশ্রয়িণো গুণাঃ।।
অর্থাৎ যে সকল মাতা, পিতা আর আচার্য সন্তান আর শিষ্যদের তাড়ন করেন, মনে করতে হবে যে তারা নিজের সন্তান আর শিষ্যকে নিজের হাতে অমৃত পান করাচ্ছেন আর যারা সন্তান বা শিষ্যদের লালন করেন (আদর দিয়ে মাথায় তোলেন), তারা নিজের সন্তান ও শিষ্যদের বিষ পান করিয়ে নষ্ট-ভ্রষ্ট করেন। কারণ লালনের দ্বারা সন্তান ও শিষ্য দোষযুক্ত এবং তাড়নার দ্বারা গুণবান হয়। আর সন্তান এবং শিষ্যদের সর্বদা তাড়নে প্রসন্ন এবং লালনে অপ্রসন্ন থাকা উচিত। কিন্তু মাতা, পিতা ও শিক্ষকগণ ঈর্ষা ও দ্বেষ বশতঃ তাড়না করবেন না, কিন্তু বাইরে ভয় দেখাবেন আর অন্তরে কৃপাদৃষ্টি রাখবেন।
ধ্যাতব্য - এইভাবে মাতা-পিতা আদির গ্রহণ করে অন্য প্রকারের আধিভৌতিক ভাষ্য করা যেতে পারে।
আধ্যাত্মিক ভাষ্য -
(পবমানাঃ, স্বর্দৃশঃ) য়ম-নিয়ম দ্বারা পবিত্র হওয়া য়োগী ব্রহ্মের সাক্ষাৎকারী (অপঘ্নন্তঃ, অরাব্ণঃ) সব ধরণের দোষের পরিত্যাগ করতে না পারার অনিষ্ট চিত্তবৃত্তিকে দূর করে দেন অর্থাৎ সেই য়োগী পুরুষ সব প্রকারের অনিষ্ট বৃত্তিগুলোকে ধীরে-ধীরে নিরুদ্ধ করতে থাকেন। যখন তার বৃত্তিগুলো নিরুদ্ধ হয়ে যায়, তখন (ঋতস্য, য়োনৌ, সীদত) সেই য়োগী পুরুষ সব সত্য বিদ্যার মূল পরব্রহ্ম পরমাত্মার মধ্যে বিরাজমান হয়ে যান অর্থাৎ তিনি ব্রহ্ম সাক্ষাৎকার করেন।
ভাবার্থ - যখন কোনো য়োগাভ্যাসী অহিংসা, সত্য, অস্তেয়, ব্রহ্মচর্য আর অপরিগ্রহের মতো য়ম এবং শৌচ, সন্তোষ, তপ, স্বাধ্যায়, ঈশ্বর-প্রণিধানের মতো নিয়ম দ্বারা নিজেকে পবিত্র বানিয়ে নেন, তখন তার চিত্তের বৃত্তি নিরুদ্ধ হতে থাকে, যারদ্বারা তিনি ব্রহ্মসাক্ষাৎকার করতে সক্ষম হন।
এখানে এটা স্পষ্ট হল যে য়ম-নিয়মের পালন না করে কোনো ব্যক্তিই য়োগী হতে পারবেন না। সারা সংসারের বেদবিরোধী বা ভ্রান্ত পাঠকগণ! আমার এই তিন শ্রেণীর সর্বমোট পাঁচটা ভাষ্যকে পড়ে বলুন যে এই মন্ত্রের মধ্যে হিংসার বিধান নেই, বরং যেকোনো রাষ্ট্র, সমাজ বা বিশ্ব কল্যাণের সুন্দর উপায় সূত্র রূপে দেখানো হয়েছে। বাস্তবিক এবং বুদ্ধিমান জিজ্ঞাসু এই একটা আক্ষেপের উপরেই আমার সমাধান থেকে বেদের উপরে আক্ষেপকর্তাদের ভাবনা তথা ভাষ্যকারদের ত্রুটি বুঝে যাবেন।
সুলেমান রিজভীর অভিযোগের মধ্যে অনেক মন্ত্রের উপরে এই অভিযোগ আছে যে সেগুলোতে নাস্তিককে দণ্ড দেওয়ার বিধান আছে। সর্বপ্রথমে তো আমি এখানে এটা বলতে চাইবো যে স্বামী সত্যপ্রকাশ সরস্বতীর অনুবাদ অথবা অন্য যারাই অনুবাদ করেছেন, তারা বেদের বাস্তবিক এবং সম্পূর্ণ অভিপ্রায়কে ব্যক্ত করতে নিতান্ত অক্ষম হয়েছেন। বেদের ভাষ্য করার শৈলী সেটাই হওয়া উচিত, যেটা আমি দুটো মন্ত্রের ভাষ্য করে এর পূর্বে দেখিয়েছি।
বেদের মূল অর্থ তো আধিদৈবিকই হয়, অন্য দুই প্রকারের অর্থ মূল অর্থের সঙ্গে কোথাও-না-কোথাও সঙ্গত থাকে। মূল অর্থ সার্বদেশিক ও শাশ্বত হয়, অথচ আধিভৌতিক অর্থ ভিন্ন-ভিন্ন লোকের মননশীল প্রাণীর জন্য ভিন্ন-ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু আধ্যাত্মিক অর্থও শাশ্বত আর সার্বদেশিক হয়। সারাংশ হল, বেদের আধিদৈবিক ভাষ্য না করে কিংবা তাকে না জেনে অন্য দুই প্রকারের ভাষ্য অনিশ্চিতই হবে।
ঋষি দয়ানন্দ সময়াভাবের কারণে অনেক কম মন্ত্রের আধিদৈবিক ভাষ্য করেছেন। তিনি তৎকালীন রাষ্ট্রীয়, সামাজিক আর বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে দেখে মানুষকে আধ্যাত্মিক হওয়ার সঙ্গে-সঙ্গে লৌকিক ব্যবহারেও কুশল আর সর্বহিতৈষী বানানোর ভাবনায় প্রায়শঃ আধিভৌতিক আর আধ্যাত্মিক অর্থই করেছেন। তিনি কেবল সংস্কৃত ভাষাতেই তাঁর ভাষ্য করেছেন, হিন্দি অনুবাদ তাঁর সহযোগী পণ্ডিতেরা করেছেন। এই কারণে সেই হিন্দি ভাষার মধ্যে অনেকত্র ত্রুটি রয়ে গেছে। কোথাও ত্রুটি না জেনে হয়েছে, তো কোথাও জেনে শুনে করা হয়েছে বলে মনে হয়।
বেদের অন্য আর্যসমাজী ভাষ্যকারেরা ঋষি দয়ানন্দের শৈলীর যথাশক্তি অনুসরণ করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু যেখানে তারা এমনটা করতে পারেন নি, সেখানে তারা আচার্য সায়ণ আদির অনুসরণ করতে বাধ্য হন। এই কারণে অনেকত্র ভারী দোষ এসে গেছে। এইসব বলার অর্থ এই নয় যে যেকোনো অনভিজ্ঞ ব্যক্তি বেদের উপরে আক্রমণ করার অধিকারী হয়ে যাবে। দুর্বল কাঁচের মহলে বাস করা ব্যক্তি যদি পাথরের মহলে বাস করা ব্যক্তির উপরে পাথর ফেলার দুঃসাহস করে, এটা অযৌক্তিকই হবে। এতকিছুর পরেও আমি এনার আক্ষেপের বিষয়ে কিছু কথা স্পষ্ট করতে চাইবো, সেগুলোর মধ্যে প্রথম হল নাস্তিক কাকে বলে?
ভগবান্ মনুর অনুসারে - "নাস্তিকো বেদবিন্দকঃ" অর্থাৎ যে ব্যক্তি বেদের নিন্দা করে, জ্ঞান-বিজ্ঞানের নিন্দা করে, জ্ঞানীদের শত্রু হয়, জ্ঞানের অনুসারে আচরণ করে না, মানুষকে অন্ধবিশ্বাসী করে তোলে, বিদ্যার বিরোধী করে তোলে, যারা স্বয়ং সত্য থেকে দূরে থাকে আর অন্যদেরও সত্য থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করে, তাকে নাস্তিক বলে। বেদ কোনো বিষয়কে বিচার-বিশ্লেষণ বা সত্যতা যাচাই না করে অন্ধভাবে বা জোরপূর্বক (বলাৎ) মেনে নেওয়ার উপদেশ দেয় না, বরং সেটা সত্য আর অসত্যকে জেনেই সম্পূর্ণ লোকব্যবহার করার উপদেশ করে। প্রাণীমাত্রের প্রতি মৈত্রী করা আর দুষ্টকে দণ্ড দেওয়ার উপদেশ করে। সম্পূর্ণ সৃষ্টির বৈজ্ঞানিক রহস্যের উদ্ঘাটন করে।
বেদ কোনো সাম্প্রদায়িক অথবা কোনো বর্গ ও দেশের গ্রন্থ নয়, বরং এটা হচ্ছে ব্রহ্মাণ্ডীয় গ্রন্থ। এর বিরোধ করার অর্থ হল বিরোধকারী ব্যক্তি সম্পূর্ণ সৃষ্টির জ্ঞান-বিজ্ঞানেরই বিরোধী হবে। এখন যেকোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি বিচার করে দেখুক যে এমন মহান জ্ঞান-বিজ্ঞানের গ্রন্থ বেদের বিরোধকারী মানবতার হিতৈষী হবে নাকি শত্রু হবে? অবশ্যই সে মানবতার প্রবল শত্রু হবে। তাহলে মানবতার শত্রুকে কেন দণ্ড দেওয়া হবে না? এইভাবে আমি ঈশ্বরের বিরোধ করার আক্ষেপের উপরেও বিচার করবো।
বেদোক্ত ঈশ্বর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বর্ণিত কাল্পনিক ঈশ্বর নয়, তিনি সপ্তম আকাশ অথবা চতুর্থ আকাশের উপর সিংহাসনে বসে থাকা খুদা নন, যাকে তুলে ধরার জন্য ফারিস্তাদের আবশ্যকতা হয়। তিনি মানুষ আর মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ ও হিংসা উৎপন্নকারী খুদা নন। তিনি নিজ-নিজ ক্ষেত্রের মধ্যে বসবাসকারী মানুষকে অকারণে পথভ্রষ্ট করা বা দিশা নির্দেশকারী নন। তিনি নিজেরই সন্তানরূপ পশু-পক্ষীকে মেরে খাওয়ার উপদেশকারীও নন। তিনি সৃষ্টির বিষয়ে নিতান্ত কাল্পনিক এবং হাস্যকর কাহিনী শোনান না। তিনি কৈলাশ পর্বত, ক্ষীর সাগর আদিতে থাকা শরীরধারী ঈশ্বরও নন।
বেদোক্ত ঈশ্বর হলেন এমন সর্বব্যাপক, সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমতী, সর্বকল্যাণকরিণী এবং নিরাকার চেতনের নাম, যিনি সৃষ্টির সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্ম আর স্থূল থেকে স্থূল পদার্থের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে ব্যাপ্ত হয়ে আছেন, যিনি জীবমাত্রের কল্যাণ করার জন্যই সৃষ্টির রচনা করেছেন আর সব মানুষকে এমনই উপদেশ করেন। এইরূপ সেই সর্বোচ্চ সামর্থ্যবান চেতনস্বরূপ ঈশ্বরের পূজার অর্থ এই নয় যে মন্দিরে গিয়ে তাঁকে প্রসাদ চড়ানো হবে, আর এমনও নয় যে মসজিদ, চার্চ আর গুরুদ্বারে গিয়ে বিভিন্ন প্রকারের কর্মকাণ্ড করা হবে, বরং ঈশ্বরের পূজার অর্থ হল য়ম-নিয়মের পালন সহিত অর্থাৎ পূর্ণ সত্যবাদী, জীবমাত্রের প্রতি প্রেম করা, নিজের ইন্দ্রিয়কে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সৃষ্টির ঠিক-ঠিক জ্ঞান প্রাপ্ত করার চেষ্টাকারী হয়ে নিরন্তর পরোপকার করার চেষ্টা করতে থাকা আর এমন করার পাশাপাশিই ধ্যান, উপাসনা আদি করা।
যতক্ষণ পর্যন্ত এমন হবে না অথবা যে ব্যক্তি এমন করার চেষ্টা করবে না, তাকে ঈশ্বরের পূজা না করা মানা উচিত। এমন ব্যক্তিই দুষ্ট আর অধার্মিক হয়। আজ এমন ব্যক্তির সংখ্যাই সংসারের মধ্যে অধিক আছে, এইজন্য সারা সংসার দুঃখী হয়ে আছে। পূজা-নামাজ আর প্রার্থনার আডম্বর অনেক হচ্ছে, কল্পিত ঈশ্বরের উপরে ভাষণ দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু এই মানুষগুলো সত্যের সঙ্গে সম্বন্ধ ভেঙে দিয়েছে। এমন লোকেদের কি দণ্ডণীয় হওয়া উচিত নয়?
বস্তুতঃ ঈশ্বর, পূজা এবং বেদ এই তিনটার সত্য স্বরূপকে না জানার কারণেই আপনি বেদের বিষয়ে নিতান্ত বিভ্রান্তে আছেন অথবা আপনার কুরআনের মধ্যে বর্ণিত হিংসাদি পাপগুলোকে সঠিক বলে গণ্য করার জন্যই বিদ্বেষবশত বেদের উপরেও এমন অভিযোগ করছেন। একদিকে তো ভাষ্যকার আর অনুবাদকদের দোষ, অন্যদিকে পূর্বাগ্রহ আর বিদ্বেষবশত এই ভাষ্য আর অনুবাদগুলোকে পঠনকারীর দোষ, এইভাবে মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে গেছে। যদি কেউ বাস্তবে সত্যের জিজ্ঞাসু হন, তাহলে তিনি আমার এই দুটো ভাষ্যকে পড়েই বাস্তবিকতাকে জেনে যাবেন আর বেদের অনুগামী হয়ে যাবেন, কিন্তু বুদ্ধিহীন আর পূর্বাগ্রহী ব্যক্তির জন্য সংসারের মধ্যে কোনো ওষুধ নেই।
এই স্পষ্টিকরণের পশ্চাৎ আপনার অন্য অভিযোগের উপরে বিচার করবো।
আক্ষেপ -
Atharva Veda 4.31.7
"Let the King [Varuna] and Manyu, the warm emotion give us the wealth of both kinds- earned and gathered.
Let our enemies overwhelmed with terror in their mind and spirit and defeated in their design run away."
- Tr. Vaidyanath Shastri.
Tasks Acharya also writes about terror, Nirukta 10.21... These are hemistichs. Like a spear hurled, it inspires terror (among enemies) or courage (among friends)...
এখানেও আক্ষেপকর্তা বেদের মধ্যে শত্রুকে আতঙ্কিত করা তথা ভক্তদের ধনাদি দেওয়ার অভিযোগে করেছেন।
.
উত্তর - আমি এরপূর্বে এটা বুঝিয়েছি যে বৈদিক সংস্কৃতির মধ্যে চোর, ডাকাত, ছিনতাইবাজ, দুরাচারী আর অন্যায়কারী ব্যক্তিদেরই দুষ্ট আর শত্রু বলা হয়েছে। বস্তুতঃ এমন ব্যক্তিরা মানবতার শত্রু হয়, তাদের অবশ্যই দণ্ড দেওয়া উচিত। এখানে আচার্য বৈদ্যনাথ শাস্ত্রীর দ্বারা করা ইংরাজী অনুবাদটাও পূর্বের অনুবাদের মতো অতি সামান্য আর অস্পষ্ট আছে, কিন্তু সেগুলোর ভাবকে জানতে হলে আপনাকে বৈদিক সংস্কৃতির সঙ্গে নিষ্পক্ষতাপূর্বক অবগত হতে হবে আর আমার দ্বারা এপর্যন্ত করা সমাধানকেও বুদ্ধি আর হৃদয়ের মধ্যে বসাতে হবে। এই অনুবাদের মধ্যে আপনি কোন দোষটা দেখেছেন?
.
এই মন্ত্রের উপর আমি নিজের শৈলীতে বিচার করবো -
সম্সৃষ্টম্ ধনমুভয়ম্ সমাকৃতমস্মভ্যম্ ধত্তাম্ বরুণশ্চ মন্যুঃ। ভিয়ো দধানা হৃদয়েষু শত্রবঃ পরাজিতাসো অপ নি লয়ন্তাম্।। (অথর্ববেদ ৪.৩১.৭)
.
এর ঋষি হল ব্রহ্মাস্কন্দ।[ব্রহ্মা = বলম্ বৈ ব্রহ্মা (তৈত্তিরীয় সংহিতা ৩.৮.৫.২)] এর অর্থ হল এই ছন্দ রশ্মির উৎপত্তি এমন কিছু বিশেষ ঋষি রশ্মির দ্বারা হয়, যা উপযোগী বলগুলোকে গতি প্রদান করে অর্থাৎ সেগুলোকে সমৃদ্ধ করে আর অনুপযোগী অথবা বাধক বলগুলোকে শোষিত করে নেয় অর্থাৎ সেগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এর দেবতা হল মন্যু আর ছন্দ হল জগতী। "মন্যু" বিষয়ে মহর্ষি য়াস্ক বলেছেন -
মন্যুঃ মন্যতের্দীপ্তিকর্মণঃ ক্রোধকর্মণো বধকর্মণো বা মন্যন্ত্যস্মাদিষবঃ (নিরুক্ত ১০.২৯)। এর অর্থ হল এই ছন্দ রশ্মির প্রভাবে অনিষ্ট এবং বাধক পদার্থকে ধ্বংসকারী রশ্মিগুলো আকাশের মধ্যে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত স্পন্দিত হতে থাকে আর সম্পূর্ণ পদার্থের মধ্যে উজ্জ্বল বর্ণের উৎপত্তি বা সমৃদ্ধি হতে থাকে। এর ভাষ্য এইরকম হবে -
আধিদৈবিক ভাষ্য -
(বরুণঃ, চ, মন্যুঃ) [বরুণঃ = স য়দগ্নির্ঘোরসম্স্পর্শস্তদস্য ( = অগ্নেঃ) বারুণম্ রূপম্ (ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ৩.৪), য়ঃ প্রাণঃ স বরুণঃ (গোপথ ব্রাহ্মণ উত্তরভাগ ৪.১১), অপানো বরুণঃ (শতপথ ব্রাহ্মণ ৮.৪.২.৬), ব্যানো বরুণঃ (শতপথ ব্রাহ্মণ ১২.৯.১.১৬)] এই ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে যেখানেই অতি তীক্ষ্ম অগ্নি বিদ্যমান আছে, সেখানে প্রাণ, অপান এবং ব্যানের ত্রিক সূক্ষ্ম বাধক পদার্থকে নষ্ট করার জন্য তেজস্বী হয়ে ওঠে, এই ত্রিক পদার্থকে সংকুচিত আর ঘনীভূতও করে। (সম্সৃষ্টম্, সমাকৃতম্, উভয়ম্, ধনম্) দুই প্রকারের অর্থাৎ ভালোভাবে মিশ্রিত সূক্ষ্ম পদার্থ এবং ভালো করে আকার প্রাপ্ত করা পদার্থ অর্থাৎ মূর্ত আর অমূর্ত উভয় প্রকারের পদার্থের দ্বারা (অস্মভ্যম্, ধত্তাম্) এই ছন্দ রশ্মির কারণরূপ ঋষি রশ্মিগুলোকে ধারণ করে রাখে।
(পরাজিতাসঃ) যেসব বাধক ও অনিষ্ট পদার্থকে এই ত্রিক রূপ রশ্মি সমূহ পরাজিত করে রেখেছে, সেগুলোর (হৃদয়েষু) [হৃদয়ম্ = আত্মা বৈ মনো হৃদয়ম্ (শতপথ ব্রাহ্মণ ৩.৮.৩.৮), হৃদয়ম্ বৈ স্তোমভাগাঃ (শতপথ ব্রাহ্মণ ৮.৬.২.১৫)] ভিতরে বিদ্যমান সূত্রাত্মা বায়ু এবং অন্য রশ্মির মধ্যে (ভিয়ঃ, দধানাঃ) অনেক প্রকারের তীব্র কম্পনকে উৎপন্ন করে দেয়, যারফলে (শত্রবঃ, অপ, নি, লয়ন্তাম্) সেই বাধক বা হিংসক পদার্থ খণ্ড-খণ্ড হয়ে সুদূর আকাশের মধ্যে লীন হয়ে যায় অর্থাৎ সূক্ষ্ম ভাগে পরিণত হয়ে অশক্তরূপে আকাশ তত্ত্বের মধ্যে বিলীন হয়ে যায়।
.
ভাবার্থ - এই ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে যেখানেই তীব্র উষ্মা বিদ্যমান আছে, সেখানে সমস্ত বাধক আর অনিষ্ট পদার্থ ছিন্ন-ভিন্ন বা নষ্ট হয়ে যায়। সেইসব ছিন্ন-ভিন্ন পদার্থ আকাশ তত্ত্বের মধ্যে বিলীন হয়ে যায়। সূক্ষ্ম পদার্থের পরস্পর সংযোজনও উচ্চ তাপযুক্ত অবস্থার মধ্যেই হয়।
.
আধিভৌতিক ভাষ্য -
(বরুণঃ, চ, মন্যুঃ) বিদ্বান সজ্জনদের দ্বারা বরণীয়, দুষ্ট জনদের বাঁধনকারী এবং অপরাধীদের উপরে ক্রোধ করে এমন শ্রেষ্ঠ রাজা (সম্সৃষ্টম্) রাষ্ট্রের মধ্যে উৎপন্ন অন্নাদি ভোজ্য পদার্থ এবং খনিজ আদি বিভিন্ন প্রকারের পদার্থ (সমাকৃতম্) প্রজার থেকে সংগৃহীত করা কর (উভয়ম্, ধনম্) এই দুই প্রকারের ধনকে (অস্মভ্যম্, ধত্তাম্) আমাদের প্রজাজনকে সমুচিত রূপে প্রদান করবেন। (পরাজিতাসঃ, শত্রবঃ) তিনি পরাজিত হওয়া দুষ্ট শত্রুর (হৃদয়েষু, ভিয়ঃ, দধানাঃ) হৃদয়ে ভয় উৎপন্ন করেন, যারফলে (অপ, নি, লয়ন্তাম্) সেই শত্রুরা দূরে পালিয়ে যায়, পুনরায় কখনও ফিরে আসে না অথবা তারা শত্রুতার ব্যবহারকেই সর্বথা ত্যাগ করে দেয়।
.
ভাবার্থ - যেকোনো রাষ্ট্রের রাজা বিদ্বান সদাচারিদের দ্বারাই চয়ন করা উচিত। এমন রাজার কর্তব্য হল তিনি রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ সম্পত্তির বাস্তবিক স্বামিনী প্রজাকেই ভাববেন আর সেটা প্রজার কল্যাণের জন্যই ব্যয় করবেন। সেই রাজা অপরাধী এবং রাষ্ট্র ও সমাজ বিরোধী তত্ত্ব এবং বিদেশী শত্রুকে যথাপরাধ কঠিন দণ্ড দিবেন, যাতে তারা রাষ্ট্রের কোনো হানি না ঘটাতে পারে।
.
আধ্যাত্মিক ভাষ্য -
(বরুণঃ, চ, মন্যুঃ) সবার বরণীয় সর্বোৎকৃষ্ট মন্যুরূপ পরমেশ্বর (সম্সৃষ্টম্) আমাদের ক্রিয়মাণ কর্ম (সমাকৃতম্) এবং সঞ্চিত কর্ম (উভয়ম্, ধনম্, অস্মভ্যম্, ধত্তাম্) উভয়ের অনুসারে আমাদেরকে সাংসারিক পদার্থ আর বুদ্ধি আদি ইন্দ্রিয় প্রদান করেন। (হৃদয়েষু, ভিয়ঃ, দধানাঃ) সেই পরমেশ্বর বিভিন্ন প্রকারের পাপ কর্মের প্রতি পবিত্র হৃদয় যুক্ত মানুষের হৃদয়ে ভয়, লজ্জা, শঙ্কা আদি উৎপন্ন করেন, (পরাজিতাসঃ, শত্রবঃ) যারদ্বারা বিভিন্ন প্রকারের পাপরূপ শত্রু পরাজিত হয়ে (অপ, নি, লয়ন্তাম্) দূরে চলে যায়।
.
ভাবার্থ - এই সৃষ্টির মধ্যে পরমেশ্বরের থেকে অধিক কোনো শ্রেষ্ঠ আর উপাস্য সত্তা নেই। সেই ঈশ্বর তাঁর ন্যায়ানুসারে আমাদের এই জন্ম তথা পূর্ব জন্মে করা কর্মের অনুসারে ফল প্রদান করেন। যে সকল মানুষের অন্তঃকরণ পবিত্র আর শান্ত হয়, তাদের হৃদয়ে পরমাত্মা যেকোনো অনুচিত কর্ম করতে ইচ্ছা করার সময় ভয়, লজ্জা আর শঙ্কা উৎপন্ন করেন, যারফলে তারা পাপ কর্ম করার থেকে বেঁচে যায়। যদিও এই ভয়, লজ্জা আর শঙ্কা সকল মানুষের হৃদয়ে উৎপন্ন হয়, কিন্তু অবিদ্যাদি দোষে গ্রস্থ দুরাত্মা এবং অশান্তাত্মা সেটা অনুভব করতে পারে না। এই কারণে আমি এখানে পবিত্র অন্তঃকরণকারীর মধ্যে ভয়, লজ্জা, শঙ্কা আদি হওয়া বলেছি। এই কারণে প্রত্যেক মানুষের উচিত যে তারা বিদ্যার অভ্যাসের পাশাপাশি উপাসনার দ্বারা নিজ অন্তঃকরণকে পবিত্র আর শান্ত রাখার চেষ্টা নিরন্তর করতে থাকবেন, যাতে পরমেশ্বরের প্রেরণার দ্বারা তাদের কর্তব্যাকর্তব্যের সঠিক বোধ হতে থাকে।
.
বলুন সুলেমান রিজভী! আপনি এই মন্ত্রের মধ্যে কোথায় হিংসা দেখেছেন? আপনি তো অনুবাদকের অভিপ্রায়কেও বুঝতে পান না আর কাকবৎ চেষ্টা করে স্বচ্ছ-পরিষ্কার ত্বকের মধ্যেও ঘা করার চেষ্টা করেন। আপনি যে নিরুক্তের ভাষ্যটা দিয়েছেন, সেটাও কেবল অনুবাদই আছে। এটা কোন অংশের অনুবাদ, এটাও কি আপনার জ্ঞাত আছে? বলতে পারবেন না। চলুন কোনো ব্যাপার না, আমি আপনাকে বলে দিচ্ছি যে আপনি নিম্নলিখিত অংশের অনুবাদের ভাগ উদ্ধৃত করেছেন। নিরুক্তের সেই অংশটা হল এইরকম -
.
"সেনেব সৃষ্টা। ভয়ম্ বা বলম্ বা দধাতি। অস্তুরিব দিদ্যুত্ত্বেষপ্রতীকা ভয়প্রতীকা। বলপ্রতীকা য়শঃ প্রতীকাঃ। মহাপ্রতীকা দীপ্তপ্রতীকা বা।"
.
মহর্ষি য়াস্কের এই কথন হল "সেনেব সৃষ্টাম্ দধাত্যস্তুর্ন দিদ্যুত্ত্বেষপ্রতীকা" (ঋগ্বেদ ১.৬৬.৪) মন্ত্রের ভাষ্য। এর ব্যাখ্যা আপনার মতো ব্যক্তির মাথায় আসবে না।
আক্ষেপ -
Atharva Veda 5.20.4-5
"Let this war-drum victorious in the battle, loudly roaring and becoming the means of seizing whatever may be seized, be seen by all. Let this war-drum utter wonderful voice and let the army-controlling man capture the possessions of the enemies. Amid the conflict of the deadly weapons let the woman of enemy waked by the roar and afflicted run forward in her terror hearing the resounding and far reaching voice of the war-drum, holding her son in her hand."
- Tr. Vaidyanath Shastri.
দুন্দুভের্বাচম্ প্রয়তাম্ বদন্তীমাশৃণ্বতী নাথিতা ঘোষবুদ্ধা। নারী পুত্রম্ ধাবতু হস্তগৃহ্যামিত্রী ভীতা সমরে বধানাম্।।৫।।
.
দুন্দুভি বাদ্যের স্পষ্ট বেরিয়ে আসা ধ্বনিকে শুনে তার গর্জনে জেগে ওঠা রিপু-স্ত্রীগণ সংগ্রামে বীর (পতি) -দের মরে যাওয়ার কারণে আতঙ্কিত হয়ে নিজ পুত্রের হাত ধরে পালিয়ে যাবে।
.
এখানেও পূর্ববৎ আক্ষেপ করা হয়েছে।
.
উত্তর - এখানে যে মন্ত্রটা উদ্ধৃত করা হয়েছে, তার ঋষি হল ব্রহ্মা। [ব্রহ্মা = প্রাণদেবত্যো বৈ ব্রহ্মা (ষড্বিংশ ব্রাহ্মণ ২.৯)] এর অর্থ হল এই ছন্দ রশ্মির উৎপত্তি বিভিন্ন প্রাণ রশ্মির দ্বারা হয়। বিভিন্ন বলকে উৎপন্ন করতে যখন প্রাণ রশ্মির ভূমিকা হয়, সেই সময়ই এই ছন্দ রশ্মি প্রকট হয়, বিশেষ করে অত্যন্ত তীব্র ভেদক বল উৎপন্ন হওয়ার সময়। এর দেবতা হল দুন্দুভি, যার চর্চা আমি পূর্বে করেছি। এর ছন্দ হল ত্রিষ্টুপ্। এই কারণে এর দৈবত প্রভাব আক্ষেপ সংখ্যা ৩ এরমধ্যে নির্দিষ্ট মন্ত্রের দৈবত প্রভাবের সমান হয়। এর ছান্দস প্রভাবে তীব্র বল উৎপন্ন হয় আর রক্তবর্ণীয় তেজও উৎপন্ন হতে থাকে। এর ভাষ্য এইরকম হবে -
আধিদৈবিক ভাষ্য - (দুন্দুভেঃ) দুন্দুভি সংজ্ঞক পূর্বোক্ত সংযোজক ঊর্জা (প্রয়তাম্, বদন্তীম্) প্রকৃষ্ট রূপে পদার্থকে নিয়ন্ত্রণকারী তীব্র গতিযুক্ত (বাচম্) বাক্ রশ্মিগুলোকে (সমরে, বধানাম্) হিংসক পদার্থের সংগ্রাম বা সংঘর্ষের সময় (আমিত্রী, নারী) [নারী = য়জ্ঞনাম (নিঘন্টু ৩.১৭), পুমাম্সো বৈ নরঃ স্ত্রিয়ো নার্য়ঃ (ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ৩.৩৪)] বাধক অসংযোগযোগ্য পদার্থ দিয়ে ঘেরা য়োষা রূপ কণা বা রশ্মি আদি পদার্থ (ঘোষবুদ্ধা) তীব্র বাক্ রশ্মির দ্বারা সক্রিয় হওয়া (নাথিতা) [নাথিতা পদ 'নাথৃ য়াচ্ঞোপতাপৈশ্বর্য়াऽऽশীঃষু' ধাতু দ্বারা ব্যুৎপন্ন হয়।] বৃষারূপ রশ্মি বা কণা আদি পদার্থের দ্বারা আকৃষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত থেকে (ভীতা) কম্পন করে (আশৃণ্বতি) নিজের চারিদিকে গমন করা বাক্ রশ্মির কারণে চাঞ্চল্যতা তৈরি করে (পুত্রম্, হস্তগৃহ্য) [পুত্রম্ = পুত্রো বৈ বীরঃ (শতপথ ব্রাহ্মণ ৩.৩.১.১২) প্রাণা বৈ দশ বীরাঃ (শতপথ ব্রাহ্মণ ১২.৮.১.২২)] প্রাণাপানাদি প্রাণ রশ্মির হরণশীল বলকে প্রাপ্ত করে (ধাবতু) শুদ্ধ হয়ে অর্থাৎ বাধক ও অসংযোগযোগ্য পদার্থ থেকে মুক্ত হয়ে বৃষা রূপ পদার্থের দিকে গমন করতে থাকে।
.
ভাবার্থ - এই সৃষ্টির মধ্যে সর্বদা প্রকাশিত আর অপ্রকাশিত এমন তীক্ষ্ম রশ্মি উৎপন্ন হয়, যা তীব্র ধ্বনি উৎপন্ন করতে-করতে বাধক পদার্থের উপর প্রহার করে আর অপ্রকাশিত পদার্থের মাঝে ফেঁসে থাকা প্রকাশিত পদার্থকে মুক্ত করে দেয়। ধ্যাতব্য হল, প্রকাশিত পদার্থ দুই প্রকারের হয়, যার মধ্যে প্রথম প্রকারের পদার্থ পুরুষের সমান ব্যবহার করে। বাধক ও অসংযোগযোগ্য পদার্থ থেকে মুক্ত হওয়া এই পদার্থ পরস্পর সংযোগ করে বিভিন্ন প্রকারের পদার্থের রচনা করে।
.
আধিভৌতিক ভাষ্য - এখানে আপনিও কারও ভাষ্য হিন্দিতে দিয়েছেন, যেটা ভাবার্থ রূপেই আছে। এর ভাষ্য আর্য বিদ্বান পণ্ডিত ক্ষেমকরণদাস ত্রিবেদী এইরকম করেছেন -
দুন্দুভের্বাচম্ প্রয়তাম্ বদন্তীমাশৃণ্বতী নাথিতা ঘোষবুদ্ধা। নারী পুত্রম্ ধাবতু হস্তগৃহ্যামিত্রী ভীতা সমরে বধানাম্।। (অথর্ববেদ ৫.২০.৫)
.
ভাবার্থ - (দুন্দুভেঃ) দুন্দুভির (প্রয়তাম্) নিয়মযুক্ত, (বদন্তীম্) প্রতিধ্বনিত হয়ে (বাচম্) ধ্বনিকে (আশৃণ্বতী) শ্রবণ করে, (ঘোষবুদ্ধা) গর্জনে জেগে ওঠা, (নাথিতা) অধীন হওয়া, (বধানাম্) মারূশাস্ত্রের (সমরে) সমরের মধ্যে (ভীতা) আতঙ্কিত (আমিত্রী) প্রতিপক্ষের (নারী) নারী (পুত্রম্) পুত্রকে (হস্তগৃহ্য) হাতে ধরে (ধাবতু) পালিয়ে যাবে।
.
ভাবার্থ - যোদ্ধাগণ নিয়মপূর্বক দুন্দুভি বাজাবে, যাতে শত্রুরা পরাজিত হয় আর তাদের স্ত্রী আদিও ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়।
.
এই ভাষ্যের উপরে আপনার কি আপত্তি আছে? আপনার কুরআনের মধ্যে তো শত্রুর মহিলা আর বাচ্চাদের লুট করার বিধান আছে আর এই বর্বরতাপূর্ণ কামুকতার তাণ্ডব সারা সংসার দেখেছে আর এই কারণেই ভারতবর্ষের হাজার-হাজার ক্ষত্রাণি জীবিত অবস্থায় চিতার মধ্যে জ্বলতে বাধ্য হয়েছিল। সেটা তো আপনার ভালো লাগবে? এখানে বেদ তো কেবল দুষ্ট অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করার অনুমতি দিয়েছে আর যুদ্ধও অন্তিম বিকল্প হয়। সেই যুদ্ধেরও নিশ্চিত নিয়ম আর মর্যাদা আছে। এমন মর্যাদার কারণেই এখানে স্ত্রী আর বাচ্চাদের যুদ্ধস্থল থেকে দূরে পালিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে, যাতে তারা সুরক্ষিত থাকতে পারে, তাদের লুট করতে বা মেরে ফেলার জন্য তো বলা হয়নি। তবে হ্যাঁ, স্ত্রীও যদি হিংসক হয়ে যুদ্ধ করে বা অত্যাচার করে, তাহলে তাকেও দণ্ডিত করার বিধান আছে।
.
আধ্যাত্মিক ভাষ্য - (দুন্দুভেঃ) [দুন্দুভিঃ = পরমা বা এষা বাগ্ য়া দুন্দুভৌ (তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ ১.৩.৬.২.৩), দুন্দুভ্যতের্বা স্যাচ্ছব্দকর্মণঃ (নিরুক্ত ৯.১২)] সৃষ্টির প্রারম্ভে বেদের উপদেষ্টা, যাঁর মধ্যে পরম বাক্ অর্থাৎ বেদ বাক্ সর্বদা বিদ্যমান থাকে, সেই পরমাত্মা থেকে (প্রয়তাম্) সঠিকভাবে ব্যবস্থিত হওয়া (বদন্তীম্) বিভিন্ন প্রকারের ছন্দের রূপে উচ্চারিত ও প্রকাশিত হওয়া (বাচম্) বেদবাণীকে (আশৃণ্বতী) ব্রহ্মের মধ্যে স্থিত য়োগীর আত্মা চারিদিক থেকে অনুভব করে (ঘোষবুদ্ধা) সেই বেদবাণীর ঘোষ দ্বারা জেগে ওঠে অর্থাৎ যেভাবে রাত্রির অন্ধকারে শুয়ে থাকা মানুষ উষাকাল হওয়া মাত্র জেগে ওঠে, সেইভাবে বেদবাণীর ঘোষে অজ্ঞানরূপী অন্ধকার সর্বথা সমাপ্ত হয়ে জ্ঞানের প্রকাশ হয়ে যায়। একেই আত্মার জাগরণ বলা হয়েছে। (নাথিতা) সেই আত্মা পরব্রহ্ম পরমাত্মার সানিধ্যে অলৌকিক ঐশ্বর্যকে প্রাপ্ত করে।
.
(বধানাম্, সমরে) [বধ = বলনাম (নিঘন্টু ২.৯), বজ্রনাম (নিঘন্টু ২.২০)। সমরঃ = সম্+ঋ গতিপ্রাপণয়োঃ ধাতোঃ 'ঋদোরপ্' ইত্যপ্ অথবা শম অব্যৈক্লব্যে ধাতোর্বাহুলকাত্ ঔণাদিক অরঃ প্রত্যয়ঃ (বৈদিক কোষ)] পরমাত্মার সাক্ষাৎকারে মহান আত্মবল প্রাপ্ত করলে পরে সেই প্রশান্তাত্মা (ভীতা, আমিত্রী, নারী) থেকে ভয়ভীত হয়ে [নারী= নারাণামিয়ম্ ক্রিয়া (মহর্ষি দয়ানন্দ য়জুর্বেদ ভাষ্য ৫.২২)] তার অন্তঃকরণের মধ্যে বিদ্যমান পূর্ব অনিষ্ট ক্রিয়াগুলো অর্থাৎ কর্ম, যা ঈশ্বর থেকে বিমুখকারী হয়, (পুত্রম্, হস্তগৃহ্য, ধাবতু) সেগুলো নিজ সন্তানরূপ ফলকে সঙ্গে নিয়ে দূরে পালিয়ে যায়।
.
ভাবার্থ - যখন কোনো য়োগী য়োগসাধনা করেন, তখন তিনি অন্তরীক্ষস্থ বেদের ঋচা পরা ও পশ্যন্তী রূপে উপলব্ধ করেন। বেদের সেই ঋচার উৎপত্তিকর্তাও সেই পরমেশ্বর হন, যিনি এই সৃষ্টির উৎপত্তি করেছেন। সেই বেদবাণীকে শুনে আর তার অর্থের বোধ করে য়োগী পুরুষ পরমাত্মার প্রতি পূর্ণ সমর্পণযুক্ত হয়ে তাঁর মধ্যেই মগ্ন হয়ে যান। সেই সময় য়োগীর চিত্তে পূর্ব জন্মের কিছু অবাঞ্ছিত সংস্কার আর বাসনার সঙ্গে তার সংঘর্ষ হতে থাকে। এই সংঘর্ষের মধ্যে যে সকল অনিষ্ট কর্মের সংস্কার এবং বিচার বিদ্যমান থাকে, সেইসব নিজের সম্ভাবিত ফলের সঙ্গে দূরে চলে যায় বা নষ্ট হয়ে যায়। এইভাবে ধীরে-ধীরে সেই য়োগীর সমস্ত পূর্ব সংস্কার দগ্ধবীজ হয়ে যায় আর সেই য়োগী মুক্তির পথে চলে যান।
.
সূচনা - এপর্যন্ত আমি সব মন্ত্রের তিন প্রকারের ভাষ্য প্রস্তুত করেছি, কিন্তু এই আক্ষেপকর্তার বৌদ্ধিক দুর্বলতা এবং পূর্বাগ্রহগ্রস্থতা দেখার পশ্চাৎ এখন আমি উপলব্ধ ঋষি দয়ানন্দ বা আর্য বিদ্বানদের ভাষ্য দিয়েই সমাধান প্রস্তুত করার চেষ্টা করবো। কোথাও আবশ্যকতা হলে তবেই নিজের ভাষ্য করবো, সেটাও কেবল আধিভৌতিক ভাষ্য, কারণ আক্ষেপও আধিভৌতিক ভাষ্যের সঙ্গে সম্বন্ধিত। এখন আক্ষেপের উত্তর মাত্র দেওয়া আমার কর্তব্য হবে, বেদের গম্ভীর বিজ্ঞানকে উদ্ঘাটিত করা নয়।
.
এর কারণ হল দুর্বল বুদ্ধিযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য এতটা পরিশ্রম করা আমার উচিত বলে মনে হয় না। যারা তীব্র বুদ্ধি ও জিজ্ঞাসু প্রবৃত্তির পাঠক হবেন, তারা আমার এই পাঁচটা আক্ষেপের উত্তর এবং ভূমিকা থেকেই বেদের শ্রেষ্ঠতাকে বুঝে নিবেন। অধিক জ্ঞানের পিপাসু আমার অন্য গ্রন্থ, যার চর্চা আমি পূর্বেই করেছি, সেগুলো পড়তে পারবেন, সেগুলো না পড়ে বেদের বিজ্ঞানকে বোঝা একদমই সম্ভব নয়।
আক্ষেপ -
Rig Veda 1.103.6
"...The Hero, watching like a thief in ambush, goes parting the possessions of the Godless." - Tr. Ralph T.H. Griffith
.
উত্তর - এখানে এই মহাশয় ঈশ্বরকে চোর বলছেন আর তার জন্য গ্রিফিথ দ্বারা করা ইংরাজী অনুবাদ প্রস্তুত করেছেন, যেন গ্রিফিথ কোনো বেদের অনেক বড় বিদ্বান হন। যেসব বিদেশী ভাষ্যকারের উদ্দেশ্যই ছিল বেদকে বদনাম করা, তাকে প্রমাণ রূপে প্রস্তুত করা দুর্ভাবনারই পরিচায়ক হবে। আপনি আপনাদের চতুর্থ আর সপ্তম আকাশে বসবাস রত ঈশ্বরের লীলা তো দেখতে পান না, এইদিকে অভিযোগ করতে চলে এসেছেন।
.
স্বামী সত্যপ্রকাশ সরস্বতীর অনুবাদের ক্ষেত্রে বলতে গেলে, তিনি তো ঈশ্বরকে নাস্তিক আর জনতার শোষক অর্থাৎ চোর, ডাকু আর জ্ঞানের শত্রুর কাছ থেকে ধন ছিনিয়ে নিয়ে সৎ ব্যক্তিদের দেওয়ার কথা বলেছেন, তাঁকে আপনি কিভাবে চোর বলতে পারেন? মুসলিম আর ঈশাই আক্রান্তা ভারতবর্ষের ধন লুট করে নিয়ে গেছে, আপনার দৃষ্টিতে সেটা কি ভালো ছিল? আর দুষ্টের কাছ থেকে ধন নিয়ে সজ্জনকে দেওয়া কিভাবে চুরি হয়ে গেল? এই সংস্কার আপনার হতে পারে, আমার নয়।
.
এখন আমি এখানে ঋষি দয়ানন্দের ভাষ্য প্রস্তুত করবো -
ভূরিকর্মণে বৃষভায় বৃষ্ণে সত্যশুষ্মায় সুনবাম
সোমম্। য় আদৃত্যা পরিপন্থীব শূরোऽয়জ্বনো বিভজন্নেতি বেদঃ।। (ঋগ্বেদ ১.১০৩.৬)
পদার্থ - (ভূরিকর্মণে) বহুকর্মকারিণে (বৃষভায়) শ্রেষ্ঠায় (বৃষ্ণে) সুখপ্রাপকায় (সত্যশুষ্মায়) নিত্যবলায় (সুনবাম) নিষ্পাদয়েম (সোমম্) ঐশ্বর্য়্যসমূহম্ (য়ঃ) (আদৃত্য) আদরম্ কৃত্বা (পরিপন্থীব) য়থা দস্যুস্তথা চৌরাণাম্ প্রাণপদার্থহর্ত্তা (শূরঃ) নির্ভয়ঃ (অয়জ্বনঃ) য়জ্ঞবিরোধিনঃ (বিভজন্) বিভাগম্ কুর্বন্ (এতি) প্রাপ্নোতি (বেদঃ) ধনম্।
.
ভাবার্থ - অত্রোপমালঙ্কারঃ। মনুষ্যৈর্য়ো দস্যুবৎ প্রগল্ভঃ সাহসী সন্ চৌরাণাম্ সর্বস্বম্ হৃত্বা সৎকর্মণামাদরম্ বিধায় পুরুষার্থী বলবানুত্তমো বর্ত্ততে, স এব সেনাপতিঃ কার্য়্যঃ।
.
পদার্থ - আমরা (য়ঃ) যিনি (শূরঃ) নির্ভীক পরাক্রমশালী পুরুষ (আদৃত্য) আদর সৎকার করে (পরিপন্থীব) যেমন সব প্রকারে মার্গে চলা ডাকু অন্যের ধন আদি সর্বস্ব হরণ করে নেয়, সেই রকম চোরের প্রাণ আর তাদের পদার্থকে ছিনিয়ে নিবেন সেই (বিভজন্) বিভাগ অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ আর দুষ্ট পুরুষদের পৃথক-পৃথক করে তাদের মধ্যে (অয়জ্বনঃ) যারা যজ্ঞ করে না তাদের (বেদঃ) ধনকে (এতি) ছিনিয়ে নেন, সেই (ভূরিকর্মণে) ভারী কর্মকারী (বৃষভায়) শ্রেষ্ঠ (বৃষ্ণে) সুখদায়ক (সত্যশুষ্মায়) নিত্য বলী সেনাপতির জন্য যেমন (সোমম্) ঐশ্বর্য়্য সমূহকে (সুনবাম) উৎপন্ন করে, সেইরকম তুমিও করবে।
.
ভাবার্থ - এই মন্ত্রের মধ্যে উপমালঙ্কার আছে। মানুষের উচিত যে যিনি ডাকু আদির মতো এমন ধৃষ্ট হবেন আর সাহস করে চোরের ধন আদি পদার্থকে হরণ করে সজ্জনদের আদর করে পুরুষার্থী বলবান উত্তম হতে উত্তম হবেন, তাকেই সেনাপতি করবে।
.
আমি এখানে বলতে চাইবো যে সর্বপ্রথমে তো আপনি যজ্ঞ শব্দের অর্থ বুঝে নিবেন, যাকে আমি পূর্বে বুঝিয়েছি। এখানে বলা হয়েছে যে যেমন কোনো চোর বলপূর্বক কোনো পথিকের ধন হরণ করে নেয়, সেইরকম বীর পুরুষের উচিত যে তিনি চোর-ডাকাতের ধনকে বলপূর্বক ছিনিয়ে নিবেন আর যেসব পরোপকারী সজ্জন ব্যক্তি আছেন, তাদের আদর করবেন আর এমন বীর পুরুষই সেনাপতি হবেন। বর্তমানেও তো ন্যায়প্রিয় শাসক চোরের দ্বারা চুরি করা ধনের হরণ করে যার ধন চুরি হয়েছে, তাকে দিয়ে দেয় অথবা সেই ধন রাজকোষের মধ্যে ব্যবহৃত হয় আর এমন অবশ্যই হওয়া উচিত। যতক্ষণ পর্যন্ত চোরের ধন ছিনিয়ে নেওয়া হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত চুরি-ডাকাতির মতো অপরাধ বন্ধ হবে না।
.
এখানে যজ্ঞকর্ম না করা ব্যক্তি এবং যজ্ঞ বিরোধীর থেকে ধন ছিনিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, সেটাও ঠিকই আছে, কারণ যারা পরোপকার করে না অথবা রাজ্যকে কর দেয় না, সেটা চুরি করাই হয়, তাহলে তার ধন যদি রাজা বা সেনাপতি ছিনিয়ে নেয়, তো সেটা উচিতই হবে, যারফলে সেই ধন রাষ্ট্রহিতে ব্যবহৃত হতে পারে। তবে হ্যাঁ, কোনো চোর ব্যক্তি অবশ্যই বেদের এই আদেশের বিরোধ করবে। এখন আপনাকে ভাবতে হবে যে আপনার কি করা উচিত?
No comments:
Post a Comment
ধন্যবাদ