মূর্ত্তিপূজা কি বেদক্ত ? - ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান, ধর্ম গ্রন্থ কি , হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়, ইসলাম খ্রীষ্ট মত বিষয়ে তত্ত্ব ও সনাতন ধর্ম নিয়ে আলোচনা

धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते-Theology

সাম্প্রতিক প্রবন্ধ

Post Top Ad

স্বাগতম

11 February, 2024

মূর্ত্তিপূজা কি বেদক্ত ?

শাস্ত্রার্থের পূর্বে 🍁
সজ্জনদের বিদিত হবে যে আর্য সমাজ বল্হারপুর (চাঁদা) তার সাপ্তাহিক অধিবেশন আট মাস যাবত শান্তিপূর্বক ভাবে করে আসছিল, কিন্তু পৌরাণিকরা সেটা সহ্য করতে পাচ্ছিল না, তাই তারা আর্য সমাজের উন্নতি দেখে দ্বন্দ্ব করা শুরু করে দেয় আর বলতে থাকে যে - "এই কুজাতিদের নিজের-নিজের স্থান থেকে বের করে দেওয়া উচিত। আরে এরা তো ঈশ্বরকেও মানে না।" কিছু ব্যক্তি একত্রিত হয়ে একটা সনাতন ধর্মসভাও বানিয়ে নেয়, তারপর আর কি? তাদের ১০৮ স্বামী সচ্চিদানন্দ জী আর্য সমাজের সংস্থাপন মহর্ষি দয়ানন্দ জীর নামে অভদ্র ভাষা আরম্ভ করেন যে - "তাঁর মাতা-পিতারও ঠিকানা নেই, না জানি কোন নীচ জাতির এই "হত্যানন্দী" ছিল যে একটা "হত্যার্থ প্রকাশ" নামক পুস্তক বানিয়েছে, সেখানে আমাদের মহাবীর আর দূর্গা দেবী পূজার খণ্ডন করেছে। সুতরাং কোনো পণ্ডিত জীকে ডেকে এই আর্যদের সমাজকে খণ্ড-খণ্ড করে দেওয়া উচিত।" সনাতনীরা ততকাল পত্র লিখে পণ্ডিত শ্যামবিহারী শাস্ত্রীকে প্রতাপগড় থেকে ডেকে আনে আর তিনি ভাগবত কথার অজুহাত করে আর্য সমাজের পণ্ডিতদের অনেক কুবাক্য বলেন। এক ঘন্টা ভাগবত হতো আর চার ঘন্টা আর্যদের নামে গালি প্রদান করতেন। শাস্ত্রার্থের জন্য আর্যদের চ্যালেঞ্জ দেন যে - "কারও দম থাকলে সংস্কৃত বা ভাষাতে আজ আমার সামনে আসুক। এখন আমি এখান থেকে এদের বিনা জাতি-পাতি থেকে নিষ্কাশিত করে ছাড়বো না, এরা সবাই ঈসাই-মুসলমানদের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করে।" এইসব শুনে শ্রী সুরজু ঠেকেদার যিনি আর্য সমাজ বল্হারপুরের মন্ত্রী ছিলেন, একটা টেলিগ্রাম গুরুকূল বৃন্দাবন মথুরাকে দেন যে একজন ভালো যোগ্য পণ্ডিত পাঠিয়ে দিন "এখানে পৌরাণিকদের সঙ্গে শাস্ত্রার্থ হবে"। এর জবাবে উত্তর আসে যে শ্রী পণ্ডিত রামাশ্রয় জী শাস্ত্রীকে দানাপুরে (বিহার) টেলিগ্রাম করা হয়েছে, অবশ্যই আসবেন। শ্রী পণ্ডিত জী সেই সময় শ্রী মতি আর্য প্রতিনিধি সভা সংযুক্ত প্রান্তের উপদেশক ছিলেন। তারপর আর কি! আমরাও প্রসন্ন চিত্ত হয়ে নিয়ম নির্ধারিত করতে উদ্যত হয়ে যাই, এরমধ্যে রাত্রি আটটাতে আমাদের শাস্ত্রী জীও এসে পড়েন, সারা গ্রাম-নগর এলাকায় সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে যে কাল ২৮/৯/১৪ তারিখে "মূর্তিপূজা" বিষয়ের উপর শাস্ত্রার্থ হবে।
পুলিশ ইন্সপেক্টরও শ্রী সরকল সাহেব আর্যসমাজ আর সনাতন ধর্মের দুই মন্ত্রীকে নিজের ওখানে ডেকে ১০০ টাকার স্বীকারোক্তি নিয়ে নেন, যাতে শাস্ত্রার্থের মধ্যে যদি কেউ তালি বাজায় বা হইচই করে তাহলে তার টাকা জব্দ করে আরও উচিত পদক্ষেপ নিবেন। জয়-পরাজয়ের নির্ণয় মধ্যস্থ ব্যক্তিরা করবেন, সব নিয়ম নির্ধারিত হয়ে শ্রী ১০৮ স্বামী সচ্চিদানন্দ জী সরস্বতী (সনাতনী) আর স্বামী আত্মানন্দ জী সরস্বতী আর শ্রী পণ্ডিত রামপ্রসাদ জী শর্মা (মন্ত্রী - সনাতন ধর্মসভা) মধ্যস্থ হয়ে শ্রী সরকল সাহেব পুলিশ ইন্সপেক্টরের প্রবন্ধে শাস্ত্রার্থ নিশ্চিত করা হয়।
✍️"সুরজু প্রসাদ ঠেকেদার"
মন্ত্রী - আর্য সমাজ বল্হারপুর (চাঁদা)
Note - এই শাস্ত্রার্থ প্রথমবার "শ্রী পণ্ডিত মনোহরলাল জী মিশ্র"র প্রবন্ধে ইন্ডিয়ান প্রেস কানপুরে সন ১৯১৪ মুদ্রিত হয়েছিল, তারপর এখন প্রকাশিত হচ্ছে। এর প্রকাশনের ভার সেই সময় "শ্রী বৈদ্য পণ্ডিত কাশীনাথ শর্মা" মন্ত্রী আর্য সমাজ চৌক (কানপুর) নিয়েছিলেন। এটা পড়লে অতীত কালের সম্পূর্ণ ঝলক পাওয়া যায় এবং আজকের যুগ আর সেই যুগের মধ্যে কত বড় পার্থক্য ছিল সেটা বোঝা যায়। তৎকালীন লোকের মধ্যে সাহস, প্রচার আর প্রয়াসের একটা উত্তম পরিচয় পাওয়া যায়। বর্তমান আর্য প্রচারক আর অধিকারীগণ চাইলে সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।
সংগ্রহকর্তা -
লাজপত রায় অগ্রয়াল
🍁 শাস্ত্রার্থ আরম্ভ 🍁
🔵 শ্রী পণ্ডিত শ্যামবিহারী জী শাস্ত্রী -
(সংস্কৃতের পর অনুবাদ করে বললেন) এই সময় যেসব ব্যক্তিরা যারা পরমেশ্বরাদির মূর্তিপূজা রহিত, তারা নিজেদের আর্য বলে কিন্তু তারা আসলে অনার্য। শ্রুতি বেদ তথা স্মৃতি হতে বিমুখ এদের বুদ্ধিকে ধিক্কার জানাই। যে বেদ স্মৃতির দ্বারা বিহিত ধর্মের আদি মূল বিষ্ণু সেই উত্তম পুরুষের শ্বাস থেকে উৎপন্ন আর সেই উত্তম পুরুষের কমল নাভি থেকে ব্রহ্মা উৎপন্ন হয়েছে বলে শোনা যায়, যা ব্রহ্মাকেও ধারণ করেছে। "এক রূপ থেকে অনেক রূপ হই" এই কথন দ্বারা সিদ্ধ হয় যে অহংকারের নিষ্ঠা থেকেই মূর্তিপনা তারমধ্যে ঘটে। স্মৃতির মধ্যে আরও বলা হয়েছে যে "একটা নিশ্চয়ই সব সংসারের প্রাণীদের মধ্যে আত্মা রূপ হয়ে বিদ্যমান আছে।" এমন আরও শ্রুতি আছে, যথা - "ব্রাহ্মণ সেই ঈশ্বরের মুখ থেকে উৎপন্ন হয়েছে, ক্ষত্রিয় তাঁর বাহু থেকে, বৈশ্য তাঁর পেট থেকে তথা শূদ্র পা থেকে উৎপন্ন হয়েছে।" এখানে ব্রহ্মার মুখ থেকে ব্রাহ্মণ হয়েছে তথা মুখের নিষ্ঠা হওয়াতে পরমেশ্বরের পূজা পাষাণাদির মধ্যে ঘটে, অন্যত্র ঘটে না। এমন আরও প্রমাণ আছে, এরপর পরমাত্মা সহস্র মস্তক, চক্ষু আর পা ওয়ালা আদি আছে, ইত্যাদি উপনিষদের বাক্য থেকে পাওয়া যায়। সেই পুরুষের সহস্র মস্তক আছে, এটা প্রসিদ্ধ। তারমধ্যে তো মূর্তিপূজার লক্ষণ দেখা উচিত। এইজন্য এরা নাস্তিক, অনার্য! যারা নিজেকে আর্য বলছে তারা ধূর্ত পরবচনে চতুর এরা পরাস্ত। ব্যস! এর বেশি আর কি বলবো!
পৌরাণিক পণ্ডিত -
"শ্যাম বিহারী"
🟠 শ্রী পণ্ডিত রামাশ্রয় জী শাস্ত্রী -
(সংস্কৃতের পর অনুবাদ করে বললেন) এই ব্যক্তিরা যারা বেদ বিরুদ্ধ নিজের লেখা ইতিহাস বা পুরাণাদিকে বেদানুকূল মেনে সচ্চিদানন্দাদি লক্ষণকারী ঈশ্বরকে মূর্তিমান মানে, তাদের সেইসব গ্রন্থ থেকে প্রচলিত পাষাণ মতের খণ্ডনার্থ উত্তর দিচ্ছি। আপনি ঈশ্বরের শ্বাস থেকে বেদ আর নাভি থেকে ব্রহ্মের উৎপত্তি বলেছেন, কিন্তু এতে কোনো শ্রুতি বা স্মৃতির প্রমাণ, ভূত প্রমাণ দেন নি আর উত্তম পুরুষের নাভি থেকেও আপনার পক্ষ পুষ্ট হয় না। কারণ নাভি থেকে উৎপত্তির অক্ষরমাত্রও তারমধ্যে নেই। তারপর উপনিষদ দ্বারাও সেটা সিদ্ধ হয় না এইজন্য আপনার ভাষণে ভ্রান্তি আছে। অহংকার নিষ্ঠা মূর্তিত্ত্বের মধ্যে প্রমাণ দেন নি তথা শ্রুতিতে নিরাকার প্রতিপাদক মন্ত্রের বিরোধের কারণে আপনার পক্ষ সিদ্ধ হয় না, কারণ ঈশ্বরের মুখ দেখা যায় না তাই সেটা অসঙ্গত। আসলে, বেদ তথা সত্য ভাষণাদি কর্মের দ্বারা শরীরের মুখের সদৃশ মুখ্য ব্রাহ্মণ হয় আর বল বীর্যাদিযুক্ত বাহু সদৃশকে ক্ষত্রিয় বলে; কৃষি ব্যাপারাদি গুণযুক্ত ধনধান্য সমৃদ্ধ বৈশ্য এই বিরাট পুরুষের দয়ায় উৎপন্ন হয়। এইভাবে জানা উচিত, জড়তাদি গুণ বিশিষ্ঠ পাদস্থানী সেবাদি ধর্ম হল শূদ্রের কর্ম, এই হল বেদোপদেশ। তাছাড়া আপনার সাকার ঈশ্বর কি অন্ধ আর লেংড়া? "শহস্র শীর্ষা" এই মন্ত্রের মধ্যে পুরুষ পদ বিশেষ্য, সম্পূর্ণ সংসারে সবদিক থেকে ব্যাপক হয়ে বিদ্যমান আছে। সহস্র মানে অসংখ্য, আমাদের মস্তক যে পূর্ণ পুরুষের মধ্যে আছে সেইরকম হাজারটা চোখ আর পা কেন নেই? অসংখ্য চোখ আর পাদও সেই বিরাটের মধ্যে আছে। "স ভূমিম্ সর্বম্" সেই মন্ত্রের উত্তরার্ধ দ্বারা বিরোধ আসবে, কারণ যেটা পরিমিত, সেটা ব্যাপক হতে পারে না, এইজন্য সেই পরমেশ্বরের প্রতিমা নেই। তাঁর যশ অনেক বড়। বেদের মধ্যে এমনও লেখা নেই যে পাষাণাদির মূর্তি বানিয়ে মন্দিরে রেখে চন্দন, পুষ্পাদি দিয়ে পূজন করবে। আপনার ভাষণে অশুদ্ধি আছে, যেমন জায়তের জ্ঞায়তে তথা শ্রূয়তের শ্রুয়তে আর আসীত্ এর আসীত। অস্তু! আমি তা সত্ত্বেও উপেক্ষা করেছি, তাছাড়া কুবাচ্য শব্দের উত্তর দিতে চাই না, যে বস্তু যার সেটা তাকেই দিয়ে দিই।
হস্তাক্ষর -
"রামাশ্রয় শাস্ত্রী"
(উপদেশক - সভা)
Note - এতখানি লিখিত ভাষণের পশ্চাৎ জনগন আর সরকল সাহেব বলেন যে - এখন থেকে ভাষাতেই শাস্ত্রার্থ হওয়া উচিত যাতে সবাই সহজে বুঝতে পারে। এইজন্য এরপর ভাষাতেই শাস্ত্রার্থ আরম্ভ হয়।
🔵 শ্রী পণ্ডিত শ্যামবিহারী জী শাস্ত্রী -
ভ্রাতাগণ! বেদ, শাস্ত্র আর রামায়ণ তথা পুরাণাদিতে মূর্তিপূজার বিধান আছে, এইজন্য তো লক্ষ-লক্ষ টাকা ব্যয় করে আমাদের পূর্বজরা স্থানে-স্থানে মন্দির, শিবালয়, ঠাকুরদ্বার বানিয়ে ঈশ্বর ভক্তির রাস্তা সুগম করে সারা সংসারে আস্তিকপনার প্রচার করেছে আর আমরাও তাদের অনুকরণ করি, কারণ এমন কোন নির্বুদ্ধি অধম হবে যে নিজের বাপ-দাদার রীতি-নীতি ছেড়ে দিয়ে মিথ্যা গপোড়ে চলতে পছন্দ করবে? সাক্ষাৎ ঈশ্বরের অবতার শ্রীরামচন্দ্র জী আছেন, কিন্তু এই নাস্তিকরা তাঁকেও মানুষ বলে, যিনি জন্ম হয়েই মাতা কৌশল্যা জীকে নিজের বাস্তবিক ভগবান রূপ প্রকট হয়ে দেখান আর সেই দিব্যরূপকে দেখে মাতা জীও তাঁর স্তুতি করেন, তারপর সেইরূপ বদলে বালকের মতো নিজের রূপে কান্না করেন। এই ব্যক্তিরা এইসব কথার বিশ্বাস করে না, অতএব আমরা এদের জাতি-পাতি আর শ্রী জগন্নাথ জীর ভক্তি থেকে আলাদা করে দিয়েছি। বাল্মীকি রামায়ণ দ্বারা সিদ্ধ যে শ্রীরামচন্দ্র জী সমুদ্রের নিকট মহাদেব রামেশ্বরের লিঙ্গ স্থাপনা করেছেন। শুধু তাই নয়, এরপর উত্তরকাণ্ড বাল্মীকি রামায়ণের মধ্যে লেখা আছে যে - "য়ত্র য়ত্র সয়াতিস্ম রাবণোরাক্ষসেশ্বরঃ" ইত্যাদির দ্বারা সিদ্ধ হয় যে রাবণও প্রত্যেক সময় জাম্বুনদ সোনার লিঙ্গ নিজের কাছে রাখতো আর গন্ধ ও পুষ্পাদি দিয়ে লিঙ্গেশ্বর শ্রী মহাদেবের পূজা করতো। স্বামী দয়ানন্দ জীকেও সম্পূর্ণ শ্লোক লিখতে সংকোচ হয়, "অত্রপূর্ব মহাদেবঃ প্রসাদমকরোদ্বির্ভুঃ" এইটুকু লিখেই ছেড়ে দেন, বাকিটুকু লিখলে দয়ানন্দী উড়ে যেত আর মূর্তিপূজা সিদ্ধ হয়ে যেত আর সংসারে এদের গুরুডম চলতো না, তাহলে কিভাবে টাকা নিয়ে-নিয়ে একত্রিত করতেন! আর বলেছেন যে - "সাধুকে খুব ধন দাও"।
🟠 শ্রী পণ্ডিত রামাশ্রয় জী শাস্ত্রী -
শ্রীমান সভাপতি জী তথা সভ্য পুরুষগণ! বেদ শাস্ত্র তথা রামায়ণাদির মধ্যে জড় প্রকৃতি, পাষাণ, কাষ্ঠ, তামা, সোনা, রূপা আর পার্থিবাদী মূর্তির তথা লম্বা, চওড়া, উঁচু, নিচু, কালা, সাদা, হলুদ আদি বানিয়ে পূজা করার লেশমাত্রও বিধান নেই। আর লক্ষ টাকা ব্যয় করে মন্দির আদি বানিয়ে কঙ্গুরা দাঁড় করিয়ে বলে দেওয়া যে এটাই আস্তিক হওয়ার একমাত্র সোজা রাস্তা, তো এইসব লীলা হচ্ছে বেদের পঠন-পাঠন বিগড়ে যাওয়ার কারণে পুরাণের আভাস মাত্র কপোল-কল্পনা। তাছাড়া এমন কোন নির্বুদ্ধি মানুষ হবে যে বাপ-দাদার বেদ পড়ার পদ্ধতি ছেড়ে দিয়ে পুরাণের কপোল-কল্পনা সৃষ্টি-বিরুদ্ধ শুনতে পছন্দ করবে? যদি শ্রীরামচন্দ্র জী আপনার মতানুসারে সাক্ষাৎ অবতারই ছিলেন তাহলে আমি তাঁরই বচনের প্রমাণ শোনাচ্ছি। যখন শ্রীরামচন্দ্র জীর নিকট দেবতাগণ এসে জিজ্ঞেস করেন যে আপনি কি অবতার? তখন তিনি উত্তর দেন যে -
আত্মানম্ মানুষম্ মন্যে রামম্দশরথাত্মজম্।
সোऽহম্য়শ্চয়তশ্চাহম্ ভগবাম্স্তদ্ ব্রবীত মেম্।।
(বাল্মীকি রামায়ণ, যুদ্ধকাণ্ড সর্গ ১১৬, শ্লোক ১১)
সত্যবাদী মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরামচন্দ্র জী বলেন যে আমি তো নিজেকে মানুষ মনে করি, দশরথের আত্মজ পুত্র। আমি না ঈশ্বর আর না কোনো অবতার।
.
এখন বলুন ক্রন্দন রূপ আদি দেখানো প্রুফ হয়েছে নাকি হয়নি? আমাদের বৈদিক ধর্ম তো ৫০০০ বছরের বেশি পুরোনো। তাহলে জাতি-পাতি রক্ষার্থ রেজিষ্টার কখন বানানো হয়েছে, যেখান থেকে আপনি আর্যদের নাম নামাবলী থেকে কেটে দিবেন? (জনতার মধ্যে হাসি) আপনার শ্রী জগন্নাথ জী নিজের লুলে হাত-পাও আজ পর্যন্ত বানাতে পারেন নি, তাহলে সংসার কি বানাবেন? যে জগন্নাথকে বিক্রমী সম্বত ১২৩১ ওড়িশার রাজা অনঙ্গ ভীমদেব বানিয়েছিল। আমি কি জানতে পারি - তার পূর্বে কোন জগন্নাথের পূজো হতো? দয়ানন্দী বৈদিক ধর্ম সংসারে ছড়াবে, কিন্তু লিঙ্গ পূজা চলবে না। শুনুন -
এতন্তুদৃশ্য তে তীর্থ সাগরস্য মহাত্মনঃ।
সে তু বন্ধ ইতিখ্যাতম্ ত্রৈলোক্য পরিপূজিতম্।।
এতত্পবিত্রপরমম্ মহাপাতক নাশনম্।
অত্র পূর্বম্ মহাদেবঃ প্রসাদম করোদবিভুঃ।।
(বাল্মীকি রামায়ণ, যুদ্ধকাণ্ড সর্গ ১২৫ শ্লোক ২০/২)
অর্থাৎ শ্রীরাম জী বলছেন - হে সীতে! এই যে সমুদ্রের ঘাট দেখা যাচ্ছে, এই পুল সর্বব্যাপক দেবের দেব মহাদেব পরমাত্মা যখন আমাদের উপর কৃপা করেছেন তখন বাঁধতে পেরেছি, পরম পবিত্র হয়েছে আর পাপী লোকরা পাপের প্রায়শ্চিত্ত করে আদি, ব্যস! লিঙ্গের তো শব্দ পর্যন্ত নেই। মূর্তি স্থান আর পূজন কিভাবে হবে? তথা "সর্গ শতান্ পঞ্চ" এর প্রমাণে উত্তর কাণ্ড প্রক্ষিপ্ত। রাক্ষস রাবণ যদি লিঙ্গ পূজক ছিল তাহলে তার অনুগামীই লিঙ্গ পূজবে। রাবণ তো অনেক অনর্থও করেছে, কিন্তু রাম ভক্তকে লিঙ্গের পূজা করা উচিত নয়, আমরা সবাই শ্রীরামচন্দ্র জী মহারাজের অনুগামী, রাবণের না। আপনি রাবণের অনুগামী হতে পারেন। (জনতার মধ্যে প্রচণ্ড হাসি)
🔵 শ্রী পণ্ডিত শ্যামবিহারী জী শাস্ত্রী -
পরমাত্মা হচ্ছেন নিরাকার তথা সাকার দুটোই। যতক্ষণ অবতার নিবেন না, এত বড় সংসার কিভাবে বানাবেন? যখন কুমারের হাত-পা না হবে ততক্ষণ কখনও ঘড়া হবে না। এইজন্য তিনি অংশাবতার ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহাদেব আদি হয়ে তিনি আমাদের তাঁর লীলা করে দেখান। কখনও ব্রহ্মা, কখনও মহাদেব রূপ ধারণ করে সংসারের উপদেশার্থ চরিত্র করেন। সনাতন থেকে চব্বিশ অবতারের কথা চলে আসছে।
সজ্জনগণ! এটা কখনও মিথ্যা হতে পারে না। যখন-যখন সংসারে পাপ খুব বেড়ে যায় তখন স্বয়ং ভগবান্ জন্ম নিয়ে পাপের ভারকে নিষ্কাশনের অর্থে রামাবতার আর শ্রী কৃষ্ণাবতার সময়-সময়ে হয়ে আসছে। শ্রীমদ্ভাগবত গীতাতে শ্রীকৃষ্ণ জী স্বয়ং নিজেকে ঈশ্বরের অবতার বলেছেন যে - হে অর্জুন! আমি হলাম ঈশ্বরের অবতার, তুমি আমাকেই ঈশ্বরের অবতার মানো। কিন্তু এই লোকগুলো গীতার উপরেও জল ঢেলে দিয়েছে আর অর্থ বদলে দিয়ে গীতার গৌরবকে নষ্ট করে দিয়েছে। গীতাতে - "য়দা য়দাহি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত" এই শ্লোকের মধ্যে স্পষ্ট ভাবে শ্রীকৃষ্ণ জী নিজেকে ঈশ্বর বলেছেন। আর শুধু তাই নয়, গীতা আর বেদের মধ্যেও অবতার বলেছেন যে আমি হলাম বেদের কর্তা, আমার শরণে যে আসে তাকে আমি মুক্তিতে নিজের পরম্ধাম দিই। শ্লোক দেখুন -
নমেবিদুঃ সুরগণাঃ প্রভবম্ ন মহর্ষয়ঃ অহমাদির্হিদেবানাম্ মহর্ষীণাম্ চ সর্বশঃ।।
অর্থাৎ আমাকে দেবতা, ঋষি, মহর্ষিরাও অনেক তপ করে প্রাপ্ত করে, আমিই সবার আদি মূল পরমেশ্বর। ইত্যাদি প্রমাণ দ্বারা মূর্তিপূজা সিদ্ধ হয়েগেছে। আমি সবাইকে ভরসা দিচ্ছি যে আপনারা ঈশ্বরের ভক্তি এইভাবেই করতে থাকুন। এনার চিকনি-চুপনি কথাকে যদি বিশ্বাস করেন তাহলে কোনোদিন মুক্তি হবে না, যমরাজের দূত ধরে নিয়ে যাবে আর ঘোর নরকে পড়বেন। দেখুন তীর্থ, ব্রত করলে আর দান পুণ্য করলে, ভগবানের মথুরা, কাশী, প্রয়াগ আর হরিদ্বার আদিতে দর্শন করলে সাক্ষাৎ স্বর্গে চলে যায়। সজ্জনগণ, আমাদের পূর্বজ কি মূর্খ ছিল? যে এই সনাতন ধর্ম কায়েম করে নিজের বাপ-দাদার চাল সদা থেকে চলে আসছে, আমি এরপর আর কি বলবো? এরা তো মাতা-পিতার শ্রাদ্ধ-তর্পণে ব্রাহ্মণকে "লেটারবক্স" বলে (জনতার মধ্যে হাসি)! এমন কোন পাপী পুত্র হবে যে নিজের পিতরের অর্থ পিতৃলোকে সুখ পৌঁছানোর জন্য এখানে করা শ্রাদ্ধ-তর্পণকে খারাপ ভাববে? যাইহোক, কতদূর বলবো, বেদ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ছোট-ছোট পুস্তকের মধ্যেও মূর্তিপূজার বিধান আর শ্রেষ্ঠাচার চলে আসছে। কিন্তু এখন আমাদের সবাইকে ধর্ম ভ্রষ্ট করার জন্য স্থানে-স্থানে এরা অটল সনাতন ধর্মের উপর আক্রমণ শুরু করে দিয়েছে, কিন্তু আজ আমি মূর্তিপূজা সিদ্ধ করে এদের দিয়েই পূজো করিয়ে নিবো, আর এরাও তো ছুরিকে পূজো করে, সকালে উঠে দয়ানন্দের চিত্রের সামনে হাত জোড় করে। এটা কি মূর্তিপূজা নয়? অবশ্যই মূর্তিপূজা।
🟠 শ্রী পণ্ডিত রামাশ্রয় জী শাস্ত্রী -
ঈশ্বর হলেন নিরাকার এবং জন্মরহিত। আপনার মতানুসারে যখন নিরাকার থেকে সাকার হয়ে সৃষ্টি রচনা করেন, এরদ্বারাও নিরাকারই সংসার রচনা করতে পারে। কারণ নিজের যে স্বশক্তি দিয়ে সাকার হওয়া আপনি সিদ্ধ করছেন, নিজের সেই স্বশক্তি দিয়ে ঈশ্বর স্বয়ম্ সাকার না হয়ে এই জগৎকে সাকার রূপ রচনা করে সর্বত্র নির্বয়ব হওয়াতে তিনি নিরাকার আর ব্যাপক। তিনি বিশাল তাই তাঁকে ব্রহ্মা, ব্যাপক তাই তাঁকে বিষ্ণু আর প্রলয় করেন তাই তাঁকে মহাদেব তথা রুদ্র বলা হয়। দেখুন, বেদের মধ্যে বলা হয়েছে -
সপর্য়্যগাচ্ছুক্রমকায়মব্রণমস্নাবিরᳬশুদ্ধমপাপবিদ্ধম্।।
(য়জুঃ ৪০/৮)
এর পদচ্ছেদও শুনুন - "সপরি আগাত্ শুক্রম্ আকায়ম্ অব্রণম্ শ্রস্নাবিরম্ শুদ্ধম্। অপাপ বিদ্ধম্।। অর্থাৎ (অকায়ম) দেহ রহিত (অব্রণম্) ছিদ্র হতে রহিত (অস্নাবিরম্) স্নায়ু নাড়ি হতে রহিত, রূপ রং হতে রহিত অর্থাৎ ঈশ্বর হল এই স্থূল শরীর আর সূক্ষ্ম তথা কারণ এই তিন শরীর হতে রহিত আকাশবত্ শুদ্ধ-পবিত্র- পাপতিরিক্ত, সর্বত্র ব্যাপক, তিনি কখনও অবতার নেন না। এমনটাই মহিধরও নিজের ভাষ্যতে অর্থ করেছেন। ২৪ অবতার এটা বেদ বিরুদ্ধ হওয়ার কারণে এটা অপ্রমাণ। শ্রী মচ্ছকরাচার্য জী ব্রহ্মসূত্র ২/৩/৪৪ তে লিখেছেন - "অম্শ ইবাম্শোম্ নহি নির্ণয়বস্য" অর্থাৎ ঈশ্বরের মধ্যে অংশ-অংশি ভাব নেই। সর্বত্র ব্যাপক হওয়াতে গীতাতে শ্রীকৃষ্ণ জী অর্জুনের প্রতি কি বলেছেন, দেখুন -
উত্তমঃ পুরুষস্ত্ত্বন্যঃ পরমাত্মেত্যুদাহৃতঃ।
য়ো লোকত্রয়মাবিশ্য বিভর্ত্ত্যব্যয় ঈশ্বরঃ।। (গীতা ১৫/১৭)
অর্থাৎ সেই উত্তম পুরুষ যাঁর নাম পরমাত্মা, আমার থেকে বড়। তিনলোকে উপচয়-অপচয় হতে রহিত ব্যাপক সেই ঈশ্বর এক, আমি ঈশ্বর নই। "য়দা য়দাহি ধর্মস্য" এই শ্লোক দ্বারা ঈশ্বরের অবতার সিদ্ধ হয় না কিন্তু পুণ্যাত্মারা ঈশ্বরের প্রেরণায় নিজের কর্মানুসারে জন্ম নিয়ে পাপের নাশ ধর্মের অভ্যুত্থান, সময়ে-সময়ে করে আসছে। যদি পক্ষপাতের চশমা দূরে সরিয়ে ধর্মভাব নিয়ে ভাবেন তাহলে দেখবেন গীতার মধ্যে সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের অবতার আর জড় মূর্তিপূজা বিধির লেশমাত্রও নেই বরং অর্জুনকে য়োগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র জী সেই প্রভুর শরণে যাওয়ার উপদেশ করছেন, দেখুন -
ঈশ্বরঃ সর্বভূতানাম্ হৃদ্দেশেऽর্জুন তিষ্ঠতি
ভ্রাময়ন্ সর্বভূতানি য়ন্ত্রারূঢানি মায়মা।।
তমেব শরণম্ গচ্ছ সর্বভাবেন ভারত।
তত্প্রসাদাত্পরাম্ শান্তিম্ স্থানম্ প্রাপ্স্যসি শাশ্বতম্।।
(গীতা ১৮/৬১-৬২)
এখানে শ্রীকৃষ্ণ জী অর্জুনকে স্পষ্ট ভাবে উপদেশ করছেন যে - হে অর্জুন! সেই ঈশ্বর সকল প্রাণীর হৃদয়ের মধ্যে বিদ্যমান আছে। নিজের স্বাভাবিক ক্রিয়ার মাধ্যমে জীবদের কারণ রূপ (প্রকৃতি) মায়া দ্বারা কার্যযন্ত্রে ভ্রমণ করাচ্ছে। অতএব, হে ভারত! সবদিক থেকে তাঁর দিকেই চলো। নিরন্তর নিশ্চয় সেই প্রভুর দয়ায় উত্তম মুক্তি রূপী শান্তি স্থানকে প্রাপ্ত করবে। অর্থাৎ অজন্মা ঈশ্বরের শরণে না যাওয়া পর্যন্ত সংসারের মোহ ছুটবে না, এইভাবে অর্জুনকে উপদেশ করেছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে শ্রাবণ মাসের শ্যামলিমা দেখে সর্বত্র সব কালে ঈর্ষাই করে। চিত্র আর ছুরির পূজো আমরা করি না, তবে আপনারা সবাইকে যমদূতের ধমক দিয়ে পূজো করাতে চান, সেটা এখন সবাই বুঝে গেছে। এরপর দেখুন মুণ্ডকোপনিষদে (২/১/২) বলা হয়েছে -
"দিব্যো হ্যমূর্তঃ পুরুষঃ স বাহ্যাভ্যন্তরো হ্যজঃ।"
এরমধ্যেও"অমূর্তি" আর "অজ" শব্দ ঈশ্বরের বিশেষণে আছে। আর আপনি যে মৃতক শ্রাদ্ধ-তর্পণের চর্চা করেছেন সেটা ন্যায় শাস্ত্র পঞ্চমাধ্যায়ের অনুসারে "প্রতিক্ষা বিরোধ নিগৃহ স্থান" এরমধ্যে গ্রস্ত হয়ে গেছে। অস্তু।।
🔵 শ্রী পণ্ডিত শ্যাম বিহারী জী শাস্ত্রী -
এই বার্তা সবার উপর বিদিত যে যখন অনেক মত চলতে দেখেন তখন সেই নির্বিচারের মধ্যে স্বামী দয়ানন্দ জীও নিজের একটা মত দাঁড় করিয়ে দেন, যারমধ্যে সব বেদ বিরুদ্ধ কথা ভরে পড়ে আছে। বেদ মন্ত্রের অর্থ বদলিয়ে নিজের স্বার্থের জন্য মূর্তিপূজা আর তীর্থের ভরপেট খণ্ডন করেছেন। এই দয়ানন্দী মতের মুখ্য উদ্দেশ্য এটাই মনে হচ্ছে যে সংসারের মধ্যে যত পুরোনো বিষয় সর্বদা থেকে চলে আসছে, সেইসবের সর্বনাশ হয়ে যাক, কিন্তু বেদের মধ্যেও তো মন্ত্রের দ্বারা পাষাণের মধ্যে প্রাণ প্রতিষ্ঠার বিধান পাওয়া যায়, যেমন - "অশ্মা ভবতু তে তনুঃ" অর্থাৎ হে ঈশ্বর! এই পাথরের মূর্তিতে আপনি আসুন, আপনার এটা শরীর, আমরা প্রাণ প্রতিষ্ঠা করছি। আর বেদ মন্ত্রের দ্বারা প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে পূজনও করি। যখন বেদ এইভাবে মূর্তিপূজার বিধি বলছে তাহলে আমরা নাস্তিকদের কথা কখনও মানতে পারি না। "ন তস্য প্রতিমাস্তি" এই মন্ত্রের অর্থই এই মানুষগুলো জানে না, কারণ "অশ্ম" নাম হল পাথরের। এটা ঈশ্বরের শরীর, তখন এই বলে যে সেই ঈশ্বরের প্রতিমা নেই এই কথাটা এমন যে "যেমন বন্ধ্যা স্ত্রীর পুত্র বলা হবে" আরে ভাই! এই মানুষগুলো অপঠিতদের মধ্যে গপ্প-সপ্প মেরে বেড়ায়।আমি আশা করি আপনারা এই সমাজিদের মিথ্যা কথা থেকে দূরে থাকবেন যে - ঈশ্বর সাকার নয়। ভাইগণ! ঈশ্বরের মধ্যে অবশ্যই সব শক্তি আছে তিনি যা চান তাই করতে পারেন।
🟠 শ্রী পণ্ডিত রামাশ্রয় জী শাস্ত্রী -
মহাভারতের পশ্চাৎ পুরাণগুলো নানা মত দাঁড় করিয়েছে, কারণ বেদোক্ত ধর্মের অতিরিক্ত অন্য সব মতকে ৫০০০ বছরের এইদিকে নবীনত্য স্বয়ম্ স্বীকৃত আছে। স্বামী দয়ানন্দ জী নিজের কোনো মত দাঁড় করেন নি, কিন্তু বিভিন্ন মতকে সরিয়ে এক বেদোক্ত ধর্মের প্রচার বেদ ভাষ্যাদি দ্বারা করেছেন।
আপনার বেদ ভাষ্যাচার্য মহিধর জী য়জুর্বেদ অধ্যায় ২৩ মন্ত্র ২০ এর উপর ভ্রষ্ট অর্থ করেছেন। আপনি কি এটা মানেন? মন্ত্রটা শুনুন -
অশ্বশিশ্নমুপস্থে কুরূতে বৃষা বাজীতি।
মহিষী স্বয়মেবাশ্ব শিশ্নমাকৃষ্য স্বয়োনৌ স্থাপয়তি।।
আমার তো মহিধরের করা এই অর্থ বলতেও লজ্জা লাগছে, আপনিই এর শব্দার্থ বলে পাবলিককে শুনিয়ে দিবেন। এরপর দেখুন -
এহ্যশ্মানমা তিষ্ঠাশ্মা ভবতু তে তনূঃ।
কৃণ্বন্তু বিশ্বে দেবা আয়ুষ্টে শরদঃ শতম্।।
(অথর্বঃ ২/১৩/৪)
এই মন্ত্রকে সায়ণাচার্য জী গোদান সংস্কারের মধ্যে নিযুক্ত করেছেন। যেমন - হে বালক! "এহিআগচ্ছ" আসো পাথরের উপরে বসো! তোমার শরীর পাথরের তুল্য রোগাদি রহিত পুষ্ট হোক, ঈশ্বর তোমার আয়ুকে ১০০ বর্ষ করুক। আপনার করা অর্থ অত্যন্ত অশুদ্ধ। অস্তু।।
Note - শ্রী পণ্ডিত শ্যামবিহারী জী শাস্ত্রী মহিধরের করা অর্থ শোনাতে পারেন নি, অতএব - "আর্য় সমাজস্যবিজয়োऽভদিতি"।
🍁 শাস্ত্রার্থের অন্তিমে -
অন্তিমে শ্রী সুরজু ঠেকেদার (মন্ত্রী) - আর্য সমাজ এই কথার উপর দাবি করে যে বিজয় পত্র অবশ্যই দেওয়া হোক, সকল মধ্যস্থদের বসিয়ে তাদের থেকে নিম্ন প্রকারের বিজয় পত্র প্রাপ্ত করে, যার পরিণাম এই হয় যে পৌরাণিকরা এরপর আর মাথা তোলেনি।
🍁 বিজয়পত্রমিদম্
।। ও৩ম্ ।।
আশ্বিন সম্বত্ ১৯৭১, তারিখ ২৮/৯/১৯১৪ ই.
এই বিজয় পত্র আর্য সমাজ বল্হারপুর জেলা চাঁদা (সী. পী.) তথা (উপস্থিত) পাঁচ সহস্র জন সমূহের পক্ষ থেকে শ্রীমান পণ্ডিত রামাশ্রয় জী শাস্ত্রীকে দেওয়া হচ্ছে।
"উক্ত পণ্ডিত জী সনাতনী পণ্ডিত শ্যামবিহারী শর্মা জীকে পুলিশ ইন্সপেক্টর তথা অন্য বিদ্বানদের সমক্ষ সংস্কৃত ও ভাষা দুটোতে পরাস্ত করে দিয়েছেন" অলম্ ভুত্সু।।
হস্তাক্ষর -
শাস্ত্রার্থের মধ্যাস্থদের দ্বারা - ১. শ্রী রামপ্রসাদ শর্মা (মন্ত্রী) সনাতন ধর্মসভা বল্হারপুর (চাঁদা)
২. শ্রী স্বামী আত্মানন্দ সরস্বতী
৩. শ্রী স্বামী সচ্চিদানন্দ সরস্বতী (মুকাম চিখলবর্ধা)
"এখন আপনাদের সবাইকে পৌরাণিক লীলা ছেড়ে দিয়ে সত্য বৈদিক ধর্মের সেবক হওয়া উচিত।"
নিবেদক - সুরজু ঠেকেদার
মন্ত্রী - আর্য সমাজ বল্হারপুর (চাঁদা)

শাস্ত্রার্থ আরম্ভ 🍁
প্রথম দিবস -
আর্য সমাজের বিদ্বান বেদাদি সত্য শাস্ত্র তথা পুরাণাদি আধুনিক গ্রন্থ নিয়ে ঠিক চারটার সময় শাস্ত্রার্থ ভূমিতে পৌঁছে নিজেদের নিশ্চিত স্থানে বসে পড়েন। পাঁচটার সময় সনাতন ধর্মসভার পণ্ডিতগণ আসেন। ঠিক পাঁচটা দশ মিনিটে শ্রীমান জইন্ট মেজিস্ট্রেটের শুভাগমন হয় তদনন্তর লদ্ধারাম জী তাকে প্রধান পদের জন্য তথা রায় বাহাদুর পণ্ডিত শিবচরণলাল ত্রিপাঠী জীকে উপপ্রধানের আসনে অলংকৃত করার জন্য প্রস্তাব করেন, যা সর্বসম্মতি দ্বারা স্বীকৃত হয়। প্রধান জী পদারূঢ় হলে শ্রী লদ্ধারাম জী বলেন -
🔹 আর্য সমাজ মহোবার প্রধান শ্রী লদ্ধারাম জী সাহনী -
শ্রীমান মাননীয় সভাপতি তথা সভ্য উপস্থিত সজ্জনগণ! এই শাস্ত্রার্থ সম্বন্ধে শুরু থেকেই চর্চা শুনে থাকবেন, কিন্তু আমার দুঃখ হচ্ছে যে সনাতন ধর্মসভা যে ছাপা বিজ্ঞাপনটা বিতরণ করেছে, সেটা নিয়ম বিরুদ্ধ হওয়ার জন্য কর্তব্য বিরুদ্ধ আর একটা সভ্য সভার পক্ষে এইরকম করা সর্বথা অযুক্ত। সেখানে যে বিষয় আর নিয়ম উল্লেখিত আছে, বিনা আমাদের সম্মতি তথা পরস্পর অনির্ধারিত করেই প্রকাশিত করে দিয়েছে, কাল পর্যন্ত এই বিষয়ে আমাদের সঙ্গে সনাতন ধর্মসভার পত্র ব্যবহারই চলে আসছিল। বিজ্ঞাপনের মধ্যে লেখা আছে যে আর্য সমাজের প্রেরণায় শাস্ত্রার্থ হচ্ছে যদি একথা সত্য ধরা হয় তাহলে আমি জানি না কেন সনাতন ধর্মসভা নিজে-নিজে আমাদের না জানিয়ে কেন নিয়ম প্রকাশিত করে দিয়েছে? প্রেরণা তো আর্য সমাজ করবে কিন্তু বিষয় তথা নিয়ম নির্ধারণ তাদের সম্মতিতে হওয়া আবশ্যক, এটা কোথাকার ন্যায় হল? মূর্তিপূজা, মৃতকশ্রাদ্ধ, বর্ণব্যবস্থা, আদি বিষয়ের উপর লিখিত শাস্ত্রার্থ করতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু এর সঙ্গে-সঙ্গে পুরাণ, নিয়োগ, অবতার, আদির উপরও হওয়া উচিত যেগুলোকে পত্রব্যবহারে আমাদের পক্ষ থেকে শাস্ত্রার্থীয় বিষয়ে প্রবিষ্ট করার জন্য জোর দেওয়া হয়। প্রতীত হচ্ছে যে সেগুলো বিজ্ঞাপনের মধ্যে উপেক্ষিত করে দেওয়া হয়েছে? সনাতন ধর্মসভা পুরাণকে ভয় পায় কেন? যদি পুরাণকে অমান্য করে তাহলে স্পষ্ট অস্বীকৃতি প্রকট করতে দ্বিধা করে কেন? বিজ্ঞাপনে শাস্ত্রার্থ কেবল সংস্কৃতে হোক এতে এতো আগ্রহ কেন? আমি জানি না, যখন সর্ব সাধারণের টাকা দিয়ে শাস্ত্রার্থ হচ্ছে তাহলে কি শাস্ত্রার্থ শুনতে আর জানার জন্য সম্পূর্ণ শ্রোতাদের উৎকন্ঠিত হওয়া উচিত নয়? যারা এতদর্থই নিজেদের সময়কে এখানে এসে ব্যয় করছে তাদের লাভটা কি হবে? যদি জনতা চায় তাহলে আমাদের সংস্কৃতে শাস্ত্রার্থ করতে বিন্দুমাত্র কোনো দ্বিধা নেই। আমি আশা করি এখন এতে অধিক সময় ব্যতীত না করে কার্যক্রমকে শীঘ্র আরম্ভ করা হোক।
🔹 শ্রী পৌরাণিক পণ্ডিত কন্হাইয়া লাল জী -
সজ্জনগণ! খুবই আনন্দের বিষয় যে আজ স্বয়ং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এই সভার সভাপতি হয়েছেন। ন্যায়ের সিংহাসন এইসময় সবার সামনে উপস্থিত আছে। দয়ানন্দ আর তাঁর অনুগামীরা নিজেদের বৈদিক বলে সেটা একদম মিথ্যা আর বিরুদ্ধ। আজ পর্যন্ত না জানি কতবার আমাদের পক্ষ থেকে লেখবদ্ধ শাস্ত্রার্থের জন্য চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছে কিন্তু একবারের অতিরিক্ত সমাজিরা দম দেখায় নি যে লেখবদ্ধ শাস্ত্রার্থ করবে। আমি অনেক স্থানে শাস্ত্রার্থ করেছি একটা স্থানে পণ্ডিত শিবশর্মা কাব্যতীর্থর (এতে পণ্ডিত অখিলানন্দ জী বলেন - "পণ্ডিত শিবশঙ্কর কাব্যতীর্থ") সঙ্গে করেছি কিন্তু মৌখিকই করেছেন, লেখবদ্ধ করেন নি। মৌখিকে ইনি সবাইকে ধোকা দিয়ে নিজের উল্লু সোজা করতে চান, আর শাস্ত্রার্থ করেন তো কেবল মূর্তিপূজা, বর্ণব্যবস্থা আর মৃতক শ্রাদ্ধের উপরই। আমি কতদূর আর বলবো, যদি দম থাকে তাহলে একটা বারের জন্য নিজের মতকে বৈদিক সিদ্ধ করে দেখিয়ে দিক, আমি মেনে নিবো, তা নাহলে আমাদের মতকে নিষ্পক্ষ হয়ে বৈদিক মেনে নেওয়া উচিত। এনার পক্ষ কখনও বৈদিক হবে না। যে পুরুষরা বিচার করেছে তারা ফাঁদ থেকে চট করে আমাদের পক্ষেই চলে এসেছে যেমন পণ্ডিত ভীমসেন, কবিরত্ন পণ্ডিত অখিলানন্দ জী আদি... (মাঝখানে শ্রী পণ্ডিত শিবশর্মা জী বললেন - )
🔹 শ্রী পণ্ডিত শিব শর্মা জী শাস্ত্রার্থ মহারথী -
সজ্জনগণ! খুবই দুঃখের বিষয় যে পণ্ডিত কন্হাইয়া লাল জী এত বড় সভাকে যেখানে "ন্যায় সিংহাসন"ও আছে ধোকা দেওয়ার জন্য পরিষ্কার মিথ্যা কথা বলেছেন। আর্য সমাজ কি কখনো লিখিত শাস্ত্রার্থ করেনি? পণ্ডিত জীর কি "আগ্রা শাস্ত্রার্থ" মনে নেই নাকি জ্ঞাত নেই? (এইভাবে সাত-আটটা ছাপা শাস্ত্রার্থ দেখিয়ে) খুবই লজ্জার বিষয় যে পণ্ডিত কালুরাম জী নিজের সাথীকে এমন স্পষ্ট মিথ্যা ভাষণ করতে থামান নি। এই কিছু দিন পূর্বে তিনি আর পণ্ডিত প্রয়াগদত্ত জীর সঙ্গে লিখিত শাস্ত্রার্থ এই জেলার "কোরারা" স্থানে হয়েছে। আপনি কি সেটা এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলেন যে শাস্ত্রার্থ "স্যানা" জেলা বুলন্দশহরে আমার (পণ্ডিত শিব শর্মার) সঙ্গে হয়েছে। আর্য সমাজ কবে লিখিত শাস্ত্রার্থ করতে অস্বীকার করেছে? এখন এই শাস্ত্রার্থের জন্য পত্র সংখ্যা এক আর তিনের মধ্যে আর্যসমাজ এরই উপর বল দিয়েছে, অথচ যার উপেক্ষা সনাতন ধর্মসভার পত্র সংখ্যা দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট করা হয়েছে যে - লিখিত না হোক কিন্তু মৌখিকই হোক। এতকিছুর পরেও কি আশা করা যেতে পারে যে পণ্ডিত জী নিজের মিথ্যা ভাষণের উপর পশ্চাত্তাপ করবেন? ধর্মক্ষেত্রের মধ্যে ধর্মোপদেশক এতটা ধর্ম রহিত ভাষা করবে, এটা লজ্জাস্পদ বিষয় নয় কি? তবে হ্যাঁ! আপনাদের ওখানে তো ব্যক্তিরা ফাঁদে পরে তবেই যায়, প্রসন্নতাপূর্বক কে যাবে? (জনতার মধ্যে হাসি) কিন্তু আপনি তো ফাঁদে পরে আসা কেবল দুটোই বলেছেন, কিন্তু এটা তো বলুন এই চার-পাঁচ লক্ষ আর্য সমাজী কোথা থেকে এসেছে? সনাতন ধর্ম থেকেই এসেছে নাকি আকাশ থেকে পড়েছে বা পৃথিবী থেকে বেরিয়েছে? (পুনঃ জনতার মধ্যে হাসি) আমার কথা হল এইসব কথার মধ্যে এমন কি আছে, আমরা সব বিষয়ে শাস্ত্রার্থ করার জন্য প্রস্তুত আছি। আমরা কখনো কোনো বিষয়ের উপর শাস্ত্রার্থ করতে অনিচ্ছা করিনি আর না করছি আর না করবো।
🔹 শ্রী পণ্ডিত কালুরাম জী শাস্ত্রী -
ব্যস ব্যস! ঠিক আছে! মূর্তিপূজার উপর শাস্ত্রার্থ হোক।
🔹 শ্রী পণ্ডিত শিব শর্মা জী শাস্ত্রার্থ মহারথী -
যদি "মূর্তিপূজা"র উপর শাস্ত্রার্থ হয় তাহলে পূর্বপক্ষ সনাতন ধর্মসভা সেটা স্থাপন করুক, কারণ তারাই তো মূর্তিপূজা-বাদী।
🔹 সভাপতি মহোদয় -
ঠিক আছে! আজ সনাতন ধর্মসভার দিক থেকে পূর্বপক্ষ হোক। কালকে আর্য সমাজের দিক থেকে হবে। শাস্ত্রার্থে ৫ মিনিট সংস্কৃত ভাষাতে বলে বাকি ৫ মিনিট তার ভাষানুবাদ শোনাতে হবে, এখন ঠিক সাড়ে পাঁচটা বাজে। প্রথমে সনাতন ধর্মসভা নিজের পক্ষ থেকে বিদ্বান দাঁড় করুক আর শাস্ত্রার্থ আরম্ভ হোক।
🔵 শ্রী পণ্ডিত অখিলানন্দ জী কবিরত্ন -
(প্রার্থনানন্তর কিছুক্ষণ সংস্কৃত ভাষণ করে তারপর ভাষাতে বললেন) আমার প্রিয় ভ্রাতাগণ! পরমাত্মাকে যখন সর্বব্যাপক মানা হয় তাহলে কি ব্যাপ্য-ব্যাপককে ছেড়ে ক্ষণ মাত্র কোথাও পৃথক থাকতে পারে? পরমাত্মা যখন ব্যাপ্য-ব্যাপক ভাব হতে অধিষ্ঠিত তাহলে তাঁর থেকে কোথায় আলাদা হতে পারে? যেহেতু মূর্তির মধ্যে পরমাত্মা ব্যাপক হয়ে ক্ষণ মাত্র পৃথক থাকতে পারবে না সুতরাং মূর্তিপূজা সিদ্ধ হল। বেদের মধ্যে কোনো মন্ত্রের দেবতা কি পরমাত্মার অবতার হতে পারে না? তাহলে কেন ধোকা দেওয়া হয় যে অবতার তথা তাঁর মূর্তি পূজা বেদ বিরুদ্ধ, বেদের মধ্যে তো স্পষ্ট বলা হয়েছে যে দেখুন য়জুর্বেদ অধ্যায় ৩২ মন্ত্র ১ - "তদেবাগ্নিস্তাদাদিত্যস্তদ্বায়ুরিত্যাদি" অর্থাৎ তিনি অগ্নি, তিনি বায়ু, তিনি সূর্য। এরদ্বারা পৃথ্বী জল আদির পূজা সিদ্ধ হয়। "ত্বম্ স্ত্রীত্বম্পুমানসি" আদির দ্বারা মোহনী, রামাদি অবতার সিদ্ধ হয়।
🟠 শ্রী পণ্ডিত রামাশ্রয় জী শাস্ত্রী -
(প্রার্থনানন্তর নিশ্চিত কাল পর্যন্ত সংস্কৃত বলার পর ভাষাতে বললেন) সজ্জনগণ! পরমাত্মা হলেন সর্বব্যাপক কিন্তু এমন নিয়ম নেই যে ব্যাপ্য ভিন্ন কেবল পরমাত্মার উপাসনা করা যাবে না। ব্যাপ্য-ব্যাপক সম্বন্ধ হলেও উপাসকের জ্ঞানে ব্যাপকের অস্তিত্ব ব্যাপ্য থেকে ভিন্ন হয়, জ্ঞানের মধ্যে দুইয়ের অভেদ মানা নির্ভ্রান্ত জ্ঞান হতে পারে না, যদি কাষ্ঠের মধ্যে অগ্নি হয় তাহলে কাষ্ঠ অগ্নিত্বেন ব্যবহার্য হতে পারে না। পণ্ডিত জী! বেদের মধ্যে অবতার শব্দ দেখান অথবা এমন কোনো মন্ত্র দেখান যার দেবতা অবতার হয়। যখন অবতার নেই তাহলে তার মূর্তিও হতে পারে না। কারণ বেদের মধ্যে তো স্পষ্ট লেখা আছে যে "ন তস্য প্রতিমা অস্তি" য়জুর্বেদ ৩২/২, যখন প্রতিমা নেই তাহলে কিভাবে মূর্তি পূজা সিদ্ধ হবে?
🔵 শ্রী পণ্ডিত অখিলানন্দ জী কবিরত্ন -
সজ্জনগণ! আমি "তদেবাগ্নি..." তথা "ত্বম্ স্ত্রী..." আদিকে পেশ করে মূর্তি পূজা সিদ্ধ করেছি। পণ্ডিত জী বলছেন যে - বেদের মধ্যে অবতার দেখান! রাম আর কৃষ্ণ কি মন্ত্রের ঋষি ছিলেন না? যখন তাঁরা আছেন তাহলে অবতার সিদ্ধ। পরমাত্মা সাকারত্বের আরও প্রমাণ নিন - "বিশ্বতশ্চক্ষুরূত..." ইত্যাদির দ্বারা চোখ-পা সহিত তথা "সহস্রশীর্ষা পুরুষঃ সহস্ত্রাক্ষঃ..." য়জুর্বেদের মধ্যে বলা হয়েছে, ইত্যাদিতে হাজার চোখ আর হাজার পা যুক্ত ঈশ্বর বলা হয়েছে, এখনও কি তাঁর সাকার হওয়াতে কোনো সন্দেহ আছে? আমরা বৈদিক, যেখানে-যেখানে বেদ বিধি নিষেধ করে না সেখানে-সেখানে আমরা স্মৃতিগুলোকে মানি। যখন তার মধ্যে না থাকে তাহলে এতদ্দেশীয় আচার আমাদের জন্য গ্রাহ্য হয়। আমাদের সমস্ত মান্য গ্রন্থ তথা লোকাচার আমাদের পক্ষকে পুষ্ট করে। সত্যার্থ প্রকাশের চতুর্দশ সমুল্লাসের মধ্যে মুসলমানদের প্রশ্নের উত্তরে স্বামী দয়ানন্দ জী আমাদের জন্য বলেছেন - "যাদের আপনি বুতপরস্ত বলছেন তারাও মূর্তিকে পূজো করে না। কিন্তু মূর্তির দ্বারা ঈশ্বরকে পূজো করে।" অথর্ববেদের মধ্যে লেখা আছে যে - "সর্ব ভূমেরজায়ত্..." ইত্যাদি তথা য়জুর্বেদের মধ্যে "প্রজাপতিশ্চরতি..." আদি "রূপম্ রূপম্ প্রতি রূপো বভূব..." ইত্যাদির দ্বারা স্পষ্ট যে তিনি ভূমি থেকে উৎপন্ন হয়েছেন, তিনি গর্ভ প্রাপ্ত করেন, ভিন্ন-ভিন্ন রূপ ধারণ করেন। আমাদের সাকার তো সিদ্ধ, এখন আপনি দেখান যে বেদের মধ্যে কোথায় পরমাত্মা নিরাকার বলা হয়েছে?
🟠 শ্রী পণ্ডিত রামাশ্রয় জী শাস্ত্রী -
(প্রথমে সংস্কৃতে তারপর ভাষাতে) সজ্জনগণ! পণ্ডিত জী এটাও জানেন না যে ঋষি আর দেবতার মধ্যে কি পার্থক্য আছে? "ঋষয়োমন্ত্রদ্রষ্টারঃ" এই নিরুক্তের বচন দ্বারা "ঋষি" মন্ত্রের দ্রষ্টাকে বলা হয়। "য়াতেনোচ্যতে সাতস্য দেবতা" এই য়াস্কোক্তির দ্বারা প্রতিপাদ্য বিষয় মন্ত্রের দেবতা হয়। পণ্ডিত জী তিনকালেও "অবতার" শব্দ বেদের মধ্যে দেখাতে পারবেন না যে অমুক মন্ত্রের দেবতা হল "অবতার"। "বিশ্বতশ্চক্ষু রতঃ" দ্বারা তো পরমাত্মা সর্বশক্তির মাধ্যমে সবদিকে দেখেন এটাই সিদ্ধ হয়, চক্ষু ওয়ালা সিদ্ধ হয় না! "সহস্রশীর্ষা" দ্বারা হাজার মস্তক, চোখ-পা ওয়ালা যদি মেনে নেওয়া হয় তাহলে এমন দোষ আসবে যে যখন একটা মস্তকে দুটো চোখ আর দুটো পা হয়, কিন্তু এখানে হাজার মস্তক, হাজার চোখ আর পা আপনি বলেছেন তাহলে আপনার কথানানুসারে ঈশ্বর কানা লুলা ল্যাংড়া হল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো মন্দিরে কি হাজার মস্তক, হাজার চোখ ওয়ালা মূর্তি স্থাপিত হয়েছে? এর তো স্পষ্ট অর্থ এটাই যে সেই পরমাত্মার ব্যাপকতার মধ্যে অনন্ত মস্তক, অনন্ত চোখ আর পা আছে। অথবা তাঁর মধ্যে হাজার-হাজার মস্তক, পা, চোখের শক্তি আছে, যারদ্বারা সম্পূর্ণ কার্য নিয়মানুকূল করতে পারেন। তাই বেদের মধ্যে স্বমতপোষক কোনো কিছু প্রাপ্ত করে না, এদিক-সেদিকের ওলটপালট করে কোনো কাজ হবে না। "সর্বৈভূমের জায়ত" এর অর্থ তো স্পষ্ট যে তিনি ভূমি দ্বারা প্রকাশিত হন অর্থাৎ ভূমি তাঁর মহিমাকে প্রকট করে। যদি ভূমি থেকে তিনি প্রকট হন তাহলে ভূমি কি থেকে প্রকট হয়েছে? ভূমিকে যে তৈরি করেছে সে কি অন্য কেউ? আর "কারণ গুণ পূর্বকঃ কার্য় গুণোম্দূষ্টঃ" এই আর্ষ বচন দ্বারা তো জড় ভূমি থেকে উৎপন্ন হওয়া জড়ই হবে। "প্রজাপতিশ্চরতিগর্ভে" এই মন্ত্রের মধ্যে "অজয়মানঃ" শব্দ আছে, যার অর্থ হল "না উৎপন্ন হয়ে" তাহলে ঈশ্বরের জন্ম কিভাবে সিদ্ধ হল? এর অভিপ্রায় তো স্পষ্ট এটাই যে ঈশ্বর সর্বব্যাপক হওয়ার কারণে গর্ভের ভিতরেও বিদ্যমান আছেন, তাইতো সন্তানাদিকে বানাতে পারেন। "রূপম্ রূপম্ প্রতি রূপো বভূব" এর অর্থ এমন হবে না যে তিনি ভিন্ন-ভিন্ন রূপ ধারণ করেন, এটা অযুক্ত হবে। তাঁর ভিন্ন-ভিন্ন গুণ যা ভিন্ন-ভিন্ন স্থানে প্রকট হয় আর ভিন্ন-ভিন্ন শক্তির পরিচয় দেয়, সুতরাং সেই ভিন্ন-ভিন্ন রূপের মাধ্যমে তার জন্য বলা হয়েছে, এমন নয় যে তাঁর ভিন্ন-ভিন্ন শরীর আছে। পণ্ডিত জী! আপনি যেমন আপনার অবৈদিক সিদ্ধান্তকে বেদ দ্বারা প্রতিপাদন করতে পারবেন না সেইরকম আর্য সমাজকেও ধরে নিন। দেখুন, "সপর্য়্যগাচ্ছুক্রমকায়ম্..." ইত্যাদি য়জুর্বেদ মন্ত্রের মধ্যে স্পষ্ট "অকায়ম" শব্দ আছে। "কায়ম্" অর্থাৎ কায়া বা শরীর সবাই জানে, কায়া নেই যার তাকে "অকায়" বলা হয়। এই অর্থ স্বামী দয়ানন্দ জী নয় বরং আপনাদের মহীধর, উব্বট আদি আচার্যগণও করেছেন। তাহলে বলুন নিরাকার পরমাত্মা বেদের মধ্যে আছে নাকি নেই?
🔵 শ্রী পণ্ডিত অখিলানন্দ জী কবিরত্ন -
(প্রথমে সংস্কৃতে বলে তারপর ভাষাতে বললেন) সজ্জনগণ! উনি সত্যার্থ প্রকাশের উত্তর দেন নি, আর না দিতে পারবেন, দিবেনই বা কিভাবে? দয়ানন্দ অনেক বড় ধোকা দিয়েছেন, মন্ত্রের অর্থ বদলে দিয়েছেন। স্বার্থের জন্য মন্ত্রের একটু-একটু টুকরো রেখে দিয়েছেন। দেবতার জ্ঞান পর্যন্ত তাঁর ছিল না, দেবতার একটার আরেকটা করে দিয়েছেন। তিনি কারও কাছ থেকে বেদ পড়েন নি তাহলে কিভাবে সঠিক অর্থ করতে পারবেন? আমি "দেবাগ্নিস্তদাদিত্য" আর "বিশ্বতশ্চক্ষুরূত বিশ্বতো মুখো" তথা "প্রজাপতিশ্চরতিগর্ভে" আদি মন্ত্রের প্রমাণ দিয়েছি যা কোনো ভাবেই সরানো যাবে না। "সপর্য়্যগাচ্ছুক্..." এরমধ্যে দয়ানন্দের মতো একটা অংশ নিয়ে পেশ করা ভালো নয় তার পরেই "স্বয়ম্ভূ" আছে, যার অর্থ হল যিনি স্বয়ং জন্ম হন। সত্যার্থ প্রকাশের উত্তর দেওয়া উচিত। "সর্বৈভূমের জায়ত" এর কি উত্তর দিয়েছেন?
🟠 শ্রী পণ্ডিত রামাশ্রয় জী শাস্ত্রী -
(নিশ্চিত কাল পর্যন্ত সংস্কৃত বলার পর ভাষাতে অনুবাদ করে বললেন) দুঃখজনক যে, আমি জানি না কেন পণ্ডিত জী মহর্ষিকে কটুবাক্য বলতে কি সিদ্ধি মনে করেন? নোংরা দেখতে চান তো মহীধর ভাষ্য "গণানাম্..." মন্ত্রের মধ্যে দেখুন, যেখানে যজমানের স্ত্রীর সম্ভোগ ঘোড়ার সঙ্গে করেছেন। দয়ানন্দ জী মহারাজের কারণে তো ৫০০ টাকার এই ডৌল লাগছে। আপনি তো কেবল সত্যার্থ প্রকাশের একটা অংশ নিয়ে পড়েন আর কলঙ্ক লাগিয়ে দেন যে স্বামী জী অল্প মন্ত্র লিখে দেন। সম্পূর্ণ সত্যার্থ প্রকাশের বাক্যটা তো শুনে নিন, আমি পড়ে দিচ্ছি যার জন্য আপনি বলেছিলেন যে কখনও এই উত্তরটা দিবেন না (সত্যার্থ প্রকাশ পড়া হল যেখানে স্বামী জী পৌরাণিকদের মূর্তির আর মুসলমানদের কাবার পূজক আর অসত্য মার্গে গমনকারী বলেছেন)। "দেবাগ্নিস্তদাদিত্য" আদি মন্ত্রের আমি উত্তর দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু আপনি "ন তস্য প্রতিমাস্তি" এর উত্তর দিয়েছেন? আপনি স্বামী জীর উপর না বুঝে আক্ষেপ করেন যে তিনি কারও কাছ থেকে বেদ পড়েন নি, কিন্তু আমি কি জানতে পারি আপনি বেদ কোন গুরুর কাছ থেকে পড়েছেন? যে অথর্ববেদালোচন করছেন, স্বামী জী তো নিজের গ্রন্থের মধ্যে নিজের গুরুর নাম দিয়েছেন, আপনি কোন গুরুঘন্টালের নাম দিয়েছেন? যতক্ষণ দেখাবেন না, আপনার বলা একটার দেবতা আরেকটা করে দিয়েছি, এটা মিথ্যা প্রলাপ হবে। "স্বয়ম্ভূ" এর স্বয়ং জন্ম হওয়া "অজায়মান" পরমাত্মার জন্য ঠিক হতে পারে না। কিন্তু স্বয়ং বিদ্যমান "ভূ ধাতু" সত্তা অর্থের মধ্যে আছে, অর্থাৎ যার সত্তা স্বয়ং হবে। আপনার অবতারের তো মাতা-পিতা দশরথ আর কৌশল্যা আদি বিদ্যমান আছে, তাহলে আপনি কিভাবে বলছেন যে তাঁকে কেউ জন্ম দেয় নি?
🔵 শ্রী পণ্ডিত অখিলানন্দ জী কবিরত্ন -
আমার কথার উত্তর দেওয়া হচ্ছে না, কথা সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমি স্বামী দয়ানন্দকে মানি না। স্বামী দয়ানন্দ পাটেলের উপর দুধ আর মধু চরানো লিখেছেন, এটা কি মূর্তিপূজা নয়? স্বামী দয়ানন্দের এইসব কথাকে সমাজী কিভাবে অস্বীকার করতে পারে? (সময় পূর্ণ না করেই বসে পড়লেন)
🟠 শ্রী পণ্ডিত রামাশ্রয় জী শাস্ত্রী -
সভ্য মহোদয়গণ! আপনারা শুনছেন যে আমি পণ্ডিত জীর সব প্রমাণকে বেদ বিরুদ্ধ সিদ্ধ করে আর্য সমাজের পক্ষকে বেদানুকূল সিদ্ধ করেছি। যেসব মন্ত্রের উত্তর পূর্বে দেওয়া হয়েছে, তারমধ্যে নতুন কোনো কথা বিনা উদ্ভাবিত করে বারংবার পূর্ণরাবৃত্তি করা কি পাবলিকের সময় নষ্ট করা হবে না? স্বামী দয়ানন্দ জী তো স্পষ্ট লিখে দিয়েছেন যে - কৃষি বিদ্যার দ্বারা পৃথ্বী আদির সংস্কার করো" কিন্তু পণ্ডিত জী বলছেন যে "পাটেল পূজা লিখেছেন"। এইভাবে আর অন্য সব মন্ত্রের অর্থ জ্ঞাত করে আপনারা জেনে গেছেন যে বেদের মধ্যে মূর্তিপূজা তথা অবতার নেই। "ত্বম্ স্ত্রীত্বম্পুমানসি" এই মন্ত্রটা পরমাত্মার বিষয়ে নয় কিন্তু জীবাত্মাপরক হবে। তা নাহলে কি "জীর্ণোদণ্ডেনবম্চসি" দ্বারা বম্চকতাও করেন? এই ধরণের কথা ঈশ্বরের স্তুতিপরক হতে পারে না।
🔵 শ্রী পণ্ডিত অখিলানন্দ জী কবিরত্ন -
মহীধর যজমানের স্ত্রীর সঙ্গে ঘোড়ার...করিয়েছে, তো স্বামী দয়ানন্দ তো স্ত্রীর য়োনিতে মধু লাগিয়েছে। দেখুন সংস্কার বিধি - নোট করুন, "ইমম্তেউপস্থম্ মধুনাম্ সম্সৃজামি", স্বামী দয়ানন্দ সংস্কার বিধিতে উস্তরের পূজা বলেছেন। সেটা কি মূর্তিপূজা নয়? আমি তো বার-বার মন্ত্রের প্রমাণ দিচ্ছি। আর্যসমাজী কি স্বামী দয়ানন্দের কথাকেও মানবেন না?
🟠 শ্রী পণ্ডিত রামাশ্রয় জী শাস্ত্রী -
সজ্জনগণ! মহীধরের অশ্লীলতাকে তো পণ্ডিত জী মেনে নিয়েছেন, এইজন্য তার উত্তর দেন নি আর সংস্কার বিধির "ইমম্ তে..." আদি বচন তো আপনিও মানেন, তাহলে আপনি আপনার অর্থ করে কেন দেখালেন না? এখানে তো গৃহস্থের সুখের বর্ণনা আছে, উস্তরের পূজা নেই। উস্তরেকে ধূপ দীপ নৈবেদ্য কেউই চরায় না কিন্তু উস্তরের পরীক্ষা হয়। শিশুর মস্তকের ত্বককে উস্তরা যেন কেটে না দেয় সেই কারণে নাপিতকে সূচিত করে দেওয়া হয় যে এই ছুরি দিয়ে যেন ধ্যানপূর্বক মুণ্ডন করা হয়। উস্তরা কোনো প্রকারের বিষ্ণুর দাঢ় নয় তবে "য়জ্ঞো বৈ বিষ্ণু" এই শতপথ বাক্য দ্বারা উস্তরেকে যজ্ঞের দাঢ় বলে উপমা দেওয়া হয়েছে। যেমন দাঢ়ের কাজ হল কাটা, ঠিক সেইভাবে উস্তরের কাজ হল কাটা। আমাদের উপর আসা প্রত্যেক আক্ষেপের উত্তর আমি দিয়েছি, কিন্তু পণ্ডিত জী বেদ থেকে মূর্তিপূজা সিদ্ধ না করে স্বামী দয়ানন্দের গ্রন্থের উপর এসে পড়েছেন আর সেগুলোকেও অসত্য রূপে পেশ করছেন। "ভূমেরজায়ত" দ্বারা তো আপনি সাকার সিদ্ধ করলেন কিন্তু সেখানেই অথর্ববেদের মধ্যে "আকাশাদজায়ত" যে লেখা আছে অর্থাৎ আকাশ থেকে প্রকট হয়, তাহলে নিরাকার আকাশ থেকে নিরাকার পরমাত্মা প্রকট হয় কি?
🔵 শ্রী পণ্ডিত অখিলানন্দ জী কবিরত্ন -
আমি স্বামী দয়ানন্দের গ্রন্থ থেকে মূর্তিপূজা সিদ্ধ করে দেখিয়েছি। "অন্তঃ অজায়মানঃ" পূর্বে "বহুধা বিজায়তে" আছে, যার অর্থ হল অনেক প্রকারে উৎপন্ন হয়। ঊখল আর মূসলের পূজা সংস্কার বিধির মধ্যে স্বামী জী বলেছেন তথা "ভদ্রকাল্যৈনমঃ" এরমধ্যে ভদ্র কালীর সামনে রুটির টুকরো রেখে দেওয়া স্বামী জী লিখেছেন, ভদ্রকালী বস্তুটা কি? আমাদের মূর্তি তো খায় না আর ভদ্রকালী খেয়ে নেয়...(সময় সম্পূর্ণ না করে বসে পড়েন)।
🟠 শ্রী পণ্ডিত রামাশ্রয় জী শাস্ত্রী -
ভদ্রকালী হচ্ছে পরমাত্মার নাম, তাঁর আজ্ঞা পালনার্থ বলিবৈশ্বদেবযজ্ঞ করা হয় অর্থাৎ পশু-পক্ষীদের অন্ন দেওয়া হয়। "বহুধা বিজায়তে" এর অর্থ মাতা-পিতার গর্ভ থেকে উৎপন্ন হওয়া নয় বরং নিজের গুণ দ্বারা অনেক প্রকারের য়োনির হৃদয়ে আর সংসারে প্রকাশিত হন। ঊখল-মূসলের পূজা সংস্কার বিধির মধ্যে লেখা নেই, আপনি ব্যর্থ সময় নষ্ট করছেন, এমন পিষে ফেলাকে পিষে কোনো লাভ নেই। সজ্জনগণ! আমি "ন তস্য প্রতিমাস্তি" তথা "স পর্য়গাচ্ছুক্রমকায়ম..." ইত্যাদি কতগুলো বেদ মন্ত্রের দ্বারা আপনাদের সবাইকে বিদিত করে দিয়েছি, অথচ পণ্ডিত জী এদিক-সেদিকের কথা ছাড়া, বেদ মন্ত্রের দ্বারা নিজের পক্ষের পুষ্টি করতে পারলেন না।
🔵 শ্রী পণ্ডিত অখিলানন্দ জী কবিরত্ন -
সভ্যবৃন্দ! আমার একটা কথারও উত্তর দেন নি, ভদ্রকালীর অর্থ কি বলুন? স্বামী দয়ানন্দ ব্যাকরণ জানতেন না তাই তিনি কিভাবে বেদের অর্থকে বুঝবেন? (পুনঃ সেই পিষ্টপেষণ করে বসে পড়লেন)
🟠 শ্রী পণ্ডিত রামাশ্রয় জী শাস্ত্রী -
মাননীয় শ্রোতাগণ! যেভাবে পণ্ডিত জী কোনো প্রমাণ না দিয়ে বলছেন, মূর্তিপূজা কি এইভাবে সিদ্ধ হবে? "মৃচ্ছিলা ধাতুদার্বাদি..." এটা মহার্নিবাণ তন্ত্রের বচন, এর খণ্ডনকারী হবে তথা "ন হ্যম্ময়ানি তীর্থানি ন দেবা মৃচ্ছিলাময়া" এরমধ্যে আপনাদের অবতার ব্যাস জী এই পুরাণ বচনের মধ্যে স্পষ্টভাবে মূর্তিপূজার নিষেধ করেছেন। চার বেদের মধ্যে আপনি মূর্তি শব্দ দেখাতে পারবেন না।
🔵 শ্রী পণ্ডিত অখিলানন্দ জী কবিরত্ন -
উস্তরের পূজা সংস্কার বিধির মধ্যে লেখা আছে। "গর্ভে অন্তত্বম্ স্ত্রীত্বম্পুমান্... ইত্যাদি মন্ত্র অবতার সিদ্ধ করে। এরা তো ঊখল-মূসলকে রুটি খাওয়ায়, ঊখল-মূসলের থেকে তো মূর্তি অনেক ভালো। স্বামী দয়ানন্দ তো বেদের কলঙ্ক করেছেন, আমি তো এইজন্য আর্য সমাজকে ছেড়ে দিয়েছি। ইনি আমার কোনো কথার উত্তর দেন নি। আমি মূর্তিপূজা বেদ থেকে সিদ্ধ করে দিয়েছি (পূর্বে বলা কথাকে পুনরাবৃত্তি করে বসে পড়লেন)।
🟠 শ্রী পণ্ডিত রামাশ্রয় জী শাস্ত্রী -
সজ্জনগণ! যিনি সারা ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা, তাঁকে এরা বানিয়ে ছয়-সাত টাকায় বিক্রি করে, ভাবুন!ঊখল-মূসলকে রুটি খাওয়ানো লেখা নেই। ঊখল-মূসল যে চালায় তাকে খাবার দিলে ঊখল-মূসলের পূজা হয় না। আমি এখন পর্যন্ত পণ্ডিত জীর সব পূর্বপক্ষের খণ্ডন উত্তম ভাবে করেছি যে বেদের মধ্যে মূর্তিপূজা কোথাও লেখা নেই। আর যদি থাকে তাহলে কেন পণ্ডিত জী সেটা এখনও পেশ করছেন না? যে মন্ত্রের উত্তর দেওয়া হয়েছে সেগুলোকে বারংবার বলা ব্যর্থ সময়য়াপন করা হবে। স্বামী দয়ানন্দ জী বেদকে কলঙ্ক করেননি বরং তার প্রতিষ্ঠা রেখেছেন। কলঙ্কিত তো মহীধর করেছেন, দেখুন অধ্যায় ২৩ মন্ত্র ৯ থেকে ... (সময় সমাপ্ত)।
🔵 শ্রী পণ্ডিত অখিলানন্দ জী কবিরত্ন -
আমাদের বালমুকুন্দ তো ছয়-সাত টাকায় বিক্রি হয় কিন্তু আপনাদের ও৩ম্ তো থালায়-থালায় আসে। আমি সত্যার্থ প্রকাশ, সংস্কার বিধি সবগুলো থেকে মূর্তিপূজা সিদ্ধ করেছি যার উত্তরই দিতে পারেন নি। উত্তর দিবেনই বা কিভাবে? শাস্ত্রার্থের মধ্যে পাণ্ডিত্যের কাজ হয়, পণ্ডিত জী তো সঠিকভাবে সংস্কৃতও বলতে পারেন না। আমি ডজন খানেক মন্ত্র উদ্ধৃত করেছি কিন্তু তিনি স্পর্শ পর্যন্ত করেন নি। (পুরনো কথা পুনরাবৃত্তি করে বসে পড়লেন)
🟠 শ্রী পণ্ডিত রামাশ্রয় জী শাস্ত্রী -
সভ্যবৃন্দ! আজকের শাস্ত্রার্থ আমার এই ভাষণে সমাপ্ত হবে। পণ্ডিত কবিরত্ন জীর পক্ষের সিদ্ধি কতদূর সফল মনোরথ হয়েছেন এর নির্ণয় করা আপনাদের কাজ। পণ্ডিত জী অনেক টানাহেঁচড়া করেও বেদ থেকে কোনো মন্ত্র দ্বারা অবতার শব্দ, মূর্তিপূজা আর অমুক মন্ত্রের দেবতা অবতার, সেইসব সিদ্ধ করতে পারেন নি। আর আমাদের যে ও৩ম্ বিক্রি হয় সেটা কেবল চিহ্ন মাত্রের জন্য, সেটা কোনো পূজা বা ভোগের জন্য নয়। পণ্ডিত জী নিজের পণ্ডিত্বের উপর বড় অহংকার করেন, তো এই শাস্ত্রার্থের পশ্চাৎ একদিন চাইলে সংস্কৃত বলতে অথবা ব্যাকরণে শাস্ত্রার্থ করে নিবেন, তাতে স্বয়ংই পণ্ডিত্বের জ্ঞাত হয়ে যাবে। আমি আপনার প্রত্যেক কথার উত্তর দিয়েছি আর আপনি বলছেন - আমি তো মন্ত্র পেশ করেছি উনি মন্ত্র স্পর্শ পর্যন্ত করেন নি। যদি স্বীকার না করেন তাহলে তো তার কোনো ওষুধ নেই। শাস্ত্রার্থ সমাপ্ত করার সময় হয়ে গেছে এইজন্য আমি এখন এখানেই আমার কথন সমাপ্ত করছি।
Note - শাস্ত্রার্থ সমাপ্ত হলে প্রধান জী উঠে চলে যান, শ্রোতাগণও চলে যাচ্ছিলেন কিন্তু এরই মধ্যে না যাওয়ার বিচার করে সনাতন ধর্মসভার পক্ষ থেকে শ্রী পণ্ডিত কালুরাম জী মঞ্চে বক্তৃতা দিতে চান। তখন শ্রীমান ইন্সপেক্টর পুলিশ মহোদয় থামিয়ে দেন যে - এখন বক্তৃতা দেওয়া উচিত হবে না কারণ মঞ্চটা দুই পক্ষের। এরফলে কালুরাম জী মঞ্চ থেকে নেমে বক্তৃতা দেওয়া আরম্ভ করে দেন। যখন অনেক বারণ করার পরেও মানেন নি তখন আর্য সমাজের পক্ষ থেকে শ্রী পণ্ডিত ঠাকুর ইন্দ্র বর্মা জীও নিচে নেমে অন্য দিক থেকে বক্তৃতা দেওয়া আরম্ভ করে দেন। তখন উপপ্রধান জী যিনি প্রধান চলে যাওয়ার পর সভার নেতৃত্বে সুশোভিত ছিলেন, তিনি উভয় পক্ষকে থামিয়ে দেন।
✍️নিবেদক -
লদ্ধারাম সাহনী
(প্রথম দিনের শাস্ত্রার্থ সমাপ্ত)

[তৃতীয় দিন ২১ সেপ্টেম্বর সন ১৯১৭]

(সময় ২টা ৪০ মিনিট)
Note - আজ জৈন্ট মেজিস্ট্রেট সাহেব আসেন নি সুতরাং উপপ্রধান জী প্রধান পদে সুশোভিত হন, পণ্ডিত অখিলানন্দ জীর বলাতে আজও শাস্ত্রার্থের বিষয় "মূর্তিপূজা"ই রাখা হয়, ২০ তারিখে প্রচণ্ড বর্ষা হওয়ার কারণে শাস্ত্রার্থ বন্ধ ছিল।
"প্রধান" আর্য সমাজ (মহোবা)
🍁 শাস্ত্রার্থ আরম্ভ 🍁
আর্য সমাজের পক্ষ থেকে পণ্ডিত রামাশ্রয় জী প্রথমবারে নিশ্চিত কাল পর্যন্ত সংস্কৃতে বলে তারপর ভাষাতে বললেন -
🟠 শ্রী পণ্ডিত রামাশ্রয় জী শাস্ত্রী -
সজ্জন বৃন্দ! আপনারা গতপরশু শাস্ত্রার্থে শুনে থাকবেন যে বেদের মধ্যে ঈশ্বরের কোনো আকৃতি বলা হয়নি। সুতরাং ঈশ্বরের মূর্তি হতে পারে না আর "স পর্য়গাচ্ছুক্রম্ অকায়ম্", "ন তস্য প্রতিমা অস্তি", "ন তত্র চক্ষুর্গচ্ছতি", ন চক্ষুষা পশ্যতি" ইত্যাদি অনেক প্রমাণ দিয়েছি। পণ্ডিত জী "ন তস্য প্রতিমা অস্তি" কে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্পর্শ করেন নি, যেখানে স্পষ্ট লেখা আছে যে - "তাঁর কোনো প্রতিমা নেই"; আর গণেশ, বিষ্ণু, শিব আদির প্রতিমার তো কোথাও কোনো উল্লেখ পর্যন্ত নেই। এর দ্বারা কি স্পষ্ট নয় যে বেদের মধ্যে মূর্তিপূজা নেই আর যদি থাকে তাহলে দেখাবেন যে কোন বেদ মন্ত্রের মধ্যে আছে যে ঈশ্বরের মূর্তি কত লম্বা কত চওড়া আর কোন ধাতুর কিভাবে তথা মন্দিরের মুখ কোন দিকে হবে আর তাতে কি ধরণের ফুল চরাবে? আশা করি, পণ্ডিত জী গতপরশু দিনের মতো এদিক-সেদিকের ব্যর্থ কথা বলে উল্টোপাল্টা না করে আমার প্রশ্নের উত্তর দিবেন।
🔵 শ্রী পণ্ডিত অখিলানন্দ জী কবিরত্ন -
(সংস্কৃত বলার পরে ভাষাতে বললেন) আমি গতপরশু মূর্তিপূজা সিদ্ধ করে দিয়েছিলাম। আরও শুনুন - "য়াতেরুদ্র শিবাতনূরঘোরা" এরমধ্যে "তনূ" শব্দ আছে যার অর্থ হল শরীর। "স বৈ ভূমেরজায়ত্" এরমধ্যে বলা হয়েছে যে পরমাত্মা ভূমি থেকে উৎপন্ন হয়েছেন, "ন তস্য প্রতিমা অস্তি" এরমধ্যে নকার সদৃশ অর্থতে আছে অর্থাৎ যার সদৃশ কেউ নেই। যখন তার অর্থ স্পষ্ট আছে তাহলে কেন বলা হয় যে পরমাত্মার মূর্তি নেই। পরমাত্মার মূর্তি বেদ-শাস্ত্র সবগুলো বলেছে, অতএব আমরা সবাই বৈদিক ধর্মী সনাতন ধর্মানুকূল মূর্তি পূজন করে তাঁর আরাধনা করি।
🟠 শ্রী পণ্ডিত রামাশ্রয় জী শাস্ত্রী -
উপস্থিত সভ্য মহোদয়গণ! আপনারা দেখছেন কিভাবে বাক্ছলের দ্বারা কাজ করা হচ্ছে? যে "ন তস্য প্রতিমা অস্তি" এরমধ্যে "ন" এর অর্থ সনাতন ধর্মের আচার্য মহীধর-উব্বট "না" করেছেন আর সনাতন ধর্মের মহোপদেশক শ্রীমান পণ্ডিত জ্বালাপ্রসাদ জীও "না" বলেছেন, (তিনটা ভাষ্যই পড়া হল) তাহলে জানি না কেন পণ্ডিত অখিলানন্দ জী ভিন্ন অর্থ করার দুঃসাহস করছেন? স্বামী দয়ানন্দের উপরে তো পণ্ডিত জী অর্থ বদলানোর আক্ষেপ করেন যা হচ্ছে একদম মিথ্যা, স্বামী দয়ানন্দ জী তো শতপথ, নিরুক্ত আদি প্রাচীন ঋষি প্রোক্ত গ্রন্থের আধারে অর্থ করেছেন কিন্তু আপনি আপনার আচার্যদের বিরুদ্ধ বিনা কোনো ঋষি প্রোক্ত গ্রন্থের আধারে অনর্থ করে কেন বেদকে কলঙ্কিত করছেন? তারপর "স পর্য়গাচ্ছুক্রমকায়ম্... এর "অকায়ম্" তো প্রশ্ন রয়েই গেছে, "স বৈ ভূমেরজায়ত্" এর জন্য আমি বলেছিলাম যে পরমেশ্বর ভূমি থেকে উৎপন্ন হওয়া এটা কখনও হতে পারে না, এটা বেদ বিরুদ্ধ।
"নত্বা বা অন্যোদিব্যোনপার্থিবো ন জাতো ন জনিষ্যতে" এরমধ্যে স্পষ্ট "ন পার্থিবঃ" শব্দ আছে। পৃথিবী থেকে যে উৎপন্ন হবে তাকে পার্থিব বলা হবে, তাহলে ন পার্থিব পরমাত্মার ভূমি থেকে উৎপন্ন হওয়া কীভাবে ঠিক হতে পারে? যদি ভূমি থেকে উৎপন্ন হয় তাহলে ভূমি কি থেকে উৎপন্ন হয়েছে? আপনি মূর্তির আকার কিরকম আর মন্দিরের মুখ কোনদিকে হওয়া উচিত এই বিষয়ে কেন বেদ মন্ত্র পেশ করছেন না?
🔵 শ্রী পণ্ডিত অখিলানন্দ জী কবিরত্ন -
উপস্থিত সজ্জনগণ! "স পর্য়গাচ্ছুক্রমকায়ম্" মন্ত্রকে অর্ধেক পড়া হয়েছে, যদি পুরোটা পড়া হয় তাহলে কব্জি খুলে যাবে, সেখানে "অব্রণম্" আর "অস্নাবিরম্" শব্দও তো আছে যার অর্থ ব্রণ রহিত আর স্নায়ু নাড়ি বলার আবশ্যকতা কি ছিল? যেভাবে অনোদরা কন্যা বলাতে অল্প উদরকারী কন্যার গ্রহণ হয়, সেইভাবে এখানেও অল্পকায়কারী ঈশ্বরকে বুঝে নিবেন। যখন স্বামী দয়ানন্দ চন্দ্রমাকে অর্ধ্য দেওয়া লিখেছেন তাহলে আমাদের সূর্যকে অর্ধ্য দেওয়া কেন পৌঁছাবে না?
🟠 শ্রী পণ্ডিত রামাশ্রয় জী শাস্ত্রী -
উপস্থিত সভ্য মহোদয়গণ! পণ্ডিত জী স্বামী দয়ানন্দের জন্য অর্থ পরিবর্তনের আক্ষেপ করেন কিন্তু এই সময় স্বয়ং নিজে করছেন। আপনি আপনার আচার্যদের বিরুদ্ধে বলেছেন, "অকায়ম্ ন বিদ্যতেকায়ঃ শরীরম্য়স্য" এই অর্থটা উব্বট মহাশয় করেছেন, অর্থাৎ যার শরীর নেই, এখন আপনার পুনরুক্তি (কি আবশ্যকতা ছিল) তার সমাধান "পুনরক্তান্যভ্যাসে ভূয়াম্সমর্থম্ মন্যন্ত ইত্যদোষা" এই উব্বট বাক্যের দ্বারা সমাধান হয়। আর মহীধর মহাশয় "অকায়োऽশরীরঃ লিঙ্গ শরীর প্রতিষেধঃ" এই বাক্যের মধ্যে স্পষ্ট করেছেন যে - স্থূল সূক্ষ্ম শরীর হতে রহিত। তাহলে অকায় -এর অর্থ শরীর রহিত যখন আপনার দুই আচার্য বলেছেন তাহলে অনোদরা কন্যার উদাহরণ দিয়ে অল্পকায় অর্থ করা কতদূর সঠিক হতে পারে? পুনরুক্তি তো "অভ্যাসেভূয়ান্সমর্থম্ মন্যন্তে" ইতিয়াস্কোক্তি দ্বারা অত্যন্তাভাবের দ্যোতক হয়। আপনার আচার্যরা পর্যন্ত স্বয়ম্ভূর অর্থ স্বয়ং উৎপন্ন হয় এমনটা করেন নি, উব্বট মহাশয় তো "ক্লেশ কর্ম বিপাকাশয়ৈঃ" দ্বারা স্পষ্ট উৎপন্ন হওয়া নিষেধ করেছেন, আর স্বয়ং জ্ঞানবলাদি "ব্রহ্মরূপেভবিতা" এই বাক্যাংশকে আত্মোপাসীর জন্য লিখেছেন, এই রকমই মহীধরাচার্যও উপাসকের পক্ষে লাগিয়েছেন, তাহলে এতো টানাহেঁচড়া কেন করছেন?
🔵 শ্রী পণ্ডিত অখিলানন্দ জী কবিরত্ন -
প্রিয় ধর্মপ্রেমী ভ্রাতাগণ! আমি বলেছিলাম যে মন্ত্রের মধ্যে পুনরুক্তিদোষ এসে যাবে, এর কোনো যথার্থ উত্তর দেন নি। অনোদরা কন্যা থেকে যখন অল্পোদরা কন্যার অভিপ্রায় নেওয়া হয়। "প্রজাপতিশ্চরতিগর্ভে" এরমধ্যে স্পষ্ট চরতি-গচ্ছিত (চলে যায়) অর্থ আছে তাহলে কেন সেটাকে স্পর্শ পর্যন্ত করেন নি? "ন তস্য প্রতিমা অস্তি" এর আমি "তাঁর সদৃশ প্রতিমা নেই" অর্থ করেছিলাম তারদ্বারাও আমার পক্ষ সিদ্ধ হয়।
🟠 শ্রী পণ্ডিত রামাশ্রয় জী শাস্ত্রী -
আপনি আমার "অকায়ম্" - "ন তস্য প্রতিমা অস্তি" -র অর্থ মহীধরাদি আচার্যরা যেমন করেছেন তার বিরুদ্ধ অর্থ করে উত্তর দিয়েছেন, যাকে কোনো বিদ্বান সনাতন ধর্মী স্বীকার করতে চাইবে না। "প্রজাপতিশ্চরতিগর্ভে" এরমধ্যে চরতির "প্রাপ্নোতি" অর্থ যখন স্পষ্ট আছে, "ন জাতো ন জনিষ্যতে" এরমধ্যে না উৎপন্ন হয়েছে আর না উৎপন্ন হবে এতে স্পষ্ট স্পষ্ট অর্থ আছে। চন্দ্রমাকে জল নিক্ষেপ এটা সোমগুণযুক্ত ব্রহ্মচারীর সঙ্গে অভিপ্রায় আছে, এটা পরমাত্মার পূজা নয়।
🔵 শ্রী পণ্ডিত অখিলানন্দ জী কবিরত্ন -
"ভূমেরজায়ত" এর উত্তর দেন নি, মহাভাষ্য হয়ে ৭০০০ বর্ষ হয়েছে, যার মধ্যে জীবিকার্থে চাপরামেতে স্পষ্ট শিবা স্কন্দ বিশাখ ইতি শব্দের মধ্যে স্পষ্ট শিবাদির মূর্তি প্রতীত হয়। "স এব জাতঃ সঃ জনিষ্যমাণঃ" দ্বারা স্পষ্ট হয়েছে যে - সেখানেই উৎপন্ন হয়েছে আর সেখানেই উৎপন্ন হবে। "বিশ্বতশ্চক্ষুরূত বিশ্বতস্যাত্ চক্ষু" আর "পাত" শব্দ থেকে সাকার পরমাত্মা সিদ্ধ হয়। স্বামী দয়ানন্দ আর্যাভিবিনয়ের মধ্যে লিখেছেন যে - হে ঈশ্বর তুমি সোমরস পান করো। ঈশ্বর যদি সাকার না হয় তাহলে কিভাবে সোমরস পান করবে? আর্যদের ঈশ্বর যখন সোমরস পান করে তাহলে "সাকার" সিদ্ধ হল। "য়াতে রুদ্র শিবা তনূ" এরমধ্যে শব্দ শরীর বাচক আছে, তার উত্তর দিতে পারেন নি। আমার সবগুলো প্রশ্ন যেমনটা তেমনই পড়ে আছে।
🟠 শ্রী পণ্ডিত রামাশ্রয় জী শাস্ত্রী -
মূর্তি কিরকম আকার-প্রকারের, কত লম্বা চওড়া তথা কোন ধাতুর হবে? এই প্রশ্নের উত্তর এখন পর্যন্ত আপনি দেন নি। "জীবিকার্থে চাপরায়ে" এরমধ্যে মূর্তি পূজা শিব-স্কন্দাদির মানাটা অশুদ্ধ হবে, কারণ "মৌর্ম্যেহিরণ্যার্থিভীরর্চা প্রকল্পিতা"তে হিরণ্যার্থী মৌর্ম্যের দ্বারা অর্চা প্রকল্পিত হয়েছে। স্পষ্ট ভাবে বোঝা যাচ্ছে যে "য়াতে রুদ্র শিবাতনূ"র মধ্যে তনূ দ্বারা সাকার পরমাত্মা সিদ্ধ করাও কথন মাত্র হবে। কল্যাণ স্বরূপ বলে দিলেই সাকার পরমাত্মা সিদ্ধ হয়ে যেতে পারে না, যেমন চেতন স্বরূপ বলে দিলেই সাকার হয়ে যায় না। "স এব জাতঃ" আদির অর্থ হল য়োগিদের হৃদয়ে পূর্বেও প্রাদুর্ভূত হয়েছে আর পরবর্তীতেও হবে। জন্ম নেয় এমনটা অজন্মা পরমাত্মার জন্য ঠিক নয়। "বায়বায়াদি"র মধ্যে পাহি শব্দের পালন করে স্পষ্ট অর্থ স্বামী জী ঋগ্বেদ ভাষ্যতে করেছেন। আর্যাভিবিনয়ের মধ্যে পালনের "ল" ছুটে গিয়ে পান থাকাতে পান করা অর্থ করা, এটা পণ্ডিত জীর বাক্ছল মাত্র, পণ্ডিত জী! এটা ছাপার অশুদ্ধি হয়েছে। আর পাহির অর্থ পিব কখনও হয় না। যদি ব্যাকরণের অভিমান থাকে তাহলে পণ্ডিত জী দেখাবেন। "বিশ্বতশ্চক্ষুরূত" দ্বারা চতুর্দিকে দেখার শক্তি নিরাকার পরমাত্মার মধ্যে সম্ভাবিত, কিন্তু মন্দিরের মধ্যে তো একদিকেই দাঁড়িয়ে আছে। "ন হ্যম্ময়ানিতীর্থানি ন দেবামৃচ্ছিলাময়া" দেবতা মাটি-পাথরের হয় না, যার এমনই অর্থ সনাতন ধর্মী পণ্ডিত জ্বালাপ্রসাদ জী করেছেন (টীকা পড়ে শোনালেন)। "অরূপবত্বমিতি" বেদান্ত সূত্রের মধ্যে পরমাত্মার রূপের স্পষ্ট নিষেধ আছে।
🔵 শ্রী পণ্ডিত অখিলানন্দ জী কবিরত্ন -
আমি সোমরস পান করা আর্যাভিবিনয় থেকে দেখিয়েছি। নিন সাকারের সম্বন্ধেও দেখাচ্ছি - "প্রাদেশমাত্রম্ মহাবীরম্ করোতী" এমনটা বেদের মধ্যে লেখা আছে, যার মধ্যে প্রদেশ মাত্র মহাবীরের মূর্তি বানানো লেখা আছে। "জীবিকার্থে চাপরায়ে" এর উত্তর দেন নি। "সর্বেভূমেরজায়ত্" এর অর্থ কেমন বেরিয়ে এসেছে যে পৃথ্বী আদিকে দেখে তাঁর জ্ঞান হয়। আসলে তিনি ভূমি থেকে উৎপন্ন হয়েছেন এই অর্থটাই ঠিক হবে। বেদকে ছেড়ে দিয়ে ভাগবতের প্রমাণ দেওয়া বেদের কোলাহলকারী আর্য সমাজের জন্য উপযুক্ত নয়। "সহস্রশীর্ষা"র দ্বারাও সাকারতা আর মূর্তিপূজা সিদ্ধ হয়। আর্যাভিবিনয়ের এত এডিশন বেরিয়ে গেছে শুধরান নি কেন? ঈশ্বর যখন সর্ব শক্তিমান তাহলে অবতার কেন নিতে পারবেন না?
🟠 শ্রী পণ্ডিত রামাশ্রয় জী শাস্ত্রী -
"প্রাদেশমাত্রম্ মহাবীরম্ করোতি মখায়ত্বামখস্যত্বা" এরমধ্যে যজ্ঞের পাত্র মহাবীরের বর্ণনা আছে, কারণ যদি মূর্তি হতো তাহলে এমন কেন লেখা থাকতো যে যদি কাষ্ঠের হয় তাহলে জ্বলে যাবে, সোনার হয় তাহলে গলে যাবে আদি-আদি। ঘৃত দেওয়ার সাধন রূপ কপালের নাম হল "মহাবীর", কারণ তারমধ্যে "কপালে" শব্দ আছে, সেটা অগ্নির নিকট থাকার কারণে ভৃত্তিকার বানানো হয়ে থাকে। "ন তস্য প্রতিমা অস্তি" এরমধ্যে প্রতিমার নিষেধ করা হয়েছে। "অকায়" শব্দ বিদ্যমান থাকাতে সাকার সিদ্ধ করা খপুষ্পবত্ হবে। পাহির পিব অর্থ আপনি কোনো ব্যাকরণ দ্বারাও সিদ্ধ করতে পারবেন না। ঋগ্বেদ ভাষ্যতে পাহির পালন অর্থ হওয়াতে, আর্যাভিবিনয়ের মধ্যে ছাপার অশুদ্ধি দ্বারা পালনের পান হয়ে যাওয়াটা গ্রাহ্য নয়। ভাগবতের মধ্যে "য়স্যাত্ম বুদ্ধি..." এই শ্লোকের মধ্যে মূর্তি পূজককে যখন "গোখর" (গাভীর চারা বহনকারী) বলা হয়েছে তখন আপনি কিভাবে মূর্তিপূজা সিদ্ধ করার সাহস করতে পারেন?
🔵 শ্রী পণ্ডিত অখিলানন্দ জী কবিরত্ন -
আমি "সহস্রশীর্ষা" আদির দ্বারা ঈশ্বরের সাকার হওয়া তথা মূর্তিপূজা সিদ্ধ করেছি। আপনি বেদের মধ্যে নিরাকার শব্দ কখনও দেখাতে পারবেন না। কোনো মন্ত্রের মধ্যেই দেবতা নিরাকার নেই, তাহলে নিরাকার উপাসনা কেন? দয়ানন্দের নোংরা হিন্দি আমি মানি না। "জীবিকার্থে চাপরায়ে" এর উত্তর দেন নি। বেদের মধ্যে রাম কৃষ্ণ আদি ঋষি এসেছিলেন যার দ্বারা রাম-কৃষ্ণ আদি অবতার সিদ্ধ হয়।
🟠 শ্রী পণ্ডিত রামাশ্রয় জী শাস্ত্রী -
"সহস্রশীর্ষা" দ্বারা সাকার ঈশ্বর সিদ্ধ করলে ঈশ্বর কানা ল্যাংড়া হবে, সুতরাং আমার পূর্বের অর্থই সঠিক হবে। আমি বেদানুকূল অন্য গ্রন্থকে প্রমাণ শ্রেণীতে মানি, বেদের মধ্যে নিরাকার পর্যায়বাচী "অকায়" শব্দ আছে। আপনি মূর্তির আকার-প্রকার, মন্দিরের বিষয়েও চুপ করে আছেন। "ন তস্য প্রতিমা" - "সপর্য়্যগাত্" - "ন জাতো ন জনিষ্যমাণঃ" - "অন্তর অজায়মানঃ" ভাগবতও মূর্তি পূজককে "গোখরঃ" অর্থাৎ গাভীর চারা বহনকারী গাধা বলেছে।
🔵 শ্রী পণ্ডিত অখিলানন্দ জী কবিরত্ন -
আমার একটাও প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন নি। সংস্কার বিধির মধ্যে উস্তরের পূজা, উলুখল-মূসল আদি সমস্ত কথা আমাদের পক্ষকে সিদ্ধ করছে। ভাগবতকে বেদাভিমানী আর্য সমাজের প্রমাণের মধ্যে দেওয়া অযথার্থ হবে। ভাগবতে শ্রীধরী টীকা দেখুন। স্বামী দয়ানন্দ বেদ মন্ত্রের অর্থ অশুদ্ধ করেছেন।
🟠 শ্রী পণ্ডিত রামাশ্রয় জী শাস্ত্রী -
সজ্জনগণ! পণ্ডিত জী আমার করা প্রশ্নগুলোর মধ্যে কেমন উত্তর দিয়েছেন সেটা আপনারা বুঝে গেছেন। তাই আমি নতুন কোনো প্রশ্ন না করে সেগুলোর উত্তরই চাইছি। (প্রশ্ন পুনরাবৃত্তি করা হয়)
🔵 শ্রী পণ্ডিত অখিলানন্দ জী কবিরত্ন -
আমি মূর্তিপূজা বেদের দ্বারা বলেছি, অবতারও বলেছি, তাঁর উৎপন্ন হওয়াও বলেছি। "ছন্দসি সর্বে বিকল্পন্তে" দ্বারা পা পাহি হয়ে যায়, "স এব জাতঃ সজনিষ্যমাণঃ" দ্বারা অবতার সিদ্ধ হয়। "মহাবীরম্ করোতি" দ্বারা মহাবীরের মূর্তি বানানো বেদের মধ্যে লেখা আছে, "সহস্রশীর্ষা" দ্বারা চোখ-মুখ-পা সিদ্ধ করেছি, "গর্ভে চরতি" দ্বারা অবতার সিদ্ধ। সোমের অর্থ ব্রহ্মচারীদের দেখান, মহীধরের অর্থকে কেন মানেন? নিরুক্তের মধ্যে পাহির অর্থ পিব লেখা আছে। জৈনরা মূর্তি পূজা শুরু করেছে - স্বামী দয়ানন্দের এটা লেখা ভুল, মূর্তি পূজার বিধি মহাভাষ্যের মধ্যে আছে। এইভাবে আজকের এই মূর্তিপূজা বিষয়ক শাস্ত্রার্থ সমাপ্ত হল।
🍁শাস্ত্রার্থ সমাপ্ত🍁

No comments:

Post a Comment

ধন্যবাদ

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

বর্ণ ব্যবস্থা গুণ; কর্ম; স্বভাব থেকে হয় নাকি জন্ম থেকে ?

শাস্ত্রার্থ আরম্ভ শ্রী পণ্ডিত মাধবাচার্য জী শাস্ত্রী - মহানুভব! আজকের শাস্ত্রার্থ বিষয় হল বর্ণ-ব্যবস্থা। সনাতন ধর্ম, জন্ম প্রধান-গুণ কর্ম...

Post Top Ad

ধন্যবাদ