অনেক ইসলামিক বক্তাই বলে থাকেন, জিহাদ শব্দের অর্থ নাকি যু দ্ধ নয়, চেষ্টা করা। অবশ্যই, জিহাদ শব্দের একটি অর্থ চেষ্টা করা বটে, আরেকটি অর্থ হচ্ছে যু দ্ধ করা। কিন্তু কোরআনের বিভিন্ন সূরার আয়াতে যেভাবে জিহাদ শব্দটির কথা বলা আছে, সেসবের অর্থ শুধু চেষ্টা করা নয়। বরঞ্চ যুদ্ধ করা কাফেরদের বিরুদ্ধে। অনেকে আবার বলেন, জিহাদ বা কাফেরদের বিরুদ্ধে যু দ্ধের বিধান নাকি ১৪০০ বছর আগেকার সময়ের প্রেক্ষাপটে নাজিল হয়েছিল। কোরআনে যে সকল সূরাতে জিহাদের কথা বলা আছে, সেগুলো নাকি যুদ্ধকালীন সময়ে নাজিল হওয়া আয়াত। বর্তমান সময়ে নাকি সেই আয়াতগুলো আর প্রযোজ্য নয়। কিন্তু আসলেই কী এই কথাগুলো সত্য? কুরআন কি তাহলে সকল সময়ের জন্য নয় ?
সত্যিকার অর্থে, আল্লাহ পাক অমুসলিমদের প্রতি জিহাদ কিয়ামত পর্যন্ত চালাবার নির্দেশ দিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না পৃথিবীর প্রতিটি ঘরে ইসলামি হুকুমত প্রতিষ্ঠা হয়, প্রতিটি অমুসলিম হয় ইসলামের কাছে আত্মসমর্পন করে, নতুবা বশ্যতা এবং অপদস্থতার নিদর্শন স্বরুপ জিযিয়া দেয়। একজন মুসলিমের প্রতি নির্দেশ এটিই যে, তারা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করবেন অমুসলিম কাফেরদের বিরুদ্ধে, যতক্ষণ পর্যন্ত না শেষ অমুসলিমটি পর্যন্ত মুসলিম হয়ে যায় বা করজোরে জিযিয়া দেয়। এটিই সরাসরি আল্লাহ পাকের বিধান। যা কিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। আল হিদায়া গ্রন্থেও এই বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে।
আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক যতক্ষণ না ভ্রান্তি শেষ হয়ে যায়; এবং আল্লাহর সমস্ত হুকুম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। তারপর যদি তারা বিরত হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করেন।-[কোরআন ৮/৩৯]
এখানে তাফসীরে মাযহারীর সব খণ্ডের ডাউনলোড লিঙ্ক দেয়া হলো। আগ্রহী পাঠকগণ ডাউনলোড করে নিতে পারেন। উল্লেখ্য, তাফসীরে মাযহারী কোরআনের ১৩ তম শতাব্দীর তাফসির গ্রন্থ। হানাফী মাযহাবের একনিষ্ঠ অনুসারী বিশ্ববিখ্যাত সুন্নি ইসলামী পন্ডিত আল্লামা কাজী ছানাউল্লাহ পানিপথীর লেখা এই তাফসীর কোরআনকে সঠিকভাবে বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। [
https://www.mediafire.com/.../%25E0%25A6%25A4%25E0.../file ]
বিঃদ্রঃ
অনেকেই দাবী করেন কুরআনে সূরা বাকারার ২৫৬ নম্বর আয়াতে বলা আছে, ধর্মের মধ্যে কোনোরকম জোরজবরদস্তি নেই! কিন্তু এই আয়াতটির প্রেক্ষাপট কী? আয়াতটির হুকুম কি এখনও বলবত আছে ?
[আহকামুল কুরআন, খায়রুন প্রকাশনী, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৫৫ – ৩৫৮ দেখুন] এখানে খুবই পরিষ্কার যে, ইসলামে জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণের বৈধতাও দেয়া রয়েছে।

ফিকাহ্ শাস্ত্রের জগতে, বিশেষতঃ হানাফি ফিকাহ্র পরিমণ্ডলে আল-হিদায়া একটি মৌলিক ও বুনিয়াদি গ্রন্থ । এক কথায় এ গ্রন্থকে হানাফী ফিকাহ্ শাস্ত্রের বিশ্বকোষ বলা যায়। বহু সংখ্যক মানুষই দাবী করে থাকে, জিহাদের অর্থ হচ্ছে নিজের অন্তরে খারাপের সাথে যুদ্ধ। কিন্তু ইসলামের পরিভাষায় জিহাদ কী এবং কীভাবে তা করতে হবে, তা পরিষ্কারভাবেই আল-হিদায়া গ্রন্থে বর্ণিত রয়েছে।
আল-হিদায়া ইসলামী আইন শাস্ত্রের একখানি নির্ভযােগ্য মৌলিক গ্রন্থ। গ্রন্থকার তাঁর এই গ্রন্থখানিতে ইসলামী আইনের বিভিন্ন ধারা ও উপধারায় ক্ষেত্র বিশেষে অন্যান্য ইমামদের মতামত দলীল-প্রমাণসহ উপস্থাপন করেছেন। হানাফী মাযহাবের রায় ও সিদ্ধান্তসমূহ পর্যায়ক্রমে উপস্থাপন করে এসবের সমর্থনে পবিত্র কুরআন ও হাদীসের এমন সব অকাট্য প্রমাণাদি পেশ করেছেন, যারা হানাফী মাযহাবের সিদ্ধান্ত এবং রায়সমূহই সঠিক, অধিক গ্রহণযােগ্য ও যুক্তিযুক্ত প্রমাণিত হয়েছে। গ্রন্থখানিতে কোথাও ইমাম আবু হানীফা (র), কোথাও ইমাম আবু ইউসূফ (র) এবং কোথাও ইমাম মুহাম্মাদ (র)-এর সিদ্ধান্তকে যুক্তি-প্রমাণসহ প্রাধান্য প্রদান করা হয়েছে।
ইতােপূর্বে আমরা এই গ্রন্থখানির প্রথম বণ্ড বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করে পাঠকের হাতে তুলে দিয়েছি। এবার এর দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশ করা হলাে। ভবিষ্যতে গ্রন্থখানির অবশিষ্টাংশের অনুবাদ পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে ইনশাআল্লাহ।
সবশেষে আমি বিজ্ঞ অনুবাদক, প্রাজ্ঞ সম্পাদক, অনুবাদ ও সংকলন বিভাগের সকল কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ গ্রন্থখানি প্রকাশনার ক্ষেত্রে যারা সাহায্য-সহযােগিতা করেছেন, তাদের সবাইকে জানাচ্ছি আন্তরিক ধন্যবাদ।
মওলানা আবদুল আউয়াল
মহাপরিচালক ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
বাংলাদেশ
ইসলামে জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণের বৈধতাও দেয়া রয়েছে।
তথ্যসূত্রঃ
আমাদের জেনে নেয়া জরুরি, জিযিয়া শব্দটির অর্থ কী। অনেকেই জিযিয়া এবং খেরাজকে মিলিয়ে ফেলে জিযিয়াকে ট্যাক্স হিসেবে দাবী করেন। কথাটি সম্পূর্ণ ভুল। খেরাজ হচ্ছে অমুসলিমদের দেয়া কর। কিন্তু জিযিয়া হচ্ছে তাদের বেঁচে থাকার বা নিরাপত্তা পাওয়ার জন্য দেয়া অর্থ। এই অর্থ দিতে হবে নত অবস্থায়, অপমানিত ভাবে।
এই বিষয়ে তাফসীরে জালালাইনে যা বলা হয়েছে, তা হচ্ছে, যিজিয়া শব্দটি “জায়া” শব্দ থেকে নিষ্পন্ন অর্থাৎ তুমি মৃত্যুদণ্ডের উপযুক্ত অপরাধী ব্যক্তি। কিন্তু তোমাকে এ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে যে, তোমার উপর এ দণ্ড জারি হচ্ছে না এবং দারুল ইসলামে নিরাপত্তার সাথে অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে তাফসীরে ইবনে কাসীরের এই সম্পর্কিত তাফসীরটিও পড়তে পারেন। 👇
No comments:
Post a Comment
ধন্যবাদ