জীবিকা উৎপন্ন করার জন্য সকলকে কৃষি, পশুরক্ষা আর বাণিজ্যেরই সাহায্য নিতে হয়। কৃষি, পশুপালন আর ব্যবসা পৃথিবীর ফলন দ্বারাই সম্বন্ধ রেখে থাকে, এইজন্য বিনা ভৌগলিক জ্ঞানে জীবিকার প্রশ্ন সমাধান হওয়া সম্ভব নয়। বেদের মধ্যে ভৌগলিক শিক্ষা এইভাবে দেওয়া হয়েছে -
পৃচ্ছামি ত্বা পরমন্তম্ পৃথিব্যাঃ পৃচ্ছামি য়ত্র ভুবনস্য
নাভিঃ। পৃচ্ছামি ত্বা বৃষ্ণো অশ্বস্য রেতঃ পৃচ্ছামি বাচঃ
পরমম্ ব্যোম।।
ইয়ম্ বেদিঃ পরো অন্তঃ পৃথিব্যা অয়ম্ য়জ্ঞো ভুবনস্য
নাভিঃ। অয়ঁ সোমো বৃষ্ণো অশ্বস্য রেতো ব্রহ্মায়ম্
বাচঃ পরমম্ ব্যোম।। (য়জুঃ ২৩|৬১-৬২)
অর্থাৎ - তোমার নিকট এই পৃথিবীর অন্ত জিজ্ঞেস করছি, ভুবনের মধ্য জিজ্ঞেস করছি, সেচনকারী অশ্বের মৃত্তিকা জিজ্ঞেস করছি আর এই আকাশময়ী বাণীকে জিজ্ঞেস করছি। এই বেদীই হল পৃথিবীর অন্তিম সীমা, এই য়জ্ঞই হল ভুবনের মধ্য, এই সোমই হল সেচনকারী অশ্বের মৃত্তিকা আর বেদই হল আকাশময়ী বাণী।
এই দুটি মন্ত্রে প্রশ্নোত্তরের রীতি দ্বারা বলে দেওয়া হয়েছে যে, এই য়জ্ঞবেদী অর্থাৎ যেখানে দাঁড়িয়ে আছো সেটাই হল পৃথিবীর অন্ত আর এটাই হল ভুবনের মধ্য, কারণ গোল পদার্থের প্রত্যেক বিন্দুই (স্থানই) তার অন্ত হয়ে থাকে আর সেটাই তার মধ্য হয়ে থাকে। পৃথিবী আর ভুবন উভয়ই হল গোল, এইজন্য উভয়ের প্রত্যেক বিন্দুই হল অন্ত আর মধ্য। এই ভূগোল বর্ণনার পরে পৃথিবীর জল-স্থল বিভাগের জ্ঞানের জন্য দ্বীপের বর্ণনা এইভাবে করা হয়েছে যে -
বি দ্বীপানি পাপতন্তিষ্ঠদ্ দুচ্ছুনোভে য়ুজন্ত রোদসী।
প্রধন্বান্যৈরত শুভ্রখাদয়ো য়দেজথ স্বভানবঃ।।
(ঋঃ ৮|২০|৪)
নব ভূমিঃ সমুদ্রা উচ্ছিষ্টেऽধি শ্রিতা দিবঃ।
আ সূর্য়ো ভাত্যুচ্ছিষ্টেऽহোরাত্রে অপি তন্ময়ি।।
(অথর্বঃ ১১|৭|১৪)
এনা ব্যাঘ্রম্ পরি ষস্বজানাঃ সিম্হম্ হিন্বন্তি মহতে
সৌভগায়। সমুদ্রম্ ন সুভুবস্তস্থিবাম্সম্ মর্মৃজ্যন্তে
দ্বীপিনমপ্স্বন্তঃ।। (অথর্বঃ ৪|৮|৭)
অর্থাৎ - যখন পৃথিবী আর আকাশের মধ্যে আকর্ষণ আর কম্পন হয় তখন কোথাও না কোথাও হয় নতুন দ্বীপ উৎপন্ন হয়ে যায় অথবা নষ্ট হয়ে যায় আর সমস্ত স্থাবর দুঃখ পায়। নতুন ভূমি সমুদ্র থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে আর সূর্য তার দিন-রাতের প্রভাব করে। পৃথিবীর স্থলভাগ সমুদ্রে ঘেরা থাকে, যেখানে সিংহ-ব্যাঘ্রাদি জন্তুরা গর্জন করে।
এই মন্ত্রগুলোতে দ্বীপ আর উচ্চস্থানের উৎপত্তি আর সেটি সমুদ্রে ঘিরে থাকা বলা হয়েছে। এরপর পৃথিবীর ফলনের বর্ণনায় আসা যাক। সবার আগে জঙ্গলের বর্ণনা এইভাবে রয়েছে -
অরণ্যান্যরণ্যান্যসৌ য়া প্রেব নশ্যসি।
কথা গ্রামম্ ন প্রচ্ছসি ন ত্বা ভীরিব বিম্দতী৩ঁ।।
বৃষারবায় বদতে য়দুপাবতি চিচ্চিকঃ।
আঘাটিভিরিব ঘাবয়ন্নরণ্যানির্মহীয়তে।।
উত গাবইবাদন্ত্যুত বেশ্মেব দৃশ্যতে।
উতো অরণ্যানিঃসায়ম্ শাকটীরিব সর্জতি।।
গামঙ্গৈষ আ হ্বয়তি দার্বঙ্গৈষো অপাবধীত্।
বসন্নরণ্যান্যাম্ সায়মক্রুক্ষদিতি মন্যতে।।
ন বা অরণ্যানির্হন্ত্যন্যশ্চেন্নাভিগচ্ছতি।
স্বাদোঃ ফলস্য জগ্ধ্বায় য়থাকামম্ নিপদ্যতে।।
আঞ্জনগন্ধিম্ সুরভিম্ বহ্বন্নামকৃষীবলাম্।
প্রাহম্ মৃগাণাম্ মাতরমরণ্যানিমশম্সিষম্।।
(ঋঃ ১০|১৪৬|১-৬)
অর্থাৎ - এই মহাবনের মধ্যে গৌ আদি পশু ঘাসের জন্য চরে বেড়াচ্ছে। এই বন দেখতে গৃহের মতো। কেউ বাহন নিয়ে যাচ্ছে, কেউ গাভীদের ডাকছে, কেউ শুষ্ক কাষ্ঠ কাটছে আর কেউ সন্ধ্যার সময়ে ভয় পাচ্ছে। যদি কোনো ক্রূর জন্তু না থাকে তবে এই অরণ্যটি কাউকে মারে না। অরণ্যে সুস্বাদু ফল আহারের জন্য পাওয়া যায়, এটা কস্তুরী আর পুষ্পের সুগন্ধ দেয় আর বিনা খেতি করেই অনেকগুলো অন্ন দিয়ে দেয়। অনেক প্রকার পশুদের উৎপত্তি স্থান হল এই অরণ্য যা মহাপ্রশংসার যোগ্য।
এই জঙ্গলে অন্নের অতিরিক্ত আরও অনেক প্রকারের য়জ্ঞান্নের বর্ণনা এইভাবে রয়েছে -
ব্রীহয়শ্চ মে য়বাশ্চ মে মাষাশ্চ মে তিলাশ্চ মে মুদ্গাশ্চ
মে খল্বাশ্চ মে প্রিয়ঙ্গবশ্চ মেऽ ণবশ্চ মে শ্যামাকাশ্চ মে
নীবারাশ্চ মে গোধূমাশ্চ মে মসূরাশ্চ মে য়জ্ঞেন
কল্পন্তাম্।। (য়জুঃ ১৮|১২)
অর্থাৎ - আমার ধান, গম, যব, মাষ কলাই, তিল, মুগ, ছোলা, কাউন, কোদো, সাঁবাঁ, পসাহী আর মসুর আদি সব অন্ন য়জ্ঞ দ্বারা উৎপন্ন হয়েছে।
এই অন্নের পরে সব প্রকারের জলের বর্ণনা এইভাবে রয়েছে -
য়া আপো দিব্যা উত বা স্রবন্তি খনিত্রিমা উত বা
য়াঃ স্বয়ম্ জাঃ। সমুদ্রার্থা য়াঃ শুচয়ঃ পাবকাস্তা
আপো দেবীরিহ মামবন্ত।। (ঋঃ ৭|৪৯|২)
অর্থাৎ - যে জল বর্ষণে পবিত্র, খনন দ্বারা প্রাপ্ত, যা স্বয়ং (নদী দ্বারা) উৎপন্ন হয় আর যা সমুদ্র দ্বারা নির্মিত, সেসব দিব্য জল এখানে আমার রক্ষা করুক।
এইভাবে জলের বর্ণনার পরে খনিজ পদার্থের বর্ণনা বেদের মধ্যে এইভাবে রয়েছে -
অশ্মা চ মে মৃত্তিকা চ মে গিরয়শ্চ মে পর্বতাশ্চ মে
সিকতাশ্চ মে বনস্পতয়শ্চ মে হিরণ্যম্ চ মেऽ য়শ্চ
মে শ্যামঞ্চ মে লোহঞ্চ মে সীসঞ্চ মে ত্রপু চ মে য়জ্ঞেন
কল্পন্তাম্।। (য়জুঃ ১৮|১৩)
অর্থাৎ - আমার এই শিলা, মাটি, গিরি, পর্বত, বালু, বনস্পতি, সোনা, ইস্পাত, লোহা, সীসা, দস্তা আদি সব য়জ্ঞ দ্বারা উৎপন্ন হয়েছে।
এইভাবে পৃথিবীর গঠন, দ্বীপের উৎপত্তি আর পৃথিবীতে প্রত্যেক প্রকারের ফসলের জ্ঞান দিয়ে পোষণকারী মাতৃভূমির এইভাবে প্রশংসা বেদ করেছে আর উপদেশ করেছে যে, বেদ মান্যতাকারীদের মাতৃভূমির প্রতি গুণগান আর তার উপর গর্ব কিভাবে করা উচিত।
অথর্ববেদের মধ্যে লেখা রয়েছে যে -
য়স্যাম্ সমুদ্র উত সিন্ধুরাপো য়স্যামন্নম্ কৃষ্টয়ঃ
সম্বভূবুঃ। য়স্যামিদম্ জিন্বতি প্রাণদেজত্ সা নো ভূমিঃ
পূর্ববেয়ে দধাতু।।৩।।
য়স্যাম্ পূর্বে পূর্বজনা বিচক্রিরে য়স্যাম্ দেবা
অসুরানভ্যবর্তয়ন্। গবামশ্বানাম্ বয়সশ্চ বিষ্ঠা ভগম্
বর্চঃ পৃথিবী নো দধাতু।।৫।।
বিশ্বম্ভরা বসুধানী প্রতিষ্ঠা হিরণ্যবক্ষা জগতো
নিবেশনী। বৈশ্বনারম্ বিভ্রতী ভূমিরগ্নিমিন্দ্রঋষভা
দ্রবিণে নো দধাতু।।৬।।
গিরয়স্তে পর্বতা হিমবন্তোऽ রণ্যম্ তে পৃথিবি
স্যোনমস্তু। বভ্রুম্ কৃষ্ণাম্রোহিণী বিশ্বরূপাম্ ধ্রুবাম্
ভূমিম্ পৃথিবীমিন্দ্রগুপ্তাম্। অজীতো ऽহতো অক্ষতো
ऽধ্যষ্ঠাম্পৃথিবী মহম্।।১১।।
শিলাভূমিরশ্মা পাম্সুঃ সা ভূমিঃ সম্ধৃতা ধৃতা।
তস্যৈ হিরণ্যবক্ষসে পৃথিব্যা অকরম্ নমঃ।।২৬।।
য়স্যাম্ বৃক্ষা বানস্পত্যা ধ্রুবাস্তিষ্ঠন্তি বিশ্বহা।
পৃথিবীম্ বিশ্বধায়সম্ ধৃতামচ্ছাবদামসি।।২৭।।
য়স্যাম্ গায়ন্তি নৃত্যন্তি ভূম্যাম্ মর্ত্যা ব্যৈলবাঃ।
য়ুধ্যন্তে য়স্যামাক্রন্দো য়স্যাম্ বদতি দুন্দুভিঃ।
সা নো ভূমিঃ প্র ণুদতাম্ সপত্নানসপত্নম্ মা পৃথিবী
কৃণোতু।।৪১।।
য়স্যামন্নম্ ব্রীহিয়বৌ য়স্যা ইমাঃ পঞ্চ কৃষ্টয়ঃ।
ভূম্যৈ পর্জন্যপত্ন্যৈ নমোऽস্তু বর্ষমেদসে।।৪২।।
নিধিম্ বিভ্রতী বহুধা গুহা বসু মণিম্ হিরণ্যম্ পৃথিবী
দদাতু মে। বসূনি নো বসুদা রাসমানা দেবী দধাতু
সুমনস্যমানা।।৪৪।।
য়ে তে পন্থানো বহবো জনায়না রথস্য বর্ত্মানসশ্চ
য়াতবে। য়ৈঃ সম্চরন্ত্যুভয়ে ভদ্রপাপাস্তম্ পন্থানম্।
জয়েমানমিত্রমতস্করম্ য়চ্ছিবম্ তেন নো মৃড।।৪৭।।
য়ে গ্রামা য়দরণ্যম্ য়াঃ সভা অধি ভূম্যাম্।
য়ে সম্গ্রামাঃ সমিতয়স্তেষ চারু বদেম তে।।৫৬।।
ভূমে মাতর্নি ধেহি মা ভদ্রয়া সুপ্রতিষ্ঠিতম্।
সম্বিদানা দিবাকবে শ্রিয়াম্ মা ধেহি ভূত্যাম্।।৬৩।।
য়ত্ তে মধ্যম্ পৃথিবি য়চ্চ নভ্যম্ য়াস্ত ঊর্জস্তন্বঃ
সম্বভূবুঃ। তাসু নো ধেহ্যভি নঃ পয়স্ব মাতা ভূমিঃ পুত্রো
অহম্ পৃথিব্যাঃ পর্জন্যঃ পিতা স উ নঃ পিপর্তু।।১২।।
(অথর্বঃ ১২|১)
অর্থাৎ - যে ভূমিতে সমুদ্র, নদী আর কুয়ো রয়েছে, যেখানে অন্নের খেতি হয় আর যেখানে প্রাণী বসবাস করে, সেই রক্ষা করার যোগ্য ভূমি আমাদের স্থান দিক। যেখানে আমাদের পূর্ব-পুরুষগণ সঠিকভাবে তাঁদের কর্তব্য করেছেন আর যেখানে দেবতাগণ অসুরদের হারিয়েছেন সেই গ্রাম, অশ্ব আর অন্নের ভান্ডার আমাদের এই পৃথিবী আমাদের ঐশ্বর্য আর তেজ দিক। সকলকে সাহায্যকারী ধন আর সুবর্ণকে নিজের বুকে বহনকারী আর সুখ দাতা আমাদের এই ভূমি আমাদের বল দিক। তোমার পাহাড়, তোমার হিমবান্ পর্বত আর তোমার বন-জঙ্গল আমাদের সুখকারী হোক। যে পৃথিবী শিলা, পাথর আর ধূলিকে ধারণ করে আছে আর যে সুবর্ণকে নিজের বুকে নিয়ে আছে, সেই মাতৃভূমিকে নমস্কার করি। যার উপর বনস্পতি উৎপন্ন হয় আর যা বড়ো-বড়ো বীরদের দ্বারা ধারণ করা হয়েছে সেই পৃথিবীকে আমরা স্বাগতম করছি। যেখানে এক ভাষাকে অনেক প্রকারে বলার বক্তারা বসবাস করে, যেখানে নৃত্যকার নাচে, যেখানে যোদ্ধারা কোলাহল করে আর যেখানে নানা প্রকারের বাজনা-বাজে, আমাদের সেই পৃথিবী শত্রুহীন হোক। যেখানে অনেক প্রকারের ধানাদি অন্ন ফসল ফলে আর যার সম্বন্ধী পঞ্চতত্ব সেই বর্ষা প্রেমী আর মেঘ দ্বারা পালিত ভূমিকে নমস্কার করছি। নিজের গুপ্ত কোশে অনেক প্রকারের নিধির সুরক্ষিতকারী রক্ষক মাতৃভূমি আমাদের মণি আর সুবর্ণ দিক আর আমাদের পোষণ করুক। যেখানে অনেক মানুষ চলাচল করে, যেখানে রথ আর অশ্ব ছোটে, যেখানে ভালো-মন্দ উভয়ই বসবাস করে, সেই শত্রুরহিত আর তস্কর রহিত মঙ্গলময় ভূমি আমাদের বিজয় করে সুখী করুক। তোমার উপর যেসব গ্রাম, বন, সভা রয়েছে, সংগ্রাম আর সমিতি রয়েছে সেসব স্থানগুলোতে আমরা তোমার গৌরব বর্ণনা করি। হে আমাদের মাতৃভূমি! তুমি আমাদের মাতা আর আমরা হলাম তোমার পুত্র।
এইভাবে এই মন্ত্রগুলোতে মাতৃভূমির মহত্বের, তার ফসলের, তার পৌষকশক্তির আর তার প্রতি ভক্তিভাবের উপদেশ করা হয়েছে, যারদ্বারা ভৌগলিক আর ভৌগর্ভিক জ্ঞান ভালো করে উন্নতি করতে পারে। এখন এরপরে জীবিকা সম্বন্ধিত বৈশ্যধর্মের বর্ণনায় আসা যাক।
বৈশ্যধর্মের মধ্যে কৃষি, বন-জঙ্গল, খনিজ পদার্থ, পশু আর অন্য অনেক বাণিজ্য সম্বন্ধিত আর জীবিকা প্রদানকারী সাধন সম্মিলিত রয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত সেসব সাধন উপস্থিত করা না হয় আর যতক্ষণ পর্যন্ত সমস্ত সমাজকে তার ব্যক্তিদের যোগ্যতার অনুসারে কারিগরী, শ্রম আর অন্য বৌদ্ধিক কাজে লাগানো হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত সমাজের জীবিকার প্রশ্নগুলো ভালো ভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়, এইজন্য বেদ উপদেশ করেছে যে-
অক্ষণ্বন্তঃ কর্ণবন্তঃ সখায়ো মনোজবেষ্বসমা বভূবুঃ।
আদঘ্নাস উপকক্ষাস উ ত্বে হ্রদাইব স্নাত্বা উ ত্বে
দদৃশ্রে।। (ঋঃ ১০|৭১|৭)
সমৌ চিদ্ধস্তৌ ন সমম্ বিবিষ্টঃ সম্মাতরা চিন্ন সমম্
দুহাতে। য়ময়োশ্চিন্ন সমাবীর্য়াণি জ্ঞাতী চিত্সন্তৌ ন
সমম্ প্রণীতঃ।। (ঋঃ ১০|১১৭|৯)
অর্থাৎ - নেত্র আদি ইন্দ্রিয়গুলো এক সমান হওয়ার জন্য সব মানুষকে দেখতে এক সমানই দেখায়, কিন্তু মনের বেগ আর বুদ্ধির বলে সবাই হল অসমান। কেউ বা মুখ পর্যন্ত জলাশয়ের সমান, কেউ বা বগল পর্যন্ত জলাশয়ের সমান আবার কেউ বা কেবল কোনমতে স্নান করার মতো জলাশয়ের সমান। দুটো হাত এক সমান হওয়ার পরেও তারা সমান কর্ম করতে পারে না, একই মাতা দ্বারা উৎপন্ন দুই গাভীও সমান দুগ্ধ দেয় না, আবার একই সময় জন্মেছে এমন দুই যমজ ভাইও এক-রকমের পরাক্রম করতে পারে না আর একই জাতির হওয়ার পরেও সকলে সমান দান দেয় না।
এই দুটি মন্ত্রে পরিষ্কারভাবে বলে দেওয়া হয়েছে যে, যদিও সমস্ত মনুষ্য শারীরিক গঠনের দিক দিয়ে সমান, তবে সকলের মনের শক্তি আর কর্তব্য ভিন্ন-ভিন্ন। পরমেশ্বরকে এই ধরনের অসমানতার মধ্যেও অর্থ, কাম আর মানের সমানতা সমস্ত মানুষের মধ্যে এক সমান রাখতে হবে, এইজন্য বেদ ধনকে সমান রূপে দানের সঙ্গে উপদেশ করেছে যে -
বিভক্তারঁ হবামহে বসোশ্চিত্রস্য রাধসঃ।
সবিতারম্ নৃচক্ষসম্।
(য়জুঃ ৩০|৪)
অর্থাৎ - নানা প্রকারের সুখদায়ক ধনের যিনি বিভাগ করেছেন, সেসবের উৎপাদক আর জ্ঞানদাতা পরমাত্মার আমরা পূজা করি।
এই উপদেশের তাৎপর্য হল এই যে, সমান ভোগের জন্য সম্পূর্ণ সমাজ যথাযোগ্য কাজ করে জীবিকা উৎপন্ন করবে, যার দ্বারা সমাজে যেন কোনো দরিদ্রতা না আসে। দরিদ্রতা স্বরূপের বর্ণনা করে বেদ উপদেশ করেছে যে -
অরায়ি কাণে বিকটে গিরিম্ গচ্ছ সদান্বে।
শিরিম্বিঠস্য সত্বভিস্তেভিষ্ট্বা চাতয়ামসি।।
(ঋঃ ১০|১৫৫|১)
অর্থাৎ - হে ধনহীন, বিরূপ, কুরূপ, সদা আক্রোশকারী দরিদ্র! তুমি নির্জন পর্বতে যাও। এখানে আমরা দৃঢ় অন্তঃকরণকারী মানুষের পুরুষার্থ দ্বারা তোমার নাশ করবো।
এই দরিদ্রতা নাশক সর্বপ্রধান ব্যবসা হল খেতি আর তার জন্য বেদ উপদেশ করেছে -
ক্ষেত্রস্য পতিনা বয়ম্ হিতেনেব য়জামসি।
গামশ্বম্ পোষয়িত্ন্বা স নো মৃळाতীদৃশে।।১।।
ক্ষেত্রস্য পতে মধুমন্তমূর্মিম্ ধেনুরিব পয়ো অস্মাসু
ধুক্ষ্ব। মধুশ্চুতম্ ঘৃতমিব সুপূতমৃতস্য নঃ পতয়ো
মৃळয়ন্তু।।২।।
মধুমতীরোষধীর্দ্যাব আপো মধুমন্নো ভবত্বন্তরিক্ষম্।
ক্ষেত্রস্য পতির্মধুমান্নো অসত্বরিষ্যন্তো অন্বেনম্
চরেম।।৩।।
শুনম্ বাহাঃ শুনম্ নরঃ শুনম্ কৃষতু লাঙ্গলম্।
শুনম্ বরত্রা বধ্যন্তাম্ শুনমষ্ট্রামুদিঙ্গয়।।৪।।
অর্বাচী সুভগে ভব সীতে বন্দামহে ত্বা।
য়থা নঃ সুভগাসসি য়থা নঃ সুফলাসসি।।৬।।
শুনম্ নঃ ফালা বিকৃষন্তু ভূমিম্ শুনম্ কীনাশা অভি
য়ন্তু বাহৈঃ। শুনম্ পর্জন্যো মধুনা পয়োভিঃ শুনাসীরা
শুনমস্মাসু ধত্তম্।।৮।। (ঋঃ ৪|৫৭)
অর্থাৎ - যেভাবে খেতে স্বামীর হিতের জন্য আমরা গাভী, অশ্ব আর পোষক পদার্থ দিয়ে থাকি, সেইভাবে সেই কৃষকেরাও আমাদের সুখ দিক। হে কৃষক! হে ধনপতে! আপনি গোদুগ্ধের নেয় মিষ্টি পবিত্র জল, দুধ আর মিষ্টি আম ফল আমাদের মধ্যে পরিপূর্ণ করুন। উত্তম ঔষধি, দ্যুলোক, জল আর মহাকাশ অনুকূল থাকুক, যারজন্য ক্ষেত্রপতি আমাদের জন্য মধুর হতে পারে আর সজ্জন পুরুষগণ তার অনুকূল থাকে। বৃষ, ক্ষেতমজুর, লাঙলের অংশ, বরেত (দড়ি) আদি সব সুখকারী হোক আর খেতির অন্য অবয়বও সুখকারী হয়ে চালানো হোক। হে সৌভাগ্যবতী ফাল! তুমি নিচের দিকে চলমান হও। যেরকম তুমি আমাদের জন্য সৌভাগ্য দাতা আর সুফলা তেমনই আমরা তোমাকে অনুরোধ করছি। আমাদের সুখদাতা ফাল ভূমিকে খনন করুক, আমাদের খননকারী বৃষ দ্বারা সুখ প্রাপ্ত করুক, বর্ষা উত্তম জল দ্বারা তৃপ্ত করে দিক আর খেতি করা আমাদের মধ্যে সুখ ধারণ করুক।
এইভাবে খেতির বর্ণনা করার পরে এখন বন-জঙ্গলের বর্ণনায় আসা যাক। বেদের মধ্যে বৃক্ষকে পশুপতি বলে তার আদর করা হয়েছে। য়জুর্বেদের মধ্যে লেখা রয়েছে-
নমো বৃক্ষেভ্যো হরিকেশেভ্যেঃ পশূনাম্ পতয়ে নমঃ।।
(য়জুঃ ১৬|১৭)
অর্থাৎ - হে হরিকেশ বৃক্ষ! তুমি পশুপতি, এইজন্য আমরা তোমার আদর, অর্থাৎ পালন করি।
উদ্ভিদের প্রতি আদরের কারণ হল এটাই যে সমস্ত মানুষ আর পশু বৃক্ষের জন্যই জীবিত রয়েছে। উদ্ভিদ যদি না থাকে তবে না মানুষ থাকতে পারবে আর না কোনো পশু, এইজন্য খেতির পাশাপাশি বন-জঙ্গল করা আর জঙ্গলের রক্ষা করাও অত্যন্ত আবশ্যক। বেদের মধ্যে বনস্পতি (উদ্ভিদ) রক্ষার পশ্চাৎ পশুরক্ষার কথা বলা হয়েছে। ঋগ্বেদের মধ্যে লেখা রয়েছে -
ষষ্টিম্ সহস্রাশ্ব্যস্যায়ুতাসনমুষ্ট্রাণাম্ বিম্শতিম্ শতা।
দশ শ্যাবীনাম্ শতা দশ ত্র্যরুষীণাম্ দশ গবাম্ সহস্রা।।
(ঋঃ ৮|৪৬|২২)
অর্থাৎ - ষাট সহস্র অশ্ব, দশ সহস্র উট, তিন সহস্র ছাগ, এক সহস্র গাধী আর দশ সহস্র গাভী হবে; এইভাবে পশুধনের বৃদ্ধি হয়ে যাক আর একেই ব্যবসার মাধ্যম বানানো হোক।
বেদ উপদেশ করেছে যে -
ইতা ধিয়ম্ কৃণবামা সখায়োऽপ য়া মাতাঁ ঋণুত ব্রজম্
গোঃ। য়য়া মনুর্বিশিশিপ্রম্ জিগায় য়য়া
বণিগ্বঙ্কুরাপা পুরীষম্।। (ঋঃ ৫|৪৫|৬)
অর্থাৎ - হে মিত্র! আসো একত্রিত হয়ে আমরা ধন উপার্জনের ব্যবসাকে মিলেমিশে করি আর গাভীর বড়ো-বড়ো ব্রজ বানাই।
এইভাবে ব্যবসার কথা বলে ঐশ্বর্যের প্রশংসা করার সঙ্গে বেদ উপদেশ করেছে যে -
ভগ এব ভগবাঁ২।। অস্তু দেবাস্তেন বয়ম্ ভগবন্তঃ স্যাম।
তম্ ত্বা ভগ সর্ব ইজ্জোহবীতি স নো ভগ পুরএতা
ভবেহ।। (য়জুঃ ৩৪|৩৮)
অর্থাৎ - ঐশ্বর্যই ভগবান্ হোক আর তার থেকেই দেবতা আমাদের ভাগ্যবান্ করুক, এইজন্য হে ঐশ্বর্য! তোমাকে আমরা সকলে আহ্বান করছি আর তোমার মুখে দৃষ্টি রাখছি যেন তুমিই আমাদের অগ্রগামী হও।
এই ঐশ্বর্যদাতা ব্যবসা আর ব্যবসায়ীদের উত্তেজন আর সহায়তা দেওয়ার জন্য বেদের মধ্যে রাজাকে এইভাবে উপদেশ দেওয়া হয়েছে -
ইন্দ্রমহম্ বণিজম্ চোদয়ামি স ন ঐতু পুরএতা নো
অস্তু। নুদন্নরাতিম্ পরিপন্থিনম্ মৃগম্ স ইশানো ধনদা
অস্তু মহ্যম্।। (অথর্বঃ ৩|১৫|১)
অর্থাৎ - আমি (রাজা) উত্তম ব্যবসায়ীকে আমার নিকট আহ্বান করছি আর তাকে নিজের প্রধান বানাচ্ছি, এইজন্য হে ধনদাতঃ! এই অনুদান, বটমার (ডাকু) আর সিংহাদি ক্রূর পশুদের দূর করে আমাদের ধন দিন।
এরপর ব্যবসায়ীদের নিজের ব্যবসাতে মন লাগানোর জন্য বেদের মধ্যে এইভাবে উপদেশ দেওয়া হয়েছে -
য়েন ধনেন প্রপণম্ চরামি ধনেন দেবা ধনমিচ্ছমানঃ।
তস্মিন্ম ইন্দ্রো রুচিমা দধাতু প্রজাপতিঃ সবিতা সোমো
অগ্নিঃ।। (অথর্বঃ ৩|১৫|৬)
অর্থাৎ - ধন দ্বারা অধিক ধন পাওয়ার ইচ্ছায় ধনের দ্বারা আমরা যে ব্যবসা করছি, সেই ব্যবসাতে আমাদের রুচি হোক।
এই রুচি তখনই বৃদ্ধি পাবে যখন নিজের-নিজের বুদ্ধির অনুসারে কর্ম করা হবে। বেদ উপদেশ করেছে যে, মানুষ তার বুদ্ধির অনুসারে নিজ-নিজ কর্মই করুক -
নানানম্ বা উ নো ধিয়ো বি ব্রতানি জনানাম্।
তক্ষা রিষ্টম্ রুতম্ ভিষগ্ব্রহ্মা সুন্বন্তমিচ্ছতি।।
(ঋঃ ৯|১১২|১)
অর্থাৎ - নিজের আর অন্য মানুষের বুদ্ধি আর কর্ম অবশ্যই ভিন্ন-ভিন্ন হয়। কাঠমিস্ত্রি কাটতে-চিরতে, বৈদ্য রোগনিবৃত্তির আর ব্রাহ্মণ য়জ্ঞের ইচ্ছা করে থাকে।
জরতীভিরোষধীভিঃ পর্ণেভিঃ শকুনানাম্।
কর্মারো অশ্মভির্দ্যুভির্হিরণ্যবন্তমিচ্ছতি।।
(ঋঃ ৯|১১২|২)
অর্থাৎ - পরিপক্ক ঔষধি নিয়ে বৈদ্য, পক্ষীর পালক নিয়ে বস্তু নির্মাণকারী কারিগর, চকচকে রত্ন নিয়ে স্বর্ণকার অন্য বস্তু নিয়ে অন্য ব্যবসায়ী তার নিজের-নিজের দোকানে বস্তু বিক্রির ইচ্ছা করে থাকে।
এরপরে বেদ উপদেশ করেছে যে, পূর্ব সঞ্চিত কর্মানুসারে একই গৃহে জন্ম আর বসবাস করা সত্ত্বেও মানুষের মধ্যে ভিন্ন-ভিন্ন কর্ম করার রুচি রয়েছে আর তারা ভিন্ন-ভিন্ন নিজের-নিজের কর্মকে করে। নিম্নলিখিত মন্ত্রটিতে এটাই উপদেশ করা হয়েছে। যথা -
কারুরহম্ ততো ভিষগুপল প্রক্ষিণী ননা।
নানা ধিয়ো বসূয়বোऽনু গাইব তস্থিম।।
(ঋঃ ৯|১১২|৩)
অর্থাৎ - আমি হলাম কাঠমিস্ত্রি, আমার পিতা বৈদ্য আর আমার মাতা চাক্কি পিষণের কাজ করেন, এইজন্য এইধরনের বিবিধ বুদ্ধি আর কলা-কৌশলরূপী মানুষের মাঝে আমরা নিবাস করি।
এর অভিপ্রায় এটাই হল যে স্বাভাবিক রুচি আর মনোবৃত্তির (tendency) অনুসারে কাজ করলে পরেই শিল্প আর ব্যবসায় উন্নতি হবে আর সকলে পর্যাপ্ত জীবিকা প্রাপ্ত করতে পারবে। এইজন্য বেদের মধ্যে বিবিধ প্রকারের কারিগরদের মান-সম্মান দেওয়ার আজ্ঞা এইভাবে দেওয়া হয়েছে -
নমস্তক্ষভ্যো রথকোরভ্যশ্চ বো নমো নমঃ কুলালেভ্যঃ
কর্মারেভ্যশ্চ বো নমো নমো নিষাদেভ্যঃ পুঞ্জিষ্ঠেভ্যশ্চ
বো নমো নমঃ শ্বনিভ্যো মৃগয়ুভ্যশ্চ বো নমঃ।।
(য়জুঃ ১৬|২৭)
অর্থাৎ - তক্ষ, সারথী, কুমোর, মিস্ত্রি, নিষাদ আর অন্য ছোটো-বড়ো কারিগরদের সৎকার হোক।
কারিগরদের এই প্রতিষ্ঠা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে ভোজন, বস্ত্র, গৃহ আর গৃহস্থী সম্বন্ধিত সবধরনের পদার্থ তৈরি করার আদেশ বেদের মধ্যে রয়েছে। বস্ত্র তৈরির জন্য বেদের মধ্যে উপদেশ রয়েছে যে -
সীসেন তন্ত্রম্ মনসা মনীষিণ ঊর্ণাসূত্রেণ কবয়ো
বয়ন্তি। অশ্বিনা য়জ্ঞঁ সবিতা সরস্বতীন্দ্রস্য রূপম্
বরুণো ভিষজ্যন্।। (য়জুঃ ১৯|৮০)
অর্থাৎ - সীসা যন্ত্রের দ্বারা মননশীল বিদ্বান উল সেইভাবে বোনেন, যেভাবে বরুণদেব বর্ষণের মধ্যে দুটি বিদ্যুৎ ভরে দেন।
এরপর ঢাল সেলাইয়ের উপদেশ এইভাবে রয়েছে -
ব্রজম্ কৃণুধ্বম্ স হি বো নৃপাণো বর্ম সীব্যধ্বম্ বহুলা
পৃথূনি। পুরঃ কৃণুধ্বমায়সীরধৃষ্টা মা বঃ সুস্রোচ্চমসো
দৃম্হতা তম্।। (ঋঃ ১০|১০১|৮)
অর্থাৎ - হে রাজন্! গাভীর বড়ো-বড়ো ব্রজ নির্মাণ করুন, মোটা-মোটা চর্মের বর্ম সেলাই করুন আর লোহার দুর্গ নির্মাণ করুন, যারদ্বারা হবনের চামচ না পরে যায় অর্থাৎ রাজ্য যেন নষ্ট না হয়ে যায়।
এখানে সেলাইয়ের প্রয়োগ পাওয়া যাচ্ছে, এছাড়াও নৌ ও বিমান নির্মাণের উপদেশ এইভাবে বেদের মধ্যে রয়েছে-
বেদা য়ো বীনাম্ পদমন্তরিক্ষেণ পততাম্।
বেদ নাবঃ সমুদ্রিয়ঃ।।
(ঋঃ ১|২৫|৭)
অর্থাৎ - যে পক্ষী, মেঘ আদি "বি" এর স্থানকে আর মহাকাশের মধ্যে তার চলার গতিকে জানে, সে আকাশের বিমান আর সমুদ্রের নৌকাকে জানে।
পক্ষী যে নিয়মে উড়ে, সেই নিয়মে বিমান আর নৌকাও চালানো হয়। এইজন্য বি= পক্ষী আর মান= সদৃশ, অর্থাৎ পক্ষীর সদৃশকেই বিমান বলা হয়। এর অতিরিক্ত বেদের মধ্যে হাল, রথ, বাহন (গাড়ি), ধনুষ-বাণ, য়জ্ঞপাত্র আর গৃহ নির্মাণ সম্বন্ধিত অস্ত্র, শস্ত্র, বস্ত্র আর ঔষধি আদি নির্মাণের সমস্ত উপকরণের বিস্তৃত উপদেশ রয়েছে, এইজন্য বেদের মধ্যে কলা-কৌশলের পর্যাপ্ত জ্ঞান পাওয়া যায়, কিন্তু বিনা গণিতে ব্যবসার কাজ চলতে পারে না, এইজন্য আমরা দেখবো যে বেদের মধ্যে অংক গণিত আর রেখা গণিতের কি কি বর্ণনা রয়েছে।

No comments:
Post a Comment
ধন্যবাদ