বায়ু তত্ত্ব - ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান, ধর্ম গ্রন্থ কি , হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়, ইসলাম খ্রীষ্ট মত বিষয়ে তত্ত্ব ও সনাতন ধর্ম নিয়ে আলোচনা

धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते-Theology

সাম্প্রতিক প্রবন্ধ

Post Top Ad

স্বাগতম

31 October, 2026

বায়ু তত্ত্ব

বায়ু তত্ত্ব
বায়ু তত্ত্ব হল আকাশ তত্ত্বের পৃষ্ঠরূপ [অয়ম্ বায়ুরন্তরিক্ষস্য পৃষ্ঠম্ (জৈমিনীয় ব্রাহ্মণ ৩.২৫২)], এখানে এর দুটো অর্থ আছে। এরমধ্যে প্রথম হল পূর্বে অনেকত্র বর্ণিত অহংকার রূপ বায়ু হল আকাশ তত্ত্বের আধার। এই দিব্য বায়ুই আকাশ তত্ত্বের মূল উপাদান কারণ হওয়ার পাশাপাশি তার আধারও হয়। এখানে দ্বিতীয় অর্থ হল বায়ু তত্ত্ব আকাশ তত্ত্বের পশ্চাৎ উৎপন্ন হয়। এই সৃষ্টির প্রত্যেক কর্ম বা বলের পিছনে বায়ু রশ্মিগুলোই প্রধান কারণ হয়। এই কারণেই একে বিশ্বকর্মা (অয়ম্ বৈ বায়ুর্বিশ্বকর্মা; শতপথ ব্রাহ্মণ ৮.১.১.৭) অর্থাৎ সবার কর্ত্তা বলা হয়। এই সৃষ্টির মধ্যে প্রত্যেকটা উৎপন্ন পদার্থ বায়ু তত্ত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত থাকে, আবার এর থেকে উৎপন্নও হয়  (মৈত্রায়ণী সংহিতা ২.২.৭)। বায়ু তত্ত্ব বিভিন্ন পদার্থের বীজকে বিভিন্ন প্রকারে উৎপন্ন ও ধারণ করে। এটা পদার্থকে বিকৃত বা রূপান্তরিত করে অন্য অনেক পদার্থের নির্মাণ করে। এইভাবে এটা বিভিন্ন ক্রিয়া বা বলকে উৎপন্ন করে (শতপথ ব্রাহ্মণ ১৩.৩.৮.১)। বায়ু তত্ত্ব বিভিন্ন পদার্থকে জুড়ে রাখার কাজ করে। এর অভাবে কোনো পদার্থই পরস্পর সন্ধি করতে পারবে না (তৈত্তিরীয় আরণ্যক ৭.৩.১-২; তৈত্তিরীয় উপনিষদ ১.৩.১-২)। এই তত্ত্ব অন্য সব পদার্থের সঙ্গে মিলিত থেকে সেগুলোকে পরস্পর মিলিয়েও রাখে তথা বিভিন্ন পদার্থের বিয়োজন কর্মেও এই বায়ু তত্ত্বই তার ভূমিকা পালন করে (জৈমিনীয় ব্রাহ্মণ ২.৫৬)। এই বায়ু তত্ত্ব আকাশ তত্ত্বের মধ্যে আশ্রিত থেকে বিভিন্ন দ্যুলোককে প্রতিষ্ঠা অর্থাৎ আধার প্রদান করে। একে ছাড়া দ্যুলোকের উৎপত্তি ও স্থিতি হওয়া সম্ভব নয়। আবার আকাশের অভাবে বায়ু তত্ত্ব হওয়াও সম্ভব নয় (তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ ৩.১১.১.৯)। বিভিন্ন দেব পদার্থের মধ্যে বায়ু তত্ত্ব সবথেকে অধিক সংকুচিত বা প্রক্ষেপক, আকর্ষক বা প্রতিকর্ষক বলযুক্ত হয়। বস্তুতঃ এই সৃষ্টির মধ্যে যেসব বল বিদ্যমান আছে, সেটা বায়ুর বলই হয় [বায়ুর্বৈ দেবানামোজিষ্ঠঃ ক্ষেপিষ্ঠঃ (মৈত্রায়ণী সংহিতা ২.৫.১)]। [তূর্ণি = ক্ষিপ্রনাম (নিঘন্টু ২.১৫), তূর্ণিঃ কর্ম (নিরুক্ত ৭.২৭)] এটা অতিশীঘ্র বিভিন্ন প্রকারের কর্মকে অব্যক্ত রূপে সম্পাদিত করে। এর আবশ্যকতাকে দেখিয়ে মহর্ষি য়াজ্ঞবল্ক্য বলেছেন - "অনিরুক্তো হি বায়ুঃ" (শতপথ ব্রাহ্মণ ৮.৭.৩.১২)। অনিরুক্তের অর্থ সম্বন্ধে বলেছেন - "অপরিমিতম্ বাऽ অনিরুক্তম্ (শতপথ ব্রাহ্মণ ৫.৪.৪.১৩)। এর থেকে সংকেত পাওয়া যায় যে বায়ু তত্ত্ব মানবের দৃষ্টিতে অপরিমিত ক্ষেত্রে ব্যাপ্ত হয়ে সমস্ত কণা বা কোয়ান্টা আদি পদার্থকে প্রত্যেক ক্রিয়াতে তাদের সক্ষম করে তোলে (ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ২.৩৪)।


বায়ু কি আর তার স্বরূপ কি? 

পূর্বোক্ত বিভিন্ন প্রকারের প্রাণ রশ্মিগুলোই বায়ু রূপ হয়। এই প্রাণ রশ্মি তথা পূর্বোক্ত বিভিন্ন ছন্দ রশ্মির সমূহের মিশ্রণই বায়ু তত্ত্বের নামে পরিচিত। সূক্ষ্ম প্রাণ ও ছন্দ রশ্মিগুলো আকাশ তত্ত্বের নির্মাণ করে, কিন্তু আকাশ তত্ত্বের নির্মাণের পশ্চাৎ উৎপন্ন বৃহৎ ছন্দ রশ্মির সঙ্গে প্রাণ রশ্মির মিশ্রণ বায়ু তত্ত্বের নামে জানা যায় [প্রাণো হি বায়ুঃ (তাণ্ড্য মহাব্রাহ্মণ ৪.৬.৮), প্রাণা উ বৈ বায়ুঃ (শতপথ ব্রাহ্মণ ৮.৪.১.৮)] 

শতপথ ব্রাহ্মণ ৮.৭.৩.১২ "ত্রৈষ্টুভো হি বায়ুঃ" এই বচন থেকে সংকেত পাওয়া যায় যে ঋষিরা এই ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে ত্রিষ্টুপ্ ছন্দ রশ্মির উৎপন্ন হওয়ার পূর্বে প্রাণ ও ছন্দ রশ্মির মিশ্রণকে বায়ু সংজ্ঞা করেন নি। যখন ত্রিষ্টুপ্ ছন্দ রশ্মি উৎপন্ন হয়ে যায়, সেই সময় বিভিন্ন প্রাণ ও ছন্দ রশ্মির মিশ্রণ বায়ু নামে পরিচিত হয়। এরপরই সেই প্রাণ ও ছন্দ রশ্মিগুলো অধিক তীব্র তেজ এবং বলযুক্ত হতে থাকে।

বায়ুর্বাতের্বেতের্বা স্যাত্ গতিকর্মণঃ (নিরুক্ত ১০.১) এই বচনানুসারে বায়ু শব্দ "বা গতিগন্ধনয়োঃ" ধাতু দ্বারা নিষ্পন্ন হয়। গতি অর্থযুক্ত হওয়াতে স্পষ্ট হয় যে এই তত্ত্ব সর্বদা গতিশীল থাকে, অথচ গন্ধন অর্থ একটা গম্ভীর বিজ্ঞানকে দর্শায়। আপ্টে সংস্কৃত-হিন্দি কোষের মধ্যে "গন্ধনম্" পদের অনেক অর্থ দেওয়া আছে, যেমন - অবিরাম প্রচেষ্টা, আঘাত করা, প্রকাশন, বিজ্ঞপ্তি এবং সংকেত আদি। এই অর্থের দ্বারা বায়ু এমন তত্ত্ব সিদ্ধ হয় যেটা অবিরাম গতি ও চেষ্টা করতে থাকে। এটা বিভিন্ন পদার্থের সঙ্গে তথা নিজের সঙ্গে (বায়ু রশ্মিগুলো পরস্পর) আকর্ষণ-প্রতিকর্ষণ-ধারণ আদি ভাব রাখে। এর কারণেই সৃষ্টির পদার্থের বিভিন্ন গুণ প্রকাশিত হয় তথা বিভিন্ন সংবাদ-সূচনার মাধ্যম বা বাহক এই তত্ত্বই হয়। সব প্রকারের বল এবং ফিল্ডের কারণ এই বায়ুই হয়। সৃষ্টির সমস্ত সংকেত বায়ু রশ্মির রূপেই আসে। যেসব সংকেত বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গের মাধ্যমে আসে, সেগুলোরও মূল কারণ বায়ু তত্ত্বই হয়। মহর্ষি য়াস্কের উপরোক্ত বচনে "বায়ুঃ" পদ "বী গতিব্যাপ্তিপ্রজনকান্ত্যসনখাদনেষু" ধাতু দ্বারা নিষ্পন্ন হয়। এরদ্বারা স্পষ্ট হয় যে বায়ু রশ্মিগুলো ক্রমাগত গমনশীল থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন পদার্থকে ব্যাপ্ত করে, সেগুলোকে পরিধি রূপে ঘিরে ধরে, সেগুলোকে প্রেরিত বা প্রক্ষিপ্ত করে আর সেগুলোকে বিভিন্ন পদার্থের উৎপত্তিতে সক্ষম করে তোলে। সব পদার্থের সকল ক্রিয়া এই বায়ু তত্ত্বের রশ্মির মাধ্যমেই হয়।

বৈশেষিক দর্শন ২.১.৪ তে বলা হয়েছে "স্পর্শবান্ বায়ুঃ" অর্থাৎ পূর্বে আকাশের গুণ "শব্দ" বলা হয়েছে, এখানে বায়ু তত্ত্বের গুণ স্পর্শ বলা হয়েছে। ঋষি দয়ানন্দ "স্পর্শ সংস্পর্শনে" ধাতুর অর্থ "আলিঙ্গন করা", "বাঁধা", "অনুগত হওয়া" তথা "গ্রহণ করা" করেছেন। তিনি তাঁর বেদভাষ্যে বিভিন্ন স্থলে নিম্নানুসারে অর্থ গ্রহণ করেছেন:- 

স্পৃশ = অনুগতো ভব (যজুর্বেদ ভাষ্য ১৩.১০)
স্পৃশ = গৃহাণ (ঋগ্বেদ ভাষ্য ৪.৩.১৫)
স্পৃশন্তি = আলিঙ্গয়ন্তি (ঋগ্বেদ ভাষ্য ১.৬২.১১)
স্পৃশন্তি। = সম্বধ্নন্তি (ঋগ্বেদ ভাষ্য ১.৩৬.৩)

এরদ্বারাও এটাই স্পষ্ট হয় যে "স্পর্শবান্ বায়ুঃ" -র তাৎপর্য কেবল স্পর্শকারী নয়, বরং প্রত্যেক পদার্থের ভিতরে অনুকূলতাপূর্বক ব্যাপ্ত, তাকে গ্রহণ করে অধিকারে করে, তার সাথে সংযুক্ত থেকে এবং তাকে বাঁধতে-মিশ্রণকারীও হয়। এইদিকে আমাদের শরীরে স্পর্শ করার ক্রিয়াও বায়ু রশ্মির কারণেই সম্ভব হয়।

এই তত্ত্বকে আচার্য সুশ্রুত "রজোবহুলো বায়ুঃ" (সুশ্রুত সংহিতা, শারীরস্থানম্ ১.২৭) বলে রজোগুণ প্রধান বলেছেন। এই কারণে এটা সর্বদা ক্রিয়াশীল থাকে। এরমধ্যে দ্রব্যমান নগণ্য এবং দীপ্তি অতি মন্দ হয়। মহর্ষি ব্রহ্মা এবং মহর্ষি ভৃগুর বচন (অনুগীতা, মোক্ষধর্মপর্ব) থেকে এই সংকেত পাওয়া যায় যে আকাশের পশ্চাৎ বায়ু তত্ত্বের উৎপত্তি হয়। এই সময়েই প্রাণীদের করণরূপ স্পর্শ ইন্দ্রিয় রূপী সূক্ষ্ম রশ্মির উৎপত্তি হয়। বায়ু তত্ত্বের সাথে-সাথে সূক্ষ্ম কার্যরূপ বিদ্যুতেরও উৎপত্তি হয়, একে ফিল্ডস রূপও বলা যেতে পারে। আকাশ তত্ত্বের সংকোচন থেকে বায়ু তত্ত্বের উৎপত্তি হয়। এই বায়ু তত্ত্ব আকাশ তত্ত্বের ভিতরে উর্ধগামীর মতো উৎপন্ন হয়। একে উপমার দ্বারা বোঝাতে বলা হয়েছে যে ছিদ্ররহিত কোনো পাত্র পূর্ণরূপে নিঃশব্দ মনে হয় আর যখন তাতে ছিদ্র করে জল ভরা হয়, সেই সময় ধ্বনি উৎপন্ন হয়। ঠিক এইভাবে নিঃশব্দ আকাশ তত্ত্বের মধ্যে যখন পূর্বোক্ত বলবান্ বায়ু তত্ত্ব উৎপন্ন হয়, তখন আকাশ তত্ত্বের মধ্যে ধ্বনি উৎপন্ন হতে থাকে। এখানে এই সংকেতও পাওয়া যায় যে যেভাবে আকাশ তত্ত্বের উৎপত্তি সর্বত্র একসঙ্গে হয় না, সেইভাবে বায়ু তত্ত্বও এক স্থান বিশেষে সর্বপ্রথম প্রকট হয়। তারপর সম্পূর্ণ আকাশ তত্ত্বের মধ্যে বায়ু রশ্মিগুলো বেগের সাথে প্রকট হয়ে বিচরণ করে বিভিন্ন ঘোষ উৎপন্ন করতে থাকে।

এখানে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে প্রাণ ও ছন্দ রশ্মির তীব্রতা যত বাড়তে থাকে, ততই সর্বত্র বিভিন্ন প্রকারের ধ্বনি তরঙ্গ উৎপন্ন হয়ে তীব্র হতে থাকে। পাঠক নিশ্চয়ই এই বিষয়টা বুঝে গেছেন যে এই বায়ু তত্ত্ব লোকপ্রচলিত হাওয়া (এয়ার) নয়। প্রায় সব দার্শনিকগণ এই বিষয়ে এটাই ভারী ভুল করেছেন যে তারা হাওয়াকেই বায়ু মহাভূত মনে করেছেন। পশ্চিমী জগতের বৈজ্ঞানিকরাও দার্শনিকদের আলোচনাতে বায়ু মহাভূতের মানে এয়ার গ্রহণ করার ভুল করেছেন।
প্রাণ রশ্মিগুলো মরুত্ বা ছন্দ রশ্মির সাথে মিথুন করেই সৃষ্টির নির্মাণ করে। একইসঙ্গে বিভিন্ন প্রাণ রশ্মিগুলো পরস্পর তথা বিভিন্ন ছন্দ রশ্মিও পরস্পর মিথুন তৈরি করে। ঋষি দয়ানন্দ সত্যার্থ প্রকাশের অষ্টম সমুল্লাসে লিখেছেন - "সবথেকে সূক্ষ্ম টুকরো অর্থাৎ যাকে খণ্ড করা যায় না, তার নাম পরমাণু, ষাট (৬০) টা পরমাণুর মিশ্রণের নাম অণু, দুটো অণুর একটা দ্বয়ণুক, এটা হল স্থূল বায়ু, তিনটা দ্বয়ণুকের নাম অগ্নি, চারটা দ্বয়ণুকের নাম জল, পাঁচটা দ্বয়ণুকের পৃথিবী অর্থাৎ (আচার্য অগ্নিব্রত নৈষ্ঠিক জীর মতে এখানে "অথবা" শব্দ হওয়া উচিত) তিনটা দ্বয়ণুকের ত্রসরেণু আর তার দ্বিগুণ হলে পৃথিবী আদি দৃশ্য পদার্থ হয়। ঋষি দয়ানন্দ যাকে পরমাণু বলেছেন, সেটা আসলে একটা প্রাণ/মরুত্/ছন্দ রশ্মির নাম। এমন ষাট (৬০) প্রকারের রশ্মি মিলিত হয়ে একটা অণু তৈরি করে আর দুটো অণু অর্থাৎ একশো বিশ (১২০) প্রকারের রশ্মি মিলিত হয়ে স্থূল বায়ুর অণুকে উৎপন্ন করে। প্রাণ রশ্মিগুলো মরুত্ বা ছন্দ রশ্মির সাথে মিথুন করেই সৃষ্টির নির্মাণ করে। একইসঙ্গে বিভিন্ন প্রাণ রশ্মিগুলো পরস্পর তথা বিভিন্ন ছন্দ রশ্মিও পরস্পর মিথুন তৈরি করে। এইভাবে ৬০ প্রকারের প্রাণ রশ্মির যুগ্ম একটা অণু তথা ৬০ প্রকারের ছন্দ বা মরুত্ রশ্মির যুগ্ম অন্য অণুর নির্মাণ করে। এখানে দ্বিতীয় বিকল্প এটাও সম্ভব যে একটা অণুর মধ্যে ৩০ প্রকারের প্রাণ ও ৩০ প্রকারের মরুত্ বা ছন্দ রশ্মির যুগ্ম হবে তথা এগুলোর থেকে ভিন্ন ৩০ প্রকারের প্রাণ ও ৩০ প্রকারের মরুত্ বা ছন্দ রশ্মির যুগ্ম দ্বিতীয় অণু হবে। যখন এই দুই অণুর মিথুন হয়, তখন বায়ু তত্ত্বের একটা অণু নির্মিত হয়। যেখানে  বায়ুকে স্থূল বায়ু বলে, যেখানে ত্রিষ্টুপ্ ছন্দ রশ্মিও বিদ্যমান হয়ে থাকে। এর পূর্বে সব রশ্মি আকাশ বা সূক্ষ্ম বায়ুর রূপেই হয়। এইভাবে বায়ুর একটা অণুর মধ্যে সর্বমোট ১২০ প্রকারের পরমাণু অর্থাৎ ছন্দ, মরুত্ ও প্রাণ রশ্মি বিদ্যমান থাকে। এইসবের গুচ্ছ স্বতন্ত্র বিচরণ করে একটা স্বতন্ত্র এককের সমান ব্যবহার করে। বায়ু তত্ত্ব যদিও বর্তমান বিজ্ঞানের ভাষায় বলা যেকোনো কোয়ান্টা তথা মূলকণার থেকেও সূক্ষ্ম হয়, তবুও একে অণু নাম দেওয়াতে এটাই সংকেত পাওয়া যায় যে বায়ু তত্ত্ব একরস হয় না, বর্তমান যেকোনো টেকনিক দিয়ে তাকে যদিও অনুভূত করা যায় না আর তাই সাধারণত তাকে একরসবৎ বলতে বাধ্য হয়েছে।

বায়ু তত্ত্ব

অর্থাৎ দুটি সম্ভাবনার ক্ষেত্রেই মোট ১২০টি সূক্ষ্ম রশ্মি নিয়ে বায়ুর একটি অণু তৈরি হচ্ছে বলে লেখাটিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।


তথ্যসূত্রঃ

মহাভারত, আশ্ব.প., অনুগীতা পর্ব অধ্যায় - ৪২
মহাভারত শা.প., মোক্ষধর্মপর্ব, অধ্যায় - ১৮৩
জৈমিনীয় ব্রাহ্মণ ৩.২৫২
মৈত্রায়ণী সংহিতা ২.৫.১
তাণ্ড্য মহাব্রাহ্মণ ১৮.৮.৭
শতপথ ব্রাহ্মণ ৮.৫.২.৫
শতপথ ব্রাহ্মণ ৮.৭.৩.১২)
সত্যার্থ প্রকাশ অষ্টম সমুল্লাস
বৈদিক রশ্মি বিজ্ঞানম্

No comments:

Post a Comment

ধন্যবাদ

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

বায়ু তত্ত্ব

বায়ু তত্ত্ব হল আকাশ তত্ত্বের পৃষ্ঠরূপ [ অয়ম্ বায়ুরন্তরিক্ষস্য পৃষ্ঠম্ (জৈমিনীয় ব্রাহ্মণ ৩.২৫২)] , এখানে এর দুটো অর্থ আছে। এরমধ্যে প্রথম ...

Post Top Ad

ধন্যবাদ