সমাধি - ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান, ধর্ম গ্রন্থ কি , হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়, ইসলাম খ্রীষ্ট মত বিষয়ে তত্ত্ব ও সনাতন ধর্ম নিয়ে আলোচনা

धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते-Theology

সাম্প্রতিক প্রবন্ধ

Post Top Ad

স্বাগতম

26 September, 2026

সমাধি

সমাধি সম্বন্ধে সাধারণ মানুষের মনে নানারকম কৌতুকপ্রদ ধারণা বর্তমান। প্রায় কমবেশি সকলেরই ধারণা, সমাধিকালে হাত-পা শিথিল হবে, ঠাণ্ডা হবে, চোখ বন্ধ থাকবে নতুবা উর্ধ্বনেত্রে স্থানুবৎ থাকবে। কেউ কোন ভক্তিমূলক গান বা কীর্তন শুনতে শুনতে যদি উপরের দিকে হাত তুলে স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে পড়ে বা চোখ বন্ধ করে ঢলে পড়ে, ভক্তেরা বিস্ময়াবিষ্ট হয়ে বলে উঠে- 'বাবার সমাধি হয়েছে।' সমাধি সম্বন্ধে মানুষের মনে এই রকম বহু বিচিত্র ধারণা থকার ফলে ভণ্ডদের acting and posing এর সুবিধা হয়। তাই দুর্লভতম নির্বিকল্প সমাধির দাবীদার বাজারে অনেক।

বলা বাহুল্য, প্রকৃত সমাধির লক্ষণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। সমাধি সম্ + অ ধা কি, সমাধীয়তে অস্মিন্ মনো জনৈরিতি কিঃ অর্থাৎ মন চিত্ত বা অন্তঃকরণকে এক ধোয় বস্তুতে আধান বা স্থাপন করার নামই সমাধি। যোগাচার্য ভগবান পতঞ্জলি সমাধির লক্ষণ নির্ণয় করতে গিয়ে বলেছেন- তদেবার্থমাত্রনির্ভাসং স্বরূপশূণ্যমিব সমাধিঃ (৩/৩) ধ্যান যখন অর্থ নির্ভাস হয় অর্থাৎ ধ্যান যখন এমন প্রগাঢ় হয় যে ধোয় বিষয়মাত্রের সত্তাই কেবল উপলব্ধি হতে থাকে এবং নিজের প্রত্যয়াত্মক স্বভাবও শূণ্যবৎ হয় অর্থাৎ 'আমি ধ্যান করছি' এ বোধও যখন থাকে না, তখন সেই ধ্যানকে সমাধি বলা হয়। এখানে প্রত্যয় শব্দের অর্থ অনুভূতির একাগ্রতা 'মনসোহামনীভাবঃ'।
যাজ্ঞবন্ধ্যের মতে-
সমাধিঃ সমতাবস্থা জীবান্মা-পরমাত্মনোঃ।
ব্রহ্মণ্যের স্থিতিবা সা সমাধি প্রত্যাগাত্মনঃ।।
(যোগী যাজ্ঞবল্ক্যম্ 30/2 )
অর্থাৎ জীবাত্মা ও পরমাত্মার সমতাবস্থা এবং অভেদজ্ঞানই সমাধি। এটি যুগপৎ ব্রহ্মানন্দ রসাবেশ ও জ্ঞানসিদ্ধির অবস্থা সন্দেহ নাই।
এই মহত্তম অনুপম অবস্থা কোনক্রমেই মনের মৃচ্ছাগ্রস্ত অবস্থা বা তন্ময়ত্ব নয়। অথচ অনেক সাধক ও প্রেমিক ভক্ত তন্ময়ত্বকেই সমাধি মনে করে বিভ্রান্ত হন। অনেকেই দেখেছে দ্বৈতসাধক তাঁর আরাধ্যের ধ্যান করতে করতে তীব্র ভাবনা ও দৃঢ় ইচ্ছাবলে বাহাজগৎ ভুলে গিয়ে আরাধ্য বস্তুতে ডুবে যান। আবার, কোন সাধনা ছাড়াই বালক যুবা বৃদ্ধা প্রায় প্রত্যেকেই নিজের কাজ বা কাম্য বস্তুর চিন্তাতে, এবং প্রেমিক প্রেমিকা আপন আপন প্রেমাস্পদের চিন্তায় স্থানকালপাত্র ভুলে গিয়ে সম্পূর্ণ বিভোর ও মগ্ন হয়ে যান, এমন ঘটনাও আমরা অহরহ প্রত্যক্ষ করি। আমার এক সহপাঠীকে দেখেছি, সে লেখাপড়ার সময় এমনই তন্ময় হয়ে পড়ত যে তার জানালার পাশ দিয়ে বাদ্যভাণ্ড সহ কোন মিছিল গেলেও তার তন্ময়তার কোন ছেদ পড়ত না। গ্যালিলিও যখন তাঁর বিখ্যাত ক্ষেত্রতত্ত্ব নিয়ে অঙ্ক কষায় মগ্ন ছিলেন, তখন তাঁর চারদিকে যে উদ্যত তরবারি হস্তে গ্রীক সৈন্যগণ তাঁকে হত্যা করতে উপস্থিত, সে দিকে তাঁর দৃষ্টি ছিল না। শুনেছি, দার্শনিকশ্রেষ্ঠ আচার্য ব্রজেন্দ্র নাথ শীল, ছাদের উপর বসে নক্ষত্রখচিত আকাশ দেখতে দেখতে এতই তন্ময় হয়ে পড়তেন কখন যে রাত্রি প্রভাত হয়ে যেত, তা তিনি জানতে পারতেন না। এই যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যক্তিভেদে বস্তুভেদে বিভিন্ন শ্রেণীর তন্ময়ত্ব - একে কোনমতেই সমাধি বলে ভুল করা উচিত নয়। কারণ ঐ ধরনের তন্ময়তা সম্পূর্ণভাবে মনেরই ক্রিয়া, মন বস্তুবিশেষে বিশেষভাবে লিপ্ত হয় মাত্র। এই অবস্থায় ধ্যান ধ্যেয় ধ্যাতা তিনই বিদ্যমান থাকে। অথচ প্রকৃত সমাধিতে দ্রষ্টা দৃশ্য দর্শন, ধ্যেয় ধ্যাতা ধ্যান, জ্ঞেয় জ্ঞাতা জ্ঞান- এই ত্রিপুটির লয় হয়।
প্রতিদিন নিদ্রান্তে যে কেউ লক্ষ্য করলে দেখতে পাবে, সুযুপ্তি ভঙ্গে জাগ্রৎ অবস্থায় জগৎ জ্ঞান উপস্থিত হওয়ার পূর্বক্ষণে ক্ষণকালের জন্য একটা শূণ্যময় অবস্থা ভাসে। এর নাম নির্বিকল্প স্থিতি। অনেক যোগী ঐ স্থিতিকে লক্ষ্য করে সমাধিস্থ হওয়ার চেষ্টা করেন অর্থাৎ ভাবেন যে ঐ স্থিতি দীর্ঘতর ও স্থায়ী করতে পারলেই বুঝিবা সমাধির অবস্থা আসবে। এ ধারণা সম্পূর্ণ ভ্রমাত্মক। মানুষের জীবনে কত রকম ভাবে যে নির্বিকল্প স্থিতি দেখা দেয় সে'সম্বন্ধে শাক্ত্যাগমের বিখ্যাত গ্রন্থ 'ত্রিপুরারহস্যের' জ্ঞানকাণ্ডে বিশদ আলোচনা আছে। সমাধির স্বরূপটি ভালভাবে জানার জন্য তৎসদৃশ যতগুলি অবস্থা আসে (যথা-মনের মুচ্ছা, তন্ময়তা, নির্বিকল্পতা, মুগ্ধাবস্থা, জড়াবস্থা ইত্যাদি) সাধকের মনে সমাধি সম্বন্ধে ভ্রম উৎপাদন করে অর্থাৎ যেগুলিকে সাধারণ ভক্ত ও সাধকের দল ভুলক্রমে সমাধি বলে মনে করেন সেগুলি সম্বন্ধে সর্বাগ্রে অবহিত হওয়া প্রয়োজন। সেই উদ্দেশ্যেই আমি একটু আগে তন্ময়তা সম্বন্ধে কিছু বলেছি, এখানে নির্বিকল্প স্থিতি প্রসঙ্গে 'ত্রিপুরারহস্য' হতে কিছু উদ্ধৃত দিচ্ছি
যচ্চিরাদ্ধাবাঞ্ছিতং কিঞ্চিদলভ্যত্বেন নিশ্চিতম্। অকস্মাৎ তস্য সম্প্রাপ্তিয়দা ভবতি বৈ মুনে। ৬
তদান বেদ বাহ্যং বাপ্যান্তরং বা ক্ষণং নরা। তিষ্ঠেন্ননিদ্রয়াক্রান্তঃ স সমাধিরুদীরিতা। ৭
- লৌকিক ব্যবহারিক জীবনে চিরবাঞ্ছিত কোন বস্তু যখন অলভ্য বলে সুনিশ্চিত ধারণা জন্মে, তখন যদি অকস্মাৎ দৈববশে সে বস্তু প্রাপ্ত হওয়া যায়, তখন প্রাপক জীব ক্ষণকালের জন্য বাহ্য বা আন্তর সর্বপ্রকার অনুভূতিরহিত স্থিতি প্রাপ্ত হয় অথচ নিদ্রিতও থাকে না এই স্থিতিই নির্বিকল্প স্থিতি। তখন ক্ষণকালের জন্য জীব স্বস্বরূপে স্থিতই থাকে কিন্তু সেই স্বরূপস্থিতি সম্বন্ধে উদ্বুদ্ধ হয় না। মুহূর্তকাল পরেই বিষয়প্রাপ্তি জনিত আনন্দানুভূতি তাকে আচ্ছন্ন করে।
অতিপ্রিয়ং স্বপুত্রাদি বিভুং চ গৃহকর্মণি। অরোগিনং যদকস্মাৎ সংশূণোতি মৃতং কিলা। ১০
তদান বেদ বাহাং বাপ্যান্তরং বা ক্ষণং নরা। তিষ্ঠেন্ননিদ্রয়াক্রান্তঃ স সমাধিরুদীরিতঃ।। ১১
- ব্যবহারিক জীবনে উপার্জনরত ও পরিবারের সর্বময় কর্তা স্বাস্থ্যবান অরোগী একমাত্র গুণবান পুত্রের অকস্মাৎ মৃত্য সংবাদ প্রাপ্তিতেও জীবের ক্ষণকালের জন্য বাহ্য ও আন্তর সর্বপ্রকার অনুভূতিরহিত এক নির্বিকল্প স্থিতি উপস্থিত হয় অথচ নিদ্রাভিভূত থাকে না, কিছুক্ষণ পরেই অসাড় দেহমনে পুত্রবিয়োগ ব্যথার অনুভূতি জাগে, সে শোকাভিভূত হয়।
নির্বিকল্প স্থিতির এই রকম আরও অনেক উদাহরণ দেওয়া যায়। নবপরিণীতা স্ত্রীর সঙ্গে সম্পরিঙ্গক্ত অবস্থায় অথবা সহসা ব্যাঘ্রাদি দর্শনেও মনে অনুরূপ স্থিতি দেখা দেয়। কোন অতি দূরবর্তী বস্তুকে দৃষ্টিগোচর করার জন্য মন যখন একাগ্র হয় তখন মন জলৌকার মত দীর্ঘ হয়ে যায় (অর্থাৎ জলৈাকা যেমন এক তৃণ হতে অপর তৃণে যাবার জন্য দীর্ঘতা প্রাপ্ত হয় মন তখন তেমনি ভাবে দীর্ঘতা প্রাপ্ত হয়) এবং যে পর্যন্ত না সেই বস্তু প্রত্যক্ষ হয়, সেই পর্যন্ত এই উভয় অবস্থার সন্ধিস্থলে অন্তবর্তীকালটুকুতে দেহবোধও থাকে না, বস্তুবোধও জাগে না এমন একটি আংশিক নির্বিকল্প স্থিতি দেখা দেয়। বৈজ্ঞানিকগণ যখন গবেষণায় মন্ত্র থাকেন, তখন তাঁদের মধ্যেও তদগত অবস্থায় নির্বিকল্প স্থিতি দেখা যায়। এই নির্বিকল্প স্থিতিকালেই তাঁদের নিকট প্রকৃতির আবরণ উন্মোচিত হয়, তাঁরা অভীষ্ট সত্য আবিষ্কারে সমর্থ হন।
মানুষের জীবনে সকলেরই চিত্তে এক বৃত্তিজ্ঞান বিলয়ের পরেই অপর বৃত্তিজ্ঞান ভাসে। খণ্ড খণ্ড পৃথক। বৃত্তিজ্ঞানের প্রবাহ নিয়েই আমাদের জীবনযাত্রা। একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যায়, এক বৃত্তিজ্ঞানের বিলয় ও অপর বৃত্তিজ্ঞানের উদ্ভবের সন্ধিক্ষণে প্রতি জীবই নির্বিকল্প দশায় স্থিতি লাভ করে থাকে 'তদন্তরক্ষণৌষেয় নির্বিকল্পদশাস্থিতা'।
নির্বিকল্প স্থিতির এত সব বিবরণ দেওয়ার পর কিন্তু ত্রিপুরারহস্যকার মন্ত্রব্য করেছেন যে ঐ সমস্ত স্থিতি সমাধি শব্দে বা সংজ্ঞায় অভিহিত হওয়ার যোগ্য নয়। স্বাভাবিক ব্যবহারিক জীবনের পূর্ববর্ণিত নির্বিকল্প স্থিতির অনুকরণে, যাঁরা তদনুরূপভাবে দীর্ঘকাল নির্বিকল্প স্থিতিতে থাকবার চেষ্টায় প্রাণস্পন্দন নিরোধ ও চিত্তস্পন্দন নিরোধ করে সমাধিলাভ হয়েছে বলে মনে করেন, গ্রন্থকার তাঁদের কঠোর ভাষায় নিন্দ্য করে বলেছেন যে ঐ রকম তথাকথিত সমাধিস্থিতি শশশুঙ্গবৎ অসৎ 'সমাধিরপ্তি চান্যস্য সমাধিঃ শশশুঙ্গবৎ।। সমাধিবৎ নির্বিকল্পস্থিতি অজ্ঞান সমাধি, জড় সমাধি বা মূঢ় সমাধি নামের যোগ্য। শাজ্যাগমের ঐ অনুভবী সাধকপ্রবরের মতে, সমাধির্বৈ স্বরূপস্য বিমর্শো নান্য উচ্যতে। নির্বিকল্পস্বরূপা তু সর্বাশ্রয়াতয়া সদা।। ১১৩
অর্থাৎ অবিচ্ছেদে আত্মস্বরূপানুসন্ধানের নামই সমাধি। নির্বিকল্প জ্ঞানস্বরূপ পরমাত্মা সর্বাধিষ্ঠানরূপে বর্তমান বলেই সর্ববস্তু স্ফূর্তি পায়, স্বপ্রকাশ আত্মচৈতন্যই অজ্ঞান ও অজ্ঞানমূলক জীবজগতের ভাসক। 'অহং ব্রহ্ম্যাস্মি' বৃত্তি দ্বারা সেই নিত্যস্ফূর্তি আত্মচৈতন্য প্রত্যয়ের একতানতাই সমাধি নামের যোগ্য।
প্রথম জীবাবস্থা থেকে সমাধি অবস্থায় যাবার সময় মুগ্ধাবস্থা এসে যোগীর গতিরোধ করে। ধ্যানকালে অকস্মাৎ জ্যোতিদর্শন, অতীন্দ্রিয় দৃশ্য দর্শন বা অলৌকিক শব্দ শ্রবণ করলে যোগীর মন বিস্ময়ে ও আনন্দে স্বৰীভূত হয়ে পড়ে। এই অবস্থার নাম মুগ্ধাবস্থা। মুগ্ধাবস্থাতে জগৎ জ্ঞান এবং স্বীয় অস্তিত্ব জ্ঞান থাকে না। এই অবস্থা হতে হঠাৎ জাগ্রত হয়ে সাধক উপলব্ধি করেন যেন কিছুক্ষণের জন্য তাঁর আত্মসত্তা এবং সৃষ্টির সম্প্র লোপ পেয়েছিল। এটি কিন্তু সুষুপ্তির মতই জীবের অবস্থা বিশেষ। কিন্তু অনেক প্রবীণ সাধকও এই মুগ্ধ অবস্থাকেই সমাধি অবস্থা মনে করে ভ্রমে পতিত হন এবং অভ্যাস দ্বারা এই অবস্থারই স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করতে প্রয়াস পান। তাঁরা এই সত্যটি ভুলে যান যে, সৃষ্টিজ্ঞান এবং দেহাত্মক জ্ঞান লুপ্ত হয়ে যে শুদ্ধ চিন্ময় নির্গুণ আত্মসত্তাতে অবস্থিতি একমাত্র তাকেই সমাধি অবস্থা বলা যায়। মুগ্ধাবস্থাতে আত্মসত্তার অবিদ্যমানতা বোধ হলেই তাকে সমাধি বলা যাবে না। লয় বা নির্মাণ অবস্থাতেও সৃষ্টিজ্ঞান ও আত্ম অস্তিত্ব জ্ঞান লুপ্ত হয়। কিন্তু সুষুপ্তি বা মুগ্ধাবস্থা এবং লয় বা নির্মাণ অবস্থাতে প্রভেদ এই যে, মুগ্ধাবস্থা বা সুযুপ্তি হয় জীবের, জীব স্বীয় খণ্ড-অস্তিত্ব-জ্ঞান হতে ঐ দুটি অবস্থাতে প্রবেশ করে এবং তা হতে ব্যুত্থিত হয়ে পুনরায় খণ্ড-অস্তিত্বরই অনুভব করে। যেমন, কেশবের মোহ বা সুষুপ্তি অবস্থা হয় এবং কেশবই জাগ্রত হয় কিন্তু প্রকৃত সমাধিতে জীবভাব লুপ্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশুদ্ধ নির্গুণ আত্মসম্বিৎ এর উদয় হয়। ব্যুত্থানের পরেও তার আর জীবভাব থাকে না। অনেক সাধককেই দেখা যায়, খেচরী মুদ্রা সহযোগে (জিহ্বাকে বিপরীত দিকে তালুকুহরে প্রবেশ করিয়ে) মাটির নীচে সমাহিত অবস্থায় দীর্ঘকাল থাকার পর পুনরায় উত্থিত হন, কেউ বা ঊর্ধ্ববাহু, কেউ এক পদে দণ্ডায়মান, কারও বিশাল জটাভারের মধ্যে তৃণগুম্মাদির জঙ্গল, কেউ বা দীর্ঘকাল পদ্মাসন বা সিদ্ধাসনে নির্বাত দীপশিখার মত চলৎশক্তিহীন অবস্থায় দীর্ঘকাল কাটিয়ে দিচ্ছেন। সাধারণ লোকে ঐ সব চিত্তচমৎকারী দৃশ্য দেখে মনে করেন যে ঐ সমস্ত সাধক নিশ্চয়ই সমাধির রস আস্বাদন করেছেন। কিন্তু ঐ সমস্ত কঠোর তপস্বীদের মধ্যে সকলেই যে যথার্থ সমাধির অবস্থা লাভ করেছেন এ কথা শাস্ত্র স্বীকার করেন না। শাস্ত্রমতে ঐ রকম অধিকাংশ সাধকের সমাধিই জড়সমাধি বা মূঢ় সমাধি মাত্র। মূঢ় সমাধি বা জড় সমাধির অপর নাম অজ্ঞান সমাধি। ঐ রকম সমাধি চিত্তের সপ্ত অবস্থার (জাগ্রৎ, স্বপ্ন, সুযুপ্তি, মুচ্ছা, মূঢ় সমাধি, মৃত্যু, তুরীয়) এক একটি অবস্থা বিশেষ। তার দ্বারা চিত্ত নাশ হয়। ঐ রূপ সমাধি তপস্যার ফল বটে, অনেক সময় তার দ্বারা অনেক অলৌকিক শক্তি অর্থাৎ বিভূতিলাভও সম্ভব হয়। কিন্তু জড়সমাধি দ্বারা মোক্ষলাভ হয় না বরং মোক্ষ সুদূর পরাহত হয়, কেননা সমাধি ভঙ্গে দৃঢ় অহংবোধ সহ চিত্ত পুনরুত্থিত হয়ে দৃঢ়তর বন্ধনের হেতু হয়। তৎযথা:-
সিদ্ধিকামনয়া যৈন্তু তপ উগ্রং কৃতং মহৎ। দেহোহপি বিস্মৃততৈস্ত ক্রিমিকীটাদিভক্ষিতঃ।। (৩৪/১৭)
নেয়ং মুচ্ছা ন রোগেহয়ং ন মৃত্যুজীবনাদয়ম্। সুযুপ্তানন্দবিরহান্ন সুযুপ্তিরিতি স্ফুটম্।। (৩৪/১৮)
স্বরূপ লাভ বিরহাম্মঢ়ত্বান্ন তৃরীয়কম্। দৃশাভানং তু নাম্ব্যাসু তাবতা ন কৃতার্থতা।। (৩৪/১৯)
ব্যুথানানস্তরং তেষাং সংসারোহপি যদা স্থিতঃ। যদাত্মদর্শনং নাস্তি সংসারোহবর্ধিততস্ততঃ।। (৩৪/২০)
(বিশ্বশ্বর্য নরহরি বিরচিত বোধসাবঃ)
অত্যুৎকট উগ্ন কঠোর তপস্যা দ্বারা সিদ্ধিলাভের ইচ্ছায় জড় সমাধি কালে যাঁরা দেহ বিস্মৃত হন এমন কি ক্রিমিকীটাদি দ্বারা ভক্ষিত হতে থাকলেও যাঁরা জানতে পারেন না, তাঁদের সেই সমাধি অবস্থা মূর্ছা নয়, যেহেতু তা রোগাদি জনিত নুয়, ঐ অবস্থা মৃত্যু পদবাচ্যও নয় যেহেতু প্রাণবিয়োগ ঘটে না; সুষুপ্তিও নয় কেননা সুখানুভূতি থাকে না এবং তুরীয়বস্থাও নয়, যেহেতু সে সময় স্বয়ং প্রকাশ আত্মচৈতন্যের অনুভূতি নয়। এর একমাত্র যোগ্য নাম মুঢ় সমাধি। কেবল দৃশ্যবোধ না থাকলেও কেউ কৃতার্থতা লাভ করে না। জড় সমাধিবান যোগী যেহেতু আত্মদর্শনের পথে জ্ঞান-সমাধি লাভ করেন না, এই জন্য তাঁদের ব্যুত্থানের পর পুনরায় জীবজগৎ। রূপ সংসার ভেসে উঠে।
পুরাণাদিতে হিরণ্যকশিপু, রাবণ প্রভৃতি দৈত্য ও রাক্ষসগণের উগ্র তপস্যার বিবরণ আছে। তাঁরা নাকি বায়ুমাত্র আহার করে দীর্ঘকাল যাবৎ নিষ্পন্দ অবস্থায় তপস্যা করেছিলেন। সেই সময় তাঁরা যে সমাধি লাভকরেছিলেন, তা জড় সমাধি বা মুঢ় সমাধি। বু্যুত্থানের পর দেখা গেছে তারা যুদ্ধবিগ্রহের দ্বারা স্বর্গজয় ও পৃথিবী জয় করেছিলেন। মূঢ় সমাধিতে আত্মজ্ঞানের অভাবে এইভাবে ভোগ বাসনা অর্থাৎ সংসার বীজরূপে থেকে যায়।
এতক্ষণ ধরে সমাধি সম্বন্ধে আমি এই কথাটাই বুঝাতে চাইছি যে, 'অহং রগ্যাম্মি' বৃত্তি দ্বারা আত্মস্বরাপে স্থিতিলাভই সমাধি। সে পথ জ্ঞানের পথ, বিচারের পথ। আত্মবিমর্শহীন কোন ক্রিয়া বা পদ্ধতি অবলম্বন করে যত কঠোর তপস্যা করা যাক না কেন, তাতে যথার্থ সমাধিলাভ কখনই সম্ভব নয়। এ সম্বন্ধে পূর্বতন সকল ঋষিই একমত। সুপ্রাচীন কাশ্মীরী শৈবাগমের পুস্তক 'শিবসূত্রম্' নামক মহাগ্রন্থে (যার রচয়িতা স্বয়ং মহাযোগেশ্বর মহাদেব) এইভাবেই ব্যঞ্জিত। সেখানে শিব বলেছেন ময়াঃ স্বচিত্তে প্রবিশৎ। শিবসূত্রম্ ৩/২১।
এর তাৎপর্য্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শ্রীমদ আচার্য ভট্ট ভাস্কর বলছেন-
স্বাত্মনোব নিমগ্নঃ স্যাৎ প্রবৃত্যুপরমে সতি। এবং নিমেষবশতঃ শিবো ভূত্বা স্বচেতসা।
(শিবসূত্রবার্তিকম্ ৩/২১)
অর্থাৎ বহির্মুখ চিত্তকে অন্তর্মুখ করার নাম নিমেষ, নিমীলন বা আবৃতচক্ষু। চিত্তকে বহিবিষয় হতে উপরত করে কেবল আত্মাতে নিমগ্ন করলে তবেই শিব-তাদাত্ম্য লাভ হয় অর্থাৎ জীব শিবস্বরূপ পরমায়ার সঙ্গে ঐক্য লাভ করে। এইভাবে চিত্তকে আত্মনিমগ্ন করার নামই শিবসমাপত্তি বা সমাধি।

ঐ অবস্থা লাভের জন্য প্রত্যেক সাধকের পক্ষেই কতকগুলি প্রাথমিক তথ্য নিত্য স্মরণে রাখা কর্তব্য। তাঁদের জানা দরকার যে, যোগসাধনের প্রথম অবস্থাতে মন যখন বাহ্য জগৎ ত্যাগ করে অন্তর্মুখী হয়, তখন নানা রকমের জ্যোতিদর্শন ও শব্দের ঝঙ্কার শ্রুতিগোচর হয়, সে সব উপলব্ধি বড় বিচিত্র। এই জ্যোতিমাত্র দর্শনকে যাঁরা যোগের চরমসীমা বলে মনে করেন তিনি জ্যোতিতে ব্রহ্ম ভ্রম করে জ্যোতিঃস্বরূপ বলে গেছেন এবং 'আমার ব্রহ্মাদর্শন হল' মনে করে আপ্যায়িত হয়েছেন। যাঁর শব্দ শ্রবণ মাত্রই চরম সীমা, তিনি শব্দ ব্রহ্ম, প্রণব ব্রহ্ম, ওঁকার ব্রহ্ম ইত্যাদি বলে গেছেন এবং শব্দ শ্রবণকেই চরম অনুভূতি বলে ডঙ্কানাদ করেছেন। কিন্তু সত্য কথা বলতে কি আত্মযাজী বৈদান্তিকের দৃষ্টিতে এ সকলই ভ্রম। বেদান্তের সাধক জানেন যে ঐ সমস্ত দর্শন ও শ্রবণ অন্তর্মুখী মনেরই কার্য। প্রকৃত প্রস্তাবে অন্তর্মুখী মন যখন জ্ঞানাগ্নিতে দগ্ধ হয়ে বিশুদ্ধ সূক্ষ্মাবস্থা প্রাপ্ত হয়, তখন তা যদি আত্মসত্তা অবলম্বন করে তবে তা আত্মাতেই বিলীন হয়ে যায় এবং প্রকৃত সমাধির অবস্থা উপস্থিত হয়। সাধনার লক্ষ্যই হল জীবভাব থেকে মুক্ত হয়ে ব্রহ্মভাবে স্থিতি। বাল্যকালে যেমন শত সাধনাতেও যৌবন আসে না, যৌবনে বার্ধক্য আসে না, বাল্যাবস্থার লয়ে যেমন যৌবনের উদয় ও যৌবনের লয়ে যেমন বার্ধক্যের উদয় হয়, সেই রকম জীবাবস্থার অবসানে ব্রহ্মাবস্থা আপনা হতেই উদিত হয়। ব্রহ্মাবস্থা এবং জীবাবস্থা আত্মারই অবস্থান্তর মাত্র। আত্মাই বদ্ধাবস্থায় জীব এবং মুক্তাবস্থায় ব্রহ্ম। একমাত্র আত্মাতে সমাপত্তি লাভের সাধনা ছাড়া আর কোন ভাবেই জীবভাবের আবরণ অপাবৃত হয় না। জগতে অন্যান্য যতরকম সাধনা আছে, সে সব সাধনায় বহুতর বিচিত অনুভূতি ও ঐশ্বর্য লাভ হলেও ব্যুত্থানের পর সংসারক্ষেত্র অবলম্বন মাত্র সাধকের মন মলিনতা ও জড়ত্ব প্রাপ্ত হয় কিন্তু যদি মুহূর্তের জন্য আত্মাকে অবলম্বন করে সমাধিলাভ করা যায় এবং 'অহং ব্রহ্মাস্মি' বোধে জাগরণ ও সমুত্থান ঘটে তাহলে বহির্জগতে প্রত্যাবর্তন অর্থাৎ ব্যুত্থানের পরও সেই সাধক নিত্য ব্যুত্থিত ও নিত্য সমাধিস্থ থাকেন। জীবভাবের উদ্বোধক মন নামক কোন পদার্যের ক্রিয়া তিনি অনুভব করেন না। শাস্ত্র বলেছেন, সেই আত্মজ্ঞ সাধকের মন তখন 'দগ্ধাবস্ত্রাবভাসঃ' অর্থাৎ অগ্নিদগ্ধ বস্ত্রখণ্ডের মত আভাসমাত্র বিদ্যমান থাকে, বস্তুতঃ সেই মনের কোন ক্রিয়া থাকে না। এটি নির্বিকল্প সমাধির অবস্থা। নির্বিকল্প সমাধিবান যোগীর ব্রহ্মাত্মতা লাভের ফলে বুদ্ধিও নিশ্চল অবস্থা প্রাপ্ত হয়। আচার্য শঙ্কর বলছেন ব্রহ্মানন্দরসাবেশাদেকীভূয় তদাত্মনা। বুদ্ধে যা নিশ্চলাবস্থা স সমাধিরকল্পকঃ ।। (সর্ববেদান্ত-সিদ্ধান্ত-সার-সংগ্রহ। ৮৯৯) অর্থাৎ ব্রহ্মানন্দ রসাবেশে ব্রহ্মস্বরূপের সঙ্গে একাত্মতা লাভ করলে বুদ্ধির যে নিশ্চলাবস্থা হয় তার নামই নির্বিকল্প সমাধি।

শেষ কথা, শাস্ত্র-স্বাধ্যায়ের ফলে আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, সমাধি হল সম্যকভাবে এবং সমভাবে অধিষ্ঠান, চৈতন্যের জাগরণ।

সবসময় সর্বত্র যে কোন অবস্থাতেই সেই অখণ্ড পরমানন্দ, সমরস, রসস্বরূপ, জ্যোতিস্বরূপে সমভাবে, নিরবচ্ছিন্নভাবে অধিষ্ঠিত থাকাই সমাধি। সমত্বং যোগমুচ্যতে। যখন সমত্ব বোধ সব কিছুতে হয় তখনই হয় সমাধি। যখন যোগী ধ্যানযোগে সচ্চিদানন্দময়ের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যান, সর্বভূতান্তরাত্মার সঙ্গে একাত্মবোধ হয়, তখন তাঁর কোন বিভেদ বোধ থাকে না। এই নির্বিকল্প সমাধি অবস্থায় আচার্য শঙ্কর বলে উঠেছিলেন - 'অহং নির্বিকল্পো নিরাকারোপেবিভূব্যাপী সর্বত্র সর্ব্বেন্দ্রিয়াণাম্"। আবার যেহেতু এই অবস্থায় চিদাকাশে সম্যক জ্ঞানের উদয় হয়, সেহেতু বিশ্বের সকল রহস্যেরও সমাধান তাঁর কাছে হয়ে যায়। যোগীর তখন কিছুই অজানা থাকে না, পূর্ণভাবে জানা হয়ে যায়। কাজেই সমাধিবান ঋষি বা যোগী ব্রহ্মজ্ঞ হয়ে যান। তার পূর্ণতম প্রজ্ঞা, পূর্ণতম আনন্দ লাভ হয়।

তখন অনুভবী সাধক তাঁর অনুভবের স্তর থেকে সমাধিস্থ অবস্থায় কিরকম অনুভূতি হয় তা বলতে গিয়ে কলেছেন

উপেক্ষা নামরূপে ছে সচ্চিদানন্দ বস্তুনি।

সমাধিং সর্বদা কুর্যাদ হৃদয়ে বাথবা বহিঃ।

স বিকল্লোহবিকল্পশ্চ সমাধিদ্বিবিধো হ্যাদি।

দৃশাশব্দানুবেধেন সবিকল্পঃ পুনদ্বিধা।

কামাদ্যাশ্চিত্তাসাদৃশ্যান্ডৎ সাক্ষিত্বেন চেতনাম্। ধ্যায়েদুশ্যানুবিস্কোয়ং সমাধিঃ সবিকল্পকঃ। অসঙ্গঃ সচ্চিদানন্দঃ সপ্রভো দ্বৈতবর্জিতঃ।

অর্থীতি শব্দবিদ্ধোয়ং সবিকল্প সমাহিতঃ।।

স্বানুভূতিরসাবেশাব্দ্দশ্য শব্দানুপেক্ষ্য তু।

নির্বিকল্প সমাধিঃ স্যান্নিবাতস্থলদীপবৎ ।।

অর্থাৎ 'সচ্চিদানন্দ পরব্রহ্মাই একমাত্র সত্যবস্তু। নামরূপ কল্পিত বা মিথ্যা, এইটে নিশ্চয় করে, নামরূপকে পরিত্যাগপূর্বক, অন্তরে বা বাহো, সর্বদাই সমাধি আশ্রয় করবে। আন্তর সমাধি সবিকল্প নির্বিকল্প ভেদে দুই প্রকার, আবার নির্বিকল্প সমাধিও দুই প্রকারের (১) দৃশ্যানুবিদ্ধ, (২) শব্দানুবিদ্ধ। ভাবাভাব চিত্তের কামাদি বৃত্তিগুলিও ভার অভাব ধর্মযুক্ত। কারণ চিত্তের সম্ভাবে তাদের সম্ভাব চিত্তের অভাবে তাদের অভাব। জাগ্রতাবস্থায়, ক্রমশঃ বিচ্ছিন্ন হয়ে বৃত্তিগুলি প্রকাশিত হয়, অর্থাৎ এক বৃত্তির পর অপর বত্তির উদয় হয়। চিত্ত কখনও বৃত্তিশূন্য থাকে না, এক বৃত্তির লয় হলে আবার অন্য বৃত্তির উদয় হয়। পরন্তু সুষুপ্তি ও মূর্ছাদি অবস্থাতে চিত্তের লয় হওয়ায় আর কোন বৃত্তিরও উদয় হয় না। সেই চিত্তবৃত্তির বিবিধ প্রকার বিকৃতাবস্থা, তার ভাব ও প্রভাব এবং তদুভয়ের সন্ধিস্থল যিনি স্বপ্রকাশরূপে প্রকাশ করেন, তিনি প্রত্যক্ষ চৈতনারূপ আত্মা। অপরোক্ষভাবে এটি অবগত হয়ে তাঁর ধ্যান করবে ইহাই দৃশ্যানুবিদ্ধ সবিকল্প সমাধি। এই দৃশ্যানুবিদ্ধ সমাধি দ্বারা প্রত্যেক চৈতন্যস্বরূপ আত্মার অনুভূতি দৃঢ় হলে, সেই অসঙ্গ, অদ্বিতীয়, স্বপ্রকাশ, সচ্চিদানন্দস্বরূপ ব্রহ্মচৈতন্য উপলব্ধি হয়ে থাকে। এইরূপ দৃঢ় ভাবনাকে শব্দানুবিদ্ধ সবিকল্প সমাধি বলে। পূর্বোক্ত দৃশ্য ও শব্দানুবিদ্ধ সমাধি দ্বারা চিত্ত যখন সুস্থির হয়ে স্বরূপের সঙ্গে একত্ব লাভ করবে, তখন দৃশ্য ও শব্দ উভয়ই অন্তর্হিত হয়ে যাবে। তখন কেবল স্বয়ংসাক্ষী ও সাক্ষ্যভাবরহিত অখণ্ড সচ্চিদানন্দস্বরূপ পূর্ণানন্দরসে নিমগ্ন থাকবে, চিত্তনির্বাহ দীপকলিকার ন্যায় নিশ্চল হয়ে তদাকার অবস্থা প্রাপ্ত হবে, এই হল নির্বিকল্প সমাধি।'


No comments:

Post a Comment

ধন্যবাদ

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

সমাধি

সমাধি সম্বন্ধে সাধারণ মানুষের মনে নানারকম কৌতুকপ্রদ ধারণা বর্তমান। প্রায় কমবেশি সকলেরই ধারণা, সমাধিকালে হাত-পা শিথিল হবে, ঠাণ্ডা হবে, চোখ বন...

Post Top Ad

ধন্যবাদ