আয়ুর্বেদ সম্পর্কে জ্ঞানসম্পন্ন বিদ্বানগণ এবং আয়ুর্বেদের অধ্যয়নকারী ছাত্ররা এ কথা খুব ভালোভাবেই জানেন যে, আয়ুর্বেদ অধ্যয়ন ও অধ্যাপনার ক্ষেত্রে চরক সংহিতার মতো উৎকৃষ্ট গ্রন্থ দ্বিতীয়টি নেই। বহু বৈদ্যক গ্রন্থ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও চরক গ্রন্থই সর্বাধিক প্রাচীন। প্রাচীন হওয়া সত্ত্বেও এই গম্ভীর শাস্ত্রের বহু বিস্ময়কর বিষয় পাঠ ও গভীর অনুসন্ধানকারীদের কাছে আজও নূতন বলেই প্রতীয়মান হয়। একজন আমেরিকান বিদ্বানের উক্তি— যদি কেবল চরকোক্ত চিকিৎসাই যথাযথ পদ্ধতিতে করা হয়, তবে অন্য কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন থাকে না। প্রাচীন আয়ুর্বেদবিদদের এই উক্তি সর্বতোভাবে সত্য— “চরকস্তু চিকিৎসিতে”। চিকিৎসাশাস্ত্রে চরকতন্ত্রেরই বিশেষত্ব রয়েছে।
চরক সংহিতায় আয়ুর্বেদের উৎপত্তি-প্রকরণে স্পষ্টভাবে লিখিত আছে যে, পৃথিবীতে রোগব্যাধি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় জীবজগতের উপর ভয়াবহ সংকট উপস্থিত হয়েছিল; মানবসমাজে চারিদিকে হাহাকার উঠেছিল। সেই সময় করুণাপূর্ণ হৃদয়ের ঋষিগণ একত্রিত হয়ে সমগ্র আয়ুর্বেদের জ্ঞান লাভের জন্য ঋষি ভরদ্বাজকে ইন্দ্রের নিকট প্রেরণ করেন। তিনিই আয়ুর্বেদের প্রথম প্রবর্তক হন। তাঁর নিকট থেকে আত্রেয় পুনর্বসু এই আয়ুর্বেদ গ্রহণ করেন। আত্রেয় পুনর্বসুর নিকট থেকে শ্রী অগ্নিবেশ এই শাস্ত্র গ্রহণ করেন। অগ্নিবেশের সহাধ্যায়ীদের মধ্যে ভেড়, জাতুকর্ণ, পরাশর, হারীত, ক্ষারপাণি প্রভৃতি আরও অনেকে ছিলেন। তাঁরাও নিজ নিজ তন্ত্র অর্থাৎ পৃথক পৃথক সংহিতা রচনা করে নিজ নিজ শিষ্য-পরম্পরার মাধ্যমে প্রচার করেন; তথাপি অগ্নিবেশ-প্রচলিত চরকেরই মহত্তম প্রতিষ্ঠা লাভ হয়। পরম্পরায় প্রাপ্ত গুরু-উপদেশসমূহের উপর ঋষি আত্রেয় পুনর্বসুর বিশেষ প্রবচন সর্বত্রই গৃহীত হয়েছে।
এই শাস্ত্রেরই প্রতিসংস্কার মহর্ষি পতঞ্জলি করেছিলেন; তিনিই চরক নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন। পরবর্তীকালে পঞ্চনদপুরের অধিবাসী আচার্য দৃঢ়বল অন্যান্য বহু শাস্ত্র থেকে সারাংশ গ্রহণ করে বহু অধ্যায় সংযোজনের মাধ্যমে এটিকে পূর্ণাঙ্গ করেন।
চরক সংহিতার বিশেষত্ব
চরক সংহিতা এমন এক বিশাল গ্রন্থ, যার মধ্যে বহু বিশেষত্ব রয়েছে। সমগ্র গ্রন্থটি এমনভাবে সংকলিত হয়েছে যেন তা এক অত্যন্ত নির্মল ও নির্ভ্রান্ত মস্তিষ্ক থেকে পরিশ্রুত হয়ে এসেছে। ভাষাশৈলী এতই আকর্ষণীয় যে, বৈদ্যকশাস্ত্র হওয়া সত্ত্বেও স্থানে স্থানে উচ্চকোটির সাহিত্যের শোভা প্রতীয়মান হয়। চরক সংহিতার বিমানস্থানে (অ. ৮ সূ. ৩)-এ শাস্ত্রের যতগুলি গুণ বর্ণিত হয়েছে, সেগুলি সমগ্ররূপে চরক সংহিতায় বিদ্যমান। এই সর্বাঙ্গসুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ শাস্ত্রের মাহাত্ম্য সকলেই অনুভব করেছেন। সেই কারণেই এই শাস্ত্র সর্বজনস্বীকৃত এবং সমগ্র জগতে অদ্বিতীয়।
চরক সংহিতার ভাষ্য ও টীকা
চরকাচার্যের সময় অতীত হয়েছে আজ থেকে দুই সহস্রাধিক বছর। আচার্য দৃঢ়বল, যিনি চরকের পূর্তি সম্পন্ন করেছিলেন, তিনি আজ থেকে প্রায় ১৭০০ বছর পূর্বে বর্তমান ছিলেন। আর চরকচতুরানন চক্রপাণি খ্রিস্টীয় একাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে আবির্ভূত হন। তিনি বঙ্গদেশের সুবিখ্যাত রাজবৈদ্য ছিলেন। পালবংশীয় রাজা নয়নপালের তিনি রাজকীয় প্রাণাচার্য ছিলেন। তাঁর প্রসিদ্ধ টীকা ‘চরক তাত্পর্য টীকা’, যার অপর নাম আয়ুর্বেদদীপিকা।
(২) শ্রীশিবদাস বিরচিত চরকের তাত্পর্য টীকা।
(৩) শ্রীকৃষ্ণ ভিষক্-কৃত শ্রীকৃষ্ণভাষ্য।
(৪) বৈদ্যবর কবিরাজ গঙ্গাধর সেন কৃত টীকা ‘জল্পকল্পতরু’।
(৫) বৈদ্যরত্ন কবিরাজ শ্রীযোগেন্দ্রনাথ বিরচিত টীকা ‘চরকোপস্কার’।
এগুলির মধ্যে শ্রীশিবদাস-কৃত টীকা খুব প্রসিদ্ধ নয়। শ্রীকৃষ্ণ বৈদ্য গোদাবরী ষট্খেটক গ্রামের অধিবাসী বিদ্বান। তাঁর শ্রীকৃষ্ণভাষ্য-এর উল্লেখ লোলিম্বরাজ ‘বৈদ্যজীবন’ নামক গ্রন্থের উপর রচিত নিজের টীকায় এক স্থানে নিজের বংশপরিচয় দিতে গিয়ে করেছেন। কিন্তু সেটি দর্শনে আসেনি। গঙ্গাধরের টীকা বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত হয়েছিল। এই সকলের মধ্যে প্রাচীন টীকা ‘চক্রপাণি’-রই। এই এবং অন্যান্য টীকার অতিরিক্ত বৈদ্য শঙ্করদাজী ইয়ন্দে চরকের মারাঠি অনুবাদ করেছেন। এটিও একটি বিশদ ভাষান্তর। হিন্দিতেও একটি ভাষান্তর বোম্বাই থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
তথাপি এমন একটি ভাষান্তরের এখনও অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল, যা ছাত্রসমাজের বিশেষ উপযোগী বলে প্রমাণিত হয়। উপরোক্ত প্রায় সমস্ত টীকাকে সম্মুখে রেখে এই হিন্দি অনুবাদ জনসাধারণের সম্মুখে উপস্থাপিত করা হয়েছে। এই অনুবাদের কর্তা কবিরাজ শ্রী অত্রিদেবজী গুপ্ত বিদ্যালঙ্কার ভিষগূরল। তিনি কেবল একজন উত্তম অভিজ্ঞই নন, বরং ইউরোপীয় ডাক্তারি-চিকিৎসাতেও যথেষ্ট অভিজ্ঞ।
প্রস্তাবিত হিন্দি অনুবাদ
চরকের ইতিপূর্বে বহু হিন্দি অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এমন কোনো হিন্দি অনুবাদ হয়নি, যা ভাষার দৃষ্টিতে স্বয়ং একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থরূপেও বোধগম্য হয়। বর্তমান অনুবাদে এই বিষয়টির প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখা হয়েছে। ভাষাকে শিথিল, অসংগত বা অস্পষ্ট রাখা হয়নি। সেই সঙ্গে অনুবাদকে এমন সরল ও পরিমিত করার চেষ্টা করা হয়েছে যে, অল্প সংস্কৃতজ্ঞানসম্পন্ন কিংবা সংস্কৃত না-জানা ব্যক্তিরাও যদি সাধারণভাবে অনুবাদটির সঙ্গে মূল পাঠের তুলনা করেন, তবে সহজেই বুঝতে পারবেন যে, অমুক বাক্যের অনুবাদ অমুক বাক্য। এমনকি শব্দে-শব্দে অনুবাদও সহজেই বোঝা যায়। মূল পাঠ সঙ্গে না থাকলেও গ্রন্থপাঠে কোনো বিচ্ছেদ বা অসুবিধা অনুভূত হয় না। ভাষান্তর করতে গিয়ে চরকের মূল সংহিতার বাক্য, খণ্ড এবং প্রকরণগুলিকে এমন উৎকৃষ্টভাবে পৃথক পৃথক করা হয়েছে যে, প্রতিটি প্রকরণ স্বতন্ত্র হয়ে গেছে। ফলে ছাত্রদের পাঠে সামান্যতমও অসুবিধা হবে না। যে স্থানে ভাব কিছু অস্পষ্ট, সেখানে গ্রন্থের তাৎপর্য স্পষ্ট করে লেখা হয়েছে। যেখানে প্রয়োজনীয় মনে হয়েছে, সেখানে অন্যান্য শাস্ত্রের উদ্ধৃতি এবং মতও টীকায় উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রদের জ্ঞানের বৃদ্ধি হয়। যে পদ অস্পষ্ট, তার সরল অর্থও সঙ্গে সঙ্গে কোষ্ঠকের মধ্যে দেওয়া হয়েছে। বহু ঔষধির নামের সঙ্গে সঙ্গে কোষ্ঠকের মধ্যে প্রচলিত হিন্দি নামও দেওয়া হয়েছে। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়টিরও লক্ষ্য রেখেছি যে, যেখানে ছাত্রদের হাতে প্রয়োজনীয় সমস্ত উপকরণ পৌঁছে যায়, সেখানে তাঁদের হাতে এমন কোনো বিশাল গ্রন্থ না পড়ে, যা দেখে তাঁরা ভীত হয়ে পড়বেন বা ভয় অনুভব করবেন; অধ্যয়ন-অধ্যাপনের সময়েও যাতে গ্রন্থের বৃহৎ আকার তাঁদের অসুবিধার কারণ না হয়।
এই প্রথম ভাগে কেবল তিনটিই স্থান অন্তর্ভুক্ত করা গেছে— সূত্রস্থান, নিদানস্থান এবং বিমানস্থান। পরবর্তী স্থানগুলি পরবর্তী খণ্ডসমূহে প্রকাশিত হবে।
বিদ্বান ও বৈদ্য মহানুভাবদের নিকট নিবেদন
যে সকল বিদ্বান, গুণগ্রাহী বৈদ্য, কবিরাজ প্রভৃতি মহানুভাবদের নিকট নিয়মিত ছাত্রদের অধ্যয়ন-অধ্যাপনা চলে, তাঁরা যদি এই হিন্দি অনুবাদকে আরও অধিক উপযোগী করে তোলার জন্য কোনো পরামর্শ দেন অথবা বিভিন্ন স্থানে বিশেষ আলোচনা, পর্যালোচনা, টীকা, পরিশোধন ইত্যাদির প্রয়োজন বা প্রত্যাশা অনুভব করেন, তবে অনুগ্রহ করে অবশ্যই মণ্ডলের কার্যালয়ে জানাবেন, যাতে তার সদ্ব্যবহার দ্বিতীয় সংস্করণে করা যেতে পারে। আমরা সেই সকল মহানুভাবদের নিকট অত্যন্ত কৃতজ্ঞ থাকব।
আয়ুর্বেদের অন্যান্য গ্রন্থ
আয়ুর্বেদপ্রেমী বৈদ্যগণ এবং বৈদ্যকশাস্ত্রের ছাত্ররা যদি চরকের এই অনুবাদকে গ্রহণ করেন, তবে মণ্ডল আয়ুর্বেদ গ্রন্থমালায় সুশ্রুত, অষ্টাঙ্গ সংগ্রহ, মাধবনিদান, শার্ঙ্গধর, ভৈষজ্যরত্নাবলী প্রভৃতি বহু আয়ুর্বেদের গ্রন্থ একইরূপে সুন্দর মুদ্রণে এবং সুলভ মূল্যে প্রকাশ করবে।
১. এর অতিরিক্ত চরক গ্রন্থকে আরও অধিক উপযোগী করে তোলার জন্য এমন একটি প্রবচনের প্রয়োজন রয়েছে, যাতে বর্তমানে প্রচলিত চিকিৎসার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভিন্ন ভিন্ন শৈলীর তুলনা করতে করতে আয়ুর্বেদের গুরুত্ব স্পষ্ট করা যায় এবং ইউরোপীয় বিদ্বানদের বহু অনুসন্ধানের প্রকৃত মূলও আর্শ গ্রন্থসমূহে প্রদর্শিত হয়। আমাদের নিজস্ব দুঃখ এই যে, অনুবাদক মহাশয় এখনও পর্যন্ত এমন একটি পরিচয় লিখতে পারেননি এবং প্রথম খণ্ডের সঙ্গে আমরা তা দিতে পারিনি। তথাপি এমন একটি পরিচয় লেখা হচ্ছে, যা পরবর্তী খণ্ডগুলির সঙ্গে প্রদান করা হবে।
প্রাচীন আয়ুর্বেদের রোগবিজ্ঞান এবং চিকিৎসার ভিত্তি বাত, পিত্ত, কফ— এই ত্রিদোষের উপর প্রতিষ্ঠিত। এই দোষগুলির প্রকৃত স্বরূপ কী? বিকৃত স্বরূপ কী? এই তিন শ্রেণীর মধ্যে দেহের উপাদানরূপ বহু রাসায়নিক তত্ত্ব কীভাবে বিভক্ত হয়? শরীরে এগুলির ন্যূনাধিক্য কীভাবে ঘটে?— এই সমস্ত বিষয় অনুসন্ধানপূর্বক তুলনামূলকভাবে লেখা আবশ্যক। পাশ্চাত্য বিজ্ঞানে Germ Theory এবং Injection— এই দুটি প্রধান তন্ত্র। এগুলিরও বিভিন্ন স্থানে প্রাচীন আর্শ গ্রন্থসমূহে উল্লেখ রয়েছে এবং এ-সম্পর্কে সাফল্যও অর্জিত হয়েছিল; এর বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন।
শল্য-চিকিৎসা (সার্জারি) কার্যও প্রাচীনকালে অত্যন্ত উন্নত ছিল। এর পরিচয় সুশ্রুত গ্রন্থ থেকে জানা যায়। এই বিষয়ে বহু অত্যন্ত আশ্চর্যজনক অনুসন্ধান রয়েছে। এই সকল সংগ্রহযোগ্য বিষয়কে নিয়ে বিশেষ পরিচায়ক গ্রন্থসমূহ কালক্রমে পাঠকদের নিকট উপহারস্বরূপ প্রদান করা হবে।
যে সকল বিদ্বান উপরোক্ত প্রকারের অনুসন্ধানমূলক বৈদ্যক বা ডাক্তারি-সম্পর্কীয় তুলনামূলক গ্রন্থ লিখতে সক্ষম, অথবা ইতিমধ্যেই লিখেছেন, তাঁরা অনুগ্রহ করে তা প্রকাশ করার জন্য আমাদের সঙ্গে অবশ্যই পত্রযোগে যোগাযোগ করবেন।
— প্রকাশক
চরক-সংহিতা
বিষয়-সূচী
সূত্রস্থানম্
প্রথমোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ১–৩৬)
দীর্ঘঞ্জীবিতীয়ঃ — ঋষি ভরদ্বাজের ইন্দ্রের নিকট গমন (১) — রোগসমূহের প্রাদুর্ভাব (২) — ঋষিদের সভা (৩) — রোগশান্তির উপায় সম্পর্কে আলোচনা — ইন্দ্রের নিকট যাওয়ার জন্য ভরদ্বাজের সিদ্ধান্ত (৪) — ভরদ্বাজের ইন্দ্রের নিকট থেকে ত্রিস্কন্ধ আয়ুর্বেদ গ্রহণ (৫) — ভরদ্বাজের নিকট থেকে ঋষিদের আয়ুর্বেদ অধ্যয়ন (৬) — আত্রেয় পুনর্বসুর ছয় শিষ্যকে উপদেশ (৭) — প্রথম তন্ত্রপ্রণেতা অগ্নিবেশ (৮) — ভেড় প্রভৃতি অন্যান্য তন্ত্রকার — আয়ুর্বেদের লক্ষণ — আয়ুর লক্ষণ (৯) — আয়ুর সমার্থক শব্দ — সাধারণ ও বিশেষ (১১) — আয়ুর্বেদ প্রকাশের প্রয়োজন (১১) — দ্রব্য (১২) — গুণ (১৩) — ইন্দ্রিয়ের অর্থ (১৩) — কর্ম (১৪) — সমবায় — দ্রব্যের লক্ষণ (১৪) — গুণের লক্ষণ — কর্মের লক্ষণ (১৫) — সাধারণ প্রভৃতি ছয় কারণ — তাদের কার্য — ধাতুগুলির বৈষম্যের কারণ — সুখ-দুঃখের আশ্রয় — আত্মার স্বরূপ (১৬) — রোগপ্রকৃতি — রোগের প্রতিকার ও তাদের ভেদ (১৭) — বায়ুর লক্ষণ — পিত্তের লক্ষণ — কফের লক্ষণ (১৮) — সাধ্য রোগের প্রশমন — রসের উৎপত্তি (১৯) — রস দ্বারা দোষসমূহের প্রশমন — দ্রব্যের ভেদ (২০) — জঙ্গম দ্রব্য — ভৌম দ্রব্য (২১) — ঔদ্ভিদ দ্রব্যের চার ভেদ — তাদের অঙ্গ (২২) — মূলিনী বনস্পতি — তাদের গণনা — এদের কর্ম (২৩) — ফলিনী বনস্পতি — এদের কর্ম (২৪) — চার প্রকার স্নেহ — এদের কর্ম — লক্ষণ (২৫) — এদের কর্ম — আট প্রকার মূত্র (২৬) — সূত্রসমূহের সাধারণ গুণ (২৭) — আট প্রকার দুধ — তাদের সাধারণ গুণ (২৯) — দুধের কর্ম (৩০) — দুধযুক্ত বৃক্ষ — তাদের গুণ (৩১) — উপসংহার (৩২) — ঔষধিজ্ঞান-এর প্রয়োজন — অজানা ঔষধির দ্বারা ক্ষতি (৩৩) — বৈদ্যের কর্তব্য (৩৪) — অধ্যায়-সংগ্রহ (৩৫)।
দ্বিতীয়োऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৩৬–৪৭)
অপামার্গতণ্ডুলীয়ঃ — শিরোভিরেচনোপযোগী দ্রব্য (৩৭) — বমনকারক দ্রব্য — বিরেচন দ্রব্য (৩৮) — আস্থাপন ও অনুবাসনের দ্রব্য (৩৯) — মাত্রা ও কালের বিবেচনার প্রয়োজন (৪০) — রোগীদের জন্য বিশেষ আহারদ্রব্য, যবাগূ ও বিলেপীপাক (৪১) — উপসংহার (৪৬)।
তৃতীয়োऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৪৭–৫৬)
আরগ্বধীয়ঃ — বক্ষ-রোগের উপর ৩২টি যোগের বর্ণনা (পৃ. ৪৭–৫৬)।
চতুর্থোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৫৭–৮০)
পঞ্চবিরেচনশতাশ্রিতীয়ঃ — বিরেচনের শব্দার্থ — শমন চিকিৎসা (৫৭) — বিরেচনের ছয়শত যোগ (৫৮) — বিরেচন ঔষধির ৬ আশ্রয় — কষায়ের পাঁচ যোনি (৫৮) — কষায়-কল্পনার ৫ বিধি (৫৯) — কষায়ের লক্ষণ (৫৯) — ৫০ মহাকষায় (৬০) — ৫০০ কষায়ের কল্পনা (৬০–৮০) — উত্তম বৈদ্য (৮০)।
পঞ্চমোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৮০–১০৯)
মাত্রাশিতীয়ঃ — আহারের মাত্রা — আহারের চার প্রকার (৮১) — পরিমিত আহারের ফল (৮৪) — স্বাস্থ্যবৃত্ত (৮৬) — ধূমপ্রয়োগের বিধি (৮৮) — স্নৈহিক ধূম — বৈরেচনিক ধূম (৮৯) — ধূমপানের গুণ (৮৯) — ধূমপানের আট কাল (৯১) — যথাযথভাবে সেবিত ধূমপানের লক্ষণ (৯২) — অধিক ধূমপান থেকে উৎপন্ন উপদ্রব এবং তাদের চিকিৎসা (৯৩) — ধূমপানের অযোগ্য ব্যক্তি (৯৩) — ধূমপানের পদ্ধতি (৯৪) — ধূমপানের আসন (৯৫) — নলিকার নির্মাণ (৯৬) — অযথাযথভাবে সেবিত ধূমের লক্ষণ (৯৬) — অতিযোগরূপে ধূমপানের লক্ষণ (৯৬) — নস্য-প্রয়োগ (৯৭) — অণু তেলের প্রস্তুতিবিধি (৯৮) — দন্তধাবনের বিধি (১০০) — দাতন করার উপকারিতা (১০০) — জিহ্বা পরিষ্কার করার পদ্ধতি (১০০) — দাতনের জন্য উৎকৃষ্ট বৃক্ষ (১০১) — স্নেহগণ্ডূষের গুণ (১০১) — মস্তকে তেল প্রয়োগের উপকারিতা (১০২) — কানে তেল দেওয়ার উপকারিতা (১০৩) — শরীরে তেল মাখার পদ্ধতি (১০৪) — পায়ে তেলমর্দনের গুণ (১০৪) — উবটন প্রয়োগ (১০৫) — স্নানের ফল (১০৫) — পরিষ্কার বস্ত্র পরিধানের গুণ (১০৫) — গন্ধ, মালা প্রভৃতি ধারণের গুণ (১০৬) — রত্ন, অলঙ্কার প্রভৃতি ধারণের উপকারিতা (১০৬) — দীর্ঘায়ুর জন্য প্রয়োজনীয় শুচিকর্ম (১০৬) — জুতা পরিধানের গুণ (১০৭) — দণ্ড ধারণের গুণ (১০৭) — সংক্ষেপে স্বাস্থ্যবৃত্ত (১০৮) — উপসংহার (১০৮–১০৯)।
ষষ্ঠোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ১০৯–১২০)
তস্যাশিতীয়ঃ — ভোজনের উপর নির্ভরশীল আদান ও বিসর্গ কালের বর্ণনা (১১০) — দুই অয়ন (১১১) — হেমন্তকালের পরিচর্যা (১১২) — হেমন্ত ঋতুতে বর্জনীয় বিষয় (১১৩) — বসন্ত ঋতুচর্যা (১১৪) — গ্রীষ্মচর্যা — বর্ষাকালের ঋতুচর্যা (১১৬) — শরৎঋতুর পরিচর্যা (১১৭) — হংসোদকের লক্ষণ (১১৮) — ওকঃ সাত্ম্য (১১৯) — উপসংহার (১১৯–১২০)।
সপ্তমোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ১২০–১৩৫)
ন বেগান্ধারণীয়ঃ — মল, মূত্র প্রভৃতি বেগ ধারণ না করার উপদেশ (১২০) — বেগ ধারণ করলে তার অপকারিতা ও চিকিৎসা (১২০) — মনের নিন্দিত কার্য (১২৫) — বাক্যের নিন্দিত কর্ম — শরীরের নিন্দিত কর্ম (১২৬) — উপসংহার (১৩৫)।
ত্রয়োদশোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ১৯৭–২১৭)
স্নেহাধ্যায়ঃ — অগ্নিবেশের প্রশ্ন (১৯৭) — পুনর্বসুর উত্তর (১৯৮) — স্নেহের দুই প্রকার উৎপত্তিস্থান — স্থাবর ও জঙ্গম (১৯৯) — সকল তেলের মধ্যে তিলতেল এবং সকল স্নেহের মধ্যে ঘৃত সর্বশ্রেষ্ঠ (১৯৯) — স্নেহের গুণ (২০০) — স্নেহপানের গুণ — তার অপকারিতা (২০১) — স্নেহের ২৪ প্রকার প্রবিচারণা (২০২) — স্নেহের তিন মাত্রা — প্রধান, মধ্যম, হ্রস্ব (২০৩–২০৪) — কোন স্নেহ কার জন্য হিতকর (২০৫) — স্নেহের অযোগ্য ব্যক্তি (২০৭) — স্নিগ্ধ, অস্নিগ্ধ ও অতিস্নিগ্ধের লক্ষণ (২০৮) — স্নেহনকালে হিতাহিত (২০৯) — উপসংহার (২১৭)।
চতুর্দশোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ২১৭–২৩৪)
স্বেদাধ্যায়ঃ — স্বেদবিধি (২১৭) — স্নেহন ও স্বেদের গুণ, উপযোগিতা এবং ফল (২১৯) — স্বেদনের সময়সীমা — অতিস্বেদের লক্ষণ ও চিকিৎসা (২২০) — যাঁদের স্বেদ দেওয়া উচিত নয় (২২০) — স্বেদযোগ্য ব্যক্তি (২২১) — স্বেদনদ্রব্য (২২২) — নাড়ীস্বেদ (২২৩) — উপনাহবিধি (২২৪) — সংকরস্বেদ (২২৫) — প্রস্তরস্বেদ (২২৫) — নাড়ীস্বেদ (২২৬) — পরিষেকস্বেদ (২২৬) — অবগাহস্বেদ (২২৭) — জেন্তাকস্বেদ (২২৭–২২৮) — উষ্মস্বেদবিধি (২২৯–২৩০) — কূপস্বেদ (২৩0) — কুটীস্বেদবিধি (২৩০) — ভূস্বেদবিধি (২৩১) — কুম্ভীস্বেদবিধি (২৩১) — কূপস্বেদ (২৩২) — হোলাকস্বেদ (২৩২) — অগ্নিরহিত স্বেদ (২৩৩) — স্বেদের দুই প্রকার — অগ্নিস্বেদ ও নিরগ্নিস্বেদ — এদের ভেদ (২৩৩) — উপসংহার (২৩৪)।
পঞ্চদশোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ২৩৪–২৪৭)
উপকল্পনীয়ঃ — চিকিৎসার পূর্বে প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহের উদ্দেশ্য (২৩৪–২৩৫) — আয়ুর্বেদের জ্ঞান ও অজ্ঞানের তুলনা — অগ্নিবেশ–আত্রেয় সংলাপ (২৩৫) — সংশোধনের উপযোগী নানাপ্রকার উপকরণের সংগ্রহ (২৩৭) — স্নেহন ও স্বেদনের বিধি (২৩৮–২৩৯) — বমনের অযোগ, সম্যকযোগ এবং অতিযোগের বিশেষ লক্ষণ (২৪২) — উত্তর চিকিৎসা (২৪৩–২৪৭) — উপসংহার।
ষোড়শোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ২৪৭–২৫৫)
চিকিৎসাপ্রাভৃতীয়ঃ — সদ্বৈদ্য ও অসদ্বৈদ্যের প্রয়োগের মধ্যে পার্থক্য (২৪৮) — সম্যক্ বিরেচনের লক্ষণ (২৪৯) — বিরেচনের অতিযোগের লক্ষণ (২৪৯) — সংশোধনযোগ্য ব্যক্তি (২৫০) — সংশোধনের ফল (২৫১) — অতিযোগ হলে কী করা উচিত (২৫১) — ধাতুগুলির সমতা ও বৈষম্য সম্পর্কে আলোচনা (২৫২–২৫৩) — উপসংহার (২৫৪–২৫৫)।
সপ্তদশোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ২৫৫–২৭৮)
কিয়ন্তঃ শিরসীয়ঃ — শিরোরোগ, হৃদরোগ, বাত প্রভৃতি দোষের সংসর্গে উৎপন্ন রোগ, ক্ষয়, পিডকা এবং দোষসমূহের গতির সম্বন্ধে অগ্নিবেশের প্রশ্ন (২৫৫) — গুরু আত্রেয় পুনর্বসুর উত্তর (২৫৬) — শিরে উৎপন্ন পাঁচ প্রকার শিরোরোগ (২৫৭) — বাতজনিত শিরোরোগের লক্ষণ (২৫৮) — পিত্তজনিত, কফজনিত এবং ত্রিদোষজনিত শিরোরোগের লক্ষণ (২৫৯) — পাঁচ প্রকার হৃদরোগ (২৬০) — বাতজনিত, পিত্তজনিত, কফজনিত এবং ত্রিদোষজনিত হৃদয়শূলের লক্ষণ (২৬১) — কৃমিজনিত হৃদরোগের লক্ষণ (২৬২) — বাত প্রভৃতি দোষের সংসর্গে উৎপন্ন বিকারের ৬২ প্রকার ভেদ (২৬২–২৬৩) — দোষসমূহের উপদ্রব (২৬৫–২৬৬) — আঠারো প্রকার ক্ষয় (২৬৯) — ওজের স্বরূপ (২৬৯) — ক্ষয়ের কারণ (২৬৯) — মধুমেহের কারণ (২৭০) — সাত প্রকার পিডকা (২৭১) — বিদ্রধি, পিডকা (২৭২) — বিদ্রধির নিদান (২৭৩) — স্রাবের লক্ষণ (২৭৩) — সাধ্য ও অসাধ্য বিদ্রধির লক্ষণ (২৭৪) — দোষভেদে উৎপন্ন পিডকা — শরাবিকা, কচ্ছপিকা, জালিনী, সর্পপী, অলজি, বিনতা প্রভৃতি — এদের উপদ্রব (২৭৬) — দোষসমূহের তিন প্রকার গতি (২৭৭) — আরও তিন প্রকার গতি — সঞ্চয়, প্রকোপ ও শমন — সঞ্চয়ের দুই ভেদ — প্রাকৃত ও বৈকৃত (২৭৮) — উপসংহার (২৭৮)।
অষ্টাদশোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ২৭৮–২৯০)
ত্রিশোথীয়ঃ — তিন প্রকার শোথ (ফোলা) — পুনরায় তার দুই প্রকার — নিজ ও আগন্তুক — আগন্তুক শোথের নিদান ও চিকিৎসা (২৭৯) — নিজ শোথের কারণ ও সাধারণ লক্ষণ (২৮০) — বাতজনিত শোথের লক্ষণ (২৮২) — শোথের দুই, তিন, চার ও সাত প্রকার (২৮২) — বাত, পিত্ত, কফ এবং সন্নিপাত প্রভৃতি থেকে উৎপন্ন শোথসমূহের লক্ষণ (২৮৩) — কষ্টসাধ্য শোথ (২৮৪) — শোথের উপদ্রব (২৮৫) — উপজিহ্বিকা, গলশুণ্ডিকা, গলগণ্ড, গলগ্রহ, বিসর্প, পিডকা এবং শঙ্খকের লক্ষণ (২৮৫–২৮৬) — গুল্ম, ব্রধ্ন, সদর, আনাহ-এর লক্ষণ (২৮৭) — রোহিণী রোগ (২৮৭) — মৃদু ও দারুণ ভেদে সাধ্য-অসাধ্য রোগের লক্ষণ (২৮৮) — পীড়া, বর্ণ, সমুত্থান, কারণ, স্থান, সংস্থান, নামভেদ প্রভৃতির কারণে রোগের অসংখ্য ভেদ (২৮৮) — দোষসমূহের প্রাকৃত ও বিকৃত লক্ষণ (২৮৯–২৯০) — উপসংহার (২৯০)।
ঊনবিংশোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ২৯১–২৯৯)
অষ্টোদরীয়ঃ — উদররোগ প্রভৃতি ৪৮ প্রকার রোগের গণনা এবং তাদের ভেদের নামনির্দেশ (২৯২) — আট প্রকার উদররোগ (২৯২) — সাত প্রকার কুষ্ঠ (২৯৩) — ছয় প্রকার অতিসার (২৯৩) — পাঁচ প্রকার গুল্ম (২৯৪) — চার প্রকার অপস্মার (২৯৪) — তিন প্রকার শোথ (২৯৫) — দুই প্রকার জ্বর (২৯৫) — দুই প্রকার ব্রণ — দুই প্রকার আয়াম — দুই প্রকার গৃধ্রসী — দুই প্রকার কামলা — দুই প্রকার আম — দুই প্রকার বাতরক্ত — এক প্রকার উরুস্তম্ভ — এক প্রকার সন্ন্যাস — এক প্রকার মহাগদ (২৯৫–২৯৬) — বিশ প্রকার কৃমিজাতি — বিশ প্রকার প্রমেহ — বিশ প্রকার যোনিরোগ (২৯৭) — উপসংহার (২৯৮)।
বিংশোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ২৯৯–৩১০)
মহারোগাঃ — চার প্রকার রোগ (২৯৯) — এদের সমতা, লিঙ্গ এবং আয়তনভেদের দ্বারা অসংখ্য রোগ — তাদের ভেদকারী কারণ (৩০০) — দুই প্রকার বিকার — সাধারণ ও নানাত্মজ (৩০২) — আশি প্রকার বাতবিকার (৩০৩) — চল্লিশ প্রকার পিত্তবিকার (৩০৬) — তাদের লক্ষণ (৩০৭) — বিশ প্রকার কফজনিত রোগ (৩০৮) — তাদের লক্ষণ (৩০৯) — উপসংহার (৩১০)।
একবিংশোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৩১১–৩২২)
অষ্টৌ নিন্দিতীয়ঃ — আট প্রকার নিন্দিত পুরুষ (৩১১) — বিশেষভাবে নিন্দিত দুই প্রকার — অতিস্থূল ও অতিকৃশ (৩১২) — স্থূল পুরুষের দোষ, কারণ ও লক্ষণ (৩১৩) — অতিকৃশ ব্যক্তির দোষ, কারণ ও লক্ষণ (৩১৪) — আদর্শ পুরুষ (৩১৫) — স্থূলকে কৃশ করার উপায় (৩১৬) — কৃশ রোগের চিকিৎসা (৩১৭) — যথাযথ নিদ্রাসেবনের উপকারিতা (৩১৮) — দিনে নিদ্রার উপযুক্ত ব্যক্তি এবং তাঁদের দিনের বেলায় নিদ্রার উপকারিতা (৩১৮–৩১৯) — দিনের বেলায় নিদ্রার উপযুক্ত সময় — গ্রীষ্মঋতু; অন্যান্য ঋতুতে দিনে নিদ্রার অপকারিতা (৩২০) — রাত্রিজাগরণের দোষ (৩২০) — নিদ্রা উৎপাদনের উপায় (৩২১) — অনুচিত নিদ্রা প্রতিরোধের উপায় (৩২২) — উপসংহার (৩২২)।
দ্বাবিংশতিতমোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৩২২–৩৩০)
লঙ্ঘনবৃংহণীয়ঃ — বৈদ্যের লক্ষণ (৩২২) — লঙ্ঘন, বৃংহণ, স্নেহন, স্তম্ভনের সম্বন্ধে অগ্নিবেশের প্রশ্ন (৩২৩) — আত্রেয় পুনর্বসুর প্রতিউত্তর (৩২৪) — লঙ্ঘন, বৃংহণ, স্বেদন, স্তম্ভনের লক্ষণ (৩২৪) — লঙ্ঘন, বৃংহণ প্রভৃতি কার্যকারী দ্রব্যের লক্ষণ (৩২৫) — লঙ্ঘনের যোগ্য ব্যক্তি (৩২৬) — বৃংহণের যোগ্য দ্রব্য ও ব্যক্তি (৩২৭) — রূক্ষণ করার যোগ্য ব্যক্তি ও দ্রব্য (৩২৭) — স্তম্ভনদ্রব্য এবং স্তম্ভনের যোগ্য ব্যক্তি (৩২৮) — সম্যক্ লঙ্ঘন এবং লঙ্ঘনের অতিযোগের লক্ষণ (৩২৮) — সম্যক্ বৃংহণ এবং বৃংহণের অতিযোগের লক্ষণ (৩২৯) — রূক্ষণের সম্যক্যোগ ও অতিযোগ (৩২৯) — স্তম্ভনের সম্যক্যোগ ও অতিযোগের লক্ষণ (৩২৯) — লঙ্ঘন প্রভৃতি ছয় ক্রিয়ার অযোগ ও হীনযোগের দুষ্পরিণাম (৩২৯)।
ত্রয়োবিংশতিতমোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৩৩০–৩৩৬)
সন্তর্পণীয়ঃ — সন্তর্পণজনিত রোগের কারণ (৩৩০) — রোগসমূহের লক্ষণ — তাদের চিকিৎসা (৩৩১) — অপতর্পণ এবং তজ্জনিত রোগ — তাদের উপশমন (৩৩৫)।
চতুর্বিংশতিতমোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৩৩৬–৩৪৬)
বিধিশোণিতীয়ঃ — বিশুদ্ধ রক্তের উপকারিতা (৩৩৬) — রক্ত দূষিত হওয়ার কারণ ও লক্ষণ (৩৩৭–৩৩৮) — চিকিৎসা (৩৩৯) — বিশুদ্ধ রক্তের লক্ষণ (৩৪০) — বিশুদ্ধ রক্তবিশিষ্ট ব্যক্তির লক্ষণ (৩৪০) — মদের লক্ষণ (৩৪১) — মূর্ছার লক্ষণ (৩৪২) — অপস্মার ও সন্ন্যাসের লক্ষণ (৩৪৩–৩৪৪) — এদের প্রতিকার (৩৪৫) — উপসংহার (৩৪৬)।
পঞ্চবিংশতিতমোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৩৪৬–৩৬৭)
যজ্ঞঃপুরুষীয়ঃ — পুরুষ ও রোগের উৎপত্তি বিষয়ে ঋষিদের সংলাপ (৩৪৭) — পারীক্ষি মৌদ্গল্যের মত — পুরুষ ও রোগের উপাদান কারণ ‘আত্মা’ (৩৪৭) — শরলোমার মত — পুরুষ ও রোগের উৎপাদক ‘সত্ত্ব’ (৩৪৭–৩৪৮) — ভার্যোভিদের মত — প্রাণী ও রোগের উৎপত্তির মূল ‘রস’ (৩৪৮) — কুশিক হিরণ্যাক্ষের মত — পুরুষ ও রোগ ছয় ধাতু থেকে উৎপন্ন হয় (৩৪৮) — শৌনকের মত — রোগ ও পুরুষের উৎপত্তি মাতা-পিতা থেকে (৩৪৯) — ভদ্রকাপ্যের মত — কর্ম থেকে পুরুষ ও রোগ উৎপন্ন হয় (৩৪৯) — ভরদ্বাজের মত — কর্তা থেকে স্বভাবতই পুরুষ ও রোগ উৎপন্ন হয় (৩৪৯) — কাংকায়নের মত — সুখ-দুঃখ, চেতন-অচেতনের কর্তা ‘প্রজাপতি’ (৩৫০) — আত্রেয় ভিক্ষুর মত — পুরুষ ও রোগাদি কাল থেকে উৎপন্ন হয় — পুনর্বসু আত্রেয়ের সিদ্ধান্ত — পঞ্চমহাভূত থেকে পুরুষ এবং তাদের থেকেই রোগ উৎপন্ন হয়েছে (৩৫১) — এ বিষয়ে পুরুষ ও রোগের বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে কাশিপতি বামকের প্রশ্ন (৩৫১) — ভগবান আত্রেয়ের প্রতিউত্তর — হিত-অহিত সেবন (৩৫১) — অগ্নিবেশ–আত্রেয় সংলাপ — হিত ও অহিতের লক্ষণ (৩৫২) — আহারদ্রব্য সম্পর্কে আলোচনা (৩৫৩) — হিত আহার (৩৫৪) — অহিত আহার (৩৫৫) — হিত ও অহিত উপযোগী দ্রব্য — ১৪২টি শ্রেষ্ঠ দ্রব্য (৩৫৮) — শ্রেষ্ঠের লক্ষণ (৩৬৩) — দ্রব্যের নয়টি উৎপত্তিস্থান (৩৬৫) — উপসংহার (৩৬৭)।
ষড়্বিংশোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৩৬৭–৪০৫)
আত্রেয়ভদ্রকাপ্যীয়ঃ — ঋষি-সংলাপ (৩৬৭) — রস সম্পর্কে ভদ্রকাপ্যের মত — রস এক — ব্রাহ্মণ শাকুন্তেয়ের মত — রস দুই — পূর্ণাক্ষ মৌদ্গল্যের মত — রস তিন — হিরণ্যাক্ষ কৌশিকের মত — রস চার — কুমারশিরা ভরদ্বাজের মত — রস পাঁচ (৩৬৮) — ভার্যোভিদের মত — রস ছয় — বৈদেহ নিমির মত — রস সাত — ধামার্গব বড়িশের মত — রস আট — বাল্হীক ভিষক্ কাংকায়নের মত — রস অগণিত (৩৬৯) — পুনর্বসু আত্রেয়ের মত — রস ছয় — রসসমূহের উৎপত্তি, কর্ম, রুচি ও প্রভাব (৩৬৯) — রস-বিবেচনা (৩৭০) — দ্রব্যের ভেদ ও তাদের কর্ম (৩৭০) — কর্ম, বীর্য, কাল, অধিকরণ, উপায় এবং ফলের লক্ষণ (৩৭২) — দ্রব্য, দেশ, কাল ও প্রভাব অনুসারে দ্রব্যের ৬৩ ভেদ (৩৭৩) — রসের ভেদ — দুই-দুই রসের ১৫ ভেদ (৩৭৩) — তিন-তিন রসের ২০ ভেদ (৩৭৪) — চার-চার রসের ১৫ ভেদ (৩৭৫) — পাঁচ-পাঁচ রসের ছয় ভেদ (৩৭৬) — এক-এক রসের ছয় ভেদ; সর্বমোট ৬৩ রস (৩৭৬) — বৈদ্যের প্রশংসা (৩৭৭) — অনুরস (৩৭৭) — অতিরিক্ত দশ গুণ — এদের লক্ষণ (৩৭৮–৩৭৯) — রসের উৎপত্তি (৩৮০) — রসানুসারে দ্রব্যের গুণ ও কর্ম (৩৮২) — মধুর রস (৩৮২) — অম্ল রস (৩৮৩) — লবণ রস (৩৮৪–৩৮৫) — অতিরিক্ত ব্যবহারে অপকারিতা (৩৮৫) — কটু রসের গুণ — অতিসেবনে অপকারিতা (৩৮৬) — তিক্ত রসের গুণ — অতিসেবনে অপকারিতা (৩৮৭) — কষায় রসের গুণ এবং অতিসেবনে অপকারিতা (৩৮৭) — রসানুসারী দ্রব্যের বীর্য (৩৮৮) — রসসমূহে তারতম্যযোগ (৩৯০) — বিপাক (৩৯১) — পদার্থের বীর্য আট প্রকার (৩৯২) — বিপাকের লক্ষণ (৩৯৩) — প্রভাব (৩৯৪) — ছয় রসের লক্ষণ (৩৯৫) — বিরুদ্ধ আহারের লক্ষণ — তাদের গুণ ও দোষ (৩৯৬–৪০০) — হিতকারী অন্ন (৪০২) — কালবিরুদ্ধ, দেশবিরুদ্ধ, অগ্নিবিরোধী, পরস্পরবিরোধী, সাত্ম্যবিরোধী, দোষবিরোধী, সংস্কারবিরুদ্ধ, বীর্যবিরোধী, কোষ্ঠবিরোধী, অবস্থাবিরুদ্ধ, ক্রমবিরুদ্ধ, পরিহারবিরোধী, পাকবিরোধী, সংযোগবিরোধী, সম্পদবিরুদ্ধ এবং শাস্ত্রবিরুদ্ধ আহারের বর্ণনা (৪০২–৪০৩) — বিরুদ্ধ অন্ন সেবনে রোগের উৎপত্তি (৪০৩–৪০৪) — বিরুদ্ধ অন্ন সেবনে উৎপন্ন রোগের প্রতিকার (৪০৪) — উপসংহার (৪০৫)।
সপ্তবিংশোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৪০৫–৪৬৮)
অন্নপানবিধিঃ — প্রাণরূপ অন্নের স্বরূপ (৪০৬) — প্রাণসমূহের মূল জঠরাগ্নি — অন্নই ইন্ধন — অন্নপানবিধির বিস্তৃত বর্ণনা (৪০৬) — জল, ক্ষার, ঘৃত, দুধ, মদ্য, সিরকা, ফাণিত, পিণ্যাক, ডাল, মধু প্রভৃতির সাধারণ গুণ ও দোষ (৪০৬–৪০৭) — আহার-পদার্থের ১২টি বিভাগ — শূকধান্যবর্গ (৪০৭–৪১০) — শমীধান্যবর্গ (৪১০–৪১২) — মাংসবর্গ (৪১২–৪২১) — বিলেশয়, বারিশয়, জলচর, জঙ্গলি মৃগ, বিকির, প্রতুদ, প্রসহ এবং আনূপ — মাংসের এই আটটি উৎপত্তিস্থান (৪১৫–৪১৬) — এই মাংসসমূহের গুণ (৪১৮–৪২১) — শাকবর্গ (৪২১–৪২৭) — ফলবর্গ (৪২৭–৪৩৩) — হরিতবর্গ (৪৩৪–৪৩৬) — মদ্যবর্গ (৪৩৬–৪৩৯) — জলবর্গ (৪৩৯–৪৪৩) — দুগ্ধবর্গ (৪৪৩–৪৪৬) — ইক্ষুবর্গ (৪৪৬–৪৪৯) — কৃতান্নবর্গ (৪৪৯–৪৫৬) — আহারযোগিবর্গ (৪৫৬–৪৬০) — প্রশস্ত ধান্য (৪৬০–৪৬১) — বর্জনীয় মাংস (৪৬১) — বর্জনীয় শাক (৪৬২) — অনুপান (৪৬৩) — তাদের গুণ (৪৬৩) — জলকে অনুপান হিসেবে গ্রহণে অযোগ্য ব্যক্তি (৪৬৪) — খাদ্যপদার্থে গুরু-লঘু বিচার (৪৬৫) — উপসংহার (৪৬৮)।
অষ্টাবিংশোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৪৬৯–৪৮১)
বিবিধাশিতপীতীয়ঃ — শরীরের সকল ধাতুর সঙ্গে অন্নের সম্পর্ক (৪৬৯) — আহার থেকে উৎপন্ন তিন পদার্থ — রস, কিট্ট ও মল — হিত ও অহিত আহার, রোগ ও আরোগ্য সম্বন্ধে অগ্নিবেশের প্রশ্ন — আত্রেয় পুনর্বসুর সমাধান (৪৭৩) — ধাতুগত রোগ — রসজনিত রোগ (৪৭৫) — রক্তজনিত, মাংসজনিত, মেদজনিত, মজ্জাজনিত এবং শুক্রজনিত রোগ (৪৭৬) — অপথ্য আহারে মলসমূহের প্রকোপ (৪৭৭) — ধাতুজনিত বিকারের চিকিৎসার নির্দেশ (৪৭৮) — উপসংহার (৪৮১)।
ইতি অন্নপানচতুষ্কম্।
ঊনত্রিংশোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৪৮২–৪৮৯)
দশ প্রাণায়তনীয়ঃ — প্রাণের দশটি স্থান (৪৮২) — প্রাণাভিসর বৈদ্যের লক্ষণ (৪৮৪–৪৮৬) — রোগাভিসর বৈদ্যের লক্ষণ (৪৮৭) — ছদ্মবেশী বৈদ্যদের বর্ণনা (৪৮৮) — উপসংহার (৪৮৮)।
ত্রিংশত্তমোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৪৮৯–৫০৯)
অর্থ দশমহামূলীয়ঃ — হৃদয়ে অবস্থিত দশটি ধমনী (৪৮৯) — হৃদয়ের সমার্থক নাম (৪৮৯) — হৃদয়ের গুরুত্ব (৪৯০) — দশ মহামূল ধমনীর বিস্তার (৪৯১) — ধমনীর সমার্থক নাম (৪৯১) — সেবনযোগ্য পদার্থ (৪৯২) — আয়ুর্বেদের জ্ঞানীর লক্ষণ (৪৯৩) — বাক্যার্থ — ‘অর্থবয়বশ নিরূপণ’ (৪৯৩) — আয়ুর্বেদের মূলবেদ অথর্ববেদ (৪৯৪) — আয়ুর সমার্থক নাম (৪৯৪) — আয়ুর্বেদের লক্ষণ (৪৯৪) — আয়ুর লক্ষণ (৪৯৫) — আয়ুর্বেদের নিত্যত্ব — আয়ুর্বেদের আটটি অঙ্গ (৪৯৮) — আয়ুর্বেদের অধিকারী (৪৯৯) — বৈদ্যের পরীক্ষা (৪৯৯) — চরকতন্ত্রের আটটি স্থান — তাদের অধ্যায়সমূহের পৃথক পৃথক গণনা ও নামনির্দেশ (৫০১–৫০৫) — তন্ত্রযুক্তি (৫০৫) — গ্রন্থ-সংক্ষেপ (৫০৬) — প্রতিদ্বন্দ্বী, উৎপাতকারী বৈদ্যাভাসকে পরাজিত করার পদ্ধতি (৫০৭) — তন্ত্রজ্ঞ এবং গর্বিত বৈদ্যদের স্বরূপ (৫০৮) — উপসংহার (৫০৯)।
ইতি সূত্রস্থানম্।
নিদানস্থানম্
প্রথমোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৫১০–৫২৬)
জ্বরনিদানম্ — নিদানের সমার্থক শব্দ (৫১০) — রোগের তিন প্রকার (৫১১–৫১৪) — আগ্নেয়, সৌম্য ও বায়ব্য (৫১১) — নিদানপঞ্চক অর্থাৎ রোগনির্ণয়ের পাঁচ উপাদান (৫১১) — পূর্বরূপ, লিঙ্গ, উপশয়, সম্প্রাপ্তির লক্ষণ (৫১১–৫১৪) — সম্প্রাপ্তির ভেদ (৫১৩–৫১৪) — জ্বরের নিদান (৫১৫) — বাতজ্বরের লক্ষণ (৫১৬) — পিত্তজ্বরের সম্প্রাপ্তি ও লক্ষণ (৫১৭) — কফজ্বরের সম্প্রাপ্তি ও লক্ষণ (৫১৯) — সংসর্গজ ও সান্নিপাতিক জ্বর (৫২০) — আগন্তুক জ্বরের সম্প্রাপ্তি ও লক্ষণ (৫২১–৫২২) — জ্বর, জ্বরের ভেদ, জ্বরের পূর্বরূপ, জ্বরের উৎপত্তি, জ্বরের পরিণাম (৫২৩) — জ্বরের চিকিৎসাসূত্র (৫২৪) — জীর্ণজ্বরে ঘৃতপান (৫২৫) — সংস্কারসিদ্ধ ঘৃত — ঘৃতের শ্রেষ্ঠত্ব (৫২৫) — উপসংহার (৫২৬)।
দ্বিতীয়োऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৫২৬–৫৩৪)
রক্তপিত্তনিদানম্ — রক্তপিত্তের লক্ষণ (৫২৭) — পিত্তপ্রকোপে রক্তের দূষণ (৫২৮) — ‘লোহিতপিত্ত’ বা ‘রক্তপিত্ত’ নাম হওয়ার কারণ (৫২৮) — রক্তপিত্তের পূর্বরূপ (৫২৯) — রক্তপিত্তের উপদ্রব (৫২৯) — রক্তপিত্তের দুই মার্গ — সাধ্য ও অসাধ্য বিচার (৫৩০) — রক্তপিত্তের ইতিহাস (৫৩১) — ঊর্ধ্বগামী রক্তপিত্ত সাধ্য (৫৩১) — অধোগামী রক্তপিত্ত যাপ্য (৫৩২) — উভয়মার্গগামী রক্তপিত্ত অসাধ্য (৫৩২) — দ্বিদোষজ ও ত্রিদোষজ রক্তপিত্তের চিকিৎসা (৫৩৩) — সাধ্য রোগ অসাধ্য হয়ে যাওয়ার কারণ (৫৩৩) — অসাধ্য রক্তপিত্তের লক্ষণ (৫৩৪) — উপসংহার (৫৩৪)।
তৃতীয়োऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৫৩৫–৫৪৫)
গুল্মনিদানম্ — গুল্মের পাঁচ ভেদ — বাতগুল্ম, পিত্তগুল্ম, কফগুল্ম, নিচয়গুল্ম এবং রক্তগুল্ম (৫৩৫) — এদের সম্বন্ধে অগ্নিবেশের প্রশ্ন (৫৩৬) — বাতগুল্ম (৫৩৬) — সম্প্রাপ্তি ও লক্ষণ (৫৩৭) — বাতের সঙ্গে পিত্তপ্রকোপের কারণ (৫৩৮) — পিত্তগুল্মের সম্প্রাপ্তি (৫৩৯) — বাতের সঙ্গে কফপ্রকোপের কারণ (৫৪০) — কফগুল্মের সম্প্রাপ্তি (৫৪০) — সান্নিপাতিক গুল্ম (৫৪১) — রক্তগুল্ম (৫৪১) — রক্তগুল্মের সম্প্রাপ্তি (৫৪২) — গুল্মের পূর্বরূপ (৫৪৩) — উপসংহার (৫৪৫)।
চতুর্থোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৫৪৫–৫৫৮)
প্রমেহনিদানম্ — প্রমেহের সংখ্যা (৫৪৫) — রোগের বিধাত ভাব ও অভাব (৫৪৬) — কফপ্রমেহের কারণ (৫৪৬) — কফপ্রমেহের দূষ্য (৫৪৭) — কফপ্রমেহের সম্প্রাপ্তি (৫৪৮) — বিকৃত কফের দশ গুণ (৫৪৯) — কফজন্য দশ প্রমেহ (৫৪৯) — যথা— উদকমেহ, ইক্ষুবালিকামেহ, সান্দ্রমেহ, সান্দ্রপ্রসাদমেহ, শুক্লমেহ, শুক্রমেহ, শীতমেহ, সিকতামেহ, শনৈর্মেহ, আলালমেহ (৫৫০–৫৫১) — পিত্তপ্রমেহের কারণ ও সম্প্রাপ্তি (৫৫২) — পিত্তজন্য ছয় প্রমেহ (৫৫২) — ক্ষারমেহ, কালমেহ, নীলমেহ, লোহিতমেহ, মঞ্জিষ্ঠামেহ এবং হারিদ্রমেহ (৫৫২) — পিত্তপ্রমেহের বিশেষ বিজ্ঞান (৫৫৩) — বাতজমেহের কারণ (৫৫৪) — তাদের প্রকার — বসাপ্রমেহ, মজ্জামেহ, হস্তিমেহ, মধুমেহ (৫৫৫) — সমস্ত বাতজমেহ অসাধ্য (৫৫৫) — বাতপ্রমেহের বিশেষ বিজ্ঞান (৫৫৬) — প্রমেহের পূর্বরূপ (৫৫৭) — প্রমেহের উপদ্রব — চিকিৎসা (৫৫৭) — প্রমেহ কাদের হয় (৫৫৮) — উপসংহার (৫৫৮)।
পঞ্চমোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৫৫৯–৫৬৭)
কুষ্ঠনিদানম্ — কুষ্ঠরোগের উৎপত্তি (৫৫৯) — কুষ্ঠের সাত ভেদ (৫৬০) — তারতম্যভেদে কুষ্ঠের অসংখ্য ভেদ (৫৬১) — কুষ্ঠরোগের কারণ (৫৬১) — কুষ্ঠরোগের পূর্বরূপ (৫৬২) — কপাল কুষ্ঠ (৫৬৩) — উদুম্বর কুষ্ঠ (৫৬৩) — মণ্ডল কুষ্ঠ (৫৬৪) — ঋষ্যজিহ্ব কুষ্ঠ (৫৬৪) — পুণ্ডরীক কুষ্ঠ (৫৬৪) — সিদ্ধ্ম (৫৬৫) — কাকণক কুষ্ঠ (৫৬৫) — সাধ্য ও অসাধ্য ভেদ (৫৬৫) — উপদ্রব (৫৬৬) — উপসংহার (৫৬৭)।
ষষ্ঠোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৫৬৮–৫৭৮)
শোষনিদানম্ — শোষের চার কারণ (৫৬৮) — শোষের কারণ সাহস (৫৬৮) — শোষরোগের কারণ বেগ-সন্ধারণ (৫৭১) — ক্ষয়ের বিবরণ (৫৭২) — শুক্রক্ষয় (৫৭৩) — শোষের কারণ বিষমাশন (৫৭৪) — রাজযক্ষ্মা শব্দের নিরুক্তি (৫৭৫–৫৭৬) — শোষের পূর্বরূপ (৫৭৬) — রাজযক্ষ্মার ১১টি রূপ (৫৭৭) — রাজযক্ষ্মার সাধ্য ও অসাধ্য রূপ (৫৭৭) — উপসংহার (৫৭৮)।
সপ্তমোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৫৭৮–৫৮৯)
উন্মাদনিদানম্ — পাঁচ প্রকার উন্মাদ (৫৭৮) — উন্মাদের লক্ষণ (৫৭৯) — উন্মাদের পূর্বরূপ (৫৮০) — বাতোন্মাদের লক্ষণ (৫৮১) — পিত্তজন্য উন্মাদের লক্ষণ (৫৮২) — সান্নিপাতিক উন্মাদ (৫৮২) — উন্মাদের চিকিৎসা (৫৮৩) — আগন্তুজ উন্মাদ (৫৮৩) — উন্মাদের প্রারম্ভ (৫৮৪) — আগন্তুজ উন্মাদের লক্ষণ (৫৮৫) — আঘাতকাল (৫৮৫) — উন্মাদ উৎপন্ন করার প্রয়োজন (৫৮৬) — উন্মাদের ভেদ (৫৮৭) — উপসংহার (৫৮৯)।
অষ্টমোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৫৮৯–৫৯৯)
অপস্মারনিদানম্ — চার প্রকার অপস্মার (৫৮৯) — নিদান ও সম্প্রাপ্তি (৫৯০) — অপস্মারের লক্ষণ (৫৯০) — অপস্মারের পূর্বরূপ (৫৯১) — বাতজন্য অপস্মারের লক্ষণ (৫৯১) — পিত্তজন্য অপস্মার (৫৯২) — কফজন্য অপস্মার (৫৯২) — সান্নিপাতিক অপস্মার (৫৯২) — চিকিৎসাসূত্র (৫৯৩) — বিভিন্ন রোগের উৎপত্তি (৫৯৩) — সাধ্য ও অসাধ্য (৫৯৪) — রোগজ্ঞান-এর ফল (৫৯৪) — এক রোগের কারণে অন্য রোগ (৫৯৪) — শুদ্ধ প্রয়োগের লক্ষণ (৫৯৫) — কারণভেদ (৫৯৬) — লক্ষণভেদ (৫৯৬) — চিকিৎসাবিধান (৫৯৭) — সুখসাধ্য ও কৃচ্ছ্রসাধ্য (৫৯৭) — সাধ্য ও অসাধ্য (৫৯৮) — উপসংহার (৫৯৯)।
ইতি নিদানস্থানম্।
বিমানস্থানম্
প্রথমোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৬০০–৬১৬)
রসবিমানম্ — বিমানস্থানের প্রয়োজন (৬০০) — ছয় রস, তিন দোষ (৬০১) — রসসমূহের প্রভাব (৬০২) — দ্রব্যের প্রভাব (৬০৫) — সাত্ম্য (৬০৮) — সাত্ম্যের ভেদ (৬০৮) — প্রবর, মধ্যম ও অবর (৬০৯) — আহারবিধি — তার আটটি অঙ্গ (৬০৯) — করণ (৬১০) — সংযোগ (৬১০) — রাশি (৬১০) — দেশ (৬১১) — কাল (৬১১) — উপযোগ-সংস্থা (৬১১) — উপযোক্তা (৬১২) — আহারবিধি (৬১২) — আহারের সদ্গুণসমূহের উপদেশ (৬১৩–৬১৬) — উপসংহার (৬১৬)।
দ্বিতীয়োऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৬১৭–৬২৫)
ত্রিবিধকুক্ষীয়ং বিমানম্ — উদরের তিন ভাগ (৬১৭) — আহারের অমাত্রা, হীনমাত্রা ও অধিকমাত্রা (৬১৮) — তাদের দোষ — আহারের অতিমাত্রায় অপকারিতা (৬১৯–৬২০) — আমপ্রদোষের দুই প্রকার — বিষূচিকা ও অলসক (৬২১) — অলসকের স্বরূপ (৬২১) — অসাধ্য অলসক (৬২১) — সাধ্য অলসকের চিকিৎসা (৬২২) — বিষূচিকার প্রতিকার (৬২২) — আমপ্রদোষে ঔষধের প্রয়োগ (৬২২) — অপতর্পণের প্রয়োগ (৬২৩) — অন্নপাক সম্বন্ধে অগ্নিবেশের প্রশ্ন এবং আত্রেয় পুনর্বসুর উত্তর (৬২৪) — উপসংহার (৬২৫)।
তৃতীয়োऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৬২৫–৬৪৬)
জনপদোদ্ধ্বংসনীয় বিমানম্ — জনপদনাশক রোগসমূহের প্রতিকারের উপদেশ (৬২৬–৬২৭) — জনপদনাশক রোগ বিস্তারের কারণ — প্রশ্ন ও উত্তর (৬২৭–৬২৮) — আরোগ্যনাশক বায়ুর লক্ষণ (৬২৮) — রোগকারক জলের লক্ষণ (৬২৮) — নাশকারী রোগের পূর্বে দেশে প্রকাশিত লক্ষণ (৬২৯) — বিপরীত ঋতুচিহ্নযুক্ত কাল (৬২৯) — আয়ুরক্ষার উপায় (৬৩১) — বায়ু প্রভৃতিতে বিকৃতি উৎপন্ন হওয়ার কারণ — অধর্ম (৬৩২) — যুগভেদে অধর্মের উৎপত্তি এবং তার দুষ্পরিণাম (৬৩৬) — আয়ুর কাল ও পরিমাণ সম্বন্ধে অগ্নিবেশের প্রশ্ন এবং আত্রেয় ঋষির প্রতিউত্তর (৬৩৭) — দৈব ও পুরুষকারের লক্ষণ — তিন প্রকার আয়ু (৬৩৮) — আয়ুর কাল (৬৩৮) — অকালমৃত্যু সম্পর্কে আলোচনা (৬৩৯) — কালমৃত্যু ও অকালমৃত্যু সম্পর্কে আলোচনা (৬৪১) — জ্বরে উষ্ণ জল প্রদানের বিষয়ে প্রশ্ন (৬৪৩) — আত্রেয়ের উত্তর (৬৪৩) — জ্বরে উষ্ণ জলের গুণ (৬৪২) — নিদানের বিপরীত চিকিৎসা (৬৪৩) — অপতর্পণ তিন প্রকার — তাদের প্রয়োগের সময় (৬৪৪) — ত্যাজ্য রোগী (৬৪৫) — উপসংহার (৬৪৬)।
চতুর্থোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৬৪৬–৬৫৩)
ত্রিবিধরোগবিশেষবিজ্ঞानीयম্ — তিন প্রকার রোগবিশেষের বিজ্ঞান — আপ্তোপদেশ, অনুমান এবং প্রত্যক্ষ (৬৪৭) — আপ্তোপদেশের নিরূপণ (৬৪৭) — প্রত্যক্ষ ও অনুমানের লক্ষণ (৬৪৮) — আপ্তোপদেশ দ্বারা কী জানা যায় (৬৪৯) — প্রত্যক্ষ দ্বারা কী জানা যায় (৬৪৯) — অনুমান দ্বারা কী জানা যায় (৬৫০) — উপসংহার (৬৫৩)।
পঞ্চমোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৬৫৩–৬৬৩)
স্রোতোবিমানম্ — শরীরস্থিত বিভিন্ন ধাতুবাহী স্রোতের বর্ণনা (৬৫৫) — প্রাণবহ স্রোত দুষ্ট হলে তার লক্ষণ (৬৫৫) — জলবহ স্রোত (৬৫৬) — অন্নবহ স্রোত (৬৫৬) — রসবহ স্রোত (৬৫৭) — রক্তবহ স্রোত (৬৫৭) — মাংসবহ স্রোত (৬৫৭) — মূত্রবহ স্রোত (৬৫৭) — পুরীষবহ স্রোত (৬৫৮) — স্বেদবহ স্রোত (৬৫৮) — স্রোতের সমার্থক নাম (৬৫৮) — স্রোতসমূহের প্রকোপের কারণ (৬৬০) — স্রোতের দোষের লক্ষণ (৬৬১) — স্রোতসমূহের প্রকৃতিসিদ্ধ রূপ (৬৬২) — উপসংহার (৬৬৩)।
ষষ্ঠোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৬৬৩–৬৭৫)
রোগানীকং বিমানম্ — প্রভাবভেদে রোগের প্রকারভেদ (৬৬৩) — দশ প্রকার রোগ (৬৬৪) — দুই মানসদোষ — রজঃ ও তমঃ (৬৬৬) — এদের কুপিত হওয়ার তিন কারণ — অনুবন্ধ্য ও অনুবন্ধভেদে রোগের ভেদ (৬৬৮) — বলভেদের দ্বারা শরীরস্থিত অগ্নির চার প্রকার (৬৬৮) — অগ্নিভেদে মানুষের চার প্রকার — বাত, পিত্ত ও কফ-প্রকৃতির পুরুষের বিবেচনা (৬৬৯) — আরোগ্যপ্রকৃতি (৬৭০) — সমপ্রকৃতি (৬৭০) — বাতল, পিত্তল ও শ্লেষ্মল — এই তিন প্রকার রোগী (৬৭১) — বাত, পিত্ত ও শ্লেষ্ম-প্রকৃতির ব্যক্তির লক্ষণ — তাঁদের উপযোগী আহার ও বিহার (৬৭২–৬৭৪) — উপসংহার (৬৭৫)।
সপ্তমোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৬৭৫–৬৯৩)
ব্যাধিনরূপীয়ং বিমানম্ — ব্যাধিজ্ঞান-সংক্রান্ত ভ্রান্তি (৬৭৫) — চার প্রকার কৃমি (৬৭৮) — দুই প্রকার মল (৬৭৮) — তাতে উৎপন্ন কৃমি (৬৭৮) — তাদের প্রভাব ও চিকিৎসা (৬৭৯) — রক্তজন্য কৃমি (৬৭৯) — কফজন্য কৃমি (৬৮০) — পুরীষজন্য কৃমি (৬৮১) — তাদের প্রতিকার — অপকর্ষবিধি, প্রকৃতিবিঘাত (৬৮২) — কৃমিকোষ্ঠ রোগীর চিকিৎসা (৬৮৩) — আস্থাপন বস্তিক্রিয়ার বিধি (৬৮৪) — বিরেচন (৬৮৫) — অনুবাসন (৬৮৬) — শিরোভিরেচন (৬৮৬) — কৃমির প্রকৃতিবিঘাতের পদ্ধতি (৬৮৭) — শিরোরোগের চিকিৎসা (৬৮৮–৬৯৩) — উপসংহার (৬৯৩)।
অষ্টমোऽধ্যায়ঃ (পৃ. ৬৯৩-৭৭২)
রোগভিষগ্জিতীয়ম্ — শাস্ত্রপরীক্ষা (৬৯৪) — শাস্ত্রের গুণ (৬৯৪) — আচার্যের লক্ষণ (৬৯৫) — শাস্ত্রকে দৃঢ় করার উপায় (৬৯৬) — শাস্ত্রের অধ্যয়নের বিধি (৬৯৬) — অধ্যাপনের বিধি (৬৯৭) — গুরু-শিষ্যের পরস্পর কর্তব্য (৬৯৮) — দীক্ষা (৬৯৯) — আচার্যের শিষ্যকে উপদেশ (৭০১) — সম্ভাষা-বিধি (৭০৪) — তদ্বিদ্যসম্ভাষা (৭০৫) — (সন্ধায়) অনুলোম সম্ভাষণ — বিগৃহ্য সম্ভাষা (৭০৫-৬) — প্রতিবাদীর তিন প্রকার (৭০৭) — তিন প্রকারের পরিষৎ (৭০৭) — প্রতিবাদীকে নিগ্রহ করার উপায় (৭০৯) — প্রতিলোম সম্ভাষণের প্রকার (৭১০) — বাদের মর্যাদা (৭১১) — ৪৪ আবশ্যকীয় জ্ঞাতব্য (৭১১) — বাদের লক্ষণ (৭১১) — জল্প-বিতণ্ডা (৭১২) — প্রতিজ্ঞা — স্থাপনা, প্রতিষ্ঠাপনা, হেতু, উত্তর, দৃষ্টান্ত (৭১৪) — সিদ্ধান্ত ৪ প্রকারের (৭১৫) — শব্দ — প্রত্যক্ষ — অনুমান — ঐতিহ্য — ঔপম্য — সংশয় — প্রয়োজন — সব্যভিচার (৭১৬) — জিজ্ঞাসা — ব্যবসায় (৭১৯) — অর্থপ্রাপ্তি, অনুয়োজ্য (৭২০) — অননুয়োজ্য — অনুয়োগ — প্রত্যনুয়োগ — বাক্যদোষ — ন্যূন — অধিক — অনর্থক — অপার্থক — বিরুদ্ধ (৭২২) — বাক্যপ্রশংসা (৭২৩) — ছল — সাধারণ ছল — বাক্-ছল — অহেতু তিন প্রকারের — প্রকরণসম — সংশয়সম — বর্ণ্যসম (৭২৬) — অতীতকাল — উপালম্ভ — পরিহার (৭২৬) — প্রতিজ্ঞাহানি — অভ্যনুজ্ঞা — হেত্বন্তর — অর্থান্তর (৭২৭) — নিগ্রহস্থান (৭২৭) — কারণ — করণ — কার্যযোনি — কার্য — কার্যফল (৭২৯) — অনুবন্ধ, দেশ, কাল, উপায়, প্রবৃত্তি ইত্যাদির সম্বন্ধে বিশেষ বিজ্ঞান (৭২৯-৩০) — এদের পরীক্ষা (৭৩২) — দশবিধ পরীক্ষা (৭৩২) — কারণ-পরীক্ষা (৭৩৩) — করণ-পরীক্ষা (৭৩৪) — কার্যযোনি-পরীক্ষা — কার্য — কার্যফল-পরীক্ষা (৭৩৬) — অনুবন্ধ — দেশ — কার্য — দেশ ইত্যাদির ব্যাখ্যা (৭৩৭) — আতুর-পরীক্ষা (৭৩৮) — প্রকৃতি ইত্যাদি ভাব (৭৩৯) — শ্লেষ্মপ্রকৃতি (৭৪০) — পিত্তপ্রকৃতি (৭৪১) — বাতপ্রকৃতি (৭৪২) — সমধাতুপ্রকৃতি (৭৪২) — বিকৃতিসমূহ দ্বারা পরীক্ষা (৭৪৩) — সার দ্বারা পরীক্ষা (৭৪৩)— শরীররচনা দ্বারা পরীক্ষা (৭৪৭) — প্রমাণ দ্বারা পরীক্ষা (৭৪৮) — তিন প্রকারের প্রকরণ (৭৪৯) — সাত্ম্য দ্বারা পরীক্ষা (৭৫০) — বল দ্বারা পরীক্ষা (৭৫০) — আহার দ্বারা, ব্যায়ামশক্তি দ্বারা পরীক্ষা (৭৫১) — বয়স দ্বারা পরীক্ষা (৭৫২) — কালের বিবেচন — সংবৎসর (৭৫৪) — রোগীর দশায় কার্য-অকার্যের অপেক্ষায় কাল-অকাল (৭৫৭) — প্রবৃত্তি (৭৫৭) — উপায় (৭৫৮) — পরীক্ষার প্রয়োজন (৭৫৮) — বমনোপযোগী দ্রব্য (৭৫৯) — বিরেচন দ্রব্য (৭৬১) — রসের অপেক্ষায় দ্রব্যের শ্রেণীবিভাগ (৭৬৩) — মধুরস্কন্ধ (৭৬৩) — অম্লস্কন্ধ (৭৬৫) — লবণস্কন্ধ (৭৬৬) — কটুস্কন্ধ (৭৬৬) — তিক্তস্কন্ধ (৭৬৭) — কষায়স্কন্ধ (৭৬৮) — ৬টি স্কন্ধের প্রয়োগে বৈদ্যের কর্তব্য (৭৭০) — অনুবাসন দ্রব্য — শিরোভিরেচন দ্রব্য (৭৭১) — উপসংহার (৭৭২)।
ইতি বিমানস্থানম্।
ও৩ম্
চরকসংহিতা সূত্রস্থানম্
প্রথমোऽধ্যায়ঃ
অথাতো দীর্ঘজীবিতীয়মধ্যায়ং ব্যাখ্যাস্যামঃ ॥১॥
এখন ‘দীর্ঘজীবিতীয়’ নামক অধ্যায়ের ব্যাখ্যা করিব।
ইতি হ স্মাহ ভগবানাত্রেয়ঃ ॥২॥
এইরূপই ভগবান্ আত্রেয় বলিয়াছিলেন। ১
১. নিষ্প্রয়োজন এবং অভিধেয়রহিত অর্থে বুদ্ধিমানদের প্রবৃত্তি হয় না। এইজন্য সর্বপ্রথম শাস্ত্রের প্রয়োজন এবং অভিধেয়-সম্বন্ধ বলা উচিত। বলা হয়েছে—
----------------------------------------------------------------------------------------------------------
অভিধেয়ফলজ্ঞানবিরহস্তিমিতোদ্যমাঃ ।
শ্রোতুমল্পমপি গ্রন্থং নাদ্রিয়ন্তে হি সাধবঃ ॥
সিদ্ধার্থসিদ্ধসম্বন্ধং শ্রোতুং শ্রোতা প্রবর্ত্ততে ।
শাস্ত্রাদৌ তেন বক্তব্যঃ সম্বন্ধঃ সপ্রয়োজনঃ ॥
এই শাস্ত্রের প্রয়োজন ‘ধাতুসাম্য’। বলা হয়েছে— “ধাতুসাম্য-ক্রিয়া চোক্তা তন্ত্রস্যাস্য প্রয়োজনম্”। ‘ধাতুসাম্য’-এর অর্থ বিষম হয়ে যাওয়া ধাতুগুলিকে সমান করা এবং সমান ধাতুগুলির রক্ষা করা। অথবা...
ঋষি ভরদ্বাজের ইন্দ্রের নিকট গমন
দীর্ঘ জীবিতমন্বিচ্ছন্ ভরদ্বাজ উপাগমৎ ।
ইন্দ্রমুগ্রতপা বুদ্ধ্বা শরণ্যমমরেশ্বরম্ ॥ ৩ ॥
দীর্ঘকাল পর্যন্ত জীবন কামনা করে উগ্রতপস্বী ভরদ্বাজ মুনি দেবগণের রাজা ইন্দ্রকে শরণযোগ্য জেনে তাঁর নিকট গমন করলেন।
ব্রহ্মণা হি যথাপ্রোক্তমায়ুর্বেদং প্রজাপতিঃ ।
জগ্রাহ নিখিলেনাদাবশ্বিনৌ তু পুনস্ততঃ ॥ ৪ ॥
অশ্বিভ্যাং ভগবান্ শক্রঃ প্রতিপেদে হ কেবলম্ ।
ঋষিপ্রোক্তো ভরদ্বাজস্তস্মাচ্ছক্রমুপাগমৎ ॥ ৫ ॥
ব্রহ্মা যে আয়ুর্বেদের উপদেশ দিয়েছিলেন, তা প্রজাপতি (দক্ষ) সম্পূর্ণরূপে গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর নিকট থেকে উভয় অশ্বিনী, অশ্বিনীদের নিকট থেকে ইন্দ্র গ্রহণ করেছিলেন। এই কারণেই ঋষিগণের প্রেরণায় ভরদ্বাজ মুনি ইন্দ্রের নিকট গমন করেছিলেন।¹
বিঘ্নভূতা যদা রোগাঃ প্রাদুর্ভূতাঃ শরীরিণাম্ ।
রোগীর রোগের নিবারণ করা এবং সুস্থ পুরুষের স্বাস্থ্যরক্ষা করা। যেমন সুশ্রুতে বলা হয়েছে—
“ব্যাধ্যুপসৃষ্টানাং ব্যাধিপরিমোক্ষঃ স্বস্থস্য পরিরক্ষণঞ্চ।”
অভিধেয়-সম্বন্ধ— হেতু, দোষ এবং দ্রব্য— এই স্কন্ধত্রয় এবং রোগসমূহের উৎপন্ন না হওয়ার বিধির বর্ণনা।
শাস্ত্র এবং প্রয়োজনের মধ্যে উপেয়-উপায় সম্বন্ধ। শাস্ত্র এবং বক্তার মধ্যে বাচ্য-বাচক সম্বন্ধ।
ভগবান্-এর লক্ষণ—
“উত্পত্তিং প্রলয়ং চৈব ভূতানামাগতিং গতিম্ ।
বেত্তি বিদ্যামবিদ্যাং চ স বাচ্যো ভগবানিতি ॥”
১. সুশ্রুতে— “ব্রহ্মা প্রোবাচ, তৎ প্রজাপতিরধিজগে, তস্মাদশ্বিনৌ, অশ্বিভ্যামিন্দ্রঃ।”
----------------------------------------------------------------------------------------------------------
তপোপবাসাধ্যয়নব্রহ্মচর্য্যব্রতায়ুষাম্ ॥ ৬ ॥
তদা ভূতেষ্বনুক্রোশং পুরস্কৃত্য মহর্ষয়ঃ ।
সমেতাঃ পুণ্যকর্মাণঃ পার্শ্বে হিমবতঃ শুভে ॥ ৭ ॥
যখন তপ, উপবাস, ব্রহ্মচর্য্য, অধ্যয়ন, ব্রত এবং আয়ুর মধ্যে বিঘ্নস্বরূপ রোগসমূহ উৎপন্ন হল, তখন প্রাণীদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে পুণ্যকর্মপরায়ণ মহর্ষিগণ সিদ্ধপুরুষদের দ্বারা সেবিত পবিত্র হিমালয়ের পার্শ্বে একত্রিত হলেন।
অঙ্গিরা জমদগ্নিশ্চ বশিষ্ঠঃ কশ্যপো ভৃগুঃ ।
আত্রেয়ো গৌতমঃ সাংখ্যঃ পুলস্ত্যো নারদোऽসিতঃ ॥ ৮ ॥
অগস্ত্যো বামদেবশ্চ মার্কণ্ডেয়াশ্বলায়নৌ ।
পরীক্ষির্ভিক্ষুরাত্রেয়ো ভরদ্বাজঃ কপিঞ্জলঃ ॥ ৯ ॥
বিশ্বামিত্রাশ্বরথ্যৌ চ ভার্গবশ্চ্যবনোऽভিজিৎ ।
গার্গ্যঃ শাণ্ডিল্যকৌণ্ডিন্যৌ বার্ত্তির্দেবলগালবৌ ॥ ১০ ॥
সাংকৃত্যো বৈজবাপিশ্চ কুশিকো বাদরায়ণঃ ।
বডিশঃ শরলোমা চ কাপ্যকাত্যায়নাবুভৌ ॥ ১১ ॥
কাঙ্কায়নঃ কৈকশেষো ধৌম্যো মারীচিকাশ্যপৌ ।
শর্করাক্ষো হিরণ্যাক্ষো লোগাক্ষিঃ পৈঙ্গিরেব চ ॥ ১২ ॥
শৌনকঃ শাকুনেয়শ্চ মৈত্রেয়ো মৈমতায়নিঃ ।
বৈখানসা বালখিল্যাস্তথা চান্যে মহর্ষয়ঃ ॥ ১৩ ॥
ব্রহ্মজ্ঞানস্য নিধয়ো দমস্য নিয়মস্য চ ।
তপসস্তেজসা দীপ্তা হূয়মানা ইবাগ্নয়ঃ ॥ ১৪ ॥
সুখোপবিষ্টাস্তে তত্র পুণ্যাং চক্রুঃ কথামিমাম্ ।
অঙ্গিরা, জমদগ্নি, বশিষ্ঠ, কশ্যপ, ভৃগু, আত্রেয়, গৌতম, সাংখ্য, পুলস্ত্য, নারদ, অসিত, অগস্ত্য, বামদেব, মার্কণ্ডেয়, আশ্বলায়ন, পরীক্ষি, ভিক্ষু আত্রেয়, ভরদ্বাজ, কপিঞ্জল, বিশ্বামিত্র, আশ্বরথ্য, ভার্গব, চ্যবন, অভিজিৎ, গার্গ্য, শাণ্ডিল্য, কাউণ্ডিন্য, বার্ত্তি, দেবল, গালব, সাংকৃত্য, বৈজবাপি, কুশিক, বাদরায়ণ, বডিশ, শরলোমা, কাপ্য, কাত্যায়ন, কাঙ্কায়ন, কৈকশেয়, ধৌম্য, মারীচি, কাশ্যপ, শর্করাক্ষ, হিরণ্যাক্ষ, লোগাক্ষি, পৈঙ্গি, শৌনক, শাকুনেয়, মৈত্রেয়, মৈমতায়নি, বৈখানস, বালখিল্য, কৈকশেয়, ধৌম্য, মারীচি, কশ্যপ, শর্করাক্ষ, হিরণ্যাক্ষ, লোগাক্ষি, পৈগ্নি, শৌনক, শাকুনেয়, মৈত্রেয়, মৈমতার্যায়ন, বৈখানস, বালখিল্য এবং অন্যান্য ব্রহ্মজ্ঞান তথা যম, নিয়ম এবং তপের তেজ দ্বারা চমকিত, আহুতি দ্বারা উজ্জ্বল অগ্নির সমান তেজস্বী অঙ্গিরা প্রভৃতি মহর্ষিগণ সেখানে সুখে বিরাজ করে, এই প্রকার বলতে লাগলেন।
ধর্মার্থকামমোক্ষাণামারোগ্যং মূলমুত্তমম্ ॥ ১৫ ॥
রোগাস্তস্যাপহর্তারঃ শ্রেয়সো জীবিতস্য চ ।
প্রাদুর্ভূতো মনুষ্যাণামন্তরায়ো মহানয়ম্ ॥ ১৬ ॥
কঃ স্যাৎ তেষাং শমোপায় ইত্যুক্ত্বা ধ্যানমাস্থিতাঃ ।
অথ তে শরণং শক্রং দদৃশুর্ধ্যানচক্ষুষা ॥ ১৭ ॥
স বক্ষ্যতি শমোপায়ং যথাবদমরপ্রভুঃ ।
ধর্ম, অর্থ, কাম এবং মোক্ষ এই চার পুরুষার্থের মূল কারণ আরোগ্যই। রোগ এই আরোগ্য, শ্রেয়স এবং জীবিত (আয়ু)-এর অপহরণকারী। মনুষ্যদের জন্য এই মহান্ অন্তরায় প্রাদুর্ভূত হয়েছে। “এদের শমের উপায় কী হবে?”— এইরূপ বলে তাঁরা ধ্যানে অবস্থিত হলেন। পরে তাঁরা ধ্যানচক্ষু দ্বারা শরণরূপ শক্রকে দর্শন করলেন। অমরপ্রভু যথাবৎ শমের উপায় বলবেন।
কঃ সহস্রাক্ষভবনং গচ্ছেত্ প্রষ্টুং শচীপতিম্ ॥ ১৮ ॥
অহমর্থে নিয়ুজ্যেয়মত্রেতি প্রথমং বচঃ ।
ভরদ্বাজোऽব্রবীত্ তস্মাদৃষিভিঃ স নিয়োজিতঃ ॥ ১৯ ॥
সহস্রাক্ষ শচীপতিকে জিজ্ঞাসা করার জন্য তাঁর ভবনে কে যাবে? “এই অর্থে আমি নিযুক্ত হই”— এই প্রথম বচন ভরদ্বাজ বললেন। অতএব ঋষিগণ দ্বারা তিনি নিযুক্ত হলেন।
________________________________
১. যম — অহিংসা, সত্য, অস্তেয়, ব্রহ্মচর্য, অপরিগ্রহ — যম। (যোগসূত্র)
নিয়ম — শৌচ, সন্তোষ, তপঃ, স্বাধ্যায়, ঈশ্বরপ্রণিধান — নিয়ম। (যোগসূত্র)
২. বলা হয়েছে— “আয়তনং বিদ্যানাং মূলং ধর্মার্থকামমোক্ষাণাম্ । শ্রেয়ঃ পরং কিমন্যৎ শরীরমজরামরং বিহায়ৈকম্ ॥” (হৃদয়তন্ত্র)
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------
কার্যে আমাকে নিযুক্ত করা যাক। এইজন্য অঙ্গিরা প্রভৃতি ঋষিগণ ভরদ্বাজ ঋষিকেই এই কার্যে নিযুক্ত করে দিলেন।
স শক্রভবনং গত্বা সুরর্ষিগণমধ্যগম্ ।
দদর্শ বলহন্তারং দীপ্যমানমিবানলম্ ॥ ২০ ॥
ইন্দ্রের ভবনে গিয়ে, তিনি দেবর্ষিগণের মধ্যে, প্রদীপ্ত অগ্নির সমান তেজস্বী, বল নামক অসুরকে বধকারী ইন্দ্রকে দেখলেন।
সোऽভিগম্য জয়াশীর্ভিরভিনন্দ্য সুরেশ্বরম্ ।
প্রোবাচ ভগবান্ধীমানৃষীণাং বাক্যমুত্তমম্ ॥ ২১ ॥
বুদ্ধিমান ভরদ্বাজ সুরেশ্বরের নিকটে গিয়ে, জয়াশীর্বাদ দ্বারা সুরেশ্বরকে অভিনন্দন করে, ঋষিগণের উত্তম বাক্য বললেন।¹
ব্যাধয়ো হি সমুৎপন্নাঃ সর্বপ্রাণিভয়ংকরাঃ ।
তদ্ ব্রূহি মে শমোপায়ং যথাবদমরপ্রভো ॥ ২২ ॥
হে অমরপ্রভো! সকল প্রাণীর জন্য ভয়ংকর ব্যাধিসমূহ উৎপন্ন হয়েছে। অতএব, আপনি আমাকে এদের শমের উপায় যথাবৎ বলুন।
তস্মৈ প্রোবাচ ভগবানায়ুর্বেদং শতক্রতুঃ ।
পদৈরল্পৈর্মতিং বুদ্ধ্বা বিপুলাং পরমর্ষয়ে ॥ ২৩ ॥
ভগবান শতক্রতু, পরমর্ষি ভরদ্বাজের বিপুল মতি জেনে, অল্প পদে আয়ুর্বেদের উপদেশ করলেন।
হেতুলিঙ্গৌষধজ্ঞানং স্বস্থাতুরপরায়ণম্ ।
ত্রিসূত্রং শাশ্বতং পুণ্যং বুবুধে যং পিতামহঃ ॥ ২৪ ॥
সোऽনন্তপারং ত্রিস্কন্ধমায়ুর্বেদং মহামতিঃ ।।
হেতু, লিঙ্গ এবং ঔষধ-জ্ঞান, স্বস্থ ও আতুরকে পরায়ণ, ত্রিসূত্র, শাশ্বত, পুণ্য, যাহা পিতামহ জেনেছিলেন; সেই অনন্তপার ত্রিস্কন্ধ আয়ুর্বেদ মহামতি (ভরদ্বাজ জানলেন)।
____________________________
১. যোগ্য শিষ্যই বিনয়পূর্বক গুরুর নিকট থেকে শাস্ত্র শ্রবণের অধিকারী। যথা—
“তদ্বিদ্ধি প্রণিপাতেন পরিপ্রশ্নেন সেবয়া ।
উপদেক্ষ্যন্তি তে জ্ঞানং জ্ঞানিনস্তত্ত্বদর্শিনঃ ॥” (গীতা)
যথাবদচিরাৎ সর্বং বুবুধে তন্মনা মুনিঃ ॥ ২৫ ॥
তেনায়ুরমিতং লেভে ভরদ্বাজঃ সুখান্বিতঃ ।
ঋষিভ্যোऽনধিকং তচ্চ শশংসানবশেষয়ন্ ॥ ২৬ ॥
ঋষয়শ্চ ভরদ্বাজাজ্জগ্রহুস্তং প্রজাহিতম্ ।
দীর্ঘমায়ুশ্চিকীর্ষন্তো বেদং বর্ধনমায়ুষঃ ॥ ২৭ ॥
যথাবৎ অচিরেই তন্মনা মুনি সেই সমস্তই জেনে নিলেন।
তদ্দ্বারা ভরদ্বাজ সুখান্বিত হয়ে অমিত আয়ু লাভ করলেন। এবং তাহা ঋষিগণকে কিছুই অবশিষ্ট না রেখে সম্পূর্ণরূপে বর্ণনা করলেন।
ঋষিগণও ভরদ্বাজের নিকট থেকে প্রজাহিতকর, আয়ুর বর্ধনকারী, দীর্ঘ আয়ু করতে ইচ্ছুকদের জন্য সেই বেদ গ্রহণ করলেন।
হেতু (রোগসমূহের কারণ), লিঙ্গ (রোগসমূহের চিহ্ন), ঔষধ (সংশোধন এবং শমনরূপ চিকিৎসা), সুস্থ এবং রোগী উভয়ের জন্য পরম গতি, এবং যাহার প্রথম জ্ঞান পিতামহ (ব্রহ্মা) করেছিলেন, সেই তিনসূত্রবিশিষ্ট, পুণ্য, শ্রেষ্ঠ এবং নিত্য, সনাতন আয়ুর্বেদের ইন্দ্র উপদেশ করেছিলেন। মহামতি ভরদ্বাজ মুনি একাগ্রচিত্ত হয়ে এই অনন্ত এবং অপার এবং তিন স্কন্ধবিশিষ্ট আয়ুর্বেদকে যথাবৎ অচিরেই সম্পূর্ণ জেনে নিলেন।
______________________________________
১. ত্রিসূত্র — হেতু, দোষ এবং দ্রব্য-সংগ্রহরূপ।
হেতুসংগ্রহ —
কালবুদ্ধীন্দ্রিয়ার্থানাং যোগো মিথ্যা ন চাতি চ ।
দ্বয়াশ্রয়াণাং ব্যাধীনাং ত্রিবিধো হেতুসংগ্রহঃ ॥
দোষসংগ্রহ —
বাতঃ পিত্তং কফশ্চোক্তঃ শারীরো দোষসংগ্রহঃ ।
মানসঃ পুনরুদ্দিষ্টো রজশ্চ তম এব চ ॥
দ্রব্যসংগ্রহ —
কিঞ্চিদুপশমনং কিঞ্চিদ্ ধাতু-প্রদূষণম্ ।
স্বস্থবৃত্তৌ মতং কিঞ্চিত্ ত্রিবিধং দ্রব্যমুচ্যতে ॥
অথবা ‘ত্রিসূত্র’ শব্দ দ্বারা বাত, পিত্ত এবং কফের গ্রহণ করা উচিত। কারণ, সম্পূর্ণ আয়ুর্বেদশাস্ত্র এইগুলির মধ্যেই ওত-প্রোত। যেমন সুশ্রুতে—
“বাতপিত্তশ্লেষ্মাণ এব দেহসম্ভবহেতবঃ । তৈরেব ব্যাপন্নৈরধো মধ্যোর্ধ্বসন্নিবিষ্টং শরীরমিদং ধার্যতে, আগারমিব স্থূণাভিঃ। অতঃ ত্রিস্থূণাভিরিত্যেকে।”
২. “সোऽয়মায়ুর্বেদঃ শাশ্বতো নির্দেশ্যতে অনাদিত্বাৎ।” — চরক।
৩. “নাস্তি আয়ুর্বেদস্য পারম্, তস্মাদপ্রমত্তঃ শশ্বদভিযোগমস্মিন্ গচ্ছেত্।” — চরক।
___________________________________________________________________________________
ভরদ্বাজ মুনি এই আয়ুর্বেদের দ্বারাই সুখসহিত দীর্ঘ আয়ু লাভ করেছিলেন। এবং তিনি ঋষিগণকে না অধিক, না কিছু কম, যেমনের তেমনই সম্পূর্ণ শাস্ত্রের উপদেশ করেছিলেন। দীর্ঘ আয়ু করার ইচ্ছাবিশিষ্ট ঋষিগণও লোকের হিতকামনায় এই আয়ুবর্ধক আয়ুর্বেদ ভরদ্বাজের নিকট থেকে গ্রহণ করেছিলেন।
মহর্ষয়স্তে দদৃশুর্যথাবজ্জ্ঞানচক্ষুষা ।
সামান্যং চ বিশেষং চ গুণান্ দ্রব্যাণি কর্ম চ ॥ ২৮ ॥
সমবায়ং চ, তজ্জ্ঞাত্বা তন্ত্রোক্তং বিধিমাস্থিতাঃ ।
লেভিরে পরমং শর্ম জীবিতং চাপ্যনশ্বরম্ ॥ ২৯ ॥
জ্ঞানচক্ষু দ্বারা ঋষিগণ সামান্য, বিশেষ, গুণ, দ্রব্য, কর্ম এবং সমবায়কে যথাবৎ সম্পূর্ণরূপে দর্শন করেছিলেন।
এগুলিকে যথাবৎ জেনে তন্ত্রোক্ত বিধি অবলম্বন করে, হিতকারী পদার্থের সেবন এবং অহিতকারী পদার্থের ত্যাগ করে, পরম শর্ম এবং অনশ্বর জীবন লাভ করেছিলেন।¹
অথ মৈত্রীপরঃ পুণ্যমায়ুর্বেদং পুনর্বসুঃ ।
শিষ্যেভ্যো দত্তবান্ ষড্ভ্যঃ সর্বভূতানুকম্পয়া ॥ ৩০ ॥
অগ্নিবেশশ্চ ভেডশ্চ জাতূকর্ণঃ পরাশরঃ ।
হারীতঃ ক্ষারপাণিশ্চ জগ্রহুস্তন্মুনের্বচঃ ॥ ৩১ ॥
সকল ভূতের প্রতি মৈত্রীপরায়ণ পুনর্বসু, সর্বভূতের প্রতি অনুকম্পা করে, এই পুণ্য আয়ুর্বেদ ছয়জন শিষ্যকে প্রদান করেছিলেন।
অগ্নিবেশ, ভেড, জাতূকর্ণ, পরাশর, হারীত এবং ক্ষারপাণি, এই ছয়জন শিষ্য সেই মুনির বচন গ্রহণ করেছিলেন।
বুদ্ধের্বিশেষস্তত্রাসীন্নোপদেশান্তরং মুনেঃ ।
তন্ত্রপ্রণেতা প্রথমমগ্নিবেশো যতোऽভবৎ ॥ ৩২ ॥
অথ ভেডাদয়শ্চক্রুঃ স্বং স্বং তন্ত্রং, কৃতানি চ ।
শ্রাবয়ামাসুরাত্রেয়ং সর্ষিসংঘং সুমেধসঃ ॥ ৩৩ ॥
শ্রুত্বা সূত্রণমর্থানামৃষয়ঃ পুণ্যকর্মণাম্ ।
যথাবৎসূত্রিতমিতি প্রহৃষ্টাস্তেऽনুমেনিরে ॥ ৩৪ ॥
সর্ব এভাস্তুবংস্তাংশ্চ সর্বভূতহিতৈষিণঃ ।
সাধু ভূতেষ্বনুক্রোশ ইত্যুচ্চৈরন্নুবন্ সমম্ ॥ ৩৫ ॥
তং পুণ্যং শুশ্রুভুঃ শব্দং দিবি দেবর্ষয়ঃ স্থিতাঃ ।
সামরাঃ পরমর্ষীণাং শ্রুত্বা মুমুদিরে পরম্ ॥ ৩৬ ॥
অহো সাধ্বিতি ঘোষঞ্চ লোকাস্ত্রীনন্বনাদয়ৎ ।
তমসি স্নিগ্ধগম্ভীরো হর্ষাদ্ ভূতৈরুদীরিতঃ ॥ ৩৭ ॥
শিবো বায়ুর্ববৌ সর্বা ভাভিরুন্মীলিতা দিশঃ ।
নিপেতুঃ সজলাশ্চৈব দিব্যাঃ কুসুমবৃষ্টয়ঃ ॥ ৩৮ ॥
অথাগ্নিবেশপ্রমুখান্ বিবিশুর্জ্ঞানদেবতাঃ ।
বুদ্ধিঃ সিদ্ধিঃ স্মৃতির্মেধা ধৃতিঃ কীর্ত্তিঃ ক্ষমা দয়া ॥ ৩৯ ॥
তানি চানুমতান্যেষাং তন্ত্রাণি পরমর্ষিভিঃ ।
ভবায় ভূতসংঘানাং প্রতিষ্ঠাং ভুবি লেভিরে ॥ ৪০ ॥
অগ্নিবেশের বুদ্ধি বিশেষ ছিল, মুনি আত্রেয়ের উপদেশে কোনো অন্তর ছিল না। এইজন্য অগ্নিবেশই প্রথম তন্ত্রপ্রণেতা হয়েছিলেন।
পরে ভেড প্রভৃতি সুমেধা শিষ্যগণও নিজ নিজ তন্ত্র রচনা করে, ঋষিসংঘসহ আত্রেয়কে শ্রবণ করিয়েছিলেন।
অর্থসমূহের সূত্রণ শুনে পুণ্যকর্মা ঋষিগণ— “যথাবৎ সূত্রিত হয়েছে”— এইরূপ বলে প্রহৃষ্ট হয়ে অনুমোদন করেছিলেন।
সকলেই, সর্বভূতহিতৈষী তাঁদের, “সাধু! ভূতসমূহের প্রতি অনুক্রোশ”— এইরূপ উচ্চস্বরে সমভাবে বলেছিলেন।
দিবিতে অবস্থানকারী দেবর্ষিগণ, দেবগণসহ, পরমর্ষিগণের সেই পুণ্য শব্দ শুনে পরম প্রমোদ লাভ করেছিলেন।
“অহো! সাধু!”— এই ঘোষ তিন লোকে অনুনাদিত হয়েছিল। হর্ষে ভূতগণ কর্তৃক উচ্চারিত সেই শব্দ স্নিগ্ধ ও গম্ভীর ছিল।
শিব বায়ু প্রবাহিত হয়েছিল, সমস্ত দিক জ্যোতিতে উন্মীলিত হয়েছিল, এবং সজল দিব্য কুসুমবৃষ্টি পতিত হয়েছিল।
পরে অগ্নিবেশ প্রমুখের মধ্যে জ্ঞানদেবতাগণ প্রবেশ করেছিলেন— বুদ্ধি, সিদ্ধি, স্মৃতি, মেধা, ধৃতি, কীর্তি, ক্ষমা এবং দয়া।
পরমর্ষিগণ কর্তৃক অনুমোদিত সেই তন্ত্রসমূহ ভূতসমূহের ভবের জন্য পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল।
আয়ুর্বেদের লক্ষণ—
হিতাহিতং সুখং দুঃখমায়ুস্তস্য হিতাহিতম্ ।
মানং চ তচ্চ যত্রোক্তমায়ুর্বেদঃ স উচ্যতে ॥ ৪১ ॥
হিত, অহিত, সুখ এবং দুঃখ— এই চার প্রকার আয়ু। এই আয়ুর হিত-অহিত, পথ্য-অপথ্য এবং এই আয়ুর মান-পরিমাণ— এই সকল যেই শাস্ত্রে বলা হয়েছে, এবং যাহাতে আয়ুর লক্ষণ আছে, তাহাকেই আয়ুর্বেদ বলা হয়।¹
আয়ুর লক্ষণ—
শরীরেন্দ্রিয়সত্ত্বাত্মসংযোগঃ,
(শরীর) পঞ্চমহাভূত দ্বারা নির্মিত, আত্মার অধিষ্ঠান; (ইন্দ্রিয়) ভৌতিক ইন্দ্রিয়সমূহ; (সত্ত্ব) মন; (আত্মা) দ্রষ্টা, ভোক্তা, জীব এবং ঈশ্বর— এদের সংযোগের নাম আয়ু। আয়ু নিরন্তর গমনশীল হওয়ার কারণে ‘আয়ু’ বলা হয়। [ইতি গচ্ছতীতি আয়ুঃ।]
১. “আয়ুরস্মিন্ বিন্দতি বেত্তি বা আয়ুর্বেদঃ।” — সুশ্রুত।
সংযোগের নাম ‘আয়ু’। আয়ু নিরন্তর চলমান হওয়ার কারণে ‘আয়ু’ বলা হয়। [ এতি গচ্ছতীতি আয়ুঃ। ]
ধারি জীবিতম্ ।
নিত্যগশ্চানুবন্ধঞ্চ পর্যায়ৈরায়ুরুচ্যতে ॥ ৪২ ॥
আয়ু অর্থাৎ জীবনের পর্যায়বাচী শব্দ— (ধারি) শরীরকে ধারণ করে, (জীবিত) প্রাণকে ধারণ করে, (নিত্যগ) নিরন্তর গমন করে, (অনুবন্ধ) প্রাণের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, এবং ‘চেতনানুবৃত্তি’— এই পর্যায়গুলির দ্বারা বলা হয়।¹
তস্যায়ুষঃ পুণ্যতমো বেদো বেদবিদাং মতঃ ।
বক্ষ্যতে যন্মনুষ্যাণাং লোকয়োরুভয়োর্হিতম্ ॥ ৪৩ ॥
এই আয়ুর্বেদ সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, পুণ্যজনক— [ কারণ অন্য জ্ঞান কেবল পারলৌকিক হিতই বলে, এই আয়ুর্বেদ ইহলোক এবং পরলোক উভয়ের হিত বলে— এইরূপ জ্ঞানীদের মত।² ]
সামান্য এবং বিশেষ—
সর্বদা সর্বভাবানাং সামান্যং বৃদ্ধিকারণম্ ।
হাসহেতুর্বিশেষশ্চ, প্রবৃত্তিরুভয়স্য তু ॥ ৪৪ ॥
সামান্যমেকত্বকরং, বিশেষস্তু পৃথক্ত্বকৃত্ ।
তুল্যার্থতা হি সামান্যং, বিশেষস্তু বিপর্যয়ঃ ॥ ৪৫ ॥
সকল পদার্থের সর্বকালে ‘সামান্য’— সমান [গুণাদি] ধর্মই বৃদ্ধির কারণ হয়, এবং ‘বিশেষ’ অর্থাৎ বিভেদ অথবা বিপরীত হওয়াই হ্রাসের কারণ হয়।
সকল ধাতুতে শরীরের মধ্যে উভয় ধর্মই থাকতে পারে। এইজন্য শরীরে বৃদ্ধি এবং ক্ষয়, শরীরের গঠন (Metabolism) এবং শরীরের ভঙ্গ (Ketabolism) — উভয় ক্রিয়াই সর্বদা হতে থাকে।
একত্ব নির্দেশকারী ধর্ম ‘সামান্য’। এবং ‘পৃথক্ভাব’ নির্দেশকারী ধর্ম ‘বিশেষ’।¹
সত্ত্বামাত্মা শরীরং চ ত্রয়মেতত্ত্রিদণ্ডবৎ ।
লোকস্তিষ্ঠতি সংযোগাত্তত্র সর্বং প্রতিষ্ঠিতম্ ॥ ৪৬ ॥
স পুমাংশ্চেতনং তচ্চ তচ্চাধিকরণং স্মৃতম্ ।
বেদস্যাস্য, তদর্থ হি বেদোऽয়ং সংপ্রকাশিতঃ ॥ ৪৭ ॥
(সত্ত্ব) মন, (আত্মা) চেতনা এবং (শরীর)— এই তিন দ্বারা গঠিতকে ‘লোক’ বলা হয়। এই তিনটি মিলিত হয়ে ত্রিদণ্ডের ন্যায় ‘লোক’-কে ধারণ করে। এই সংযোগে গঠিত পুরুষে জন্ম-মরণ প্রভৃতি সমস্তই প্রতিষ্ঠিত।
১. সমান গুণবিশিষ্ট— এর অর্থ এই যে, দ্রব্য, গুণ, কর্ম— এদের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে সমান গুণবিশিষ্ট পদার্থই গ্রহণ করা উচিত।
যেরূপ টক আমলাও টক পিত্তকে বৃদ্ধি করে না, বরং শীতবীর্য হওয়ার কারণে পিত্তকে শমন করে; কারণ পিত্ত উষ্ণ।
দ্রব্যসাম্য থেকে বিপরীত প্রভাব— তৈজস ক্ষার দ্বারা শ্লেষ্মার ক্ষয়।
গুণসাম্য — দ্রব কাঞ্জি দ্বারা শ্লেষ্মার লঘু-রুক্ষ গুণের কারণে ক্ষয়।
কর্মসাম্য — নিদ্রা দ্বারা বায়ুর নাশ, দৌড়ানোর দ্বারা কফের ক্ষয় হওয়া।
সামান্য এবং বিশেষের স্বরূপ— তুল্যার্থতা অর্থাৎ সমানার্থক হওয়ার নাম ‘সামান্য’ এবং বিপর্যয়ের অর্থ ‘বিশেষ’।
“সামান্যং বিশেষ ইতি বুদ্ধ্যপেক্ষম্।” বৈশেষিক দর্শন।
বলা হয়েছে—
সর্বেষাং সর্বদা বৃদ্ধিঃ তুল্যদ্রব্যগুণক্রিয়ৈঃ ।
ভাবৈর্ভবতি ভাবানাং বিপরীতৈর্বিপর্যয়ঃ ॥
২. “ষড়্ধাতুসমুদিতা লোক ইতি শব্দং লভন্তে ॥”
এইটিই প্রমাণ, এইটিই চেতন দ্রব্য, এইটিই অধিকরণ এবং এইটিকেই জানিবার জন্য এই আয়ুর্বেদ প্রকাশিত করা হয়েছে।
খাদীন্যাত্মা মনঃ কালো দিশশ্চ দ্রব্যসংগ্রহঃ ।
সেন্দ্রিয়ং চেতনং দ্রব্যং, নিরিন্দ্রিয়মচেতনম্ ॥ ৪৮ ॥
আকাশাদি (আকাশ, বায়ু, অগ্নি, জল, পৃথিবী— এই পাঁচ মহাভূত), আত্মা, মন, কাল এবং দিশা— এইগুলি দ্রব্য। ইন্দ্রিয়সহিত দ্রব্য চেতন এবং ইন্দ্রিয়রহিত অচেতন।
তেপায়াতে (ত্রিপদীতে) একটি বল্লী অথবা স্তম্ভ বের করে নিলে, তাহা দাঁড়াইয়া থাকিতে পারে না; এই প্রকার এই তিনটির মধ্যে একটি না থাকিলে ‘পুরুষ’ স্থির থাকিতে পারে না।
অত্র কর্মফলং চাত্র জ্ঞানং চাত্র প্রতিষ্ঠিতম্ ।
অত্র মোদঃ সুখং দুঃখং জীবিতং মরণং তথা ॥
এইখানেই কর্মফল এবং এইখানেই জ্ঞান প্রতিষ্ঠিত। এইখানেই মোদ, সুখ, দুঃখ, জীবন এবং মরণ।
পঞ্চমহাভূতশরীরিসমবায়ঃ ‘পুরুষ’ উচ্যতে। তস্মিন্ ক্রিয়াঃ। সোऽধিষ্ঠানম্।
১। “পৃথিব্যাপস্তেজোবায়ুরাকাশং কালো দিগাত্মা মন ইতি দ্রব্যানি।” — বৈশেষিক।
“শরীরং হি ... তস্মিন্ ... অচেতনম্।
পঞ্চভূতাবশেষত্বাৎ পঞ্চত্বং গতমুচ্যতে॥” — চরক।
“তত্র আকাশং শব্দগুণম্, শব্দস্পর্শগুণো বায়ুঃ। শব্দস্পর্শরূপগুণোऽগ্নিঃ। শব্দস্পর্শরূপরসগুণা আপঃ। শব্দস্পর্শরূপরসগন্ধগুণা পৃথিবী।
তেষামেকগুণঃ পূর্বে, গুণবৃদ্ধিঃ পরে পরে।
পূর্ব-পূর্ব গুণশ্চৈব ক্রমশো গুণিষু স্মৃতঃ॥”
আত্মার রূপ—
প্রাণাপানৌ নিমেষাদ্যা জীবনং মনসো গতিঃ।
ইন্দ্রিয়ান্তরসঞ্চার প্রেরণং ধারণং চ যৎ॥
দেশান্তরগতিস্বপ্নে পঞ্চত্বগ্রহণং তথা।
দৃষ্টস্য দক্ষিণেনাক্ষ্ণা সব্যেনাবগমস্তথা॥
গুণ—
অর্থা গুর্বাদয়ো বুদ্ধিঃ প্রয়ত্নান্তাঃ পরাদয়ঃ।
গুণ বলা হয়েছে— অর্থ (ইন্দ্রিয় এবং মনের গ্রাহ্য বিষয়), গুরু প্রভৃতি, বুদ্ধি, প্রয়ত্ন পর্যন্ত এবং পর প্রভৃতি।
ইন্দ্রিয়ের অর্থ— শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস এবং গন্ধ।
মনের অর্থ— চিন্তন, বিচার, ঊহনা (উহা), ধ্যান, সংকল্প।
গুরুত্ব, লঘুত্ব, শীত, উষ্ণ, স্নিগ্ধ, রূক্ষ, মন্দ, তীক্ষ্ণ, স্থির, সর, মৃদু, কঠিন, বিশদ, পিচ্ছিল, শ্লক্ষ্ণ, খর, স্থূল, সূক্ষ্ম, সান্দ্র, দ্রব— এই বিশটি; এবং ইচ্ছা, দ্বেষ, সুখ, দুঃখ এবং প্রয়ত্ন; পর, অপর, যুক্তি, সংযোগ, বিভাগ, পৃথক্ত্ব, পরিণাম, সংস্কার এবং অভ্যাস— এইগুলি গুণ।
“রূপরসগন্ধস্পর্শাঃ সংখ্যাপরিমাণানি পৃথক্ত্বং সংযোগবিভাগৌ পরাপরত্বে বুদ্ধয়ঃ সুখদুঃখে ইচ্ছাদ্বেষৌ প্রয়ত্নাশ্চ গুণাঃ॥” — বৈশেষিক দর্শন।
ইচ্ছা দ্বেষঃ সুখং দুঃখং প্রয়ত্নশ্চেতনা বৃত্তিঃ।
বুদ্ধিঃ স্মৃতিরহঙ্কারো লিঙ্গানি পরমাত্মনঃ॥
মনের লক্ষণ—
আত্মেন্দ্রিয়ার্থসন্নিকর্ষে জ্ঞানস্য।
ভাবোऽভাবো মনসো লিঙ্গমিতি কণাদঃ।
লক্ষণং মনসো জ্ঞানস্যাভাবো ভাব এব চ।
সতি হ্যাত্মেন্দ্রিয়ার্থানাং সন্নিকর্ষেণ বর্ততে।
বৈধৃত্যান্মনসো জ্ঞানং সান্নিধ্যাচ্চ বর্ততে॥ — চরক।
কালের লক্ষণ—
সূক্ষ্মামপি কলাং ন লীয়তে, সংকলয়তি বা ভূতানি ইতি কালঃ। — বৈশেষিক।
দিশার লক্ষণ—
অস্মাদিদং পূর্বেণ অস্মাদিদং পশ্চিমেণ ইত্যাদয়ঃ প্রত্যয়া যতো ভবন্তি সা দিক্। ইত ইমিতি যতস্তদ্দিশাং লিঙ্গম্। — বৈশেষিক।
যাহা দ্বারা এই ব্যবহার করা যায় যে, ইহা ইহা হইতে পূর্বে অথবা ইহা ইহা হইতে পশ্চিমে, তাহার নাম দিশা।
কর্ম—
প্রয়ত্নাদি কর্ম চেষ্টিতমুচ্যতে ॥ ৪৯ ॥
প্রয়ত্নাদি শরীরের ব্যাপারের নাম কর্ম।
উৎক্ষেপণমবক্ষেপণমাকুঞ্চনং প্রসারণং গমনমিতি কর্মাণি ॥ (বৈশেষিক)
শ্রমণং রেচনং স্যন্দনমূর্ধ্বজ্বলনমেব চ ।
তির্যগ্গমনমপ্যত্র গমনাদেব লভ্যতে ॥
প্রয়ত্নপূর্বক অর্থাৎ চেষ্টাপূর্বক ক্রিয়ার নাম ‘কর্ম’।
“আত্মসংযোগপ্রয়ত্নাভ্যাং হস্তে কর্ম।” (বৈশেষিক)
সমবায়ের লক্ষণ—
সমবায়োऽপৃথগ্ভাবো ভূম্যাদীনাং গুণৈর্মতঃ ।
স নিত্যঃ,
পৃথিবী প্রভৃতি দ্রব্যের (আত্রেয়ভদ্রকাপ্যীয় ২৬ অধ্যায়ে উক্ত) গুণসমূহের সঙ্গে অপৃথগ্ভাব-এর নাম ‘সমবায়’। অর্থাৎ দ্রব্য গুণ ব্যতীত থাকিতে পারে না এবং গুণ দ্রব্য ব্যতীত থাকিতে পারে না।
এই সমবায়-সম্বন্ধ নিত্য; এইরূপ নিত্য সম্বন্ধকে সমবায় বলা হয়। (সংযোগের ন্যায় অনিত্য নহে।) কারণ, যেখানে দ্রব্য আছে, সেখানে গুণের থাকা অনিশ্চিত নহে, বরং নিশ্চিত। যেখানে দ্রব্য আছে, সেখানে গুণও আছে। অতএব, দ্রব্য ও গুণের নিয়ত সম্বন্ধ থাকায়, তাহাদের সম্বন্ধও নিয়ত।
দ্রব্যের লক্ষণ—
যত্র হি দ্রব্যং ন তত্রানিয়তো গুণঃ ॥ ৫০ ॥
যত্রাশ্রিতা কর্মগুণাঃ কারণং সমবায়ি যত্তু ।
তদ্ দ্রব্যং,
যাহাতে কর্ম এবং গুণ আশ্রিত, এবং যাহা সমবায়ী কারণ, যাহার গুণসমূহের সঙ্গে সমবায়-সম্বন্ধ আছে, তাহাই ‘দ্রব্য’।
১। সমবায়ের লক্ষণ—
“অযুতসিদ্ধানাম্ [যাহারা কখনও পৃথক্ হয় না] আধার্যাধারভূতানাম্ ‘ইহে’তি প্রত্যয়হেতুঃ সম্বন্ধঃ স সমবায়ঃ।” (বৈশেষিক)
যেমন তন্তু এবং বস্ত্রের, অথবা মাটি এবং ঘটের সমবায়-সম্বন্ধ আছে।
গুণের লক্ষণ—
সমবায়ো তু নিশ্চেষ্টঃ কারণং গুণঃ ॥ ৫১ ॥
সমবায়ী দ্রব্যের সঙ্গে সমবায়-সম্বন্ধযুক্ত, নিশ্চেষ্ট (নিষ্ক্রিয়) এবং কারণবান্— তাহাই গুণ।
গুণ নির্গুণ হয়; গুণে গুণ থাকে না। যেমন লেখা আছে—
“গুণা গুণাশ্রয়া নোক্তাঃ।” — চরক।
কর্মের লক্ষণ—
সংযোগে চ বিয়োগে চ কারণং দ্রব্যমাশ্রিতং ।
কর্ত্তব্যস্য ক্রিয়া কর্ম কর্ম নান্যদপেক্ষতে ॥ ৫২ ॥
যাহা দ্রব্যের আশ্রয় গ্রহণ করিয়া থাকে, এবং সংযোগ ও বিভাগে কারণ, তাহার নাম ‘কর্ম’। কর্ম অন্য কাহারও অপেক্ষা করে না। [দ্রব্য এবং গুণ পরস্পর একে অপরের সমবায়ের অপেক্ষা করিয়া কারণ হয়।]
“একং দ্রব্যমগুণং সংযোগবিভাগেষ্বনপেক্ষং কারণমিতি কর্মলক্ষণম্।” — বৈশেষিক।
কৃত সৎবৃত্ত, স্নান, পাঠ প্রভৃতি অনুষ্ঠানও কর্ম। [এইগুলি অধ্যাত্মকর্ম।]
ইত্যুক্তং কারণং, কার্যং ধাতুসাম্যমিহোচ্যতে ।
ধাতুসাম্যক্রিয়া চোক্তা তন্ত্রস্যাস্য প্রয়োজনম্ ॥ ৫৩ ॥
এ পর্যন্ত সামান্য প্রভৃতি ছয় কারণের বর্ণনা করা হয়েছে। এখন তাহাদের কার্য বলা হয়— এই শাস্ত্রে ‘ধাতুগুলির সাম্য করা’-ই কার্য। [ঘট-পট প্রভৃতি কার্য নহে।] এই শাস্ত্রের প্রয়োজনও ধাতুগুলিকে সমান রাখা।
ক্ষীণ হইয়া যাওয়া ধাতু বৃদ্ধি করা উচিত, বৃদ্ধি পাওয়া ধাতু হ্রাস করা উচিত এবং সমান ধাতুর রক্ষণ করা উচিত। যেমন, পরে বলা হইবে।
“প্রয়োজনং চাস্য স্বস্থস্য স্বাস্থরক্ষণং, আতুরস্য বিকারপ্রশমনং চ॥”
ধাতুগুলির বিষম হওয়ার কারণ—
কালবুদ্ধীন্দ্রিয়ার্থানাং যোগো মিথ্যা ন চাতি চ ।
দ্বয়াশ্রয়াণাং ব্যাধীনাং ত্রিবিধো হেতুসংগ্রহঃ ॥ ৫৪ ॥
কাল [শীত-বর্ষা-গ্রীষ্মরূপ সংবৎসর অথবা পরিণাম], বুদ্ধি এবং ইন্দ্রিয়ার্থ [ইন্দ্রিয়সমূহের বিষয়— শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস এবং গন্ধ]— এই তিনটির অতিযোগ, অযোগ এবং মিথ্যাযোগ হইলে, উভয় প্রকারের শারীরিক এবং মানসিক ব্যাধি উৎপন্ন হয়।¹
শরীরং সত্ত্বসংজ্ঞং চ ব্যাধীনামাশ্রয়ো মতঃ ।
শরীর এবং সত্ত্ব (মন), এই উভয়ই [পৃথক্রূপে এবং সম্মিলিতরূপে] রোগসমূহের আশ্রয় বলিয়া মানা হয়।
যেরূপ এই উভয়ই ব্যাধিসমূহের আশ্রয়স্থান, সেইরূপ সুখেরও আশ্রয়স্থান এই উভয়ই।
তথা সুখানাং, যোগস্তু সুখানাং কারণং সমঃ ॥ ৫৫ ॥
সুখের কারণ— কাল, বুদ্ধি এবং ইন্দ্রিয়সমূহের বিষয়ের সম (যথোচিতরূপে) যোগ হওয়াই আরোগ্যের কারণ।
এমনও বলা হয়েছে— “সুখহেতুর্মতস্ত্বেকঃ সমযোগঃ সুদুর্লভঃ।”
আত্মার স্বরূপ বলা হয়—
নির্বিকারঃ পরস্ত্বাত্মা সত্ত্বভূতগুণেন্দ্রিয়ৈঃ ।
চৈতন্যে কারণং নিত্যো দ্রষ্টা পশ্যতি হি ক্রিয়াঃ ॥ ৫৬ ॥
পর (শ্রেষ্ঠ) আত্মা নির্বিকার [বিকাররহিত]। সত্ত্ব (মন), ভূত, গুণ, শব্দ, স্পর্শ প্রভৃতি এবং ইন্দ্রিয়— শ্রোত্র, ত্বক প্রভৃতির সঙ্গে মিলিয়া মন এবং শরীরের ক্রিয়াসমূহকে দেখে। কারণ, তিনি দ্রষ্টা, কেবল সাক্ষীমাত্র। অচেতন শরীর এবং মনের চৈতন্যে এই আত্মাই কারণ এবং তিনি নিত্য।
১। “ত্রীণ্যায়তনানীত্যর্থানাং, কর্মণঃ কালস্য চ অতিযোগায়োগমিথ্যাযোগাঃ। অসাত্ম্যেন্দ্রিয়ার্থসংযোগঃ প্রজ্ঞাপরাধঃ পরিণামশ্চেতি ত্রয়স্ত্রিবিধবিকল্পা হেতবো বিকারকারণম্। সমযোগযুক্তাস্তু প্রকৃতিহেতবো ভবন্তি॥” — চরক।
২। “বেদনানামধিষ্ঠানং মনো দেহশ্চ সেন্দ্রিয়ঃ।” — চরক।
৩। “স পর্যগাচ্ছুক্রমকায়মব্রণমস্নাবিরং শুদ্ধমপাপবিদ্ধম্॥” — শ্রুতি।
রোগপ্রকৃতি—
বায়ুঃ পিত্তং কফশ্চোক্তঃ শারীরো দোষসংগ্রহঃ ।
মানসঃ পুনরুদ্দিষ্টো রজশ্চ তম এব চ ॥ ৫৭ ॥
সংক্ষেপরূপে শারীরিক দোষসমূহের কারণ— বাত, পিত্ত এবং কফ। মানসিক দোষসমূহের কারণ— রজ এবং তম।
রোগ এই বাত, পিত্ত এবং কফ ব্যতীত হইতে পারে না।
ইহাদের প্রতীকার—
প্রশাম্যত্যৌষধৈঃ পূর্বো দৈবযুক্তিব্যপাশ্রয়ৈঃ ।
মানসো জ্ঞানবিজ্ঞানধৈর্যস্মৃতিসমাধিভিঃ ॥ ৫৮ ॥
শারীরিক দোষ দৈব-ব্যপাশ্রয় এবং যুক্তি-ব্যপাশ্রয় ঔষধ দ্বারা শান্ত হয়।
মানসিক দোষ— জ্ঞান (আত্মা প্রভৃতির), বিজ্ঞান অর্থাৎ শাস্ত্রজ্ঞান, ধৈর্য (চিত্তের স্থিরতা), স্মৃতি (অনুভূত পদার্থের স্মরণ), সমাধি (বিষয়সমূহ হইতে মনকে সরাইয়া আত্মায় স্থাপন করা)— এইগুলির দ্বারা শান্ত হয়।
দৈব-ব্যপাশ্রয়— মণি, মন্ত্র, ঔষধি, বলি, উপহার, হোম,
১। বাতকে প্রথমে বলা হয়েছে; কারণ বাতজন্য রোগই সর্বাধিক— “অশীতির্বাতবিকারাঃ” এবং “বায়ুরেব ভগবান্”। বায়ুই সর্বাপেক্ষা প্রবল।
“সর্বাসাং ব্যাধীনাং বাতপিত্তশ্লেষ্মাণ এব মূলং তল্লিঙ্গত্বাদ্ দৃষ্টফলত্বাদাগমাচ্চ। যথা হি কৃত্স্নং বিকারজাতং বিশ্বরূপেণাবস্থিতং সত্ত্বরজস্তমাংসি ন ব্যতিরিচ্যন্তে। এবমেব কৃত্স্নং বিকারজাতং বিশ্বরূপেণাবস্থিতমব্যতিরিচ্যন্তে॥” — সুশ্রুত।
No comments:
Post a Comment
ধন্যবাদ