অদ্বৈতবাদ সমীক্ষাআচার্য অগ্নিব্রত নৈষ্টিক
এই সংসারে যেখানে চার্বাক, বৌদ্ধ ও জৈন মতাদি ঈশ্বরের সত্তায় বিশ্বাস করে না, সেখানে কিছু অধ্যাত্মবাদী মনে করে যে এই সম্পূর্ণ সৃষ্টিতে মাত্র ঈশ্বর তত্ত্বেরই সত্তা আছে, জীব ও প্রকৃতি ইত্যাদির কোনো সত্তা নেই। এই ভাবনা মধ্যকালে অনেক আচার্যের ছিল। এই আচার্যদের মধ্যে আদ্য শঙ্করাচার্যকে প্রধান স্থান দেওয়া হয়। অদ্বৈতবাদের ভিত্তি মহর্ষি কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন বাদরায়ণ ব্যাস (মহর্ষি বেদব্যাস) এর ব্রহ্মসূত্র নামক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থকে মানা হয়। এই মত বিশ্বের বহু বৈদিক ও অবৈদিক অথবা ভারতীয় ও বিদেশী মত মতান্তরকে প্রভাবিত করেছে ও করছে। আমরা এর আলোচনা না করে মাত্র এই বিষয়েই চিন্তা করব যে এই মত কেন বেদ বিরুদ্ধ, নিজেই ব্রহ্মসূত্রের বিরুদ্ধ তথা বিজ্ঞান ও যুক্তির বিরুদ্ধ?
ব্রহ্মসূত্রে প্রথম দুই সূত্র থেকেই অদ্বৈতবাদ খণ্ডিত হয়ে যায়। সেই দুই সূত্র এই প্রকার—
"অথাতো ব্রহ্মজিজ্ঞাসা" (ব্র.সূ. ১.১.১)
"জন্মাদ্যস্য যতঃ" (ব্র.সূ. ১.১.২)
এই দুই সূত্র থেকে ব্রহ্ম বিষয়ক আলোচনা আরম্ভ করে বলা হয়েছে—
"এখন আমরা ব্রহ্মকে জানার ইচ্ছা করি। সেই ব্রহ্ম কেমন ও কে? এটি জানাতে গিয়ে বলা হয় যে যাঁর থেকে জগতের জন্মাদি (জন্ম, স্থিতি ও প্রলয়াদি) হয়।"
জরা চিন্তা করুন যে যে জগতের জন্ম হয়, তাতে স্থিতি হয় এবং সময় আসলে ব্রহ্ম তার প্রলয়ও করে, সেই জগত কখনও মিথ্যা হতে পারে না। জানা যায় না কেন, এই ব্রহ্ম প্রতিপাদক মহান গ্রন্থের ভিত্তিতে ব্রহ্ম ছাড়া অন্য সমস্ত পদার্থের সত্তাকে অস্বীকার করা হয়? অথচ এই গ্রন্থ তার প্রারম্ভেই জগতের সমস্ত পদার্থের বাস্তবতাকে প্রতিপাদন করছে। এটি পৃথক বিষয় যে জগত ব্রহ্মের ন্যায় নিত্য নয় কিন্তু জগত মিথ্যা (অবাস্তব)ও নয়। এখানে জীব ও প্রকৃতি রূপ মূল উপাদান কারণের অস্তিত্বেরও নিষেধ নেই।
ব্রহ্মসূত্র গ্রন্থের বিষয়ে এটি অত্যন্ত বড় ভ্রান্তি হয়ে গেছে, হয়ে চলেছে। আমরা 'ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অন বৈদিক সায়েন্সেজ' ব্যাঙ্গালোরে আগস্ট ২০০৪-এ বহু বৈদিক বিদ্বান এবং বর্তমান ভৌত শাস্ত্রবিদদের ব্রহ্মসূত্রের মিথ্যা ব্যাখ্যা করতে দেখেছি। অদ্বৈতবাদের শাস্ত্রীয় সমীক্ষার জন্য পাঠকদের মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী রচিত ‘সত্যার্থ প্রকাশ' নামক ক্রান্তিকারী গ্রন্থ অবশ্যই পড়া উচিত। আমরা এখানে তার পিষ্টপোষণ করা আবশ্যক মনে করি না, বরং আমরা এখানে বর্তমান বিজ্ঞানের আশ্রয় নিয়ে অদ্বৈতবাদের সমর্থনের প্রচেষ্টার সমীক্ষা অবশ্যই করব।
এই পক্ষের বিদ্বান সর্বপ্রথম আধুনিক বিজ্ঞানের পদার্থ দ্রব্য ও শক্তির পারস্পরিক রূপান্তরের আলোচনা করে শেষে এই দুটিকেই চেতন শক্তিতে রূপান্তরযোগ্য এবং তা থেকে উৎপন্ন সিদ্ধ করে। সাধারণত এই ভাবনা বৈজ্ঞানিক সত্যই প্রতীত হয় কিন্তু এর উপর বিশেষ চিন্তা করলে এর অসারতা স্পষ্ট হয়ে যায়। সর্বপ্রথম আমরা এই বিষয়ের চিন্তা করি যে পরিবর্তনযোগ্য তত্ত্ব কোন কোন হতে পারে? স্পষ্টত যে পদার্থ বিকারী হয়, তারাই বিকার লাভ করে রূপান্তরিত হতে সক্ষম হয়।
এখন প্রশ্ন ওঠে যে বিকারী পদার্থ কী ও কেমন হয়? আমাদের দৃষ্টিতে বিকারী পদার্থ জড়ই হতে পারে। যদি এক এক সূক্ষ্ম কণ বা কোয়ান্টাকে জড়ের স্থানে চেতন ধরি, তবে প্রশ্ন উঠবে যে কি প্রত্যেক কণ বা কোয়ান্টার চেতনা পৃথক পৃথক, অথবা সম্পূর্ণ ব্রহ্মাণ্ডের চেতনা একটিই?
যদি প্রত্যেক কণের চেতনা পৃথক পৃথক হয়, তবে ব্রহ্মাণ্ডের সমগ্র পদার্থকে কেমন করে এক প্রকার নিয়মে বদ্ধ দেখা যায়? যেরূপ প্রত্যেক প্রাণীর ঐচ্ছিক ক্রিয়াগুলি, চিন্তা, সংস্কার পৃথক পৃথক হয়, সেইরূপ প্রত্যেক কণ ও কোয়ান্টাকে যদি চেতন ধরি, তবে তাদের ক্রিয়াগুলি পরস্পর সমানই হবে, এটি আবশ্যক নয়। তারা পরস্পর সঙ্গত থাকবে বা না থাকবে, এটিও আবশ্যক নয়।
প্রত্যেক কণের পৃথক পৃথক চেতন সত্তা থাকলেও তারা পরস্পর মিলিত হয়ে এই সৃষ্টির রচনা করার জন্য পরস্পর তাদের নানা গোষ্ঠী গঠন করতে পারে এবং সম্পূর্ণ সৃষ্টির অসংখ্য নিয়ম নির্মাণ করতে পারে, এটি সর্বথা অসম্ভব? এমন কাজ কোনো প্রাণী করতে পারে না। সর্বাধিক বুদ্ধিমান ধরা প্রাণী মানুষ তার সমাজ নির্মাণ করে কিন্তু সেই সমাজগুলির গঠন এমন জটিল হয় না, যেমন বিভিন্ন জড় পদার্থে সেই পদার্থের অবয়বভূত সূক্ষ্মকণ বা কোয়ান্টাগুলি নির্মাণ করে।
বিভিন্ন প্রাণী তাদের সামাজিক গঠনকে সময় সময় তাদের নিজ নিজ রুচি ও স্বভাব-সংস্কার অনুযায়ী পরিবর্তন করতে থাকে কিন্তু বিভিন্ন কণ বা কোয়ান্টাগুলির নিয়ম কখনও পরিবর্তিত হয় না।
প্রশ্ন- যে-যে প্রাণী যত অধিক বুদ্ধিমান হয়, তাদের সংস্কার ও রুচি তত-তত অধিক মাত্রায় পরিবর্তিত হয়। মানুষের সামাজিক নিয়মে পরিবর্তন অত্যন্ত অধিক হয়ে এসেছে বা হতে পারে, কিন্তু পশু, পক্ষীদের স্বভাব ও সংস্কারে পরিবর্তন অপেক্ষাকৃত কম হয়েছে এবং কমই হতে পারে। পশু-পক্ষীদের থেকেও কম বুদ্ধিযুক্ত সূক্ষ্ম জীবদের স্বভাব ও সংস্কারে আরও কম পরিবর্তন হতে পারে বা হয়েছে। এই কারণে চেতন কণ ও কোয়ান্টাজের স্বভাব ও সংস্কারে পরিবর্তন হয় না, কারণ তাদের মধ্যে বুদ্ধি তত্ত্ব নগণ্য। এই কারণে তাদের মধ্যে পৃথক পৃথক চেতন আত্মার থাকা অতার্কিক নয়।
উত্তর- আপনার এই বক্তব্য যথার্থ নয়। যদি আপনার মতে প্রত্যেক কণ ও কোয়ান্টাকে চেতন ধরা হয় এবং বুদ্ধি তত্ত্ব নগণ্য ধরা হয়, তবে সেই কণ ও কোয়ান্টাগুলি মিলিত হয়ে এই সৃষ্টির নির্মাণ কখনই করতে পারে না। এই সৃষ্টির নিয়মগুলির উপর যত অধিক চিন্তা করা যায়, এতে তত অধিক গভীর বুদ্ধিমত্তা দেখা যায়। সর্বোত্তম প্রাণী মানুষ যে সর্বাধিক বুদ্ধিমত্তার কাজ করতে পারে, তার থেকে
সহস্রগুণ অধিক বুদ্ধিমত্তার কাজ তার নিজের শরীরে প্রতিটি কোষ এবং তারও অবয়বভূত অ্যাটম, মলিকিউলস এবং এদের থেকেও সূক্ষ্ম কণ ও কোয়ান্টাজ বা শক্তির দ্বারা অবিরত সম্পন্ন হচ্ছে, যা
মানুষ জানেও না। তখন কীভাবে বলা যেতে পারে যে নগণ্য বুদ্ধিযুক্ত তথাকথিত চেতন কণগুলির
স্বভাব ও সংস্কার তাদের বৌদ্ধিক অক্ষমতার কারণে অপরিবর্তিত থাকে। বাস্তবতা এই যে এই জগতের সৃষ্টি কোনো সাধারণ বুদ্ধিযুক্ত চেতনের সৃষ্টি নয়, বরং অসীম বুদ্ধিযুক্ত চেতন তত্ত্বের বিস্ময়। নিশ্চয়ই এই অসীম বুদ্ধি কোনো এক কণ বা কোয়ান্টা বিশেষের নয় এবং না-ই তাদের সকলের সম্মিলিত রূপের, বরং তা একমাত্র সেই অসীম বুদ্ধিসম্পন্ন এক চেতন তত্ত্বের, যা কোনো কণ বা কোয়ান্টা এবং তাদের কারণভূত প্রাণাদি পদার্থ ও তারও উপাদান কারণরূপ প্রকৃতি থেকে সম্পূর্ণ পৃথক হয়েও তাতে ভিতরে-বাইরে সর্বত্র নিরন্তর ব্যাপ্ত। তাকেই এই বিশাল ব্রহ্মাণ্ডের চেতনা রূপ ঈশ্বর তত্ত্ব বলা হয়। তিনি নিজে অনাদি, অনন্ত, অজন্মা, অমর হওয়া সত্ত্বেও নির্বিকার থেকে অনাদি-অনন্ত, অজন্মা-অমর কিন্তু বিকারী প্রকৃতি রূপ জড় পদার্থের ভিতরে সময়-সময় প্রয়োজনানুসারে বিকার উৎপন্ন করে সুন্দর সৃষ্টির নির্মাণ করতে থাকেন।
প্রশ্ন- যদি সৃষ্টির রচয়িতা কোনো সর্বশক্তিমান, সর্বব্যাপক ও সর্বজ্ঞ চেতন ঈশ্বর থাকেন, তবে তিনি এই সৃষ্টিকে কেন নির্মাণ করেন? তাঁর সৃষ্টিকাল, প্রলয় প্রভৃতির সময় নির্ধারণ কীভাবে করেন? যদি তিনি এই কাজ না করেন, তবে তাঁর কী ক্ষতি হয়?
উত্তর- আমরা পূর্বে আধুনিক বিজ্ঞানের সৃষ্টির উৎপত্তি তত্ত্বের সমীক্ষার প্রসঙ্গে লিখেছি যে ‘কেন’ প্রশ্নের উত্তর জড়বাদীরা দিতে পারে না, বরং ঈশ্বরবাদী বা আত্মবাদীরাই এর উত্তর দিতে পারে। ‘কেন’ প্রশ্ন কোনো কাজের উদ্দেশ্য বা প্রয়োজন জানতে চায়। উদ্দেশ্য কেবল চেতন তত্ত্বই বোঝে এবং সেই বোঝার ক্ষমতা তারই আছে। যখন আমরা চেতন তত্ত্বের সত্তাকে অস্বীকার করি, তখন এই প্রশ্ন অবশ্যই ওঠে যে জড় শক্তি ও পদার্থে বিকার কেন উৎপন্ন হয়? কেন নির্দিষ্ট সময়ে সৃষ্টির উৎপত্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়? কেন পুনরায় প্রলয় শুরু হয়? বাস্তবে জড় পদার্থ নিজে কোনো প্রবৃত্তি রাখে না বা রাখতে পারে না এবং বুদ্ধিহীন হওয়ায় কোনো প্রবৃত্তির উদ্দেশ্যও বুঝতে পারে না।
এই সমগ্র সৃষ্টির উপর চিন্তা করলে স্পষ্ট হয় যে প্রতিটি জড় পদার্থ নিজ স্বার্থে তৈরি নয়, বরং কোনো চেতন বুদ্ধিমান তত্ত্বের উপভোগের জন্য তৈরি। ঈশ্বর নামক যে চেতন তত্ত্ব, তিনি সম্পূর্ণ ও আকাম। তাঁর নিজের জন্য এই সৃষ্টির কোনো প্রয়োজন নেই। এই কারণে আর-এক চেতন তত্ত্ব এই সৃষ্টিতে অবশ্যই থাকা উচিত, যা জ্ঞান ও ক্রিয়াযুক্ত, সীমিত জ্ঞানসম্পন্ন, একদেশী ও সীমিত শক্তিযুক্ত। সেই চেতন তত্ত্বকেই জীবাত্মা বলা হয়। এরা সংখ্যায় অসংখ্য। এদের উপভোগের জন্যই ঈশ্বর তত্ত্ব প্রকৃতি রূপ পদার্থ থেকে সৃষ্টির নির্মাণ করেন। এর বিশেষ আলোচনা এখানে প্রয়োজন নয়, তবে আমরা এতটুকু অবশ্যই বলতে চাই যে ঈশ্বর পূর্ণ ও আকাম হওয়ায় নিজের জন্য সৃষ্টি করেন না এবং প্রকৃতি জড় হওয়ায় নিজে ভোক্তা হতে পারে না; সে কেবল ভোগ্যরূপেই থাকে। ঈশ্বর এমন মূর্খও নন যে কৌতূহলবশে নিঃপ্রয়োজন সৃষ্টি ও প্রলয় করতে থাকবেন।
এখন প্রশ্ন এই যে জীবাত্মার জন্যও তিনি এই সৃষ্টি কেন করেন? না করলে কী ক্ষতি? এর উত্তরে সংক্ষেপে বলা যায় যে প্রলয়াবস্থায় সীমিত জ্ঞানসম্পন্ন জীবাত্মারা, যারা নিজেরা অজন্মা ও অমর, সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়ভাবে মহাপ্রলয়রূপ প্রকৃতি-পদার্থে এদিক-ওদিক অবস্থান করে। কেবল মুক্তাত্মারাই পরমাত্মার আনন্দে অবস্থান করে। যদি পরমাত্মা সৃষ্টি না করেন, তবে নিষ্ক্রিয় জীবদের অস্তিত্বই নিরর্থক হয়ে যাবে; তারা কখনও জ্ঞান বা আনন্দের অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারবে না। অন্যদিকে সমস্ত পদার্থ, যার দ্বারা সৃষ্টি গঠিত হয়, তাও সম্পূর্ণ নিরর্থক হয়ে যাবে এবং ঈশ্বরের সত্তা, শক্তি ও জ্ঞানও নিরর্থক হয়ে পড়বে। এই কারণে নিজের সঙ্গে সঙ্গে জীবাত্মা ও প্রকৃতি রূপ পদার্থের সত্তা এবং তাদের গুণকে অর্থপূর্ণ করার জন্য এবং জীবাত্মাদের সংসারিক সুখভোগের সঙ্গে মুক্তি লাভের উপায় প্রদানের জন্য সৃষ্টি করেন। এভাবে করা তাঁর স্বভাব, যেমন চোখের স্বভাব দেখা এবং কর্ণের স্বভাব শোনা, তেমনি জীবদের উপকারের জন্য সৃষ্টি করা এবং সময়মতো প্রলয় করা তাঁর স্বভাব।
এখানে আমরা ঈশ্বর তত্ত্ব বিষয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করেছি। প্রকৃতপক্ষে এই সব আমাদের ঐতরেয় ব্রাহ্মণের ভাষ্য অংশে বহুস্থানে ঈশ্বর তত্ত্বের ইঙ্গিত থাকার কারণে করতে হয়েছে। ঐতরেয় ব্রাহ্মণ গ্রন্থে ঈশ্বর তত্ত্বের বিশদ আলোচনা নেই, তবুও আমাদের মতে ঈশ্বর তত্ত্ব সম্পর্কে যথার্থ জ্ঞান সম্পূর্ণ মানবজাতি বা সকল প্রাণীর কল্যাণের জন্য অপরিহার্য। আজ এই বিষয়ে যত ভ্রান্তি আছে, তত অন্য কোনো বিষয়ে নেই। ঈশ্বর বিষয়ক ভ্রান্তি ধর্ম বিষয়েও বড় বড় ভ্রান্তির জন্ম দিয়ে মানবজাতিকে এক বৈজ্ঞানিক মানব ধর্ম (বৈদিক ধর্ম) থেকে দূরে সরিয়ে নানা মতভেদে বিভক্ত করে ঈর্ষা, দ্বেষ, বৈর, রক্তাক্ত নিষ্ঠুর হিংসায় আক্রান্ত করে ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে ঈশ্বরের কল্পিত রূপগুলি কেবল বৈজ্ঞানিক মেধাসম্পন্ন ব্যক্তিকেই নয়, সাধারণ সচেতন মানুষকেও ঈশ্বর তত্ত্ব থেকে দূরে সরিয়ে তাকে চরম ভোগবাদী, স্বেচ্ছাচারী, দুরাচারী ও বিশৃঙ্খল করে তুলেছে, যার ফলে মানুষ শুধু অন্য জীবকে ভক্ষণ করে কষ্ট দিচ্ছে না, নিজেকেও নিয়ন্ত্রণহীন ও নির্মম প্রতিযোগিতায় ঠেলে দিয়ে পৃথিবীতে অশান্তি, সংঘর্ষ, ঘৃণা, অসমতা, শ্রেণিভেদ প্রভৃতি পাপে নিমজ্জিত করছে, যেখান থেকে বেরোনোর পথ কেউই দেখতে পাচ্ছে না।
আমাদের আশা, এই অধ্যায়টি গভীরভাবে চিন্তা করে মানুষ নিজ বুদ্ধির দ্বারা এটিকে বিস্তৃত করে
ঈশ্বর সম্পর্কিত ভ্রান্তি থেকে মুক্ত হতে পারবে।
No comments:
Post a Comment
ধন্যবাদ