মহাভারত কাল নির্ণয়_নিলেশ ওক - ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান, ধর্ম গ্রন্থ কি , হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়, ইসলাম খ্রীষ্ট মত বিষয়ে তত্ত্ব ও সনাতন ধর্ম নিয়ে আলোচনা

धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते-Theology

সাম্প্রতিক প্রবন্ধ

Post Top Ad

স্বাগতম

01 February, 2026

মহাভারত কাল নির্ণয়_নিলেশ ওক

 মহাভারত কাল নির্ণয়ের প্রধান সূত্র হলো মহাকাব্যে উল্লিখিত জ্যোতিষশাস্ত্রীয় তথ্য (গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান), কুরুবংশের বংশলতিকা এবং ঐতিহাসিক আইহোল শিলালিপি। কোটা ভেঙ্কটাচলম ছিলেন একজন ভারতীয় ইতিহাস গবেষক যিনি প্রাচীন ভারতের সময়কাল নির্ধারণ নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি বিশেষভাবে মনে করতেন যে পশ্চিমা ঐতিহাসিকরা ভারতের ইতিহাসকে অনেক কম বয়সী করে দেখিয়েছেন

মহাভারতের যুদ্ধ সম্পর্কে তার দাবি

তার গবেষণা অনুযায়ী:

  • মহাভারতের যুদ্ধ: প্রায় ৩১৩৮ BCE

  • কলিযুগ শুরু: ৩১০২ BCE

  • শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যু: প্রায় ৩১০২ BCE

অর্থাৎ তার মতে:

➡️ যুদ্ধ হয়েছে কলিযুগ শুরুর প্রায় ৩৬ বছর আগে

ভেঙ্কটাচলম তার হিসাব করতে কয়েকটি জিনিস ব্যবহার করেন:

  1. পুরাণের রাজবংশ তালিকা
    যেমন বিভিন্ন রাজাদের বংশ ও শাসনকাল।

  2. হিন্দু যুগচক্র

    • সত্যযুগ

    • ত্রেতাযুগ

    • দ্বাপর যুগ

    • কলিযুগ

  3. গ্রহ-নক্ষত্রের উল্লেখ
    মহাভারতে থাকা কিছু জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বর্ণনা।

  4. কলিযুগ শুরুর ঐতিহ্যগত তারিখ
    যা ভারতীয় জ্যোতিষে ধরা হয় ৩১০২ BCE

নিলেশ ওকের সাথে পার্থক্য

গবেষকমহাভারত যুদ্ধ
Kota Venkatachalam~ ৩১৩৮ BCE
Nilesh Nilkanth Oak~ ৫৫৬১ BCE

পার্থক্য প্রায় ২৪০০ বছরেরও বেশি

কারণ:

  • ভেঙ্কটাচলম → পুরাণ ও ঐতিহ্যগত যুগগণনা ব্যবহার করেছেন

  • ওক → জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সফটওয়্যার দিয়ে আকাশের হিসাব করেছেন

মহাভারতের ভেতরে থাকা ২১৫টির বেশি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করে লেখক নিলেশ ওক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে মহাভারতের যুদ্ধের বছর ছিল ৫৫৬১ BCE
এখানে অরুন্ধতী–বশিষ্ঠ (AV) পর্যবেক্ষণ মহাভারতের যুদ্ধের বছর সম্পর্কে বিদ্যমান দাবিগুলোর ৯৬%-এরও বেশি খণ্ডন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

অনেক ভারতীয় গবেষক, যাদের বৈজ্ঞানিক দক্ষতা, বোধগম্যতা ও যৌক্তিক বিশ্লেষণের ঘাটতি আছে—তারা ভুলভাবে ভেবেছিলেন যে AV পর্যবেক্ষণই একমাত্র প্রমাণ, যার ভিত্তিতে ৪৫০৮ BCE-এর পরের সব দাবিকে খণ্ডন করা হয়েছে। ফলে তারা AV পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে করা সিদ্ধান্তের বৈধতার বিরুদ্ধে অযৌক্তিক, গোঁড়ামিপূর্ণ, এড়িয়ে যাওয়া এবং প্রসঙ্গচ্যুত সমালোচনা করতে শুরু করেন। কিন্তু AV পর্যবেক্ষণকে খণ্ডন করার তাদের চেষ্টা উল্টো ফল দেয়—এতে বরং এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয় এবং ৫৫৬১ BCE-কে মহাভারতের যুদ্ধের বছর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার যুক্তি আরও শক্তিশালী হয়। তাদের গোঁড়ামির কারণে কিছু গবেষক এমনকি মহাভারতের সেই প্রমাণকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেন যেখানে বলা হয়েছে যে ভীষ্ম শরশয্যায় ৯২ দিনেরও বেশি সময় ছিলেন

কিন্তু তারা বুঝতে পারেননি যে ভীষ্মের নির্বাণ (মৃত্যু) সংক্রান্ত বিস্তারিত ঘটনাগুলোই এমন প্রমাণ দেয়, যা শুধু অরুন্ধতী-বশিষ্ঠ পর্যবেক্ষণকে সমর্থনই করে না, বরং ৫৫৬১ BCE-কে মহাভারতের যুদ্ধের বছর হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করে

Nilesh Nilkanth Oak একজন ইঞ্জিনিয়ার-ব্যাকগ্রাউন্ডের গবেষক, যিনি দাবি করেন যে মহাভারত ও রামায়ণের সময় নির্ধারণ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক (astronomical) তথ্য ব্যবহার করে করা সম্ভব। তিনি মূলত প্রাচীন গ্রন্থে উল্লেখ থাকা গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানকে আধুনিক সফটওয়্যার দিয়ে মিলিয়ে তারিখ বের করার চেষ্টা করেছেন।

তার মূল দাবি কী

নিলেশ ওকের গবেষণায় প্রধান দুইটি বড় দাবি আছে:

  1. মহাভারতের যুদ্ধ:
    তিনি বলেন যুদ্ধটি ঘটেছে প্রায় ৫৫৬১ খ্রিস্টপূর্বাব্দে (≈ ৭৫০০ বছর আগে)।

  2. রামায়ণের সময়:
    তার মতে শ্রী রামের জন্ম প্রায় ১২২৪০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
    অর্থাৎ প্রায় ১৪,০০০ বছর আগে

তিনি দাবি করেন যে মহাভারত ও রামায়ণে বহু জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বর্ণনা আছে, যেমন:

  • কোন নক্ষত্রে চন্দ্র ছিল

  • কোন গ্রহ কোথায় ছিল

  • সূর্যগ্রহণ / চন্দ্রগ্রহণ

  • ঋতু ও নক্ষত্রের অবস্থান

  • ধূমকেতু বা গ্রহের অস্বাভাবিক অবস্থান

এই বর্ণনাগুলো তিনি planetarium software (যেমন Stellarium বা NASA data) দিয়ে হাজার হাজার বছর পিছিয়ে মিলিয়ে দেখেন। এরপর যে সময়টায় সব ঘটনা একসাথে মিলে যায় সেটাকেই সম্ভাব্য সময় বলে ধরেন।

নিলেশ ওকের মতে মহাভারতের যুদ্ধের আগে ও যুদ্ধের সময় আকাশে কয়েকটি নির্দিষ্ট জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা ঘটেছিল। তিনি মহাভারতের শ্লোকগুলো থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করে আধুনিক প্ল্যানেটারিয়াম সফটওয়্যার দিয়ে মিলিয়েছেন।

নিচে তার গবেষণায় উল্লেখ করা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ দেওয়া হলো।


১️⃣ ভীষ্মের মৃত্যুর সময় – শীতকাল ও উত্তরায়ণ

মহাভারতে বলা আছে যে ভীষ্ম পিতামহ শরশয্যায় শুয়ে সূর্যের উত্তরায়ণের সময় মৃত্যুবরণ করেন

  • অর্থাৎ সূর্য যখন দক্ষিণায়ণ থেকে উত্তরায়ণে যায়

  • সাধারণত এটি ঘটে মকর সংক্রান্তির সময়

নিলেশ ওক বলেন তার গণনায় এই ঘটনা ৫৫৬১ BCE সালের শীতকালে মিলে যায়।


২️⃣ যুদ্ধের আগে দুটি গ্রহণ (Solar + Lunar eclipse)

মহাভারতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা আছে যে যুদ্ধের আগে অল্প সময়ের মধ্যে চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ হয়েছিল।

তার মতে:

  • একটি চন্দ্রগ্রহণ

  • তার কিছুদিন পরে সূর্যগ্রহণ

এই দুই গ্রহণের সময়ের ব্যবধান খুব কম ছিল — এটাকে তিনি তারিখ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে ব্যবহার করেন।


৩️⃣ শনির অবস্থান রোহিণী নক্ষত্রে

গ্রন্থে বলা আছে:

শনি রোহিণী নক্ষত্রে অবস্থান করছিল।

রোহিণী নক্ষত্রকে প্রাচীন জ্যোতির্বিদ্যায় খুব গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়।
নিলেশ ওকের মতে এই অবস্থান তার সফটওয়্যারে ৫৫৬১ BCE সময়ের কাছাকাছি মিলেছে


৪️⃣ ধূমকেতু (Comet) দেখা যাওয়ার উল্লেখ

মহাভারতে একটি ধূমকেতুর উল্লেখ আছে, যাকে অনেক গবেষক ধূমকেতু বা অশুভ নাক্ষত্রিক বস্তু হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

নিলেশ ওক বলেন:

  • এটি সম্ভবত একটি ধূমকেতু

  • যুদ্ধের আগে আকাশে দৃশ্যমান ছিল


৫️⃣ গ্রহগুলোর বিশেষ অবস্থান

তিনি দাবি করেন মহাভারতে কয়েকটি গ্রহের অবস্থান উল্লেখ আছে:

  • মঙ্গল (Mars)

  • শনি (Saturn)

  • বৃহস্পতি (Jupiter)

  • শুক্র (Venus)

এই গ্রহগুলোর অবস্থান একসাথে মিলিয়ে তিনি ২২ নভেম্বর ৫৫৬১ BCE কে যুদ্ধ শুরুর সম্ভাব্য তারিখ বলেছেন।


তার সিদ্ধান্ত (Nilesh Oak অনুযায়ী):

ঘটনাতারিখ (তার দাবি)
মহাভারত যুদ্ধ শুরু২২ নভেম্বর ৫৫৬১ BCE
যুদ্ধের সময়কাল১৮ দিন
ভীষ্মের মৃত্যুপ্রায় জানুয়ারি ৫৫৬০ BCE

📌 এই তারিখগুলো বিতর্কিত। অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন:

  • মহাভারত বহু শতাব্দী ধরে রচিত হয়েছে

  • সব জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বর্ণনা বাস্তব নাও হতে পারে

তাই একাডেমিক জগতে এটি এখনো চূড়ান্তভাবে স্বীকৃত নয়

নিলেশ ওকের গবেষণার সবচেয়ে বড় সমালোচনা করা হয়।

১️⃣ আকাশের ঘটনা অনেক সময় পুনরাবৃত্তি হয়

গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান একেবারে অনন্য (unique) নয়। বিভিন্ন সময় পরপর আবার একই ধরনের বিন্যাস হতে পারে। এর কারণ:

  • গ্রহগুলোর নিজস্ব কক্ষপথ আছে

  • তারা নির্দিষ্ট সময় পরপর আবার কাছাকাছি একই অবস্থানে ফিরে আসে

উদাহরণ হিসেবে:

  • বৃহস্পতি ~১২ বছরে একবার একই নক্ষত্র অঞ্চলে আসে

  • শনি ~৩০ বছরে

  • মঙ্গল ~২ বছর

এই বিভিন্ন চক্র একসাথে মিলে কয়েক হাজার বছর পর আবার কাছাকাছি একই আকাশের দৃশ্য তৈরি করতে পারে

২️⃣ তাই সীমিত সময়ের মধ্যে খোঁজা হলে সমস্যা হতে পারে

যদি কেউ শুধু ১০,০০০–১৫,০০০ বছরের মধ্যে খোঁজে, তাহলে সেই সময়ের মধ্যে একটি মিল পাওয়া যেতে পারে।
কিন্তু এর মানে এই নয় যে:

  • তার আগের ২০,০০০ বছর বা

  • তার আগের ৫০,০০০ বছরে

একই ধরনের মিল ছিল না।

এটাকে গবেষণায় বলা হয় search window bias

৩️⃣ আরও একটি বড় সমস্যা — বর্ণনার ব্যাখ্যা

মহাভারতের শ্লোকগুলো অনেক সময়:

  • কাব্যিক

  • প্রতীকী

  • অথবা পরে সংযোজিত

হতে পারে। ফলে কোন শ্লোককে আক্ষরিক জ্যোতির্বিজ্ঞান হিসেবে নেব আর কোনটা রূপক — এটা নিয়েও বিতর্ক আছে।

৪️⃣ তাই ইতিহাসবিদরা কী বলেন

অনেক ঐতিহাসিক ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী বলেন:

  • শুধু গ্রহ-নক্ষত্রের মিল দিয়ে ইতিহাসের তারিখ নির্ধারণ করা কঠিন

  • প্রত্নতত্ত্ব, ভাষাতত্ত্ব, কার্বন ডেটিং ইত্যাদির সঙ্গেও মিল থাকতে হবে

সংক্ষেপে

আপনার বক্তব্য ঠিক দিকেই যায়:

  • যদি আরও দীর্ঘ সময় (ধরা যাক ৫০,০০০ বা ১,০০,০০০ বছর) পরীক্ষা করা হয়

  • তাহলে একই ধরনের আকাশের বিন্যাস অন্য সময়েও পাওয়া যেতে পারে।

তাই নিলেশ ওকের তারিখকে অনেক গবেষক সম্ভাব্য একটি অনুমান হিসেবে দেখেন, চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে নয়।

নিচে কয়েকজন পরিচিত গবেষকের প্রস্তাবিত তারিখ দেওয়া হলো।

গবেষকপ্রস্তাবিত সময়
Nilesh Nilkanth Oakপ্রায় ৫৫৬১ BCE
P. V. Vartakপ্রায় ৫৫৬১ BCE (তিনি অন্য হিসাবেও ৭৩০০ BCE পর্যন্ত বলেছেন)
B. N. Narahari Acharপ্রায় ৩০৬৭ BCE
K. Sadanandaপ্রায় ৩১৩৯ BCE
P. V. Holayপ্রায় ৩১৪৩ BCE
Raghavan Iyerপ্রায় ১৪৭৮ BCE
Dieter Kochপ্রায় ১১৯৮ BCE

Figure 6.1: Online calculation of distance between two stars [2]

References

1. “Angular distance between stars”, https://stjerneskinn.com/angular-distance-between-stars.htm.

2. “Calculate Angular Distance Between Two Stars”, http://celestialwonders.com/tools/starAngleCalc.html.

Note: The content of this series of articles is based on the three-part presentation author made on Sangam Talks on the refutation of the 5561 BCE dating of the Mahābhārata War. Here are the links to these presentations.

1. Refutation of the 5561 BCE dating of the Mahabharata War, Part 1: https://www.youtube.com/watch?v=W2YuGQRmZ9c

2. Refutation of the 5561 BCE dating of the Mahabharata War, Part 2: https://www.youtube.com/watch?v=7DiLSUFrTx8

3. Refutation of the 5561 BCE dating of the Mahabharata War, Part 3: https://www.youtube.com/watch?v=eop31blDa2c

Here are three other presentations refuting Mr. Nilesh Oak’s dating of Surya Siddhanta to 12000 BCE and Ramayana to 12209 BCE.

1. Dating the Surya Siddhanta: https://www.youtube.com/watch?v=55pvrTUWi94

2. Dating the Ramayana — Part 1: https://www.youtube.com/watch?v=2S0PO3SzqBc&t=5s

3. Dating the Ramayana — Part 2: https://www.youtube.com/watch?v=AKNkrgm1Tu0



সহজ ভাষায় মূল কথা এই:

১️⃣ অরুন্ধতী–বশিষ্ঠ নক্ষত্রের দূরত্ব খুব বেশি বদলায়নি

গত প্রায় ১৪,০০০ বছরে অরুন্ধতী ও বশিষ্ঠ নক্ষত্রের আসল দূরত্ব প্রায় একই রকম ছিল (প্রায় ১২ আর্কমিনিটের কাছাকাছি)। অর্থাৎ তারা একে অপরের থেকে খুব বেশি সরে যায়নি।

২️⃣ কিন্তু RA (Right Ascension) পার্থক্য অনেক বেশি দেখায়

কিছু হিসাব অনুযায়ী ২৫০০ BCE-এ RA পার্থক্য প্রায় ৪৯ আর্কমিনিট দেখা যায়।
এটা দেখে মনে হয় যেন দুই নক্ষত্রের দূরত্ব অনেক বেশি।

৩️⃣ আসলে এটা একটি গাণিতিক বিভ্রান্তি

RA পার্থক্য মাপা হয় আকাশের বিষুবরেখা বরাবর
কিন্তু অরুন্ধতী ও বশিষ্ঠ উত্তর আকাশমেরুর খুব কাছে

এই কারণে RA পার্থক্য আসল দূরত্বকে অনেক বড় করে দেখায়

৪️⃣ বাস্তব দূরত্ব অনেক কম

যখন declination ধরে প্রকৃত দূরত্ব হিসাব করা হয়, তখন দেখা যায়:

  • RA পার্থক্য ≈ ৪৬–৪৯ arcminute

  • কিন্তু আসল দূরত্ব ≈ ১২ arcminute

৫️⃣ এর ফল কী

এর মানে:

👉 শুধু RA পার্থক্য দেখে বলা যায় না যে অরুন্ধতী বশিষ্ঠের সামনে চলে গিয়েছিল।

অর্থাৎ এই যুক্তি দিয়ে মহাভারতের সময় নির্ধারণ করা বিশ্বাসযোগ্য নাও হতে পারে

 অরুন্ধতী বশিষ্ঠের সামনে ছিল — খালি চোখে দেখা সম্ভব কি?

যদি ৪৫০৮ BCE থেকে ১১০৯১ BCE সময়ে অরুন্ধতী ও বশিষ্ঠের কার্যকর RA পার্থক্য মাত্র ৩.৫ আর্কমিনিট হয়ে থাকে, তাহলে কি এটি খালি চোখে আলাদা করে দেখা সম্ভব ছিল?

খালি চোখে কাছাকাছি থাকা নক্ষত্র দেখার ক্ষমতা নিয়ে এক প্রবন্ধে Sarnecki লিখেছেন:

“সবাই বিখ্যাত দ্বৈত নক্ষত্র Mizar (mag 2.4) এবং Alcor (mag 4.0)-কে আলাদা করতে পারে, যা Big Dipper-এর হাতলে আছে। এদের দূরত্ব ১১.৮ আর্কমিনিট, তাই এটি ‘সহজ’। আমি যত মানুষকে স্টার পার্টিতে এই জোড়া দেখিয়েছি, তাদের প্রায় সবাই খালি চোখে এই দুই নক্ষত্র আলাদা করতে পেরেছে (যারা খুব দুর্বল দৃষ্টিশক্তির নয়)।
আরেকটি জোড়া নক্ষত্র আছে যা আপনার পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাকে পরীক্ষা করবে—Omicron¹ Cygni (mag 3.8) এবং 30 Cygni (mag 5)। এদের দূরত্ব ৫.৫ আর্কমিনিট। দৃঢ়ভাবে তাকালে পরিষ্কার রাতে এই জোড়াটিও আলাদা করা সম্ভব।”

এর অর্থ হলো মানুষের চোখ সাধারণত ৫.৫ আর্কমিনিটের কম দূরত্বের দুটি নক্ষত্র আলাদা করতে খুবই কষ্ট পায়

তাই যদি অরুন্ধতী সত্যিই বশিষ্ঠের সামনে থেকেও থাকে, তবুও খালি চোখে কেউ এটি দেখতে পারত না। কারণ ৪৫০৮ BCE থেকে ১১০৯১ BCE সময়ে অরুন্ধতী ও বশিষ্ঠের সর্বোচ্চ কার্যকর RA পার্থক্য ছিল মাত্র ৩.৫ আর্কমিনিট

আরেকটি বড় সমস্যা হলো—এই দাবির ভিত্তি যে জ্যোতির্বিজ্ঞান সফটওয়্যার, তার নির্ভুলতা কতটা?


 জ্যোতির্বিজ্ঞান সফটওয়্যারের নির্ভুলতা

মহাভারতের সময় অরুন্ধতী বশিষ্ঠের সামনে ছিল—এই দাবি জ্যোতির্বিজ্ঞান সফটওয়্যারের গণনার উপর নির্ভর করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই সফটওয়্যারগুলো কি এত দূরের অতীতের জন্য যথেষ্ট নির্ভুল?

এই বিষয়ে Elio Antonello (ইতালীয় Society for Archeoastronomy-এর সাবেক সভাপতি) গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন:

তিনি বলেন, পৃথিবীর কক্ষপথের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য—যেমন

  • এক্লিপটিকের eccentricity

  • পৃথিবীর অক্ষের ঝোঁক (obliquity)

  • এক্লিপটিক ও বিষুব সমতলের ছেদ

  • perihelion-এর দ্রাঘিমা

  • এবং নোডের অবস্থান

—এসব সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়।

এই পরিবর্তনগুলো গণনা করতে বিভিন্ন গাণিতিক মডেল ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এগুলোর নির্ভুলতা যাচাই করা সম্ভব হয় মূলত বাস্তব পর্যবেক্ষণের সাথে তুলনা করে, আর বাস্তব পর্যবেক্ষণ সাধারণত কয়েক শত বছরের বেশি পুরোনো নয়

তাই তিনি বলেন, হাজার হাজার বছর আগের সময়ের জন্য এই মডেলগুলোর ফলাফল সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য বলা যায় না

অর্থাৎ সফটওয়্যার দিয়ে হিসাব করলে নক্ষত্রের অবস্থানে কয়েক আর্কমিনিট পর্যন্ত ত্রুটি থাকতে পারে, যা সময়ের হিসেবে কয়েক শত বছরের পার্থক্য তৈরি করতে পারে


সফটওয়্যার তুলনার ফল

Oak তার বিশ্লেষণে Voyager 4.5 সফটওয়্যার ব্যবহার করেছিলেন। সেখানে দেখা যায়:

  • ৪৫০৮ BCE থেকে ১১০৯১ BCE সময়ে অরুন্ধতী বশিষ্ঠের সামনে ছিল সর্বোচ্চ ৮.৬ আর্কমিনিট পর্যন্ত।

কিন্তু Stellarium 0.20.4 সফটওয়্যার দিয়ে করা অন্য বিশ্লেষণে দেখা যায়:

  • সর্বোচ্চ কার্যকর পার্থক্য মাত্র ৩.৫ আর্কমিনিট

অর্থাৎ দুই সফটওয়্যারের ফলাফলেই বড় পার্থক্য দেখা যায়।

আরও দেখা গেছে:

  • ৫৫০০ BCE-এ দুই সফটওয়্যারের গণনায়
    অরুন্ধতী ও বশিষ্ঠের Right Ascension-এ ১৩–১৪ আর্কমিনিট পর্যন্ত পার্থক্য আছে।

যেহেতু সফটওয়্যারের ত্রুটি যে মানটি মাপা হচ্ছে তার চেয়েও বেশি, তাই জ্যোতির্বিজ্ঞান সফটওয়্যার ব্যবহার করে “Epoch of Arundhatī” নির্ধারণ করা সম্ভব নয়


সারসংক্ষেপ

এই বিশ্লেষণ অনুযায়ী:

  1. অরুন্ধতী ও বশিষ্ঠের দূরত্ব এত কম ছিল যে খালি চোখে বোঝা সম্ভব নয়।

  2. জ্যোতির্বিজ্ঞান সফটওয়্যারের হিসাবেও বড় ত্রুটি থাকতে পারে।

  3. তাই অরুন্ধতী বশিষ্ঠের সামনে ছিল—এই পর্যবেক্ষণকে ব্যবহার করে মহাভারতের নির্দিষ্ট বছর নির্ধারণ করা নির্ভরযোগ্য নয়।

উপসংহার (Conclusions)

Nilesh Nilkanth Oak দাবি করেছেন যে মহাভারতের ঘটনা ১১০৯১ BCE এবং ৪৫০৮ BCE-এর বাইরে ঘটতে পারে না, কারণ এই সময়েই নাকি অরুন্ধতী (Arundhatī) বশিষ্ঠের (Vasiṣṭha) সামনে ছিল। এই দাবি করা হয়েছে মহাভারত ৬.২.৩১ শ্লোকের ভিত্তিতে, যেখানে অরুন্ধতীকে বশিষ্ঠের সামনে যেতে দেখা যায় বলে বলা হয়েছে।

কিন্তু সেই ঘটনাটি মহাভারতে একটি অশুভ লক্ষণ (omen) হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং এটি এমন কিছু অস্বাভাবিক লক্ষণের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে যেগুলো স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে। অর্থাৎ এর অর্থ দাঁড়ায় যে অরুন্ধতী আসলে বশিষ্ঠের পেছনেই ছিল, আর সামনে যাওয়াটা অস্বাভাবিক ঘটনার রূপক বর্ণনা।

Oak-এর মতে যদি মহাভারতের যুদ্ধ ৫৫৬১ BCE-এ হয়ে থাকে, তাহলে অরুন্ধতী বশিষ্ঠের সামনে ছিল—

  • যুদ্ধের ৫৫৩০ বছর আগে

  • এবং যুদ্ধের ১০৫৩ বছর পরে

তবুও মহাভারতের অন্য কোথাও অরুন্ধতীকে বশিষ্ঠের সামনে চলতে দেখা যায়—এমন কোনো বর্ণনা নেই।

আরও দেখা যায় যে:

  • ২০০০ BCE এবং ৩০০০ BCE-এ অরুন্ধতী ও বশিষ্ঠের Right Ascension পার্থক্য ছিল ৪৬ আর্কমিনিট,

  • কিন্তু প্রকৃত দূরত্ব ছিল মাত্র ১২ আর্কমিনিট

এছাড়া ৪৫০৮ BCE থেকে ১১০৯১ BCE সময়ে অরুন্ধতী ও বশিষ্ঠের সর্বোচ্চ কার্যকর RA পার্থক্য ছিল মাত্র ৩.৫ আর্কমিনিট

মানুষের চোখ সাধারণত ৫.৫ আর্কমিনিটের কম দূরত্বে থাকা দুটি নক্ষত্র আলাদা করতে পারে না। তাই এমন পর্যবেক্ষণ খালি চোখে করা সম্ভব ছিল না—even যদি অরুন্ধতী সত্যিই বশিষ্ঠের সামনে থেকেও থাকে।

এছাড়া Oak তার দাবিতে Voyager 4.5 নামের জ্যোতির্বিজ্ঞান সফটওয়্যারের নির্ভুলতা বিবেচনা করেননি। বাস্তবে এই ধরনের সফটওয়্যার এত দূরের অতীতের জন্য যথেষ্ট নির্ভুল নয়।

যখন Voyager 4.5 এবং Stellarium 0.20.4 সফটওয়্যারের হিসাব তুলনা করা হয়, তখন দেখা যায় ৫৫০০ BCE-এ অরুন্ধতী ও বশিষ্ঠের Right Ascension-এ ১৩–১৪ আর্কমিনিট পর্যন্ত পার্থক্য রয়েছে।

যেহেতু নক্ষত্রের অবস্থান নির্ধারণে সফটওয়্যারের ত্রুটি যে পার্থক্যটি মাপা হচ্ছে তার চেয়েও বেশি, তাই “Epoch of Arundhatī” নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

References

1. Oak, N.N., “When did the Mahabharata War Happen?”, Bhim USA, 2011, page 222 (not numbered, counted from last numbered page).

2. Detailed derivation at: https://astronavigationdemystified.com/2015/10/14/calculating-the-distance-between-meridians-of-longitude-along-a-parallel-of-latitude/.

3. Christopher Sarnecki, “Observing naked (or I got 5.5 arcminutes resolution)”, http://websites.umich.edu/~lowbrows/reflections/1999/csarnecki.6.html

4. Elio Antonello, “The Palaeolithic Sky”, in A. Orlando (ed.), The Light, The Stones and The Sacred, Astrophysics and Space Science Proceedings 48, pp. 159–164, 2017.

Note: The content of this series of articles is based on the three-part presentation author made on Sangam Talks on the refutation of the 5561 BCE dating of the Mahābhārata War. Here are the links to these presentations.

1. Refutation of the 5561 BCE dating of the Mahabharata War, Part 1: https://www.youtube.com/watch?v=W2YuGQRmZ9c

2. Refutation of the 5561 BCE dating of the Mahabharata War, Part 2: https://www.youtube.com/watch?v=7DiLSUFrTx8

3. Refutation of the 5561 BCE dating of the Mahabharata War, Part 3: https://www.youtube.com/watch?v=eop31blDa2c

Here are three other presentations refuting Mr. Nilesh Oak’s dating of Surya Siddhanta to 12000 BCE and Ramayana to 12209 BCE.

1. Dating the Surya Siddhanta: https://www.youtube.com/watch?v=55pvrTUWi94

2. Dating the Ramayana — Part 1: https://www.youtube.com/watch?v=2S0PO3SzqBc&t=5s

3. Dating the Ramayana — Part 2: https://www.youtube.com/watch?v=AKNkrgm1Tu0

No comments:

Post a Comment

ধন্যবাদ

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

গীতা সারাংশ

  বেদ বিহিত কর্মই ধর্ম। স্থিতপ্রজ্ঞ ধর্মানুরূপ কর্ম কর।  কর্মে তুমি স্বতন্ত্র ফল ভোগে অর্থাৎ ঐশ্বরিক বিধানে পরতন্ত্র॥ সর্বব্যাপক ন্যায়কারী প...

Post Top Ad

ধন্যবাদ