ঋষি – য়ম মন্ত্রোক্ত – য়ম দেবতা – ত্রিষ্টুপ ছন্দ – অথর্বা সূক্ত – পিতৃমেধ সূক্ত
ও চিৎ সখায়ং সখ্যা ববৃত্যাং তিরঃ পুরু চিদর্ণবং জগদ্বান্।
পিতুর্নপাতমা দধীত বেধা অধি ক্ষমি প্রতরং দীধ্যানঃ ॥
অথর্ব০ ১৮।১।১
ও ইতি॑ । চি॒ত্ । সখা॑য়ম্ । স॒খ্যা । ব॒বৃ॒ত্যা॒ম্ । তি॒রঃ । পু॒রু । চি॒ত্ । অ॒র্ণ॒বম্ । জ॒গ॒ন্বান্ । পি॒তুঃ । নপা॑তম্ । আ । দ॒ধী॒ত॒ । বেধাঃ । অধি॑ । ক্ষমি॑ । প্র॒ত॒রম্ । দীধ্যা॑নঃ ॥ (স্বরসহঃ পদপাঠ)
বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কারকৃত পদার্থ ভাষ্যঃ (সখ্যা) সখীভাবপূর্বক/সখী ভাবনায় (সখায়ম্) তোমার/সখার দিকে (আ ববৃত্যাম্) আমি আগমন করি, তোমাকে প্রাপ্ত হই - ইহা আমার অভিলাষা। তুমি ব্রহ্মচর্যরূপী (পুরূ অর্ণবম্ চিৎ) মহান্ তথা সদ্গুণ-সমূহ দ্বারা পরিপূর্ণ সমুদ্রকে (তিরঃ) অতিক্রম (জগন্বান্) করেছো, পার করেছো। (বেধাঃ) এইজন্য বিধিবিধান তুমি জানো। বিধিবিধানের জ্ঞাতার উচিৎ, (ক্ষমি অধি) পৃথিবীতে নিজের ভবিষ্যতের (প্রতরং দীধ্যানঃ) পূর্ণরূপে ধ্যান/মনন/স্মরণ/চিন্তন করা, (পিতুঃ) নিজ পিতার (নপাতম্) পৌত্র উৎপন্ন করার লক্ষ্য করে, (আ দধীত) বিবাহ-পূর্বক গর্ভাধান করা।
টিপ্পণীঃ
[১৮ তম কাণ্ডে পিতরদের বর্ণনা আছে। পিতরদের সত্তা/বিদ্যমানতা গৃহস্থ ধর্মের ওপর আশ্রিত। এইজন্য ১৮তম কাণ্ডের প্রারম্ভে বিবাহের চর্চা হয়েছে। বিবাহের চর্চা যমযমী-এর সংবাদরূপে করা হয়েছে। মন্ত্রগুলোতে যম-যমীকে যমজ ভাই-বোন রূপে উপস্থিত করা হয়েছে। যম তো ব্রহ্মচর্যাশ্রমে যম-নিয়মের পালন করে স্নাতক হয়ে এসেছে। এইজন্য সে বিবাহ আদির বিধিবিধান জানে। যমী হল যুবতি, কিন্তু বিবাহের বিধিবিধান থেকে অনভিজ্ঞ। সে যম-এর সাথে বিবাহ করতে চায়। এইজন্য যম-এর প্রতি বিশ্বাস প্রস্তাব দিচ্ছে। বিবাহের সপ্তপদীর বিধিতে "সখে সপ্তপদী ভব" দ্বারা বিবাহ-বন্ধন দৃঢ় হয়ে যায়। ইহাকেই মূল লক্ষ্য/উদ্দেশ্য করে যমী যমের প্রতি বলে,- আমি সখীভাবপূর্বক তোমাকে নিজের বিবাহিত সখা করতে চাই। অনেক প্রকারের উক্তি এবং প্রত্যুক্তির প্রসঙ্গে যম, ভাই-বোনের পারস্পরিক বিবাহকে তর্কসঙ্গত, অবৈজ্ঞানিক তথা শিষ্টাসম্মত দর্শিয়ে বিবাহ-সম্বন্ধের প্রত্যাখ্যান করে। যম-যমী ঐতিহাসিক ব্যক্তি নয়। অপিতু সংবাদের কল্পিত পাত্র। যেমন উপন্যাস, কথা-কাহিনী, এবং নাটকে পাত্র কল্পিত করে নেওয়া হয়। বেদে এমন সংবাদ প্ররোচনার্থ যত্র-তত্র পাওয়া যায়। যথা-উর্বশী ও পুরুরবা এর সংবাদ (ঋ০ ১০।৯৫); বিশ্বামিত্র ও নদীর সংবাদ (ঋ০ ৩।৩৩); সরমা ও পণিদের সংবাদ (ঋ০ ১০।১০৮)। এমন সংবাদকে নিরুক্তকার "আখ্যান" তথা "আখ্যায়িকা" বলেছে। ও=আ+উ। “আ” এর সম্বন্ধ/সম্পর্ক "ববৃত্যাম্" এর সাথে রয়েছে। তিরঃ এর অর্থ হল - সন্তরণ করে, সফলতাপূর্বক ব্রহ্মচর্যাশ্রম সমাপ্ত করে "তৄ সন্তরণে"। মহর্ষি দয়ানন্দ "ঋগ্বেদাদিভাষ্যভূমিকা" এর ব্রহ্মচর্য-প্রকরণে "স সদ্য এতি পূর্বস্মাদুত্তরং সমুদ্রম্" (অথর্ব০ ১১।৫।৬) এর অর্থ করেছেন- "স ব্রহ্মচারী (পূর্বস্মাৎ) ব্রহ্মচর্যানুষ্ঠানভূতাৎ সমুদ্রাৎ (উত্তরম্) গৃহাশ্রমসমুদ্রং শীঘ্রং প্রাপ্নোতি"। এইজন্য আমি মন্ত্র ১ এ "অর্ণবম্" পদের অর্থ "ব্রহ্মচর্যাশ্রম" করেছি, এবং এই অর্থ এখানে উপযুক্ত। পুরূ=মহান্, তথা "পৃ" (পূরণে)। নপাত=নপাৎ এর অর্থ হল "নাতি"। যমী "নপাৎ" এবং "পিতুঃ" শব্দের প্রয়োগ করে যমকে "পিতৃ-ঋণ" থেকে মুক্ত হওয়ার দিকে প্রেরিত করে। ইহা তখনই সম্ভব যখন যম বিবাহ করে পুত্রের নিমিত্ত গর্ভাধান করে। যমী সাথে এটাও বলে, পুত্র বিনা বৃদ্ধাবস্থা তথা রোগগ্রস্ত অবস্থায় জীবন অন্ধকারময় হয়ে যায়। অতঃ ভবিষ্যতের স্মরণ করিয়ে, সে যমকে বিবাহের জন্য প্রেরিত করে।]
টীকাঃ অথর্ববেদ ভাষ্য (শুভঙ্কর মণ্ডল / ক্ষেমকরন ত্রিবেদী)
১—(ও) সম্বোধনে (চিত্) ঐব (সখায়ম্) সুহৃদম্ (সখ্যা) সুপাংশুলুক্। पा. ৭।১।৩৯। বিভক্তের আকারঃ। সখ্যেন। বন্ধুত্ব দ্বারা (ববৃত্যাম্) বৃতু-বর্তনে লিঙ্, শপঃ শ্লুঃ। প্রবর্তয়েয়ম্ (তিরঃ) পারে (পুরু) বহুপ্রকারে (চিত্) ঐব (অর্ণবম্) অর্ণবং বিজ্ঞানম্—দয়ানন্দ ভাষ্যে, যজু. ১২।৪৯। ধাপৃবস্য জ্যতিভ্যো নঃ। উ. ৩।৬। ঋ গতিপ্রাপণযোঃ—ন প্রত্যয়ঃ, ততো মত্বর্থীয়ো বহ্। বিজ্ঞানযুক্ত শাস্ত্র (জগন্বান্) গমের্ লিটঃ ক্বাসুঃ। গতবান্ (পিতুঃ) স্বজনকস্য (নপাতম্) নপ্তারম্—পৌত্রম্ (আদধীত) আদধ্যাত্। সমন্তাদ্ ধারয়তু (বেধাঃ) মেধাবিনাম্—নিঘ. ৩।১৫। মেধাবীভবান্ (ক্ষমি অধি) ভূমের্ উপরি (প্রতরম্) প্রকৃষ্টতম্ (দীধ্যানঃ) দীধীং—দীপ্তি-দেবনযোঃ—শানচ্। দীপ্যমানঃ ॥
(ক্ষেমকরণ ত্রিবেদী) ভাবার্থঃ এই মন্ত্রটি স্ত্রীকাব্যচন। আমরা দু’জন বড় প্রেমিক, তুমি বেদাদি শাস্ত্রের জ্ঞানী বুদ্ধিমান পুরুষ—এমন প্রয়त्न করা উচিত যে, আমাদের উভয়ের সম্পর্ক থেকে উত্তম সন্তান উৎপন্ন হয় ॥১॥ এই সূক্তের মন্ত্র ১–১৬-তে যমী–যম অর্থাৎ যমজ বোন এবং ভাইয়ের সংলাপ বা প্রশ্ন–উত্তরের রীতিতে এটি বলা হয়েছে যে, তারা উভয়ই বোন–ভাই হয়ে পরস্পরের সঙ্গে কখনো বিবাহ করবে না; কিন্তু বোন ভাই ছাড়া অন্য পুরুষের সঙ্গে এবং ভাই বোন ছাড়া অন্য স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ করবে ॥ মন্ত্র ১–৫।
হরিশরণজীর পদার্থভাষ্যঃ
পদার্থ
১. যমী যমকে বলে যে— (ওচিত্) = নিশ্চয়ই (সখায়ম্) = মিত্ররূপ তোমাকে (সখ্যা) = মিত্রভাবের দ্বারা (আববর্ত্যাম্) = আবৃত করছি। ‘সখে সপ্তপদী ভব’—এই সপ্তম পদসংক্রান্ত বাক্য অনুসারে স্বামী-স্ত্রী এই সংসার-সমুদ্রে পরস্পরের সখা হয়ই; সেই জন্য আমি তোমাকে স্বামীরূপে কামনা করি যে— (পুরূচিত্) = এই অত্যন্ত বিস্তৃত (অর্ণবম্) = সংসার-সমুদ্রে (জগন্নান্) = গমনকারী মানুষ (তিরঃ) = অন্তর্হিত হয়ে যায়। মানুষ মৃত্যুগ্রস্ত হয়ে সংসার-সমুদ্রে লীন হয়ে যায়।
২. এই কথাটি মনে রেখেই (প্রতরং দীধ্যানঃ) = এই বিস্তৃত সমুদ্রের কথা চিন্তা করতে করতে (বেধাঃ) = বুদ্ধিমান পুরুষ (অধিক্ষমিঃ) = এই পৃথিবীতে (পিতুঃ নপাতমা) = পিতার বিনাশ না হতে দেওয়া সন্তানকে (আদধীত) = প্রতিষ্ঠা করে। এইভাবে এই নশ্বর দেহ নষ্ট হয়ে গেলেও সে সন্তানরূপে বিদ্যমান থাকে। যমীর যুক্তিক্রম এই যে— [ক] এই বিশাল সংসার-সমুদ্রে মানুষ অল্প সময়ের মধ্যেই অন্তর্হিত হয়ে যায়, [খ] সন্তানরূপেই তার চিহ্ন রয়ে যায়, [গ] অতএব সন্তানপ্রাপ্তির জন্য তুমি আমাকে স্ত্রীরূপে কামনা করো।
ভাবার্থ
এই বিশাল সংসার-সমুদ্রে মানুষ সন্তানরূপেই বিদ্যমান থাকে; অতএব সন্তানপ্রাপ্তির জন্য ‘যম’ ‘যমী’-কে কামনা করুক। ‘যম–যমী’ শব্দপ্রয়োগ থেকে স্পষ্ট যে স্বামী-স্ত্রী সংযত জীবনযাপনকারী হোক।
জয়দেব শর্মাকৃত পদার্থভাষ্যঃ
সন্তানের উদ্দেশ্য। আমি স্ত্রী (সখ্যা) = সখীভাব দ্বারা প্রেরিত হয়ে (সখায়ং চিত্) = নিজের আদরণীয় সখার ন্যায় স্বামীকে (আ ববৃত্যাম্ উ) = নিজেই বরণ করে নিয়েছি। আর (পুরূ) = অতিশয় মহান (অর্ণবম্ চিত্) = সাগরের ন্যায় বিস্তৃত, কাম্য জীবনকে (তিরঃ) = পার হয়ে (জগন্নান্) = অতিক্রমকারী (বেধাঃ) = বুদ্ধিমান পুরুষ (অধি ক্ষমি) = এই জগতে, পৃথিবীর উপর বা নিজের ভূমিরূপ স্ত্রীতে (প্রতরম্) = পুত্রকেই ভবসাগর পার হওয়ার উপায় বলে (দীধ্যানঃ) = বিবেচনা করতে করতে (পিতুঃ) = কন্যার পিতার (নপাতম্) = নাতি অথবা নিজের পিতার (নপাতম্) = বংশকে পতন থেকে রক্ষা করা বংশধর সন্তানকে (অধি ক্ষমি) = গর্ভধারণে সক্ষম স্ত্রীতে (আ দধীত) = স্থাপন করে।
ভ্রাতৃভগিনীপরস্পরবিবাহনিষেধোপদেশঃ−
ঋষি: যম দেবতা: ত্রিষ্টুপ ছন্দ: অথর্বা সূক্ত: পিতৃমেধ সূক্ত
নতে সখা সখ্যং বষ্ট্যেতৎ সলক্ষ্মা যদ বিষরূপা ভবাতি।
মহস্পুত্রাসো অসুরস্য বীরা দিবো ধর্তার উর্বিয়া পরি খ্যন্॥ অথর্ব০ ১৮।১।২
ন । তে॒ । সখা॑ । স॒খ্যম্ । ব॒ষ্টি॒ । এ॒তত্ । সऽল॑ক্ষ্মা । য॒ত্ । বিষু॑ऽরূপা । ভবা॑তি । মহঃ । পু॒ত্রাস॑ঃ । অসু॑রস্য । বী॒রাঃ । দি॒বঃ । ধ॒র্তার॑ঃ । উ॒র্বি॒য়া । পরি॑ । খ্য॒ন্ ॥ (স্বরসহিত পদপাঠ)
(ক্ষেমকরণ জী) পদার্থ ঃ (সখা) [এই] প্রেমী (তে) তোমার (এতৎ) এই (সখ্যম্) প্রীতি (ন) না (বষ্টি) চায়/কামনা করে−(যৎ) যে (সলক্ষ্মা) সমান [ধার্মিক] লক্ষণযুক্ত [তুমি] (বিষুরূপা) নানা স্বভাবগত [চঞ্চলঅধার্মিক] (ভবাতি) হয়ে যাও। (মহঃ) মহান্ (অসুরস্য) বুদ্ধিমান্ পুরুষের (দিবঃ) ব্যবহার/আচরণ (ধর্তারঃ) ধারণকারী, (বীরাঃ) বীর (পুত্রাসঃ) পুত্র (উর্বিয়া) ভূমিতে (পরি খ্যন্) বিখ্যাত হয়েছে ॥২॥
ভাবার্থঃ এই মন্ত্র পুরুষের উত্তর। হে স্ত্রী ! তুমি যে আমার থেকে পুত্রের কামনা করো, তা উচিত নয়, আমরা দুজন ধর্মাত্মা হয়ে অধর্ম না করি−কেননা কুল/বংশে উৎপন্ন ব্যবহার কুশল ধর্মাত্মা বীরই সংসারে কীর্তিমান্ হয় ॥২॥
বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার জীর টীকা ও পদার্থঃ
(তে) তোমার (সখা) সমান-খ্যাতিসম্পন্ন, তোমার (এতৎ) এই (সখ্যম্) সখ্যকে, (ন) না (বষ্টি) চায়/আকাঙ্ক্ষা করে; (যদ্) কেননা/কারণ (সলক্ষ্মা) তুমি সমান-লক্ষণযুক্ত। (বিষুরূপা) বিবাহের জন্য বধূ বিভিন্ন বিষম লক্ষণযুক্ত (ভবতি) হওয়া উচিৎ। (মহঃ অসুরস্য) মহাপ্রজ্ঞ ও মহাবলী পরমেশ্বর (বীরাঃ পুত্রাঃ) বীর পুত্র, (দিবঃ ধর্তারঃ) যিনি দ্যুলোকেরও ধারণকারী/ধর্তা, তিনি (উর্বিয়া) পৃথিবীরও (পরি খ্যন্) পূর্ণরূপে নিরীক্ষণ করছেন।
টিপ্পণীঃ [যম যমীর প্রতি বলে– রজবীর্যের দৃষ্টিতে আমরা দুজন সমান খ্যাতিসম্পন্ন, কারণ আমরা দুজন একই মাতা-পিতার যমজ সন্তান। এইজন্য রজ-বীর্যের গুণের দৃষ্টিতে সমান। তুমি বিবাহের প্রস্তাব করে, সমান লক্ষণযুক্ত হয়েও, বিভিন্ন লক্ষণযুক্ত নিজেকে উপস্থাপন করছো। সমান রজ-বীর্যসম্পন্নদের পরস্পর বিবাহ "Eugenic-science" অর্থাৎ উৎপত্তি/প্রজননশাস্ত্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। ঔষধি-সমূহ, বৃক্ষ-সমূহ, বনস্পতির মধ্যেও সজাতীয়, কিন্তু বিলক্ষণ গুণবিশিষ্ট শাখার কলম লাগানো হয়, তবেই এগুলোতে ফুল তথা ফল উৎকৃষ্ট গুণবিশিষ্ট হয়। বৈদিক ধর্মের দৃষ্টিতেও, বিবাহে মাতার সাত পুরুষ, তথা পিতার গোত্র পরিত্যাজ্য বলা হয়েছে। দেখো! আমরা কোথাও লুকিয়েও পরস্পর বিবাহ করতে পারবো না। কারণ সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান্ পরমেশ্বরের পুত্র অর্থাৎ নিয়ম, যা দ্যুলোকের অসংখ্য তারাগণের ধারণ করছে, পৃথিবীরও পূর্ণরূপে নিরীক্ষণ করছে। সেই নিয়ম-বীর, আমরা তা পরাস্ত করতে পারবোনা। তা সুদৃঢ় এবং কঠোর। উর্বিয়া = উর্বী + ডিয়াচ্। অসুর = অসু + র (বালা)। অসু=প্রজ্ঞা (নিঘং০ ৩।৯); অসু = প্রাণ (নিরু০ ৩।২।৮)। পুত্রাসঃ বীরাঃ=এই সুদৃঢ় নিয়মসমূহকে "পুত্র" বলা হয়েছে, যা সবকিছুর "পুনীত" করে, এবং সকলের "ত্রাণ" করে। নিয়মের শিথিলতা ভঙ্গ করে দেয়। অথর্ববেদে এই নিয়ম-সমূহকে "দিব্যস্পশঃ" অর্থাৎ দিব্যগুপ্তচরও বলা হয়েছে, যা এই জগতে বিচরণ করছে। যা মানোং সহস্র চক্ষুবিশিষ্ট যা ভূমি তথা ভূমি থেকে দূরেও নিরীক্ষণ করছে। যথা-"দিব স্পশঃ প্র চরন্তীদমস্য সহস্রাক্ষা অতি পশ্যন্তি ভূমিম্" (৪।১৬।৪)।]
হরিশরণজীর পদার্থভাষ্যঃ
পদার্থ
১. যমীকে যম বলে যে—সন্তানপ্রাপ্তির জন্য পুরুষ ও নারীর মিত্রভাব যথার্থই, কিন্তু (তে সখা) = সহোদ্ভূত হওয়ার কারণে তোমার মিত্র আমি (এতৎ সখ্যং) = এই স্বামী-স্ত্রীরূপ মিত্রতাকে (ন বষ্টি) = চাই না; (যৎ) = কারণ (সলক্ষ্মা) = সমলক্ষণযুক্ত কন্যা সন্তান উৎপত্তির জন্য (বিষুরূপা) = অত্যন্তই বিষমরূপা হয়ে থাকে। সন্তান উৎপত্তির ক্ষেত্রে সমলক্ষণত্ব ক্ষতিকর। এই ধরনের সম্পর্কে বিকৃত ও স্বল্পায়ু সন্তান জন্ম নেয়।
২. (মহস্পত্ৰাসঃ) = তেজস্বিতার দ্বারা নিজেকে পবিত্র ও রক্ষিতকারী (পুনাতি ত্রায়তে), (অসরস্য বীরাঃ) = সেই প্রাণশক্তি প্রদানকারী প্রভুর বীর সন্তানরা (অসুন্ রাতি), (দিবঃ ধর্তারঃ) = আলোক ও জ্ঞানের ধারক ব্যক্তিরা এই নিকট সম্পর্ককে (উর্বিয়াপরিখ্যন্) = অত্যন্ত কঠোরভাবে নিষেধ করেন। নিকট সম্পর্কে—[ক] সন্তান তেজস্বী হয় না, কারণ এই সম্পর্ক ভোগবৃত্তিকেই প্রাধান্য দেয়; [খ] আমরা সেই প্রভুর সন্তান না থেকে প্রকৃতির সন্তান হয়ে যাই এবং সন্তানরা ক্ষীণ প্রাণশক্তিসম্পন্ন হয়; [গ] এই সম্পর্ক হলে জ্ঞানও ক্ষীণ হয়ে যায়।
ভাবার্থ
নিকট সম্পর্ক বিকৃত সন্তান জন্ম দেয়। এর ফলে সন্তান নি:তেজ, বিলাসপ্রবণ ও ক্ষীণ জ্ঞানসম্পন্ন হয়ে থাকে।
ভ্রাতৃভগিনীপরস্পরবিবাহনিষেধোপদেশঃ−
ঋষি – যম মন্ত্রোক্ত – যম দেবতা – ত্রিষ্টুপ ছন্দ – অথর্বা সূক্ত – পিতৃমেধ সূক্ত
উশান্ত ঘা তে অমৃতাস এতদেকস্য চিৎ ত্যজসং মর্ত্যস্য।
নি তে মনো মনসি ধায্যস্মে জন্যুঃ পতিস্তবমা বিবিশ্যাঃ॥ অথর্ব০ ১৮।১।৩
উ॒শন্তি॑ । ঘ॒ । তে । অ॒মৃতা॑সঃ । এ॒তত্ । এক॑স্য । চি॒ত্ । ত্য॒জস॑ম্ । মর্ত্য॑স্য । নি । তে॒ । মন॑ঃ । মন॑সি । ধা॒য়ি॒ । অ॒স্মে ইতি॑ । জন্যু॑ঃ । পতি॑ঃ । ত॒ন্ব᳡ম্ । আ । বি॒বি॒শ্যা॒ঃ ॥ (স্বরসহিত পদপাঠ)
অথর্ববেদ ভাষ্য ( বাংলা অনুবাদক-- শুভঙ্কর মণ্ডল / ভাষ্য়কার- ক্ষেমকরন ত্রিবেদী)
পদার্থঃ (তে) সেই (অমৃতাসঃ) অমর [যশস্বী] লোকেরা (ঘ) অবশ্যই (এতৎ) এইভাবে (একস্য) এক [অদ্বিতীয়, অতি শ্রেষ্ঠ] (মর্ত্যস্য) মনুষ্যের (চিৎ) ই (ত্যজসম্) সন্তানের (উশন্তি) কামনা করে। (তে মনঃ) তোমার মন (অস্মে) আমার (মনসি) মনের মধ্যে (নি ধায়ি) স্থিত হোক, এবং (জন্যুঃ) উৎপন্নকারী/জন্ম প্রদায়ী (পতিঃ) পতি [হয়ে] (তন্বম্) [আমার] শরীরের মধ্যে (আ বিবিশ্যাঃ) প্রবেশ করো ॥৩॥
ভাবার্থঃ স্ত্রী-এর বচন।মহাত্মাগণ মান্য করে, অদ্বিতীয় বীর পুরুষের সন্তান অদ্বিতীয় বীর হয়, এইজন্য তুমি শ্রেষ্ঠ হয়ে আমার সাথে বিবাহ করে শ্রেষ্ঠ সন্তান উৎপন্ন করো ॥৩॥
অথর্ববেদ ভাষ্য ( বাংলা অনুবাদক--শুভঙ্কর মণ্ডল / ভাষ্য়কার- বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার)
পদার্থঃ (তে) সেই (অমৃতাসঃ) অমর সুদৃঢ় নিয়ম (ঘ) নিশ্চিতরূপে (এতৎ) ইহা (উশন্তি) চায়/কামনা করে (একস্য) প্রত্যেক (মর্ত্যস্য চিৎ) মরণধর্মা প্রাণীর (ত্যজসম্)১ সন্তান হোক। (তে) হে যম! তোমার (মনঃ) মন (অস্মে) আমার (মনসি) মনের অনুকূলে (নি ধায়ি) হয়ে যাক, তুমি (জন্যুঃ পতিঃ) কেবল জন্মদাতা নিযুক্ত পতি হয়ে (তন্বম্) আমার শরীরে (আ বিবিশ্যাঃ) অধিকার করো।
টিপ্পণীঃ
[যমী যম-এর প্রতি বলে,- স্ত্রী ও পুরুষের মধ্যে পার্থক্য, তথা এঁদের মধ্যে নিষ্ঠ পারস্পরিক পুত্রোৎপাদন-নিমিত্ত কামবাসনা — ইহা অমর সুদৃঢ় নিয়মের কারণে, যা সন্তানোৎপাদনের জন্য প্রত্যেক মরণধর্মা প্রাণীর মধ্যে নিহিত করা হয়েছে। এইজন্য আমার ইচ্ছার অনুকূলে তুমি নিজের ইচ্ছা/কামনা করে নাও, এবং আমার শরীরের স্বামী হয়ে সন্তানোৎপাদন করে মন্ত্রে "জন্যুঃ" পদ, যম-এর মধ্যে জননশক্তির বিদ্যমানতা ও তাঁর নিয়োগ দ্বারা সন্তানোৎপাদকতার সূচক।] [১. ত্যজসম্=ত্যাগং গর্ভান্নির্গমনম্, উৎপত্তিম্- (সায়ণ)।]
ভ্রাতৃভগিনীপরস্পরবিবাহনিষেধোপদেশঃ−
ঋষি – যম মন্ত্রোক্ত – যম দেবতা – ত্রিষ্টুপ্ ছন্দ – অথর্বা সূক্ত – পিতৃমেধ সূক্ত
न य॑त्पु॒राच॑कृ॒मा कद्ध॑ नू॒नमृ॒तं वद॑न्तो॒ अनृ॑तं॒ रपे॑म। ग॑न्ध॒र्वो अ॒प्स्वप्या॑ च॒योषा॒ सा नौ॒ नाभिः॑ पर॒मं जा॒मि तन्नौ॑ ॥
ন যৎ পুরা চকুমা কদ্ধ নূনমৃতং বদন্তো অনূতং রপেম।
গন্ধর্বো অস্বপ্যা চ যোষা সা নৌ নাভিঃ পরমং জামি তন্নৌ ॥ অথর্ব০ ১৮।১।৪
ন । যত্ । পু॒রা । চ॒কৃ॒ম । কত্ । হ॒ । নূ॒নম্ । ঋ॒তম্ । বদ॑ন্তঃ । অনৃ॑তম্ । র॒পে॒ম॒ । গ॒ন্ধ॒র্বঃ । অ॒প্ঽসু । অপ্যা॑ । চ॒ । যোষা॑ । সা । নৌ॒ । নাভি॑ঃ । প॒র॒মম্ । জা॒মি । তত্ । নৌ॒ ॥ (স্বরসহ পদপাঠ)
অথর্ববেদ ভাষ্য ( বাংলা অনুবাদক-- শুভঙ্কর মণ্ডল / ভাষ্য়কার- ক্ষেমকরন ত্রিবেদী)
পদার্থঃ (যৎ) যে [কর্ম] (পুরা) পূর্বে (ন চকৃম) আমরা করিনি, (কৎ) কেমনভাবে (হ) নিশ্চিতরূপে (নূনম্) এখন (ঋতম্) সত্য (বদন্তঃ) বলে আমরা (অনৃতম্) অসত্য (রপেম) বলবো [যেমন] (অপ্সু) সৎকর্ম (গন্ধর্বঃ) রক্ষণকারী পুরুষ (চ) এবং (অপ্যা) সৎকর্মে প্রসিদ্ধ (যোষা) সেবিকা স্ত্রী [হোক/হয়], (সা) তা (নৌ) আমাদের দুজনের (নাভিঃ) বন্ধুত্ব, এবং (তৎ) তা (নৌ) আমাদের দুজনের (পরমম্) সর্বোচ্চ/পরম (জামি) সম্বন্ধ [হোক] ॥৪॥
ভবার্থঃ পুরুষের বচন। তুমি বলো−শ্রেষ্ঠ পুরুষের সন্তান শ্রেষ্ঠ হয়, কিন্তু আমি মর্যাদা লঙ্ঘন করে অসত্য কখনও বলবো না। স্ত্রী-পুরুষ সদা সৎকর্ম করুক, ইহাই দুজনের মধ্যে পরস্পর স্নেহের কারণ ॥৪॥
( বাংলা অনুবাদক--শুভঙ্কর মণ্ডল / ভাষ্য়কার- বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার)
गर्भे॒ नु नौ॑जनि॒ता दम्प॑ती कर्दे॒वस्त्वष्टा॑ सवि॒ता वि॒श्वरू॑पः। नकि॑रस्य॒ प्र मि॑नन्तिव्र॒तानि॒ वेद॑ नाव॒स्य पृ॑थि॒वी उ॒त द्यौः ॥
গর্ভে নু নৌ জনিতা দম্পতী কর্দেবস্তুষ্টা সবিতা বিশ্বরূপঃ।
নকিরস্য প্র মিনন্তি ব্রতানি বেদ নাবস্য পৃথিবী উত দ্যৌঃ ॥ অথর্ব০ ১৮।১।৫
গর্ভে॑ । নু । নৌ॒ । জ॒নি॒তা । দম্প॑তী॒ ইতি॒ দম্ঽপ॑তী । ক্ব॒ । দে॒বঃ । ত্বষ্টা॑ । স॒বি॒তা । বি॒শ্বऽরূ॑পঃ । নকি॑ঃ । অ॒স্য॒ । প্র । মি॒ন॒ন্তি॒ । ব্র॒তানি॑ । বেদ॑ । নৌ॒ । অ॒স্য । পৃ॒থি॒বী । উ॒ত । দ্যৌঃ ॥ (স্বরসহ পদপাঠ)
को अ॒द्ययु॑ङ्क्ते धु॒रि गा ऋ॒तस्य॒ शिमी॑वतो भा॒मिनो॑ दुर्हृणा॒यून्।आ॒सन्नि॑षून्हृ॒त्स्वसो॑ मयो॒भून्य ए॑षां भृ॒त्यामृ॒णध॒त्स जी॑वात् ॥
কো অদ্য যুক্ত ধুরি গা ঋতস্য শিমীবতো ভামিনো দুর্ছণায়ূন।
আসন্নিষুন্ হৃৎস্বসো ময়োভূন য এষাং ভৃত্যামৃণধৎ স জীবাৎ ॥ অথর্ব০ ১৮।১।৬
কঃ । অ॒দ্য । যুঙ্ক্তে॒ । ধু॒রি । গাঃ । ঋ॒তস্য॑ । শিমী॑ऽবতঃ । ভা॒মিন॑ঃ । দু॒ঃऽহৃ॒ণা॒য়ূন্ । আ॒সন্ঽই॑ষূন্ । হৃ॒ৎসুऽঅস॑ঃ । ম॒য়॒ঃऽভূন্ । যঃ । এ॒ষা॒ম্ । ভৃ॒ত্যাম্ । ঋ॒ণধ॑ত্ । সঃ । জী॒বা॒ত্ ॥ (স্বর সহঃ পদপাঠ)
को अ॒स्य वे॑दप्रथ॒मस्याह्नः॒ क ईं॑ ददर्श॒ क इ॒ह प्र वो॑चत्। बृ॒हन्मि॒त्रस्य॒ वरु॑णस्य॒धाम॒ कदु॑ ब्रव आहनो॒ वीच्या॒ नॄन् ॥
কো অস্য বেদ প্রথমস্যাহ্নঃ ক ঈং দদর্শ ইহ প্র বোচৎ।
বৃহন্মিত্রস্য বরুণস্য ধাম কদু ব্রব আহনো বীচ্যা নূন্ ॥ অথর্ব০ ১৮।১।৭
কঃ । অ॒স্য । বে॒দ॒ । প্র॒থ॒মস্য॑ । অহ্ন॑ঃ । কঃ । ঈ॒ম্ । দ॒দ॒র্শ॒ । কঃ । ই॒হ । প্র । বো॒চ॒ত্ । বৃ॒হত্ । মি॒ত্রস্য॑ । বরু॑ণস্য । ধাম॑ । কত্ । ঊং॒ ইতি॑ । ব্র॒ব॒ঃ । আ॒হন॒ঃ । বীচ্যা॑ । নॄন্ ॥ (স্বর সহঃ পদপাঠ)
টিপ্পণী
৭- (কঃ) = প্রশ্নবাচক। কে (অস্য) = এই (জগতঃ) = জগতের (বেদ) = জানে (প্রথমস্য) = প্রথমের (অহ্নঃ) = দিনের (অহঃ) = দিনকে? (কঃ) = কে (ঈম্) = এই (ইদং দিনম্) = এই দিনকে (দদর্শ) = দেখেছে? (কঃ) = কে (ইহ) = এখানে, এই বিষয়ে (প্র বোচৎ) = প্রকাশ করে বলতে পারে? (বৃহৎ) = মহান (মিত্রস্য) = মিত্রের, অর্থাৎ (ডুমিঞ্ প্রক্ষেপণে–ক্ত্র) = সর্বপ্রেরক (বরুণস্য) = শ্রেষ্ঠ পরমেশ্বর বরুণের (ধাম) = ধারণশক্তি, সামর্থ্য, (প্রভাবঃ) = প্রভাব (কত্) = কীভাবে (উ) = পদপূরণার্থক (ব্রবঃ) = বলবে? (ব্রবীষি) = তুমি বলছ। (আহনঃ) = আঙ্ + হন্ (হিংসা ও গতি অর্থে) + অসুন্; হে আঘাতকারী স্বভাবযুক্ত, ক্লেশকারিণী। (বীচ্যা) = ব্যচ্ ব্যাজীকরণে + কি প্রত্যয়; ছান্দস দীর্ঘ। (নৃন্) = ছল দ্বারা মানুষদের পরিচালনা করে—নয়তে ডিচ্চ; উ০ ২।১০০। (ণীঞ্) = প্রাপ্তি অর্থে + ঋ, এবং তা ডিত্; (নেতৃন্) = পুরুষদের।
পদার্থঃ (অস্য) = এই সংসারের (প্রথমস্য অহ্নঃ) = প্রথম দিনের বিষয়ে (কঃ বেদ) = কে জানে? (ঈম্) = এই জগতকে সৃষ্টি হতে থাকা অবস্থায়ও (কঃ দদর্শ) = কে দেখেছে? (ইহ) = এই বিষয়ে (কঃ প্রবোচৎ) = কে বলতে পারে? (মিত্রস্য) = সকলের স্নেহশীল (বরুণস্য) = সর্বশ্রেষ্ঠ পরমাত্মার (ধাম) = তেজ ও ধারণক্ষমতাও (বৃহৎ) = অত্যন্ত মহান। (নৃন্) = সমস্ত মানুষের (বীচ্য) = বিচার-বিবেচনা করে, হে (আহনঃ) = হৃদয়ে আঘাতকারী অথবা হৃদয়ে প্রবেশকারিণী প্রিয়তমে! তুমি (কত্ উ) = কীই বা (ব্রবঃ) = বলতে পারো?
य॒मस्य॑ माय॒म्यं काम॒ आग॑न्त्समा॒ने योनौ॑ सह॒शेय्या॑य। जा॒येव॒ पत्ये॑ त॒न्वंरिरिच्यां॒ वि चि॑द्वृहेव॒ रथ्ये॑व च॒क्रा ॥
যমস্য মা যম্যং কাম আগন্ৎসমানে যোনৌ সহশেয্যায়।
জায়েব পত্যে তন্বং রিরিচ্যাং বি চিদ বৃহেব রথ্যেব চক্রা ॥ অথর্ব০ ১৮।১।৮
য॒মস্য॑ । মা॒ । য॒ম্য᳡ম্ । কাম॑ঃ । আ । অ॒গ॒ন্ । স॒মা॒নে । যোনৌ॑ । স॒হ॒ऽশেয়্যা॑য় । জা॒য়া॑ঽইভ । পতিয়ে॑ । ত॒ন্ব᳡ম্ । রি॒রি॒চ্যা॒ম্ । বি । চি॒ত্ । বৃ॒হে॒ব॒ । রথ্যা॑ঽইভ । চ॒ক্রা ॥ (স্বর সহঃ পদপাঠ)
পদার্থ
১. (যমস্য) = তোমার, যমের (কামঃ) = প্রেম (যম্যং মা) = আমার, যমীর প্রতি (আগন্) = আগত হোক। (সমানে যোনৌ) = একই গৃহে (সহশেয়্যায়) = একসঙ্গে বাস করার জন্য আমরা হই।
২. হে যম! তুমি আমার কামনা করো এবং আমি (জায়া ইব) = স্ত্রীর ন্যায় (ভান্তি পত্যে) = স্বামীর রূপে তোমার জন্য (তন্বং রিরিচ্যাম্) = নিজের দেহ প্রকাশ করি; অর্থাৎ আমরা পরস্পর স্বামী-স্ত্রী রূপে থাকি। (চিত) = এবং নিশ্চিতভাবেই (বিবৃহেব) = আমরা ধর্ম, অর্থ ও কামরূপ পুরুষার্থের জন্য উদ্যোগী হই। (রথ্যা চক্রা ইব) = যেমন রথের দুই চাকা রথকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেয়, তেমনই আমরা স্বামী-স্ত্রী এই জীবনরথের দুই চাকার ন্যায় হয়ে জীবনকে সফল করি।
ভাবার্থ
যমী বলে—হে যম! তোমার কি আমার প্রতি প্রেম নেই? আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক স্বাভাবিক। আমরা স্বামী-স্ত্রী হয়ে ধর্ম, অর্থ ও কাম প্রভৃতি পুরুষার্থ সাধন করে জীবনকে সফল করি।
न ति॑ष्ठन्ति॒ ननि मि॑षन्त्ये॒ते दे॒वानां॒ स्पश॑ इ॒ह ये च॑रन्ति। अ॒न्येन॒ मदा॑हनो याहि॒तूयं॒ तेन॒ वि वृ॑ह॒ रथ्ये॑व च॒क्रा ॥
ন তিষ্ঠন্তি ন নি মিষন্ত্যেতে দেবানাং স্পশ ইহ যে চরন্তি।
অন্যেন মদাহনো যাহি তুয়ং তেন বি বৃহ রথ্যেব চক্রা ৷ অথর্ব০ ১৮।১।৯
ন । তি॒ষ্ঠ॒ন্তি॒ । ন । নি । মি॒ষ॒ন্তি॒ । এ॒তে । দে॒বানা॑ম্ । স্পশ॑ঃ । ই॒হ । যে । চর॑ন্তি । অ॒ন্যেন॑ । আ॒হন॒ঃ । যা॒হি॒ । তূয়॑ম্ । তেন॑ । বি । বৃ॒হ॒ । রথ্যা॑ঽইভ । চ॒ক্রা ॥ (স্বর সহ পদপাঠ)
হরিশরণ সিদ্ধান্তলঙ্কারকৃত ভাষ্যঃ
১. যম উত্তর দিতে গিয়ে বলে যে— ‘আমাদের এই সম্পর্ক গোপনই থেকে যাবে’—এভাবে ভাবা ঠিক নয়। মানুষ জানতে না পারলেও, সূর্য প্রভৃতি দেবতারা আমাদের এই কর্ম অবশ্যই দেখে থাকেন।
(যে এতে) = যারা এই, (দেবানাং স্পশঃ) = দেবতাদের গুপ্তচর, মানুষের আচরণ লক্ষ্য করে (ইহ চরন্তি) = এখানে বিচরণ করে, (ন তিষ্ঠন্তি) = তারা দাঁড়িয়ে থাকে না, (ন নিমিষান্তি) = পলকও ফেলে না। অর্থাৎ, এই দেবতারা অদৃশ্য অবস্থায় আমাদের সমস্ত কর্ম জেনে থাকেন।
২. অতএব, হে (আহনঃ) = গতি দ্বারা সকল অকল্যাণ নাশকারিণী আমার ভগিনী! (মদ্ অন্যেন) = আমার থেকে ভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে (তূয়ম্) = তুমি (শীন) (যাহি) = এই জীবনযাত্রায় অগ্রসর হও। (তেন) = তারই সঙ্গে (বিবৃহ) = ধর্ম, অর্থ ও কামরূপ পুরুষার্থের জন্য উদ্যোগী হও। তার সঙ্গে মিলিত হয়ে তোমরা উভয়ে (রথ্যা চক্রা ইব) = রথের চাকার ন্যায় জীবনযাত্রায় ক্রমশ অগ্রসর হতে থাকো।
ভাবার্থঃ দেবতারা আমাদের প্রতিটি কর্ম দেখছেন; অতএব নিকট আত্মীয় সম্পর্ককে দূরে রেখে, দূর সম্পর্ক স্থাপন করে ধর্মার্থ ও কামরূপ পুরুষার্থ সাধনে প্রবৃত্ত হওয়া উচিত।
ऋषि- यम, मन्त्रोक्तदेवता- त्रिष्टुप्छन्द- अथर्वासूक्तम्- पितृमेध सूक्त
रात्री॑भिरस्मा॒अह॑भिर्दशस्ये॒त्सूर्य॑स्य॒ चक्षु॒र्मुहु॒रुन्मि॑मीयात्। दि॒वा पृ॑थि॒व्यामि॑थु॒ना सब॑न्धू य॒मीर्य॒मस्य॑ विवृहा॒दजा॑मि ॥
রাত্রীভিরস্মা অহভির্দশস্যেৎ সূর্যস্য চক্ষুর্মুহুরুন্মিমীয়াৎ।
দিবা পৃথিব্যা মিথুনা সবন্ধু যমীর্যমস্য বিবৃহাদজামি ॥ অথর্ব০ ১৮।১।১০
রা॒ত্রী॑ভিঃ । অ॒স্মৈ॒ । অহ॑ऽভিঃ । দ॒শ॒স্যে॒ত্ । সূর্য॑স্য । চক্ষু॑ঃ । মুহু॑ঃ । উৎ । মি॒মী॒য়া॒ত্ । দি॒বা । পৃ॒থি॒ব্যা । মি॒থু॒না । সব॑ন্ধূ॒ ইতি॒ সऽব॑ন্ধূ । য॒মীঃ । য॒মস্য॑ । বি॒বৃ॒হা॒ত্ । অজা॑মি ॥ (স্বর সহ পদপাঠ)
২. যেমন (দিবা পৃথিব্যা) = দ্যুলোক ও পৃথিবীলোক পরস্পরের সঙ্গে যুগল-সম্পর্কযুক্ত, একসঙ্গে ও সমান বন্ধুত্বপূর্ণ থাকে, তেমনই তারাও পরস্পর বন্ধুত্বসম্পন্ন হোক। দ্যুলোক ও পৃথিবীলোক যেমন বহু দূরে অবস্থিত, তেমনি যম চায় যে তার বোন ও তার ভবিষ্যৎ স্বামীও পরস্পর সुदূর অবস্থানকারী হোক। (যমীঃ) = সংযত জীবনযাপনকারী আমার বোন (যমস্য) = আমার, যমের (অজামি) = অসংযুক্ত ব্যক্তি, অর্থাৎ কোনো দূর গোত্রের পুরুষকেই (বিবৃহাত্) = বর্ধনকারী হোক—তারই বংশবৃদ্ধি সাধনকারী হয়ে উঠুক।
ऋषि- यम, मन्त्रोक्तदेवता- त्रिष्टुप्छन्द- अथर्वासूक्तम्- पितृमेध सूक्त
आ घा॒ ताग॑च्छा॒नुत्त॑रा यु॒गानि॒ यत्र॑ जा॒मयः॑ कृ॒णव॒न्नजा॑मि। उप॑ बर्बृहि वृष॒भाय॑बा॒हुम॒न्यमि॑च्छस्व सुभगे॒ पतिं॒ मत् ॥
আ ঘা তা গচ্ছানুত্তরা যুগানি যত্র জাময়ঃ কৃণবন্নজামি।
উপ ববৃহি বৃষভায় বাহুমন্যমিচ্ছস্ব সুভগে পতিং মৎ ॥ অথর্ব০ ১৮।১।১১
আ । ঘ॒ । তা । গ॒চ্ছা॒न् । উৎ্তা॑রা । যু॒গনি॑ । যত্র॑ । জা॒ময॑ঃ । কৃ॒ণব॑न् । অজা॑মি । উপ॑ । ব॒র্বৃ॒হী॒ । বৃ॒ষ॒ভায়॑ । বা॒হুম্ । অ॒ন্যম্ । ই॒চ্ছ॒স্ব॒ । সু॒’ভগে॒ । পতি॑ম্ । মত্ ॥ (স্বর সহ পদপাঠ)
किंभ्राता॑स॒द्यद॑ना॒थं भवा॑ति॒ किमु॒ स्वसा॒ यन्निरृ॑तिर्नि॒गच्छा॑त्। काम॑मूताब॒ह्वे॒तद्र॑पामि त॒न्वा॑ मे त॒न्वं सं पि॑पृग्धि ॥
কিং ভ্রাতাসদ যদনাথং ভবাতি কিমু স্বসা যন্নিঋতিনিগচ্ছাৎ।
কামমৃতা বহৃেত রপামি তন্বা মে তন্বং সং পিপৃদ্ধি ৷ অথর্ব০ ১৮।১।১২
কিম্ । ভ্রাতা॑ । অ॒সৎ । যত্ । অনা॒থम् । ভবা॑তি । কিম্ । ঊং॒ ইতি॑ । স্বসা॑ । যত্ । নিঃঋ॑তিঃ । নিঃগচ্ছা॑ত্ । কাম॑অমূতা । ব॒হূ । এ॒তত্ । র॒পা॒মি॒ । ত॒ন্ব᳡ । মে॒ । ত॒ন্ব᳡ম্ । সম্ । পি॒পৃ॒গ্ধি॒ ॥ (স্বর সহ পদপাঠ)
টিপ্পণীঃ [মুতা = মূ বন্ধনে। নির্ঋতিঃ= ভাই একা থাকবে, এবং কষ্ট ভোগ করবে- ইহাও বোনের জীবিত থাকা অবস্থায় সঠিক নয়। এইভাবে যমী যমকে এটা বোঝায়, আমাদের পরস্পর বিবাহ হলে না আমি অনাথ থাকবো, এবং না তুমি কষ্ট ভোগ করতে থাকবে। অনাথম্= ভবাতি এর ক্রিয়াবিশেষণ।]
न ते॑ ना॒थंय॒म्यत्रा॒हम॑स्मि॒ न ते॑ त॒नूं त॒न्वा॒ सम्प॑पृच्याम्। अ॒न्येन॒ मत्प्र॒मुदः॑कल्पयस्व॒ न ते॒ भ्राता॑ सुभगे वष्ट्ये॒तत् ॥
ন তে নাথং যম্যত্রাহমস্মি ন তে তনূং তন্বা সং পপৃচ্যাম্।
অন্যেন মৎ প্রমুদঃ কল্পয়স্ব ন তে ভ্রাতা সুভগে বষ্ট্যেতৎ ৷৷ অথর্ব০ ১৮।১।১৩
স্বরযুক্ত পদপাঠঃ ন। তে॒। না॒থম্। যমি॒। অত্র॑। অ॒হম্। অ॒স্মি॒। ন। তে॒। ত॒নূম্। ত॒ন্বা। সম্। পপৃ॒চ্ছ্যাম্।
অন্যেন॑। মত্। প্র॒মুদঃ। ক॒ল্পয়স্ব। ন। তে॒। ভ্রাতা॑। সু॒ভগে॒। বষ্টি। এ॒তত্॥
স্বরছাড়া পদপাঠঃ ন। তে। নাথম্। যমি। অত্র। অহম্। অস্মি। ন। তে। তনূম্। তন্বা। সম্। পপৃচ্ছ্যাম্। অন্যেন। মত্। প্রামুদঃ। কল্পয়স্ব। ন। তে। ভ্রাতা। সু’ভগে। বষ্টি। এতত্॥
পদার্থভাষ্যঃ হে (যমি) = যমী! যতেন্দ্রিয় প্রিয়তম! নিজের আকাঙ্ক্ষার পরিপূর্ণতা না থাকা সত্ত্বেও স্বামী গৃহে সংযমে থাকা নারী! (তে নাথম্) = তোমার সন্তানলাভ, আশা ও প্রয়োজনের জন্য (অহম্) = আমি (ন অস্মি) = পূর্ণ করতে সক্ষম নই। এবং এই কারণে (তে তনূম্) = তোমার দেহের সঙ্গে আমার (তন্বঃ) = দেহের (ন সম্পপৃচ্ছ্যাম্) = সংস্পর্শ ঘটাই না। অতএব (মত্ অন্যেন) = আমার থেকে ভিন্ন অন্য পুরুষের সঙ্গে নিজের (প্রামুদঃ) = হৃদয়ের কাম্য আনন্দগুলি (কল্পয়স্ব) = উপভোগ কর। হে (সুভগে) = সৌভাগ্যবতী! তোমার আক্ষেপ অনুযায়ী এই অসক্ষম স্বামী (তে ভ্রাতা) = তোমার ভ্রাতা হোক। সে (এতৎ) = এই দেহসংস্পর্শ ইত্যাদি কাজ (ন বষ্টি) = করতে চায় না। (জয়দেবশর্মা)
ऋषि- यम, मन्त्रोक्तदेवता- भुरिक् त्रिष्टुप्छन्द- अथर्वासूक्तम्- पितृमेध सूक्त
न वा उ॑ ते त॒नूंत॒न्वा॒ सं पि॑पृच्यां पा॒पमा॑हु॒र्यः स्वसा॑रं नि॒गच्छा॑त्। असं॑यदे॒तन्मन॑सोहृ॒दो मे॒ भ्राता॒ स्वसुः॒ शय॑ने॒ यच्छयी॑य ॥
ন বা উ তে তনুং তন্বা সং পপৃচ্যাং পাপমাহুর্যঃ স্বসারং নিগচ্ছাৎ।
অসংযদেতন্মনসো হৃদো মে ভ্রাতা স্বসুঃ শয়নে যচ্ছয়ীয় ॥ অথর্ব০ ১৮।১।১৪
ब॒तो ब॑तासि यम॒नैव ते॒ मनो॒ हृद॑यं चाविदा॒म। अ॒न्या किल॒ त्वां क॒क्ष्येव यु॒क्तं परि॑ष्वजातौ॒ लिबु॑जेव वृ॒क्षम् ॥
বতো বতাসি যম নৈব তে মনো হৃদয়ং চাবিদাম।
তস্য বা ত্বং মন ইচ্ছা স বা তবাধা কৃণুম্ব সম্বিদং সুভদ্রাম্ ॥ অথর্ব০ ১৮।১।১৫
ব॒তঃ । ব॒ত॒ । অ॒সি॒ । য॒ম॒ । ন । এ॒ভ । তে॒ । মন॑ঃ । হৃদ॑য়ম্ । চ॒ । অ॒বিদা॒ম॒ । অ॒ন্যা । কিল॑ । ত্বাম্ । ক॒ক্ষ্যা᳡ऽইভ । যু॒ক্তম্ । পরি॑ । স্ব॒জাতৈ॒ । লিবু॑জাঽইভ । বৃ॒ক্ষম্ ॥ (স্বরসহ পদপাঠ)
ভ্রাতৃভগিনীপরস্পরবিবাহনিষেধোপদেশঃ−
পদার্থঃ (বত) হ্যাঁ ! (যম) হে যম ! [ভাই] তুমি (বতঃ) অতি নির্বল (অসি) হও, (তে) তোমার (মনঃ) মন [সংকল্পকে] (চ) এবং (হৃদয়ম্) হৃদয় [নিশ্চয়তাকে] (এব) নিঃসন্দেহে (ন অবিদাম) আমি পাইনি। (অন্যা) অন্য স্ত্রী (কিল) অবশ্যই (ত্বাম্) তোমার সাথে (পরি ষ্বজাতৈ) আলিঙ্গন করবে, (কক্ষ্যা ইব) যেমন ঘোড়ার কটিবেষ্টনী/পেটী (যুক্তম্) যুক্ত থাকে [ঘোড়ার] সাথে এবং (লিবুজা ইব) যেমন বেল/বীরুৎ [লতা] (বৃক্ষম্) বৃক্ষের সাথে [লিপ্ত হয়ে যায়/থাকে] ॥১৫॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ স্ত্রী-এর বচন। ভাই ! আমি তোমাকে এত বুঝিয়েছি কিন্তু তুমি কথা মান্য করোনি, অবশ্যই আমার থেকে অন্য স্ত্রী তোমার সাথেই বিবাহ করে সুখ ভোগে করবে ॥১৫॥ মন্ত্র ১৫ এবং ১৬ কিছুটা আলাদাভাবে ঋগ্বেদে আছে−১০।১০।১৩, ১৪ ॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ (বত) হে দুর্বল! (বতঃ অসি) তুমি বস্তুতঃ দুর্বল। [বতঃ = বলাৎ অতীতঃ (নিরু০ ৬।৫।২৫)] (যম) হে যম (তে) তোমার (মনঃ) মন (চ) এবং (হৃদয়ম্) হৃদয়কে (ন অবিদাম) আমি জানতে পারিনি। (কিল) নিশ্চিতরূপে (অন্যা) অন্য কেউ আছে তোমার মন এবং হৃদয়ে, যে (ত্বাম্) তোমাকে (পরি ষ্যজাতৈ) আলিঙ্গন করবে; (ইব) যেমন (কক্ষ্যা) অশ্বের বগল অর্থাৎ ছাতিতে লিপ্ত পট্ট (যুক্তম্) রথের সাথে যুক্ত অশ্বের আলিঙ্গন করে, এবং (ইব) যেমন (লিবুজা) লতা (বৃক্ষম্) বৃক্ষের আলিঙ্গন করে।- বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
ऋषि- यम, मन्त्रोक्तदेवता- त्रिष्टुप्छन्द- अथर्वासूक्तम्- पितृमेध सूक्त
अ॒न्यमू॒ षुय॑म्य॒न्य उ॒ त्वां परि॑ ष्वजातै॒ लिबु॑जेव वृ॒क्षम्। तस्य॑ वा॒ त्वं मन॑ इच्छा॒स वा॒ तवाधा॑ कृणुष्व संविदं॒ सुभ॑द्राम् ॥
অন্যম্ ষু যম্যন্য উ ত্বাং পরি স্বজাতৈ লিবুজেব বৃক্ষম্।
তস্য॑ বা॒ ত্বং মন॑ ইচ্ছা॒স বা॒ তবাধা॑ কৃণুষ্ব সংবিদং॒ সুভ॑দ্রাম্॥ অথর্ব০ ১৮।১।১৬
অ॒ন্যম্ । ঊং॒ ইতি॑ । সু । য॒মি॒ । অ॒ন্যঃ । ঊং॒ ইতি॑ । ত্বাম্ । পরি॑ । স্ব॒জাতৈ॒ । লিবু॑জাঽইভ । বৃ॒ক্ষম্ । তস্য॑ । বা॒ । ত্বম্ । মন॑ঃ । ই॒চ্ছ । সঃ । বা॒ । তব॑ । অধ॑ । কৃ॒ণু॒ষ্ব॒ । স॒ম্ঽবিদ॑ম্ । সু’ভদ্রাম্ ॥ (স্বরসহ পদপাঠ)
ত্রীণি॑ । ছন্দাং॑সি । ক॒বয়॑ঃ । বি । যে॒তি॒রে॒ । পুরুঽরূপ॑ম্ । দ॒র্শ॒তম্ । বি॒শ্বऽচ॑ক্ষণম্ । আপ॑ঃ । বাত॑াঃ । ওষ॑ধয়ঃ । তানি॑ । এক॑স্মিন্ । ভুব॑নে । আর্পি॑তানি ॥ (স্বরসহঃ পদপাঠ)
বিশ্বং॒ স বেএ॑দ॒ বরু॑ণো॒ যথা॑ ধি॒য়া স য॒জ্ঞিয়ো॑ যজতি য॒জ্ঞিয়া॑ঁ ঋ॒তূন্ ॥ অথর্ব০ ১৮।১।১৮
বৃষা॑ । বৃষ্ণে॑ । দু॒দু॒হে॒ । দোহ॑সা । দি॒বঃ । পযাং॑সি । য॒হ্বঃ । অদি॑তে । আদি॑ভ্যঃ । বিশ্ব॑ম্ । সঃ । বে॒দ॒ । বরু॑ণঃ । যথা॑ । ধি॒য়া । সঃ । য॒জ্ঞিয়॑ঃ । য॒জতি॒ । য॒জ্ঞিয়াঃন্ । ঋ॒তূন্ ॥
বিদ্বানদের কর্তব্যের উপদেশ।
ক্ষেমকরন ত্রিবেদী পদার্থঃ (যহ্বঃ) মহান্, (অদাভ্যঃ) অহিংসিত (বৃষা) বৃহৎ ঐশ্বর্যবান পরমাত্মা (বৃষ্ণে) পরাক্রমী মনুষ্যের জন্য (দিবঃ) আনন্দ প্রদায়ী (অদিতেঃ) অখণ্ড বেদবাণীর (দোহসা) পূর্ণতাপূর্বক (পয়াংসি) অনেক রস দ্বারা (দুদুহে) ভরপূর করেছেন। (বরুণঃ যথা) শ্রেষ্ঠ পুরুষের সমান (সঃ) সেই [মনুষ্য] (বিশ্বম্) সংসারকে (ধিয়া) [নিজের] বুদ্ধি দ্বারা (বেদ) জানে এবং (সঃ) সে (যজ্ঞিয়ঃ) পূজনীয় হয়ে (যজ্ঞিয়ান্) পূজনীয় (ঋতূন্) ঋতু-সমূহকে [উচিতকাল/সময়ে] (যজতি) পূজা করে ॥১৮॥
ভাবার্থঃ পরমাত্মা বেদ দ্বারা পুরুষার্থীর জন্য সংসারে অনেক ঐশ্বর্যের উপদেশ দিয়েছেন। সেই জ্ঞানী পুরুষ শ্রেষ্ঠদের সমান আচরণ করে উচিত সময় ত্যাগ না করে সংসারের উপকার করে॥১৮॥মন্ত্র ১৮-২৪ কিছুটা ভেদ বা অভেদপূর্বক ঋগ্বেদে আছে−১০।১১।১-৭ ॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার (বৃষা) ভক্তিরসের বর্ষণকারী (অদাভ্যঃ) কামাদি দ্বারা না দমনশীল, (যহ্বঃ) মহা ব্যক্তি, (দোহসা) দোহনবিধি দ্বারা, (অদিতেঃ) অনশ্বর বেদবাণীরূপী গৌ/গাভী থেকে (দিবঃ পয়াংসি) দিব্য জ্ঞান-দুগ্ধ (দুদুহে) দোহন করে। এবং সেই জ্ঞান-দুগ্ধ (বৃষ্ণে) আনন্দরসবর্ষী পরমেশ্বরের জন্য সমর্পিত করে দেয়। (যথা) যেমন (বরুণঃ) বরণকারী শ্রেষ্ঠ পরমেশ্বর (বিশ্বম্) জগতের রহস্যকে (বেদ) জানে, তেমনই (সঃ) সেই ভক্তিরসবর্ষীও (ধিয়া) বৈদিক প্রজ্ঞা প্রাপ্ত করে (বিশ্ব বেদ) জগতের রহস্য-সমূহকে জেনে নেয়। (সঃ) সেই ভক্তিরসবর্ষী (যজ্ঞিয়ঃ) পূজা সৎসঙ্গ তথা দানের পাত্র হয়ে, (ঋতূন) সব ঋতুতে (যজ্ঞিয়ান্) যজ্ঞিয়-বিচার এবং যছ্যিয়-কর্ম (যজতি) যজ্ঞভাবনাপূর্বক করতে থাকে।
টিপ্পণীঃ [অদিতি = বাক্ (নিঘং০ ১।১১) তথা গৌ (নিঘং০ ২।১১)। যহ্বঃ= মহন্নাম (নিঘং০ ৩।৩)। যজ্ঞিয়ঃ = যজ দেবপূজাসঙ্গতিকরণদানেষু। ঋতূম্ = ঋতূন্ লক্ষ্যীকৃত্য।] বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
বিদ্বানদের কর্তব্যের উপদেশ।
ऋषि- यम, मन्त्रोक्तदेवता- जगतीछन्द- अथर्वासूक्तम्- पितृमेध सूक्त
রপদ গন্ধবীরপ্যা চ যোষণা নদস্য নাদে পরি পাতু নো মনঃ।
ইষ্টস্য মধ্যে অদিতিনি ধাতু নো ভ্রাতা নো জ্যেষ্ঠঃ প্রথমো বি বোচতি ॥ অথর্ব০ ১৮।১।১৯
রপ॑ত্ । গ॒ন্ধ॒র্বীঃ । অপ্যা॑ । চ॒ । যোষা॑ণা । ন॒দস্য॑ । না॒দে । পরি॑ । পা॒তু॒ । নঃ । মন॑ঃ । ই॒ষ্টস্য॑ । মধ্যেঃ । অদি॑তিঃ । নিঃ ধা॒তু॒ । নঃ । ভ্রাতা॑ । নঃ । জ্যে॒ষ্ঠঃ । প্র॒থ॒মঃ । বি । বো॒চ॒তি॒ ॥
ক্ষেমকরন ত্রিবেদী পদার্থঃ (গন্ধর্বীঃ) বিদ্বানদের ধারণকারী, (অপ্যা) সৎকর্মে প্রসিদ্ধ (চ) এবং (যোষণা) সেবন যোগ্য [বেদবাণী] (রপৎ) স্পষ্ট বলে− সেই [বেদবাণী] (নদস্য) স্তোতা [গুণজ্ঞ] পুরুষের (নাদে) সৎকারে (নঃ) আমাদের (মনঃ) মন [বা বিজ্ঞানের] (পরি) সবদিক থেকে (পাতু) রক্ষা করে। (অদিতিঃ) অখণ্ড বেদবাণী (ইষ্টস্য) অভীষ্ট সুখের (মধ্যে) মধ্যে (নঃ) আমাদের (নি) নিত্য (ধাতু) রাখুক/স্থাপন করুক, (ভ্রাতা) ভাই [এর সমান হিতকারী] (জ্যেষ্ঠঃ) অতিশ্রেষ্ঠ, (প্রথমঃ) মুখ্য পুরুষ (নঃ) আমাদের (বি) অনেক প্রকার (বোচতি) উপদেশ করে/করুক ॥১৯॥
ভাবার্থঃ বেদবাণী আমাদের উপদেশ করে, মনুষ্য গুণ-সমূহের জ্ঞানের মাধ্যমে নিজের রক্ষা করে এবং অভীষ্ট সুখ প্রাপ্ত করে, শ্রেষ্ঠ বিদ্বান্ পরস্পর এই উপদেশ করে ॥১৯॥
বিশ্বনাথ বিদ্যালংকার পদার্থঃ (গন্ধর্বী) বেদবাণীর ধারক পরমেশ্বরের বেদবাণী (রপদ্= রপৎ) আমাদের জীবনীয় তত্ত্ব-সমূহের কথন করে, যেমন (অপ্যা) প্রাণপ্রিয়া বা জলবৎ শীতলস্বভাবযুক্ত (যোষণা) পত্নী নিজের পতিকে পরামর্শের কথন করে। (নদস্য) বেদের অন্তর্নাদকারী পরমেশ্বরের বৈদিক অন্তর্নাদ হলে সেই পরমেশ্বর (নঃ) আমাদের (মনঃ) মননশক্তির (পরি পাতু) সব প্রকারে রক্ষা করেন। (ইষ্টস্য মধ্যে) জীবনে বস্তুতঃ অভীষ্ট মার্গ কী, ইহার নির্ণয়ে (অদিতিঃ) অনশ্বর নিত্যা বেদবাণী (নঃ) আমাদের (নি ধাতু) যথার্থ মার্গে স্থাপিত করে। তদনন্তর (ভ্রাতা) সব, সকলের ভরণ-পোষণকারী (প্রথমঃ জ্যেষ্ঠঃ) সর্বশ্রেষ্ঠ পরমেশ্বর (নঃ) আমাদের (বি বোচতি) বিশেষভাবে জীবনমার্গের উপদেশ করে।
টিপ্পণীঃ বিশ্বনাথ বিদ্যালংকারঃ[গন্ধর্বঃ= গাং বেদবাণীং ধরতি = পরমেশ্বরঃ; তস্য বাণী গন্ধর্বী। গান্ধর্বী = বাক্ (নিঘং০ ১।১১), হ্রস্বঃ ছান্দসঃ। অপ্যা= আপঃ প্রাণাঃ, তৎ-প্রিয়া। অদিতিঃ = (মন্ত্র ১৮)। চ= পাদপূরণার্থঃ (আপ্টে)।]
বিদ্বৎকর্মোপদেশঃ−
ऋषि- यम, मन्त्रोक्तदेवता- जगतीछन्द- अथर्वासूक्तम्- पितृमेध सूक्त
সো চিন্নু ভদ্রা ক্ষুমতী যশস্বত্যুষা উবাস মনবে স্বর্বর্তী।
যদীমুশন্তমুশতামনু ক্রতুমগ্নিং হোতারং বিদথায় জীজনম্ ॥ অথর্ব০ ১৮।১।২০
সো ইতি॑ । চি॒ত্ । নু । ভ॒দ্রা । ক্ষু॒ऽমতী॑ । যশ॑স্বতী । উ॒ষাঃ । উ॒বা॒স॒ । মন॑বে । স্ব᳡ঃऽবতী । যত্ । ঈ॒ম্ । উ॒শন্ত॑ম্ । উ॒শ॒তম্ । অনু॑ । ঋতু॑ম্ । অ॒গ্নিম্ । হোতা॑রম্ । বি॒দথা॑য় । জীজ॑নন্ ॥
অধ॒ ত্যন্দ্র॒প্সং বি॒ভ্বং বি॒চক্ষ॒ণং বি॒রাভ॑রদি॒ষিরঃ শ্যে॒নো অ॑ধ্ব॒রে।
যদী॒ বিশো॑বৃ॒ণতে॑ দ॒স্মমার্যা॑ অ॒গ্নিং হোতা॑রমধ॒ ধীর॑জায়ত ॥ অথর্ব০ ১৮।১।২১
অধ॑ । ত্যম্ । দ্র॒প্সম্ । বি॒ऽভ্ব᳡ম্ । বি॒ऽচ॒ক্ষ॒ণম্ । বি: । আ । অ॒ভ॒রত্ । ই॒ষি॒রঃ । শ্যে॒নঃ । অ॒ধ্ব॒রে । যদি॑ । বিশ॑ঃ । বৃ॒ণতে॑ । দ॒স্মম্ । আর্যা॑ঃ । অ॒গ্নিম্ । হোতা॑রম্ । অধ॑ । ধীঃ । অ॒জা॒য়॒ত॒ ॥১.২১
পদার্থঃ (অধ) এবং (ত্যম্) সেই (দ্রপ্সম্) হর্ষ প্রদায়ী, (বিভ্বম্) বলশালী (বিচক্ষণম্) চতুর [বিদ্বান্] পুরুষকে (শ্যেনঃ) শ্যেন [বাজ] (বিঃ) পক্ষীর [সমান] (ইষিরঃ) শীঘ্রগামী [আচার্য আদি] (অধ্বরে) যজ্ঞে (আ অভরৎ) নিয়ে এসেছে। (যদি) যদি (আর্যাঃ) আর্য [শ্রেষ্ঠ] (বিশঃ) মনুষ্য (দস্মম্) দর্শনীয়, (হোতারম্) দানী (অগ্নিম্) বিদ্বান্ পুরুষকে (বৃণতে) নির্বাচন/বরণ করে, (অধ) তবে (ধীঃ) তা কর্ম (অজায়ত) হয়ে যাবে/যাক ॥২১॥ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
ভাবার্থঃ যে বিদ্বান্ দূরদর্শী বিদ্বানকে উত্তম গুণের কারণে বিদ্বান্ আচার্য আদি প্রসিদ্ধ করে, তাঁকে শ্রেষ্ঠরা প্রধান করে কার্য সিদ্ধ করুক ॥২১॥ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ (যদ্ ঈ) যখনই (আর্যাঃ) ঈশ্বরের পুত্র, অর্থাৎ ঈশ্বরকে নিজের পিতা মান্যকারী (বিশঃ) প্রজাজন,– (দস্মম্) অবিদ্যাক্ষয়কারী তথা দর্শনীয়, (হোতারম্) জ্ঞানপ্রদাতা (অগ্নিম্) জ্ঞানময় প্রভুকে (বৃণতে) আপন করে নেয়, (অধ) তদনন্তর (ধীঃ) ঋতম্ভরা-প্রজ্ঞা (অজায়ত) প্রকট হয়, (অধ) তদনন্তর (ইষিরঃ) ঈশ্বরের কামনাকারী (শ্যেনঃ) জ্ঞানী (বিঃ) জীবাত্ম-পক্ষী (অধ্বরে) হিংসারহিত যোগধ্যানরূপী যজ্ঞে (দ্রপ্সম্) সূর্যসম, অজ্ঞানান্ধকার বিনাশী (বিভ্বম্) বিভু, (বিচক্ষণম্) বিবিধ জগতের দ্রষ্টা, (ত্যম্) সেই জ্যোতির্ময় ঈশ্বরকে (আ ভরৎ) নিজের দিকে/প্রতি আকৃষ্ট করে নেয়। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
ভাবার্থঃ [দ্রপ্স = সূর্য; দৃ বিদারণে; প্সা= ভক্ষণে; অন্ধকার বিদীর্ণকারী/বিদারক, অন্ধকার গ্রাসকারী। “অসৌ বা আদিত্যো দ্রপ্সঃ (শ০ ৭।৪।১।২০) বিঃ= জীবাত্মা, যথা- "দ্বা সুপর্ণা সয়ুজা সখায়া" (অথর্ব০ ৯।৯।২০) সুপর্ণ= পক্ষী। আভরৎ = আহরৎ। ইষিরঃ= ইষু ইচ্ছায়াম্। শ্যেনঃ= শ্যেন আত্মা ভবতি, শ্যায়তেঃ জ্ঞানকর্মণঃ (নিরু০ ১৩(১৪), পা০ ২(১) খং০ ৭২ (১৪)। আর্যাঃ= ঈশ্বরপুত্রাঃ (নিরু০ ৬।৫।২৬)। দস্ম = দস্ উপক্ষয়ে; দস (দর্শনে)। বিশ্বঃ= বিশতি সর্বত্র সঃ (উণা০ ১।১৫১)।] বিশ্বনাথ বিদ্যালংকারঃ
ऋषि- यम, मन्त्रोक्तदेवता- जगतीछन्द- अथर्वासूक्तम्- पितृमेध सूक्त
সদাসি রম্বো যবসেব পুষ্যতে হোত্রাভিরগ্নে মনুষঃ স্বধ্বরঃ।
বিপ্রস্য বা যচ্ছশমান উত্থ্যো বাজং সসবাঁ উপযাসি ভূরিভিঃ ৷ অথর্ব০ ১৮।১।২২
সদা॑ । অ॒সি॒ । র॒ণ্বঃ । যব॑সাঽইব । পুষ্য॑তে । হোত্রা॑ভিঃ । অ॒গ্নে॒ । মনু॑ষঃ । সু॒ऽঅ॒ধ্ব॒রঃ । বিপ্র॑স্য । বা॒ । যত্ । শ॒শ॒মা॒নঃ । উ॒ক্থ্য᳡ঃ । বাজ॑ম্ । স॒স॒ऽবান্ । উ॒প॒ऽযাসি॑ । ভূরি॑ऽভিঃ ॥
পদার্থঃ (অগ্নে) হে বিদ্বান্ ! (স্বধ্বরঃ) সুন্দর যজ্ঞশীল হয়ে (মনুষঃ) জ্ঞানের (হোত্রাভিঃ) বাণী-সমূহের দ্বারা (পুষ্যতে) পুষ্টকারী [মনুষ্যের] জন্য (যবসা ইব) যেমন ঘাস [গাভী আদির জন্য] (সদা) সদা তুমি (রণ্বঃ) রমণীয় [সুখদায়ক] (অসি) হও। (বা) এবং (যৎ) যেহেতু (বিপ্রস্য) বিদ্বান্ [আচার্য আদির] (বাজম্) বিজ্ঞান (সসবান্) সেবনকারী হয়ে, (শশমানঃ) শীঘ্রগামী, (ভূরিভিঃ) অনেক [উত্তম পুরুষের] দ্বারা (উক্থ্যঃ) স্তুতিযোগ্য তুমি (উপয়াসি) আগমন করো ॥২২॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
বিদ্বানদের উচিৎ, জ্ঞানদাতা আচার্যদের নিজের সৎকর্ম দ্বারা সদা প্রসন্ন রাখা, কেননা সেই মহাত্মাদের কৃপায় সে বিজ্ঞান প্রাপ্ত করে সংসারে বিখ্যাত হয়েছে॥২২॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ (অগ্নে) হে জ্যোতির্ময়! (মনুষঃ) মননাভ্যাসীর (হোত্রাভিঃ) আত্মসমর্পণের আহুতি দ্বারা (স্বধ্বরঃ) আপনি তাঁর অহিংসাময়-উপাসনা যজ্ঞ সফল তথা সুফল করেন/করে দেন, এইজন্য তাঁকে আপনি/তাঁর প্রতি আপনি (সদা রণ্বঃ অসি) সদা রমণীয় প্রতীত হন, (ইব) যেমন (পুষ্যতে) শারীরিক পুষ্টিকারীর জন্য (যবসা) খাদ্য পদার্থ রমণীয় প্রতীত হয়। (বা) তথা (উক্থ্যঃ) বৈদিক সূত্র দ্বারা প্রশংসনীয় আপনি, (যত) যখন (বিপ্রস্য) মেধাবী উপাসকের (বাজম্) সমর্পণকে (সসবান্) স্বীকার করেন, তখন আপনি (শশমানঃ) মানো প্লুতগতিমান হয়ে, মেধাবী উপাসককে (ভূরিভিঃ) নানাবিধ এবং প্রভূত সম্পত্তি সহিত (উপয়াসি) প্রাপ্ত হন। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
টিপ্পণীঃ [শশমানঃ= শশ প্লুতগতৌ। সসবান্ = সন্ সম্ভক্তৌ। সম্ভক্তি=sharing in (আপ্টে)।]
ऋषि- यम, मन्त्रोक्तदेवता- जगतीछन्द- अथर्वासूक्तम्- पितृमेध सूक्त
উদীরয় পিতরা জার আ ভগমিয়ক্ষতি হর্ষতো হৃত্ত ইষ্যতি।
বিবক্তি বহ্নিঃ স্বপস্যতে মখস্তবিষ্যতে অসুরো বেপতে মতী ॥ অথর্ব০ ১৮।১।২৩
উত্ । ঈ॒র॒য়॒ । পি॒তারা॑ । জারঃ । আ । ভগ॑ম্ । ইয়॑ক্ষতি । হ॒র্য॒তঃ । হৃ॒ত্তঃ । ই॒ষ্য॒তি॒ । বিব॑ক্তি । বহ্নি॑ঃ । সু॒ऽঅ॒প॒স্যতে॑ । ম॒খঃ । ত॒বি॒ষ্যতে॑ । অসু॑রঃ । বেপ॑তে । ম॒তী ॥
পদার্থঃ [হে বিদ্বান্ !] (জারঃআ) স্তোতা [গুণজ্ঞ পুরুষের] সমান (পিতরা) মাতা-পিতাকে (ভগম্) ঐশ্বর্যের দিকে (উৎ ঈরয়) উদ্বুদ্ধ করো, [কেননা] (হর্যতঃ) [শুভগুণ] কামনাকারী (হৃত্তঃ) হৃদয় থেকে (ইয়ক্ষতি) [তাঁদের] পূজা করতে চায় এবং (ইষ্যতি) চলে। (বহ্নিঃ) ভার বহনকারী (বিবক্তি) বলে/কথন করে, (মখঃ) উদ্যোগী (স্বপস্যতে) সৎকর্ম করতে চায় এবং (অসুরঃ) প্রাণবান্ [বলবান্] (তবিষ্যতে) মহান্ হতে চায়, এবং (মতী) বুদ্ধিপূর্বক (বেপতে) চেষ্টা করে॥২৩॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
বিদ্বান্ কৃতজ্ঞ পুরুষ ধন আদি দ্বারা মাতা-পিতার সেবা করে/করুক, কেননা বৃদ্ধদের সেবার মাধ্যমে মনুষ্য পুরুষার্থী হয়ে জগতে বড়ো/মহান হয়॥২৩॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ হে পরমেশ্বর ! (পিতরা) জগতের মাতাদের এবং পিতাদের ধর্মকার্যে (উদীরয়) সমুন্নত করুন, (আ) যেমন (জারঃ) স্তোতা (ভগম্) নিজ ভাগ্যকে সমুন্নত করে, বা (জারঃ) আদিত্য যেমন (ভগম্) জগতে শ্রী শোভাকে সমুন্নত করে। (হর্যতঃ) আপনার কামনাকারী (ইয়ক্ষতি) আপনার দর্শনের কামনা করে, (হৃত্তঃ) হৃদয় থেকে (ইষ্যতি) ইচ্ছা/কামনা করে। (বহ্নিঃ) আপনার সদুপদেশ বহনকারী (বিবক্তি) বিবেকজ্ঞানের উপদেশ করে/দেয়, (স্বপস্যতে) প্রজাদের কর্মকে উত্তম করে (মখঃ) এবং তাঁর দ্বারা যজ্ঞকর্ম (তবিষ্যতে) বিস্তার করা হয়। কিন্তু (অসুরঃ) আসুরী-প্রবৃত্তিযুক্ত ব্যক্তি (মতী) নিজ দুর্মতির কারণে (বেপতে) ভয়ভীত হয়ে কাঁপতে থাকে। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
[জারঃ= জরতি অর্চতিকর্মা; জরিতা স্তোতা (নিঘং০ ৩।১৪; ৩।১৬)। জারঃ = আদিত্যঃ (নিরু০ ৩।৩।১৬)। স্বপস্যতে = সু + অপঃ= কর্ম (নিঘং০ ২।১)।] বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
ऋषि- यम, मन्त्रोक्तदेवता- त्रिष्टुप्छन्द- अथर्वासूक्तम्- पितृमेध सूक्त
যস্তে অগ্নে সুমতিং মর্তো অখ্যৎ সহসঃ সূনো অতি স প্র শৃপ্নে।
ইষং দধানো বহমানো অশ্বৈরা স দ্যুমাঁ। অমবান্ ভূষতি দ্যূন্ ॥ অথর্ব০ ১৮।১।২৪
যঃ । তে॒ । অ॒গ্নে॒ । সু॒ऽম॒তিম্ । মর্ত॑ঃ । অখ্য॑ত্ । সহ॑সঃ । সূ॒নো॒ ইতি॑ । অতি॑ । সঃ । প্র । শৃ॒ণ্বে॒ । ইষ॑ম্ । দধা॑নঃ । বহ॑মানঃ । অশ্বৈ॑ঃ । আ । সঃ । দ্যু॒ऽমান্ । অম॑ऽবান্ । ভূ॒ষ॒তি॒ । দ্যূন্ ॥
পদার্থঃ (অগ্নে) হে বিদ্বান্ ! (যঃ মর্তঃ) যে মনুষ্য (তে) তোমার (সুমতিম্) সুমতি (অখ্যৎ) কথন/ব্যাখা করে, (সহসঃসূনো) হে বলবান্ পুরুষের পুত্র ! (সঃ) সে (অতি) অতি (প্র) ব্যপকভাবে (শৃণ্বে) শ্রবণিত হয় [যশস্বী হয়]। এবং (সঃ) সে (ইষম্) অন্ন (দধানঃ) রক্ষণ/ধারণ করে, (অশ্বৈঃ) অশ্বদের দ্বারা (বহমানঃ) বাহিত/পরিবাহিত হয়ে, (দ্যুমান্) প্রকাশমান এবং (অমবান্) পরাক্রমী হয়ে (দ্যূন্) দিনকে (আ) সব প্রকারে (ভূষতি) অলঙ্কৃত করে ॥২৪॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
যে মনুষ্য কুলীন বলশালী বিদ্বানদের সুমতিতে চলে, সে যশস্বী, ধনী এবং পরাক্রমী হয়ে সংসারের উপকার করে॥২৪॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ (অগ্নে) হে জ্যোতির্ময় ! (সহসঃ সূনো) হে বল প্রেরক ! (যঃ) যে (মর্তঃ) মনুষ্য (তে) আপনার দ্বারা প্রদত্ত (সুমতিম্) সুমতির (অখ্যৎ) সকলের প্রতি কথন/বর্ণনা করে, (সঃ) সে (অতি প্র শৃণ্বে) অতি প্রসিদ্ধ হয়/হয়ে যায়, বা লোকেরা অনেক শ্রদ্ধাপূর্বক তাঁর কথন শ্রবণ করে। (ইষম্) আপনার ইচ্ছা/কামনা (দধানঃ) ধারণ করে, (অশ্বৈঃ) অশ্ব দ্বারা/সহিত যুক্ত রথ দ্বারা এই [উপাসক/স্তোতাকে] সৎকারপূর্বক (বহমানঃ) নিয়ে আসা হয়। (দ্যুমান্) শোভায়মান, (অমবান্) তথা বলসম্পন্ন (সঃ) সেই [স্তোতা/উপাসক] (দ্যুন্) দিনকে (আভূষতি) বিভূষিত করে। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
[অমম্ = বলম্ (নিরু০ ১০।২।২১)। অখ্যৎ= খ্যা প্রকথনে। সহস=বল (নিঘং০ ২।৯)। সূনো = সূ প্রেরণে]
ऋषि- यम, मन्त्रोक्तदेवता- त्रिष्टुप्छन्द- अथर्वासूक्तम्- पितृमेध सूक्त
শ্রুধী নো অগ্নে সদনে সধস্থে যুক্ষ্ণা রথমমৃতস্য দ্রবিভুম্।
আনো বহ রোদসী দেবপুত্রে মাকিদেবানামপ ভূরিহ স্যাঃ ॥ অথর্ব০ ১৮।১।২৫
শ্রু॒ধি । ন॒ঃ । অ॒গ্নে॒ । সদ॑নে । স॒ধऽস্থে॑ । যু॒ক্ষ্ব । রথ॑ম্ । অ॒মৃত॑স্য । দ্র॒বি॒ত্নুম্ । আ । ন॒ঃ । ব॒হ॒ । রোদ॑সী॒ ইতি॑ । দে॒বপু॑ত্রে॒ ইতি॑ । দে॒বऽপু॑ত্রে । মাকি॑ঃ । দে॒বানাম্ । অপ॑ । ভূ॒ঃ । ই॒হ । স্যা॒ঃ ॥১.২৫॥
পদার্থঃ (অগ্নে) হে বিদ্বান্ ! (সধস্থে) একসাথে বসার/অবস্থানের যোগ্য (সদনে) বৈঠক [সমাজে] (নঃ) আমাদের [কথা] (শ্রুধি) শ্রবণ করো−(অমৃতস্য) অমৃত [অমরত্ব, পুরুষার্থের] (দ্রবিত্নুম্) বেগবান/শীঘ্রগামী (রথম্) রথকে (যুক্ষ্ব) যুক্ত করো। (নঃ) আমাদের জন্য (রোদসী) ভূমি এবং সূর্যের [সমান উপকারী] (দেবপুত্রে) বিদ্বানদের পুত্র রক্ষণকারী [প্রজা অর্থাৎ মাতা-পিতাকে] (আবহ) নিয়ে এসো, (দেবানাম্) বিদ্বানদের মাঝে (মাকিঃ) না কখনও (অপ ভূঃ) তুমি দূরে/অপগত হও, (ইহ) এখানে [আমাদের মাঝে] (স্যাঃ) থাকো ॥২৫॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
বিদ্বানগণ সভার মাঝে অধিক বিদ্বান্ পুরুষকে প্রধান করে ব্যবস্থা করুক যাতে সব মাতা-পিতা বিজ্ঞানপূর্বক উত্তম সন্তান উৎপন্ন করে সংসারের উপকার করে এবং বিদ্বানদের সাথে আদরপূর্বক মিলিত হয় ॥২৫॥এই মন্ত্র ঋগ্বেদে আছে−১০।১১।৯ ॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ (অগ্নে) হে জ্যোতির্ময় ! (সধস্থে) জীবাত্মার সাথে একসাথে/মিলিতভাবে বসার/অবস্থানের (সদনে) ঘরে, অর্থাত হৃদয়ে, আপনি (নঃ) আমাদের স্তুতি এবং প্রার্থনা (শ্রুধি) শ্রবণ করুন। (অমৃতস্য) মোক্ষ পর্যন্ত প্রেরণকারী/প্রেরক (রথম্) আমাদের শরীর রথকে (যুঙক্ষ্ব) যুক্ত করুন, ইহাকে আপনিই চালনা করুন। এবং ইহাকে (দ্রবিত্নুম্) মোক্ষরূপী লক্ষ্য পর্যন্ত প্রেরণের/পৌঁছানোর ক্ষেত্রে/জন্য শীঘ্রগতিসম্পন্ন করুন। (দেবপুত্রে) আপনার/দেবতার পুত্ররূপ যে (রোদসী) ভূলোক ও দ্যূলোক আছে, তা আমাদের উদ্দেশ্যে, (নঃ) আমাদের (আ বহ) অনুকূলে করুন। (দেবানাম্) আমাদের দিব্য উপাসকদের মধ্যে আপনি সদা বিরাজমান থাকুন, (মাকিঃ অপ ভূঃ) কখনও আমাদের থেকে দূরে যাবেন না। (ইহ) আমাদের দিব্য উপাসকদের এই হৃদয়ে (স্যাঃ) সদা স্থিত থাকুন। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
ऋषि- यम, मन्त्रोक्तदेवता- त्रिष्टुप्छन्द- अथर्वासूक्तम्- पितृमेध सूक्त
যদগ্ন এষা সমিতির্ভবাতি দেবী দেবেষু যজতা যজত্র।
রত্না চ যদ বিভজাসি স্বধাবো ভাগং নো অত্র বসুমন্তং বীতাৎ ॥ অথর্ব০ ১৮।১।২৬
যৎ । অ॒গ্নে॒ । এ॒ষা । সম্ঽই॑তিঃ । ভবা॑তি । দে॒বী । দে॒বেষু॑ । য॒জ॒তা । য॒জ॒ত্র॒ । রত্না॑ । চ॒ । যৎ । বি॒ऽভজা॑সি । স্ব॒ধা॒ऽব॒ঃ । ভা॒গম্ । ন॒ঃ । অব॑ । অত্র॑ । বসু॑ऽমন্তম্ । বী॒তা॒ৎ ॥১
পদার্থঃ (যজত্র) হে সঙ্গতিযোগ্য ! (অগ্নে) হে বিদ্বান্ ! (যৎ) যখন (এষা) এই (সমিতিঃ) সমিতি [সভা] (দেবেষু) বিদ্বানদের মাঝে (দেবী) বিজ্ঞানবতী এবং (যজতা) সঙ্গতিযোগ্য (ভবাতি) হয়/হবে। (চ) এবং (যৎ) যখন, (স্বধাবঃ) হে আত্মধারী ! তুমি (রত্না) রত্ন-সমূহকে (বিভজাসি) বিভাজন/বিভাগ/বণ্টন করবে, (নঃ) আমাদের জন্য (অত্র) এখানে [সংসারে] (বসুমন্তম্) বহুধন যুক্ত (ভাগম্) ভাগ (বীতাৎ) প্রেরণ করো ॥২৬॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
মনুষ্যদের উচিৎ, বিদ্বানদের সৎসঙ্গ দ্বারা সার্বভৌম বিদ্যাসভা সৃষ্টি করে বিজ্ঞানের প্রচার করা যাতে লোকেরা গুণী হয়ে ধনী হয় ॥২৬॥ এই মন্ত্র ঋগ্বেদে আছে−১০।১১।৮ ॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ (অগ্নে) হে জ্যোতির্ময়! (দেবেষু) আমাদের দিব্য উপাসকদের মধ্যে আপনার (যদ্) যে (এষা) এই (দেবী) দিব্য (সমিতিঃ) পারস্পরিক মেল (ভবাতি) হয়, - (যজত্র) হে পারস্পরিক মেল স্থাপনকারী ! (যজতা) সেই পারস্পরিক মেল/মিলতভাবকে আপনিই স্বয়ং করেন। (স্বধাবঃ) হে স্বয়ং নিজের ধারণকারী স্বয়ম্ভূ ! (যদ) যে (রত্না) আধ্যাত্মিক রত্ন (বিভজাসি) আপনি আমাদের প্রদান করেন, (অত্র) এই জীবনে (নঃ) আমাদের সেই (বসুমন্তং ভাগম্) রত্নযুক্ত ভাগ/অংশকে (বীতাৎ) কৃপা করে সমর্পণরূপে স্বীকার করুন। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
[সমিতিঃ = সম্ + ইতিঃ। যজতা= যজ্= সঙ্গতি, পরস্পর-মেল; যজ্ + অতচ্ (উণা০ ৩।১১০)। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
পরমাত্মগুণোপদেশঃ−
ऋषि- यम, मन्त्रोक्तदेवता- त्रिष्टुप्छन्द- अथर्वासूक्तम्- पितृमेध सूक्त
অন্বগ্নিরুষসামগ্রমখ্যদন্বহানি প্রথমো জাতবেদাঃ।
অনু সূর্য উষসো অনু রশ্মীননু দ্যাবাপৃথিবী আ বিবেশ ॥ অথর্ব০ ১৮।১।২৭
অনু॑ । অ॒গ্নিঃ । উ॒ষসা॑ম্ । অগ্র॑ম্ । অ॒খ্য॒ত্ । অনু॑ । অহা॑নি । প্র॒থ॒মঃ । জা॒তऽবে॑দাঃ । অনু॑ । সূর্য॑ঃ । উ॒ষস॑ঃ । অনু॑ । র॒শ্মীन् । অনু॑ । দ্যাবা॑পৃথি॒বী ইতি॑ । আ । বি॒বে॒শ॒ ॥
ক্ষেমকরন ত্রিবেদী পদার্থঃ (অগ্নিঃ) সর্বব্যাপক পরমেশ্বর (উষসাম্) ঊষার (অগ্রম্) বিকাশকে (অনু) নিরন্তর, [সেই] (প্রথমঃ) সর্বপ্রথম বর্তমান (জাতবেদাঃ) উৎপন্ন বস্তু-সমূহের জ্ঞান প্রদানকারী পরমেশ্বর (অহানি) দিনকে (অনু) নিরন্তর (অখ্যৎ) প্রসিদ্ধ করেছেন। (সূর্যঃ) [সেই] সূর্য [সর্বব্যাপক বা সকলকে চালনাকারী পরমেশ্বর] (উষসঃ) ঊষার মধ্যে (অনু) নিরন্তর, (রশ্মীন্) ব্যাপক কিরণ-সমূহে (অনু) নিরন্তর, (দ্যাবাপৃথিবী) সূর্য ও পৃথিবীতে (অনু) নিরন্তর (আবিবেশ) প্রবেশ করেছেন ॥২৭॥
যে পরমেশ্বর সূক্ষ্ম ও স্থূল পদার্থ রচনা করে সকলকে নিজের বশে/বশবর্তী করে রেখেছেন, তিনি সব মনুষ্যদের উপাস্য ॥২৭॥মন্ত্র ২৭, ২৮ আছে-অ০ ৭।৮২।৪, ৫ ॥মন্ত্র ২৭ এর প্রথম পাদ ঋগ্বেদে আছে−৪।১৩।১ ॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ (প্রথমঃ) অনাদি, (জাতবেদাঃ) প্রত্যেক উৎপন্ন পদার্থে বিদ্যমান, প্রত্যেক উৎপন্ন পদার্থের জ্ঞাতা, বেদ প্রদাতা (অগ্নিঃ) জ্যোতিঃস্বরূপ পরমেশ্বর কখনও তো উপাসককে (উষসাম্) ঊষাকালের (অগ্রম্ অনু) প্রারম্ভের পর (অখ্যৎ) প্রত্যক্ষ হয়ে যায়, কখনও (অহানি অনু) দিনের সমাপ্তি কালে প্রত্যক্ষ হয়ে যায়/হন। (সূর্যঃ) সূর্যের সূর্য তিনি কখনও (উষসঃ অনু) ঊষাকালের পর, এবং কখনো (রশ্মীন্ অনু) রশ্মির কেবল চমকের পর প্রকট হন। তিনি (দ্যাবাপৃথিবী অনু) দ্যূলোক ও ভূলোকে নিরন্তর (আ বিবেশ) ব্যাপ্ত। বিশ্বনাথ বিদ্যালংকার
[অভিপ্রায় হল, পরমেশ্বরের ভক্তিতে সদা মগ্ন থাকা উচিত, কেউ জানে না কখন দর্শন দেবেন।] বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
পরমাত্মগুণোপদেশঃ−
ऋषि- यम, मन्त्रोक्तदेवता- त्रिष्टुप्छन्द- अथर्वासूक्तम्- पितृमेध सूक्त
প্রত্যগ্নিরুষসামগ্রমখ্যৎ প্রত্যহানি প্রথমো জাতবেদাঃ।
প্রতি সুর্যস্য পুরুধা চ রশ্মীন্ প্রতি দ্যাবাপৃথিবী আ ততান ॥ অথর্ব০ ১৮।১।২৮
প্রতি॑ । অ॒গ্নিঃ । উ॒ষসা॑ম্ । অগ্র॑ম্ । অ॒খ্য॒ত্ । প্রতি॑ । অহা॑নি । প্র॒থ॒মঃ । জা॒তऽবে॑দাঃ । প্রতি॑ । সূর্য॑স্য । পু॒রু॒ऽধা । চ॒ । র॒শ্মীन् । প্রতি॑ । দ্যাবা॑পৃথি॒বী ইতি॑ । আ । ত॒তা॒ন॒ ॥
ক্ষেমকরন ত্রিবেদী পদার্থঃ (অগ্নিঃ) সর্বব্যাপক পরমেশ্বর (উষসাম্) ঊষার (অগ্রম্) বিকাশকে (প্রতি) প্রত্যক্ষরূপে, [সেই] (প্রথমঃ) সর্বপ্রথম বর্তমান (জাতবেদাঃ) উৎপন্ন বস্তু-সমূহের জ্ঞান প্রদানকারী পরমেশ্বর (অহানি) দিনকে (প্রতি) প্রত্যক্ষরূপে (অখ্যৎ)প্রসিদ্ধ করেছেন। (চ) এবং (সূর্যস্য) সূর্যের (রশ্মীন্) ব্যাপক কিরণ-সমূহকে (পুরুধা) অনেক প্রকারে (প্রতি) প্রত্যক্ষরূপে, এবং (দ্যাবাপৃথিবী) সূর্য ও পৃথিবীলোককে (প্রতি) প্রত্যক্ষরূপে (আ) সবদিকে (ততান) বিস্তৃত করেছেন ॥২৮॥
সব জগতের উৎপাদক এবং সর্বনিয়ন্তা ঈশ্বরের মহিমা বিচার করে মনুষ্য নিজের উন্নতি করুক ॥২৮॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ (প্রথমঃ) অনাদি, (জাতবেদাঃ) প্রত্যেক উৎপন্ন পদার্থে বিদ্যমান, প্রত্যেক উৎপন্ন পদার্থের জ্ঞাতা, বেদপ্রদাতা (অগ্নিঃ) জ্যোতিঃস্বরূপ পরমেশ্বর, কখনও (উষসামগ্রম্) ঊষাকালের প্রারম্ভে (প্রতি অখ্যৎ) প্রত্যক্ষ হন, কখনও (অহানি) দিনকে লক্ষ্য করে (প্রতি) প্রত্যক্ষ হন, কখনও (সূর্যস্য পুরুধা রশ্মীন্) নানা শিক্ষায় বিস্তৃত সূর্যের রশ্মিকে লক্ষ্য করে (প্রতি) প্রত্যক্ষ হন। সেই পরমেশ্বর (দ্যাবাপৃথিবী) দ্যূলোক ও পৃথিবী লোককে (প্রতি আ ততান) প্রত্যক্ষ রূপে সর্বত্র বিস্তার করেছেন। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
ऋषि- यम, मन्त्रोक्तदेवता- त्रिष्टुप्छन्द- अथर्वासूक्तम्- पितृमेध सूक्त
দ্যাবাহ ক্ষামা প্রথমে ঋতেনাভিশ্রাবে ভবতঃ সত্যবাচা।
দেবো যন্মর্তান যজথায় কৃন্বন্ৎসীদদ্ধোতা প্রত্যঙ্ স্বমসুং যন্ ॥ অথর্ব০ ১৮।১।২৯
দ্যাবা॑ । হ॒ । ক্ষামা॑ । প্র॒থ॒মে ইতি॑ । ঋ॒তেন॑ । অ॒ভি॒ऽশ্রা॒বে । ভ॒ব॒ত॒ঃ । স॒ত্য॒ऽবাচা॑ । দে॒বঃ । যত্ । মর্তা॑ন্ । য॒জথা॑য় । কৃ॒ণ্বন্ । সীদ॑ৎ । হোতা॑ । প্র॒ত্যঙ্ । স্বম্ । অসু॑ম্ । যন্ ॥
পদার্থঃ (দ্যাবা ক্ষামা) সূর্য ও পৃথিবীর [সমান উপকারী], (প্রথমে) মুখ্য, (সত্যবাচা) সত্যবাণীযুক্ত/সত্যবাদী [উভয় প্রজা স্ত্রী ও পুরুষ] (হ) নিশ্চিতরূপে (ঋতেন) সত্য ধর্ম দ্বারা (অভিশ্রাবে) পূর্ণ কীর্তির মাঝে (ভবতঃ) হয়। (যৎ) কেননা (হোতা) দানী, (দেবঃ) প্রকাশমান [পরমেশ্বর] (মর্তান্) মনুষ্যদের (যজথায়) পরস্পর মিলনের জন্য (কৃণ্বন্) করে এবং (স্বম্) নিজের (অসুম্) বুদ্ধিকে (যন্) প্রাপ্ত হয়ে (প্রত্যঙ্) সামনে (সীদৎ) বসে॥২৯॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
সবথেকে মুখ্য সর্বোপকারী স্ত্রী-পুরুষ কীর্তি প্রাপ্ত করে, কেননা সর্বব্যাপক পরমাত্মা মনুষ্যদের পরস্পর সহায়ক করে কর্মের ফল দেওয়ার জন্য নিজের জ্ঞান দ্বারা সকলের সন্মুখে থাকেন ॥২৯॥মন্ত্র ২৯, ৩০ ঋগ্বেদে আছে- ১০।১২।১, ২ ॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ (ঋতেন) সৃষ্টির নিয়মানুসারে (সত্যবাচা) পরমেশ্বরীয় সত্যেচ্ছার শব্দের দ্বারা, (প্রথমে) বিস্তৃত (দ্যাবা ক্ষামা) দ্যূলোক ও ভূলোক (অভিশ্রাবে ভবতঃ) প্রসিদ্ধি প্রাপ্ত করে, অর্থাৎ উৎপন্ন হয়। তদনন্তর (স্বম্ অসুম্) নিজ স্বাভাবিক প্রজ্ঞান (যন্) প্রাপ্ত, (প্রত্যঙ্) জগতের প্রত্যেক পদার্থে ব্যাপ্ত, (দেবঃ) সেই দেবাধিদেব, (যৎ) যখন (মর্তান্) মনুষ্যদের (যজথায়) যজ্ঞিয় কর্ম করার জন্য (কৃণ্বন্) উৎপন্ন করেন, তখন তিনি (সীদৎ) মনুষ্যদের হৃদয়ে স্থিত হয়ে (হোতা) তাঁদের শক্তি প্রদান করেন। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
[সত্যবাচা = "তদৈক্ষত বহু স্যাং প্রজায়েয়" (ছা০ অ০ ৬, সং০ ২), সৃষ্টির প্রারম্ভে পরমেশ্বরের মধ্যে এই ইচ্ছা প্রকট হয়, "আমি জগতের নানারূপে প্রকট হই/হবো" তখন জগতের সৃষ্টি হয়। "প্রকট হই/হবো"- এই ইচ্ছা মানসিক শব্দ, মানসিক বাণী, যা সত্যস্বরূপা, যা প্রত্যেক সৃষ্ট্যারম্ভে প্রকট হয়। এই ইচ্ছাময়ী বাণীর পরে পরমেশ্বরীয় দর্শন হয়। ইহাকে মন্ত্রে "অসু" বলা হয়েছে। নিঘণ্টুতে অসু এর অর্থ দেওয়া হয়েছে/আছে "প্রজ্ঞা" (৩।৯)। এই প্রজ্ঞা বা প্রজ্ঞান "ঈক্ষণ" রূপ। যথা - "তদৈক্ষত" (ছান্দো০ অ০ ৬।২), তথা "ঈক্ষতের্নাশব্দম্" (বেদান্ত ১।১।৫)। মনুষ্যদের মধ্যেও কোনো কার্যের আরম্ভে প্রথমে ইচ্ছা উৎপন্ন হয়। তদনন্তর ইচ্ছাকে কার্যান্বিত করার জন্য তদুপযোগী সাধনের নিরীক্ষণ হয়। মন্ত্রে এটাও বলা হয়েছে মনুষ্য-জীবনের উদ্দেশ্য হল - যজ্ঞিয় কর্ম করা। এইজন্য/কারণে পরমেশ্বর মনুষ্যদের হৃদয়ে স্থিত, এবং তাঁদের যজ্ঞিয় কর্ম করার জন্য মার্গ দর্শন করাতে থাকেন।] বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
দেবে দেবান্ পরিভূর্খতেন বহা নো হব্যং প্রথমশ্চিকিত্বান।
ধূমকেতুঃ সমিধা ভাঋজীকো মন্দ্রো হোতা নিত্যো বাচা যজীয়ান্ ॥ অথর্ব০ ১৮।১।৩০
পদার্থঃ [হে পরমাত্মন্ !] (দেবঃ) প্রকাশমান, (ঋতেন) সত্য ধর্ম দ্বারা (দেবাকগন্) গতিমান্ লোক-সমূহে (পরিভূঃ) ব্যাপ্ত হয়ে, (প্রথমঃ) প্রথম থেকে বর্তমান (চিকিত্বান্) [সর্ব] জ্ঞাতা তুমি (নঃ) আমাদের জন্য (হব্যম্) গ্রাহ্য পদার্থ (বহ) প্রেরণ করো। (সমিধা) সমিধা [কাষ্ঠ আদি] দ্বারা (ধূমকেতুঃ) ধোঁয়ার ধ্বজাযুক্ত [অগ্নিরূপ] তুমি (ভাঋজীকঃ) বহুপ্রকাশযুক্ত, (মন্দ্রঃ) আনন্দদাতা, (হোতা) দানকর্তা (নিত্যঃ) সদা বর্তমান এবং (বাচা) বাণীদ্বারা (যজীয়ান্) অতি সংযোগকারী/সংযোজক ॥৩০॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
মনুষ্য অনাদি অনন্তসর্বস্রষ্টা পরমাত্মাকে সর্বব্যাপক, সর্বনিয়ন্তা এবং সর্বজ্ঞ জেনে পুরুষার্থ সহিত গ্রাহ্য পদার্থ-সমূহ উপার্জন করুক ॥৩০॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ হে পরমেশ্বর! আপনি (দেবঃ) দেবাধিদেব। (ঋতেন) অনাদি নিয়মের অনুসারে আপনি (দেবান্) দিব্য-জনের (পরিভূঃ) রক্ষার জন্য তাঁদের ঘিরে থাকেন। আপনি (নঃ) আমাদের শ্রদ্ধাময় (হব্যম্) হবি (বহ) স্বীকার করুন। আপনি (প্রথমঃ) সর্বশ্রেষ্ঠ ও অনাদি, (চিকিত্বান্) যথার্থবেত্তা। (সমিধা) সমিধা দ্বারা (ধূমকেতুঃ) যজ্ঞিয়াগ্নির সদৃশ প্রকাশমান (ভাঋজীকঃ) প্রভা/দীপ্তিতে আপনি সূর্যসদৃশ, (মন্দ্রঃ) হর্ষপ্রদাতা, (হোতা) শক্তিপ্রদাতা, (নিত্যঃ) সদা সৎ, তথা (বাচা) নিজ বাণী দ্বারা (যজীয়াম্) আমাদের যজ্ঞিয় কর্মকে সফল করে দেন/করেন। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
[ঋজীকঃ= সূর্যঃ (উণাদি ৫।৫১), দয়ানন্দভাষ্য]
অর্চামি বাং বর্ধায়াপো ঘৃতস্থ দ্যাবাভূমী শৃণুতং রোদসী মে।
অহা যদ দেবা অসুনীতিমায়ন্ মঞ্চা নো অত্র পিতরা শিশীতাম্ ॥ অথর্ব০ ১৮।১।৩১
পদার্থঃ (ঘৃতস্নূ) হে জলসমান [ব্যবহার] শুদ্ধকারী ! [মাতা-পিতা] (বর্ধায়) [নিজের] বৃদ্ধির জন্য (বাম্) তোমাদের দুজনের (অপঃ) কর্মের (অর্চামি) আমি পূজা করি, (রোদসী) হে ব্যবহারের রক্ষক ! [প্রজাগণ] তোমরা (দ্যাবাভূমী) সূর্য এবং ভূমির [সমান উপকারী হয়ে] (মে) আমার কথা (শৃণুতম্) শ্রবণ করো। (যৎ) কেননা (অহা) দিন এবং (দেবাঃ) গতিমান্ লোক (অসুনীতিম্) প্রাণদাতা [পরমাত্মাকে] (আয়ন্) প্রাপ্ত হয়, (অত্র) এখানে [সংসারে] (নঃ) আমাদের (পিতরা) মাতা-পিতা [তোমরা দুজন] (মধ্বা) জ্ঞান দ্বারা (শিশীতাম্) তীক্ষ্ণ করো॥৩১॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
যে মাতা-পিতা আদি পূজনীয় বিদ্বানদের কর্ম দ্বারা এবং সংসারের বিবিধ পদার্থ থেকে পরমেশ্বরের জ্ঞান প্রাপ্ত করে, তাঁরাই মহাজ্ঞানী হয় ॥৩১॥এই মন্ত্র কিছুটা আলাদাভাবে ঋগ্বেদে আছে−১০।১২।৪ ॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ হে মাতা-পিতা ! (বাম্) আপনাদের দুজনের (অর্চামি) আমি পূজা করি, যাতে (অপঃ) আমার সৎকর্ম-সমূহের (বর্ধায়) বৃদ্ধি হতে পারে। (ঘৃতস্নূ) আপনারা দুজন আমার জন্য ঘৃত আদি পদার্থ-সমূহ প্রবাহিত করেন, (দ্যাবাপৃথিবী) আপনারা দুজন দ্যূলোক ও পৃথিবীলোকের সদৃশ আমার জন্মদাতা, (রোদসী) কষ্ট-সমূহ এবং দুঃখের কারণে প্রকটিত আমার রুদনকে আপনারা দূর করেন। (শৃণুতম্) আপনারা আমার প্রার্থনা শ্রবণ করুন, (দেবাঃ) অতিথি দেব তথা আচার্য দেব প্রমুখ (যদ্ অহা) যে-যে দিনে আমাদের (অসুনীতিম্) প্রজ্ঞা ও প্রাণশক্তি, তথা বল-এর নীতির (আয়ন্) উপদেশ দেন, সেই-সেই দিন (পিতরা) হে আমার মাতা-পিতা ! (অত্র) এই ঘরে আপনারা (নঃ) আমাদের (মধ্বা) তাঁদের মধুর উপদেশের (শিশীতাম্) সদা শিক্ষা দিতে থাকেন/থাকুন। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
[রোদসী = রুদ্ (রোদন) + অস্ (প্রক্ষেপে)। শিশীতাম্ = শিশীতিঃ দানকর্মা (নিরু০ ৫।৪।২৩)] বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
স্বাবৃগ্ দেবস্যামৃতং যদী গোরতো জাতাসো ধারয়ন্ত উর্বী।
বিশ্বে দেবা অনু তৎ তে যজুগুদুহে যদেনী দিব্যং ঘৃতং বাঃ৷ অথর্ব০ ১৮।১।৩২
পদার্থঃ (যদি) যেহেতু (দেবস্য) প্রকাশময় পরমেশ্বরের (অমৃতম্) অমৃত [জীবন সামর্থ্য] (গোঃ) পৃথিবীর জন্য (স্বাবৃক্) সহজে প্রাপ্তি যোগ্য, (অতঃ) এই [জীবন সামর্থ্য] দ্বারা (জাতাসঃ) উৎপন্ন প্রাণী (উর্বী) পৃথিবীতে (ধারয়ন্তে) [নিজেকে] ধারণ করে। হে পরমাত্মন্ ! (বিশ্বে) সব (দেবাঃ) বিদ্বানগণ (তে) তোমার (তৎ) সেই (যজুঃ অনু) পূজনীয় কর্মের অনুসারে/অনুকূলে (গুঃ) চলে, (যৎ) কেননা (এনী) গমনশীল ভূমি (দিব্যম্) শ্রেষ্ঠ (ঘৃতম্) সারযুক্ত (বাঃ) বরণীয় উত্তম পদার্থ (দুহে) ভরপূর করে॥৩২॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পরমেশ্বর প্রাণীদের পালনের জন্য পৃথিবীতে আলো, বায়ু, জল, অন্ন আদি অনেক পদার্থ স্বয়ং প্রাপ্তির যোগ্য করেছেন, সব বিদ্বানগণ পরমেশ্বরের নিয়ম বুঝে সংসারে অনেক লাভ করে ॥৩২॥এই মন্ত্র ঋগ্বেদে আছে−১০।১২।৩ ॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ (যদ্ ঈ) যখন উপাসক (দেবস্য) পরমেশ্বর দেবের (গোঃ) বেদবাণী দ্বারা (স্বাবৃগ্) নিজ পাপের বর্জন করে নেয়, এবং (অমৃতম্) মোক্ষ বা অনশ্বর প্রভুকে প্রাপ্ত করে নেয়, তখন (অতঃ) এই বেদবাণী দ্বারা (জাতাসঃ) দ্বিজন্মারূপে সৃষ্ট/উৎপন্ন উপাসক (উর্বী ধারয়ন্তে) সমগ্র পৃথিবীর ধারণ নিজের সদুপদেশ দ্বারা করে। হে পরমেশ্বর ! তখন সেই (বিশ্ব দেবাঃ) সব দেবতা (তে) আপনার (যজুঃ) যজ্ঞকর্মের (অনু গুঃ) অনুগামী হয়ে যায়। (যদ্) যদ্যপি (এনী) বিচিত্রবর্ণা অর্থাৎ বিবিধ জ্ঞানের বর্ণনাকারী বেদবাণী, তার/তাদের জন্য (দিব্যং ঘৃতং বাঃ) দিব্য ঘী ও দিব্য জল (দুহে) দোহরূপে প্রদান করে। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
[স্বাবৃগ্ = স্বাবৃক্ =স্ব+আ+ বৃজ্ (বর্জনে)। গৌঃ= বাক্ (নিঘং০ ১।১১)। যজুঃ = পরমেশ্বরের যজ্ঞকর্ম হল পরোপকারার্থ সৃষ্টির পালন। এনী = গৌ। "দুহে" পদ দ্বারাও এনী এর অর্থ গাভী প্রতীত হয়। দিব্যং ঘৃৎ বাঃ= বেদবাণী উপাসকের বীর্য ও রস-রক্তকে দিব্য করে, সাত্ত্বিক করে। ঘৃত= রেতঃ বীর্য। যথা - "রেতঃ কৃত্বাজ্যং দেবাঃ পুরুষমাবিশন্" (অথর্ব০ ১১।৮।২৯) বাঃ=আপঃ=রস-রক্ত (অথর্ব০ ১০।২।১১)।] বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
কিং স্কিন্নো রাজা জগৃহে কদস্যাতি ব্রতং চকুমা কো বি বেদ।
মিত্রশ্চিদ্ধি ষ্মা জুহুরাণো দেবাং্যোকো ন যাতামপি বাজো অস্তি ॥ অথর্ব০ ১৮।১।৩৩
পদার্থঃ (কিং স্বিৎ) কেন [কোন কর্মফলে] (নঃ) আমাদের (রাজা) রাজা [পরমেশ্বর] (জগৃহে) গ্রহণ করেছেন [সুখ দিয়েছেন], (কৎ) কখন (অস্য) এই [পরমাত্মার] (ব্রতম্) নিয়ম (অতি চকৃম) আমরা উলঙ্ঘন করেছি [যার ফলে ক্লেশ প্রাপ্ত করেছি/হয়েছি], (কঃ) প্রজাপতি পরমেশ্বর [তা] (বি) বিবিধ প্রকারে (বেদ) জানেন। (হি) কেননা (মিত্রঃ) সকলের মিত্র [পরমাত্মা] (চিৎ) ই (স্ম) অবশ্য (দেবান্) উন্মত্তদের (জুহুরাণঃ) বিকৃতকারী এবং (যাতাম্) গতিশীল [পুরুষার্থীদের] (অপি) ই (শ্লোকঃ ন) স্তুতির সমান (বাজঃ) বল (অস্তি) হয়॥৩৩॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পূর্বজন্মের কর্মফল ব্যবস্থা, যা আমাদের অকস্মাৎ সুখ-দুঃখের কারণ, পরমেশ্বর তা জানেন, কিন্তু তিনি নিজের ন্যায়ব্যবস্থা দ্বারা উন্মত্তদের কষ্ট এবং উদ্যোগীদের সুখ প্রদান করেন ॥৩৩॥মন্ত্র ৩৩-৩৬ ঋগ্বেদে আছে−১০।১২।৫-৩৮ ॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ (কিং স্বিৎ) কেন (রাজা) জগতের রাজা (নঃ) আমাদের (জগৃহে) জন্ম-মরণের বন্ধনে আবদ্ধ রেখেছেন ? (কৎ = কদ্) কখন (অস্য) এই রাজার (ব্রতম্) নিয়মব্যবস্থা আমরা (অতি চকৃম) অতিক্রমণ = উল্লঙ্ঘন করেছি ? (কঃ বি বেদ) কে বিবেকপূর্বক ইহা জানে ? (মিত্রঃ চিদ্ হি) তিনি নিশ্চিতরূপে আমাদের মিত্র, (স্ম= স্মঃ) এবং আমরা উনার মিত্র। (দেবান) তিনি তো দেবকোটির লোকেদের (জুহুরাণঃ) চন্দ্রসম আহ্লাদ প্রদান করেন। তিনি (যাতাম্) ধর্মমার্গে গমনশীল/গমনকারীদের (বাজঃ) বলরূপ (অস্তি) হয়, (শ্লোকঃ ন) যেমন বৈদিক মন্ত্র স্বাধ্যায়শীলের জন্য বলরূপ। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
[জুহুরাণঃ = চন্দ্রমা (উণা০ ২।৯২)।]
দুর্মন্তুত্রামৃতস্য নাম সলক্ষ্মা যদ বিষুরূপা ভবাতি।
যমস্য যো মনবতে সুমন্ত্রগ্নে তমৃদ্ধ পাহ্যপ্রযুচ্ছন্ ॥ অথর্ব০ ১৮।১।৩৪
পরমাত্মগুণোপদেশঃ−
পদার্থঃ (অত্র) এখানে [সংসারে] (অমৃতস্য) অমর [অবিনাশী পরমাত্মার] (নাম) নাম (দুর্মন্তু) দুর্মাননীয় [সর্বদা অপূজনীয়] [হবে], (যৎ) যদি (সলক্ষ্মা) সমান লক্ষণবিশিষ্ট [ধর্মব্যবস্থা] (বিষুরূপা) নানা স্বভাবগত [চঞ্চল, অধার্মিক] (ভবাতি) হয়। (যঃ) যে [মনুষ্য] (যমস্য) ন্যায়কারী পরমেশ্বরের [নামকে] (সুমন্তু) বড়ো মাননীয় (মনবতে) মানে, (অগ্নে) হে জ্ঞানময় ! (ঋষ্ব) হে মহান্ পরমেশ্বর ! (তম্) তাঁকে (অপ্রয়ুচ্ছন্) অপ্রমাদ করে (পাহি) পালন করো ॥৩৪॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
যদি পরমাত্মা অন্যায় করেন তবে সব সংসার উলট-পালট হয়ে যাবে। যে মনুষ্য উনার ন্যায়ব্যবস্থা অনুসারে চলে, সে সুখ পায়/প্রাপ্ত হয় ॥৩৪॥এই মন্ত্রের দ্বিতীয় পাদ মন্ত্র ২ এ আছে॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ (অত্র) এই জীবনে (অমৃতস্য) অমর পরমাত্মার (নাম) ও৩ম্ নাম, মনন করাও (দুর্মন্তু) দুর্মনন হয়ে যায়, (যদ্) যখন (সলক্ষ্মা) সমান লক্ষণযুক্ত চিতিশক্তি (বিষুরুপা) বিভিন্ন লক্ষণযুক্ত (ভবাতি) হয়ে যায়। (যঃ) যে মনুষ্য (যমস্য) অমর নিয়ন্তার "ও৩ম্" নামের (মনবতে) সলক্ষ্ম হয়ে মনন করে, তার মনন (সুমন্তু) সুমনন হয়। (ঋষ্ব) হে মহান্ (অগ্নে) জ্যোতির্ময় পরমাত্মন্ ! (তম্) এরুপ মননকর্তার আপনারা (অপ্রয়ুচ্ছন্) নিরন্তর সদা (পাহি) রক্ষা করুন। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
সলক্ষ্মা = চিতিশক্তি অর্থাৎ জীবাত্মা, পরমাত্মার সদৃশ লক্ষণযুক্ত। উভয়ই আত্মরূপ, উভয়ই চিদ্রূপ, উভয়ই নিত্য সদ্রূপ। উভয়ই একসাথে থাকা সখা = সয়ুজা সখায়া। কিন্তু অজ্ঞানবশত যখন চিতিশক্তি অর্থাৎ জীবাত্মা নিজেকে দেহরূপ বা মনরূপ মনে করে দেহাদির পালনে রত হয়ে যায়, বা মানসিক সঙ্কল্প-বিকল্পকে নিজ ধ্যেয় বুঝে নেয়/মনে করে, তখন এই চিতিশক্তি "বিষুরূপা" হয়ে যায়। বিষুরূপা-এ “ও৩ম্” এর মনন বাস্তবিক মনন হয় না। এই কৃত মননও বাস্তবে দুর্মননই থাকে। এইজন্য "সলক্ষ্ম" হয়ে "ও৩ম্” নামের মনন করাই সুমনন। ঋষ্ব= মহন্নাম (নিঘং০ ৩।৩)। অপ্রয়ুচ্ছন্ = প্রমাদ বিনা।] বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
যস্মিন্ দেবা বিদথে মাদয়ন্তে বিবস্বতঃ সদনে ধারয়ন্তে।
সূর্যে জ্যোতিরদধুর্মাস্যকুন্ পরি দ্যোতনিং চরতো অজস্রা ॥ অথর্ব০ ১৮।১।৩৫
পদার্থঃ (যস্মিন্) যে [পরমাত্মার] মধ্যে (দেবাঃ) দিব্য নিয়ম (বিদথে) বিজ্ঞানের মাঝে (মাদয়ন্তে) তৃপ্ত থাকে এবং (বিবস্বতঃ) প্রকাশময় [পরমেশ্বরের] (সদনে) ঘর [ব্রহ্মাণ্ডে] (ধারয়ন্তে) [নিজেকে] ধারণ করে রাখে। (সূর্যে) সূর্যের মধ্যে (জ্যোতিঃ) জ্যোতি এবং (মাসি) চন্দ্রের মধ্যে (অক্তূন্) [সূর্যের] কিরণ-সমূহকে (অদধুঃ) সেই [নিয়ম] রেখেছে, (অজস্রা) নিরন্তর [সূর্য-চন্দ্র] (দ্যোতনিম্) সেই প্রকাশমান [পরমাত্মার] (পরি চরতঃ) সেবা করে ॥৩৫॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
ঋষি-মুনিগণ ধ্যান করে যে পরমাত্মার জ্ঞানের প্রচার সংসারে বিস্তারিত করে, সেই পরমেশ্বরের নিয়মে সূর্য-চন্দ্র আদি লোক উপকার করে ॥৩৫॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ (যস্মিন্ বিদথে) যে বিবেক-জ্ঞান প্রকট হলে, (দেবাঃ) পরমেশ্বরীয় দিব্য শক্তি-সমূহ, আমাদের (মাদয়ন্তে) তৃপ্ত প্রমুদিত করে, এবং (বিবস্বতঃ সদনে) অজ্ঞানান্ধকার দূর/পরাভূতকারী পরমেশ্বরের আশ্রয়ে (ধারয়ন্তে) আমাদের স্থাপিত করে, সেই দিব্যশক্তি-সমূহ (সূর্যে) সূর্যের মধ্যে (জ্যোতিঃ) দ্যুতি (অদধুঃ) স্থাপিত করেছে। এবং (মাসি) চন্দ্রের মধ্যে (অক্তূন্) রাত্রি বা অভিব্যক্ত তারাগণ স্থাপিত করেছে, যা (অজস্রা= অজস্রৌ) মানো অক্ষীণ সূর্য ও চন্দ্র, (দ্যোতনিম্) জ্যোতিঃ স্বরূপ পরমেশ্বরের মানো (পরি চরতঃ) পরিচর্যা করছে। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
[বিবস্বান্ = বিবাসনবান্ (নিরু০ ৭।৭।২৭) = অজ্ঞানান্ধকার-নাশনবান্।]
যস্মিন্ দেবা মন্মনি সঞ্চরন্ত্যপীচ্যে ন বয়মস্য বিঘ্ন।
মিত্রো নো অত্রাদিতিরনাগানৎসবিতা দেবো বরুণায় বোচৎ ॥ অথর্ব০ ১৮।১।৩৬
যস্মি॑ন্ । দে॒বাঃ । মন్নি । স॒ম্ঽচর॑ন্তি । অ॒পী॒চ্যে᳡ । ন । ব॒য়ম্ । অ॒স্য॒ । বি॒দ্ম॒ । মি॒ত্রঃ । ন॒ঃ ।
অত্র॑ । অদি॑তিঃ । অনা॑গান্ । স॒বি॒তা । দে॒বঃ । বরু॑ণায় । বো॒চ॒ত্ ॥
পদার্থঃ (যস্মিন্) যে [পরমাত্মার] মধ্যে (দেবাঃ) দিব্য নিয়ম (অপীচ্যে) গুপ্ত (মন্মনি) জ্ঞানের মাঝে (সঞ্চরন্তি) চলতে থাকে/বিচরন করে, (বয়ম্) আমরা (অস্য) তা (ন) না (বিদ্ম) জানি। (মিত্রঃ) সকলের মিত্র, (অদিতিঃ) অখণ্ড, (সবিতা) সকলকে উৎপন্নকারী, (দেবঃ) প্রকাশমান পরমাত্মা (অনাগান্ নঃ) আমাদের নিরপরাধীদের [ধার্মিক পুরুষার্থীদের] (অত্র) এই [বিষয়ে] (বরুণায়) শ্রেষ্ঠ গুণের জন্য (বোচৎ) উপদেশ করে ॥৩৬॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পরমাত্মার নিয়ম সংসারে এমন যে, যতই বিদ্বানগণ তা অন্বেষণ করতে থাকে, ততই অধিক জানতে/জ্ঞাত হতে থাকে। মনুষ্য নিরালসী হয়ে পরমেশ্বরের শরণে থেকে সদা পুরুষার্থ করুক॥৩৬॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ (যস্মিন্) যে (মন্মনি) জ্ঞানবান্ (অপীচ্যে) কিন্তু অন্তর্হিত পরমেশ্বরের মধ্যে, (দেবাঃ) জীবন্মুক্ত দিব্য যোগী (সঞ্চরন্তি) সম্যক্ বিচরন করে, (অস্য) এই পরমেশ্বরের বিধিবিধানকে (বয়ম্) আমরা সংসারী লোকেরা (ন বিদ্ম) না জানি/জানি না/জ্ঞাত নয়। (মিত্রঃ) মিত্রজন, (অদিতিঃ) মাতা, তথা (সবিতা দেবঃ) পিতৃদেব এঁদের মধ্যে প্রত্যেকে (নঃ) আমাদের, (অত্র) এই জীবনে, (অনাগান্) পাপরহিত (বোচৎ) বলুক, উদ্ঘোষিত করুক। যাতে আমরাও (বরুণায়) বরণকারী শ্রেষ্ঠ পরমেশ্বরের প্রাপ্তির যোগ্য হতে পারি। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
সখায় আ শিষামহে ব্রহ্মেন্দ্রায় বজ্রিণে।
স্তষ উযু নৃতমায় ধৃষ্ণবে ॥ অথর্ব০ ১৮।১।৩৭
রাজনির্বাচনোপদেশঃ−
পদার্থঃ (সখায়ঃ) হে মিত্রগণ ! (বজ্রিণে) বজ্র [অস্ত্র-শস্ত্র] ধারণকারী, (নৃতমায়) অনেক বড়ো নেতা, (ধৃষ্ণবে) সাহসী (ইন্দ্রায়) ইন্দ্র [ঐশ্বর্যবান পুরুষকে] (ব্রহ্ম) ব্রহ্মজ্ঞান (স্তুষে) স্তুতি করার জন্য (উ) অবশ্যই (সু) উত্তমরূপে (আ শিষামহে) আমরা নিবেদন করি ॥৩৭॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
সব বিদ্বানগণ মহাগুণী, নীতিজ্ঞ পুরুষার্থী মনুষ্যকে রাজসিংহাসনে বিরাজ করার জন্য নিবেদন/প্রার্থনা করুক ॥৩৭॥এই মন্ত্র ঋগ্বেদে আছে−৮।২৪।১ এবং সামবেদে পূ০ ৪।১০।১০॥
পদার্থঃ (সখায়ঃ) হে উপাসক মিত্রগণ ! (স্তুষে) স্তবনের জন্য, (বজ্রিণে) ন্যায়বজ্রধারী (নৃতমায়) সকলের নেতা, (ধৃষ্ণবে) পাপ-সমূহের পরাভবকর্ত্তা (ইন্দ্রায়) পরমেশ্বরের প্রতি (ব্রহ্ম) তৎপ্রতিপাদক মহাস্তোত্র (আশিষামহে) আমরা প্রারম্ভ করি। [স্তুষে = স্তোতুম্, স্তৌমি (সায়ণ)।]
শবসা হাসি শ্রুতো বৃত্রহত্যেন বৃত্রহা।
মঘৈর্মঘোনো অতি শূর দাশসি ॥ অথর্ব০ ১৮।১।৩৮
রাজনির্বাচনোপদেশঃ−
পদার্থঃ (হি) কেননা/যেহেতু, (শূর) হে বীর ! তুমি (শবসা) বল দ্বারা (শ্রুতঃ) বিখ্যাত এবং (বৃত্রহত্যেন) দুষ্টদের বিনাশের মাধ্যমে (বৃত্রহা) দুষ্টনাশক (অসি) হও, এবং (মঘৈঃ) ধন-সম্পদের কারণে (মঘোনঃ অতি) ধনবানদের থেকে অধিক (দাশসি) তুমি দান করো ॥৩৮॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
হে রাজন্ ! আপনি মহাবলশালী, শত্রুনাশক এবং সুপাত্রদের জন্য অনেক দান প্রদানকারী, এই গুণ-সমূহের দ্বারা আমরা আপনাকে রাজা করি ॥৩৮॥এঈ মন্ত্র ঋগ্বেদে আছে−৮।২৪।২ ॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ হে পরমেশ্বর ! আপনি (হি) নিশ্চিতরূপে, (শবসা) বল-এর কারণে (শ্রুতঃ অসি) বিশ্রুত, এবং (বৃত্রহত্যেন) পাপ-সমূহের হননের কারণে, (বৃত্রহা) পাপ-হন্তা নাম দ্বারা বিশ্রুত। (শূর) হে দানবীর ! আপনি (মঘৈঃ) ধনদানের দৃষ্টিতে (মঘোনঃ) ধনদাতাদের থেকে (অতি দাশসি) অধিক মহাদান করছেন। বিশ্বনাথ বিদ্যালংকার
স্তেগো ন ক্ষামত্যেষি পৃথিবীং মহী নো বাতা ইহ বাস্তু ভূমৌ।
মিত্রো নো অত্র বরুণো যুজ্যমানো অগ্নির্বনে ন ব্যসৃষ্ট শোকম্ ॥ অথর্ব০ ১৮।১।৩৯
রাজকৃত্যোপদেশঃ
[পদার্থঃ হে রাজন্ !] (স্তেগঃন) সংগ্রহকর্তা পুরুষের সমান (ক্ষাম্) নিবাস প্রদায়ী (পৃথিবীম্ অতি) পৃথিবীতে (এষি) তুমি চলো/গমন করো, (বাতাঃ) বায়ুর [সমান বেগবান পুরুষ] (ইহ) এখানে [রাজ্যে] (নঃ) আমাদের জন্য (মহী) বড়ো (ভূমৌ) ভূমিতে (বান্তু) চলুক/গমন করুক। (অত্র) এখানে (নঃ) আমাদের (যুজ্যমানঃ) একসাথে (বরুণঃ) শ্রেষ্ঠ (মিত্রঃ) মিত্র [আপনি] (শোকম্) প্রতাপ (বি) দূর-দূর পর্যন্ত (অসৃষ্ট) বিস্তারিত করেছো, (অগ্নিঃ ন) যেমন অগ্নি (বনে) বনে [তাপ বিস্তৃত করে] ॥৩৯॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
রাজার উচিৎ অনেক ধন সংগ্রহ করে রাজ্যের রক্ষা করা এবং প্রজাগণকে উদ্যোগী করে শত্রুদের বিনাশ করা ॥৩৯॥ এই মন্ত্র কিছুটা আলাদাভাবে ঋগ্বেদে আছে−১০।৩১।৯। এবং সেখানে [বিশ্বেদেবাঃ] দেবতা ॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ (স্তেগঃ ন) হরিণ যেমন (অতি) বাধা-সমূহের অতিক্রমণ করে (ক্ষাং পৃথিবীম্) নিজ নিবাসস্থান প্রাপ্ত করে, তেমনই আপনি আমাদের অন্তরায়ের (অতি) অতিক্রমণ করে (এষি) আমাদের প্রাপ্ত হন। আপনার কৃপায়, (নঃ) আমাদের জন্য, (ইহ) এই (মহী ভূমৌ) মহাভূমিতে (বাতাঃ) সুখকর বায়ু (বান্তু) প্রবাহিত/বাহিত হোক। (যুজ্যমানঃ) যোগবিধি দ্বারা যুক্ত (মিত্রঃ) সর্ব-মিত্র এবং (বরুণঃ) সর্বশ্রেষ্ঠ পরমেশ্বর, (নঃ) আমাদের (অত্র) এই জীবনে, (শোকম্) নিজ প্রকাশের (ব্যসৃষ্ট) বিসর্জন করে, (নঃ) যেমন (অগ্নিঃ) অগ্নি (বনে) বনে (শোকং ব্যসৃষ্ট) প্রকাশের/আলোর বিসর্জন করে [স্তেগ = stag (হরিণ)। ব্যসৃষ্ট = বিসর্জন, বিশেষ সর্জন।] বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
স্তুহি শ্রুতং গর্তসদং জনানাং রাজানং ভীমমুপহত্বমুগ্রম্।
মৃড়া জরিত্রে রুদ্র স্তবানো অন্যমস্মৎ তে নি বপন্তু সেন্যম্ ॥ অথর্ব০ ১৮।১।৪০
পদার্থঃ (রুদ্র) হে রুদ্র ! [শত্রুনাশক রাজন্] (শ্রুতম্) বিখ্যাত, (গর্তসদম্) রথে স্থিতিশীল/রথারোহী, (জনানাম্) মনুষ্যদের মাঝে (রাজানম্) শোভায়মান, (ভীমম্) ভয়ঙ্কর, (উপহত্নুম্) হননকারী, (উগ্রম্) প্রচণ্ড [সেনাপতির] (স্তুহি) প্রশংসা করো। এবং (স্তবানঃ) প্রশংসিত তুমি (জরিত্রে) প্রশংসাকারীর জন্য (মৃড) সুখী হও, (অস্মৎ) আমাদের থেকে (অন্যম্) অন্য পুরুষ [অর্থাৎ শত্রুকে] (তে) তোমার (সেন্যম্) সেনাদল (নিবপন্তু) ছেদন করুক॥৪০॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
রাজার উচিৎ বড়ো-বড়ো বীর সেনাপতিদের প্রশংসা করে আদর করা, এবং যে প্রজাগণ আদি রাজার শ্রেষ্ঠ গুণ-সমূহের স্তুতি করে/করবে, তাঁদের প্রসন্ন করা এবং ধর্মাত্মাদের রক্ষা করে শত্রুদের নাশ করা ॥৪০॥এই মন্ত্র কিছুটা আলাদাভাবে ঋগ্বেদে আছে ২।৩৩।১১॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ হে উপাসক ! (শ্রুতম্) বিশ্রুত, (জনানাম্) লোকেদের (গর্তসদম্) হৃদয়-গুহায় স্থিত, (ভীমম্) পাপীদের জন্য ভয়ানক, (উপহন্তুম্) তাঁদের হন্তা (উগ্রম) নিজের নিয়মে উগ্ররূপ, (রাজানম্) জগতের রাজার (স্তুহি) তুমি স্তুতি করো। (রুদ্র) হে রৌদ্ররূপ পরমেশ্বর ! (জরিত্রে) স্তোতার জন্য (স্তবানঃ) সন্মার্গের স্তবনকারী আপনি (মৃড) তাঁকে সুখী করুন। হে পরমেশ্বর ! (তে) আপনার সেনা (সেন্যম্) সেনা দ্বারা আক্রমণীয়, (অস্মৎ অন্যম্) আমাদের/স্তোতাদের থেকে ভিন্ন অন্য অস্তোতাদের (নিবপন্তু) ছিন্ন-ভিন্ন করুক। [বপন্তু = বপ (ছেদনে)। পরমেশ্বরের সেনা হল "উনার উগ্র সুদৃঢ় নিয়ম"।] বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
সরস্বতীং দেবয়ন্তো হবন্তে সরস্বতীমধ্বরে তায়মানে।
সরস্বতীং সুকৃতো হবন্তে সরস্বতী দাশুষে বার্যং দাৎ ॥ অথর্ব০ ১৮।১।৪১
সরস্বতী আহ্বানের উপদেশ।
পদার্থঃ (সরস্বতীম্) সরস্বতী [বিজ্ঞানবতী বেদবিদ্যাকে], (সরস্বতীম্) সেই সরস্বতীকে (দেবয়ন্তঃ) দিব্যগুণ-সমূহের কামনাকারী পুরুষ (তায়মানে) বিস্তারশীল (অধ্বরে) হিংসারহিত ব্যবহারে (হবন্তে) আহ্বান করে। (সরস্বতীম্) সরস্বতীকে (সুকৃতঃ) সুকৃতী/পুণ্যকর্মীরা (হবন্তে) আহ্বান করে, (সরস্বতী) সরস্বতী (দাশুষে) নিজের ভক্তকে (বার্যম্) শ্রেষ্ঠ পদার্থ (দাৎ) প্রদান করে ॥৪১॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
বিজ্ঞানী পরিশ্রমপূর্বক ও আদরপূর্বক বেদবিদ্যার অভ্যাস করে পুণ্য কর্ম করে এবং মোক্ষ আদি ইষ্ট পদার্থ প্রাপ্ত করে ॥৪১॥ মন্ত্র ৪১-৪৩। কিছুটা আলাদাভাবে ঋগ্বেদে আছে ১০।১৭।৭-৯ ॥ এই সূক্ত মেলাও-অ০ ৭।৬৮।১-৩ ॥ এই তিনটি মন্ত্র আছে অ০ ১৮।৪।৪৫-৪৭॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ (দেবয়ন্তঃ) পরমেশ্বর দেবতার কামনাকারী (সরস্বতীম্) জ্ঞান প্রদায়িনী বেদবাণীর (হবন্তে) উচ্চারণ বা জপ করে। (অধ্বরে) অহিংসা-যজ্ঞ (তায়মানে) করার সময় (সরস্বতীম্) যাজ্ঞিকগণ জ্ঞানপ্রদা বেদবাণীর উচ্চারণ করে। (সুকৃতঃ) সুকর্মকারীরা (সরস্বতীম্) সুকর্মের জ্ঞানের জন্য জ্ঞানপ্রদা বেদবাণীর (হবন্তে) উচ্চারণ-পূর্বক স্বাধ্যায় করে। (সরস্বতী) জ্ঞানময়ী বেদবাণী (দাশুষে) ব্রহ্মদানকারীদের জন্য, (বার্যম্) তাঁকে অভিলষিত ফল (দাৎ) দেয়/প্রদান করে। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
[সরস্বতী = সরঃ জ্ঞানম্ (উণা০ ৪।১৯০ দয়ানন্দ ভাষ্য) + বতী। সরস্বতী অর্থাৎ বেদবাণীর সম্বন্ধে নিরুক্তকার যাস্কাচার্য লিখেছেন- "অর্থ বাচঃ পুষ্পফলমাহ। যাজ্ঞদৈবতে পুষ্পফলে, দেবতাধ্যাত্মে বা (১।৬।২০)। অর্থাৎ বেদবাণীর ফল তিনটি- যজ্ঞপ্রক্রিয়ার জ্ঞান, তথা অগ্নি বায়ু সূর্য সোম আদি দিব্যতত্ত্ব-সমূহের জ্ঞান, তথা অধ্যাত্মতত্ত্ব-সমূহের জ্ঞান, অর্থাৎ শরীর, ইন্দ্রিয়াং, মন, বুদ্ধি, জীবাত্মা, পরমাত্মা, জন্ম-মরণ, মোক্ষ তথা কর্মব্যবস্থা ও পরমেশ্বরের স্বরূপাদির জ্ঞান। সরস্বতী = বাক্ (নিঘং০ ১।১১); তথা (উণা০ ৪।১৯০)।] বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
সরস্বতীং পিতরো হবন্তে দক্ষিণা যজ্ঞমভিনক্ষমাণাঃ।
আসদ্যাস্মিন্ বর্হিষি মাদয়ধ্বমনমীবা ইষ আ ধেহ্যস্মে ৷ অথর্ব০ ১৮।১।৪২
পদার্থঃ (সরস্বতীম্) সরস্বতী [বিজ্ঞানবতী বেদবিদ্যাকে] (দক্ষিণা) সরল মার্গে (যজ্ঞম্) যজ্ঞ [সংযোগব্যবহার] (অভিনক্ষমাণাঃ) প্রাপ্তকারী (পিতরঃ) পিতর [পালনকারী বিজ্ঞানীরা] (হবন্তে) আহ্বান করে। [হে বিদ্বানগণ !] (অস্মিন্) এই (বর্হিষি) বৃদ্ধি কর্মে (আসদ্য) বসে (মাদয়ধ্বম্) [সকলকে] তৃপ্ত করো, [হে সরস্বতী !] (অস্মে) আমাদের মধ্যে (অনমীবাঃ) পীড়া রহিত (ইষঃ) ইচ্ছা (আ ধেহি) স্থাপিত করো॥৪২॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
বিদ্বানগণ নির্বিঘ্ন হয়ে সরল রীতিতে সকলের সাথে মিলেমিশে বেদবিদ্যার প্রচার দ্বারা বিজ্ঞানের বৃদ্ধি এবং ইষ্ট পদার্থের সিদ্ধি করে ॥৪২॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ (দক্ষিণা = দক্ষিণাবন্তঃ) দক্ষিণা প্রদান করে/প্রদানকারী, এবং (যজ্ঞম্) যজ্ঞে (অভি নক্ষমাণাঃ) ব্যাপ্ত থাকা (পিতরঃ) গৃহস্থী মাতা-পিতা বা পতি-পত্নী, (সরস্বতীং হবন্তে) তদনুকূল বেদবাণীর উচ্চারণ করে। হে পিতরগণ ! (অস্মিন্ বর্হিষি) এই বৃদ্ধিকারক যজ্ঞকর্মে (আসদ্য) নিষ্ঠাবান্ হয়ে আপনারা (মাদয়ধ্বম্) স্বয়ংও আনন্দিত থাকুন, এবং অন্যদেরও আনন্দিত করুন। হে সরস্বতী= জ্ঞানপ্রদা বেদবাণী ! তুমি (অস্মে) আমাদের মধ্যে (অনমীবাঃ বাঃ) নীরোগ (ইষঃ) ইচ্ছা-সমূহের (আ ধেহি) আধান/সঞ্চার করো, অর্থাৎ তোমার স্বাধ্যায় দ্বারা আমাদের ইচ্ছা সাত্ত্বিক হোক/হয়। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
[বর্হি= বৃংহতি বর্দ্ধতে তদ্ বর্হিঃ (উণা০ ২।১১১), দয়ানন্দ ভাষ্য। নক্ষতি ব্যাপ্তিকর্মা (নিঘং০ ২।১৮)।]
সর॑স্বতি॒ যাস॒রথং॑ য॒যাথো॒ক্থৈঃ স্ব॒ধাভি॑র্দেবি পি॒তৃভি॒র্মদ॑ন্তী।স॑হস্রা॒র্ঘমি॒ডোঅত্র॑ ভা॒গং রা॒যস্পোষং॒ যজ॑মানায় ধেহি ॥ অথর্ব০ ১৮।১।৪৩
সরস্বতী আহ্বানের উপদেশ।
পদার্থঃ (সরস্বতি) হে সরস্বতী ! [বিজ্ঞানবতী বেদবিদ্যা] (দেবি) হে দেবী ! [উত্তম গুণবতী] (যা) যে তুমি (উক্থৈঃ) বেদোক্ত স্তোত্র দ্বারা (সরথম্) রমণীয় গুণান্বিত হয়ে এবং (স্বধাভিঃ) আত্মধারণ শক্তির সহিত [বিরাজমান] (পিতৃভিঃ) পিতরদের [বিজ্ঞানীদের] সাথে (মদন্তী) তৃপ্ত হয়ে (যয়াথ) প্রাপ্ত হয়েছো। সেই তুমি (অত্র) এখানে (ইডঃ) বিদ্যার (সহস্রার্ঘম্) সহস্র প্রকার পূজনীয় (ভাগম্) ভাগকে এবং (রায়ঃ) ধনের (পোষম্) বৃদ্ধিকে (যজমানায়) যজমান [বিদ্বানদের সৎকারীর] জন্য (ধেহি) দান করো॥৪৩॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
আত্মবিশ্বাসী বিজ্ঞানীগণ বেদবিদ্যা প্রাপ্ত করে আনন্দ ভোগ করে। সব মনুষ্য বিদ্বানদের সৎসঙ্গ দ্বারা বেদবিদ্যা গ্রহণ করে ধন আদির বৃদ্ধি করুক ॥৪৩॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ (দেবি) হে জ্ঞানপ্রদায়িনী! (সরস্বতি) জ্ঞানময়ী বেদবাণী ! (পিতৃভিঃ) মাতা-পিতা আচার্য আদি পিতরদের দ্বারা (মদন্তী) জ্ঞান-বিজ্ঞানেল স্তবনকারী (যা) যে তুমি, (উক্থৈঃ) নিজ সূক্ত সহিত, এবং (স্বধাভিঃ) বিবিধ লৌকিক ও পরলৌকিক অন্নের জ্ঞান প্রদানকারী, (সরথম্) এবং এই জ্ঞান-সমূহের সাথে রমণ করে (যয়াথ) আমাদের প্রাপ্ত হয়েছো, সেই তুমি (অত্র) এই জীবনে, (যজমানায়) তোমার যজন অর্থাৎ স্বাধ্যায় সঙ্গ তথা ব্রহ্ম/অন্নদানকারীর জন্য, (ইডঃ) মন্ত্রসমূহে স্তুত (সহস্রার্ঘম) বহুমূল্য (ভাগম্) সেবনীয় ভাগ, তথা (রায়স্পোষম্) লৌকিক ও পরলৌকিক সম্পত্তির পরিপোষণ, (ধেহি) স্থাপিত করো, প্রদান করো। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
[সরথম্ = মানো এক রথে স্থিত; in company with। যযাথ = যা প্রাপণে। পিতৃভিঃ = "জনকো জননী চৈব যশ্চ বিদ্যাং প্রয়চ্ছতি। অন্নদাতা ভয়ত্রাতা পঞ্চৈতে পিতরঃ স্মৃতাঃ"। মদন্তী=মদ স্তুতৌ। ইডঃ= ইল়ঃ ঈট্টে স্তুতিকর্মণঃ (নিরু০ ৮।২।৮)।] বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
উদীরতামবর উৎ পরাস উন্মধ্যমাঃ পিতরঃ সোম্যাসঃ।
অসুং য ঈয়ূরবৃকা ঋতজ্ঞান্তে নোহবস্তু পিতরো হবেষু ॥ অথর্ব০ ১৮।১।৪৪
পিতৃসৎকারোপদেশঃ−
পদার্থঃ (অবরে) নিম্ন পদস্থ (সোম্যাসঃ) ঐশ্বর্যের হিতকারী, (পিতরঃ) পিতর [পালনকারী বিদ্বান্] (উৎ) উত্তমরূপে, (পরাসঃ) উচ্চ পদস্থ (উৎ) উত্তমরূপে এবং (মধ্যমাঃ) মধ্য পদস্থ (উৎ) উত্তমরূপে (ঈরতাম্) চলুক/গমন করুক। (যে) যে (অবৃকাঃ) নেকড়ে বা চোরের স্বভাবরহিত, (ঋতজ্ঞাঃ) সত্য ধর্মের জ্ঞাতা [বিদ্বানগণ] (অসুম্) প্রাণ [বল বা জীবন] (ঈয়ুঃ) প্রাপ্ত করেছে (তে) সেই (পিতরঃ) পিতর [পালনকারীরা] (নঃ) আমাদের (হবেষু) সংগ্রামে (অবন্তু) রক্ষা করুক ॥৪৪॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
প্রধান পুরুষের উচিত, বিদ্যা, কর্ম এবং স্বভাবের যোগ্যতা অনুসারে বিদ্বানদের সৎকার করা, যাতে তাঁরা সকলের রক্ষা করার ক্ষেত্রে সদা তৎপর থাকে ॥৪৪॥মন্ত্র ৪৪-৪৬ কিছুটা হলেও ঋগ্বেদে আছে−১০।১৫।১, ৩, ২ এবং যজুর্বেদে ১৯।৪৯, ৫৬, ৬৮ এবং মহর্ষিদয়ানন্দকৃত ঋগ্বেদাদিভাষ্যভূমিকা পিতৃযজ্ঞবিষয়েও ব্যাখ্যাত রয়েছে॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ (অবরে) কম আয়ু-এর, (মধ্যমাঃ) মধ্যম আয়ু-এর, (পরাসঃ) তথা এগুলো থেকে বড়ো আয়ু-এর, (সোম্যাসঃ) সোম্যস্বভাবযুক্ত (পিতরঃ) পিতর (উদীরতাম্) আমাদের সদুপদেশের কথন করুক। (যে) যে পিতর (অসুম্) যথার্থ প্রজ্ঞা = যথার্থ জ্ঞান (ঈয়ুঃ) প্রাপ্ত করেছে, (অবৃকাঃ) নেকড়ে/কোনোরকম/সবরকম হিংস্রবৃত্তি এবং ক্রোধী স্বভাব রহিত, তথা (ঋতজ্ঞাঃ) ঋত ও অনৃত-এর বিবেকী, (তে পিতরঃ) সেই পিতর (হবেষু) আমাদের শ্রদ্ধাপূর্বক আহ্বানে (নঃ অবন্তু) আমাদের প্রাপ্ত হোক, এবং নিজের সদুপদেশ দ্বারা আমাদের রক্ষা করুক। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
[উদীরতাম্ = উদ্ + ঈর্= কথন। যথা - "উদীরিতোঽর্থঃ পশুনাপি গৃহ্যতে"। মনু-এর অনুসারে পিতৃশ্রাদ্ধ গৃহস্থের ধর্ম। পঞ্চমহাযজ্ঞে পিতৃ-যজ্ঞেরও বিধান আছে। জ্যেষ্ঠ পুত্রের প্রথম সন্তান হবার পর গৃহস্থী প্রায় ৫০ বর্ষের হয়ে ধর্মানুসারে বানপ্রস্থী হয়ে যায়। সেই সময় গৃহস্থীর পিতামহ প্রায় ৭৫ বর্ষের, তথা প্রপিতামহ ১০০ বর্ষের হয়/হয়ে যায়। বৈদিক সিদ্ধান্তানুসারে মনুষ্যের আয়ু ১০০ বর্ষের বলা হয়েছে। এইজন্য মনুষ্যকে শতায়ু বলা হয়। ব্রহ্মচারী ২৫তম বর্ষের আরম্ভে বিবাহ করে প্রায় এক বর্ষের ভেতর/মধ্যে সন্তানযুক্ত/সন্তানসম্পন্ন হতে পারে। এইভাবে এই গৃহস্থীর জন্য "পিতৃযজ্ঞ" বা পিতৃশ্রাদ্ধে আহ্বানযোগ্য এঁর পিতা পিতামহ এবং প্রপিতামহের জীবিত থাকা প্রায় সম্ভাবিত। এঁদের মধ্যে গৃহস্থীর পিতাকে "অবর", পিতামহকে "মধ্যম", তথা "প্রপিতামহ" কে "পর" পিতর বলা হয়েছে। শ্রাদ্ধও কেবল এই তিন পুরুষ পর্যন্তই সীমিত থাকে। এইজন্য মন্ত্র ৪৪ এ জীবিত পিতরদেরই বর্ণনা জানা/বোঝা উচিৎ। জীবিত পিতরই উপদেশ দেয়/প্রদান করে/দিতে সক্ষম, প্রজ্ঞাসম্পন্ন, সৌম্যস্বভাব তথা ঋতানৃত বিবেকী হয়ে তথা গৃহস্থীদের প্রাপ্ত হয়ে নিজ সদুপদেশ দ্বারা গৃহস্থীর রক্ষা করতে পারে/সক্ষম। উৎ= তিন প্রকারের পিতরদের সাথে "উৎ + ঈরতাম" এর অন্বয় হয়। এইজন্য "উৎ" এর প্রয়োগ তিন বার হয়েছে। অবন্তু-এ "অব্" = প্রাপ্তি তথা রক্ষা। "অসুম্ ঈয়ুঃ" এর অর্থ 'জীবনপ্রাপ্ত বা প্রাণ প্রাপ্ত" - এমনটা প্রায়ঃ করা হয়। যে মৃতপিতর নবজীবন এবং নবপ্রাণ প্রাপ্ত হয়ে গেছে, তাঁদের আহ্বান অসম্ভব। তাঁরা তো নতুন শরীরে চলে গেছে।] বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
আহং পিতৃনৎসুবিদত্রাঁ অবিৎসি নপাতং চ বিক্রমণং চ বিষ্ণোঃ।
বহিষদো যে স্বধয়া সুতস্য ভজন্ত পিত্বস্ত ইহাগমিষ্ঠাঃ ॥ অথর্ব০ ১৮।১।৪৫
পিতৃসৎকারোপদেশঃ−
পদার্থঃ (অহম্) আমি (বিষ্ণোঃ) বিষ্ণু [সর্বব্যাপক পরমাত্মা] থেকে (সুবিদত্রান্) বড়ো জ্ঞানী বা বড়ো ধনী (পিতৄন্) পিতরদের [পালনকারী বিদ্বানদের] (চ চ) এবং (নপাতম্) অনশ্বর (বিক্রমণম্) বিবিধ প্রবৃত্তিকে (আ অবিৎসি) প্রাপ্ত করেছি। (যে) যে তোমরা (বর্হিষদঃ) উত্তম পদে স্থিত (স্বধয়া) নিজের ধারণ শক্তি দ্বারা (সুতস্য) ঐশ্বর্যযুক্ত (পিত্বঃ) রক্ষাসাধন অন্নের (ভজন্ত) সেবন করেছো, (তে) সেই তোমরা সবাই (ইহ) এখানে (আগমিষ্ঠাঃ) এসেছো/আগমন করেছো ॥৪৫॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
প্রধান পুরুষ পরমাত্মার কৃপা দ্বারা ধর্মাত্মাদের সাথে কার্যকুশলতা প্রাপ্ত করে/করুক এবং যে বড়ো পরাক্রমী বিদ্বান্ আছে, তাঁদের উচিত সৎকার করে প্রজাদের রক্ষা করে/করুক ॥৪৫॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ শ্রদ্ধাবান্ গৃহস্থী বলে, আমার দেওয়া নিমন্ত্রণে (অহম্) আমি (সুবিদত্রান্) সুবিজ্ঞ (পিতৄন্) পিতরদের (আ অবিৎসি) প্রাপ্ত করেছি। এবং তাঁদের সদুপদেশ দ্বারা আমি (বিষ্ণোঃ) সর্বব্যাপক পরমেশ্বরের সেই নিয়ম-ব্যবস্থাকে (ন পাতম্) যার দ্বারা/মাধ্যমে মনুষ্যের পতন হয় না, তথা (বিক্রমণ চ) সর্বব্যাপক পরমেশ্বরের বিক্রম ও পরাক্রমকে আমি জেনে নিয়েছি/জ্ঞাত হয়েছি। (যে) যে পিতর (বর্হিষদঃ) কুশ-আসনের ওপর বসে, (স্বধয়া) নিজ-নিজ ধারণার অনুসারে, (সুতস্য) পুত্রের (পিত্বঃ) অন্নের (ভজন্ত) সেবন করে, (তে) সেই পিতর (ইহ) এই আমার ঘরে (আ গমিষ্ঠাঃ) এসে পদার্পণ করেছে। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
[নপাতম্ এর অর্থ অনেকে "পৌত্র" করেছে। বিষ্ণুর কী কোনো "পৌত্র" আছে? স্বধা = স্ব + ধা (ধারণা)। পিতুঃ= অন্ন (নিঘং০ ২।৭); পিত্বঃ ষষ্ঠ্যেকবচন। বিক্রমণম্ = সর্বব্যাপক পরমেশ্বর পরাক্রমশীল। উনার নিয়ম ব্যবস্থার উল্লঙ্ঘন করে দণ্ড থেকে বঞ্চিত কেউ হতে পারে না।] বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
ইদং পিতৃভ্যো নমো অদ্ভুদ্য যে পূর্বাসো যে অপরাস ঈয়ুঃ।
যে পার্থিবে রজস্যা নিষত্তা যে বা নূনং সুবৃজনাসু দিক্ষু ॥ অথর্ব০ ১৮।১।৪৬
পিতৃসৎকারোপদেশঃ−
পদার্থঃ (ইদম্) এই (নমঃ) অন্ন (পিতৃভ্যঃ) সেই পিতরদের [পালনকারী বীরদের] জন্য (অদ্য) আজ (অস্তু) হোক, (যে) যে (পূর্বাসঃ) পূর্বে [বিদ্বান্] হয়ে এবং (যে) যে (অপরাসঃ) অর্বাচীন [নবীন বিদ্বান্] হয়ে (ঈয়ুঃ) চলেছে। (যে) যে (পার্থিবে) ভূমি বিদ্যা [রাজনীতি আদি] সম্পর্কিত (রজসি) সমাজে (আ) এসে (নিষত্তাঃ) উপবেশন করেছে, (বা) এবং (যে) যে (নূনম্) নিশ্চিতরূপে (সুবৃজনাসু) অনেক শক্তিসম্পন্ন [গঢ় সেনা আদি] (দিক্ষু) বিভিন্ন দিশায় রয়েছে॥৪৬॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
রাজা সেই বৃদ্ধ এবং যুবক বিদ্বানদের যথোচিত আদর করে, যে/যারা নীতিকুশল হয়ে ভূমিসম্বন্ধী অনেক বিদ্যার প্রচার করে রাজ্যের উন্নতি করে ॥৪৬॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ (অদ্য) আজ পিতৃযজ্ঞে (পিতৃভ্যঃ) পিতরদের জন্য (ইদম্) এই (নমঃ) নমস্কার তথা অন্ন (অস্তু) হোক, (যে) যে পিতর (পূর্বাসঃ) পূর্বকালের, অর্থাৎ বয়স্ক পিতামহ তথা প্রপিতামহ, (যে) যে (অপরাসঃ) অপর কালের, অর্থাৎ তাঁদের থেকে ছোটো আয়ুর পিতা আদি আছে, যে/যারা (ঈয়ুঃ) আমার ঘরে আগমন করেছে/এসেছে। পিতর (যে) যারা (পার্থিবে রজসি) পৃথিবী লোকে (নিষত্তাঃ) স্থিত, (বা) এবং (যে) যে/যারা (নূনম্) নিশ্চিতরূপে (সুবৃজনাসু) চোর ডাকাত তথা পাপকর্ম বর্জিত (দিক্ষু) দিগ্-দিগন্তরে স্থিত। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
[বা সমুচ্চয়ার্থে (নি০ ১।২।৫)।]
মাতলী কব্যৈর্ষমো অঙ্গিরোভিবৃহস্পতিঋক্বভির্বাবৃন্ধানঃ।
যাংশ্চ দেবা বাবৃধুর্যে চ দেবাংস্তে নোহবস্তু পিতরো হবেষু ॥ অথর্ব০ ১৮।১।৪৭
পিতৃকর্ত্তব্যোপদেশঃ−
পদার্থঃ (মাতলী) ঐশ্বর্য সিদ্ধকারী, (যমঃ) সংযমী এবং (বৃহস্পতিঃ) বৃহস্পতি [বৃহৎ বিদ্যার রক্ষক পুরুষ] (কব্যৈঃ) বুদ্ধিমানদের হিতকারী (অঙ্গিরোভিঃ) বিজ্ঞানী মহর্ষিদের দ্বারা (ঋক্বভিঃ) প্রশংসাযোগ্য কাজের দ্বারা (বাবৃধানঃ) বর্ধমান/বর্ধনশীল হয়। (চ) এবং (যান্) যে [পিতরদের] (দেবাঃ) বিদ্বানগণ (বাবৃধুঃ) বর্ধিত করেছে, (চ) এবং (যে) যে [পিতরগণ] (দেবান্) বিদ্বানদের [বর্ধিত করেছে], (তে) সেই (পিতরঃ) পিতর [পালনকারীগণ] (নঃ) আমাদের (হবেষু) সংগ্রামে (অবন্তু) রক্ষা করবে/করুক ॥৪৭॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
ঐশ্বর্য কামনাকরী জিতেন্দ্রিয় পুরুষ বড়ো-বড়ো বিদ্বানদের উপদেশ এবং বেদাদি শাস্ত্রের মনন দ্বারা উন্নতি করে সংসারের রক্ষা করুক ॥৪৭॥এই মন্ত্র কিছুটা আলাদাভাবে ঋগ্বেদে আছে −১০।১৪।৩। এবং ঋগ্বেদ পাঠ মহর্ষিদয়ানন্দকৃত সংস্কারবিধি অন্ত্যেষ্টিপ্রকরণে উদ্ধৃত ॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ (কব্যৈঃ) বেদকাব্যের কবি পরমেশ্বরের উপাসকদের সমেত/সহিত (মাতলী) মাতৃরূপ পরমেশ্বরের মধ্যে লীন যোগেশ্বর; (অঙ্গিরোভিঃ) প্রাণায়ামাভ্যাসী শিষ্যদের সমেত/সহিত (যমঃ) যম-নিয়মে সিদ্ধ সংযমী; (ঋক্বভিঃ) ঋচা-সমূহের স্বাধ্যায়কারী শিষ্যদের সহিত (বৃহস্পতিঃ) বৃহতী = বেদবাণীর আচার্য; (বাবৃধানঃ) এদের মধ্যে প্রত্যেকে, যে/যারা নিজের শিষ্যবর্গের বৃদ্ধি করে, সেই-সেই বিষয়ের দৃষ্টিতে তাঁদের বৃদ্ধি করে; তথা (দেবাঃ) দেবকোটির প্রজাজন (যান্) যে এই উপর্যুক্ত সাধকদের বর্ধিত করে; (চ) এবং (যে) যে এই সাধক (দেবান্) প্রজাদের মধ্যে দেবকোটির লোকেদের বৃদ্ধি নিজ সদুপদেশ দ্বারা করে, - (তে) সেই এমন (পিতরঃ) পিতর (হবেষু) আমাদের নিমন্ত্রণে (নঃ) আমাদের (ভবন্তু) প্রাপ্ত হোক, এবং সদুপদেশ দ্বারা আমাদের রক্ষা করুক। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
[অঙ্গিরাঃ = প্রাণঃ, "অঙ্গানাং রসঃ" (বৃহদারণ্যক০ ১।৩৯। ৩)। বৃহস্পতিঃ= বৃহতী = বাক্, তস্যাঃ পতিঃ। কবি= পরমেশ্বরঃ - "কবির্মনীষী পরিভূঃ স্বয়ম্ভূঃ" (যজু০ ৪০।৮)। মাতলী = মাতরি জগন্মাতরি লীয়তে ইতি, বিভক্তিলোপঃ ছান্দসঃ। "মাতলী" শব্দের ওপর নিম্নলিখিত মন্ত্র বিশেষ আলোকপাত করে । যথা- ১. মা॒য়া হ॑ জজ্ঞে মা॒য়ায়া॑ মা॒য়ায়া॒ মাত॑লী॒ পরি॑। (অথর্ব০ ৮।৯।৫)। (মায়া) অর্থাৎ প্রজ্ঞা। নিঘং০ ৩।৯ (মায়ায়াঃ) অর্থাৎ প্রজ্ঞান ব্রহ্মের প্রজ্ঞা দ্বারা/থেকে (জজ্ঞে) প্রকট হয়েছে। এবং এই প্রকটিত (মায়ায়াঃ পরি) প্রজ্ঞা দ্বারা/থেকে (মাতলী) মাতলী প্রকট হয়েছে। অভিপ্রায় হল, যোগীর প্রজ্ঞা, প্রজ্ঞানময় ব্রহ্মের অনুগ্রহ দ্বারা প্রকট হয়। এবং যৌগিক প্রজ্ঞা থেকে/দ্বারা জগন্মাতার মধ্যে লীন যোগেশ্বর প্রকট হয়। ২. যন্মাত॑লী রথক্রী॒তম॒মৃতং॒ বেদ॑ ভেষ॒জম্। তদিন্দ্রো॑ অ॒প্সু প্রাবে॑শয়॒ত্তদা॑পো দত্ত ভেষ॒জম্ ॥ (অথর্ব০ ১১।৬।২৩) (মাতলী) মাতলী (যৎ) যে (অমৃতম্) অমর ব্রহ্মকে (রথক্রীতম্) নিজের শরীর-রথ এবং মনোরথের মূল্য দ্বারা ক্রয় করেছে, সেই অমর ব্রহ্মকে মাতলী (ভেষজম্) ভেষজরূপ (বেদ) জেনেছে। (ইন্দ্রঃ) তদনন্তর প্রবুদ্ধ জীবাত্মা (তৎ) সেই ভেষজকে (অপ্সু) নিজের রস-রক্ত এবং কর্মে (প্রাবেশয়ৎ) প্রবিষ্ট করিয়ে দিয়েছে। (আপঃ) তদনন্তর কর্ম (তদ্) সেই (ভেষজম্) ভেষজ (দত্ত) অন্যদেরকেও প্রদান করেছে। এই মন্ত্র দ্বারাও "মাতলী" জগন্মাতার মধ্যে ধ্যানপ্রকর্ষ দ্বারা লীন যোগীই প্রতীত হয়। যোগাভ্যাসী যখন নিজের শারীরিক প্রচেষ্টা এবং মানসিক সঙ্কল্প-বিকল্পকে পরমেশ্বরের প্রতি উপহার রূপে অর্পণ করে দেয়, তখন সে পরমেশ্বরের ভেষজরূপ জানতে পারে/জ্ঞাত হয়। এই ভেষজ দ্বারা তার সব অন্তরায় এবং অবিদ্যারূপী রোগ নষ্ট হয়/হতে থাকে/হতে শুরু করে। যোগী এই ভেষজকে নিজের জীবনের সাধনভূত রস-রক্তে তথা কর্ম-সমূহের মধ্যে প্রবিষ্ট করে, নিজের রস-রক্ত এবং কর্মের রোগ-সমূহের নিবৃত্তি করে। তৎপশ্চাৎ নিজ কর্মের দ্বারা সেই ভেষজের জ্ঞান অন্যদেরও দেয়/প্রদান করে। [আপঃ; অপঃ= উদকম্ (নিঘং০ ১।১২); তথা কর্ম (নিঘং০ ২।১)।] বিশ্বনাথ বিদ্যালংকার
স্বাদুদ্ধিলায়ং মধুমাঁ উতায়ং তীব্রঃ কিলায়ং রসবাঁ উতায়ম্।
উতো স্বস্য পপিবাংসমিন্দ্রং ন কশ্চন সহত আহবেষু ॥ অথর্ব০ ১৮।১।৪৮
শূরবীরলক্ষণোপদেশঃ−
পদার্থঃ (অয়ম্) ইহা [সোম অর্থাৎ বিদ্যারস বা সোমলতা আদি রস] (কিল) নিশ্চিতরূপে (স্বাদুঃ) স্বাদু, (অয়ম্) ইহা (মধুমান্) বিজ্ঞানযুক্ত [বা মধুরগুণযুক্ত], (উত) এবং (অয়ম্) ইহা (কিল) নিশ্চিতরূপে (তীব্রঃ) তেজস্বী, (উত) এবং (অয়ম্) ইহা (রসবান্) উত্তম রসালো [বীর্যবান্] । (উতো) এবং (নু) এখন (অস্য) এই [রসের] (পপিবাংসম্) পানকারী/আস্বাদনকারী (ইন্দ্রম্) ইন্দ্র [বড়ো ঐশ্বর্যবান বীর পুরুষকে] (কঃ চন) কেউ (আহবেষু) সংগ্রামে (ন) না (সহতে) পরাজিত করে ॥৪৮॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
যে মনুষ্য জিতেন্দ্রিয় ব্রহ্মচারী হয়ে বিদ্যারস তথা পরীক্ষিত মহৌষধির রস গ্রহন করে তেজস্বী হয়, সে যুদ্ধে শত্রুদের পরাজিত করে॥৪৮॥এই মন্ত্র ঋগ্বেদে আছে−৬।৪৭।১ ॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ(স্বাদুঃ) সুস্বাদু (কিল) নিশ্চিতরূপে (অয়ম) এই রস, (উত) এবং (মধুমান্) মধুময় বা মধুর (অয়ম) এই রস, (কিল) নিশ্চিতরূপে (তীব্রঃ) ঔষধি-সমূহের তীব্র (অয়ম্) এই রস, (উত) এবং (রসবান্) নানা রসের সঙ্গে মিশ্রিত (অয়ম্) এই রস। (উত উ নু) এবং নিশ্চিতরূপে (অস্য) এমন রস (পপিবাংসম) পানকারী (ইন্দ্রম্) জীবাত্মাকে, (আহবেষু) দেবাসুর সংগ্রামে, (কশ্চন) কোনো আসুরী কর্ম বা আসুরী ভাব (ন সহতে) না পরাভূত/পরাজিত করতে পারে। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
[আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য নানাবিধ রসালো পদার্থের সেবন করা উচিৎ, যা সাত্ত্বিক এবং সুপাচ্য, এবং ঔষধগুণ যুক্ত। ইহার মাধ্যমে ব্যক্তি সাত্ত্বিক এবং নীরোগ হয়ে পাপের ওপর বিজয় পায়/প্রাপ্ত করে। ইন্দ্রঃ=জীবাত্মা। যথা - ইন্দ্রিয়ম্ = ইন্দ্রলিঙ্গম্। মন্ত্রে আনন্দরসরূপ পরমেশ্বরের বর্ণনাও অভিপ্রেত আছে/হয়েছে।] বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
পরেয়িবাংসং প্রবতো মহীরিতি বহুভ্যঃ পন্থামনুপস্পশানম্।
বৈবস্বতং সঙ্গমনং জনানাং যমং রাজানাং হবিষা সপর্ষত ॥ অথর্ব০ ১৮।১।৪৯
প॒রে॒য়ি॒ऽবাংস॑ম্ । প্র॒ऽবত॑ঃ । ম॒হীঃ । ইতি॑ । ব॒হুঽভ্য॑ঃ । পন্থা॑ম্ । অ॒নু॒ऽপ॒স্প॒শা॒নম্ ।
বৈ॒ব॒স্ব॒তম্ । স॒ম্ঽগম॑নম্ । জনা॑নাম্ । য॒মম্ । রাজা॑নম্ । হ॒বিষা॑ । স॒পর্য॑ত॒ ॥
পরমাত্মশক্ত্যুপদেশঃ−
পদার্থঃ(প্রবতঃ) উত্তমগতিযুক্ত (মহীঃ) বিস্তৃত ভূমিতে (পরেয়িবাংসম্) পরাক্রমপূর্বক আগত/উপস্থিত/উপনীত, (ইতি) ইহার দ্বারা/মাধ্যমে, (বহুভ্যঃ) অনেক [লোক-সমূহ এবং জীবদের] জন্য (পন্থাম্) মার্গ (অনুপস্পশানম্) বন্ধনকারী (বৈবস্বতম্) সূর্যলোক-সমূহে বিদিত, (জনানাম্) মনুষ্যদের/মনুষ্যদের মধ্যে (সঙ্গমনম্) সংযোগকারী/সংযোজক/মেল সৃষ্টিকারী (যমম্) যম [ন্যায়কারী পরমাত্মা] (রাজানম্) রাজা [শাসককে] (হবিষা) ভক্তিপূর্বক (সপর্যত) তুমি পূজা করো ॥৪৯॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
যে পরমাত্মা সব লোক-সমূহের মধ্যে ব্যাপক এবং সূর্য আদির আকর্ষক এবং মনুষ্য আদির নিয়ামক, সকল মনুষ্য উনার উপাসনা দ্বারা উন্নতি করুক ॥৪৯॥মন্ত্র ৪৯, ৫০ কিছুটা আলাদাভাবে ঋগ্বেদে−১০।১৪।১, ২। এবং ঋগ্বেদপাঠ মহর্ষিদয়ানন্দকৃত সংস্কারবিধি অন্ত্যেষ্টিপ্রকরণে উদ্ধৃত॥ ক্ষেমকরণ ত্রিবেদী
পদার্থঃ(প্রবতঃ) দূর-দূরান্তের (মহীঃ) মহালোকলোকান্তরে (পরেয়িবাংসম) উপনীত, (বহুভ্যঃ) নানা উপাসকদের (পন্থাম্, অনু পস্পশানম্)১ নিরন্তর মার্গ দর্শিয়ে/দেখিয়ে, (বৈবস্বতম্) সূর্যাধিপতি (জনানাম্) উপাসকদের (সঙ্গমনম্) নিজ সঙ্গতিতে গ্রহণকারী, (যমম্) জগন্নিয়ন্তা, (রাজানম্) জগতের মহারাজ পরমেশ্বরের, (হবিষা) আত্মসমর্পণের হবি-সমূহের দ্বারা, (সপর্যত) পরিচর্যা করো। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
["পস্পশাহ্নিক" (মহাভাষ্য পতঞ্জলি) তথা "স্পশাঃ" শব্দগুলোতে স্পশ ধাতু দর্শনার্থক প্রতীত হয়। ইংরেজির "spy" শব্দেও এই "স্পশ" এর প্রয়োগ হয়/হয়েছে/আছে। ইহা বৈদিক ধাতু।]
যমো নো গাতুং প্রথমো বিবেদ নৈষা গব্যূতিরপভর্তবা উ।
যত্রা নঃ পূর্বে পিতরঃ পরেতা এনা জজ্ঞানাঃ পথ্যা অনু স্বাঃ ॥ অথর্ব০ ১৮।১।৫০
পরমাত্মশক্ত্যুপদেশঃ−
পদার্থঃ (প্রথমঃ) সর্বপ্রথম বর্তমান (যমঃ) যম [ন্যায়কারী পরমাত্মা] (নঃ) আমাদের জন্য (গাতুম্) মার্গ (বিবেদ) জেনেছেন, (এষা) এই (গব্যূতিঃ) মার্গ (উ) কখনও (অপভর্তবৈ) অপসারণ যোগ্য (ন) নয়। (যত্র) যে [মার্গে] (নঃ) আমাদের (পূর্বে) পূর্বে (পিতরঃ) পিতর [পালনকারী লোকেরা] (পরেতাঃ) পরাক্রমী হয়ে চলেছে, (এনা) উহার মাধ্যমে (জজ্ঞানাঃ) উৎপন্ন [প্রাণী] (স্বাঃ) নিজ-নিজ (পথ্যাঃ অনু) পথে [চলুক] ॥৫০॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পরমাত্মা সর্বপ্রথম সকলের জন্য বেদমার্গ উন্মুক্ত করেছেন, যেভাবে আমাদের পূর্বপুরুষরা সেই মার্গে গমন করে যশ প্রাপ্ত করেছে, সেই বেদমার্গে গমন করে সব মনুষ্য উন্নতি করুক ॥৫০॥
[অপ + ভৃ = অপ + হৃ। হৃগ্রহোঃ ভঃ ছন্দসি। পরেতাঃ= "পরা + ইতাঃ" শব্দ "মৃত্যু" অর্থ বাচক নয়। সূর্যা সূক্তের বিবাহ-প্রকরণে নব-বিবাহিত বধূকে বলা হয়েছে- 'এবা ত্বং সম্রাজ্ঞ্যেধি পত্যুরস্তং পরেত্য" (অথর্ব০ ১৪। ১।৪৩)। এ "পরেত্য" শব্দের অর্থ হল "গিয়ে", গত হয়ে নয়। এবিষয়ে অথর্ববেদের নিম্ননির্দিষ্ট মন্ত্র দ্রষ্টব্য। ৫।২২।৮; ৪।৩২।৫; ২।২৬।১; ১২।২।২৯।] বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
বহিষদঃ পিতর উত্যর্বাগিমা বো হব্যা চক্মা জুষধ্বম্।
ত আ গতাবসা শন্তমেনাধা নঃ শং যোররপো দধাত ৷ ৫১৷
পিতৃসন্তানকর্ত্তব্যোপদেশঃ−
পদার্থঃ(বর্হিষদঃ) হে উত্তম পদে স্থিত (পিতরঃ) পিতরগণ [পালনকারী বীরগণ] (ঊতী) রক্ষার সহিত (অর্বাক্) সামনে/অভিমুখী [হয়ে] (ইমা) এই (হব্যা) গ্রাহ্য ভোজন আদি (জুষধ্বম্) সেবন করো [যেগুলো] (বঃ) তোমাদের জন্য (চকৃম) আমরা তৈরি করেছি। (তে) সেই তোমরা (শন্তমেন) অত্যন্ত সুখদায়ক (অবসা) রক্ষার সহিত (আ গত) আগমন করো, (অধ) তদনন্তর (নঃ) আমাদের জন্য (শম্) সুখ, (যোঃ) অভয় এবং (অরপঃ) নির্দোষ আচরণ (দধাত) ধারণ করতে থাকো ॥৫১॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
সব মনুষ্য বয়োবৃদ্ধ এবং বিদ্যাবৃদ্ধ পিতরদের উত্তমরূপে/যত্নপূর্বক সৎকার করুক এবং তাঁদের থেকে শারীরিক, আত্মিক এবং সামাজিক উন্নতির শিক্ষা প্রাপ্ত হোক/করুক ॥৫১॥মন্ত্র ৫১, ৫২ কিছুটা আলাদাভাবে ঋগ্বেদে আছে ১০।১৫।৪, ৬ এবং যজুর্বেদেও−১৯।৫৫, ৬২ ॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ (বর্হিষদঃ) উত্তম কুশ-আসনের ওপর উপবেশয়িতা (পিতরঃ) হে পিতরগণ ! আপনারা (ঊতী) আমাদের রক্ষার জন্য (অর্বাক্) আমাদের সমীপে পদার্পণ করেছেন, (বঃ) আপনাদের জন্য (ইমা) এই (হব্যা) ভোজন যোগ্য পদার্থ-সমূহ (চকৃম) আমরা প্রস্তুত করেছি, (জুষধ্বম্) প্রীতিপূর্বক তা সেবন করুন। (তে) সেই আপনারা (শন্তমেন) অত্যন্ত কল্যাণকারক (অবসা) আমাদের রক্ষার জন্য (আ গত) আগমন করেছেন/এসেছেন। (অধা) ভোজনানন্তর (নঃ) আমাদের জীবনে (শম্) সুখশান্তি (অরপঃ) এবং পাপরহিত সত্যাচরণ (দধাত) স্থাপিত করুন, তথা আমাদের থেকে দুঃখকে (যোঃ) পৃথক্ করুন। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
[শং যোঃ = "শমনং চ রোগাণাং যাবনং চ ভয়ানাম্" (নিরু০ ৪।৩।২১)।]
আচ্যা জানু দক্ষিণতো নিষদ্যেদং নো হবিরভি গৃণন্তু বিশ্বে।
মা হিংসিষ্ট পিতরঃ কেন চিন্নো যদ্ ব আগঃ পুরুষতা করাম্ ॥৫২॥
পদার্থঃ (পিতরঃ) হে পিতরগণ ! [রক্ষক বিদ্বানগণ] (বিশ্বে) তোমরা সবাই (জানু) জানু (আচ্য) নত/নীচু করে এবং (দক্ষিণতঃ) ডানদিকে (নিষদ্য) বসে (নঃ) আমাদের (ইদম্) এই (হবিঃ) গ্রাহ্য অন্ন (অভিগৃণন্তু) প্রশংসা যোগ্য করো। (বঃ) তোমাদের (যৎ) যা কিছু (আগঃ) অপরাধ (করাম) আমরা করি, (কেন চিৎ) সেই কোন [অপরাধের] কারণে (নঃ) আমাদের (পুরুষতা) নিজের পুরুষত্ব দ্বারা (মা হাসিষ্ট) দুঃখ দিও না ॥৫২॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
মনুষ্য নিজের পিতাপিতামহ আদি পিতরদের সৎকারপূর্বক বসিয়ে ভোজন আদি সেবা করাবে এবং নিজের কোনো ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে ॥৫২॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ হে পিতরগণ ! (জানু) জানু/হাঁটু (আচ্য) নত করে, অর্থাৎ আসনপিঁড়ি হয়ে বসে, এবং (দক্ষিণতঃ) যজমানের ডানদিকে (নিষদ্য) বসে, (বিশ্বে) আপনারা সবাই (নঃ) আমাদের সমর্পিত (হবিঃ) ভোজ্যান্নের দোষ-গুণ (অভি গৃণন্তু) কথন করুন, বা ভোজ্যান্ন স্বীকার করে আমাদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের উপদেশ দিন। (পিতরঃ) হে পিতরগণ ! সেবাশুশ্রূষায় (কেনচিৎ) কোনোরকম খামতি/ত্রুটি/অভাব অর্থাৎ অপরাধ দ্বারা আপনারা (নঃ) আমাদের (মা হিংসিষ্ট) হিংসিত করবেন না। (যদ্) যে অপরাধ (বঃ) আপনাদের প্রতি, (পুরুষতা) মানুষ-সুলভ প্রজ্ঞানের কারণে (করাম) আমরা করেছি। বিশ্বনাথ বিদ্যালংকার
[আসনপিঁড়ি হয়ে বসা, ভোজ্যান্ন স্বীকার করা, উপদেশাদির কথন - এগুলো জীবিত পিতরদের মধ্যেই সম্ভব, মৃতদের মধ্যে নয়। হিংসিষ্ট - সেবার ক্ষেত্রে অভাব/ত্রুটির কারণে ভবিষ্যতে নিমন্ত্রণে না আসা, এবং ইহার ফলে যজমানের দুঃখী হওয়া-এগুলোই হিংসা, মানসিক হিংসা। গৃণন্তু= গৃশব্দে, বিজ্ঞানে চ।] বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
ত্বষ্টা দুহিত্রে বহতুং কৃণোতি তেনেদং বিশ্বং ভুবনং সমেতি।
যমস্য মাতা পর্যুহ্যমানা মহো জায়া বিবস্বতো ননাশ । ৫৩॥
অজ্ঞাননাশোপদেশঃ−
পদার্থঃ (ত্বষ্টা) ত্বষ্টা [প্রকাশমান সূর্য] (দুহিত্রে) দুহিতা [পূর্তিকারী/পূরণকারী ঊষার] (বহতুম্) বহন/চালনা (কৃণোতি) করে, (তেন) সেই [চলনের] সাথে (ইদম্) এই (বিশ্বম্) সব (ভুবনম্) জগৎ (সম্) ঠিক-ঠিক/সঠিকভাবে (এতি) চলে। (যমস্য) যম [দিনের] (মাতা) মাতা [নির্মাত্রী/রাত্রি], (মহঃ) মহৎ (বিবস্বতঃ) প্রকাশমান সূর্যের (জায়া) পত্নী রূপ [রাত্রি] (পর্যুহ্যমানা) সবদিকে দূরে গিয়ে (ননাশ) লুকিয়ে যায়/অদৃষ্ট হয়ে যায় ॥৫৩॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
যেমন সূর্য ঊষা অর্থাৎ প্রভাত কিরণ-সমূহকে বিস্তারিত করে, সব জগৎ নিজ-নিজ কার্যে প্রচেষ্টা করে, এবং দিন বৃদ্ধির সাথে-সাথে, রাত্রির অন্ধকার দূর হয়ে যায়, এইভাবে জ্ঞানী পিতরগণ অজ্ঞান দূর করে জ্ঞানের প্রকাশ/আলো দ্বারা সংসারে সুখ প্রদান করুক॥৫৩॥ এই মন্ত্র কিছুটা আলাদাভাবে ঋগ্বেদে আছে −১০।১৭।১ ॥ভগবান্ যাস্ক মুনি নিরুক্ত১২।১১ এ ব্যাখ্যা করেছেন−“ত্বষ্টা দুহিতার বহন [চালনা] করে, এই সব ভুবন সঠিকভাবে চলে এবং এই সব প্রাণী সবদিক থেকে এসে মিলিত হয়, যমের মাতা সব দিকে গিয়ে লুকিয়ে গেছে। রাত্রি সূর্যের [পত্নী] সূর্য উদয় হলে লুকিয়ে যায়” ॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ (ত্বষ্টা) ঊষার রূপের নির্মাণকারী অনুদিত সূর্য, (দুহিত্রে) উষারূপী দুহিতার জন্য (বহতুম্) বিবাহ (কৃণোতি) রচনা করে, (তেন) এই কারণে (বিশ্বং ভুবনম্) সমগ্র প্রাণী ও অপ্রাণী জগত (সমেতি) মানো একত্রিত হয়। (যমস্য) দিন ও রাতের যুগলের/দম্পতির (মাতা) নির্মাণকারী ঊষা (পর্যুহ্যমানা) যখন চলে যেতে থাকে, তখন (মহঃ) তেজস্বী চমকিত (বিবস্বতঃ) সূর্যের (জায়া) জায়া রাত্রী (ননাশ) বিনষ্ট হয়ে যায়, অদৃষ্ট হয়ে যায়। বিশ্বনাথ বিদ্যালংকার
[ত্বষ্টা = "ত্বষ্টা বৈ রূপাণি করোতি" (তৈ০ ২।৭।২।১)। ত্বষ্টা দ্বারা অভিপ্রায় অনুদিত সূর্য। সেই সময়ে সূর্যের রশ্মি ঊষা রূপে পূর্ব আকাশে চমকিত হয়। ইহা মানো ঊষার পূর্ব আকাশের সাথে বিবাহ। এই সময়ে প্রাণী জগৎ জাগরিত হয়/থাকে, এবং অপ্রাণী জগতও চমকিত হয়, মানো তারা ঊষার বিবাহে সম্মিলিত হয়েছে। তদনন্তর তেজস্বী সূর্য চমকিত হয় তখন সূর্যের জায়া অর্থাৎ রাত্রী অদৃষ্ট হয়ে যায়। পিতৃ-প্রকরণে এই মন্ত্রের উল্লেখ ইহা দর্শানোর জন্য যে, পিতৃযজ্ঞ এই সময়ে হওয়া উচিৎ, রাত্রীকালে নয়।] বিশ্বনাথ বিদ্যালংকার
প্রেহি প্রেহি পথিভিঃ পূর্যাণৈর্যেনা তে পূর্বে পিতরঋ পরেতাঃ।
উভা রাজানৌ স্বধয়া মদন্তৌ যমং পশ্যাসি বরুণং চ দেবম্ ॥ অথর্ব০ ১৮।১।৫৪
প্র । ই॒হি॒ । প্র । ই॒হি॒ । প॒থিঽভি॑ঃ । পূ॒ঃऽযানৈ॑ঃ । যেন॑ । তে॒ । পূ॒র্বে॑ । পি॒তর॑ঃ । পরা॑ऽইতাঃ । উ॒ভা । রাজা॑নৌ । স্ব॒ধয়া॑ । মদ॑ন্তৌ । য॒মম্ । প॒শ্যাসি॒ । বরু॑ণম্ । চ॒ । দে॒বম্ ॥
মনুষ্যের উন্নতির উপদেশ।
পদার্থঃ [হে মনুষ্য !] তুমি (প্রইহি) অগ্রগামী/অগ্রসর হও, (পূর্যাণৈঃ) নগরের অভিমুখের (পথিভিঃ) মার্গ দ্বারা (প্র ইহি) অগ্রগামী/অগ্রসর হও, (যেন) যে [কর্ম] দ্বারা (তে) তোমার (পূর্বে) পূর্বে (পিতরঃ) পিতর [রক্ষক পিতাআদি মহাপুরুষ] (পরেতাঃ) পরাক্রমপূর্বক পৌঁছেছে। এবং (স্বধয়া) নিজের ধারণ শক্তি দ্বারা (মন্দন্তৌ) তৃপ্ত হয়ে (উভা) উভয় (রাজানৌ) শোভায়মান, [অর্থাৎ] (দেবম্) প্রকাশমান (যমম্) যম [ন্যায়কারী পরমাত্মাকে] (চ) এবং (বরুণম্) বরুণ [শ্রেষ্ঠ জীবাত্মাকে] (পশ্যাসি) তুমি দেখো ॥৫৪॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
মনুষ্যের উচিৎ, পূর্ব মহাত্মাদের বেদোক্ত মার্গে গমন করে দেশ-দেশান্তরে গিয়ে উন্নতি করা এবং সদা পরমাত্মার উপাসনা দ্বারা জীবাত্মার বিভিন্ন দশার চিন্তন করা/করতে থাকা ॥৫৪॥মন্ত্র৫৪, ৫৫ কিছুটা আলাদাভাবে ঋগ্বেদে আছে−১০।১৪।৭, ৯ এবং উভয়ের ঋগ্বেদপাঠ মহর্ষিদয়ানন্দকৃত সংস্কারবিধি অন্ত্যেষ্টিপ্রকরণে উদ্ধৃত ॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ বানপ্রস্থ ধারণকারীকে বলা হয়, (প্রেহি) যাও, (পূর্যাণৈঃ) নাগরিক-রথ দ্বারা (পথিভিঃ) তথা নাগরিক মার্গ দ্বারা (প্রেহি) যাও, (যেন) যে মার্গের দ্বারা (তে) তোমার (পূর্বে পিতরঃ) পিতা পিতামহ আদি আগামী-আগামী আশ্রমে (পরেতাঃ) গেছে। সেখানে তুমি (যমং দেবম্) যম দেবতার (চ) এবং (বরুণং দেবম্) বরুণদেবতার (পশ্যাসি) দর্শন করবে, যিনি (উভা) উভয়ের (রাজানৌ) সেই-সেই আশ্রমের রাজা, এবং (স্বধয়া) নিজ-নিজ স্বাভাবিক ধারণ-সামর্থ্য দ্বারা (মদন্তৌ) কান্তিমান্, শোভায়মান। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
[পরেতাঃ = দেখো মন্ত্রসংখ্যা (৫০)। রাজানৌ = প্রত্যেক আশ্রমের রাজা, অর্থাৎ নিজ-নিজ আশ্রমের কুলপতি। স্বধয়া= স্ব +ধা (ধারণে)-তৃতীয়ৈকবচন। মদন্তৌ = মদ কান্তি (শোভা)। যমং বরুণম্ = অথর্ববেদ ব্রহ্মচর্য সূক্তে আচার্যকে "মৃত্যু ও বরুণ" বলা হয়েছে। যথা - আচার্যো মৃত্যুর্বরুণঃ (অ০ ১১।৫।১৪)। মন্ত্রে "মৃত্যু" শব্দ দ্বারা "যম" অর্থ অভিপ্রেত হয়েছে। এবং "বরুণ" শব্দ দ্বারা "বরণকারী পরমেশ্বর" অভিপ্রেত হয়েছে। যথা - অমা ঘৃতং কৃণুতে কেবলমাচার্যো ভূত্বা বরুণো যদ্যদৈচ্ছৎপ্রজাপতৌ। (অথর্ব০ ১১।৫।১৫)। অর্থাৎ "বরুণ" আচার্য হয়ে ব্রহ্মচর্যাশ্রম রূপী ঘর (অমা= গৃহ, নিঘং০ ৩।৪) এ ব্রহ্মচারীকে সে জ্ঞানঘৃত পান করায়, যা গৃহস্থাশ্রমে অপেক্ষিত/আবশ্যক/প্রত্যাশিত।" মৃত্যু অর্থাৎ যম-আচার্যের নিজ স্বাভাবিক রূপ, এবং বরুণ পরমেশ্বরের রূপ। মৃত্যু-এর অভিপ্রায় হল, আচার্য নিজের আশ্রমের কঠোর নিয়ম-সমূহের দ্বারা ব্রহ্মচারীর মধ্যে আমূল পরিবর্তন করে, তাঁর পূর্বরূপকে বিনষ্ট করে তাঁকে দ্বিতীয় জন্ম দিয়ে দ্বিজন্মা করে দেয়। তদনন্তর ব্রহ্মচারী আচার্যের মধ্যে স্থিত যে বরুণরূপ আছে, তা দর্শন করে। প্রত্যেক আশ্রমে কোনো না কোনো আচার্য থাকে, এবং প্রত্যেক আশ্রমের আচার্যের দুটি রূপ আবশ্যক- মৃত্যুরূপ এবং বরুণরূপ। বানপ্রস্থ ও সন্ন্যাস আশ্রমের আচার্যের এই দুই রূপ হওয়া উচিৎ। এই দুই রূপ সেই-সেই আশ্রমের রাজা, কুলপতি। পরমেশ্বর নিজ বরুণরূপে আচার্যের মধ্যে বিদ্যমান, যিনি দ্বিজন্মার "বরণ" করে তাঁকে নিজ স্বরূপের প্রত্যক্ষ করায়। যথা - "যমেবৈষ বৃণুতে তেন লভ্যস্তস্যৈষ আত্মা বিবৃণুতে তনূং স্বাম্ ॥" (কঠ০ ১।২।২২; মুণ্ডক ৪।২।৩)। বৃণুতে ইতি বরুণঃ।] বিশ্বনাথ বিদ্যালংকার
অপেত বীত বি চ সর্পতাতোহম্মা এতং পিতরো লোকমক্রন।
অহোভিরম্ভিরক্রুভিব্যক্তং যমো দদাত্যবসানমস্মৈ ॥৫॥
পদার্থঃ [হে বিদ্বানগণ !] (অতঃ) এখান থেকে [এই ঘর বা বিদ্যালয় আদি থেকে] (অপ ইত) বাহিরে চলো, (বি ইত) বিবিধ প্রকারে চলো, (চ) এবং (বি সর্পত) ছড়িয়ে যাও, (অস্মৈ) এই [জীবের হিতের] জন্য (এতম্) এই (লোকম্) লোক [সমাজ] (পিতরঃ) পিতরগণ [রক্ষক মহাত্মাগণ] (অকরন্) করেছে। (যমঃ) যম [ন্যায়কারী পরমাত্মা] (অস্মৈ) এই [সমাজকে] (অহোভিঃ) দিন দ্বারা, (অক্তুভিঃ) রাতের দ্বারা এবং (অদ্ভিঃ) জল [অন্ন জল আদি] দ্বারা (ব্যক্তম্) স্পষ্ট (অবসানম্) বিরাম [স্থির পদ] (দদাতি) প্রদান করেন ॥৫৫॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
ব্রহ্মচারীগণ মহাপুরুষদের দ্বারা নির্মিত বিদ্যালয় আদি থেকে বিদ্যা সমাপ্ত করে বিবিধ উদ্যোগ করুক এবং পরমাত্মার উপকার-সমূহকে বিচার করে নিজের সময় ও আহার-বিহার আদির সুপ্রয়োগ করে সমাজকে স্থির সুখ প্রদান করুক ॥৫৫॥এই মন্ত্র কিছুটা আলাদাভাবে যজুর্বেদেও আছে−১২।৪৫ ॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ হে পুরাতন আশ্রমবাসীগণ ! যে তোমরা এই আশ্রমের সময় সমাপ্ত করেছো, সেই তোমরা (অতঃ অপেত) এই আশ্রম থেকে পৃথক্ হও, (বীত) আগামী আগামী বিবিধ আশ্রমে যাও, (বি সর্পত) আলাদা-আলাদা আশ্রমে ছড়িয়ে যাও। (পিতরঃ) এই আশ্রমের পিতৃগণ (অস্মৈ) এই নবাগত আশ্রমবাসীদের জন্য (লোকম্) স্থান (অক্রন্) নিয়ত করে দিয়েছে। (যমঃ) যম-নিয়ম তথা নিয়ন্ত্রণের আচার্য (অস্মৈ) এই নবাগতদের জন্য (অবসানম্) নিবাসস্থান (দদাতু) নিয়ত করে, যে নিবাসস্থান (অহোভিঃ অক্তুভিঃ) দিন ও রাত্রির দৃষ্টিতে (ব্যক্তম্) অভিব্যক্ত অর্থাত সুখদায়ী, এবং যা (অদ্ভিঃ) জল-ব্যবস্থার দৃষ্টিতে সুখদায়ী। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
[অস্মৈ = এই নবাগত শিষ্যসমূহের জন্য। বি + সৃপ্ = To go about in different dirietion (আপ্টে)। অবসানম্= place, স্থান (আপ্টে)। এক শ্রেণীর বিদ্যার্থী পাশ করে যখন আগামী শ্রেণীতে চলে যায়, তাঁদের পূর্বের শ্রেণীতে নব বিদ্যার্থী প্রবিষ্ট করে/হয়, এরূপ আশ্রমব্যবস্থার বর্ণনা এই মন্ত্রে প্রতীত হয়।] বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
উশন্তস্তেধীমহ্যশন্তঃ সমিধীমহি।
উশন্নশত আ বহ পিতৃন হবিষে অত্তবে ॥ ৬॥
পিতৃসন্তানকর্ত্তব্যোপদেশঃ−
পদার্থঃ[হে ব্রহ্মচারী !] (উশন্তঃ) কামনারত আমরা (ত্বা) তোমাকে (ইধীমহি) প্রকাশিত করি, (উশন্তঃ) অভিলাষী আমরা (সম্) মিলে/মিলিতভাবে/একসাথে (ইধীমহি) তেজস্বী করি। (উশন্) অভিলাষী তুমি (উশতঃ) অভিলাষী (পিতৄন্) পিতরদের [রক্ষকদের] (হবিষে) গ্রহণ যোগ্য ভোজন (অত্তবে) খাওয়ার/সেবার/সেবনের জন্য (আ বহ) নিয়ে এসো ॥৫৬॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
যেমন বিদ্বান্ মাতা-পিতা আদি গুরুজন জিতেন্দ্রিয় বিদ্বান্ সভ্য সন্তানের কামনা করে, তেমনই সন্তানও সেই পিতৃজনদের সেবা করে গুণ প্রাপ্ত করুক ॥৫৬॥এঈ মন্ত্র কিছুটা আলাদাভাবে ঋগ্বেদে আছে−১০।১৬।১২ এবং যজুর্বেদে ৯।৭০। এবং মহর্ষিদয়ানন্দকৃত ঋগ্বেদাদিভাষ্যভূমিকা পিতৃযজ্ঞবিষয়েও ব্যাখ্যাত আছে ॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ হে যজ্ঞিয়াগ্নি ! (উশন্তঃ) পিতরদের ভোজন সৎকার কামনাকারী আমরা গৃহস্থী, (ত্বা) তোমাকে (ইধীমহি) প্রদীপ্ত করি, (উশন্তঃ) এই নিমিত্ত/হেতু পিতৃযজ্ঞের জন্য (সমিধীমহি) তোমাকে আমরা সমিধাধান দ্বারা প্রদীপ্ত করি। (উশন্) হে কান্তি-সম্পন্ন যজ্ঞিয়াগ্নি! (উশতঃ) ইচ্ছুক (পিতৄন্) পিতরদের তুমি (আ বহ) আমাদের প্রাপ্ত করাও। যাতে তাঁরা (হবিষে) প্রদত্ত অন্ন (অত্তবে) এসে খেতে/ভক্ষণ করতে পারে। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
[পিতরদের নিমন্ত্রণ দিয়ে, পিতৃযজ্ঞ করা উচিৎ। যজ্ঞশীল গৃহস্থীর অন্নকেই পিতর স্বীকার করে। হবি= অর্থাৎ সৎকারার্থ সিদ্ধ অন্ন। যেহেতু অন্ন খাওয়ার বর্ণনা হয়েছে, এইজন্য পিতর জীবিত, যাদের নিমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছে। যজ্ঞিয়াগ্নির সম্বোধন কবিশৈলীর অনুরূপ। উশন্ = বশ কান্তৌ (= দীপ্তৌ), উশন্তঃ= কাময়মানাঃ। উশতেঃ= কাময়মানান্।] বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
দ্যুমন্তস্বেধীমহি দ্যুমন্তঃ সমিধীমহি।
দ্যুমান্ দ্যুমত আ বহ পিতৃন হবিষে অত্তবে ॥ ৭॥
পিতৃসন্তানকর্ত্তব্যোপদেশঃ−
পদার্থঃ [হে পুত্র !] (দ্যুমন্তঃ) প্রচণ্ড গতিশীল/গতিসম্পন্ন আমরা (ত্বা) তোমাকে (ইধীমহি) প্রকাশিত করি, (দ্যুমন্তঃ) ব্যবহারকুশল আমরা (সম্) এক হয়ে (ইধীমহি) তেজস্বী করি। (দ্যুমান্) ব্যবহারকুশল তুমি (দ্যুমতঃ) ব্যবহারকুশল (পিতৄন্) পিতরদের [রক্ষক বিদ্বানদের] (হবিষে) গ্রহণ যোগ্য ভোজন (অত্তবে) খাওয়ার/ভক্ষণের জন্য (আ বহ) নিয়ে এসো ॥৫৭॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
ভাবার্থঃ মন্ত্র ৫৬ এর সমান॥৫৭॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ হে পিতৃযজ্ঞ সম্বন্ধিত অগ্নি ! (দ্যুমন্তঃ) তেজস্বী আমরা (ত্বা) তোমাকে (সম্ ইধীমহি) সম্যক্ বা মিলিতভাবে প্রদীপ্ত করি, (দ্যুমন্তঃ) তেজস্বী আমরা (সমিধীমহি) তোমাকে সমিদাধান দ্বারা প্রজ্জ্বলিত করি। (দ্যুমান্) হে যজ্ঞিয়াগ্নি ! তুমি তেজসম্পন্ন, (দ্যুমতঃ) তেজস্বী (পিতৄন্) পিতরদের (আ বহ) সেখানে প্রাপ্ত করাও (হবিষে) এই ভোজ্যান্ন (অত্তবে) খাওয়ার জন্য। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
[মন্ত্রে পিতৄন্ পদ দ্বারা পিতৃযজ্ঞকর্ত্তার রক্তসম্বন্ধী পিতর অভিপ্রেত নয়, অপিতু বনস্থ এবং সন্ন্যস্ত অন্য পিতরও অভিপ্রেত হয়েছে। অবশেষের জন্য দেখো মন্ত্র (সংখ্যা ৫৬)।] বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
অঙ্গিরসো নঃ পিতরো নবন্ধা অর্থবাণো ভূগবঃ সোম্যাসঃ।
তেষাং বয়ং সুমতৌ যজ্ঞিয়ানামপি ভদ্রে সৌমনসে স্যাম ॥৮॥
পিতৃসন্তানকর্ত্তব্যোপদেশঃ−
পদার্থঃ (নঃ) আমাদের (অঙ্গিরসঃ) মহাবিজ্ঞানী (পিতরঃ) পিতর [রক্ষক পিতা আদি বুদ্ধিমানগণ] (নবগ্বাঃ) স্তুতিযোগ্য চরিত্র [বা নবীন-নবীন বিদ্যা প্রাপ্তকারী এবং প্রাপ্তিতে সহায়ক], (অথর্বাণঃ) নিশ্চিত স্বভাবী, (ভৃগবঃ) পরিপক্ব জ্ঞানযুক্ত এবং (সোম্যাসঃ) ঐশ্বর্য প্রাপ্তির যোগ্য [হয়/হোক]। (তেষাম্) সেই (যজ্ঞিয়ানাম্) পূজনীয় মহাপুরুষদের (অপি) ই (সুমতৌ) সুমতিতে এবং (ভদ্রে) কল্যাণকারী (সৌমনসে) মনের প্রসন্নতায় (বয়ম্) যেন আমরা (স্যাম) হই ॥৫৮॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
সন্তানদের উচিৎ, বড়ো-বড়ো বিজ্ঞানী মাতা-পিতা আদি পূজনীয় মহাত্মাদের উত্তম শিক্ষাকে সদা গ্রহণ করা ॥৫৮॥এই মন্ত্র ঋগ্বেদে আছে−১০।১৪।৬ এবং যজুর্বেদে ১৯।৫০ ॥ এই মন্ত্রের উত্তরার্দ্ধ মেলাও-অথর্ব০ ৬।৫৫।৩ তথা ৭।৯৫।১ ॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ (অঙ্গিরসঃ) সব বিদ্যার অঙ্গোপাঙ্গের জ্ঞাতা/বিদ্বান, (নবগ্বাঃ) নবীন-নবীন জ্ঞানের সদুপদেশক, (অথর্বাণঃ) হিংসাদি রহিত, (ভৃগবঃ) পরিপক্ববুদ্ধিযুক্ত, (সোম্যাসঃ) সোম্যস্বভাবযুক্ত, যে (নঃ) আমাদের (পিতরঃ) পিতা আদি জ্ঞানীগণ আছেন, (তেষাম্) সেই (যজ্ঞিয়ানাম্) পূজনীয়, সৎসঙ্গতি যোগ্য, তথা দানের পাত্র পিতরদের (সুমতৌ) সুমতিতে, (অপি) তথা (ভদ্রে) সুখদায়ী এবং কল্যাণকারী (সৌমনসে) তাঁদের মনের প্রসন্নতা-সম্পাদনে, বা তাঁদের দ্বারা প্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ বোধ-এ (স্যাম) আমরা সদা থাকি। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
[মন্ত্রার্থ মহর্ষি দয়ানন্দের ভাষ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। (যজুর্বেদ ১৯।৫০)।]
অঙ্গিরেভির্যজ্ঞিয়ৈরা গহীহ যমবৈরূপৈরিহ মাদয়স্ব।
বিবস্বন্তং হুবে যঃ পিতা তেহস্মিন্ বহিষ্যা নিষদ্য ॥ ৯॥
অঙ্গি॑রঃऽভিঃ । য॒জ্ঞিয়ৈ॑ঃ । আ । গ॒হি॒ । ই॒হ । যম॑ । বৈ॒রূ॒পৈঃ । ই॒হ । মা॒দ॒য়॒স্ব॒ । বিব॑স্বন্তম্ । হু॒বে॒ । যঃ । পি॒তা । তে॒ । অ॒স্মিন্ । ব॒র্হিষি॑ । আ । নি॒ऽসদ্য॑ ॥
পিতৃসন্তানকর্ত্তব্যোপদেশঃ−
পদার্থঃ (যম) হে সংযমী জন ! (অঙ্গিরোভিঃ) মহাবিজ্ঞানী, (যজ্ঞিয়ৈঃ) পূজাযোগ্য পুরুষদের সাথে (ইহ) এখানে [সমাজে] (আ গহি) তুমি এসো, এবং (বৈরূপৈঃ) বিবিধ পদার্থ-সমূহের নিরূপণকারী/নিরূপক বেদজ্ঞান দ্বারা (ইহ) এখানে (মাদয়স্ব) [আমাদের] তৃপ্ত করো। (অস্মিন্) এই (বর্হিষি) উত্তমপদে (আ) উত্তমরূপে (নিষদ্য) বসে (বিবস্বন্তম্) প্রকাশময় পরমাত্মাকে (হুবে) আমি আহ্বান করি, (যঃ) যে (তে) তোমার (পিতা) পালক ॥৫৯॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
জিতেন্দ্রিয় বিদ্বান্ পুরুষ বিবিধ বিদ্বানদের সৎসঙ্গ দ্বারা অনেক বিদ্যা প্রাপ্ত করেছে বেদাভ্যাস দ্বারা পরমাত্মার বিচার করুক ॥৫৯॥মন্ত্র ৫৯, ৬০ কিছুটা আলাদাভাবে ঋগ্বেদে আছে−১০।১৪।৫, ৪ এবং উভয় মন্ত্র মহর্ষিদয়ানন্দকৃত সংস্কারবিধি অন্ত্যেষ্টিপ্রকরণে উদ্ধৃত ॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ (যম) হে আশ্রমের নিয়ন্তা ! আপনি, (যজ্ঞিয়ৈঃ) পূজনীয়, (অঙ্গিরোভিঃ) নানা বিদ্যার অঙ্গোপাঙ্গের জ্ঞাতা/বিদ্বান, (বৈরূপৈঃ) জ্ঞান বা রূপ রং-এর দৃষ্টিতে বিবিধ রূপযুক্ত মহাত্মা সমেত, (ইহ) এই পিতৃযজ্ঞে (আ গহি) আসুন, উপস্থিত হন, এবং (মাদয়স্ব) প্রস্তুত অন্নের দ্বারা নিজেকে সন্তৃপ্ত তথা সন্তুষ্ট করুন। আমি গৃহস্থী (বিস্বন্তম্) অন্ধকার-বিনাশক সূর্যের সদৃশ অজ্ঞানান্ধকার-বিনাশক বিজ্ঞানীকেও (হুবে) নিমন্ত্রিত করেছি, (যঃ) যে/যিনি (পিতা) আমাদের সকলের জ্ঞানদাতা পিতা। (তে) সেই আপনারা সবাই, (অস্মিন) এই (বর্হিষি) পিতৃযজ্ঞে কুশ-আসনের ওপর (আ নিষদ্য) বিরাজমান হয়ে নিজেকেই সন্তৃপ্ত তথা সন্তুষ্ট করুন। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
ইমং যম প্রস্তরমা হি রোহাঙ্গিরোভিঃ পিতৃভিঃ সম্বিদানঃ।
আ ত্বা মন্ত্রাঃ কবিশস্তা বহন্ত্বেনা রাজন্ হবিযো মাদয়স্ব ॥ ১০॥
পিতৃসন্তানকর্ত্তব্যোপদেশঃ−
পদার্থঃ (যম) হে সংযমী পুরুষ ! (অঙ্গিরোভিঃ) মহাবিজ্ঞানী (পিতৃভিঃ) পিতরদের [রক্ষকদের] সাথে (হি) ই (সংবিদানঃ) মিলিত তুমি (ইমম্) এই (প্রস্তরম্) বিস্তীর্ণ আসনে (আ রোহ) আরোহণ করো। (ত্বা) তোমাকে (মন্ত্রাঃ) মন্ত্রকুশল [বিচারশীল] (কবিশস্তাঃ) বিদ্বানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ পুরুষ (আ বহন্তু) আহ্বান করে/করুক (রাজন্) হে ঐশ্বর্যবান্ পুরুষ ! (এনা) এই (হবিষঃ=হবিষা) ভক্তিদান দ্বারা (মাদয়স্ব) [আমাদের] প্রসন্ন করো॥৬০॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
জিতেন্দ্রিয় ব্রহ্মচারী পুরুষ বিদ্বানদের সৎসঙ্গ দ্বারা উচ্চ পদ প্রাপ্ত করুক এবং নিজের শুভ গুণ এবং পরাক্রম দ্বারা সব প্রজাকে সদা প্রসন্ন রাখুক ॥৬০॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ (যম) হে আশ্রমের নিয়ামক/ব্যবস্থাপক/নিয়ন্তা আচার্য আপনি (অঙ্গিরোভিঃ) নানা বিদ্যার অঙ্গোপাঙ্গের জ্ঞাতা/বিদ্বান (পিতৃভিঃ) পিতরদের সাথে (সম্বিদানঃ) ঐকমত্য প্রাপ্ত। আপনি (ইমম্) এই উচ্চ (প্রস্তরম্) আসনে (আরোহ) আরোহণ করুন। (কবিশস্তাঃ) কবিদের দ্বারা প্রশস্তিরূপে উচ্চারিত (মন্ত্রাঃ) মন্ত্র, (ত্বা) আপনাকে (আ বহন্তু) এই আসনে বসার জন্য প্রেরিত করুক। (রাজন) হে অঙ্গিরা আদি পিতরদের রাজা ! (এনা) এই প্রস্তুত (হবিষা উ) ভোজ্যান্ন দ্বারা (মাদয়স্ব) সন্তৃপ্ত তথা সন্তুষ্ট হন। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
[অঙ্গিরোভিঃ এর অর্থ মহর্ষি দয়ানন্দের ভাষ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। দেখো মন্ত্র (সংখ্যা ৫৮) এর টিপ্পণী।]
ইত এত উদারুহন্ দিবস্পৃষ্ঠান্যারুহন।
প্র ভূর্জয়ো যথা পথা দ্যামঙ্গিরসো যযুঃ ॥ ১১৷
পদার্থঃ (এতে) এই [পিতরগণ] (ইতঃ) এই [সামান্য দশা] থেকে (উৎ) উত্তমরূপে (আ অরুহন্) উচ্চে আরোহণ করেছে, এবং (দিবঃ) ব্যবহারের (পৃষ্ঠানি) পৃষ্ঠে (আ অরুহন্) উচ্চতায় আরোহণ করেছে। (ভূর্জয়ঃ যথা) ভূমি জয়কারীর সমান (পথা) সন্মার্গ দ্বারা/সন্মার্গের মাধ্যমে (অঙ্গিরসঃ) বিজ্ঞানী মহর্ষিগণ (দ্যাম্) প্রকাশ (প্র) উত্তমরূপে (যয়ুঃ) প্রাপ্ত হয়েছে ॥৬১॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
বড়ো-বড়ো মহাত্মা ব্রহ্মচর্য আদি তপ সহিত বিদ্যা গ্রহণ করে সামান্য অবস্থা থেকে উত্তরণ করেছে, এভাবেই সব মনুষ্য পরিশ্রম এবং উদ্যোগ করে সদা উন্নতি করুক ॥৬১॥এই মন্ত্র কিছুটা আলাদাভাবে সামবেদে আছে−পূ০ ১।১০।২ ॥ ইতি প্রথমোঽনুবাকঃ ॥ ক্ষেমকরন ত্রিবেদী
পদার্থঃ (ইতঃ) এখান থেকে (এতে) এই অঙ্গিরা আদি (উদ্ আরুহন্) উপরে আরোহণ করে/করেছে। (দিবঃ) দ্যুলোকে (পৃষ্ঠানি) পৃষ্ঠে (আরুহন) আরোহণ করেছে। (ভূর্জয়ঃ) রজোগুণ ও তমোগুণের ভর্জন/বিনাশকারী যোগী (যথা) যেমন (পথা) যোগমার্গ থেকে/দ্বারা (দ্যাম্) দ্যুলোক পর্যন্ত (প্রয়যুঃ) পৌঁছেছে/পৌঁছায়, তেমনই (অঙ্গিরসঃ) নানা বিদ্যার অঙ্গোপাঙ্গের জ্ঞাতা/বিদ্বান বৈজ্ঞানিক, বিজ্ঞানমার্গ দ্যুলোক পর্যন্ত পৌঁছায়। বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
[মন্ত্রের দুটি অভিপ্রায়- আধ্যাত্মিক ও আধিদৈবিক। যোগের দৃষ্টিতে উপরে আরোহণের অভিপ্রায় হল- শারীরিক চক্রগুলোর নীচের চক্র থেকে শুরু করে উপরের অন্তিম চক্র সহস্রারচক্র পর্যন্ত আরোহণ করা, এবং তদনন্তর মুক্ত হয়ে যাও। এই চক্র নিম্নলিখিত। মূলাধারচক্র গুদা/মলদ্বারের সমীপে, স্বাধিষ্ঠানচক্র নিতম্ব/শ্রোণীদেশে, মণিপূরচক্র নাভির পেছনে, অনাহতচক্র হৃদয়ের সমীপে, বিশুদ্ধচক্র কণ্ঠের পেছনে, আজ্ঞাচক্র দুই ভ্রুযুগলের মধ্যস্থানে, সহস্রারচক্র মস্তিষ্কে। এই সকল চক্র পৃষ্ঠবংশের সুষুম্ণা নাড়ীতে আছে। প্রায়ঃ এই সাত চক্রের বর্ণনা পাওয়া যায়। অথর্ববেদে ৮ চক্র বলা হয়েছে- "অষ্টচক্রা নবদ্বারা দেবানাং পূরয়োধ্যা" (১০।২।৩১)। অষ্টম চক্র, চক্র ৬ এবং ৭ এর মধ্য স্থানে আছে। যোগী এই চক্রগুলোতে ধ্যান-প্রকর্ষ দ্বারা, পরপর উপরের চক্রগুলোতে আরোহণ করে। এবং পরিশেষে "দিব" অর্থাৎ মস্তিষ্কের সহস্রারচক্রে স্থিত হয়ে, কালানুসারে এই সূর্য দ্বারা মুক্ত হয়ে পরমেশ্বরের মধ্যে বিচরণ করে। দিব্= মস্তিষ্ক বা মূর্ধা - "দিবং যশ্চক্রে মূর্ধানম্" (অথর্ব০ ১০।৭।৩২)। দিবস্পৃষ্ঠানি= দিব্ এর অভিপ্রায় মস্তিষ্ক অর্থাৎ মূর্ধা। এর মধ্যে তিনটি চক্র আছে- আজ্ঞাচক্র, সহস্রারচক্র এবং এই দুটির মাঝখানে বিশুদ্ধচক্র; অথবা বিশুদ্ধচক্র আজ্ঞাচক্র এবং সহস্রারচক্র। এগুলোর মধ্যে প্রত্যেকটির পৃষ্ঠে আরোহণ করে, আগামী-আগামী চক্রের পৃষ্ঠে যোগী আরোহণ করতে থাকে। মূর্ধা-এর তিনটি চক্রের দৃষ্টিতে মস্তিষ্ককে "তিস্রঃ দিবঃ" ও বলা। এই 'মূর্ধা' লোকবিভাগের দৃষ্টিতে তৃতীয়-লোক ও বলা হয়েছে। যথা-"শীর্ষলোকং তৃতীয়কম্" (অথর্ব০ ১৯।৩৯।১০)। সুষুম্ণা নাড়ীর দৃষ্টিতে মলদ্বার থেকে বুকের নীচ পর্যন্ত পৃথিবীলোক; বুকে আছে অন্তরিক্ষলোক, যার মধ্যে বায়ু তথা রক্ত জল থাকে; এবং বুকের উপরের ভাগ হল দ্যুলোক, যার মধ্যে জ্ঞানে দিব্যপ্রকাশ নিবাস করে। আধিদৈবিক দৃষ্টিতে "আঙ্গিরস" অর্থাৎ বৈজ্ঞানিকরা বিজ্ঞান দ্বারা এই ভূমি থেকে উঠে দ্যুলোকের লোক পর্যন্ত আরোহণ করে। চন্দ্র গ্রহ তথা নক্ষত্র পর্যন্ত প্রয়াণ/গমন করে। দ্যাম্ = আধিদৈবিক দৃষ্টিতে প্রকাশমান দ্যুলোক, এবং আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে মস্তিষ্ক- 'শীর্ষ্ণো দ্যৌঃ সমবর্তত' (যজু০ ৩১।১৩)। আগামী মন্ত্রগুলোতে অন্তরিক্ষসদ্ পৃথিবীষদ্ তথা দিবিষদ্ পিতরদের বর্ণনা আছে। আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে পৃথিবীষদ্ পিতর হল সামান্য পিতর, যারা খাদ্য-পানীয় ইত্যাদি সাংসারিক ব্যবহার থেকে উপরে উঠতে পারেনি। অন্তরিক্ষসদ্ পিতর তাঁরা, যারা প্রাণায়ামাভ্যাসী হৃদয়ে ধ্যান করার অভ্যাস করছে/অভ্যাসরত। তথা দিবিষদ্ পিতর তাঁরা, যারা আজ্ঞাচক্র তথা সহস্রারচক্রের উচ্চতা পর্যন্ত আরোহণ করেছে/পৌঁছেছে/পৌঁছে গেছে। এমনভাবেই আধিদৈবিক দৃষ্টিতে পৃথিবীষদ্ পিতর পৃথিবীতে বিহার/ভ্রমনকারী; অন্তরিক্ষসদ্ বিমান আদি দ্বারা অন্তরিক্ষে আগমন-গমনকারী; তথা দিবিষদ্ চন্দ্র আদি লোক-সমূহ পর্যন্ত প্রয়াণকারী ॥ বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার
No comments:
Post a Comment
ধন্যবাদ