= কণ্ডিকা ১৬ =
[ব্রহ্ম দ্বারা সৃষ্টির উৎপত্তির ক্রমিক বিজ্ঞান]
ব্রহ্ম হ বৈ ব্রহ্মাণং পুষ্করে সসৃজে, স খলু ব্রহ্মা সৃষ্টশ্চিন্তামাপেদে কেনাহ-মেকেনাক্ষরেণ সর্বাংশ্চ কামান্ সর্বাংশ্চ লোকান্ সর্বাংশ্চ দেবান্ সর্বাংশ্চ বেদান্ সর্বাংশ্চ যজ্ঞান্ সর্বাশ্চ শব্দান্ সর্বাশ্চ ব্যুষ্ঠিঃ সর্বাণি চ ভূতানি স্থাবর-জঙ্গমান্যঅনুভবেয়মিতি স ব্রহ্মচর্য্যমচরত। স ওমিত্যেতদক্ষরমপশ্যদ দ্বিবর্ণ-ঞ্চতুর্মাত্রং সর্বব্যাপি সর্ববিভ্বয়াতযামব্রহ্ম ব্রাহ্মীং ব্যাহৃতিং ব্রহ্মদৈবতং তয়া সর্বাংশ্চ কামান্ সর্বাংশ্চ লোকান্ সর্বাংশ্চ দেবান্ সর্বাংশ্চ বেদান্ সর্বাংশ্চ যজ্ঞান্ সর্বাংশ্চ শব্দান্ সর্বাশ্চ ব্যুষ্ঠিঃ সর্বাণি চ ভূতানি স্থাবরজঙ্গমান্যন্বভবত্তস্য প্রথমেন বর্ণেনাপস্নেহশ্চান্বভবত্তস্য দ্বিতীয়েন বর্ণেন তেজো জ্যোতীষ্যন্বভবত্ ॥ ১৬ ॥
ভাষ্যঃ- (ব্রহ্ম, হ, বৈ, ব্রহ্মাণং, পুষ্করে, সসৃজে) [পুষ্করং পুষ্করমন্তরিক্ষং পোষতি ভূতানি (নিরু.৫.১৪)। ব্রহ্মা = বলং বৈ ব্রহ্মা (তৈ. ব্রা.৩.৮.৫.২), প্রজাপতিবৈ ব্রহ্মা (গো.উ.৫.৮), তস্য (পুরুষস্য) মন এভ ব্রহ্মা (কৌ. ব্রা. ১৭.৭)] এখানে সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু থেকে গভীরভাবে বোঝাতে বলা হয়েছে যে সর্বপ্রথম পরব্রহ্ম পরমাত্মা অবকাশরূপ আকাশে অবস্থানরত প্রকৃতি পদার্থ, যেখান থেকে সমস্ত উৎপন্ন পদার্থের পুষ্টি হয়, সেখানে সর্বপ্রথম ব্রহ্মা অর্থাৎ সৃষ্টির চিন্তা বা ইচ্ছা উদ্ভূত করে।
ঈশ্বরের এই চিন্তা বা ইচ্ছাই সমস্ত উৎপন্ন পদার্থের উৎপাদক ও রক্ষক, কারণ এর মাধ্যমেই সৃষ্টির প্রক্রিয়া উৎপন্ন ও পরিচালিত হয়। সেই সময় ব্রহ্মা সৃষ্টিকে রচনার তার সামর্থ্য প্রকাশ করেন। একই কথা অথর্ববেদে বলা হয়েছে - কামস্তদগ্রে সমবর্তত (অথর্ব. ১৯.৫২.১)।
(সঃ, খলু, ব্রহ্মা, সৃষ্টঃ, চিন্তাম্, আপেদে) ব্রহ্মের সামর্থ্য প্রকাশের সময় ব্রহ্মের মধ্যে এই চিন্তা চলে যে সৃষ্টির প্রক্রিয়া কীভাবে এবং কোথা থেকে শুরু করা হবে? ব্রহ্মের জ্ঞান, ইচ্ছা এবং প্রচেষ্টা সবই স্বাভাবিক, যেমন শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ ৬.৮-এ বলা হয়েছে - ‘স্বাভাৱিকী জ্ঞানবলক্রিয়া চ’, অর্থাৎ তার জ্ঞান, ইচ্ছা এবং প্রচেষ্টা সবই স্বাভাবিক। তার জন্য তাকে কোনো বিশেষ প্রচেষ্টা বা চিন্তা করার প্রয়োজন হয় না। এখানে গ্রন্থকার ব্রহ্মের চিন্তাগ্রস্ত হওয়া অর্থাৎ সৃষ্টির প্রক্রিয়া নিয়ে চিন্তা করা বলেছেন, এটি শুধুমাত্র লেখকের শৈলী মাত্র। পাঠকদের এতে বিভ্রান্ত না হওয়ার কথা।
(অহম্, কেন, একেন, অক্ষরেণ, সর্বান্, চ, কামান্, সর্বান্, চ, লোকান্, সর্বান্, চ, দেবান্, সর্বান্, চ, বেদান্, সর্বান্, চ, যজ্ঞান্, সর্বান্, চ, শব্দান্, সর্বাঃ, চ, ব্যুষ্ঠিঃ, সর্বাণি, চ, স্থাবরজঙ্গমানি, ভূতানি, অনুভবেয়म्, ইতি) এখানে ব্রহ্মের চিন্তার প্রক্রিয়া এবং ক্রম প্রদর্শন করে লেখা হয়েছে – প্রকৃতি পদার্থে বিদ্যমান বহু অব্যক্ত অক্ষরের মধ্যে কোন এক অক্ষর থেকে সর্বাপ্রকার কামনা অর্থাৎ সমস্ত সূক্ষ্ম শক্তি, সমস্ত প্রকারের লোক [লোকঃ - ইমে বৈ লোকাঃ বিশ্বা সদ্মানি (শ. ব্রা. ৬.৭.৩.১০)], অর্থাৎ সমস্ত ভবিষ্যৎ ক্রিয়ার জন্য অবকাশরূপ স্থান, সমস্ত দেব [দেবঃ বাগিতি সর্বে দেবাঃ (জৈ.উ. ১.৯.২)], সমস্ত প্রকারের সূক্ষ্ম বাক্ অর্থাৎ অক্ষররূপ পদার্থ, সমস্ত প্রকারের বেদ অর্থাৎ ছন্দ রাশ্মি, সমস্ত প্রকারের যজ্ঞ অর্থাৎ যজন কর্ম, সমস্ত প্রকারের শব্দ অর্থাৎ নাদ [ব্যুষ্টিঃ অহব্যুঁষ্টিঃ (তৈ.বা. ৩.৮.১৬.৪), রাত্রিঃ বৈ ব্যুষ্টিঃ (শ. ব্রা. ১৩.২.১.৬)], সমস্ত প্রকারের প্রকাশ এবং অন্ধকার রূপ অবস্থা, সমস্ত প্রকারের স্থাবর ও জঙ্গম পদার্থ অনুভব করব অর্থাৎ সৃষ্টি করব?
এখানে সৃষ্টির কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের দিকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে সর্বপ্রথম ব্রহ্ম সমস্ত পদার্থে সূক্ষ্ম শক্তি সৃষ্টি করবেন এবং সেই শক্তি উৎপন্ন হওয়ায় অক্ষররূপ উপাদানের মধ্যে সূক্ষ্ম অবকাশ সৃষ্টি হবে। এটি এখনও ব্রহ্মের চিন্তায়ই উৎপন্ন হচ্ছে। এরপর সমস্ত অক্ষররূপ পদার্থ দেব হিসেবে তৈরি হবে অর্থাৎ তাতে সূক্ষ্ম শক্তি ও ক্রিয়ার সংচার ঘটবে, যার ফলে কালের পরিশেষে সমস্ত বেদ অর্থাৎ ছন্দ রাশ্মি উৎপন্ন হবে। এগুলো উৎপন্ন হওয়ার পর বিভিন্ন প্রকারের যজ্ঞ প্রক্রিয়া শুরু হয়, যার ফলে পদার্থে নানাবিধ ধ্বনি উৎপন্ন হয়। এই ক্রিয়াগুলো থেকে গভীর অন্ধকাররূপ মূল পদার্থ প্রকাশ এবং অন্ধকারের বিভিন্ন স্তর বা অঞ্চল বা প্রাণপ্রধান ও অপরূপপ্রধান এবং ঘনীভূত ছন্দ ও বিরল ছন্দযুক্ত অবস্থাতে রূপান্তরিত হয়।
অতএব বলা হয়েছে -
অহর্বৈ ভিয়চ্ছন্দঃ (শ. ব্রা. ৮.৫.২.৫), রাত্রিঃ বৈ সংয়চ্ছন্দঃ (শ. ব্রা. ৮.৫.২.৫)।
এই সমস্ত নানাবিধ প্রক্রিয়া ও পর্যায়ের পরে চরাচর জগতের উৎপত্তি ঘটে, যার বিষয়ে এখানে ব্রহ্মের মাধ্যমে চিন্তা করা হয়েছে। এটি কেবল গ্রন্থকারের শৈলী, যা ইঙ্গিত করে যে সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মের জ্ঞানেই সৃষ্টির প্রক্রিয়ার জ্ঞান কিভাবে নিহিত থাকে?
(সঃ, ব্রহ্মচর্য্যং, অচরত্) এ জন্য তিনি ব্রহ্ম নিজের জ্ঞানেই বিচরণ করেন অর্থাৎ তিনি এই চিন্তাভাবনার মাধ্যমে তার জ্ঞান ও শক্তিকে প্রকাশ করতে শুরু করেন।
(সঃ, ওম্, ইতি, এতৎ, অক্ষরম্, দ্বিবর্ণম্, চতুর্মাত্রম্, সর্বব্যাপি, সর্ববিভু, অয়াতযামব্রহ্ম, ব্রাহ্মীম্, ব্যাহৃতিম্, ব্রহ্মদৈবতম্, অপশ্যৎ) এ জন্য তিনি পরব্রহ্ম ওম্ এই অক্ষররূপ পদার্থকে দেখেন এবং সেই অব্যক্ত অক্ষরকে প্রকাশ করার চিন্তা করেন। এখানে ‘এতৎ’ সর্বনাম পদ নির্দেশ করে যে পরব্রহ্মের নিকটতম ওম্ অক্ষরের বাইরে অন্য কোনো পদার্থ নেই। যদিও পরব্রহ্ম সমস্ত অক্ষররূপ পদার্থে বিদ্যমান, তবুও সমস্তের সাথে তার সম্পর্ক ওম্ অক্ষরের মাধ্যমে হয়।
এই ওম্ অক্ষর দুই বর্ণযুক্ত, সেই বর্ণ হলো – ‘ও’ এবং ‘ম্’। এটি চার মাত্রাযুক্ত অক্ষর। এই চারটি মাত্রার আলোচনা আগের কণ্ডিকাগুলোতে করা হয়েছে। ওম্ অক্ষর সর্বব্যাপক, সর্ববিভু অর্থাৎ সকলের আশ্রয়দাতা ও দর্শক। এই অক্ষর নির্বিকার এবং ব্রহ্মের নিকটতম হওয়ায় ব্রহ্মের সমানই সকলের নিয়ন্ত্রক। এটিকে এখানে ব্রাহ্মী ব্যাহৃতি বলা হয়েছে, কারণ এটি ব্রহ্মের শক্তির মাধ্যমে সমস্ত পদার্থকে সর্বদিকে আচ্ছন্ন করে এবং এর ভেতরেই ব্রাহ্মী শক্তি কার্যকর হয়। অতএব এটিকে ব্রহ্ম দেবতাযুক্তও বলা হয়েছে। ব্রহ্ম দেবতা যুক্ত হওয়ার অর্থ হলো এই ওম্ অক্ষর ব্রহ্মের মতোই দেবী গুণযুক্ত। প্রলয়কালে ও এটি তার অব্যক্ত অবস্থায় বিদ্যমান থাকে। এই সমস্ত গুণযুক্ত ওম্ অক্ষরই প্রথমে জাগ্রত হয় বা জাগ্রত করার চিন্তা করা হয়।
(তয়া, সর্বান্, চ, কামান্, সর্বান্, চ, লোকান্, সর্বান্, চ, দেবান্, সর্বান্, চ, বেদান্, সর্বান্, চ, যজ্ঞান্, সর্বান্, চ, শব্দান্, সর্বাঃ, চ, ব্যুষ্ঠিঃ, সর্বাণি, চ, স্থাবরজঙ্গমানি, ভূতানি, অন্বভবৎ) এই ওম্ থেকে সৃষ্টির পূর্ববর্তী সমস্ত ধাপ ও পদার্থ যেমন – কাম, লোক, দেব, বেদ, যজ্ঞ, শব্দ, ব্যুষ্ঠি এবং সমস্ত চরাচর পদার্থ – পরবর্তীতে উৎপন্ন হয়। এদের সমস্ত ব্যাখ্যা আমরা আগেই করেছি।
(তস্য, প্রথমেন, বর্ণেন, আপঃ, স্নেহঃ, চ, অন্বভবৎ, তস্য, দ্বিতীয়েন, বর্ণেন, তেজঃ, জ্যোতীষি, অন্বভবৎ) [জ্যোতিঃ = জ্যোতির্ভৈ যজ্ঞঃ (কাঠ. সং. ৩১.১১)] ওম্ অক্ষরের দুটি বর্ণের প্রভাব ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে যে, প্রথম বর্ণ ওকার থেকে প্রকৃতি পদার্থে দুটি গুণ উৎপন্ন হয়। প্রথম গুণ হলো আপঃ। এই গুণযুক্ত পদার্থকেও আপঃ বলা হয়। আপঃ মানে হলো – বিস্তার ও চলাচল। এই বর্ণের প্রভাবে সমস্ত অক্ষররূপ পদার্থে একে অপরের মধ্যে বিস্তার ও চলাচলের ক্ষমতা সৃষ্টি হয়, যার কারণে সমস্ত পদার্থ এখানে-ওখানে চলাচল করতে সক্ষম হয়।
আপঃ-এর পাশাপাশি ওকার বর্ণ থেকে স্নেহ নামে দ্বিতীয় গুণও উৎপন্ন হয়, যার দুটি অর্থ রয়েছে। প্রথম অর্থ হলো – সূক্ষ্ম আকর্ষণ শক্তি। এর ফলে সমস্ত অক্ষররূপ পদার্থে সূক্ষ্ম আকর্ষণ শক্তি উৎপন্ন হয়, যা আকর্ষণের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণের কাজও করে। এখানে স্নেহ শব্দের আরেকটি অর্থ হলো – নরমতা বা চিপচিপে গুণ। এর অর্থ হলো, ওকার বর্ণের কারণে পদার্থে এমন গুণ সৃষ্টি হয়, যার ফলে সমস্ত গতিশীল পদার্থ, বিশেষত প্রাথমিকভাবে অক্ষররূপ পদার্থ, সহজে চলাচল ও আকর্ষণ এবং নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়ায় সক্রিয় থাকে।
সেই সমস্ত পদার্থ কোনও প্রতিরোধ ছাড়া গমন করতে সক্ষম হয়।
দ্বিতীয় বর্ণ অর্থাৎ মকার থেকে প্রথম গুণ তেজ উৎপন্ন হয়। এখানে তেজ অর্থ হলো তীক্ষ্ণতা, অর্থাৎ ছিদ্রক এবং ভেদক শক্তি সম্পন্নতা। এই গুণের কারণে পদার্থে ছিদ্রক-ভেদক ইত্যাদি শক্তি উৎপন্ন হয়। সৃষ্টির প্রলয়কালে বৃহৎ লোক থেকে পদরূপ রাশ্মির বিভাজন পর্যন্ত সমস্ত কাজ এই গুণের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। অসুর পদার্থকে ধ্বংস বা নিয়ন্ত্রণ করার মূল ভূমিকাও এটিরই।
মকার বর্ণের কারণে জ্যোতি নামক দ্বিতীয় গুণও উৎপন্ন হয়। এখানে জ্যোতি-এর বিভিন্ন অর্থ সম্ভব, যার মধ্যে প্রথম অর্থ হলো – জ্ঞানরূপ জ্যোতি। এর কারণে সৃষ্টির সমস্ত পদার্থ এবং প্রাথমিক পর্যায়ের সমস্ত অক্ষররূপ পদার্থ বিজ্ঞানসম্মতভাবে তাদের নিজ নিজ কার্য সম্পাদন করে। জ্যোতি শব্দের দ্বিতীয় অর্থ হলো – সংগতিকরণ। এর ফলে সমস্ত পদার্থ একে অপরকে সংযুক্ত করতে সক্ষম হয় এবং বিভিন্ন পদার্থের পারস্পরিক আদান-প্রদানও ঘটে। জ্যোতি-র তৃতীয় অর্থ হলো – প্রকাশ। এর কারণে ওম্ রাশ্মি প্রকাশিত হলে প্রকৃতির গভীর অন্ধকার দূর হয় এবং সূক্ষ্মতম আলো উৎপন্ন হয়।
এই দুটি বর্ণের সমস্ত গুণ বিভিন্ন পদার্থে যে প্রভাব ফেলে, সেই সমস্ত প্রভাব ওম্ রাশ্মিতে স্বাভাবিকভাবে বিদ্যমান থাকে। এই প্রভাবের কারণে ওম্ রাশ্মি সমস্তে ব্যাপী, সর্বাধিক তীব্র গতিশীল, কোনও প্রতিবন্ধকতা ছাড়া সর্বত্র গমনশীল, সকলকে আকর্ষণকারী, সকলকে বিচ্ছিন্ন করতে সক্ষম, সমস্ত অক্ষররূপ পদার্থ নিয়ন্ত্রণ ও সংগঠিতকারী এবং সৃষ্টির সর্বাধিক সূক্ষ্ম আলো উৎপন্নকারী হয়। এভাবে এই দুটি বর্ণের গুণ কালতত্ত্বের সমতুল্য হিসেবে প্রতীয়মান হয়। ফলে ওম্ রাশ্মিই কালতত্ত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
ভাবার্থ – সৃষ্টির কোনও কাজ ব্রহ্মের মধ্যে সেই কাজ করার ইচ্ছা ও জ্ঞান থেকে শুরু হয়। এরপর ব্রহ্ম দ্বারা কালতত্ত্বকে প্ররোচিত করা হয়। এরপরে ব্রহ্ম থেকে শক্তি প্রাপ্ত সেই কালতত্ত্ব সমস্ত অব্যক্ত এবং সম্পূর্ণ নি:স্রিয় অক্ষর উপাদানকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে শক্তি ও গতি প্রদান করে। এর থেকে ক্রমান্বয়ে সূক্ষ্মতম রাশ্মি থেকে বড় বড় ছন্দ রাশ্মি উৎপন্ন হতে থাকে। এরপরে সেই রাশ্মি থেকে পঞ্চমহাভূতাদি সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন লোক এবং স্থাবর-জঙ্গম পদার্থের সৃষ্টিও ঘটে। ওম্ অক্ষর পরমাত্মার সবচেয়ে নিকটে থাকে, অর্থাৎ ব্রহ্ম শুধুমাত্র এটিকেই শক্তিশালী করে এবং এর মাধ্যমে সকল আগ্রিম প্রক্রিয়াকে পরিচালনা করে। ওম্ অক্ষর সর্বব্যাপক, সকলের আশ্রয়দাতা এবং নিয়ন্ত্রক। এটিকে ব্রাহ্মী ব্যাহৃতিও বলা হয়, কারণ এটি ব্রহ্মের শক্তি দ্বারা অন্যান্য সমস্ত পদার্থকে হরণ বা নিয়ন্ত্রণ করে। প্রলয়কালে ব্রহ্ম এর অব্যক্ত অবস্থায়ও এটিকে প্রতিষ্ঠিত রাখেন। সৃষ্টির অবস্থায় ওম্ অক্ষরের বিভিন্ন বর্ণের প্রভাবে পদার্থ জগতে নানারকম গুণের উৎপত্তি ঘটে। এই গুণের উৎপত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভাষ্যই পাঠযোগ্য।
No comments:
Post a Comment
ধন্যবাদ