স্বদেশী চিকিৎসা - ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান, ধর্ম গ্রন্থ কি , হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়, ইসলাম খ্রীষ্ট মত বিষয়ে তত্ত্ব ও সনাতন ধর্ম নিয়ে আলোচনা

धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते-Theology

সাম্প্রতিক প্রবন্ধ

Post Top Ad

স্বাগতম

20 September, 2025

স্বদেশী চিকিৎসা

স্বদেশী চিকিৎসা
:

🌿 স্বদেশী চিকিৎসা = সুস্থ জীবন 🌿

আয়ুর্বেদ বলে — শুধু দীর্ঘায়ু নয়, সুস্থ থেকে দীর্ঘ জীবনই আসল ধর্ম। অসুস্থ দেহ নিয়ে ধন, সুখ বা ধর্ম কিছুই অর্জন করা যায় না।

👉 আজকের বাস্তবতা:

  • ভারতের ৮৫% মানুষ কোনো না কোনো রোগে ভুগছে।

  • ডাক্তার কম, রোগী বেশি। সবার চিকিৎসা পাওয়া প্রায় অসম্ভব।

  • খাবার ভেজাল, বাতাস দূষিত, জীবন ভরা দুশ্চিন্তা।

তাহলে প্রশ্ন — আমরা কি সুস্থ থাকতে পারি?
✅ উত্তর: হ্যাঁ।
দীর্ঘস্থায়ী ও কঠিন রোগও নিরাময় সম্ভব।

২০০৭ সালে রাজীব ভাই “স্বদেশী চিকিৎসা”র ধারণা দেন—
যেখানে ডাক্তার, দামী হাসপাতাল বা ওষুধ ছাড়াই মানুষ নিজে নিজে সুস্থ হতে পারে।
👉 এটি সস্তা, কার্যকর ও একেবারেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন।

স্বদেশী চিকিৎসার পরিচয়

ভারতে যে শাস্ত্রের সাহায্যে রোগমুক্ত হয়ে জীবন যাপন করার জ্ঞান পাওয়া যায়, তাকে আয়ুর্বেদ বলা হয়। আয়ুর্বেদে রোগমুক্ত জীবন যাপন করাকেই ধর্ম হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। অসুস্থ থেকে দীর্ঘায়ু লাভ করা বা সুস্থ থেকে স্বল্প আয়ু লাভ করা—দুটোই আয়ুর্বেদে গ্রহণযোগ্য নয়। তাই যেসব মানুষ সুস্থ থেকে দীর্ঘ জীবন যাপন করতে চান, তাদের সকলেরই জীবনে আয়ুর্বেদের জ্ঞান গ্রহণ করা উচিত। সুস্থ জীবন ছাড়া ধন, সুখ বা ধর্মের প্রাপ্তি সম্ভব নয়। অসুস্থ ব্যক্তি কোনোভাবেই সুখ লাভ করতে পারে না। অসুস্থ ব্যক্তি কোনো কাজ করে সঠিকভাবে অর্থ উপার্জনও করতে পারে না। আমাদের সুস্থ দেহই সব ধরনের জ্ঞান লাভ করতে সক্ষম করে। শরীর নষ্ট হয়ে গেলে সংসারের সব কিছুই মূল্যহীন হয়ে যায়। কিন্তু যদি সুস্থ দেহ থাকে, তবে সব ধরনের সুখ-আনন্দ উপভোগ করা যায়।

বিশ্বে আয়ুর্বেদই একমাত্র শাস্ত্র বা চিকিৎসা পদ্ধতি যা মানুষকে সুস্থ জীবনের নিশ্চয়তা দেয়। অন্য সব চিকিৎসা পদ্ধতিতে আগে অসুস্থ হতে হয়, তারপর চিকিৎসা হয়, কিন্তু কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয় না। আয়ুর্বেদ একটি চিরন্তন ও ধারাবাহিক শাস্ত্র। এর উৎপত্তি সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মাজীর দ্বারা হয়েছে বলে বলা হয়। ব্রহ্মাজী এই জ্ঞান দক্ষ প্রজাপতিকে দিয়েছিলেন। দক্ষ প্রজাপতি এই জ্ঞান অশ্বিনী কুমারদের দিলেন। তারপর এই জ্ঞান দেবরাজ ইন্দ্রের কাছে পৌঁছায়। দেবরাজ ইন্দ্র এই জ্ঞান ঋষি-মুনিদের যেমন আত্রেয়, পুনর্বসু প্রমুখকে দেন। এরপর এই জ্ঞান পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। এই জ্ঞানকে পৃথিবীতে বিস্তার করার জন্য বহু মহান ঋষি ও বৈদ্য জন্মেছেন। যেমন—ঋষি চরক, ঋষি সুশ্রুত, আত্রেয় ঋষি, পুনর্বসু ঋষি, কাশ্যপ ঋষি প্রমুখ। এ ধারাবাহিকতায় আরেকজন মহান ঋষি হলেন ঋষি বাগভট্ট, যিনি আয়ুর্বেদের জ্ঞান মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে “অষ্টাঙ্গ হৃদয়ম্‌” নামক শাস্ত্র রচনা করেছিলেন।

এই অষ্টাঙ্গ হৃদয়ম্‌ শাস্ত্রে প্রায় ৭০০০ শ্লোক রয়েছে। এসব শ্লোক মানুষের জীবনকে সম্পূর্ণভাবে রোগমুক্ত করার জন্য রচিত। উপস্থাপিত গ্রন্থে কিছু শ্লোক হিন্দি অনুবাদসহ দেওয়া হয়েছে। যাতে সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন জীবনে এগুলোর সর্বাধিক ব্যবহার করতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে সহজ ভাষায় বিশ্লেষণ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

ভারতের জনসংখ্যা ৭২৭ কোটি, এর মধ্যে প্রায় ৮৫% মানুষ শারীরিক/মানসিকভাবে অসুস্থ। অর্থাৎ প্রায় ৪০৫ কোটি মানুষ অসুস্থ। ২৯ নভেম্বর ২০১-এর ভারত সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতে ডাক্তার ও সাধারণ মানুষের অনুপাত ১:২০০০ এবং ডাক্তার ও অসুস্থ মানুষের অনুপাত ১:৬০০। এক দিনে একজন ডাক্তার সর্বাধিক ৫০ জন রোগীকে চিকিৎসা দিতে পারেন। তাই যতক্ষণ না ভারতের প্রতিটি ডাক্তার প্রতিদিন ৪৬০০ রোগীকে চিকিৎসা দেন, ততক্ষণ ভারতে প্রতিটি রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়। আর অর্জুন সেনগুপ্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের প্রায় ৮০% মানুষের দৈনিক আয় মাত্র ২০ টাকা। এত অল্প আয় দিয়ে কোনো ভালো সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানো একেবারেই অসম্ভব।

‘রাজীব ভাই’ এই বাস্তবতাকে উপলব্ধি করেছিলেন যে, যতক্ষণ না ভারতের প্রতিটি মানুষ নিজের রোগ নিজেই সারাতে পারবে, ততক্ষণ ভারতের রোগীর সংখ্যা কমবে না। এ প্রেক্ষিতে ২০০৭ সালে রাজীব ভাই চেন্নাইয়ে সাত দিনের চিকিৎসা বিষয়ক বক্তৃতা দেন। এই বক্তৃতার উদ্দেশ্য ছিল—প্রতিটি মানুষ যেন ডাক্তার ছাড়াই এবং অ্যালোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথি বা আয়ুর্বেদের ওষুধ ছাড়াই নিজের রোগ নিজে সারাতে পারে। এই পদ্ধতিকে তিনি স্বদেশী চিকিৎসা নাম দিয়েছিলেন, যার মধ্যে রাজীব ভাই এমন একটি বিকল্প প্রস্তাব করেছিলেন যা সস্তা, কার্যকর এবং কোনো প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই স্থায়ীভাবে রোগ সারায়।

আজ আমরা যে সময়ে বেঁচে আছি, তা হয়তো ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ সময়। আমরা যে খাদ্যশস্য, ডাল, সবজি, ফল ইত্যাদি খাচ্ছি সেগুলো বিষাক্ত; দুধ, ঘি, তেল, মসলা সবই ভেজাল; কিছু ওষুধ নকল; যে বাতাস আমরা শ্বাস নিচ্ছি তা দূষিত; জীবন ভরা দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ। অন্যদিকে দ্রব্যমূল্য এত বেড়ে গেছে যে, যেখানে দু’মুঠো অন্ন জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়েছে, সেখানে অসুস্থ হলে ডাক্তার ফি, পরীক্ষা আর ওষুধের খরচ জোগাড় করাও প্রায় অসম্ভব।

তাহলে এমন পরিবেশে আমরা কি সুস্থ থাকতে পারি? উত্তর—হ্যাঁ। আর যদি আমাদের কোনো দীর্ঘস্থায়ী ও অসাধ্য রোগ হয়ে যায়, তাও কি সারানো সম্ভব? উত্তর—হ্যাঁ। তাই রোগমুক্তির জন্য একটি সস্তা, কার্যকর এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন বিকল্প বের করা খুব জরুরি ছিল, যাতে অসাধ্য ও দীর্ঘস্থায়ী রোগ থেকেও স্থায়ীভাবে মুক্তি পাওয়া যায়।

রোগ দু’ধরনের হয় –

১. যে রোগগুলোর উৎপত্তি জীবাণু, ব্যাকটেরিয়া, প্যাথোজেন, ভাইরাস বা ফাঙ্গাস দ্বারা হয়।
উদাহরণ: যক্ষ্মা (TB), টাইফয়েড, টিটেনাস, ম্যালেরিয়া, নিউমোনিয়া ইত্যাদি।
👉 এসব রোগের কারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেই সহজে ধরা যায়।

২. যে রোগগুলোর উৎপত্তি কখনো কোনো জীবাণু, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাঙ্গাস ইত্যাদির কারণে হয় না।
উদাহরণ: অম্লপিত্ত, হাঁপানি, বাত, গেঁটে ব্যথা, ক্যান্সার, কোষ্ঠকাঠিন্য, পাইলস, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, মাইগ্রেন, মাথা ব্যথা, প্রোস্টেটের সমস্যা ইত্যাদি।
👉 এসব রোগের আসল কারণ ধরা যায় না।


বিমারির মূল কারণ কী?

যখন শরীরে বাত, পিত্ত আর কফের স্বাভাবিক ভারসাম্য থাকে, তখন আমরা অসুস্থ হই না। এই ভারসাম্য নষ্ট হলে অসুখ হয়, আর বেশি নষ্ট হলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

এর কারণগুলো হলো—

  • প্রকৃতির নিয়ম মেনে খাবার ও পানি না খাওয়া।
    👉 এর ফলে ৮০ রকম বাতের রোগ, ৪০ রকম পিত্তের রোগ, ২০ রকম কফের রোগ হয়।

  • খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা/ঋতুচক্র না মানা।

  • বিপরীত খাবার (বিরুদ্ধ আহার) খাওয়া।

  • রিফাইন্ড তেল, লবণ, চিনি, ময়দা খাওয়া।

  • ভেজাল দুধ, ঘি, মসলা, তেল ইত্যাদি খাওয়া।

  • বিষাক্ত সার, কীটনাশক, রাসায়নিকযুক্ত শস্য, ডাল, ফল, সবজি খাওয়া।

  • প্রাকৃতিক বেগ (ক্ষুধা, পিপাসা, মলমূত্র) দমন করা।

  • রাগ, অহংকার, হিংসা ইত্যাদি বিকারকে বাড়তে দেওয়া।


সঠিক খাওয়ার সময়

🔸 ২৪ ঘন্টায় প্রাকৃতিক ক্ষুধা লাগে মাত্র ২ বার:

  • সূর্যোদয়ের ২ ঘণ্টার মধ্যে

  • আরেকবার সূর্যাস্তের আগে।

👉 তাই খাবার সকাল ৭-৯টার মধ্যে এবং সূর্যাস্তের আগে খাওয়া উচিত।


উপবাসের গুরুত্ব

আমাদের পূর্বপুরুষরা জানতেন—উপবাস করলে শরীর নিজে থেকে পরিষ্কার হতে শুরু করে।
উপবাসে শরীরের তাপমাত্রা ২-৩° কমে যায়, ফলে জীবাণুর বৃদ্ধি বন্ধ হয়।


শরীরের তিন ধাপ

  • জন্ম থেকে ৪ বছর: কফ প্রধান → বেশি ক্ষুধা লাগে, বেশি ঘুম আসে।

  • ৪৪-৫০ বছর: পিত্ত প্রধান → পেট ও বুকের মাঝামাঝি কাজ সক্রিয়।

  • ৫০ বছরের পর: বাত প্রধান → পেটের নিচ থেকে পা পর্যন্ত।


খাবার চিবানো জরুরি

দাঁত হলো প্রথম চাকি → ৮০% খাবার গুঁড়ো করে।
পেটের ফান্ডাস অংশ → মাত্র ২০% গুঁড়ো করতে পারে।
👉 ভালো করে না চিবোলে খাবার অপচন হয়, ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যসহ অনেক রোগ হয়।


রান্নার বৈজ্ঞানিক নিয়ম

  • সূর্যের আলো ও বাতাস না পেলে রান্না করা খাবার বিষের মতো।

  • প্রেসার কুকারে রান্না করলে প্রোটিনের ৮৭% নষ্ট হয়।

  • মাটির হাঁড়িতে রান্না করলে ১০০% প্রোটিন বেঁচে যায়।

  • কাঁসার হাঁড়িতে কিছু প্রোটিন নষ্ট হয়।

  • অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়িতে রান্না সবচেয়ে ক্ষতিকর → পারকিনসন্স, আলঝেইমার ইত্যাদি রোগ বাড়ায়।


পানি খাওয়ার সঠিক নিয়ম

  • ভোরে ঘুম থেকে উঠে প্রস্রাব করার পর মুখ না ধুয়ে পানি খাও।

  • খাবারের ১.৫–২ ঘণ্টা পরেই পানি খাও।

  • ঠান্ডা পানি নয়, সবসময় হালকা গরম পানি খাও।

  • দাঁড়িয়ে পানি খেও না, বসে খাও আর চুমুক দিয়ে খাও।


প্রাকৃতিক ১৪ বেগ দমন কোরো না

হাসি, কান্না, হাঁচি, ডেকুর, হাই, মল, প্রস্রাব, ক্ষুধা, পিপাসা ইত্যাদি।
👉 এগুলো দমন করলে নানা রোগ হয়।


কোন খাবার বাদ দিতে হবে?

  • ❌ রিফাইন্ড লবণ (এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ, নপুংসকতা, যৌনশক্তি হ্রাস হয়)।
    ✅ কাঁচা লবণ বা সেঁধে লবণ খাও।

  • ❌ চিনি (রক্ত ঘন করে, কোলেস্টেরল বাড়ায়, পাচন নষ্ট করে)।

  • ❌ রিফাইন্ড তেল (সব প্রোটিন নষ্ট করে, শরীরে বিষ ঢোকে)।
    ✅ ঘানির তেল বা খাঁটি তেল খাও।

  • ❌ ময়দা (পিজ্জা, বার্গার, বিস্কুট, ডাবল রুটি ইত্যাদি)।
    👉 এগুলো অন্ত্রে গিয়ে আটকে যায়, মারাত্মক ক্ষতি করে।


✍️ সংক্ষেপে: প্রকৃতির নিয়ম মেনে জীবনযাপন করলেই ৮০% রোগ এড়ানো যায়
সুস্থ শরীরই আসল সম্পদ। 🌿

সুস্থ থাকার মূলমন্ত্র 🌿

জীবনধারা ও খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলেই বহু রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ঘরোয়া জিনিসপত্র ব্যবহার করলে শরীর শুধু সুস্থ থাকবে না, বরং চিকিৎসার খরচও বাঁচবে।


খাবার ও জীবনধারার নিয়মাবলী

  • ফলের রস, অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার, মাখন-দই বা টক জাতীয় খাবার রাতে খাওয়া উচিত নয়।

  • ঘি বা তেলযুক্ত খাবারের পরপরই পানি পান করবেন না। অন্তত এক-দেড় ঘণ্টা পরে পানি খাবেন।

  • খাওয়ার পরপরই দ্রুত হাঁটা বা দৌড়ানো ক্ষতিকর। কিছুক্ষণ বিশ্রাম করে তবে চলাফেরা করা ভালো।

  • সন্ধ্যায় খাবারের পর বিশুদ্ধ বাতাসে হাঁটাহাঁটি করুন। খাবার শেষে সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়লে হজমের গোলযোগ হয়।

  • সকালে তাড়াতাড়ি উঠে খোলা বাতাসে ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করা উচিত।

  • প্রচণ্ড রোদে চলাফেরা, শরীরের অতিরিক্ত পরিশ্রম বা টয়লেটের পরপরই পানি খাবেন না।

  • মধু ও ঘি সমান পরিমাণে মিশিয়ে কখনো খাবেন না, এটি বিষের মতো ক্ষতিকর।

  • বিপরীতধর্মী খাবার একসঙ্গে খাবেন না, যেমন দুধের সঙ্গে কাঁঠাল, দুধ ও দই, মাছ ও দুধ ইত্যাদি।

  • মাথায় কাপড় বেঁধে বা মোজা পরে ঘুমানো উচিত নয়।

  • অতিরিক্ত উজ্জ্বল বা খুব কম আলোয় পড়া, দীর্ঘক্ষণ টিভি/সিনেমা দেখা, অতিরিক্ত মশলাযুক্ত বা গরম-ঠান্ডা খাবার একসঙ্গে খাওয়া এড়িয়ে চলুন।

  • রোগীকে সবসময় গরম বা হালকা গরম পানি খাওয়ানো উচিত, ঠান্ডা বাতাস, পরিশ্রম ও রাগ থেকে দূরে রাখা দরকার।

  • কানে ব্যথা হলে পাতা থেকে রস বের করে সূর্যোদয়ের আগে বা সূর্যাস্তের পর কানে দিন।


আয়ুর্বেদের মতে:

  • নিদ্রা পিত্তকে শান্ত করে 💤

  • মালিশ বাতকে কমায় 💆‍♂️

  • বমি কফ কমায় 🤢

  • উপবাস জ্বর কমায় 🌿


🔥 বিশেষ সতর্কতা

  • আগুন বা কোনো গরম জিনিসে পুড়ে গেলে ক্ষতস্থান ঠান্ডা পানিতে ডুবিয়ে রাখুন।

  • রোগীদের তেল-ঘি বা অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ানো উচিত নয়।

  • হজম শক্তি কম থাকলে ওষুধ সবসময় খাবারের পরে নিন।

  • কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে জোর করে পায়খানা করাতে হলে সকালে করুন, রাতে নয়।

  • মৃগী রোগীকে বমি বা জোর করে পায়খানা করানো যাবে না।


ত্রিদোষ তত্ত্ব (বাত-পিত্ত-কফ)

🩸 পিত্তজনিত রোগের লক্ষণ

  • গ্যাস, টক ঢেঁকুর, অম্বল, আলসার

  • প্রস্রাবে জ্বালা, পাথর, অকাল পতন, শুক্রাণু কমে যাওয়া, বন্ধ্যাত্ব

  • রক্তস্রাব, সাদা স্রাব, গর্ভাশয়/ডিম্বাশয়ে ক্ষত

  • চুলকানি, অ্যালার্জি, ডায়াবেটিস থেকে দুর্বলতা, পিত্তজ্বর ইত্যাদি।

🦴 বাতজনিত রোগের লক্ষণ

  • ঘাড়, হাঁটু, কোমর, জয়েন্টে ব্যথা

  • স্নায়ুজনিত সমস্যা, পক্ষাঘাত, হাত-পা কাঁপা

  • দুর্বলতা, খিঁচুনি, মাথা ঘোরা

  • যৌন দুর্বলতা, স্মৃতিভ্রংশ, বার্ধক্যজনিত রোগ।

😷 কফজনিত রোগের লক্ষণ

  • বারবার সর্দি-কাশি, অ্যালার্জি, টনসিল, হাঁপানি

  • বুক ধড়ফড়, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি

  • স্থূলতা, মুখে দুর্গন্ধ, থাইরয়েড, ব্লাড প্রেসার

  • প্রস্রাবের সমস্যা, কিডনির ব্যথা ও ফোলা

  • বন্ধ্যাত্ব, গোপনাঙ্গে চুলকানি, ক্যানসার পর্যন্ত।


👉 সুস্থ থাকতে চাইলে আয়ুর্বেদের নিয়ম মেনে চলুন।
ভুল খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা বদলান – স্বাস্থ্য হবে আপনার হাতে! 🌿💪

দৈনন্দিন জীবনচর্চা

  • রাতে অবশ্যই দাঁত মেজে ঘুমাতে হবে। সকালে উঠে কুলি না করে, বসে বসে অল্প অল্প করে কুসুম গরম জল পান করতে হবে। শুরুতে এক–দুই গ্লাস জল থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে বাড়িয়ে দেড় লিটার পর্যন্ত নেওয়া উচিত।

  • "ভোজনান্তে বিষমবারি" — অর্থাৎ ভোজনের শেষে জল পান করা বিষ খাওয়ার সমান। তাই খাবার খাওয়ার আধঘণ্টা আগে এবং খাবারের দেড় ঘণ্টা পর পর্যন্ত জল পান করা উচিত নয়। তবে দেড় ঘণ্টা পর অবশ্যই জল খেতে হবে।

  • জলের বিকল্প হিসেবে:

    • সকালে খাবারের পরে মৌসুমি ফলের টাটকা রস খাওয়া যেতে পারে।

    • দুপুরের খাবারের পরে ছাছ (বাটার মিল্ক), আর যদি হৃদরোগী না হন তবে দইয়ের লস্যিও খাওয়া যেতে পারে।

    • সন্ধ্যার খাবারের পরে গরম দুধ খাওয়া উচিত।

    • খেয়াল রাখতে হবে, এই ক্রম কখনো এলোমেলো করা যাবে না।

  • জল যখনই পান করবেন বসে বসে অল্প অল্প করে খেতে হবে। ফ্রিজের জল কখনোই খাওয়া উচিত নয়। গরমের দিনে মাটির ঘটির জল সবচেয়ে ভালো।

  • সকালবেলা সূর্যোদয়ের দুই–তিন ঘণ্টার মধ্যে খাবার খেয়ে নিতে হবে। আপনার শহরে সূর্যোদয়ের সময় দেখে নিয়ে সেই অনুযায়ী সকালের খাবারের সময় ঠিক করুন। সকালের খাবার পেট ভরে খেতে হবে এবং যা খেতে সবচেয়ে ভালো লাগে তাই খাওয়া উচিত।

  • দুপুরের খাবার সকালের খাবারের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ কম খেতে হবে। যেমন, সকালে যদি তিনটি রুটি খান তবে দুপুরে দুটো খাবেন। দুপুরের খাবারের পরে সঙ্গে সঙ্গে বাম কাতে শুয়ে পড়তে হবে, ইচ্ছে হলে একটু ঘুমাতেও পারেন। তবে অন্তত ২০ মিনিট এবং সর্বোচ্চ ৪০ মিনিট। ৪০ মিনিটের বেশি নয়।

  • অপরপক্ষে, সন্ধ্যায় খাবারের পরে কখনোই সঙ্গে সঙ্গে শোয়া যাবে না। অন্তত ৫০০ পা হেঁটে আসতে হবে। সম্ভব হলে সূর্যাস্তের আগেই রাতের খাবার খেয়ে নেওয়া ভালো।

  • রান্নায় ফ্রিজ, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, প্রেসার কুকার এবং অ্যালুমিনিয়ামের বাসন ব্যবহার করা উচিত নয়।

  • খাবারে কখনো রিফাইনড তেল ব্যবহার করবেন না। আপনার অঞ্চলে যে তেলবীজ বেশি জন্মে সেই তেলের খাঁটি ঘানি-তেল ব্যবহার করুন—যেমন সরিষা, চিনাবাদাম বা নারকেল।

  • খাবারে সবসময় সাদা (সেন্ধা) লবণ ব্যবহার করতে হবে, আয়োডিনযুক্ত লবণ নয়। চিনি বদলে গুড়, শর্করা, দেশি খাঁড় বা সুতার মতো মিছরি ব্যবহার করতে হবে।

  • কোনো নেশা করবেন না। চা, কফি, মাংস, ময়দা এবং বেকারি জাতীয় খাদ্য এড়িয়ে চলুন।

  • রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত মাজার পরে হলুদের দুধ খেতে হবে।

  • ঘুমানোর সময় মাথা পূর্ব দিকে এবং দাম্পত্য সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার সময় মাথা দক্ষিণ দিকে রাখতে হবে।


গোরস / গৌঘৃত (দেশি গরুর দুধ–ঘি) এর ব্যবহার

যদি আমরা গোরস (দেশি গরুর দুধ ও ঘি) এর গুণগান করতে করতে মরে যাই, তবুও পাশ্চাত্য সভ্যতায় বিশ্বাসীরা আমাদের কথা বিশ্বাস করবে না। তারা আমাদেরকে সবসময় পিছিয়ে পড়া, সাম্প্রদায়িক ও গেঁয়ো ভাবে।

কিন্তু পশ্চিমারা যেটা বলবে সেটাকেই তারা সত্যি মনে করে। এজন্য রাশিয়ান বিজ্ঞানী শিরোভিচ–এর গবেষণার ফল তুলে ধরা হচ্ছে—

  • দেশি গরুর ঘি ও চালের আহুতি (হোমে আহুতি দেওয়া হলে) থেকে গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস উৎপন্ন হয়—যেমন ইথিলিন অক্সাইড, প্রোপিলিন অক্সাইড, ফরমালডিহাইড ইত্যাদি।

  • এর মধ্যে ইথিলিন অক্সাইড গ্যাস আজকাল সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় জীবাণুনাশক হিসেবে—শল্য চিকিৎসা থেকে শুরু করে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ তৈরিতে পর্যন্ত এর প্রয়োগ আছে।

  • প্রোপিলিন অক্সাইড গ্যাসকে বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম বৃষ্টির জন্য অন্যতম প্রধান উপাদান মনে করেন।

গৌঘৃত ও তার আশ্চর্য উপকারিতা

মানুষের শরীরে পৌঁছানো রেডিও-অ্যাক্টিভ রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব দূর করার অসীম ক্ষমতা রয়েছে গৌঘৃতের। আগুনে গরুর ঘি আहुতি (হোম) দিলে তার ধোঁয়া যতদূর ছড়িয়ে পড়ে, সেই অঞ্চলের সমস্ত পরিবেশ দূষণ ও পারমাণবিক বিকিরণ থেকে মুক্ত হয়ে যায়।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো—
👉 এক চামচ গৌঘৃত আগুনে দিলে এক টন প্রাণবায়ু (অক্সিজেন) তৈরি হয়, যা অন্য কোনো উপায়ে সম্ভব নয়।

দেশি গরুর ঘিকে রসায়ন বলা হয়, যা যৌবন ধরে রাখে এবং বার্ধক্য দূর করে। বিশেষত কালো গরুর ঘি খেলে বৃদ্ধ মানুষও তরুণের মতো শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

গরুর ঘিতে সোনার ছাই (স্বর্ণ ছার) থাকে, যেখানে আশ্চর্যজনক ঔষধি গুণ আছে। এ গুণ অন্য কোনো প্রাণীর ঘিতে পাওয়া যায় না।

এতে ভ্যাকসিন অ্যাসিড, বিউটারিক অ্যাসিড, বিটা-ক্যারোটিন প্রভৃতি মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট থাকে। নিয়মিত গ্রহণ করলে ক্যানসারের মতো ভয়াবহ রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

শরীরে এ উপাদানগুলো ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদানের বিরুদ্ধে লড়াই করে।

👉 মাত্র ৪০ গ্রাম গৌঘৃত দিয়ে হোম/যজ্ঞ করলে পরিবেশে প্রায় ১ টন টাটকা অক্সিজেন তৈরি হয়।

এই কারণেই মন্দিরে গরুর ঘির প্রদীপ জ্বালানো হয় এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যজ্ঞ করার প্রথা আছে। এতে পরিবেশে ছড়িয়ে থাকা পারমাণবিক বিকিরণ দূর হয়।


গরুর ঘির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার

  • মাসিক সমস্যা: মাসিক চলাকালে ২৫০ গ্রাম গরম জলে (ঘি গলানো থাকলে ৩ চামচ, জমাট থাকলে ১ চামচ) গরুর ঘি মিশিয়ে খেলে উপকার মেলে।

  • নাকে ঘি দেওয়া:

    • অ্যালার্জি দূর হয়।

    • কানের পর্দা ছিদ্র হলে অপারেশন ছাড়াই ঠিক হতে পারে।

    • নাকের শুষ্কতা দূর হয়, মস্তিষ্ক সতেজ থাকে।

    • মানসিক শান্তি আসে, স্মৃতিশক্তি বাড়ে।

    • মাইগ্রেনের ব্যথা সারে।

    • সর্দি-কাশি বা হাঁচি হলে গরম ঘি ২ ফোঁটা করে দুই নাসায় দিয়ে ঘুমালে উপকার হয়।

    • খিঁচুনি, উন্মাদনা, অ্যালার্জি ও পক্ষাঘাত নিরাময়ে সহায়ক।

    • নাক দিয়ে জল পড়া, হাড় বেড়ে যাওয়া বা ঘোরে শব্দ হওয়া কমে যায়।

    • চুল পড়া বন্ধ হয় এবং নতুন চুল গজায়।

  • গর্ভবতী মায়েদের জন্য: নিয়মিত গরুর ঘি খেলে গর্ভস্থ সন্তান সবল, সুস্থ ও বুদ্ধিমান হয়।

  • হৃদরোগে উপকারী: হৃদযন্ত্রে ব্লকেজ থাকলেও গরুর ঘি খেলে আরোগ্য লাভ হয়।

  • হাত-পায়ের জ্বালা: পায়ের পাতায় ঘি মালিশ করলে জ্বালা কমে যায়।

  • হেঁচকি বন্ধে: আধা চামচ গরুর ঘি খেলে হেঁচকি থেমে যায়।

  • অম্লতা ও কোষ্ঠকাঠিন্য: নিয়মিত খেলে এসব সমস্যা কমে।

  • শারীরিক ও মানসিক শক্তি: বল, বীর্য ও শক্তি বৃদ্ধি পায়।

  • শিশুর যত্নে: পুরনো ঘি দিয়ে শিশুদের বুক ও পিঠে মালিশ করলে কফ দূর হয়।

  • অতিরিক্ত দুর্বলতা দূর করতে: এক গ্লাস দুধে এক চামচ ঘি ও মিশ্রি মিশিয়ে খেলে শরীর চাঙ্গা হয়।

  • ঘুমের উন্নতি: নাকে ঘি দিলে ভালো ঘুম হয়, নাকডাকা কমে।

  • ক্যানসার প্রতিরোধে: স্তন ও অন্ত্রের মারাত্মক ক্যানসার প্রতিরোধে গরুর ঘির ভূমিকা আশ্চর্যজনক।

  • সহবাসের পরে দুর্বলতা দূর করতে: এক গ্লাস গরম দুধে এক চামচ ঘি মিশিয়ে খেলে তৎক্ষণাৎ শক্তি ফিরে আসে।

  • ফুসফুস ও কফে উপকারী: বুকে ঘি লাগালে আরাম হয়। শিশুদের বুকে ঘি মালিশ করলে জমে থাকা কফ বেরিয়ে আসে।

সাপের কামড়ে গরুর ঘি ও গোমূত্রের আশ্চর্য উপকারিতা

  • সাপের কামড় হলে ৪০০–৫০ গ্রাম ঘি খাওয়াতে হবে এবং তার উপর যতটা গরম জল খাওয়ানো যায় খাওয়াতে হবে। এতে বমি ও পায়খানা হবে, কিন্তু সাপের বিষ অনেকটাই নেমে যাবে।

  • প্রতিদিন সকালে ও রাতে দেশি গরুর ঘির ২ ফোঁটা নাকে দিলে মাইগ্রেনের ব্যথা সেরে যায়।

  • মাথাব্যথার সঙ্গে শরীরে উত্তাপ লাগলে, গরুর ঘি পায়ের পাতায় মালিশ করলে মাথাব্যথা দূর হয়।

👉 মনে রাখবেন, গরুর ঘি খেলে কোলেস্টেরল বাড়ে না। শরীরের ওজনও বেড়ে যায় না, বরং ওজনকে সুষম রাখে। অর্থাৎ দুর্বল মানুষের ওজন বাড়ায় আর মোটা মানুষের ওজন কমায়।

  • এক চামচ শুদ্ধ গরুর ঘি, এক চামচ বুরা চিনি এবং ৭ চামচ গুঁড়ো কালো মরিচ একসঙ্গে মিশিয়ে সকালে খালি পেটে ও রাতে শোয়ার আগে খেয়ে তার উপর দিয়ে গরম মিষ্টি দুধ পান করলে চোখের দৃষ্টি বাড়ে।

  • গরুর ঘি ঠান্ডা জলে বারবার (প্রায় ১০০ বার) ফেটতে হবে এবং জল থেকে ঘি আলাদা করতে হবে। তারপর সামান্য কর্পূর মিশিয়ে নিতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় তৈরি ঘি এক চমৎকার মলমে পরিণত হয়, যা সবধরনের ত্বকের রোগে কার্যকরী। এমনকি সোরিয়াসিস রোগেও এটি দারুণ কাজ করে।

👉 গরুর ঘি এক উৎকৃষ্ট Good Cholesterol। যাদের কোলেস্টেরল বেশি, তাদের গরুর ঘিই খাওয়া উচিত। এটি একটি অসাধারণ টনিকও বটে। দিনে তিনবার নাকে কয়েক ফোঁটা গরুর ঘি দিলে এটি ত্রিদোষ (বাত, পিত্ত, কফ) সমন্বয় করে।

  • ঘি, খোসাসহ গুঁড়ো কালো ছোলা ও বুরা চিনি তিনটিকে সমান পরিমাণে মিশিয়ে লাড্ডু তৈরি করে নিন। সকালে খালি পেটে একটি লাড্ডু ভালোভাবে চিবিয়ে খেয়ে তার উপর দিয়ে এক গ্লাস কুসুম গরম দুধ আস্তে আস্তে পান করলে মহিলাদের প্রদর রোগ সেরে যায়, পুরুষদের দেহ সবল, সুগঠিত ও শক্তিশালী হয়।


গোমূত্র-ঘৃত-দুগ্ধের গুণ

  • গোমূত্র বলতে দেশি গরুর (জার্সি নয়) মূত্রকে বোঝানো হয়, যা আট স্তরের কাপড়ে ছেঁকে নিতে হয়।

  • গোমূত্র একাই বাত ও কফ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। পিত্ত রোগের জন্য এতে কিছু ভেষজ মেশানো হয়।

  • প্রতিদিন সকালে আধা কাপ দেশি গরুর গোমূত্র খেলে হাঁপানি, ব্রংকিয়াল অ্যাজমা সেরে যায়। এমনকি দীর্ঘদিন নিয়মিত খেলে টিবি রোগও ভালো হয়।

  • গোমূত্রে প্রচুর সালফার ও ক্যালসিয়াম থাকে। ফলে হাঁটুর ব্যথা, কাশি, সর্দি, টিবি ইত্যাদি রোগ ভালো হয়ে যায়।

  • টিবির জন্য দেওয়া DOTS চিকিৎসার সঙ্গে গোমূত্র খেলে তার প্রভাব ২০–৪০ গুণ বেড়ে যায়।

  • শরীরে একটি বিশেষ রাসায়নিকের অভাবে ক্যানসার হয়। গোমূত্র ও হলুদে সেই রাসায়নিক প্রচুর থাকে।

👉 চোখের অনেক রোগ কফ থেকে হয়। যেমন— গ্লুকোমা, ছানি ইত্যাদি। এগুলো এলোপ্যাথিতে নিরাময় অযোগ্য হলেও গোমূত্রে চোখে ফোঁটা দিলে মূল থেকে সারতে পারে।


গোমূত্রের অন্যান্য ব্যবহার

  • চুল পড়া: তামার পাত্রে গরুর দুধ থেকে তৈরি দই ৫–৬ দিন রেখে দিলে রঙ পাল্টাবে। সেটি মাথায় মেখে আধা ঘণ্টা রাখলে চুল পড়া বন্ধ হয় ও নতুন চুল গজায়। সপ্তাহে ৪ বার ব্যবহার করা যায়।

  • গরুর মূত্র মিশ্রিত জলে চুল ধুলে আশ্চর্যজনক কন্ডিশনিং হয়।

  • ছোট বাচ্চারা যদি বারবার ঠান্ডা–কাশিতে ভোগে, তবে আধা চামচ গোমূত্র খাওয়ালে কফ পরিষ্কার হয়ে যাবে।

  • কিডনি ও প্রস্রাবের সমস্যা: প্রস্রাব আটকে আসা, রক্তসহ আসা ইত্যাদি ক্ষেত্রে সকালে আধা কাপ (৫০ মি.লি.) গোমূত্র খেলে উপকার হয়।

  • কোষ্ঠকাঠিন্য: কয়েকদিন গোমূত্র খেলে দূর হয়।

  • ত্বকের যত্ন: গোমূত্রের মালিশে ত্বকের সাদা দাগ ও ডার্ক সার্কেল সেরে যায়।

👉 সকালে খালি পেটে গোমূত্র পান করা সর্বোত্তম।

  • গুরুতর অসুস্থ মানুষকে একবারে ১০০ মি.লি.র বেশি খাওয়ানো উচিত নয়; দুই ভাগে ভাগ করে খাওয়াতে হবে।

  • সুস্থ মানুষ দিনে ৫০ মি.লি.র বেশি খাওয়া উচিত নয়।

  • শুধুমাত্র হাঁটা গরুর মূত্রই কার্যকর, বসা গরুর মূত্র কোনো কাজের নয়।

  • জার্সি গরুর মূত্র অকেজো, এতে মাত্র ৩টি পুষ্টি উপাদান থাকে। আর দেশি গরুর মূত্রে ৮টি প্রয়োজনীয় উপাদান পাওয়া যায়।

আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা

কবজ (Constipation)

আমরা যখন খাবার গ্রহন করি, তখন তা আমাদের পেটের হজম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হজম হয়। যদি এই প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা আসে, তাহলে খাবার সঠিকভাবে হজম হয় না এবং তা জমে যায়, যার ফলে কবজ হয়। সঠিকভাবে মল না নির্গমনের অবস্থাকেই কবজ বলা হয়।

চিকিৎসা:

  • সौंঠ + কালো মরিচ + পিপল সমপরিমাণে নিন এবং চূর্ণ করুন। সকালে ও সন্ধ্যায় এক চামচ করে নিন।

  • রাতে গরম দুধের সঙ্গে দুই চামচ ইসবগোল খেলে কবজে আরাম পাওয়া যায়।

  • রাতে গরম দুধের সঙ্গে এক চামচ ত্রিফলা নিন, কবজ দূর হবে।

  • খাবারের সঙ্গে পপিৎয়া খেলে কবজ কমে।

  • সौंঠ + হারড় + জায়ফল সমপরিমাণে জল দিয়ে ফোটান এবং সেই পানি পান করুন।


পেট ব্যথা, অ্যাসিডিটি (Acidity / Amalpitta)

কবজের সময় পেটে অ্যাসিডিটি হতে পারে। এতে খট্টি ডকারি আসে, পেটে ভারীভাব থাকে, খাবারের ইচ্ছে কমে।

চিকিৎসা:

  1. অজওয়াইন চূর্ণ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে বদহজম দূর হয়।

  2. অজওয়াইন ও নুনের ফুঁকি গরম পানি দিয়ে খাওয়া।

  3. এক গ্রাম সौंঠ চূর্ণে চিমটি হিং এবং সেঁধা নুন মিশিয়ে সকালে ও সন্ধ্যায় পানি দিয়ে খাওয়া।


অতিসার ও সংগ্রহণী (Diarrhea & Intestinal Disorders)

অতিসার হলো পাতলা ও দুর্গন্ধযুক্ত পায়খানা। এটি সাধারণত দূষিত পানি বা খারাপ খাবারের কারণে হয়। এতে পেটে ব্যথা, মরউড, আঁটসাঁট বা মৃদু দস্ত হতে পারে।

চিকিৎসা:

  • ভুনা জিরা চূর্ণ দইয়ের সঙ্গে খাওয়া।

  • কিছু সौंফ তাওয়ায় ভুনে, মুঠোর আকারে নিয়ে মঠ্থের সঙ্গে খাওয়া।

  • তেজপাতা + দারচিনি + সামান্য কট্ঠা দিয়ে কाढ़া বানিয়ে খাওয়া।

  • ভাতের মাণ্ডে সামান্য কালো নুন ও ভুনা হিং মিশিয়ে খাওয়া।

  • ৫–৬ দানা তুলসী বীজ গরুর দুধে মিশিয়ে খাওয়া।


আলসার / পেপটিক আলসার (Peptic Ulcer)

পেপটিক আলসার হলো পেটের অভ্যন্তরীণ অংশ, খাদ্যনালী বা ছোট অন্ত্রের আন্ত্রিক ক্ষত। এতে পেটে ব্যথা, জ্বালা, দাঁত কাটার মতো ব্যথা হতে পারে, যা নাভি থেকে বুক পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।

চিকিৎসা:

  • গুডংহাল লাল ফুল পিষে পানি দিয়ে সিরাপ তৈরি করে খাওয়া।

  • গরুর দুধে সামান্য হলুদ মিশিয়ে প্রতিদিন পান করা।

  • বেল বা বেলপত্র পিষে পানি দিয়ে খাওয়া।


পিলিয়া (Jaundice)

শরীরে সঠিকভাবে রক্ত না তৈরি হওয়ার কারণে পিলিয়া হয়। প্রথমে চোখ হলুদ হয়ে যায়, পরে শরীর ও প্রস্রাবও হলুদ হয়। ক্ষুধা কমে, খাবার দেখেও বমি ভাব হয়।

চিকিৎসা:

  • গিলোয়ের চূর্ণ এক চামচ সকালে ও সন্ধ্যায় সাধারণ পানির সঙ্গে খাওয়া।

  • ত্রিফলা চূর্ণ কাঁঠা বানিয়ে মিশ্রিত মিষ্টি ও ঘি দিয়ে খাওয়া।

  • ৫ গ্রাম সौंঠ চূর্ণ মধুর সঙ্গে খাওয়া।


বাওয়াসীর (Hemorrhoids / Piles)

এই রোগ সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী কবজের কারণে হয়। দুই ধরনের বাওয়াসীর আছে:

  1. রক্তময় বাওয়াসীর

  2. নরম বাওয়াসীর

চিকিৎসা:

  • আউঁওলের চূর্ণ ৫ গ্রাম সকালে ও সন্ধ্যায় মধুর সঙ্গে খাওয়া।

  • মুলো রস কালো নুন দিয়ে খাওয়া।

  • ৫ গ্রাম ত্রিফলা চূর্ণ মধুর সঙ্গে চাটানো।

  • কালো তিল ও তাজা মাখনের সমান অংশে মিশিয়ে খাওয়া।


উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension)

উচ্চ রক্তচাপ হয় হৃদয়, কিডনি এবং রক্ত সংক্রান্ত সমস্যার কারণে। ক্রোধ, ভয়, দুঃখ বা অন্যান্য আবেগের প্রতি সংবেদনশীল ব্যক্তিরা বেশি আক্রান্ত হন।

লক্ষণ:
সিরদর, মাথা ঘোরা, দ্রুত হৃদস্পন্দন, অলসতা, উদ্বেগ, মন না বসা, চোখে অন্ধকার দেখা, নিদ্রাহীনতা।

চিকিৎসা:

  • কাঁচা রসুন ১–২ কলি সকালে চেটে খাওয়া।

  • সাধারণ নুনের পরিবর্তে সেঁধা নুন ব্যবহার করা।

  • সौंফ, জিরা ও মিশ্রী সমপরিমাণে চূর্ণ করে সকাল-বিকেলে পানি দিয়ে খাওয়া।

  • আধা চামচ দারচিনি ও আধা চামচ মধু গরম পানিতে প্রতিদিন খাওয়া।

  • এক চামচ অর্জুনের ছাল চূর্ণ পানিতে গরম করে খাওয়া।


নিম্ন রক্তচাপ (Hypotension)

নিম্ন রক্তচাপ হয় খাবার কম খাওয়া বা বয়স বৃদ্ধির কারণে। পেটের হজম ঠিক না থাকা, হতাশা, মানসিক চাপ ও শীতল হাত-পা প্রধান কারণ।

চিকিৎসা:

  • গুড় ও পানিতে নুন ও লেবুর রস মিশিয়ে দিনে ২–৩ বার পান করা।

  • মিশ্রী ও মাখন মিশিয়ে খাওয়া।

  • পিপলের পাতা রস মধুর সঙ্গে চেটে খাওয়া।

  • কাঁচা রসুন ১–২ কলি দিনে খাওয়া।

  •                                          হৃৎপিণ্ডের ব্যথা (Heart Pain / Angina)

আজকাল জীবনের ব্যস্ততা, ব্যবসা বা পরিবারের চাপের কারণে হৃৎপিণ্ডে ব্যথার সমস্যা বেশি দেখা যায়। এই রোগ হয় কারণ ধমনীর মাধ্যমে রক্ত সঠিকভাবে সংবহন হয় না।

চিকিৎসা:

  • কাঁচা লাউয়ের রস সামান্য হিং ও জিরা দিয়ে সকালে ও সন্ধ্যায় পান করলে দ্রুত আরাম মেলে।

  • অর্জুনের ছাল ৫ গ্রাম ও পাশাণবৈধ ৫ গ্রাম পাউডার নিয়ে ৫০০ মিলি পানিতে উबालুন। পানি অর্ধেক হওয়া পর্যন্ত রান্না করে ঠাণ্ডা করে সকালে ও সন্ধ্যায় পান করুন। এটি হৃদরোগ ও হৃৎপিণ্ডের জটিলতা কমাতে সাহায্য করে।

  • গাজরের রস থেকে স্যুপ বানিয়ে পান করলে উপকার হয়।

  • লাহসুন সবচেয়ে কার্যকর, তা রান্নায় বা কাঁচা উভয়ভাবে খাওয়া যেতে পারে।


মোটা হওয়া (Obesity)

শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমে গেলে মোটা হওয়া শুরু হয়। মোটা হওয়ার ফলে শরীর অলস, ক্লান্ত এবং বিভিন্ন রোগ যেমন শর্করা, হৃদরোগ, হজমজনিত সমস্যা ও কবজের সমস্যা দেখা দেয়।

চিকিৎসা:

  • সকালে ও সন্ধ্যায় খালি পেটে গরম পানিতে লেবুর রস ও সামান্য সেঁধা নুন মিশিয়ে পান করা।

  • ৫ গ্রাম সौंঠ মধুর সঙ্গে চাটানো।

  • মুলা সালাদে লেবু ও নুন দিয়ে প্রতিদিন খাওয়া।

  • খাবারের পরে এক চিমটি কালো তিল চিবিয়ে খাওয়া।


চুলকানি / স্কিন সংক্রান্ত সমস্যা (Itching / Skin Infection)

চুলকানি সংক্রামক রোগ হতে পারে, বা পেট খারাপ, দীর্ঘমেয়াদি কবজ বা রক্তে অশুদ্ধির কারণে হতে পারে।

চিকিৎসা:

  • নারকেল তেলে সামান্য कपूर মিশিয়ে গরম করে আক্রান্ত স্থানে লাগানো।

  • গরুর ঘি ও লাহসুন গরম করে মাখন হিসেবে লাগানো।

  • লেবুর রস ও পাকা কল মিশিয়ে প্রয়োগ করা।

  • ভুনা সুহাগে পানি দিয়ে লাগানো।


ফোড়া / ফোস্কা (Boils / Pimples)

রক্তের অসুবিধা, বর্ষাকালে অতিরিক্ত ফল বা দূষিত পানির সংস্পর্শে ফোড়া হতে পারে।

চিকিৎসা:

  • লবঙ্গ ও চন্দন মিশিয়ে লাগানো।

  • নিমের পাতা বা নিমের ছাল দিয়ে প্যাঁচানো বা পানি প্রয়োগ করা।

  • হলুদ ও মধু চাটানো।


দাদ (Ringworm / Scabies)

দাদ রোগ সাধারণত হজমজনিত সমস্যা, রোদে পোড়া, রক্তে সমস্যা বা অতিরিক্ত সাবান/চুন ব্যবহারের কারণে হয়। এটি হাত, পা, মুখ, কোহিনী, ঘাড় বা পেটে হতে পারে।

চিকিৎসা:

  • অতিরিক্ত মরিচ-মশলা, মিষ্টি, তেল, আচার, বা খাট্টা খাবার কমানো।

  • পেট পরিষ্কার রাখা এবং কবজ রোধ করা।

  • লেবুর রসে সুহাগে মিশিয়ে লাগানো।

  • না হলে সুহাগে ও ভুনা ফিতকরি সমপরিমাণে চূর্ণ করে প্রয়োগ।


পোড়া (Burns)

আগুন বা কোনো গরম জিনিসের সংস্পর্শে ত্বকে ফোস্কা তৈরি হয়।

চিকিৎসা:

  • প্রথমে জ্বালা করা অংশ ঠাণ্ডা পানিতে ডুবিয়ে রাখা।

  • দইয়ের পানি ও সামান্য চুন মিশিয়ে প্রয়োগ।

  • আগুন থেকে ঝলসানো হলে তাড়পিন তেল ও कपूर মিশিয়ে লাগানো।

  • নারকেল তেল ও মোম গরম করে ঠাণ্ডা হলে মরহমের মতো প্রয়োগ।

  • মুলতানি মাটি দইয়ে মিশিয়ে লাগানো।


মিরগি (Epilepsy)

শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিদের বেশি দেখা যায়। অতিরিক্ত মদ্যপান, কঠোর পরিশ্রম বা মাথায় আঘাতের ফলে হতে পারে।

লক্ষণ:

  • হঠাৎ আক্রান্ত হলে রোগী পড়ে যায়।

  • হাত-পা কঠিন হয়ে যায়, চোখের পলক স্থির থাকে।

  • মুখ থেকে ফেনা বের হয়।

  • ০.৫ মিনিট থেকে ২–৪ ঘণ্টা পর্যন্ত আক্রমণ হতে পারে।

চিকিৎসা:

  • আক্রান্তকে ডান পাশে শুইয়ে রাখা।

  • আক্রমণের সময় কিছু খাওয়ানো যাবে না।

  • অমোনিয়া বা চুনের গন্ধ দিয়ে সজাগ করা।

  • ব্রাহ্মী বূটি রস ৪ চামচ দিনে ২ বার (সকালে ও সন্ধ্যায়) খাওয়ানো।

  • নিমের কোমল পাতা, অজওয়াইন ও কালো নুন মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে খাওয়ানো।

  • তুলসীর ৪–৫ পাতা কুচি করে তার সঙ্গে कपूर দিয়ে রোগীকে ঘ্রাণ করানো।


লকও (Hemiplegia / Paralysis)

শরীরের অর্ধেক অংশ সংবেদনশীলতা হারায়। পেটে গ্যাস জমা, মস্তিষ্ক ও হৃৎপিণ্ডে চাপের কারণে হয়।

চিকিৎসা:

  • ২৫০ মিলি গরুর দুধে ৮–১০ লাহসুন কলি দিয়ে উबालা। গাঢ় হলে রোগীকে খাওয়ানো।

  • ২৫০ গ্রাম সরিষার তেল, সামান্য কালো মরিচ মিহি করে দিয়ে মালিশ।

  • তুলসী ৮–১০ পাতা, সেঁধা নুন ও দই দিয়ে পেস্ট তৈরি করে আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ।

  • সौंঠ ও উড়দ ভিজিয়ে সেই পানি খাওয়ানো।


আধা সিসি (Half-head Pain / Migraine)

সাধারণত মানসিক চাপ, পেটে গ্যাস বা ধাতুর অমিলের কারণে হয়। পুরুষের তুলনায় মহিলাদের বেশি হয়।

চিকিৎসা:

  • রোগী ব্যথায় অসুস্থ থাকলে বিশ্রাম ও হালকা খাদ্য গ্রহণ।

  • গরম বা ঠাণ্ডা জল দ্বারা মাথা ধোয়া।


চোখ, নাক ও মাথার বিভিন্ন প্রতিকার
  • ছোট পিপলির চূর্ণ মধুর সঙ্গে চাটলে উপকার পাওয়া যায়।

  • কম্পনের বা আংশিক মাথা ব্যথা থাকলে, কমপক্ষে যেই দিকের মাথায় ব্যথা নেই, সেই নাকের নথুনে কমলার খোসার রস দিন।

  • দেশি গরুর ঘি নাকের নথুনে দিন।

  • মেহেদী পাতা পিষে মথায় লাগানো যাক।


কোমর ব্যথা (Back Pain)

নারীদের ক্ষেত্রে কোমর ব্যথা সাধারণত শ্বেতপ্রদর বা মাসিক অসামঞ্জস্যের কারণে হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিশ্রম, বায়ুর চাপ বা ভুলভাবে বসা, ওঠা, ঘুমানোর কারণে এই ব্যথা হয়।

চিকিৎসা:

  1. সকালে খালি পেটে আখরোটের কোরা খেলে কোমর ব্যথায় আরাম মেলে।

  2. নারকেল তেল ও সামান্য कपूर মিশিয়ে কোমরে মালিশ করা।

  3. সौंঠ + হারড় + গিলোয় সমপরিমাণে চূর্ণ করে সকালে ও সন্ধ্যায় আধা চামচ খাওয়া।

  4. পিপলা ছাল দিয়ে কाढ़া তৈরি করে সকালে ও সন্ধ্যায় পান করা।


স্মরণশক্তি কমে যাওয়া (Memory Loss)

আজকাল প্রায় যুবকরা স্মৃতি দুর্বলতার সমস্যায় ভুগে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি আরও বেশি দেখা যায়। অতিরিক্ত চিন্তা, ভয়, ক্রোধ, শোক বা অতিরিক্ত পড়াশোনার কারণে স্মরণশক্তি কমে যায়।

চিকিৎসা:

  1. শঙ্খপুষ্পী পিষে চূর্ণ তৈরি করুন। ২৫০ গ্রাম গরুর দুধে আধা চামচ শঙ্খপুষ্পী ও চামচ মধু মিশিয়ে সকালে পান করুন।

  2. ৮–১০ বাদাম রাতভর পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে ছাল ছাড়িয়ে ভালো করে পিষে ২৫০ গ্রাম গরম দেশি গরুর দুধে মিশিয়ে খান। এতে সামান্য কালো মরিচ চূর্ণ ও দুই চামচ মধু মেশানো যায়। ঠাণ্ডা হলে এক চামচ দেশি গরুর ঘি মিশিয়ে খাওয়া যাবে।

  3. প্রতিদিন গরুর দুধে এক চামচ মুলহট্টি চূর্ণ মিশিয়ে পান করুন।


অনিদ্রা (Insomnia)

অনিদ্রা সাধারণত মানসিক অশান্তি, অতিরিক্ত ক্লান্তি, ভুল খাদ্যাভ্যাস, দীর্ঘমেয়াদি কবজ, মানসিক চাপ বা শরীরের কোনো রোগজনিত কারণে হয়। অতিরিক্ত ধূমপান ও মদ্যপানও এটি সৃষ্টি করতে পারে।

চিকিৎসা:

  1. রাতে শোবার আগে হাত-পা ভালোভাবে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে, পায়ের তলায় সরিষার তেলের মালিশ করুন।

  2. দুই চামচ মধুর সঙ্গে এক চামচ পেঁয়াজের রস মিশিয়ে চাটুন।

  3. রাতের খাবারের পরে হালকা হাঁটাহাঁটি করুন। খাবার দ্রুত শেষ করবেন না, এবং দেরিতে রাতের খাবার এড়ান। হালকা খাবার খান।

  4. ১০–১৫ মিনিট ধ্যান বা যোগাভ্যাস করুন। এতে ঘুম ভালো হবে।


সিরদর (Headache)

সিরদর প্রায়ই মানসিক চাপ, শরীরের ও মনোরোগজনিত সমস্যার কারণে হয়। এর প্রতিকার অল্প সময়ের মধ্যে আরাম দেয়।

পরামর্শ:

  • ঠাণ্ডা বা গরম পানি দিয়ে মাথা ধুতে পারেন।

  • প্রয়োজন অনুযায়ী মলিশ বা আয়ুর্বেদিক ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।

লক্ষণ:

  • ঘুম না হওয়া

  • মাথা ফাটার মতো ব্যথা

  • মাঝে মাঝে বমি

প্রাকৃতিক প্রতিকার:

  1. তুলসীর পাতা রসের সঙ্গে সামান্য সौंঠ মিশিয়ে মথায় লাগানো।

  2. লাহসুন একটি কলি ঘি দিয়ে ভুনে খাওয়া।

  3. হলুদ ও অ্যালোভেরা মিশিয়ে মথায় লাগানো।

  4. দুই চামচ ত্রিফলা চূর্ণ ও সামান্য মিষ্টি (মিশ্রী) খাওয়া, খাবারের আগে।


শ্বাসপ্রণালী সম্পর্কিত রোগ (Respiratory Disorders)

শ্বাসপ্রণালী আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নাক, গলা, ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড, রিবস, ডায়াফ্রাম সহ অনেক অঙ্গ কাজ করে শ্বাস নেওয়া ও বের করার জন্য।

রোগের কারণ:

  • পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পাওয়া

  • অতিরিক্ত মদ্যপান, ধূমপান, তামাক, গুটখা

  • দূষিত বা বিষাক্ত খাবার

  • মানসিক চাপ

ঘরোয়া প্রতিকার:

  1. ২০টি তুলসী পাতা, নিম, গিলোই ৫ গ্রাম, সौंঠ ৫ গ্রাম, ছোট পিপার ৫ টুকরো—সব এক গ্লাস পানিতে উबालুন। ঠাণ্ডা হলে দিনে তিনবার (সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা) পান করুন।

  2. নিম ও গিলোই ডেঙ্গুতে প্লেটলেট বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

  3. হরসিংার/পারিজাত/শিউলি গাছের পাঁচটি পাতা পিষে গরম পানিতে মিশিয়ে সকালে খালি পেটে পান করলে দীর্ঘস্থায়ী গাঁঠি ব্যথা ও বিভিন্ন জ্বর, যেমন ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ব্রেইন ম্যালেরিয়ার জ্বরেও উপকার হয়।


খাঁশি (Cough)

খাঁশির প্রধান তিনটি ধরন: শুকনো খাঁশি, কালো খাঁশি, কফযুক্ত খাঁশি।

প্রাকৃতিক প্রতিকার:

  • শুকনো খাঁশি: গরম পানি ও লবণ দিয়ে গলা পরিষ্কার করা।

  • কফযুক্ত খাঁশি: দারচিনি, লবঙ্গ বা মধু দিয়ে চাটানো।

  • কালো খাঁশি: দুই রত্তি হিং চাটলে উপকার।

  • ৭–৮টি কালো মরিচ চূর্ণ দুই চামচ মধুতে মিশিয়ে দিনে ৩–৪ বার চাটানো।

  • সামান্য হলুদ ও চুটকি লবণ মিশিয়ে পানি দিয়ে খাওয়া।


নিউমোনিয়া (Pneumonia)

ফুসফুসে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা হলে নিউমোনিয়া হয়।

লক্ষণ:

  • ঠাণ্ডা লাগা, ফুসফুসে সংক্রমণ

  • কফ বৃদ্ধি, শ্বাসকষ্ট, তীব্র ছাতির ব্যথা

  • অসুস্থতা ও কখনো বেমারিত্ব

প্রাকৃতিক প্রতিকার:

  1. গমের বদলে জোয়ার রুটি খাওয়া, গরম পানি পান করা।

  2. হলুদের গাঁথা বালি দিয়ে ভুনে চূর্ণ করে দিনে দুইবার গরম পানি দিয়ে খাওয়া।

  3. আদা ও তুলসীর রস সমপরিমাণে মিশিয়ে মধুর সঙ্গে চাটানো।

  4. শিশুদের জন্য চার চিমটি হিং পানি দিয়ে মিশিয়ে খাওয়ালে জমে থাকা কফ বের হয়।

দমা (Asthma)

যখন ফুসফুসে জকড়ন এবং সংকোচনের কারণে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তখন তাকে দমা বলা হয়। বেশির ভাগ সময় এটি বড়দের মধ্যে দেখা যায়। ধুলো এবং ধোঁয়াযুক্ত পরিবেশে থাকার কারণে দমা হতে পারে। সাধারণত এই রোগ বংশগত হয়। অতিরিক্ত ধূমপান করাও এই রোগের কারণ হতে পারে।

লক্ষণ:

  • শ্বাস নিতে কষ্ট

  • কষ্ট কখনও কম, কখনও বেশি হয়

  • মাঝে মাঝে কফ বের হলে আরাম পাওয়া যায়, না হলে রোগীর অবস্থা খারাপ হয়

প্রাকৃতিক প্রতিকার:

  • তেজপাতার চূর্ণ আদার রসের সঙ্গে খেলে দমায় অনেক আরাম হয়।

  • সকালে খালি পেটে ৩–৪ চামচ আদার রস মধুর সঙ্গে খেলে ভালো লাগে।

  • তুলসীর পাতা এবং ২–৩টি কালো মরিচ চিবালে আরাম মেলে।

  • দমার আক্রমণ হলে সামান্য ফিতকরি জিভে রেখে চুষলে দ্রুত আরাম হয়।

  • কাঁচা লাহসুনের কলিতে ২–৩ ফোঁটা লবঙ্গের তেল দিয়ে চিবিয়ে গরম পানি পান করলে দমার আক্রমণ কম হয়।


নজলা / সর্দি (Cold / Runny Nose)

সাধারণত ঠান্ডা লাগা বা ঠান্ডা পানিতে চলাফেরা করলে সর্দি হয়। এটি একটি সংক্রামক রোগ।

লক্ষণ:

  • বারবার ছিক আসা

  • নাক দিয়ে পানি পড়া

  • মাঝে মাঝে কফ

প্রাকৃতিক প্রতিকার:

  • কাঁচা লাহসুন ১–২ কলি চিবিয়ে পানি পান করা।

  • পুদিনা ১০ পাতা, কালো মরিচ ৬ দানা, চিমটি সেঁধা নুন, তুলসীর ১০ পাতা—সব মিশিয়ে কষা বানিয়ে অর্ধেক পানি রেখে দিন।

  • আমলকের রস মধুর সঙ্গে চাটলে আরাম হয়।

  • সরিষা বেটে নাকের ওপর লাগালে সর্দিতে আরাম মেলে।

  • দারচিনি ও জয়ফল সমপরিমাণে চূর্ণ করে সকালে ও সন্ধ্যায় খাওয়া।

  • গরুর ঘি নাকের মধ্যে দেওয়া।


ক্ষয়রোগ (টিবি / Tuberculosis)

ক্ষয়রোগ ব্যাকটেরিয়াজনিত। এছাড়া দূষিত পরিবেশ, অতিরিক্ত পরিশ্রম, মানসিক চাপ ও পুষ্টিকর খাদ্য না পাওয়ার কারণে হয়।

লক্ষণ:

  • শুরুতে হালকা জ্বর ও ক্লান্তি

  • ধীরে ধীরে ক্লান্তি বৃদ্ধি, কফযুক্ত বা রক্তসহ খাঁশি

  • ওজন কমা, ক্ষুধা কমে যাওয়া

  • পেটে ব্যথা, বমি, শ্বাসকষ্ট, পাতলা পায়খানা

  • ক্রমশ প্রায়শই প্রস্রাবের সমস্যাও দেখা যায়

প্রাকৃতিক প্রতিকার:

  • কলের পাতার ছাই শুকিয়ে মধুর সঙ্গে চাটানো।

  • কাঁচা কলের সবজি খাওয়া এবং কলের ডালের রস ২ চামচ পান করা।

  • পাকা কল খাওয়া।

  • পীপলের ফলের চূর্ণ গরুর দুধের সঙ্গে খাওয়া।

  • দারচিনীর চূর্ণ মধুর সঙ্গে দিনে ৩–৪ বার চাটানো।

  • দেশি গরুর ঘিতে ২ লবঙ্গ চূর্ণ মিশিয়ে চাটানো।

  • মুলহট্টি চূর্ণ, মধু ও মিশ্রী সমপরিমাণে মিশিয়ে সকালে খাওয়া।

  • সকালে আধা কাপ দেশি গরুর গোমূত্র পান করলে টিবি ভালো হয় (৫–৬ মাস নিয়মিত)।


গলাব্যথা / টনসিল (Throat Infection / Tonsillitis)

গলে যেকোনো সংক্রমণ বা সমস্যা হলে সবচেয়ে ভালো প্রতিকার হল হলুদ।

প্রাকৃতিক প্রতিকার:

  • কাঁচা হলুদের আধা চামচ রস নিয়ে মাড় দিয়ে গলায় ঢালুন। কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকুন। এটি গলায় পৌঁছে সমস্ত সংক্রমণ নিরাময় করে।

  • শিশুদের জন্য বিশেষভাবে কার্যকর, টনসিলের সমস্যা হলে অপারেশনের প্রয়োজন নেই।


মধুমেহ (ডায়াবেটিস / Diabetes)

আজকাল মধুমেহ সাধারণ রোগ।

কারণ:

  • শরীর ঠিকভাবে চিনি (মিষ্টি, গুড়, চিনি) হজম করতে পারে না

  • অগ্ন্যাশয় যথাযথ পরিমাণে ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না

  • তাই চিনি সরাসরি প্রস্রাবে বের হয়

লক্ষণ:

  • শুরুতে অতিরিক্ত ক্ষুধা

  • পরে ক্ষুধা কমে যায়

  • শরীর শুষ্ক, কবজের সমস্যা

  • প্রস্রাব বেশি এবং প্রস্রাবে চিনি

  • ওজন কমে যায়

  • শরীরের যেকোনো জখম ধীরে শুকায়

জাম্বুল (Jamun) – ডায়াবেটিসের জন্য প্রাকৃতিক ঔষধ

জাম্বুল ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সর্বোত্তম ঔষধ। সরাসরি জাম্বুল খাওয়াও উপকারী, কিন্তু জাম্বুলের গুঁড়ো তাজা পানির সঙ্গে দিনে ২–৩ বার খেলে ডায়াবেটিসে অনেক উপকার হয়। পাশাপাশি জাম্বুলের সবুজ পাতার চাটনি তৈরি করে এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে প্রতিদিন খাওয়াও লাভজনক।

  • পানের সঙ্গে চারটি পাতা বঙ্গ ভস্ম নেওয়ায় ডায়াবেটিস দূর হয়।

  • সকালে ২০ গ্রাম গিলোয়ের রস সমপরিমাণ মধুর সঙ্গে খেলে রোগে উপকার পাওয়া যায়।

  • প্রতিদিন রাতে বিশ্রামের আগে মধুর সঙ্গে ত্রিফলার চূর্ণ খাওয়া উপকারী।

  • ইন্দ্র জো, বাদাম ও ছোলা সমপরিমাণে চূর্ণ করে দিনে সকালে ও সন্ধ্যায় ফিকে দুধের সঙ্গে খাওয়া।

  • ত্রিফলার চূর্ণে মেথির দান চূর্ণ সমপরিমাণে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে ২ চামচ চূর্ণ গরম জল দিয়ে খাওয়া।


বারবার প্রস্রাব (Polyuria)

বারবার প্রস্রাব হওয়া এবং সামান্য পরিমাণে প্রস্রাব হওয়াকে বহুমূত্র বলা হয়। এটি শিশু ও যুবকদের বেশি হয় এবং সাধারণত বংশগত।

লক্ষণ:

  • কাবজ, অজিরণ

  • অতিরিক্ত প্রস্রাব

  • ঘুম না আসা

  • কমর ও কোমরের নিচে ব্যথা

প্রাকৃতিক প্রতিকার:

  • আমলকের শুকনো চূর্ণ বা রস মধুর সঙ্গে খাওয়া।

  • ২০ গ্রাম কালো তিল ও ১০ গ্রাম জায়ফল মিশিয়ে পাউডার তৈরি করে ৫০ গ্রাম গুড়ের সঙ্গে মিশিয়ে সকালে ও সন্ধ্যায় খাওয়া।

  • সকালে খালি পেটে আদার রস খাওয়া।

  • রাতে বিশ্রামের আগে গরুর দুধে ৪টি শুকনো খেজুর খাওয়া।


মূত্রাশয় প্রদাহ (Cystitis / Burning sensation)

  • মূত্রাশয়ে ব্যথা ও বারবার প্রস্রাবের প্রবণতা

  • প্রস্রাবের সময় জ্বালা ও ব্যথা

প্রাকৃতিক প্রতিকার:

  • প্রতিদিন গাজরের রস খাওয়া।

  • ভাতের মাণ্ডে মিশ্রী মিশিয়ে খাওয়া।

  • ত্রিফলার চূর্ণের কষা মধুর সঙ্গে খাওয়া।

  • ৩ চামচ মূলী রস সামান্য সেঁধা নুন দিয়ে খাওয়া।


কিডনির পাথরি (Kidney Stone)

যাদের প্রস্রাবে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম থাকে তাদের কিডনিতে পাথরি দ্রুত হয়।

প্রাকৃতিক প্রতিকার:

  • চৌলাই বা বথুয়া সেদ্ধ করে পানি নিয়ে সেটিতে কালো মরিচ, জিরা ও সামান্য নুন মিশিয়ে দিনে কয়েকবার পান করা।

  • জিরার পাউডার মধুর সঙ্গে খেলে পাথরি গলে প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়।

  • সাদা পেঁয়াজ কেটে তার রস কাপড়ে চেপে সকালে খালি পেটে খাওয়া।

  • শুকনো আমলের চূর্ণ খালি পেটে মূলীর সঙ্গে চিবিয়ে খাওয়া।

  • মূলীর বীজ চূর্ণ মধুর সঙ্গে খাওয়া।


গোপন রোগ – शीघ्र पतন (Premature Ejaculation)

  • যে মানুষরা প্রাকৃতিক বিধির বিরুদ্ধে যৌনক্রিয়া করেন বা অতিরিক্ত অশ্লীল সাহিত্য পড়েন, তাদের এই রোগ হয়।

  • মূল লক্ষণ: যৌনকর্মের সময় পুরুষ সময়মতো সম্পূর্ণতা পায় না।

প্রাকৃতিক প্রতিকার:

  • সকালে খালি পেটে পাকা কলা এবং ১ চামচ গরুর ঘি একমাস খেলে রোগ কমে।

  • ঘি ১০ গ্রাম + মধু ৫ গ্রাম + মূলহট্টি ১০ গ্রাম চাটানো এবং গরম দুধ খাওয়া (যৌনকর্মের পরে)।

  • শুকনো ধনিয়া + মিশ্রী সমপরিমাণে পাউডার বানিয়ে ঠান্ডা পানির সঙ্গে সকালে খাওয়া।

  • তুলসীর বীজ + মিশ্রী সমপরিমাণে পাউডার বানিয়ে সকালে দুধের সঙ্গে খাওয়া।

  • লবঙ্গের তেল লিঙ্গে লাগালে সমস্যার সমাধান।


স্বপ্নদোষ (Nocturnal Emission / Wet Dreams)

  • রাতে বা দিনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বীর্যপাত হওয়া।

  • যৌন মনোভাবের কারণে স্বপ্নে বীর্যপাত।

প্রাকৃতিক প্রতিকার:

  • সকালে উঠে ঠান্ডা পানি পান করা।

  • মধুর সঙ্গে কলা খাওয়া।

  • শুকনো ধনিয়া ও মিশ্রী সমপরিমাণে গুঁড়ো করে ঠান্ডা পানির সঙ্গে খাওয়া।

  • গরুর দুধে মিশিয়ে খেলে স্বপ্নদোষ কমে।

  • সকালে আমলের চূর্ণ ও মিশ্রী সমপরিমাণে খাওয়া।

  • কামবাসনা ও অতিরিক্ত হস্তমৈথুন থেকে বিরত থাকা, সুপ্রসন্ন থাকা, ভালো সঙ্গতির সঙ্গে থাকা, যোগ ও ব্যায়াম করা।


নপুংসকতা (Impotence)

  • অতিরিক্ত যৌনকর্ম, স্থূলতা, বা অণ্ডকোষ সংক্রান্ত সমস্যা, হানিরিয়া বা বহুমূত্রের কারণে।

  • পুরুষে উত্তেজনা কমে, যৌনক্ষমতা কমে।

প্রাকৃতিক প্রতিকার:

  • ৬–৮ কাঁচা লাহসুন গরম ঘিতে বেটে খাওয়া।

  • সকালে গরুর গরম দুধে তুলসীর বীজ ও গুড় সমপরিমাণে মিশিয়ে খাওয়া, সাথে ২টি খেজুর ও কিসমিস।

  • মধু + গরুর ঘি + সাদা পেঁয়াজের রস সমপরিমাণে দুধের সঙ্গে খাওয়া।

  • জমীকন্দ ও তুলসীর মূল পানের সঙ্গে খাওয়া।

  • পেয়ার বা মধুর সঙ্গে খেলে বীর্য বৃদ্ধি।


মুখের ও চোখের রোগ

  • অতিরিক্ত ঠান্ডা/গরম, ধুলো বা সংক্রমণ চোখে ব্যথা, লাল ভাব, পানি ও লালচে স্রাব।

  • সাদা পেঁয়াজের রস চোখে দিলে ব্যথা কমে।

  • পুরোনো মুখের লালা চোখে লাগানো প্রতিটি চোখের রোগ দূর করে।

  • ত্রিফলার চূর্ণ, ঘি ও মধু মিশিয়ে খেলে চোখের রোগ দূর হয়।

  • দেশি গরুর ঘি চোখে লাগালে জ্বালা কমে।

  • গোলাপ জল + ফিটকরি মিশিয়ে চোখ ধোয়া।

  • বথুয়া রস ৪ ফোঁটা চোখে।

  • গোলাপ জল, তাজা শসার রস, সামান্য ঠান্ডা দুধ মিশিয়ে রुई ভিজিয়ে পলক উপর রাখা।

  • চোখে anar (anar / পোমগ্রানেট) রস ব্যবহারেও অনেক উপকার।


গুহেরি (Stye / Eye Lump)

  • চোখের পলকের কোণে ফোঁড়ার মতো ফোস্কা। হালকা ব্যথা।

  • লবঙ্গ পানি দিয়ে ঘষে লাগালে আরাম।

  • রাতে ভিজিয়ে রাখা ত্রিফলার চূর্ণের পানি দিয়ে চোখ ধোয়া।

  • গোলাপ জল + ছোটো হরড় কষে লাগানো।

  • গোলাপ জলে সামান্য ফিটকরি মিশিয়ে লাগালে গুহেরি নেমে যায়।

page 49

No comments:

Post a Comment

ধন্যবাদ

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

ভিরদান্না— সিন্ধু সভ্যতার অন্যতম প্রাচীন সাইট

🏺 ভিররানা (Bhirrana) খননে কি পাওয়া গেছে? ভিররানা (বা ভিরদান্না) প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটি হরিয়ানার (ফতেহাবাদ জেলায়) ঘগ্গর (পৌরাণিক সরস্বতী) ন...

Post Top Ad

ধন্যবাদ