লালকিল্লা হিন্দু ভবন? - ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান, ধর্ম গ্রন্থ কি , হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়, ইসলাম খ্রীষ্ট মত বিষয়ে তত্ত্ব ও সনাতন ধর্ম নিয়ে আলোচনা

धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते-Theology

সাম্প্রতিক প্রবন্ধ

Post Top Ad

স্বাগতম

29 August, 2025

লালকিল্লা হিন্দু ভবন?

লালকিল্লা হিন্দু ভবন?


ভারতীয় ইতিহাসের এক ঘোর বিড়ম্বনা

ভারতীয় ইতিহাসের এক গুরুতর বিদম্বনা হলো এই যে, প্রায় এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে যখন ভারতবাসী বিদেশি শাসনের অধীনে নির্যাতিত ও স্তব্ধ কণ্ঠে বেঁচে ছিল, তখনই সমগ্র ভারতের উপর নিজেদের শাসনশক্তি ভোগ করা বিদেশিরা নিজেদের খেয়ালখুশি মতো ভারতীয় ইতিহাসকে বিকৃত, বিকলাঙ্গ ও ধ্বংস করে দিয়েছিল।
এ দুষ্কর্ম তারা করেছে হয়তো চাতুর্যের বশে, বা বিদ্বেষবশত, অথবা নিজেদের ভয়ঙ্কর অজ্ঞতা ও নির্মম বর্বরতার কারণে।


প্রাচীন স্থাপত্যের অপব্যবহার

এই প্রক্রিয়ার মধ্যে, দীর্ঘ মুসলিম আধিপত্যে সমস্ত মধ্যযুগীয় ভবন, সমাধি কিংবা মসজিদের রূপে অপব্যবহৃত হতে লাগল।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিদেশি ভক্তি, দরবারি চাটুকারিতা ও ধর্মান্ধ সংকীর্ণতার কারণে প্রাচীন হিন্দু নগর ও ভবনগুলির নির্মাণশ্রেয় ক্রমে মুসলমানদের নামে খাতায় তোলা হতে লাগল।

উদাহরণস্বরূপ বলা হলো যে—
👉 আহমেদাবাদ শহরের প্রতিষ্ঠাতা আহমদশাহ,
👉 তুঘলকাবাদের প্রতিষ্ঠাতা তুঘলকশাহ,
👉 ফিরোজাবাদের প্রতিষ্ঠাতা ফিরোজশাহ।

এমনকি কেউ যদি এমন শিশুসুলভ যুক্তি-তর্ককে ইতিহাস বলে গ্রহণ করে তবে সে নিশ্চয়ই বলবে— উত্তরপ্রদেশের আল্লাহাবাদ শহর তো বুঝি মুসলিম ঈশ্বর ‘আল্লাহ’ নিজেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন!


মধ্যযুগীয় ভবন সম্পর্কেও একই ভ্রান্তি

মধ্যযুগীয় ভবনগুলির ক্ষেত্রেও একই অযুক্তিসঙ্গত পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। যেমন—
যদি কোনো স্থাপনা সালিমগড় নামে পরিচিত হয়, তবে তৎক্ষণাৎ ঘোষণা করা হয় এটি নির্মিত হয়েছে শेख সালিম চিশতি বা শাহজাদা সালিম (যিনি পরে সম্রাট জাহাঙ্গীর হন)-এর নামে।
যদি কোনো ভবন জাহাঙ্গিরি মহল নামে পরিচিত হয়, তবে বলাবলি হয় এটি শাহজাদা সালিম সিংহাসনে বসার পর নির্মাণ করেছিলেন।

এ ধরনের অবাস্তব ব্যাখ্যা ও ভ্রান্ত সিদ্ধান্ত সমগ্র ঐতিহাসিক গবেষণাপদ্ধতিকে কলঙ্কিত করেছে।


সমকালীন উদাহরণ

নতুন দিল্লিতে বাবর, হুমায়ুন, ঔরঙ্গজেব, কার্জন, লিটন, মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু ও লালবাহাদুর শাস্ত্রীর নামে রাস্তা আছে।
উপরিউক্ত শিশুসুলভ পদ্ধতি অনুযায়ী এর মানে দাঁড়াবে—
👉 এঁদের প্রত্যেকে জীবদ্দশায় কেবলমাত্র একটি করে রাস্তা নির্মাণ করেছিলেন, এবং তার আগে সেখানে কোনো পথই ছিল না!

এমনকি অনেক লেন বা সরু রাস্তারও নাম এঁদের নামে। যেমন— ঔরঙ্গজেব লেন, বাবর লেন, লিটন লেন ইত্যাদি।
অতএব এই ভ্রান্ত যুক্তিপদ্ধতি অনুসরণ করলে বলা যায়— কার্জনের উত্তরাধিকারীরা কার্জন লেন বানিয়েছিল, আর অন্যান্য লেনও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সন্তান-সন্ততিই তৈরি করেছিল।

ভারতীয় ইতিহাসে এ ধরনের শিশুসুলভ সিদ্ধান্তের ভয়ঙ্কর আবর্জনা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাকে বিশ্বের সামনে “ভারতের ইতিহাস” বলে দেখানো হচ্ছে।


ঐতিহাসিক সত্যের বিকৃতি

আমাদের করণীয় হলো—
👉 এমন ভ্রান্ত গবেষণাপদ্ধতির সর্বজনীন খণ্ডন করা,
👉 ভারতীয় ইতিহাস সম্পর্কিত ভবন বা নগর ভ্রমণকারীদের ভ্রান্ত তথ্য দিয়ে প্রতারিত হওয়া থেকে রক্ষা করা।

কারণ, আজ যেসব বর্ণনা তাদের দেওয়া হচ্ছে, তা না ভারতীয়, না ইতিহাসসম্মত—
সেগুলি মুসলমান বা মুসলিমপক্ষীয় কল্পকথা মাত্র।


আরেকটি ঘোর বিদম্বনা

ভারতীয় ইতিহাসের আরেক বিদম্বনা হলো—
বিশ্বের বহু বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিদ্যালয়ে ভারতীয় ইতিহাস পড়ানো হলেও, এই প্রতারণাজাল কারো চোখে ধরা পড়েনি।
কিছু লোক হয়তো সংশয় প্রকাশ করেছেন, কিন্তু এই ভয়ঙ্কর প্রতারণা ও প্রতিদিনের ভ্রান্ত উপস্থাপনার গভীরতা কেউ উপলব্ধি করতে পারেননি।
সম্ভবত প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহসও কেউ দেখাননি।

ফলে এই বিকৃত ইতিহাস বহুদিন ধরে চ্যালেঞ্জহীন অবস্থায় প্রামাণ্য সত্য বলে চালু থেকেছে।


আগ্রার লালকেল্লার আসল পরিচয়

এই গ্রন্থের আলোচ্য বিষয়ও সেই ঘোর ব্যাপক প্রতারণারই এক বিশেষ ও চক্ষু-উন্মোচক উদাহরণ—
👉 আগ্রায় অবস্থিত লালকেল্লার প্রকৃত উৎস

আমরা পরবর্তী অধ্যায়ে প্রমাণ করব—
লালকেল্লা কোনোভাবেই মুসলিমদের নির্মিত স্থাপত্য নয়; এটি সম্পূর্ণরূপে হিন্দু নির্মাণকলা।
মুসলিম আক্রমণকারীরা কেবল এটিকে দখল করেছিল, ব্যবহার করেছিল, কিছু স্থাপনা ধ্বংস করেছিল, কিছু ভেঙেছিল, কিছু অপবিত্র করেছিল—
কিন্তু নির্মাণ করেনি।

বাস্তবে সেখানে আজ যা দেখা যায় তার চেয়েও অনেক বেশি ভব্য, বিশাল ও আকর্ষণীয় ভবন ছিল।
মুসলিম ব্যবহার মানে কেবল লুণ্ঠন, ধ্বংস ও বিকৃতি।

তবুও আজকের দিনে যা অবশিষ্ট আছে, সেটিই পর্যটককে ভ্রমিত করে—“মুঘল ঐশ্বর্য” ভেবে।
কিন্তু সেই ঐশ্বর্য আসলে মুসলিম লুণ্ঠনের ফল, হিন্দু নির্মাণকলা নয়।


ভুল ধারণার প্রভাব

এই ভ্রান্ত ধারণার মারাত্মক প্রভাব ইতিহাস গবেষণায় পড়েছে।
আগ্রার লালকেল্লাকে মুসলিম স্থাপত্য ভেবে স্থাপত্যবিদ্যা ও নগর-রচনাশাস্ত্রের ছাত্রদের ভুল শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, এবং হিন্দু শৈলীর স্থাপত্যকে মিথ্যাভাবে “মুসলিম শিল্পকলা” বলে প্রচার করা হয়েছে।

সত্য প্রকাশ হলে বোঝা যাবে—
👉 কোনো মুসলিম সম্রাট বা শাহজাদার দ্বারা কোনো বড় নির্মাণকর্মের যথাযথ প্রমাণ পাওয়া যায় না।
👉 ইতিহাসে যা কিছু মুসলিম কৃতিত্ব বলে চালানো হয়েছে তা আসলে কল্পনা, অতিরঞ্জন বা পুনরাবৃত্ত ভ্রান্তি ছাড়া কিছু নয়।


✅ সারকথা: আগ্রার লালকেল্লা ও এর মতো অসংখ্য স্থাপত্য হিন্দুদের নির্মাণ, মুসলমানদের নয়। মুসলিমরা কেবল দখলদার, লুণ্ঠনকারী ও ধ্বংসকারী।


আগ্রার লালকিলা : ইতিহাসের অমীমাংসিত রহস্য

আগ্রায় অবস্থিত লালকিলার প্রচলিত বর্ণনা আজও এক রহস্যময় ধাঁধাঁ হয়ে আছে। সাধারণ ইতিহাসগ্রন্থ কিংবা পর্যটন-নির্দেশিকাগুলি এ দুর্গের উৎপত্তি সম্পর্কে নির্ভুল, প্রমাণসমৃদ্ধ কোনো বিবরণ দিতে ব্যর্থ। দর্শনার্থীর কাছে যেমন বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপিত হয়, গবেষকদের কাছেও তেমনি অস্পষ্ট ও পরস্পরবিরোধী মত শোনানো হয়।

প্রাচীন হিন্দু দুর্গের অস্তিত্ব

প্রথমে বলা হয়—লালকিলার স্থলে একসময় একটি প্রাচীন হিন্দু দুর্গ ছিল। কিন্তু পরে আবার দাবি করা হয়, সেটি নাকি কোনো এক সময় বিনষ্ট হয়ে যায়। কখন, কিভাবে বা কার দ্বারা ধ্বংস হলো—কোনো প্রমাণ নেই।

সিকন্দর লোধির কাল্পনিক দুর্গ

আরেকটি ধারণা হলো—আফগান শাসক সিকন্দর লোধি ১৬শ শতকের শুরুতে এখানে একটি কিলা নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু সেটি কোথায় নির্মিত হয়েছিল, কত টাকা ব্যয় হয়েছিল, কত বছর ধরে কাজ চলেছিল—কোনো দলিল নেই। আজ সেই দুর্গের নাম-নিশানও নেই। যদি সে দুর্গ নির্মিতই হয়েছিল, তবে তা কিভাবে ও কেন ধ্বংস হলো? ইতিহাস নীরব।

সলিম শাহ সুরের গল্প

আবার কেউ কেউ বলেন—অখ্যাত শাসক সলিম শাহ সুরও আগ্রায় একটি কিলা নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু সেই দুর্গ কোথায়, কীভাবে বানানো হয়েছিল, কত খরচ হয়েছিল—তারও কোনো প্রমাণ নেই। কিছু লোক অনুমান করেন, হয়তো সে সিকন্দর লোধির দুর্গ ভেঙে একই স্থানে নতুন কিলা নির্মাণ করেছিল। অন্যরা বলেন, হয়তো প্রাচীন হিন্দু দুর্গ ভেঙেই সে নির্মাণ করেছিল। কিন্তু এসবই কেবল অনুমান।

আকবর ও লালকিলা

পরবর্তীতে প্রচলিত বক্তব্য হলো—আজ যে লালকিলা আমরা দেখি, তা মুঘল সম্রাট আকবর ১৬শ শতকের শেষ ভাগে নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু এ কথাতেও অস্পষ্টতা আছে। কখনো বলা হয়, আকবর সলিম শাহ সুরের দুর্গের উপর পরিবর্তন এনেছিলেন; আবার কখনো বলা হয়, তিনি প্রাচীন হিন্দু দুর্গ ভেঙে নতুন লালকিলা নির্মাণ করেছিলেন।

মুসলিম দাবির অসঙ্গতি ও ইতিহাসের ছলনা

অসঙ্গতির তালিকা

১. কোনো যুক্তি ছাড়া ধরে নেওয়া হয়—প্রাচীন হিন্দু দুর্গ ধ্বংস হয়েছিল।
2. সিকন্দর লোধি, যিনি যুদ্ধ ও হানাহানির জন্য কুখ্যাত, হঠাৎ কেন দুর্গ ভেঙে নতুন কিলা বানাবেন—এ প্রশ্ন কেউ তোলে না।
3. সলিম শাহ সুর, যিনি ভারতীয় ইতিহাসে প্রায় অজ্ঞাত, তার নামে এক দুর্গের কৃতিত্ব দেওয়া হয়—যদিও আগে থেকেই দুটি দুর্গের কথা বলা হচ্ছে।
4. এরপর বলা হয়, আকবর আরেকটি দুর্গ বানালেন—যেখানে আগেই অন্তত তিনটি দুর্গ থাকার কথা বলা হচ্ছে।
5. সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার—প্রতিটি দুর্গ নাকি পূর্ববর্তী দুর্গের একই ভিত্তি ও নকশায় নির্মিত হয়েছিল।

কিন্তু বাস্তবতা হলো—কোনো সম্রাট যদি নতুন দুর্গ নির্মাণ করতে চান, তবে তিনি সাধারণত নতুন স্থান বেছে নেন। পুরনো দুর্গ ভেঙে, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে, আবার নতুন নকশায় দুর্গ নির্মাণ করা শুধু সময়সাপেক্ষই নয়, অর্থনৈতিকভাবেও অব্যবহারিক। প্রাচীন হিন্দু স্থাপত্য ছিল অতুলনীয়; বিদেশি আক্রমণকারীরা সেই সব নির্মাণ ভেঙে নতুন দুর্গ বানানোর মতো ঝুঁকি নিতে পারত না।


অতএব স্পষ্ট—আগ্রার লালকিলার ইতিহাস সম্পর্কে প্রচলিত ইসলামী বর্ণনা পরস্পরবিরোধী ও অসঙ্গতিপূর্ণ। বারবার ধ্বংস ও পুনর্নির্মাণের গল্প আসলে ঐতিহাসিক সত্য নয়, বরং গোপন করার প্রচেষ্টা। লালকিলার ভেতরে আজও দেখা যায় যে সমস্ত স্থাপত্যকলা, ভাস্কর্য ও অলঙ্করণ—সবই নিঃসন্দেহে প্রাচীন হিন্দু স্থাপত্যরীতির সাক্ষ্য বহন করে।

আগ্রার লালকিলাকে ঘিরে প্রচলিত ইতিহাসে বহু অসঙ্গতি ও জাল বর্ণনা রয়েছে। মুসলিম শাসকদের নামে এই দুর্গের নির্মাণ-শ্রেয় দেওয়া হলেও বাস্তব প্রমাণ একেবারেই ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে।

অসঙ্গতি নং ৬

মুসলিম দাবিকে সমর্থন করার মতো একটিও প্রমাণ বা শিলালিপি নেই। আসলে এ ছিল ইতিহাসের এক বিশাল ছলনা, যা ইসলামী শাসনের শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পদদলিত ও পরাভূত প্রজাদের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যখন ইংরেজরা ভারতে মুসলিম শাসকদের পরাজিত করে ক্ষমতায় বসে, তখন পর্যন্ত এই ভ্রান্ত দাবিগুলি এতটাই বারবার প্রচারিত হয়েছিল যে সেগুলোকে অটল সত্য হিসেবে মেনে নেওয়া হয়েছিল।

অসঙ্গতি নং ৭

কমপক্ষে তিন মুসলিম শাসকের নামে আগ্রায় লালকিলার নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণের কৃতিত্ব দেওয়া হয়। আবার দাবি করা হয়, জাহাঙ্গীর ও শাহজাহানও কিলার ভেতরে বহু স্থাপনা ভেঙে নতুন করে বানিয়েছিলেন। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় হলো—পুরো কিলা ও তার সমস্ত স্থাপত্যই হিন্দু বৈশিষ্ট্য ও অলংকরণের প্রাচুর্যে ভরা। যদি সত্যিই মুসলিম শাসকেরা এটি নির্মাণ করতেন, তবে হিন্দু শিল্পরীতির এমন সুস্পষ্ট প্রাধান্য দেখা যেত না।

অসঙ্গতি নং ৮

লালকিলার ভেতরে অনেক মুসলিম শিলালিপি রয়েছে, কিন্তু একটিতেও উল্লেখ নেই যে কোনো মুসলিম সম্রাট এখানে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করেছিলেন

দখল, নয় নির্মাণ

মহম্মদ গজনি থেকে শুরু করে মুঘল আকবর পর্যন্ত সকল বিদেশি আক্রমণকারীই আসলে আগ্রার একটি বিজিত হিন্দু দুর্গেই বাস করেছিল। এটা স্বাভাবিকও বটে, কারণ লুণ্ঠন ও আক্রমণের মূল উদ্দেশ্যই হলো অন্যের সম্পত্তি দখল করা। কিন্তু যা অনুচিত ও ক্ষোভজনক, তা হলো—এই দখলকৃত স্থাপনাকে নিজেদের নির্মাণ বলে মিথ্যা দাবি করা।

এই মিথ্যা প্রচারের কাজ শুরু হয়েছিল মুসলিম দরবারের চাটুকার ও ইতিহাসলেখকদের হাত ধরে। তারা অস্পষ্ট সূত্র টেনে এনে দাবি করেছিল, যেন সম্রাট নিজে এসব মহৎ স্থাপত্য নির্মাণ করেছেন। এর পেছনে উদ্দেশ্য ছিল—সম্রাট যেন ভাবতে পারেন তিনি কোনো “কাফির” নিদর্শনে নয়, বরং নিজের নির্মিত রাজপ্রাসাদে বাস করছেন।

দরবারি সংস্কৃতি ও ভ্রান্ত ইতিহাস

মুসলিম দরবারের আচার-আচরণ যারা জানেন তারা অবগত—প্রতিটি অধীনস্থ ব্যক্তি নিজেকে কেবল সম্রাটের দাস মনে করত। তার নিজের ঘরবাড়ি, এমনকি সন্তানদের স্বত্বও সে সম্রাটকে উৎসর্গ করত। এ ধরনের চরম চাটুকারিতার পরিবেশে যখন দখলকৃত হিন্দু স্থাপনাগুলির কৃতিত্ব মুসলিম শাসকদের দেওয়া শুরু হয়, তখন তাতে আশ্চর্যের কিছুই নেই। কিন্তু ভবিষ্যৎ ইতিহাসবিদদের উচিত হবে না এই মিথ্যা দাবিকে অন্ধভাবে মেনে নেওয়া

ইতিহাসের পুনঃসমীক্ষা প্রয়োজন

আধুনিক গবেষকদের উচিত প্রতিটি মধ্যযুগীয় স্থাপনা ও নগরীর গভীর পর্যালোচনা করা। প্রাচীন দলিল, শিলালিপি ও স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য যাচাই করেই নির্মাণের প্রকৃত ইতিহাস নির্ধারণ করা দরকার।

ইতিমধ্যেই আগ্রার তাজমহল এবং ফতেহপুর সিক্রি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে যে এগুলি আসলে প্রাচীন হিন্দু স্থাপত্য, যা ভুলবশত মুসলিম শাসকদের নামে চালানো হয়েছে।

এ আলোচনায় আমাদের মূল বিষয় হলো—আগ্রার লালকিল্লা। অন্যান্য সব মধ্যযুগীয় স্থাপনার মতোই এর কৃতিত্বও মুসলিম সম্রাটদের নামে দেওয়া হয়েছে। অথচ বাস্তবতা হলো, লালকিলা ছিল এক বিশাল, জাঁকজমকপূর্ণ, প্রাচীন হিন্দু স্থাপনা—যা পরবর্তীতে মুসলিম শাসকদের দখলে গিয়েছিল। ইতিহাসের চাটুকাররা পরে লিখে দিল যে, এই দুর্গ নাকি মুসলিম বিজেতাদের নির্মাণকর্ম।

আগ্রার লালকিলা: প্রাচীন হিন্দু দুর্গের বিকৃত ইতিহাস

ভারতের ইতিহাস নিয়ে যত আলোচনা হয়, তার মধ্যে অন্যতম বিতর্কিত বিষয় হলো আগ্রার লালকিলা। প্রচলিত ইতিহাসে বলা হয় যে এই দুর্গ সম্রাট আকবর নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু প্রাচীন দলিল-দস্তাবেজ, ইউরোপীয় ইতিহাসবিদদের নথি এবং প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ দেখায় যে এই দুর্গ আসলে বহু সহস্র বছরের পুরনো হিন্দু রাজপ্রাসাদ, যাকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে মুসলিম শাসকরা কেবল নিজেদের নামে দাবি করেছেন।

প্রাচীন নগর ও দুর্গ প্রথা

প্রাচীন ভারতে প্রতিটি প্রধান নগরে এক বিশাল রাজপ্রাসাদ-সজ্জিত দুর্গ থাকত। আগ্রাও ছিল তেমনই এক প্রাচীন নগর, যেখানে বিশাল প্রাচীর, নগর-দ্বার এবং অন্তর্গত দুর্গ আজও দাঁড়িয়ে আছে। ইতিহাসবিদরা উল্লেখ করেন যে এই নগর ও দুর্গের উৎপত্তি আর্যযুগেরও আগে—ইসাপূর্ব প্রায় ২০০০ অব্দে। ঐতিহ্য অনুসারে এর সঙ্গে পাণ্ডবদের সম্পর্কও যুক্ত।

অশোক ও কানিষ্কের আমল

ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ কীন তাঁর Handbook for Visitors to Agra গ্রন্থে লিখেছেন যে সম্রাট অশোক (খ্রিস্টপূর্ব ২৬৩–২২৩) আগ্রার দুর্গকে ব্যবহার করেছিলেন। পরবর্তীতে সম্রাট কানিষ্ক এটিকে রাজ্য-কারাগার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। প্রত্নতত্ত্ববিদ অর্টেল আগ্রার কেল্লার ভেতরে জৈন বা বৌদ্ধ নিদর্শনের মতো প্রাচীন ভিত্তিপ্রস্তর আবিষ্কার করেন, যা প্রমাণ করে যে আকবরের বহু হাজার বছর আগেই এই দুর্গ বিদ্যমান ছিল।

মহম্মদ গজনির আক্রমণ

খ্রিস্টীয় ১০১৮ সালে মহম্মদ গজনি আগ্রায় আক্রমণ চালায়। মুসলিম ইতিহাসগ্রন্থে বলা হয়েছে যে সে “একটি দুর্গ ধ্বংস করে”। কিন্তু গবেষকরা দেখিয়েছেন, “ধ্বংস” বলতে এখানে বোঝানো হয়েছে কেবল প্রতিমা ভাঙা বা সাময়িক ক্ষতি; দুর্গের মূল স্থাপত্য অক্ষতই রয়ে যায়। কারণ, বিশাল সেনাদল নিয়ে আসা কোনো আক্রমণকারী নিজের নিরাপত্তার আশ্রয় নষ্ট করে দিতে পারে না।

মুসলিম ইতিহাসকারদের বিকৃতি

মধ্যযুগীয় মুসলিম ইতিহাসগ্রন্থে বারবার বলা হয়েছে—আগ্রা “গ্রাম মাত্র হয়ে গিয়েছিল”। বাস্তবে এর অর্থ ছিল, তখনকার মুসলিম শাসকরা একে রাজধানী করেননি, কিন্তু নগর ও দুর্গ বিদ্যমান ছিল। অনেক জায়গায় “মন্দির ভাঙা ও মসজিদ গড়া” কথাটির মানেও আসলে হলো—হিন্দু প্রতিমা চাপা দেওয়া হয়েছে এবং মন্দিরকেই নামাজের স্থানে পরিণত করা হয়েছে।

আকবর ও লালকিলা

প্রচলিত ধারণা হলো আকবর আগ্রার প্রাচীন দুর্গ ভেঙে নতুন লালকিলা বানান। কিন্তু সমসাময়িক বর্ণনাগুলো খতিয়ে দেখলে দেখা যায়, আকবর নিজেও সেই পুরনো দুর্গেই বাস করতেন। তখন এ দুর্গকে বলা হতো “বাদলগড়”, যা আজও স্থানীয়ভাবে সেই নামে পরিচিত। যদি সত্যিই আকবর নতুন কেল্লা বানাতেন, তবে পুরোনো নাম টিকে থাকত না।

আবার, দুর্গ-নির্মাণ কোনো সাধারণ কাজ নয়। বছরের পর বছর, বিপুল অর্থ ও শ্রম ব্যয় হয়। আকবর যিনি প্রায় সারাজীবন বিদ্রোহ দমন আর যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, তাঁর পক্ষে একটি পুরনো দুর্গ ভেঙে নতুন বানানো বাস্তবসম্মত নয়।

যেখানে ইতিহাস নীরব

যদি সত্যিই আকবর নতুন লালকিলা বানাতেন, তবে তাঁর সমসাময়িক ইতিহাসকার—বদাউনি, আবুল ফজল, নিযামউদ্দিন—এ নিয়ে বিস্তারিত লিখতেন। অথচ এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট বর্ণনা নেই। কেবল পরবর্তী সময়ে জাহাঙ্গীরের স্মৃতিকথায় অস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যা ইতিহাসবিদরা বারবার সন্দেহের চোখে দেখেছেন।

সব তথ্য একত্র করলে দেখা যায়—

  • আগ্রার দুর্গের উৎপত্তি প্রাচীন হিন্দু যুগে।

  • অশোক, কানিষ্ক, এমনকি পরবর্তীকালে রাজপুত সম্রাটরাও এখানে অবস্থান করেছেন।

  • মহম্মদ গজনি থেকে শুরু করে লোধি, সুরি, মুঘল—সবাই কেবল এই প্রাচীন দুর্গকেই দখল করে নিজেদের নামে দাবি করেছে।

  • আজকের লালকিলা আসলে সেই প্রাচীন হিন্দু দুর্গ, যার ইতিহাস প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো

তবু দুঃখজনক হলো, আমাদের ইতিহাস বইগুলোতে আজও বলা হয় যে আগ্রার লালকিলা আকবর নির্মাণ করেছিলেন। বাস্তবে এটি এক চরম ঐতিহাসিক বিকৃতি, যা সময় এসেছে নতুন প্রমাণ দিয়ে সংশোধন করার।


✍️ মোটকথা: ইতিহাসকে বিকৃত না করে সত্যকে সামনে আনা আমাদের দায়িত্ব। আগ্রার লালকিলা সেই প্রাচীন হিন্দু স্থাপত্যেরই সাক্ষী, যেটি যুগ যুগ ধরে ভারতীয় গৌরবের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

🔴 আগ্রার লালকিলা – ইতিহাসের সত্য ও মিথ

  • প্রচলিত ইতিহাসে বলা হয়, সম্রাট আকবর "বদলগড়" নামক দুর্গ ভেঙে সেখানে নতুন লালকিলা নির্মাণ করেছিলেন।

  • কিন্তু ইতিহাসবিদ কীন স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন – আজম খান (অতগাহ খাঁ) ও আধম খাঁ-র হত্যাকাণ্ড ১৫৬৬ খ্রিষ্টাব্দে দুর্গের ভেতরেই ঘটেছিল।

  • অথচ, যদি দুর্গ ১৫৬৪ সালে ভেঙে দেওয়া হত, তবে মাত্র ২ বছরের মধ্যে আবার নতুন কিলা তৈরি, তাতে রাজপ্রাসাদ, বহুতল ভবন, এবং রাজদরবার চালু হয়ে যাওয়া একেবারেই অসম্ভব।

  • তাই কীন-এর মতে, হত্যাকাণ্ডটি আকবরের নতুন কিলায় নয়, পুরনো বদলগড় দুর্গেই ঘটেছিল।

  • তিনি আশ্চর্য হয়ে লিখেছেন – যখন ১৫৬৬ সালে নতুন কিলার প্রাচীরের ভিত্তিও পুরো হয়নি, তখন দ্বিতীয় তলা থেকে কাউকে নিচে ফেলে দেওয়া কীভাবে সম্ভব?

  • প্রকৃতপক্ষে, আজকের আগ্রার লালকিলা আসলেই প্রাচীন হিন্দু দুর্গ (বদলগড়), যেটি আকবর ধ্বংস করেননি; বরং সেটিকেই ব্যবহার করেছিলেন।


🔴 বদলগড় দুর্গের বাস্তব ইতিহাস

  • বদলগড় দুর্গ বহু প্রাচীন। সম্রাট অশোক (খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতক) থেকে শুরু করে পৃথ্বীরাজ চৌহান পর্যন্ত বহু হিন্দু রাজা সেখানে বসবাস করেছিলেন।

  • পরে মধ্যযুগে এর নাম হয়ে যায় বদলগড়

  • আজও লালকিলার ভেতরে দেওয়ান-ই-আমদেওয়ান-ই-খাস নামক মহল আছে – এগুলো আসলে হিন্দু স্থাপত্যের অংশ, পরে কেবল নাম বদলে দেওয়া হয়েছে।

  • ঐতিহাসিক প্রমাণ অনুযায়ী, সিকন্দর লোদী-র সময়েও এখানে একটি দুর্গ ছিল, কিন্তু আজ তার কোনও চিহ্ন নেই।

  • অথচ হিন্দু দুর্গের উল্লেখ সর্বত্রই পাওয়া যায়।

  • ইউরোপীয় ও মুসলিম ইতিহাসকাররা প্রায়শই চেষ্টা করেছেন প্রতিটি দুর্গের নির্মাণ-শ্রেয় মুসলিম শাসকদের দিতে।

  • কিন্তু বাস্তব হলো – আগ্রার লালকিলা আসলে অন্তত ২১০০ বছরের পুরোনো হিন্দু দুর্গ


🔴 মূলকথনঃ

👉 আজ আমরা যেটিকে "আগ্রার লালকিলা" বলে জানি, সেটি কোনও মুসলিম শাসকের নতুন সৃষ্টি নয়।
👉 বরং এটি বহু প্রাচীন হিন্দু দুর্গ – বদলগড়, যেটি আকবর কেবল নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করেছিলেন।
👉 মুসলিম আক্রমণকারীরা শুধু এর অংশবিশেষের নাম বদল করেছিলেন, যেমন – "দেওয়ান-ই-আম", "দেওয়ান-ই-খাস" ইত্যাদি।

মধ্যযুগীয় ভবনের দর্শকরা, যারা এই ধরনের ইসলামি শিলালিপি ঐ ভবনগুলিতে খোদিত দেখতে পান, বিশ্বাস করেন যে এই শিলালিপিগুলো ঐ ভবনের মুসলিম-উৎপত্তি প্রমাণ করছে। এটি একটি বড় ভুল এবং বিভ্রান্তি। ইতিহাসের ছাত্র-ছাত্রী ও পণ্ডিতরাও প্রায়শই এই প্রপঞ্চের শিকার হয়ে যান।

তারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন যে বন-বিহারীরা বিভিন্ন অযৌক্তিক ও অসঙ্গত বিষয় দিয়ে বন-বিহারের স্থানগুলো প্রায় সম্পূর্ণরূপে ভরিয়ে দেন। সেই অসংখ্য ভিন্ন লিপি দেখে কি অনুমান করা উচিত যে সেই স্থানের প্রতিষ্ঠাতা বা নির্মাতা সেই ব্যক্তিরা ছিলেন? বরং বিপরীতটি সঠিক হবে—যে ব্যক্তিরা এই অসঙ্গত লেখা দিয়ে সম্পত্তি নষ্ট করেছে, তারা ছিলেন অনিয়মপ্রিয়, স্বার্থপর এবং অন্যের সম্পত্তি নষ্ট করতে কোন লজ্জা বা বাধা নেই এমন মানুষ। বাস্তব মালিক বা নির্মাতা কখনও নিজের সম্পত্তিতে অর্থহীন বা তুচ্ছ লেখা খোদাই করে ধ্বংস করবেন না। বরং তিনি তাদের দূরে রাখার চেষ্টা করবেন যারা তার ভবনে পত্রিকা বা অযৌক্তিক লেখা লাগাতে আসে।

মধ্যযুগীয় ভবনে মুসলিম লেখার এই বাস্তবতা একইরকম। প্রায় কোন স্থানে মধ্যযুগীয় ভবনের ইসলামি খোদাইতে সেই ভবনের নির্মাণ বা স্থাপত্যের দাবি নেই। তবে সকল মধ্যযুগীয় ভবনে প্রচুর ইসলামি লিপি পাওয়া যায়। উপরোক্ত যুক্তি অনুসারে, এই ইসলামি খোদাই সম্পূর্ণরূপে দেখায় যে লেখকরা নির্মাতা ছিলেন না। অন্যান্য ঐতিহাসিক প্রমাণও এই ধারণাকে সমর্থন করে।

প্রায়োগিক উদাহরণ হিসেবে তাজমহল ও ফতেপুর সিক্রির রাজমহল উল্লেখ করা যায়। তাজমহলে প্রচুর ফারসী শব্দ খোদাই করা হয়েছে, কিন্তু কোথাও বলা হয়নি যে এটি শাহজাহান নির্মাণ করেছিলেন। তদ্রূপ ফতেপুর সিক্রির ভবনগুলির বহু শিলালিপি থাকলেও কোনো শিলালিপিতে দাবি নেই যে এটি নির্মাণ করেছিলেন আকবর বা সেলিম চিশ্তি—যেমন প্রায়শই ইতিহাস ও পর্যটক সাহিত্য ভুলভাবে দেখায়।

যদি কোনো সত্যিকার মালিক বা নির্মাতা শিলালিপি রাখতেন, তবে তিনি স্পষ্টভাবে বলতেন কে নির্মাণ করেছেন, উদ্দেশ্য কী, কত সময় লেগেছে, এবং কর্মীরা কারা ছিলেন। যদি শিলালিপিতে অসংগঠিত বা তুচ্ছ লেখা থাকে, তবে এর মানে লেখক ভবনের দখলকারী বা ক্ষতিকারক ব্যক্তি, মালিক নয়। উদাহরণস্বরূপ, ফতেপুর সিক্রির শিলালিপিগুলোতে আকবরের গুজরাট এবং খাঁন দেশের বিজয়ের বর্ণনা, জীবন ও মৃত্যু সম্পর্কে অযৌক্তিক শিক্ষামূলক লেখা রয়েছে। এই অসঙ্গত খোদাই থেকে বোঝা যায় না যে আকবর সেই দ্বারটি নির্মাণ করেছেন; বরং ইতিহাসবিদরা ভুলভাবে ধরে নিয়েছেন যে এই বিজয় স্মৃতি হিসেবে তিনি তা নির্মাণ করেছিলেন।

অতএব ইতিহাসবিদদের উচিত ছিল উল্টো সিদ্ধান্ত নেওয়া—যেহেতু আকবরের সময় অযৌক্তিক লেখা করা হয়েছে, তাই তিনি নির্মাতা নন। এই যুক্তি অনুযায়ী সকল মধ্যযুগীয় শিলালিপি পুনঃমূল্যায়ন করা উচিত, যেগুলোতে মুসলিমদের অহেতুক ক্রেডিট দেওয়া হয়েছে।

আগ্রায় লালকিলে শিলালিপি সংক্রান্ত উদাহরণে, সাইয়্যদ মুহাম্মদ লতিফ লিখেছেন যে, “দিল্লির প্রাচীন রক্ষক ভবনের তোরণদ্বারে আকবরের সময়ের শিলালিপি আছে, হিজরি ১০০৮ (১৫৯৬ খ্রিঃ)। শিলালিপি মূলত বিগড়ে গেছে। এটি দেখায় যে ভবন ১৫৯৬ সালে নির্মিত হয়েছিল।”

লতিফের এই ব্যাখ্যায় ভুল হয়েছে; শিলালিপি আসলে নির্মাতা সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট দাবি করছে না। শুধু যে কোনো ব্যক্তি দেয়ালের উপর নিজের ইচ্ছামত লেখা খোদাই করলে কি তিনি নির্মাতা হয়ে যান? ইতিহাসবিদদের এই পদ্ধতি অনুসরণ করা বিপজ্জনক।

ফতেপুর সিক্রি ও অন্যান্য স্থানে আকবরের অযৌক্তিক শিলালিপি থেকে সহজেই বোঝা যায় যে, প্রাথমিক পংক্তিগুলো কোনো নির্মাণের দাবী করেনি। রক্ষক ভবন কেবল কেল্লার ছোট অংশ ছিল, প্রধান অংশ নয়। শিলালিপিতে কোনো নির্মাণকাল বা খরচের উল্লেখ নেই। ইতিহাসবিদরা যদি দাবি করতেন, তাহলে তারা ভুলভাবে মানুষকে বিশ্বাস করাত যে আকবর নির্মাতা।

জাহাঙ্গীরের শাসনকালে রক্ষক ভবনের নিচের অংশে কাব্যময় শিলালিপি ছিল, যা স্পষ্টভাবে নির্মাণের দাবি করেনি। শিলালিপি লেখক সম্ভবত শাসককে চাটুর্য দেখিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি ভবনের নির্মাতা নন।

শাহজাহানের সময়ের মোতী মসজিদ সম্পর্কেও শিলালিপি রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে এটি সাত বছরে তিন লাখ রুপি ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে। তবে এই দাবি সন্দেহজনক। মুসলিম শাসক ও চাটুকাররা ব্যয় ও খরচ অতিরঞ্জিত করে দেখাতেন। প্রকৃত খরচ অনেক কম হতে পারে।

মধ্যযুগীয় মুসলিম শিলালিপি প্রায়শই অসংগত, অপ্রাসঙ্গিক এবং চাটুকারিতার প্রমাণ। এগুলো থেকে যে ভবন মুসলিমদের দ্বারা নির্মিত তা বোঝা যায় না। বরং দেখা যায়, অনেক প্রাচীন হিন্দু মন্দির ও শিলালিপি মুসলিমদের হাতে এসে সংরক্ষিত হয়েছে, এবং সেই স্থানগুলিতে শিলালিপি দিয়ে হিন্দু নিদর্শন আচ্ছাদিত বা দখল করা হয়েছে।

উপসংহারে, আগ্রার লালকিলের মুসলিম শিলালিপি ও শাসক কর্তৃক দেয়া তথ্য থেকে বোঝা যায় যে, মুসলিম শাসকরা কেবল হিন্দু ভবন দখল করেছিলেন; এই ভবনের প্রকৃত নির্মাতা ছিলেন না। শিলালিপি প্রায়শই চাটুকারিতাপূর্ণ, অসঙ্গত ও বিশ্বাসযোগ্য নয়।

মধ্যযুগীয় মুসলিম শিলালিপি ও ইতিহাসের ভুল ধারণা: মূল পয়েন্ট

  1. ভুল ধারণা: দর্শকরা মধ্যযুগীয় ভবনে ইসলামি খোদাই দেখে ভেবেছেন, “এই ভবন মুসলিমদের দ্বারা নির্মিত।” এটি একটি বড় ভুল।

  2. শিলালিপি = নির্মাতা নয়:

    • বহু শিলালিপি অসংগত, তুচ্ছ বা চাটুকারিতাপূর্ণ লেখা।

    • বাস্তব নির্মাতা কখনও নিজের সম্পত্তিতে অযৌক্তিক লেখা খোদাই করেন না।

    • উদাহরণ: ফতেপুর সিক্রির শিলালিপিতে আকবরের বিজয় বর্ণনা, কিন্তু এটি নির্মাণের দাবি নয়।

  3. তাজমহল ও ফতেপুর সিক্রি:

    • তাজমহলে ফারসী খোদাই আছে, কিন্তু নির্মাণের কোনো দাবি নেই।

    • ফতেপুর সিক্রির বহু শিলালিপি আছে, তবে আকবর বা সেলিম চিশ্তির কোনো নির্মাণ দাবি নেই।

  4. শিলালিপির প্রকৃতি:

    • প্রায়শই চাটুকারিতা, অযৌক্তিক প্রশংসা এবং কবিতাময় লেখা।

    • নির্মাণকাল, খরচ, নির্মাতা বা উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে বলা হয় না।

    • উদাহরণ: শাহজাহানের মোতী মসজিদ – শিলালিপিতে সাত বছরে তিন লাখ রুপি ব্যয় উল্লেখ আছে, কিন্তু বাস্তবতায় এ ধরনের তথ্য অতিরঞ্জিত।

  5. মূল ধারণা:

    • মুসলিম শাসকরা প্রায়শই হিন্দু মন্দির বা ভবন দখল করতেন।

    • শিলালিপি দিয়ে তারা কেবল নিজের ক্ষমতা বা প্রভাব প্রদর্শন করতেন, নির্মাণের দাবি নয়।

    • দর্শক ও ইতিহাসবিদরা যদি এই শিলালিপি থেকে নির্মাণের দাবি ধরে নেন, এটি ভুল ফলাফলের দিকে নিয়ে যায়।

  6. উপসংহার:

    • মধ্যযুগীয় মুসলিম শিলালিপি প্রায়শই অসঙ্গত ও চাটুকারিতাপূর্ণ।

    • আসল নির্মাতা ছিলেন পূর্ববর্তী হিন্দু শাসকরা।

    • শিলালিপি থেকে ভবন নির্মাণের সত্যিই তথ্য পাওয়া যায় না।

    • তাই ইতিহাসের শিক্ষার্থীদের ও দর্শকদের বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়।

আপনি যে লম্বা হিন্দি পাঠটি অনুবাদ করতে চাইছেন, তার জন্য আমি পুরো কন্টেক্সট ধরে বাংলা দীর্ঘ অনুবাদ দিতে পারি। যেহেতু এটি একটি বিশদ এবং ঐতিহাসিক আলোচনার লেখা, তাই আমি অনুবাদটি বিস্তারিত এবং ধারাবাহিকভাবে দীর্ঘ আকারে উপস্থাপন করছি:


লালকিলা হলো হিন্দু বাদলগড়

‘বাদলগড়’ শব্দটি, যা আজও আগ্রা-স্থিত লালকিলার শাহী অংশগুলোর নামে ব্যবহৃত হয়, মধ্যযুগে যথেষ্ট জনপ্রিয় এবং প্রচলিত ছিল। এটি কেবল আগ্রার কিলার জন্য বিশেষ নয়, বরং বহু হিন্দু কিলার শাহী অংশ বা তার সংলগ্ন অংশগুলোর নামকরণে এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। তাই কিছু ইতিহাসবিদের মতবাদ ভুল যে, বাদলগড় নির্মাণ করেছিলেন কোনো ‘বাদলসিংহ’ নামে একজন সরদার।

ইতিহাসবিদদের উচিত খুঁজে দেখা, মধ্যযুগে হিন্দু কিলার অভ্যন্তরীণ অংশ বা সংলগ্ন অংশের নাম কখন এবং কীভাবে ‘বাদলগড়’ হয়েছে। কিন্তু শব্দের ব্যবহার এত সাধারণ ছিল যে, এটি বহু হিন্দু কিলার বর্ণনায় বারবার এসেছে।

উদাহরণস্বরূপ, বাদশাহ আকবরের সমকালীন বদায়ুনী ইতিহাসবিদ উল্লেখ করেছেন যে, গ্বালিয়রে কিলার তিলহাটিতে একটি অত্যন্ত উঁচু নির্মাণ রয়েছে, যা বাদলগড় নামে পরিচিত। রাজস্থানের ইতিহাসে কিলার ভিতরে অনেক স্থান আমরা পাই, যেগুলিকে বাদলগড় বলা হয়। একই প্রথায় আগ্রার লালকিলাও বা তার ভিতরের শাহী রাজমহল বাদলগড় নামে পরিচিত হয়।

প্রত্যয় হয় যে, ‘বাদলগড়’ শব্দটি প্রাকৃত-মূলের। আগ্রার লালকিলার নাম অশোকের যুগে এবং কনিষ্কের যুগে আলাদা আলাদা থাকত, যখন সংস্কৃতই সাধারণ ব্যবহারভাষা ছিল।

ডক্টর এস. ভি. কেতকর কর্তৃক প্রকাশিত “মহারাষ্ট্রীয় জ্ঞানকোষ”-এ বলা হয়েছে যে, আগ্রা নগরের প্রাচীন নাম ছিল যমগ্রস্থ। তাই প্রাচীন ইতিহাসের গবেষকদের উচিত অশোক ও কনিষ্কের শাসনকাল সম্পর্কিত বর্ণনা থেকে আগ্রার উপনাম ‘যমপ্রস্থ’-এর লালকিলার প্রাচীন সংস্কৃত নাম খুঁজে বের করা। সম্ভবত এটি কোনো বিশেষ নাম ছিল, অথবা বর্তমানের মতো লালকিলা অর্থে ‘তাম্রদুর্গ’ বা ‘লোহিতদুর্গ’।

মুসলিম আক্রমণকারীদের হাতে পড়ার পূর্বে এই কিলাকে ‘বাদলগড়’ নামেও ডাকত। কিলার ইতিহাসে যে নামই থাকুক, এটি নিশ্চিত যে, আজ দর্শক যে কিলাটি আগ্রায় দেখে, তা সেই কিলাই যা অশোক এবং কনিষ্কের মতো প্রাচীন হিন্দু সম্রাটদের অধীনে ছিল। ধারণা যে, মূল হিন্দু কিলা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল বা সিকন্দর লোধী, সলিম শাহ সুর ও আকবর দ্বারা ধ্বংস হয়ে অন্য কিলার নির্মাণ হয়েছিল, এটি ভুল। এই ধরনের ধারণা মুসলিম শাসনকালে সচেতনভাবে প্রচারিত ভ্রান্ত গল্প থেকে উদ্ভূত, যা মুসলিম সাম্রাজ্যবাদী তামাশা এবং আবগারিক গল্পের অংশ।

বর্তমান ভারত সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগও মনে হয় এই দিকটিকে স্বীকার করে, যখন তারা পর্যবেক্ষণ করে: “প্রথা বলে যে, বাদলগড়ের পুরানো কিলা, সম্ভবত প্রাচীন তমর বা চৌহানদের শক্ত কেন্দ্র ছিল, আকবর দ্বারা পুনর্গঠিত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সম্প্রসারিত বা হ্রাস করা হয়েছিল। কিন্তু এটি যেখানে যাচাগীর দ্বারা নিশ্চিত করা হয়নি।”

উপরিউক্ত উদ্ধৃতির লেখক একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রত্নতত্ত্ব কর্মী এবং তার বই বর্তমান ভারত সরকারের প্রকাশিত। যেখানে বলা হয়েছে বাদলগড় লালকিলা একটি প্রাচীন হিন্দু কিলা, লেখক পুরোপুরি সঠিক। তবে কিছু অংশে কিছু সংশোধন প্রয়োজন।

যদি, যেমন বলা হয়েছে, আগ্রার লালকিলা অশোক ও কনিষ্কের শাসনে ছিল, তা স্পষ্ট যে কিলা পরবর্তীতে উত্তরাধিকার সূত্রে তমর ও চৌহান রাজাদের হাতে এসেছে, তারা এটি নির্মাণ করেনি। আকবর কিলার রূপান্তর করেনি, এবং কিলা আজও প্রাচীন হিন্দু স্থাপত্যশৈলীতে অক্ষত।

যেখানে বলা হয়েছে যে, আকবরের ছেলে ও উত্তরাধিকারী যঙ্গীর বলেছেন যে আকবর কিলা ধ্বংস করেছিলেন এবং নতুন কিলা তৈরি করেছেন, আমরা ইতিমধ্যে বলেছেন যে, যঙ্গীর স্মৃতিকথা (যা যঙ্গীরনামা নামে পরিচিত) ইতিহাসের জন্য সবচেয়ে অবিশ্বাস্য প্রমাণ। এটি কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল নয়। বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণ দেখায়, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর।

লালকিলার শিলালিপি ও অন্যান্য প্রমাণ দেখায় যে, এটি প্রাচীন হিন্দু কিলাই ছিল, যা বিভিন্ন মুসলিম শাসকের আক্রমণের পরও বিদ্যমান ছিল। ১৫৬৬ সালে বাদলগড়ের ছাদে আধম খানের দ্বারা আজম খানের হত্যা এটি প্রমাণ করে, যেখানে বলা হয়েছিল কিলাটি আকবর ধ্বংস করেছেন, এটি পুরোপুরি অসত্য।

মুসলিম শাসকদের দ্বারা কিলার ধ্বংস বা পুনর্নির্মাণের দাবিগুলি ভিত্তিহীন। ইতিহাস এবং স্থাপত্যগত প্রমাণ দেখায়, কিলার প্রাচীন হিন্দু অংশ এখনও বিদ্যমান এবং ‘বাদলগড়’ নামের সাথে পরিচিত।

লালকিলার পাথরগুলো লোহার বেল্টের মাধ্যমে যুক্ত, যা প্রাচীন হিন্দু প্রযুক্তি। এটি হিন্দু নকশা এবং স্থাপত্যের প্রমাণ।

কীণ, ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ, এইসব তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে, আগ্রার কিলা প্রাচীন হিন্দু কিলা যা মধ্যযুগে বাদলগড় নামে পরিচিত হয়েছে। সিকন্দর লোধী, সলিম শাহ সুর বা আকবরদের যে দাবি কিলার নির্মাণের, তা ভ্রান্ত। কিলার শাহী অংশ এখনও বাদলগড় নামে পরিচিত।

সারসংক্ষেপে, লালকিলা প্রাচীন হিন্দু কিলার অবিচ্ছিন্ন ইতিহাস প্রায় ২২০০ বছর ধরে বিদ্যমান। মুসলিম শাসকরা কোনো নতুন কিলা তৈরি করেননি, কেবল এটি দখল করেছিলেন। বর্তমান লালকিলার সব স্থাপত্যমূল্য প্রাচীন হিন্দু নকশারই উদাহরণ।

🛡️ লালকিলা – প্রাচীন হিন্দু কিলার ইতিহাস 🛡️

আপনি কি জানেন? আজ আমরা যে আগ্রার লালকিলা দেখতে পাই, তা মধ্যযুগে ‘বাদলগড়’ নামে পরিচিত ছিল। ❌ কোনো ‘বাদলসিংহ’ এর দ্বারা নির্মিত কল্পকাহিনী ভুল।

📜 ইতিহাস বলে:

  • ‘বাদলগড়’ শব্দটি বহু হিন্দু কিলার শাহী অংশ বা সংলগ্ন অংশে প্রচলিত ছিল।

  • গ্বালিয়র, রাজস্থান সহ বিভিন্ন কিলাতেও এটি ব্যবহৃত হয়েছে।

  • প্রাচীন কিলার নামকরণ প্রাকৃত-মূলের, সংস্কৃত ব্যবহারিক যুগে এর ভিত্তি ছিল।

🏰 লালকিলা কীভাবে প্রমাণ করে প্রাচীন হিন্দু স্থাপত্য?

  • অশোক ও কনিষ্কের যুগে আগ্রার লালকিলা বিদ্যমান ছিল।

  • পরবর্তীতে তমর ও চৌহান রাজারা উত্তরাধিকার সূত্রে এটি পান, নির্মাণ করেননি।

  • আকবর বা অন্যান্য মুসলিম শাসকরা কেবল দখল করেছিলেন, ধ্বংস বা নতুন কিলা নির্মাণ করেননি।

  • ১৫৬৬ সালে বাদলগড়ের ছাদে আধম খানের দ্বারা আজম খানের হত্যা প্রমাণ করে কিলার প্রাচীনত্ব।

  • শিলালিপি ও স্থাপত্যমূলক প্রমাণ, লোহার বেল্ট যুক্ত পাথর – সব প্রাচীন হিন্দু প্রযুক্তির নিদর্শন।

🔹 সারসংক্ষেপ:
লালকিলা প্রায় ২১০০ বছরের অবিচ্ছিন্ন হিন্দু ইতিহাসের অংশ। আজও তার শাহী অংশ ‘বাদলগড়’ নামে পরিচিত। মুসলিম শাসকদের ধ্বংস বা পুনর্নির্মাণের গল্প ইতিহাসের ভিত্তিহীন কল্পকাহিনী মাত্র।

💡 আসল ইতিহাসের স্বীকৃতি দিয়ে লালকিলাকে প্রাচীন হিন্দু স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন হিসেবে দেখাই।

অবশ্যই ✅ আমি লেখাটিকে একটি ব্লগ আকারে সাজিয়ে দিচ্ছি—যাতে শিরোনাম, উপ-শিরোনাম এবং অনুচ্ছেদগুলো পাঠযোগ্য ও সুসংগঠিত হয়।


আগ্রার লাল কেল্লা: প্রকৃত ইতিহাস না বিকৃত দাবি?

জাহাঙ্গীর ও বাদলগড়

ঐতিহাসিক তথ্য থেকে বোঝা যায় যে জাহাঙ্গীর আগ্রার লাল কেল্লা অর্থাৎ বাদলগড় প্রাসাদেই বসবাস করতেন। তিনি নিজে কোনো নতুন স্থাপনা নির্মাণ করেননি।

আওরঙ্গজেব ও দেওয়ান-ই-আম-এর বিতর্ক

কিন উল্লেখ করেছেন যে ঐতিহ্য অনুযায়ী দেওয়ান-ই-আম আওরঙ্গজেব তাঁর শাসনকালের ২৭তম বছরে (১৬৮৫ খ্রিষ্টাব্দ) নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু ইতিহাস বলছে সেই সময় তিনি বিজাপুর বিজয়ে ও দাক্ষিণাত্যের আক্রমণে ব্যস্ত ছিলেন। ১৭০৭ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দক্ষিণেই অবস্থান করেন।
➡️ সুতরাং, এই দাবিটি ভিত্তিহীন এবং প্রতিটি ইসলামী স্থাপত্যের দাবি সামান্য অনুসন্ধানেই মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

শাহজাহানী মহল বনাম আকবরের প্রাসাদ

একটি আধুনিক গাইড বই শাহজাহানী মহলকে আকবরের প্রাসাদ বলেছিল। কিন সেই বইটিকে ভুল বললেও আসলে বইটিই সঠিক ছিল। আকবরের আমলে দুর্গকে "আকবরের দুর্গ", জাহাঙ্গীরের আমলে "জাহাঙ্গীরের দুর্গ" এবং শাহজাহানের আমলে "শাহজাহানের প্রাসাদ" বলা হতো।
➡️ অতএব, সমস্ত প্রাসাদই প্রাচীন হিন্দু প্রাসাদ, যা মুসলিম শাসকের দখলে চলে গিয়েছিল।

মুঘল পতনের পর

আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মুঘল সাম্রাজ্য ধ্বংস হয় এবং আর কোনো মুসলিম শাসক আগ্রার লাল কেল্লায় পরিবর্তন আনেননি। ফলে আজকের লাল কেল্লা আসলে সেই প্রাচীন হিন্দু বাদলগড়, যা কেবল বিদেশী মুসলিম শাসকদের দ্বারা দখল ও অপবিত্র করা হয়েছিল।

দুর্গ ধ্বংসের যুক্তিহীনতা

সিকান্দার লোদী, সেলিম শাহ সুর ও আকবর – তিনজনই একে অপরের কাছাকাছি সময়ে শাসন করেছেন।

  • যদি তাঁরা একের পর এক দুর্গ ভেঙে নতুন দুর্গ বানাতেন, তাহলে ভিত্তি ও গঠনভেদ আজও স্পষ্ট হতো।

  • এত অল্প সময়ে দুর্দান্ত দুর্গ নির্মাণ করা তাঁদের জন্য অসম্ভব ছিল, কারণ তাঁদের শাসনকাল বিদ্রোহ, যুদ্ধ ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে ভরা ছিল।

➡️ বিশাল দুর্গ ভেঙে তার ধ্বংসস্তূপ সরাতে একটি প্রজন্ম, আর নতুন দুর্গ নির্মাণে অন্তত তিন প্রজন্ম লেগে যেত। মুসলিম শাসকদের অস্থির জীবনে এমন দীর্ঘমেয়াদি কাজ সম্ভব ছিল না।

মুসলিম আক্রমণকারীদের চরিত্র

তুর্কি, আরব, ইরানি ও মুঘলরা আসলে ছিল অশিক্ষিত ও বর্বর জাতি। তারা জানতো—

  • অগ্নিসংযোগ

  • লুটপাট

  • জোরপূর্বক যৌনতা

  • হত্যা ও গণহত্যা

কিন্তু বিশাল দুর্গ নির্মাণের জন্য যে শিল্প, জ্ঞান ও দীর্ঘ শান্তিকাল প্রয়োজন, তা কেবল হিন্দু সভ্যতার মধ্যেই ছিল।

'লাল' রঙের তাৎপর্য

হিন্দু সংস্কৃতিতে 'লাল' রঙ পবিত্র ও প্রিয়। অন্যদিকে মুসলিমদের কাছে তা অপছন্দনীয়।
➡️ তাই ভারতের প্রতিটি লাল পাথরের স্থাপনা হিন্দুদের নির্মিত। মুসলিম আক্রমণকারীরা পরে সেগুলো নিজেদের বলে দাবি করেছে।

প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ

যদি আগ্রার লাল কেল্লায় যথাযথ প্রত্নতাত্ত্বিক খনন করা হয়, তাহলে প্রাচীন হিন্দু শিলালিপি ও প্রমাণ মেলে আসবে।
আজকের লাল কেল্লা হিন্দুদের স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন, যা মুসলিম শাসকরা দখল ও বিকৃত করেছিল।


উপসংহার

👉 আগ্রার লাল কেল্লা মুসলিম আক্রমণকারীদের তৈরি নয়। এটি প্রাচীন হিন্দু বাদলগড়, যা অশোক ও কনিষ্কের মতো মহৎ হিন্দু সম্রাটদের শাসনকালে নির্মিত হয়েছিল।
👉 মুসলিম শাসকরা কখনোই নতুন দুর্গ নির্মাণ করেননি, কেবল বিদ্যমান স্থাপনাগুলো দখল করে নিজেদের নামে চালিয়েছেন।
👉 সুতরাং, ভারতের ঐতিহাসিক সত্য জানতে হলে আমাদের বিকৃত ইতিহাস নয়, বাস্তব প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণের দিকে নজর দিতে হবে।


বুঝেছি ✅ আপনার লেখাটি আমি একটি ব্লগ আকারে সুন্দরভাবে সাজিয়ে দিলাম। এতে শিরোনাম, উপ-শিরোনাম, অনুচ্ছেদ ও মূল পয়েন্টগুলো পরিষ্কারভাবে থাকবে, যাতে পাঠক সহজে বুঝতে ও অনুসরণ করতে পারে।


দুর্গের হিন্দু সাজসজ্জা : আগ্রার লাল কেল্লার প্রকৃত পরিচয়

প্রাচীন ইতিহাসের ধারাবাহিকতা

পূর্ববর্তী অধ্যায়ে আমরা বহু শতাব্দীর অখণ্ড ইতিহাসের ভিত্তিতে দেখিয়েছি যে আগ্রার হিন্দু দুর্গ ঠুগ বিংশ শতাব্দীতেও "লাল দুর্গ" নামে পরিচিত ছিল। এবার আমরা প্রমাণ করব যে আগ্রার লাল দুর্গ আসলেই হিন্দু অনুভূতিতে পরিপূর্ণ।

দুর্গের হিন্দু অলঙ্করণ

দর্শনার্থী যে কেউ সহজেই লক্ষ্য করবেন—

  • দুর্গের চিত্রকর্ম, দেয়ালের খোদাই, ফুল ও পাতার নকশা,

  • পাথরে খোদাই করা বৃত্তাকার ও জ্যামিতিক নিদর্শন,

  • পাখি ও প্রাণীর ছবি,
    এসবই হিন্দু ঐতিহ্যের প্রতিফলন।

ইসলামে এ ধরনের অলঙ্করণ কেবল অপরিচিতই নয়, বরং নিষিদ্ধ ও নিন্দিত। সুতরাং দুর্গের নির্মাতা কোনো মুসলিম শাসক ছিলেন—এ ধারণা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

হিন্দু স্থাপত্যের ধারাবাহিকতা

স্থাপত্যের ছাত্ররাও সহজেই বুঝবেন—ভারতের প্রাচীন দুর্গ ও প্রাসাদের নকশা সর্বত্র একই রকম।

  • হল, গ্যালারি, বারান্দা, সিঁড়ি, খিলান ও গম্বুজ—সব জায়গায় এক ধরণের হিন্দু ধারা বিদ্যমান।

  • কাবুল, কান্ধার, বুখারা, সমরকন্দ, পেশোয়ার, রাওয়ালপিন্ডি, দিল্লি, আগ্রা, গুলবার্গ, ওয়ারাঙ্গল, বিদার ও দেবগিরি—সব জায়গার নির্মাণে একই স্থাপত্যকলা দেখা যায়।

এই শহরগুলির নামও সংস্কৃত উৎস থেকে এসেছে। যেমন—

  • বুখারা ← বুদ্ধ বিহার

  • সমরকন্দ ← সমরকন্দ

  • কান্ধার ← গান্ধার

  • কাবুল ← কুভা

আজ সেগুলো মসজিদ ও সমাধি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও, আসল রূপে সেগুলো ছিল হিন্দু মন্দির, প্রাসাদ ও দুর্গ।

দুর্গের নাম ও প্রবেশদ্বার

আগ্রার লাল দুর্গ আজও "বাদলগড়" নামে পরিচিত। এটি নিঃসন্দেহে একটি হিন্দু নাম।

দুর্গের প্রবেশদ্বারটির নাম অমর সিং গেট। যদি দুর্গ আকবর, সেলিম শাহ সুর বা সিকান্দার লোদী নির্মাণ করতেন, তবে এর নাম কোনো হিন্দু বীরের নামে রাখা হতো না।

সরকারি বর্ণনায় বলা হয়—এটি নাকি শাহজাহান যোধপুরের রাও অমর সিং রাঠোরের স্মরণে নির্মাণ করান। কিন্তু সেই একই মুসলিম দরবারে প্রতিদিন হিন্দু মূর্তি ও স্মৃতিকে ধ্বংস করার প্রেরণা দেওয়া হতো। তাহলে এক হিন্দু বীরের নামে প্রবেশদ্বার নামকরণ—কি করে সম্ভব?

জাহাঙ্গীরী মহলের হিন্দু বৈশিষ্ট্য

"জাহাঙ্গীরী মহল"-এ রয়েছে দেবমূর্তি স্থাপনের কুলুঙ্গি। প্রচলিত বিশ্বাস হলো, পাঁচ শতাব্দী ধরে মুসলিম শাসন চললেও এখানে দেবতার পূজা হতো। এটি প্রমাণ করে যে প্রাচীন হিন্দু দুর্গ কখনও ধ্বংস হয়নি। জাহাঙ্গীর কেবল পূর্ব থেকেই বিদ্যমান হিন্দু প্রাসাদে বসবাস শুরু করেছিলেন।

এর ছাদে রয়েছে দুটি সুন্দর দর্শনীয় মণ্ডপ ও কয়েকটি জলাধার। একটিতে তামার পাইপ বসানো ছিল, যার চিহ্ন আজও দৃশ্যমান।
➡️ প্রবাহিত জলের এই ব্যবস্থা হিন্দু স্থাপত্যের একটি শক্ত প্রমাণ। কারণ মরুভূমি থেকে আগত মুসলিম শাসকদের এ ধরনের জ্ঞান বা প্রয়োজন ছিল না। তারা উচ্চ স্থানে জল তুলে আনার কৌশল জানতোই না।

লাল কেল্লায় একটি 'শীল মহল' আছে। এর ভেতরের সিলিং অসংখ্য ছোট আয়না দিয়ে সাজানো বলে একে শীশ মহল বলা হয়। এটি একটি রাজকীয় রীতি। প্রতিটি রাজপুত ভবনে একটি বড় কক্ষ ছিল যাকে শীশ মহল বলা হত। কঠোর পর্দা ব্যবস্থা এবং বোরখায় বসবাসকারী মুসলিম সম্প্রদায় কখনও এমন শীশ মহল কল্পনাও করতে পারে না যেখানে হাজার হাজার নারীর আকর্ষণীয় রূপ প্রতিফলিত হয়। ছোট কাচের 'আংটি' পরার এই রীতি কেবল ভবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এর বিশেষত্ব ছিল তাদের মহিলাদের পোশাকেও। রাজপুত মহিলাদের পরিধেয় ঘাঘর এবং পোলকাগুলির কিনারায় অনেকগুলি ছোট ছোট চশমা থাকে।


“উত্তর ও দক্ষিণে (শীষমহলের) দর্শন মণ্ডপগুলির সংলগ্ন প্রতিটি উঠোনের কিনারায় একটি মার্বেল জালি এবং এর এবং কেন্দ্রীয় পুকুরের মধ্যে একটি পাথরের জালি রয়েছে।” খোদাই করা পাথরের পর্দা দিয়ে ভবন এবং প্রাসাদ সাজানো এতটাই প্রাচীন হিন্দু রাজকীয় ঐতিহ্য যে তাদের প্রাচীন হিন্দু মহাকাব্য --- রামায়ণেও এর উল্লেখ রয়েছে। সেই মহাকাব্য অনুসারে, ভগবান রাম এবং রাবণের রাজপ্রাসাদে একই রকম জালি ছিল। যেহেতু হিন্দু রাজবংশগুলি সর্বদা রামায়ণের ঐতিহ্য অনুসরণ করাকে গর্বের বিষয় বলে মনে করে, তাই, হিন্দু রাজবংশের ভবনগুলিতে ছিদ্রযুক্ত পাথরের জালি ছিল। প্রাচীন এবং মধ্যযুগীয় ভবনের সমস্ত জালি তাদের হিন্দু উৎপত্তির স্থাপত্য প্রমাণ। কোনও মুসলিম ভবনে এত স্বচ্ছ জালি থাকতে পারে না। একজন মুসলিম পুরুষ যখন তার বাড়িতে যান তখন প্রথমেই যা দেখেন তা হল কেন্দ্রীয় প্রবেশদ্বারটি একটি চটের কাপড়ের পর্দা দিয়ে এত শক্তিশালী যে কেউ ভিতরের দিকে সামান্যতম ঝলকও দেখতে পায় না। মুসলিম রাজারা অনেক বেশি কঠোর পর্দা ব্যবস্থা অনুসরণ করতেন কারণ তাদের প্রাসাদগুলো সর্বদা অবাধ্য এবং অনৈতিক লোকে পরিপূর্ণ থাকত। পাঁচ হাজার সুন্দরী নারীর রাজকীয় হারেমের অধিবাসীদেরকে সেইসব লম্পট, খুনি রাক্ষসদের হিংস্র, অতৃপ্ত চোখ থেকে রক্ষা করা রক্ষীদের জন্য একটি কঠিন কাজ ছিল। কামুক অনুপ্রবেশকারীদের জনসাধারণের দৃষ্টি থেকে যতদূর সম্ভব এই মহিলাদের আড়াল করার সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যবস্থা ছিল, যোগীদের মতো হারেমকে অন্য সকলের থেকে আলাদা রাখা। পালিশ করা পাথরের জালি দিয়ে এই উদ্দেশ্য কখনই অর্জন করা যেত না। আগ্রার লাল কেল্লার মহিলাদের কক্ষগুলিতে যদি এমন ছিদ্র করা পাথরের জালি থাকে, তবে সেগুলি মুসলিম-পূর্ব যুগের। এগুলো আলোকিত রাজকীয় হিন্দু নারীদের উপস্থিতির স্পষ্ট লক্ষণ। তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পর, মুসলিম শাসকরা ছিদ্রযুক্ত হিন্দু পাথরের জালিগুলিকে মোটা অস্বচ্ছ কাপড় দিয়ে ঢেকে দিতেন।


"ঘরের দেয়ালের নীচের রঙ করা অংশটি আঁকা কাঠের অংশের উপরে গভীর খোদাই এবং ফুলের নকশা দিয়ে আবৃত।"* "গ্যালারির ভেতরের সিলিং এবং প্রধান হলটি সাদামাটা মার্বেল দিয়ে তৈরি কিন্তু বাদশাহনামা অনুসারে এগুলি অত্যন্ত সজ্জিত এবং সোনালী এবং বিভিন্ন রঙের ছিল; প্রধান হলটিতে তাদের উপস্থিতি ঐতিহাসিক বক্তব্যকে সমর্থন করে।"


প্রাচীন হিন্দু ভবনগুলি অত্যন্ত রঙ করা হয়েছিল এবং বিভিন্ন আলংকারিক নিদর্শন এবং চিত্র দিয়ে খোদাই করা হয়েছিল। ইসলামী রীতি এই ধরণের সাজসজ্জাকে ভ্রুকুটি করে। অতএব, যদি আগ্রার লাল কেল্লার রাজকীয় অংশে এই ধরণের চিত্রকর্ম এবং সাজসজ্জা উপস্থিত থাকে, তাহলে এটি স্বতঃস্ফূর্ত যে হিন্দু রাজবংশ প্রাক-মুসলিম যুগে দুর্গটি তৈরি করেছিল। সেই সাজসজ্জার বিকৃতিই প্রমাণ করে যে পূর্ববর্তী হিন্দু বিপ্লব অসহিষ্ণু মুসলিম শাসকদের দ্বারা ধ্বংস হয়েছিল।


“এই (দক্ষিণ দর্শন মণ্ডপ) ভবনের পরিচয় অত্যন্ত বিতর্কিত কিন্তু বাদশাহনামা স্পষ্টভাবে এটিকে 'বাঙ্গাল-এ-দর্শন-এ-মুবারক' বলে অভিহিত করেছে যেখান থেকে শাহজাহান প্রতিদিন তার প্রজাদের দর্শন দেখাতেন।


উপরোক্ত অনুচ্ছেদে, 'দর্শন' শব্দটি একটি সংস্কৃত শব্দ এবং হিন্দু আমলের অতীত প্রথা নির্দেশ করে যখন সাধারণ দরিদ্র মানুষ নিয়মিতভাবে মন্দিরে রাজা বা দেবতাকে দেখতে যেত। যখন মুঘল শাসকরা বিজিত হিন্দু স্থানগুলির উপর তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছিল, তখন তারাও এই প্রথা অব্যাহত রেখেছিল। সুতরাং, আগ্রার লাল কেল্লায় 'দর্শন মহাক্ষ'র উপস্থিতি প্রমাণ করে যে দুর্গটি হিন্দুদের মালিকানাধীন।


খাস মহলের কাছে দ্বিতল মুত্তাম্মন বুজ (পদদীপ: মুত্তাম্মাত) অবস্থিত। বুর্জকে ভুলভাবে চামেলি-বুর্জ বা কুঞ্জ হিসেবে অনুবাদ করা হয়েছে। এর প্রকৃত অর্থ 'অষ্টভুজাকার বুর্জ'।


হিন্দু ঐতিহ্যে অষ্টভুজের একটি বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। আটটি দিকের বিশেষ নাম কেবল সংস্কৃত ভাষায় পাওয়া যায়। রাজা এবং ঈশ্বর আটটি (পার্থিব) দিক এবং স্বর্গ ও নরকের (মোট দশটি) উপর সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব রাখেন বলে গৃহীত হয়। সুতরাং, দেবত্ব বা রাজকীয়তার সাথে সম্পর্কিত সমস্ত হিন্দু ভবনের বেশিরভাগই অষ্টভুজাকার আকৃতির হতে হয়েছিল। এর নাম, উদ্দেশ্য এবং তাৎপর্য সম্পর্কে মুসলিম বিভ্রান্তি নিজেই দেখায় যে এটি একটি ইসলামী ভুল নয়। কেউ কেউ এটিকে মুথাম্মন বুর্জ বলে, কেউ কেউ এটিকে 'মুসমান' বলে এবং এটিকে জুঁই হিসাবে ব্যাখ্যা করে, আবার কেউ কেউ এটিকে সম্মত বুর্জ বলে। যেমনটি হুসেন উল্লেখ করেছেন, ইসলামিক শব্দ 'মুথাম্মন' যা এই গুরুতর ভুলের দিকে পরিচালিত করেছে তা সংস্কৃত শব্দ 'অষ্টকোণা' এর একটি বিকৃত রূপ। সুতরাং, হুসেন সেই মিনারের নাম সম্পর্কে ইসলামিক বিভ্রান্তি স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করে সঠিক কাজটি করেছেন। অপহরণকারী স্বভাবতই স্ব-বিজয়ী ভবনের বিভিন্ন অংশের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। শুধুমাত্র হিন্দু ঐতিহ্যেই আট দিকের আটটি ঐশ্বরিক রক্ষকের নাম পাওয়া যায়।


: "মুত্তাম্মাঁ টাওয়ারের নিচতলায় ৪৪৭৮ x ৩৩ ফুটের একটি উঠান রয়েছে যেখানে অষ্টভুজাকার মার্বেলের টুকরো স্থাপন করা হয়েছে, যা পাচিসি বা ভারতীয় চৌসার-চৌপার খেলার পাশার আদলে তৈরি।"


পাচিসি কেবল হিন্দুদের একটি খেলা। কোনও মুসলিম কখনও এই খেলা খেলেন না। এই নামটি সংস্কৃত শব্দ 'পাচিস' থেকে এসেছে যার অর্থ পঁচিশ। লাল কেল্লার মেঝেতে সেই খেলার নাম সম্বলিত ফলকটি একটি শক্তিশালী প্রমাণ যে লাল কেল্লা হিন্দু বংশোদ্ভূত। আগ্রা থেকে প্রায় ৩৫ মাইল দূরে আরেকটি রাজপুত শহর, অর্থাৎ ফতেহপুর-সিক্রিতেও একই নামের আরেকটি বিশাল উঠান বিদ্যমান। 'ফতেপুর-সিক্রি এক হিন্দু নগর' বইতে ফতেপুর-সিক্রি নামক শহরটি প্রাচীন হিন্দু বংশোদ্ভূত বলে প্রমাণিত হয়েছে, যা পরবর্তীতে মুঘল সম্রাট আকবর কর্তৃক দখল করা হয়েছিল। অতএব, যদি পঁচিশটি উঠোন বিশিষ্ট ফতেপুর-সিক্রি শহর একটি হিন্দু শহর হয়, তাহলে আগ্রার লাল কেল্লা, যার পঁচিশটি উঠোন একইভাবে রয়েছে, তাও একটি হিন্দু প্রাসাদ।


জাহাঙ্গীরের রাজত্বের একটি ইতিহাসের ফারসি সংস্করণে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি একটি সোনার বিচারিক শিকল স্থাপন করেছিলেন। এর এক প্রান্তে একটি ঘণ্টা ঝুলানো ছিল, যা লাল কেল্লার ভিতরে প্রাসাদে বাজত। অন্য প্রান্তটি দুর্গের বাইরে যমুনার তীরে অনেক দূরে ঝুলছিল। আমরা ইতিমধ্যে দেখিয়েছি যে জাহাঙ্গীর কতটা নিষ্ঠুর, অভদ্র এবং অনৈতিক সম্রাট ছিলেন। এই ব্যক্তিই তার দাস শের আফগানকে হত্যা করেছিলেন এবং তার সুন্দরী স্ত্রীকে (নূর জাহান) জোর করে তার হারেমে প্রবেশ করিয়েছিলেন। এমন একজন রাজার কাছ থেকে এটা আশা করা অত্যন্ত অযৌক্তিক যে তিনি এমন ন্যায়বিচারের শিকল স্থাপন করবেন যার মাধ্যমে যে কোনও নাগরিক শিকল টেনে রাজাকে ডেকে নিজের জন্য ন্যায়বিচার আদায় করতে পারবেন। এটা স্পষ্ট যে, প্রয়াত স্যার এইচ.এম. এলিয়ট যেমন বলেছেন, ইনিই ছিলেন সম্রাট অনঙ্গপাল, যিনি ছিলেন প্রাচীনতম হিন্দু সম্রাট, যার প্রাসাদে ন্যায়বিচারের এমন শৃঙ্খল প্রতিষ্ঠিত ছিল। মুসলিম রাজারা তাদের নিষ্ঠুর ও লুণ্ঠনকারী শাসকদের গৌরবময় হিন্দু বর্ণনা দিয়ে তাদের উপর অত্যাচার চালাতেন। পাঁচ শতাব্দী ধরে মুসলিম শাসনের পরেও 'ন্যায়-শ্রাবণখল'-এর গল্পটি আগ্রা দুর্গের সাথে যুক্ত ছিল, তা আরও একটি প্রমাণ যে দুর্গটি মুসলিম শাসনের অধীনে আসার সময় পূর্ববর্তী হিন্দু ঐতিহ্য কতটা শক্তিশালী এবং শক্তিশালী ছিল।


এই লাল দুর্গে একটি 'মাছি ভবন' অর্থাৎ মৎস্য রাজ ভবন রয়েছে। এর ছাদে দুটি সিংহাসন-পীঠ রয়েছে - একটি সাদা মার্বেল পাথরের এবং অন্যটি কালো মার্বেলের। 'মাছি ভবন' শব্দটি সংস্কৃত কারণ 'মাৎস্য' শব্দটি মাছ শব্দটির অর্থ, সংস্কৃত ভাষা থেকে এসেছে। মাছ একটি অতি প্রাচীন হিন্দু রাজকীয় প্রতীক কারণ হিন্দু সম্রাটকে সমস্ত পবিত্র নদী এবং সাত সমুদ্রের পবিত্র জল দিয়ে অভিষিক্ত করা হয়। রাজকীয় প্রতীক হিসেবে মাছের অর্থ রাজ্যের সমৃদ্ধির জন্য অবিচ্ছিন্ন জল সরবরাহ বজায় রাখা। তৃতীয় বিষয় হল, হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, মৎস্য ছিলেন ঈশ্বরের প্রথম অবতার। মহান হিন্দু সম্রাট শিবাজির রাজ্যাভিষেকের বিবরণ (জুন, ১৬৭৪ খ্রিস্টাব্দ) উল্লেখ করে যে, রাজ্যাভিষেকের অনুষ্ঠানে একটি মাছ একটি কাঁটার উপর বিশিষ্টভাবে প্রদর্শিত হত। আগ্রার লাল কেল্লায় মৎস্য ভবনের অস্তিত্ব সেই দুর্গের হিন্দু প্রভাবের একটি নিশ্চিত প্রমাণ। আরব, ইরাক এবং ইরানের মরুভূমি অঞ্চল থেকে আগত মুসলমানরা কখনও মাছ কল্পনাও করতে পারেননি।


একইভাবে, লখনউয়ের ছোট ইমামবাড়ায় একটি ধারালো শঙ্কুর উপর স্থাপিত একটি বিশাল সোনায় ঢাকা মাছের মূর্তি দেখা যায়। লখনউয়ের বড় ইমামবাড়ার খিলানযুক্ত প্রবেশপথে, পাথরে একটি মাছ খোদাই করা আছে। লখনউ, গোয়ালিয়র এবং অন্যান্য অনেক শহরের হিন্দু ভবনের প্রবেশপথের খিলানে এই জাতীয় মাছের মূর্তি দেখা যায়। গুলবার্গার তথাকথিত দরগাহ বান্দা নওয়াজের প্রবেশপথে সিংহ, হাতি এবং মরিসের সাথে একটি মাছের মূর্তিও উপরের দিকে প্রক্ষিপ্ত। বিশেষ করে, এগুলি আবির্ভূত হয়েছে। এগুলি সবই হিন্দু প্রতীক। এই উপলক্ষে, আমরা ভবিষ্যতের গবেষকদের সতর্ক করতে চাই যে লখনউয়ের তথাকথিত ইমামবাড়া এবং গুলবার্গার তথাকথিত দরগাহ বান্দানওয়াজ (বন্দনওয়াজ নামে একজন মুসলিম সাধুর সমাধি) প্রাচীন হিন্দু ভবন যা পরবর্তীতে মুসলিম শাসনের অধীনে আসে এবং ভুল করে বা ইচ্ছাকৃতভাবে মুসলিম-উৎপত্তি নামে অভিহিত করা হয় তার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। একইভাবে, লখনউতে শীশমহল এবং ছত্তরমঞ্জিলের মতো সংস্কৃত নাম সহ মধ্যযুগীয় ভবনগুলি এগুলো হিন্দু বংশোদ্ভূত, যাদের নির্মাণের কৃতিত্ব ভুলভাবে মুসলিম বিজেতাদের দেওয়া হয়েছে।


লাল কেল্লার বাদশা কুণ্ডটি স্পষ্টতই হিন্দু বংশোদ্ভূত কারণ একজন হিন্দু রাজার প্রতিদিন স্নান করা বাধ্যতামূলক ছিল। মুসলিম রাজারা কেবল মাঝে মাঝে স্নান করতেন। "পশ্চিম দিকের দীর্ঘ গ্যালারিতে চুল্লির চিহ্ন রয়েছে এবং কিছু সময় আগে খননকাজে, গরম করার জন্য কিছু জলের নালা পাওয়া গেছে।" আমাদের উপরোক্ত পর্যবেক্ষণ যে আগ্রার লাল কেল্লা দখলকারী মুসলমানদের জন্য সেই স্নান কুণ্ডগুলি কোনও কাজে আসেনি তা উপরে উল্লিখিত অংশ দ্বারা সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত করা হয়েছে যে পাঁচ শতাব্দীর মুসলিম শাসনকালে সেই চুল্লিগুলি মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল এবং খননের পরেই এগুলি আবিষ্কার করা সম্ভব হয়েছিল!


““আগ্রা দুর্গের কিছু পুরানো স্কেচ দেখায় যে হাম্মামের (রাজার স্নান পুকুর) ডানদিকে একটি মার্বেল গ্যালারি ছিল যার তিন দিকে একটি আচ্ছাদিত পথ ছিল, কিন্তু এখন এর কোনও চিহ্ন নেই কারণ তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের নির্দেশে এটি ভেঙে ফেলা হয়েছিল এবং এর টুকরো নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল।”


এটি আমাদের প্রথম পর্যবেক্ষণকে নিশ্চিত করে যে যদি কিছু করা হয়ে থাকে, তা হল প্রাচীন হিন্দু দুর্গ (লাল) তার অন্যান্য স্থানীয় দখলদারদের দ্বারা ধ্বংস এবং অপবিত্র করা হয়েছে। এটি আজকের চেয়ে অনেক বড়, আরও রাজকীয় এবং আরও জাঁকজমকপূর্ণ ছিল। ছয় শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বিদেশী মুসলিম এবং ব্রিটিশদের আধিপত্য প্রাচীন এবং মধ্যযুগীয় হিন্দু স্মৃতিস্তম্ভগুলির অকল্পনীয় এবং অপরিমেয় ক্ষতি করেছে। কিন্তু আজও তাদের মধ্যে যে বৈশিষ্ট্যগুলি রয়ে গেছে তা সম্পূর্ণরূপে হিন্দু। যদি কিছু ঘটে থাকে, তা হল বিদেশী আক্রমণকারী এবং শাসকরা এর অনেক অংশ এবং অলঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত এবং ধ্বংস করেছে! এই প্রসঙ্গে আমরা চাই মধ্যযুগীয় স্মৃতিস্তম্ভ পরিদর্শন করার সময়, প্রতিটি দর্শনার্থী, ইতিহাসের ছাত্র এবং পণ্ডিতদের একটি নীতি মনে রাখা উচিত যে "এই কাঠামোটি হিন্দুদের, ধ্বংস সম্পূর্ণ মুসলিমদের (অথবা ব্রিটিশদের) দ্বারা।*


("সাদা মার্বেল দিয়ে তৈরি নাগিনা মসজিদের দক্ষিণ দিক থেকে প্রবেশ করা মাছি ভবনটি কে তৈরি করেছিলেন*?") একটি বিতর্কিত প্রশ্ন।


যেহেতু আমরা ইতিমধ্যেই উপরে প্রমাণ করেছি যে মাছি ভবন একটি হিন্দু প্রাসাদ, তাই এটি স্বতঃস্ফূর্ত যে এর সাথে সংযুক্ত তথাকথিত নাগিনা মসজিদটি একটি হিন্দু মন্দির কারণ মধ্যযুগীয় মুসলিম রীতি ছিল প্রতিটি বিজিত হিন্দু মন্দিরের মূর্তিকে দেয়ালে বা মেঝেতে চাপিয়ে পদদলিত করা এবং প্রতিটি মন্দিরকে মসজিদ (অথবা সমাধি) হিসাবে ব্যবহার করা। যদি এটি একটি মুসলিম অনুপ্রাণিত শিল্পকর্ম হত, তাহলে এর উৎপত্তি সম্পর্কে কোনও বিতর্ক থাকত না কারণ যদি নির্মাণটি আসলেই ঘটে থাকে, তাহলে অনেক অভ্যাসগত লেখক এটি রেকর্ড করার জন্য দরবারে উপস্থিত থাকতেন। কিন্তু ভূম্মাদ-বিন-কাসিম থেকে বাহাদুর শাহ জাফর পর্যন্ত, কোনও নির্মাণ করা হয়নি। এটি সমস্ত ভালো জিনিসের সর্বজনীন ধ্বংসের একটি দীর্ঘ গল্প।


164 "সন্দির-রাজা রতন" সম্ভবত মহারাজা পৃথিবী ইন্দ্রের সামরিক সেনাপতি রাজা রতনের বাসভবন ছিল এবং ১৭৬৮ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়েছিল যখন দুর্গটি জাটদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। জিহাদি রূপরেখায়, এই ভবনটি রাজা রতনের প্রয়োজন অনুসারে নির্মিত বলে মনে হয় যার নাম দক্ষিণ আচ্ছাদিত দেয়ালের শিলালিপিতে পাওয়া যায়।''


উপরের উদ্ধৃতিটি জনপ্রিয় ভারতীয় ইতিহাস বইগুলিতে অত্যন্ত সাধারণ বিভ্রান্তিকর চিন্তাভাবনার একটি সুন্দর উদাহরণ। এই উদ্ধৃতিটি স্পষ্টভাবে দেখায় যে তথাকথিত ঐতিহাসিকরা কোনও শিলালিপি থেকে কোনও প্রমাণ গ্রহণ করেন না। আমরা কীভাবে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাবো? লেখক শুরুতেই স্বীকার করেছেন যে এই মন্দিরটি 'সম্ভবত' একজন হিন্দু রাজার সৈনিকের বাড়ি ছিল। তারপর তিনি বলেন যে ভবনটি সাম্প্রতিক সময়ের, তবুও এর বিন্যাস জিহাদি। তারপর আবার একটি তলোয়ার তোলা হয় এবং লেখক বলেন যে এই ভবনটি, জিহাদি বিন্যাসে, রাজা রতন তার প্রয়োজন অনুসারে তৈরি করেছিলেন বলে মনে হয়।


বিভ্রান্তি দূর করার জন্য, আমরা এর মধ্যে থাকা বেশ কিছু বিষয় প্রকাশ করতে চাই। প্রথমত, আজও আগ্রা দুর্গে এত জায়গা রয়েছে যে 18 শতকের কোনও হিন্দু রাজাকে তার সৈন্যের প্রাসাদের জন্য জায়গা দেওয়ার প্রয়োজন হত না। এটিও সন্দেহজনক যে একজন রাজা যিনি দুর্গের ভিতরে তার বাসস্থান বজায় রেখেছিলেন তিনি তার নিজস্ব কোনও সৈন্যকে দুর্গের ভিতরে বাসিন্দা হতে দেবেন কিনা। তৃতীয়ত, "মন্দির রাজা রত্ন!" শব্দটি একটি প্রাচীন সংস্কৃত নাম বলে মনে হয় যা হিন্দু লাল দুর্গের সাথে যুক্ত, যদিও এটি পাঁচ শতাব্দী ধরে মুসলিম শাসনের অধীনে ছিল। চতুর্থত, কোনও মধ্যযুগীয় ভবনে জিহাদি (ইসলামিক) কিছু নেই। এগুলো সবই প্রাক-মুসলিম হিন্দু স্থাপনা, কিন্তু দীর্ঘদিনের ভুল ধারণার কারণে, জনসাধারণের দৃষ্টিতে এগুলোর ধরণকে ইসলামিক স্থাপত্য হিসেবে ভুল করা হয়েছে কারণ জনসাধারণ ভুল করে দখলকৃত সমস্ত হিন্দু ভবনকে সমাধি এবং মসজিদ বলে মনে করেছিল।


সিংহাসন কক্ষটি একটি মার্বেল কুলুঙ্গি যার মধ্যে খিলান কাজ এবং সামনের অংশটি খুব সজ্জিত। এই কুলুঙ্গিতে পাখির চিত্রকর্ম সুন্দর কিন্তু দিল্লি দুর্গের সিংহাসন গ্যালারির মতো ভালো নয়।


'চমৎকারভাবে সজ্জিত সম্মুখভাগ' এবং পাখির চিত্রকর্মের কাজ স্পষ্টতই প্রাচীন হিন্দু উৎসের, কারণ ইসলামে সমস্ত ভাস্কর্য নিষিদ্ধ। "" (মোতি মসজিদের) উঁচু স্তম্ভযুক্ত প্ল্যাটফর্মে মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে একটি গম্বুজ রয়েছে যার উপরে একটি লাল গম্বুজ রয়েছে। প্রান্তের কাছে একটি মার্বেল সূর্যঘড়ি রয়েছে।


প্রাচীন হিন্দু ভবনগুলির একটি খুব সাধারণ বৈশিষ্ট্য হল মার্বেল সূর্যঘড়ি। তথাকথিত কুতুব মিনারের উঠোনে এখনও একই রকম একটি সূর্যঘড়ি দেখা যায়, যা ইতিমধ্যেই একটি হিন্দু স্তম্ভ বলে প্রমাণিত হয়েছে। একইভাবে, আগ্রার লাল দুর্গের সূর্যঘড়ি প্রমাণ করে যে দুর্গটি হিন্দু বংশোদ্ভূত। তার ঝলমলে সঙ্গম রামরি মেঝে সহ মসজিদটি দুর্গের প্রধান রাজকীয় মন্দির ছিল। মধ্যযুগীয় ইসলামী ঝুমান যুগের কারণেই এই মন্দিরটি মুসলিম মসজিদ হিসাবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে।


29মতি মসজিদের কাছে রাস্তার ধারে একটি বাঁকা ছাদ সহ একটি ভবন রয়েছে যাকে 'ঠেকেদার কা মাকান' বলা হয়।


কিভাবে একজন ঠিকাদারের বাড়ি দুর্গের ভিতরে থাকতে পারে? তাছাড়া, "ঠেকেদার" শব্দটি তুলনামূলকভাবে আধুনিক সময়ের। বাঁকা ছাদ প্রাচীন গোঁড়া হিন্দু ভবন, সাধারণত মন্দির বা অন্যান্য মন্দিরের একটি অমোচনীয় চিহ্ন। এর অর্থহীন নাম থাকার বিষয়টি দেখায় যে দুর্গের মুসলিম দখলদাররা এটিকে কার্যকর মনে করেননি। এর প্রাচীন নাম অবশ্যই ভিন্ন ছিল। অন্যথায়, এই ভবনটি অবশ্যই দুর্গের মুসলিম দখলদারদের দ্বারা ধ্বংস করা মন্দিরের একটি অস্পষ্ট অংশ ছিল।


দুর্গের দিল্লি ফটকটিকে 'হাতি পোল' (গজ-হার)ও বলা হয়। দুটি সুসজ্জিত হাতি, যার উপরে রাজকীয় পোশাক পরিহিত দুই হিন্দু বংশধর বসিয়েছিলেন, সেই ফটকটি শোভিত করেছিলেন। আমরা পরে একটি পৃথক অধ্যায়ে তাদের বিস্তারিত বর্ণনা করব, কারণ ঐতিহাসিকদের দ্বারা সংঘটিত প্রতারণার একটি দীর্ঘ গল্প তাদের সাথে জড়িত। এখানে আমরা কেবল বলব যে হাতির মূর্তিগুলি বেশিরভাগই হিন্দু দুর্গ, প্রাসাদ এবং ভবনের প্রধান প্রবেশপথে স্থাপিত। ফতেহপুর-সিক শহর, যা ইতিমধ্যেই প্রাচীন হিন্দু রাজাদের রাজধানী ছিল। প্রমাণিত হয়েছে যে দুর্গের প্রধান প্রবেশপথটিও দুটি হাতির বিশাল মূর্তি দিয়ে সজ্জিত। এর মুসলিম দখলদাররা সেই হাতিদের মাথা চূর্ণ করে ফেলেছিল, যার ফলে কেবল তাদের বিশাল অকেজো কঙ্কালগুলি দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। হিন্দু রাজপরিবারের কোটা নগর প্রাসাদের প্রধান ফটকে হাতিরা বসে আছে। আরেকটি হিন্দু রাজপরিবারের ভরতপুরে, দুর্গের প্রধান ফটকে দুটি বিশাল হাতির চিত্র আঁকা হয়েছে। এমনকি গোয়ালিয়রের বাইরে, যা আরেকটি প্রাচীন হিন্দু দুর্গ, গোয়ালিয়রের ফটকে হাতির মূর্তি রয়েছে। উদয়পুরের প্রাসাদ, যা এখন 'সাহেলিয়ন ফওয়াদি' নামে পরিচিত, সেখানেও অনেক হাতির মূর্তি রয়েছে। এছাড়াও, 'পোল' শব্দটি সংস্কৃত শব্দ 'পাল' এর একটি বিকৃত রূপ যার অর্থ দরজা দ্বারা সুরক্ষিত। দরজাগুলির নামকরণ সুয়্যার নামে 'সুয়্যা পোল' এবং হাতির নামে 'হাথি-পোল' ইত্যাদি রাখা একটি সাধারণ হিন্দু রীতি ছিল! একই ঐতিহ্য অনুসারে, যখন আমরা আগ্রা দুর্গের প্রাচীন প্রধান ফটকটি দেখি, তখন আমরা স্পষ্ট ইঙ্গিত পাই যে দুর্গটি হিন্দু বংশোদ্ভূত। দুর্গের নির্মম মুসলিম শাসকরা সেই মূর্তিগুলি সরিয়ে ফেলেছে। এই পরিস্থিতি নিজেই প্রমাণ করে যে দুর্গটি মুসলিম নির্মাণের সৃষ্টি নয়। যদি কোনও মুসলিম দুর্গটি তৈরি করতেন, তবে তিনি হিন্দু ঐতিহ্য অনুসারে দরজায় হাতির মূর্তি তৈরি করতেন না, এবং তিনি দরজাটির নাম 'হাতি পোল' রাখতেন না। যদি কোনও মুসলিম এই মূর্তিগুলি তৈরি করতেন, তাহলে পরবর্তীকালে কোনও মুসলিম সেখান থেকে সেই মূর্তিগুলি সরিয়ে ফেলার কোনও কারণ নেই। আমরা পরে এটি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব, তবে এখানে বলা আবশ্যক যে হাতি এবং হাতির পোল দুর্গটি মূলত হিন্দু নির্মাণের নিশ্চিত লক্ষণ। হিন্দু ঐতিহ্যে, হাতিগুলিকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এবং সম্পদের প্রতীক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। চিত্রকলায়, হিন্দু সম্পদের দেবী লক্ষ্মীকে সাধারণত দুটি হাতি দ্বারা বেষ্টিত দেখানো হয় যারা শ্রদ্ধার সাথে তাদের শুঁড় উঁচু করে তাঁর পূজা করছে। দেবতাদের দেবতা ইন্দ্র মহারাজের বাহন হাতি। যেহেতু হিন্দু রাজা দেবী ঐতিহ্য অনুসরণ করতেন, তাই হাতি তার শক্তির প্রতীক হয়ে ওঠে। দিল্লির লাল কেল্লা এমনকি প্রাসাদটিতে, যা হিন্দু প্রাসাদ বলে প্রমাণিত হয়েছে, রাজকীয় ফটকের গোড়ায় হাতির মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। আজকাল ভারত সরকারের সেনাবাহিনী সেই অংশে অবস্থান করছে এবং তারাই এই ফটকটি ব্যবহার করে।


২৯ হাতি-পোল একটি বিশাল কাঠামো, যার দুপাশে দুটি বিশাল অষ্টভুজাকার স্তম্ভ রয়েছে, যা সুন্দরভাবে সাদা মার্বেল দিয়ে খচিত এবং এটি দুটি গম্বুজ-শীর্ষ কলস দ্বারা বেষ্টিত।*


আমরা ইতিমধ্যেই হিন্দু রাজবংশ এবং দেবী ঐতিহ্যে অষ্টভুজাকার আকৃতির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছি। সমস্ত মধ্যযুগীয় ভবনের কলস হিন্দু রাজপুত শৈলীর। স্থাপত্য ও ইতিহাসের ছাত্র এবং ঐতিহাসিক ভবনের দর্শনার্থীদের এই দিকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া উচিত। দিল্লি, আগ্রা বা ফতেহপুর-সিক্রির কোনও কলসে কোনও ইসলামিক আকৃতি বা রূপ নেই। এগুলি সবই সেই স্টাইলের যা সমগ্র রাজস্থানে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।


১৪৪ দিল্লি গেটের বাইরে, একটি অষ্টভুজাকার ঘের ছিল যা ঐতিহাসিকভাবে জিপোলিয়া নামে পরিচিত ছিল। ঐতিহ্য অনুসারে, এখানে একটি বড়দারি ছিল যেখানে রাজকীয় সঙ্গীত বাজানো হত কিন্তু সেই ভবনের কোনও চিহ্ন এখন পাওয়া যায় না; এলাকার উত্তর অংশ এখন রেল কর্তৃপক্ষের দখলে।


উপরের সারসংক্ষেপ-উদ্ধৃতিটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জিপোলিয়া শব্দটি সংস্কৃত এবং তিনটি খিলানকে বোঝায়। হিন্দু রাজকীয় ও ঐশ্বরিক ঐতিহ্যে তিন নম্বরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হিন্দুদের দুটি দেবতা রয়েছে যারা ত্রিবিধ! একজনের নাম দত্তাত্রেয়, অন্য দেবতার মূর্তি হল ব্রহ্মা (সৃষ্টির দেবতা), বিষ্ণু (রক্ষক) এবং মহেশ (ধ্বংসকারী) এর সম্মিলিত মূর্তি। হিন্দু ভবন এবং শহরগুলিতে পূর্বে তিনটি খিলান ছিল। ফতেহপুর সিক্রির তথাকথিত বুলন্দ দরওয়াজা, যা হিন্দু প্রাসাদ বলে প্রমাণিত হয়েছে, তিনটি খিলান বিশিষ্ট একটি দরজা। আহমেদাবাদ শহরের প্রাচীন হিন্দু ফটক (যা অন্য একজন স্থানীয় আহমদ শাহের নামে মিথ্যাভাবে কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে) তিনটি খিলান বিশিষ্ট একটি ত্রিপোলিয়া। এছাড়াও, সঙ্গীত গ্যালারির উল্লেখ গুরুত্বপূর্ণ। সমস্ত হিন্দু ভবন, প্রাসাদ এবং দুর্গে প্রতিদিন সকাল এবং সন্ধ্যায় শুভ ধ্বনি সহ হিন্দু সঙ্গীত বাজানো হত। যদি লাল কেল্লা মুসলিমদের মালিকানাধীন হত, তাহলে এখানে কখনও সঙ্গীত গ্যালারি থাকত না, কারণ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া মুসলমানরা সঙ্গীতের মধুর শব্দে মাতাল হয়ে যায়। দুর্গে একটি সঙ্গীত গ্যালারি ছিল যা এখন আর নেই, তা স্পষ্টভাবে দেখায় যে দুর্গটি মূলত হিন্দুদের সম্পত্তি ছিল কিন্তু এর সঙ্গীত গ্যালারি পরবর্তী মুসলিম দখলদারদের দ্বারা ধ্বংস হয়ে যায়।


অমরসাহ ফটকের উত্তরে একটি পাথরের ঘোড়া রয়েছে, যার মাথা এবং ঘাড় দুর্গ থেকে নীচের ঢালু তীরে দৃশ্যমান। এর ইতিহাস অস্পষ্ট। সাধারণত বিশ্বাস করা হয় যে ১৬৪৪ সালে যখন যোধপুরের রাও অমর সিং রাঠোরকে রাজদরবারের পবিত্রতা অবমাননার জন্য শাহজাহানের উপস্থিতিতে হত্যা করা হয়, তখন তার ঘোড়া এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বেপরোয়াভাবে ছুটে বেড়াত এবং দুর্গের পরিখা পার হয়ে লাফ দিয়ে প্রার্থনা করত যে, তার মালিকের হত্যার কারণে শোকাহত হওয়া তার হৃদয়ের স্মৃতি হিসেবে এটিকে পাথরে পরিণত করা হোক।*’


উপরোক্ত গল্পটি মধ্যযুগীয় মুসলমানরা দুর্গটি হিন্দু বংশোদ্ভূত হওয়ার অসুবিধাজনক প্রমাণ ব্যাখ্যা করার জন্য ইতিহাসে যে ধরণের অযৌক্তিক গল্প তৈরি করেছিল তার মধ্যে একটি। হিন্দু রাজপরিবার এবং সভাসদদের মধ্যে একটি রীতি ও ঐতিহ্য ছিল যে তারা তাদের ঘোড়াদের স্মৃতি অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করত, যারা যুদ্ধক্ষেত্রে মারা যায় অথবা দীর্ঘ জীবন যাপন করে একটি বিশিষ্ট সেবা করার পরে মারা যায়। এটিও তেমনই একটি গল্প, এটি একটি প্রাচীন হিন্দু ঘোড়া যা প্রাচীন হিন্দু লাল কেল্লার ভেতরে একটি বিশাল মঞ্চে বিশাল ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ছিল। যেহেতু এই ধরনের মূর্তি, মূর্তি ইত্যাদি মুসলিম মানসিকতায় বিদ্রোহের বস্তু, তাই পরবর্তীকালে দুর্গের ইসলামিক দখলদাররা সেই পাথরের মূর্তিটি ভেঙে ভেঙে ফেলে। এই মূর্তিটিই সেখানে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। লেখকের উদ্ধৃতি আমরা উপরে উদ্ধৃত করেছি তিনি আরও লিখেছেন --- "সিকান্দারায় আকবরের আরবীয় ষাঁড় ঘোড়ার সম্পূর্ণ মূর্তির তুলনায় এর কারিগরি অনেক নিম্নমানের।" এটি আরেকটি মিথ্যা গল্প। সিকান্দারায় আকবরের তথাকথিত সমাধিটিও এর কোনও প্রতিচ্ছবি নয় বরং একটি সাত তলা হিন্দু প্রাসাদ। সেখানে রাজকীয় ঘোড়ার মূর্তির অস্তিত্ব হিন্দু প্রাসাদের পূর্ববর্তী হিন্দু মালিকানাধীনতার অতিরিক্ত প্রমাণ দেয় যেখানে আকবর তার মৃত্যুশয্যায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। আকবরকে একই হিন্দু প্রাসাদে সমাহিত করা হয়েছিল যেখানে তিনি তার মৃত্যুর সময় শিবির স্থাপন করেছিলেন। যারা বিশ্বাস করেন যে আকবর আগ্রার লাল কেল্লায় মারা গিয়েছিলেন এবং তাঁর দেহ ছয় মাইল দূরে সিকান্দারায় দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যেখানে তাঁর জন্য একটি বিশাল সাত তলা সমাধিসৌধ নির্মিত হয়েছিল, তারা ভুল তথ্য এবং বিভ্রান্ত। মধ্যযুগীয় যুগে মুসলমানদের যেখানে মৃত্যু হয়েছিল সেখানেই তাদের দাফন করা একটি সাধারণ রীতি ছিল। সুতরাং তৈমুর লং, মাহমুদ গজনি, হুমায়ুন এবং সফদরজং সকলেই তাদের পূর্ববর্তী হিন্দু শাসকদের কাছ থেকে দখল করা তাদের পূর্ববর্তী প্রাসাদে সমাহিত রয়েছেন। আমরা এখন পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করব আরেকজন ঐতিহাসিকের পর্যবেক্ষণের দিকে যার বইটিও আগ্রার লাল কেল্লার হিন্দু উৎপত্তির প্রমাণে পরিপূর্ণ। একমাত্র বিড়ম্বনা হল যে এত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও, সেই ঐতিহাসিক এটি মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন কারণ বিপথগামী মধ্যযুগীয় মুসলমানরা ভারতীয় ইতিহাসের একটি মিথ্যা সংস্করণ দিয়েছে। লেখক লিখেছেন-- “(হাথি পোল) গেটে একটি নগদ খানা (সঙ্গীত গ্যালারি) রয়েছে। এটি একটি প্রহরী ঘরও ছিল এবং সম্ভবত একজন উচ্চ সামরিক কর্মকর্তার বাসভবনও ছিল, তবে এটা নিশ্চিত যে, পর্যবেক্ষকরা যেমন বলেছেন, উইলিয়াম ফিঞ্চের বর্ণনা অনুযায়ী, দর্শন দরওয়াজা (যে দরজার উপরে সাধারণ মানুষ সম্রাটের এক ঝলক দেখতে পেতেন) নয়, সম্রাট জাহাঙ্গীর সূর্যোদয়ের সময় দর্শন দিতেন।”


হাতি পোল এবং নগদ খানা শব্দ দুটিই হিন্দু রাজবংশের সাথে সম্পর্কিত প্রাচীন পবিত্র ঐতিহ্যকে নির্দেশ করে। সুতরাং এগুলি প্রমাণ করে যে দুর্গটি একটি হিন্দু ভূমি। লেখক গাইডদের ভুল বলে মনে করেছেন তবে তিনি ভুল নন। প্রাচীন হিন্দু রাজারা তাদের প্রজাদের উপর আরোহণ করে দর্শন দিতেন বলেই এটিকে দর্শন দরওয়াজা বলা হয়। মুসলিম শাসনামলে, এই ভবনটি হয়তো কোনও সময়ে প্রহরী ঘর হিসেবে ব্যবহৃত হত এবং সম্ভবত অন্য কোনও সময়ে উচ্চ সামরিক কর্মকর্তার বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হত - দুর্গের বহুমুখী জীবনে এটি সম্ভব। সুতরাং, ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে একই ভবনের বিভিন্ন ব্যবহারের কারণগুলির মধ্যে কোনও অসঙ্গতি বা বৈপরীত্য নেই। একই ভবন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উপায়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে 'সূর্যোদয়' শব্দটি গুরুত্বপূর্ণ। যেসব মুসলিম রাজা তাদের উপপত্নীদের সাথে উৎসব উদযাপন করে এবং মাদক ও অস্বাভাবিক ওষুধের প্রভাবে ঘুমিয়ে সারা রাত কাটাতেন, তারা কখনও সূর্যোদয়ের সময় একত্রিত হতেন না। বিপরীতে, প্রাচীন ঐতিহ্যের কারণে, একজন হিন্দু সম্রাট এবং একজন সাধারণ হিন্দু ব্যক্তিকে সূর্যোদয়ের অনেক আগে ঘুম থেকে ওঠার এবং ভোর হওয়ার সাথে সাথে তাদের কাজ শুরু করার জন্য কর্তৃত্বপূর্ণভাবে নিযুক্ত করা হত। সূর্যোদয়ের সময় হাতি পোল থেকে সম্রাটের তার প্রজাদের সামনে উপস্থিত হওয়ার দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহ্য অবশ্যই আগ্রার লাল কেল্লায় প্রাক-মুসলিম যুগের রীতির দিকে ইঙ্গিত করে। (মোতি) মসজিদের চার কোণে অবস্থিত অষ্টভুজাকার দর্শকদের জন্য মণ্ডপগুলি বৃহত্তর কাঠামোগত বিবরণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যেমনটি ইতিমধ্যে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, অষ্টভুজাকার আকৃতির হিন্দু তাৎপর্য বিবেচনা করে, এটি স্বতঃস্ফূর্ত যে তথাকথিত মতি মসজিদটি হল মুসলিম-পূর্ব "মোতি মন্দির"। যদি এর মেঝে এবং দেয়াল খনন করা হয়, তাহলে সমাহিত মূর্তিগুলি পাওয়া সম্ভব।


“/চিত্তোর গেটের ওপারে আপনি একটি চতুর্ভুজাকার হলঘরে প্রবেশ করেন যা একটি আচ্ছাদিত পথ দ্বারা বেষ্টিত, যা আমাদের প্রাসাদের বহুমুখী জীবনের একটি ভিন্ন সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। এখানে ভরতপুরের একজন রাজা দ্বারা নির্মিত একটি হিন্দু মন্দির রয়েছে, যিনি ১৮ শতকের মাঝামাঝি সময়ে আগ্রা জয় করেছিলেন এবং সেখানে প্রায় ১০ বছর বসবাস করেছিলেন।” আমরা সকলেই জানি যে মন্দিরটি অবশ্যই প্রাক-মুসলিম যুগের ছিল এবং সেই স্থানটি অবশ্যই সেই মন্দিরের একটি মন্দির ছিল। ভরতপুরের হিন্দু শাসক সম্ভবত এটিকে কেবল সংস্কার করেছিলেন অথবা এতে কোনও দেবতা স্থাপন করেছিলেন। 'দুর্গের প্রাচীনত্বের অসুবিধাজনক প্রমাণ ব্যাখ্যা করার জন্য, বিভ্রান্ত ঐতিহাসিকরা এর নির্মাণকে কোনও আধুনিক হিন্দু শাসকের দ্বারা দায়ী করার সবচেয়ে সুবিধাজনক পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন।


"পূর্বে, মাছি ভবতে মার্বেল বিছানা, জলের নালা, ঝর্ণা এবং মাছের পুকুর তৈরি করা হয়েছিল। ভারতের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক এই এবং প্রাসাদের অন্যান্য অংশ থেকে প্রচুর পরিমাণে খড়ের কাজ এবং সূক্ষ্ম মার্বেল খোদাই নিলামে তুলেছিলেন।" উপরোক্ত উদাহরণটি অনাদিকাল থেকে ভারতের সমস্ত অঞ্চলে বিদ্যমান অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং বিশাল রাজকীয় ভবনগুলিতে ব্যাপক ক্ষতি করার জন্য বিদেশী তুর্কি, আরব, ইরানী, আফগান এবং ব্রিটিশদের প্রচেষ্টার একটি নমুনা মাত্র। যেন এটি ক্ষতস্থানে লবণ ছিটিয়ে দেওয়ার মতো, সেই জীর্ণ ধ্বংসাবশেষের জন্য বিদেশীদের অর্থ প্রদান করতে বাধ্য করা হয়েছিল। নির্মাণের কৃতিত্ব তাদেরই দেওয়া হচ্ছে যারা এই সুন্দর ভবনগুলো লুট করে ধ্বংস করেছিল।


38 কৃষ্ণ সিংহাসনের চারপাশে ফারসি শিলালিপি থেকে আমরা জানতে পারি যে এটি 1603 সালে জাহাঙ্গীরের জন্য নির্মিত হয়েছিল, তার পিতা আকবরের মৃত্যুর দুই বছর আগে, যখন তিনি এখনও একজন রাজপুত্র ছিলেন। "তাই, সিংহাসনটি সম্ভবত আকবরের পুত্রের সিংহাসনে অধিকারের স্বীকৃতি স্মরণে নির্মিত হয়েছিল।" হ্যাভেলের অনুমান ভুল। আমরা ইতিমধ্যেই শিলালিপিগুলি নিয়ে আলোচনা করেছি এবং স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছি যে সেগুলিতে কোনও মুসলিম কাঠামোর উল্লেখ নেই।


উপরোক্ত অনুচ্ছেদটি আমাদের বিশ্বাসকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত করে যে মধ্যযুগীয় মুসলিম দরবারের অন্ধ বিশ্বাসীরা কতটা মিথ্যা বলতে এবং লিখতে অভ্যস্ত ছিল। হ্যাভেলের মতো একজন নিরপেক্ষ ঐতিহাসিক কখনও মুসলিম লেখায় তথ্য এবং অসঙ্গতির মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পেতে ব্যর্থ হননি, তা অক্ষরে হোক বা পাথরে। হ্যাভেলের বিভ্রান্তিকর শিলালিপির অবজ্ঞাপূর্ণ এবং উদার ব্যাখ্যা অযৌক্তিক। আকবরকে একবার তার পুত্র জাহাঙ্গীর বিষ প্রয়োগ করেছিলেন। তাছাড়া, জাহাঙ্গীর আকবরের মৃত্যুর আগে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে আকবর কীভাবে তার বিদ্রোহী এবং খুনি পুত্রের নাম সিংহাসনে খোদাই করতে পারতেন? এর অর্থ হত সিংহাসন ত্যাগ করা। তাছাড়া, যদি এটি সত্য হত, তাহলে শিলালিপিতে অনেক শব্দে সত্যটি উদ্ধৃত করা হত। স্পষ্ট ভাষায় পুরো উদ্দেশ্য উপস্থাপন করে, বাস্তবতাটি হত সম্রাটকে কে থামাচ্ছিল? কেন কেউ শব্দ ব্যবহার করবে? অস্পষ্টভাবে? পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পর, হ্যাভেলের অনুমান একজন ঐতিহাসিকের মতো উপযুক্ত বলে মনে হয় না। হিন্দু সিংহাসনের উপর এই শিলালিপিটি স্পষ্টতই একটি অসঙ্গত মুসলিম হাতের লেখা।


"নদীর মুখের উপরে সবচেয়ে বাঁকা প্রাচীরের উপর নির্মিত একটি সুন্দর দুর্গ দ্বিতল বিশিষ্ট দর্শক মণ্ডপটি হল সম্মান বুর্জ।


আমরা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে বলেছি যে আগ্রা লাল কেল্লার অন্যান্য জিনিসের মতো, এই অষ্টভুজাকার স্তম্ভটিও হিন্দু বংশোদ্ভূত। কিছু লোকের মতে, শাহজাহান তার মৃত্যুর (১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দ) আগে আট বছর ধরে তার পুত্র আওরঙ্গজেব এখানে বন্দী ছিলেন। দুর্গের এটি সেরা অংশ হওয়ায়, আওরঙ্গজেব কখনও তার বন্দী পিতাকে সেখানে রাখতেন না। অতএব, আরেকটি স্থান, অর্থাৎ তথাকথিত জাহাঙ্গীরী মহলের দর্শক মণ্ডপ, অবশ্যই সেই স্থান যেখানে শাহজাহানকে বন্দী করা হয়েছিল। অতএব, হ্যাভেল দ্বিতীয় বর্ণনাটি অবিশ্বাস করে ভুল করেছেন। কিন্তু উপরের অংশটি উপস্থাপনে আমাদের মতামত ভিন্ন। হেবেল দুর্গের প্রাচীরের উপরে অবস্থিত টাওয়ারটির নাম 'সম্মান বুর্জ' রেখেছেন। আমরা এর সাথে সম্পূর্ণ একমত। মুসলিম বিবরণগুলি মুথাম্মন বা মুসাম্মন বুজের বিকৃত রূপ প্রবর্তন করে এর হিন্দু উৎসকে বিকৃত করেছে। সম্মান বুজ সম্পূর্ণরূপে গ্রহণযোগ্য, কারণ সংস্কৃতে "সম্মান" শব্দের অর্থ সম্মান। যেহেতু এটিই ছিল সবচেয়ে ভালো জায়গা, তাই সম্মানিত রাজকীয় অতিথিদের দুর্গের প্রাক-মুসলিম হিন্দু রাজপরিবারের সদস্যরা সেখানে অভ্যর্থনা জানাতেন। সেই কারণেই এই স্থানটির নামকরণ করা হয়েছিল 'সাম্মন বুর্জ'। অতএব, কেউ এই বুরুজের নাম মুথাম্মন বা মুসাম্মন বুজ বলে ভুল উচ্চারণ করবেন না অথবা আজকাল কিছু লোকের নিয়মিত অভ্যাস অনুসারে এটিকে চামেলি-বুজ বলবেন না। এই ধরণের সমস্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রূপান্তর মধ্যযুগীয় ইতিহাসের পাতা থেকে বাদ দেওয়া উচিত।


"খাস মহলের দেয়ালে অনেক কুলুঙ্গি রয়েছে যেখানে পূর্বে মুঘল সম্রাটদের ছবি রাখা হত।" হ্যাভেল স্পষ্টতই ভুল বিশ্বাস করেন যে মুসলিম ছবি কুলুঙ্গিতে রাখা হত! মুসলিম ঐতিহ্য ছবিগুলিকে ভ্রুকুটি করে। এমনকি মুসলমানরা নবী মুহাম্মদের ছবিও পছন্দ করে না। মানুষ এগুলো দেখতে দ্বিধা করে। মুসলিম চিত্রকলার প্রতারণার কারণ হলো দুর্গটি মুঘলদের হাতে পড়ার আগে, সেই কুলুঙ্গিগুলিতে হিন্দু দেবতা এবং হিন্দু রাজাদের ছবি ছিল। ৫০০ বছরের নির্মম মুসলিম শাসনের পরেও, সেই কুলুঙ্গিগুলিতে রাজকীয় ছবি খোদাই করার গল্প এখনও প্রচলিত, যা দেখায় যে আগ্রার লাল কেল্লায় পূর্ববর্তী হিন্দু শাসনের ঐতিহ্য কতটা গভীর, শক্তিশালী এবং দীর্ঘস্থায়ী ছিল।


"খাস মহলের দেয়ালে খোদাই করা একটি ফার্সি কবিতা ১৬৩৬ সালে নির্মিত হয়েছিল," হ্যাভেল বলেন। এটি ভুল। আমরা ইতিমধ্যেই শিলালিপিগুলি বিশ্লেষণ করেছি এবং প্রমাণ করেছি যে যদিও অপহরণকারীর তাৎক্ষণিক লেখার তারিখ থাকতে পারে, তবে তাদের কোনওটিতেই দুর্গ বা দুর্গ নির্মাণের কোনও তারিখ নেই। বাস্তবতা হল এই ধরনের অননুমোদিত, উদাসীন এবং অপেশাদার সিদ্ধান্ত ভারতীয় ঐতিহাসিক গবেষণার মূল কারণ এবং এই ধরনের সিদ্ধান্তগুলি ভারতীয় ইতিহাস সম্পর্কিত তথ্য এবং সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিশ্ব বৃত্তির শ্বাসরোধের মূল কারণ। বিপরীতে, এই ধরনের অযৌক্তিক, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অপ্রাসঙ্গিক লেখাগুলি একটি বিপরীত সিদ্ধান্তের দ্ব্যর্থহীন ইঙ্গিত দেয়, অর্থাৎ, তাদের লেখক হয় অপহরণকারী নিজেই ছিলেন অথবা তার ভাড়াটে ঘোড়া ছিলেন।


(জাহাঙ্গীরী মহল) চতুর্ভুজের উত্তর দিকে একটি স্তম্ভযুক্ত হলঘর রয়েছে যা একটি সাধারণ হিন্দু রীতি এবং বিন্যাসের।” এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যে বিভ্রান্তিকর ইসলামী দাবি সত্ত্বেও, হ্যাভেলের মতো নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের চোখ এড়ায়নি যে স্তম্ভযুক্ত হলঘরটি স্পষ্টতই হিন্দু। যদি অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর মুসলিম লেখাগুলি দ্বারা তার চোখ অন্ধ না হত, তবে তিনি লক্ষ্য করতে ব্যর্থ হতেন না যে কেবল স্তম্ভযুক্ত হলঘরটিই নয় বরং পুরো দুর্গটি হিন্দু ধাঁচের। তবুও এটা কম আশীর্বাদ নয় যে মিথ্যাচার এবং ভণ্ডামির ভয়াবহ বৈচিত্র্যের মধ্যে অন্তত কয়েকটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ অন্তত কয়েকজন ঐতিহাসিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং লেখালেখি করেছে।


(তথাকথিত জাহাঙ্গীর মহলের) চতুর্ভুজের পশ্চিম দিকের ঘরটি, যা অনেক গভীর কুলুঙ্গি দ্বারা বেষ্টিত, উৎসবের সময় একটি মন্দির ছিল বলে জানা যায়, যেখানে হনুমান এবং অন্যান্য হিন্দু দেবদেবীদের মূর্তি রাখা হত।


পাঁচ শতাব্দীর ইসলামিক শাসনের পরেও একটি হিন্দু মন্দিরের অস্তিত্বের গল্পটি কখনও প্রকাশিত হত না যদি এই গল্পটি কমপক্ষে ১৫০০ বছর আগে হিন্দু শাসনের অধীনে সম্পর্কিত এবং বিকশিত না হত। হ্যাভেন, মধ্যযুগীয় মুসলিমদের মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য তার কল্পনাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে লিখেছেন যে যেহেতু জাহাঙ্গীরের একজন হিন্দু স্ত্রী এবং একজন হিন্দু মা ছিলেন, তাই তিনি তাদের সেখানে হিন্দু দেবদেবীদের পূজা করার অনুমতি দিয়েছিলেন। আমরা ইতিমধ্যেই বলেছি যে জাহাঙ্গীর একজন নির্মম ধর্মান্ধ মুসলিম ছিলেন যিনি মন্দির ধ্বংস এবং উপড়ে ফেলতে খুব আগ্রহী ছিলেন। এছাড়াও, এই বিংশ শতাব্দীতেও, কেউ হিন্দু মন্দিরের অস্তিত্ব সম্পর্কে কিছু বলতে পারে না। একজন হিন্দু মহিলা যিনি একজন মুসলিম গৃহে গেছেন তাকে সেখানে কোনও হিন্দু রীতিনীতি অনুসরণ করতে দেওয়া হয় না। তিনি তার নিজের ব্যক্তিত্ব, ধর্ম এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে অজ্ঞ হয়ে পড়েন এবং ঈশ্বরের কাছে হারিয়ে যান। অতএব, হিন্দু মহিলাদের দুর্দশা কেবল কল্পনা করা যায় যারা তাদের জন্মের সংস্কৃতি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে মুসলিম উদারপন্থী এবং যৌনতার জন্য রাক্ষসদের হারেমে প্রবেশ করেছিল।


আমরা এখন দুর্গের হিন্দু বৈশিষ্ট্যগুলি তুলে ধরার জন্য আরেকটি ঐতিহাসিক বইয়ের উল্লেখ করব। লেখক বলেছেন: "স্যার থমাস রো-এর ধর্মযাজক এডওয়ার্ড টেরির বর্ণনা অনুযায়ী সিংহাসনে বসানোর জন্য ব্যবহৃত পাথরটি রূপা দিয়ে মোড়ানো ছিল এবং চারটি রূপার জিনিসপত্র দিয়ে সজ্জিত ছিল, যা খাঁটি সোনার ছাউনিকে ধরে রেখেছিল। (এটি দিওয়ান-এ-আমে লেখা ছিল)।"


এটা সকলের জানা যে হিন্দু সংস্কৃত ঐতিহ্যে সিংহাসনকে 'সিংহাসন' বলা হয়, যার অর্থ সিংহের আসন। সিংহাসনের এই নামটি জনপ্রিয় হওয়ার কারণ হল হিন্দু রাজকীয় সিংহাসনগুলি আগে সিংহের ছবি দ্বারা সমর্থিত ছিল। হিন্দুদেরও একই রীতি ছিল। বিপরীতে, ইসলামী ঐতিহ্য সকল ধরণের রূপক প্রতীককে ভ্রুকুটি করে। অতএব, এটা কল্পনাও করা যায় না যে বিশ্বের কোনও মুসলিম রাজা, যিনি গোঁড়া মোল্লা এবং কাজিদের দ্বারা বেষ্টিত ছিলেন, তিনি 'কাফিরানা' ধরণের সিংহাসন তৈরির আদেশ দেওয়ার অনুমতি পেতে পারেন। কিন্তু মধ্যযুগীয় মুসলিম ঐতিহ্যে, 'কাফিরদের' যেকোনো জিনিস দখল এবং গ্রহণ করার কাজকে একটি বিশেষ পুষ্য কর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হত। ঘৃণ্য "কাফেরদের" কাছ থেকে লুট হিসেবে প্রাপ্ত নারী, সিংহাসন বা অস্থাবর সম্পত্তি অবিলম্বে বিজয়ী ইসলামী পুরুষের জন্য সবচেয়ে পবিত্র বস্তু হয়ে ওঠে। একজন মুসলিম রাজা, এমনকি যদি তিনি নিজে সিংহাসন তৈরি নাও করেন, তাহলে কেন "কাফেরদের" চিহ্ন সম্বলিত সিংহাসনের উপর তার আধিপত্য প্রদর্শন করেছিলেন, যদি সেই জিনিসটি লুট হিসেবে প্রাপ্ত হয়, তার একমাত্র ব্যাখ্যা এটি। এই আলোচনা থেকে স্পষ্ট হওয়া উচিত যে ব্রিটিশ এজেন্ট আগ্রার লাল কেল্লার প্রাসাদে জাহাঙ্গীরকে যে সিংহাসনে বসে থাকতে দেখেছিলেন তা ছিল হিন্দুদের দখল করা সম্পত্তি। সুতরাং, আগ্রার লাল কেল্লা, যা মুসলমানদের হাতে চলে যায়, তা কোনও খালি জায়গা ছিল না বরং প্রচুর হিন্দু সম্পদের ভাণ্ডার ছিল। এই সিংহাসনটি হুমায়ুন কর্তৃক দখল করা বিশাল লুণ্ঠিত জিনিসপত্রের মধ্যে একটি ছিল (বাবরের পুত্র এবং অন্যান্য সহ)। সেই সিংহাসনটি একমাত্র সিংহাসন ছিল না। লাল কেল্লার প্রতিটি সিংহাসনও লুণ্ঠন হিসেবে ব্যবহৃত হত। মেঝেতে প্রতিটি প্রাসাদে আলাদা আলাদা ধরণের হিন্দু সিংহাসন ছিল। একটি সাদা সঙ্গম মার্বেল পায়ে, অন্যটি কালো মার্বেল পায়ে, তৃতীয়টি তথাকথিত দিবান-ই-আমে ছিল ইত্যাদি। বিভিন্ন সিংহাসনের ভিত্তি ছিল পশুর মূর্তি যা হিন্দু রাজকীয় ঐতিহ্যে পবিত্র বলে বিবেচিত হয়। সিংহের মূর্তিযুক্ত সিংহাসনটি সাধারণ দর্শক কক্ষে স্থাপন করা হয়েছিল কারণ হিন্দু রাজা জনগণের উপস্থিতিতে সারদা সিংহাসনে নিজেকে বসাতেন।


কালো মার্বেল পাযুক্ত সিংহাসনটি ব্যবহার করা হত যখন রাজা কোনও ব্যক্তিকে রাষ্ট্রদ্রোহ বা হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করার পরে রায় ঘোষণা করতে বসেন। সাদা পাযুক্ত মার্বেল সিংহাসনটি ব্যবহার করা হত যখন হিন্দু রাজা কোনও বিশিষ্ট দর্শনার্থী বা অতিথির সাথে দেখা করতেন।


ইতিহাসে এটি তদন্ত করা উচিত যে ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে তার আক্রমণকারী পিতা বাবরের কারণে হুমায়ুনের হিন্দুদের উপর বিজয়ের পর যে সমস্ত সিংহাসন মুসলমানদের হাতে পড়েছিল তার কী হয়েছিল। লুট হওয়া অনেক সিংহাসনের মধ্যে একটি ছিল বিখ্যাত মায়া সিংহাসন, যার নির্মাণের কৃতিত্ব কিছু ইতিহাসবিদ ভুলভাবে শাহজাহানকে দিয়েছেন।


একই বইয়ের আরেকটি অংশে লেখা আছে যে ঝাঁ-ঝাঁ কাটোরা নামক স্তম্ভ থেকে ১০০ ধাপ দূরে চারটি সমাধি পাওয়া গেছে। স্তম্ভটি বোঝাতে ব্যবহৃত 'ঝাঁ-ঝাঁ কাটোরা' শব্দটি স্পষ্টতই একটি হিন্দু নাম (কিছু অস্পষ্ট মধ্যযুগীয় সম্পর্ক সহ) যা ৫০০ বছরের মুসলিম শাসন সত্ত্বেও বিভিন্ন সময়ে আগ্রা লাল দুর্গের সাথে সম্পর্কিত হয়ে আসছে কারণ ধ্রুব যুগে দুর্গের সাথে হিন্দুদের একটি শক্তিশালী, ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। স্তম্ভের অস্তিত্ব দুর্গটি হিন্দু বংশোদ্ভূত হওয়ার আরেকটি শক্তিশালী প্রমাণ।


আগ্রা লাল দুর্গের অভ্যন্তরে সঞ্চিত বিপুল সম্পদ ভারতে মুসলিম শাসনের বিবরণ থেকে অনুমান করা যায়, যা বারবার লুট করা হয়েছিল। দুর্গটি যে মুঘলদের দ্বারা ধ্বংস হয়েছিল তা নিম্নলিখিত নোট থেকে অনুমান করা যায় - "১৭০০ সালে বাহাদুরান শাহ এবং ১৭১৬ সালে সৈয়দ ভাইয়েরা আগ্রা দুর্গের বিশাল কাবাব ভাণ্ডারগুলিকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করেছিলেন।" শাহজাহানের দরবারে সাহসী অমর সিং রাঠোরের হত্যার দিকে ইঙ্গিত করে আরেকটি নোটে বলা হয়েছে---* “'মাড়োয়ার (যোধপুর) এর রাজা ডি রাঠোরের জ্যেষ্ঠ পুত্র রাও অমর সিং, দরবারেই (৫ আগস্ট, ১৬৪৪ সালে) সালাবত খান রোশন জমির বক্সীকে হত্যা করেছিলেন কারণ তাকে কয়েক সপ্তাহ ধরে দরবারে অনুপস্থিত থাকার জন্য তিরস্কার করা হয়েছিল।'' শাহজাহান একটি দলিল নিয়ে তার হারেমের নীচের কক্ষে বিশ্রাম নিতে গেলেন, কিন্তু তিনি অন্যদের অমর সিংকে হত্যা করার ইঙ্গিত দিলেন। অতএব, তিনি (অমর সিং) নিজেই নিহত হন। (দুর্গের বাইরে থাকা অমর সিংহের পদাতিক এবং ঘোড়সওয়াররা, তাদের প্রভুর মৃত্যুর খবর শুনে, তাদের অস্ত্রশস্ত্র পুরোপুরি ব্যবহার করেছিল এবং যারা তাদের পথে এসেছিল এবং নিরাপদে চলে গিয়েছিল তাদের হত্যা করেছিল বা শিরশ্ছেদ করেছিল।)"


উপরের আলোচনা থেকে পাঠকের কাছে এটা স্পষ্ট হওয়া উচিত যে আজ আগ্রায় আমরা যে লাল দুর্গটি দেখতে পাচ্ছি তা একটি প্রাচীন হিন্দু দুর্গ। যদি অন্য কিছু থাকে, তবে তা ছিল খুবই বিস্তৃত এবং জাঁকজমকপূর্ণ। যদি এর মুসলিম বিজেতা এবং বিজেতারা কিছু করে থাকে, তা কেবল এটির ক্ষতি, ধ্বংস এবং লুটপাট করার জন্য, কিন্তু এর দেয়াল বা ভবনগুলিতে সামান্যতমও যোগ করেনি। এর প্রাচীন ফটকগুলিতেও প্রাচীন হিন্দু নাম রয়েছে - অমর সিং দ্বার এবং হাতি পোল - [দ্বার]।


আরেকটি স্পষ্ট প্রমাণ (হিন্দু প্রতীক) যা এখনও দুর্গের অনেক ভবনে দর্শনার্থীরা দেখতে পান তা হল ত্রিশূল যা অনেক কলসে বিদ্যমান। ত্রিশূল হল হিন্দু দেবতা মহাপ্রভু ভগবান শিবের একমাত্র অস্ত্র। আগ্রার বিখ্যাত তাজমহলেও একই রকম ত্রিশূল দেখা যায়। (যা একটি হিন্দু প্রাসাদ বলে প্রমাণিত হয়েছে) >- সিকান্দারার তথাকথিত আকবরের সমাধির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা, যা একটি পুরাতন হিন্দু প্রাসাদও।


দুর্গের কিছু প্রাচীন হিন্দু রাজকীয় অংশের ভেতরের ছাদের সোনালী চাদরে ত্রিশূল-কলমও দেখা যায়। তাই দর্শনার্থী এবং ইতিহাসের ছাত্রদের সেই বিভ্রান্তিকর ঐতিহ্যবাহী বিবরণ বিশ্বাস করা উচিত নয় যা বলে যে প্রাচীন হিন্দু দুর্গ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। একই প্রাচীন হিন্দু দুর্গ আজ তার হিন্দু ষষ্ঠ এবং মহৎ আকারে বিদ্যমান, যদিও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিদেশী মুসলিম শাসনের কারণে এটি কিছুটা বিকৃত এবং ধ্বংস হয়ে গেছে। দুর্গের বর্তমান কাঠামো নির্মাণের কৃতিত্ব সিকান্দার লোদী বা সেলিম শাহ সুরি বা আকবরকে দেওয়া বিবরণগুলিকে আদালতের চাটুকারদের দ্বারা প্রচারিত এবং অনুপ্রাণিত বানোয়াট বলে উড়িয়ে দেওয়া উচিত, যারা হয় মিথ্যাভাবে তাদের ইসলামী পৃষ্ঠপোষকদের তোষামোদ করতে বা তাদের ইসলামী গর্ব মেটাতে চেয়েছিল অথবা উভয় উদ্দেশ্যেই দখলকৃত হিন্দু দুর্গের নির্মাতা হিসেবে গৌরবের মিথ্যা দাবি করেছিল।

🏰 মধ্যযুগীয় মুসলিম ইতিহাস: সত্য, মিথ্যা ও প্রোপাগান্ডা

ইতিহাস মানেই কি কেবল অতীতের সত্য ঘটনা? নাকি ইতিহাস অনেক সময় ক্ষমতাশালীদের নির্দেশে লেখা একরকম প্রোপাগান্ডা? মধ্যযুগীয় মুসলিম শাসনামল বিশেষ করে মুঘল আমলের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি বেশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।


📜 আকবরের সভাসদ ও তাদের রচনা

মুঘল সম্রাট আকবরের সভায় তিনজন গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসলেখক ছিলেন:

  • নিজামুদ্দিনতাবাকাত-ই-আকবরী

  • বাদাউনিমানতাখাবুত-তাওয়ারিখ

  • আবুল ফজলআকবরনামাআইন-ই-আকবরী

তবে প্রশ্ন হলো – এরা যা লিখেছেন, তা কি সত্য ছিল? নাকি সম্রাটের খুশি লাভের জন্য কল্পিত গল্প?


⚖️ সরকারি ইতিহাস বনাম বাস্তবতা

আজকের তথাকথিত গণতান্ত্রিক যুগেও সরকারি ইতিহাস অনেক সময় বিকৃত হয়। তাহলে মধ্যযুগীয় স্বৈরশাসকের দরবারে থাকা লেখকরা কীভাবে স্বাধীনভাবে লিখতে পারতেন?

যে লেখক রাজাকে খুশি করতে ব্যর্থ হতেন, তার শাস্তি হতে পারত – শিরশ্ছেদ, স্ত্রী-পরিবারের অপমান বা সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ। সুতরাং, ইতিহাসের পাতায় যা লেখা হয়েছে, তার অনেকটাই রাজকীয় নির্দেশে তৈরি “সরকারি সত্য”


🤔 বাদাউনি ও "নগরচৈন" শহরের রহস্য

বাদাউনি লিখেছেন, ৬৭২ হিজরিতে আকবর একটি শহর তৈরি করেছিলেন – নগরচৈন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়:

  1. শহরটি নাকি এক বছরের মধ্যেই গড়ে উঠেছিল! সম্ভব কি?

  2. বাদাউনি নিজেই বলেছেন তিনি কোনও শহরের চিহ্ন খুঁজে পাননি।

  3. এর মানে আকবর হয়তো কোনও শহর ধ্বংস করেছিলেন, কিন্তু নির্মাণ করেননি।

অর্থাৎ, ইতিহাসে যা লেখা, তা প্রায়শই আসল ঘটনার উল্টো।


🎭 মুসলিম ঐতিহাসিকদের ভাষার কৌশল

মধ্যযুগীয় ইতিহাসবিদরা শাসকদের প্রশংসা করতে গিয়ে বিশেষ শব্দ ব্যবহার করতেন। যেমন –

  • “ন্যায়পরায়ণ” মানে প্রকৃতপক্ষে অন্যায়কারী

  • “মহান নির্মাতা” মানে আসলে ধ্বংসকারী

  • “গ্রামকে শহরে রূপান্তর” মানে একটি সমৃদ্ধ হিন্দু নগর ধ্বংস করে সেখানে মসজিদ বা সমাধি তৈরি

এইসব লেখনীর ফলে আজ আমরা দেখি, ভারতবর্ষের প্রায় প্রতিটি শহর নাকি মুসলিম শাসকরা তৈরি করেছিলেন। অথচ বাস্তবে তারা বহু প্রাচীন হিন্দু নগর ভেঙে নিজেদের নাম চাপিয়ে দেন।


🏯 আগ্রার লাল কেল্লার রহস্য

আবুল ফজল লিখেছেন, আগ্রার লাল কেল্লায় প্রায় ৫০০টি সুন্দর ভবন ছিল। কিন্তু আজ সেগুলির কোনও চিহ্ন নেই। তাহলে?

  • হয় তিনি মিথ্যা লিখেছেন।

  • নয়তো পরবর্তী মুঘলরা (জাহাঙ্গীর, শাহজাহান) ভবনগুলো ধ্বংস করেছেন।

আবার আবুল ফজল স্বীকারও করেছেন যে এগুলো বাংলা ও গুজরাট ধাঁচের স্থাপত্য – অর্থাৎ হিন্দু শিল্পশৈলী। তাই স্পষ্ট, আগ্রার লাল কেল্লা আসলে হিন্দু স্থাপত্যেরই নিদর্শন।


⏳ আকবর কি শহর-নির্মাণ যাদুকর?

বাদাউনি লিখেছেন –

  • আগ্রার লাল কেল্লা নির্মাণে ৫ বছর লেগেছিল।

  • একই সময়ে আকবর নাকি ফতেহপুর সিক্রিনগরচৈনও বানিয়েছেন।

এত বড় বড় শহর কি কয়েক বছরের মধ্যে তৈরি করা সম্ভব? না। বাস্তবে আকবর কোনও নতুন শহর গড়েননি, বরং পুরনো হিন্দু স্থাপত্য দখল করে নিজের নামে চাপিয়ে দেন।


🪶 উপসংহার

মধ্যযুগীয় মুসলিম ইতিহাস আসলে এক বিশাল প্রোপাগান্ডা। দরবারি লেখকরা সম্রাটের ইচ্ছেমতো গল্প সাজিয়েছেন। তাই তাদের লেখাকে সরলভাবে সত্য ধরে নেওয়া ভয়ঙ্কর ভুল।

আজকের পাঠকের দায়িত্ব –

  • ইতিহাসকে প্রশ্ন করা

  • প্রতিটি দাবির ভেতরের সত্য খুঁজে বের করা

  • আর বুঝতে শেখা যে “মুসলিম ইতিহাসে যা লেখা হয়েছে, তার উল্টো দিকেই প্রকৃত সত্য লুকানো আছে।”


👉 পরবর্তী লেখায় আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব আগ্রার লাল কেল্লা আসলে কার সৃষ্টি – মুঘলদের নাকি হিন্দুদের? >>>>Cont.

No comments:

Post a Comment

ধন্যবাদ

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

লালকিল্লা হিন্দু ভবন?

ভারতীয় ইতিহাসের এক ঘোর বিড়ম্বনা ভারতীয় ইতিহাসের এক গুরুতর বিদম্বনা হলো এই যে, প্রায় এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে যখন ভারতবাসী বিদেশি ...

Post Top Ad

ধন্যবাদ