অথর্ববেদ প্রথম কাণ্ড প্রথম অনুবাক - ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান, ধর্ম গ্রন্থ কি , হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়, ইসলাম খ্রীষ্ট মত বিষয়ে তত্ত্ব ও সনাতন ধর্ম নিয়ে আলোচনা

धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते-Theology

সাম্প্রতিক প্রবন্ধ

Post Top Ad

স্বাগতম

05 December, 2024

অথর্ববেদ প্রথম কাণ্ড প্রথম অনুবাক

 প্রথম সূক্ত : মেধাজননম

[ঋষি অথর্বা দেবতা : বাচস্পতি ছন্দ : অনুষ্টুপবৃহতী]

য়ে ত্রিসপ্তাঃ পরিয়ন্তি বিশ্বা রূপাণি বিভ্রতঃ।বাচস্পতিবলা তেষাং তন্বো অদ্য দধাতু মে৷৷ ১৷৷

পদার্থঃ (য়ে) যে সব পদার্থ (ত্রিসপ্তাঃ) সকলের ত্রাতা, রক্ষক পরমেশ্বরের সম্বন্ধে
এবং রক্ষণীয় জগতের সন্বন্ধে বর্তমান থাকিয়া (বিশ্বা) সব (রূপাণি) বস্তুকে (বিভ্রতঃ) ধারণ করিয়া (পরি) সব দিকে (য়প্তি) ব্যাপ্ত রহিয়াছে, (বাচস্পতিঃ) বেদরূপ বাণীর পালক পরমেশ্বর (তেষাম্) তাহাদের (তন্বঃ) শরীরে (বলা) বলকে (অদ্য) আজ (মে) আমাকে (দবাতু) দান করুন।।১।। 
(ত্রি সপাঃ) তৃ তরণে ড্রি। তরতি, তারয়তি তাতে রাত্রিঃ। যাহা রক্ষা করে বা রক্ষা পায় তাহা ত্রি-পরমেশ্বর বা জগৎ । ষপ্ সমবায়েক্ত। সপতি সমবৈতীতি সপ্তা্। যাহা সমবেত হয় তাহা সপ্ত। ত্রিসপ্তাঃ অর্থাৎ তারক ঈশ্বর বা তারণীয় জগতের সহিত সন্বন্ধ পদার্থ সমূহ। সংখ্যা ভেদে তিন সন্বন্ধ তিন কাল ভূত, বর্তমান; ও ভবিষ্যৎ; তিন লোক স্বর্লোক, ভূবলোক ও ভূলোক; তিনগুণ সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ; তিন তত্ত্ব ঈশ্বর, জীব ও প্রকৃতি। ৩+৭-দশ দিক। ৩×৭- একুশ দিক, অর্থাৎ পঞ্চ মহাভূত, পঞ্চ প্রাণ, পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয়, পঞ্চ কর্মেন্দ্রিয় এবং এক অন্তঃকরণ।। ১৷৷

ভাবার্থঃ যে সব পদার্থ সর্বরক্ষক পরমাত্মা ও তাহার পালনীয় জগতের সন্বন্ধে বর্তমান থাকিয়া সব বস্তুকে ধারণ করে এবং সর্বত্র ব্যাপ্ত থাকে, বেদরূপ বাণীর রক্ষক পরমেশ্বর তাহাদের শরীরের বল আজ আমাকে দান করুন।।১।।

তৃণ হইতে ব্রহ্ম পর্যন্ত যাবতীয় পদার্থই সংসার স্থিতির কারণ। মনুষ্য সেই বিষয়ের জ্ঞান পরমাত্মার কৃপায় বেদ দ্বারা লাভ করুন।।১।।

(বুদ্ধিবৃদ্ধ্যুপদেশ্) বুদ্ধির বৃদ্ধির জন্য উপদেশ। ক্ষেমকরণ ত্রিবেদীকৃত পদার্থ ভাষ্যঃ

পদার্থঃ (যে) যে পদার্থ (ত্রি-সপ্তাঃ) ১− সবকিছুর সন্তারক বা, রক্ষক পরমেশ্বরের সম্বন্ধে, যদ্বা, ২−রক্ষণীয় জগৎ [যদ্বা− তিন এর সাথে সম্বন্ধিত ৩− তিনটি কাল, ভূত, বর্তমান্ ও ভবিষ্যৎ। ৪− তিনটি লোক, স্বর্গ, মধ্য ও ভূলোক। ৫− তিনটি গুণ, সত্ত্ব, রজ ও তম। ৬− ঈশ্বর, জীব ও প্রকৃতি। যদ্বা, তিন ও সাত=দশ। ৭− চারটি দিশা, চারটি বিদিশা, একটি উর্ধ্ব এবং একটি অধঃ দিশা। ৮− পাঁচটি জ্ঞানেন্দ্রিয়, অর্থাৎ কান, ত্বক, নেত্র, জিহ্বা, নাসিকা ও পাঁচটি কর্মেন্দ্রিয়, অর্থাৎ বাক, হাত, পা, পায়ু, উপস্থ। যদ্বা, তিন গুণিতক সাত= একুশ। ৯− মহাভূত ৫+প্রাণ ৫ + জ্ঞানেন্দ্রিয়+৫+কর্ম­ন্দ্রিয় ৫+অন্তঃকরণ ১ ইত্যাদি] এর সম্বন্ধযুক্ত [বর্ত্তমান্] হয়ে, (বিশ্বা=বিশ্বানি) সমস্ত (রূপাণি) বস্তুকে (বিভ্রতঃ) ধারণ করে (পরি) সমস্ত দিকে (যন্তি) ব্যাপ্ত রয়েছেন।(বাচস্পতিঃ) বেদরূপ বাণীর স্বামী পরমেশ্বর (তেষাম্) উনার (তন্বঃ) শরীরের (বলা=বলানি) বল (অদ্য্) আজ (মে) আমার জন্য (দধাতু) দান করুন ॥১॥

ভাবার্থঃ উদ্দেশ্য হলো যে, তৃণ থেকে শুরু করে পরমেশ্বর পর্যন্ত যেসব পদার্থ সংসারের স্থিতির কারণ, সেই সবকিছুর তত্ত্বজ্ঞান (বাচস্পতিঃ) বেদ বাণীর স্বামী সর্বগুরু জগদীশ্বরের কৃপায় সমস্ত মনুষ্য বেদ দ্বারা প্রাপ্ত করুক এবং সেই অন্তর্যামীর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস করে পরাক্রমী এবং পরোপকারী হয়ে সদা আনন্দ উপভোগ করুক ॥১॥

টিপ্পণী (বিশ্বানাথ বিদ্যালঙ্কার)

[বিশ্বা=বিশ্বানি । বলা=বলানি । তন্বঃ= তনূর মধ্যে অর্থাৎ শরীরের মধ্যে । ত্রিষপ্তাঃ= তিনটি বা সাতটি । তিনটি হল মূল প্রকৃতির তিনটি অবয়ব, সত্ত্ব, রজস্ ও তমস্ । সপ্ত হল প্রকৃতি-বিকৃতি উভয় রূপ, মহত্তত্ত্ব, অহংকার ও পঞ্চতন্মাত্রা। ত্রিষপ্তাঃ= অন্যপদার্থে বহুব্রীহৌ ডচ্ সমাসান্তঃ (সায়ণ)। অন্য পদার্থ হল বিকল্প “ত্রয়ো বা সপ্ত বা” ইত্যেবং রূপঃ।] [১. অদ্যপ্রভৃতি, আজ থেকে, যেহেতু আমি যুবাবস্থার হয়ে গিয়েছি এবং ত্রিষপ্ত তত্ত্বের জ্ঞান গ্রহণের যোগ্য হয়ে গেছি।]


বুদ্ধিবৃদ্ধ্যুপদেশ্) বুদ্ধির বৃদ্ধির জন্য উপদেশ।


ঋষিঃ অর্থবা। দেবতাঃ বাচস্পতিঃ। ছন্দঃ অনুষ্টুপ্ 


পুনরেহি বাচস্পতে দেবেন মনসা সহ ৷ 

বসোস্পতে নি রময় মধ্যে বাস্তু ময়ি শ্রুতম্।। অথর্ব০ ১।১।২


পদার্থঃ (বাচস্পতে) হে বাণীর স্বামী পরমেশ্বর ! আপনি (পুনঃ) বারংবার (এহি) আসুন। (বসোঃ পতে) হে শ্রেষ্ঠ গুণের রক্ষক ! (দেবেন্) প্রকাশময় (মনসা সহ) মনের সাথে (নি) নিরন্তর (রময়্) [আমাকে] রমণ করান, (ময়ি) আমার মধ্যে বর্তমান (শ্রুতম্) বেদবিজ্ঞান (ময়ি) আমার মধ্যে (এব)  (অস্তু) থাকুক ॥২॥


ভাবার্থঃ মনুষ্য প্রয়ত্নপূর্বক/­চেষ্টাপূর্বক (বাচস্পতি) পরমগুরু পরমেশ্বরের ধ্যান নিরন্তর করতে থাকুক এবং পরমেশ্বরকে পূর্ণ স্মরণের মাধ্যমে বেদবিজ্ঞানের মাধ্যমে নিজের হৃদয়কে শুদ্ধ করে সদা সুখ ভোগ করুক ॥২॥


টিপ্পণী (ক্ষেমকরণ ত্রিবেদী)−ভগবান যাস্কমুনি (বাচস্পতি) এর অর্থ “বাচঃ পাতা বা পালতিয়া বা”−অর্থাৎ বাণীর রক্ষাকারী বা রক্ষায় সহায়তাকারী করেছেন−নিরু০ ১০।১৭। এবং নিরু০ ১০।১৮। তে উদাহরণস্বরূপে এই মন্ত্রের পাঠ এই প্রকারের ।-- পুনরেহি বাচস্পতে দেবেন্ মনসা সহ বসোষ্পতে নিরাময়্ ময়্যেব তন্বং মম্ ॥১॥ হে বাণীর স্বামী আপনি বারংবার আসুন। হে ধন বা অন্নের রক্ষক ! প্রকাশময় মনের সাথে আমার মধ্যেই আমার শরীরকে নিয়মপূর্বক রমণ করান ॥ মনের উত্তম শক্তি বৃদ্ধির জন্য (যজ্জাগ্রতো দূরমুদেতি দৈবম্) ইত্যাদি যজুর্বেদ অ০ ৩৪ ম০ ১-৬ ও হৃদয়স্থ্ করা উচিত ॥


টিপ্পণী (বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার)ঃ [মন্ত্র ১ এ বাচস্পতি পদ দ্বারা বাগ্মী আচার্যের প্রতি অভ্যর্থনা করা হয়েছে। মন্ত্র ২ আদি দ্বারাও বাচস্পতি পদ দ্বারা বাণীর বিদ্বান্ মনুষ্য, আচার্যের বর্ণনা হয়েছে। তিনি যখন আশ্রমে নিরোক্ষণার্থ ব্রহ্মচারীদের কাছে যান/যাবেন তখন তাঁকে বলা হয়েছে তুমি দিব্য বুদ্ধি অর্থাৎ অনুগ্রহ বুদ্ধির সাথে এসো, আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করার জন্য এসো-ইহা আশ্রমবাসী প্রত্যেক ব্রহ্মচারী বলে বা আচার্যের প্রতি প্রার্থনা করে। আচার্য হল বসোষ্পতি । রাজ্য দ্বারা বা দান দ্বারা যে বসু প্রাপ্ত হয়েছে, তার স্বামী আচার্যই, তাঁর ইচ্ছানুসারেই আশ্রমে ন্যায় হয়।]


(বুদ্ধিবৃদ্ধ্যুপদেশ্) বুদ্ধির বৃদ্ধির জন্য উপদেশ।


অর্থবা। বাচষ্পতিঃ। অনুষ্টুপ্


ইহৈবাভি বিতনূভে আত্নী ইব জ্যয়া ৷ 

বাচস্পতি নিয়চ্ছতু ময়্যে বাস্তু ময়ি শ্ৰুতম্।। অথর্ব ১।১।৩


পদার্থঃ (ইহ) ব্রহ্মচারীর উপর (এব) ই (অভি) চারিদিক হইতে (বি অনু) ভাল-ভাবে বিস্তৃত হও (ইব) যেমন (উভে) দুই (আত্মী) ধনুকের কোটি (জ্যয়া) জয় সাধন জ্যার সঙ্গে বিস্তৃত হয়। (বাচস্পতিঃ) বাণীর রক্ষক (নি য়চ্ছতু) নিয়মে রাখুন (ময়ি) আমাতে বর্তমান (শ্রুতম্) বেদবিজ্ঞান (ময়ি) আমাতে (এব) ই (অপ্ত) থাকুন।।
জ্যা. জয়তে বা জিনাতের্বা প্রজা বয়তী ধুনিতি বা-নিরুক্ত - ৯.১৯ যাহা জয় করে, যাহা আয়ু কম করে বা যাহা বাণ ছাড়ে তাহাই জ্যা (দীনবন্ধু বেদশাস্ত্রী পদার্থ ভাষ্য)


ভাবার্থঃ ধনুকের উভয় প্রান্ত জ্যা-রজ্জুর সহিত যেমন বিস্তৃত হয় তুমি ব্রহ্মচারীর উপর সেইরূপ বিস্তৃত হও। তুমি বেদবাণীর রক্ষক, আমাকে তুমি নিয়মের অধীনে রাখ । আমাতে যে বেদ বিজ্ঞান বৃদ্ধি রূপ উভয় হস্ত দ্বারা রক্ষা কার্য সাধন করেন।। সংগ্রামে ধনুর্ধর যোদ্ধা যেমন ধনুর উভয় প্রান্তে জ্যা সংলগ্ন করিয়া রক্ষা কার্য করে পরমাত্মাও তেমন অজ্ঞান বিনাশ ও বিজ্ঞান বৃদ্ধি রূপ উভয় হস্ত দ্বারা রক্ষা কার্য সাধন করেন।।


ক্ষেমকরণজীর পদার্থভাষ্যঃ


পদার্থঃ (ইহ) এর উপরে (এব) ই (অভি) চারিদিক থেকে/সর্বতোভাবে (বিতনু) তুমি উত্তমরূপে বিস্তীর্ণ হও, (ইব্) যেভাবে (উভে) দুই (আর্ত্নী) ধনুকের প্রান্ত (জ্যযা) জয়ের সাধন, জ্যা-এর সহিত [কম্পিত হয়]। (বাচস্পতিঃ) বেদবাণীর স্বামী পরমাত্মা (নিয়চ্ছতু) আমাকে নিয়মে রাখুক, (ময়ি) আমার মধ্যে [বর্তমান] (শ্রুতম্) বেদবিজ্ঞান (ময়ি) আমার মধ্যে (এব্) ই (অস্তু) থাকুক ॥৩॥


ভাবার্থঃ যেভাবে সংগ্রামে শৌর্যশালী বীর ধনুকের দুটি প্রান্তকে দড়িতে দিয়ে বাণের মাধ্যমে রক্ষা করে, তেমনই আদিগুরু পরমেশ্বর নিজের কৃপাযুক্ত দুই হাত কে [অর্থাৎ অজ্ঞানতা দূর ও বিজ্ঞানের অনুপ্রেরণাকে] এই [আমার] ব্রহ্মচারীর প্রতি বিস্তৃত করে রক্ষা করেন এবং নিয়মপালনে দৃঢ় করে পরমসুখদায়ক ব্রহ্মবিদ্যা প্রদান করেন এবং বিজ্ঞানের পূর্ণ স্মরণ‌ এই ব্রহ্মচারীর (আমার) মধ্যে থাকুক ॥৩॥ ভগবান যাস্কের অনুসারে−নিরুক্ত্ ৯।১৭ (জ্যা) শব্দের অর্থ জয়ী যদ্বা আয়ু হ্রাসকারী অথবা বাণ নিক্ষেপকারী বস্তু ॥


(বুদ্ধিবৃদ্ধ্যুপদেশ্) বুদ্ধির বৃদ্ধির জন্য উপদেশ।


অর্থবা। বাচষ্পতিঃ। চতুষ্পদা বিরাডুরোহতী


উপহুতো বাচস্পতিরুপাল্মান্ বাচস্পতি হ্বয়তাম্। 

সংশ্রুতেন গমে মহি মা শ্রুতেন বি রাধিয়ি।। অথর্ব০ ১।১।৪


পদার্থঃ (বাচস্পতিঃ) বাণীর রক্ষক পরমেশ্বর (উপহুতমঃ) নিকটে আহূত হইয়াছেন (বাচস্পতিঃ) বাণীর পালক (অল্মান্) আমাদিগকে (উপহ্বয়তাম্) নিকটে আহ্বান করুন। (শ্রুতেন) বেদ বিজ্ঞান দ্বারা (সংগমেমহি) আমরা মিলিত হই (শ্রুতেন) বেদ বিজ্ঞানের বলে (মা বি রাধিষি) আমি পৃথক হইব না।। (দীনবন্ধু)


ভাবার্থঃ বেদবাণীর রক্ষক পরমাত্মাকে ব্রহ্মচারিগণ হৃদয়ের অভ্যন্তরে আহ্বান করিয়াছেন। আমাদিগকেও সেই বাণীর রক্ষক তাহার অভ্যন্তরে করিয়াছেন। বেদবিজ্ঞানের সাহার্যে আমরা তাহার সহিত মিলিত হই এবং বেদবিজ্ঞান বলেই তাহার নিকট হইতে পৃথক হইব না।।৪।। 

পরমাত্মা সর্বত্রই পূর্ণভাবে বিরাজমান। তিনি দূরেও নহেন পৃথকও নহেন। স্থান বা কালের দূরত্ব তাহাতে সম্ভব না। অজ্ঞানতার ব্যবধান তাহার নিকট হইতে আমাদিগকে দূরে রাখে। বেদবিদ্যা বলে সেই ব্যবধান দূরীভূত হয়।। (দীনবন্ধু)


পদার্থঃ বাচস্পতিঃ) বাণীর স্বামী, পরমেশ্বরকে (উপহূতঃ) সমীপে আহূত করা হয়েছে, (বাচস্পতিঃ) বাণীর স্বামী (অস্মান্) আমাদের (উপহ্বয়তাম্) সন্নিকটে/সমীপে আহ্বান করবেন। (শ্রুতেন্) বেদবিজ্ঞানের মাধ্যমে/দ্বারা (সঙ্গমেমহি) আমার যেন সংযুক্ত থাকি। (শ্রুতেন্) বেদবিজ্ঞান থেকে যেন (মা বিরাধিষি) আমি আলাদা না হয়ে যাই ॥৪॥ (ক্ষেমকরণ)


ভাবার্থঃ ব্রহ্মচারীগণ পরমেশ্বরের আবাহন করে নিরন্তর অভ্যাস ও সৎকারের দ্বারা বেদাধ্যয়ন করুক, যাতে আচার্যের প্রীতিপূর্বক পাঠ করানো ব্রহ্মবিদ্যা তাঁদের হৃদয়ে স্থির হয়ে যথাযোগ্য প্রয়োগের উপযোগী হয় ॥ এই সূক্তের এটাও তাৎপর্য যে, জিজ্ঞাসু ব্রহ্মচারী নিজের শিক্ষক আচার্যের সদা শ্রদ্ধা, সৎকার করে যত্নপূর্বক বিদ্যাভ্যাস করুক, যাতে সেই শাস্ত্র তাঁদের হৃদয়ে দৃঢ়ভাবে থাকে ॥৪॥ (ক্ষেমকরণজীর ভাবার্থ)॥


টিপ্পণীঃ (বিশ্বানথ বিদ্যালঙ্কার)

[অস্মান্ দ্বারা ব্রহ্মচারীদের অনেকত্ব/বহুত্ব সূচিত হয়েছে। মা বি রাধিষি = বি+রাধ সংসিদ্ধৌ, মাঙি লুঙ্ (সায়ণ), (স্বাদিঃ)। ইহা প্রত্যেক ব্রহ্মচারী বলে।]


টীকাঃ (ক্ষেমকরণ জীকৃত সংস্কৃত) ৪– উপহূতঃ। উপহ্বেঞ্ আহ্বানে–ক্ত। সমীপং কৃতাবাহনঃ, কৃতস্মরণঃ। বাচঃপতিঃ। মং ১ ॥ বাণ্যাঃ পালনিতা, পরমেশ্বরঃ। উপ। সমীপে। আদরেণ। হ্বয়তাম্। হ্বেঞ্–লোট্। আহ্বয়তু স্মরতু। শ্রুতেন। মং ২। অধীতেন, শাস্ত্রবিজ্ঞানের। সম্+গমেমহি। সম্ পূর্বকাত্ গম্লৃ সংগতৌ–আশীর্লিঙ্গি। সমো গম্যৃচ্ছি–প্রচ্ছি। পা ১।৩।২৯। ইতি আত্মনেপদম্, ব্যবহিতাশ্চ। পা ১।৪।৮২। ইতি সমঃ ক্রিয়াপদেন সম্পর্কঃ। সঙ্গচ্ছেমহি, সঙ্গতা ভূয়াস্ম। মা+বি+রাধিষি। রাধ সংসিদ্ধৌ। বিরাধ বিয়োগে লুঙি, আত্মনেপদমেকবচনম্ ইডাগমশ্চ। মাঙি লুঙ্। পা ৩।৩।১৭৫। ইতি লুঙ্। ন মাঙযোগে। পা ৬।৪।৭৪। ইতি মাঙি অটোভাবঃ। অহং বিয়ুক্তো মা ভূবম্ ॥



No comments:

Post a Comment

ধন্যবাদ

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

অথর্ববেদ অষ্টাদশ কাণ্ড

ঋষি – য়ম মন্ত্রোক্ত – য়ম দেবতা – ত্রিষ্টুপ ছন্দ – অথর্বা সূক্ত – পিতৃমেধ সূক্ত ও চিৎ সখায়ং সখ্যা ববৃত্যাং তিরঃ পুরু চিদর্ণবং জগদ্বান্।   পিত...

Post Top Ad

ধন্যবাদ