অনেকেই ঋগ্বেদে-১০/১৭১/১-৪ পর্যন্ত মন্ত্র সংখ্যা এতে কৈলাশপতি শঙ্করের গল্প খুঁজে পেয়েছেন কথিত সংস্কৃত পণ্ডিত,আশ্বলায়ন সূত্র যুক্ত করে দিয়ে গল্প তৈরী করে দিয়েছে অথছ ঋগ্বেদ-১০/১৭১/১-৪ মন্ত্রে এসবের কোন উল্লেখ নেই। সেই সাথে বেদের আরও তিনটি রেফারেন্স সেই কথিত পণ্ডিত দেখিয়েছেন যা প্রথম রেফারেন্সের সাথে অন্য রেফারেন্সের অর্থের সাথে কোন মিল নেই। উনারা জানেনা যে,বেদে শিব শব্দের অর্থ কল্যাণকারী আর ঐতিহাসিক শিবজী ছিলেন সৃষ্টির অমৈথুন ঋষি তিনি মমহাযোগিও ছিলেন। আমি মন্ত্র তিনটি ঋষি,দেবতা,ছন্দঃ, স্বরঃ ও পদার্থ সহ অনুবাদ দিলাম আপনারাই সেই গল্পের স্কীন শট ও কমেন্ট বক্সে লিংক দেখে বিচার করবরন।
বিষয়-তারপর মনুষ্যকে কার উপাসনা করা উচিত,এই বিষয়ে মন্ত্রে উপদেশ করা হয়েছে।
ঋষিঃ-বসিষ্টঃ। দেবতা-রুদ্রঃ।ছন্দঃ-অনুষ্টুপ্। স্বরঃ-গান্ধারঃ।।
ত্র্যম্বকম্ য়জামহে সুগন্ধিম্ পুষ্টিবর্ধনম্।
উর্বারুকমিব বন্ধনান্মৃত্যোর্মুক্ষীয় মামৃতাত্।।
ঋগ্বেদ-৭/৫৯/১২
ত্র্যম্বকম্। যজামহে। সুগন্ধিম্। পুষ্টিऽবর্ধনম্। উর্বারুকমऽইব। বন্ধনাত্। মৃত্যোঃ। মুক্ষীয়। মা। অমৃতাত্
পদার্থ-হে মনুষ্য! যাঁকে ( সুন্ধিম্) উত্তম প্রকার পূন্যময় যশযুক্ত ( পুষ্টিবর্ধনম্) পুষ্টি বৃদ্ধিকারী ( ত্র্যম্বকম্) তিন কালে রক্ষা করেন বা তিন অর্থাৎ জীব,কারণ এবং কর্মের রক্ষাকারী পরমেশ্বরকে আমাদের জন্য ( যজামহে) উত্তম প্রকার প্রাপ্ত হও তাঁকে আমিও উপাসনা করি এবং যেমন আমি ( বন্ধনাত্) বন্ধন থেকে ( উর্বারুকমিব) শসার ফলের সদৃশ ( মৃত্যোঃ) মৃত্যু থেকে ( মুক্ষীয়) মুক্তি হই,তেমনি তোমরাও মুক্তি পাও, যেমন আমি মূক্তি থেকে মুক্ত নই,তেমনেই তোমরাও ( অমৃতাত্) মুক্তির প্রাপ্তি থেকে বিছিন্ন ( মা,আ) হইও না।।
ভাবার্থ-এই মন্ত্রে উপমালঙ্কার আছে,হে মনুষ্য! আমাদের সকলের উপাস্য জগদীশ্বরই,যাঁহার উপাসনা দ্বারা পুষ্টি,বৃষ্টি,উৎপন্ন তথা এবং মোক্ষ প্রাপ্ত লাভ হয়,মৃত্যু সম্বন্ধি ভয় বিনষ্ট হয়,তাঁকে ত্যাগ করে অন্যকে উপাসনা আমাদের কখনও করা উচিত নয়।। এই সূক্তে বায়ুর দৃষ্টান্ত দ্বারা বিদ্বান্ এবং ঈশ্বরের গুণ ও কৃত্যের বর্ণনা করার দ্বারা এই সূক্তের অর্থকে এর পূর্ব সূক্তের অর্থের সাথে সঙ্গতি জানা উচিত। এই ঋগ্বেদে পঞ্চম অষ্টকে চতুর্থ অধ্যায় ত্রিশতম বর্গ তথা সপ্তম মণ্ডলে উনবিংশ সূক্ত সমাপ্ত হয়।।
বিষয়-মনুষ্যকে কিভাবে তার অভিষ্ট সিদ্ধ করা উচিত, এই বিষয়ে মন্ত্রে বলা হয়েছে।
ঋষিঃ-পরমেষ্টী প্রজাপ্রতির্বা দেববা ঋষয়ঃ। দেবতা-রুদ্রা দেবতাঃ। ছন্দঃ-স্বরাডার্ষী বৃহতী। স্বরঃ-মধ্যমঃ।।
নমঃ॑ শংভ॒বায়॑ চ ময়োভ॒বায়॑ চ॒ নমঃ॑ শংক॒রায়॑ চ ময়স্ক॒রায়॑ চ॒ নমঃ॑ শি॒বায়॑ চ শি॒বত॑রায় চ ॥ যজুর্বেদ-১৬/৪১
পদ০-নমঃ। শম্ভবায়েতি শম্ऽভবায়। চ। ময়োভবায়েতি ময়ऽভবায়। চ। নমঃ। শঙ্করায়েতি শমऽকরায়। চ। ময়স্করায়। ময়ঃকরায়েতি ময়ঃऽকরায়।চ। নমঃ। শিবায়।চ। শিবতরায়েতি শিবऽতরায়। চ।।
পদার্থ-যে মনুষ্য ( শম্ভবায়) সুখকে প্রাপ্ত করতে পরমেশ্বর ( চ) এবং ( ময়োভবায়) সুখ প্রাপ্তির হেতু বিদ্বান্ ( চ) এছাড়াও ( নমঃ) সৎ্কার ( শঙ্করায়) কল্যাণ করে ( চ) এবং ( ময়স্করায়) যিনি সকল প্রাণীর সুখ নিয়ে আসেন ( চ) উত্তম ( নমঃ) সৎকার ( শিবায়) মঙ্গলকারী ( চ) এবং ( শিবতরায়) অত্যন্ত মঙ্গলস্বরূপ পুরুষের ( চ) উত্তম ( নমঃ) সৎকার করে তারা কল্যাণকে প্রাপ্ত করে।
ভাবার্থ- মানুষের উচিত সমস্ত সৌভাগ্যের দাতা ঈশ্বরকে প্রেমভক্তির সাথে উপাসনা করা এবং সেনাপতিকে সম্মান করা, যাতে তাদের কাঙ্ক্ষিত কার্য সম্পন্ন হয়। ( ভাষ্য-মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী)
বিষয়-তারপর বিদ্যার অনুশাসনে ঈশ্বরের বিষয়ে এই মন্ত্রে বলা হয়েছে।
ঋষিঃ-দীর্ঘতমা ঔচথ্যঃ। দেবতা-সূর্যঃ। ছন্দঃ-নিচৃত্ত্রিষ্টুপ্। স্বরঃ-ধৈবতঃ।।
ইন্দ্রং মিত্রং বরুণমগ্নিমাহুরথো দিব্যঃ স সুপর্ণো গরুত্মান্।
একম্ সদ্বিপ্রা বহুদা বদন্ত্যগ্নিম্ যমম্ মাতরিশ্বানমাহুঃ। ঋগ্বেদ-১/১৬৪/৪৬
পদ০-ইন্দ্রম্।মিত্রম্।বরুণম্। অগ্নিম্। আহুঃ। অথো ইতি। দিব্যঃ। সঃ। সুऽপর্ণঃ। গরুত্মান্। েককম্। মত্। বিপ্রাঃ। বহুऽধা। বদন্তি। অগ্নিম্। যমম্। মাতরিশ্বানম্।।
পদার্থ-( বিপ্রাঃ) বুদ্ধিমান মনুষ্য ( ইন্দ্রম্) পরমৈশ্বর্যডুক্ত ( মিত্রম্) মিত্রতাপূর্ণ বর্তমান ( বরুণম্) শ্রেষ্ঠ ( অগ্নিম্) সর্বব্যাপক বিদ্যুদাদি লক্ষণযুক্ত অগ্নিকে ( বহুধা) বহু প্রকারে বহু নামে ( আহুঃ) অভিহিত করেন,( অথো) তাঁহার অনন্তর ( সঃ) সেই ( দিব্যঃ) প্রকাশে প্রসিদ্ধ প্রকাশময় ( সুপর্ণঃ)সুন্দর যাঁর পালন আদি কর্ম ( গরুত্মান্) মহান আত্মাযুক্ত ইত্যাদি বহু প্রকারে বহু নামে ( বদন্তি) অভিহিত করেন তথা ওই অন্য বিদ্বান্ ( একম্) এক ( সত্) বিদ্ধমান পরমব্রহ্ম পরমেশ্বরকে ( অগ্নিম্) সর্বব্যাপক পরমাত্মা স্বরূপ ( যমম্) সর্বনিয়ন্তা এবং ( মাতারিশ্বনম্) বায়ু লক্ষণ লক্ষিতও ( আহুঃ) বলেন।
ভাবার্থ-যেমন অগ্নিয়াদি পদার্থের ইন্দ্র আদি নাম আছে তেমনি এক পরমাত্মার অগ্নি আদি সহস্র নাম আছে। যত পরমেশ্বরের গুণ,কর্ম,স্বভাব আছে তা এই পরমাত্মার নাম আছে,এই জানা উচিত।।
( ভাষ্য-মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী)

No comments:
Post a Comment
ধন্যবাদ