জল তত্ত্ব - ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান, ধর্ম গ্রন্থ কি , হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়, ইসলাম খ্রীষ্ট মত বিষয়ে তত্ত্ব ও সনাতন ধর্ম নিয়ে আলোচনা

धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते-Theology

সাম্প্রতিক প্রবন্ধ

Post Top Ad

স্বাগতম

04 November, 2026

জল তত্ত্ব

জল তত্ত্ব
পঞ্চমহাভূতের দ্বিতীয় মহাভূত জল বৈদিক বাঙ্ময়ের মধ্যে একে প্রায়শঃ "আপঃ" নামে সম্বোধন করা হয়েছে। ন্যায় ও বৈশেষিক দর্শন তথা উপনিষদের মধ্যে "আপঃ" শব্দেরই ব্যবহার হয়েছে। য়োগদর্শনের ৩.৪৪ সূত্রের মহর্ষি ব্যাস ভাষ্যের মধ্যে "জলম্" পদের ব্যবহার হয়েছে। এখন সর্বপ্রথমে আমি "আপঃ" কিংবা জলের বিষয়ে ঋষিদের মতকে উদ্ধৃত করবো -


১. অগ্নিঃ পূর্বরূপম্। আদিত্য উত্তররূপম্। আপঃ সন্ধিঃ। বৈদ্যুতঃ (অগ্নিঃ) সন্ধানম্ (তৈত্তিরীয় আরণ্যক ৭.৩.২; তৈত্তিরীয় উপনিষদ ১.৩.৩)
২. অগ্নে পিত্তমপামসি (তৈত্তিরীয় সংহিতা ৪.৬.১.২)
৩. অগ্নেরাপঃ (তৈত্তিরীয় আরণ্যক ৮.২; তৈত্তিরীয় উপনিষদ ২.১.১)
৪. আপো বৈ সর্বা দেবতাঃ (কাঠক সংহিতা ২৫.৩, ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ২.১৬; কৌষীতকি ব্রাহ্মণ ১১.৪; তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ ৩.২.৪.৩)
৫. আপো বৈ সর্বে কামাঃ (শতপথ ব্রাহ্মণ ১০.৫.৪.১৫), আপোऽন্নম্ (ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ৬.৩০)
৬. আপো ऽসি জন্মনা বশা, সা য়জ্ঞম্ গর্ভমধত্থাঃ (মৈত্রায়ণী সংহিতা ২.১৩.১৫)
৭. আপো হ বাऽইদমগ্রে সলিলমেবাস (শতপথ ব্রাহ্মণ ১১.১.৬.১)
৮. আপো হি ষ্ঠা ময়োভুবস্তা ন ঊর্জে দধাতন (তৈত্তিরীয় সংহিতা ৪.১.৫.১)
৯. ইন্দ্রিয়ম্ বা আপঃ (কাঠক সংহিতা ৩২.২)
১০. ইমে বৈ লোকা অপ্সু প্রতিষ্ঠিতাঃ (তৈত্তিরীয় আরণ্যক ১.২২.৮৫)
১১. ইয়ম্ (পৃথিবী) বা এতাসাম্ (অপাম্) পাত্রম্ (কাঠক সংহিতা ৩২.৭)
১২. চত্বারি বা অপাꣳরূপণি। মেঘো বিদ্যুত্ স্তনয়িত্নুর্বৃষ্টিঃ (তৈত্তিরীয় আরণ্যক ১.২৪.৯৯)
১৩. তা (আপঃ) মিথুনমৈচ্ছন্ত। তা মিত্রাবরুণাবুপৈতাম্। তা গর্ভমদধত। ততো রেবতয়ঃ পশবোऽসৃজ্যন্ত (জৈমিনীয় ব্রাহ্মণ ১.১৪০)
১৪. ত্রয়ীর্বা আপো দিব্যাঃ পার্থিবাঃ সমুদ্রিয়াঃ (মৈত্রায়ণী সংহিতা ৩.৬.৩)
১৫. য়োষা বাऽআপো বৃষাগ্নিঃ (শতপথ ব্রাহ্মণ ১.১.১.১৮; ২.১.১.৪)
১৬. বিদ্যুদ্বাऽ অপাম্ জ্যোতিঃ (শতপথ ব্রাহ্মণ ৭.৫.২.৪৯)
১৭. অগ্নির্বা অপামায়তনম্। আপো বা অগ্নেরায়তনম্ (তৈত্তিরীয় আরণ্যক ১.২২.৭৮,৭৯)
১৮. অপাꣳ হ্যেষ গর্ভো য়দগ্নিঃ (তৈত্তিরীয় সংহিতা ৫.১.৫.৮)

এই প্রমাণগুলোর উপর বিচার করলে নিম্নলিখিত নিষ্কর্ষ প্রাপ্ত হয় -

১. অগ্নি অর্থাৎ বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ এবং মূলকণা তথা আদিত্য (নক্ষত্র) লোকের নির্মাণ হওয়ার মাঝে আপঃ অবস্থা উৎপন্ন হয়। এইজন্য এই অবস্থাকে সন্ধি বলা হয়েছে। এই অবস্থাকে উৎপন্ন করতে বিদ্যুতের ভূমিকা আছে। এর উপর গম্ভীর ভাবে বিচার করলে স্পষ্ট হয় যে বিভিন্ন আয়ন এবং এটমের অবস্থাকেই জল (আপঃ) মহাভূত বলা হয়েছে।
২. [পিত্তম্ = তেজঃ (মহর্ষি দয়ানন্দ য়জুর্বেদ ভাষ্য ১৭.৬)] "আপঃ" নামক উপরোক্ত অবস্থাযুক্ত পদার্থের মধ্যে যেসব তেজ বিদ্যমান থাকে, সেটা অগ্নি অর্থাৎ বিদ্যুৎ অথবা প্রকাশাদি বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গের কারণেই হয়, নিজের স্বয়ংয়ের কারণে নয়। "আপঃ" পরমাণুগুলোর (আয়ন এবং এটম) মধ্যে বিদ্যুৎ অথবা ঊর্জা ছাড়া কোনো ক্রিয়াই হওয়া সম্ভব নয়। এইজন্য অগ্নিকে "আপঃ" পরমাণুর তেজের রূপ বলা হয়েছে। এখানে "আপঃ" অর্থ প্রাণ রশ্মিও গ্রহণ করা যেতে পারে। এমন বলাও হয়েছে -

প্রাণা বা আপঃ (তাণ্ড্য মহাব্রাহ্মণ ৯.৯.৪; তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ ৩.২.৫.২; জৈমিনীয়োপনিষদ্ ব্রাহ্মণ ৩.২.৫.৯)
.
সেই পরিস্থিতিতে অগ্নিকে প্রাণের তেজ অর্থাৎ প্রাণ রশ্মিগুলো থেকে উৎপন্ন তেজ মানা উচিত।
.
৩. অগ্নি মহাভূতের পশ্চাৎ তথা সেই অগ্নি মহাভূত থেকেই আপঃ (জল) মহাভূতের উৎপত্তি হয়। এর অভিপ্রায় হল বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ তথা মূলকণার উৎপত্তির পশ্চাৎ তথা এগুলো থেকেই বিভিন্ন আয়ন এবং এটম উৎপন্ন হয়।
৪. আপঃ পরমাণুগুলোর (আয়ন/এটম) মধ্যেও সব প্রকারের প্রাণ ও ছন্দ রশ্মি বিদ্যমান থাকে। এগুলোর মধ্যে পূর্বোক্ত আকাশ, বায়ু এবং অগ্নি মহাভূতও বিদ্যমান থাকে।
৫. সব প্রকারের আপঃ পরমাণু (আয়ন এবং এটম) সূক্ষ্ম দীপ্তি তথা আকর্ষণাদি বলযুক্ত হয়। সেগুলো সর্বদা পরস্পর সংযোগের জন্য তৎপর থাকে অর্থাৎ সেগুলো স্বতন্ত্র অবস্থায় না থেকে বিভিন্ন যুগ্ম (অণু বা মলিকিউল) তৈরির চেষ্টা করতে থাকে।
৬. এই কণাগুলো উৎপন্ন হতেই নিজের দীপ্তি কামনাদি গুণযুক্ত হয়। এই কারণে এগুলো বিভিন্ন সংযোগাদি কর্মকে নিজের গর্ভে ধারণ করে থাকে। এগুলোর ভিতরেই সম্পূর্ণ সৃষ্টি-যজ্ঞের গর্ভ লুকানো থাকে। বিভিন্ন প্রকারের সঘন রূপ ধারণ করে এই আপঃ পরমাণুর দ্বারা বিভিন্ন পদার্থ প্রকট হয়।
৭. যখন অগ্নি মহাভূত থেকে এই মহাভূতের উৎপত্তি হয়, তখন এর পরমাণু রূপ আয়ন এবং এটম বিভিন্ন সলিল রূপে প্রকট হয়। এর অভিপ্রায় হল সেই সময় সম্পূর্ণ অন্তরিক্ষের মধ্যে এই আয়ন বা এটমগুলোর মহাসমুদ্রের মতো উৎপন্ন হয়ে যায়। এমন মনে হয় যেন সেই মহাসমুদ্র রূপী সলিলের মধ্যে সম্পূর্ণ ব্রহ্মাণ্ড লীন হয়ে যাচ্ছে, যেটা ক্রমে-ক্রমে প্রকট হবে। এই মহাসমুদ্রের মধ্যে অসংখ্য মাত্রায় কণাগুলো ক্রমাগত গতিমাণ থাকে।
৮. এইভাবে সেই মহাসমুদ্রের মধ্যে বিদ্যমান আপঃ পরমাণু শুরুতে তীব্র ঊর্জা-বল সম্পন্ন হয় না, বরং সেগুলোতে অগ্নি মহাভূত ধীরে-ধীরে ঊর্জার সঞ্চারণ করতে থাকে, যারফলে সেই আয়ন এবং এটমগুলো উত্তেজিত হতে থাকে আর অগ্রিম ধাপের পদার্থের নির্মাণ করতে সক্ষম হয়ে ওঠে। একইসঙ্গে সেই উত্তেজিত আপঃ পরমাণু নিজের দ্বারা উৎপন্ন অগ্রিম ধাপের পদার্থের পরমাণুগুলোকে ঊর্জা প্রদান করতেও প্রবৃত্ত হতে থাকে।
৯. সব আয়ন এবং এটম ইন্দ্রিয় রূপ হয় অর্থাৎ অগ্রিম পদার্থকে উৎপন্ন করতে সক্ষম হয়। সেগুলো এই জন্য বিদ্যুৎ চুম্বকীয় আদি বল যুক্ত হয়।
১০. এই সমগ্র লোক অর্থাৎ ভূরাদি বিভিন্ন ব্যাহৃতি তথা ছন্দ রূপ রশ্মিগুলো এই উপরোক্ত আয়ন এবং এটমের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত বা ব্যাপ্ত থাকে। একইসঙ্গে এই ব্রহ্মাণ্ডে বিভিন্ন লোক, গ্যালাক্সি আদি বিশাল লোক সমূহ সব দিক থেকে এই আপঃ পরমাণুর মধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়। এর তাৎপর্য হল সমগ্র লোক-লোকান্তর আপঃ পরমাণু দিয়ে পরিতঃ/সর্বতঃ ব্যাপ্ত থাকে তথা সেগুলো দিয়েই তৈরি হয়।
১১. অগ্রিম ধাপের মহাভূত পৃথিবী এই আপঃ পরমাণুর আধার হয় অর্থাৎ আপঃ পরমাণু পার্থিব পরমাণুগুলোর মধ্যে ভরা থাকে।
১২. এই সৃষ্টির মধ্যে আপঃ পরমাণু চার রূপে প্রাপ্ত হয় -
🪴মেঘ - কিছু পরমাণু অন্তরিক্ষের মধ্যে মেঘ রূপে বিদ্যমান থাকে, যেগুলো আয়নিক ক্লাউড রূপে পরিচিত। এর থেকে কালান্তরে বিভিন্ন লোকের নির্মাণ সম্ভব হয়।
🪴বিদ্যুৎ - এগুলো আয়ন রূপে বিভিন্ন লোককে চারিদিক থেকে ব্যাপ্ত করে। এগুলো লোক তথা প্রাণী এবং উদ্ভিদের ভিতরে বিদ্যমান থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক ক্রিয়াকে সম্পাদিত করে সেগুলোকে পোষণ ও রক্ষণ করে।
🪴স্তনয়িত্নু - এগুলো মেঘরূপ পদার্থের মধ্যে তীব্র গর্জনাযুক্ত বিদ্যুৎকে উৎপন্ন করে। মেঘের মধ্যে বিদ্যুতের গর্জন এগুলোর কারণেই হয়। এগুলোর ঊর্জা তীব্রতর হয়, এই কারণে এগুলো প্রবল ভেদন শক্তি সম্পন্ন হয়।
🪴বৃষ্টি - এই আপঃ পরমাণু এই অন্তরিক্ষের মধ্যে বিভিন্ন লোক থেকে নিরন্তর আতে-বর্ষণ করতে থাকে। পৃথিবীলোকের উপরে পরে এমন অনেক কসমিক পার্টিকল বা আয়ন এগুলোরই রূপ হয়।
১৩. সেই আপঃ পরমাণু নিরন্তর মিথুন/যুগ্ম তৈরির ইচ্ছাকারী হয়। প্রাণ-অপান ও ব্যান-উদান রশ্মি সেগুলোর যুগ্মকে নির্মিত করতে প্রবৃত্ত হয় এবং সেগুলোর যুগ্ম তৈরি করে। এরফলে সেগুলো বিভিন্ন তেজযুক্ত কিরণ রূপী গর্ভকে ধারণ করে বিবিধ প্রকারের পশু অর্থাৎ দ্রষ্টব্য কণাকে উৎপন্ন করতে সক্ষম হয়। সেই কণা [রেবত্যঃ = রেবত্য আপঃ (ষড্বিংশ ব্রাহ্মণ ১.২.২.২)] বিভিন্ন গর্জন যুক্ত নদীরূপ ধারার রূপ ধারণ করে এই বিশাল অন্তরিক্ষের মধ্যে প্রবাহিত হতে থাকে।
১৪. এখানে আপঃ পরমাণুকে নিম্নানুসারে তিন প্রকারের বলা হয়েছে -
🪴দিব্য - যে আয়ন সূর্যাদি প্রকাশিত লোকের মধ্যে বিদ্যমান হয়ে সেগুলোর পোষণ করে, তাকে দিব্য আপঃ বলা হয়। নক্ষত্রের মধ্যে ঊর্জার উৎপাদন এগুলোর একত্রীকরণের কারণে হয়।
🪴পার্থিব - যে আয়ন পৃথিবী আদি গ্রহ অথবা উপগ্রহাদি লোকের মধ্যে বিদ্যমান থেকে বিভিন্ন প্রকারের ভূগর্ভীয় এবং জৈবিক আদি ক্রিয়াকে সম্পাদিত করে, তাকে পার্থিব আপঃ বলা হয়।
🪴 সমুদ্রীয় - যে আয়ন [সমুদ্রঃ = অন্তরিক্ষনাম (নিঘন্টু ১.৩)] অন্তরিক্ষের মধ্যে নিরন্তর বিচরণ করে তথা এক লোক থেকে অন্য লোকে যার গমনাগমন হয়, তাকে সমুদ্রীয় আপঃ বলা হয়।
১৫. এই আপঃ পরমাণু য়োষা রূপ হয়ে বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ রূপী বৃষার সঙ্গে নিরন্তর সংযোগ করতে থাকে। সেই বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ বিভিন্ন আয়ন এবং এটমকে উত্তেজিত করে বিভিন্ন পদার্থকে উৎপন্ন করতে সক্ষম করে তোলে।
১৬. একে দ্বিতীয় সংখ্যাতে বর্ণিত বচনের সমান বুঝে নিবেন।
১৭. অগ্নি তত্ত্ব এই আপঃ পরমাণুর আয়তন হয় অর্থাৎ ঊর্জা বা বিদ্যুদাবেশ বিভিন্ন আয়ন বা এটমের মধ্যে রমা হয়ে থাকে। একইসঙ্গে বিভিন্ন আয়ন বা এটম ঊর্জা বা বিদ্যুদাবেশের মধ্যেই রমে থাকে অর্থাৎ ঊর্জা ও আবেশ এগুলোর মধ্যে সর্বতঃ ব্যাপ্ত থাকে।
১৮. বিদ্যুদাবেশ বা ঊর্জা বিভিন্ন আপঃ পরমাণুর মধ্যে গর্ভরূপ হয়ে বিদ্যমান থাকে। এর তাৎপর্য হল এই ঊর্জা যদি এটম বা আয়নের মধ্যে বিদ্যমান না থাকে, তাহলে সেগুলো কোনো পদার্থকে উৎপন্ন করতে সক্ষম হবে না। একইসঙ্গে সেগুলো কোনোরূপ কোনো ক্রিয়াকে সম্পাদিত করতে পারবে না।
.
এই উপরোক্ত আঠারো বিন্দুর উপরে বিচার করলে এই মত পুষ্ট হয় যে আয়নিক বা এটমিক স্টেট-কে আপঃ (জল) মহাভূত বলা হয়েছে। এখন আমি জল ও আপঃ বিষয়ে ঋষি দয়ানন্দের বিচারকে উদ্ধৃত করবো। তিনি সত্যার্থপ্রকাশের প্রথম সমুল্লাসে ঈশ্বরের নামের মধ্যে "জল" শব্দের ব্যুৎপত্তি করে লিখেছেন -

"জলতি ঘাতয়তি দুষ্টান্ সম্ঘাতয়তি অব্যক্তপরমাণ্বাদীন্ তদ্ ব্রহ্ম জলম্"
.
এই ব্যুৎপত্তি ব্রহ্ম রূপ জলের জন্য হয়েছে। এখানে আমরা যদি জল মহাভূতের বিষয়ে বিচার করি, তাহলে বিভিন্ন পরমাণুকে ভঙ্গ অথবা সংযুক্তকারী পদার্থ আপঃ সিদ্ধ হয়। এই গুণ আয়নের মধ্যে সর্ববিদিত আছে, এই কারণে আয়নকে জল বলা একদম উচিত হবে। অন্যদিকে ঋষি দয়ানন্দ য়জুর্বেদ ২৭.২৬ মন্ত্রের ভাষ্যে "আপঃ" পদের অর্থ "ব্যাপ্তিশীলাঃ সূক্ষ্মাস্তন্মাত্রাঃ" করেছেন। এরদ্বারাও আমার মতের পুষ্টি হয় যে আয়ন বা এটমই হল আপঃ (জল) মহাভূতের পরমাণু। এই আয়ন হাইড্রোজেন থেকে শুরু করে ভারী তত্ত্বেরও হতে পারে। সত্যার্থপ্রকাশের অষ্টম সমুল্লাসের অনুসারে জলের একটা অণুর মধ্যে সর্বমোট চার দ্বয়ণুক অর্থাৎ সর্বমোট ৪৮০ প্রকারের প্রাণ ও ছন্দাদি রশ্মি আছে। এত রশ্মির সংঘাতে স্বাদ গুণ প্রকট হয়ে যায়, এটা হল আমার মত। এখানে রশ্মির সংখ্যা সবথেকে লঘু আয়ন অথবা এটমে মানা উচিত। বড় আয়ন ও এটমে এটা অধিক হতে পারে, কিন্তু ৬০০ অথবা ৭২০ থেকে কম হবে। সেটা আয়ন ও এটম রূপেই হোক না কেন যদি এর সমান হয়, তাহলে সেটা পৃথিবী মহাভূতের রূপ প্রাপ্ত করে নিবে।

No comments:

Post a Comment

ধন্যবাদ

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

জল তত্ত্ব

পঞ্চমহাভূতের দ্বিতীয় মহাভূত   জল  বৈদিক বাঙ্ময়ের মধ্যে একে প্রায়শঃ "আপঃ" নামে সম্বোধন করা হয়েছে। ন্যায় ও বৈশেষিক দর্শন তথা উপন...

Post Top Ad

ধন্যবাদ