ঋগ্বেদ ৭/৬/৩ - ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান, ধর্ম গ্রন্থ কি , হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়, ইসলাম খ্রীষ্ট মত বিষয়ে তত্ত্ব ও সনাতন ধর্ম নিয়ে আলোচনা

धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते-Theology

সাম্প্রতিক প্রবন্ধ

Post Top Ad

স্বাগতম

30 July, 2026

ঋগ্বেদ ৭/৬/৩

ঋগ্বেদ ৭/৬/৩
ঋষি | দেবতা | ছন্দ | স্বর

বসিষ্ঠ ঋষিঃ।। বৈশ্বানরো দেবতা॥ ছন্দঃ – ১, ৪, ৫ নিচৃত্ত্রিষ্টুপ্। ৬ বিরাট্ ত্রিষ্টুপ্। ২ নিচৃত্পংক্তিঃ। ৩, ৭ ভুরিক্ পংক্তিঃ॥ সপ্তর্চং সূক্তম্॥

ন্য॑ক্র॒তূন্গ্র॒থিনো॑ মৃ॒ধ্রবা॑চঃ প॒ণীঁর॑শ্র॒দ্ধাঁ অ॑বৃ॒ধাঁ অ॑য॒জ্ঞান্। 

প্রপ্র॒ তাঁন্দস্যূঁ॑র॒গ্নির্বি॑বায়॒ পূর্ব॑শ্চকা॒রাপ॑রাঁ॒ অয॑জ্যূন্ ॥৩॥ (ঋগ্বেদ ৭.৬.৩)

স্বররহিত মন্ত্র

ন্যক্রতূন্গ্রথিনো মৃধ্রবাচঃ পণীঁরশ্রদ্ধাঁ অবৃধাঁ অয়জ্ঞান্। প্রপ্রতান্দস্যূঁরগ্নির্বিবায় পূর্বশ্চকারাপরাঁ অয়জ্যূন্।। ॥৩॥

স্বরসহিত পদপাঠ

নি। অ॒ক্র॒তূন্। গ্র॒থিনঃ॑। মৃ॒ধ্রऽবা॑চঃ। প॒ণীন্। অ॒শ্র॒দ্ধান্। অ॒বৃ॒ধান্। অ॒য॒জ্ঞান্। প্রऽপ্র॑। তাঁন্। দস্যূ॑ন্। অ॒গ্নিঃ। বি॒বা॒য॒। পূর্বঃ॑। চ॒কা॒র॒। অপ॑রান্। অয॑জ্যূন্॥

স্বররহিত পদপাঠ

নি। অক্রতূন্। গ্রথিনঃ। মৃধ্রऽবাচঃ। পণীন্। অশ্রদ্ধান্। অবৃধান্। অযজ্ঞান্। প্রऽপ্র। তাঁন্। দস্যূন্। অগ্নিঃ। বিবায়। পূর্বঃ। চকার। অপরান্। অযজ্যূন্॥৩॥

এই মন্ত্রের ঋষি হল বসিষ্ঠ। বসিষ্ঠের বিষয়ে ঋষিদের কথন হল - প্রাণা বৈ বসিষ্ঠ ঋষিঃ (শতপথ ব্রাহ্মণ ৮.১.১.৬), অগ্নির্বৈ দেবানাম্ বসিষ্ঠঃ (ঐরেয় ব্রাহ্মণ ১.২৮)। এইভাবে এখানে আগ্নেয় পদার্থের মধ্যে বিদ্যমান বা সেগুলো থেকে নিঃসরণ হওয়া প্রাণ রশ্মিগুলোকেই বসিষ্ঠ বলে আর এই রশ্মিগুলো থেকেই এই ছন্দ রশ্মির উৎপত্তি হয়েছে। এর দেবতা হল বৈশ্বানর। এর বিষয়ে ঋষিদের কথন হল - অগ্নির্বা এষ বৈশ্বানরো য়ৎসম্বৎসরঃ (জৈমিনীয় ব্রাহ্মণ ২.৩৭৯)।

এর ছন্দ হল ভুরিক্ পঙক্তি। ভুরিক্ এর বিষয়ে মহর্ষি য়াস্ক লিখেছেন -

ভুরিজৌ বাহুনাম (নিরুক্ত ২.৪)

ঋষি দয়ানন্দ কৃত ঋগ্বেদ ভাষ্য ৪.২.১৪ মন্ত্রের মধ্যে এর অর্থ ধারক আর পোষক করা হয়েছে। এই কারণে এর দৈবত আর ছান্দস প্রভাবে সূর্যলোকের মধ্যে অগ্নি নিজের বাধক বা বারক বলের দ্বারা পদার্থের য়জন প্রক্রিয়াকে সমৃদ্ধ করে আর নীল বর্ণের উৎপত্তি বা সমৃদ্ধি হতে থাকে। ধ্যাতব্য হল, আচার্য পিঙ্গল পঙক্তি ছন্দের বর্ণ নীল বলেছেন। এখন আমি এর ভাষ্য প্রারম্ভ করবো -

আধিদৈবিক ভাষ্য -
(নি, অক্রতূন্) [ক্রতুঃ = কর্মনাম (নিঘন্টু ২.১), মিত্র এব ক্রতুঃ (শতপথ ব্রাহ্মণ ৪.১.৪.১)] যে পদার্থ নিতরাম্ অর্থাৎ পূর্ণরূপে য়জন ক্রিয়া হতে রহিত হয়। (গ্রথিনঃ) অব্যবস্থিত বা অনিষ্ট রূপে জড়িয়ে থাকা (মৃধ্রবাচঃ) [এই পদের মধ্যে "মৃধু উন্দনে" ধাতু ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ হল মারা, ভিজিয়ে দেওয়া বা হওয়া।] যেসব পদার্থের মধ্যে হিংসক বাক্ রশ্মি বিদ্যমান থাকে, (অয়জ্ঞান্) যেসব পদার্থ সংযোজক বা বিয়োজক গুণ যুক্ত হয় না, (অশ্রদ্ধান্) [শ্রদ্ধা = তেজ এব শ্রদ্ধা (শতপথ ব্রাহ্মণ ১১.৩.১.১) , শ্রদ্ধা বা আপঃ (তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ ৩.২.৪.১)] যেসব পদার্থ দুর্বল প্রাণ রশ্মি যুক্ত তথা যেখানে-সেখানে বিরল মাত্রায় ছড়িয়ে থাকে, (অবৃধান্) এমন পদার্থ যেগুলোর মধ্যে বৃদ্ধি হচ্ছে না অথবা যেগুলো য়জন ক্রিয়াতে বৃদ্ধি হতে দেয় না, (তান্, দস্যূন্) এইরকম সব পদার্থ সৃজন প্রক্রিয়াকে ক্ষীণ করে, এইরকম সব পদার্থকে (অগ্নিঃ) বৈশ্বানর অগ্নি (প্র, প্র, বিবায়) খুব ভালো ভাবে দূরে সরিয়ে দেয় আর যেসব পদার্থ দুর্বল বা নিষ্ক্রিয় হয়, সেগুলোকে অনেক ভালো ভাবে গতি প্রদান করে।

মহর্ষি ঐতরেয় মহীদাস বলেছেন - অন্তরিক্ষম্ বৈ প্র (ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ২.৪১), প্রাণো বৈ প্র (ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ২.৪০)। এর অর্থ হল অগ্নি তত্ত্ব প্রাণ আর আকাশ তত্ত্বকে বিশেষভাবে সক্রিয় করে দুর্বল এবং নিষ্ক্রিয় পদার্থকে সবল করে তোলে আর হানিকারক পদার্থকে দূরে সরিয়ে দিয়ে ছিন্ন-ভিন্ন করে দেয়। (পূর্বঃ, অপরান্, অয়জ্যূন্) [এখানে "য়জ্যুঃ" পদ য়জ ধাতু থেকে "য়জিমনিশুন্ধিদসিজনিভ্যো য়ুচ্" (উণাদিকোষ ৩.২০) দ্বারা য়ুচ্ প্রত্যয় হয়ে ব্যুৎপন্ন হয়েছে।] সম্পূর্ণ পদার্থের মধ্যে পূর্বে থেকেই পূর্ণ রূপে ব্যাপ্ত বৈশ্বানর অগ্নি এমন পদার্থ, যেগুলোর মধ্যে য়জনশীলতার গুণ নগণ্য হয়, সেগুলোকে (পণীন্, চকার) যজ্ঞীয় ব্যবহার যুক্ত করতে থাকে।

এখানে "অপরান্" পদ য়জনশীল পদার্থ হতে ভিন্ন পদার্থের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

ভাবার্থ - সূর্যলোকের মধ্যে বিদ্যমান তীব্র উষ্মা সমস্ত পদার্থকে নিরন্তর ছেদন-ভেদন করতে থাকে। বড় কণা ভেঙে গিয়ে ছোটো কণাতে পরিণত হতে থাকে। সেগুলোর মধ্যে যে পদার্থ সংযোজন হওয়ার যোগ্য হয়, সেটা আয়ন রূপে কেন্দ্রীয় ভাগের দিকে প্রবাহিত হতে থাকে। তাদের মার্গে যেসব বাধক পদার্থ আসে এবং যেসব পদার্থ সংযোজন হওয়ার যোগ্য হয় না, সেই পদার্থগুলোকে উষ্মাযুক্ত তীক্ষ্ম বিদ্যুৎ তরঙ্গ দূরে সরিয়ে দিতে থাকে।

আধিভৌতিক ভাষ্য -

এই ভাষ্য আপনি আগে থেকে উদ্ধৃত করেছেন আর এর উপরে আপনার কোনো মন্তব্যও নেই।

অবিদ্যাগ্রস্ত অর্থাৎ মূঢ় মতি, হিংসার জন্য মানুষকে উৎসাহ প্রদানকারী, সমাজের মধ্যে বিচ্ছেদ উৎপন্নকারী, অগ্নিহোত্রাদির দ্বারা পরিবেশকে শুদ্ধ না করা ব্যক্তি, বিদ্যা এবং মানবতার উপরে শ্রদ্ধা না রাখা ব্যক্তি আর হানিকারক দুষ্ট অপরাধীদের রাজা যদি দূর না করেন, তাদের সৎপথে না নিয়ে আসেন, তাহকে কি তাদের পূজা করবেন? তাদের দূর করলে তবেই কোনো রাষ্ট্র বা সমাজের হিত হওয়া সম্ভব, অন্যথা রাষ্ট্র আর বিশ্বের মধ্যে অরাজকতাই ছড়াবে। এইজন্য ঋষি দয়ানন্দের ভাষ্য হল সর্বথা উচিত আর কল্যাণকারী।

আধ্যাত্মিক ভাষ্য -
(অগ্নিঃ) শরীরস্থ বিদ্যুদগ্নি (অক্রতূন্) [ক্রতুঃ = কর্মনাম (নিঘন্টু ২.১), প্রজ্ঞানাম (নিঘন্টু ৩.৯)] যেসব কোষিকা আদি পদার্থ নিষ্ক্রিয় বা মৃত হয়ে যায়, (গ্রথিনঃ) যেসব পদার্থ বিকৃত বা অনিষ্ট বন্ধন যুক্ত হয়, (মৃধ্রবাচঃ) [বাক্ = বাগেবাऽগ্নিঃ (শতপথ ব্রাহ্মণ ৩.২.২.১৩)] অনিষ্টকারী অগ্নি অর্থাৎ যে বিকৃত অগ্নির দ্বারা শরীরের মধ্যে বিভিন্ন রোগ হতে পারে, (অয়জ্ঞান্) এমন অবশিষ্ট পদার্থ যা শরীরের জন্য উপযোগী নয়, (অশ্রদ্ধান্) [শ্রদ্ধা = তেজ এব শ্রদ্ধা (শতপথ ব্রাহ্মণ ১১.৩.১.১)] যেসব পদার্থ তেজহীন বা দুর্বল হয়ে গেছে, (অবৃধান্) যেসব পদার্থ শরীরের জন্য হানিকারক অর্থাৎ বিজাতীয় পদার্থ (তান্, দস্যূন্) এমন সব পদার্থ শরীরের ক্ষীণকারী হয়, সেইসব হানিকারক পদার্থকে (প্র, প্র, বিবায়) বহির্গত অথবা নষ্ট করতে থাকে।

এমন সব পদার্থই অবশিষ্ট রূপ হয়ে মল-মূত্র, স্বেদ, কফ, শ্বাস আদির দ্বারা নিরন্তর নিঃসৃত হতে থাকে। (পূর্বঃ) এইসব পদার্থের উৎপত্তির থেকে পূর্ব হতে বিদ্যমান সেই শরীরস্থ অগ্নি (অপরান্) অন্য পদার্থকে (অয়জ্যূন্) যেসব পদার্থ সপ্তধাতুতে পরিণত হয় না, সেগুলোকে (পণীন্, নি, চকার) সম্যক ক্রিয়া আর বল দ্বারা নিরন্তর যুক্ত করতে থাকে।

ভাবার্থ - শরীরের মধ্যে থাকা বিদ্যুৎ এবং অগ্নি পদার্থ শরীরের সমস্ত ক্রিয়াকে সঞ্চালিত করতে অনিবার্য ভূমিকা পালন করে। বিদ্যুৎ আর উষ্মার কারণেই শরীরের মধ্যে অনেক ছেদন আর ভেদনের ক্রিয়া চলতে থাকে। ভোজনের অবয়ব সূক্ষ্মভাবে ভেঙে যাওয়া, পাচক রস বের হওয়া, সেগুলো থেকে বিভিন্ন প্রকারের রাসায়নিক ক্রিয়া হওয়া, রসরূপ হওয়া ভোজন অন্ত্রের দ্বারা শোষিত হওয়া, ফুসফুস, হৃদয় আর মস্তিষ্কের সঙ্গে-সঙ্গে সমস্ত নাড়ি আর শিরার ক্রিয়াশীল হওয়া, নিঃসরণ আদি সমস্ত তন্ত্রের কাজ করা, বাইরে থেকে আসা জীবাণু আর বিষাণুকে রক্তের শ্বেত অণুর দ্বারা নষ্ট করে দেওয়া, শরীরের কোষিকার মধ্যে ঊর্জার উৎপত্তি হওয়া, এই সমস্ত ক্রিয়া বিদ্যুৎ আর উষ্মার দ্বারাই সম্পন্ন হয়।

No comments:

Post a Comment

ধন্যবাদ

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

ঋগ্বেদ ৯/১৩/৯

ঋষি | দেবতা | ছন্দ | স্বর অসিতঃ কাশ্যপো দেবলো বা ঋষিঃ॥ পবমানঃ সোমো দেবতা॥ ছন্দঃ—১— ৩, ৫, ৮ গায়ত্রী। ৪ নিচৃদ্ গায়ত্রী। ৬ ভুরিগ্গায়ত্রী। ৭ ...

Post Top Ad

ধন্যবাদ