ঋগ্বেদ ৬/২৬/৩ - ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান, ধর্ম গ্রন্থ কি , হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়, ইসলাম খ্রীষ্ট মত বিষয়ে তত্ত্ব ও সনাতন ধর্ম নিয়ে আলোচনা

धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते-Theology

সাম্প্রতিক প্রবন্ধ

Post Top Ad

স্বাগতম

26 June, 2026

ঋগ্বেদ ৬/২৬/৩

ত্বম্ ক॒বিং চো॑দয়োऽ॒র্কসা॑তৌ॒ ত্বম্ কুৎসা॑য়॒ শুষ্ণং॑ দা॒শুষে॑ বর্ক্।
ত্বম্ শিরো॑ অম॒র্মণঃ॒ পরা॑হন্নতিথিগ্বায়॒ শংস্যং॑ করি॒ষ্যন্ ॥ ঋগ্বেদ ৬।২৬।৩॥
স্বরসহ পদপাঠ
ত্বম্ । ক॒বিম্ । চো॒দ॒য়ঃ॒ । অ॒র্কऽসা॑তৌ । ত্বম্ । কুৎসা॑য় । শুষ্ণ॑ম্ । দা॒শুষে॑ । ব॒র্ক্ । ত্বম্ । শিরঃ॑ । অ॒ম॒র্মণঃ॑ । পরা॑ । অ॒হ॒ন্ । অ॒তি॒থি॒ऽগ্বায়॑ । শংস্য॑ম্ । ক॒রি॒ষ্যন্ ॥
পদার্থ - হে তেজস্বিরাজন! (ত্বম্) আপনি (অর্কসাতৌ) অন্ন আদির বিভাগে (কবিম্) বিদ্বানের (চোদয়ঃ) প্রেরণা করুন আর (ত্বম্) আপনি (কুৎসায়) বজ্রের জন্য আর (দাশুষে) দানকারীর জন্য (শুষ্ণম্) শক্তিকে (বর্ক্) দমন করেন আর (ত্বম্) আপনি (অমর্মণঃ) যার মধ্যে মর্ম বিদ্যমান নেই তার (শিরঃ) মস্তককে (পরা, অহন্) দূর করুন আর (অতিথিগ্বায়) অতিথিদের প্রাপ্ত হওয়ার জন্য (শম্স্যম্) প্রশংসনীয় যোগ্য কর্মকে (করিষ্যন্) করতে করতে বিরাজমান হউন, এতে আপনি শ্রদ্ধার যোগ্য হবেন।

ভাবার্থ - রাজা বিদ্যা আর বিনয় আদি শ্রেষ্ঠ গুণে গুণান্বিত ব্যক্তিদের রাজকার্যে নিযুক্ত করবেন এবং তাদের উন্নতির ব্যবস্থা করে বিদ্যা আদির দাতা হয়ে প্রশংসা প্রাপ্ত করবেন।
টিপ্পণীঃ (আচার্য অগ্নিব্রত)
এখানে প্রতাপশালী রাজার কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে যে, তিনি যেন তার বিদ্বান মন্ত্রীদের এমনভাবে অনুপ্রাণিত করেন যাতে তারা সমগ্র রাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে অন্ন ও ধন আদি সঠিকভাবে বিতরণ করেন। এমন যেন কখনও না হয় যে কিছু মানুষ অত্যন্ত সম্পদশালী হয়ে উঠবে আর কিছু মানুষ চরম দারিদ্র্যের কষ্টে জর্জরিত হতে বাধ্য হবে। এমন করা স্বয়ংকে অন্যায়কারী হিসেবে সিদ্ধ করবে। আজ আমাদের রাষ্ট্র বা বিশ্বের মধ্যে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে যে অত্যন্ত ব্যবধান আছে, সেটা আসলে রাষ্ট্র ও বিশ্বের নীতি-নির্ধারকদের অন্যায়কারী বা অজ্ঞানী হওয়ার একটা জীবন্ত প্রমাণ।

রাজার দ্বিতীয় কাজ হল দুষ্টদের দমন করা, যারা অন্যের ধন সম্পদ চুরি, লুট বা ঘুষের মাধ্যমে শোষণ করে অথবা নানা প্রকার মিথ্যা ও প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ঠকায়। রাজাকে সেই অপরাধীদের শোষক শক্তিকে সমূলে বিনাশ করার দণ্ড দিতে হবে। বর্তমানে বড়-বড় নেতা, পুঁজিপতি, রাজকর্মচারী, কর্মকর্তা বা ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন কৌশলে প্রজাদের শোষণ করে। রাজাকে সেই শোষণের কৌশলগুলোকে গোড়া থেকে নির্মূল করতে হবে, যাতে তারা আর কখনও শোষণ করতে না পারে। যারা ধনবলের কারণে শোষণ করে, রাজা তাদের সম্পত্তির অধিগ্রহণ করে শোষিতদের হিতে ব্যবহার করবেন।

যারা নিজেদের জনবলের কারণে অন্যদের লুট করে, তাদের সেই জনবল থেকে বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা নিবেন, তাদের অনুসারীদের মধ্যে তাদের অপরাধের কথা প্রচার করে তাদের ছিন্নভিন্ন করে দিবেন। যদি কেউ নিজের পদের অপব্যবহার করে নাগরিকদের শোষণ করে, তবে তাকে অবিলম্বে পদচ্যুত করে দিবেন। যদি কেউ শারীরিক শক্তি বা অস্ত্রশস্ত্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে শোষণ করে, তবে তার অঙ্গভঙ্গ করে তার অস্ত্র কেড়ে নিবেন। এখানে "শুষ্ণম্ বর্ক্" অর্থাৎ বলকে দমন করার এই লোকোপকারক অর্থ আছে। একে কিভাবে শুষ্ণাসুর বানিয়ে দিয়েছে?

এখানে দানকারীর জন্যও শোষণের শক্তিকে দমন করার কথা বলা হয়েছে। এর অর্থ হল, কোনো দুষ্ট ব্যক্তি কোনো দাতা অর্থাৎ পরোপকারী পুরুষের শোষণ করতে শুরু করলে, তাকে পরোপকারের কাজে দান করতে না দিলে অথবা স্বয়ংই তার ধন লুট করে নিলে, তার রক্ষার জন্যও একইভাবে শোষণকারী অপরাধীদের শক্তিকে পূর্বোক্তভাবে নষ্ট করার কথা বলা হয়েছে। এতে পরোপকারী মহানুভবগণ নির্বিঘ্নে সমাজ ও রাষ্ট্রের সেবা করতে পারবেন। এরপর বলা হয়েছে যে, যাদের মর্ম স্থান নেই, তাদের মস্তক কেটে ফেলে দিন। এর অভিপ্রায় হল, ঠিক যেমন শরীরে কিছু মর্ম স্থান থাকে, যেখানে আঘাত লাগলে ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে। তেমনই শোষণকারীদের যদি পূর্বোক্ত উপায়গুলো দ্বারা দুর্বল করা না যায়, তাহলে এমন শোষকদের মাথা কেটে ফেলাই একমাত্র বিকল্প থেকে যায়।

আজ আমাদের দেশে কোনো দণ্ড ব্যবস্থা না হওয়ার কারণে ভারী অরাজকতার উৎপাত চলছে, যার ফলে কোটি-কোটি নাগরিক দুঃখী হয়ে আছে আর কিছু ব্যক্তি ক্ষমতা, ধন আদির মাধ্যমে তাদের ভরপুর শোষণ করে নিরন্তর অধিকাধিক ধনসম্পন্ন হচ্ছে। এই স্থিতি সম্পূর্ণ মানবতার জন্য গম্ভীর সংকট উৎপন্ন করছে।
এখানে আনাড়ি ভাষ্যকার 'অতিথিগ্ব' পদ থেকে দিবোদাস নামক কোনো এক ব্যক্তির গ্রহণ করেছেন। এই বিষয়ে কি মন্তব্য করবো? এই পদ 'অতিথি + গম্লৃ গতৌ + ড্বঃ প্রত্যয়' থেকে ব্যুৎপন্ন হয়েছে। [দেখুন - বৈদিক কোষ, আচার্য রাজবীর শাস্ত্রী] এখন কেউ অতিথিগ্ব থেকে দিবোদাস তৈরি করলে, তাকে কি বলবো? এখানে ঋষি দয়ানন্দ যে অর্থ করেছেন, সেটাই সত্য। মনে রাখবেন যে, নিরন্তর সত্যোপদেশকারী ভ্রমণশীল আপ্ত বিদ্বান পুরুষকে অতিথি বলা হয়। এই বিষয়ে মহর্ষি ঐতরেয় মহীদাসের কথন হল -

য়ঃ শ্রেষ্ঠতামশ্নুতে স বা অতিথির্ভবতি (ঐতরেয় আরণ্যক ১.১.১)

অর্থাৎ যিনি বিদ্যা এবং শ্রেষ্ঠ কর্মের দ্বারা শ্রেষ্ঠত্ব প্রাপ্ত করেন, তাকে অতিথি বলা হয়।

এমন অতিথি বিদ্বানদের প্রাপ্ত বিদ্যা আদি ধনের জন্য যে প্রশংসনীয় ও পরোপকারী কাজ আছে, সেগুলো রাজাকেও করা উচিত, তবেই রাজা সম্মানের অধিকারী হবেন। এর অর্থ হল, যেমন অতিথি বেদবিদ্যা এবং শ্রেষ্ঠ পরোপকারী কর্মের দ্বারা অতিথি পদ প্রাপ্ত করেন, তেমনি রাজাকেও হওয়া উচিত। মূর্খ, ছদ্মবেশী বা প্রমাদী ব্যক্তিকে কখনও রাজা বানাবেন না।

এই মন্ত্রের দেবতা ইন্দ্র হওয়ায় এই প্রকাশ পায় যে, নিজ বিদ্যা, বল, তেজ আদির দ্বারা ঐশ্বর্য প্রাপ্ত জিতেন্দ্রিয়তাদি উত্তমোত্তম গুণবান ব্যক্তিই রাজা হবেন আর এমন ইন্দ্ররূপ রাজাই এই ধরণের কর্ম করতে সক্ষম হবেন, অন্য কেউ নয়।

No comments:

Post a Comment

ধন্যবাদ

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

ঋগ্বেদ ৬/২৬/৩

ত্বম্ ক॒বিং চো॑দয়োऽ॒র্কসা॑তৌ॒ ত্বম্ কুৎসা॑য়॒ শুষ্ণং॑ দা॒শুষে॑ বর্ক্। ত্বম্ শিরো॑ অম॒র্মণঃ॒ পরা॑হন্নতিথিগ্বায়॒ শংস্যং॑ করি॒ষ্যন্ ॥ ঋগ্বেদ ...

Post Top Ad

ধন্যবাদ