ঋষিঃ-উত্তরনারায়ণ। দেবতা-আদিত্যো। ছন্দঃ-ভুরিক্ ত্রিষ্টুপ্। স্বরঃ-ধৈবতঃ।।
প্র॒জাপ॑তিশ্চ॒রতি॒ গর্ভে॑ऽঅ॒ন্তরজা॑য়মানো বহু॒ধা বি জা॑য়তে।
তস্য॒ যোনিং॒ পরি॑ পশ্যন্তি॒ ধীরা॒স্তস্মি॑ন্ হ তস্থু॒র্ভুব॑নানি॒ বিশ্বা॑॥১৯॥
স্বরসহ পদপাঠ
প্র॒জাপ॑তি॒রিতি॑ প্র॒জাঽপ॑তিঃ। চ॒র॒তি॒। গর্ভে॑। অ॒ন্তঃ। অজা॑য়মানঃ। ব॒হু॒ধা। বি। জা॒য়॒তে॒ ॥ তস্য॑। যোনি॑ম্। পরি॑। প॒শ্য॒ন্তি॒। ধীরাঃ॑। তস্মি॑ন্। হ॒। ত॒স্থুঃ॒। ভুব॑নানি। বিশ্বা॑ ॥১৯ ॥
পদ০ প্রজাপতিরিতি প্রজাऽপতিঃ। চরতি। গর্ভে। অন্তঃ। অজায়মানঃ। বহুধা। বি। জায়তে। তস্য। যোনিম্। পরি। পশ্যন্তি। ধীরাঃ। তস্মিন্। হ। তস্থুঃ। ভুবনানি। বিশ্বা।
অন্বয় :
(প্রজাপতিঃ) প্রজাপালক জগদীশ্বর (চরতি) বিচরণ করেন, (গর্ভে) গর্ভস্থ জীবাত্মার (অন্তঃ) হৃদয়ের মধ্যে। (অজায়মানঃ) নিজের স্বরূপে জন্মরহিত হয়েও (বহুধা) বহুপ্রকারে (বি) বিশেষভাবে (জায়তে) প্রকাশিত হন। (তস্য) সেই প্রজাপতির (যোনিম্) স্বরূপকে (পরি) সর্বতোভাবে (পশ্যন্তি) দর্শন করেন (ধীরাঃ) ধ্যানপরায়ণ জ্ঞানীগণ। (তস্মিন্) সেই জগদীশ্বরে (হ) প্রসিদ্ধরূপে (তস্থুঃ) প্রতিষ্ঠিত রয়েছে (ভুবনানি) যেসবের মধ্যে অবস্থান করে, সেই (বিশ্বা) সমস্ত লোকসমূহ। -স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী
পদার্থ-হে মনুষ্য! যিনি ( অজায়মানঃ) নিজের স্বরুপ থেকে জন্ম গ্রহণ করেন না, ( প্রজায়তি) প্রজাদের রক্ষক জগদীশ্বর ( গর্ভে) গর্ভস্থ জীবাত্মা এবং( অন্তঃ) সকলের হৃদয়ে ( চরতি) বিচরণ করেন ( বহুধা) অনেক প্রকার থেকে ( বি,জায়তে) বিশেষ করে প্রকটিত হোন ( তস্য) সেই প্রজাপতির যে ( যোনিম্) স্বরূপের ( ধীরাঃ) ধ্যানশীল বিদ্বানগণ( পরি,পশ্যন্তি) চারদিক থেকে দেখ ( তস্মিন্) তাতে ( হ) প্রসিদ্ধ ( বিশ্বা) সমস্ত ( ভুবনানি) লোক-লোকান্তর ( তস্থুঃ) স্থিত।।
ভাবার্থঃ-সর্বরক্ষক ঈশ্বর অজন্মা নিজে উৎপন্ন না হয়েও নিজ্ সামার্থ্য দ্বারা সম্পূর্ণ জগৎকে উৎপন্ন করেন ও সম্পূর্ণ ব্রহ্মান্ডে প্রবিষ্ঠ হয়ে সর্বত্র বিচরণ করেন। সেই অনেক প্রকার প্রসিদ্ধ [গুণ কর্ম্মের আধারে] পরমেশ্বর কে বিদ্যান ব্যাক্তিই জানতে পারেন। সেই জগতের আধার রূপ সর্বব্যাপক পরমাত্মা কে জেনে মনুষ্যের আনন্দ তথা মোক্ষ ভোগ করা উচিত।
পদার্থ (স্বামী জগদীশ্বরানন্দ সরস্বতী)
(প্রজাপতিঃ) প্রজাপালক পরমাত্মা (গর্ভে অন্তঃ) গর্ভে, গর্ভস্থ জীবাত্মায় (চরতি) বিচরণ করেন। তিনি (অজায়মানঃ) স্বয়ং কখনো উৎপন্ন না হয়েও (বহুধা) বিবিধভাবে (বিজায়তে) প্রকাশিত হন। (তস্য যোনিম্) তাঁর স্বরূপকে (ধীরাঃ) ধীর, নিশ্চল যোগীগণ (পরি পশ্যন্তি) দর্শন করেন। (তস্মিন্ হ) সেই পরমেশ্বরের মধ্যেই (বিশ্বা ভুবনানি) সমস্ত সূর্যাদি লোক (তস্থুঃ) স্থিত রয়েছে।
ভাবার্থঃ
১. ঈশ্বর সর্বত্র ব্যাপক, তাই তিনি গর্ভে অথবা গর্ভস্থ জীবাত্মায়ও ব্যাপক। ২. তিনি স্বয়ং জন্ম ধারণ করেন না। যে জন্ম নেয় না, সে মরেও না। তাই ঈশ্বর জন্ম-মৃত্যুর বন্ধন থেকে রহিত। ৩. ঈশ্বর জন্ম নেন না, কিন্তু তিনি বিবিধ রূপে প্রকাশিত হন। সূর্যে তাঁর প্রকাশ, চন্দ্রমায় তাঁর জ্যোৎস্না, তারকা ও নক্ষত্রে তাঁর উজ্জ্বলতা। এই হিমালয়াদি উঁচু উঁচু পর্বত, এই কল-কল ধ্বনিতে প্রবাহিত নদীসমূহ—সবকিছু সেই প্রভুর দিকেই সংকেত দিচ্ছে। ৪. সেই ঈশ্বরের সাক্ষাৎ ধীর ও যোগী ব্যক্তিই করতে পারেন। ৫. সমস্ত লোক-লোকান্তর সেই প্রভুর মধ্যে স্থিত, তাঁর আশ্রয়ে রয়েছে। এই মন্ত্রে ঈশ্বরকে জন্মরহিত বলা হয়েছে। তথাকথিত অবতারবাদ এই মন্ত্রের মানদণ্ড পূর্ণ করে না। তাই অবতারবাদের সিদ্ধান্ত অবৈদিক।
No comments:
Post a Comment
ধন্যবাদ